Friday, 30 December 2016

জাতিভেদই যখন সভ্যতা,
সমাজ তখন অভিশাপ।

সভ্যতা আমাদের মধ্যে জাতিভেদের মতো একটা মারাত্মক ব্যাধি দিয়েছে। এই ব্যাধিতে জর্জরিত হয়েছে প্রায় সমস্ত চেতনা, প্রায় সমস্ত পরিবার আর তাদের গৌরবান্বিত চোখে প্রকাশ পাওয়া সমস্ত বংশ। জাতিভেদের কারণে নষ্ট হয়েছে পূর্বজ মানুষ চেতনা, নষ্ট হচ্ছে তাদেরই সেই চেতনাকে বহন করা বর্তমান প্রজন্ম। আর যারা চেতনার উন্মেষ ঘটিয়ে জাতিভেদ নামক এই মারাত্মক ব্যাধি থেকে বেরতে চাইছে, তাদের জোর করে জাতিভেদের ঘেরাটোপে আটকানোর চেষ্টা করে চলেছে অভিভাবক, অভিভাবিকারা, সমাজের গড়া নিয়ম। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মসংস্থান সমস্ত জায়গাতেই জাতিভেদের মতো অসম মানুষ নীতি সংবিধানের নীতির মতই ধ্রুব সত্য হয়ে গেছে। বর্ণবিদ্বেষ'এর বিরুদ্ধে অনেকেই লড়াই করেছিলেন, অনেকেই তাদের সেই লড়াইতে সফল হয়েছিলেন এবং সংবিধানের স্তরে বর্ণবিদ্বেষকে আইনত, সংবিধানিক ও জাতীয় অপরাধ বলে মান্যতা দিয়ে গেছেন। বি.আর.আম্বেদকরের লড়াই আমরা ভুলিনি। শৈশব থেকে বর্ণ বৈষম্যের শিকার হয়েছিলেন, অতিরিক্ত মেধা থাকার সত্ত্বেও পিছিয়ে পড়তেন সমাজে স্বীকৃতি লাভে। পরবর্তীকালে তার হাত ধরেই সমাজ, চেতনা উন্নীত হয়, বর্ণবৈষম্যের পতন ঘটে। বর্ণবৈষম্যের পতন ঘটেছিল, জাতিভেদের পতন ঘটেনি। বরং বহাল তবিয়তে জাতিভেদ প্রথা বংশবিস্তার করেছে, কলঙ্কিত হয়েছে মানুষ। আমি আমার জীবনের কিছু কথা উল্লেখ করছি।

আমি আসন্ন নেট ও গেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থী। এই দুটো পরীক্ষা আমাদের দেশে একাডেমিক স্তরে সবথেকে বড় পরীক্ষা। গবেষণা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনার জন্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয় এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে। গেট পরীক্ষার ফলাফলে কর্মজীবনে আরও অনেক সুযোগ খুলে যায়। ভারত, বাংলাদেশ, এথিওপিয়া, নেপাল, শ্রিলঙ্কা, আরব আমিরশাহ ও সিঙ্গাপুর এই সাতটা দেশের পরীক্ষার্থীরা মিলে এই পরীক্ষা দেয়। তাই পড়াশোনার সময় ভীষণ সজাগ থেকে প্রতিটা বিষয়বস্তু রপ্ত করতে হয়। একটু ভুল হলেই পরীক্ষায় অনেক পিছিয়ে পড়তে হয়, ও সেখানে সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। মূলত এতো আশঙ্কা নিয়ে আমি পড়াশোনা করিনা, তবু উত্তেজনা বশত আমার মধ্যে আশঙ্কা চলেই আসে। আমি মোটামুটি সিলেবাসকে রপ্ত করার চেষ্টা করি, ভাবি সিলেবাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকলে ও অতিরিক্ত অনুশীলনের মাধ্যমে আমি একটা উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারবো। তবে এর জন্য আমাকে মনঃসংযোগ করতে হবে অনেকটাই। আমি আমার মতো করে ভীষণ চেষ্টা করছি একটা স্থান পাওয়ার জন্য। কিন্তু সবকিছু আমার ইচ্ছা মতো হবেনা, আমার মনঃসংযোগ ব্যাহত হচ্ছে। জাতিভেদের যে অভিশাপ সমাজে বংশবিস্তার করেছে, তার আগুনে আমিও জ্বলছি প্রতিটা মুহূর্ত। এখানে বলে রাখি, আমার মধ্যেও ছোট থেকে জাতিভেদের গোঁড়ামি এসেছিল একটা বয়স পর্যন্ত। আমি আমার জাতি ভিন্ন অন্য কোনো জাতির স্পর্শ থেকে নিজেকে সবসময় দূরে রাখার চেষ্টা করতাম, ঘেন্না করতাম। পরে মানবতাবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের লেখা পড়ে, তার জীবন সম্পর্কে জেনে ও তার আদর্শের পথকে দেখে আমার মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটে যায়। জাতিভেদের তীব্র নাশকতার সমাপ্তি ঘটে আমার চেতনা থেকে। মানুষ হয়ে আমি জাতিভেদের ঘেরাটোপে মানুষকে আটকাতে পারিনা, আমার কাছে মানুষের পরিচয় সে কেবল "মানুষ"। কিন্তু আমার মধ্যে থেকে জাতিভেদের এই গোঁড়ামি দূর হলেও, দূর হয়নি আমার পরিবার থেকে, আমার মা, বাবার চিন্তাশক্তি থেকে। তারা আমার এই সমস্ত জাতিকে মানুষ ভেবে আপন করে নেওয়াকে সন্তোষজনক দৃষ্টিতে নিতে পারেনি, উল্টে তারা ভেবেছে আমি মুসলিম দ্বারা প্রভাবিত, তসলিমা নাসরিনের লেখা আমাকে বিপথে নিয়ে গেছে। আমি বারংবার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছি, আমি হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান কোনো ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত নই, আমি শুধু ধর্মের থেকে মানুষকে আলাদা করে ভাবতে চেয়েছি, তারা ততোই আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমি তাদের চোখে ক্রমশ খারাপ হয়েছি, তাদের চিন্তাতে কোনো পরিবর্তন আনতে পারিনি। তারা ভেবেছে আমি সেই স্বার্থপর সন্তানদের মধ্যে একজন যে নিজের আখের গুছিয়ে বাবা, মা'কে অস্বীকার করে বেরিয়ে যাবে একদিন, শুধু সময় ও সুযোগের অপেক্ষা করছি। তারা ভেবেছে তসলিমা নাসরিনের লেখা আমার মাথা চিবিয়ে খেয়েছে, আমি অমানুষ হয়ে গেছি। আমি তাদের বোঝাতে পারিনি মানুষের পরিচয় শুধু সে একজন মানুষ। তাদের এই ধরনের কথাবার্তা আমাকে ভেঙে দেয় ভীষণ, আবার নিজে নিজেই ভাবি যে আমি পারবো সবকিছু সামলে দিতে, আমি পারবো মানুষ চেতনার উন্মেষ ঘটাতে, আমি পারবো আগামী পরীক্ষাগুলোতে ভালো ফল করতে। যতবারই এভাবে মনের মধ্যে তীব্র জোর আনার চেষ্টা করি, ততবারই আমাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় জাতিভেদের কথা তুলে।

শিল্পকে, শিল্পীর প্রতিভাকে আমি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। কিছুদিন আগে আমার বান্ধবী আমাকে একটা ছবি উপহার দেয়, আমার ও তসলিমা নাসরিনের ছবি এঁকে সেটা একটা ফ্রেমে বাঁধিয়ে উপহার দেয়। ছবিটা বাড়িতে নিয়ে আসার পর থেকেই সেটা তাদের মনোভাবকে আরও উস্কে দিয়েছিল, ওরা আরও আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে। ওদের কথা হল তসলিমা নাসরিন একজন মুসলিম, এমন এক মুসলিম যাকে তার পরিবার ত্যাগ করেছে, দেশ ত্যাগ করেছে, পশ্চিম বাংলা বহিষ্কার করেছে, সেই মুসলিম মেয়েমানুষের ছবি এই বাড়িতে থাকবে না। এরপরও আমি ছবিটা এনে আমার ঘরে যত্ন করে রেখে দিই। প্রতিদিন এটার জন্য আমার ওপর অত্যাচার বাড়তে থাকে, আমি ভেবেছিলাম সহ্য করে নেবো, একদিন সবাই ঠিক বুঝবে। হয়ত আমি ভালো রেজাল্ট করলে ওরা ঠিক শান্ত হবে। ইতিমধ্যে ওরা বুঝেছে আমি পড়াশোনা করছি, ভালো রেজাল্ট করার চেষ্টা করছি এই বাংলাতে তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন প্রত্যাহারের লড়াই সংগঠিত করতে। আমার মা এসব বোঝার পর আমার পড়াশোনার ঘোর বিরোধিতা শুরু করেছে, আমার পরীক্ষা দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা শুরু করেছে। সবসময় "এই মুসলিম মেয়ের ছবি" কথাটা আমাকে খুব যন্ত্রণা দেয়। তসলিমা নাসরিনের পরিচয় সে মুসলিম নয়, তিনি একজন মানুষ, মানবিক মানুষ, যিনি সবসময় মানুষ আদর্শ, মানুষ চেতনা, মানুষ স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেছেন। জাতির ঘেরাটোপে একদমই এই মানুষকে আটকানো যায়না। "মুসলিম মেয়েমানুষ" বলে তাকে সবসময় খোঁটা দিয়ে কথা বলা আমাকে এতটা ভেঙে দিয়েছিল যে আমি কিছুক্ষণের জন্য মানসিক নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলি ও আমার বালিশটা অজান্তেই ছুঁড়ে ফেলে দিই। সেই বালিশ গিয়ে লাগে ছবির গায়ে, কাঁচ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। কাঁচ ভাঙার সাথে সাথে আমি বুঝতে পারি যে একটা খুব বড় অঘটন ঘটিয়ে ফেলেছি। আমি কেঁদে ফেলি, মাথা নিচু হয়ে যায়, আমি নিজেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাই। সেই মুহূর্তে কাঁচ ভাঙার অপরাধে আমার বাবা এসে আমাকে মারল, কিন্তু সেই মারের আঘাত আমি টের পেলাম না। কারণ তার থেকেও বড় আঘাত পেয়েছি কাঁচ ভেঙে যাওয়াতে। এতকিছু ঘটে যাওয়ার পরও জাতিভেদের নাশকতা তাদের ভিতর থেকে কমেনি একটুও। আমাকে এখনও প্রতিমুহূর্তে খোঁটা দিয়ে যাচ্ছে "মুসলিম মেয়ে মানুষের ছবি ঘরে রেখেছে" এই বলে। আমাকে এটাও বলা হয়েছে যে ছবি নিয়ে আমি যেন বাড়িথেকে বেরিয়ে যাই। আমি চুপ হয়ে গেছি। পড়ার চেষ্টা করছি, কিন্তু এতই ভেঙে পড়ছি যে পড়তে পারছিনা ঠিক করে।

আগামী নেট ও গেট পরীক্ষা আমার জীবনে এমন একটা প্লাটফর্ম যেখানে সফল হলে আমি আমার একটা ভালো জীবনই শুধু গড়তে পারবো সেটা নয়, আমি আমার আদর্শের লড়াইকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো, আমার আদর্শকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে শক্তি পাবো। এমন মুহূর্তে জাতিভেদ, হিন্দু - মুসলিম ভেদ আমার মানসিকতার জন্য ভীষণ অস্বাস্থ্যকর। লড়াই ছেড়ে বেরিয়ে যেতে শিখিনি, আর লড়াই করার মতো মানসিক শক্তিও আমি হারিয়ে ফেলছি ক্রমশ। এই জাতিভেদের অভিশাপ আর কলঙ্ক দুঃসহ করে তুলেছে আমার জীবন।

- সৌম্যজিৎ।

Thursday, 29 December 2016

স্বপ্নগুলো।


তোমাকে নিয়ে আমি স্বপ্ন সাজাই রোজ কিছু,
স্বপ্ন সাজাই সেই মুক্ত আদর্শগুলোকে বাস্তবে রূপ দেবো বলে,
স্বপ্ন সাজাই পরাধীনতার শেকল চূর্ণ বিচূর্ণ করে স্বাধীন আকাশে ওড়ার স্বাদ পাবো বলে, 
যখন স্বপ্ন সাজাই আর আমার চোখে রঙিন ইচ্ছাগুলো স্বস্তির তৃপ্তি দেয়,
আমাকে ছুটিয়ে নিয়ে যায় সেই স্বপ্নের স্রোতে,
প্রবল ইচ্ছাশক্তিগুলো তাড়িয়ে নিয়ে যায় উৎসাহের মহাতেজে,
তখনই আবার স্বপ্নগুলোকে ভেঙে যেতে দেখি আমার চোখেরই সামনে,
আমাকে ভেঙে যেতে দেখি আবার, 
প্রবল নিরুৎসাহ আমাকে থমকে দেয়, সময়কে থমকে দেয়,
মনের মধ্যে গুমোট আকার ধারণ করে শ্বাস, প্রশ্বাস,
আমি আবারও থমকে যাই। 
এক অনিশ্চয়তা কাজ করে আমার মধ্যে আজকাল,
জীবনের অনিশ্চয়তা,
কখনো জীবনীশক্তিকেই মেরে ফেলতে ইচ্ছা করে,
ইচ্ছা করে হেরে যাই, ইচ্ছা করে হেরে গিয়ে সবাইকে বুঝিয়ে যাই আমার কথাগুলোকে,
আবারও মনে হয় একটু বাঁচি,
আরেকটু অনুভব করি এই হারজিতের পালাবদল,
আরেকটু দেখি এই সমাজের হরেক তামাশা,
তামাশাই বটে! 
ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো যেন আমার অস্তিত্বকেই বিলুপ্ত করে দিয়েছে,
সময়ে অসময়ে জাতিভেদের কটাক্ষগুলো আমাকে বুঝিয়েছে -
এই ঘর আমার নয়, এই পৃথিবী আমার নয়,
মানুষ পরিচয়ে আমি কতটা বেমানান এই জাতির ঘেরাটোপে!
এই পৃথিবীকে সত্যিই আজকাল আমার বলে মনে হয়না,
মানুষ হয়েই শুধু বাঁচতে চেয়েছি,
মানুষকে শুধু মানুষ পরিচয়েই ভালবাসতে চেয়েছি,
জাতিভেদ করে অমনুষ্যত্বকে আমি ঠাই দিতে চাইনি তাই,
জাতিভেদের সমাজই আমাকে বহিষ্কার করতে চায়। 


মানুষ পরিচয়ে আমি বড্ড বেমানান এই জাতির ঘেরাটোপে। 

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 28 December 2016

পারিপার্শ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বীর সাথে লড়াই আর আপনদের সাথে লড়াইয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে লড়াইতে সাহস ও শক্তি উভয়ই একে অপরকে সাহায্য করে অগ্রসর হতে, আপনেরা লড়াইতে নামলে সাহস ও শক্তি একে অপরকে ভাঙতে শুরু করে ক্রমশ।


- সৌম্যজিৎ। 

Tuesday, 27 December 2016

যদি হাসতে চাও,
তোমার আঁচলে আমি মেলে ধরবো এক সমুদ্র ভরা আমার মেয়েবেলা,
যদি কাঁদতে চাও,
আমি তৃন হয়ে তুলে ধরবো তোমার প্রস্ফুটিত অশ্রু বিন্দু,
যদি বাঁচতে চাও,
আমি ভরিয়ে দেবো আমার বাচ্চামি আর পাগলামিতে ভরা ভালোবাসা দিয়ে,
যদি হারিয়ে যেতে চাও,
একরাশ মেঘ নিয়ে আমি হারিয়ে যাবো মেঘেরই অন্তরালে মা। 
এখনই তো জেগে ওঠার সময়,
এখনই লড়াই লড়ার সময়,
আর নয় ঘুম, -
এবার ভেঙে ফেল অন্ধকারের বাধ,
সুরঙ্গপথ খুঁজে বার কর আলোর পথে যেতে,
আঘাত কর মিথ্যের শৃঙ্খলে আটকা পড়ে থাকা দেওয়াল প্রাচীরে,
আঘাত কর অমনুষ্যত্বে গড়া অহঙ্কারের ইমারতে,
মানুষ আদর্শকে মেলে ধর।


- সৌম্যজিৎ। 
তোমরা বেঁচে আছ জাতিভেদে, মনুষ্যত্বকে বিকিয়ে,
মনুষ্যত্বকে তোমরা ভেঙে টুকরো টুকরো করতে চাও,
জাতিভেদের লড়াই আর জোশ তোমাদের রক্তে বইছে আগুন স্রোতের মতো,
ভালবাসাকেও তোমরা পায়ের তলায় পিষে মারতে চাও।
তোমরা আমাকে ভেঙেছ কাঁচ ভাঙা টুকরোগুলোর মতো,
আমার আদর্শ, আমার স্বপ্ন ছোঁয়ার পথে তিরস্কার করেছ, বাধা দিয়েছ বারেবারে,
আদর্শ ছাড়া, স্বপ্ন ছাড়া আমি কখনো মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবো না,
তোমরা আমাকে পুতুল করেই রাখতে চেয়েছ।
ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো যেমন আগুনে গলিত হয়ে নিজের স্বচ্ছ আকার ধারণ করে,
সেই স্বচ্ছ আকার যেমন আমার যন্ত্রণাতে প্রলেপ দেবে ভালোবাসার ছোঁয়া হয়ে,
আমার মনও সেই আগুনে গলিত হয়ে হয়ে নিজের আকার ধারণ করবে পুনরায়,
মনুষ্যত্ব, ভালোবাসাকে আমি লুটিয়ে যেতে দেবো না।
আজ তোমরা হাসছ জাতিভেদের মিথ্যে অহঙ্কারের ইমারতে,
কাল আমি হাসবো ভালোবাসার সত্যিতে,
আদর্শের পথে, মনুষ্যত্বে।


- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 25 December 2016

সময় হিসেব চাইছে,
প্রতিটা মুহূর্ত কেমন অন্ধকারে কাটিয়ে ফেললাম,
খেয়াল করিনি,
সময় পার হয়ে যেতেই হিসেবের প্রশ্ন
মাথার ওপর পর্বত খাড়া করে দিল। 

Wednesday, 21 December 2016

ধন্য করেছ, ধন্য করেছ, ধন্য করেছ এ জীবন,
কলম খোঁচায় ফুটিয়ে তুলেছ, ফুটিয়েছ হৃদয় মম,
তোমাকে আমি না কহিতে পারি পর ভাবা সাধুবাদ,
অন্তরের ফুল অন্তরেই তুমি ভালোবাসাতে করো বাস,
ভালোবাসা নিয়ে ভালোবেসে দিলাম আমার স্নেহ,
শত কোটি অভিনন্দন "প্রেমিক"কে জানাই,
লেখিকাকে আলিঙ্গন।


 -সৌম্যজিৎ। 
এ এক নতুন খোঁজ পেলি,
শত অপচয়, শত অবনতি দিয়ে কেনা,
এক টুকরো মানুষ পেলি আজ তোরই মাঝে ..
- সৌম্যজিৎ।


২২/১২/১৬।
খুঁজে নে পরশ পাথর,
চেয়ে থাকিস না দূরে,
কাছে যা আছে মেলে ধর,
কুণ্ঠা'কে তুই দূর কর,
সকল আলো ঘুচাবে আঁধার,
আগে মনের আঁধার দূর কর।
 


- সৌম্যজিৎ।

২২/১২/১৬। 

Tuesday, 20 December 2016

পরীক্ষা পরীক্ষা খেলা চলছে,
পরীক্ষা নিয়ে আমি রোজ খেলি,
এ যেন এক নেশা -
নিজেকে ভেঙেচুরে গড়ার জন্য।
পড়াশোনা করা,
নতুন - পুরোনো বইয়ের পাতার গন্ধ শুঁকে
ছাপা কালির লেখাগুলো পড়া,
সেসব নিয়ে ভাবা, চিন্তা করা আমাকে
আমার বেঁচে থাকার অস্তিত্ব বোঝায়,
বোঝায় যে আমি বেঁচে আছি।
এই বেঁচে থাকাও অনেক সময় অসহ্য হয়ে ওঠে,
আমার মধ্যে অস্বস্তির শেষ সীমা অতিক্রম করে যায়,
যখন অনেক হাতড়েও, অনেক চেষ্টা করেও তোমার মনে
একটু জায়গা করে নিতে পারিনা,
বৃথা লাগে তখন সবকিছুই,
বৃথা লাগে জীবন।
পুরোনো লেখাগুলো তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকি,
পড়তে থাকি,
তৃপ্ত হতে পারিনা,
দীর্ঘশ্বাস পড়ে।


- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 19 December 2016

এক চুক্তিহীন সম্পর্কে তোমাকে ভালবেসেছি,
এক চুক্তিহীন সম্পর্ক আমাদের আরও কাছে এনে দিয়েছে,
টান আছে, প্রেম আছে,
ঝগড়া, মিষ্টি কথা সব আছে,
আছে একে অপরের জন্য অপেক্ষা,
শুধু আমাদের মধ্যে কোনো লিখিত - অলিখিত চুক্তি হয়নি,
আমরা স্বাধীনতায় একে অপরকে ভালবেসেছি,
এক অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা ..
কোনো বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি দিয়ে
আমরা একে অপরের কাছে আসিনি,
কোনো বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হতে আমরা একে অপরকে ভালবাসিনি,
ভালবেসেছি একে অপরের পাশে থাকতে,
ভালবেসেছি শুধু ভালোবাসার জন্যই ভালবাসতে,
দর কষে ভালোবাসা আমরা বাসিনি।


- সৌম্যজিৎ। 
শরতের ভালোবাসাকে।


কাছে ছিলে, তোমার ভালোবাসার টান আমাকে ঘিরে রেখেছিল,
বুঝিনি তোমার গুরুত্ব, শুধু মেতেছিলাম সবটা সময়,
দূরে গেলে, একা করে দিয়ে গেলে,
এখন মনে পড়ছে সমস্ত ছোঁয়াগুলো, ভালোবাসার মুহূর্তগুলো,
তোমার আধো আধো করে বলা কথাগুলো।
ভালোবাসি, বারেবারে বলেছি ভালোবাসি,
কখনো অনুভব না করেই বলেছি ভালোবাসি,
এখন তোমাকে অনুভব করেও ভালোবাসি আর ঠিক কতটা ভালোবাসি -
বলতে পারছিনা।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 18 December 2016

নতুন করে শুরু হোক আবার।
সৌম্যজিৎ।


নতুন করে শুরু হোক আবার,
পুরোনো যাকিছু ভুল মুছে দিতে চাই,
যা আছে কাছে অবলম্বনটুকু, তাই দিয়ে আবার গড়তে চাই,
নতুন করে আবার হোক শুরু।
পুরোনো ভুলের বোঝা বহন ভাঙতে ভাঙতে ভাংছে আমায়,
ভাংছে আমার সাহসটুকু, ভাংছে হৃদয়, মননটুকু,
যে সাহসে এগিয়ে যেতাম,
সহজ, কঠিন হিসাব ভুলে যেতাম,
যে সাহসে পার হয়েছি অনেক না হওয়া কাজের সীমা,
আবারও জাগুক সেই সাহস মনে,
আবারও ভুল হয়ে যাক হিসাব কষা,
নতুন করে আবার এক শুরু হোক,
মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াবার।

বিন্দু বিন্দু করে গড়বো আবার,
গড়বো আবার নতুন জগৎ,
পুরোনো জগতে যাকিছু ভুল তা
সবটা মিলিয়ে দেবো।
নিজে হাতে গড়েছি, নিজে হাতেই ভাঙবো,
নিজে হাতেই গড়বো আবার,
নিজেরই মতন করে,
আমি গড়বো আবার নতুন জগৎ।

Monday, 12 December 2016


দেশের প্রতি টান।

সৌম্যজিৎ।


আজ তোমার দেশের প্রতি টান আমি অনুভব করতে পারি,
অনুভব করতে পারি কি বিপুল টান আর ভালোবাসা
আমাদের সকল হৃদয়েই বইছে দেশের প্রতি, মাটির প্রতি, চেনা অলিগলিতেও।
যেন আজও সেই টাটকা স্মৃতিতে তুমি হেঁটে চলেছ ময়মনসিংহের ছোট, বড় রাস্তাগুলোতে,
পুরোনো ব্রহ্মপুত্রের ওপর দিয়ে নৌকা পাড়ি দিচ্ছ যমুনার উদ্দেশ্যে,
পড়ন্ত বেলাতে মিইয়ে যাওয়া সূর্য'কে-
পশ্চিম আকাশে একটু একটু করে ঢলে পড়তে দেখছ আর হাসছ আলত করে,
ভাবছ আপন মনে জীবনের নানান চিন্তাগুলো একটু অন্যমনস্ক হয়ে,
চারিদিকের কোলাহল, কেচরমেচর শব্দগুলো কানে ঢুকছে, শুধু ওই ঢোকাটুকুই,
তুমি মেতে আছ আপন মনে।
দেশে থাকার সময় আমরা দেশ নিয়ে কই ভাবি!
দেশে থাকার সময় তো শুধু বিভিন্নমহলের চর্চা, সমালোচনা নিয়েই পড়ে থাকি,
দেশ থেকে দূরে এলেই,
দেশকে সেই আপন করে ফিরে পেতে না পারলেই তখন
পুরোনো স্মৃতিগুলোকে হাতড়াতে থাকি স্বর্গ খোঁজার মতো করে।
খারাপ স্মৃতি, সমালোচনাগুলো নিমেষেই বিলীন হতে থাকে, আর
বড়দের ভয় দেখানো শাসনগুলোতেও সুখের ছায়া দেখা যায়।
যখন তুমি পরীক্ষার পড়া পড়তে, যখন মাস্টারমশাইদের পড়া তৈরি করতে ভয় পেয়ে,
তখন তুমি সেই ভয় থেকে বাঁচতে চাইতে,
আজ হয়ত ভাবো "আহা! সেই ভয়ের দিনগুলো কতই না সুন্দর ছিল!"
পড়া পড়া খেলা করে কাটিয়ে দিতে পারতে,
বাবার ধমকের আওয়াজ কতই না মধুর ছিল, ঠিক যতটা হয়ত তখন কর্কশ শোনাত, -
তার অধিক মধুর এখন হয়ত মনে হয়!
মায়ের আদর মাখা আঁচল!
সেই যে মা জড়িয়ে রাখত আঁচলের ভাঁজে,
আগলে রাখত সব বিপদ থেকে!
সেই যে একটু বিপদের আশঙ্কার পর মা বুকে জড়িয়ে ধরত!
গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে শুধু চিৎকার করে বা ফুঁপিয়ে কাঁদত তুমি কত খারাপ আছ সেই ভয়ে!
কত মিষ্টি সেই হাত বোলানো ছোঁয়াগুলো!
কত মিষ্টি সেই কান্নার স্বর!
সেই চোখের জল কত শীতল যখন তোমাকে স্পর্শ করত!
এটাই তো দেশ! এটাই দেশ।
সেই কান্না, সেই শাসন, সেই ভয়,
সেই নদী, সেই কোলাহল, সেই পড়ন্ত সূর্যকে ঢলে পড়তে দেখা,
সেই বাতাসের গন্ধ, সেই অন্যমনস্ক চিন্তা, সেই পড়া পড়া খেলা ..
এটাই দেশ।
আজ তুমি পরবাসে,
আজ তুমি মানিয়ে নিয়েছ এই পরবাসেই নিজের দেশ ভেবে।
আজ আমি আমার দেশেই,
তবু তোমার সেই জীবনকে উপলব্ধি করতে পারি,
তোমার এখনকার এই অনুভূতি সেই পুরোনো স্মৃতিতে হাতড়ে বেড়ানকে -
আমি উপলব্ধি করতে পারি,
যেন সেই একইরকম সবকিছু,
যেন এ তো আমাদের সবার জীবনেই ঘটে,
যেন আমরা সবাই এই জীবনেই বাঁচি,
আমাদের মানচিত্র আলাদা, আমাদের পতাকার রং আলাদা, চিহ্ন আলাদা, তবু -
দেশের প্রতি সেই টান, সেই ভালোবাসার গভীরতা একই।
এটাই আমার দেশ,
এটাই আমার মাটি,
এটাই ভালোবাসা। 

Sunday, 11 December 2016



অগ্নি উৎস - তোমায় সেলাম ..

উৎসর্গ - অগ্নি উৎস তসলিমা নাসরিনকে।


কোন আদর্শে গড়া তুমি তসলিমা নাসরিন!
যে দেশে প্রতিনিয়ত হিংসা, মারামারি অন্ধকারাচ্ছন্ন কুসংস্কার ছড়িয়ে ছিটিয়ে,
যে দেশে শুধু জাতীয় সংগীতটুকু বাদ দিলে, মানুষ মানুষের মধ্যে ভেদাভেদে মেতে ওঠে,
যে দেশে "আপন ধর্মই বড়, বাকি সব তুচ্ছ" মানসিকতায় মানুষ বেড়ে ওঠে,
এমন এক দেশে জাতীয় প্রেম বুকে নিয়ে, ধর্মকে অবজ্ঞা করার সাহস তুমি কোথায় পেলে!!
যে দেশে আজও নারী শুধুই ঘর সামলানোর যন্ত্র আর পুরুষ অগ্রগতির বাহক,
নারী ঘরে থাকলে লক্ষী, বাইরে বেরোলেই বা বড় রাস্তা একা পেরোলেই অসভ্য, চরিত্রহীনা হয়,
যে দেশে পুরুষ মানেই সংসার কর্তা, পুরুষ মানেই বুদ্ধিমান, নারী বুদ্ধিহীন,
যে দেশে হিজাব পরিয়ে নারীকে জোর করে বুদ্ধিহীন করে রাখা আজও কঠোর নিয়ম,
এমন এক দেশে তোমার মতো নারী কোন আদর্শে গড়ে উঠেছিল তসলিমা নাসরিন!!



তসলিমা নাসরিন তুমি কোন হৃদয়ে গড়া!
ধর্মের গোঁড়ামি যখন তোমাকে আকণ্ঠ বিষ পান করিয়ে মারতে চাইছে,
গোটা দেশ তোমাকে রাস্তায় পুড়িয়ে, কেটে, ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে বা ধর্ষণ করে মারতে চাইছে,
নিজের প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে এদিক ওদিক অন্ধকারে ছুটে বেরিয়েও-
তুমি আদর্শকে ত্যাগ করতে পারোনি,
পারোনি নিজের অস্তিত্বটুকু বিলিয়ে দিতে,
ভয়ঙ্কর সেই আগুন জ্বলা পরিবেশ থেকে পালিয়ে তুমি দেশ ছাড়তেও চাওনি,
চেয়েছ দেশের গোঁড়ামি দূর করে দেশকে সত্যিকারের অগ্রগতির দিকে নিয়ে যেতে।
এত সাহস তুমি কোথায় পেলে!!!!
কোনো এক পুরুষও বুঝি এমন সময়ে দেশে থাকার কথা ভাবত না,
ভাবত না আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার চিন্তা।
তুমি ভেবেছিলে,
সেদিন কোর্ট চত্বরে যাওয়ার মুহূর্তেও যখন তুমি নিশ্চিৎ মৃত্যুমুখে এগোচ্ছ ভাবছ,
তখনও তুমি ভেবেছিলে সত্যের প্রতিষ্ঠার কথা।
সেইসব অন্ধকারের নিশ্চিৎ মৃত্যু যখন পদে পদে তোমাকে তাড়া করে বেড়িয়েছে,
আমি সেসব কল্পনাতে অনুভব করেই শিহরিত হই।
কতটা স্থির হৃদয় থাকলে,
কতটা প্রগতিশীল চিন্তার আদর্শ বুকে ধরলে-
কেউ এমন পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার সাহস দেখাতে পারে!


দেশহীন, বাসস্থানহীন হয়েও,
মাথা গোঁজার ঠাইটুকুর অনিশ্চয়তার মধ্যেও তুমি নিজের আদর্শ থেকে,
সত্যের পথ থেকে, মানব অধিকারের পথ থেকে একচুল জায়গা ছাড়ার কথা ভাবোনি।
কতটা সাহস, কতটা অহঙ্কার থাকলে মানুষ এমন করতে পারে!


অগ্নি উৎস তুমি,
তোমায় সেলাম।



*** সৌম্যজিৎ। 

Tuesday, 6 December 2016


শরৎ'এর ভালোবাসাকে। 

ওই যে কত শত প্রেম, প্রেম প্রেম আবহাওয়ায় আচ্ছন্ন করতে চাইছে,
কত ভালোবাসা আর ভালোবাসার ভাষারা ফুটে উঠছে আমায় ভালবাসবে বলে,
আমার ভালোবাসা সবাইকে বিলিয়ে দিয়েছি,
শুধু নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারিনি।
আমি থাকলাম শুধু তোমারই জন্যে,
তোমার গায়ে মাখবো বলে। 

 - সৌম্যজিৎ। 

Monday, 5 December 2016

এক কঠিন ভালোবাসার জ্বর আচ্ছন্ন করে আছে মন জুরে,
ঠিকানাহীন, অজানা অভিমান সে কেন বা কিসের ওপর,
সব ঘোলাটে। চলছি, ফিরছি, কাজ করছি, তবু যেন প্রাণহীন,
দীর্ঘশ্বাস পড়ছে ঘনঘন, যেন উৎসাহহীন। 
রাগ হচ্ছে, একরাশ অভিমান বংশবিস্তার করছে নিরন্তর, অন্তরালে,
বাইরে কাঠখোটরা মানুষটা একটু স্থিরতার অভাবে, একটু ভালোবাসা পাওয়ার অভাবে -
অভালোবাসা মিশ্রিত আচরণে ক্ষিপ্ত করে তুলছে চারিদিক, 
বারেবারে সবাইকে বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষটার অমানুষ হওয়া পরিচয়। 


 - সৌম্যজিৎ। 

Thursday, 1 December 2016

বড্ড অস্থিরতাগুলো ছোটাছুটি করছে চারিদিকে -
গ্যাসীয় অণুগুলির মতো,
কথাগুলো ভাষাহীন, এলোমেলো, আধোআধো,
বলতে চাইছে অনেককিছুই প্রাণ খুলে,
আদর, অভিমান, রাগ যা'কিছু আছে অন্তরালে,
সামনে আসতে চাইছে অকপটেই,
কিন্তু পারছেনা।
অভিমান জর্জরিত করছে চিন্তা ভাবনার দরজায় দাঁড়িয়ে,
চিন্তাগুলো বেরিয়ে আসতে পারছেনা,
মুক্ত হতে পারছেনা।
ক্ষোভে কষ্টগুলো যেন নিশ্চিত জানতে পারা যাবজ্জীবন -
কারাদণ্ড হতে চলা ক্লান্তির সমান,
চোখ ফুটে বেরিয়ে আসতে চাইছে।

মুক্তি নেই ...


 - সৌম্যজিৎ।