আমাদের ভারতীয় সংবিধানের বিভিন্ন ধারাতে উল্লেখ করা আছে দেশের প্রতিটা নাগরিক তার যে কোনো চিন্তা, লেখা, অনুশীলন মুক্ত ভাবে তুলে ধরতে পারে। বাকস্বাধীনতার কথা বা যেকোনো রকমের ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের কথা বারবার চর্চিত হয়েছে বিভিন্ন ধারাতে। আর্টিকেল ১৫ এর বিভিন্ন ধারাতে উল্লেখ করা হয়েছে ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের কথা। ব্যক্তি নিজের চিন্তা ভাবনা, বা নিজের শিল্প, নিজের কলাকুশলী নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে। তবে সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে, যেমন কেউ সেই বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপভাষা ব্যাবহার করতে পারেনা, সমালোচনা করতেই পারে কিন্তু সেখানে অপভাষা ব্যাবহার করে ব্যক্তির মানহানি করতে পারে না।
আর্টিকেল ২৫ এর বিভিন্ন ধারাতে লেখা আছে ধর্মীয় বৈষম্য ও জাতীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় বৈষম্য ও জাতীয় বৈষম্য নিয়ে কথা বললে তা ভারতীয় সংবিধানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একজন শিল্পী কিভাবে নিজের শিল্পকে তুলে ধরবে, সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার পুরো অধিকার আছে নিজের মতো করে চিন্তাভাবনা করার ও শিল্পকে তুলে ধরার। বর্তমানে বাংলার জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী মোহনবাগান ক্লাবের "আমাদের সূর্য মেরুন" গানটা নিজস্ব ভঙ্গিতে গাওয়ার জন্য যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তাকে নিচ পরিবারের বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দাগা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে ত্রিপুরাতে ঘাঁটি করেছে বলে, আমি এই অশোভনীয় ভাষার জন্য মোহনবাগান ক্লাবের এক সদস্য প্রদীপ হাজরার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। একজন শিল্পী কেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী নিজেদের তুলে ধরার, সেখানে জাতীয় বৈষম্য তুলে এনে সমালোচনা করা ভারতীয় সংবিধান বিরুদ্ধ। প্রদীপ হাজরা ভারতের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে।
এসবের পরেও মোহনবাগান ক্লাবের ওই সদস্য থেমে থাকেন নি, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক-এ বারবার অপমানসূচক কথা বলে জনপ্রিয় গায়িকাকে কটাক্ষ করেছেন বারেবারে। গায়িকা নিজের মতো করে যেভাবে গান গেয়েছেন সেখানে তিনি ভাষার অপব্যাবহার করেন নি কোথাও। সুরের পরিবর্তন এনে থাকলেওঁ সেটা ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১) নাম্বার ধারাকে লঙ্ঘন করেন নি। একজন শিল্পী ভালোবেসে তার শিল্পকে ফুটিয়ে তোলে, ভালোবাসার রূপ ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্নরকম। শিল্পী কখনই তার গানের মাধ্যমে মোহনবাগান ক্লাবকে অপমান করেন নি। কিন্তু ওই ব্যক্তি অপভাষা ব্যাবহার করে, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দেগে শিল্পীর অপমান করার চেষ্টা করেছেন, যা সংবিধানের ১৯(১) নাম্বার ধারাকে নিশ্চিতভাবে লঙ্ঘন করে। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ সচেতন ভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা। এই অপমান শুধু আমাদের শিল্পীর নয়, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দাগা আমাদের দেশ ভারত'কে অপমান করা। আসুন, প্রতিবাদ গড়ুন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।
********** সৌম্যজিৎ **********

No comments:
Post a Comment