Monday, 29 February 2016



হারিয়ে যাই গল্পকথায়।
সৌম্যজিৎ।


আপন লাগে সময়টা ভীষণ, যেন আমি তখনও ছিলাম,
দূর পাহাড়ে নিঝুম বিকেল, হাঁটতে হাঁটতে তুমি আমি,
লজ্জাগুলো হারিয়ে যাক, ফুরিয়ে যাক সময় গোনা।


ওই যে দেখো ঘনবন, সারি বেঁধে চলছে সাথে,
খোলা হাওয়াই উড়ছে পাখি, উড়ছে তারা আকাশ মেঘে,
কালোছায়া ঘিরছে বাতাস, স্নিগ্ধ শীতল রাস্তাগুলো,
হারিয়ে যাই আমি সেখানে, যদি হতাম সহচরী!!


যখন শুনি গল্পকথা, ছবিগুলো ভেসে ওঠে,
পরিচিত লাগে না দেখা শহর, না পাওয়া সেই ছোঁয়াগুলোও।
হারিয়ে যাই গল্পকথায়, যেন আমি তখনও ছিলাম!!!



Sunday, 28 February 2016

সাধারণের আবেগ দেশ না সরকার শাসনাধীন রাষ্ট্র?
সৌম্যজিত দত্ত।


দেশ বলতে যখন একটা দেশের নাম বলাহয়, ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশ বা পাকিস্তান বা শ্রীলংকা প্রভৃতি তখন, আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা বুঝি দেশের মাটি, দেশের প্রতি টান। নিজের মনের মধ্যেই দেশভক্ত হয়ে যায়, এমন ভাবে দেশপ্রেম জেগে ওঠে আমাদের চেতন ও অবচেতনে। আমরা নিজেদের মনের মত করে দেশের প্রতি একটা অধিকার বোধ জন্মিয়ে ফেলি। আমার দেশের নামে কেউ কিছু বললে তাকে, ধুঁয়ে কাপড় পরিয়ে দিই। মনের রাজ্যে এমন অধিকারবোধ জন্মানো কোনো অপরাধ নয়। সর্বসম্মত বিচারে এটাই হওয়া উচিত। প্রতিটা মানুষের মনে দেশপ্রেম থাকা উচিত, এমনভাবে থাকা উচিত যাতে আমি নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবো, অন্যদেশকেও একইরকম ভাবে সম্মান করবো। দেশ আমাদের অধিকার। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে দেশ মানে দেশের মানুষ, সংস্কৃতি।

এবার প্রশ্ন হল, আমরা দেশ বলতে যা বুঝি, যেভাবে দেশপ্রেম নিয়ে বাঁচি, দেশ কি আসলেই তাই? দেশ কি সত্যিকারেই আমাদের অধিকার? এসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনের মধ্যে একটাই চিন্তা চলে আসল, বর্তমানে দেশ হল সেখানে ক্ষমতায় থাকা সরকারের সম্পত্তি। সাধারন মানুষ হল প্রজা। মানতে কষ্ট হলেও, এটাই সত্যি। যে দেশে আমরা জন্মেছি, যে দেশে আমরা বড় হয়েছি সেই দেশে রাজত্ব করছে শুধু সরকার। সাধারন মানুষ শুধুই মোহরা। যেখানে সরকারী ক্ষমতায় কে থাকবে বা থাকবেনা তার নির্বাচনভার সাধারন মানুষের হওয়া উচিত সেখানে, দেশের ক্ষমতায় থাকা সরকার ও বিরোধী পক্ষরা নিজেরা নিজেদের মত করে রাজনৈতিক তামাশা মঞ্চ তৈরি করে ও সাধারন মানুষের অনুভুতি কেনার চেষ্টা করে। দেশের শাসক এভাবেই নির্বাচিত হয়।



আসলে যারা সরকারে থাকে, তাদের কাজ কি? তাদের পরিচয় কি হওয়া উচিত? আর বাস্তবে তাদের পরিচয় কি?

নির্বাচন লড়াইতে জেতার পর, দেশের দায়ভার চলে আসে লড়াইতে জেতা প্রার্থী গোষ্ঠির ওপরে। মানুষ প্রতক্ষ্ বা পরোক্ষ্ নির্বাচনে তাদের জিতিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসে যাতে দেশের সমৃদ্ধি বাড়ে, দেশের উন্নতি হয়, মানুষের সূযোগ সুবিধা বাড়ে। মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ গড়ে তোলাটাই সরকারের কাজ। আসলে সরকার মানে সাধারন মানুষ অর্থাৎ সরকারের ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী হল মানুষের সেবক।

কিন্তু বাস্তবে যেটা হয়, যারা নির্বাচনী লড়াইতে জিতে ক্ষমতায় আসে, তারা আসলে শাসক হয়ে আসে। শাসক গোষ্ঠী।
সেবক ও শাসক এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। সেবকের অর্থ সেবা করা, শাসকের অর্থ হল শাসন করা। আর, শাসনের নামে শোষণটাও নেহাতই কম হয়না। ওরা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাধীনতা সমস্ত কিছুর ওপরে নিজেদের রাজত্ব তৈরি করে, শাসন করতে শুরু করে। মানুষের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে, মানুষের জীবনের ওপর হস্তক্ষেপ করে। এমন সুকৌশলে করে, মানুষের মনের মধ্যে রাজনৈতিক সাত্ত্বার নেশাটা ধরিয়ে দেয়, যাতে মানুষ ভাবে  সরকার যা করবে, সেটাই ঠিক, সেটার থেকে ভালোকিছু হতে পারেনা, আবার যারা সরকারের বিরুদ্ধে, তারা সরকারের বিভিন্ন রকম খুঁটিনাটি ভুলগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় আনতে। এটাই সরকারতন্ত্র, এভাবেই যুগের পর যুগ কেটে চলেছে।


দেশগুলো আজ দেশ নয়, রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে, রাজনৈতিক রাষ্ট্রে। রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের আবেগ মিথ্যে, কারণ আমরা দেশ ভালবাসি, রাষ্ট্র তো শাসকের অধীন, ওটাতে সাধারণের কোনো অধিকার থাকেনা। এমনকি আমাদের পছন্দের খেলা ক্রিকেট, সেই নিয়েও রাষ্ট্রে শাসকের শাসনগিরি  বা দাদাগিরি চলছে। ক্রিকেট আমাদের আবেগ, আমরা সেই আবেগের আগুনে তেঁতে পুড়ে থাকি, আগুনে ফুটি, অথছ সেই ক্রিকেট আজ রাজনৈতিক খেলাতে পরিনত হয়েছে। আর সেটাতে উস্কানি দিচ্ছে মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় ক্রিকেট টিমগুলোতে কে ক্ষমতায় থাকবে, কত আয় হবে, কিভাবে মানুষের মন নিয়ে খেলা করা হবে সবকিছুই আজ রাজনৈতিক অংশ। গতবছরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে দায়ী করে, কিন্তু এর সূত্রপাত ঘটায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত। খেলার মাঝে এমন প্রচুর ভুল সিদ্ধান্ত থাকে, যার জন্য ক্রিকেট টিমগুলোকে ভুগতে হয়, কিন্তু পরে সেটা নিয়েও রাজনীতি চরম আকারে পৌঁছলো। এশিয়াকাপ ২০১৬ তে গ্যালারি ভর্তি মানুষ পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে গলা ফাটাল, যেখানে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলনা। সবুজ ঘাসে ভরা পিচ উপহার দেওয়া হল। আবার ভারতের কোনো ক্রিকেটার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেয়না, সেটা নিয়েও বিতর্ক। বাংলাদেশ ভাবে ভারত চায়না বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হোক, কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য। এখানেও ভারতের রাজনৈতিক মহল নিজের খেলা খেলছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে যত টাকা আয় হয়, বাংলাদেশ সেই টাকা ভারতকে দিতে পারবেনা। তাহলে শুধু শুধু ক্রিকেটারদের ভারত বাংলাদেশে কেন খেলতে পাঠাবে? তার জায়গায় অন্য টুর্নামেন্ট খেললে ভারত অনেক বেশি আয় করতে পারবে। শুধু বাংলাদেশ বলেই নয়,ভারত কোনো দেশেরই টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেনা। তার পরিবর্তে ভারতের ক্রিকেট শিডিউল সারাবছর এমন ভাবে সাজানো থাকে, যাতে ক্রিকেটাররা নিজেরাও অংশ নিতে পারেনা। অর্থনৈতিক কারনটাই এখানে সবথেকে বড় কারণ। এটাও একটা রাজনীতি। শুধু ভারত বলেই নয়, বাংলাদেশ যদি ভারতের জায়গায় থাকত, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলও এমনটাই করত। অর্থাৎ এখানেও মানুষের আবেগের ওপর কোনকিছু নির্ভর করছেনা। শাসকদল যেভাবে চায়ছে, সেটাই হচ্ছে।

আমরা দেশভক্তি নিয়ে বেঁচে থাকি, তাতে শাসকদলের কিছু যায় আসেনা কখনো। তারা ভাবে কিকরে তারা বাড়তি আয় করবে, কিভাবে তারা দেশকে শাসন করবে, কিভাবে তারা রাজত্ব করবে। অর্থাৎ দেশ আজ দেশ নয়, শাসকদলের অধীনে পরিনত রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রের ওপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের কোন অধিকার নেই। শাসকদল যেভাবে চায়বে, আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।

স্বাধীনতা???

স্বাধীনতা এমন একটা শব্দ যার অর্থ হল নিজের অধীনে চলা। অর্থাৎ মানুষ নিজের মত করে নিজের ইচ্ছামত চলবে, যেভাবে মন চায়, সেভাবে কথা বলবে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখবে। এটাই স্বাধীনতা। কিন্তু শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ নিজের ইচ্ছামত যা খুশি বলতে পারিনা, যা ইচ্ছা লিখতে পারিনা। কোনো মন্তব্য যদি রাষ্ট্রের বিপক্ষে যায়, তখন সংবিধান বিরুদ্ধ মন্তব্য বলে আইনের জটিলতায় ফেসে যেতে হবে আবার মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। খুন তো হামেশায় হচ্ছে। অতয়েব শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ স্বাধীন নই।

দেশ আজ দেশ নয়, দেশ হল রাষ্ট্র। আমাদের দেশপ্রেমের কোনো মূল্য নেই, আমাদের আবেগ থাকতে নেই। শুধু পরাধীনতা নিয়ে চলা, রাষ্ট্রের বলা হ্যা কে হ্যা, না কে না বলে চলতে হবে। 
দেশ না রাষ্ট্র?
সৌম্যজিত দত্ত।


দেশ বলতে যখন একটা দেশের নাম বলাহয়, ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশ বা পাকিস্তান বা শ্রীলংকা প্রভৃতি তখন, আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা বুঝি দেশের মাটি, দেশের প্রতি টান। নিজের মনের মধ্যেই দেশভক্ত হয়ে যায়, এমন ভাবে দেশপ্রেম জেগে ওঠে আমাদের চেতন ও অবচেতনে। আমরা নিজেদের মনের মত করে দেশের প্রতি একটা অধিকার বোধ জন্মিয়ে ফেলি। আমার দেশের নামে কেউ কিছু বললে তাকে, ধুঁয়ে কাপড় পরিয়ে দিই। মনের রাজ্যে এমন অধিকারবোধ জন্মানো কোনো অপরাধ নয়। সর্বসম্মত বিচারে এটাই হওয়া উচিত। প্রতিটা মানুষের মনে দেশপ্রেম থাকা উচিত, এমনভাবে থাকা উচিত যাতে আমি নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবো, অন্যদেশকেও একইরকম ভাবে সম্মান করবো। দেশ আমাদের অধিকার। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে দেশ মানে দেশের মানুষ, সংস্কৃতি।

এবার প্রশ্ন হল, আমরা দেশ বলতে যা বুঝি, যেভাবে দেশপ্রেম নিয়ে বাঁচি, দেশ কি আসলেই তাই? দেশ কি সত্যিকারেই আমাদের অধিকার? এসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনের মধ্যে একটাই চিন্তা চলে আসল, বর্তমানে দেশ হল সেখানে ক্ষমতায় থাকা সরকারের সম্পত্তি। সাধারন মানুষ হল প্রজা। মানতে কষ্ট হলেও, এটাই সত্যি। যে দেশে আমরা জন্মেছি, যে দেশে আমরা বড় হয়েছি সেই দেশে রাজত্ব করছে শুধু সরকার। সাধারন মানুষ শুধুই মোহরা। যেখানে সরকারী ক্ষমতায় কে থাকবে বা থাকবেনা তার নির্বাচনভার সাধারন মানুষের হওয়া উচিত সেখানে, দেশের ক্ষমতায় থাকা সরকার ও বিরোধী পক্ষরা নিজেরা নিজেদের মত করে রাজনৈতিক তামাশা মঞ্চ তৈরি করে ও সাধারন মানুষের অনুভুতি কেনার চেষ্টা করে। দেশের শাসক এভাবেই নির্বাচিত হয়।



আসলে যারা সরকারে থাকে, তাদের কাজ কি? তাদের পরিচয় কি হওয়া উচিত? আর বাস্তবে তাদের পরিচয় কি?

নির্বাচন লড়াইতে জেতার পর, দেশের দায়ভার চলে আসে লড়াইতে জেতা প্রার্থী গোষ্ঠির ওপরে। মানুষ প্রতক্ষ্ বা পরোক্ষ্ নির্বাচনে তাদের জিতিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসে যাতে দেশের সমৃদ্ধি বাড়ে, দেশের উন্নতি হয়, মানুষের সূযোগ সুবিধা বাড়ে। মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ গড়ে তোলাটাই সরকারের কাজ। আসলে সরকার মানে সাধারন মানুষ অর্থাৎ সরকারের ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী হল মানুষের সেবক।

কিন্তু বাস্তবে যেটা হয়, যারা নির্বাচনী লড়াইতে জিতে ক্ষমতায় আসে, তারা আসলে শাসক হয়ে আসে। শাসক গোষ্ঠী।
সেবক ও শাসক এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। সেবকের অর্থ সেবা করা, শাসকের অর্থ হল শাসন করা। আর, শাসনের নামে শোষণটাও নেহাতই কম হয়না। ওরা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাধীনতা সমস্ত কিছুর ওপরে নিজেদের রাজত্ব তৈরি করে, শাসন করতে শুরু করে। মানুষের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে, মানুষের জীবনের ওপর হস্তক্ষেপ করে। এমন সুকৌশলে করে, মানুষের মনের মধ্যে রাজনৈতিক সাত্ত্বার নেশাটা ধরিয়ে দেয়, যাতে মানুষ ভাবে  সরকার যা করবে, সেটাই ঠিক, সেটার থেকে ভালোকিছু হতে পারেনা, আবার যারা সরকারের বিরুদ্ধে, তারা সরকারের বিভিন্ন রকম খুঁটিনাটি ভুলগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় আনতে। এটাই সরকারতন্ত্র, এভাবেই যুগের পর যুগ কেটে চলেছে।


দেশগুলো আজ দেশ নয়, রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে, রাজনৈতিক রাষ্ট্রে। রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের আবেগ মিথ্যে, কারণ আমরা দেশ ভালবাসি, রাষ্ট্র তো শাসকের অধীন, ওটাতে সাধারণের কোনো অধিকার থাকেনা। এমনকি আমাদের পছন্দের খেলা ক্রিকেট, সেই নিয়েও রাষ্ট্রে শাসকের শাসনগিরি  বা দাদাগিরি চলছে। ক্রিকেট আমাদের আবেগ, আমরা সেই আবেগের আগুনে তেঁতে পুড়ে থাকি, আগুনে ফুটি, অথছ সেই ক্রিকেট আজ রাজনৈতিক খেলাতে পরিনত হয়েছে। আর সেটাতে উস্কানি দিচ্ছে মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় ক্রিকেট টিমগুলোতে কে ক্ষমতায় থাকবে, কত আয় হবে, কিভাবে মানুষের মন নিয়ে খেলা করা হবে সবকিছুই আজ রাজনৈতিক অংশ। গতবছরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে দায়ী করে, কিন্তু এর সূত্রপাত ঘটায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত। খেলার মাঝে এমন প্রচুর ভুল সিদ্ধান্ত থাকে, যার জন্য ক্রিকেট টিমগুলোকে ভুগতে হয়, কিন্তু পরে সেটা নিয়েও রাজনীতি চরম আকারে পৌঁছলো। এশিয়াকাপ ২০১৬ তে গ্যালারি ভর্তি মানুষ পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে গলা ফাটাল, যেখানে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলনা। সবুজ ঘাসে ভরা পিচ উপহার দেওয়া হল। আবার ভারতের কোনো ক্রিকেটার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেয়না, সেটা নিয়েও বিতর্ক। বাংলাদেশ ভাবে ভারত চায়না বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হোক, কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য। এখানেও ভারতের রাজনৈতিক মহল নিজের খেলা খেলছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে যত টাকা আয় হয়, বাংলাদেশ সেই টাকা ভারতকে দিতে পারবেনা। তাহলে শুধু শুধু ক্রিকেটারদের ভারত বাংলাদেশে কেন খেলতে পাঠাবে? তার জায়গায় অন্য টুর্নামেন্ট খেললে ভারত অনেক বেশি আয় করতে পারবে। শুধু বাংলাদেশ বলেই নয়,ভারত কোনো দেশেরই টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেনা। তার পরিবর্তে ভারতের ক্রিকেট শিডিউল সারাবছর এমন ভাবে সাজানো থাকে, যাতে ক্রিকেটাররা নিজেরাও অংশ নিতে পারেনা। অর্থনৈতিক কারনটাই এখানে সবথেকে বড় কারণ। এটাও একটা রাজনীতি। শুধু ভারত বলেই নয়, বাংলাদেশ যদি ভারতের জায়গায় থাকত, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলও এমনটাই করত। অর্থাৎ এখানেও মানুষের আবেগের ওপর কোনকিছু নির্ভর করছেনা। শাসকদল যেভাবে চায়ছে, সেটাই হচ্ছে।

আমরা দেশভক্তি নিয়ে বেঁচে থাকি, তাতে শাসকদলের কিছু যায় আসেনা কখনো। তারা ভাবে কিকরে তারা বাড়তি আয় করবে, কিভাবে তারা দেশকে শাসন করবে, কিভাবে তারা রাজত্ব করবে। অর্থাৎ দেশ আজ দেশ নয়, শাসকদলের অধীনে পরিনত রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রের ওপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের কোন অধিকার নেই। শাসকদল যেভাবে চায়বে, আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।

স্বাধীনতা???

স্বাধীনতা এমন একটা শব্দ যার অর্থ হল নিজের অধীনে চলা। অর্থাৎ মানুষ নিজের মত করে নিজের ইচ্ছামত চলবে, যেভাবে মন চায়, সেভাবে কথা বলবে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখবে। এটাই স্বাধীনতা। কিন্তু শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ নিজের ইচ্ছামত যা খুশি বলতে পারিনা, যা ইচ্ছা লিখতে পারিনা। কোনো মন্তব্য যদি রাষ্ট্রের বিপক্ষে যায়, তখন সংবিধান বিরুদ্ধ মন্তব্য বলে আইনের জটিলতায় ফেসে যেতে হবে আবার মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। খুন তো হামেশায় হচ্ছে। অতয়েব শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ স্বাধীন নই।

দেশ আজ দেশ নয়, দেশ হল রাষ্ট্র। আমাদের দেশপ্রেমের কোনো মূল্য নেই, আমাদের আবেগ থাকতে নেই। শুধু পরাধীনতা নিয়ে চলা, রাষ্ট্রের বলা হ্যা কে হ্যা, না কে না বলে চলতে হবে। 

Saturday, 27 February 2016



ভারতের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের মহাশত্রু। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


ভালো কিছুর গুরুত্ব সবসময় আলাদা হয়। সবার থেকে আলাদা হয়। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচটা দেখলাম, ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচ মানে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। প্রচার মাধ্যমগুলোর দৌলতে এই ম্যাচের গুরুত্ব সবসময় অন্য ম্যাচগুলোর থেকে দশগুণ বেড়ে যায়। আবার ক্রিকেটাররাও তেঁতে থাকে সর্বক্ষণ। ওরা মাঠের মধ্যে লড়াই করে, সেই লড়াইয়ের আগুন মাঠের ভিতরের দর্শক ও বাইরের দর্শকদের শিরা-উপশিরাতেও ছড়িয়ে পরে। রক্তের মধ্যে দিয়ে গরম স্রোত বয়ে যায়। এই যেমন আমি, গত কয়েকদিন ধরে মনখারাপ, বিষন্নতা নিয়ে কাটাচ্ছিলাম, নিজের কাজেও অনীহা চলে আসছিল, এই ম্যাচের সুবাদে এখন আমার মধ্যেও অদ্ভুত রকমের জোশ এসে গেছে। 

এবার ম্যাচ নিয়ে কিছু বলা যাক। ম্যাচের আগাগোড়া দেখলাম, আমি একজন ক্রিকেট প্রেমী, তাই খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলো আমার চোখে পরে। প্রথমে পিচ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই, উপমহাদেশের পিচগুলো বড্ড স্পিন সহায়ক বা ব্যাটিং স্বর্গ ফ্ল্যাট হয়। যেখানে ম্যাচটা বাংলাদেশে হচ্ছে, বাংলাদেশ নিরপেক্ষ থাকলে আমার মনেহয় ভালো ছিল। যদিও কে কাকে সাপোর্ট করবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তবু, পাকিস্তানকে সবুজ ঘাসে ভরা একটা পিচ উপহার দিল বাংলাদেশ। আমি জানিনা কি ভেবে এটা করা হয়েছে? সামনেই বিশ্বকাপ। তাও উপমহাদেশে হবে। স্পিন সহায়ক উইকেটে। তারপরও বাংলাদেশ এটা করল।হয়ত বাংলাদেশ ভেবেছিল পাকিস্তানের হাতে ভালো ফাস্টবোলার আছে, পাকিস্তানকে জেতানো যাবে সহজেই। পিচের ব্যাপারটা ক্রিকেটারদের হাতে খুব একটা থাকেনা, সবরকম পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়েই খেলতে হয়। তবু বাংলাদেশের পাকিস্তানের প্রতি অতি সমর্থন দেখে মনেহয়েছে, বাংলাদেশ চেয়েছিল পাকিস্তানকে এক তরফা ভাবে জেতাতে। ম্যাচটা খুব ভালো হল। প্রতিকুল পরিবেশে ম্যাচ জেতার আনন্দ অন্যরকম হয়, ক্রিকেটারদের মনোবল এতে তুঙ্গে থাকবে। 

১৯৭১ এর যুদ্ধে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে ভারত যদি পাশে না দাঁড়াত, বাংলাদেশ একার লড়াইয়ে কখনই জিততে পারতনা, নিজেদের মুক্ত করতে পারতনা। সেটা কি বাংলাদেশ ভুলে গেছে? আমি ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেট প্রেমী হওয়াই, ক্রিকেটের জয় দেখতে চাইবো, আবার একজন ভারতীয় হওয়ার জন্য ভারতকেই সাপোর্ট করবো কিন্তু, আমি কখনই অন্যদেশগুলোকে অসম্মান করতে পারবোনা। আমার দেশে একটা মিথ প্রচলিত আছে, "নিজের দেশকে সম্মান কর বলে অন্যদেশকে কখনো তুমি অসম্মান করতে পারনা। তুমি যেভাবে নিজের দেশের পতাকাকে সম্মান কর, সেভাবেই সমস্ত দেশের পতাকাকে সম্মান করবে। যেভাবে তুমি তোমার দেশের মানুষদের আপন করে নেবে, বাকি দেশের মানুষদেরও আপন করে নেবে। কিন্তু কেউ যদি তোমার দেশকে শেষ করতে চায়, তাকে তার জায়গাতেই শেষ করে দেবে। আবার কেউ যদি বন্ধুত্ত্বের হাত বাড়ায়, তাকে সম্মান করে নিজের করে নেবে।"  বাংলাদেশ কি ভুলেগেছে ভারতের বন্ধুত্ত্বকে? কিজানি? আমরাতো ভুলিনি। আমরা ভুলিনি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রচুর সৈনিক শহীদ হয়েছিল। তারা একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল। এখন সবাই সেসব ভুলে গেছে। বাংলাদেশ এখন ভারতকে মহাশত্রু ভাবে। ওরা এটা বোঝেনা, এখন যদি বাংলাদেশ বিপদে পরে, ভারতই সবার আগে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। তবু, সমর্থন করা তোমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কর। 

Friday, 26 February 2016


এই লেখাটা সেই মানুষটাকে নিয়ে যাকে তথাকথিত সভ্য মানুষজন প্রতিদিন শুধু গালাগালিই দেয়। মানুষটা আমার সাথে খুবই কম কথা বলেছেন। যখনই কথা বলেছেন শুধুই হেয়ালী করেছেন। আমি বুঝি, সেসব শুধু মজা করেই বলেন উনি আমাকে। আমিও হাসি।


অন্নপূর্ণা দেবীকে।
সৌম্যজিৎ।


প্রতিবাদ তোমার গলায় ঘুরে ফিরে বেড়ায়,
প্রতিবাদের ভাষাও ভিন্ন তোমার সুরে,
প্রতিবাদে তুমি হাসো, প্রতিবাদের নামে তোমার জোটে কটুক্তি ও গালাগালি,
সেসবকে পিষে মেরে আবার গর্জে ওঠো নতুন কোনো প্রতিবাদের সুরে।
মানুষ ভাবে তুমি হিন্দু কি মুসলিম,
নামেও দিয়েছো হিন্দু-মুসলিম নামের বাহার।
দেবী অন্নপুর্নায় তোমার খ্যাতনামা,
আয়েশা বিবিটাও ভুল হয়নি কারোর।

ইসলামকে বলো ইসলাম জঙ্গির দল,
শুনে হাসে হিন্দু সভ্যজন,
হিন্দুরা যখন হেঁদু পাঁঠার দল,
আটখানা হয় মুসলিম মুরবীগণ। 
কৃষ্ণ কে বলো কলির কেষ্ট,
নবীও তবে নারী মহাজন,
মানুষ ভাবে তুমি হিন্দু কি মুসলিম??
আমি ভাবি তুমি, প্রকৃত মানুষ জন।
তোমার নেই কোনো ধর্ম, নাইবা থাকুক জাত,
জাত ধর্ম-যদি হিন্দু-মুসলিমের সম্পত্তি হয়,
তবে কি প্রয়োজন সেই জাত-ধর্মের?
যুগে যুগে বাঁচো মানুষ নামে, ওটাই তোমার পরিচয়। 

বাংলা তোমায় প্রণাম।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- বাংলা ও মানববাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।

আমার বাংলা তোমায় প্রণাম।
ছোটবেলাতে আমার বলা প্রথম ভাষা তুমি,
আমি যখন ব্যথা পেতাম, আমার কান্নাতে ঝরে পড়ত তোমার অক্ষর,
আমি যখন হাসতাম, হাসিতেও তোমার ছোঁয়া লেগে থাকত, 
আমি যখন প্রথম অঙ্ক শিখি, সেখানেও তোমার সংখ্যা গুনতাম,
আমি যখন প্রথম ডাকে মা'কে গর্বিত করেছিলাম, সেটাও তোমারই শব্দ, 
যে ভাষায় আদর্শ শিখেছি তা, শুধু তোমারই।
আমার বাংলা,
তোমায় শত কোটি প্রণাম।



বাংলা, আজ আমি ভালো নেই,
আমার আদর্শ আজ অপমানিত, 
অপমানিত আমার লেখিকা,
অপমানিত তার প্রিয় ভাষার লেখা। 
আজ তোমার ভাষার অপব্যবহার হয়, তোমার ভাষায় কটুক্তি ভেসে আসে,
তোমার ভাষায় লেখা বইতে আগুন জ্বলে,
জ্বালায় তারাই যারা তোমার ভাষাকে নিয়ে গর্ববোধ করে। 
তারা গর্ব করে নিজেদের অজ্ঞানতার পরিভাষা নিয়ে,
তাদের গর্ব তুমি নও,
তারা গর্ব করে হেফাজত-ই-ইসলামে,
তারা গর্ব করে গোঁড়া হিন্দুত্ব নিয়ে,
তুমি শুধুই তাদের কথা বলার বস্তু। 
আমার সোনার বাংলা, ওরা তোমাকে কলঙ্কিত করে ফেলেছে,
চাঁদের স্নিগ্ধ আলোতে যেমন কালো দাগগুলো স্পষ্ট দেখি,
তোমার গায়ে লাগা কালিটাও আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। 
চোখের সামনে দেখি তোমার ভাষা বহনকারী মানুষগুলো -
তোমাকে ভরা বাজারে নিলাম করছে,
চোখের সামনে দেখি তারা তোমার ভাষাতে মেয়েদের অশ্লীল করছে,
চোখের সামনে দেখি তোমার ভাষায় আমার লেখিকা নির্বাসিত,
চোখের সামনে দেখি ওরা তোমার ভাষা'কেই ধর্ষণ করছে দিনে রাতে। 
অনুভব করি আমার লেখিকা তোমার ভাষায় ফুঁপিয়ে উঠছে,
অনুভব করেছি সে তোমার ভাষাতে কথা বলতে -
আকুল চিত্তে ঘরে এপাশ ওপাশ করছে,
বুক ফেটে চৌঁচির হয়ে যাচ্ছে তবু তোমার ভাষায়-
দুটো লাইন কাউকে শোনাতে পারছে না। 
এত নিষ্ঠা, এত প্রেম বুকে নিয়ে যে আজও তোমার ভাষাকে অঞ্জলি দেয়,
সেই কিনা তোমার ভাষা'তে নির্বাসিত!!!
আজ তুমি সত্যিই কলঙ্কিত। 

আমি ভালো নেই আমার প্রিয় বাংলা ভাষা,
তুমি ভালো থেকো।

(প্রকাশিত- ১৫/০৬/২০১৬। অমৃতপুর পত্রিকা।)


চিন্তা আমার, চিন্তার মালিক হতে চায় ওরা। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


যা ইচ্ছা কথা বলার, যেভাবে ইচ্ছা লেখার স্বাধীনতা আমার নেই। তাও আমি নিজের মত করে যেভাবে ইচ্ছা কথা বলি, যেমন ইচ্ছা আমি লিখি। লিখি, বলি এই কারণে যাতে, কখনো আমার লেখা বা বলার জন্য আমাকে শাস্তি পেতে না হয়, ধমকানি শুনতে না হয়, হুমকি শুনতে না হয়, কথায় কথায় আমাকে যেন ভয় দেখানো না হয়, এই  আশায়। 

আমি এক গোড়া হিন্দু পরিবারে জন্মেছি। আমার পরিবারের মানুষেরা, আমার মা, বাবা গোড়া হিন্দু। এই গোড়া হিন্দুত্বের মধ্যে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে। কোথাও কোনো দাঙ্গা হলে, যদি মুসলিমরা দাঙ্গা করে, পরিবারের মানুষেরা বলে মুসলিমরা সব নষ্টের গোড়া। আবার যদি কোনো মুসলিমকে হিন্দুরা খুন করে তখন, ওরা বলে, "ওদের কুপিয়ে মারা উচিত।"


এইসব গল্পগুলো আমার সামনে করে, আমাকে শুনিয়ে করে। করে কারণ আমি লেখালেখি করি। আমি যাতে না লিখি, তাই আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে। যখন সহ্য করতে পারিনা, যদি কখনো দু-একটা কথা বলে ফেলি, "যা হচ্ছে, ভুল হচ্ছে। মুসলিম, হিন্দু কেউ ঠিক করছেনা। মুসলিম হিন্দুকে মারছে, তাই হিন্দু মুসলিমকে মারছে। আবার হিন্দু মুসলিমকে মারছে বলেই, মুসলিম হিন্দুকে মারছে। এভাবে মারামারী কখনো থামবেনা। যুগযুগ ধরে চলতে থাকবে।"
হ্যা, আমি এটাই বলেছিলাম আমার বাবাকে, মাকে। ওরা আমার কথা বোঝেনি, সেইদিন থেকে আমাকে প্রতিটা মুহুর্তে বাজে কথা শোনায়। প্রতিটা কথার মধ্যে অপমান করে। আমাকে বলে, "তস্লিনা কে খুন করা হবে। তারপর আমাকে খুন করবে। আমাকে কেটে ফেলবে। সবার আগে আমাকে ত্যাজ্যপুত্র করবে। আমার বেতনের টাকা ছুঁয়েও দেখবেনা।"
মেয়েমাকে তসলিমা না বলে, ওরা "তস্লিনা, ফস্লিনা" এসব বলে ডাকে। এই কথাগুলো প্রতিটা মুহুর্তে আমাকে যতটা অপমান করে, তার থেকে অনেক বেশি মানুসিকভাবে অত্যাচার করে। আমার গায়ের মধ্যে জ্বালাপোড়া ধরে যায়। সারাদিনে, যেকোনো কথার পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে এসব কথা বারবার করে শুনতে হয়। আমার আদর্শকে এভাবেই সবসময় অপমান করা হয়। তাও আমি লিখি। আমি যা বলার, মুখের ওপরেই বলি। ভাবি কখনো যদি ওরা আমার কথা বোঝে, কখনো যদি আমার আদর্শকে সম্মান করে। 

আদর্শ, আমার আদর্শগুলো খুব সোজাসাপ্টা কিছু চিন্তাভাবনা। হিন্দু-মুসলিম জাত বিভেদ আমি মানিনা। ইশ্বরে বিশ্বাস করি, কিন্তু ধর্মের অতিবাহারে, কুসংস্কারে বিশ্বাস করিনা। এখানে আমি সম্পূর্ণ আস্তিক বা সম্পূর্ণ নাস্তিক নই। ইশ্বরে বিশ্বাস করলেই যে ধর্মে বিশ্বাস করতে হবে, আবার ধর্ম মানেই যে ইশ্বর, এমন কোনো মতে আমার বিশ্বাস নেই। কিছু গল্প আছে, রামায়ন, মহাভারতে। কিছু চরিত্র আছে যেগুলো আমার ভালো লাগে। ওখানে কিছু ভালো ও আদর্শের নিদর্শন আছে, সেই আদর্শগুলোতে আমি বিশ্বাস করি। আদর্শগুলো সংসারের উন্নতির জন্য, সত্যের জয়ের জন্য। কিন্তু বর্তমানে ধর্ম ব্যাপারটা এমনই যে সেটা মানতেই হবে। মানলে সুরক্ষিত, না মানলে মৃত্যু দন্ড বা স্বতস্ফুর্ততা থেকে বঞ্চিত হওয়া। এটাকে ধর্ম না বলে দাদাগিরি বলা ভালো। আমি এমন ধর্মে বিশ্বাস করিনা যেখানে নিজস্ব মত দেওয়া যায়না, শুধু পুতুলের মতো হয়ে থাকতে হয়। আদর্শ, চিন্তাভাবনার স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও কর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আর এই কথাগুলোই বারবার নানারকম যুক্তি দিয়ে তুলে ধরি। কিন্তু আমার পরিবারের মানুষেরা আমার এইসব যুক্তিগুলোকে, চিন্তাগুলোকে বুদ্ধিহীনতা বলে কটাক্ষ করে। 


সমাজের মানুষজনের কথাতে আসি। সমাজের কিছু মানুষজন আমার চিন্তাভাবনা গুলোকে, লেখালেখি গুলোকে যুক্তিহীন, অবাস্তব বলে ঘোষণা করেছে। তারা আমার ভবিষ্যত বিচার করেছে, আমি নাকি কিছুকালের মধ্যেই পাগল হয়ে যাবো, যদিনা এইসব চিন্তাভাবনা ও লেখালেখি ছাড়ি। কিছু মানুষ আমাকে মেরেফেলার হুমকি দেয়। আবার কেউকেউ নোংরা ভাষায় গালাগালি দেয়। 

এতকিছুর মধ্যেও আমি আমার আদর্শকে ছেড়ে দিইনি, দেবোনা। আমি সবসময় যেমন জাতিভেদে অবিশ্বাস করি, এভাবেই অবিশ্বাস করে যাবো। তাতে যদি আমার পরিবার ত্যাগ করে আমাকে, করুক। শুধু সেইসব মানুষরা যারা, আমাকে মেরে ফেলার কথা বলে বা স্বপ্ন দেখে, তাদের একটা কথা বলবো, তোমরা তোমাদের মত সবরকম চেষ্টা করে দেখতে পার। এসব বলে তোমরা আমার চিন্তা ভাবনা থামাতে পারবেনা। আমাকে আমার আদর্শগুলোর চিন্তা থেকে বিরত রাখতে পারবেনা। আমার মধ্যে জাতের গোড়ামী সৃষ্টি করতে পারবেনা। আর যদি মারতে আসো, মারতেও পারবেনা। যদি আমার বাবা, মা আমাকে মেরে ফেলে, তবে সেটা তারা করতেই পারে। আমি বাধা দেবোনা। কিন্তু যদি অন্যরা মারতে আস, তোমরা বেঁচে ফিরবেনা। আমি সেইসব ব্লগারদের মধ্যে পরিনা যে শুধু মার খেয়ে মরবো, বরং পাল্টা আঘাত হানতেও আমি জানি। 

Tuesday, 23 February 2016

মনের মানুষ। পঞ্চম পর্ব।
কথা।
সৌম্যজিত দত্ত।



তৃষ্ণায় বুকে শুকোচ্ছে প্রাণ,
রোজকার রোজের ছটপটানি আর শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা।
রোজ ভাবি জানো, "তোমার সিথিতে স্নেহের চুমু দিচ্ছি।"
বারবার ভাবি, সকালে উঠে ভাবি, ক্লাসে যাওয়ার সময় ভাবি,
ক্লাস থেকে ফেরার সময় ভাবি, ভাবি আর ভেবেই যাই।
তোমার মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। দেখি,
"তোমার থুতনিটা হাত দিয়ে তুলে আমার মুখের সামনে নিচ্ছি,
এতকাছে নিচ্ছি যেন আমাদের দুজনের নিঃশ্বাস, দুটো মুখের ওপর পরছে।"
ওই গরম নিঃশ্বাসটা আমি উপলব্ধি করি।
সমস্ত স্নায়ু যেন মুহুর্তের মধ্যে সচল হয়ে ওঠে।

লজ্জা বস্তুটা আমার কোনদিনই তেমন নেই,
যা বলার, মুখের ওপরেই তো বলে ফেলি।
কতবার বলি, "ভালোবাসি তোমাকে।"
তুমি যেন উদাসই থেকে যাও, বড্ড উদাসীন তুমি!!

কখনো ভাবি, ওই দুরে মাঠ পেরিয়ে তোমার হাত ধরে পাড়ি দিয়েছি,
বিকাল থেকে সন্ধ্যা হওয়ার আলোছায়ায় শুধু দুজন, খুব কাছে একে অপরকে আলিঙ্গন করছি।
প্রেমের আলিঙ্গন!
"একহাত কোমরে ধরে, একহাত দিয়ে তোমার চুলগুলো খুলে দিচ্ছি।
মিষ্টি হাওয়াই তোমার চুলগুলো কপালের ওপর এসে পরছে,
আমি তোমার ঠোঁটে আলতো করে একটু ঠোঁট ছুঁয়ে দিচ্ছি।"
আমি হারিয়ে যাই তোমার মধ্যে তখন।
গোটা পৃথিবী জুড়েই শুধু তোমাকে দেখি, আর কেউ নেই,
কেউ দেখছে কি দেখছেনা, সব ভুলে যাই।
তুমি বড্ড চাপা স্বভাবের!!
মনের মধ্যেই সব লুকিয়ে রেখে দাও যত্ন করে।
একবার মন খুলে সামনে চেয়ে দেখো, দেখবে শরীর ও মনের মধ্যে শিহরণ খেলে যাবে।
প্রতিটা স্পর্শের নেশায় বুঁদ হয়েযাবে, যেমনটা আমার হয়।

তোমার শরীরে একটা অদ্ভুত গন্ধ পাই,
চোখ বন্ধ করেও তোমাকে সেই গন্ধে সবার থেকে আলাদা করে আমি চিনে নিতে পারি।
তোমার হাতের ছোঁয়ায় একটা উষ্ণ স্পর্শ অনুভব করি,
আমি যদি অন্ধ হয়ে যাই, তবুও তোমাকে ছুঁয়ে বলেদিতে পারি, "মনের মানুষ।"
এই মনের মানুষটাকে শুধু  অনুভবই করে যাই,
সামনে আসবেনা??
একটাবার ছুঁয়ে দেখো, দেখবে আমি তোমার ভীষণ পরিচিত, ভীষণ কাছের সেই মানুষ যে,
তোমাকে না দেখেও যেন, কোটি কোটিবার  তোমাকে ছুঁয়ে গেছে মনেরই অন্তরালে।


Saturday, 20 February 2016


ভাষা আন্দোলন। আমার কাছে ভাষা তসলিমা নাসরিনের কান্না।
সৌম্যজিৎ।



আজ ভাষা আন্দোলনের হিড়িক লেগেছে শহরে,
আজ ভাষা আন্দোলনের নামে ন্যাকামি চলছে শহরে।
সারাবছর এরা কথায় কথায় ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে কথা বলে,
আবার প্রথমে ইংরেজিটা বলে পরে, বাংলা উচ্চারণ করে।
এরাই আজ ভাষা আন্দোলনের জন্য বড় বড় বক্তৃতা শোনাচ্ছে!
কিসের ভাষা আন্দোলন?
ভাষার স্বাধীনতা কোথায়?
স্বাধীনভাবে আমরা যে ভাষায় যোগাযোগ করতে পারি সেটাই, আমাদের স্বাধীন ভাষা।
স্বাধীন বলতে ভাষার সাবলীলতা।
এটা আমার ভাষা, ওটা ওদের ভাষা, যেখানে মানুষ জাতি বৈসম্যের বিরুদ্ধে,
বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, সেখানে এত ভাষা বৈষম্য?
ভাষা কি আমাদের এক হতে পারতনা?
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তো আমরা বেশ ইংরেজীটাকেই আপন করে নিই।


বাংলা আমার ভাষা।
বাংলাভাষাতে দুটো কথা বলার জন্য ছটপট করেছে আমার বাংলা নির্বাসিত লেখিকা।
যেখানে সমাজে উর্দু-ইংরেজি-বাংলা তে কথা বলে মানুষ নিজের অহমিকা প্রকাশে ব্যস্ত সেখানে,
আমার লেখিকা আর্তনাদ করে করে হাঁপিয়ে উঠত দিনের পর দিন।
যদি ভাষা আন্দোলন বলতে কিছু বুঝি, সেটা তসলিমা নাসরিনের কান্না।
সারাদিনের নির্বাসিত জীবনের একঘেয়েমি, একাকিত্ব, একাকী সমুদ্রপাড়ে ঘরবন্দী,
প্রিয় বিড়ালটাও সাথে নেই, কি করবে, কি ভাববে কিছুই যখন স্থির করতে পারছেনা,
বাংলাভাষা বলার জন্য সামনে কোনো বাংলা বোঝা মানুষ নেই,
একটা ই-মেইল করবে বাংলাতে, সেটারও স্বাধীনতা নেই, শুধু আছে সারাদিনের ছটপটানি,
আপন ঘরেই ভবঘুরে হয়ে যাওয়ার পরিনতি,
সারাদিনের নাওয়া, খাওয়া বন্ধ করে বিছানায়-বালিশে মুখ গুজে ক্লান্তিকর ঘুম,
সে ঘুমেও বড় ক্লান্তি।


তোমরা শুধু তাকে বাংলা স্থান থেকেই নির্বাসন দাওনি,
তোমরা তাকে সমগ্র বাংলা থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছ।
বাংলাভাষাতে লেখা তার বইগুলো পুড়িয়ে মজা লুটেছ,
ঠিক যেভাবে নারী ধর্ষণের পর ধর্ষকের মুখে তৃপ্ত হাসি থাকে, সেভাবে।
আজ সেই তোমরাই ভাষা আন্দোলনের নামে নিজেদের শিক্ষা-সংস্কৃতির জ্ঞান বিলচ্ছ।


আমি বাঙালি, আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলাতেই আমার স্বতস্ফুর্ততা তবু,
বঙ্গস্থানকে আমি আপন করে নেবোনা। বাংলার গায়ে যে কলঙ্ক লেগে আছে -
তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনে, সেই কলঙ্ক মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, বঙ্গস্থান আমার নয়।
তাতে তোমরা যদি আমাকে রাজ্যদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী, সমাজদ্রোহী বল,
আমি হাসি মুখে মেনে নেবো। 

অভিজ্ঞতা শেখায়।
সৌম্যজিত দত্ত।


জীবনের অভিজ্ঞতা সকল মানুষই অধিকার করে। জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে ঘটে যায় অজস্র ঘটনা। সেগুলোর সামনে  সময়ের সাথে মুখোমুখি হতে হয়। হয়ত যেভাবে সেগুলোর মুখোমুখি আমরা হই, আবার পরেক্ষনেই মনেহয়, আরেকটু অন্যভাবে সেটা ফেস করতেই পারতাম। তাতে তার ফল কিছুটা অন্যরকম হতে পারত।


আমি খুব ছোট বয়সেই পড়াশোনা শুরু করাতে, একটা কথা বারবার মনেহত, এখন যদি আগের ক্লাসের অঙ্কগুলো সমাধান করতে বসি, তবে খুব কম সময়ে, খুব সহজ উপায়ে সেগুলো সমাধান করতে পারবো। যেমন, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তখন আমার সপ্তম শ্রেনীর অঙ্ক ও কঠিন অঙ্কগুলো ভীষণ সোজা মনে হত। ঠিক সেই অঙ্কগুলোই, যেগুলো শিক্ষক বারবার বোঝানোর সত্ত্বেও আমি ভুল করতাম। আবার ঠিক অষ্টম শ্রেণীতে বারবার ভুল করা অঙ্কগুলো আমি নবম শ্রেণীতে খুব সহজেই সমাধান করতে পারতাম। এর মানে এই নয় যে, আমি অঙ্কে খারাপ। আমি অঙ্কে ভালো কিন্তু, মস্তিস্ক পরিনত হওয়ার আগেই আমাকে অ্যাডভান্স হতে হত। আর ঠিক যে সময়ে আমি আগের বছরের কঠিন অঙ্কগুলো সহজেই সমাধান করতে পারছি, ঠিক সেই সময়ে সেই অঙ্কগুলোই আমার মস্তিস্ক সমাধান করার যোগ্য ছিল। আবার এমনও একটা সম্ভাবনা থেকে যায়, হয়ত আমি নবম শ্রেণীতে অপেক্ষাকৃত কঠিন অঙ্কগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি, তাই পুরোনো অঙ্কগুলো আমারকাছে সোজা মনে হচ্ছে। সম্ভাবনা সবসময় মস্তিস্ক চিন্তা ও অভিজ্ঞতা এই দুইয়ের ওপরে নির্ভর করে। আবার অনেকক্ষেত্রে সম্ভাবনা পরিবেশ অনুযায়ী নিজের চরিত্র পাল্টাতে থাকে।


আজ আমি একটা ব্যাপার নিয়ে যখন ভাবছি, ধরি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবছি, এখন আমার পজিশন অনুযায়ী আমার ভাবনাগুলো এমন হবে: ১) দেশের কোথায় কি ভালো হচ্ছে, সেসব মাথাতে সহজে আসবেনা। বরং কি কি খারাপ হচ্ছে, সেসব নিয়ে চিন্তা করতে থাকবো, আলোচনা করবো।এমন ভাবে চিন্তা করবো যে, কোথাও কিছুই ভালো হচ্ছেনা। শুধু খারাপ আর খারাপ।

২) যেহেতু আমি একজন গবেষক ও লেকচারার, তাই আমার চিন্তা ভাবনার শুরু ও মূল গুরুত্ব পাবে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি।

৩) আমি যদি শুধুমাত্র একজন ছাত্র হতাম, তবে আমার চিন্তা ভাবনা হত দেশের বেকারত্ব বাড়ছে, চাকরি নিয়োগ সময়মত হচ্ছেনা, বা প্রার্থীরা সময়মত চাকরির সুযোগ পাচ্ছেনা। যেমন আমি, প্রচুর চাকরির পরীক্ষায় বসেছি, কিছু কিছু জায়গায় পাশ করেছি, কিন্তু শেষমেষ কোনোভাবে আটকে গেছি। এই আটকে যাওয়ার জন্য কাউকে দোষ না দিয়ে, আমরা চেষ্টা করতে পারি প্রতিকুলতা কাটানোর। তাতে নিশ্চই কিছু ভালো ফল হবে। আবার কেউ যদি সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ার মত মানুসিক কাঠামো অর্জন করতে পারে, তবে সে আরো ভালো কিছু করতে পারে।

৪) আবার যারা একটু নিচু ক্লাসে আছে, তাদের চিন্তা ভাবনা হবে, আমরা কিভাবে পরীক্ষায় পাশ করব বা ভালো ফল করব। আমাদের বড় অফিসার হতে হবে।  আই.এ.এস বা আই.পি.এস হতে হবে। এমন স্টেজে দাড়িয়ে ছাত্র, ছাত্রীরা অলীক সব কল্পনা করে ফেলে। এখানে উল্লেখ্য, কখনো এই চিন্তা, কখনো ওই চিন্তা এমন অলীক কল্পনার চিন্তা ছাত্র ছাত্রীদের গোলক ধাঁধায় আবদ্ধ করে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীরা নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে যদি স্থির চিন্তা করতে পারে, তবে তারা খুব বড়রকম ভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারে।


৫) এবার আমি আমার পজিশনের ওপরে গিয়ে কথা বলি, ধরি আমি একজন বড় মন্ত্রী হলাম, মুখ্যমন্ত্রী। এখানে অনেকরকম সাইকোলজি কাজ করে। যেমন প্রতিটা মন্ত্রীই চায়, নিজের জায়গা ধরে রাখতে বা আরও বড় কোনো পদে উত্তীর্ণ হতে। সেখানে তার চিন্তা হবে, কিভাবে ভোট সংরক্ষণ করা যায়, কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যায়। রাজ্যের শিল্প, শিক্ষা, চাষবাসের ওপর কিভাবে আধিপত্য করা যায়। আবার কিছু কিছু মন্ত্রীর যাদের মাথায় সত্যিকারের উন্নয়নের চিন্তা ঘোরে, তারা ভাববে কিভাবে অন্তত কিছু মানুষের উন্নতি করা যায়, সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় এসব নিয়ে। সমস্তটাই নির্ভর করবে সমসাময়িক ভাবে অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর। কিন্তু এখন আমার চিন্তাতে, যদি আমি মুখ্যমন্ত্রী হতাম, তবে: ১) জিনিসপত্রের বাজারদর কমানোর কথা ভাবতাম। ২) শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন ও উন্নত পদ্ধতি অবলম্বনে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতাম। ৩) জলাভূমিকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প ও কৃষির উন্নতির কথা ভাবতাম। ৪) রাজ্যে গবেষনাগার খুলতাম ও ছাত্রছাত্রীদের গবেষনার জন্য তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা করতাম। বৈদশিক বানিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি বাড়ানোর ও রাজ্যের ব্যাবসাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতাম। ৫) রাজ্যে অধিক সংখ্যক সরকারী কর্মচারী বিনিয়োগের চেষ্টা করতাম। ৬) মানুষের মধ্যে থেকে ধর্মান্ধতা কাটানোর চেষ্টা করতাম ও সকল মানুষকে নিজেদের চিন্তা, ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দিতাম। ৭) কেউ ধর্ম পালনে ইচ্ছুক হলে ধর্ম পালন করুক ও যারা ইচ্ছুক নয় তারাও যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। সর্বোপরি কেউ যেন কারোর সামনে বাধা হয়ে না দাড়ায়। ৮) জাতির ঐক্য স্থাপন করতাম। ৯) ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে মেয়েমা তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনতাম ও সাধারণ মানুষের মত বাঁচার ব্যবস্থা করে দিতাম। মানবতাবাদী লেখক হিসেবে মানুষের মনে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতাম।


এই এত সব চিন্তার কথা বললাম, কিন্তু এসব এখন আমার বর্তমান পজিশনে থেকে মন্ত্রিত্বের পদ পেলে, চিন্তাভাবনার কথা। কিন্তু পরিস্থিতির বাস্তব মুহুর্তে চিন্তা ভাবনা পাল্টে যেতেই পারে। সবকিছুই আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা থেকে অনবরত শিখে চলি। 

Friday, 19 February 2016


"সত্য" আমাদের অধিকার। আমি সত্য ও আদর্শ শিখেছি তসলিমা নাসরিনের জীবন দর্শনে। 
সৌম্যজিত দত্ত। 




সত্য বলা আমাদের অধিকার। সত্য যেমনই হোক, ভালো হোক, খারাপ হোক, সেটার ওপরে আমাদের জন্মগত অধিকার। হ্যা, সত্য বলবো, মুখের ওপর বলবো। যদি মরতেও হয়, তাও বলবো।  

দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়তাম, প্রেমের ভূত মাথাচারা দিয়ে উঠেছিল। প্রেম, প্রেম আর শুধুই প্রেম। পড়তে বসে ঠিকমত পড়তে পারতামনা। প্রেমিকার কথা মনে হত। প্রেম ছাড়া যেন বাকি সব অন্ধকার। এমনকি পড়াশোনাতে এতটাই অমনোযোগী হয়ে উঠেছিলাম যে, ইংলিশ কোচিং ক্লাস বন্ধ করে সেই সময় প্রেমিকার জন্য অপেক্ষা করতাম বাইরে। সত্য বলার সাহস ছিলনা আমার। তাই বাড়িতে বলতে পারতামনা যে, আমি পড়তে যাচ্ছিনা। ৩ মাস পড়তে যাইনি। মাসের প্রথমে টিউশন-এর বেতন আমার হাত দিয়েই পাঠাত মা। আমি মা'কে বলতে পারতামনা যে, টাকা লাগবেনা, আমি পড়তে যাইনি। টাকা খরছ করতে জানতামনা। টাকা আমার ব্যাগেই থেকে যেত। ওয়ালেট ব্যবহার করতামনা। বইয়ের ব্যাগেই থাকত। একদিন মা টাকা দেখে আমাকে জিজ্ঞাসা করে, কিসের টাকা? আমি উত্তর দিতে পারিনা। চুপ করে থাকি, এড়িয়ে যাই। মা আমার স্যারের সাথে দেখা করতে যায়, জানতে পারে আমি ৩ মাস পড়তে যাইনি। আমি দূর থেকে দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম। মা ঘরে ঢুকে সোফায় বসল, কাঁদছিল। আমি চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে পা ধরে ক্ষমা চাইলাম। বললাম, "আর কখনো এমন কাজ করবোনা। আমি ভুল করেছি।" যদিও টিউশন ছাড়াই আমি উচ্চমাধ্যমিকে ইংলিশে ৬০% নাম্বার পেয়ে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংলিশ অনার্স পেয়ে গেছিলাম প্রথম সুযোগেই। টিউশন ব্যাপারটা মোটেই আমার ভালোলাগতনা কখনো। দীর্ঘ প্রাই ২৪ বছরের পড়াশোনার জীবনে আমি কখনই ধারাবাহিক ভাবে, নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে পড়াশোনা করতে পারিনি। যখন ইচ্ছা হয়েছে পড়েছি, আবার কখনো পড়িনি। কিন্তু এই পড়া, না পড়ার মাঝে আমি আজ পর্যন্ত কখনই বই ছাড়া থাকিনি। কষ্ট হয় থাকতে। পরে, ইংলিশ অনার্স পড়তে পড়তে আবার মন ঘুরে যায় কম্পিউটার সায়েন্সের দিকে। কম্পিউটার সায়েন্সে গ্র্যাজুয়েশান ও মাস্টার্স করি। সরকারী চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশন নিয়ে পরীক্ষা দিতাম, সেখানেও একঘেয়ে ধরে গেছিল। পরে আবার সরকারী চাকরির প্রস্তুতি ছেড়ে দিয়ে রিসার্চ করতে শুরু করি। 

 আমি মানুষটা অন্যরকম ছিলাম। নারীবাদী, মানবতাবাদী চিন্তাভাবনা আমার মধ্যে কখনো ছিলনা। অমানবিক একজন মানুষ ছিলাম। তবে, নিজের কাজের প্রতি কখনো অসৎ ছিলামনা। সময় আমাকে পরিবর্তন করেছে। আমার পরিবর্তনের শুরু হয় পায়েলের সাথে ব্রেক আপ হওয়ার পর থেকে। আমি নিজে থেকে নিজেকে কিছুটা পাল্টানোর চেষ্টা করেছিলাম। সত্যকে মুখের ওপর বলতে শুরু করি। কখনো ভয় করত সত্যকে স্বীকার করতে, কিন্তু ভয়কে জয় করে নিয়েছিলাম খুব সহজে। আমার জীবনের পরিবর্তনের পিছনে যে ঘটনাগুলো কাজ করেছে, সেগুলো:

১) পায়েলের সাথে ব্রেক আপ হওয়া। যেটা আমি মন থেকে মেনে নিতে পেরেছিলামনা। 
২) আমার দিদির মৃত্যু আমাকে কঠিন করে দিয়েছিল। 
৩) মেয়েমা তসলিমা নাসরিনের জীবন দর্শন সব থেকে বড় অংশে দায়ী, এই আজকের সৌম্যজিত দত্ত হওয়ার জন্য। 
 তসলিমা নাসরিনের জীবনকে, ওনার প্রতিটা কথা, প্রতিটা চিন্তাগুলোকে নিজের মনের মধ্যে এমন ভাবে এত পরিমানে ভেবেছি যে, আমার নিজের মধ্যে ওনাকে এখন অনুভব করতে পারি। যেন তসলিমা নাসরিন আলাদা কোনো মানুষ নয়, আমার মধ্যেই তসলিমা নাসরিন আছে। আর ওনার ওই ডাকাবুকো সত্য বলার সাহস, কোনো ভাবনা চিন্তা না করেই সত্য বলার সাহস আমার মধ্যে চলে এসেছে। 

এখন আমি জানি, বিশ্বাস করি, উপলব্ধি করতে পারি, যে অবস্থাতেই থাকিনা কেন, সত্য আমি সবসময় বলবো। সত্যে কোনো দ্বিধা থাকেনা, লজ্জা থাকেনা। থাকে সততা, সাহস, মানুষ হওয়ার লক্ষণ, ভালো হওয়ার লক্ষণ, বিশ্বাস, ভরসা, গাম্ভির্যতা। সত্য বললে, তুমি কাউকে ভয় পাবেনা, কিন্তু অসৎ মানুষরা তোমাকে ভয় পেয়ে চলবে। আবার মানুষের ভালবাসা, সম্মানও পাবে। 

Thursday, 18 February 2016

১৫০ বছর বাঁচতে চাই। বিজ্ঞান বিষয়ক চিন্তাগুলোকে জলভাতের মত মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাই। ফাইনাইট অটোমাটা জিওমেট্রি'তে রিসার্চ অ্যাডভান্স স্টেজে আছে। এটা সম্পূর্ণ হলে ক্রিপ্টোলজির ওপরে ও নাম্বার সিস্টেমের ওপরে রিসার্চ করতে চাই। হিউমান রাইট নিয়ে অনেক লিখতে ও সংশোধন করতে চাই সামাজিক ও আইনগত ভাবে। নারীকে রাতের অন্ধকারেও বাইরে সুরক্ষিত দেখতে চাই। নারীকে স্বনির্ভর হতে দেখতে চাই। বিয়ের পরও নারী'র নিজের পদবি বহন করা দেখতে চাই, অথবা পদবিহীন মানুষ দেখতে চাই। রাজনীতির সমালোচক হতে চাই। ভুল কে ভুল ও ঠিক কে ঠিক বলার মত সাহস দেখতে চাই মানুষের মধ্যে। দেশের রাষ্ট্রপতি পদটা পেলে, মন্ত্রী নির্বাচন সিস্টেম বন্ধ করে, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ও পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের দায়িত্বভার বহনকারী জনসেবক নিয়োগ করতে চাই। এমন এক দেশ বানাতে চাই যেখানে কোনো মন্ত্রী থাকবেনা, ভোট ও সাত্তার লড়াই থাকবেনা। শুধু জনসেবক নিয়োগ করা হবে অন্যান্য সরকারী চাকরিগুলোর মত। নিজের জন্য কিছু চাই? হ্যা, চাইতো। আমার নামটা যেন ইতিহাসের পাতাতে লেখা থাকে, যেন পৃথিবী যতদিন থাকবে, মানুষ আমাকে মনে রাখবে।


মনের মানুষ। চতুর্থ পর্ব।
বন্ধুত্বের ভাগ চাই।
সৌম্যজিত দত্ত।



তুমি কই?
ঘাপটি মেরে বসে আছো, অগ্নি দহনে জ্বলছো, পুড়ছো,
নিজেকে আড়াল করে আমাকেও পোড়াচ্ছো।
ভালোবাসি বলে ভালবাসার অধিকার আমি চাইনি,
শুধু বন্ধুত্ত্বের অধিকারে ভাগ চাইছি।
যতই নিজেকে অসহায় ভাবো, তুমি তো অসহায় নও।

চাইনা আমার সেই আপন করা ভালবাসা, চাইনা মন উতল করা সেই প্রেম,
যে প্রেম, যে ভালবাসা তোমাকে ভালো রাখতে পারেনা,
সেই প্রেম, সেই ভালবাসা কখনো আমার হতে পারেনা।


বন্ধু হয়ে তুমি থাকবে সারাজীবন এমনই কথা দিয়েছিলে,
হাজার বিপদেও কখনো হাত না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছো শুধু বন্ধু হয়েই,
তবে কেন আজ নিজের যন্ত্রণা আড়াল করছো আমার থেকে?
আমার বন্ধুত্ত্বের ভাগ চাই, চাই তোমার কষ্টগুলো পান করতে,
এবারও যদি আড়াল করো তবে, তুমিও বঞ্চিত হবে আমার কষ্টগুলো থেকে। 

Tuesday, 16 February 2016



মনের মানুষ। তৃতীয় পর্ব। 
সৌম্যজিত দত্ত। 



বুকে আমার ভালবাসা জুড়ে, তোকে জড়িয়ে বেলা কাটে,
প্রানখোলা হাসি আর দুষ্টু চোখে তোর আদরের নেশা ভাসে। 
তোর চোখে আয়না যখন, কালচে বা ক্ষয়েরী রং ধরে,
আমি ভাবি, স্বপ্ন সাজি, সারাজীবনের সঙ্গ পেতে। 

বাচ্চা যে তুই, চটপটিয়ে কথা বলিস, বড্ড অভিমানে গাল ফোলাস,
আবার কিছু পরে, নিজেই নিজের রাগ ভাঙিয়ে হাত মেলাস। 
এত সুন্দর মনের মানুষ, তোকে পাওয়ার লোভ যে বড়,
কি করি বল, তোকে ছাড়া আর কিছুই লাগেনা যে ভালো?

অসহায় লাগে নিজেকে আমার, যখন তুই থাকিসনা পাশে,
আজ যে তুই কথা দিয়েছিস, সারাজীবন থাকবি পাশে। 
কথাই কথাই মনে করাস শুধুমাত্র বন্ধু হয়েই,
আরে, আমি ভুলিনি রে। জানি, তোর ভিতরেও কষ্ট আছে।

বন্ধু হোস বা ভালবাসা, তোকে ঘিরেই থাকবো আমি,
ভরসা হবো, বন্ধু হবো, একসাথেই হাঁটবো দুর্গম পথগামী। 



Monday, 15 February 2016

নারী-নিগ্রহ ভাতা চাই।
মার খাওয়ার মজুরি চাই।
বৈবাহিক ধর্ষিতা হওয়ার বেতন চাই।
.
.
.
.
.

গৃহবধুর বেতন চাই।


সমাজে সর্বস্তরে ভালো, খারাপ সবকিছুর জন্যই মানুষ কিছুনা কিছু উপার্জন করে। কেউ বড় চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ চুরি করে। চুরি করাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত। ১) ছোট জাতের চোর, যারা চোর সুনামে চুরি করে। ২) বড় জাতের চোর। যারা সাদা, কালো, খাকি পোশাকের আড়ালে ডাকাতি করে।
সমস্ত পেশায় উপার্জন কেন্দ্রিক। এসবের মধ্যে চোখে ধরার মত বিষয় হল, এই সমস্ত পেশাগুলো পুরুষকেন্দ্রিক। সামান্য পরিমাণে নারীও যুক্ত। তবে তা একেবারেই হাতে গোণা। ৮-১০%। বেশিরভাগ নারীর কপালে জোটে বিনা ভাতায় গৃহবধুর চাকরি। তাদের নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।



প্রথমেই আমি আমার মাকে নিয়ে কিছু বলি। আমার মা'র বিয়ে হয়েছে ২৬ বছর আগে। একজন গৃহবধু। পাপা ব্যবসায়িক। খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। তবে হ্যা, আমার পাপা খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হওয়ার সত্ত্বেও মানবিক বিচারে কিছুটা অন্যরকম। নারী কষ্ট বোঝে। আমার মা'র জন্য আড়ালে কিছু করার চেষ্টা করে, কিন্তু সামনে সেই কড়া মেজাজী, বদ মেজাজী। আমার মা পড়াশোনাতে মধ্যম মানের ছাত্রী ছিল। সমসাময়িক ভাবে হয়ত কিছুটা ভালো ছিল, কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষাতে ফেল করে যায়। গরীবের মেয়ে ছিল, দাদুর চিন্তা ছিল, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে পার করতে হবে। তিন মেয়ে। তাই মা'র বিয়েটা জোরপূর্বক ও তার অনিচ্ছাতেই দিয়েছিল দাদু। মা চেয়েছিল পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে। দাদু দেখল ছেলে পরিশ্রমী ও ব্যবসাতেও বেশ ভালোই উপার্জন আছে। তাই মা'কে বিয়ে দিয়ে দেয় পাপার সাথে। যদিও পাপা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পড়াশোনা করাবে। করাতে চেয়েও ছিল, কিন্তু পরিবারের চাপে সেটা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি বলতে, মা'কে পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য পাপা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শ্বশুর বাড়ির চাপে মা পিছিয়ে পরে। উত্সাহ হারিয়ে ফেলে। তাই পড়াশোনাটা আর এগোতে পারেনি। আমি বলছিনা আমার পরিবারের মানুষজন খারাপ, কিন্তু সেই সময়ের পরিস্থিতির সাপেক্ষে একটা গৃহবধুর ওপর অন্যায় তো হয়েই ছিল। ওরা প্রতিটা মানুষ ভীষণ মানবিক। তারপর অনেক টানাপোড়েন গেছে, পাপা পরিবার ছিন্ন হয়েছে, আমাকে ও মা'কে নিয়ে রাস্তাতে নেমে এসেছে, ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আবার কঠোর পরিশ্রম করে শুন্য থেকে উঠে দাড়িয়ে কোটির ঘরেও প্রবেশ করেছে। এসবের মধ্যে পাপা'র চরিত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। আস্তে আস্তে যত উঁচুর দিকে উঠেছে, আমার মা'কে তত বেশি নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে। মা চুপচাপ সেসব সহ্য করেছে, শুধু সন্তানকে তৈরি করতে। সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে সন্তানকে পড়াশোনা শিখিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করেছে, গবেষণা করিয়েছে। এসবের  পিছনে আমার মা'কে অনেক বেশি মূল্য চোকাতে হয়েছে মানুষিক ভাবে অত্যাচার সহ্য করে। এমন দিনও দেখেছি, মা নিজের কসমেটিক না কিনে সব টাকা আমার জন্য, আমার দুধের জন্য, পড়াশোনার জন্য খরছ করেছে। কসমেটিক তো পরেও হবে, ছেলে দুধ ভালোবাসে, ওটা আগে কিনতে হবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার দুধ প্রয়োজন ছেলের জন্য। আবার যখন আস্তে আস্তে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, তখনও তাকে পাপার কাছে শুনতে হয়েছে, অন্য ছেলেরাও তো বড় হচ্ছে, আমরাও এত ভাই, বোন বড় হয়েছি, আমাদের এত খরছ হয়নি। একজন বেকার গৃহবধুর কাছে এই অত্যাচার গুলো ভীষণ অপমানের। বারেবারে তাকে চারিদিক থেকে খোঁটা শুনতে হয়েছে আমাকে বড় করে তোলার জন্য। যেহেতু কোনো উপার্জন নেই, তাই মুখ বন্ধ করে সব সহ্য করেছে, আবার পাপার কাছে হাত পেতেছে। যদিও গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে, পাপা নিজের ইচ্ছায় মাকে সাজের জিনিস কিনে দেয়, আমাকেও আমার প্রয়োজনের জিনিস কখনো মুখ ফুটে চাইতে হয়নি, পাপা অনেক বেশি বেশি করে কিনে দিয়েছে, সারাজীবনের উপার্জনের অর্ধেক অংশ আমার মাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। মা নিষেধ করলেও, পাপা মা'র জন্য অনেক অনেক উপহার নিয়ে আসে। গত চার বছর ধরে পরিস্থিতি এমন হয়েছে। কিন্তু মানুষ যতই পরিবর্তিত হোক, পুরো পরিবর্তন আসেনা। পাপা এখনো মাঝে মাঝে মা'র সাথে এমন আচরণ করে ফেলে যাতে, মা'র নিজেকে এই সংসারে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এ ভোগে। ভাবে, যদি সমর্থ থাকত, তবে উপার্জন করে নিজের প্রয়োজন নিজে মেটাতাম। এভাবে অপমান সহ্য করতে হতনা।



এমন গল্প আজ প্রতিটা ঘরে ঘরে। বা হয়ত এর থেকেও অনেক বেশি কিছু, অনেক ভয়ঙ্কর কিছু। স্ত্রী নিগৃহীত হচ্ছে স্বামীর কাছে, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হচ্ছে প্রতি রাতে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, বাচ্চা মানুষ করছে, স্বামী রাতে মদ খেয়ে বাড়িতে ফিরে সেই স্ত্রীকেই মারধর করছে, হাত-পা টেপাচ্ছে, আবার সেই ক্লান্ত স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করছে। এমন ভাবে করছে যাতে, স্ত্রী শারীরিক ও মানুসিক যন্ত্রনাতে ছটপট করছে, আর স্বামী সেটা উপভোগ করছে। খিদে মিটিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। স্ত্রী সেসব সহ্য করছে শুধু মাত্র হয়ত সন্তানের কথা ভেবে, নিজের আর্থিক অসহায়তার কথা ভেবে, মাথার ওপর থেকে ছাদ হারানোর ভয়ে, আবার সামাজিক লজ্জা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। আসলে সেইসব স্ত্রীরা ভালোবেসে নয়, বাধ্য হয়ে সংসার করছে আর সেই সংসারের চিতায় প্রতিটা মুহুর্তে জ্বলছে। অথছ, সেই স্ত্রী'ই যদি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হত তবে, এই মানুসিক নির্যাতন থেকে নিজেই নিজেকে অনেকটা বাঁচাতে পারত। এইসব স্বামীরা তাদের স্ত্রী'দের মানুষ হিসেবে নয়, সেবার যন্ত্র হিসেবে মনে করে। ভোগের যন্ত্র হিসেবে মনে করে।




পরিস্থিতি যদি এমনই হয়, নারী যদি প্রায় সব ক্ষেত্রে শুধু ভোগের জন্যই হয়ে থাকে, তবে "ভোগের বস্তু" নারীর পেশা হোক। কথাটা খারাপ শোনালেও, এটাই বাস্তব। অনেকে অনেক খারাপ পথে, অসৎ পথে উপার্জন করে, তবে নারী কেন গৃহবধু হিসেবে করে যাওয়া সমস্ত পরিশ্রমের জন্য পারিশ্রমিক পাবেনা? বস্তুর মত খেটে যাওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, সন্তান বড় করে দেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে মার খাওয়ার পারিশ্রমিক চাই, পরিবারের মানুসিক অত্যাচার সহ্য করতে পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হওয়ার পারিশ্রমিক চাই। হ্যা, বৈবাহিক ধর্ষণের জন্যও পারিশ্রমিক চাই, কারণ ঐসব পুরুষদের কাছে বেশ্যালয়ের বেশ্যার শরীর ও ঘরের বউএর শরীর একই। বেশ্যালয়ে যদি টাকা দিতে পারে, তবে স্ত্রী'কে ধর্ষণের জন্যও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে। এতে অন্তত ওই স্ত্রী নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস থেকে কিছুটা মুক্ত হবে। ওই পারিশ্রমিক দিয়ে অন্তত সেই স্ত্রী নিজের ইচ্ছামত কিছুটা প্রয়োজন মেটাতে পারবে। অন্তত কিছুটা হলেও সে নিজের সুখ খুঁজে পাবে তাতে।


লেখক: সৌম্যজিত দত্ত। 

Sunday, 14 February 2016

মনের মানুষ। দ্বিতীয় পর্ব। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


বৃষ্টি এল মনেতে আজ, তোকে ঘিরে কল্পনাতে,
টুপটাপ, ঝুপঝাপ আওয়াজ কি মিষ্টি!!!
আমি দেখি, আর তোকে দেখেই যাই, 
বিকাল বেলার উঠোন মেলায় ঘাসফুলে তোর নৃত্য সাজে,
খালি পায়ে আলতা রঙে নীল শাড়ীতে ভিজছিস। 
তুই ভিজছিস ....

তোর কানের রিং দুটোতে বৃষ্টি ফোঁটা ঝকমকিয়ে,
কালো মেঘের তড়িৎ আলোয়, অপ্সরাকেও হারিয়েছিস। 
তোর লম্বা চুলে জুই ফুলের সুহাসে, বাতাসকেও বশ করেছিস। 


এ কেমন নেশা ঘিরে, আমাই ধরে কাছে টানে,
তোকে ছুঁয়ে, বৃষ্টি ভেজা উষ্ণতাতে লেপটে ধরি বুকের মাঝে,
চারিদিক থমথমে। শুধু তুই আর, তোকে ঘিরে আমি।
তুইই সেই মনের মানুষ, তোকে ঘিরে কল্পনাতে-
স্বপ্ন বিছাই লক্ষ, কোটি,
হাজারো অপুর্ণতাতেও আমি হই সম্পূর্ণ। 
কিরে, তুই তো সে'ই? 



***হ্যাপি ভ্যালেনটাইন ডে। 



Saturday, 13 February 2016

রাখাল বালক।
সৌম্যজিত দত্ত।

রাখাল বালক তোর চিন্তায় আকাশ ছোঁয়া প্রাণ,
রাখল বালক তুই গাইছিস ধানের ক্ষেতে গান।
রাখাল বালক নতুন প্রেমে তোর মন ছটপটানি,
রাখাল বালক তুই ভাবছিস, "শ্রেয়-পৃষ্ঠে আমি তাকাতে পারিনি।"
রাখাল বালক তোর চাউনিতে প্রেমের ছটপটানি। 



রাখাল বালক সারাদিনে কম্পুটারে গেম খেলিস,
রাখাল বালক অঙ্কেতে তুই ভালো মতোই জট খুলিস।
নতুন নতুন মোবাইল সেটে তোর চোখে ঝলকানি আসে,
বারে বারে ফ্লিপকার্টে'তে ফিচার আর দাম দেখিস।
রাখাল বালক, ভালোই তো তুই আমার বান্ধবীদের ফলো করিস।


পড়াশোনার মাথায় ব্যাঙ, প্রযুক্তিতে আসর জমে,
ভেবে দ্যাখ কাজ তো হবেই, পড়াটাও কিছু প্রয়োজন হবে।
আমি ঘাটি লিনাক্স নিয়ে, তুইও দৌড়োলি কিছু করতে,
কৌতুহল তো খুব সুন্দর, তবে শিখতেও তো কিছু হবে।


রাখাল বালক কম্পুটারে তুই ভালোই তো হাত জমিয়েছিস,
অপারেটিং সিস্টেম, হার্ড ডিস্ক, প্রসেসরে খেলা খেলিস মোয়ার মত,
পড়াশোনাটাও খেয়াল করলে, খেয়াল মতোই জোয়ার টানবি,
দেখবি সেদিন আমার থেকেও বড় কোনো শিকল ছিঁড়ে ছিস ...

শুভ জন্মদিন। 
অচ্ছুততা বা অস্পৃশ্যতা।
সৌম্যজিত দত্ত।

বেশি কথাতে না গিয়ে মূল ব্যাপারগুলো  তুলে ধরছি। আজ সরস্বতী পূজো গেল। সনাতন হিন্দু ধর্মে বিদ্যার দেবী হিসেবে সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই পূজো নিয়ে উন্মাদনার শেষ নেই। আমি নিজেও এই পূজোটা বেশ উপভোগ করি, তবে সবটুকুই নিজের মধ্যে রেখে। 

কাল আমার এক বান্ধবী আমাকে বলল ও আজ এই পূজোতে থাকতে পারবেনা। আমি কারণ জিজ্ঞাসা করতে স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছিলনা। আমি বুঝতে পারলাম, ওর পিরিয়ড হয়েছে, বলতে পারছেনা। আমি বললাম, তোমার কি পিরিয়ড হয়েছে? ও বলল "হ্যা।" আমি বুঝতে পারলাম, মেয়েটা এখনো নিজের স্বাভাবিক কষ্ট গুলো মুখফুটে বলতে পারেনা। লজ্জার আড়ালে গুটিয়ে থাকে। অথছ সে জীবন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন, শিক্ষিতা, স্বাবলম্বী। আমি ওকে বুঝিয়ে বললাম, "পিরিয়ড ব্যাপারটা মেয়েদের শরীরের একটা অংশ। এটাতে অচ্ছুত কোথায়? শরীরের কোনো অংশ নিয়ে যদি এই অচ্ছুত ব্যাপারগুলো কাজ করে, তবে সমস্ত নারীই অচ্ছুত।" আসলে মেয়েটার মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন ধারণা ছিল যে পিরিয়ড হওয়ার পর পুজোতে অংশগ্রহন করলে যদি ঠাকুর রাগ করে? একটা দ্বিধা ছিল, আমি ওর ওই দ্বিধাটা কাটিয়ে দিলাম। এটা প্রকৃতিস্থ ব্যাপার, এতে কোনো অচ্ছুততা আসতে পারেনা। যদিও মেয়েটা পুজোতে থাকতে পারেনি তার পেটে ব্যথা হচ্ছিল বলেই। 

আমরা দেখি, যখন মা তার বাচ্চার জন্ম দেয়, জন্ম দেওয়ার পর তাকে আঁতুর ঘরে রাখা হয় সবার থেকে আলাদা করে। কাউকে ছুঁতে পর্যন্ত দেওয়া হয়না। সেখানেও এই অচ্ছুত ব্যাপারটা মানুষের মনের মধ্যে চলে আসে। সে কিছু ছুঁলে নাকি সব অপবিত্র হয়ে যাবে, যেখানে সে একটা নতুন প্রানের জন্ম দিয়েছে। প্রানের জন্ম দেওয়ার মত ভালকিছু তো আর হতে পারেনা। তবু তাকে অচ্ছুত করে রাখা হয়, পরে গঙ্গাস্নান করিয়ে তার দোষ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো হয়। এখানে কিছু প্রশ্ন উঠে আসে, বাচ্চা জন্ম দেওয়া তো পবিত্র কাজ, একটা নতুন প্রানের সৃষ্টি করা। তাহলে তাকে এভাবে অস্পৃশ্য করে কেন রাখা হয়? উল্লেখ্য, মানুষ বাদে, কোনো পশু, পাখিদের মধ্যে এমন অস্পৃশ্যতা নেই। 


হাসপাতাল একটা পবিত্র জায়গা, সবথেকে বেশি পবিত্র জায়গা, যেখানে প্রাণ বাঁচানো হয়। অথছ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর দেখি অনেক মানুষ গায়ে গঙ্গাজল ছেটায়, স্নান করে ঘরে ঢোকে। ঠাকুর ঘরেও সহজে ঢুকতে চায়না। হাসপাতালে যেখানে প্রাণ বাঁচানো হয়, প্রানের জন্ম দেওয়া হয়, এমন পবিত্র স্থান থেকে ফেরার পরেও মানুষের মন থেকে কুসংস্কারাচ্ছন্ন অস্পৃশ্যতা যেতে চায়না। যেন তারা মানুষ খুন করে হাজারটা পাপ নিয়ে ঘরে ঢুকেছে। 


রাস্তাঘাটে ছড়িয়ে থাকা মলে যদি পা ঠেকে যায়, সেখানেও অচ্ছুত ব্যাপারটা মনের মধ্যে চলে আসে। মলের মত নোংরাতে পা পরলে, সেটা অবশ্যই পরিস্কার করা উচিত, কিন্তু তাকে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ হতে হবে, আবার সে যদি কাউকে ছুঁয়ে ফেলে, তবে ইনফ্রারেড জাতীয় পাপ ছড়িয়ে পরবে এক শরীর থেকে আরেক শরীরে। এটা কেমন অস্পৃশ্যতা? এখানে অস্পৃশ্যতা যেন মাইক্রো ফাইলেরিয়া ব্যনক্রফ্টি জাতীয় কোনো রোগ। 


রাতে সেক্স করার পর সকালবেলাতে স্নান সেরে ঠাকুর ছুঁতে হয়, নাহলে নাকি পাপ হয়। সেক্স তো মানুষের শরীরের প্রয়োজনীয়তা, ভালবাসা। আবার সেক্সের মাধ্যমে নতুন প্রাণ সৃষ্টি হয়, তবে কেন সেক্সের পর স্নান করে তাকে শুদ্ধ হতে হবে? এটা কোন প্রজাতির অস্পৃশ্যতা?

একটা সময় অস্পৃশ্যতা জাতবিভাজনেও ছিল। উচু জাতের মানুষ নিচু জাতের মানুষদের অস্পৃশ্য করে রাখত। সেসবকে বি.আর.আম্বেদকার, বিদ্যাসাগর মহাশয়েরা ভুল প্রমাণ করে, জাতের অস্পৃশ্যতা দূর করেছিলেন। আজ মানুষের চোখে জাতের অস্পৃশ্যতা কেবলই গোড়ামি। তবে কেন আজও সাধারণ জীবনের সাধারণ ব্যাপারগুলোতে অস্পৃশ্যতা কাজ করে? কেন এগুলোকে গোড়ামি বলে মানুষ দূরে ঠেলে দিতে পারেনা? পিরিয়ডের কারণে কেন নারী আজও অস্পৃশ্য? যদি তাইই হবে, তবে কেন নারীর পিরিয়ড হওয়ার পরও তার হাতের তৈরি খাবার আমরা সেবন করি? তাহলে কি ব্যাপারটা এমনই দাড়ায় যে, পিরিয়ডের নামে নারী স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক, কিন্তু আমরা যেন তার সেবা থেকে বঞ্চিত না হই? পিরিয়ড হলেও তো তাকে সেক্সে অচ্ছুত করে রাখিনা। তাহলে ঠিক যে যে ব্যাপার গুলো থেকে আমরা সুযোগ নিতে পারি, ঠিক সেই সেই ব্যাপার গুলোতে নারী অচ্ছুত নয়, বরং যে যে ব্যাপারগুলোতে নারী উপভোগ করতে পারে, সেই সেই ব্যাপারেই কেবল তারা অচ্ছুত। 

অচ্ছুততা মানুষের শরীরে নয়, অচ্ছুততা আমাদের মনে, বিচারে। 

Friday, 12 February 2016

আজকাল অনেক চিন্তা করি, আগে যেমন চিন্তা করতাম সবকিছু নিয়ে, তেমন ভাবেই করি, সবকিছুর পেছনে ও সামনে যুক্তি খুঁজে বেড়াই। আজকাল চিন্তাগুলো লিখতে ইচ্ছা করেনা। আবার হয়ত ইচ্ছা করে কখনো, কিন্তু লিখতে গেলে সব ভুল হয়ে যায়। আজকাল রাস্তায় নেমে লড়তে ইচ্ছা করে। আজকাল চিঠি লিখতে ইচ্ছা করে নানা আফিসে মন্ত্রী ও কর্তাদের কাছে, আদালতের দরজায় পৌঁছে মামলা করতে ইচ্ছা করে। আজকাল বড্ড আন্দোলন করতে ইচ্ছা করে। কবিতা, গল্প ভালো লাগেনা আর। আজকাল ঝলসে উঠতে ইচ্ছা করে। আজকাল বড্ড মারামারি করতে ইচ্ছা করে। 

মুক্তচিন্তা  মানে শুধু বিপ্লব নয়, সংঘর্ষ নয়,
মুক্তচিন্তা  আসে  মনের উনমুক্ততায়। 
মন  উনমুক্ত  হয় চিন্তাভাবনার প্রকাশে, আলোচনায়। 


........................সৌম্যজিত দত্ত। 
পুরুষতন্ত্র ধর্ম। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


যুদ্ধ হোক জীবন জুড়ে, চাইনা সাধারণ বাঁচা,
মরতে যদি হয় তবে, মরবো বীরের মৃত্যু। 
সমাজ চলছে মিথ্যে ধর্মে, ধর্ম ওদের অধরা,
ধর্মের নামে সার্থ মেটায়, পিষছে মনুষত্ব। 
রীতি গড়ে, রেওয়াজ গড়ে, ভালোবাসাকে খুন করে,
ধর্মের নামে হম্বিতম্বি, ভালোবাসাতে জাত টানে,
সম্পর্কেও বৈধ - অবৈধ প্রাচীর তুলে তফাৎ করে। 
কীসের সেই ধর্ম যাতে মনুষত্ব থাকেনা, প্রেম থাকেনা,
থাকে শুধু ব্যবিচার - অবিচার?
আসলে এ তো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, ধর্মও ওদের পুরুষতন্ত্র। 
হিন্দু-ইসলাম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ আলাদা নাম,
কিন্তু ধর্ম তোদের পুরুষতন্ত্র। 

ধর্ম, বংশ পরম্পরা নামক কর্কট বিষে-
নেই কোনো মনুষত্ব। 
শুধুই পুরুষতন্ত্র। 

জাত যদি তোদের ধর্ম হয়,
চিন্তা যদি পুরুষতন্ত্র হয়,
খুন, ধর্ষণ, দাঙ্গা যদি হয় ধর্মের বিচার,
ধর্ম নামক অধর্মকে আমি পায়ের তলায় পিষবো। 
লাথি মেরে উড়িয়ে দেবো। 
ভালোবাসার রাজ্যে একক ছত্রাধিপতি হয়ে মিটিয়ে দেবো তোদের-
অরাজক পুরুষতন্ত্র ধর্ম। 

Thursday, 11 February 2016

 ওরে মোর মুক্ত পাখি,
ছুঁতে চাস আকাশবুক।
তোকে নিয়ে মহাসভা,
খেলেছে ওরা পাশা খেলা,
একে একে তোর সীমানা, ঘিরেছে ওরা ছল ছাতুরে।
তোর দামন খুলতে চায়, লেপতে চায় কালীমা লেখা।
দামন যখন খুলছে মা'রে,
তোকে জড়িয়ে আমি পাড়ে,
ব্যর্থ ওদের কৌশল তবে,
ব্যর্থ হবে চেষ্টা সেসব।
আমি আছি, তোকে যে ঘিরে।



-----------------------------------------------------সৌম্যজিত দত্ত।