Saturday, 30 September 2017


পুরুষতন্ত্রের প্রভাব ও একটি গল্প। 

চারিদিকে যে দিকেই তাকাই, পুরুষতন্ত্রের বিছানো জাল চোখের সামনে একটা করে উদাহরণ তুলে ধরে। সমাজ ও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। কেউ মুখ্য, কেউ গৌণ। কেউ পুরুষতন্ত্রকে বীরদর্পে বহন করছে তো কেউ পুরুষতন্ত্রে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যেন এটাই জীবন, এটাই নিয়ম, এটাই ধর্ম আর এটাই সমাজ। আবার কেউ বাধ্য হয়ে পুরুষতন্ত্রকে গলার মালা বানিয়ে ফেলেছে আর কিছু মানুষ আছে যারা চোখের সামনে সবটা দেখছে, বুঝতে পারছে, কিন্তু চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারছেনা। হ্যাঁ, আমরা প্রত্যেকেই এমনই এক পুরুষতন্ত্রের অংশ হয়ে উঠেছি। ন্যায়, অন্যায়ের জ্ঞান থাকার পরও আমরা প্রতিমুহূর্তে পরাজিত হচ্ছি, মাথা নত করছি এই পুরুষতন্ত্রের সামনে। আর এটাকেই জীবন ভেবে হাসছি, খেলছি, যাপন করে চলেছি নিয়মিত। পুরুষতন্ত্র কোনো ধর্ম নয়, পুরুষতন্ত্র কোনো মানবিকতা নয়, পুরুষতন্ত্র কখনোই মানুষের পরিচয় বহন করেনা। পুরুষতন্ত্র সমাজের সবথেকে উচ্চস্তরে থাকা একটা রোগ যা মানুষের শিরাতে, ধমনীতে রক্তের সাথে বাহিত হয়ে চলেছে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে জর্জরিত বিশাখা (বাস্তব চরিত্রের নাম পাল্টে) নামের একটা মেয়ের গল্প বলি। 

বিশাখা ছোট থেকে অনেক অনেক স্বপ্ন দেখত, সে অনেক পড়াশোনা করবে, অনেক বড় হবে, কিছু করবে সমাজের মানুষের জন্য। পড়াশোনা করার অনেক চেষ্টা করে, কিন্তু দুর্বল মেধাশক্তি বিশাখাকে পরাজিত করে। মেট্রিক পরীক্ষাতে সে ফেল করে। ফেল করে ভেঙে পড়ে ও আবারও উঠে দাঁড়ানোর কথা ভাবে। মনের মধ্যে সমস্ত জোরকে একত্রিত  করার চেষ্টা করে। কিন্তু এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হয়ে সে পরাজিত হয় দারিদ্রতার কাছে। মনের মধ্যে পড়াশোনা করার তীব্র ইচ্ছা থাকার সত্তেও তাকে তার বাবা এক ব্যবসায়ী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিশাখা প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিয়ে করবেনা বলে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ তার দরিদ্র বাবার সামনে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছেলের সম্পর্কে ভালো খোঁজ, খবর না নিয়েই, শুধু ভালো রোজগার করে, ছেলে কর্মঠ এটুকু দেখেই বিশাখার বাবা বিশাখাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিশাখা বাধ্য হয় বিয়ে করতে। এক শহুরে পরিবেশে পড়াশোনা নিয়ে ভাবা একটা ছোট মেয়ে বিয়ে করে আসে অনেক পিছিয়ে থাকা একটা গ্রামের অনেক বড় একটা পরিবারে বাড়ির প্রথম বউ হয়ে। শ্বশুর বাড়িতে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা তখন একুশজন। বাড়ির রান্নার দায়িত্ব পড়ে রান্না করতে না জানা ছোট মেয়েটির ওপর। অতয়েব বিশাখার পড়াশোনার স্বপ্ন ওই রান্নার চুলায় জ্বালানি হয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে বিশাখাকে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হলেও শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি, ননদ, স্বামী ও ভাশুরদের বন্ধুর মতই সে পেয়েছিল। বিরূপ ছিল শুধু তার একমাত্র দেওর। দেওরের বলা কটূক্তিগুলো বিশাখাকে প্রতিদিন তীরবিদ্ধ করে। বাড়ির ছোট ছেলে হওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য লোকেরা দেওরকে বোঝায় কিন্তু সেই বোঝানোটা কখনোই প্রতিবাদের আকার নেয়না। তাই দেওরের কটূক্তিও কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকে। এরপরও বিশাখা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একদিন বিশাখার স্বামী তীব্র প্রতিবাদটুকু জানিয়ে ওঠে তার ছোট ভাইয়ের করা অপমানগুলোর বিরুদ্ধে। বিশাখাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে। বিশাখা রাজি ছিলনা ওভাবে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে, কিন্তু স্বামীর আদেশে সে বাধ্য হয়। 

তাদের একটা ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। বিশাখা আবারও স্বপ্ন দেখে যে সে যাকিছু করবে ভেবেও কখনো করতে পারেনি, পড়াশোনা করতে পারেনি, সমাজের জন্য কিছু করবে ভেবেও করতে পারেনি, সেইসব অপূর্ণ থেকে যাওয়া স্বপ্নগুলো পূরণ করবে তার ছেলে। পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর থেকে বিশাখার স্বামী পাল্টাতে শুরু করে। টাকার নেশায় ব্যবসায় মত্ত হয়ে যায়, বাইরে নানা মানুষের সাথে মিশে মদ খেতে শুরু করে, আরও অনেক অনেক নেশাতে ডুবে যায়। আস্তে আস্তে বিশাখার কর্মঠ স্বামী ব্যবসায় উন্নতি করতে শুরু করে। ব্যবসায় যত উন্নতি হতে থাকে, সে আরও বেশি উদ্ধত হতে থাকে। বিশাখার সাথে রোজ অশান্তি করে রাতে মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফিরে, বিশাখার গায়ে হাত তোলে। বিশাখা এরপরও ধৈর্য ধরে তার ছেলের কথা ভেবে। সে তার ছেলেকে অনেক পড়াশোনা করাবে, মানুষের মত মানুষ করে তুলবে। পুরুষতন্ত্রের সমস্ত রূপ ফুটে উঠতে শুরু করে বিশাখার স্বামীর মধ্যে থেকে। চিন্তাভাবনাগুলো এমন যেন "আমি পুরুষ, আমি করতেই পারি। আমি পুরুষ তাই বাইরে যাকিছুই করিনা কেন, আমার বদনাম হবেনা। কিন্তু ও একটা মেয়ে হয়ে বাইরে মিশতে পারবেনা। একটা মেয়ে বাইরে পা রাখলেই সে বদনামি।" বিশাখার প্রাণ অস্থির হয়ে ওঠে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে। বিশাখা নিজের সমস্ত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। সে সবসময় চেষ্টা করে স্বামীকে বুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য, শান্ত করার জন্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশাখা ঘরের মধ্যে কষ্টে জর্জরিত হয়ে পচতে থাকে, আর তার স্বামী বাইরে মদ খেয়ে আনন্দ করে। 

বিশাখার স্বামী বাইরে মানুষকে অনেক সাহায্য করে। দরিদ্রকে অর্থদান করে, বাইরে সবার সাথে বন্ধুত্ব করে, মানুষসুলভ আচরণ করে। তার যত অত্যাচার শুধু ঘরে ফিরে আর বাড়ির মানুষগুলোকে বঞ্চিত করে। যদিও সেও তাদের ছেলেকে ভীষণ ভালবাসে, নিজের ছেলেকে কখনো সে কোনোকিছু থেকে বঞ্চিত করেনি। তাদের ছেলে কখনো মুখফুটে কিছু চাইনা। তাদের ছেলেকে বিলাসিতা কখনো প্রভাবিত করতে পারেনি। সে অনেক পড়াশোনা করে, মানুষের কষ্ট বুঝতে পারে, অত্যাচারিত নারীদের কষ্টকে সে উপলব্ধি করতে পারে। বিশাখার অপূর্ণ পড়াশোনা করার ইচ্ছা সে তার ছেলের মধ্যেও জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল। জীবনে হারতে হারতেও সে এই একটা দিকে জিততে পেরেছে। বিশাখার ছেলে আজ অনেক বড় হয়েছে, অনেক পড়াশোনা করছে, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে, আরও অনেক সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। আজ বিশাখার ছেলে স্বপ্ন দেখে এক অন্যরকম আদর্শের। সে পুরুষতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়। মনের মধ্যে ভীষণ প্রেম, ভালবাসা নিয়ে সে বড় হয়েছে। কিন্তু এই এতকিছুর পরও বিশাখার ছেলে আজও একপ্রকার হীনমন্যতায় ভোগে, অশান্তি, চিৎকার, গালাগালি সহ্য করতে পারেনা। আজও বিশাখার স্বামী বাইরের জগতে ভীষণ ভালো একজন মানুষ ও বাড়ির পরিবেশে একজন প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। বাড়ির এই পরিবেশে আজ বিশাখা অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কিন্তু অভ্যস্ত হতে পারেনি তার ছেলে। সে এই পুরুষতন্ত্রকে মেনে নিতে পারেনা, কষ্ট পায়, সেও অশান্তিতে জর্জরিত হয়ে ওঠে। একসময় বিশাখার যেমন এমন অশান্তিতে দম বন্ধ হয়ে আসত, আজ তাদের ছেলের এই পরিবেশের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসে। এমনই তীব্র অশান্তির মধ্যে থেকেও তাদের ছেলে মনের মধ্যে সমস্ত জোরকে একত্রিত করার চেষ্টা করে চলেছে অবিরাম। সে চেষ্টা করে চলেছে এই পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। 


- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 23 September 2017

মেয়েমা,

এই চিঠিটা যখন তোমায় লিখতে শুরু করেছি, ততক্ষণে আমি ভীষণই ভেঙে পড়েছি। গোটা পৃথিবী যেন দ্রুত বেগে পাল্টে যাচ্ছে, আমি থমকে গেছি। চারপাশের অবস্থা আমার জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ক্রমশ। এত একা আমি কখনো ছিলাম না। পুরুষতান্ত্রিক এক পুরুষ হয়ে বেড়ে উঠছিলাম। আবেগের জায়গা আমার কাছে ছিল না। আবেগকে পাত্তা দিতাম না। কারোর ভালো লাগা, খারাপ লাগাকে পাত্তা দিতাম না। ঠিক সেই সময় আমি তোমার আদর্শের ছোঁয়া পাই। পুরুষতান্ত্রিক এক পুরুষ থেকে মানুষ হওয়ার ইচ্ছা জন্মায় মনের মধ্যে। আবেগ তৈরি হতে থাকে। প্রেম, ভালবাসা জায়গা করে নেয় মনের মধ্যে। নিজেকে একজন সৎ ও তোমার আদর্শে গড়া একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। এই এতকিছু হঠাৎ করে একটা মানুষের জীবনে হয়ে যায়না। সময় লেগেছে আমারও। গত পাঁচ বছর ধরে আমি নিজেকে একটু একটু করে পাল্টেছি। পুরুষতন্ত্রের সীমানা পেড়িয়ে মানুষ হতে চেয়েছি। কিন্তু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর এই সমাজে অভ্যস্ত মানুষের চোখে, মেয়েদের চোখে একজন পুরুষ মানেই সে পুরুষতন্ত্রের অংশ। তাই পুরুষতন্ত্র থেকে বেরিয়ে মানুষ হওয়ার পরও আমি মানুষের সন্দেহের চোখে পড়েছি। আজ প্রতিটা মানুষ কেমন আমাকে, আমার ভিতরের বদলে যাওয়া মানুষটাকে সন্দেহের চোখে দেখে, ভাবে "এটা বুঝি একটা নকল চেহারা, এই ভালো মানুষী নকল চেহারার পিছনে আদতে আছে একজন পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। একজন পুরুষ আবার মানুষ হয় কিভাবে!" আমার দিকে সবার এই সন্দেহের চোখ আমাকে কষ্ট দেয় ঠিকই, কিন্তু আমাকে ভাঙতে পারেনা। আমি ভেঙে পড়ি তখনই যখন তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দাও। আমি সবসময় তোমাকে বলেছি এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ যদি তোমার পাশ থেকে সরে যায়, তোমার বিপক্ষে যায়, এই সৌম্য একাই তোমার সাথে, তোমার পাশে থাকবে সবসময়। ঠিক তেমনই, গোটা পৃথিবীতে যদি প্রতিটা মানুষ আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দেয়, আমার কষ্ট হলেও সেটা আমাকে ভাঙতে পারেনা কখনোই। আমাকে ভেঙে দেয় সেটাই যখন তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দাও।

তোমার কাছে আমি কখনো কিছু বাছবিচার না করেই কথা বলেছি, মনের কথা খুলে বলেছি, আবদার করেছি। একসময় তুমি আমাকে প্রায় বলতে, আমাকে তুমি স্নেহ করো, আমাকে ভালোবাসো। হয়ত শুধু বলার জন্য বলতে, হয়ত মন থেকেই বলতে। কিন্তু তোমার বলা শুধু এই কথাগুলোই আমাকে ভীষণ প্রেরণা দিত। আমাকে তুমি বেশ কয়েকবার বলেছিলে, "দিল্লি এলে দেখা কোরো।" আমি তোমাকে উত্তরে বলতাম "করবো মেয়েমা। নিশ্চয় দেখা হবে আমাদের। কিন্তু এভাবে নয়, তোমার মত মানুষের সাথে দেখা আমি যোগ্যতা অর্জন করেই করবো। আমি নেট কোয়ালিফাই করেই দেখা করবো।" তুমি আমার ঈশ্বর। ঈশ্বরের কাছে কি আমি এমনি এমনি পৌঁছতে পারি! তাই আমি একজন কিছু বা কেউ হয়েই তোমার কাছে যেতে চেয়েছিলাম। গতবছরে আমি প্রস্তুতির খুব কাছে এসেও সামান্য ব্যবধানে ব্যর্থ হয়ে যাই। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে একটুও। আবারও নিজেকে প্রস্তুত করতে চেয়েছি প্রথম থেকে। আবারও স্বপ্ন দেখেছি আমি সফল হবো। সফল হবো কারণ আমায় আমার আদর্শের মানুষটাকে ছুঁতে হবে। তোমাকে একটুখানি ছোঁয়ার জন্য তো আমি রাতের অন্ধকারে খালি পায়ে কাঁটা বিছানো পথ দিয়েও হেঁটে যেতে পারি, রক্তাক্ত হতে পারি, মরতেও পারি। তবু তোমাকে না ছুঁয়ে আমার শেষ নিঃশ্বাস বেরোবে না। আমি যেটা ভেবেছি, সেটাই তোমার কাছে প্রকাশ করেছিলাম। এমনি এমনি আমি তোমার কাছে একজন এলেবেলে কেউ হয়ে তো পৌঁছতে চাইনি। ঈশ্বরকে এমনি এমনি এত সহজে ছোঁয়া যায়না। তুমি আমার জীবন্ত ঈশ্বর।

এই মুহূর্তে আমাকে ভীষণ লড়াই করতে হচ্ছে টিকে থাকার জন্য। কষ্ট পেতে পেতেও আমি কখনো লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছি না। হচ্ছিনা কারণ আমার একটা কথা বারবার মনে হচ্ছে যে আজ সবাই আমাকে ভুল বুঝছে, কিন্তু খুব সামনেই সবার ভুল ধারণা ভেঙে যাবে। সবাই আমাকে খুব ভালবাসবে, আপন করে নেবে। কিন্তু আমি তীব্রভাবে ভেঙে পড়ছি একটাই কারণে, আমি মেনে নিতে পারছিনা যে তুমি আমাকে কেমন যেন দূরে করে দিয়েছ। আমি তো তোমার কাছে তোমার প্রিয় হাতিটা চেয়ে বসিনি, আমি তো তোমার কাছথেকে দামি কিছু চেয়ে বসিনি, আমি যেটা চেয়েছি তোমার কাছে সেটা আমার কাছে অমূল্য, যা টাকা, পয়সা দিয়ে কখনো কেনা সম্ভব হয়না, তোমার একটুখানি ভালবাসা, তোমার একটুখানি স্নেহ। আমি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ নই মেয়েমা, গোঁড়া ধার্মিকও নই, কুসংস্কারেও আচ্ছন্ন নই। আমি শুধু চেয়েছিলাম সবকিছুকে জানতে, বুঝতে। তাই সবকিছুকে পরীক্ষা করতে চেয়েছি। ভুল বুঝো না মেয়েমা। তুমি ভুল বুঝলে যে আমি ভীষণই শক্তিহীন হয়ে যাই। একবার আমাকে একটু স্নেহ করো, একটুখানি ভালোবাসো, দেখো আমি হাসতে হাসতে সবকিছু জয় করে নেবো। আমার লক্ষ্য হয়ত অসম্ভব দেখায়, কিন্তু সেটা ভুল নয় কখনো। তোমার আশীর্বাদটুকু ছাড়া আমি যে একেবারে শক্তিহীন হয়ে যায় আমার ঈশ্বর। সৌম্য তোমাকে ভীষণ ভালবাসে, ভীষণ শ্রদ্ধা করে, তোমার দেখানো আদর্শের পথে সে সারাজীবন চলতে চায়। সৌম্যকে দূরে ঠেলে দিওনা তোমার থেকে কখনো। 

Tuesday, 19 September 2017

তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে।

সরকারের রঙ বদলেছে, নাম বদলেছে, মুখ বদলেছে। কিন্তু সরকারের চরিত্র কতটা বদলেছে সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকেনা। আগের বাম সরকার যদি হার্মাদ, খুনি নিয়ে রাজত্ব করত, তবে এখনকার তৃনমুল সরকারও নানান বিশৃঙ্খলতা নিয়ে, খুনোখুনি নিয়ে, রক্তারক্তি নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে একইরকম আগুন জ্বালানো পরিবেশ বজায় রেখেছে। যোগ্য উত্তরসূরি যাকে বলে। আমি আবেগে ভেসে তৃনমুল সরকারকে ভোট দিই, জানি কিচ্ছু পাল্টাবেনা, একইরকমভাবে বাংলার পরিবেশ জ্বলবে। তবু অন্তত একটু আশায় ভোট দিই, ভাবি যে একেবারে সব খারাপ হওয়ার থেকে অন্তত যদি কিছুটা কম খারাপ হয়, তাতেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। সে আশা আশাই থেকে যায়। পরিস্থিতি ভালো হওয়ার থেকে সময়ের সাথে জিলিপির মত প্যাঁচালো হয়ে ওঠে। প্রগতি কিস্যু হয়না।

প্রসঙ্গ টানি সেই বিতর্কিত লেখিকার, যার লেখা বইগুলির মূল্যায়ন হয় শুধুমাত্র লেখিকার বিতর্কিত নামে। তাঁর বিতর্কিত লেখাগুলি কে কতটা আত্মস্থ করেছে এতদিনে, সেই নিয়ে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই তো সেদিনের কথা, বাম আমলেই লেখিকার "দ্বিখণ্ডিত"কে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিল। কারণ কিছু প্রগতিশীল লেখক সরকারের কাছে নিজেদের স্বাক্ষর ঘোষণা দিয়ে বলেদিল "দ্বিখণ্ডিত"তে তাদের আপত্তি আছে। দ্বিখণ্ডিততে নাকি অশ্লীলতা আছে, মিথ্যে আছে, সাম্প্রদায়িক হিংসা আছে। সরকারও তালে তাল মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার বাহানা দিয়ে বইটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিল পশ্চিমবঙ্গে। কোর্টে কেস হল, লড়াই চলল, অবশেষে দুবছরের মাথায় কোর্ট কর্তৃক "দ্বিখণ্ডিত" মুক্ত ঘোষণা হল। আদর্শ জিতল, সত্য জিতল, জিতল লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পরাজিত হল সেইসব প্রগতিশীল লেখক, লেখিকারা, পরাজিত হল সরকার, পরাজিত হল সংখ্যালঘু কিছু মানুষের গুণ্ডামি। এই দু'বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে লেখিকার চরিত্রকে ফালাফালা করা হয়েছে প্রগতিশীল সেইসব লেখক - লেখিকাদের কথাতে, লেখাতে। লেখিকাকে যৌনপল্লীর এক নারীর সাথেও তুলনা টানা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নৈতিক জয়টা কিন্তু এই বিতর্কিত লেখিকাই পেয়েছেন।

এক বিতর্কিত লেখক, তার ওপর আবার সে একজন মহিলা যে ডানেরও খায় না, বামেরও খায় না, নিজের খায়, নিজের পরে। একজন শরণার্থী হয়ে এত দেমাগ! সরকারের বিষ নজরে সে পড়বে না তো কি খুনি, চোর, ডাকাত, গুণ্ডারা পড়বে? সিঙ্গুর কাণ্ডে ধামাচাপা দিতে হলে, ন্যানো কাণ্ড থেকে মানুষের মন ঘোরাতে হলে একজনকে জবাই করতেই হত। রিজয়ান খুন নিয়ে তখন পার্কসার্কাস এলাকায় আগুন জ্বলছে। সরকারের নির্দেশে কিছু গুণ্ডাও নেমে পড়ল রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে, সংখ্যালঘু মানুষকে উস্কানি দিতে, খবর ঘোরাতে, তসলিমা নাসরিনের নিপাত চেয়ে। নতুন খবর হয়ে গেল সংখ্যালঘু মানুষরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে লেখিকার বিরুদ্ধে, শহর জ্বলছে। প্রথম অভিসন্ধিতে জিতল সরকার। লেখিকাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বার করে গোটা দেশের গায়েই সেদিন কলঙ্কের কালি লেপে দিয়েছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তো নয়, এরপর গোটা ভারতেই লেখিকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সত্য থমকে যেতে পারে, সাময়িক হেরে যেতে পারে। সত্য কখনো চাপা থাকতে পারেনা। লেখিকা কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। লড়াই করেছে, আবার ফিরে এসেছে তাঁর প্রিয় ভারত দেশে।

সরকার পাল্টে গেল পশ্চিমবঙ্গে। নেতৃত্ব বদল হল। একজন অসীম সাহসী নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসল। লেখিকা তসলিমা নাসরিনও ভেবেছিলেন সময় পাল্টাচ্ছে, একজন মহিলা পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসছেন মানে নিশ্চয়ই অনেক ভালো কিছু হতে চলেছে। আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু যে কি সেই, হাত বদল হলেও চিন্তাভাবনা, আদর্শের কোনও বদল হলনা। বরং বাম সরকারের নীতিকেই বহন করে চলল মা, মাটি, মানুষের সরকার। সেই নীতিকে আরও একটা ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল তসলিমা নাসরিনের "নির্বাসন" কে নির্বাসিত করে দিয়ে। সেদিন যখন আত্মজীবনীর সপ্তম খণ্ড নির্বাসনের প্রকাশ হতে চলেছে বইমেলার এসি হলে, দুপুর তিনটের সময়, হঠাৎ করেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এসে ঘোষণা করেন একটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনের তরফ থেকে তার কাছে ফোন যায় যে তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ হলে বইমেলাতে তীব্র ঝামেলা সৃষ্টি করবে তারা, তাই লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ সম্ভব নয়। ওই সংগঠন সেদিন প্রথমে লালবাজার পুলিশকে হুমকি দেয় ঝামেলা করবে বলে, তারপর গিল্ডের সাথে ফোনে কথা বলে। লালবাজার কর্তৃকও গিল্ডের কাছে ফোন করে "নির্বাসন" প্রকাশ বন্ধ করতে বলা হয়। এরপর "নির্বাসন"কে আর এসি হলে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। যদিও "পিপলস বুক সোসাইটি"র উদ্যোগে সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য বইটার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন বইমেলায় খোলা আকাশের নিচে। আবারও নৈতিক জয় পায় সত্য, নৈতিক জয় হয় বইমেলার, নৈতিক জয় হয় বইপ্রেমীদের। নৈতিক জয় পায় লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কিন্তু কিছু সংখ্যালঘু গুণ্ডার ভয়ে সেদিন কলকাতা পুলিশের মত এত বড় বাহিনী চুপ হয়ে গেছিল, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আসলে সংখ্যালঘুদের ভয়ে শুধু পুলিশ কেন, সরকারও তটস্থ থাকে। যত যায় হোক, তসলিমা নাসরিন তো আর সরকারকে ভোট এনে দিতে পারতেন না। আর সংখ্যালঘুদের ভোট হারানোর মত ভুল মুখ্যমন্ত্রী কখনো করতেন না। আদর্শ, সত্য চুলোয় যাক, মানুষ রাজনীতিকদের কাছে একটা ভোট গননার সংখ্যা, যেটা ওদের জিততে হবে।

তসলিমা নাসরিন বরাবর মানুষের মনে নৈতিক জয় পেয়েছেন। মানুষের ভালবাসায় রাজত্ব করেছেন। আমি বিশ্বাস করি তসলিমা নাসরিন ফিরবেনই এই বাংলায়। নৈতিকতাতেই উনি জিতে ফিরবেন এই দৃঢ় বিশ্বাস মনের মধ্যে পোষণ করি।

বাংলা সেদিন রাজনীতির মঞ্চ নয়, বাংলা সেদিন মানুষ হবেই।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 17 September 2017

বৃষ্টি মানে শীতল স্পর্শ,
মনের ক্লান্তি ধুয়ে যায়,
বৃষ্টি মানে সবুজ পাতারা
আরও যেন রঙিন হয়।
বৃষ্টি মানে মাটির গন্ধে মনে পড়ে ছেলেবেলার মাঠের খেলা,
বৃষ্টি আমার চোখের জলকে আড়াল করে,
আমি কাঁদতে পারি মন খুলে,
বৃষ্টি আমায় মনে করায় প্রেমবেলার প্রেমের মেলা। 

Thursday, 14 September 2017

মেয়েমাকে চিঠি।


এর আগে তোমাকে বেশ কিছু চিঠি লিখেছি, আবার অনেকদিন হয়ে গেছে কোনো চিঠি লিখিনি তোমাকে। তোমায় লেখা প্রথম চিঠিটা আমি আমার পাণ্ডুলিপি "উৎসর্গ"তে লিখে দিয়েছি। আনন্দ প্রকাশনী পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে কি করবে জানিনা। অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল আমার পাণ্ডুলিপি নিয়ে। ভেবেছিলাম তোমাকে উৎসর্গ করে লেখা আমার বই প্রকাশিত হবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেই পশ্চিমবঙ্গ যে তোমাকে মনের মধ্যে রেখেও দূরে সরিয়ে রেখেছে, সেখানে আমি এমন এক লেখকের স্বীকৃতি পেতে চলেছি যে তার বই তার আদর্শ, তার ভালবাসাকে উৎসর্গ করেছে। কোনো ভয় পাইনি কখনো এটা করতে গিয়ে। কেন পাবো ভয়! আমি জানতাম আমি কিছু ভুল করিনি। আমি শুধু আমার মনের কথাগুলো বাইরে প্রকাশ করতে চেয়েছি। এখন আমার প্রত্যাশা নেই কোনো মেয়েমা। ওরা ছাপালে ছাপাবে, না ছাপাতে চাইলে ছাপাবেনা। ছাপালে আমার ভালো লাগবে, একটু বা অনেকটাই আনন্দ পাবো। এই প্রত্যাশা কমে যাওয়ার পিছনে আমার একাকীত্ব অনেকটা দায়ী। বেশ কিছু সময় ধরে আমার মনে হচ্ছে আমি একা হয়ে গেছি, পড়ছি, নিজের মত করে থাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওই যে মনের মধ্যে একটা ব্যাপার ঢুকে গেছে আমি তোমার থেকে আলাদা হয়ে গেছি, আমাকে তুমি আলাদা করে দিয়েছ, এটাই আমাকে মেরে ফেলছে মনে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।


যখন তুমি আমাকে ভালবাসতে বলতে, যখন বলতে আমি তো তোমাকে স্নেহ করিই, বা কখনো বলতে পাগল ছেলে, তুমি খুব ভালো সৌম্য, আমি যেন পৃথিবীর সর্ব সুখি হয়ে উঠতাম। যখন আমি ভুল করলে তুমি আমায় বকতে, ওই বকার মধ্যেও ভালবাসার ছোঁয়া পেতাম। আমি ভালো থাকতাম। যখন তুমি মন দিতে পড়াশোনা করতে বলতে, তখন কঠিন কঠিন এলগরিদমগুলোও আমার কাছে জলভাত হয়ে যেত। মুহূর্তের মধ্যে আমি অনেক অনেক এলগরিদম সমাধান করে ফেলতাম। তুমি সবসময় আমাকে স্নেহ করেছ, আমার খারাপ সময়গুলোতে তোমার বলা একেকটা কথা আমাকে অক্সিজেন দিয়েছে আর আমি একের পর এক কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে জিতে নিয়েছি। আজ নিজেকে বড্ড হেরে যাওয়া মানুষ মনে হয় সবসময়, মনে হয় আমি ফুরিয়ে গেছি, হারিয়ে গেছি। আজ খুব সোজা সোজা অঙ্কও আমি ভুল করি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। সবসময় মনে হয় আমি তোমার সন্দেহের চোখে দাঁড়িয়ে আছি। সবসময় মনে হয় তোমার চোখে আমি একজন গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক বা গোঁড়া ধার্মিক। না মেয়েমা, আমি পুরুষতন্ত্রকে কখনো বিশ্বাস করিনি, মানিনি। গোঁড়া ধার্মিক কখনোই ছিলাম না। আমার কাছে ধর্ম বলতে সূর্যের সত্যি, সূর্যের শক্তি, আর আমার সকাল জেগে দেখা সূর্য সে তো একমাত্র তুমি। গোঁড়া ধার্মিক আমি কখন হলাম তাহলে মেয়েমা!


দিনগুলো বড্ড অসহায়। ভালবাসা হারিয়েছি, স্নেহ হারিয়েছি, পরিবর্তে মনে জায়গা করে নিয়েছে একরাশ অভিমান। ভালোবাসা হয়ত আমাকে বুঝতে ভুল করেছে, আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছে। জানিনা কেন, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওর হাসি, আনন্দ সব কেড়ে নিয়েছি, ওর হয়ত আমার ভালবাসার ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে গেছে বা আমি মুছে গেছি ওর মন থেকে, কিছু তো ওর মনে হয়েইছে। তাই আমাকে শাস্তি দিল। আমিও ওকে জোর করিনি কখনো। শুধু মনের মধ্যে চরম অভিমান জন্ম নিয়েছে, সময়গুলোকে দীর্ঘ মনে হয়েছে, বারবার দীর্ঘশ্বাস পড়েছে আমার। হাঁপিয়ে উঠেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো না কিছুই। কিন্তু এত অসহায় হয়ে ওঠার পরও কি আমি তোমাকে না বলে থাকতে পারতাম! প্রেমের আমার অভাব নেই। কত কত মানুষ প্রেম করতে চায়, অন্যসময় হলে আমিও বলে দিতে পারতাম খুব সহজেই যে আমিও ভালবাসি তোমাদের। আজ আর পারিনা। আজ আর কাওকে ইচ্ছা করেনা ভালবাসতে। আজ শুধু নিজের কাজগুলো করার মাঝে নিজেকেই বিরক্ত লাগে, ব্যর্থ লাগে। শেষবার নেট পরীক্ষায় সাফল্যের এত কাছে পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে। ভেবেছিলাম আবার পরীক্ষা দেবো, সফল আমি হবোই। কিন্তু আজ আমি ভেঙে পড়েছি ভীষণ। তুমি কি আমাকে একটুও বুঝতে পারতে না মেয়েমা!

তুমি কেন আমাকে ভুল বুঝলে!

সামনে ৫ই নভেম্বর আমার আবার নেট পরীক্ষা। হয়ত সফল হবো। হয়ত আবারও ব্যর্থ হবো। আজ আর কোনো প্রত্যাশা নেই সাফল্যের। তবে যাই করি, একটা চরম লড়াই করতে চলেছি সামনেই তোমাকে নিয়ে এই বাংলায়, এটা তো নিশ্চিত। ২০১৮ এর মার্চ ও এপ্রিল মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইতে। নিজের জীবনের ওপর আমার কোনো মায়া নেই, আমি বাঁচলেও কিছু না, না বাঁচলেও কিছু না। কিন্তু আমার জন্য যদি এই একটা মানুষের ভালো হয়, আমার জীবন বাঁচা হয়ে যাবে, আমি পূর্ণ হয়ে যাবো।

তুমি ভালো থেকো মেয়েমা, অনেক অনেক বাঁচো। তোমার প্রতি এত অন্যায় হয়েছে, যে অন্যায় আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। তোমার প্রতি হওয়া অন্যায় আমার দেশের গায়ে লাগা কলঙ্কের দাগ। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো সেই দাগটা মুছে দেওয়ার।

আমি কিছু ভুল করলে ক্ষমা কোরো।


                                                                             তোমার
                                                                           
                                                                              সৌম্য। 

Tuesday, 12 September 2017

উৎসর্গ - তসলিমা নাসরিনকে।

শোনো জাগরনের মেয়ে
তোমারে করি আহ্বান,
মোর বিশ্বাস আর বিশ্বাসে লিখেছি তোমারই জয়গান,
তুমিই হবে সূর্যতারা বাংলার আকাশে,
তুমিই হবে মিলনমেলা স্বাধীনতার বাতাসে,
তুমিই হবে আদর্শ মঞ্চ,
তুমিই হবে কবি,
তোমারই আওয়াজে ফুটবে সকলের মনে
ভালবাসা, সমতার বাণী।
শোনো শোনো ও কবি,
এ জগত নয় সমতার বাদী,
এখানে চলে পুরুষতন্ত্র পুরুষই কারবারে,
এখানে চলে নারীতন্ত্রও স্টাইল, ফ্যাশনইতে,
এখানে আমরা শুধু মানুষ হয়ে বড্ড বেমানান,
হতে হবে পুরুষ বা নারীবাদী, নয়ত গর্দান।
তুমি জেনেছ তো কবি নিজেরই জীবন গাঁথায়,
তুমি জেনেছ শুধু মানুষ হয়ে বাঁচাটাই "লজ্জার,"
পদে পদে পুরুষবাদীরা তোমায় করেছে ধিক্কার,
পদে পদে সাজানো নারীবাদীরা যারা স্তম্ভমূলে পুরুষতান্ত্রিক,
তারাও কই ছেড়েছে তোমায়, দেখিয়েছে হাহাকার।
মিথ্যে আজ, মিথ্যে সব, ভালবাসারাও বেইমানি করে,
ভালবাসারাও আজ মহান, মহীয়সী পুরুষবাদী বা নারীবাদী,
শুধু আমাদেরই হয়না ঠাই কোনো স্থানে, নিয়ে বাঁচার অধিকার।

শোনো তুমি কবি,
তুমি এসো আবার ফিরে এই বাংলার ভূমিতে,
তোমায় ছাড়া এই শুধু মানুষেরা আজ বড়ই অসহায়।

- সৌম্যজিৎ। 
সহসা দিনগুলো বদলে যায়,
সহসা রাতগুলো অসহায়,
সহসা তুমি আমি একসাথে
তখনও ছিলাম আজকে নেই ..

তুমি আজ শুধু কবিতা,
তুমি আজ গানের ভাষা,
তুমি আজ আর সামনে নেই,
তুমি নেই ভালোবাসা।


 - সৌম্যজিৎ।

Monday, 11 September 2017

একলা আজ
তবু মনে পড়ে,
মনে পড়ে তুই বলেছিলিস
নিয়ে যাবি রওডন স্ট্রীটের বাড়িটাতে,
বলেছিলিস শেখাবি পেইন্টিঙটাকে ..
একলা আজ আমি
শহরটাতে,
বলেছিলিস ঘোরাবি অলিগলিতে।
একলা আমি কি করি ঠিকানা নেই,
তুই বলেছিলিস ঘোরাবি শহরটাতে ..
একলা আজ মনে পড়ে তোকে,
তুই বলেছিলিস পেন্সিলে আঁকাবি আমাকে ..
একলা আজ মনে পড়ে তোকে,
তুই বলেছিলিস ভালবাসবি আমাকে।


- সৌম্যজিৎ (শরত)। 

Sunday, 10 September 2017

মনের মধ্যে ভয়ানক আগুন জ্বলছে। দাবানলের মত আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে চোখ, মুখ থেকে। শরীরের অসুস্থতাকে ছাপিয়ে মনের মধ্যেকার যন্ত্রণা অস্থির করে তুলছে। সাথে একটা মানুষকেও আমি খুঁজে পাচ্ছি না। প্রেম, ভালবাসা অর্থহীন লাগছে চোখের সামনে। সামনে অনেক বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। নিজের মধ্যেকার যোদ্ধা পরিচয়টা লুপ্ত হতে বসেছিল, আমি বারবার ভালোবাসানির্ভর হয়ে পড়ছিলাম। দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম। এখন আর দুর্বল হওয়ার অবকাশ নেই। জীবনকে গড়পড়তার হিসেব থেকে বার করতে গেলে যুদ্ধ করে বাঁচতে হবে, আর আমি সেটাই করবো। সামনের সমস্ত উঁচু ধাপগুলো পার করে ফেলবো যত যাকিছুই হয়ে যাক। মানববাদী তসলিমা নাসরিনের জন্য যে চিন্তাটা মনের ভিতরে পোষণ করে আছি, সেটাকেই বাস্তব রূপ দেবো আমি। হয় তাতে বাঁচবো নাহলে শেষ হবো। নিজের মনের মধ্যেকার জ্বালাটুকু নেভাতে গেলে এটা আমাকে করতেই হবে। 


পুড়ে যাচ্ছে মনের আকাশ,
দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে শুকিয়ে যাওয়া মৃত ঘাসের ওপর দিয়ে, 
চারিদিকে যেদিকে চোখ যায় দেখি বাঁজার জমি খাঁ খাঁ করছে,
পোড়া ভ্যাঁপসা গন্ধটা নাকে এসে ঠেকছে,
ঠিক যেন বিষে বিষে ভেসে গেছে বাতাস।
আর কিছুক্ষণেই আমার প্রশ্বাসে অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে,
ঘনঘন হাঁপানি উঠছে নাভিশ্বাস ঠেলে,
এই বাঁজার জমিতে শুধু আমি একা, পায়ের তলার মাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে,
গরম বাতাস, গরম নিঃশ্বাস, যেখানে হাত দিই শুধুই আগুনে ঝলসানো স্পর্শ,
আমি প্রাণ চাই, আমি প্রাণ চাই।
আমার উদার প্রকৃতি মা 
ভাসিয়ে দাও মেঘ গর্জন করে শীতল বৃষ্টিতে,
এখুনি এই বাঁজার জমিকে ভিজিয়ে আবাদ করে দাও, 
এখুনি এই তীব্র লালবর্ণে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিভিয়ে জন্ম দাও সবুজ তৃণ,
এখুনি নতুন করে অক্সিজেনে ভরিয়ে দাও বাতাস।
তোমার বিরূপ প্রকোপ দেখাতে কেন জন্ম দিলে এই দহনও ধরণীতে! 
মনুষ্যত্বে ভরা প্রাণ নিয়ে আমার আবির্ভাব হল,
কেন আমায় মৃত্যুপুরীতে দাহ্য বস্তু বানালে!
শুধুই কি তোমার আগুন ছড়িয়ে দিতে ওই কার্বনডাইঅক্সাইডের মতই 
আমিও কার্বনে কোনো বস্তু!
বস্তুই যদি হই তবে কেন প্রাণ দিলে,
কেন প্রেম দিলে, কেন মনুষ্যত্ব দিলে,
কেন ইচ্ছা দিলে এই চামড়ার আবরণে ঠেসে? 


- সৌম্যজিৎ। 
আমি চলে যাবো বহুদূর,
নত আমার জীর্ণ মাথা,
সারাজীবনে যা'কিছু করেছি আয়,
আজ সবই বৃথা। 
কখনো যদি খুঁজে বেড়াও, খুঁজো আমায় অন্ধকারে,
খুঁজো আমায় কৈলাসে বা অলকানন্দে,
আমি থাকবো ধ্যানরত পড়ে একা একা। 
এ সংসার আমার নয়,
দম বন্ধ হয়ে আসে, বায়ুনিরুদ্ধ ঢাকনা আমায় 
ঘিরেছে চার দেওয়ালে।
জাঁতাকলে পিষ্ট আজ, আমি আকাশ চাই,
আমি মুক্তি চাই,
আমি প্রাণ চাই,
প্রাণভরে প্রশ্বাস নিতে চাই প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে। 
আজ বড্ড অসহায় হয়ে গেছি আমি মুক্তির পিপাসায় শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছি,
সমস্ত শরীর, মন এলোপাথাড়ি চিন্তায় এলোমেলো লাগে,  
না না না, আমি এই পৃথিবী চাইনা আর,
আমি একটু মুক্তবাতাসে ঘ্রাণ নিয়ে স্থির হতে চাই। 


- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 9 September 2017

তোর হাঁটাটা প্রায় লক্ষ্য করতাম,
রাস্তার পিচে খটখট আওয়াজ তুলে আসতিস,
মাথাটা দেখে মনে হত যেন হাওয়ায় ভেসে আসছিস -
কখনো চুল বাঁধা, কখনো খোলা চুলে শ্যাম্পুর গন্ধ ছড়িয়ে।
মনে আছে তোর মাথায়  সবসময় হাত রাখতাম আমি!
ভীষণ ভালো লাগত হাত রেখে, মনে শান্তি পেতাম,
মাথাতে অদ্ভুতরকম উষ্ণতা খুঁজে পেতাম,
আমার কাছে ওটাও একটা আদর, ওটাও একটা প্রেম।
তোর চোখে, মনে সবসময় নতুনত্বের একটা রশ্মি বয়ে যায়,
নতুন নতুন চিন্তাতে, বুদ্ধিতে ভেসে চলিস,
যেমন সেদিন আমার জন্মদিনে আমাকে একটা পায়রা দিলি মুক্ত করে দিতে,
সেদিন আমিও মুক্তির আনন্দ পেয়েছিলাম,
এক অদ্ভুত সুখ পেয়েছিলাম যখন দুহাত ছড়িয়ে পায়রাটাকে হাওয়ায় ভাসিয়েছি,
প্রকাশ করতে পারিনি আমি সেই সুখ।
আকাশে ওই দূরে -
একটা নীলচে লাল আভা একটার পর একটা লম্বা সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিল
নদীর ওপারে,
আর এপারে আমার দুহাত খোলা, মুখে মুক্তির হাসি নিয়ে আমি এক দৃষ্টে দেখছিলাম
উড়ন্ত পায়রাটাকে,
বাতাসে ডানা মেলার কম্পনের শব্দ আমার কানের পর্দায় এসে ধাক্কা দিচ্ছিল,
আর তুই দেখছিলিস আমাদের মুক্তির আনন্দ।
তবু আমি বারেবারে বলবো তুই বুঝিসনি আমাকে এতটুকুও,
বুঝিসনি শরত তার সব ভালবাসা ভালোবাসাকে বেসে ফেলেছে,
বুঝিসনি সেদিন আকাশ, বাতাস, ছাতিম গাছেরা আমাদের
প্রাণপণে অভিনন্দন জানিয়েছিল এক নতুন জীবনের আহ্বানে,
বুঝিসনি তুই, কক্ষনো বুঝিসনি আমার প্রেমকে।
তোকে আমি সবসময় ভালবেসে যাবো, তবু
তোকে এতটুকুও কাছে টানবোনা আর,
চাইনা আমি তোর প্রেম, চাইনা তোর ভালবাসা,
চাইনা তোর করুণা, চাইনা আর তোর করা অপমানগুলো,
পদে পদে আমার বুকে তীব্র অপমানের শেল বিঁধেছিস,
অসহ্য যন্ত্রণা দিয়ে রক্তাক্ত করে ক্ষত বিক্ষত করেছিস,
চাইনা আমি ওই অসহ্য যন্ত্রণা, তোকে আর চাইনা,
তোর শরীর, মন কিছু চাইনা।
শুধু আমি, আমার মত করে ভালবাসবো তোকে,
আমার ভালবাসাতে শুধু আমারই অধিকার।

Monday, 4 September 2017



তুমি কবিতা চেয়েছিলে না!
আমার কবিতা পুড়ে গেছে।
তোমায় কি দেবো নতুন করে!
আমার ঘরময় ধোঁয়াকার আজ, কবিতার মন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,
মনের প্রেম প্রেম আবহাওয়াতেও কালো মেঘ জমেছে।
বৃষ্টি আসার কথা ছিল, আকাশের দিকে চেয়েছিলাম ভীষণ উত্তেজনায়,
কতকিছু কল্পনার আসরে সাজিয়েছিলাম,
আজ ভিজবো অনেকদিন পর,
মনের সমস্ত আবর্জনা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে ভেবেছিলাম।
আকাশ গিরগিটির মত রঙ বদলায়,
ঠিক আমার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে গেল।
একরাশ উত্তেজনা কখন যে কালো পোড়া মন খারাপে বদলে গেল!
টের পাইনি।
প্রেম আমার হয়না, হয়না,
যতই ভাবি ভালবাসবো,
যতই ভাবি নিজের মত করে আদর করবো, যত্ন করবো, চুমু খাবো,
তার সব আনন্দ, কষ্ট, রাগ, অভিমান আমি নিয়ে নেবো,
যতই ভাবি সব বাধা ভুলে নতুন করে ভালোবাসাকে সাজাবো,
কিছুতেই হয়না জানো!
অভিশপ্ত লাগে নিজেকে বড্ড।
অভিশাপ আমাকে গ্রাস করে রেখেছে,
সেই কবে কে একজন আমায় বলেছিল, "তোর অনেক প্রেম আসবে,
কিন্তু তুই ভালবাসা পাবিনা, আমি অভিশাপ দিলাম তোকে।"
বারবার সেই অভিশাপে আমি তপ্ত হই,
বিলুপ্ত হতে হতেও আবার গড়ে উঠি নতুন করে ভালবাসবো ভেবে,
কিন্তু ভালবাসাটা আর হয়ে ওঠে না।
কোনোকিছুই তো আজ আর হয়ে ওঠে না,
শুধু নিজেকে বড্ড একা একা লাগে, ফাঁকা ফাঁকা লাগে,
অসহায় হয়ে উঠি মুহূর্তে মুহূর্তে,
জেগে ওঠার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাই,
নিজের সমস্ত জোরকে ঐক্যবদ্ধ করে এগোনোর চেষ্টা করে যাই,
সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ব্যর্থ হয়ে যাই আমি আবারও!
ভেবেছিলাম তোমায় কথার প্রেম দেবো,
কথার খেলা খেলবো তোমার সাথে,
কিন্তু আজ আর সেই জোর নেই আমার যে
তোমাকে কথার খেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবো সমুদ্র গভীরে।
আমার সব ভালবাসাটুকু আমি দিয়ে ফেলেছি ভালোবাসাকে,
ভালোবাসা যতক্ষণ ছিল,
আমিও অবাধে সবাইকে ভালবাসতে পারতাম,
অবাধে প্রেম বিলোতে পারতাম,
এখন আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই যে তোমায় দিই ..
এরপরও যদি কবিতা চাও, ডুবতে চাও,
তোমায় স্নেহ ব্যতীত আর কিছুই দেওয়ার সামর্থ্য নেই আমার,
আমার নিরুপমা। 

Sunday, 3 September 2017

আর এই যে আমার উনিশ বসন্তের জান্নাত। জান্নাত নামটা মনে হয় প্রথম আমিই ডেকেছি তোমাকে। আমার তো তাইই মনে হয়েছে। নাহলে প্রথমবার ওভাবে বাচ্চাদের মত জিজ্ঞাসা করতে না "তুমি আমাকে জান্নাত বলো কেন? আমি প্রীতি। আমাকে প্রীতি ডাকবা।" আমি বলেছিলাম ওটা হচ্ছেনা। আমি জান্নাতই ডাকবো। আমাকে "নারীর নাড়ি" বইটা পড়ালে। বইটার মধ্যে একটা নারীর অদম্য জেদ খুঁজে পেলাম। মুগ্ধ হয়ে গেলাম সেই নারীর প্রতি। আরে এমন নারী কি শুধুই আর বইয়ের পাতায় সাজিয়ে রাখার বিষয়! এই নারী তো সমাজের সামনে দৃস্টান্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে! আমাকে রিভিউ লিখতে বললে তড়িঘড়ি। সময়ও দিলেনা তেমন। কোনোরকমে একদিনেই বইটা পড়ে রিভিউ লিখে দিলাম। সেই রিভিউয়ের যে কি হাল হল, কিছুই বুঝলাম না। ভেবেছিলাম পরে জিজ্ঞাসা করবো তোমাকে, কিন্তু সঙ্কোচ হল। তোমার সাথে মাঝেমাঝেই মারামারি বেধে যায়, কথার মারামারি। ভীষণ বুদ্ধি তোমার মস্তিষ্কে, তেমনই একটা অসহ্য অহং বোধ কাজ করে তোমার মধ্যে। কমেন্ট ডিলিট করে দাও পছন্দ না হলেই। আর কমেন্টেটরকে নিজের স্বপক্ষে যুক্তিটুকুও তুলে ধরতে দিতে চাও না। এইজন্য আমি চরম বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। বিরক্ত হলেও ভালোও তো বাসি। তাই ওই ভালবাসাটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ভীষণ মিস্টি তুমি। চাপড় চোপড় করে বাচ্চাদের মত কথা বলতে পারো। ওই কথাতেই তো সব রাগ ভুল হয়ে যায়। আসন্ন প্রেমিকগুলোর কপালে অনেক কষ্ট আছে এমন প্রেমিকার সাথে প্রেম করার জন্য। সর্বোপরি পৃথিবী তোমার সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে হয়ত ভুল বুঝে আছে, কিন্তু আমি আর তুমি যে ভুল বুঝিনি এটাই অনেক। প্রেমের প্রেম আর বন্ধুত্বের প্রেমে পার্থক্য আছে এটুকুই মানুষ বুঝতে চায়না। সেদিনের কবিতাটা যখন লিখে আমাকে দেখালে, আমি বলেছিলাম "আন্তর্জাতিক মানের।" যতই উপন্যাস লেখো না কেন, কবিতাটা লিখবে। অন্তত ৫৫-৬০ খানা কবিতা লিখে আমাকে দেবে, ওগুলো নিয়ে আমার কাজ আছে। তোমাকে আরেকটা কথা বলে দিচ্ছি যেটা আমি আর কাওকে বলবো না, "আনন্দ পুরস্কারটা তোমার কাছে ঠিক পৌঁছবে।" আবারও কি বলতে হবে শুভ জন্মদিন! না বললেই কি নয়! অনেক লিখে ফেলেছি তো মনে হচ্ছে! আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা, কিছু অন্তত এখানে লিখি। অনেক আনন্দ করো সমস্ত দিনগুলোতে। মানুষের মনে জায়গা করে নিও। মানুষকে নিজের মত করে যেমন ইচ্ছা সেভাবে ভালবেসো।  টাটা। 
নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ হোক।


কিছুদিন ধরে আমার প্রেমের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। কোনো কারণবশত হয়ত মানুষটা আমার কাছে শান্তি পাচ্ছে না। হতে পারে আমার ওপর চরম অভিমান হয়ে আছে তার, হতে পারে আমাকে হয়ত তার বিরক্ত লাগছে, হতে পারে আমি একঘেয়ে হয়ে গেছি তার কাছে। আবার এটাও হতে পারে যে শুধুমাত্র অভিমানবশতই আমার মনের কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে সে। অভিমান কার না হয়! আমি পুরুষ, আমার অভিমান হতে পারে, আমার একঘেয়েমি চলে আসতে পারে, আমার বিরক্ত লাগতে পারে, আর সে নারী বলে তার অভিমান করা, একঘেয়েমি চলে আসা, বিরক্তি প্রকাশ করা ঠিক নয় এমন মানতে আমি নারাজ। আমার যদি না বলার অধিকার থাকে, আমার যদি অভিমান করার বা বিরক্তি প্রকাশ করার অধিকার থাকে, তবে তারও সেই অধিকার আছে। কারোর ওপর জোর করা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। কেউ যদি মন থেকে আমার কাছে আসে, ভালবাসতে চায়, আমি তাকে নিজের মত করে ভালবাসবো, কেউ যদি ভালবাসতে না চায়, আমি তাকে কোনোভাবে জোর করতে পারিনা। এটা ঠিক, আমি মানুষটাকে ভালবাসি, সে দশদিন ভালবাসছে না বলে গোটা এক বছরের তার ভালবাসা আমার কাছে মিথ্যে হয়ে যাবে না। তেমনই আমি তার কাছথেকে জোর করে ভালবাসা আদায় করারও চেষ্টা করবো না কখনো। সে একজন স্বাধীন মানুষ, আমি একজন স্বাধীন মানুষ, আমার নিজের ইচ্ছা প্রকাশের যেমন পূর্ণ অধিকার আছে, তেমনই তারও ইচ্ছা প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আছে। আমি তার এই স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সে ছবি আঁকে, সে ছবি তোলে, রাতের অন্ধকারে তিনটে বা চারটের সময় তার একা একাই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি করা উচিৎ নয়, আমিও তো আমার কাজে অনেকসময় বাইরে বেরোই, তাহলে সে নিজের কাজে বাইরে গেলে সেখানে আমার হস্তক্ষেপ করা সাজেনা। আর আমি যদি রাতের অন্ধকারে যেকোনো সময় বাইরে নাও বের হই, তবু তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করা আমার কখনো সাজেনা। এরপরও হয়ত আমি নিষেধ করে ফেলেছি অনেক সময়েই, নিষেধ করার কারণও আছে। যেখানে আমি দেখছি একটা মানুষ দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে, চোখের নিচে কালি জমিয়ে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ও আবারও বাইরে বেরোতে চাইছে, তখন না চাইলেও আমাকে তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাকে বাধা দিতে হয়েছে। ভালবাসার সম্পর্কে এটুকু জোর আমি খাটিয়েছি আমার আদর্শের বাইরে গিয়ে। এমনই তো হওয়া উচিৎ। নারী, পুরুষ প্রত্যেকেই নিজের নিজের স্বাধীনতাতে বাঁচবে, যা ভালো মনে হবে সেটাই করবে, যা ইচ্ছা সেটা পরবে, যা ইচ্ছা সেটা পড়বে এভাবেই তো মানুষ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবে। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষত্ব আমি কখনো চাইনি, পুরুষতন্ত্র ব্যাপারটাও ঠিক নয়। পুরুষতন্ত্র সমাজে পুরুষকে প্রভু বা মালিকের আসনে বসায়, লাটাইয়ের সুতো পুরুষের হাতে থাকে আর নারীকে দাস বানিয়ে রাখে, পুরুষ যেমন ইচ্ছা নারীর সুতো ছাড়ে আবার প্রয়োজনে সুতো টেনে ধরে নারীকে খাঁচায় ভরে। সবটাই শুধু পুরুষের ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়, নারী সেখানে একটা পরাধীন বস্তু বা দাস ছাড়া আর কিছু নয়। গত পরশু আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা আমাকে ফোন করে অনেককিছু বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আমার বর্তমান প্রেমিকার ওপর অধিকার বজায় রাখা উচিৎ, তার ওপর আমার জোর করা উচিৎ, এতটাও উদাসীন হওয়া আমার ঠিক হচ্ছে না। আমি উদাসীন নই আমার প্রেমের সম্পর্কের প্রতি। শুধু আমি মানুষটার ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা। মানুষটা আমাকে হাজার রকমভাবে ভুল বুঝেই হয়ত আমার থেকে দূরে সরে আছে, কিন্তু আমি কখনো তার ওপর জোর করে আরেকটা ভুল করতে পারিনা। এটাই তো মনুষ্যত্বের ধর্ম হওয়া উচিৎ। সে আমার মতই একজন মানুষ, সে নারী আর আমি পুরুষ বলে সে কখনোই আমার দাস নয়। সে আমার ব্যবহারের বস্তু নয়। আমি যেমন নিজে ভাবি যে আমি নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবো না, তেমনই চাই যে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হওয়া বন্ধ হোক। সবাই নিজের মত করে, নিজের অধিকারে মানুষ হয়েই বাঁচুক, চলুক, ফিরুক। সেখানেই মানুষের ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা পাবে। সেখানেই সমাজ হয়ে উঠবে সুস্থ, সুন্দর।


- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 1 September 2017

কথা ছিল, আর নেই। 


কথাগুলো হারিয়ে গেছে,
স্মৃতিগুলোও আর নেই,
আজ তুমি অনেক দূরে, 
আমার ভাষা নেই, যেন আমি নেই। 
ওই যে ছাতিমতলার নিচে হয়েছিল প্রেমখানি,
ওই যে আকাশ জেনেছিল, বাতাস জেনেছিল,
ওই যে ক্যাথেড্রালের নিঃশব্দ ঘরটা সাক্ষী থেকেছিল,
ভিক্টোরিয়া জানিয়েছিল অভিনন্দন, 
ওই যে প্রিন্সেপ ঘাটের রেস্তোরাঁ দেখেছিল এক নতুন প্রেমের শুরু, 
চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে একটা গোলাপ দিয়েছিলে পাগলির মত,
আজ আর তুমি সেই পাগলি নেই,
আজ আর তুমি গোলাপ দাওনা,
আজ তুমি কাঁটা বিঁধিয়ে রক্তাক্ত করেছ আমার মন, 
প্রাণহীন করে দিয়েছ আমার আশা, স্বপ্নগুলো। 
জ্বর গায়ে আমি যখন ছুটে যেতাম তোমার কাছে,
ভাবতাম তুমি হাতে হাত রেখে আমাকে ধরে হাঁটবে,
হেঁটেছিলে তুমি পার্কস্ট্রিটের রাস্তা ধরে আমার সাথে,
শুধু চেপে ধরো নি আমাকে। 
কত স্বপ্ন নিয়ে সেদিন গেছিলাম তোমার সাথে রঙে রঙে সাজবো ভেবে,
মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারে পা পুড়িয়েও ব্যথা বুঝতে পারিনি স্বপ্নের ঘোরে,
ভেবেছিলাম তোমাকে বাইকের পিছনে বসিয়ে পাড়ি দেবো রবি ঠাকুরের বাড়ির রাস্তায়।
স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন হয়েই থেকে গেছিল,
তুমি এসেছিলে অগ্নিমূর্তি হয়ে একরাশ রাগ নিয়ে,
আমি তোমার সাথে আর রঙে রঙে খেলতে পারিনি,
পারিনি সেদিন তোমার মন ছুঁয়ে যেতে। 
কথা ছিল একে অপরের পাশে থাকবো সবসময়,
কথা ছিল দুজন দুজনকে ভালবাসবো সমস্ত বাধাতেও,
কথা ছিল মনের গুমোটকে মেলে ধরবো দুজনে,
কথাগুলো মিথ্যে ছিল না, শুধু কথা হয়েই থেকে গেল,
হারিয়ে গেল অলকানন্দের গভীর অরণ্যে। 

 - সৌম্যজিৎ (ভালোবাসার শরত।)