Thursday, 31 December 2015

মেয়েমার কাছে খোলা লেখা।
সৌম্যজিত দত্ত।


আজ গোটা কলকাতা জুড়ে উত্সভ,
ঝকমক করছে রাস্তা ঘাট। 
চারিদিকে বক্স বাজছে, গান চলছে,
কানে ঝালাপালা ধরিয়ে দিচ্ছে।


বিকেলের আগে থেসিস জমা করে ঘরে ফিরে সেই আবার একঘেয়েমি জীবন,
স্নান, খাওয়া করা।  খেতে খেতে গোপালভার দেখা। খাওয়া শেষে আবার ল্যাপটপ, ডেস্কটপ 
দুটোই খুলে নিয়ে বসে। কি যে করি!!!
মনের মধ্যে হাজারটা চিন্তা ঘুরে বেড়াচ্ছে।
একটার পর একটা বুদ্ধি, কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ।
শুধু ভেবে যাচ্ছি তোমাকে কিভাবে ফিরিয়ে আনতে পারি।


চিন্তাগুলো বড্ড এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
কখনো মনে হচ্ছে, এই চিন্তাটা ঠিক, খুব ভালো। 
পরবর্তিতে মনে হচ্ছে, না। একদম বাজে চিন্তা, অন্য কিছু ভাবতে হবে। 
একের পর এক এভাবেই মাথার মধ্যে চিন্তা গুলো এসে যাচ্ছে।
কিন্তু কোনটাই নির্ণায়ক হতে পারছেনা।
ওদিকে তোমাকে যে আমি দেখতে চাই এখানে, আমি হারবোনা। দেখবোই।
শুধু মনটা বড্ড খারাপ লাগছে, একা একা লাগছে। 
চিন্তাগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

Wednesday, 30 December 2015

আলো।
সৌম্যজিত দত্ত।


বিশ্ব জুড়ে আলো ভরা, অন্ধকারেও নাই রাত,
চারিদিকে আজ শহরবেলা, মুছে গেছে গ্রাম-মাঠ-ঘাট।


চারিদিকে শুধু আলোর ঝলকানি। কিন্তু সে তো চোখ ধাঁধানো!!!
চিন্তাতে স্ফুলিঙ্গ কই?
চিন্তা আজও সেই মধ্যযুগীয়। ধর্ম মানো, ধর্ম পোষো, শুধু ধর্মগান গেয়ে চলো,
ধর্মই সব আধার ঘুঁচাবে।
তুমি শুধু ধর্ম চিন্তা করো। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চিন্তা, ধর্ম তোমাকে উপহার দেবে,
দোয়া বা আশির্বাদ হিসেবে।
তাই চিন্তাতে নাই আলো।


এই পৃথিবী তার সৃষ্টি, তুমি তারই সৃষ্টির অংশ।
চলতে হলে চলো তার নিয়মে, সবাই যা করে, সবাইমিলে একসাথে করো।
না কোনো নতুন চিন্তা, না কোনো নতুন ভাবনা। শুধু ইশ্বর জয়গান করো।
স্কুলে দেখোনি কিভাবে সবাই এক পোশাক পরে, একসাথে লাইন ধরে চলে,
মাস্টার যা বলে, তাই শোনে?
সেটাই তাদের বিধাতা।
তোমাকেও সবার মতো একইভাবে চলতে হবে, সম্মোহিত হয়ে, তবেই তোমার রক্ষা।
নতুন কিছু চিন্তা করলেই, নতুন কিছু ভাবলেই তুমি অধার্মিক। তোমার জায়গা সমাজের বাইরে।
চিন্তাতে কোনো আলো নাই।

আমার চিন্তা আমি লিখবো, একটু অন্যরকম কিছু লিখবো,
না, বাকিদের মতো কোনো প্রেম নিয়ে নয়। একটু অন্যকিছু, যেখানে চিন্তা থাকবে, বুদ্ধি থাকবে,
নাইবা থাকুক ছন্দ।
পাড়া-পড়শী পিছু টানে, কানাকানি করে, "শুনেছিস, ওই হতচ্ছাড়া ছেলের কান্ড!!!
কিসব ছাইপাশ লেখে। তসলিমা নাসরিনের সাথে ধরম-মরম।
বেজাতের মেয়েটাই ওর মাথা খেল।"

আত্মীয়রা ভয় পায়। ভাবে ছেলে ধর্ম-রাজনীতিকে উপেক্ষা করছে, বিপদ। ঘোর বিপদ।

বাবা, মা আমার লেখা শোনেইনা, জানেইনা।  শুধু  বলে, আমি ভুল লিখি। ছেলে বেঘরে মরবে।


পড়াশোনা বিজ্ঞান নিয়ে। বিজ্ঞান চিন্তা তাই স্বতস্ফুর্ত। সেই চিন্তাতেও বাধা।
"পঁচিশ বছর বয়স হয়েছে, এখন এত কিসের পড়াশোনা? এত কিসের চিন্তা?
সকাল সকাল উঠে স্নান করে, ঠাকুর প্রণাম করতে হয়, তবেই ভালো থাকা যায়।"


কিছুদিন আগে পাইকপাড়া'তে "মুসলিম বিক্ষোভের" কথাই,
আমার উত্তর, "মুসলিমরা মারছে হিন্দুকে, হিন্দুরা মারছে মুসলিমকে।
কেউ ঠিক না, সবাই ভুল করছে।"
শুনতে হলো, "বেশ করছে মুসলিমদের মারছে। ওদের মেরে ফেলায় দরকার।"
আমার কথা, "তবে কি মুসলিমরাও ঠিক করছে হিন্দু মেরে?"

আর যাবে কোথায়? "হিন্দুর ছেলে মুসলিমদের সাথে হাত মিলিয়েছে!!
গুলি করে মারা উচিত, কেটে ফেলা উচিত।"
আমি চুপ করে গেলাম।
ভাবলাম আমার কথা বুঝবেনা। এরা সম্মোহিত।

এমনসব উদাহরণ সমাজের প্রতিটা ঘরে ঘরে।
ওসব রাস্তার আলোর ঝলকানিতে শুধু চোখের মনোরঞ্জন হয়।
চিন্তা ছাড়া বুদ্ধির বাসা অন্ধকারই থেকে যায়।



Tuesday, 29 December 2015

"দ্বিখন্ডিত নিষিদ্ধ করেছি বাধ্য হয়ে"-------বুদ্ধ।


তত্কালীন পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গতকাল তসলিমা নাসরিনের ফেটে পরা বিক্ষোভের মুখে দাড়িয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে স্বীকার করেছেন, "দ্বিখন্ডিত নিষিদ্ধ করেছি বাধ্য হয়ে।"

যেটা হয়েছে, যা কিছু হয়েছে, সেটার জন্য পার্টি দায়ী, সমস্ত সদস্যরা একত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে উনি বই নিষিদ্ধ হওয়ার বিরুদ্ধে। তাহলে কি তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী এটাই বোঝাতে চাইলেন, যে তিনি শুধু মাত্র পার্টির হাতে গড়া একজন পুতুল ছিলেন, আসল কলকাঠি নাড়তেন অনিল, বিমানরা? বুদ্ধদেব বাবু, প্রায় ১০ বছর মুখ্যমন্ত্রীর  পদে শাসন করার পর, নিজেকে নপুংসক প্রমাণ  করে এভাবেই দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন, তার সাথে নিজের পার্টির অরাজকতার স্বাক্ষিও একইসাথে দিয়ে রাখলেন।

আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতার পক্ষে, স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার পক্ষে, স্বাধীনভাবে লেখার পক্ষে সাংবিধানিক আইন প্রযোজ্য। প্রতিটা নাগরিকের স্বাধীনতা আছে, নিজের মতকে প্রকাশ্যে তুলে ধরার।আমাদের সাংবিধানিক আইনে এমন নিয়মও আছে, যাতে নারীকে সম্মান দেওয়া হয়। তবে কোন মানবিক আইনে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তসলিমা নাসরিন লিখিত "দ্বিখন্ডিত"-এর ওপর নিষেধআজ্ঞা জারি হয়? কোন মানবিক আইনে তসলিমা নাসরিন কে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পুলিশী দালাল কমিশনারকে দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়? কোন মানবিক আইনে একজন মহিলাকে নির্বাসন দন্ড দেওয়া হয়? কোন মানবিক আইনে অশোক তোদি ও রিজওয়ান কান্ডের সুযোগে, কলকাতার ধর্মান্ধ মুসলিম ভাইদের একজন মহিলার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়, রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করার জন্য?

আজ এতকিছু হয়ে যাওয়ার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজের পিঠ বাঁচাতে নিজের নপুংসকতার প্রমাণ দিচ্ছে।

একই ধারা অক্ষুন্ন রেখেছেন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জীও। একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে চির নির্বাসনে পাঠিয়েও ওনার আত্মা শান্ত হয়নি। সিরিয়ালের এপিসোড গুলোকেও ব্রাত্য করে দিয়েছে।

আরেকটা কথা, মাননীয় আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়ের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, দয়া করে আপনাদের ছবি এডিট করার সফটওয়্যার চেঞ্জ করুন। মানুষের আকৃতিকে বিকৃত করছে ওই সফটওয়্যার। আমার মেয়েমা "তসলিমা নাসরিন"-এর গলা মোটেও এমন গরুর মতো ফোলা নয়। পাইরেটেড সফটওয়্যার দিয়ে আর কতদিন কাজ চালাবেন?
বাম আমলের গড়া শাসনে তসলিমা নাসরিনের ওপর যেসব অমানবিক অত্যাচার হয়েছে, তাকে বারবার থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শ্রীমান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নোংরা রাজনীতি, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নিচু মনের পরিচয়ের জন্য তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়তে হয়েছিল। বারবার রিজওয়ান কান্ড, "দ্বিখন্ডিত"-এর মুক্তি কান্ড চোখের সামনে উঠে আসছে। তারপর তৃনমূল আমলে নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, এবং চিরতরে তসলিমা নাসরিনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেওয়া, সমস্ত কিছু ঘোরতর মানবতা বিরোধী কাজ।  একজন লেখক হাতে চাপাতি বা তরবারি  তোলেনা, কলম তোলে। আর শুধু এই দোষের অপরাধে তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন মেনে নেওয়া মানুষ জাতির কলঙ্ক। প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে হবে।



স্বাধীনতা চায়, আদর্শ চায়,
রক্ত দেব আমরা,
আওয়াজ সত্যের পথে মেলাব সুর,
ভেঙে দেব মুক্ত পথের পায়ের শেকল। 
দুর্নীতির শাসনকে পরাস্ত করব,
চাইনা ধর্মীয় রাজনীতির রাষ্ট্র,
শস্য শ্যামল দেশ চায়, মাটি চায়, মানবিক অধিকার চায়,
লজ্জার কারণ ঘুচিয়ে দেব। 
দেশ চাইনা হিন্দুর হোক, দেশ চাইনা মুসলিমের হোক,
মানবজাতির দেশ চায় আমরা, মানব প্রেমে লুটে যাব। 

স্বাধীনতা।
সৌম্যজিৎ।

স্বাধীনতা কোনো শাসনতন্ত্রের অবসান নয়,
স্বাধীনতা-  মধ্যযুগীয় গোঁড়ামির অবসান।
স্বাধীনতা এমন হাওয়া যার অনুকূলে
সময়ের সাথে নতুন চিন্তাশক্তি ও বিবেকের জন্ম হয়।
স্বাধীনতা মানুষের মানবিক যান।

স্বাধীনতা মনের চর্চা,
স্বাধীনতা কোনো  গোঁড়ামি নয়,
স্বাধীনতা মানে কোনো ধর্ম বা জাতির চাপিয়ে দেওয়া নিয়মের বাইরে গিয়ে
নতুন করে ভাবা, ভালো কিছু ভাবা। স্বাধীনতা মানে মুক্তি।
স্বাধীনতা মানে স্বতস্ফুর্ততা।

স্বাধীনতা মানে আমি, স্বাধীনতা মানে তুমি,
স্বাধীনতা মানে আমাদের ইচ্ছাশক্তির জয়।
স্বাধীনতা মানে নতুন যুগ, নতুন ভাবনা,
স্বাধীনতা আমাদের বসন্তের উল্লাস।

স্বাধীনতা মানে সমৃদ্ধি,
স্বাধীনতা মানে বিচার বুদ্ধির অভিযোজন,
স্বাধীনতা আমাদের মনের উন্নয়ন।
স্বাধীনতা মানে রং-বেরঙের পৃথিবী,
আর স্বাধীনতা মানে নতুন কোন সৃষ্টি।

Monday, 28 December 2015

অগ্নি উত্স তুমি তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিত দত্ত।


তোমার আপসহীন আগুন কত মানুষ দেখেছে,
পদে পদে তোমার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সরকার, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত।
যখন লড়েছ, ভয় তোমারও হয়েছে, তুমি ভেবেছো এই বুঝি কেউ এসে তোমার মুন্ডপাত করে। 
ভয় সবাই পায়। সেই ভয়তেও তুমি আপসহীন।
যত দেখি, ততই মুগ্ধ হয়ে যাই। 
শরীরের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে যায়, যখন তোমাকে বাংলা নির্বাসনের সময়গুলোতে অনুভব করি। 
রক্তের মধ্যে গরম স্রোত বয়ে যায়।

অগ্নি কন্যাকে নতুন কি আর ভাষা দেবো?
যে নিজে জ্বলন্ত আগুন, তাকে ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যাবে।

যখন গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল, মৌলবী, রাষ্ট্রীয় মানুষ মূর্খামি করে তোমার 
রক্তের স্বাদ পেতে চেয়েছে,
তুমি তখন সদ্য যৌবনের একজন মানবিক লেখক, ধর্ম বিদ্রুপাত্মক।
সাহস করে সত্যিটা তুলে ধরেছিলে, কিন্তু এত মনের জোর তোমার ছিলনা।
ছিলনা, কারণ পরিবারের টান, প্রানের ভয়। সংসার, ভবিষ্যত তুমিও চেয়েছিলে।

আস্তে আস্তে সমাজের ভয়ঙ্কর রূপটা সবে প্রকট হচ্ছে, 
রাতের অন্ধকারে তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কেউ আশ্রয় দিতেও ভয় পাচ্ছে।
অন্ধকূপের মধ্যেও জীবন কাটিয়েছো, বাইরের জগতের আলো তোমার চোখে পড়েনি।
সত্যি বলার শাস্তি। তুমি ভাবোনি কখনো, সত্যি বলার শাস্তি এত ভয়ঙ্কর।
দেশের দু একজন বুদ্ধিজীবি তোমার সাথ হয়ত দিতে চেয়েছে,
কিন্তু পরে তারাও পিছিয়ে আসে পরিবারের চিন্তা করে। 
তাদেরই বা দোষ দিই কি করে?
দেশের সংবিধানের অসংবিধানিক নীতি তোমাকে দেশ ছাড়া করে দিল। 
মা, তুমি ঘুমের মধ্যেও রক্ত চোখ দেখতে তাইনা?
হয়ত ঘুমোতে, ক্লান্ত হয়ে। তোমার বুকের মধ্যে প্রতিটা মুহুর্তে কেঁপে উঠেছে,
"এই বুঝি ঘরে ঢুকে এল ওরা, এই বুঝি ছিন্নভিন্ন করে দিল চাপাতির আঘাতে।
এই বুঝি সব থামিয়ে দিল, শেষ করে দিল আমাকে, এই বুঝি সত্যের পরাজয় হয়েগেল। "


সেই দেশ কখনো দেশ হয়ে উঠতেই পারেনি মা,
সেই দেশ কখনো সত্যের মুখোমুখি হতে চায়নি।
সেই দেশ ধর্মের কারাগার।
সেই দেশে মুক্ত চিন্তা নয়, সম্মোহনের খেলা চলে। 
সেই দেশ খুনিদের দেশ। 
সেই দেশ শুধু একটা রাষ্ট্র মাত্র।


নিরাপত্তার খোঁজে চলে এলে ভারতে।
আশ্রয় পশ্চিমবাংলা।
উস্ক-খুস্ক মুখে তুমি ভেবেছিলে এখান থেকে লড়াই শুরু করবে দেশে ফেরার।
কিন্তু এখানেও তোমার ভাষা থামিয়ে দিতে উঠে আসলো বজ্জাত সরকার,
সরকার নয়, ওরা মাওবাদী।
তোমার লেখা "দ্বিখন্ডিত"কে খন্ড খন্ড করে জলে ভাসাতে চেয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারকেও  রাজনীতির দালাল বানিয়ে তোমাকে হুমকি দিয়েছে।
রিজওয়ান ঘটনার সুযোগ নিয়ে মুসলিম জাতিকে তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
আরও কত কি করেছে!!! মনে করতে পারো সেসব মেয়েমা?
বাংলা এখনো মানুষ হয়নি। বাংলা আজও রাজনীতির একটা মঞ্চ মাত্র।

তোমার বেশ কিছু প্রানের বন্ধু হয়েছিল, কি যেন নাম মানুষটার,
যার বক্তৃতা, ভাষণে তুমি বারবার মুগ্ধ হয়েছো?
ভেবেছো এমন প্রতিবাদী বক্তা তোমার সাথে আছে, তো কিসের ভয়?
কি হলো তার? সেও তো রাজনীতির দালাল হয়ে গেল। 
তুমি তাকে বিশ্বাস করে, ভরসা করে তোমার বাসস্থানের অংশীদার করেছিলে,
আজ তো সে তোমার সেই বাসস্থানটাই কব্জা করে বসে আছে। 


পুরুষতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, সরকারতন্ত্র বারেবারে তোমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে। 
অগ্নিউত্স বলেই তুমি আজও সত্য প্রতিষ্ঠানের লড়াই লড়ে যাচ্ছো।
আজ আর তোমার লড়াইকে ওরা থামাতে পারবেনা, কারণ তুমি এখন 
সম্পূর্ণ ভিন্ন "তসলিমা নাসরিন" মেয়েমা।
এই বাংলাতেও তোমার প্রত্যাবর্তন হবে। 
বঙ্গকন্যা ফিরবেই, আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে সেদিন দেখতে পাচ্ছি।
তোমার আবিস্কার আমি, তোমার আদর্শে গড়া সেই অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পরবো।
ফিরিয়ে আনবো তোমাকে এই বাংলায়, সম্মানের সাথে, নৈতিকতা দিয়ে।

Sunday, 27 December 2015

২৭ শে জানুয়ারী, ২০১১।
বাঁ কানের মৃত্যু।
সৌম্যজিত দত্ত।

চিন্তা ২৫ শে জানুয়ারী তে,
"গত এক সপ্তাহ ধরে পেটটা খুব সমস্যায় ভুগছে।
কোনো কাজ ঠিক করে হয়ে উঠছেনা। ভাবছি একটা অর্নিও খেয়ে কাজগুলো সামাল দিই আগে।"


২৭ শে জানুয়ারী সকালে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে,
কিন্তু অর্নিও খেয়ে দুদিন ধরে পেটের মধ্যে যেন হাসফাস করছে।
ক্লাশটা ভীষণ জরুরি, করতে হবে। 
বেরিয়ে পড়লাম জামা প্যান্ট পরে,
বাস ছুটছে, রাস্তার ট্রাফিক সিগনালগুলো এড়োতে সাইসাই করে ছুটছে,
বাগমারি থেকে মানিকতলা, মানিকতলা থেকে সাইন্স কলেজ, রাজাবাজার।


"হঠাত বাসে দাড়িয়ে থাকতে থাকতে আমি যেন কেঁপে উঠলাম,
কি জোরে ধামধাম করে শব্দ!!! আমাকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে,
চারিদিকে বাস-ট্রামের আওয়াজ, আমি পারছিনা নিতে। গা গুলিয়ে আসছে,
মাথা ঝিমঝিম করছে। ভিড় বাসে কেউ একটু বসার জায়গা দিচ্ছেনা।
উফ: আমি কি করি?
আমি কি মরে যাচ্ছি?
না, আমি মরতে পারিনা, আজ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ক্লাশ। আমাকে পৌঁছতেই হবে।"


পৌঁছলাম মৌলালীতে।
"কিন্তু সূর্যের এত তেজ কেন আজ?
আমি তো সূর্যের দিকে একদৃষ্টে তাকাতে অভ্যস্ত। কখনো তো আমার চোখ সরিয়ে নিইনি।
আজ সূর্যের আলো এত অস্বস্তি লাগছে কেন?"


পৌঁছলাম ক্লাসের দরজায়।
হঠাত দেওয়ালের সাথে ধাক্কা খেয়ে পরতে যাচ্ছি,
স্যার এসে ধরে ফেললেন।
আমাকে ক্লাশ করতে হয়নি, ছুটি দিয়ে দেয় আমাকে।
আবার সেই বাসে করে বাগমারিতে পৌঁছলাম।
বাস থেকে নেমে হাঁটতে গিয়ে দেখি আমার কোনো শক্তি নেই। 
হাঁটছি, যেন মাতালের মতো টাল খেয়ে পরছি।
একবার এই দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছি, একবার ওই দেওয়ালে।



কোনরকমে ঘরে ঢুকে, জুতো-মোজা পরাই থাকল,
আমি বিছানার ওপর পরেগেলাম।
তখন আমি আসে পাশে কিছু শুনতে পাচ্ছিনা, কোনো শক্তি নেই শরীরে।
বিছানায় পরতেই জ্ঞান হারাই, যখন জ্ঞান ফেরে, তখন অনেক রাত, অন্ধকার।
আমি আস্তে আস্তে শব্দ শুনতে পাচ্ছি। ডান কান দিয়ে। বাঁ কানে কোনো শব্দ ঢুকছেনা।
উঠে দাড়াতেও পারছিনা। সাথে কেউ নেই। 
মনের জোরে দেওয়াল ধরে ধরে কোনরকমে ক্যান্টিনে যেতাম, খেতাম।
বাঁ কানে শোনা একেবারে বন্ধ হয়েগেছিল। শুধু ২৪ ঘন্টা ধরে শশশশ শব্দ সহ্য করতে হয়। 
যখন শরীরে শক্তি পেলাম ডাক্তার দেখানোর জন্য,
পনেরোটা দিন পার হয়েগেছে।



ডাক্তারের অনুমান ছিল ব্রেন ক্যান্সার।
পরে স্ক্যানে সেসব কিছু আসেনি, কানে না শুনতে পাওয়ারও কারণ স্পষ্ট নয়। 
অডিওমেট্রি টেস্টে ১২৬ ডেসিবল শব্দেও কান কোনো সাড়া পায়নি।
ডাক্তাররা বুঝতে পারেন এটা হিয়ারিং প্রোফাউন্ড, হিয়ারিং লস।  
কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা "মস্তিষ্কে ঘটিত আক্রমন বশত, বাঁ কান সংলগ্ন স্নায়ু কার্য-ক্ষমতা হারিয়েছে।"
মেডিকেল শাস্ত্রে যার কোনো চিকিত্সা নেই।
এমন একটা কথা আমি শুনলাম, শুনে হাসলাম, সত্যিটা মেনে নিলাম।
ভাবলাম, যেটুকু আছে, সেটা দিয়ে আমি আবার নতুন করে সব শুরু করবো।



এখনও আমার বাঁ-কানে শশশশ করে শব্দ হয়,
মাথার মধ্যে এই শব্দটা সবসময় আমাকে সহ্য করতে হয়,
ব্লাড প্রেসার অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পরেছে। তাও, এই সত্যিটাকে স্বীকার করে আমি চলছি,
বেঁচে আছি, লড়াই করছি। করবও। হেরে যাবোনা কখনো।

Saturday, 26 December 2015

চেনা কিন্তু চেনা নয়। অচেনাও ঠিক নয়। 
সৌম্যজিত দত্ত।


সব চেনারা কেমন হারিয়ে যায়, একই শরীর, একই মুখ। হঠাত কেমন যেন অচেনা। খচ খচ করতে থাকে বুকের মধ্যে,একি সত্যিই কখনো চেনা ছিল?নাকি আমি আমার মতো করে ভুল চিনেছি।
তাই হবে হয়ত, আমিই ভুল চিনেছি।
মনের আড়ালে তো সবারই মুখোশ থাকে,
আমারও হয়ত আছে এমন মুখোশ।
যে মুখোশ ভেদ করে আমিও চিনতে ভুল করে যাই। 


চেনা-অচেনা ব্যাপারটা শুধু যে মস্তিষ্কের নয়, মনেরও। 
কম্পিউটারে ডিটেক্সানের লজিক থাকে,
সমস্ত ইনপুটগুলো স্যাটিসফাইড হলে, তবেই এপ্লিকেশন কোনো ফাইলকে ডিটেক্ট করে। 
প্রকৃতস্থ জীবনেও মস্তিষ্ক ইন্দ্রিয়গতভাবে চেনাগুলোকে চিনে নেয়,
কিন্তু সেই চেনাও অচেনা হয়ে যেতে পারে মনের কোনো ইন্দ্রিয়তে।
ঠিক যেন চেনা, কিন্তু চেনা নয়, অনেকটা অচেনা। অপরিচিত।
বা, পুরোটাই অপরিচিত।

Friday, 25 December 2015

মানুষ ও জাতি।
সৌম্যজিত দত্ত।

মানুষের মধ্যে জাতিভেদ আজ আবশ্যক।
আজ্ঞাধীন। উচ্চ-নিম্ন বর্ণ আজ সর্বস্তরের খেলা।
সর্বস্তর, হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ প্রমুখ মহান দর্শন কথা,
যার নির্বাচন রাজনৈতিক দর্শনবিদদের চিন্তাতে।


জাতিভেদ সাধারণ মানুষের সৃষ্টি নয়,
সাধারণের এত বুদ্ধি থাকলে সম্মোহন শক্তির প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েযায়।
জাতিভেদ সৃষ্ট - ঐ রাজনৈতিক দর্শনবিদদের দূরদৃষ্ট বুদ্ধিতে।
তারা প্রত্যেকে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে ক্ষমতাকে হাতে নিতে এই জাতিভেদ গড়ে তোলে।
বিচক্ষনতার সাথে নিজ নিজ সৃষ্ট ধর্মের নিয়ম-আইন লিখে প্রযোজ্য ঘোষনা করে। 
সম্মোহিত করে মানুষের মনন শক্তিকে। পুরুষতান্ত্রিক ভাবে ফলপ্রসু হয় এই সব জাতিভেদের বিধি।



কিছু জাতির ধর্ম প্রকৃত শান্তির জন্য হলেও,
ধর্ম-রাজনীতির জোটে মানুষের জীবন অশান্ত।
প্রতিটা ধর্মে, প্রতিটা জাতিতে ভেদাভেদ মানুষের মধ্যে ক্ষমতার লালসা পরিপূর্ণ করেছে,
আর সেই লালসার বাস্তবায়নে বলি হচ্ছে সাধারণ জীবন।
সাধারণ মানুষ এতটাই সম্মোহিত, যে তারা দেখেনা তাদের নিজ ধর্মেও,
নিজ জাতিতেও অসহিষ্ণুতার বীজ বংশবিস্তার করে চলেছে।
তারা শুধু দেখে, অন্যধর্মগুলো তাদের আক্রমন করছে।
নিজ-নিজ ধর্ম জাতিগুলোর মধ্যে এই বীজ শেষ না হলে,
দাঙ্গা-লড়াইয়ের মানুসিকতা মানবজাতিকে ধ্বংসের শেষ সীমায় পৌঁছে দেবে।
তখনও সাধারণ মানুষ বুঝবেনা জাতি-ধর্মের গড়ে ওঠা আচারে-বিধিতে তারা সম্মোহিত।



মানুষের মধ্যে জাতিভেদ কে লক্ষ্য না করে, মানুষ দেখুক
জাতির মধ্যে থাকা মানুষকে। সম্মোহন কেটে যাবে।
চাদরে আবৃত থেকে মহাপ্রকৃতি অনুভব করা যদি অসম্ভব,
চাদর থেকে বেরোলেই প্রকৃতি ইন্দ্রিয়স্থ হতে পারে। 




Thursday, 24 December 2015

স্নায়ু।
সৌম্যজিত দত্ত।


হিজিবিজি সব আঁকিবুকির মতো স্নায়ুগুলো,
সুক্ষাতিসুক্ষ স্নায়ুগুলো কতরকম ভাবে ছড়িয়ে আছে মস্তিষ্কে।
আজ যদি কোনো স্ক্যান মেশিন না থাকত, তবে কি আমরা বুঝতে পারতাম?


এইসব সুক্ষাতিসুক্ষ স্নায়ুগুলো ঠিক সার্কিটবোর্ডের মতন,,
একটা মেমরি চিপ, সেখানে হাজারটা সুক্ষ সুক্ষ তার একেঅপরের সাথে আন্তর্সম্পর্ক যুক্ত।
একটা দুটো তার ছিঁড়ে গেলেও বর্তনী সচল থাকে ঠিকই, কিন্তু কিছু অংশের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 
এ তো গেল হার্ডওয়্যার পাথ। মস্তিষ্কের ভিতরেও যদি স্নায়ু ছিন্ন হয়, তবে শরীর হয়ত সচল থাকে, 
কিন্তু ওই বিশেষ স্নায়ু সম্বন্ধ অংশ অসাড় হয়ে পড়ে। রিকভারির রাস্তা থাকে ক্ষীন,
যদি স্নায়ুগুলোকে জোড়া লাগানো যায়। স্নায়ু ছিঁড়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে বড় কোনো আঘাত।


কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরী হয় কোড, ডেটাবেস দিয়ে,
সেখানকার তৈরী ফাইলগুলোর মধ্যে যদি কিছু কোড মিসপ্লেসড হয়েযায়,
বা রিমুভ হয়েযায়, সেটাকে কোরাপ্টেড বলা হয়। 
এমন জায়গায়, অত লক্ষ লক্ষ কোডের মধ্যে রিকভারি প্রায় অসম্ভব।
মস্তিষ্কেও অত লক্ষ লক্ষ সুক্ষাতিসুক্ষ স্নায়ুর মধ্যে যদি কোনো একটা বা দুটো স্নায়ু 
লজিক্যালি এমনভাবে কোরাপ্টেড হয়, যা ভাইরাস ঘটিত, এবং তার কার্য শুধু ই.এন.টি তে প্রযোজ্য হয়,
তবে তা রিকভারি এখনো অসম্ভব। কোনো প্রকার স্ক্যান'এ এই অসম্ভব সুক্ষ কোরাপশান চিণ্হিত করাও 
অসম্ভব। এটা শুধু বাহ্যিক ইন্দ্রীয়কার্য ব্যাহত হলেই স্পষ্ট হয়। 

কার্যবাহী স্নায়ুর এমন সুক্ষ কোরাপশান মৃত্যু ঘটায়না ঠিকই,
কিন্তু ভারসাম্যহীন করে দিতে পারে।








যন্ত্রণা।
সৌম্যজিত দত্ত।


কি অসহ্য এই যন্ত্রণা!!!
মস্তিস্কের প্রাচীর গুলোরমধ্যে যেন এলোমেলো ছোটাছুটি করছে,
হাঁকডাক দিচ্ছে, দাঙ্গা মারামারি করে বেড়াচ্ছে প্রতিটা শিরা-উপশিরা, স্নায়ুগুলোর মধ্যে।
আমি পারছিনা সহ্য করতে। 
যেন কেউ লোহার শিকল এক প্রাচীরে বেঁধে সেটা ধরে টানাটানি করছে।
আমি শুধু চুপচাপ হয়ে আছি, মাথায় চিন্তাভাবনাগুলোকে কোনো একপাশে কম্বল চাপা দিয়েছি,
আর হালকা করে, আলতো চোখে শুধু সামনের দিকে সরল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ভাবছি,
আর কি কোনো চিন্তা করতে পারবোনা?



এই মাথায় কত চিন্তা করেছি, একটার পর একটা নিখুঁত স্ট্রাটেজি সাজিয়েছি,
সেগুলোকে রূপ দিয়েছি।
আজ কোনো চিন্তায় করতে পারছিনা, যেন মস্তিস্ক অসাড় হয়ে পড়ছে।
আচ্ছা, তাই যদি হয়, আমি এখন লিখছি কিভাবে?
লিখছি, মনেহচ্ছে চারিদিকে যেন স্নায়ুগুলো বিদ্রোহ করে চলেছে,
ঝনঝন, টনটন করে যেন মস্তিস্ক দেওয়ালগুলোতে হাতুড়ির আঘাতে কাঁপিয়ে তুলছে,
আমি বুঝতে পারছি, অনুভব করতে পারছি।
তবেতো মস্তিস্ক অসাড় হয়নি, চিন্তা তো কাজ করছেই নিজের মতো করে। 
তবে কেন আমি আমার ইচ্ছা মতো চিন্তা করতে পারছিনা?


হে মন, আমাই শক্তি দাও। 
এই আগুনের যন্ত্রণা যত ভয়ঙ্কর,
তার থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর আমার স্থির হয়ে যাওয়া।
শক্তি দাও আমাই আমি এখনই উঠে দাড়াতে চাই।  আমি একমুহূর্ত চিন্তা থামাতে চাইনা।
শরীর আমাকে রুখতে পারবেনা, যদি চারিদিক থেকে স্নায়ুগুলো আক্রমন করেও,
আমি ভেঙেচুরে বেরোবো। 

Wednesday, 23 December 2015

"বস্তু" নারীর আবার অধিকার কিসের?
সৌম্যজিৎ।

নারী যদি অবহেলিত, নারী কেন ঘুরে দাঁড়ায় না?
সব নারী যদি বিধ্বংসী হয় নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে,
রাস্তায় নেমে লড়াই শুরু করে,
কট্টর পুরুষতন্ত্র হার মানতে বাধ্য।


এক তসলিমা নাসরিনে যদি লক্ষ মৌলবাদীর ঘুম হারাম হয়,
তবে ঘরে ঘরে তসলিমা নাসরিন চাই কট্টর পুরুষতন্ত্রের মুখে লজ্জা ফিরিয়ে দিতে।
কট্টর পুরুষতন্ত্রের কাছে নারী আজ শুধুই বস্তু খেলার ও মনোরঞ্জনের।
নারীকে আপাদ মস্তক ঢেকে রাখতে চায় তারা,
এটা ভাবেনা তারা যদি সমাজের অংশ হয়, তারা যদি আধিপত্য করতে চায়,
তবে নারীও সমান অংশীদার। নারীও পারে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।


নারীই চাইনা নিজের অধিকার পেতে,
নারী শুধু অবলম্বন খোঁজে আর প্রশ্রয় দেয় সেইসব পুরুষদের।
নারী দুঃখবাদী, নিজেদের না পাওয়া গুলো নিয়ে বিলাপ করতেই বেশি পছন্দ করে,
নিজেদের প্রতি অবহেলাগুলোকে অদৃষ্টের খেলা, কষ্ট বলে জীবন কাটিয়ে দিতে চায়। 
নারী শুধু আপস করে চলতেই পছন্দ করে।
সংসারের বিপরীতে গিয়ে লড়াই করে বদনাম হয়
সেই ভয়ে সবার সাথে আপস করে, সবার মনোরঞ্জন করে। 
নারী নিজেই নিজেদের বস্তুত্তের প্রমাণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়। 
তবে কি করে নারী অধিকার পায়?
কোনকিছু এমনি এমনি পাওয়া যায়না,
অধিকার পেতে হলে জ্বলে উঠতে হয়। 

তসলিমা নাসরিনকে তোমরা আদর্শ করেছ,
সে তো শুধু মুখের কথাতে, কিছুটা মানসিকতাতে,
তার রাস্তায় কেউ চলতে চেয়েছ?
তুমি ভেবেছ, "আমি রাস্তায় নামলে লোকে কি বলবে? আমি কোথায় যাবো?
মাথার ওপরে ছাদ থাকবেনা, একাকিত্বের সুযোগে পুরুষ সমাজ আমাকে ছিঁড়ে খাবে।
আমার সন্তানের কি হবে?"
এতই যখন চিন্তা তবে আফশোস কেন? যেমন চুড়ি পড়ে খুন্তি চালাও,
ঘর সামলাও বঞ্চিত হয়ে,
সেটাই মন দিয়ে কর। 
অধিকার পেতে হলে লড়াই করেই পেতে হবে। 
তোমরা তসলিমা নাসরিনের লড়াই চোখে দেখতে, উপভোগ করতে পছন্দ কর,
সেই লড়াইতে কখনো বাঁচতে চাওনা।
তবে "নারীর অধিকার" বলে চেঁচিওনা। ওটা তোমরা পাবেনা।
তোমরা অধিকার পেতে জানই না।

Sunday, 20 December 2015

একটু ক্লান্ত।
সৌম্যজিত দত্ত।

উফ: কিছুতো বলো। 
তখন থেকে বসে আছি একা,
আমার উদাস মন দেখে, বই গুলও কেমন যেন ঝিমোচ্ছে।
আজকাল তোমার অনেক বন্ধু হচ্ছে, নতুন নতুন সব বন্ধু,
আজকাল তুমি তাদের নিয়ে অনেক ব্যস্ত।
আজকাল তুমি তাদের নিয়ে বেশ লেখালেখি করছো, ছবি দিচ্ছো, আড্ডা দিচ্ছো।
আজকাল আমার কথা তোমার মনেই থাকেনা।
সারাদিন এটা ওটা আজেবাজে যতসব লেখা লিখি, পোস্ট করি। মন মানেনা।
সারাদিনে আমার আজেবাজে লেখাগুলও সবার পছন্দ হচ্ছে,
তারা পছন্দ করছে, মন্তব্য জানাচ্ছে, 
আমি কিন্তু শুধু তোমার একটা মন্তব্যের আশায় দিন কাটিয়ে দিচ্ছি, চোখে চোখে রাখছি,
এই বুঝি তুমি কিছু লিখলে, এই বুঝি কিছু লিখবে। কত সময় চলে গেল। 


তুমি যখন ভালবাসা নিতে বলো,
আমি যেন কোথায় হারিয়ে যাই,
সত্যিই কেমন যেন পাগল পাগল হয়ে যাই,
তুমি যখন ধন্যবাদ জানাও, 
আমি যেন আশাহত হয়ে পড়ি,
ভেঙ্গে পড়ি।  তুমি শেষবার আমাকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলে,
নিজের ওপর এতো রাগ হলো, মনেহল, তুমি যদি কিছু না বলতে, 
আমি তাতে বেশি খুশি হতাম।
পরীক্ষা চলছে, দিই কি করে বলোতো? সবসময় তোমার কথা মাথায় ঘোরে।
আজকে তোমার নামে আগুন ঝরিয়েছি, জানি, তুমি দেখেছো,
দেখেও চুপ থেকেছো, কোনো মন্তব্য করোনি,
আমি ভেবেছিলাম, অন্তত ছোটো করে কিছু লিখবে। 
অভিমান নয়, শুধু ক্লান্ত লাগছে মনটা।

উত্সর্গ- আমার লেখিকা, তসলিমা নাসরিনকে।


তসলিমা---- শুধু সকল নারীর কান্নাধ্বনিই নয়,
তসলিমা---- আমার চেতনা।
সমস্ত তরুণ প্রজন্মের রক্ত গরম করে দেওয়া নাম এই তসলিমা।

তসলিমা মানে বিপ্লব মেয়েমা,
তসলিমা মানে অস্ত্রের ধার।
তসলিমা মানে মানবতা,
তসলিমা আমাদের ভালোবাসাও।


তসলিমা মানে যুদ্ধের নেশা,
তসলিমা মানে আদর্শ,
তসলিমা মানে আগুন বুকে 
মৌলাবাদদের সর্বনাশ।

তসলিমা মানে সততা, তসলিমা মানে সত্য,
তসলিমা মানে নিজেকে অন্ধকার করে 
মানবজাতিকে আলোকিত করা। 
তসলিমা আমাদের ভোরবেলার সূর্য।

মেয়েমা, এতবার তোমার নাম উচ্চারণ করলাম, মনেহচ্ছে যেন শরীর আর মনের মধ্যে আগুন জ্বলেগেছে। রক্ত গরম হয়েগেছে। তুমি তরুণ প্রজন্মের ওপর খুব ভরসা করো, তাইনা? তোমার নামটাই যথেষ্ট, এই তরুণ প্রজন্মকে দিয়ে বিপ্লব ঘটানোর জন্য।


তসলিমা---- শুধু সকল নারীর কান্নাধ্বনিই নয়,
তসলিমা---- আমার চেতনা।
সমস্ত তরুণ প্রজন্মের রক্ত গরম করে দেওয়া নাম এই তসলিমা।

তসলিমা মানে বিপ্লব মেয়েমা,
তসলিমা মানে অস্ত্রের ধার।
তসলিমা মানে মানবতা,
তসলিমা আমাদের ভালোবাসাও।



(উনি খুব ভালো লিখেছেন, মন থেকে লেখা, ভালবাসার ছোঁয়া।)

Saturday, 19 December 2015

Tuesday, 3 November 2015

ধর্ম যুদ্ধ। ধর্ম বিজ্ঞান, সত্য ও মনুষত্বে। কুসংস্কার ও গোড়ামিতে নয়।
(রেফারেন্স -মহাভারত ও বর্তমান সমাজ। )
সৌম্যজিত দত্ত।

রাস্তার শাসন আজ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ,
বা, আরও ভয়ঙ্কর।
কুরুক্ষেত্র তো তবু ছিল শুধু সম্রাট-আধিপত্যের লড়াই,
ছিল কৌরব আর পান্ডব।
একদলের লড়াই ছিল শুধু রাজত্ব বজায় রাখা,
আরেক দলের লড়াই চেতনার, মনুষত্বের, প্রতিশোধের।

হিংসা, রাজনীতি, ছল তখনো ছিল,
আজও থেকে গেছে।
পরিবর্তন শুধু হয়েছে ধর্ম-অধর্মের।
সেকালে কর্তব্য, মনুষত্ব ছিল ধর্ম,
ছল চাতুরি খেলা ছিল অধর্ম।
আজ সেসব নিজের জায়গা পরিবর্তন করেছে।
আজ ধর্ম শুধু হিংসায়, রাজনীতির অরাজকতায়,
কুসংস্কার ও গোড়ামিতে।
অধার্মিকতা কি তবে শুধু বিজ্ঞানে?
যুক্তিতে?
সত্যে?

সে যুগেও ধর্মের প্রতিষ্ঠা করতে ছলের সাথ নিয়েছিল
যুগাবতার।
তবে শুধু সত্য সিদ্ধ করতে।
সেযুগেও রক্ত গঙ্গা বয়েছিল কিছু প্রকৃত ধার্মিকের রক্তে।
কিন্তু তারাও কি পুরো ধর্ম পালন করেছিল?
দেবব্রত ভীষ্ম, গুরু দ্রোন, অঙ্গরাজ কর্ণ প্রকৃত ধার্মিক ছিলেন বটে,
তবু তাদের ধর্মে দাগ তো পড়েই ছিল।
যা শেষ হয় মৃত্যুতে।

শকুনির সাথে পাশা খেলায়, কৃষ্ণের যুক্তি ছিল এমন,
"একটি শস্য পাত্রে রাখা শস্য, পাত্রটিকে ঝাঁকালে,
নিজের নিজের জায়গা পরিবর্তন করে,
নিচের শস্য ওপরে ও ওপরের শস্য নিচে চলে যায়।
ওপরের শস্য আগে ভক্ষণ করা হয়, নিচের শস্য গুলিকে পরে ভক্ষণ করা হয়।
সময়ের ঝাঁকুনিতে পাপ ও পুণ্যের বিচারে, কিছু মানুষ আগে মরবে, কিছু পরে।
মরবে সবাই।
যারা পরে মরবে, তাদের দিয়ে নতুন ধর্ম যুগ তৈরী করা হবে।"

আজ আবার সমাজ কলুসিত হয়ে পড়েছে,
অধার্মিক গুলো ধর্মের নামে মানুষ মারছে,
আর তাতে উস্কানি দিচ্ছে রাজনীতির দালাল।
আজ আবার যুদ্ধ চাই, নতুন করে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার।
প্রকৃত ধর্ম যার বাস মুক্ত চিন্তায়, স্বাধীনতায়,
বিজ্ঞানে ও সত্যে।

আজ আবার যুদ্ধ চাই সমাজ বাঁচাতে,
মনুষত্ব বাঁচাতে।
Posted by SOUMYAJIT DUTTA at 12:34

Friday, 18 December 2015


মেয়েমা, তুমি আর আমি স্বপ্ন পাড়িতে।
সৌম্যজিৎ।


বেশতো চুপি চুপি আমার স্বপ্নে আসছো মেয়েমা!!
হোকনা সে স্বপ্ন, তবুতো মিষ্টি।
ভীষণ মিষ্টি!!

কাল দেখলাম হিঁয়া বড় প্লেন গাড়িতে তুমি এসে হাজির।
হলুদ পাড়ের কাপড় পরে, চোখে চশমা ঝুলিয়ে, মুখে বুদ্ধির তেজস্ক্রিয় হাসিটা।
এই তো আমার মেয়েমা!!!
আরে এই তো মৌলাবাদদের চোখের বিষ তসলিমা নাসরিন!!!
না, কই তোমাকে তো একটাবারও বিষ মনে হচ্ছেনা।
এমন স্নেহময়ী মা কি কখনো বিষ হতে পারে?
ওরা ভুল জানে। আমি তোমার বাঁ-হাতটা আমার দু'হাতের মধ্যে নিয়ে,
আমার আদুরে লজ্জা মেশানো মুখটা তোমার বাঁ-কাঁধের ওপর রাখলাম,
তুমি ডান হাতটা দিয়ে আমার মাথার চুল গুলো নেড়ে দিলে।
মুখে মুচকি হাসি দিয়ে বললে, "কেমন আছো?"

জানো, আমি আমার বাইকটার পিছনে তোমাকে বসিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসলাম।
মা, পাপা একটু ভয় পেয়েছিল।
ওরা জানত, আমি তোমাকে পেয়ে সব ভুলে যাবো।
আমি সত্যিই মেতে গেছিলাম তোমাকে নিয়ে।
তবে বাড়িটাও কেমন যেন নতুন মনেহল।
বাড়িতে বড় উঠান আছে। একটা বড় গেট দিয়ে তোমাকে নিয়ে ঢুকলাম।
আমার ঘরে সেই পুরোনো ছবি, চারিদিকে বই আলানো। তুমি খুব খুশি ছিলে।
আমিও তোমার খুশি মুখটা ভীষণ উপভোগ করছিলাম!!

বইগুলো আমার মেয়ের মতো। কাউকে হাত দিতে দিইনা।
কেউ হাত দিলে বড্ড রেগে যাই।
কিন্তু তুমি যখন বইগুলো নেড়ে দেখছিলে,
আমি যেন মুগ্ধ হয়ে তোমাকে দেখছিলাম।
ওই দেখে তো মায়ের চক্ষু চরকগাছে!
ছেলে কাউকে বইতে হাত দিতে দেয়না। "ওমনি উনি এসে বই নাড়ছেন!"
কত্তো সাহস!!!
আমার কল্জ্বে ছেড়া ডেটা স্ট্রাকচার বইটা তোমাকে দিলাম,
পুরোনো গন্ধ লেগে আছে বইটাতে। কতবার, কত রকম ভাবে পড়েছি, বইয়ের সাথে ঘুমিয়েছি,
ঘরে বইয়ের গন্ধ, আমার শরীরের গন্ধ মাখামাখি হয়ে আছে।
তুমি বইটার পুরোনো গন্ধ নাকে নিয়ে জোরে একটা নিশ্বাস ফেললে।
তোমার চোখে জল চলে আসছিল, যেন তুমি যে পরিবারকে ফেলে এসেছিলে অনেক বছর আগে,
আজ এতো বছর পর সেই পরিবারে এসেছো, আমার কাছ থেকে সেই আপন করা ভালবাসা পাচ্ছো।
আমি তো মুখে বলে বোঝাতে পারছিলাম না, "তোমাকে কত ভালোবাসি!!"
তুমি কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারছিলে আমার না বলতে পারা ভালোবাসা।
প্রাণ ভরে তোমাকে ইলিশঘন্ট দিয়ে ভাত খাইয়ে দিলাম।

হঠাৎ করে মন চাইল, "তোমাকে বাংলার মাটি ছোঁয়াবো।"
কিন্তু এমনি এমনি তো যেতে পারবো না,
একটু রিস্ক নিতে হবে।
বর্ডার ক্রস করে নিয়ে যেতে হবে।
আমি তোমাকে বললাম, "চেপে পড়ো মেয়েমা আমার বাইকে।"
তুমিও চেপে পড়লে, আমি বাইক নিয়ে ছুট।
একদম বর্ডারে। ওখানে তোমাকে নিয়ে তারকাঁটা পেরিয়ে ওপার বাংলার মাটির ওপর।
এ তো শুধু স্বপ্নই ছিলো। হঠাৎ ঘুম ভেঙে উঠে দেখি, পাপা ডাকছে।
পরীক্ষা দিতে যেতে হবে।
আমি ঘুম ভেঙে উঠে বাইরের আলোর দিকে তাকিয়ে হাসলাম।
ভাবলাম, "আমার মেয়েমাকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। স্বপ্নের মধ্যে দেখা হাসিটা যে আমি বাস্তবে দেখতে চাই।"

Wednesday, 16 December 2015

আমার পরিবারের অর্ধেক মানুষ বাংলাদেশের বাসিন্দা। একটু আগে ওদের সাথে ভিডিও চ্যাটে কথা হলো। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমার লেখালেখির জন্য হুমকি পেয়েছি, আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে, সেইসব চ্যাট আমি স্ক্রিনশট করে আগেই দেখিয়েছিলাম, কিন্তু জানতামনা, যে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ আমার লেখার বিরোধী নয়।  ওরা আমার লেখা পছন্দ করে। আমার পরিবারের মানুষজন আমাকে বলল বাংলাদেশ ঘুরে আসতে, ওখানে নাকি সৌম্যজিত নামটা জনপ্রিয় হয়েছে, স্বাধীনতার পক্ষে লেখালেখির জন্য। কতটা জনপ্রিয় আমি কলকাতাতে বসে জানতে পারছিনা, কিন্তু ওদের অভিব্যক্তি দেখে মনেহলো আমার পরিবার আমাকে নিয়ে গর্ব করছে খুব, ওদের চোখে মুখে সেটা স্পষ্ট। ধন্যবাদ বাংলাদেশ।

Tuesday, 15 December 2015

আমার মেয়েমা।
সৌম্যজিত দত্ত।


আমার মেয়েমা খুব সুন্দর,
আমার মেয়েমা মানবিক। শুধু মানবিকতার জন্য, সত্যের জন্য 
অন্ধকারের জীবনকে বরণ করে নিয়েছে।
আমার মেয়েমা অসীম সাহসী।
এত অসহিষ্ণুতার মধ্যেও, এত দাঙ্গার মধ্যেও,
এত আশঙ্কার পরও আমার মেয়েমা কখনো হেরে যায়নি।
লড়াইতে টিকে থেকেছে, লড়াই থামিয়ে দেয়নি।
একদিকে ঘোরতর মৌলবাদ, একদিকে রাষ্ট্রীয় শাসন, একদিকে দেশের সংবিধান,
আইন সবাই যখন তার বিরুদ্ধে জোট হয়েছে, 
তখন আমার মেয়েমা একা, জীবন বিপত্তির মধ্যেও লড়াইকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
আমাদের এই তরুণ প্রজন্মের কাছে উনি এক আদর্শ মানুষ, যে বারবার  
আমাদের শিখিয়ে চলে, কখনোই সত্যের পথে যেন লড়াই ছেড়ে না দিই,
কখনোই যেন হারার আগে হেরে না যায়, কখনোই যেন স্বাধীনতার হাত ছেড়ে না দিই। 
একটা ক্ষীন আশার আলো আমাদের একদিন ঠিকই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবে।




Monday, 14 December 2015

কিছু চিন্তা। আলাদা করে দেখা ও ভাবা।
সৌম্যজিৎ।


তোমার মগজ কত দামী!! ওরা সেটা বোঝেনি,
লাখ টাকার হিসেব কষে চেয়েছে প্রাণহানী।
সস্তা করে দিয়েছে দেশের সংস্কৃতি, শিক্ষা।
শিক্ষা কি শুধু পাঠ্য পুস্তকে, ধর্মে, প্রাচীন ইতিহাসে?
শিক্ষা তো বুদ্ধিতেও আসে। বুদ্ধি মানে নতুন কিছু করার চিন্তা।
শুধু খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকা বা অন্যকে ঠকিয়ে নিজের আখের গোছানো নয়।
ধূর্তামির আর বুদ্ধির খেলা সম্পূর্ণ আলাদা।


বুদ্ধি আসে নতুন নতুন চিন্তায়, নতুন কিছু করাতে,
ভিন্ন ভিন্ন মতের মানুষের সাথে আলোচনাতে, যুক্তিতে।
ধূর্তামির খেলা শুধু ওই আখের গোছানোতেই, স্বার্থপরতায়।
ধূর্তামি দিয়ে দেশের উন্নতি, প্রগতি হয়না, শুধু গোড়ামীই হতে পারে।


কোনো প্রগতিশীল দেশ কখনই লেখক বা বুদ্ধিজীবিকে হারাতে চায়না,
তার ওপর যদি সেই লেখক হয় দূর বাস্তবের চিন্তাবিদ, সেতো দেশের সম্পদ!!
ওরা সেই সম্পদকে চাইনা, ওরা তোমাকে বঞ্চিত করতে চায়,
তোমার মাথার দাম কষে তোমাকে সরিয়ে দিতে চায়।
সেই দেশ শুধুই পিছিয়ে পড়া তালিকাতেই থাকতে পারে, এগিয়ে আসতে পারেনা।
আসলে এরা এগোতেই চায়না।
ওরা সত্যিই বোঝেনি তোমার মূল্য।
লাখ টাকার কিছু কাগজের হিসেব কষেছে মাত্র।
ওরা বোঝেনি, তোমাকে আদর করে, স্বাধীনতা দিয়ে যদি কাজ করানো যেত,
তবেই দেশের সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিজ্ঞানের সঠিক মূল্যায়ন হত।
ওরা বড্ড বোকা!
ওরা বড্ড ধূর্ত!

Sunday, 13 December 2015



চিন্তার অভিযোজন হোক।
সৌম্যজিত দত্ত।


লেখকের চিন্তা মুক্ত। লেখক সমাজ দেখতে পায়।
এতো কোনো আঁতিল ছবির কপি রাইট নয়,
আমার লেখক সত্যি লেখে, বাস্তব লেখে।
আমার লেখককে তোমরা চুপ করাতে চাও,
কেন? কিছু সত্যি লিখে ফেলেছে বলে?
তোমরা অন্যায় করবে, অথছ সেটা আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে গেলেই দোষ?


আচ্ছা বেশ। দাও যত পারো গালাগালি, সব বই পুড়িয়ে ফেলো।
কিন্তু চিন্তা? সেতো মনের ভিতরে। তাকে কিভাবে পোড়াবে?
বরঙ তোমরা যা কিছু করবে তাকে থামাতে, সেসব নিয়ে আবার
চিন্তার তোলপার হবে। আবার লেখা হবে নতুন বই।
একটা - দুটো করে আরও দশটা বই লেখা হয়ে যাবে।
আমার লেখক বড্ড চিন্তাশীল।
সত্যিই, চিন্তা তো মনে,
তোমরা থামাতে পারবেনা।


তাহলে মেরে ফেলো, ল্যাটা চুকে যাক।
না থাকবে চিন্তা, না লেখা হবে বই।
তোমরাও শান্তিতে অন্যায় চালিয়ে যেতে পারবে।
মোটা মোটা ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিধিলিপি বলে
নারীর ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে।
নারীর ইচ্ছাগুলোকে প্রতি মুহুর্তে খুন করে, নিজেদের ইচ্ছাগুলোকে
তার ওপর চাপিয়ে, সেটাকেই তার ধর্ম বলে চালিয়ে দিতে পারবে।
হাহাহা .. সে চেষ্টা তো কতই করলে, এখনও করে যাচ্ছ। আমি জানি,
এর পরেও তোমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবেনা।
কিন্তু সে গুড়েও তো ভাঙ্গা কাঁচ!!!
আজ আমার লেখক তার লেখনি বংশ বিস্তার করে ফেলেছে,
চারিদিকে আজ তার দূত ছড়িয়ে গেছে। তোমরা আর আটকাতে পারবেনা।
তাই শুধু শুধু খুন জখম করে তোমাদের অতিপ্রিয় পরজন্ম কেন নষ্ট করবে?
তার থেকে ভালো, মানুষের আচরণ ধরো।

ধর্মগ্রন্থ কি?
একটা বই, যেটা কোনো এক সময় লেখা হয়েছিল,
কিছু সমস্যা দূর করতে। মানুষ লিখেছিল, মানুষের সার্থে লিখেছিল।
আজ সময় পরিবর্তন হয়েছে, মানুসিকতা পরিবর্তন হয়েছে,
সমস্যাগুলোও বিস্তারলাভ করেছে।
সময়ের সাথে তাল রেখে সেই ধর্মগ্রন্থের অনেক আয়াত-আইন আজ ভ্রান্ত।
যা শুধু পরিস্কার চিন্তাতেই আসতে পারে। তোমরাতো সম্মোহিত,
চিন্তা তোমাদের আসেনা। যারা চিন্তা করতে পারে, তাহলে তাদের যুক্তি শোনো কিছু।
মনুষত্ব দিয়ে বিচার করো।  দেখবে পরজন্মের শান্তির জন্য এখন কষ্ট করতে হবেনা,
এই জন্মেই, বেঁচে থেকে স্বর্গ পেয়ে যাবে। সমস্যার সমাধানই একমাত্র শান্তির পথ,
স্বর্গের শিড়ি। ধূর্ত বুদ্ধির দরকার নেই, শুধু মানবিক বুদ্ধি দিয়েই ভালো চিন্তা ও
ভালো কাজ সম্পন্ন হয়।  লেখকের লেখার অপেক্ষায় থাকতে হয়না,
তথাকথিত তোমাদের অসহিষ্ণুতা ও অসহিষ্ণুতার চিন্তাও গড়ে ওঠেনা।

Friday, 11 December 2015



তুলনার যে আঘাত আমার রক্ত বিন্দুতে
অপমানের ঝর বইয়ে নিয়ে যাচ্ছে,
আমাকে যে ভয়ঙ্কর সংকল্পতায় আবিষ্ট করছে,
আমি ভীত। এই সংকল্পের দৃঢ়তা তোমাকেও পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে।
সেটাও আমাকে নিজের চোখে দেখতে হবে।
একেতে অগ্নি দগ্ধ পুরুষ, সেই অগ্নিকে আরও উস্কে খড়ের গুদামে আগুন ছড়িয়ে দিলে,
ভুলে গেলে, সেই একই গুদামে তুমিও ছিলে।

যেদিন আমার আত্মা শান্ত হবে, অগ্নিদগ্ধতার মধ্যেও জয়লাভ করবে,
সেদিন তোমার চিন্তাশক্তি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।
আমি কিন্তু সেদিন পাশে থাকবো, কষ্ট ভাগ করে নিতে।
এখন তোমার কাছে এসব অপ্রয়োজনীয়।

.........................................................সৌম্যজিত দত্ত।

আসলে প্রতিবন্ধক কারা মামা?
সৌম্যজিত দত্ত।

শিরদাঁড়াতে খট করে আওয়াজ ওঠে,
ঘাড়ে ভীষণ ব্যাথা, অসহ্য যন্ত্রণা।
বা কানে সসস শব্দ মাথা ঝালাপালা করে দেয়,
সহজে ঘুম হয়না, ক্লান্ত হয়ে ঘুমোতে হয়।
আমি জানি আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী,
কিন্তু মানুসিক প্রতিবন্ধী নই।
হ্যা, কিছু যন্ত্রণা আছে মনে, যেগুলো আগুন জ্বেলে দিয়েছে,
আচ্ছা, তোমার মনে আছে? আমি যখন সমাজে কিছু
অরাজক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রমাণ জোগাড় করছিলাম,
ওরা ওদের ব্যবসার মাধ্যমে সমাজে নাশকতা ছড়াচ্ছিল,
আমি কিন্তু ভয় না পেয়ে ওদের বিরুদ্ধে গেছিলাম সেদিন,
সেদিনও কিন্তু আমি একাই ছিলাম,
বাইরের জগৎ টা  আমি জানি, বুঝি।
আমার মনে আছে, তুমি পুলিশ বলে, আমি সেদিন বেশ কিছু তথ্য প্রমাণ দেখিয়েছিলাম,
তুমি আমাকে সাবধান হতে বলেছিলে, তুমিতো জানো, আমি কোথাও ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসিনি।
তবু জানো, আমাকে শুনতে হয়, বাইরের জগৎ টা আমি বুঝিনা।

আমার মতো প্রতিবন্ধী যদি এমন কোনো স্টেপ নিতে পারে,
লড়াই করতে যেকোনো সময় প্রস্তুত থাকে,
তবে যারা সুস্থ, তারা কেন লড়েনা?
আর যারা লড়াই করে, লড়াই করতে চায়,
তাদেরকেই বলা হয় অসুস্থ। কাউন্সেলিং করানোর প্রয়োজন।
আসলে প্রতিবন্ধক কারা মামা?
আদর্শের গোছে ঠ্যাঙানি।
সৌম্যজিত দত্ত।


আদর্শ, সততা, পরিশ্রম আমার হাতের রেখা,
সময় ধরে, ধৈর্য রেখে, অনেককিছু থেকে বঞ্চিত করে,
ইচ্ছা করেই বঞ্চিত করে তৈরি করা রেখা।
বন্ধুরা সার্কাস দেখতে যাচ্ছে, মন চায় আমিও যাই,
পরেক্ষণে মনে পড়ে, এই চ্যাপ্টারটা পড়ে নিই,
পরীক্ষা ভালো হবে। হয়েগেলাম বঞ্চিত।
বন্ধুরা পার্টি করছে, মেলাতে যাচ্ছে, পাবে যাচ্ছে,
আমার খেয়ালও হয়নি কখনো, যে আমিও যাবো।
ভেবেছি, পড়ি, বাজে টাকা কেন খরছ করবো?
ওই টাকায় আমি দুটো বই কিনতে পারবো।
এভাবে বইয়ের পাহাড় জমেগেছে।
মা, পাপা বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে, আমার জন্মদিন,
তখনও নিজেকে আটকেছি, আমাকে এই বইগুলো পড়তে হবে। 
সবসময় এভাবেই বঞ্চিত করেছি।
পঁচিশ বছর বয়সে তিনটে সরকারি চাকরিও ছেড়েছি,
ভেবেছি সময় লাগুক, রিসার্চ কমপ্লিট করে ভালোভাবে এগোবো।
কেরিয়ার তুঙ্গে পৌঁছেছে এভাবেই, এখনও অনেক পথ বাকি,
থেসিস কমপ্লিট করে রেজাল্ট জমা করতে হবে, 
তাই এখনও নিজেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছি একইভাবে,
ভাবছি, আর তো কয়েকটা মাস, দেখতে দেখতে হয়েযাবে সব। 
এখন একটু ভুল হলেই রিসার্চে জল পড়ে যেতে পারে।
আরও সাবধান হয়েছি। 

আজ নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ, আমার একাডেমিক কেরিয়ার থেকে,
বা বই প্রকাশনী থেকে উপার্জন নয়, অন্য কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন 
করতে পারলে, সেই উপায়ে গিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই করে উপার্জন করতে পারলে,
নিজের ভালবাসা প্রমাণ করতে পারবো, অনুভুতি জাগাতে পারবো যে আমি দায়িত্ব নিতে পারি।
তাতে আমার কেরিয়ার হয়ত একটু সংকটে পড়বে, কিন্তু আমি এই লড়াইটাও জিততে চাই। 
হ্যা, এমন একটা জায়গায় পৌঁছেও শুধু অনুভুতি, ভরসা জোগাতে, আমি যেকোনো কাজে 
যুদ্ধ করে, সে যেমনই হোকনা কেন, উপার্জন করবো।
অসুবিধা শুধু একটা জায়গায়, মানতে বড় কষ্ট হলো,
শর্ত আমি মেনে নিলাম, যেকোনো লড়াই লড়তে আমি প্রস্তুত,
শুধু তুলনাটা বড্ড আঘাত করলো, আমি কারোর তুলনায় যেতে চাইনা,
যদি তুলনা করেই লড়াই করতাম, তবে আদর্শকে জলাঞ্জলি দিতাম অনেক আগেই,
লড়াই করি নিজের সাথে, নিজেকে সংশোধন করতে। অন্যের সাথে তুলনা টেনে নয়। 
তুমি তোমার জায়গায় ঠিক, যাচাই করতেই পারো। 
তবু ওই তুলনা টেনোনা, আদর্শে আঘাত লাগে।
ক্রিকেট আমার প্রথম প্রেম। ২৩ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত খেলেছি। তারপর কেরিয়ার গড়ার চাপে এই প্রেমটাকে ছাড়তে হয়েছিল। আজ অনেকদিন পর বল হাতে তুললাম, শরীর ভারী হয়েছে। ৪ ওভার বল করে ১৮ রান দিয়ে ২টো উইকেট নিলাম, বল করতে গিয়ে খুব একটা অসুবিধা হয়নি, তাও দুবার বল হাত থেকে স্লিপ করে ওয়াইড হয়েগেছে, কিন্তু ব্যাট করতে গিয়ে সমস্যাটা বুঝতে পারলাম, একটুও ফুট ওয়ার্ক পেলামনা, পা যেন সরলই না, ১৯ টা রান করলাম, তার মধ্যে দুটো চার ছিল, হাপিয়ে গেছি পুরো, মনে হচ্ছিল দম বন্ধ হয়ে আসছে। ৬ ফুট ১ ইঞ্চি উচ্চতায় ৮০ কেজি ওজন খুব বেশি না হলেও, শরীরের বেশ কিছু অংশে চর্বি হয়েছে, জানুয়ারী থেকে আবার নিয়ম করে খেলা শুরু করবো। দশ বারো দিন খেললে তারপর থেকে কোনো অসুবিধা হবেনা আর। 

Thursday, 10 December 2015

ভালবাসার আগুন, শরীর - মন সব ছারখার।
                      সৌম্যজিত দত্ত।


মন আমার সিঁধেল চোর, সিঁধ কাটতে চাই মনের দোরে,
এত আঘাত সয়েও আমি ভালবাসতে চাই আপন মনে। 
কি এত মধু ওই ভালবাসার চাকতিতে?
ডামাডোল বাজে, হাহাকার হয়, হামানদিস্তা দিয়ে ছেঁচে দেয়,
তাও শুধু ভালবাসার গভীরতায় ডুবতে চাই। 

ভালবাসা পাপ, ভালবাসা অভিশাপ।
পুরোনো ভালবাসার মশলায় মাখামাখির পর যখন 
সেটা বাশি হয়েযায়, ছেড়ে চলে যায়,
শুন্য বুকের প্রাচীরগুলোতে ধাম ধাম করে শব্দ কানে বেজে ওঠে,
কেঁপে ওঠে সমস্ত মন প্রাণ।
অভ্যাস হয়েযায় আস্তে আস্তে,
অনেকদিন পর, শুধু মনে হয়, ভালবাসাতে আনন্দ আছে,
শুধু ছেড়ে যাওয়ার সেই কষ্টটুকু নেই। 
সব থমথমে হালকা হয়ে যায়। 
সবই অভ্যাস, শুধু আবারও ভালবাসতে চাই, ভালবাসা পেতে চাই। 

ভালবাসার অনিরাপত্তা আরও বড় কোনো পাপ,
মনকে পুড়িয়ে ঝাঁজরা করে দেয়, বেঁচে থাকে শুধু হাড়গুলো।
সেই অনিরাপত্তাতেও আমি ভালবাসতে চাই,
বেঁচে থাকি, অপেক্ষা করি, এই মনেহয় একটু ভালবাসা পাবো।

শরীর ও মনের যন্ত্রনাগুলো অবসন্ন করে তুলছে, 
মনতো পুড়ছেই, শারীরটাকেও পুড়িয়ে ছারখার করছে।
মনের জ্বালা নাহয় জোর করে মেটালাম, এটা ওটা করে,
গান শুনে, গল্প করে, বই পড়ে, ফ্লার্ট করে,
শরীরকে কি বোঝাবো? সেতো নিজের নিয়মে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে,
কোনো বাধা মানতে চায়না, শুধু খিদে মেটাতে চায়। 
ভালবাসা অহর্নিশ রূপ পাল্টালে, শরীর কিভাবে খিদে মেটাই?
একটু ভালবাসা, একটু শরীরের ছোঁয়া। কত তৃপ্তি!!
মন যে কিছুতেই মানতে চায়না।

Wednesday, 9 December 2015

নারীর জায়গা কোথায়? ইসলামের কোন আয়াতে লেখা আছে নারীকে এভাবে অমানুষিক অত্যাচার করা হোক? আর যদি লেখা থাকে, তবে তা সংশোধন করা হয়না কেন? হেফাজত-ই-ইসলাম কি মানুষে চালায়না? নারী পুরুষের সম্পর্ক প্রেমের সর্বক্ষেত্রে, সে মা ছেলের প্রেম হোক বা স্বামী-স্ত্রী প্রেম, বা বন্ধুত্বের প্রেম। নারীকে যেকোনো রূপে শুধু ভালবাসা যায়, সম্মান করা যায়। ইসলামের বিচারে নারী কি শুধু যৌনদাসী? ধর্মের নামে অধর্ম, এটা কোনো ধর্ম হতে পারেনা। আসলে ইসলামী মুখোশধারী এইসব ধর্মীয় দালালরাই নাস্তিক। আবারও বলছি, ইসলামের কোনো আয়াতে যদি লেখা থাকে নারীকে যৌনদাসী করে রাখা হউক, তবে তা সংশোধনের উপায় বার করুন।





http://www.sylhettoday24.com/news/details/International/13121

চল ওদের প্রশ্ন করি, ছিনিয়ে আনি স্বাধীনতা।
সৌম্যজিৎ।

স্বাধীনতা যোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করতে চেয়েছিল
পররাষ্ট্রের শোষণক্রিয়া থেকে বাঁচতে ও বাঁচাতে,
ধর্ম গড়েছিল একতা, হিন্দু-মুসলিম রক্তে পিছলে পড়েছিল ইংরেজ শাসন।
গড়ে উঠেছিল স্বতন্ত্র ভারতীয় রাজনীতি,
যদিও নেতা নির্বাচনের লড়াইতে যে দুর্নীতি যুক্ত হয়েছিল,
আজও দেশ ধুঁকছে তাতে।
আজ আবারও স্বাধীনতা চায়,
স্বাধীনতা চায় রাজনীতির দুর্নীতি মুক্ত হতে।
রাজনীতি ও ধর্ম আজ ক্ষমতার লালসায় দোসর,
যে লালসার লালা কলুসিত করছে সাধারণ জীবন,
আজ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর দিন,
আমরা স্বতন্ত্র সমাজ চায়,
চায় স্বাধীন জীবন।


চল সবাই প্রশ্ন করি আঙুল তুলে,
লড়াই করি,
ছিনিয়ে আনি স্বাধীনতা।
চল, রাস্তায় নেমে ওদের বলি,
"তোমরা খেলা করেছ সমাজ নিয়ে,
দাঙ্গা বাঁধিয়েছ , মারামারি করিয়েছ,
জাতির নামে উস্কানি দিয়ে
হিন্দু - মুসলিম ভাইয়ের ঐক্য নষ্ট করেছ। 
ভোগবিলাসী হতে চেয়েছ নিজ নিজ সংরক্ষনে 
গড়া জাতির ওপর। 
কর্তৃত্ব করেছ, রাজত্ব করেছ।
কখনও কি জাতির নামে দেশ কে সংগঠিত  করতে পেরেছ?


তোমাদের গড়া এই ভাঙা, ভন্ড  সমাজতন্ত্রে -
তোমাদের অভিশাপ বহাল রেখেছে তোমাদের পরবর্তী রাজনৈতিক প্রজন্মও।
জাতির নামে যে মিথ্যে কলঙ্কের সৃষ্টি তোমরা করেছিলে,
আজ যখন অন্য কেউ সেই কলঙ্ককে বীর দর্পে বজায় রাখতে চায়,
তখন তুমি প্রতিবাদ কর বিরোধী হয়ে। 
আসলে কেউ তোমরা দেশ চাওনা,
তোমরা শুধু  ক্ষমতা চাও নিজের জায়গা ধরে রাখতে।
তোমরা রাজনৈতিক অঙ্কটা ভালই জান।


বাকি রইল সমাজ, সাধারন মানুষ,
ওরা তোমাদের অঙ্ক বোঝেনা,
তোমরা যা দেখাও, ওরা খালি চোখে দেখে, বিশ্বাস করে। 
প্রতিবাদ আজ খুব সীমিত, 
সাধারনের প্রতিবাদ আজ আমাদের কলমে মাত্র,
বাকিরা ভাবে নতুন দল এসে তাদের সমস্যা মেটাবে,
মেটালে ভালো, না মেটালে  থাক পাঁচ বছর,
সময় ফুরোবে, আবার নাহয় অন্য কোনো রাজনৈতিক দল আসবে 
হাজারটা প্রতিশ্রুতি নিয়ে, আবার খেলবে পরম্পরা বজায় রাখতে,
তোমরা শুধু প্রতিবাদ কর নিজেদের জায়গা ফিরে পেতে।
প্রগতি যাক পাঁচটা বছর পিছিয়ে।


সজাগ হও মানুষ, এই দেশ আমাদের, সমাজ আমাদের,
আমরা মন্ত্রী কল্যানে সমাজ কেন গড়ব?
সমাজ তো মানব কল্যানের ধারক।
সজাগ হও ভাই বোনেরা, 
নিজেদের অধিকার বুঝতে, রাজনৈতিক দালাল নয়,
নিজেদের শিক্ষাকে হাতিয়ার কর,
বুদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস কে তুলে ধর। "
        এটাই জীবন এখন।
         সৌম্যজিত দত্ত।

নিঃসঙ্গতা, একাকিত্বের পারদ চরচরিয়ে উপরে উঠছে,
ভোগান্তি ঘিরছে মন প্রাচীর, শরীরও তো প্রায় অবসন্ন।
এর মধ্যে বুঝি প্রেম লুকোচুরির কোনো জায়গা থাকে?
থাকলে তো, ভুগতে হতনা।
দুদিন ধরে বড্ড জ্বালিয়েছি তোমাই, কিজানি, পাগলামিই করে ফেলেছি হয়ত।
তুমি হয়ত ভেবেছ কি চিপকু মানুষরে বাবা!!! পিছনই ছাড়েনা।
আসলে তোমাকে আঁকড়ে ধরতে চেয়েছি শুধু, ভেবেছি তুমি ওই বাঁচার পথে নিয়ে যাবে আমাকে।
বুঝি সবই, তোমার কর্পরেট ওয়ার্ল্ড, তোমার ব্যস্ততা। শুধু মন মানতে চায়না।
সেদিনও ক্লাস নিতে নিতে বড় গেটটার দিকে বারবার চোখ যাচ্ছিল,
মনে হচ্ছিল, বুঝি তুমি এসে দাড়াবে ওখানে, একটা ফোন করে বলবে, "কোথায়  তুমি? আমি এসে গেছি তো।"
আজও তোমাকে ঘুমোতে বলেও শুধু অপেক্ষা করেছি, এই বুঝি তুমি আমাকে বলবে,
"যাও, ভালো করে পরীক্ষাটা  দিয়ে এসো।"
অপেক্ষা করতে করতে পরীক্ষার ঘন্টা বেজে উঠল, পরীক্ষাও দিয়ে আসলাম,
কিন্তু মনটা দিতে পারলামনা কিছুতেই।

আমি ভেবেছি জানো,
আমি আর তোমাকে বিরক্ত করবোনা ওভাবে।
আর তোমাকে কখনো বলবনা তুমি এসো,
শুধু অপেক্ষা করবো তোমার আসার।
কষ্টটা শুধু আমারই, তুমি তো বেশ আছ। 

Tuesday, 8 December 2015

 এবার তোমার ইচ্ছা।
       সৌম্যজিত দত্ত।

পড়ছি, ভাবছি, লিখছি, আমি বেঁচে আছি।
বেঁচে আছি না মরে, শুধু অনেকরকম চিন্তা।
চিন্তা তো নয়, এ তো হারানোর ভয়।
হারাতে গেলেও তো পেতে হয়, আমি কি সত্যিই পেয়েছি?
পেয়েছি। পেয়েছি শুধু চিন্তাতে, পেয়েছি না পাওয়ার মধ্যে,
পেয়েছি অনেক অনেক কিছু হারানো মনটার মধ্যে,
আর হারাতে চাইনা, আর তো হারাতে পারবোনা।

তবু ভয় হয়, তোমার ইচ্ছাটুকু ছাড়াই যে অনেকটা এগিয়ে গেছি,
মাঝপথে যদি আবার ফিরিয়ে দাও? 

Monday, 7 December 2015

          নারী, তুমিও মানুষ।
          সৌম্যজিত দত্ত।


পুরুষ যদি মানুষ হয়, তবে নারী কোথায় আলাদা?
পুরুষ যদি জন্মদাতা, তবে নারীও তো ধরিত্রী।
পুরুষ যদি সংসার চালায়, তবে নারীও সমান অংশীদার,
নারী ছাড়া পুরুষই বা কি, আর পুরুষ ছাড়া নারী?
যেন, সম্পূর্ণ গোলক। তবে কেন নারী আজও দাসী?


পুরুষ চলে নিজ দম্ভে, পুরুষ চলে স্পর্ধায়,
পুরুষের গতি ঔদ্ধত। কেউ তো কিছুটি বলেনা?
নারী গলির মোড় পেরিয়ে বড় রাস্তায় একা গেলেই, কুলটা?
পুরুষ একাধিক নারীকে স্পর্শ করলে, তা বংশ পরম্পরা।
নারীর যদি ভুলেও পরপুরুষের ছোঁয়া লাগে, তবে সে পতিতা?
আসলে নারী হলো পুরুষের পায়ের দাসী, তাতে থাকতে নেই লজ্জা,
আবার সেই লজ্জায় নারীর ভূষণ। লজ্জা ঢাকার বস্ত্রের বাহারও তেমন,
ঘোমটা, হিজাব, বোরখা, বড় হাতা ব্লাউজ। গরমে ঘেমে সিদ্দ হও,
লজ্জাবস্ত্র খুললেই, তুমি চরিত্রহীনা।


ওহে নারী, পুরুষ তোমাকে চিরকাল দমিয়েই রাখবে,
কারণ তুমি নিজেই দমে থাকতে চাও।
লড়াই করে স্বাধীনতা পেতে চায়লে জ্বলে ওঠো,
ছিঁড়ে ফেল বাঁধন, প্রতিবাদ কর অন্যায়ের।
যদি মমতাময়ী হও তবে, অগ্নিকন্যাও তুমি।
সমাজে অবাঞ্চিত নও, সমাজের প্রয়োজন তুমি।






Sunday, 6 December 2015

মুছে গেছে মুহূর্তগুলো, আর কখনও ফিরবেনা,
স্মৃতিগুলো শুধু তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
হু হা করে হাহাকারে একাকার সব,
রক্তে হিমোগ্লোবিনও ফুটছে।

কিসের এত উতলা? না, সে তো নেই, সে ফিরবেনা।
কে ধরবে তোকে একটু বুকে করে? কার বুকে তুই মুখ লুকোবি?
কাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলে শান্তি পাবি তুই? কে আছে তোর্?
না, কেউ নেই।


            অবুঝ মন, ঠকেও ঠকতে চায়। 
                সৌম্যজিত দত্ত।
      

অনেক লেখা আজ সব কেমন ফাঁকা,
একা একা শুধু ভেবে যাচ্ছি, ভুলের কোনো অবকাশ নেই,
যা ছিল, শুধু বিশ্বাস, ভরসা। কোনো ভুল তো ছিলনা।
তবে শুধুই কি ছল? সবটা মিথ্যে?
কষ্ট যদি হয়, সহ্য ক্ষমতাও যেন পাই। 

বড্ড পরনির্ভর হয়ে পড়ছিলাম,
আমার জীবন যেন আমার নয়, 
অন্যকারোর চিন্তায় গতিশীল,
বড্ড উড়ছিলাম, স্বপ্ন দেখছিলাম,
স্বপ্ন ভাঙতেই মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। 
আমি কি এতটাই বোকা ছিলাম?
বোকামির তো একটা সীমা থাকে, নাকি?
অবুঝ মন, ঠকেও শিখতে চায়না, আবারও ঠকতে চায়। 

যখন ঠকি, ঠকছি, বুঝতে পারছি বেশ,
অনেক কিছু নেই, অনেক হিসেব মিলছেনা,
তবু ভেবেছি, কি দরকার অত হিসেব কষার?
থাকনা, হয়ত আমারি ভুল। 
মস্তিস্ক কখনো ভুল বলেনি আমাকে, শুধু আমিই ভরসা করিনি।
ভরসা করেছি শুধুই মনকে। তাই ভেঙ্গে চুরমার হয়েগেছি।
আর কি ভরসা হবে?

Saturday, 5 December 2015

                 হেপাজত-ই-ইসলাম এর দাবি ও আমার মত।
                            সৌম্যজিত দত্ত।


প্রকাশ্য জনসভায় সরকারের কাছে হেফাজত-ই-ইসলাম এর ১৩ টা দাবির মধ্যে একটা দাবি এমনও আছে, যেসমস্ত মুসলমান মানুষ ইসলাম ধর্মের বিপরীতে গিয়ে নিজের স্বাধীন মত প্রকাশ করবে, তাদের মুসলিম ধর্মের কাঠগড়ায় দাড় করিয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা  করা হবে। একটু  চিন্তা-ভাবনা করলে এটা বোঝাই যায় যে সরকারের প্রশ্রয় ছাড়া প্রকাশ্যে এমন জনসভা করা যায়না, উপরন্তু সরকার এমন সভার যথোপযোগী কোনো ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ, এর প্রমান নিলয়, অভিজিত, ওয়াশিকুর, অনন্ত নিজেদের জীবন দিয়ে বুঝিয়ে গেছে। আমি কোনো ধর্মের সমালোচনায় বিশ্বাসী নই, কারণ আমি নিজে ধর্মের পুজারী। সব ধর্মকে আমি সম্মান করি, কিন্তু ধর্মের কিছু আয়াত - আইন এর জন্য মানব ধর্ম সংকটের মধ্যে, আজ মানুষকে স্বাধীন ভাবে নিজস্ব মন্তব্য প্রকাশ করাতেও বাধা  দেওয়া হচ্ছে। মানুষকে চিন্তা করতে দেওয়া হচ্ছেনা। কোনো ধর্মের এমন কোনো ক্ষমতা হয়ে যায়নি যে সে মানুষের ওপরে উঠে যাবে। আমি কোনোরকম প্রতিবাদে না গিয়ে শুধু তোমাদের এটুকু বলছি, তোমরা যারা ধর্ম নিয়ে থাকতে চাও,  ধর্ম নিয়ে থাকো। নিজেদের ইচ্ছায়, স্বাধীন ভাবে। যারা ধর্ম মানেনা, নিজেদের মতকে বেশি গুরুত্ব দিতে চায়, তাদেরও তাদের মতো করে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দাও। ধর্মের দোহাই দিয়ে খুন,  জখম করা কোনো ধর্ম হতে পারেনা, সেটা শুধুই রাজনৈতিক অরাজকতা। তোমরা নিজেরা গভীরভাবে চিন্তা করো, সমাধান তোমরাই পেয়ে যাবে, কোনটা ঠিক বা কোনটা ভুল।  আরেকটা কথা, চিন্তা করার সময় নারী পুরুষ বিভেদ না করে, মানুষ হিসেবে চিন্তা কোরো। নিচে একটা ভিডিও লিঙ্ক দিলাম:

https://www.youtube.com/watch?v=NBBC9SsUmkQ

Friday, 4 December 2015


মত প্রকাশ স্বাধীন দেশের নাগরিকদের অধিকার। (man's right of independent country to express opinion freely)
.........................................Soumyajit Dutta



ইসলাম ও অন্যান্য সমস্ত ধর্মকে সম্মান জানিয়ে ও আমি নিজে একজন ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ হয়েই বলছি, কোনো ধর্মেরই এমন কোনো ক্ষমতা হয়ে যায়নি যে, কেউ নিজের মত প্রকাশ করলে, সে যে বিষয়েই হোকনা কেন, তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। যদি কোনো ধর্ম নিজের আওতা ভুলে এমন কোনো পদক্ষেপের চিন্তা ভাবনা করে, তবে তা মানবধর্ম বিরোধী কাজ বলে গন্য করা হয়। মানুষকে ধর্মের জন্য সম্মোহিত না করে, যদি ধর্মের আইনগুলোকে মানুষের স্বার্থে, জনহিতকর  কার্যে ব্যবহার করা হয়, তবে তা মানবজাতি ও ধর্ম উভয়ের পক্ষেই সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠতে পারে।

respecting each religion and being a theist I am declaring that no religion has the power to make conspiracy against those who express their opinions from their mind freely. they all have right to express their opinion, may be these are against any religion, politics but our constitution permit us to have the right of talking freely. if any religion found to make conspiracy against those, then they would be liable to break the law of constitution.
চিন্তার জাল।
সৌম্যজিত দত্ত।

সময় যাচ্ছে, প্রতিটা সেকেন্ড ধরে শুধু অপেক্ষা
এক দৃষ্টিতে। একটা বার্তা, একটু কিছু আভাস।
পুরো আটত্রিশ ঘন্টা তেরো মিনিট পার হয়ে গেল,
শুধু একটাই কথা, "বাবু, গুড মর্নিং।"
সময় তো শুধু হেয়ালিই করে চলেছে,
আর আমি মরছি যন্ত্রনাতে।


বারবার ভাবি, "আর নয়, এবার আর নয়,
অনেক হয়েছে।"
কিন্তু মন মানে কই?
সেই ষোলো দিন আগে এক ঝলক দেখা
চোখ দুটোতে যে কি মায়া জড়িয়ে আছে!!
আর আমাকে একটু একটু করে সেই মায়ার
বিষ জালে ঘিরে ফেলছে, না পারছি ছাড়াতে,
না পারছি তাকে ধরতে। শুধু ক্ষনিকের কিছু কথা,
"শান্ত, আমি আছি। আমি কোথাও চলে যায়নি।"
ভরসা হয়না একদম কথাটাকে। তবু,
যেন ওই কথাটাতেই বাঁচতে চাই আমি।

সত্যিই যদি থাকতে,তবে একটা বারও কি মনে পড়তনা?

Thursday, 3 December 2015


মন নয়, আগুনের গোলা।
সৌম্যজিত দত্ত।


কষ্টগুলো বুক চিরে বেরিয়ে আসতে চাইছে,
রক্ত যেন লোহিততপ্ত লাভা,
কেউ কি আছে? বা
কেউ নাই থাক শোনার,
আমার রাস্তা আমিই খুঁজে নেবো।

অনেকই তো হলো শান্ত-শিষ্টতা, ভদ্রতা,
সামাজিকতা। আর নয়, নয় তো নয়ই,
আমিও খেলবো অসামাজিক খেলা।
মেটাবো নিজের আস্ফালন।
আর নয় কোনো ভালোবাসাবাসি।
ওসব তুচ্ছ খেলা।

ওই শোনো তুমি, ওই শোনো তোমরা,
যে পূবের সূর্যকে তোমরা সাততারাতারি
দিগন্ত পার করাতে চেয়েছ, এত সহজে
সে অস্ত যাবেনা। সবে তো এখন সকাল হল।
সাবধান হয়ে যাও, নয়তো এবার দুপুর রৌদ্রের তেজে
তোমাদের চোখ ঝলসাবে।

নিজে জ্বলে যেমন আলো দেবো,
সেই আগুন তেজে ঝলসিয়েও দেবো।
                       লেকচারার হিসেবে প্রথম দিন, প্রথম অভিজ্ঞতা।
                                         সৌম্যজিৎ।
                 

কিছুদিন আগেও আমি এই ক্লাসরুমটাতে বসে ক্লাস করতাম। আমাদের সামনে লেকচারার এসে আমাদের লেকচার দিতেন বিভিন্ন টপিকের ওপর, আমরা প্রত্যেকে মন দিয়ে শুনতাম, বুঝতাম। ক্লাসের সময় তিনজন লেকচারার থাকতেন, তিনজন বিশেসজ্ঞ লেকচারার। একজন সামনে দাঁড়িয়ে একটা টপিক বোঝাতেন, দুজন পিছনে দাঁড়াতেন, আবার তার বোঝানো হয়েগেলে আরেকজন এসে তার টপিকটা বোঝাতেন।

আজ একইভাবে এখন আমাকে ক্লাস নিতে হয়। প্রথম দিনের (২০/১১/২০১৫) কিছু কথা মনে চলে এল। আমি একেবারেই প্রস্তুত ছিলাম না। নিজের পরীক্ষার জন্য আমি আগের রাতে কিছু এলগরিদম পড়েছিলাম। ক্রুস্কাল এলগরিদম, প্রিমস এলগরিদম, ডি. এফ.এস  এইসব কিছু। সেদিন আমাকে এলগরিদমের ক্লাস দেওয়া হয়। আমাকে একাই ক্লাস নিতে হবে, আর কোনো লেকচারার ছিলনা। আমি ক্লাস রুমে ঢুকতে গিয়ে একটু ভয়েই হোক বা নার্ভাসনেসের জন্য, দরজাতে দাঁড়িয়ে গেছিলাম। পাঁচ মিনিট দাড়িয়ে একটু ধাতস্থ হয়ে ভিতরে ঢুকলাম। ছাত্রছাত্রীরা খবর পেয়েছিল নতুন লেকচারার ওদের ক্লাস নেবে, তাও আই.এস.আই এরই ছাত্র, তবে নাম টা ওরা তখনও জানত না।

আমি ঢোকার পর, ওরা যথারীতি ভাবতে পারেনা যে ওরা কি করবে! যাকে ওরা এতদিন সিনিয়র দাদা বলে জানত, সেই দাদা ওদের ক্লাস নেবে লেকচারার হিসেবে! সবাই চুপ হয়েগেছিল। আমি একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, প্রফেসর শেষ কোনটা পড়িয়েছে? ওরা বলল প্রিমস কমপ্লিট হয়েছে, আজ ক্রুস্কাল হবে। সেই অনুযায়ী আমি মার্কার দিয়ে বোর্ডে শুরু করতে গিয়ে দেখি, যথারীতি সব গুলিয়ে খেয়ে ফেলেছি, কিছু মনে নেই।  প্রথম ক্লাস, ইম্প্রেসন খারাপ হতেপারে, এই ভেবে ওদের বললাম, আজ বরং গল্প করি।

ক্লাসে মোট ২৮ জন ছাত্র ছাত্রী। কিছু ভারতীয়, কিছু জাপানী, কিছু ইংরেজ। ওদের জিজ্ঞাসা করলাম, ওদের পছন্দের টপিকগুলো। কেউ বলল বিজ্ঞান, কেউ রাজনীতি, কেউ প্রফেসর হতে চায়, কেউ রাইটার। আমি দেখলাম, আমি এই জিনিসগুলোর সাথে মোটামুটি ভালোই পরিচিত মেয়েমা'র  (তসলিমা নাসরিন) সুবাদে। ব্যাস, ওই যে গল্প শুরু করলাম, কখন কিভাবে দেড় ঘন্টা কেটে গেল, বুঝতে পারিনি! এটা আমার অদ্ভুত অভিজ্ঞতা, কোনদিন ভুলতে পারবো না।

Wednesday, 2 December 2015

ইচ্ছে করে তোর চুলগুলো নিয়ে খেলি,
সকালবেলার প্রথম রোদে, তোর চুলগুলোতে মুখ লুকোই।
ইচ্ছে করে, তোর কোলে মাথা রাখি, আর তুই চুলগুলো দিয়ে আমাই ঢেকে দে।
ইচ্ছেই তো করে শুধু। 
লজ্জা শেখায়ও।
সৌম্যজিত দত্ত।

লুকিয়ে থাকা লজ্জা গুলো তখন মাথা চড়ে বসত,
দিনগুলো ছিল লড়াইয়ের,
পরীক্ষা দেওয়ার একটা নেশা মনের মধ্যে তাড়া করে বেড়াত,
কিন্তু সবসময় প্রস্তুত থাকতামনা। তাই অনেক ব্যর্থতাও
ইচ্ছে করেই সাথে নিয়ে ঘুরতাম।
কখনো এমনও মনে হয়েছে, পরীক্ষা ঘরে ঢোকার আগে,
পরীক্ষা চলাকালীনও, যখন অনেক কিছু লিখতে পারতামনা,
শুধু মনে হত, প্রশ্ন গুলো আমাকে অপমান করছে, ছিঁড়ে খাচ্ছে।
তবু বসে থাকতাম শেষ ঘন্টা পর্যন্ত ইচ্ছে করে,
শুধু নিজেকে পরের সময়ের জন্য প্রস্তুত করতে,
পরীক্ষা তো আসলে ছিল বাহানা,  উত্তর না পাড়ার লজ্জা টুকুর
অভিজ্ঞতা পরের পরীক্ষা গুলোতে ভালো কিছু করাত,
আসলে এভাবে আমি নিজেকেই বারবার অপমান করে,
লজ্জা দিয়ে প্রস্তুত করতাম।

আজ এসব ছেলেমানুষি মনে হয়,
হয়ত ওই ছেলেমানুষিটাই সেই ছেলেমানুষটাকে
অনেক কিছু শেখাত।

Tuesday, 1 December 2015



০২/১২/১৫.
বিসর্জন চাই।
সৌম্যজিৎ।

শেষ বেলাই সব আশা ফুরোলো,
কি লাভ জিতে?
কিসেরই বা জয়?
প্রাণহীন যন্ত্রের মত জেতার থেকে লড়াই ছেড়ে দেওয়া অনেক ভালো।
আমার বেলা আজ ফুরোলো।

নাইবা ডুবলাম কোনো পরীক্ষা ঘরে আর,
অনেক তো দিলাম,
বড্ড ক্লান্ত মন আমার। একটু বিরতি চাই, বা
একেবারে বিদায়।
বড্ড ক্লান্ত এ মন।
আগুন নিভে গেছে প্রানের, এখন সব থমথমে,
প্রবল বর্ষণ নামতে পারে,
আকাশ বুক চিরে বেরিয়ে আসা বৃষ্টির ফোঁটা।
আসুক। একটু শীতলতা চাই, ভ্যাপসা গরম আর নিতে পারছিনা,
এবার আমার বিসর্জন চাই।


শেষ বেলাই সব আশা ফুরোলো,
কি লাভ জিতে?
কিসেরই বা জয়?
প্রাণহীন যন্ত্রের মত জেতার থেকে লড়াই ছেড়ে দেওয়া অনেক ভালো।
আমার বেলা আজ ফুরোলো।

..............................................সৌম্যজিত দত্ত।
মন ভীষণ অস্থির।
সৌম্যজিত দত্ত।


মন ভীষণ অস্থির,
একটা একটা  করে মেথড মাথায় ঢুকছে,
খুব কঠিন কিছু নয়, যেন পড়লেই সব সোজা,
কিন্তু পড়াটাই যেন হচ্ছেনা।
কেমন সব চিন্তাগুলো মাথা এলোমেলো করে দিচ্ছে।
জানি, এমনসব আসলে কোনো চিন্তায় নয়,
চিন্তা হলে দৃঢ়তা আসে,
মন তো শুধুই আলেডালে ঘুরে বেড়াচ্ছে,
পড়াশোনা একেবারে ঘেঁটে ঘ।

কাল তো এলগরিদম টেস্ট,
এলগরিদম এমন একটা পার্ট, যেখানে শুধুই মজা।  কত এডভেঞ্চার!!
কিন্তু মন যে বসেনা, একটু ভুলেই সব শেষ হয়ে যেতেপারে,
বুঝিতো সবই। শুধু নাগাল পাচ্ছিনা।