Saturday, 30 June 2018

ওরা দুজনেই রক্তমাংসের চামড়া দেখত একে অপরের, প্রায় রাতেই,
ওরা দুজনই চোখের দৃষ্টিতে শুষে খেত একে অপরকে,
কাছে আসতে চাইত দুজনেই রোজ, মোবাইল ক্যামেরা ভেদ করে,
ভিডিও কলেই জগত গড়েছিল শরীরী প্রেমে,
মাংসের গন্ধ আটকাতে পারে নি মন,
বিচ্ছেদে মিশেছে দুটো শরীরই,
একজন দিয়ে গেলো দাগ 'অপ্রেমিক'এর, তারই ধ্রুবতারাকে,
অপরজন পান করলো সমস্ত রাগ মৌনতায়, এড়িয়ে গিয়ে।

- সৌম্যজিৎ।

Thursday, 28 June 2018

ফাগুন পূর্ণিমায় মাধবীলতা।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ  - অপ্রকাশিত শীতল ভালোবাসার আশ্বাসকে।

বারেবারে আমি হারিয়েছি পথ,
হারিয়েছি প্রেমের বসন্ত,
বারেবারে আমি হারিয়েও প্রেম,
প্রেমেই হতে চেয়েছি মত্ত।
মরীচিকার পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত যখন হৃদয়,
ক্লান্ত মন, ক্লান্ত প্রেম,
তবু মন না হারায় ভালোবাসায়!
শেষে এসে যখন ডুবল সূর্য,
আঁধার এলো প্রান্তে,
তারারা এল ঝিকিমিকি আলোয়
পূর্ণিমা এলো চন্দ্রে!
চেয়ে দেখি
সমুখে দাঁড়িয়ে মাধবীলতা
মধুবনে সুহাস ছড়িয়ে,
চেয়ে আছে প্রেমে
আমারই দিকে,
বুঝি ফাগুন এলো মনে!


ফাগুন বাতাস আজ করেছে শান্ত,
পূর্ণিমা চাঁদ আর স্নিগ্ধ আলোয় ভরেছে মাঠ প্রান্ত,
ভালোবাসারা ওই ছড়িয়ে মাটিতে, বাতাসে,
ভালোবাসাতে মত্ত!

Sunday, 24 June 2018

এই পথ যদি না শেষ হয়!
জেনো মা -
আমি ফিরবো না আর তোমার আঙিনায়,
জেনো আমি হারিয়ে যাবো অন্ধকার কালোয়,
একটু আলোর খোঁজে ..

আমার একটি স্বপ্ন
আজও আছে সুপ্ত মনের কোণে,
একদিন পাই যদি খোলা আকাশ,
আমি উড়ে যাবো এই খাঁচাখানি ভেঙে।

বাইরে ওরা সবাই
রোজদিন বেঁচে থাকে নির্মম বাস্তবকে নিয়ে,
আমি প্রতীক্ষায়,
একদিন ঠিক যাবো চলে ওদের কাছে
পিছুটান হারিয়ে ..

আমার একটি স্বপ্ন
আজও আছে সুপ্ত মনের কোণে ..

নাইবা আসুক প্রেম,
ভালোবাসা,
নাইবা পেলাম ভালোবাসা আর আশা,
আমি হারিয়ে যাবো ঠিক
প্রেমের অরণ্যের কালোয়,
ওদের ভালোবাসায় খুঁজে নেবো নতুন সূর্য,
নতুন প্রেমের ভাষা ..

ওই দেখি ওরা বৃষ্টিতে ভেজে রোজ,
মাথায় নাই ছাদ - গায়ে পর্যাপ্ত কাপড়,
ওই ওরা শীতে কাঁপে ঠকঠক করে,
দাঁতে দাঁত চেপে অনাহারে,
আমি যাবো চলে ওদের কাছে একদিন, -
যেদিন উড়বো আকাশ সীমানায়
সোনার খাঁচা ভেঙে ..

তুমি অপেক্ষা কোরো,
একদিন কোনোদিন আমি ফিরবো তোমার সমুখে,
তেজস্বী আলোর ঝলকানি নিয়ে চোখে - মুখে,
জীবন তুলে আনবো তোমার জন্য,
তোমায় জীবন উপহার দিতে ..

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 22 June 2018

আশকারা দিচ্ছ!
প্রশ্রয় দিচ্ছ!
সিগারেটের ধোঁয়াকারে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে নাম এঁকে বেড়াবে যদি নষ্ট হতে চাও,
যদি নষ্ট হতে চাও,
"কাব্য .."

- অগ্নি গহ্বরে  তলিয়ে যাওয়া লেখক।

Monday, 18 June 2018

লুতুপুতু আবেগ বর্জন না করলে
মৃত্যু অনিবার্য।
আর প্রেম নয়,
প্রেম প্রেম খেলাই এখন লক্ষ্য,
শিরোধার্য।

Friday, 15 June 2018

ভালোবাসার কাঙাল, তোমায় ভালোবাসার মানুষ নেই। পড়াশোনা করো। নিজেকে ভালোবাসো।

Wednesday, 13 June 2018

"কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা,
মনে মনে .."

দিদি, মনে আছে একদিন তোমায় বলেছিলাম, "আমি তোমার কাছে গেলে, আমায় কাছে টেনে নেবে একটু! একটুখানি ভালোবেসে দেবে!"

তোমার উদার মন। ভালোবাসাতে কখনো দ্বিধা করো নি। আমি যাওয়ার পর, দূর থেকে যখনই আমায় দেখেছ, হাত নেড়ে কাছে ডেকে, কাছে টেনে আদর করে দিয়েছিলে। মুহূর্তটি আমার কাছে ভীষণ আবেগের ছিল। আমি মানুষটা মানেই একরাশ আবেগ। চলতে চলতে যখন ক্লান্ত হয়ে উঠি, যখন সবদিক বিচ্ছিন্ন মনে হয় আমার থেকে, যখন মানুষের প্রেমকে ক্রমশ অপ্রেমে রূপান্তরিত হতে দেখি, একা হয়ে যাই! তখন আমার তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষাগুলো আজকাল আমার ভীষণ পরীক্ষা নিচ্ছে। স্নায়ু'চাপ সামলানোর তীব্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, প্রাণ শুকিয়ে, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, ঠাণ্ডা ঘরেও মাথা ঘামছে, নিজের বুকে বেজে চলা স্পন্দন যেন কানের কাছে এসে অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছে, চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। এমন মুহূর্তে আমার তোমায় ভীষণ প্রয়োজন। ঠিক যতটা প্রয়োজন কখনো আমার ও'কে মনে হতো, তেমনই প্রয়োজন আজ তোমায় মনে হল।

সব মানুষই কোথাও না কোথাও মনের আশ্রয় খোঁজে। ব্যাপারটি এমন যেন, সেটিই একমাত্র নিশ্চিন্তের আশ্রয়! যেখানে কোনো কষ্ট নেই, কোনো চাপ নেই, কোনো ভয় নেই, যেখানে গেলে ঠিক যেন বাচ্চাটি হয়ে যাওয়া যায়, যেখানে গিয়ে আবদার করে সমস্ত কষ্টকে ভাগ করে নিয়ে শান্তির শীতল ছোঁয়া খুঁজে পাওয়া যায়, সেই আশ্রয় তুমি - তুমিই দিদি। দিদি শব্দটি যখন আমি মনে মনে উচ্চারণ করি, মনে মনেই অনেক দূরে চলে যাই! হয়ে যাই সেই বছর পনের'র - সেই ছোট্ট শান্তটি, দুষ্টুমি করে বাড়ির সবার ভয়ে লুকিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ধরা পড়লেই আর রক্ষা নেই। দরজার পিছনে, ছাদের চিলেকোঠায় চুপ করে থেকে, কিংবা খাটের তলায় চুপ করে বসে থেকেও ভয়ে হাত, পা কাঁপছে! একটি শীতল হাত মাথার ওপর দিয়ে বুলিয়ে দিলো। হারিয়ে গেলো সব ভয়, সব কুণ্ঠা! ওই হাতটিই যেন বুকের মধ্যে বেজে চলা সমস্ত অস্থিরতাগুলোকে শুষে নিয়েছে!

পরীক্ষাগুলি এখন মাঝে মাঝেই আমাকে অসহায় করে তুলছে! এমনকি পরীক্ষার হলে যখন যাচ্ছি, বেঞ্চে বসছি, মনে হচ্ছে গায়ের সমস্ত শক্তিটুকু অচেনা কোনো এক রাক্ষস এসে শুষে নিয়েছে! আরও ভয় পেয়ে যাচ্ছি! তোমার ওই শীতল হাতটি দিয়ে আরেকবার ছুঁয়ে দাও না দিদি। এখন বেশ কয়েকবার তোমার আওয়াজ, তোমার সুর শুনলাম। নিজেকে একটু নিশ্চিন্ত লাগছে।

ওই যে তুমি গেয়ে উঠলে, "কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা,
 - মনে মনে .."

আমিও হারিয়ে গেলাম, খুঁজে নিলাম তোমায়, তোমার ওই শীতল হাতটিকে ..

Saturday, 9 June 2018


পুরুষতন্ত্রকে ভাঙচুর করে আসা এক পুরুষ থেকে মানুষ হওয়ার গল্প। 

আমি ছোট থেকে এক ঘোর পুরুষতান্ত্রিক একটি পরিবেশ এবং পরিবারে বড় হয়েছি। ছোট থেকে বড় হওয়ার এই মূল্যবান একটি সময় যখন মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটে, আগামীতে সে কেমন হবে, তার প্রকৃতি'র গঠন হয়, তখন আমি দেখেছি ভয়ঙ্কর এক পুরুষতন্ত্র। ঘরে নারী নির্যাতিতা। পুরুষের গায়ের জোর। পুরুষের উশৃঙ্খল জীবন এবং সেটাই পুরুষত্ব, পুরুষ মানেই তার জোর সবথেকে বেশি হবে, সে যা করবে সেটাই ঠিক, নারী শুধু ঘর গোছানোর দাসী, নারী মানেই ঘরে থাকবে এমন একটি ভয়ঙ্কর পরিবেশ! এতো'কিছু আমি কখনোই চিন্তা করি নি। বরং প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে অবচেতন থেকে চেতন সমস্ত অংশেই আমিও এই ঘোর পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হয়ে উঠছিলাম। এমনকি আমার যে প্রথম প্রেমিকা ছিল, সে চেতনায় সমস্ত দিক থেকে স্বতন্ত্র এবং উচ্চমানসিকতার মানুষ হলেও, তার ওপর আমি প্রভুত্ব খাটাতে শুরু করেছিলাম এবং তাকেও দুর্বল করে ফেলেছিলাম আমার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার সামনে। ওই দিনগুলি আমার জীবনের সবথেকে ভয়ঙ্কর দিন। এতোটাই উদ্ধত হয়ে উঠেছিলাম যে নিজের মধ্যে মানুষ শরীরে পুরুষ নামক এক জন্তুকে পালন করছিলাম। মেয়েটি অসহায় হয়ে উঠেছিল। অসহায় হয়েও সে মানিয়ে নিতে চেয়েছিল সবটা। শুধু আমাকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করছিলো আমার দেওয়া সমস্ত যন্ত্রণা, আঘাতগুলি সহ্য করে। আমি ওকে বুঝতে পারতাম, কিন্তু চেষ্টা করেও নিজেকে সামলাতে পারতাম না কখনো। এরপর একদিন সে আমাকে সামলাতে ব্যর্থ হয়ে দূরে চলে গেলো। অনেক বছরের একটি সম্পর্কের অবসান ঘটে গেলো এক ঝটকায়। এই বিচ্ছেদ আমি মানতে পারি নি। ইগো ছিল না মানুষটির সাথে, ইমোশনালি এতোটাই জুড়ে ছিলাম যে ও চলে যাওয়ার পর থেকে নিজের সব ভুলগুলি আমাকে তীরবিদ্ধ করতে থাকে। আমি নিজেকে চেপে ধরি আর এমন ভুল করবো না কখনো। নিজেকে বারবার প্রতিমুহূর্তে ধরে রাখার চেষ্টা করি। প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে বলি, এটা ঠিক নয়, এমন যেন আর না করি।


ঠিক এমন সময়ে আমার পরিচয় হয়ে যায় মানববাদী লেখক তসলিমা নাসরিনের আদর্শের সাথে। এই আদর্শের সাথে পরিচয় ঘটার পর থেকেই আমি আমার ভিতরে গড়ে ওঠা ঘোর পুরুষতান্ত্রিক দিকগুলি চিহ্নিত করতে পারি খুব সহজেই। নিজেকে পাল্টে ফেলার চেষ্টা তো ছিলই, তার সাথে জুড়ে গেলো নিজের ভিতরে গড়ে ওঠা ভুলগুলি চিহ্নিত করে নিজেকে একেবারে শুধরে ফেলা। আমি বুঝতে পারি, আমার ভিতরে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা গড়ে উঠেছিল আমারই পরিবার থেকেই। নারীকে আমিও অবচেতনে একজন দায়বদ্ধ যন্ত্র ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমার ভিতরেও এমন চিন্তা এসে গেছিল, "আমি পুরুষ। আমি যা করি, যেটাই করি, তা ভুল হলেও ঠিক। আমি করতেই পারি। নারী আমাদের অধিকারের কোনো বস্তু বা সম্পত্তি। আমাদের ভালোলাগা, খারাপলাগা খেয়াল করার দায়িত্ব নারীর। আমাদের মনোরঞ্জন করার দায়িত্ব, সে শুধু নারীর।"

এই বোধ জন্মানোর পর বহু চেষ্টা করেও আমার সেই প্রেমিকাটির বিশ্বাস আর পুনরায় অর্জন করতে পারি নি। সে আমার এই পরিবর্তনকে মুখোশ বৈ আর কিছুই ভাবতে পারত না। অথচ সে এটা বুঝতে পারে নি, আমার ভিতরে এই পাল্টে যাওয়া মানুষটি একেবারে নতুন। এই মানুষটি আর তাকে কখনো অসম্মান করবে না। এই মানুষটি আর তার ওপর প্রভুত্ব ফলাবে না। এই মানুষটি আর তাকে প্রতারণা করবে না কখনো। তাকে ফেরানোর বহু চেষ্টা করতে থাকি। ব্যর্থ চেষ্টা। শেষ যেদিন আমার এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, সেদিন আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। আবেগতাড়িত যন্ত্রণা নিয়ে সেদিন লেখক তসলিমা নাসরিনকে মেসেজ করেছিলাম। আমার মেসেজে হয়ত সেই যন্ত্রণা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছিল, লেখক তসলিমা নাসরিন আমাকে তাঁর আদর্শের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জুড়ে নেয় সেদিন। অবশেষে যখন সেই প্রেমিকাটি বুঝেছিল যে আমি সত্যিই পাল্টে যাওয়া একজন মানুষ, নিজে মুখে যেদিন আমায় সে'কথাটি জানিয়েছিল, তখন আর তার পক্ষে এই সম্পর্কে ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। তখন সে পরিবারের পছন্দ করা ছেলেটির সাথে বিয়ে করতে চলেছে। বিয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে আমাকে জানায়, "তুই সত্যিই পাল্টেছিস। নিজেকে ভালো মানুষ গড়তে পেরেছিস। এভাবেই ভালো হয়ে থাকিস সবসময়।"

এরপর আদর্শের সান্নিধ্যে এসে একের পর এক ভুলগুলি খুঁজে বের করে নিজেকে আরও শোধরাতে থাকি। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হতে ক্রমশ নিজের মানুষ সত্তাকে জাগিয়ে তুলি। মানুষ হয়ে উঠি। এবার আমাকে বাস্তবকিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আমি তো আদর্শের সান্নিধ্যে এসে নিজেকে পুরোপুরি ভিন্ন একটি মানুষ গড়ে তুললাম, কিন্তু আমার পুরুষতান্ত্রিক পরিবার তো আর পাল্টে যায় নি। সে যেমন ছিল, একইরকম আছে। সেই একই চিন্তা, "পুরুষ মানেই প্রভু। সে বাইরে যা ইচ্ছা তা'ই করবে, যেমন ইচ্ছা চলবে, যেমন ইচ্ছা ঘরে নারীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে। নারীকে সেটা ভোগ করতে হবে, কারণ সে নারী।" আমি আর এই পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। এমনকি চোখের সামনে পরিবারের নারীদেরকেও শত অত্যাচার সহ্য করার পরও এই ঘোর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকেই "বিধাতার বিধান" বলে মানতে দেখি। ধর্মীয় কুসংস্কার তো আছেই, তার সাথে আছে পুরুষতন্ত্রে নিজেদের অভ্যস্ত করে ফেলা। পরিস্থিতি ভীষণই ভয়ঙ্কর। পরিবারে নারীরা অন্যরকম সমাজের স্বপ্ন দেখে না, চিন্তা করে না, ভাবে না। যেহেতু আমি ভাবি, আমার এই ভাবনাকে "অভিনয় বা ভান করা" ভাবে। মিথ্যে ভাবে। প্রতিমুহূর্তে আমার চিন্তা এবং মন্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষগুলি এবং পুরুষতন্ত্রে অভ্যস্ত নারী। দিনে দিনে একা হয়ে যাই। বেঁচে থাকি শুধু কিছু স্বপ্ন নিয়ে। বেঁচে থাকি লেখক তসলিমা নাসরিনের দিকে চেয়ে। ভাবি, একদিন আমি ঠিক সময় পাবো, সুযোগ পাবো নিজের চিন্তাভাবনাগুলিকে পরিবারে প্রতিষ্ঠা করার। সমাজে প্রতিষ্ঠা করা ব্যাপারটি অনেক বড় কিছু, আগে অন্তত নিজের পরিবারে যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেটিই অনেক।

এই যে কিরণ নামের যে মানুষটিকে আমি পছন্দ করি, ভালোবাসি, এই ভালোবাসা আমার কাছে ভীষণ মূল্যবান। কিরণ হয়ত আমাকে পছন্দ করে না, কখনো পছন্দ করে নি, হয়ত ভেবেছে প্রেম মানেই প্রতারণা, হয়ত ভেবেছে আমার অতীত এতো খারাপ, পরে আমি ওর সাথে প্রতারণা করবো না এমন কি নিশ্চয়তা আছে! একদম ঠিক ভেবেছে সে। আমার অতীত তো সত্যিই খারাপ। একজন খারাপ মানুষ ছিলাম। একজন প্রতারক ছিলাম। তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সে আমাকে ভালোবাসবে নাকি খারাপ বাসবে সেই সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার আছে। আমি তার সিদ্ধান্তে কখনো জোর করবো না। করতে পারি না। শুধু এটুকু জানি, ও যদি আমাকে একটি সুযোগ দেয়, আমি একজন ভালো প্রেমিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবো। আমি ওকে উপলব্ধি করাবো যে সমাজে আর যে পুরুষই নারীকে যন্ত্র, বস্তু বা সম্পত্তি ভাবুক, আমি কখনো ওকে আমার সম্পত্তি ভাববো না, যন্ত্র মনে করবো না, বস্তু মনে করবো না। যেমন মানুষ ভেবে ওকে আমি পছন্দ করেছি, ভালোবেসেছি, তেমনই মানুষ ভেবে ওকে সবসময় ভালোবাসবো। মানুষ হয়ে, বন্ধু করে ভালবাসবো আজীবন।

আমি এখন জীবনের সবথেকে জটিল মুহূর্তটিতে এসে দাঁড়িয়েছি। একদিকে আমার কেরিয়ার, পড়াশোনা, যেখানে বহু সমস্যা ভেদ করে বেরনোর চেষ্টা করছি, আরেকটু এগিয়ে যেতে পারলেই হয়ত সফল হবো, একটু ভুল হলেই হয়ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবো, অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছি, অন্যদিকে কিরণের অপ্রেম মুহূর্তেই ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়, আবার পরিবারে ক্রমশ ভিন্নমত গড়ে ওঠার কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সবমিলিয়ে হাঁসফাঁস করছি। বেঁচে থাকা বড্ড কঠিন মনে হয়। প্রতিটা মুহূর্তে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হচ্ছি। এরপরও স্বপ্ন দেখছি ভালো জীবনের। এরপরও উঠে দাঁড়ানোর অবিরাম প্রয়াস। এরপরও স্বপ্নকে ভাঙতে না দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। হয়ত জিতবো একদিন। হয়ত হেরে গিয়ে হারিয়ে যাবো চিরতরে। তবু এতো সহজে আমি হেরে যাবো না। হেরে যাওয়ার আগে জীবনকে প্রতি'মুহূর্তে ভাঙবো, গড়বো, চেষ্টা করে যাবো জেতার।

যে আদর্শকে বুকে নিয়ে চলছি, সে আদর্শ তো হাজারও বিপত্তির মধ্যেও, প্রাণহানির সম্ভাবনার মধ্যেও, গোটা একটি রাজ্যের, গোটা একটি দেশের সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে, এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমিও আমার লড়াইকে এতো সহজে ছেড়ে দেবো না। শেষ'মুহূর্ত পর্যন্ত আমি লড়বো। যদি হেরে যাই, হারলেও আক্ষেপ থাকবে না। শুধু ভাববো সময় শেষ হয়ে গেছে।

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 8 June 2018

একটি দিনই এসো শুধু ..
সৌম্যজিৎ। 

একদিন তুমি এসো এখানে
আমার সামনে।
একটু দূরেই দাঁড়িও, 
তোমায় কাছে পেতে চাইবো না একটিবারও,
শুধু এসো একটুখানি সময় নিয়ে,
চোখে কাজলখানি সেজে।

তুমি এসো একদিন আমার কাছে,
একটা দিনই এসো! ..
কতো রাত, কতো দিন কেটে যায় গোপনে,
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন গড়ি,
আদর করি,
প্রেমে জড়িয়ে ধরি,
সন্ধ্যার অন্ধকারে যখন তুমি ব্যালকনিতে
দাঁড়িয়ে দেখো তারাগুলির ঝিকিমিকি!
আমি পিছন থেকে তোমায়
আলতো করে ধরি
কালো ঘন চুলে
ঠোঁটটি ছুঁয়ে।

তোমায় নিয়ে আমি স্বপ্ন সাজাই হাজার,
শুধু তুমি আর তুমিতেই মিশে থাকে আমার ঘর - দুয়ার।
সেদিন যখন দেখি তুমি আফিস ঘরে খাতায় আঁকছ তোমার নামখানি!
আমার হাতে অ্যালবাম,
একটির পর একটি পাতা উল্টিয়ে শুধু দেখছি তোমায়,
কিছু ছিল লেখা ওই ছবিটাতে!
কাছে এসে তুমি,
ছবিটি নিতে গিয়ে প্রথম ছুঁলে আমার আঙুলটিতে!
উষ্ণ স্রোত বয়ে গেল গোটা শরীর - মনে,
আমি স্থির দৃষ্টে -
তোমার'ও স্থির চোখে,
দুজন দুজনে তাকিয়ে - কোথাও হারিয়ে ..

তুমি এসো একদিন,
আমি প্রাণ ভরে তোমায় দেখবো সেদিন,
একটি দিনেই আমি বাঁচবো হাজার যুগ।
আর নয় ..
তীব্র প্রশান্তি নিয়ে
পর্বতপ্রান্তে পিছন হয়ে দাঁড়িয়ে,
দু-হাত মেলে শূন্য মেঘে ভেসে যাবো!

আমি একটি দিনেই বাঁচবো হাজার যুগ -
শুধু তোমায় নিয়ে ..