আবারও এক তুমুল বিক্ষোভ সমাজ বিভীষিকার এক উগ্র অসভ্যতামির উদাহরণ তুলে ধরল ঔরঙ্গাবাদের চিকাল থানা বিমান বন্দরে। মানববাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন গত শনিবার (২৯ এ জুলাই, ২০১৭) মুম্বই বিমান বন্দর থেকে ঔরঙ্গাবাদ চিকাল থানা বিমানবন্দরে নামতেই, বিমানবন্দরের বাইরে অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন দলের নেতা ইমতিয়াজ জলিলের নেতৃত্বে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে "তসলিমা ফিরে যাও" শ্লোগান দিতে থাকে। এর মধ্যেও বরাবরের অকুতোভয় লেখিকা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করলে ঔরাঙ্গবাদ পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (জোন ২) রাহুল শ্রীরাম হস্তক্ষেপ করেন এবং লেখিকাকে মুম্বই ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। অবশেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে লেখিকা বাধ্য হন ফিরে যেতে। লেখিকা কোনো অপরাধী নন। খুন, চুরি, ডাকাতির সাথে যুক্ত নন। দেশদ্রোহী নন। বরং গত মাসেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক লেখিকার ভিসা বাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপরও লেখিকাকে তীব্র অসম্মান করা হল আবার। গোঁড়ামির বিরুদ্ধে, বাকস্বাধীনতার পক্ষে, নারীর অধিকারের পক্ষে যে লেখিকার অনস্বীকার্য অবদান ও লড়াইকে কখনোই অস্বীকার করা যায়না, অস্থায়ীভাবে হলেও ভারত দেশের সংবিধান যে লেখিকাকে এই দেশে থাকার অধিকার দিয়েছে, সেখানে এমন বিক্ষোভ করে বিক্ষোভকারীরা শুধু অশিক্ষা, গোঁড়ামির পরিচয়ই দেয়নি, দেশের সংবিধানকেও তীব্রভাবে অসম্মান করেছে। এরপরও সংবিধানের সুরক্ষায় বহাল থাকা কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে, কোনো প্রকার প্রতিরোধ গড়ে না তুলে, নির্দোষ লেখিকাকেই ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের অকৃতকার্য হওয়ার প্রমাণ তুলে ধরে ঝামেলা এড়িয়ে গেছে অনায়াসেই।একজন মানুষকে যারা সুরক্ষা দিতে পারেনা, দেশীয় সংবিধানের মান যারা রাখতে পারেনা, তারা কিভাবে দেশের মানুষের সুরক্ষা দেবে! এরপরও মানুষ কিভাবে ন্যায়ের বিচার পাওয়ার জন্য আইন, পুলিশ প্রশাসনের ওপর ভরসা করবে! এরা তো ভারতের আইন শৃঙ্খলাকেই ভরা বাজারে ল্যাঙট করে নিলাম করে দিল। ধিক্কার এমন প্রশাসনকে যারা কেবল রাজনীতির পাশা খেলায় সামান্য গুটি। ধিক্কার এমন সমাজকে যেখানে অন্যায়ের প্রতিবাদ হয়না। ধিক্কার এমন ধর্মকে যা হিংসাকে প্রশ্রয় দেয়। মানববাদী লেখিকাকে তোমরা সত্যিই ঔরঙ্গাবাদের মাটি স্পর্শ করতে দাওনি ঠিকই, কিন্তু লেখিকা স্থান পেয়েছে লক্ষ কোটি সমাজ সচেতন, শিক্ষিত মানুষের মনে। তসলিমা নাসরিনের অবাধ যাতায়াত সেইসব মানুষের হৃদয়ে। তোমরা এই যাতায়াতকে কখনো আটকাতে পারবে না।