Thursday, 7 July 2016

গোটা ২৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও টা দেখলাম, শুনলাম। ভালো লাগল তোমাকে কথা বলতে দেখে। শুধু একটা ব্যপার আমি দেখছি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে ক্রমশ যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, ইসলাম সন্ত্রাস তৈরি করছে। যে সমস্ত সন্ত্রাস কাণ্ড ঘটছে তার পিছনে অনেকাংশেই দায়ি ইসলাম ও ইসলামি মৌলবাদ। আজ তসলিমা নাসরিন প্রকাশ্যে কথাটা বলছে বলে তসলিমা নাসরিনের দিকে হুমকি ধেয়ে আসছে। ব্যপারটা যদি অন্যভাবে ভেবে দেখি, আসলে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কথা না বলে আমরা যদি শুধু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলি, যে সন্ত্রাস হচ্ছে, সন্ত্রাস দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষ খুন বন্ধ করতে হবে, মানুষের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, প্রত্যেকের নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে, এইসব ক্ষেত্রে যদি দেশের মিনিস্ট্রি লেভেল বা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লেভেলের কাছে বিচার চাওয়া হয়, তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তাধীন থেকে যায় ও কিছুকাল পর নতুন কোনো ঘটনাতে ফাইল নিচে চলে যায় বা ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মানুষের মনে কি এমন প্রশ্ন আসেনা যে কেন তারা যারা ইসলামের ওপর প্রশ্ন তুলছে বা যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ইসলামতন্ত্রের বিপরীত পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, নাস্তিকতা অবলম্বন করছে এদেরকেই কেন মারা হচ্ছে? ইসলামতন্ত্র মেনেচলা সাধারন মানুষ বিশ্বাস করে যারা খুন করছে, তারা কখনো ইসলামিক হতে পারে না। তবে কেন তারাই খুন হচ্ছে যারা ইসলামিক নয়? মুসলমান খুন হচ্ছে, কিন্তু মুসলমান মানেই সে ইসলামিক নয়। যদি শুধু সন্ত্রাস নিয়েই কথা বলি, তবে সেইসব সন্ত্রাসদের নীতি লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে ইসলাম এদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমস্ত ধর্মেই মৌলবাদ আছে এবং তা সমস্ত ধর্মের মানুষের পক্ষেই ক্ষতিকারক। যে ধর্ম মানতে চাইবে, সে মানুক, যে বা যারা মানতে চাইনা তাদের ওপর বলপূর্বক বা ভয় দেখিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ কি? ইসলাম তো তবে সহি নয়, হতে পারে না। খুনোখুনি মানবধর্ম বিরুদ্ধ। মানবধর্মকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মানুষের কাছে প্রশ্ন করছি, মানবধর্ম তোমাদের কাছে বড় নাকি ইসলাম বড়? মানবধর্ম তোমাকে চিন্তাভাবনা করার সমস্ত স্বাধীনতা দেয় যা ইসলাম দেয়না। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই প্রাণসংশয় ঘটে। ধর্ম মানুষের হৃদয় থেকে তৈরি হয়, মানুষের বোধ থেকে ধর্মের পালন হয়, ইসলামও ঠিক তেমনই মানুষের হৃদয় ও বোধ থেকে বা ধর্মীয় রাজনীতি থেকে সৃষ্টি হওয়া একটা দর্শন। যা কেবল কিছু ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে, কিন্তু সময়ের সাথে সভ্যতার অগ্রগতিতে যদি সেই ধর্মের অগ্রগতি না হয়, তবে তা কখনই মানবসমাজের জন্য শুভ হতে পারেনা। ইসলাম কোনো আকাশ থেকে টপকে পড়া ধর্মগ্রন্থ নয়, কোনো ধর্মই আকাশ থেকে টপকে পড়া নয়। সময় বিশেষে সমস্ত ধর্মকে মানুষই এনেছিল কার্যসিদ্ধির জন্য। তবে ইসলাম কেন পরিবর্তনশীল হতে পারেনা? মানুষের থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী কেউ নেই, মানুষই সৃষ্টি করছে, মানুষই ধ্বংস করছে। এর পিছনে আছে বিভিন্ন সংগঠন বা গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র। আর মানুষ ধর্মের সম্মোহনে আবদ্ধ, তাই ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের কার্যসিদ্ধি করছে। সাধারন যদি বোঝে ধর্ম মানুষের বোধ বা চেতনা, কোনো গ্রন্থের নিয়মাবলী নয়, তবে এত জটিলতা, এত হানাহানি, এত আতঙ্কের সৃষ্টি কখনই হয়না। মানুষকেই বুঝতে হবে সবটা।

No comments:

Post a Comment