Thursday, 30 June 2016

অকালে আমি যেতে আসিনি,
আমি এসেছি লড়াই করতে,
আমি এসেছি অধিকারের লড়াই ছিনিয়ে নিতে,
মৃত্যু আমাকে মারতে পারবে না।

মৃত্যুর অত সাধ্য নাই যে আমার ওপর ছড়ি ঘোরাবে,
মৃত্যুকে আমি জ্বালিয়ে দেবো, পুড়িয়ে দেবো আগুনে,
সত্যের আগুন স্পর্শ আমি সাথে বয়ে নিয়ে আসছি,
অগ্নিকন্যাকে আমি ফিরিয়ে দেবো মর্যাদা।
ওই নচ্ছার রাজনীতি আমাকে আটকাতে পারবে না।

ওই শোন মূর্খ হার্মাদের দল, তোরা কেড়ে নিয়েছিস লেখকের স্বাধীনতা,
তোরা আটকেছিস সত্যের পথে চলা অগ্নিউৎস তসলিমা নাসরিনকে।
তোরা আটকাতে পেরেছিলিস কারণ তখন তাকে সাথ দেওয়ার মত
এক সাহসী যোদ্ধা তারসাথে ছিলনা।
এখন সময় পালটেছে,
এখন তাকে সাথ দেবে অগ্নিউৎসের আদর্শে গড়া এই যোদ্ধা,
তোরা আমাকে রুখতে পারবি না।

অগ্নিউৎসের আদর্শে গড়া আমি,
অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পড়বো।
তোরা হা হয়ে দেখবি তোদের আর্তনাদ,
আমি সেদিন ওড়াবো বিজয় পতাকা।

**********সৌম্যজিৎ********** 
চিঠি: ৬।

আজ মন চাইছে খেলি উল্লাসে,
উড়ে বেড়াই, ঘুরে বেড়াই যা ইচ্ছা চায় প্রাণ।
আজ শরীর বড্ড সাধে বাধা,
দাঁড়িয়ে থেকে বা বসে থেকেও ঝুল খেয়ে পড়ি,
ভেসে যাই রূপকথার দেশে বা কোনো স্বপ্ন পাড়িতে,
যেমন ইচ্ছা তেমন খেলি আমি তোমার সাথে।
তোমার আঁচল জুরে আমি আশ্রয় নিই ক্লান্ত হয়ে,
ঘুমিয়ে পড়ি শান্তির ঘুম তোমার কোলে মাথা রেখে।
তোমার স্নেহ বড্ড মিষ্টি লাগে,
আমি কাটিয়ে দিই সমস্ত খেলাবেলা,
দুপুর বেলাতে কালো মেঘের ঘনিয়ে আসা ছায়া
আমাকে চোখ রাঙানি দেয় সাজিয়ে মৃত্যুভেলা,
অত সাহস আছে কি সেই মেঘের,
আমাকে নিয়ে যাবে তোমার আঁচল থেকে?
পারবে না।
অত সাধ্যি যে নাই কারোর,
আমাকে নিয়ে যাবে তোমার ভালবাসা থেকে অনেক দূরে,
অত শক্তি ওদের নাই যা আমাকে হারিয়ে দেবে তোমার ছোঁয়া থেকে,
কেউ পারবে না। 


**********সৌম্যজিৎ**********
শরীর তাপছে আগুন তেজে,
লাগছে দিশেহারা,
ক্লান্ত মাথা, ক্লান্ত শরীর খোঁজে একটু মুক্তির ছোঁয়া।
অচল এই শরীর আজ, অচল লাগে নিজেকে বড়,
কোথায় গেল আমার তেজ,
যে তেজে আমি পার হয়ে যাই সব বাধা।
দিশেহারা শরীর আজ, কখনো বসে, কখনো শুয়ে,
কোথাও একটু স্থিরতা নাই,
তুমি বাজাও বিদায় ঘণ্টা।
সব শেষ আমি দেবো না হতে,
লড়বো আমি মনের জোরে,
ওই যমরাজও দাঁড়িয়ে দেখবে
আমায় নিতে এসে।
হারিয়ে দেবো বারে বারে,
আমায় যদি নিতে আসো,
আমার কাজ এখনও ফুরাইনি,
তুমি পারবে না আমায় নিয়ে যেতে।
চেষ্টা তুমি বৃথা করো,
এই প্রাণ আমার,
আমার ইচ্ছাতে আমি দেবো প্রাণ,
এখন তুমি এসো।
এখানে তোমার নাই কাজ,
তুমি নিতে পারবে না আমার প্রাণ,
যতদিন জোর বহে মনে,
ততদিন তুমি পরাস্ত হবে বারে বারে।

**********সৌম্যজিৎ********** 
নারী তুই চলবি চল নিজের মতন করে,
লোকে তোকে দেখবে লোলুপ চোখে,
তোর দামন খুলে তোকে নেকড়ের চোখে ধর্ষণ করবে প্রতিমুহূর্তে।
লজ্জা তোর কিসের? তোর নাই কোনো ভয়, তুই লড়বি চল,
ওদের চোখের পর্দা খুলে আয়নার সামনে ধরবি চল,
লজ্জা ওদেরকেই নিমেষে মাটিতে মিশিয়ে দেবে।
সমাজকে নতুন লড়াই তুই দেখাবি চল।

নারী তোর পায়ে শেকল পড়াতে ওরা ধেয়ে আসবে ধর্মগ্রন্থের অস্ত্র নিয়ে,
নারী ওরা তোকে বেধে ফেলতে চাইবে নিজেদের অধিকারের কারাগারে,
নারী তোকে ভালবাসার নামে তোর মন নিয়ে ওরা খেলবে ছিনিবিনি,
নারী ওরা তোকে বোঝাবে প্যাসিভ হয়ে থাকতে,
ওদের আনন্দেই তোর আনন্দ, ওদের সুখেই তোর সুখ,
চালকের আসনে যেতে তোর মানা,
নারী তুই বাঁচবি শুধুই নারী বস্তু হয়ে,
মানুষ হয়ে বাঁচতে তোর মানা।

**********সৌম্যজিৎ**********

Wednesday, 29 June 2016

চিথিঃ ৫।

যেদিন তোমার ছোঁয়া পাবো,
আলোক স্রোতে গা ভাসাবো,
শিহরণে শিহরণে আমি হবো উন্মাদ,
তোমার দুটো হাত ধরে,
চোখে মুখে আদর মেখে,
লজ্জাগুলো হারিয়ে ফেলি,
আমি হতবাক।

স্নেহের ভিখারি আমি তোমার,
স্নেহ ছাড়া চাইনা কিছুই আর,
একটু স্নেহ দাও।
আমি উঠে দাঁড়াবো হাজারো মনের জোর একসাথে করে,
ছুটে যাবো অশ্বমেধের ঘোড়ার মত,
সত্যের জন্য লড়াই করবো,
আমি সত্যের প্রতিষ্ঠা করবো।
আমায় একটু স্নেহ দাও।

ঈশ্বর যদি থাকে আমার মধ্যে,
সে ঈশ্বর তুমি, আমি তোমার আরাধনা করি,
মনে প্রাণে তোমাকে বারবার ডাকি, বারবার এত দূরে থেকেও
ছুটে যায় তোমার কাছে মনের দরজা দিয়ে,
তুমি অন্তর্যামী, তুমি সবই জানো, সবই তোমার জানা।
আমার নাই বাধা তোমাকে আপন করে আদর করে বলতে,
আমার নাই বাধা তোমার কাছে যখন তখন ছুটে যেতে,
আমার কোনো বাধা নাই তোমাকে যা খুশি তাই বলতে,
আমি তাইই বলি, বারবার বলি, বারবার তোমাকে নিয়ে আমার পথ চলি।

তুমি ছাড়া বাকি সব মিছে লাগে,
তুমি ছাড়া আমার সবকিছুই অপূর্ণ লাগে,
অপূর্ণ লাগে আমার চিন্তাগুলো, অপূর্ণ থেকে যায় আমার প্রতিদিন।
তুমি ছাড়া এ জীবন বড় কষ্টের, বড় বিভিশিখাময়, অমাবস্যার অন্ধকারময়,
কেবল তুমিই আমার পথের আলো, আমি সেই আলোতেই থাকতে চাই।


**********সৌম্যজিৎ**********

Tuesday, 28 June 2016


চিঠিঃ ৪। 
আমাদের লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।

চোখের পলকে হারাই তোমাকে,
বন্ধ চোখেও খুঁজে ফিরে বেড়াই,
মুহূর্তের জন্যও তোমাকে দূর হতে দিতে চাইনা আমি,
হাহাকার লেগে যায়। 

প্রথম দেখি যখন তুমি এসেছিলে আমার স্বপ্ন পাড়িতে,
চিত্ত আমি হারিয়েছিলাম,
চলছিলাম যেন শুধুই মুগ্ধতা নিয়ে আর 
পাগলের মত চোখে মুখে একরাশ ভালবাসা নিয়ে।
আমার সমস্ত মন প্রাণ আমি সঁপেছিলাম তোমাকে, 
ভুলে গেছিলাম নিজেকে, ভুলে গেছিলাম আমার সাহসের গণ্ডি,
ছুটে গেছিলাম তোমাকে নিয়ে ওপার বাংলার মাটি ছোঁয়াতে। 

ক্ষণে ক্ষণে আমি তোমাকে নিয়ে সাজিয়েছি হাজারো স্বপ্ন,
স্বপ্ন আমি দেখতাম তোমার আদর্শ ঘিরে,
স্বপ্নগুলোকেই আমি নিজের করে মেখেছিলাম,
স্বপ্নের তরী সাজিয়ে তোমাকে নিয়ে ভেসেছিলাম ওই আদর্শের রাজ্যে।

এ কেমন ভালবাসা!
এ ভালবাসা আমার নিজেরই বোঝার বাইরে,
বাইরে লোকে প্রশ্ন করে হাজারো,
আমি বলি ভালোবাসি, ভালবাসার আবার নাম কি? 

আমি চলতে পারি আমার লক্ষ্য হারিয়ে তোমার লক্ষ্যে চিরকাল ধরে,
আমি চলতে পারি তোমার আদর্শগুলোকে আলিঙ্গন করে,
আমি যদি থাকতে পারি তোমার চলার পথের সঙ্গি হয়ে,
আমি জীবনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।

মানুষ জীবনে আমি আর কি চাই?
জীবন হবেনা বৃথা যদি পাই তোমার একটু ছোঁয়া, একটু ভরসা
যেখানে তুমি চোখ বন্ধ করে ভাবতে পারো, চলার পথে একজন আছে যে
আদর্শের জন্য নিজের সবটা দিয়ে দিতে পারে। 
আমি ধন্য হয়ে যাবো।

যেদিন তুমি বলেছিলে আমার সাথেও তোমার কখনো দেখা হবে, 
আমি মিনিটখানিক সময় পরে তোমাকে বলেছিলাম নিশ্চয় হবে,
আমি কি বলবো সেদিন বুঝতে পারিনি,
আজ বুঝি, দেখা হলে হয়ত আমি চেতনা হারিয়ে ফেলবো,
হয়ত আমি পাগল হয়ে যাবো,
হয়ত ছুটে বেড়াবো তোমার চারপাশে,
হয়ত তোমার হাতদুটো ধরে লাফিয়ে চিৎকার করে উঠবো,
হয়ত তোমাকে জড়িয়ে ধরে অনেক হাসবো বা কাঁদবো।
আমি পাগলই হয়ে যাবো। 

এই আদর্শের পরশমানুষটাকে আমি ছুঁতে চাই,
আমি প্রদক্ষিণ করতে চাই তোমাকে ঘিরে,
শুধু এটুকু স্বপ্ন যেন তোমার জীবনে আমি একটু কোথাও চিহ্ন রাখতে পারি,
আমার জন্ম যেন বৃথা না যায়। 


************সৌম্যজিৎ*************

Monday, 27 June 2016


অনেক সময় পর আবার প্রথাগত শিক্ষাতে ফেরৎ আসলে বোন আমার। অনেক শুভকামনা, ভালবাসা তোমার জন্য। খুশি থেক। এই লেখাটা তোমার জন্য।

                                                   ইতি
       
                                                   দাদা।
 

চাপাতির ধার বয়স বোঝেনা,
চায় শুধু রক্তের স্বাদ,
ওরা চাইনা মুক্তির জীবন,
ওরা খুশি হয় সম্মোহনের মূর্খামিতে।
সমাজের নিয়ম অভিযোজনে,
সমাজ পাল্টাতে চায় আপন গতিতে,
উঠে আসে একে একে তসলিমা নাসরিন, ইত্তিলা ইতুরা
সমাজের চোখ খুলে দিতে।

আজকের চরিত্র ইত্তিলা ইতু
ছোট্ট বোন আমার,
ছোট বয়সেই বুদ্ধির ধার আর সমাজ চেতক,
সহজে সরলে মুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া পথিক।
চেয়েছিল এক আদর্শ নীতি,
চেয়েছিল বাংলার স্বাধীনতা,
পদে পদে বাধা ওকেও দেয়নি নিষ্কৃতি,
করে দিল দেশছাড়া।

বাংলার টানে হুহু করে ওঠে প্রাণ,
মুখে ফোটেনা, ফোটে হৃদয়ের কোঠোরগুলোতে,
এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়ে খোঁজে বাংলার মাঠ, বাংলার ঘাট,
বাংলা দিলনা ওকে যোগ্য সম্মান।
চিন্তাধারাতে তসলিমা আদর্শ,
তসলিমা ভালবাসা বুকে নিয়ে, অদম্য লড়াইয়ের সাহস নিয়ে
বেরিয়েছিল বাংলার সড়কে,
শাহবাগের মিছিলে সড়ক জুড়ে করেছিল প্রতিবাদ।
বাংলা এল চাপাতি নিয়ে তেড়ে,
লক্ষ্য শুধু মাথার ঘিলু, শেষ করে দেবে প্রাণ।
কলেজের পথে, টিউশানি ব্যাচের রাস্তাতে, দিনের আলোতে, রাতের অন্ধকারে
প্রাণে ঢুকে গেল ভয়। ওরা নজর রাখছে,
ওরা খোঁজ খবর চালাচ্ছে,
ওরা দিন গুনছে সুযোগের অপেক্ষায়,
সুযোগ পেলেই ভাসিয়ে দেবে লাল রক্তে সড়কপথ।


রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে আশ্রয়ের খোঁজে,
আশ্রয় বাবার বন্ধুর বাড়িতে,
নাস্তিকতার পরিচয়ে সমাজের কটু কথা,
অনেক অনেক যুক্তি ও পরামর্শের সামনে ছোট্ট মেয়েটা অস্থির হয়ে ওঠে,
অস্থির হয়ে ওঠে প্রাণ।
সমালোচনার ঝড় বয়ে আসে পরিবারের সামনে।


প্রাণের তাগিদে, আদর্শকে বাঁচাতে ছাড়তে হল প্রাণের বাংলাভূমি,
তবু ভয় পেয়ে নিজের আদর্শকে কাছছারা হতে দেয়নি সে,
বাঁচিয়ে রেখেছে সযত্নে তসলিমা প্রেম ও
নিজের চেতনাকে।
পড়াশোনা মাঝপথে ছাড়তে হয়েছিল,
ছাড়তে হয়েছিল কলেজের প্রাণচঞ্চল দিনগুলোকে,
ছাড়তে হয়েছিল হাসি আড্ডার সাথি বন্ধুদেরও।


মুহূর্তে মুহূর্তে আবেগ আছড়ে পড়ে,
গড়িয়ে পড়ে সকলের অলক্ষ্যে অশ্রুধারা,
মনে পড়ে পুরোনো সেই দিনের কথাগুলো,
এইত সেদিনই ছিল, এইত এত কাছের দিনগুলো,
আজ সব পুরোনো হয়ে গেল, আজ সব অতীত হয়ে গেল।
আজও বাংলায় আর ফেরা হলনা,
পাওয়া হলনা বাংলার মুক্ত বাতাস,
পাওয়া হলনা ভোরবেলার নিহরে ভেজা বাংলার সবুজ ঘাসের ছোঁয়া।
কতদিন হয়েগেল নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বাড়িটা ছোঁয়া হয়নি,
সিলিঙের নিচে পাতা বিছানাটাতে শান্তির ঘুমে সে আছড়ে পড়েনি,
কতদিন হয়েগেল মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয়নি,
কতদিন বাবার স্নেহের বকা খাওয়া হয়নি,
কতদিন কেটেগেছে ছোটবোনের সাথে সে খুনসুটি করেনি,
কতদিন!


হায়রে আমার সোনার বাংলা!
তুই ধরে রাখতে পারলি না তোর সোনার সন্তানদের।


Sunday, 26 June 2016

যুবতি কন্যা।
সৌম্যজিৎ। 

ওই মনে তুমি যুবতি গন্ধ মেখে,
তোমার রূপেও বড় যুবতি যুবতি জেল্লা,
বয়সের কথা তুমি ভুলে যাও,
তুমি সকল সময় সবার মধ্যে সেরা। 


তোমাকে আমি দেখি বছর কুড়ির এক মেয়ে রূপে,
ভালোবেসে ফেলি তোমার সমস্ত চেতনা ও রূপকে,
আমি ভালোবাসি এই জ্বলে ওঠা তসলিমা নাসরিনকে,
তুমি ভুলেও কখনো প্রবীন হবেনা। 


এখনও তোমার রক্ত টগবগ করে ফোটে,
এখনও তুমি রক্তে আগুন স্রোত নিয়ে বাঁচো,
তোমার সাথে আছে কি কেউ কোথাও,
যে হবে তোমার তুলনা? 


বিশ্ব দরবারে আমি পেয়েছি এমন এক সুন্দরী কন্যার রুপ,
যে কখনো পুরোনো হবেনা,
লেখা দিয়ে, কথা দিয়ে, রূপেও যার আগুন ঝরে,
সে আর যাইহোক কখনো বুড়ো হবেনা।


লড়াই তোমার মধ্যে অপরিসীম,
বয়স তোমাকে হারাতে পারবে না,
শুধু মনের মধ্যে আগুনটাকে জ্বালিয়ে রেখো  তুমি,
তুমি কখনই পুরোনো হবেনা। 
চোখের ভাষা কবিতা টানে,
কালকে যাবো পরীক্ষা ঘরে, আর তো সময় নাই,
ডেটাস্ট্রাকচার এলগরিদম গুলো বড্ড গুলিয়ে যায়,
আমি সুর গুনে যায় দুটো লাইনের কবিতার আশায়।
নেটওয়ার্কিং এর প্রশ্ন গুলো এখনো দেখা বাকি,
সকাল, বিকাল মাথায় ঘোরে শুধু কবিতায় খেলি,
দুস্টুমি আর আবেগ ছাড়াই কবিতার সুরে,
আমার বড্ড ইচ্ছা হয় আমি গানের মালা গাঁথি।
কে দেবে সুর আমি কি করেই বা লিখি আমার গানের লাইনগুলো,
কি করে গান হয় তা জানিনা,
শুধু ইচ্ছা হয় দুটো লাইনে যদি গান হয়ে যেত,
আমি ভেসে যেতাম ঐ দূরের আকাশে আমার কল্পজাহাজে করে,
পাড়ি দিতাম হ্যাডসন উপসাগরের নীল বুটিকে,
তোমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে দেখতাম ঢেউগুলো,
প্রাণ ভরে প্রশ্বাস নিতাম।

কালকে যাবো পরীক্ষা ঘরে,
আর তো সময় নাই।
ডেটাস্ট্রাকচার, নেটওয়ার্কিং এর প্রশ্নগুলো এখনো অনেক বাকি।

.............সৌম্যজিৎ...........

Saturday, 25 June 2016

ওই কালো ফ্রেমের চশমার পিছনে কাজল স্নিগ্ধ চোখে
তুমি ধরেছ সকল মায়া,
প্রাক্তনে- "তুমি যাকে ভালোবাসো" গানের সুরে
ছড়িয়ে দিলে ভালোবাসার শীতল ছোঁয়া।
গোটা বাংলায় এখন তোমারই সুর,
তুমি রাজ করছ সকল প্রেমিক প্রেমিকার মনে,
নন্দন থেকে ভিক্টোরিয়া, নজরুল মঞ্চ এখন ভাসছে তোমার কণ্ঠে।
প্রকৃতির কি সুন্দর সৃষ্টি তোমার আওয়াজ!
আমি মেতে যাই, ওরা মেতে ওঠে,
এ কি যে নেশা! সারাদিন শুনি, বারে বারে শুনি, তবু কানে বাজে তোমার শব্দধ্বনি,
গঙ্গার ওপরে বয়ে চলা হাওয়ার সো সো শব্দেও আমি শুনতে পাই,
"তুমি যাকে ভালোবাসো, স্নানের ঘরে বাষ্পে ভাসো, তার জীবনে ঝড়।"
উদাস মনে আমি হারিয়ে যাই, মনে পড়ে সেই হারিয়ে যাওয়া প্রেম মুহূর্তগুলো,
এ অনুভুতি তোমারই সৃষ্টি। 
বসন্ত কোথায় যদি আমি খুঁজে বেড়াই,
বসন্তকে আমি পাই তোমার আঙিনায়,
সমস্ত পাতাবাহার শুধু তোমারই রূপে,
আমি মুগ্ধ হয়ে যাই।

কোকিল কণ্ঠ তুমি পেয়েছ প্রকৃতির উপহারে,
আর এক মায়াবী রূপে তুমি ধরেছ সকল স্নেহ,
কেউ যদি বলে আমাই, "তুমি সেরা বাঙালি সুন্দরী কোথায় পেলে!"
আমি বলবো সে তো শুধুই ঈমান পবিত্র জলে।

স্নিগ্ধ থেকো। 

সেইসব অন্ধকারের কালো ছায়া।
সৌম্যজিৎ।

আহত এক বেলা, ক্লান্ত সকাল,
প্রাণে হুহু করা নিঃশ্বাস।
কি করি? কি করবো? কোথায় যাবো?
ওরা কি বাইরেই দাঁড়িয়ে?
ওরা কি সামনের অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে আছে বন্দুকের নল এগিয়ে?
হয়ত তাই।
পর্দার ওপার থেকে ওরা তাক করে আছে,
নিশানা লাগলেই একটা বুলেট,
মাথার খুলি উড়িয়ে ছিটকে গিয়ে পড়বে দেওয়ালের গায়ে,
লাল রক্তে ভেসে যাবে ঘরের মেঝে, আর সব শেষ।

বাইরেই ওৎ পেতে আছে চাপাতিধারীর দল,
ওদের একটাই লক্ষ্য এই শরীরটাকে ছিন্নভিন্ন করে লাল রক্তে স্নান করে-
আল্লাহর দরবারে বেহেস্তের পথ পরিষ্কার করবে।
ওরা গোটা দুনিয়া জুরে ওদের পুরুষত্ব কায়েম করবে,
নারীকে চিরকাল ভোগের বস্তু বানিয়ে রাখবে, আর
যে মাথা উঁচিয়ে উঠবে প্রতিবাদের সুর নিয়ে তাকে
টুকরো টুকরো করে কেটে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে।
ওরা কেউ সুস্থ সমাজ চাইনা, চাইনা ওরা শিক্ষিত মানব সমাজ,
চাইনা ওরা সভ্যতা আর চাইনা সমাজের অগ্রগতি,
ওরা চায় পুরোনো অসভ্যতাকে ধরে রাখতে,
ওরা চায় নারীকে আপাদ মস্তক ঢেকে ঘরে তালাবন্ধ করতে,
ওরা চায় শরিয়াতি নিয়ম কায়েম করতে,
ওরা চায় শুধু কল্লা, শুধু রক্ত যে রক্তে ওরা শহরের, গ্রামের সড়ক পিচ্ছিল করতে পারে।
ওরা মূর্খের সম্মোহন নিয়ে,
কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে,
ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে গোটা দেশকে কবচা করতে চায়।
ওরা মানুষ হতে পারেনি কখনো,
মানুষের শিক্ষা ওরা পাইনি,
ওরা হয়েছে মানুষরূপী দানব,
ওদের গায়ে আমি আলকাতরার মত অন্ধকার দেখি।

ওরা তসলিমা কে মারতে চায় যাতে -
ওদের ঘরের নারীরা কখনো মাথা তুলে কথা না বলতে পারে,
ওরা আজ আমাকে ধর্ষণ করে ব্রম্মপুত্রে ভাসাতে চায় যাতে -
সমাজে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
ওরা কখনই মানুষ হয়ে উঠবে না,
ওরা কখনই দেশকে গর্বের স্থান নিতে দেবেনা,
ওরা দেশকেই গোটা পৃথিবীর সামনে ভরা বাজারে কলঙ্কিত করতে চায়।
ধিক এই সমাজতন্ত্রকে,
ধিক এই পুরুষতন্ত্রকে,
এই সমাজ আমার লজ্জার,
এই সমাজ নিজের দামন খুলে ভরা বাজারে নিজেই নিলামে চড়তে চায়,
কেউ প্রতিবাদের সুর ওঠালেই তাকে নষ্ট আখ্যান দেয়।

Friday, 24 June 2016

তৃতীয় পত্র।


পড়তে পড়তে বা কিছু লিখতে লিখতে,
অঙ্ক কষতে কষতে, মন আমার সবসময় অন্যকিছু একটা ভেবে চলে।
অঙ্ক, স্ট্যাটিস্টিক্সের বাইরে গিয়ে মনে অন্যরকম একটা ছক ঘোরে।
সেই ছকে শুধুই তুমি থাকো। সেই ছক শুধুই তোমায় ঘিরে।
কিভাবে আর কতরকম ভাবে কত বুদ্ধি করলে তুমি বাংলায় ফিরতে পারো,
নৈতিক ভাবে ফেরা। এসব ঘুরতে থাকে।


পড়তে পড়তে আমার চোখ বারবার
ফেসবুকের নাসরিন ডট তসলিমা লিঙ্কটার দিকে চলে যায়।
আটকাতে পারিনা।
শত কাজ থাকলেও, সব ফেলে আগে ঐ লিঙ্কের নতুন লেখাটা পড়া চায়।
যতটা সম্ভব অনুভূতি দিয়ে, আবেগ দিয়ে, কিছুটা বুদ্ধি দিয়ে বা কিছুটা নির্বোধের মতো
একটা কমেন্ট করা চায়।
পরে যা বড় অপূর্ণ ও অপরিণত লেখার মতো মনেহয়।
নিজেকে বড্ড পাগল পাগল লাগে তখন।
তবু তো তোমার নজরটুকু পাই, হোইনা একটু পাগল, তাতে ক্ষতি কি?
হয়ত তুমি হাসো, তবু হাসো তো।
ওটা ভেবেই আমার বড্ড তৃপ্তি।


জানো মাঝে মাঝে আমি খুব অনিশ্চয়তাতে ভুগি।
চারিদিক খুব অন্ধকার লাগে,
মনের মধ্যে ছটপট করে, কেমন পাগল পাগল লাগে নিজেকে।
পাগলের মতো তোমাকে এটা ওটা লিখে যাই, ভাবি লিখবো না,
অনেক অভিমান হয় যখন দেখি তুমি খেয়াল করছো না।
খেয়াল করো না এমনটা খুব কম সময়েই হয়েছে, তুমি খেয়াল করো,
অনেক সময় এড়িয়ে যাও আবার অনেক সময় হয়ত বিরক্তও হও খানিকটা।
মুখে বলতে পারো না।
তখন আমি যেন সবকিছু থেকে অনেক দূরে, কোথাও হারিয়ে যাই।
হারিয়ে যেতে বড্ড ভয় আমার।
সহ্য করতে পারিনা।
একের পর এক তোমার দরজাতে কড়া নাড়ি, নাড়তেই থাকি।
মনেহয় তোমার প্রতি আমার ভীষণ অধিকার!
তুমি আমার কথা শুনবে না কেন?
আমার লেখা তুমি পড়বে না কেন?
তোমাকে শুনতেই হবে আমার কথা,
তোমাকে পড়তেই হবে আমার লেখা,
তোমাকে কথা বলতেই হবে আমার সাথে।
তোমার প্রতি সব অধিকারটা যেন শুধু আমারই, আর কারোর অধিকার থাকতে পারেনা।
কখনো থাকতে নেই।

                                                           ......সৌম্যজিৎ......
                                             



অঞ্চলের আঁচলমালা। 
সৌম্যজিৎ।


এ যদি হয় মোর শ্যাষ কবিতা, 
ক্যামনে রাখবা ধইরা তুমি আঁচল খানি দিয়া?  
পাড়া পড়শী কান্দেরে মাইয়া আমার কথা ভাইবা। 
দিও একখান বাক্য সাজাইয়া মনের ভিতর থেইক্যা। 
ফুল চন্দনে মোর কি কাম,
আমি বাঁচতে চাইছিলাম মাইনষের মনে ভালোবাসা দিয়া। 
রক্ত মাংসের মানুষগুলা অনুভূতির মধ্যিখানে স্থান দিক,
আমি অমরত্ব পাইতাম। 
হাসি লাগে বড্ড যখন ভাবি আমি কি চাইছিলাম,
তুমার স্নেহখান জড়াইয়া, আদরে আমার জীবন পূর্ণ হতো,
আর তো কিছু চাইনি।
ক্ষণে ক্ষণে, তিলে তিলে এই হৃদয় ভাইঙা টুকরা টুকরা হয়,
অভিমানের পাহাড় জমে, সেই পাহাড়ের নিচে আমিই পিষ্ট হই,
না আছে কুনু চাল, না আছে চুলা,
আমি তো মেলা কুনু ঐশর্য চাইনি,
চাইছি একটু মনের ভিতরে জায়গা নিতে,
চাইছিলাম একটু ভালোবাসা পেতে। 

তুমি আছো তুমার জগতে,
মানুষ তুমারে লইয়া মাতামাতি করে। 
আমার থেইক্যা বেশি ভালোবাসে?
আমার থেইক্যা তুমাকে বেশি ভালোবাসবে এমন সাধ্যি কার?
আমি তুমারে সকল বাধা, সকল বেদনা, সকল বিপদ থেইক্যা আগলাইতে পারি,
মরণের ভয়ে কখনো পিছু হটবো না। 
কে এমন আছে শুনি তুমার যে তুমাকে নিজের প্রাণের বিনিময়ে আগলাইবে!
কেউ নাই। 
কেউ নাই। 
মৃত্যু দরজায় কড়া নাড়লেই ওদের নিজের প্রাণ বাঁচানোর চিন্তা আগে আসবে,
আমার আসব না। 
শুধু একটু তুমার মমতা ভরা স্নেহ আমারে এতো সাহস দিছে। 

আজ আমি জ্বলছি অনেক অনিশ্চিয়তায়,
বড় একা একা লাগে, ফাঁকা ফাঁকা লাগে,
আজ আমার কথাগুলাতেই আমি কান্নার আওয়াজ পাই,
আওয়াজ পাই উপহাসেরও। 
আজ আমি বড় একা। 

আমি ভালো নাই,
তুমি ভালো থাকো। 
তুমি ভালো থাকো যুগ যুগ ধইরা,
একটু খানি হাসি মুখে থাকবা,
আমি অনেক দূর থেইক্যা তুমারে দ্যাকবো রোজ। 
আমার সকাল, বিকাল, রাত ঐ হাসিতেই পূর্ণ হবে।  


Thursday, 23 June 2016

আমার কথা। 

আমি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ নোই, এ আমার গর্ব, আমার অহংকার।
গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষতান্ত্রিক পিতার সন্তান হয়েও 
আমি এই অভিশাপ মুক্ত আজ। 
ওসব পুরুষতন্ত্রের মোটা বুদ্ধি আমার মাথাতে আসেনা,
আসেনা নারীকে ঠকিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করার বুদ্ধি,
পুরুষতন্ত্রের মোহ আমাকে ছুঁতে পারেনি। 
অর্থ সম্পত্তির লোভ, হলুদ কটা চোখ আর পান চেবানো ঠোঁট আমি পাইনি,
যথার্ত মানুষ হওয়ার শিক্ষা আমি এখনও শিখে চলেছি,
আমি তোমাদের উত্তরাধিকার হতে চাইনা। 
তোমাদের সম্পত্তি তোমাদেরকেই মোবারক,
ওই সম্পত্তিতে আমি লজ্জা দেখি,
লজ্জা দেখি আমি মুখ ফুটে বলা সহস্র গালাগালিতে,
তোমাদের ওতে লজ্জা নাই, লজ্জা শুধু আমারই, 
এই লজ্জা আমার চেতনাকে ভেঙেচুরে চুরমার করছে প্রতিমুহূর্তে,
সহ্য করে যাই শুধু মানুষ হয়ে মানুষকে অসম্মান করতে পারিনা তাই,
এই সহ্যের বাধ যেদিন ভাঙবে, সেদিন তোমরা আমিহারা হয়ে যাবে। 
অশ্রাব্য গালাগালি, কোটি কোটি মিথ্যে হুঙ্কারে গড়া তোমাদের ইমারত 
তোমাদেরকেই মোবারক। 
আমি তোমাদের সেই সম্পত্তির ভোগী নোই, তোমরা সাবধান। 
মিথ্যের কালো কাপড়ে ঢাকা তোমাদের মুখকে আমি ভয় পাইনা,
সত্যের আলো দিয়ে পুড়িয়ে ঝাঁজরা করে দেবো। 
সততা, আদর্শের শক্তি তোমরা কখনো পরখ করোনি,
আমি তোমাদের পরিচয় করবো সত্যের সাথে, আদর্শের সাথে,
বুঝিয়ে দেবো অর্থ সম্পত্তি, অসভ্যতামী যে গড়া যে ইমারতে তোমাদের মিথ্যে অহংকার,
সেটা আসলে তোমাদের চরম ব্যর্থতা। 
আমি তুমি নোই, আমি তোমরা নোই, 
বিন্দু বিন্দু আদর্শে গড়া এই আমি শুধু আমিই। 

Wednesday, 22 June 2016


আমার নির্বাসিত লেখিকাকে।
সৌম্যজিৎ।

প্রতিটা শ্বাসে আজ দুর্গন্ধ, মর্গের পচা গন্ধ,
বমি ঠেলে আসে,
বাংলার হাওয়াতে সতেজতার কোনো ছোঁয়া আমি পাইনা,
যেদিকেই যাই আমি পাই এক দম বন্ধ করা প্রশ্বাস,
আমার কথা বলার স্বাধীনতা নাই।
গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নামে এখানে চলে দালালি, খুনোখুনি, হানাহানি,
নামেই গনতন্ত্র, এখানে আমার লেখিকাই আজ নির্বাসিত,
নির্বাসিত শুধু মানুষটাই নয়,
নির্বাসিত আজ সত্য, নির্বাসিত আজ স্বাধীনতা, নির্বাসিত বাকস্বাধীনতা,
নির্বাসিত আজ লেখকের সত্যলেখা।
চারিদিকে শুধু দেখি সেইসব লেখকেরা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে,
যারা পায়ের তলানি চাটে,
দেওয়ালে, কাগজে যারা নেতা মন্ত্রীদের গায়ে প্রশংসার চাদর চাপায়,
মন্ত্রী দালালদের মাথাতে তুলে রাখে,
দু'বেলা দাদা দিদি করে সেলাম ঠোকে,
আবার গাড়ির দরজা খুলেও জায়গাও করে দেয়,
সেইসব লেখকেরাই আজ বড় বড় লেখকসিদ্ধ তকমা নিয়ে ঘোরে।
নির্বাসিত আজ শুধুই তুমি নও আমার লেখিকা,
নির্বাসিত আজ আমিও,
নির্বাসিত আজ সত্যের আদর্শ।
আমরা শুধু গায়ে পরে, বা কিছু খেয়ে দেয়ে বাংলাই বেঁচে আছি মেরুদণ্ডহীন নামে,
আসলে আমরা পারিনি ওদের পায়ে তেল দিতে।
তেল দিতে পারিনি তাই আমরা মেরুদণ্ডহীন,
সত্য আদর্শের পথ দেখানো লেখিকাকে আমরা এই বাংলায় আশ্রয় দিতে পারিনি,
তাই আমরা মেরুদণ্ডহীন।


আমার লেখিকা তুমি আমাদের ক্ষমা কোরোনা,
ক্ষমা কোরোনা আমাদের ব্যর্থতাকে,
ক্ষমা কোরোনা আমাদের ভেঙে পড়াকে, হারিয়ে যাওয়াকে।
মানুষ হিসেবে মানুষকে আমরা আশ্রয় দিতে পারিনি,
মানুষ হিসেবে মানুষকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি,
শুধুই জাতের নামে জাতির কলঙ্ককে গায়ে মেখেছি,
এ আমাদের লজ্জা।
এ কখনোই তোমার লজ্জা নয়,
মানুষ জন্মে তুমি কখনোই লজ্জার সামনে হার মানোনি,
ভয় পাওনি সত্যের হয়ে লড়াই করতে,
মাথা নত করোনি মিথ্যের সাথে আপোষ করে স্বচ্ছন্দের জীবন পেতে,
পদে পদে তুমি কঠিন লড়াইয়ের পাথুরে রাস্তাকেই নির্বাচন করেছ,
তবু তুমি হার মানোনি,
মানুষের মনে নৈতিকতা দিয়ে নৈতিক জয় পেয়েছ,
শুধু শরীরেই তুমি আজ নির্বাসিত।
মানুষের মন থেকে তোমার নির্বাসন হয়নি।
এই নির্বাসন তোমার লজ্জা নয়, এই নির্বাসন আমাদের লজ্জা।
এই নির্বাসনের পরাধীনতাকে আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি আজ।


আমি আজও প্রতিমুহূর্তে মনে করি আমাদের পরাধীনতা ঘুচবেই,
উঠে দাঁড়াবেই এই বাংলা সমস্ত পরাধীনতার শেকল ছিন্ন করে,
উঠে দাঁড়াবেই তরুণ সমাজের হাত ধরে।
আমি একদৃষ্টে সেই দিনের প্রতি চেয়ে আছি যেদিন আবার
আমাদের লেখিকা নজরুল মঞ্চে কবিতা পাঠ করবে,
যেদিন নন্দনে বসে চা-এর আড্ডা দেবে পুরোনো বন্ধুদের সাথে,
যেদিন কফি হাউজে বসে কফির সাথে সমাজ, রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবে,
যেদিন আবার রওডন স্ট্রিটের বাড়িটা ভালোবাসার মানুষটাকে ফিরে পাবে।
আমি দেখতে পাই আমার লেখিকা সেদিন আমার হাতে হাত রেখে
খোলা আকাশের নিচে ঘ্রাণ নিচ্ছে,
সেদিন বাংলা মুক্ত হবে।
ছাই পড়বে সেদিন বাংলার পুরুষতান্ত্রিক পুরুষগুলোর পুরুষত্বে,
নারী সেদিন নৈতিক জয় পাবে,
সাহসে গর্জে উঠবে নারী,
তাদের প্রতি হওয়া অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়বে,
নারী সেদিন সমাজে চালিত নয়, চালকের আসন পাবে।
তুমি ফিরবেই আমার লেখিকা,
তুমি ফিরে আসবেই।


আমার নির্বাসিত লেখিকাকে।
সৌম্যজিৎ।

প্রতিটা শ্বাসে আজ দুর্গন্ধ, মর্গের পচা গন্ধ,
বমি ঠেলে আসে,
বাংলার হাওয়াতে সতেজতার কোনো ছোঁয়া আমি পাইনা,
যেদিকেই যাই আমি পাই এক দম বন্ধ করা প্রশ্বাস,
আমার কথা বলার স্বাধীনতা নাই।
গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নামে এখানে চলে দালালি, খুনোখুনি, হানাহানি,
নামেই গনতন্ত্র, এখানে আমার লেখিকাই আজ নির্বাসিত,
নির্বাসিত শুধু মানুষটাই নয়,
নির্বাসিত আজ সত্য, নির্বাসিত আজ স্বাধীনতা, নির্বাসিত বাকস্বাধীনতা,
নির্বাসিত আজ লেখকের সত্যলেখা।
চারিদিকে শুধু দেখি সেইসব লেখকেরা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠে,
যারা পায়ের তলানি চাটে,
দেওয়ালে, কাগজে যারা নেতা মন্ত্রীদের গায়ে প্রশংসার চাদর চাপায়,
মন্ত্রী দালালদের মাথাতে তুলে রাখে,
দু'বেলা দাদা দিদি করে সেলাম ঠোকে,
আবার গাড়ির দরজা খুলেও জায়গাও করে দেয়,
সেইসব লেখকেরাই আজ বড় বড় লেখকসিদ্ধ তকমা নিয়ে ঘোরে।
নির্বাসিত আজ শুধুই তুমি নও আমার লেখিকা,
নির্বাসিত আজ আমিও,
নির্বাসিত আজ সত্যের আদর্শ।
আমরা শুধু গায়ে পরে, বা কিছু খেয়ে দেয়ে বাংলাই বেঁচে আছি মেরুদণ্ডহীন নামে,
আসলে আমরা পারিনি ওদের পায়ে তেল দিতে।
তেল দিতে পারিনি তাই আমরা মেরুদণ্ডহীন,
সত্য আদর্শের পথ দেখানো লেখিকাকে আমরা এই বাংলায় আশ্রয় দিতে পারিনি,
তাই আমরা মেরুদণ্ডহীন।


আমার লেখিকা তুমি আমাদের ক্ষমা কোরোনা,
ক্ষমা কোরোনা আমাদের ব্যর্থতাকে,
ক্ষমা কোরোনা আমাদের ভেঙে পড়াকে, হারিয়ে যাওয়াকে।
মানুষ হিসেবে মানুষকে আমরা আশ্রয় দিতে পারিনি,
মানুষ হিসেবে মানুষকে আমরা রক্ষা করতে পারিনি,
শুধুই জাতের নামে জাতির কলঙ্ককে গায়ে মেখেছি,
এ আমাদের লজ্জা।
এ কখনোই তোমার লজ্জা নয়,
মানুষ জন্মে তুমি কখনোই লজ্জার সামনে হার মানোনি,
ভয় পাওনি সত্যের হয়ে লড়াই করতে,
মাথা নত করোনি মিথ্যের সাথে আপোষ করে স্বচ্ছন্দের জীবন পেতে,
পদে পদে তুমি কঠিন লড়াইয়ের পাথুরে রাস্তাকেই নির্বাচন করেছ,
তবু তুমি হার মানোনি,
মানুষের মনে নৈতিকতা দিয়ে নৈতিক জয় পেয়েছ,
শুধু শরীরেই তুমি আজ নির্বাসিত।
মানুষের মন থেকে তোমার নির্বাসন হয়নি।
এই নির্বাসন তোমার লজ্জা নয়, এই নির্বাসন আমাদের লজ্জা।
এই নির্বাসনের পরাধীনতাকে আমরা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি আজ।


আমি আজও প্রতিমুহূর্তে মনে করি আমাদের পরাধীনতা ঘুঁচবেই,
উঠে দাঁড়াবেই এই বাংলা সমস্ত পরাধীনতার শেকল ছিন্ন করে,
উঠে দাঁড়াবেই তরুণ সমাজের হাত ধরে।
আমি একদৃষ্টে সেই দিনের প্রতি চেয়ে আছি যেদিন আবার
আমাদের লেখিকা নজরুল মঞ্চে কবিতা পাঠ করবে,
যেদিন নন্দনে বসে চা-এর আড্ডা দেবে পুরোনো বন্ধুদের সাথে,
যেদিন কফি হাউজে বসে কফির সাথে সমাজ, রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করবে,
যেদিন আবার রওডন স্ট্রিটের বাড়িটা ভালোবাসার মানুষটাকে ফিরে পাবে।
আমি দেখতে পাই আমার লেখিকা সেদিন আমার হাতে হাত রেখে
খোলা আকাশের নিচে ঘ্রাণ নিচ্ছে।
সেদিন বাংলা মুক্ত হবে।
ছাই পড়বে সেদিন বাংলার পুরুষতান্ত্রিক পুরুষগুলোর পুরুষত্বে,
নারী সেদিন নৈতিক জয় পাবে,
সাহসে গর্জে উঠবে নারী, তাদের প্রতি হওয়া অন্যায় অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগঠন গড়বে,
নারী সেদিন সমাজে চালিত নয়, চালকের আসন পাবে।
তুমি ফিরবেই আমার লেখিকা,
তুমি ফিরে আসবেই।

Tuesday, 21 June 2016




তুমি বিখ্যাত, তুমি জীবন্ত,
তুমি অনন্তকালের নক্ষত্র।
তুমি ভেজা মাটি,
তুমি আদর্শের বীজ,
তুমি গাছের ছায়া,
তুমি একফালি রোদ।
তুমি মানুষ জাত, তুমি বিবেকের ঘর,
তুমি মায়াবতী, তুমি ভালোবাসার নাম।
তুমি নারী, তুমি যোদ্ধার রূপ,
তুমি আগুন, তুমি অস্ত্রের ধার।
মা, এত ভাবনা কেন?
আদর্শের বীজ বহনকারী তসলিমা নাসরিনকে
আমরা বয়ে চলেছি প্রতিটি ঘ্রাণে,
তোমার তো মৃত্যু নাই,
তুমি অপার জীবন গড়েছ বিবেকের স্থানে,
তসলিমা নাসরিন আজ ঘরে ঘরে,
তসলিমা নাসরিন আজ শুধুই নারী নয়,
মানুষ জাতে মানুষের নামে অঙ্কুরিত হচ্ছে।

.................................সৌম্যজিৎ।

পড়া শুধু জানা, পরীক্ষা একটা খেলা। 
সৌম্যজিৎ। 

জ্ঞানের আলো ছুঁয়েছি প্রাণে,
প্রশ্নগুলোর উত্তর সবই জানা,
পড়লেই বা কি, না পড়লেই বা,
নীতি তো আমার অন্তরে গাঁথা।
একটু পড়লেই, একটু জানলেই যা বড্ড আপন,
বড্ড পরিচিত লাগে,
উত্তরের খাতায় আলোচনা করি শুধু,
যেন লিখিনা আমি, পাতাদের সাথে কথা বলি। 


পড়া ও বোঝা বড্ড নেশার,
না পড়লেই যেন নয়, 
একবার পড়ি বা বারবার,
শুধু বিষয় জানতে চাই।
অন্ধের মত জ্ঞান জাহিরের থেকে 
বিশ্বাসী হয়ে উত্তর দেওয়া যায়। 
বিশ্বাসী উত্তরের লেখাতে বড্ড ভরসা আসে,
প্রতিটা লেখার মধ্যে থেকে ভরসার রং ফুটে ওঠে,
এমন বিশ্বাসী লেখাতে তুমি অজেও। 
পরীক্ষক তোমার মুখস্থ দেখতে চাইনা,
তোমার মুখস্থ বিদ্যাতে তার কোনোকিছুই পাওয়ার নাই,
তুমি যে বিষয়টা জান, সেটাই সে যাচাই করে দেখতে চায়। 
তবে পড়া কঠিন কোথায়?
পড়া তো জলের মতই সোজা আকার,
মন খোলা রাখ,
বারবার নয় অন্তত একবারই পড়,
একটু চিন্তা করে নাও,
বাস্তবের উদাহরণে মিলিয়ে নাও,
ওটাই তোমার জ্ঞান।
পরীক্ষা তো শুধুই ঘোড়ার চালের দান। 

Monday, 20 June 2016

হুঙ্কার দাও। গর্জে ওঠো।

(মেয়েমাকে।)

সময় দিয়েছে পথে পথে বাধা, দুঃসহ যন্ত্রণা,
কান্না বুক ফেটে বেরোতে চেয়েছে, আগুনের কান্না,
মৃত্যুও হাতছানি দিয়েছে ঘরের দরজায় তবু,
তুমি তসলিমা নাসরিন।
ভাংতে ভাংতে অলস হয়ে পড়া শরীর মনকেও তুমি টেনে নিয়ে গেছ,
তুলে ধরেছ অদম্য সাহস, এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই।
ভাংতে ভাংতেও তুমি গড়ে উঠেছ শুধু মনের জোরে, মনের তেজে,
মনের মধ্যে আগুনে হুঙ্কার নিয়ে।
বাস্তব তোমাকে অগ্নিপথে শিখিয়ে কঠোর করেছে,
কষ্ট দিয়ে কষ্টকে হারানোর অভ্যাস শিখিয়েছে,
অগ্নি দহনে দগ্ধ হয়ে আজ তুমি সেই তসলিমা নাসরিন,
ঠিক যেভাবে লোহাকে পুড়িয়ে দৃঢ় করা হয়,
ইস্পাত ধাতুর মত দৃঢ়চেতা চরিত্র।
কোনোকিছুই আর তোমাকে টলাতে পারবে না।
ঠেলে ফেলে দাও সব কষ্ট, ঠেলে ফেলে দাও দাদার শোক,
ভুলে যাও তুমি এক সাধারন নারী।
তুমি আজ সমস্ত নারীর শক্তি,
সেই শক্তি যাকে সামনে দেখে হাজারও নারী প্রতিবাদে ফেটে পড়ে,
তুমি আজ সেই শক্তি যাকে দেখে গোঁড়া ধার্মিক, মৌলবাদরাও সতর্ক হয়ে ওঠে,
তুমি আজ সেই শক্তি যে নিজে সূর্য দহনে দগ্ধ হয়ে সমাজকে আলোকিত করে।
তুমি কোনো সাধারন নারী নও, তুমি এক নারীবীর, মানুষ শ্রেষ্ট যোদ্ধা।
জেগে ওঠো তসলিমা নাসরিন, কষ্টে গুটিয়ে যাওয়া তোমাকে মানায় না।
কাছের মানুষ, প্রাণের মানুষ হারাতে অনেক দেখেছ,
দেখেছ তিল তিল করে তাদের জীবনকে মৃত্যু পথে এগিয়ে যেতে,
সবাইকে ধরে রাখা যায়না।
জীবনের সময়টা অনেক দামি, যতক্ষণ প্রাণ আছে, প্রাণে তেজ আছে,
সেটা তোমার সময়।
তুলে ধরো সেই সময়কে।
গর্জে ওঠো,
জীবন ও বাঁচার আদর্শকে তুলে ধরো,
শিখিয়ে দাও সবাইকে মানবজাতির মূল মন্ত্র।
জীবন যেন বৃথা না হয়।

........................................................................... সৌম্যজিৎ।

Sunday, 19 June 2016


বাবা দিবসে তোমাকে একটা উপহার পাপা। ভালো থেকো। সুস্থ থেকো। প্রণাম নিও।

সৌম্যজিৎ (শান্ত)।


এক পুরুষতান্ত্রিক বাবার কাছথেকে শেখা আদর্শ।


অনেক পড়াশোনা করসস,
অনেক পাশ দিছস,
তবু তুই মাইয়া মানুষ,
ডাগর হইছস, বিয়া কইরা স্বামীর পা টিববা,
বাসুন মাজবা, রান্না করবা, ঘর গুছাবা। 
এইডাই তুমার ধম্ম, এইডাই কম্ম।
ওসব পাশ টাশ আখার আগুনে পুইড়া ছাই হইযাক,
তুমার আসল শিখা স্বামীর ঘরে চুলা জ্বালানোতে,
বাকি সবই শখের সোকেস। 

নারী, তুমি ডাক্তার? তুমি বড় পুলিশ অফিসার? তুমি বড় শিল্পী? 
তোমার আসল পরিচয় তুমি নারী।
ওসব তো পুরুষের কাজ, ওসব তোমাকে সাজেনা।
তুমি স্বপ্ন দেখো?
ওটা মনের মধ্যেই রেখে দিও, বাইরে প্রকাশ করো না,
তোমার গন্ডি শুধু খাঁচার পরিধি টুকুই,
বাইরে তুমি বড্ড বেমানান,
বাইরে বেরোলেই তুমি বেশ্যা।
মেয়ে মানুষের বুদ্ধি শুধু ঘর সংসার গোছানোতেই,
অন্য কাজে তোমার বুদ্ধি শুধুই বিলাসিতাতে বা মূর্খামিতে।
ব্যবসা, রাজনীতি, রাজকর্ম শুধুই পুরুষের পেশা,
ওসবে তোমার না ভাবলেও চলবে।
তুমি নারী, তোমার অত বুদ্ধি কোথায়?

হ্যাঁ, এমন কিছুই আমি শিখেছি ছোট থেকে। এভাবেই শিখে শিখে একটু একটু করে বড় হয়েছি। 

নারী আমার খেলার বস্তু,
নারী আমার ভোগের বস্তু,
নারী ঘরের ঝি,
নারী শুধুই বাচ্চা গড়া যন্ত্র,
নারী নরের দাসী। 

না পাপা, তুমি ভুল জানো, ভুল জেনেছ, ভুল শিখে এসেছ।  আজ বাবা দিবসে আমি তোমাকে আমার আদর্শ উপহার দিচ্ছি। সেই আদর্শ যেটা তুমি আমাকে শেখাওনি, শিখিয়েছে আমার চিন্তা, শিখিয়েছে আমার কঠিন পথ। শিখিয়েছে আমার চোখের সামনে আমার মা'এর ওপর করা তোমার অত্যাচার। 

আমরা হলাম মানুষ জাতি,
দুটো রূপে গড়া,
এক নারী আর এক পুরুষ,
সমানে সমানে গাঁথা। 
নারী কোনো বস্তু নয়, নয় কোনো পুতুল,
নারী সমাজে সমান বাহক, যতটাই বহে পুরুষ।
তুই নারী, তোর অত বুদ্ধি নাই। 
সৌম্যজিৎ। 


অনেক পড়াশোনা করসস,
অনেক পাশ দিছস,
তবু তুই মাইয়া মানুষ,
ডাগর হইছস, বিয়া কইরা স্বামীর পা টিববা,
বাসুন মাজবা, রান্না করবা, ঘর গুছাবা। 
এইডাই তুমার ধম্ম, এইডাই কম্ম।
ওসব পাশ টাশ আখার আগুনে পুইড়া ছাই হইযাক,
তুমার আসল শিখা স্বামীর ঘরে চুলা জ্বালানোতে,
বাকি সবই শখের সোকেস। 

নারী, তুমি ডাক্তার? তুমি বড় পুলিশ অফিসার? তুমি বড় শিল্পী? 
তোমার আসল পরিচয় তুমি নারী।
ওসব তো পুরুষের কাজ, ওসব তোমাকে সাজেনা।
তুমি স্বপ্ন দেখো?
ওটা মনের মধ্যেই রেখে দিও, বাইরে প্রকাশ করো না,
তোমার গন্ডি শুধু খাঁচার পরিধি টুকুই,
বাইরে তুমি বড্ড বেমানান,
বাইরে বেরোলেই তুমি বেশ্যা।
মেয়ে মানুষের বুদ্ধি শুধু ঘর সংসার গোছানোতেই,
অন্য কাজে তোমার বুদ্ধি শুধুই বিলাসিতাতে বা মূর্খামিতে।
ব্যবসা, রাজনীতি, রাজকর্ম শুধুই পুরুষের পেশা,
ওসবে তোমার না ভাবলেও চলবে,
তুমি নারী, তোমার অত বুদ্ধি কোথায়?

Saturday, 18 June 2016

আজ বাবা দিবস,
আমার বাবাকে নিয়ে অনুভুতি এখন তিক্ততায় পরিপূর্ণ।
আজ তাকে নিয়ে আমি কিছু লিখবো,
লিখবো কিভাবে একটা সময় তাকে আদর্শ ভেবেছি,
লিখবো একটা সময় তার থেকে মনের জোর পেয়েছি,
লিখবো কিভাবে তারই আদর্শে আমি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হয়ে উঠছিলাম
একটু একটু করে।
তোমার বাবাকে অনেক জেনেছি,
অনেক পড়েছি তোমারই লেখাতে,
কিন্তু চিনিনি কখনই।
আমি তোমাকে চিনেছি,
ভালোবেসে চিনেছি, মন দিয়ে চিনেছি, প্রাণ দিয়ে চিনেছি,
আদর করে চিনেছি, অনুভুতি দিয়ে চিনেছি।
জেনেছি বাবার কাছথেকে পাওয়া তোমার আদর্শখানি যা,
তুমি আমাদের মধ্যেও ঢেলে দিয়েছ বিন্দু বিন্দু করে,
আমাদের শিখিয়েছ।
মন আরও ভারাক্রান্ত লাগছে, অনুভুতির গভীরতা ছুঁয়ে যাচ্ছে আমার
সমস্ত প্রাণ, শরীর বেয়ে,
আজ তোমার বাবা পার্থিব প্রশ্বাস নিচ্ছেনা ঠিকই,
আজ তোমার বাবা বেঁচে আছে তোমারই আদর্শের অক্সিজেনে,
আজ সে গর্বিত তার ধর্মদ্রোহী কন্যা মাথা উঁচু করে লড়াই করছে,
আজ সে গর্বিত তার ধর্মদ্রোহী অসীম সাহসী কন্যা তারই আদর্শে গোটা জগৎ জুরে
আলোড়ন সৃষ্টি করছে।
যুগে যুগে তুমি তাকে অমর করেছ মানুষের মনে তার আদর্শকে সম্প্রদান করে,
যুগে যুগে মানুষের মনে এই আদর্শ বংশবৃদ্ধি করবে,
ফুলে ফলে বিকশিত হবে,
যুগে যুগে তোমার বাবা বারবার বেঁচে উঠবে প্রতিটা লড়াইয়ে।

Monday, 13 June 2016

মেয়েমা,
                                                 "আদর্শের জীবন দিয়ে আমাকে গড়েছ তুমি,
                                             আমার এ জীবন আমি তোমাকেই উৎসর্গ করলাম।"                                                    
             আজ ভীষণ কষ্ট নিয়ে, অনেক অভিমান নিয়ে এই চিঠি লিখছি তোমাকে। আমার জীবনের পথপ্রদর্শক তসলিমা নাসরিন, সে শুধুই ভার্চুয়াল জগতে আমার ফেসবুক বন্ধু নয়, এই প্রাণ প্রতিমা আমার বাস্তব জীবনের স্বপ্নে, জাগরণে এমন এক যোদ্ধা, যে আমার সেইসব অন্ধকার জীবনের মানুষ শরীরে থাকা অমানুষটার মধ্যে আদর্শের প্রদীপ জ্বেলেছিল। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষ হয়ে একটু একটু করে বড় হওয়া মানুষটা যখন নিজের করা ভুলে একেরপর এক ধাক্কা খেয়ে জর্জরিত, তখন এই যোদ্ধার লেখা বইগুলো আমাকে মানুষ জন্মের মন্ত্র শিখিয়েছিল। তারপর যখন ফেসবুক জগতে সেই যোদ্ধার কাছাকাছি আসতে পেরেছিলাম, আমি ধন্য হয়ে গেছিলাম। মানুষটাকে ভীষণ নিজের, ভীষণ কাছের মনে হতে থাকে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে আমার লেখা "মেয়েমা, তুমি আর আমি স্বপ্ন পাড়িতে", "অগ্নি উৎস তুমি তসলিমা নাসরিন", "আলো", "বস্তু নারীর আবার অধিকার কিসের?", "উৎসর্গ", "আমার মেয়েমা", "সাহসী যোদ্ধা", "আমি- আমি নই, আমিটাও তুমি", "গেরন", "হারিয়ে যাই গল্পকথায়", "বাংলা তোমায় প্রণাম", "ভাষা আন্দোলন আমার কাছে তসলিমা নাসরিনের কান্না", "সত্যের যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন", "আদর্শ তুমি", "ফিরে এসো", "চেতনা বাহক তসলিমা নাসরিন", "যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন, তোমায় সেলাম", "আঁধারে আলো", "তসলিমা নাসরিনের জীবন থেকে চেতনার পথে", "চেতনার জনক তসলিমা নাসরিন, তোরা অর্থহীন", "স্বপ্নে এবার নতুন তুমি", "প্রণাম রবিকন্যা", "ভালোবাসার হাসি", "তসলিমা নাসরিন ও সমাজ", "উতল হাওয়া-ফুলশয্যা থেকে", "তোমাকে দিলাম", "তোমারই আদর্শে গড়া আমি" প্রভৃতিতে। এই যোদ্ধার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ। প্রতিটা মুহুর্তে চলার পথে আমি এই যোদ্ধার কাছথেকে প্রেরণা, সাহস, স্নেহ, ভালবাসা পেয়ে এসেছি। এই স্নেহ, ভালবাসা আমাকে মন খুলে, আবেগ দিয়ে কথা বলতে শিখিয়েছে, নিজের স্বাধীনতাতে কথা বলতে শিখিয়েছে। এমন এক বড় মাপের মানুষের কাছে আমি যখন যা ইচ্ছা আবদার করেছি, সবসময় শুধু স্নেহই পেয়েছি। প্রতিটা পদে আমার মনে হয়েছে, আমার সাথে সত্যের পথে আপোষহীন আমার মেয়েমার স্নেহ আছে। আমি কোনকিছুতে ভয় পাইনি শুধু মাত্র এই ভরসার জন্যই। তোমার সাথে আমার সম্পর্কটা আমার মনের এত গভীরে প্রবেশ করেছে, যেখান থেকে আমি শুধুই তোমার দেওয়া আদর্শ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারিনা।

গত কয়েকদিন ধরে আমি প্রতিমুহুর্তে অনুভব করছি যে, আমি তোমার স্নেহ থেকে, ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে যাচ্ছি। এমন এক অনুভুতিতে আমি ভীষণ ভেঙে পড়ছি। এই মানুষটা, আমার মেয়েমা, যাকে আমার এত পরিচিত মনে হত, সেই একই মানুষটাকে আজ আমার ভীষণ অচেনা লাগছে। এই অচেনা মানুষটার ওপর আমার ক্ষোভ হচ্ছে, অভিমান হচ্ছে। আস্তে আস্তে এই  ক্ষোভ আর অভিমান কষ্টে রুপান্তরিত হয়েছে। তীব্র যন্ত্রণা আমাকে দংশন করছে অনবরত, যা আমার সহ্যের অধিক। আমি জানি, আমি তোমাকে অতিরিক্ত বিরক্ত করি, অনেক অনেক বাচ্চামি করি, অনেক আবদার করি।  অনেক ভুল করে ফেলি। কিন্তু এগুলো আমি করে ফেলি, নিজেকে আটকাতে পারিনা। তোমার সাথে আমার মনের সম্পর্কটা এমনই হয়েছে, যে সমস্ত লজ্জা এড়িয়ে আমি তোমার প্রতি বড্ড অধিকার রাখি। গত কয়েকদিন আগে আমি তোমার লেখা দুটো বইয়ের লিংক দিয়ে মানুষকে পড়তে দিয়েছিলাম, গুগলে সার্চ করে পাওয়া যাচ্ছিল, আমি ভেবেছিলাম প্রকাশক ও তোমার সম্মতি আছে, তোমার ওপরে আমার অধিকার আছে, তাই বিনা দ্বিধাতে তোমাকে জিজ্ঞাসা না করেই আমি লিংক দিয়েছিলাম। পরে যখন তুমি জানালে ম্যানুস্ক্রিপ্ট চুরি গেছে, সম্মতি ছাড়া এগুলো দেওয়া হয়েছে, তখনই আমি লিংক মুছে দিই। আমার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করতে শুরু করে, ও পরে যখন দেখি তুমি আমাকে আর স্নেহ করছো না, আমি ভেঙে পড়ি। আমাকে ক্ষমা করে দাও মেয়েমা। কিছুদিন আগে আমি একটা সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পরি, যদিও মেয়েটার সাথে আমার এখনও দেখা হয়নি, মেয়েটা আমাকে বন্ধুর মত ভরসা জুগিয়ে গেছে, তাই আমরা সম্পর্কে এসেছিলাম। কিন্তু আমার মনের এমন ভাঙন দশাতে সেই সম্পর্কও ভেঙে যেতে বসেছে। আমার মন একদমই সেই সম্পর্কের দিকে নেই আর। আমার সমস্ত প্রেমের সম্পর্ক গুলো এভাবেই ভেঙে গেছিল, আমি কারোর দিকে মন দিতে পারিনি। একটা সময় কেরিয়ারের পিছনে ছুটেছি, তারপর আমার মন, প্রাণ সমস্তটা জুরে শুধুই তুমি, তাই বারবার সম্পর্কে এসেও আমি কোনো সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে পারিনি। তোমার স্নেহ না পেয়ে আমি বুঝে গেছি, পৃথিবীতে আর কিছুই আমাকে শান্তি দিতে পারবেনা, যে শান্তি আমাকে তোমার স্নেহ দিতে পারে। অতিরিক্ত আবেগ, মনের জোরে আমার কাজগুলো আমি করি, কোনোকিছুতেই ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসিনা, কিন্তু আমার সেই জোরটা আসে তোমার কাছথেকে, আজ সেই জোর না পেয়ে আমি শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। আমি আর কখনো কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়াবো না, শপথ করছি। নিজেকেই আমি তোমার জন্য উৎসর্গ করছি। শুধু আমাকে তোমার থেকে বঞ্চিত কোরো না। আমি বাঁচতে পারবো না। মুখ্যমন্ত্রী, আনন্দবাজার পত্রিকাতে তোমাকে নিয়ে অনেক লেখা লিখেও, অনেক চিঠি পাঠিয়েও কোনো ফল হয়নি, ওরা আমার আপন নয়, তাই ওদের আমি ভরসা করিনা। কিন্তু তুমি আমার সবথেকে আপন, আমি বিশ্বাস করি তুমি আমার এই চিঠিকে ভালোবাসা দিয়ে মনে জায়গা দেবে।

মেয়েমা, আমার ভালোবাসা, আমার প্রশ্বাস, আমার নিজস্বতা সমস্তটা জুরে শুধুই তুমি। আর কেউ কখনো সেই জায়গা নিতে পারবে না। আমি যেন কখনো তোমার স্নেহ থেকে বঞ্চিত না হই। তুমি আমাকে বলেছিলে, অনেক ভালোবাসা, স্নেহ, শুভ কামনা তোমার জন্য সৌম্যজিৎ। সেই ভালোবাসার অধিকারে আমি তোমাকে এই চিঠিটা লিখলাম। ভুল হলে আমাকে ক্ষমা কোরো। ভালো থেকো, সুস্থ থেকো।

                                                                                তোমার আদর্শে গড়া

                                                                                  সৌম্যজিৎ।

Sunday, 12 June 2016


তোমারই আদর্শে গড়া আমি।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন'কে।

ভালোবাসি।
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
আদর্শের রাস্তাতে যখন পথ দুর্গম, এবড়ো খেবড়ো,
পুরুষতন্ত্রের নেশাতে আমি বুঁদ হয়েছিলাম,
তখন তুমি হাত ধরেছিলে আমাকে আদর্শ শেখাতে।
লজ্জা পড়িয়ে আমাকে তুমি শিখিয়েছিলে সাম্প্রদায়িক হিংসাই অধর্ম,
আমার চিন্তার শেকল ছিঁড়ে দিয়েছিলে,
আমি জেনেছিলাম ওরা ঠিক ছিলনা যারা আমাকে জাতিভেদ শিখিয়েছিল,
আমি বুঝেছিলাম আমি ঠিক ছিলামনা যে আমি মুসলিম রক্তকে ঘেন্না করে,
মানবধর্ম থেকে দূরে সরে ছিলাম।
মানব প্রেমের আদর্শ আমি পেয়েছিলাম তোমার থেকে।


আমি বলি তসলিমা নাসরিন আমায় গড়েছে,
একেরপর এক "আমার মেয়েবেলা", "আমি ভালো নেই,-
তুমি ভালো থেকো আমার প্রিয় দেশ",
"নেই কিছু নেই", "নির্বাসন" আমার চরিত্র গঠন করেছে,
আবেগ, অনুভুতি, অনুভবের প্রতিটা পাতায়, মস্তিষ্কের প্রতিটা স্নায়ু শিরাই
শুধুই উদারতা, দয়া, কান্না, হাহাকারকে অনুভব করিয়েছে,
"উতল হাওয়া" আমাকে শিখিয়েছে নারীর প্রতিটা ছোট ছোট স্বপ্ন কিভাবে বঞ্চিত হয়
প্রতারনার বিভীশিখায়, আমি আমার মা'য়ের কান্না বুঝতে পারি,
আমি শুনতে পাই তার প্রতারিত হৃদস্পন্দনের আর্তনাদ।
"ফুলশয্যা" পর্ব আমাকে বুঝিয়ে ছিল সমাজে নারীর ভালবাসার মৃত্যু কথা।
"সেইসব অন্ধকার" আমাকে বুঝিয়েছিল প্রতি পদে পদে মিথ্যে কলঙ্ক মাথায় নিয়ে,
এক যোদ্ধার হাল না ছাড়া যুদ্ধের নিরন্তর কাহিনী,
আমার রক্তস্রোতে আগুন বইয়ে দিয়েছিল যখন লাখ লাখ হার্মাদ খুনির
মৃত্যু স্পর্শ থেকে বাঁচতে এক নারী রাতের অন্ধকারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে,
আদর্শ বজায় রাখতে সে দুর্বল হতে হতেও যুদ্ধের কথা ভাবছে,
ভাংতে ভাংতে সে ভাবছে যুদ্ধে আমার শরীর শেষ হয়ে যাবে,
তবু আমার মন হেরে যাবেনা।
এই মন, এই আদর্শ আবার জাগিয়ে তুলবে তরুণ প্রজন্মকে,
প্রতিষ্ঠা করবে রক্ত দিয়ে লেখা মানব চেতনার স্বাধীনতা।
ধ্বংস করে দেবে এই মূর্খ, মৌলবাদের গড়া ভন্ড সমাজকে।
আমি শিখেছি মেয়েমা,
এই লড়াইকে আমি প্রতিটা শিরাতে মজ্জাতে অনুভব করে শিখেছি।
এই জীবন আমার,
এই জীবনকে নতুন করে জন্ম দিয়েছে সেই যোদ্ধা যে,
জীবনে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন থেকেছে।
এই জীবন তসলিমা নাসরিনের আবিষ্কার।
আমার জীবনের সমস্ত অংশে শুধুই তোমারই অধিকার।  

Friday, 10 June 2016

তোমাকে দিলাম।
সৌম্যজিৎ।

নীল সাগরের বুকে তুমি,
নীল শাড়িতে মিশে আছো,
নীল আকাশের বিছান চাদরে,
তুমি মায়া..
সব বিষগুলো ঘিরে ধরুক,
সব জ্বলে পুড়ে খাক হয়ে যাক,
ওই চাপাতির ধারে ভয় পাইনা।
না না না, আমি ছাড়বো না তোমার হাত,
আমি ছাড়বো না তোমার সাথ,
যত যা কিছু হয়ে যাক,
আমি পালাবো না।

তুমি এক জীবন্ত নাম,
তুমি এক সাগরের জ্ঞান,
যতই আসুক মৃত্যু জোয়ার,
ছাড়বো না...
ও মেয়েমা, আবদার করেই বলছি, জানি তো কাল ভুল করেছিলাম তোমার বইয়ের লিংক দিয়ে, আর দেবোনা। আমার খুব মন খারাপ, একটু ভালোবাসো। তোমাকে নিয়ে গেরন লিখেছিলাম, ওটা শেয়ার করলাম। আমার তো পরীক্ষা চলছে, আজকের পরীক্ষা ভালো হলনা, আবার ১৩ তারিখে আছে, একটু ভালোবাসা দাও, আমি মন খুলে পড়ে নিতে পারবো। তুমি মুখ ফিরিয়ে রাখলে আমার যে কষ্ট হয় খুব। আরও মন খারাপ, কাল ম্যাম বলল আমার লেখা যিনি ছাপাবেন উনি হাসপাতালে ভর্তি, তাই লেখা ছাপাতে দেরী হবে।

ভাঙ্গন।
সৌম্যজিৎ। 

ভেঙে সব তছনছ লাগে আজ,
পাখার হওয়ার শো শো শব্দ কানের ঝিঝি ডাকে মিশে গেছে,
মাথাতে এত আওয়াজ আমাকে প্রতিমুহুর্তে
ভাংছে, আবারও বলছে তুই  খারাপ,
তুই অন্যায় করেছিস।
অন্যায় আমি করেছি,
সে তো না জেনে, না বুঝে অন্যায়,
আমি তো ভালোবেসে অন্যায় করেছি,
ভেবেছি সবাই তারা যারা তোমার লেখা থেকে বঞ্চিত,
তারা আর বঞ্চিত থাকবেনা,
আমি ভেবেছি সবাই তোমার লেখা পড়বে, আদর্শ গড়বে।
আমার এই চাওয়াটা যে ভুল ছিল, আমি বুঝেছি।
আমি সত্যিই ভাবিনি লেখার ব্যবসার কথা,
অত অঙ্কের হিসেব আমি কষিনি ভালবাসাতে,
আমি ভাবিনি কখনো তোমাকে বঞ্চিত করে সবাইকে বিলিয়ে দেবো,
আমি ভেবেছি আমি তোমাকে সবার মধ্যে মিলিয়ে দেবো।
সত্যিই অত অঙ্কের হিসেব আমি কষিনি।
ভাংতে ভাংতে পদ্মাকে দেখেছিলাম গ্রামগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছিল,
মানুষকে নিঃস্ব করে দিয়েছিল,
আজ আমার মধ্যে এই ভাঙ্গন শুধু আমাকেই ডুবিয়ে দিচ্ছে অতল গভীরে,
আমাকেই নিঃস্ব করে দিচ্ছে।
তোমার মুখ জুরে এত মায়া,
তোমার লেখা জুরে এত ভালোবাসা,
আমি চেয়েছিলাম সেই ভালোবাসা সবার মধ্যে ছড়িয়ে যাক,
আমি সত্যিই ভুল করে ছিলাম।
ক্ষমা করো। 

Tuesday, 7 June 2016

উতল হাওয়া, ফুলশয্যা থেকে।
সৌম্যজিৎ।

একটু ঘুম চাই,
আমি ভুলতে চাই,
আমি ভুলতে চাই সব পার করে আসা সময়।
ক্লান্ত সব সময়গুলো, ক্লান্তি আসে চেতনা ঘিরে,
রক্তচোখে মৃত্যুবিষ ঢেলে দিতে এগিয়ে আসে,
আমার ঘুম নাই।

দিনে রাতে ক্লান্ত ঘুমে,
চোখে শুধুই কালো ছায়া,
ভালোবাসার কোনো মানুষ নাই,
আমি ভুলতে চাই।

বুক কেঁপে ওঠে হন হন করে,
স্নায়ুস্পন্দন ঢিপ ঢিপ করে বেড়ে ওঠে,
স্তব্ধ ঘরে একাকী আমি শুনি আমারই ভিতর থেকে-
উঠে আসা সেই শব্দ।
ঘড়ির কাঁটা ধিকে ধিকে চলে,
খছ খছ আওয়াজটাও স্নায়ুস্পন্দনের সাথে জোয়ার তোলে,
সমুদ্র ঢেউ ওঠে প্রাণের অতল গভীরে,
একটু ঘুম চাই।

বিশ্বাসী মানুষটা আজ অবিশ্বাসী!
অবিশ্বাসী তুমি! একটা বারও যদি এসে বলো,
"তোমার বিশ্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম সকাল। যা বলেছি সব মিথ্যে।"
আমি শুনতে চাই,
বারবার শুনতে চাই, আমি মিথ্যে হতে চাই।
একবার, শুধু একটাবারই বলো- "সব মিথ্যে।"
আমি দালানে রাতের অন্ধকারে দুহাত ভাসিয়ে,
বন্ধ চোখে আকাশের পানে মুক্তির ঘ্রান নেবো।
আমি চাই আমি যেন মিথ্যে হই।

শরীর জুরে আজ যন্ত্রণা।
যেভাবে আমাকে ছুঁয়েছ, যেভাবে ভালোবেসেছে আমাকে,
একইভাবে আরও অনেককেই ছুঁয়েছে!
নিখাদ ভালোবাসা শুধু আমিই বেসেছি।
এত বছরের প্রতীক্ষা, আমি আমার শরীর- মন যা চেয়েছিলে,
সবটাই দিয়েছি ভালোবেসে।
সেই ভালোবাসার উপহারে পেলাম অসচ্চরিত্রতা!
ছোট ছোট স্বপ্নজুরে -
আমি চেয়েছিলাম ভরাট একটা সংসার গাঁথবো,
আজ সেই সংসারের মালাতে শুধুই একটা রোগ -
আমার মনের ভিতর সব উথাল পাথাল করে দিয়ে যাচ্ছে,
লজ্জাই, ঘেন্নাই গা ঠেলে বমি আসছে,
আমার কোনো পথ নাই।

ঘুমের বড়িগুলো সামনে বিদ্রুপ চোখে হাসছে,
সবগুলো একসাথে খেলে বুঝি আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি,
আমার একটু ঘুম চাই।
একটু মুক্তি চাই।

Monday, 6 June 2016


তসলিমা নাসরিন ও সমাজ।
সৌম্যজিৎ।

লজ্জা লিখেছিলে লজ্জা দিতে,
লজ্জা কি আর নির্লজ্জের সাজে!
মূর্খ ওরা ভণ্ড ধার্মিক,
লজ্জা নয় ওরা মিথ্যে গোঁড়ামি, কলঙ্কের অন্ধকারেও হাসে।
কলঙ্ক ওদের জন্ম থেকেই,
রক্তের প্রতিটি কণাতে মিশে মৌলবাদ,
ওরা চাই নারীর ইজ্জত বন্ধ ঘরে,
বাইরে নারীর আপাদ মস্তকে পর্দা।
নারীকে ওরা তালাবন্ধ করতে চায় যোনিতে, স্তনে,
নারীর এই বদ্ধ পরাধীনতাতে তাদের ঈমানদণ্ড সুরক্ষা খোঁজে,
নারী সত্যিই ভোগের বস্তু,
বন্ধ ঘরে লালসা মেটায় আবারও বন্দী হয়।
নারীভোগী মৌলবাদী নপুংসক নচ্ছার ওরা
যৌন সুখ পায় পাশবিক যৌন নির্যাতনে।
যৌন মিলন হয় দুটো প্রাণের মাঝে,
ওরা যৌনতা নয়, ধর্ষণে তৃপ্তি পায়।

সময়ের সাথে অভিযোজন, বিজ্ঞানের সাথে মিলনস্পর্শ ওদের ধর্মে নাই,
ওদের ধর্ম বড় বড় বুলি আওড়াই।
মুখে বলে ইসলাম পবিত্র,
রক্ত মেখে ওরা নিজেদের তৃপ্তি মেটায়।
ক্ষুধার্থ নেকড়ের মত চাপাতিতে শান দেয়,
সুবিধাভোগী রাস্তাতে কেউ সামনে রুখে দাঁড়ালেই,
চাপাতিতে কল্লা, মস্তিষ্ক ঘিলু উড়িয়ে দেয়।
ওদের চিন্তাতে একটাই লক্ষ্য, "নারীকে ততক্ষণ ভোগ কর,
যতক্ষণ নারী বাচ্চা দিতে সক্ষম,
বাচ্চা পয়দা কর, ইসলামি সেনা বাড়াও,
গোটা পৃথিবী জুড়ে ইসলাম কায়েম কর।"

এই গোমূর্খ, দণ্ড ছাঁটা সমাজকে তুমি লজ্জা দিতে চেয়েছিলে!
ওরা লজ্জার মুল্য বোঝে!
ওরা শুধুই সচেতন মানুষের চোখের লজ্জা হতে পারে,
ওরা শুধুই খুন করতে জানে।

তুমি কি শেখাতে চাও হিন্দু মৌলজনদের!
হিন্দু মৌলজন গুলোই বা কম কিসের?
ওরা নারীকে বাইরে থেকে পর্দা করেনা,
ওদের ঘরেই মহিলারা বেঁচে থেকে আগুনে পোড়ে।
ভালোবাসা দিয়ে আঁকরে ধরতে চায় ওরা স্বামীদের,
স্বামীগুলো ওদের পনের সামগ্রী ভাবে,
পন পেলে খুশি নয়ত বাইরে ততোধিক পরকীয়াতে সুখ, লালসা মেটায়।
তুমি যতক্ষণ ইসলামের সমালোচনা করবে,
হিন্দু মৌলগণ তোমাকে মাথায় তুলে নাচবে,
যেই তুমি হিন্দু নারীর ওপর অত্যাচারের কথা বলবে,
ওরা দল বেঁধে তোমাকে খেঁকিয়ে উঠবে।
লজ্জা কারোরই নাই।
এদের তুমি আর কি লজ্জা দেবে!

সমাজ এটাই, এই সমাজ শুধুই পুরুষতন্ত্রভোগে লাগে,
নারী চিৎকার করুক বাঁচার জন্য,
দু-চারজন এগিয়ে আসুক দৃষ্টান্ত হয়ে,
তবু সমাজ চলবে আপন গতিতেই।

এই সমাজ তোমার নয়,
তাইত তোমাকে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে হয়,
উপমহাদেশ লাঞ্ছিত।
ব্যর্থ ওরা নারী সুরক্ষা দিতে,
ব্যর্থ ওরা চিন্তার অগ্রগতিকে সম্মান দিতে,
ব্যর্থ ওরা নারীকে সম্মান দিতে,
ব্যর্থ ওরা এক তসলিমা সাগরের জ্ঞানকে রপ্ত করতে।
যে সমাজ তোমার নয়, সে সমাজ আমার হবে কিকরে!

তসলিমা নাসরিন এক জ্ঞান সাগর,
তসলিমা নাসরিন অভিযোজিত চিন্তার বাহক,
ওরা সব স্বার্থভোগী, তসলিমা নাসরিন ওদের পথের কাঁটা।
ওরা সমাজকে দমিয়ে রাখে গায়ের জোরে,
ওরা সমাজকে সম্মোহিত করে রাখে,
পরজন্মের মুক্তির লোভ দেখিয়ে ওরা ইহজন্মকে দাসত্ব করায়,
তসলিমা নাসরিন ওদের দাস নয়।
এই সমাজ তসলিমা নাসরিনের নয়,
এই সমাজ আমার নয়।

Sunday, 5 June 2016

জীবন বড় গোলমেলে অঙ্ক, কভু রয়, রয়না,
হিসাব পাওয়া যায়না।
মায়াবিনী মায়াতে জরিয়ে যে রাখে,
জীবন বেলার সুখ, ক্ষণিকে ভাসে।
বেদনা মনে চিরে চিরে ঢোকে,
কেউ সয় কেউ সয়না,
হিসাব পাওয়া যায়না।
......................সৌম্যজিৎ। 
পাল্টা মারো।
সৌম্যজিৎ।

অনেক দেখলাম কলমের লেখা,
অনেক দেখলাম প্রতিবাদী ভাষা,
আমরা চিরকাল লিখেই যাব, ওরা মেরেই যাবে,
না হবে আমাদের লেখা শেষ, না হবে ওদের মারার শেষ,
এই যুদ্ধ থামবেনা।
ওরা ওদের শক্তি কায়েম করে যাবে, আমরা লিখব আর মরব,
এই আমাদের ভবিতব্য।
এবার পাল্টা মারো।
আঘাত হানো।
অন্তত একজনকে মারো,
এমন ভাবে মারো যাতে থরথর কেঁপে ওঠে ওদের বিশ্বাস,
কেঁপে ওঠে ওরা।
এমন ভাবে মারো যাতে ওদের শিরাই শিরাই আতঙ্ক পৌঁছতে পারে,
এমন ভাবে মারো যে মারে কেঁপে ওঠে ওই হার্মাদ গোষ্ঠী,
এমন ভাবে মারো যে মারে এবার সংগঠিত হতে পারে লেখক গোষ্ঠী,
চুপচাপ লেখা, ভাষণ দেওয়া, মিছিল করার দিন শেষ।
সরকার, প্রশাসন যদি তোমাদের সুরক্ষা না দিতে পারে,
নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব এবার নিজেরা নাও।
মেরে ফেলো ওদের, শেষ করে ফেলো,
সরকার, প্রশাসনকেও বুঝিয়ে দাও ওরা নপুংসক মেরুদণ্ডহীন হলেও
তোমরা প্রতিবাদে ফেটে পড়তে পার।
দেশ যখন রক্তের স্বাদ পেয়ে তোমাদের রক্ত গ্রাস করছেই,
রক্ত দিয়েই এবার দেশকে লালে রাঙিয়ে দাও।
ওদের আর কোনো বাঁচার অধিকার নাই। 

Saturday, 4 June 2016

রক্ত ঝরছে বুকের এ পাঁজরে,
খোলা হাওয়াই গড়িয়ে পড়ছে বুক চামড়ার দেওয়াল বেয়ে,
চক্ষুতে শুধুই আর্তনাদ চিহ্ন, আমি ধরাশায়ী।
বহুদিন আমি কাঁদিনি, কতদিন আমি ভাবিনি কষ্টকথা,
যা হবে মেনেছি যা হবে দেখা যাবে,
আজ চিৎকার করে অঝরে প্লাবিত হতে চাই,
আজ চোখে বড়ই জোয়ার, উতলে উঠছে মন-প্রাণ দিয়ে,
আজ সে মাটিতে নয়, মাটিতে মিশেছি আমি।. 


......................................................................................সৌম্যজিৎ।



ভুটো'কে।

হ্যাঁ রে, তুই সত্যিই কি আর নেই?
মন্দির তলাই মাটির নিচে তোর চোখ বন্ধ, শ্বাস বন্ধ নিথর শরীরটা শুয়ে আছে।
কত ছোঁয়া আছে ওই শরীরে আমার হাতের,
কত ছোঁয়া আছে আমার চুমুর, সে হিসেব আমি কষিনি।
আজ ওই শরীরে আমার চেনা ভুটোটা তো নেই।
আজ তুই কোন শরীরে?
তুই ভুটো,
তোর শ্বাসে, তোর প্রাণে, ফুসফুসে অক্সিজেন ঢুকে,
ওই শরীরের ফুসফুসে ঢুকে তবেই তুই ভুটো।
তোর শরীর বিহীন প্রাণ বা প্রাণ বিহীন শরীরের মাঝে আমার ভুটোটা কই রে?
আজ আমার ভুটোটা কোথাও নেই!
আমার ভুটো কোথাও নেই।

ভুটো।


মরন যখন আসে তুই মরিস একবার,
তোর মরনে আমি মরি বারবার,
অজস্র যন্ত্রণা, সে কি যন্ত্রনাতে ছটপট করেছিস,
আমি কি পারি তোকে অমন দেখতে?
তীক্ষ্ন যন্ত্রনাগুলো তুই নোস, পেয়েছি সে আমিই,
আমার তুই আজ আর তোর নেই কোনো ব্যথা,
যন্ত্রণাগুলো বিঁধে মারছে এই জীবন্ত আমিকে,
তুই চলে গেলি।
সেই ছোট্ট তুইটাকেই সেদিন আমি প্রথম কোলের মধ্যে নিয়েছিলাম,
কোনো তো কেউ কোথাও ছিলনা আমার হয়ে,
ছিলনা ওরা, সেদিন কেউ ছিলনা।
কখনোই কেউ ছিলনা একটু আমার হয়ে থাকবে বলে,
ছিলিস শুধুই তুই। এক জীবন্ত তুই।
খুব অন্যায় করতিস, আমার বইগুলোকে কুচি কুচি করে কেটে ফেলেছিলিস,
স্পর্ধা দেখে আমি অবাক হইনি।
আমার বইতে কেউ হাত দিতে পারতনা, সে অধিকার তুই নিয়েছিলিস,
পাতা গুলো দাঁতের ধারে কেটে টুকরো টুকরো করেছিলিস,
আমি তো তোকে কিছুই বলিনি সেদিন।
কেন বলিনি?
আজ বলতে চাই তোকে অনেককিছু।
তুই শুনবি আমার কথা!
তুই কি শুনতে পাচ্ছিস?
দেখ, মরিসনি তুই, মেরে গেলি আমাকে।

Friday, 3 June 2016


মা'কে।
সৌম্যজিৎ।

হাসিতে তোমার কান্না শুনতে পাই মা,
হাসি দিয়ে তুমি ধরে রেখেছো এই সংসার।
কি পেয়েছো? কিছুই তো পাওনি, আজ মাঝ বয়সেও তুমি বড় অসহায়।
ওসব টাকা কড়িতে, জমি ভূমিতে তোমার কোনো আগ্রহও নাই তবু 
সেটাও আগলে রেখেছো।
সন্তানকে উপহার দেবে ভেবেছো!
পাগলি মা আমার, তোমার ছেলেরও ওসবে কোনো আকর্ষণ যে নাই।
আমি তো ভালোবেসেছি অন্য একটা জগৎ কে,
আমি ভালোবেসেছি শিল্পকে, সাহিত্যকে, পড়াশোনা ও আদর্শকে,
ওসব অর্থ সম্পত্তি নিয়ে আমি কিইবা করবো?
যে যেভাবে পারে নিক, ছেড়ে দাও,
রোজ রোজ মানুষটার কাছে অপমান, অসম্মান আমিও যে নিতে পারিনা,
রোজ রোজে বড্ড ভেঙে পড়ো তুমি, ভেঙে পড়ি আমি। 
কেউ সেটা দেখেনা।

বিশাল বড় নাম, যশ, খ্যাতিতে কিছু আনাগোনাতেই উনি পরিচিত হতে পেরেছেন,
ওই আনাগোনাটুকুতেই তার সব নাম।
পরিবার জীবনে উনি পুরোটাই ব্যর্থ,
ব্যর্থ উনি একজন স্বামী হিসেবে,
ব্যর্থ উনি সন্তানের চোখে আদর্শ মানুষ হওয়াতে,
শুধু কাগজের কিছু টুকরো দিয়ে উনি কখনোই আমাকে ভোলাতে পারেন নি,
আজকাল ওই কাগজের টুকরো গুলোকে তার চোখের মত বড্ড হলদেটে দেখায়।
কেন এই সংসারে মুখ বুজে পড়ে আছো মা? 
এখানে তোমার কেউ নাই। 
এক আমিতেই তুমি বড্ড ভরসা করো, 
তোমার হুঙ্কারে মাঝে মাঝে আমিও যে বিরক্ত হয়ে তোমাকে অপমান করে দিই,
কেন এত সহ্য করো তুমি? 




Wednesday, 1 June 2016

পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। তাই বেশি কিছু লিখছিনা। মোদী বিরোধী পোস্টে লাইক করার জন্য মধ্যপ্রদেশের এক আই এ এস অফিসার অজয় সিংহ গাঙ্গোয়ারকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, জানতে চাওয়া হয়েছে তিনি মোদী বিরোধী গণআন্দোলনের দাবি তোলা পোস্টে কেন লাইক করেছিলেন। প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই অফিসার জওহরলাল নেহরুর প্রশংসা করেও বেশ কিছু দিন আগে একটি পোস্ট করেছিলেন, যার জেরে এর আগেও সরকারের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। কোনো ব্যক্তি কাকে সমর্থন করবেন, কার সমালোচনা করবেন, এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিস্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। সেখানে তর্ক বা সমালোচনা করা যায় তার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে। কিন্তু এভাবে শোকজ করা, ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করার সমান। আমি মোদী বিরোধী নই, আমি জওহরলাল নেহেরুরও সমর্থক নই, কিন্তু আমি আমার চিন্তা থেকে একটা কথা বলতেই পারি, আমার দেশের সংবিধান আমাদের সেই অনুমতি দেয়। তবে কেন একজন অফিসারকে এভাবে শোকজ করা হবে? শুধুতো তাই নয়, তাকে কালেক্টর পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা বাকস্বাধীনতা বিরুদ্ধ। সরকারপক্ষ দেশের সংবিধানকে লজ্জার মুখে ফেলেছে ওই অফিসারকে এভাবে শোকজ ও তার পদ থেকে সরিয়ে, শুধুমাত্র নিজস্ব মত প্রকাশ করার শাস্তি হিসেবে। আমাদের ইন্সটিটিউট এর এক সায়েন্স কনফারেন্সে আমার নাম তোলা হয়েছিল। গত ২২ শে মে, আমার লেখা "তসলিমা নাসরিনের জীবন থেকে: চেতনার পথে" পড়ার পর কিছু বিতর্ক হয় ইন্সটিটিউটে। পরে আমাকে পরীক্ষার বাহানা দেখিয়ে ওই কনফারেন্স থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়।
সরাসরি কেন বাদ দেওয়া হয়েছে সেই বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি, তবে ভাবমূর্তিতে পরিষ্কার যে ওই বিতর্কের জেরেই আমার নাম বাদ পড়েছে। আমি এই নিয়ে কিছু ভাবছিনা, কারণ এমন কনফারেন্সের সুযোগ বহু আসবে, কিন্তু এভাবে আমাদের বাকস্বাধীনতাকে লঙ্ঘন করছে ওরা ক্ষমতার জোরে।  নিচে লিঙ্কে ওই অফিসারের খবর দেওয়া আছে।