আমার কাছে প্রেমই আমার ধর্ম। আমি মানুষের সাথে প্রেম করি, পশুর সাথে প্রেম করি, উদ্ভিদের সাথে প্রেম করি। যাদের সাথে প্রেম করি তারা আমার ঈশ্বর। যাদের সাথে আমি প্রেম করি, তাদের প্রত্যেকের ওপরে আমার পূর্ণ অধিকার আছে। মানবতাবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনকে আমি ভালোবাসি, পূজো করি, এটা আমার প্রেম আমার অধিকার। আমি মানুষটাকে মনের মতো করে কিছু বলতেই পারি, এটা আমার অধিকার। তারসাথে আমি বাচ্চামি করতে পারি, আমার আনন্দ ও কষ্টের কথা তাকে বলতে পারি, আমার অনুভূতির কথা বলতে পারি, বলি, এগুলো আমার অধিকার ভেবে বলি, তাকে ভালোবেসে বলি, আমার ঈশ্বর ভেবে বলি। সবাই তাদের কল্পিত ঈশ্বরকে পূজো করে, তাদের প্রার্থনা জানায়, অভিমানের কথা কল্পিত ঈশ্বরের কাছে জানায়, আমি আমার জীবন্ত ঈশ্বরকে জানাই আমার মনের কথাগুলো। এটা আমার প্রেম। আমি ছোটথেকে ঈশ্বরের পূজো করি, ঈশ্বরের পূজো এই ভেবে করিনা যে কোনো অদৃশ্য শক্তি এসে আমাকে রাজা বানিয়ে দেবে, আমি তাদের পূজো করি তাদেরকে সম্মান জানিয়ে। সত্যি হোক বা গল্প, আমরা জানি কৃষ্ণ ভীষণ ধূর্ত ছিল, খুব বড় রাজনীতিবিদ ছিল। আমি এই ধূর্তামীর জন্য, রাজনীতিক বুদ্ধির জন্য কৃষ্ণকে ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা থেকে তাকে পূজো করি। আমার মনের মধ্যে আমি কৃষ্ণের ওপরে অধিকারবোধ জন্মিয়েছি, তাই বলে এই নয় যে কৃষ্ণ তার অদৃশ্য কোনো শক্তি দিয়ে আমাকে রক্ষা করবে। কৃষ্ণ তার জীবদ্দশাতে যাকিছুই করুক, এখন মৃত কৃষ্ণ এসে আমাকে সাহায্য করতে পারবেনা। আমি মানুষ, আমাকে যদি কেউ সাহায্য করতে পারে, তবে তা শুধু জীবন্ত মানুষ বা জীবন্ত প্রাণীরাই করবে। আমি লোকনাথ বাবার পূজো করি, কারণ তার নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করে। সন্ন্যাস জীবনে তার পালন করা অতি কঠোর যোগ অভ্যাস আমাকে মুগ্ধ করে, যে মুগ্ধতা আমাকে আমার মানসিক কাঠিন্যতা আনতে সাহায্য করে। তাই আমি লোকনাথ বাবাকে ভালোবাসি, তার পূজো করি। এটা আমার প্রেম তারসাথে। আমি সূর্যকে পূজো করি, কারণ সূর্যের তেজষ্ক্রিয়তা আমাকে মুগ্ধ করে। আমি প্রতিদিন সূর্যের দিকে তাকাই, মনেহয় আমি তার মতো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি ঐ আলোর তেজের দিকে একদৃষ্টে দেখে। এটা সূর্যের আলোর সাথে আমার প্রেম, তার তাপের সাথে আমার প্রেম। আমি সূর্যকে ভালোবাসি। আমি মানুষ ভালোবাসি, মানুষের সাথে আমি প্রেম করি, কারণ মানুষের সাথে আমি কথা বলি, মিশি, কিছুনা কিছু শিখি। আমার মন থেকে আমি মানুষের ওপর অধিকারবোধ গড়ে তুলি। এই অধিকারবোধ আমাকে মানুষের অনেক কাছে নিয়ে যায়। তাই প্রেমই আমার ধর্ম। আমার প্রেম কখনো মানুষভেদ, জাতিভেদ করেনা। মানুষভেদ, জাতিভেদ বড্ড জটিল চিন্তা ভাবনা। কিছু মানুষ তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য কিছু নিয়মাবলী তৈরি করে, নিজেদের স্বার্থমত ধর্মগ্রন্থ তৈরি করে মানুষকে সম্মোহিত করে ধর্মীয় রাজনীতি তৈরি করেছে। এই ধর্মীয় রাজনীতির মারণ নেশা মানুষের মধ্যে সঞ্চালিত করে জাতিভেদ, মানুষভেদ, মানুষে মানুষে দাঙ্গা, মারামারি করিয়েছে, এবং এখন এই নেশা মানুষের মধ্যে এমনভাবে সঞ্চালিত হয়েছে যে চারিদিকে মারাত্মক খুনোখুনির বিভীশিখা তৈরি হচ্ছে। এইসব ধর্মগ্রন্থ কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছে। এগুলো কোনো ধর্ম নয়। শুধু ধর্মের নাম দেওয়া হয়েছে, মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আজ এই সমাজ ধর্মীয় রাজনীতির রণক্ষেত্র। কল্পিত ঈশ্বর মানুষকে কখনো সাহায্য করতে পারেনা তবু মানুষ ভাবে কল্পিত ঈশ্বর মানুষকে কোনো মন্ত্রবলে বা অদৃশ্য কোনো শক্তির বলে সব বাধা বিনাশ করবে, চলার পথ সুগম করবে, অভিসন্ধির সিদ্ধিলাভ করাবে, আসলে এগুলো মোহ। এইসব মোহই তৈরি করে ধর্মগ্রন্থগুলো। ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের মনে লোভ, লালসা, হিংসা তৈরি করিয়ে দেয়। ধর্মগ্রন্থগুলোয় মানুষকে আগুনে নিক্ষেপ করে। প্রেমের ধর্ম আর আজকের দিনে ধর্মগ্রন্থের ধর্ম এইদুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেমের ধর্ম কোনো বিভেদ না করে মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, ধর্মগ্রন্থের ধর্মীয় রাজনীতির ধর্ম শুধু মানুষকে হিংসার প্ররোচনা জোগায়।
সৌম্যজিৎ।
সৌম্যজিৎ।
No comments:
Post a Comment