Saturday, 31 October 2015

তোরা কলঙ্কিত ধার্মিক।
সৌম্যজিত দত্ত।



নির্দ্বিধায় চলছে ব্লগার হত্যা,
প্রকাশক হত্যা।
কখনো চাপাতি ঘুরছে,
কখনো বন্দুকের তোপ।


সংসার
আগুনে পুড়ে ছারখার।


শোন হার্মাদের দল,
শোন চাপাতিধারী কুলাঙ্গার,
তোরা আর কত মারবি?
মারতে মারতে হাঁপিয়ে যাবি।
আমরা মুছে যাবোনা।
যে ধর্মের দোহাই দিয়ে তোরা মারছিস,
সেই ধর্মের শানিত অস্ত্র তোদের ধ্বংস করে দেবে।
যে মুক্তিকে তোরা রুখতে চাস,
সেই মুক্তি তোদের গলার ফাঁস হয়ে আটকাবে।
বুদ্ধি নামক তেজস্ক্রিয় হরমোন তোদের কোনদিনও ছিলনা,
তোরা সজাগ হতেও পারবিনা।

Friday, 30 October 2015


ভালবাসাতে মানবিকতা।
সৌম্যজিত দত্ত।

কি অদ্ভুত তোমরা!!
তোমরা আমাকে লিখতে প্রেরণা দিয়েছ,
আমাকে প্রতিবাদী আখ্যান দিয়েছ।
আমি যখন একেরপর এক মানবতাবাদী,
নারীবাদী লেখা লিখেছি,
তোমাদের সমর্থনের জোয়ারে আমাকে ভাসিয়ে দিয়েছে।
তোমরা আমাকে পরিচিতি দিয়েছ,
অবশ্যই সমাজে আমার প্রথম পরিচয় ঘটিয়েছে
বঙ্গ কন্যা তসলিমা নাসরিন।
তার ছোঁয়াতে প্রেরিত হয়ে আমার প্রতিবাদ শুরু।
প্রতিবাদ করেছি নির্লিপ্ত দৃষ্টিতে,
আমি কোনো অধার্মিক নই।
কিন্তু অমানবিকও নই।
আজ আমাকে অনেকে গালিগালাজও করছ,
ভালবাসা যখন দিয়েছ, গালাগালিও করতে পারো,
সমালোচনার মধ্যেও তো তোমরা সম্মান করেছ
আমার লেখাকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ে।
কিন্তু আত্মস্থ করতে পেরেছ কি?


আজ তোমরা আমার ও তসলিমা নাসরিনের
সম্পর্ককে কলঙ্কিত করেছ।
এই লজ্জা শুধু আমার বা তোমার
একার কারোর নয়।
এই লজ্জা জাতির।
এ আমাদের জাতীয় লজ্জা।
বঙ্গ কন্যা তসলিমা দিদিকে
আমি মাথায় রেখে পুজো করি,
সম্মান করি, যত্ন করি।


আজ তোমরা যা বলেছ,
তা শোনার পরও আমি তোমাদের
ভাই সম্বোধন করলাম।
বঙ্গকন্যাকে আর লাঞ্চিত কোরোনা।
ঝেড়ে ফেলো হিন্দু-মুসলিম জাতি বিদ্মেষ।
মানব মন্ত্র উচ্চারণে মুখরিত কর সমাজকে।
এটাইতো আমাদের জান্নাত, আমাদের স্বর্গ।

Thursday, 29 October 2015


প্রস্তুতি।
সৌম্যজিত দত্ত।


পাহাড় সমান সিলেবাস
থেসিস, প্র্যাকটিকাল, ভাইভা।
জীবন অতিষ্ট।
তবু হারব কেন?

তিরিশ টা দিন হাতে বাকি,
লড়াই চলবে শুধু মাথায়।
ডেটা স্ট্রাকচার ভর্তি এরে, লিংকলিস্ট, এলগরিদম।
কোথাও নেই কোনো মাপ।
অটোমাটাও  যায়না কিছু কম,
সময় তো আর একটা মাস।

দাবার গুটি সাজায় মনে,
রাজা আমার চিন্তা ঘোরে ,
মন্ত্রীকে দিল হাঁক।
বল মন্ত্রী উপায় কি তবে,
শত্রু আসছে ধেয়ে,
সময়তো সেই একটাই মাস।

মন্ত্রী গেল চিন্তায় পরে,
রাজার আদেশে উপায় সে খোঁজে,
চিন্তা ভাবনা বিস্তর গভির।
অবশেষে উপায় এলো বেরিয়ে।

হাসতে হাসতে মন্ত্রী আসে
রাজার দরবারে,
বলেন মন্ত্রী "রাজা মশাই ,
এতো বৃষ্টি কালীন সময়।
ঘোড়া ছুটবেনা খোলা মাঠেও,
শত্রুকে আসতে দিন ধেয়ে,
আমরা যাবো হাতির পিঠে চেপে।
সময় লাগুক, যেটুকু যাবো, সুস্থ থাকবো,
লড়াই হবে মজবুত।
বরং শত্রু আসুক ঘোড়ার পিঠে ধেয়ে।"
শুনে রাজা বেজায় খুশি,
"ঠিকিতো, অল্প সময়ের কাদার মধ্যে আস্তে আস্তে যাওয়াই উচিত,
তাতে লড়াইয়ের শক্তি সংরক্ষিত থাকবে।
মানুসিকতাও থাকবে সতেজ।"


এবার হবে স্ট্রাটেজি প্ল্যানিং,
ডাক পরলো সেনাপতির।
বিপক্ষের অস্ত্র, সেনা প্রচুর।
লড়াইতে তো টিকে থেকে লড়তে হবে।
সেনাপতি বললো রাজামশাই,
"আমরা লড়বো  u- আকারে।
অর্থাৎ, দুপাশ দিয়ে সৈন্যদল ছুটবে,
পেছনে প্রসারিত হবে হাতিবাহিনী।
ঠিক যেন  u-আকৃতি।
শত্রুদল কাছে আসতেই,
u এর বেরি ওদের ঘিরে
ধারন করবে  o-আকার।
শত্রুদল মাঝখানে পরে,
o -আকার সৈন্যের অস্ত্রাঘাতে পিষ্ঠ হবে। "


রাজামশাই বেজায় খুশি,
"ঠিকিতো, বিপক্ষ যদি হয় ঘেরাও,
লড়াই তবে লড়াই নয়, হবে ছেলে খেলা।
জিতব আমরা নিশ্চই।"

সিলেবাস যতই বড় হোক, বিশাল হোক,
একটা একটা করে স্টেপ নিয়ে আস্তে আস্তে পড়ব।
তাতে যেটুকু পথ এগোই, শক্ত ভাবে এগোবো।
হাতেতো আছে এখনো একটা মাস সময়।


ছোটো ও সোজা চ্যাপ্টার গুলো দুপাশ দিয়ে খেলবো,
আগে বাড়িয়ে দেবো,
অপেক্ষাকৃত বড় ও কঠিন গুলো সময় ধরে,
আস্তে আস্তে খেলব, যেন পিছনে প্রসারিত করে।
পরীক্ষা যখন হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে,
তখন  o- আকারে ঘিরে ফেলবো।
জিতব নিশ্চই।


সমাজ, কেমন আছো?
সৌম্যজিত দত্ত।


চারিদিকে ঘুরছে দালাল,
ঘুরছে খুনি, ঘুরছে মাতাল।

সমাজ বাঁচবে কোথায়?


সমাজ তো কাঁটাতারে ঘেরা,
খোলা আকাশের নিচে বর্গক্ষেত্র।
তারই মধ্যে আবার সেমিক্ষেত্র।
নানারকম শ্রেণী বিভেদ, লিঙ্গভেদ, জাতিভেদ
জায়গা করেছে সেসব সেমিক্ষেত্রে।

আমার সমাজ মুক্ত কোথায়?


বদ্ধ ঘরে ধুঁকছে প্রাণ,
ধুঁকছে শরীর, ধুঁকছে ঘ্রান,
অক্সিজেনও কলুষিত।
বাতাসে বাড়ছে ক্যাডমিয়াম,
সমাজেও হরেক দালাল।

মুক্তি তবে কোথায়?


মুক্তঘরে মুক্ত প্রাণ,
সেটাও আজ আর্টিফিশিয়াল।
ভরসা "গ্রীন হাউস।"

সমাজের ভরসা  কোথায়?



Wednesday, 28 October 2015

কিছুদিন আগে আমাকে দুজন অপরিচিত ভাই, এভাবে মেসেজ করেছে, আমি শুধু এটুকু বলবো, ভাই আমাকে বাজে কথা বলার জন্য, তোমরা কেন তোমাদের মুখের ভাষা খারাপ করছো? মুখের কথা একবার বাইরে বেরিয়ে গেলে আর ফেরত আসেনা। তোমরা আর কখনো কাউকে এ
ভাবে কথা বলোনা। তোমরা আমাকে মেসেজ করেই ব্লক করেছ, তাই আমি তোমাদের রিপ্লাই দিতে পারিনি বলে, এভাবে পোস্ট করলাম। ভালো থেকো, সবাইকে ভালোবেসো।



তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ।


তোমার লড়াই ছিল স্বাধীনতার,
স্বাধীনতা মুক্ত চিন্তার,
মানবতার।
ধর্মের নামে যে অরাজকতা তৈরী করেছিল সমাজ,-
তুমি চেয়েছিলে সেসবের মুখোশ খুলতে।
মুখোশের আড়ালে ছিল ভন্ড ধার্মিক, সরকারতন্ত্র,
তোমার জাগরণে আঁতে ঘা লেগেছিল তাদের,
চুপ করাতে চেয়েছিল ওরা সেই জেগে ওঠা মানুষটাকে।
একের পর এক প্রয়াস যখন তোমাকে দম বন্ধ করে,
চিন্তার মধ্যে ঢুকে বন্দী করতে চেয়েছে, তুমি থেমে যাওনি,
মাথা  নত করোনি তাদের সামনে,
মাথা নত করোনি সমাজ অবক্ষয়ের কথা ভেবে।
ওরা ভাবে তুমি ভন্ড, ওরা ভাবে তুমি ধর্ম বোঝো না,
ওরা ভাবে তুমি ধর্ম জানো না, ভাবে তুমি ধর্মে অশিক্ষিত।
ওরা এটা জানেনা, ধর্মের ভিতরে প্রবেশ না করলে,
অনুভব না করলে, ধর্মের নিকৃষ্ট আইনগুলো বোঝা যায়না।
আমি সমালোচনা করি তাদের যারা নিজেদের
ধার্মিক বলে অহংকার করে।
তবে কি তারা ধর্ম বোঝেনি?



কোন ধর্ম বলে, মানুষ হোক ধর্মের স্বার্থে?
ধর্ম গড়া হয়েছিল মানুষের স্বার্থে, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে।
তবে কেন আজ ধর্ম দালাল ধার্মিক গুলো মানুষ বিভেদ,
জাতিভেদ করে?
কেন আজও দুটো মানুষের প্রেমে ধর্ম বিভেদের লাঞ্চনা?
কেন আজও রাজস্থানে খাঁক মহাসভা হয়,
যেখানে মনুষত্ব নয়, ধর্মই শুধু বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি?




কোন ধর্ম বলে, ধর্ম না মানলে চাপাতি চলবে?
কোন ধর্ম বলে, সমাজে নারী পুরুষ বিভেদ করে সমাজকে পুরুষতান্ত্রিক কর?
ধর্ম কেন্দ্রিক দালাল গুলো নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখতে,
গোঁড়ামিকে অস্ত্র করেছে।



তসলিমা নাসরিন সেই দিকটা মানুষের সামনে তুলে ধরতেই,
তাদের ব্যবসাতে আঘাত লাগে,
ধর্ম ব্যবসায় আঘাত মানেই, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলতা,
যার ফল তসলিমা নাসরিন আজও নির্বাসিত।



এমন ঘটনা নতুন কি? এ তো শুধুই প্রথা।
সে যুগেও কোপারনিকাস, গ্যালিলিও বিজ্ঞানের ভাষায় কথা বলতেই,
ধর্মকেন্দ্রিক ধার্মিক গুলো চেঁচিয়ে উঠেছিল, মানুষও ধর্মের সাথে থেকে-
বিজ্ঞানকে আটকাতে চেয়েছিল।
সত্য আটকে থাকেনি। সত্যের পথ যুক্তিতে,
মুক্তিতে।
মুক্ত চিন্তাও আটকে থাকবেনা।



তসলিমা নাসরিন,
তুমি উঠবেই মাথা উঁচিয়ে,
তোমার চিন্তা মুক্ত পথে।
আমি আছি, আমরা আছি. বিশ্ব লড়াইতে তোমার সাথ দেব,
ভেঙে দেব মুক্তপথের পায়ের শেকল,
সৃষ্টি করব মানবতন্ত্র।

প্রতিবাদেই আমার রাজত্ব।
সৌম্যজিত দত্ত।


ভাঙ্গা গড়া সব আতিল লেখা,
সুর ও ছন্দে আমি করব কি শিকার?
গানের বাজনায় মনের মধ্যে গুনগুনিয়ে
লিখতে গেলাম লেখা,
যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেললাম।


আমি কি লিখতে জানতামনা?
ভালই  লিখছিলাম প্রতিবাদী সব লেখা,
তবে কেন এত সুর ও খোঁজ?


যেমন মানায়, তেমনি চলবো,
আমার জগত প্রতিবাদে,
গানের লাইন গুনগুনিয়ে
লাভ কিসের তবে?


সামনে বড় প্লাটফর্ম পরে,
তসলিমা দিদির জীবন,
কত খোঁজ বাকি আছে সেখানে,
সেসব নিয়েই লিখবো।


ওই দ্যাখো নারীরা কত কষ্টে,
লাঞ্চনা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে,
লিখতে হয়, তাদের নিয়ে লিখবো।
প্রতিবাদেই সুর মেলাবো।

আমিতেই প্রতিবাদ,
প্রতিবাদেই আমার রাজত্ব।

Tuesday, 27 October 2015

শুধু স্মৃতি।
সৌম্যজিত দত্ত।


সুরের কথা মিলিয়ে দেবো,
স্বপনে কন্ঠে সুর দেবো,
দেব মালাগাঁথা।


চারিদিকে দ্যাখো, নেই কোনো শব্দ,
নেই কোনো কোলাহল।
মনের চিন্তায় পাখির কিচিরমিচির,
সুরের ও শব্দের বন্দিযুগল।
তোমার নামেই আজও কেঁপে ওঠে কন্ঠ,
আমি গান শোনাতে চাই।


হারিয়ে যাওয়া লুকোচুরি,
দুটো প্রানের দেয়ানেয়া, কিছুই রবেনা।
মধুর হাসির প্রতি ক্ষণের,
যতই কর হিসাব নিকাশ,
কিছুই রবেনা।


কন্ঠে যে মোর গানের মেলা,
তোর হাসিতে আলোর জ্যোতি,
কিছুই রইলোনা।

তবু গান শোনাতে চাই..
কন্ঠ কেঁপে যায়..


কুতুমতাল।
সৌম্যজিত দত্ত।


খেইল্যার মতন খেইল্যা
তুর ফিছ্কি হাসিতে,
রাত দুপুরে তুর ঘরেতে মিলা বৈসিছে।
কাসুর বাজে, ঘন্টা বাজে,
দরজা দিয়া কড়া নাড়ে।

ওই শুন শুন শুন শুন
তুরা শুন মজা দিখনারে,
ঝিমলি নাচে, পদ্মা নাচে,
গরু-গুলান হাম্বা ডাকে।

ওই শুনরে তুরা  একবার আইসি
মজা দ্যিখ নারে,
রিঙ্কি হাসে, তবলার তালে,
দাদরা বাজে, সুরে সুরে।


Monday, 26 October 2015

Friday, 21 August 2015


স্বপ্নে বাঁধা গান। 

সৌম্যজিৎ।

অচেনা রাতের বিলাসিতা,
তোকে ছাড়া কোন ধৃষ্টতা?       
আগুনে পুড়ে আজ খানখান,
মনেতে তুই আর তুই প্রাণ ..
ফিরে আয় , ফিরে আয় ,
ফিরে আয়  ......

কাগজে খসখস পেনের খোঁচা,
তোকে ছাড়া বুকে শূন্যতা,
স্বপ্নেতে তুই আসিস বারেবারে,
সিঁদুরে লাল রঙে রাঙ্গা মাথা  ....
ফিরে আয়, ফিরে আয়  ....
তুই চলে আয়।

বালিশে মুখ গুজে বারেবারে,
ফুপিয়ে কান্নাতে কেঁপে ওঠা,
হারানো স্মৃতিগুলো খুঁজে বেড়ায় ,
তোকে নিয়ে বাঁধা স্বপ্নটা,
কাছে আয়, কাছে আয় ...
ফিরে আয়।
প্রকৃতিবিজ্ঞান ও মস্তিস্ক।
সৌম্যজিত দত্ত।


মস্তিস্কের জটর , কত কত সেল,
তার ভিতরে গ্রন্থিবদ্ধ থাকে স্নায়ু।
আমাদের মনের ভিতরেও হাজার রকম দরজা,
দরজার ভিতরে নানান ছক স্তরীভূত।
চেতন ও অবচেতনে সবই একপ্রকার খেলা।
তবে বুদ্ধির বাস কি সেই সেলে? নাকি  মনের দরজার ভিতরে?


সামনে যখন কোনো ছবি দেখি,
সেটা ক্যাপচার করে ব্রেন, আবদ্ধ হয় মস্তিস্কের সেলে।
আবার যখন অনেক সময় পর সেই একই ছবি দেখি,
তখন কোথাও যেন মনের দরজায় ধাক্কা খায়,
তারপর নিমেষে মস্তিস্ক সেল থেকে বেরিয়ে আসে তারই প্রতিচ্ছবি।


মস্তিস্ক চর্চা ও মনের চর্চা তো আন্তসম্পর্কযুক্ত।
একটা ছাড়া আরেকটার অস্তিত্ব প্রকৃতিগত ভাবে মেলেনা।
মন যখন কোনকিছুতে মনোনিবেশ করে,
সেটাতে চিন্তাভাবনার গভিরতা খোঁজে ব্রেন,
একের পর এক খোঁজাখুঁজি তোলপার করে,
সেটাকে জায়গা দেয় মস্তিস্কের সেল।
আবার সেখান থেকে প্রপোজাল আসে মনের দরজায়।
মন সেটাকে পারমিট করলে, তবেই তার বাস্তব রূপ প্রকাশ পায়।
প্রকৃতি বিজ্ঞানের এ হেন সৃষ্টি অতুলনীয়।
আমাদের কল্পনা বিজ্ঞানে যদি এমন কোনো সৃষ্টির খোঁজ মেলে,
তবেই সেদিন মানবজাতি প্রকৃতি তুল্য হতে পারে।
প্রকৃতির খেলা রাসায়নিক, আমরা খেলি প্রোগ্রামিং এ।


Sunday, 25 October 2015




অমৃতপুর প্লাটফর্ম।
সৌম্যজিত দত্ত।


লিখছিলাম অনেক জ্বালায়,
নারী কন্ঠ বুঝতে,
নারীর জীবনে পদে পদে
সব বাধা ঘোচাতে।


কখনো দুষেছি ভন্ড ধার্মিককে,
কখনো দুষেছি রাজনৈতিক মহল,
সমাজতন্ত্রের জীর্ণ দশা ভাঙ্গতে,
বয়েগেছি কবিতায়।
আমি জ্বেলেছি আলোর প্রদীপ।


এবার এলো সহযোগিতার হাত নিয়ে,
"অমৃতপুর" পত্রিকা।
হঠাৎ যেন আলোর ঝলকানি।
স্নেহসুলভ হাত নিয়ে শাশ্বতী ম্যাম এর ছোঁয়া।
কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠলো মন প্রাণ।


লড়াই ছিল স্থূল, সেটাকে চেয়েছিলাম বড় করতে,
দেশব্যাপী যুদ্ধ চাই, নারীকে অধিকার দিতে।
নারী, তুমি থাকবে তো আমার সাথে?

Friday, 23 October 2015

রাজনীতি ও পরম্পরা।
সৌম্যজিত দত্ত।


তোমরা খেলা করেছ সমাজ নিয়ে,
দাঙ্গা বাধিয়েছ, মারামারি করিয়েছ,
জাতির নামে উস্কানি দিয়ে
হিন্দু - মুসলিম ভাইয়ের ঐক্য নষ্ট করেছ। 
ভোগবিলাসী হতে চেয়েছ নিজ নিজ সংরক্ষনে 
গড়া জাতির ওপর। 
কর্তৃত্ব করেছ, রাজত্ব করেছ।
কখনো কি জাতির নামে দেশ কে সংগঠিত  করতে পেরেছ?


তোমাদের গড়া এই ভাঙা, ভন্ড  সমাজতন্ত্রে 
তোমাদের অভিশাপ বহাল রেখেছে তোমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রজন্মও।
জাতির নামে যে মিথ্যে কলঙ্কের সৃষ্টি তোমরা করেছিলে,
আজ যখন অন্য কেউ সেই কলঙ্ককে বীর দর্পে বজায় রাখতে চায়,
তখন তুমি প্রতিবাদ কর বিরোধী হয়ে। 
আসলে কেউ তোমরা দেশ চাওনা,
তোমরা শুধু  ক্ষমতা চাও নিজের জায়গা ধরে রাখতে।
তোমরা রাজনৈতিক অঙ্কটা ভালই জান।


বাকি রইল সমাজ, সাধারন মানুষ,
ওরা তোমাদের অঙ্ক বোঝেনা,
তোমরা যা দেখাও, ওরা খালি চোখে দেখে, বিশ্বাস করে। 
প্রতিবাদ আজ খুব সীমিত, 
সাধারনের প্রতিবাদ আজ আমাদের কলমে মাত্র,
বাকিরা ভাবে নতুন দল এসে তাদের সমস্যা মেটাবে,
মেটালে ভালো, না মেটালে  থাক পাঁচ বছর,
সময় ফুরোবে, আবার নাহয় অন্যকোনো রাজনৈতিক দল আসবে 
হাজারটা প্রতিশ্রুতি নিয়ে, আবার খেলবে পরম্পরা বজায় রাখতে,
তোমরা শুধু প্রতিবাদ কোরো নিজেদের জায়গা ফিরে পেতে।
প্রগতি যাক পাঁচটা বছর পিছিয়ে।


সজাগ হও মানুষ, এই দেশ আমাদের, সমাজ আমাদের,
আমরা মন্ত্রী কল্যানে সমাজ কেনো গড়ব?
সমাজ তো মানব কল্যানের ধারক।
সজাগ হও ভাই বোনেরা, 
নিজেদের অধিকার বুঝতে রাজনৈতিক দালাল নয়,
নিজেদের শিক্ষাকে হাতিয়ার কর,
বুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস কে তুলে ধর। 

পপি দিদি 

(জন্ম- ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ১৯৮৯। মৃত্যু- ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯)।

পপি দিদিকে নিয়ে লিখতে গেলে কোথা থেকে শুরু করবো বুঝতে পারছিনা। এখান থেকে শুরু করি, একজন মিষ্টভাষী গায়িকা, একজন মেধাবী ছাত্রী, মমতাময়ী দিদি, বুদ্ধিমতি কিন্তু স্বভাবে বোকা মেয়ে। 

আমার বয়স তখন ৪ বছর, ও তখন ৫। আমি করিমপুর থাকতাম, ও কলকাতার মেয়ে। আমার প্রথম কলকাতা আসা।  হঠাত আমাকে মাঝরাতে ঘুম থেকে তুলে কোলে করে বাসে উঠলো পাপা। আমি, মা, পাপা। গন্তব্য কলকাতা। কলকাতা পৌঁছলাম সকালবেলাই। মনে আছে, আমি আর ও ওদের জানালায় দাড়িয়ে রাস্তা চলতি মানুষদের সাথে কথা বলছিলাম, ও সেটা উপভোগ করছিলাম। কাওকে বলছিলাম, তোমাকে দেখতে শাহরুখ খানের মত, আবার কাওকে সালমান বলছিলাম, তারাও হাসাহাসি করছিল। আমাদের খুব মজা হচ্ছিল।

প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে পরীক্ষা শেষ হলে করিমপুর যেতো। আমি সারা বছর ধরে অপেক্ষা করতাম ওর। সময় বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দুজনের মধ্যে ভালোবাসাও বাড়তে থাকে। একসাথে বড় হয়ে ওঠা, একসাথে পড়াশোনা নিয়ে আলোচনা করা, আসতে আসতে নিজেদের অত্যন্ত গোপন ও ব্যক্তিগত ব্যাপার গুলো একে অপরের সাথে শেয়ার করে নেওয়া, সবটাই ছিল আমাদের মধ্যে। যেন আমার গোটা পৃথিবীটা জুড়ে শুধুই ও। 

আমি ওর থেকে ছোট ছিলাম, কিন্তু ১ ক্লাস উঁচুতে পড়তাম। তাই আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বের মাত্রাটা বেড়ে গেছিল। সাল ২০০২, আমার দাদু মারা যান, সেদিন সন্ধ্যায় উঠোনে বসে আমাকে নানারকম ভূতের গল্প শুনিয়েছিল, সেই প্রথম ভূতের গল্পের প্রতি আমার একটা আকর্ষণ তৈরী হয়, যা আজও যায়নি। এরপর শুরু হলো আমাদের দুজনের বড় হতে থাকা। আমি তখন মাধ্যমিক দিয়েছিলাম, জানতাম রেজাল্ট খারাপ হবে, তবু দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, সাইন্স নিয়েই পড়ব, পপি দিদিও আমাকে উত্সাহ দিতে শুরু করে, ব্যাস কলকাতায় এসে প্রথম ওর হাত ধরে কোনো অভিভাবক ছাড়াই কলেজ স্ট্রিট যাওয়া, নিজের পছন্দের মত করে অঙ্ক, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি বই কিনলাম। সেদিন আমি খুব খুশি ছিলাম। তারপর সন্ধ্যায় বাড়ির সবাই মিলে মিলেনিয়াম পার্কে ঘুরতে যাওয়া, বাচ্চা বলতে আমি, দিদি, বোন।  বাকি সবাই বড় মানুষ। সন্ধ্যার অন্ধকারে মিলেনিয়াম পার্কে কতকিছু হয়, সেটা নিশ্চয় তোমাদের বলতে হবেনা। আমাকে পপি দিদি হাত ধরে একটা গাছের আড়ালে নিয়ে গিয়ে আঙ্গুল দেখিয়ে বলে, ওই দ্যাখ শান্ত, ওরা কি করছে, আমি তাকিয়ে অবাক, দেখি গাছের আড়ালে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে চুমু খাচ্ছে , আমি খুব লজ্জা পেয়েগেলাম। তারপর আরো ভেতরে গিয়ে দেখি, অজস্র ছেলে মেয়ে ওই চুমু খাওয়াখায়ী করছে। বেশ মজা লাগছিল দেখতে, যতই হোক, উঠতি বয়স তখন।
বাড়ি ফেরার সময় ওকে কথা দিয়ে গেলাম, আমি কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে কলকাতাতে পড়তে আসবো।  ও আমাকে টাটা করে দিল, আমি মন খারাপ করে চলে গেলাম।

আমি যখন প্রেমে পরি, তখন আমার অবস্থা খুব খারাপ ছিল, মেয়েটা (পায়েল) খুব জ্বালিয়েছে আমাকে, আমি মেয়েটার প্রেমে পরার আগে মেয়েটা আমার প্রেমে পরে, কিন্তু ওই সময় আরো একটা মেয়ে আমার প্রেমে পরেছিল, আর সে তার বন্ধুদের বলেছিল যে মেয়েটা আমাকে ভালবাসে। সেখানে পায়েল কনফিউসড হয়েযায়, ও আমাকে সে নিজের মনের কথা না বলে লুকিয়ে রাখে। এদিকে আমিও পায়েল এর প্রেমে পরেগেছি তখন, আর যখন দেখছি পায়েল আমাকে এড়িয়ে চলছে, যেটা ও ইচ্ছা করে করেছিল, তখন খুব ভেঙ্গে পরি, যদিও আমি একমাত্র আমার দিদিকেই কথাগুলো বলেছিলাম। টানা প্রায় ৪ বছরের কাছাকাছি এমন লুকোচুরি চলেছিল আমাদের মধ্যে। আমার রেজাল্ট তখন যাচ্ছেতাই ভাবে খারাপ হচ্ছিল। কিন্তু পপি দিদি সবসময় আমার পাশে থেকে আমাকে বোঝাত। তারপর যে মেয়েটার জন্য পায়েল নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিল আমার থেকে, সেই মেয়েটা ভালবাসা, ধৈর্য আর অপেক্ষার যুদ্ধে হেরে যায়, পিছনে সরতে থাকে। অতদিন লড়াই করার পর, যেদিন পায়েল আমাকে প্রথম প্রপোজ করেছিল, সেদিন পপি দিদি করিমপুরে ছিল, আমি সেই আনন্দেই মেতে ছিলাম, তাই পায়েল এর প্রপোজাল ঠিক মত বুঝতে পারিনি, কিন্তু আমার বোঝা উচিত ছিল, কারণ অতগুলো বছর ধরে আমি আর পায়েল ওই দিনটার অপেক্ষা করছিলাম। যাইহোক, আমি পায়েল কে কোনো উত্তর না দিয়েই চলে আসি। পপি দিদিকে খুলে বলি, কিন্তু যেখানে আমার দিদি আছে, সেখানে আর কোনো আনন্দই আমার কাছে কিছুনা, আমি পপি দিদির সাথেই মেতে থাকি, পায়েল কে এড়িয়ে গিয়ে। তারপর যেদিন পপি দিদি চলে আসলো করিমপুর থেকে, সেদিন আমার খুব মন খারাপ হয়েগেল, আমি ফিজিক্স এর টিউশন পড়তে গেছিলাম, জোরে বৃষ্টি পড়ছিল, আমার পড়া শেষ হতেই আমি সাইকেল নিয়ে ভিজতে ভিজতে পায়েল এর পড়ার জায়গায় চলে যাই, পায়েল আমাকে একবার দ্যাখার জন্য প্রতিদিন ওখানে অপেক্ষা করত, অনেক্ষণ অক্লান্তিতে দাড়িয়ে থাকত। আমি ভিজতে ভিজতে সেখানে গিয়ে রাস্তার ওপর দাড়িয়ে ওকে হাতের ইশারায় ডাকি, ও আসলে বলি, আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, পায়েল আমার চোখ দেখে বুঝেগেছিল, আমি পপি দিদিকে মিস করছি, আমার কষ্ট হচ্ছে। আমাকে বলে আজ বিকেলে আমরা একসাথে দ্যাখা করবো, আমি ওকে জিজ্ঞাসা করি, "তুই, সেদিন আমাকে যেটা বলেছিলিস, সেটা কি সত্যি?"। ও একটু মিষ্টি করে হাসে, বলে বিকেলে আসিস। আমি বললাম, আচ্ছা, আসবো, তারপর আমি চলেযাই। সেদিন বিকেলে আমি ওর সাথে দ্যাখা করেছিলাম, একসাথে আমার শৈশব, কিশোর, ও যুব বয়সটা পায়েল এর সাথে কাটিয়ে দিই।

পপি দিদি পায়েল কে খুব পছন্দ করতো। ওরা বন্ধুর মত হয়েগেছিল, আমাকে যখন ঘর বন্দী করে রাখা হয়, তখন পায়েল আমাকে দ্যাখার জন্য পাগলের মত হয়েগেছিলো, আমিও পাগলের মত হয়েগেছিলাম। পপি দিদি পায়েল এর কাছে আমার মেসেজ নিয়ে যায়, "ওকে বলে ধৈর্য রাখতে, বলেছিল, আমার ভাইয়াকে দেখেরেখো, ওকে তোমার হাতে দিয়েগেলাম।" আমাকে এসে বলে পায়েল তোকে খুব মিস করছে, ও তোকে খুব ভালোবাসে।

তারপর আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলকাতাতে চলে আসলাম, ইংলিশ অনার্স নিয়ে ভর্তি হলাম, আমি খুব খুশি ছিলাম, সবসময় পপি দিদিকে কাছে পেতাম, কিন্তু আমার এই কাছে আসাটা ওকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে, আমি কখনো ভাবতে পারিনি। ও প্রেম করা শুরু করলো, আর সেখানে আমার সক্রিয় ভুমিকা ছিল, আমি ক্রিকেট প্রেমী ছিলাম, ছেলেটা আমার মাথাতে ক্রিকেট এর ভূত ঢুকিয়ে নিজের দলে করে নিয়েছিলো। তারপর ওদের প্রেম বাড়তে থাকে। একটা সময় পায়েল কোনো কারণে আমার ওপর রেগেছিল, আমি ওর রাগ ভাঙ্গাতে করিমপুর চলে যায় , পপি দিদির যাওয়ার কথা ছিল আমার সাথে। আমি ওকে না নিয়েই তারাতারি করে চলে যাই।  গিয়ে পায়েলর হাত দুটো ধরে ওর রাগ ভাঙিয়ে ছিলাম, কিন্তু তারপরের দিন বিশ্বকর্মা পুজোতে শুনতে পাই, আমার দিদির এক্সিডেন্ট হয়েছে, মরে গেছে ও।  সেদিন আমি খুব অন্ধকার দেখছিলাম। প্রেমিকার রাগ ভাঙ্গাতে গিয়ে দিদিকে মেরে ফেললাম? ও কিভাবে মরেছে, কি কি  হয়েছিলো, সেসব অন্য আরেকদিন লিখব। আজ আর লিখতে ভালোলাগছেনা।

Thursday, 22 October 2015

ধর্ম ও দালাল।
সৌম্যজিত দত্ত।


কারাগারে বন্দী মানুষ,
বাইরে ঘোরে মূর্তি দালাল।


হিন্দু - মুসলিম - খ্রিস্টান - জৈন - বৌদ্ধ
নানা রূপে কত মহান
একের পর এক ধর্ম গড়েছে, বিভেদ করেছে  মানুষ,
ধর্মের দেওয়ালে পোক্ত  কারাগারে
মনুষত্বের শাস্তি যাবজ্জীবন।


যিশু, মোহাম্মদ, বুদ্ধ, মহাবীর, চৈতন্য
ধর্ম প্রবর্তন করেছিলেন মানুষের স্বার্থে,
ইশ্বর চেতনা ফেরাতে।
মানুষের মধ্যেই ইশ্বর  খুঁজে পেতে।
ধর্মের কথা , সকল ধর্মই এক ও মানুষ সত্য।
তবে আজ কেন ধর্মের কারণে মানুষ
হারাল মনুষত্ব?


ধর্ম বলে প্রেম ও দয়া হল স্বর্গের শিড়ি,
মনুষত্বই মূল্যবোধ।
আজ মূল্য ধার্য হয় কাগজের টাকায়।
তবে মনুষত্ব নয়, টাকায় হল স্বর্গের পাসপোর্ট।


ধর্ম বলে কর্ম কর,
ধর্ম দালাল বিধান দেয় যজ্ঞ কর,
দক্ষিনা দাও।
ধর্ম তবে কি?
ব্যবসা!!??  না কর্তব্য?
ওরা জানে লোভ, মোহো যতদিন আছে,
ধর্মব্যবসাও টিকে আছে।


চল, ধর্মের শেকল ছিঁড়ে ফেলি,
ভেঙেফেলি কারাগার,
লোভ, মোহমুক্ত হয়ে,
মুক্ত করি মনুষত্ব।
মুক্তমনই আসল, ধর্ম
আমাদের মনুষত্ব।





আমি শুধু এটুকু বলবো, এই লেখা গুলোর দ্বারা  আমি কারোর ব্যক্তিগত  অনুভুতি কে লক্ষ্য করতে চাইছিনা। আমি শুধু মানুষের অধিকার, বাক  স্বাধীনতা, তাদের মূল্যবোধের শিক্ষার পক্ষে কথা বলতে চাইছি। তোমরা আমার সাথে এসো, সবাই একজোট হয়ে প্রশ্ন করি, বিচক্ষনতা ও নিজেদের লেখা দিয়ে প্রতিবাদ গড়ি। সমাজ মূলস্রোতে ফিরবেই। 

                                                                                                 সৌম্যজিত দত্ত। 

Wednesday, 21 October 2015

অধিকার কিসের ?
সৌম্যজিৎ।



Right to fight, Right to live,
দিনে রাতে সংঘর্ষ।
বাচ্চাকে খাওয়াতে  বা স্ত্রীর লজ্জাবস্ত্র জোগাতে সংঘর্ষ,
চলতে  থাকে সংঘর্ষ।


আবার সংগ্রামী জীবন এমনও হয়,
যেখানে চলতে থাকে অবিরাম
" সাত্তা " সংঘর্ষ।
জটিল থেকে  জটিলতর বুদ্ধি সংগঠিত হয়
সহজ সরল মাথা গুলোকে সম্মোহিত করতে,
লক্ষ্য শুধু আগামী পাঁচ বছর।
লড়াইতে চলে বাজেট, "সাত্তা "  প্রতিযোগিতা,
ক্ষমতা ধারী খোঁজে হুকুমের এক্কা
যে চলবে মানুষের বিশ্বাসের খেলায়,
তৈরি হবে নতুন জোট,
উড়বে হাজার কোটি টাকা।
শিল্পপতিরা মদত দেবে, ব্যালান্স দেবে
গড়গড়িয়ে শিল্প গড়তে,
মন্ত্রীরা মদ ঢালবে, টাকা ওড়াবে,
আবার ক্ষমতায় আসতে।


বিরোধীরা জোট খুঁজবে, চাঁদা তুলবে,
সহানুভুতি ভোট চাইবে,
ক্ষমতার ছোট ছোট ভুলেও
বনধ হাঁকবে, মোর্চা গড়বে।
দাঙ্গা - মারামারি - কাটাকাটি করবে,
মানুষের মনে নতুন হিংসার আগুন জ্বেলে দেবে।
নতুন করে বিশ্বাসের ছিনিবিনি।
একটু বড় বিরোধীগোষ্ঠী হতেই তলায় তলায় যোগ হবে
ক্ষমতাগষ্ঠির সাথে,
এভাবেই হবে নতুন শক্তি, নতুন রূপ,
তবু রাজনীতি পরম্পরা একইভাবে বাঁচবে।


মানুষের মন বড্ড  লোভী,
বাঁচতে  চায়  শর্টকাটে।
ঘরে এসে কেউ লোভ দেখালে,
সে হয়ে ওঠে আলাদীনের প্রদীপ।
নতুন স্বপ্নে ভাসতে ভাসতে
চিন্তাশক্তি বিসর্জন দিয়ে,
মেতে ওঠে প্ররোচনায়।
সবাইতো সুখি হতে চায়।

চলতে থাকে এমন ধারা,
যুগ যুগ ধরে,
কে দোষী, কে পাপী করে কি লাভ?
মানুষ তো গা সওয়া।

অধিকার লড়াইয়ের?
না, লড়াই অধিকারের?

Tuesday, 20 October 2015

চিন্তা যতই বৃহৎ হোক,
সচেতন - অবচেতনে চিন্তা সর্বদা গতিশীল।
যতই ভারি ভারি ও গম্ভীর চিন্তা পোষণ করিনা কেন,
সময়ান্তরে মনেহয় আরেকটু অন্যভাবে বিচার ও তুলেধরা উচিত ছিলো।


Monday, 19 October 2015

কালোবাজারে নষ্ট "মা।"
সৌম্যজিৎ দত্ত।

চারিদিকে অন্ধকার, কালো রাজ্যের বাহারি,
চরস, গাঁজা, পাউডার উড়ছে হাওয়ায়,
নাচছে মানুষ পশু চিত্তে।


শহর নাচছে টাকার কাগজে,
লাল, কালো পানীয় গ্লাসে গ্লাসে।
ফুটপাতে বাচ্চা কোকিয়ে উঠছে খিদেতে,
মায়েরা ছুটছে শরীর বিলোতে।


লকলকিয়ে পুরুষ গুলো,
হিসাব কষছে পেটি পেটি খোকা,
দুপুর রাতে মহাজনের ঘরে বাজার ধরে,
মহাজন খদ্দের ধরতে মদ, মেয়ের দাম কষে।


পশুগুলো বন্ধ ঘরে মেয়েগুলোকে ছিঁড়ে খায়,
কাপড় খুলে হায়না - নেকড়ের মত জাপটে ধরে,
শরীর ছিন্ন ভিন্ন করে, পান চেবাতে চেবাতে -
জামার বোতাম আটকায়, 
তৃপ্তি মুখে দরজা খুলে বেরিয়ে আসে।


মেয়েগুলো আবার নুতন সঙ্গী ধরে,
দিন - রাত শরীর খাটিয়ে, টাকা দিয়ে খাবার কেনে,
সন্তান বড় করে, 
সেই টাকাতেও ভাগ বসায়
স্বামী নামক পুরুষ যন্ত্রগুলো।
ওদেরও  তো মদের যোগান চায়।

সমাজ চলছে এমনই নিয়মে,
নষ্ট করছে নারী দেহ,
কে বলে তোমায় বেশ্যা - পতিতা?
কারা দায়ী?
তুমি যদি বুক ফুলিয়ে এমন পথে চলো,
তবু মা তুমি সৎ,
সেসব পুরুষগুলো কালোবাজারী ব্যবসা চালায়,
তুমি তো নিজের দেহ খাটাও।
বেশ্যা, তুমি অপবিত্র নও। 
সৌম্যজিত দত্ত।

বেশ্যা, তুমি কেমন আছ?
বেশ্যা, তোমাই মা বলতে পারি?
কত রকমের কত মানুষ তোমাই ভোগ করে,
তোমার শরীর কে শুষে খায়,
কেউ কি তোমার ভিতরের কথা জানতে চায়?

রাতের অন্ধকারে চোখ লাল করে যখন 
একটার পর একটা মাতাল তোমার দরজায় হাঁক দেয়,
নিজেদের উত্তপ্ত যৌন খিদে নিয়ে তোমার দরজায় হাজিরা দেয়,
তখন কেউ তোমার শরীরের, মনের খোঁজ নেয়?
ওরা পুরুষ শরীরে থাকা পশু,
ওদের মধ্যে কেউ পুরুষ নেই। 
পুরুষ শরীরে মনুষত্ব থাকলে, তবেই সে পুরুষ হয়। 


বেশ্যা মা, তুমি আজ খেয়েছ?
আচ্ছা, তুমি এখানে আসলে কিভাবে?
মানুষ তোমাকে গালাগালি দেয়, অসম্মান করে,
কিন্তু ওরা  ভুলে যায়, যে দেবীকে ওরা দূর্গা মা রূপে পুজো করে, 
তার গঠন তোমার আঙিনায়, 
তুমি ছাড়া তার গঠন অসম্পূর্ণ।

আমি তোমাই মা বললাম, 
অন্তত একটা পুরুষ তোমাই পতিতা না ভেবে,
মা রূপে দেখুক।

Sunday, 18 October 2015

সরকার ও মানবিকতা।
সৌম্যজিৎ।



সরকার তোমায় গায়ের রক্ত দিয়েছি,
তিল তিল  করে গড়েছি, তুলেছি,
এত বছরের অপশাসন দূর করেছি,
ভেবেছি হিল্লে হবে সমাজের।


সরকার তোমাকে দেবিতুল্য সম্মান দিই, 
অযৌক্তিকতার মধ্যেও হাজারটা যুক্তি খাড়া করি তোমায় জেতাতে,
সরকার তোমার জয় আমারও তো জয়, আমাদের জয়। 



বুঝতাম সরকার হল মানুষ, সরকারতন্ত্র মানুষতন্ত্র। 
কিন্তু কোথায় মানুষ? যেখানেই চোখ যায়, সেখানেই দেখি সরকারি দালাল,
মানুষ শরীরে পাইপ ঢুকিয়ে রক্ত টানছে।


নারী জাতিকে ধর্ষণ করছে বিকৃতকারী,
ধর্ষণ কি শুধু শরীরে?
শরীর তো দুদিনে সেরে উঠবে,
মানসিকভাবে ধর্ষিতা থেকে যাবে তোমার সমাজের আড়ালে।
ধর্ষকের কোনো শাস্তি নেই, ধর্ষণ করেই বেকুসুর খালাস!


সরকার, তুমি ক্লাব গড়ো, মন্দির গড়ো,
মসজিদ, চার্চ, স্কুল, কলেজ সব গড়ো।
আদর্শ গড়ো না কেন?
ওসব তো ইট পাথরের বাড়ি,
ওতে জীবন কোথায়?
জীবন গড়ে মানুষ দিয়ে,
সততা, ভালবাসা, আদর্শ দিয়ে।



সরকারি চাকরি জানি প্রগতির বাহক,
কিন্তু সরকারে চাকরি কোথায়?
হাজার হাজার মানুষ যদি বেকার ঘোরে,
সরকার মুখ লুকোবে কোথায়?


হিন্দু-মুসলিম ঐক্য গড়ো,
সংখ্যা লঘু ও সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোট পকেটে ভরো,
তবে মানুষ গড়ো না কেন?
মানুষ গড়তে আদর্শ চায়,
সুশিক্ষা চায়, মুক্তমন চায়। 
তবে মুক্তমন কে ছেঁটে  দিলে কেন?



ধর্ম - বিজ্ঞানের লড়াই তো চিরকালের,
সেই কোপারনিকাস, গ্যালিলিও, পাদ্রি থেকে,
ইতিহাস সাক্ষী ঠিক ও ভুলের,
যা আজ প্রমানিত।
তবে কেন ধর্মের গোঁড়ামি প্রশ্রয় পায় এখনও!
কোন মানবিক আইনে তসলিমা নাসরিন আজও  নির্বাসিত?
কোথায় গেলো ডেমোক্রেসি?
কোথায় ফ্রি-টকিং রাইট?
কোথায় হিউম্যানিটি?
দোহাই দেখাও ডোমেস্টিক ভায়োলেন্সের, আর -
তার আড়ালে চলে ভোট ভবিষ্যত!
লুটে যাক  মানবতা,
লুটে যাক লেখক,
লুটে যাক সত্যের পরিচয়।
চেয়ার বাঁচলেই মওকা মাত। 


তবু আমি তোমায় সাপোর্ট করি,
দেবী তুল্যে সম্মান করি,
স্বপ্ন দেখি বাঁচার,-
মানবিক সমাজের,
সত্যের পরিচয়ের।
তবু জানি তুমি নারী, নারী কষ্ট তুমি বুঝবে,
নারী স্নেহে মানব মন্ত্র দীক্ষা নেবে,
বঙ্গ কন্যা তসলিমাকে ফিরিয়ে আনবে।


চলো সরকার, ভালোকিছু করি, 
ভালবাসা ও সত্যের মার্গ প্রদর্শন করি।


***প্রকাশিত - ২৮/১২/২০১৫, অমৃতপুর পত্রিকা।

Saturday, 17 October 2015


আহ্বান।
সৌম্যজিত দত্ত।


ব্লগার তুমি ব্লগার বটে,
তোমার অস্ত্র যুক্তি,
চারিদিকে ঠাঁটে বাটে 
তরবারি আর চাপাতি।

ওই দ্যাখো তসলিমাকে,
বাইশ বছর নির্বাসিত,
ধর্মের দোহাই দিয়ে অধার্মিক গুলো,
ছুঁড়েছে ক্ষেপনাস্ত্র।

কি হয়েছে? কচু হয়েছে।
তোমাদেরকেই বাঁশ দিয়েছে তসলিমা নাসরিন।

এবার দ্যাখো একে একে ব্লগার হত্যা,
অভিজিত, নিলয়, ওয়াশিকুর, অনন্ত।
যেন অসুরের রক্ত।
একটা শেষ হতেই আরেক জন হয়,
তাদের নেই কোনো অন্ত।

ওরে, এবার থাম। 
মারতে মারতে বি.পি. বেড়ে যাবে।


বড্ড মায়া হয়, ইতু'রে দেখে,
এইতো ফুটফুটে একটা মেয়ে,
তোরা ওর পেছনেও এলি তেড়ে!!

"ইনশাল্লাহ, এই মাসেই ..."

ওরে দ্যাখ মেয়েটাকে,
 তোরা যাকে মারতে চাস,
শেষ করে দিতে চাস,
ও তোদের কিভাবে ভালোবাসে!!
জানে, দেশে আশ্রয় নেই, সুরক্ষা নেই,
তবু, সুরক্ষাকবজে আবিষ্ট থেকেও,
ভোলেনি সোনার বাংলাকে।
ফিরে পেতে চায় দেশের মাটি, বাতাসের গন্ধ,
ফিরে পেতে চায় আপনজনদের।
আর তোরা অমানবিক যন্ত্র, 
শান দিস তোদের চাপাতিতে।

আয় না , চল মানবতা গড়ি। 
আস্তিক-নাস্তিক বিচার না করে,
মানুষ সমাজ গড়ি।  

চল ভুলে যাই, রাজনীতি - গোড়ামি - মারামারি - কাটাকাটি,
ভালোবেসে ভালবাসায় মানব ধর্ম রচি। 

Friday, 16 October 2015

নারী, তোমায় সেলাম।
সৌম্যজিত দত্ত।


প্রত্যাশা আমার তোমায় ঘিরে,
তুমি ঘোরতর নারীবাদী।
সূর্য তেজে তেজস্বিনী তুমি,
অন্ধকারে আলোক জ্যোতি।

তোমার চোখে বীরাঙ্গনা,
তুমি নারী যোদ্ধা,
চোখের পলকে স্নেহ তোমার,
তুমি নারী শীর্ষা।


তোমার নারীরূপ, শতকোটি সেলাম তোমায়,
প্রেমিকা রূপে ভালবাসার ফুল,
সবার চোখে তেজিয়ান, তুমি আমার অন্তরাত্মা।

বিশ্বজুড়ে লড়াই বিলাও, ছেলেদের করো পৃষ্ঠ,
আমিও তো ছেলে, তবে আমাই কেনো স্নেহ?

জানি, লুকিয়ে আছে তোমার প্রেম,
লুকিয়েছো তুমি,
তোমার না বলা কথাও বলেদেয় আমাই,
"তোমায় ভালবাসি। "
বাসি রে, আমিও ভালবাসি।
গত ৩ দিনে দ্বিতীয়বারের মত নীল (নীল অপরাজিতা ) এর একাউন্ট রিপোর্ট করে ব্লক করা হয়েছে। এই রিপোর্টার ও ব্লকার দের কোনো কাজ নেই? কতজন কত ফেক প্রোফাইল খুলে অরাজকতা চালাচ্ছে, তাদের কেউ কিছু বলছেনা, অথছ কোনো মহিলা প্রতিবাদী লেখা লিখলে তাদের সরাসরি ব্লক করো, এটা কেমন ধরনের বিচার? জুকারবার্গ কি এলগরিদম এ এমন কোনো লজিক ইনপুট করেছিলেন, যে প্রতিবাদী মহিলা দের লেখা দেখলে সেগুলোর গুণমান বিচার না করে ডাইরেক্ট রিপোর্ট করে ব্লক করো ? কাকে বলবো? কাকে দোষ দেবো?

Thursday, 15 October 2015

বিরহ।
সৌম্যজিত দত্ত।

আজি দুঃখ মেলাই হৃদয় মম,
তব ছুটিছে প্রাণ,
ক্লান্ত মন, ক্লান্ত শির,
ললাট জর্জরিত ক্লেশে।

ভালবাসার আগুন পুড়াইছে প্রাণ,
পুড়াইছে এ দেহ,
তবু ভালবাসার লালসা অফুরান।

মৃত্যু ব্যথা সওয়া কত সোজা,
তবু ভালোবাসাহীন নাহি বাঁচিবে এ প্রাণ।
মরি তবু ভালো, বাঁচিব কেমনে, ওগো,
ভালোবাসাহীন প্রাণ।

Wednesday, 14 October 2015

প্রশ্ন??
সৌম্যজিত দত্ত।

ক্ষত বিক্ষত মন, রক্তাক্ত বেদনা,
আমি আহত।
না জানি, এতো কিসের কষ্ট?
তোমার শুধু ভালোলাগাটাই অনেক,
তবু কেন এ মন তৃপ্ত নয়?
ভালবাসা চায়?
সেতো মানুষে মানুষে ভালবাসা আছেই,
তবে এ কেমন ভালবাসা পেতে চাইছে?

না, আমি তো শুধু শরীরের ভালবাসা চাইনি কখনো,
শরীর-মন এর পাগল করা ভালবাসা চাই।
ভালবাসা চাই একে অপরকে ছেড়ে না থাকার,
ভালবাসা চাই আঁকড়ে ধরে রাখার,
ভালবাসা চাই বিশ্বাসের, ভরসার।
আমি ভালবাসতে চাই, ভালবাসা পেতে চাই।


Sunday, 11 October 2015

নীলিমার ছোঁয়া।
সৌম্যাজিৎ।


রাজকীয় ডাক - তোমার চাওয়াতে,
আমি গাইলাম গান,
কতদিনে এটা, হয়ত প্রথম,
শুনতে চাইলে তুমি।

'পুরানো সেই দিনের কথা ' ছুঁয়ে দিল প্রাণ,
আমি ধন্য।


জানো কি তুমি, জানিনা আমি,
কেনো উতল করে প্রাণ?
এলোকেশী রূপ ধরে আসলে,
উতল হাওয়াই মাতাল করে দিলে,
আমি মুগ্ধ।
আমি মুগ্ধ ...

তোমাকে নিয়ে আমি তিনটে কবিতা লিখেছিলাম, এটা প্রথম কবিতা ছিল। এক বছর আগে লেখা। শুভ জন্মদিন নীল। ভালো থেকো, খুশি থেকো। 

Saturday, 10 October 2015

প্রকৃতি কেবল তার প্রতি স্নেহশীল হবে, যে নিজের দৃঢ় মানসিকতা ধরে রাখতে সক্ষম, যে নিজের দৃঢ়তা হারাবে, সে নিজেই হারিয়ে যাবে।

Monday, 5 October 2015

মানবতাবাদের পক্ষে চিন্তাভাবনা, লেখালেখি ও কাজ করতে গিয়ে যতটা সোজা ভেবেছিলাম, দেখলাম, সমাজতন্ত্র ততটা সোজা ভাবে তৈরী হয়নি, হাজার হাজার বছর ধরে এই সমাজ একটা নিয়ম থেকে আরেকটা নিয়ম, সেখান থেকে আরেকটা নিয়ম, ও একধিক নিয়মের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, হয়ত প্রতিটা নিয়মের শুরু  হয়েছে মানবতার পক্ষে, কিন্তু আসতে আসতে সেগুলো চলে গেছে সমাজের কিছু সুবিধাভোগী মানুষজনের হাতে। আর এভাবেই সমাজের মধ্যে ঢুকে গেছে অরাজকতা। কিন্তু আমি যেখানে স্বতন্ত্র ও মুক্ত চিন্তক, আমি কেনো পিছনে সরে আসবো নিজের আদর্শ থেকে? যদি কিছু সুবিধাভোগী মানুষজন নিজেদের স্বার্থে আমার কাজে বাধা হয়ে দাড়ায়, তবে দাড়াক। আমি আমার জায়গা থেকে ১ ইঞ্চি সরে যাবোনা। আমি যেভাবে আমার কাজ শুরু করেছি, সেভাবেই চালিয়ে যাবো।

Sunday, 4 October 2015

আমার ভাই ও বোনেরা, তোমরা দেশটাকে রাজ্য, জেলা তে বিভক্ত করে নিজেদের সেখানকার ছেলে মেয়ে না বলে, নিজের দেশের নাম করে মনে মনে ভাবো ও বলো, আমি ভারতবাসী, আমি ভারতীয়। শুধু এটুকু কথা তোমাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ এর চেতনা জাগিয়ে তুলবে, ও চিন্তা ভাবনা কে আরো পবিত্র করে তুলবে।

ভারতের বাইরে অন্যান্য দেশের ছেলে মেয়েদের কাছেও আমার একই অনুরোধ, যেমন বাংলাদেশ থেকে তোমরা ভাবো আমি বাংলাদেশী। এতে  তোমাদের জাতীয় চেতনা মুক্তি পাবে। 

নিজের দেশকে যেভাবে মাতৃতুল্য সম্মান জানাও, তেমন ভাবে বাকি দেশ গুলোকেও সম্মান জানাও আমার ভাই ও বোনেরা, ওটাই প্রকৃত দেশভক্তি। দেশ শুধু জল, বাতাস, মাটি নয়।  মানুষ দিয়ে একটা দেশ তৈরী হয়, মানুষকে ভালোবাসো, স্নেহ করো নিজের ভাই, বোন ভেবে। তাহলেই একটা সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে, মানবিক সমাজ।
ভালবাসা , প্রেমে এমন কিছু হয়, যা অতি কট্টরপন্থীতেও সম্ভব হয়না। আমার ভাই ও বোনেরা তোমরা এই পুরো স্বমাজে প্রেম, ভালবাসা তে ভরিয়ে দাও, মানবিক হয়ে ওঠো। যারা ভুল করছে, বা করে,  সহানুভুতির সাথে বারবার বোঝাও, ভালোবেসে বোঝাও। স্বমাজের প্রতি এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। একটা কথা আমি বারবার বলি, দেশ ও জাতীয়তাবাদ কে সম্মান করে সত্যির রাস্তায় চল তোমরা। নিজেদের শরীর ও মনে সূর্য শক্তিকে আহ্বান করো, মনের মধ্যে সৎ চিন্তা পোষণ করো, সবাইকে ভালোবাসো, মুখের ভাষা থেকে বাক্শক্তি তৈরি হয়, তাই মুখ দিয়ে কখনো খারাপ ভাষা উচ্চারণ কোরোনা, সত্যি, সততা ও সোজা পথ কখনো ত্যাগ কোরোনা, দেখবে কয়েকদিনের অভ্যাসে মানসিকতার আমূল পরিবর্তন ঘটছে।