Saturday, 30 July 2016

আমি বেশি ঘোরাঘুরি করিনা, বন্ধুদের সাথে কখনো আড্ডাও দিইনা। আমার ভাই, বোনেরা বন্ধুদের সাথে ঘোরে, গল্প করে। আমি এই ঘর থেকে ক্লাস, ক্লাস থেকে আবার ঘর, এই চার দেওয়ালের মধ্যে আমার প্রিয় জগৎ। প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে কিছু করিনা। আমার প্রয়োজন খুব একটা হয়না, কেউ কখনো প্রয়োজনে ডাকলে তার কাছে যায়। কখনো নিজের জামা, প্যান্ট নিজে পছন্দ করে কিনিনি। অত খেয়ালও থাকে না। মা, পাপা যা পছন্দ করে দিয়েছে, তাই পরেছি। এইসব ব্যাপারগুলোতে আমি মন থেকে খুব একটা আগ্রহ পাইনা। নতুন হোক বা পুরোনো কিছু একটা পরলেই চলে। পূজোতে ঘুরতে যেতে ভালোলাগেনা। ভিড় সহ্য করতে পারিনা, দম বন্ধ হয়ে আসে। আমার ভালো লাগে বই পড়তে, গবেষণার কাজগুলো নিয়ে ভাবতে, আলোচনা করতে, গল্পের বই বা উপন্যাস বা আমার বিষয়ের বা বিষয়ের বাইরে যেকোনো বই পড়তে ভালোবাসি। রেডিও শুনতে ভালোবাসি। রহস্য ভালোবাসি, সমাজের উল্টো স্রোতে বয়ে চলা যে কোনো কিছুতে আকর্ষণ খুঁজে পাই। যদি বন্ধু হিসেবে কাওকে পাই, তারা আমার প্রায় দ্বিগুন বয়সের। ছোট থেকেই আমি আমার রসায়নের শিক্ষক নিশীথ বাবুর কাছে থাকতে বেশি ভালোবাসতাম। মানুষটা শুধু সারাজীবন রহস্যের পিছনে ছুটে বেরিয়েছে। আমি তার জীবনের গল্প শুনে হারিয়ে যেতাম। আমার ইংরাজির শিক্ষক শনৎ বাবু আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। এই দুজন শিক্ষকই বৃদ্ধ তখন। একজন বেঁচে নেই, একজন অসুস্থ। আমার এইরকম জীবনের জন্য আমাকে অনেক খারাপ কথা শুনতে হয়েছে, এখনও হয়। আমার মা, পাপা, কিছু আত্মীয় আমার এই জীবন নিয়ে ব্যাঙ্গ করে কথা বলে। চিৎকার সহ্য করতে পারিনা, তাও চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই থাকতে হয়। চিৎকারের কারণ, আমি ঘরকুনো, কারোর সাথে মিশিনা, বন্ধু নেই তেমন আমার বয়সী, ওদের কোনো কাজে আসতে পারিনা হয়ত সেভাবে তাই। তবু মানিয়ে নিই। এই ঘরটা আমার খুব প্রিয়। এই ঘরে বসে আমি কত কবিতা লিখেছি, এই ঘরে বসে গবেষণার কাজ শুরু করেছিলাম, এই ঘরে বসে আমার কেরিয়ার একদম আমার পছন্দের জায়গাতে নিয়ে যেতে পেরেছি। আর কতক্ষণ! কুড়ি ঘণ্টাও হয়ত বাকি নেই। এই ঘর আর আমার থাকবে না। এই ঘরে আমি ইচ্ছামত বই আলিয়ে পড়তে পারবো না। এই ঘরে বসে আমি আর কবিতা লিখতে পারবো না। আর জানালা দিয়ে পুকুরটা দেখতে পাবো না। 

No comments:

Post a Comment