Saturday, 30 April 2016

১) আস্তিকগুলো বলে যারা নাস্তিক তারা তাদের নাস্তিকতা নিজের মধ্যে বজায় রাখুক। তাহলে আস্তিকগুলো ধর্মের কথা ঢোল পিটিয়ে বাজারে আমদানি রপ্তানি করে কেন? তারাও তাদের আস্তিকতা নিজের মধ্যেই রাখতে পারে।

২) ইসলাম বহনকারী কিছু মানুষজন ইদানিং একটা প্রশ্ন করছে। মুক্তমনা হতে গেলে কি ইসলামেরই সমালোচনা করতে হবে? নাহলে কি মুক্তমনা হওয়া যায়না?

আসলে মুক্তমনা ব্যাপারটা হল সমস্ত দিকে মুক্ত বা স্বাধীনভাবে চিন্তা করে নিজস্ব মত দেওয়া। বিভিন্ন মুক্তমনা বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মত দেয়। আমি মুক্তমনা কিনা জানিনা তবে আমি স্বাধীন চিন্তার পথিক, সত্যের পথে। আমি ধর্মও মানি। তাই বলে অন্যায়ের সমালোচনা করতে পারবোনা এটা ঠিক নয়। আমি যেমন ইসলামের সমালোচনা করি তেমনই হিন্দু ধর্মেরও সমালোচনা করি ভুল দেখলে।

৩) আস্তিকদের মুখে একটা কথা প্রাইই শোনা যাচ্ছে। মানুষের ধর্মের অনুভুতি বা বিশ্বাসে আঘাত করা কি ঠিক?

আমার প্রশ্নঃ
যেখানে মানুষকে খুন করে দেওয়া হচ্ছে, দেশছাড়া করা হচ্ছে, মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে, সেখানে ধর্মের প্রতি বিশ্বাসটাই কি সবকিছু?

৪) কোনো ব্লগার হত্যা হলে ইসলাম বহনকারী কিছু মানুষ এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়িয়ে যাচ্ছে।

এখন যদি ব্লগাররা ইসলামের মানুষজনকে খুন করত, তবে ইসলাম বহনকারী ওই মানুষগুলো কি এগুলোকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলতে পারত??

৫) আমাকে বাংলাদেশ থেকে প্রাই সময় কিছু মানুষ বলে, আমি ভারতীয় হয়ে কোন সাহসে বাংলাদেশের প্রশাসন নিয়ে কথা বলি?

যেখানে কথা ওঠে মনুষত্ব নিয়ে, শুধু বাংলাদেশ বলেই নয়, আমি সমস্ত দেশের প্রশাসন নিয়েই কথা বলতে পারি। কিছুদিন আগে আমার ব্লগের একটা পোস্ট সংবিধানের ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি ইংল্যান্ডের এক আইনজীবীর একটা অপ্রাসঙ্গিক কথা উল্লেখ করেছিলাম। আবার আমেরিকার নারীদের ১৯৭০ সালের বিপ্লবের কথাও উল্লেখ করেছিলাম। শুধু বাংলাদেশ নয়, আমি সমস্ত দেশের প্রশাসন নিয়েই কথা বলতে পারি। আমাকে কেউ আটকাতে পারবেনা।

৬) আমি বাংলাদেশের প্রশাসনকে মূর্খ বলি, মূর্খ ভাবি। কারণ ওরা নিজেদের অতি ধূর্ত মনে করে। যেখানে ধূর্তামি থাকে, তারাই মূর্খ। কারণ ওরা নিজেদের আখের গোছাতে ভালো পারে। সাধারণ মানুষ মরে মরুক।

ধূর্ত ও বুদ্ধিমানের মধ্যে পার্থক্য আছে। ধূর্তরা মানুষ ঠকিয়ে, মানুষ মেরে নিজেদের বাঁচায়। এটাই মুর্খামি। বুদ্ধিমানেরা উন্নতির লক্ষ্যে পথ চলে। কারোর ক্ষতি না করেই সব ভালো করার চেষ্টা করে।

৭) একজন মুক্তচিন্তক হিসেবে ধর্মকে বোঝার ও বিচার করে মানার অধিকার যেমন আমার আছে, তেমনই প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করার অধিকারও আমার আছে। তোমরা আমাকে এই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করতে পারবেনা।

Etu's voice এ বিভিন্ন মানুষের কথা প্রসঙ্গে এতগুলো কথা বলে ফেললাম। বাক
স্বাধীনতা সবার আছে। তোমরা আমার প্রতি তোমাদের রাগারাগি চালু রাখ। আমি কিছুই মনে করবোনা। ভালো থেক। ভালবাসা নিও।

Wednesday, 27 April 2016

ওরা সীমাহীন, আমরা সীমানায় পরাধীন।
সৌম্যজিৎ। 

ওরা এপার ওপার করে বেড়ায়,
ওরা স্বাধীন হয়ে উঁড়ে বেড়ায়,
মাঝখানে তারকাঁটা শুধু মানুষেরই বেড়াজাল,
ওরা মুক্ত। ওদের লাগেনা কোনো ভিসা, লাগেনা নিরাপত্তা পরীক্ষা,
ওরা বিশ্বাসী। 
বিশ্বাস শুধু আমাদেরই নাই,
নাই কোনো ভরসা তাই ভিসা লাইনে দাঁড়িয়ে অনুমতি চায়,
অনুমতি চায় সীমানা পেরোতে,
ওদের তো সীমানায় নাই!

ওরা ইচ্ছামত উঁড়ে বেড়ায়, 
ঘুরে ঘুরে খড়, কুটো, খাবার নেয়, 
ইচ্ছামত যেদিকে খুশি বাসা বাঁধে।
ওরা ইচ্ছামত প্রেম খুঁজে নেয়,
ইচ্ছামত বাতাসের সুরে প্রাণ ভরে ঘ্রান নেয়,
ওদের কোনো জাত নাই, নাই কোনো শ্রেণী।
জাত ধর্ম শুধু মানুষেরই, মানুষ গড়ে নানা শ্রেণী,
ওদের কিন্তু সন্ত্রাস নাই। 





Tuesday, 26 April 2016

মৃত্যুকে ভয় নাই মোর,
জন্মেছি, মৃত্যুও হবে কখনো,
ভয় হয় বড্ড নিজেকে যেন মাথা নত করে থমকে না যাই,
থমকাতে আমি আসিনি।

যুদ্ধ চেয়েছি বাঁচতে আমি
ভিক্ষার বাঁচা চাইনা,
পারবো না তোমাদের জুলুম মানতে,
পারবো না তোমাদের পা চাঁটতে,
পারবো না মাথা নত করতে আমি,
সস্তার জীবন চাইনা।

মূল্য চাই জীবনের,
মূল্যবোধের স্বাধীনতা নিয়ে আমি বাঁচতে চাই,
আমি বাঁচতে চাই মাথা উঁচু করে শতকোটি সম্মানে,
আমি বাঁচতে চাই -
জনমানসে হৃদয়জুড়ে,
অশুভ শক্তির সামনে হুঙ্কার হয়ে।

- সৌম্যজিৎ।








Monday, 25 April 2016

ভোটের দুপুরে আজ বড্ড একা লাগে,
সব ফাঁকা লাগে। 
প্রেমিকা চাই?
হ্যাঁ, চাই।
এখন কেউ যদি বলে, "ভালোবাসি,"
আঁকড়ে ধরবো তাকে কাছে,
হারিয়ে যাবো তার গল্পসুরে অচেনা কোনো গলিতে,
ভিড় শূন্যতায় জরিয়ে ধরে চুমু খাবো ঠোঁটে।

Sunday, 24 April 2016

সত্যের যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ। 

উ ৎ স র্গ - ত স লি মা  না স রি ন ' কে। 

আজ রবিতে আমি দেখেছি রবিকন্যা,
কলমাস্ত্র হাতে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে,
ইউরোপীয় সভায় বাংলার মুখ উজ্বল করছে। 
প্রতিনিধিত্ব করছে ব্লগার-লেখক, মুক্তচিন্তকদের হয়ে,
গড়ছে সংগঠন। 

কখনো সে ছিল এক পড়ুয়া,
কখনো সে পত্রিকাতে নিজের নামে লেখা দেখে ছুটে বেড়িয়েছে ঘরময়,
কখনো সে স্বপ্ন দেখেছে ভালোবাসাময় জীবনের,
কখনো সে ভেসেছে আনন্দ পুরস্কারে। 

কখনো সে চাকরি করেছে ডাক্তারির স্বল্প পারিশ্রমিকে,
কখনো সে শান্তির সংসার চেয়েছে স্বাধীন পরিপাটিতে। 
কখনো সে "লজ্জা" লিখেছে সমাজের লজ্জা দেখে,
কখনো সে ভয়ার্ত চোখে বেড়িয়েছে কোর্ট চত্বরে।
সমাজ বিভীশিখায় সে হারিয়েছিল সমস্ত সম্মান, 
হারাতে বসেছিল প্রাণভোমরা টুকুও,
প্রিয় ব্রহ্মপুত্র ছাড়তে হয়েছিল, 
ছাড়তে হয়েছিল স্বদেশ ভিটেও। 
আরেক বাংলা তাকে দিল প্রতারণা, ঘাড় ধাক্কা,
ছুটতে ছুটতে এদিক ওদিক,
দিগ্বিদিক ক্লান্ত পথিক,
ধাতস্থ হয়ে আবার শুরু নতুন করে আদর্শের লড়াই।
লড়াই আর উদারতা রক্তে মিশে,
বিষ মায়াবী অন্ধকারে আলোর দিশা নিয়ে আজ, তসলিমা নাসরিন
তুমি একাকী বীর শ্রেষ্ট যোদ্ধা।  


লক্ষ, কোটি কন্ঠস্বরে ভাসিয়ে দেব জনজোয়ার,
চারিদিক গমগমে আওয়াজে,
ফেটে পড়বে মুক্তচিন্তার জয়ধ্বনি,
সত্যের আওয়াজে সত্য জিতবে,
জিতবে মানবতা। 
ইতিহাস লিখবে সত্যাগ্রহ যুদ্ধ,
কলমের কালিতে পিছলে পড়বে মৌলবাদ ও পুরুষতন্ত্র,
একটাই নাম আর হাজারো জনজোয়ারে,
সত্যের যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন।  

Saturday, 23 April 2016


আই পি সি ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা। নারী সুরক্ষিত নয়।


শারীরিক বল প্রয়োগে বা ভয় দেখিয়ে স্বামীদের স্ত্রীর সাথে, স্ত্রীর সম্মতি ব্যতিত যৌনসহবাসকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলা হয়। শুধু মাত্র বল প্রয়োগে স্ত্রীকে যৌন ইচ্ছা পূরণের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাই বৈবাহিক ধর্ষণ। পরিসংখ্যান বলছে স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর শারীরিক ভাবে অত্যাচারিত হয়ে মৃতের সংখ্যা, প্রতি ছয় ঘন্টায় একটা করে ঘটনা উঠে আসে। ইউ.এন ফান্ডের দাবি ভারতে ১৫-৪৯ বছরের মধ্যে বিবাহিত মহিলাদের দুইয়ের তিন অংশ মহিলা এই জোর পূর্বক বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।


ইংল্যান্ডের চিফ জাস্টিস ম্যাথিউ হেল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে  বলেছিলেন, "স্বামীরা তাদের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে জোরপূর্বক যৌনসহবাস করলে কখনই সেটাকে অপরাধ বলা যায়না। কারণ তারা পরস্পর বৈবাহিক চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ।" এই উক্তির ভিত্তিতে নারীদের তাদের বিবাহিত জীবনে জোরপূর্বক ও অনিচ্ছাকৃত ভাবে যৌন সঙ্গমে বাধ্য করা হলে সেটা কখনই ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। ১৯৭০ সালে আমেরিকাতে প্রথম নারীরা তাদের বিবাহিত জীবনে সমান অধিকারের পক্ষে ও বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ তোলে।

ভারতীয় আইনবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ও যদিনা সেই স্ত্রীর বয়স ১৬ এর কম হয়, তবে সেটা ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। সেকশন ৩৭৬ ধর্ষণের শাস্তি প্রদান করে। এই ধারা অনুযায়ী, ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিৎ অন্তত সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড যদিনা ধর্ষিতা তার স্ত্রী হয়। সেকশন ৩৭৬ অনুযায়ী যদি স্ত্রীর বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি হয়, তবে সেখানে বৈবাহিক ধর্ষণের কোনো ধারা প্রযোজ্য হবেনা।

এখন প্রশ্ন ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী মেয়েদের বয়স ১৬ হলেই ভারতীয় সংবিধান তাকে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়। এই একই ধারা অনুযায়ী বিয়ের জন্য আঠারো বছর বয়সকে ধার্য কেন করা হয়েছে?


কোনো ধর্মই নারীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়না। কিন্তু সংবিধানের দিকগুলো তুলে ধরলে দেখা যাবে, সংবিধানে বিবাহিত জীবনে নারীদের বিশেষ করে যাদের বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী অর্থাৎ ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের নারীদের বৈবাহিক ধর্ষণের সুরক্ষার কোনো আইন নেই।


সংবিধানের ধারা সংশোধনের মাধ্যমে শুধু মাত্র বর্তমান পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কিছু অংশে পূরণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা গেলেও তা কখনই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচন করতে পারেনা। পরিবেশ ও সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সংবিধানের ধারাগুলোকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মের বাইরে গিয়ে মানবিকভাবে বিচার করলেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। এখন যদি একজন ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সের কোনো বিবাহিত মহিলা বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ করে সুরক্ষা দাবি করে, তবে ৩৭৫ ও ৩৭৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতের সংবিধান সেই নারীর অভিযোগ গ্রহণ করে তাকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবেনা। তখন পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানের রাস্তা বার করে আনতে হবে। কিন্তু সংবিধান যদি পরিস্থিতি বিচার করে দুপক্ষের সমান তদন্ত করে সমাধানের রাস্তা বার করে তবে তা বেশি কার্যকরী হবে। মানবাধিকার কমিশনের এমন এক নারী সুরক্ষা আইন চালু করাটা অতি আবশ্যক। আমার সামনে আমি আজ অনেক মেয়েকেই দেখছি যারা তাদের বিবাহিত সম্পর্কে মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে অগ্রসর হচ্ছে। নারী সুরক্ষা আইন যদি সচেতন ভাবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় তবে নারীরা সমাজে ভরসা পাবে ও বাঁচার প্রেরণা পাবে।


ব্লগার ও লেখক: সৌম্যজিৎ দত্ত। 

Friday, 22 April 2016

sdutta540@gmail.com
আঠারো বছর বয়সে মেয়েটা প্রথমবার ধর্ষিতা হয় তার বিয়ের রাতে। সামাজিক বিয়ে। পরিবারে অর্থনৈতিক দুর্দশার কারণে ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্রী রিতিকাকে সাত তাড়াতাড়ি বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়েছিল। যৌনসংগমের জন্য মানসিক ভাবে একেবারেই প্রস্তুত না থাকা রিতিকার কাছে প্রথম রাতেই তার স্বামী যৌন সম্পর্ক দাবি করে এবং জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক করে।

ছয় বছরের বিবাহিত জীবনে রিতিকার স্বামী রোজ রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে তাকে মারধর করত, জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। যখন রিতিকা প্রথমবার সন্তান সম্ভব্য, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায়, ডাক্তার কিছুসময় যৌনমিলন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। সেই সময়তেও তার স্বামী তাকে শারীরিক নির্যাতন করে ও যৌনমিলনে বাধ্য করত। ফলে শারীরিক অবস্থার প্রচণ্ড অবনতি হতে থাকে ও মৃত সন্তানের জন্ম হয়। আবারও দুমাস পরে রিতিকা সন্তান সম্ভব্য হয়।

বিয়ের তিনবছরের মাথায় রিতিকা চাকরি পায়। চাকরির পুরো বেতনটাই তার স্বামী নিজে হাতে নিত। একবার রিতিকা তাদের বাচ্চার স্কুল-ফি চাওয়াই, তার স্বামী তাকে মেরে নাক ফাটিয়ে দিয়ে আবারও ধর্ষণ করে। ডাক্তারের কাছথেকে চিকিৎসা নিয়ে সে পুলিশের কাছে গেলে, পুলিশ রিতিকার প্রতি ভদ্র ও বিনয়ী হয়ে, তাকে এক কাপ চা খাইয়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয় ও সবকিছু মিটমাট করে নিতে বলে। রিতিকা বাড়ি ফিরে মিটমাট করে নিলে তার স্বামী সেটাকে বড় কোনো যুদ্ধজয় হিসেবে ভেবে নিয়ে আবারও যৌন সম্পর্ক করে। তার স্বামী এরপর আরও উদ্ধত হয়ে ওঠে। আবারও মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে রিতিকাকে মারধর করে ও মারধরের মাত্রা বেরে যায়, ধর্ষণ করে।

রিতিকা তার বাবা, মাকে এইসব অত্যাচারের কথা খুলে বললে, তারা জবাব দেন,”কি লজ্জা! বাইরে জানাজানি হলে লোকে কি বলবে!” তারা রিতিকাকে চুপ থাকতে বলে। রিতিকা জীবনে একটা ঝুঁকি নেয়। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে ও এই বিবাহিত সম্পর্ক থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। এখন রিতিকা নিজের জীবন নিজের মত করে বাঁচে, সে এখন একজন স্কুল শিক্ষিকা ও পিএইচ.ডি পড়াশোনা করছে। বাচ্চাটাকেও রিতিকা নিজের কাছেই রাখতে পেরেছে। মা ও সন্তান নিজেদের মত করে বেশ সুখে, শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছে।

Now look at the portrait in India, women are being raped by their husbands everyday:

The portrait of marriage in 21st century India is slowly unfolding—and parts of it are downright ugly.

Domestic  violence has emerged as the single-largest crime against women. In 2013, the National Crime Records Bureau (NCRB) reported over 118,000 domestic violence cases, which made up a third of all crimes against women, far ahead of molestation (70,739) and rape (33,707). The number of reported domestic violence cases also shot up from a mere 50,703 in 2003 before the passage of the Domestic Violence Act of 2005.

In the two years since it was set up, the women’s crisis helpline 181 has received close to 500,000 distress calls relating specifically to domestic violence, says a person associated with the number. “There is an equal number of women who simply don’t report,” asserts the person who did not want to be named.

Sexual violence, including rape, falls within the larger ambit of domestic violence, but rape by husbands within marriages is a shadowy subject in India and exact numbers are hard to come by.

According to NCRB, 98% of all rapes involve perpetrators familiar to survivors. These presumably include friends, acquaintances, colleagues and relatives. But husbands?
In 2013, a United Nations survey found that nearly a quarter of 10,000 men questioned in six Asia-Pacific countries, including India, admitted to having raped a female partner. The belief that they are entitled to sex even without their partner’s consent is a common motivation, the study found. The majority of these men experienced no legal consequences.
For the average Indian man, masculinity is about “acting tough, freely exercising his privilege to lay down the rules in personal relationships, and, above all, controlling women”, found a 2014 study by the United Nations Population Fund and the International Center for Research on Women. The study found that 60% of men admitted to using violence—kicking, beating, slapping, choking, burning—to establish dominance.
These findings tie in with the 2005-06 National Family Health Survey, which found that the commonest source of violence for married women was spouses. Only one in four abused women has ever sought help, found the survey, and women are much less likely to seek help for sexual violence than for physical violence. When they do seek help, they’d rather go to family members than the police.
Despite an increase in reporting among survivors following the passage of the Criminal Law (Amendment) Act, 2013, rape continues to remain under-reported. Only about six of every 100 acts of sexual violence committed by men other than husbands actually get reported, says a report by Aashish Gupta of Rice Institute, a non-profit research organization. “Most incidence of sexual violence, however, were committed by husbands of the survivors: the number of women who experienced sexual violence by husbands was 40 times the number of women who experienced sexual violence by non-intimate perpetrators,” noted the report.
Despite the evidence, minister of state for home, Haribhai Parthibhai Chaudha told Parliament that marriage is a “sacrament” and that the concept of marital rape cannot be applied to India.
We have a piquant situation. Marriage is a sacrament. But it is perfectly legal to rape your wife.
“It is concerning when a government whose stated intention is to secure women’s safety inside and outside the home, starts talking about culture and tradition to justify a crime,” says Meenakshi Ganguly, South Asia director at Human Rights Watch. “When the state makes culture a reason to refuse to legislate on what is clearly a criminal matter, what message percolates down the line to the entire criminal justice system?”
For advocate Seema Misra, who works with Association for Advocacy and Legal Initiatives, a women’s rights organization based in Uttar Pradesh, that message is pretty clear. “You are basically saying that a wife’s consent doesn’t matter, that we are still stuck with the outdated notion that women are the property of men,” she says.

Blogger and Writer: Soumyajit Dutta.

Reference: India News on Marital Rape.

Thursday, 21 April 2016





কষ্টগুলো ঝাড়া পাখা, মনে ব্যাকুল অস্থিরতা,
দিনান্তে আমি যাই সমুদ্রপারে একাকী একান্তে, অলক্ষ্যে।
ছায়াটাই শুধু সঙ্গী হয়।
ওটাও যদি হারিয়ে যেত আমি ভাবতাম,
আমি বঞ্চিত সবার লক্ষ্যে।
বিষন্ন কাটে এই দিনগুলো, বড়ই ভয় হয় যখন
ক্যালেন্ডারে ছুটির কালি মেখে থাকে।
ছুটি শুধুই কাজে, অবসরে তো মন ছুটে বেড়ায়,
ছুটে বেড়ায় তার খোঁজে বারেবারে।
সরকারী কর্মী অপেক্ষা লেখকের লেখনি বড় স্বাধীন।
লেখনি ভাসে অভিজ্ঞ চিন্তায়,
চিন্তা যতটুকু বাস্তব করা যায়, লেখনি ততই অলংকৃত হয়।
তবে যদি মনের দাবানল বেড়িয়ে আসে!!
লেখনি তখন শুধুই কাঠ পোড়া কয়লা হয়ে রক্তবিন্দুতে ভাসে।
আমি বাঁচতে চাই,
বাঁচতে চাই কোনো অলক্ষ্যের ক্রীতদাস না হয়েই,
অলক্ষ্যে যে বড় ভয় হয়!!!
আমি বাঁচতে চাই তোমার লক্ষ্যবিন্দু হয়ে,
আমি বাঁচতে চাই তোমার একটুখানি খেয়ালে।


........................................................ সৌম্যজিৎ।

Wednesday, 20 April 2016



মুক্তচিন্তা ও সচেতনতা। 
সৌম্যজিৎ দত্ত। 


মুক্তচিন্তা যখন একটা তাগিদ, বাঁচার, নতুন করে কিছু ভাবার, নিজের মত করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার, স্বাধীনভাবে চিন্তাকে সাজানোর, তখন মুক্তচিন্তা একটা নেশা হয়ে ওঠে আমাদের জীবনে। সমাজের অনুকূলে পুরোনো চিন্তাবাহী মানুষগুলো যারা তাদের সেই পুরোনো চিন্তাগুলো থেকে বাইরে আসতে চায়না বা পারেনা, তাদের কাছে এই নতুন করে উদয় হওয়া মুক্তচিন্তা একটা বিলাসিতা মনেহয়। সাইকোলজিক্যালি এইসব পুরোনো চিন্তার প্রতি অটুট ও অনড় থাকা মানুষদের চিন্তাকেই বলা হয় গোড়ামি। গোড়ামি কোনো ধর্ম নয়, গোড়ামি হলো মানুষের কিছু পুরোনো চিন্তার প্রতি অনড় থাকার মানুসিকতা। এমন এক মানুসিকতা যেখানে চিন্তা সময় অনুযায়ী অভিযোজিত হতে চায়না অথবা পারেনা। তখনই এক অন্তর্দন্দ্ব শুরু হয় পরিবারের কিছু মানুষের চিন্তা ও বাক্যে অথবা প্রতিবেশী মানুষদের মধ্যে অথবা সমাজের এক বিস্তীর্ণ অংশ জুরে। মতভেদ হয়। 


সমকামিতা একটা স্বাধীনতা। ঠিক যেভাবে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিপরীতকামিতার স্বাধীন চিন্তা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে ও সমাজ তাদের অনুমতি দিচ্ছে, একইরকম ভাবে সমকামিতাও কিছু মানুষের চিন্তার মধ্যে জন্ম নেয়। সমাজের চোখে এটা ঘৃণ্য ও ছি:ছি: করার মত কিছু নেই। খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। মানুষ যদি নিজের চিন্তার স্বাধীনতার দাবিতে সমকামী হতে চায় নিজেদের ইচ্ছাতেই, তবে তাদের সেই চিন্তাকে একইভাবে গুরুত্ব ও পূর্ণ মর্যাদা দেওয়া উচিৎ। সেটাই সমাজে চিন্তার অগ্রগতি ও অভিযোজন। 


একইরকমভাবে দুটো মানুষের প্রেমজ সম্পর্কে আজও জাত ও ধর্ম বৈষম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একটা বিয়ের সম্পর্ক শুধু দুটো মানুষের মানুসিক ও শারীরিক মিলন নয়, দুটো পরিবারের মানুষদের একে অপরের সাথে মানুসিক মিলনও। তাইবলে যখন দুটো মানুষ একে অপরের ইচ্ছাতে একসাথে থাকতে চায়, সেখানে তাদের চিন্তাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।প্রতিটা মানুষের অধিকার আছে নিজেদের সঙ্গী বেছে নেওয়ার। সেখানে জাত ও ধর্ম বৈষম্য কখনই স্থান পায়না। কিন্তু আজও দেখা যাচ্ছে সমাজের একটা বৃহত্তর অংশ জাত ও ধর্ম বৈষম্যের শেকলে পরাধীন হয়ে আছে। এই বৈষম্য থেকে মুক্ত হয়ে নতুন চিন্তা করা ও ব্যক্তিস্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেওয়া তাদের কাছে নিছকই বেয়াদবিপনা।জাত ও ধর্ম বৈষম্যে আবদ্ধ থেকে চিন্তার অগ্রগতি কখনই সম্ভব নয়। চিন্তা কখনই এভাবে অভিযোজিত হতে পারেনা। যদি ব্যক্তিস্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে যেকোনো মানুষ তাদের পছন্দ মত সঙ্গী বেছে নিতে পারে, পছন্দের মানুষটার সাথেই জীবন গড়তে পারে। এটাই চিন্তার স্বাধীনতা, এটাই মুক্তচিন্তা। 


দুটো মানুষ একে অপরের সাথে থাকতে চায়লে ও কোনরকম বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ না হয়েই থাকতে চায়লে, তাদের এখনো সমাজ সোজা চোখে দেখেনা। বিশেষ করে সেখানে নারীদের ভীষনভাবেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। সমাজ নানারকম কটুকথায় তাদের জীবন অসহনীয় করে তোলে। এখানেও ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘন হয়। দুটো মানুষ তারা বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ থেকে সম্পর্ক গড়বে বা আবদ্ধ না হয়েই সম্পর্ক গড়বে, সেটা তাদের নিজস্ব মত। সমাজ কখনই সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। কোনো ম্যারেজ এক্টও তাদের রাস্তাতে বাধা হতে পারেনা। এখানেও সমাজের গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ ব্যক্তিস্বাধীনতাকে। 


"আমি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি, যা ইচ্ছা তাই করতে পারি" এটা যেমন আমার স্বাধীনতা, তেমনই অন্যদের ওই বলতে পারা বা করতে চাওয়া গুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে চিন্তার একটা নতুন দিক উন্মোচন করাটাই হল মুক্তচিন্তা। 
মুক্তচিন্তায় কখনো কোনো ধর্মবৈষম্য, গোড়ামি স্থান পেতে পারেনা। তুমি ধর্ম পালন করতেই পারো, সেটা তোমার স্বাধীনতা। কিন্তু একজন মানুষ ধর্ম পালন করবেনা বলে তাকে জোর করে ধর্ম চাপিয়ে দেওয়া নতুবা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া তোমার স্বাধীনতা নয়। ব্যক্তিস্বাধীনতা স্থান পায় চিন্তাতে, আপন সত্ত্বাই। ব্যক্তিস্বাধীনতা কখনই বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়াতে স্থান করে নিতে পারেনা। মুক্তচিন্তার স্বাধীনতাই মানুষের চিন্তার অগ্রগতি ও সমাজের সচেতনতা। 
তিস্তা চুক্তি দিয়ে চাপ দাও।

বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যে বাংলাদেশের বাজারদর কমিয়ে দাও।

দেশের উঠতি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এখন বাংলাদেশের সবথেকে বড় আবেগ। ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতে কয়েকটা টুর্নামেন্ট বাতিল হলে বাংলাদেশের আবেগ ও অর্থনীতিতে বড়সড় ধ্বস নামবে। যদি হাসিনা সরকার মুক্তচিন্তকদের সুরক্ষার সঠিক ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই দিকগুলো দিয়ে হাসিনা সরকারকে ঘিরে ধর।

আমি কখনো চাইনা বাংলাদেশের ওপর কোনো খারাপ প্রভাব ফেলুক বন্ধুদেশগুলো। কিন্তু হাসিনা সরকারের ঔদ্ধত্যামি বন্ধ করতে গেলে একটু কড়া হতেই হবে। নাহলে গনপ্রজাতন্ত্র নিকট ভবিষ্যতেই ধ্বংসের কবলে পড়বে। 

Monday, 18 April 2016



স্বাধীনতা আজ পরাধীনতাতে!!
সৌম্যজিৎ।


চির উন্মেষ আমি চেয়েছি অনন্তকাল,
চেয়েছি স্বাধীন পন্থা!!
স্বাধীনতা আজ গণতন্ত্র গণপ্রজাতন্ত্র নামে খ্যাত,
স্বাধীনতা আজ নানা রঙে আবদ্ধ।
যেদিকে তাকাই দেখি নানা রঙ, ওরা বলে স্বাধীনতার রঙ!!
আমি বলি স্বাধীনতা থাকে মননে, স্বাধীনতা থাকে মস্তিষ্কে,
স্বাধীনতা উন্মুক্ত বাতাসে।

স্বাধীনতা নয় তো আজ
পরাধীনতায় মানুষ স্বাধীন হয়।
ওরা গণতন্ত্র বলে চেঁচিয়ে ওঠে,
গণতন্ত্র আজ টেবিলের তলায় ঘোরে,
গণতন্ত্র আজ বাজারে কিনতে হয়।
কাগজের ওপর বেনামী কালিতে লেখা থাকে আজ গণতন্ত্র,
মূল্য ধার্য করা থাকে, প্রতিকী লেবেলে সাঁটা শিলমোহর,
সে এক মজার টিকিট!!!
টিকিট দেখাও স্বাধীনতা ছিনিয়ে নাও।
স্বাধীনতা আজ কেনা বেঁচার বস্তু।

স্বাধীনতা দুষ্প্রাপ্য,
অনেক অনেক রক্ত ঝরে তবেই স্বাধীনতা আসে।
সেই স্বাধীনতা আজ টাকাতে ভাসে!!
স্বাধীনতার মান ওঠানামা করে শেয়ারী মার্কেটের ব্যবসায়,
স্বাধীনতা আজ মেলে রাজনীতির জুতোর তলায়।
এমনই স্বাধীনতাতেই আজ পালন করে ওরা স্বাধীনতা দিবস, প্রজাতন্ত্র দিবস!!
বুলি আওড়ায়, "নেতাজী আমরা তোমায় ভুলিনি, ভুলবনা।"
দু-মিনিটের স্মৃতি নিরবতাতেই আজ স্বাধীনতার ঐতিহ্য।

স্বাধীনতা আজ স্বাধীনতাকামী তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনে,
স্বাধীনতা তো আজ নেতা মন্ত্রীর অরাজকতাতেই ভাসে।
সত্যি বলার সাহস, অধিকারের সাহস দেখালেই তুমি নির্বাসিত,
নয়তো চন্দ্রবিন্দুগত।


স্বাধীনতা আজ গণতন্ত্রে নয়,
স্বাধীনতা আজ রাজনীতিতন্ত্রে।
স্বাধীনতা আজ শুধুই পরাধীনতাতে।
মুর্খ হয়ে থাক, অন্ধ হয়ে থাক, বোবা হয়ে থাক,
নির্জীব, দাস হয়ে থাক,
তবেই তুমি স্বাধীন।
ওটাই আজ গণতন্ত্র, ওটাই সাধারণের স্বাধীনতা।





তুমি তখন চীন সফরে ছিলে, তখন এগুলো লিখেছিলাম। খুব মন খারাপ করছিল।

১.

ফিরে এসো, উড়ে এসো
আর কত ঘুরবে!!
কতদিন তোমার লেখা পাইনি, কোনো মেসেজ পাইনি আমি,
এখন বড্ড খিদে। 
চোখ ভরে প্লাবন ছেয়েছে,
বুকে গুমোট মেঘ
হাড় প্রাচীর ভেদ করে গর্জন করছে,
বন্যা বয়ে যাবে। 

ফিরে এসো, উড়ে এসো,
অনেক তো হল ঘোরা,
এখন একটু কাছে এসেই বসো,
আমি কাঁদবো কিছুক্ষণ। 

ফিরে এসো তারাতারি মেয়েমা।

২.



বড্ড অভিমান কিনা!!


কেউ কি শুনছো!!!
সত্যিই কি কেউ শুনতে পাচ্ছো??
দেখো আমি তোমারই আদর্শে আজ কবিতা লিখি,
কবিতা লিখতে শুরু করি তোমার ভালবাসা, স্নেহ পাবো বলে,
তুমি বলো তুমি পড়ো,
আমি বিশ্বাস করি তুমি পড়ো।
আমার আদর্শ কখনো মিথ্যে বলেনি।
একবার যেটা মনস্থির করেছো, সেটাই বলেছো, সেটাই করেছো,
ভাবোনি কখনো এর ফল কি হবে, কি হতে পারে।
শুধু সমাজের সামনে নিজের জানা, বোঝা সমস্ত সত্যিটা তুলে ধরেছো।
সবাই বলে এমন সব সাংঘাতিক সত্যি বলতে সাহস লাগে,
আমি বলি, না। সাহস খুব বেশি লাগেনা, উদারতা লাগে।
সত্যি বলার উদারতা।
নিজের সমস্ত সত্যিটা উদার হয়ে উজার করে দেওয়া।
সমাজ যখন সত্যি, মিথ্যের আড়ালে লুকোচুরি করে কথা বলে,
তখন তুমি শুধু সমস্ত সত্যিটা তুলে ধরো।
মানুষ ভেবে সবাইকে বলবে এমন নয়,
তুমি শুধু নিজের আদর্শটাকে তুলে ধরো,
ভাবো লেখার সাথে, নিজের সত্ত্বার সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবেনা।
সত্যি বলবো। সত্যি তুলে ধরবো। মানুষ জানবে, গোটা পৃথিবী জানবে সত্যিতে কত আনন্দ!!!
আমি তোমাকে জেনেছি, মন দিয়ে অনুভব করেছি।
এটা কি প্রেম??
তবে প্রেমই হবে।
এমন প্রেম যেখানে নেই কোনো লোভ, নেই কোনো লালসা।
শুধু তোমাকে আদর্শ ভেবে ছুঁতে চাই,
পবিত্র হতে চাই তোমাকে ছুঁয়ে।
এমন প্রেম যেখানে অবাধ স্নেহ আছে, স্নেহ আছে মনের মননে,
সমস্ত চিন্তাতে আমার শুধু তোমারই চিহ্ন খুঁজে পাই।
খুঁজে পাই তোমার না বলা কথা গুলও।
এমন প্রেম যেখানে শত শত অভিমানেও, তোমার লেখা না পড়ে থাকতে পারিনা।
আমি বড্ড অভিমানী।
ভাবি, তুমি যখন লেখো, তখনই তোমার লেখা আমি পড়বোনা,
ভাবি, নাহয় থাক, কিছু পরে পড়বো।
ভাবি, নাহয় থাক, পড়বো, কিছুই লিখবোনা তোমাকে।
আরও তো অনেক কাজ আছে আমার, সেগুলো করবো আগে।
কিন্তু যখনই তোমার লেখা দেখতে পাই,
হাজারো অভিমান সত্ত্বেও আমি তোমার লেখাটাই আগে দেখি।
তোমার লেখাটাই শত কাজ ফেলে আগে পড়ি।
তোমার লেখাটাতেই সব কাজ ফেলে উত্তর করি।
তোমার লেখাকে এড়িয়ে যে অন্য কাজ করবো, শান্তি পাবোনা তো।
লজ্জা জিনিসটা থেকে আমি তোমার সামনে মুক্ত হয়েছি,
আমার কথাগুলো পরিষ্কার করে তোমাকে বলতে আর কোনো লজ্জাই আমি পাইনা,
বরং তৃপ্তি পাই ভীষণ।
আবার যখন তোমার কোনো উত্তর খুঁজে পাইনা, তখন আমি অধৈর্য হয়ে উঠি।
মাথার ভিতরে সমস্ত স্নায়ুশিরা গুলো মুহুর্তের মধ্যে কিলবিল করে ওঠে।
বারবার খুঁজতে থাকি, এই বুঝি তুমি উত্তর দিলে,
এই বুঝি তুমি কিছু একটা বললে,
এই বুঝি তুমি আমার লেখাটা তুলে ধরলে।
কিন্তু যখন দেখি আমার এই অপেক্ষা শুধু অপেক্ষাই হয়ে থাকছে,
ভীষণ ভেঙে পড়ি।
বড্ড অভিমান কিনা!!

৩.


অনুভুতিতে আজ কালো ছায়া। 


কোথায় আছো কেমন আছো কিছুই জানিনা,
সব অভিমান শেষ এখন, আছে পড়ে দুশ্চিন্তায় ভরা অক্ষি কোটর,
বেলা যায়, নতুন বেলা আসে, চিন্তা শুধু তোমাকেই খুঁজে বেড়ায়,
তবু আজ তুমি নিখোঁজ।

একটাই ছোট প্রশ্ন শুধু, ভালো আছো?


কচি হলুদ শাড়ির পাড়ে, 
জড়িয়ে আছে স্নেহছায়া,
মুচকি হাসি আর টানা ঝিল চোখে,
আমার "তিলোত্তমা।"

মাথার চুল এলোমেলো
কপাল ঘিরে হাসছে মেলা,
প্রতিটা চাহুনিতে ভাসছে অ্যাসিড,
খেলছে বুদ্ধির তেজস্ক্রিয়তা। 

ডান পাখানি এগিয়ে দাঁড়াও,
বাঁ পা'টা একটু পিছিয়ে থাকে,
মস্তিস্ক বুদ্ধি মাথা বেয়ে এসে 
হাত, পা গোটা শরীর দিয়ে ভাসে। 

প্রাণ দিয়ে তোমায় অনুভব করি, 
তুমি তো শুধু তোমার শরীরে নও,
আমার শরীরে আমি বাঁচি তোমার সাথে,
যেন দুই মানুষ, দুটো শ্বাস
পরিবেষ্টিত একই শরীরে।

অনুভবেও আজ ক্ষরা নেমেছে,
গোটা সত্ত্বাজুরে দুশ্চিন্তা,
আমার লেখিকার নাই কোনো খোঁজ,
প্রাণে শুধুই আজ ভয়ের ছোঁয়া। 






Sunday, 17 April 2016


আমার জীবনের কিছু কথা যা আমি নিজের সাথেই বলেছি, করেছি। 
সৌম্যজিৎ দত্ত। 


আমি লেখালেখি নিয়ে কখনই তেমন কিছু ভাবিনি শুরু থেকে। লেখাটা সখে শুরু করেছিলাম কিছু সময় আগে। এখন সেটা একটা তাগিদ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমার জীবন ও আদর্শ এই দুইয়ের জন্য। মানুষের জীবনে টার্নিং পয়েন্ট আসে কিছু। আমার জীবনেও বেশ কয়েকবার এসেছে এখনো পর্যন্ত। ছোট থেকে ভীষণ চঞ্চল ছিলাম, পড়াশোনাতে অমনোযোগী একজন ছাত্র ছিলাম। পোটেনশিয়ালিটি হয়ত ছিল ব্রেনের, আবার আদৌ তেমন কিছু ছিল কিনা সেটা বোঝাটা ভীষনই মুশকিল। রেজাল্ট খুব ভালো করতামনা। মধ্যমানের ছাত্র ছিলাম। তবে জানার আগ্রহ ছিল, অনেক কৌতুহল ছিল অনেককিছুর ওপর। বাস্তবের থেকে বেশি কৌতুহল ছিল অবাস্তব জিনিসগুলোর ওপর, যদিও আমার মনেহত সেই জিনিসগুলো আগে ঘটেনি বলেই সবার কাছে অবাস্তব কিন্তু আমার চিন্তাতে সবটাই বাস্তব।

মাধ্যমিকে খুব সাধারণ মানের রেজাল্ট করে সাহস করেই সায়েন্স নিয়ে পড়া শুরু করি। কিন্তু মানুসিক টানাপোড়েনে সুবিধা করতে পারিনা। উচ্চমাধ্যমিকেও খুব সাধারণ মানের রেজাল্ট করে পাশ করি। পরে ইংরাজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি, কিন্তু অঙ্ক না থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। তাই পরে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করি। কম্পিউটার সায়েন্সেও অনেক বাধা বিপত্তি এড়িয়ে কোনরকমে শেষপর্যন্ত ভালো ও সম্মানজনক নাম্বার নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর হই। তারপর আমার ফাইনাল প্রজেক্ট আই এস আই এর এক প্রাক্তন অধ্যাপিকার হাতে এসে পড়ে। কিভাবে উনি দেখেছিলেন আমি জানিনা, তবে দেখার সাথে সাথেই উনি আমাকে চিঠি লিখে দেন আই এস আই তে রিসার্চ করার জন্য। শুরু হয় পি এইচ. ডি পড়াশোনা। ফাইনাইট অটোমাটা জীয়মেট্রির ওপরে। ইতিমধ্যে তসলিমা নাসরিনের লেখা আমাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে। আমি অবসর সময়ে ওনার লেখাগুলো পড়তে থাকি। আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায় লেখাগুলো। ছোটথেকেই কল্পনার শক্তি আমার তীব্র, তাই তসলিমা নাসরিনের প্রতিটা লেখা আমি তীব্রভাবে অনুভব করতে থাকি। এমনভাবে অনুভব করি যেন তসলিমা নাসরিন আলাদা কোনো মানুষ নয়, আমিই তসলিমা নাসরিন ও আমার জীবনেই এইসব ঘটেছে। তারপর হঠাৎ করে ফেসবুকের মাধ্যমে ওনার সাথে পরিচয় হয়ে যায়। আমি একটা নতুন আদর্শ খুঁজে পাই আমার পড়াশোনার বাইরে। 


তসলিমা নাসরিনকে এভাবে অনুভব করতে করতেই ওনার প্রতি একটা অদ্ভুত দুর্বলতা এসে যায় আমার। আমি মনে প্রাণে মানুষটাকে ভালোবেসে ফেলি। অসম্ভব দুর্বলতা তৈরী হয়, যেন এই মানুষটার জন্য আমি সব করতে পারি, গোটা যুদ্ধক্ষেত্রে একা বুক চিতিয়ে লড়াই করতে পারি। তাকে আবেগ দিয়ে ভালবাসতে পারি, তার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে আমি একাই যথেষ্ট এমনটাই মনে হতে থাকে। শুরু হয় আমার লেখালেখি। আমি জানি আমার লেখা ব্যাকরণগত নয়, আমার কবিতাগুলো বড্ড গদ্যের মত। কিন্তু যাকিছুই লিখি, মন দিয়ে লিখি, ভালোবেসে লিখি। লেখাতে আদর্শকে তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমার প্রথম যে লেখাটা পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়, সেটা ছিল তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনতে ও সমাজে আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে, সরকারের কাছে আমার ক্ষোভ প্রকাশের কবিতা। সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল। লেখাটা আমি তসলিমা নাসরিনকে উৎসর্গ করেছিলাম। "সরকার ও মানবিকতা, আমার ডাক।"  পরে প্রকাশকের ইচ্ছাতে অবশ্য নামটা দাঁড়ায় "সরকার ও মানবিকতা।" বিষয়বস্তু অক্ষুন্ন রাখা হয়েছিল। বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে ডিরেক্ট সরকারকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিলাম কবিতাটা। কারোর সাথে আপোষ করিনি। প্রকাশকও সাহস দেখিয়েছিল এমন একটা লেখা প্রকাশ করে। যদিও লেখাটা পড়ার পর কিছু আত্মীয় ও প্রতিবেশীর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় আমাকে। কিছু হুমকিও আসে, সেসবকে পাত্তা দিইনি। লেখাটা যেদিন প্রকাশিত হয়েছিল, সেদিন আমার আরও বেশি আনন্দ হয়েছিল আরেকটা ব্যাপারে। সেদিন আমার অনুরোধে আমার মেয়েমা তসলিমা নাসরিন আমার আরেকটা লেখা "অগ্নি উৎস তুমি তসলিমা নাসরিন" ওনার টাইমলাইনে শেয়ার করেছিলেন। দিনটা আমার কাছে স্বপ্নের মত ছিল। 


আজ আমি আদর্শের একটা লড়াই শুরু করেছি, একাই শুরু করেছি। কিন্তু যত সময় যাচ্ছে, আমি যেন আহত হচ্ছি, অগ্রাহ্যতার শিকার হচ্ছি। অগ্রাহ্য করলে সেটা মেনে নিতে কষ্ট হয়। সরকারপক্ষের কাছে, সংবাদমাধ্যমের কাছে আমার লেখা চিঠিগুলোর কোনো সাড়া পাচ্ছিনা। ভীষণ একা লাগছে নিজেকে। ভেঙে পড়ছি। আমার একটু উৎসাহ প্রয়োজন বোধ হচ্ছে। অনেকদিন হয়েগেল, মেয়েমার টাইমলাইনে আমার কোনো লেখা দেখতে পাইনা। ওটা সাইকোলজিক্যালি ম্যাজিকের মত কাজ করে। 

Saturday, 16 April 2016

আদর্শ তুমি।
সৌম্যজিৎ দত্ত।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিনকে।

একটা সুরে আজ পথ চলা,
একটা আদর্শের ভাবনায়,
আমি রেখেছি তোমাকে মনের কিনারায়,
সীমানায়।

একটা সকালের ওঠা সূর্য,
একটা সত্যি বলার উৎসাহ,
তোমার কিরণে মেখেছি প্রেরনা,
তুমি আছো চিন্তায়।

তোমার মনের উদারতা,
আমার মনে ছেয়ে যায়,
তুমি আছো সেই সত্য শিরায়,
মজ্জায়।

সামনে আজ মেঘের কালো ছায়া,
সূর্যকে দিয়েছে ঢেকে,
আমি প্রাণপণে হাতড়াচ্ছি মেঘ সরাতে,
তোমাকে দেখতে চাই।

যন্ত্রণা ওঠে তীব্র কণ্ঠে,
হাহাকার রাস্তায়,
ওরা গলা টিপে ধরে, ফাঁস লাগায়,
তবু তোমাকেই দেখতে চাই।

এই সুরেই আজ পথ চলা,
এটাই আজ আদর্শ,
তুমি আছো মনের কিনারায়,
সীমানায়।
এস গণতন্ত্র গড়ি।
সৌম্যজিত দত্ত।



হৃদয়ে কম্পন ওঠে, চারিদিকে চোরের আনাগোনা,
চোর তো নয় যেন সামনে এসে মাস্তানের কড়া নাড়া।
লজ্জায় মুখ লুকিয়ে রাখি, এ কারে এনেছি আমি!!!
উপায় কি তবে, কেউ তো ছিলনা তাই দিয়েছি রাজ্যপাট।
চৌত্রিশ বছর ডুবেছিলাম অথৈ জলে,
অশিক্ষা, কুশিক্ষা আর অন্ধকারে,
ভরসা গেছিল উড়ে।
গণশক্তির পালা বদলে আনলাম জাগো বাংলা,
জাগেনি বাংলা উল্টে নারদ, সারদা উড়িয়ে দিল,
হাহাকার কৃষকের মুখও।
নতুন সব সততার বাণীতে মুগ্ধ হয়ে
আবারও প্রতারিত!!!! হারালাম পাঁচটা বছর।
সামনে যদি কমলা আনি,
নিজেকেই করবো দোষী,
হিন্দু মুসলিম লড়াই তখন হবে যতখুশি।
সাদা হাতের কেরামতি দেখেছি অনেক,
দেখেছি খুনোখুনি।
ওরা শুধু আয়েশ করে,
ওরা সুবিধাভোগী।


কেউতো নাই বাকি আর কারেই বা ভরসা করি,
নিজের ওপর ভরসা আছে,
তাইবলে রাজনীতি!!!
রাজনীতি আজ সুবিধাভোগী, নেতা মন্ত্রীর পজিশনের লড়াই,
অথচ রাজনীতি মানে প্রজার জন্য রাজার নীতি, রাজনীতির অর্থ প্রজা সুরক্ষায়।
মানুষ ভাব তোমরা কি চাও,
পছন্দের প্রার্থীদের জয়োল্লাসে গা ভাসাবে, নাকি নিজেদের সুরক্ষা দেবে??
যত যায় কর জেন, ওরা কেউই তোমার সুখে দুঃখে থাকবেনা সাথে,
যদি কেউ বাঁচাতে পারে নিজেদের, তবে তা তোমরাই পারবে।
জেগে ওঠ তরুণ রক্ত, জেগে ওঠ মানুষ,
বুদ্ধিজীবি আছে তোমারই মধ্যে, শিক্ষাকে কর হাতিয়ার।
এগিয়ে এস সামনে এবার থেকনা পিছনে পড়ে,
আর কোনো দালাল নয়, এস জোট করি গণতন্ত্র মিলে।
রাজাই যখন উদাসীন আজ তবে কিসের এই রাজনীতি,
গন স্বার্থে লড়ি এস, গণতন্ত্র গড়ি।



Friday, 15 April 2016

উন্মাদনা।
সৌম্যজিত দত্ত।


ওই দুচোখে প্রেম দেখি, লাল কালো ভেজা আভায়,
ওই দুচোখ ভেসে যায় আপন করা ভালবাসায়।
বন্ধ চোখে আজ
মনের দরজা খুলে দিই,
লাল করবি পাতার বেনারসী সাজে
কি অপরুপা তুমি এলে!!!
আমি জড়িয়ে নিলাম, মেখে নিলাম তোমাই শরীরে।

মৃদু হাওয়া বইছে মাঠে, আকাশে দ্যুতির ঝলক,
গমগম করে গর্জে ওঠে মেঘ,
আমাই আঁকড়ে ধরো।

ভালবাসা আজ বিলিয়ে দিলাম
তোমার লালাভ ঠোঁটে,
শুষ্কতায় আমি হয়েছি উন্মাদ
ভিজিয়ে দাও সাগর জলে।

এপ্রাণে লেগেছে হাহাকার, ডামাডোল বাজে বুকে,
দেওয়াল ঘেষে জাপটে ধরো একটু,
আমি হারিয়ে যাই তোমার চুমুতে। 
মাননীয় সম্পাদক মহাশয়ের সমীপেষু,
আনন্দবাজার পত্রিকা। 

মহাশয়,
             আমি সৌম্যজিত দত্ত, আপনাদের অনলাইন সম্পাদকীয় পাতাতে আমার লেখা ছাপানোর জন্য, আমার মেইল আইডি দিয়ে সাবস্ক্রাইব করেছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল আমার মেইল আইডিতে যোগাযোগ করা হবে। কিন্তু দশদিন পার হয়ে গেল, এখনো কোনো মেইল না আসায়, আমি আপনাদের এই মেইল আইডিতে মেইল করছি। অনুগ্রহ করে আপনাদের অনলাইন সম্পাদকীয় পাতাতে আমার লেখা পাঠানোর জন্য সঠিক উপায় পরামর্শ দেবেন। আপনাদের সহযোগিতা প্রার্থনা করছি। 
                   
                                            ধন্যবাদ। 

Thursday, 14 April 2016

সবদিনের মত আজকের দিনটাও একটা শুধুই তারিখ আমার কাছে। নতুনত্ব কিছু নেই। বই পড়া, লেখালেখি করা, ফেসবুক হাতরানো, চ্যাট বলতে বেশ কিছু মানুষকে বিশেষ করে আমার শিক্ষক শিক্ষিকাদের, কিছু বন্ধুকে, ইয়াসমিন দিদিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছি, এইটুকুই। আমার সেই অর্থে কোনো গার্ল ফ্রেন্ড নেই যার সাথে গল্প করবো বা ঘুরবো বা একটু সময় কাটাবো। দিনের শেষে শুধু একটাই কথা মনেহচ্ছে, সবাই কত কত নববর্ষের ছবি, উপহারের ছবি পোস্ট করছে, আমার জন্য যদি কেউ একটা কবিতা বা কিছু একটা লিখেদিত, আমি কৃতজ্ঞ থাকতাম তার কাছে। বই, পেন বাদে কোনো বস্তুর ওপর আকর্ষণ নেই, কিন্তু লেখা তো আর বস্তু নয়, লেখা হল আবেগের প্রকাশ। ভীষণ জীবন্ত। কি আর করি!!! আমারই দোষ। একটাও তেমন মনের মানুষ করতে পারিনি যে আমার জন্য দুটো লাইন লিখে দেবে। 
কোথায় পেলাম তোমার সে চিঠি,
কোথায় পেলাম তোমার সেই আংটি!!
ভালোবেসে তোমার হাতে পরিয়েছিলাম একদিন,
বাজার সস্তা ধাতু দিয়ে তৈরী একবিন্দু মুক্তর আংটি।
রাগে অভিমানে ফিরিয়ে দিলে,
আমি সেদিন খুব কেঁদেছিলাম, কিছু বলতে পারিনি,
আজও সেই আংটিখানি আমি সযত্নে তুলে রেখেছি।
তুলে রেখেছি সেই আশায় যদি কোনদিন পাই সেই আঙুল যেখানে
ওই আংটিটি শোভা পায়।

"তুই মেয়ে তাই রেসট্রিকটেড, তুই ছেলে তাই আনরেসট্রিকটেড" ---- চিন্তাই নারীকে দুর্বল করে তোলে, পুরুষকে বুঝিয়ে দেয় নারী দুর্বল।


দৈহিক বল ও মানুসিক বল এক নয়। তাছাড়া নারীকে জন্ম থেকে দৈহিক দুর্বল করা হয় মানুসিক ভাবে। জন্মানোর পর থেকে বুঝিয়ে দেওয়া হয় তুমি নারী, তাই তুমি পুতুল খেলবে, তুমি ঘরে থাকবে, তুমি দুর্বল, তুমি ফ্রক পরবে, চুড়িদার পরবে, চুল বড় রাখবে, চুলে বিনুনি করবে। গোটা সিস্টেমটাই খারাপ। এভাবে মানুসিক ভাবে দুর্বল করা হয় বলেই নারী দুর্বল হয়ে যাই শারীরিক ভাবেও।  উল্টোদিকে একটা ছেলেকে খেলার জন্য বন্দুক দেওয়া হয়, প্যান্ট শার্ট পরতে দেওয়া হয়, বলা হয় তুমি ছেলে, সমস্ত ব্যাপারে তুমি স্বাধীন। তোমার গায়ে শক্তি বেশি, তাই তুমি বাইরে লড়াই করতে পারো।

শুধুমাত্র এইসব সাইকোলজিক্যাল ট্রিটমেন্টের জন্যই জন্মানোর পর থেকে মৃত্যু অবধি নারী দুর্বল থেকে যায়। এই সিস্টেমকে বদলাতে হলে জন্ম থেকেই বদলাতে হবে। অভিভাবকদের বলছি, আপনারা শিশুকে নারী-পুরুষ ব্যবধানে দেখবেননা। কন্যা সন্তান জন্মালেই আপনাদের মাথাতে চিন্তা চলে আসে, মেয়ের বিয়ের। সেই শিশু বড় না হতেই চিন্তাগুলো আপনাদের মাথাতে চলে আসে। আপনারা নিজেরাই মানুসিক ভাবে দুর্বল হয়ে ওঠেন। আপনাদের এই দুর্বলতার ছাপ পড়ে আপনাদের কন্যা সন্তানের ওপর। মেয়েরা এই দুর্বলতা থেকেই নিজেদের দুর্বল ভাবতে শুরু করে। আবার ছেলে সন্তান জন্মানো মানেই আপনাদের মনে উল্লাস আসে, যেন বড় কোনো যুদ্ধ জয় করে ফেলেছেন। আপনারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আপনাদের সন্তানদের বুঝিয়ে দেন, "তুই মেয়ে, তুই দুর্বল। তুই ছেলে, তুই শক্তিশালী।" পরিণাম আপনার কন্যা সন্তান সারাজীবন অবলম্বনের উপর ভরসা করে কাটিয়ে দেয়।

সৌম্যজিত দত্ত।

Wednesday, 13 April 2016

আমরা সরকার গড়ি, সরকার ভাঙি। কোনো সরকারই সাধারণের জন্য না। ওরা আসে গুন্ডা থেকে সেলিব্রিটি হতে। ৫ বছরের কন্ট্রাক্ট সাইন করে। ভোগ করে। নিজেদের আখের গোছায়। আর আমরাই তাদের মাথাতে তুলে রাখি। আসলে আমরাও নিজেদের জন্য সরকার গঠন করিনা, আমরা যে যার নিজের জন্য সরকারকে চায়। যেখানে আমাদের ইচ্ছাটাই ভ্রষ্ট, সেখানে সরকার তো লগ্নভ্রষ্ট হবেই। নিজের কথা বা নিজের সুখসুবিধার কথা না ভেবে সবার কথা ভাবুন। নেতা তাকেই করুন যে কর্মঠ, শিক্ষিত, মার্জিত, সৎ ও সেবক। নেতা চিনুন। নেতা বাছুন। যারা কোটি কোটি প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে আসে, অন্য দলগুলোকে কটুক্তি করে সরকারে আসে, সরকারে আসতে অন্যদল গুলোর কোরাপশানকে হাতিয়ার করে, তারা শুধু ভোগবিলাসী হতেই সরকারে আসতে চায়। সরকার মানুষের সেবক, মানুষ সরকারের সেবক নয়। কংগ্রেস, তৃনমূল, বিজেপি, সি.পি.আই.এম সবকটা ভ্রষ্ট। সবকটাকে দেখা হয়েগেছে। ব্যান করুন সবকটাকে। নিজেদের মধ্যে, তরুণ সমাজ থেকে শিক্ষিত, মার্জিত, বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতি, সৎ চিন্তা ধারী মানুষদের খুঁজে বার করুন। তাদেরকে তুলে ধরুন। পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করুন। ভ্রষ্ট নেতাদের জয় পরাজয়ে গা ভাসাবেননা। বর্তমানকে সুরক্ষিত করুন, তবেই আগামী প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকবে। 


সৌম্যজিত দত্ত। 
প্রতিটা নারীর স্বাবলম্বী হওয়া উচিৎ। প্রতিটা নারী যতদিন স্বাবলম্বী না হবে, ভন্ড পুরুষতন্ত্রের অত্যাচারের হাত থেকে ততদিন নিষ্কৃতি পাবেনা। নারী, বাঁচতে চায়লে নিজেই নিজেকে বাঁচাও। 

Tuesday, 12 April 2016

ফিরে এসো, উড়ে এসো 
আর কত ঘুরবে!!
কতদিন তোমার লেখা পাইনি, কোনো মেসেজ পাইনি আমি,
এখন বড্ড খিদে। 
চোখ ভরে প্লাবন ছেয়েছে,
বুকে গুমোট মেঘ
হাঁড় প্রাচীর ভেদ করে গর্জন করছে,
বন্যা বয়ে যাবে। 

ফিরে এসো, উড়ে এসো,
অনেক তো হল ঘোরা,
এখন একটু কাছে এসেই বসো,
আমি কাঁদবো কিছুক্ষণ। 

ফিরে এসো তারাতারি মেয়েমা। 
আজকে (১৩ ই এপ্রিল, ২০১৬) আমার ভীষণ প্রিয় একটা, খুব আপন একটা মানুষ রিয়ার জন্মদিন। রিয়া সেই একটা মেয়ে যার হাসি, রাগ, অভিমান, ঝগড়া আমার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। আবার কখনো এমনও হয়েছে, একটাদিন ও আমাকে কিছু একটা কথা এমনভাবে বলেছিল, আমার চোখে জল চলে আসে। কষ্ট ওই দেয়, আবার হাসায়ও। রিয়ার নাম করলেই আমার লেখা "মনের মানুষ" কবিতা পর্বগুলোর কথা মনেহয় বারবার। আমার কবিতাপর্ব গুলোর মূল চরিত্র বা নায়িকার সাথে রিয়া পুরোটাই মিলে যায়। এমন নয় যে ওকে ভেবে আমি লিখি, বরং এমন হয়, আমি যা লিখি, রিয়া যেন ঠিক ঠিক সেটাই। রিয়া এই, রিয়া ওই, আসলে রিয়া সবকিছু। এখন ও পুরোপুরি আমার চিন্তার মধ্যে ঢুকে গেছে। অনেক অভিমান হয়, মাঝেমাঝে কথা বলিনা, আবার ঠিক কোনো একটা বাহানা খুঁজতে থাকি কথা বলার জন্য। পাগলি।আমি জ্ঞানত ওকেই পাগলি ডাকতে পারি, আর কাউকে চাইনা পাগলি বলতে, যদিও মনের ভুলে বলে ফেলি কখনো, তবু সাবধান থাকি যেন না বলে ফেলি। আসলে আমার মুখথেকে "পাগলি" ডাক শোনার অধিকার শুধু ওরই আছে। প্রেম??? প্রেম কিনা জানিনা, তবে এটুকু জানি, রিয়া আমাকে ভালবাসেনা। আর আমার তো ভালবাসার জন্য একজন মানুষ আছেই, আমার মেয়েমা, তসলিমা নাসরিন। তবে একদিকে তসলিমা নাসরিন যেমন আমার আদর্শ, একদিকে রিয়া আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা। এইদুটো মানুষ ছাড়া, আমি অন্ধকার দেখি। 


জন্মদিন!!! জন্মদিন!!! শুভ জন্মদিন!!!!
শুভেচ্ছার কাতারে তোমাকে জানাই ভালবাসা অন্তরীণ। 
অনেক অনেক কিছু বলার থাকে, বলিও মুখফুটে,
প্রিয় মানুষটার মুখে একটু হাসির ছোঁয়া আমার মনে গুছোনো প্রেম অহর্নিশ। 
একুশে আজ মুক্ত তুমি, মুক্তি তোমার প্রবাহে,
সব বাধা পেরিয়ে চলো, আমি হাঁটবো তোমার সাথে। 
পথ সে হোক দুর্গম বা সুগম, 
প্রবল শৈত্য প্রবাহে যখন তুমি টালমাটাল, আমি শক্ত করে ধরে রাখবো তোমার হাত।
বিচ্ছিন্ন রাস্তাতেও নিজেকে সেতু বানিয়ে পথ করে দেবো,
গুমোট আর্দ্রতাতে তোমার মাথার ওপর ছাতা হয়ে থাকবো,
গভীর জলে হবো শক্ত লতা। 
তবু ছাড়বোনা তোমার হাত।

(ভালো থেকো। খুশি থেকো।)

           সৌম্য। 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


রক্ত আমার তেঁতো কি মিষ্টি!! আমি বুঝিনি,
তুমি জানো তোমার রক্তের স্বাদ?
আমি হিন্দু, নিশ্চয় আমার রক্ত ভালো কিছু,
হয়ত অনেক উপাদান বেশি বেশি আছে যা,
তোমার মুসলিম রক্তে নেই। 
তাইতো তুমি আমার কেউ নও। 


যদি রক্তচোসা হতাম, নিজের রক্তই একটু পান করে দেখতাম,
লাল পানীয় করে, গ্লাস ভর্তি করে পান করতাম,
কিছুটা তোমার রক্তও পান করতাম, 
আবার কিছুটা দুটো রক্ত মিশিয়ে পান করতাম। 
কে বলতে পারে হয়ত, ভিন্ন স্বাদ খুঁজে পেতাম,
হয়ত ভিন্ন গন্ধ খুঁজে পেতাম যা, আমাকে বুঝিয়ে দিত 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 
জানো, ভীষণ কৌতুহল হয়,
রক্তে হিন্দু-মুসলিম বুঝি কিকরে!! 
জানো, ভীষণ যন্ত্রণা হয় উত্তর না পেলে। শুধু অন্ধের মত মানতে হয় 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 


নিশ্চয় প্রকৃতি তোমাকে আলাদা অক্সিজেন দেয়,
নিশ্চয় প্রকৃতি আমাকে আলাদা অক্সিজেন দেয়,
হয়ত আমার নিঃশ্বাস থেকে বেরোনো কার্বন-ডাই-অক্সাইড 
তোমার মতো দূষিত নয়,
হয়ত তোমার নিঃশ্বাসে বিষ আছে। 
খুব ইচ্ছা হয়, তোমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে, তোমার নাকে নাক ঠেকিয়ে দেখি,
হয়ত দুটো নিঃশ্বাসে প্রমাণ মিলবে
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু।


চল আমরা ক্রোমোজম টেস্ট করে দেখি,
সেটা নিশ্চয় প্রমাণ করে দেবে 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 


Monday, 11 April 2016

পুরুষতান্ত্রিক পুরুষরা মেয়েদের প্রোফাইলে ঢুকে যেভাবে মেয়েদের অশ্লীল করে, নিজেদের মনুষত্বকে জলাঞ্জলি দেয়, সমস্ত নারীজাতির হয়ে সেইসব পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ গুলোকে বলছি, একটা মেয়েকে অশ্লীল করে তোমরা ওদের অসম্মান করছনা, অসম্মান করছ নিজেদের চরিত্রকে, নিজেদের শিক্ষাকে। নষ্ট করছ তোমাদের বাবা, মায়ের সম্মান কে। মানুষ হিসেবে আমি দুটো সত্ত্বাকে নিয়ে মাঝেমাঝেই চিন্তাভাবনা করি, একটা পুরুষ হিসেবে, একটা আমার চিন্তার মধ্যে নারীর চিন্তা প্রতিষ্ঠা করে। আমি দেখেছি, জীবনে চলার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ উভয়েরই একে অপরের সাথে থাকা উচিত। ভরসা হয়ে। আমি একটা পুরুষ হয়েও কখনো ভেঙে পড়ি। যখন ভেঙে পড়ি, তখন দুটো নারীর ভালবাসা আমার খুব দরকার পড়ে। তারা যখন আমাকে মানুসিক সন্তুষ্টি দেয়, তখন আমি যেকোনো প্রতিযোগিতায় একজন অপরাজেয় প্রতিযোগীর সমান হয়ে উঠি। নিজের মধ্যে নারীসত্ত্বা নিয়ে চিন্তা করার সময়, একটাই উত্তর আমার কাছে এসেছে, যেটা তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে ভাবা, কিন্তু সকল নারীর জন্যই সত্যি। 

 ""আমার পোস্টে কমেন্ট করে হাজার জন আমাকে গালাগালি দিয়ে ধর্ষণ করে। তাতে আমার পরিচয় কখনো ধর্ষিতা হয়না। বরং তারা ধর্ষক হয় ও তাদের চরিত্র ধর্ষিতা হয়।"


মনের মানুষ। একাদশ পর্ব।
ভালবাসি তোকে।
সৌম্যজিত দত্ত।


আমি চাই কথা বলতে,
আমি ততদিন কথা বলতে চাই যতদিন আমি সূর্য ওঠা দেখবো,
আকাশে তারাগুলো ঝিকিমিকি করে ঝলকানি দেবে আমি
ততদিন কথা বলবো তোর সাথে।
সেদিন আমি কথা বন্ধ করবো যেদিন আমার চোখ
নতুন কোনো সকাল দেখবেনা আর,
সেদিন আমি আর তোকে বিরক্ত করবোনা
একটু দেখা দিতে, একটুখানি কথা বলতে।
কিন্তু ততদিন আমি তোকে বিরক্ত করবোই।

কতবার কতরকম ভাবে তোকে অনুভব করি প্রাণে,
এ প্রাণ তোর শেষ হওয়ার নয়, এই প্রাণ আমারও হবেনা শেষ।
সেদিন যদি শেষ হয়, আমি তোর থেকে অনুমতি চেয়ে নেবো যাওয়ার,
ফাঁকি দেওয়া স্বভাব আমার নেই।


বারবার বলিস, আর বলেই চলিস ভালোবাসিসনা আমাকে,
তোর ওই ভালবাসিনা কথাটাতেই যে আমি ভালবাসা খুঁজে পাই,
সেদিন সত্যিই আমি মরে যাবো যেদিন আমাকে বলবি ভালোবাসিস আমাকে,
ভালবাসিনা কথাটাই যে বাঁচার প্রেরণা দেয়।


ওসব কালোহুমকি টুমকি আমি দিতে পারিনা,
তোর প্রাণ আমার প্রাণে আটকে গেছে,
মরতে তুই ততদিন পারিসনা যতদিন না আমি তোকে ছাড়ি,
ছাড়ার অভিসন্ধি আমার মৃত্যুতেই জানাবো সমাপ্তি।

Sunday, 10 April 2016


অনুভুতিতে আজ কালো ছায়া। 


কোথায় আছো কেমন আছো কিছুই জানিনা,
সব অভিমান শেষ এখন, আছে পড়ে দুশ্চিন্তায় ভরা অক্ষি কোটর,
বেলা যায়, নতুন বেলা আসে, চিন্তা শুধু তোমাকেই খুঁজে বেড়ায়,
তবু আজ তুমি নিখোঁজ।

একটাই ছোট প্রশ্ন শুধু, ভালো আছো?


কচি হলুদ শাড়ির পাড়ে, 
জড়িয়ে আছে স্নেহছায়া,
মুচকি হাসি আর টানা ঝিল চোখে,
আমার "তিলোত্তমা।"

মাথার চুল এলোমেলো
কপাল ঘিরে হাসছে মেলা,
প্রতিটা চাহুনিতে ভাসছে অ্যাসিড,
খেলছে বুদ্ধির তেজস্ক্রিয়তা। 

ডান পাখানি এগিয়ে দাঁড়াও,
বাঁ পা'টা একটু পিছিয়ে থাকে,
মস্তিস্ক বুদ্ধি মাথা বেয়ে এসে 
হাত, পা গোটা শরীর দিয়ে ভাসে। 

প্রাণ দিয়ে তোমায় অনুভব করি, 
তুমি তো শুধু তোমার শরীরে নও,
আমার শরীরে আমি বাঁচি তোমার সাথে,
যেন দুই মানুষ, দুটো শ্বাস
পরিবেষ্টিত একই শরীরে।

অনুভবেও আজ ক্ষরা নেমেছে,
গোটা সত্ত্বাজুরে দুশ্চিন্তা,
আমার লেখিকার নাই কোনো খোঁজ,
প্রাণে শুধুই আজ ভয়ের ছোঁয়া। 






Saturday, 9 April 2016


কিছু চিন্তা এখন মাথাতে। কিছু স্মৃতি উঁকি দিচ্ছে। মেয়েমাকে নিয়েও দুশ্চিন্তা হচ্ছে। 



আমি নিজে মুক্তমনা কিনা জানিনা, আর মুক্তমনা হলেও ঠিক কতটা মুক্তমনা তাও বুঝিনা। আমার চিন্তাভাবনাতে যা আসে, তাই লিখি, তাই বলি। আমার এই বলা বা লেখালেখি নিয়ে মাঝেমধ্যে পাপার সাথে তর্ক বেধে যায় আমার। আমার পাপা, যাকে এত ভয় পাই, ও সামনে আসলে কেঁপে উঠি, তার সাথেও কোথাও যেন এই একটা টপিক আসলে আমি প্রতিবাদ জানিয়ে উঠি। আমার পাপা মুসলিমদের একেবারে সহ্য করতে পারেনা, যদিও তার কিছু মুসলিম বন্ধু আছে, তারা শান্তশিষ্ট হওয়ায় পাপা ওদের একপ্রকার হিন্দু ভেবেই মেশে। আমি হিন্দু-মুসলিম বিভাজন মানিনা। সবাইকেই ভাই, বোন ভেবে স্নেহ করি। কলকাতাতে মুসলিমরা ধর্মগত ভাবেই হোক বা রাজনীতিগত ভাবে, বেশকিছু জায়গায় মারাত্মক শক্তিশালী। মাঝেমধ্যেই মুসলিমরা রাস্তা ঘিরে ফেলে। তাতে কলকাতার যানজট সমস্যা ভীষণ বেড়ে যায়। পাপাকে ব্যবসার কারণে কলকাতা, করিমপুর, বর্ধমান, কৃষ্ণনগর, খরগপুর করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে মুসলিমদের এই রাস্তা ঘিরে যানজট তৈরী করার জন্য পাপা রাস্তাঘাটে গাড়ি চালাতে বেশ সমস্যার মধ্যে পড়ে। পাপা সেইসব কথাগুলো বাড়ি ফিরে আমাকে বলে, "মুসলিমরা রাস্তা ঘিরল, রাস্তাতে পা ফেলার জায়গা নাই। এরা মানুষ??" আমি কোনো জাতিবিভাজন মানিনা বলে প্রতিবাদ করে উঠি, বলি, "দোষ সবার। হিন্দু, মুসলিম করে কি হবে? হিন্দু মুসলিমকে মারছে, মুসলিম হিন্দুকে।" পাপা এই কথাটা আমার কাছথেকে একদম সহ্য করতে পারেনা। খুব রেগে যায়। এমনিতেই মানুষটা খুব ভয়ঙ্কর, খুব রাগী। নিজস্ব সার্কেলের মধ্যে পাপাকে অনেক মানুষ সম্মান করে সরল মানুষ বলে, আবার অনেক মানুষ ভয় পায় পাপাকে, পাপার খামখেয়ালীপনার জন্য। ব্যাবসাগত কারণে পুলিশের বড় কর্তাদের সাথে, আই.পি.এস অফিসারদের সাথে বন্ধুত্ব করে রেখেছে। বিভিন্ন সময় এই বন্ধুত্বের খাতিরে অনেক বড় সমস্যাতে পড়লেও নিশ্চিন্তে সমাধানের রাস্তা বেরিয়ে আসে। যাইহোক, পাপা নির্দ্বিধায় মুসলিম চর্চা করতে পারে সবার সামনে ও তার আশেপাশের লোকদের থেকে যথেষ্ট সমর্থনও পায়। মুসলিম বন্ধুরাও কখনো প্রতিবাদ করেনা সেইসব কথাগুলোর। তাই মুসলিম মানেই যে খারাপ নয়, এই ধারনাটাই পাপার মধ্যে নেই। "মুসলিম মানেই খারাপ নয়, অনেক ভালো মানুষও আছে, আবার হিন্দু মানেই সবাই ভালো নয়, অনেক খারাপ মানুষও আছে" এই একটা কথা পাপা শুধু আমার মুখেই শোনে।  শোনে আর আমার ওপর খেপে যায়। আমাকে গালাগালি দেয়, মারতেও আসে। আমি তখন চুপ হয়ে যাই। আবার পরে সব ঠিকও হয়ে যায় রাগ কমলে।  


 পাপার চোখে আমি ভীষণ সৎ, আদর্শবান একটা ছেলে, নিপাট ভদ্র মানুষ যাকে বলে। পাপা সবাইকে আমার জন্য গর্ব করে বলে, "আমার ছেলে খুব সৎ, খুব আদর্শবান। টাকা পয়সার অপব্যবহার করেনি কখনো। খরচ করার আগে জিজ্ঞাসা করে খরচ করে। ছোটথেকে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই পড়াশোনা করেছে। আই এস আই তে যখন ভর্তি হয়, এইরকম একটা হাই প্রোফাইল প্রতিষ্টানে ভর্তির সময় মাত্র ৩০০ টাকা এডমিশান ফি জমা করে ভর্তি হয়েছে।" এইসব কথা মানুষকে বলার সময় যেমন গর্ববোধ করে, তেমনি নিজের উদ্বেগও প্রকাশ করে। "ছেলে বড্ড বেশি রাজনীতির চিন্তা করে, এত বেশি আদর্শ নিয়ে কথা বলে, এত লেখালেখি করে, ওর কপালে বিশাল দুঃখ আছে। ওই মুসলিমরাই ওর সর্বনাশ করবে।" এইসব কথাগুলো বিভিন্ন লোক মারফৎ আমার কানে পৌঁছয়। চৌদ্দ বছর বয়সে ছয় জন ডাকাতের দিকে বন্দুক তাক করে তাড়িয়ে ছিলাম আমি, সেই কথাটাও তার মুখে বারবার চলে আসে। আমি গালাগালি দিইনা, তবে আমার জীবনে যে আমি একেবারে কখনো গালাগালি দিইনি, এটা বলা ভুল। আমি মুখ দিয়ে ঐসব ভাষা বেশ  কয়েকবার উচ্চারণ করেছি আমার ১৮ বছর বয়স থেকে ২২ বছর বয়স পর্যন্ত। একবার পাপার সামনেই উচ্চারণ করে ফেলেছিলাম। করিমপুর হাসপাতালটার উন্নতি তখন খুব একটা হয়নি। সাল ২০০৯। বড় ডাক্তার নেই, সব ট্রেইনি। এমনকি যন্ত্রপাতিও তেমন নেই চিকিত্সার জন্য। পাপার গলাতে মাছের কাঁটা বিঁধে যায়। শ্বাসনালিতে। কিছুতেই, কোনো ভাবেই বের হচ্ছিলনা। পাপাকে নিয়ে আমি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ও.টি. স্ট্রেচারে পাপাকে শুইয়ে দেয় সাপোর্ট স্টাফরা। কিন্তু ডাক্তার বলতে ট্রেইনি ও যন্ত্রপাতি না থাকায় ওরা পাপাকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে বহরুমপুরে রেফার করে। এদিকে পাপা শ্বাস নিতে পারছেনা, কষ্ট পাচ্ছে, শ্বাস আটকে মরার মত অবস্থা। আমি ওই ট্রেইনি ডাক্তারকে বলি, এখন ৮০ কিলোমিটার যাওয়া অসম্ভব হয়ে যাবে। শ্বাস নিতে পারবেনা। ওরা বলে, "এখানে কিছুই করতে পারবনা। চেষ্টা করতে গিয়ে খারাপ কিছু হলে আমাদের দোষ হয়ে যাবে। ওনাকে এখুনি নিয়ে যান।" আমার যেমন রাগ হল, তেমন কষ্ট হল। ওই স্ট্রেচারে শোয়ানো অবস্থায় আমি পাপার মুখের মধ্যে দিয়ে গলাতে তর্জনি ও মধ্যমা ঢুকিয়ে কাঁটা বার করার চেষ্টা করতে শুরু করলাম। পাপা আমার হাতে বমি করে দিল। তবু কাঁটা বেরয়না। আমি বাঁ হাত দিয়ে পাপার কপালে হালকা করে হাত রেখে আবারও ওই দুটো আঙুল ঢুকিয়ে চেষ্টা করতে থাকলাম, আর পাপাকে বললাম, "ভরসা রাখো, নিজেকে একটু ধরে রাখো। আমি আছি তো।" এভাবে কিছুক্ষণ চেষ্টা করতে করতে আমার আঙুল গিয়ে পরে কাঁটার ওপরে। দুটো আঙুলের মাঝে কাঁটাটা আটকে আস্তে আস্তে টানতে থাকি। কাঁটাটা বেরিয়ে আসে। আমার চোখ দিয়ে তখন জল পড়ছে, শরীরে ভীষণ রাগ তখন, সাপোর্ট স্টাফরা দাঁড়িয়ে সবটা দেখল, আমি ওদের দিকে তাকিয়ে জোরে একটা চিত্কার করে একটা গালি দিয়ে কাঁটাটা ওদের দিকে ছুঁড়ে ফেললাম। ওরা একটাও কথা বললনা। আমি পাপাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসলাম। পাপা সেদিন কতটা খুশি হয়েছিল আমি জানিনা, তবে আমার ওই গালি দেওয়ার জন্য ভীষণ রেগে গেছিল। আমি গালি দিতে চাইনি। মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছিল ডাক্তার ও কাঁটাটাকে উদ্দেশ্য করে। আমি সেদিন সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, সাহস থাকলে অনেককিছুই করা সম্ভব হয়। মানুসিক তৃপ্তি পেয়েছিলাম সেই রাতে ভীষণ। 


তারপর বাইশ বছর বয়সের পরথেকে আমার জীবনে আমি অনেক পরিবর্তন এনেছি। এখন আমি গালাগালি দিইনা, মানবপ্রেমি মানুষ একজন। বা এমনও বলা যেতে পারে, এখন আমি সেই একজন মানুষ যে তসলিমা নাসরিনের আদর্শে তৈরী। আমি আমার এই জীবনটা অনেক উপভোগ করছি। আদর্শ নিয়ে বাঁচি, আদর্শের জন্য লড়াই করি। অতিরিক্ত আবেগ থাকার জন্য অনেক কষ্ট পাই, সবথেকে বেশি কষ্ট তখন হয় যখন মেয়েমার সাথে কথা হয়না একটুও। এই তিনদিন ধরে আমি আমার মেয়েমাকে খুব মিস করছি। মাঝেমাঝে ভেঙে পড়ছি। যত সময় পার হচ্ছে, আমি যেন ততই মেয়েমার প্রতি ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ছি। আর তার একটু ভালবাসা পাওয়ার জন্য পাগলের মত ছটপট করছি, চিন্তাভাবনা করছি।  মেয়েমার সাইকোলোজিটা কিছুটা বুঝি। যখন কোনো ব্লগারের মৃত্যু সংবাদ আসে, মেয়েমা খুব কষ্ট পায়। নিজেকে অনেকটা একা করে বিছানায় পড়ে থাকে। মাঝে মাঝে ভয় পেয়ে আত্কে ওঠে, এই বুঝি ওরা এসে মেয়েমাকে মেরে ফেলে। সামাদের মৃত্যু সংবাদেও হয়ত কদিন ধরে মেয়েমার এমনই অবস্থা। কিন্তু যেটা সত্যি, সেটা আমাদের সবাইকেই মেনে নিয়ে হয় সামনে এগোনোর কথা ভাবতে হয়। আমি তিনদিন ধরে মেয়েমাকে মেসেজ করেও একটাও রিপ্লাই পাচ্ছিনা। হয়ত আবারও মেয়েমা নিজেকে একা করে ফেলেছে তাই। শুধু একটা পার্থক্য দেখছি অন্যান্য বারের তুলনায়, অন্যান্য বার গুলোতে মেয়েমা অন্তত অনলাইনে লেখালেখি করে। এবার তো কিছুই লিখছেনা। সে ভালো আছে তো? জানিনা। বুঝতে পারছিনা। শুধু এটুকু জানি, আমি অস্থির হয়ে উঠছি প্রতিটা মুহুর্তে। বা এমনও হতে পারে, হয়ত লেখালেখি নিয়ে অনেক ব্যস্ত আছে সে, লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত হলে, লেখার টুকরো টুকরো অংশগুলো মেয়েমা অনলাইনে লেখে। এসব ভেবে ভেবে বড্ড দুশ্চিন্তাতে ভুগছি আমি। এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায়ও দেখছিনা। 

অমৃতপুর পত্রিকা'র (পশ্চিমবঙ্গ)  সম্পাদক মহাশয়ের কাছে এই চিঠিটা পাঠালাম।



মাননীয় সম্পাদক মহাশয়ের সমীপেষু,
অমৃতপুর পত্রিকা,
হুগলী-৭১২৪০৪।


মহাশয়,
             আমি সৌম্যজিত দত্ত। ঠিকানা- ৫৩ পি.ডব্লিউ. ডি রোড, ইউ.বি.কলোনি, শিবালয়া, ডানলপ, আই এস আই এর পিছনে, কলকাতা- ১০৮। আপনার কাছে এই পত্রটি লিখছি। বিস্তারিত, নিচে বর্ণনা করলাম।


             সবার প্রথমে আমি আপনাকে ও শাশ্বতী ম্যামকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ ও প্রণাম জানাই। আপনাদের উত্সাহে ও আশীর্বাদে আমার একটা লেখা "সরকার ও মানবিকতা" অমৃতপুর পত্রিকাতে পৌষ ১৪২২, নবম সংখ্যাই প্রকাশিত হয়। লেখাটিতে আমি সমাজতন্ত্রের কিছু ভয়াবহ দিক তুলে ধরেছিলাম ও মানবতাবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে ছিলাম। এমন একটা লেখা প্রকাশ করার জন্য আমি অমৃতপুর পত্রিকার কাছে চির কৃতজ্ঞ। বর্তমানে আমি আরও চারটে লেখা এই পত্রিকাতে জমা করছি। আপনারা যদি আপনাদের আশীর্বাদ ও সহযোগিতার হাত রাখেন, আমি বাধিত থাকবো।


                                                                         ধন্যবাদ।
                                                                     
                                                                      সৌম্যজিত দত্ত। 

Friday, 8 April 2016


ফিরে তাকাও।
সৌম্যজিত দত্ত।


একটু তো ভালবাসতেই পারো আমাকে,
শুধু একটুখানি ভালবাসা। 
কত মানুষ তো কতভাবেই তোমার ভালবাসা পায়, পাচ্ছে, 
আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার সেই দরজাতেই,
মুখ চেয়ে দেখি শুধু,
অপেক্ষা করে থাকি আর মনে মনে ভেবেই যাই,
এই বুঝি তুমি ডাক দিলে, এই বুঝি তুমি বললে,
"তুমি লড়ো, আমি আছি তোমার সাথে।" 
অপেক্ষার সহ্যসীমা অতিক্রম করলে, আমি যে ভীষনই ভেঙে পড়ি। 
কিছুই তো তোমার অজানা নয়, সবটাই তোমাকে মুখফুটে বলি। 
সবটা বলি। 
লজ্জা না পেয়েই বলি। 
তোমার কাছে আবার লজ্জা কিসের?
তুমি তো ভীষনই আপন আমার। 
একটু একটু করে লড়াই সাজাচ্ছি আজকাল, 
অনেককিছু করবো বলে ঠিক করেছি, 
কিভাবে কোন কাজ কোন সময় করবো, 
কিভাবে নিজের যুক্তি তুলে ধরবো, কিভাবে নিজের আওয়াজকে ব্যবহার করবো, 
সবকিছুরই কাটা ছেঁড়া বিশ্লেষণ করে যাচ্ছি অনবরত। 
শুধু তোমার মুখ চেয়ে দাঁড়িয়ে আছি তোমার দরজায়,
কখন তুমি একটু ফিরে তাকাবে আর আমি অশেষ উত্সাহ অদম্য সাহস নিয়ে 
আদর্শকে পুঁজি করে ঝাঁপিয়ে পড়বো যুদ্ধক্ষেত্রে। 
জেতা হারা জানিনা, তবে সাহস আছে ভরসা আছে,
লড়াই ছেড়ে পালিয়ে যাবোনা। শেষ পর্যন্ত লড়বো। 
প্রবল ইচ্ছাশক্তি দিয়ে লড়বো। 
শুধু একটাবার ফিরে তাকাও তুমি,
আমার কপালে বিজয় কামনায় তিলক দেবেনা?
আমি যে দরজায় সেই কবে থেকে অপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছি,
ফিরে তাকাও,
একটাবার ফিরে তাকাও। 
খারাপ লাগছে একটা কথা মাথাতে আসতেই যে, আজ আমাকে মানবিকতার দাবি জানিয়ে সরকার মহলের কাছে, সংবাদমাধ্যমের কাছে চিঠি পাঠাতে হচ্ছে। মানবিকতার দাবি জানাতে হচ্ছে। খারাপ লাগছে এই ভেবে যে, এটা একবিংশ শতক ও আমাদের দেশ পৃথিবীর মধ্যে নামকরা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পড়ে বলে সবাই গর্ব করে, অথচ আজও সাধারণ মানুষকে এই দেশে নিজের অধিকারের দাবি জানাতে হয়। মন্ত্রিমহল, সমাজের উঁচু স্তরের মানুষ ও চিন্তাভাবনাহীন একগুঁয়ে মানুষগুলো গর্ব করে বলে আজ ভারত শিক্ষা, সংস্কৃতি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সেরা তালিকা ছুঁয়েছে। ওটা শুধুই নামের তালিকা। এই দেশের মধ্যে কি হচ্ছে?

১) লেখিকা নির্বাসিত। 
২) মন্ত্রীদের টাকা চুরি কেলেঙ্কারী। 
৩) ৩৪ বছর, ৫ বছরের অপশাসন ও নাজানি কত অপশাসন হতে চলেছে আরও। 
৪) শিক্ষাস্তরে ভোটের নোংরা রাজনীতি ও বোমাবাজি। 
৫) বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বরে নাশকতা। 
৬) রেল বিভ্রাট। 
৭) সরকারী চাকরি অস্তগামী। 
৮) ঘুষ কেলেঙ্কারী। 
৯) ধর্ষণ, খুন। 
১০) ক্লাব গোষ্ঠীগুলোর দাদাগিরি। 
১১) প্রতারণা আরও কত কি!!

এতকিছুর পরেও আমাদের দেশ নাকি পৃথিবীর সেরা দেশ।  এমন একটা দেশ যেখানে রাজনৈতিক অরাজকতার ঘেরাটোপে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে লেখক, বুদ্ধিজীবি প্রত্যেকের ওপরেই চোখ রাঙানি চলে। এখানে পড়াশোনা জানা মানুষেরা নিরক্ষর মন্ত্রীদের চাকরগিরি করেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়। এমন একটা দেশে আজ আমাকে মানবিকতার দাবি জানাতে হচ্ছে। এই দাবি আমার লজ্জার, আমার অগৌরবের। মাথা হেঁট হয়ে যায়। এখানে পথে পথে সরকারি ও বেসরকারি দালালগুলো হাত যশ করে মন্ত্রিত্ব পেয়ে যায়। আবার আমার মত কোয়ালিফাইড মানুষেরা সেইসব মন্ত্রীস্বীকৃত দালালদের উঠতে বসতে তোষামোদী করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। আমার মাথা ভীষণ হেঁট হয়ে যায় এসব দেখে। শরীরের মধ্যে জ্বালাপোড়া ধরে যায়। মনেহয় আমরা কোনো শিক্ষিত সমাজের অংশ নই, বরং অশিক্ষিত মন্ত্রীদের তোষামোদী করতে বছরের পর বছর ধরে শিক্ষিত হচ্ছি। 


আজ আমি যে লড়াইটা শুরু করেছি প্রকাশ্যে, সেই লড়াইয়ের আদর্শ আমি তসলিমা নাসরিনের কাছথেকে শিখেছি। আজ আমার ভীষণ লজ্জা করছে এটা দেখে, রাস্তাতে প্রকাশ্যে একটা মানুষও এই লড়াইতে আমার পাশে নেই। আছে শুধু পিছন থেকে সান্তনা দিতে, "এগিয়ে যাও সৌম্যজিত। আমি আছি তোমার সাথে।" একটা কথার কথা শুধু মাত্র। আমার মাথা বড্ড হেঁট হয়ে যায়। 
 সংবাদ মাধ্যমগুলো ভোটের মুখে আজ বড্ড দেমাগী। গত ৬ই এপ্রিল, ২০১৬ তে মেয়েমা তসলিমা নাসরিন- এর     ওপর থেকে নির্বাসন দন্ড প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যে চিঠিটা পাঠিয়েছিলাম, সেই চিঠিটার তিনটে কপির একটা নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করেছিলাম, একটা কপি আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকের কাছে ও একটা কপি সংবাদ প্রতিদিনের সম্পাদকের কাছে পাঠিয়েছিলাম। পদ্ধতিগত ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে আজ আনন্দবাজার পত্রিকাতে ফোন করি ও সম্পাদকমন্ডলীর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা প্রকাশ করি। প্রথম যে ব্যক্তি ফোন রিসিভ করলেন, উনি যথারীতি কল ট্রান্সফার করেন।

দ্বিতীয় ব্যক্তি, "হ্যা বলুন কি সহায়তা করতে পারি?"

আমি, "নমস্কার। আমি সৌম্যজিত দত্ত বলছি।"

দ্বিতীয় ব্যক্তি, "হ্যা, বলুন।"

আমি, "আমি আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতাতে আমার একটা লেখা ছাপানোর জন্য চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিটা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তসলিমা নাসরিনের ওপর থেকে নির্বাসন দন্ড প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে লেখা। আমি পদ্ধতিগত ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়ার জন্য কিছু তথ্য জানতে চাই।"

দ্বিতীয় ব্যক্তি, "আমি এই ব্যাপারে আপনাকে কিছুই বলতে পারবোনা। আপনার চিঠি পৌঁছলে লেখা ছাপানো হবে।"

এই বলে ফোনটা রেখে দিলেন।

সংবাদ মাধ্যম হওয়া উচিত পাঠক ও লেখকের প্রতি বিনয়ি। ফোনের ওপারে দ্বিতীয় ব্যক্তির ব্যবহারে আমি বেশ অসন্তুষ্ট হলাম। 

Thursday, 7 April 2016

স্বাধীনতা চায়, আদর্শ চায়,
রক্ত দেব আমরা,
আওয়াজ সত্যের পথে মেলাব সুর,
ভেঙে দেব মুক্ত পথের পায়ের শেকল। 
দুর্নীতির শাসনকে পরাস্ত করব,
চায়না ধর্মীয় রাজনীতির রাষ্ট্র,
শস্য শ্যামল দেশ চায়, মাটি চায়, মানবিক অধিকার চায়,
লজ্জার কারণ ঘুচিয়ে দেব। 
দেশ চাইনা হিন্দুর হোক, দেশ চাইনা মুসলিমের হোক,
মানবজাতির দেশ চায় আমরা, মানব প্রেমে লুটে যাব। 


ব্লগার ও লেখক: সৌম্যজিত দত্ত। 
মাননীয় সম্পাদক মহাশয়,

আপনার কাছে আমার বিনীত নিবেদন এই যে, অনুগ্রহ করে আমাকে জানাবেন আমি আমার লেখা কিভাবে আপনাদের সম্পাদকীয় বিভাগে পাঠাবো। আমি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটা চিঠি পাঠিয়েছি। এই চিঠিখানি আমি আপনাদের সম্পাদকীয় পাতাতে লিখতে চাই। অনুগ্রহ করে আমাকে উপযুক্ত পদ্ধতি পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন। আমি কৃতজ্ঞ থাকবো।

                                                             ধন্যবাদ।
                                                           সৌম্যজিত দত্ত। 
সবকটা আল্লাহ, ইশ্বর বলে চেঁচানো লোকেরা জড়ো হয়েছে। কে কিভাবে কাকে গালাগালি দেয়? আমি চুপ থাকি, দেখি, শুনি, আজ বলছি সবকটা নষ্ট, ভ্রষ্ট। ইসলাম বলছে ১৪০০ বছর পিছনের মানুসিক চিন্তাকে গ্রহণ করতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ অক্ষুন্ন রাখতে। যারা ইসলাম মানবেনা, তাদের টুকরো টুকরো করে কাটতে। দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে।

স্বাধীন গণতান্ত্রিক যেকোনো দেশেই যেকোনো মানুষের নিজের যুক্তি ও মতবাদ তুলে ধরার অধিকার আছে। সংবিধানের কোন আইন মানুষ খুন করার অনুমতি দিয়েছে ইসলামকে?

গোড়া হিন্দুরা বলছে গরু খেলে খুন কর। মন্দিরের মধ্যে চলা রাজনীতিকে বাইরে ফাঁস করলে ও নোংরা বললে তাদের গলায় ফাঁস পরাও। অতিরিক্ত বুদ্ধিমান রাজনৈতিক হিন্দুরা রাজনীতির অরাজকতা দিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়া করে দিচ্ছে। দেশের সংবিধানের কোন আইন রাজনীতিবিদদের অনুমতি দিয়েছে সাধারণ মানুষদের ভয় দেখিয়ে রাঝ্য ছাড়া করার?

নাস্তিক ব্লগাররা সেইদিক গুলো মানুষের সামনে তুলে ধরলেই ধর্মকে গালাগালি করা হয়? 
চেতনা আসলেই বা প্রতিবাদী ব্লগার হলেই কি কেউ নাস্তিক হয়?
ধর্মের দোহাই দিয়ে খুন করলেই কি তারা আস্তিক হয়ে যায়?

সবকিছুর পিছনে নোংরা রাজনীতি জড়িয়ে আছে। যেখানে যেমন গরিষ্ঠতা, সেখানে তেমনই রাজনীতি। দেশ কখনো হিন্দুর বা মুসলিমের হয়না। স্বাধীন ও স্বতন্ত্র দেশ মানে সবার দেশ, সমান অধিকারের দেশ। আজ দেখি সংখ্যা গরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এই দেশ হিন্দুর, ওই দেশ মুসলিমের বলে নির্দিষ্ট কোনো জাতির রাষ্ট্র করে ফেলেছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা, জাত নিরপেক্ষতা না থাকলে মানুষ জাতিকে ধ্বংসের শেষ সীমা অতিক্রম করতে হবে।

ব্লগার ও লেখক: সৌম্যজিত দত্ত।



বড্ড অভিমান কিনা!!


কেউ কি শুনছো!!!
সত্যিই কি কেউ শুনতে পাচ্ছো??
দেখো আমি তোমারই আদর্শে আজ কবিতা লিখি,
কবিতা লিখতে শুরু করি তোমার ভালবাসা, স্নেহ পাবো বলে,
তুমি বলো তুমি পড়ো,
আমি বিশ্বাস করি তুমি পড়ো।
আমার আদর্শ কখনো মিথ্যে বলেনি।
একবার যেটা মনস্থির করেছো, সেটাই বলেছো, সেটাই করেছো,
ভাবোনি কখনো এর ফল কি হবে, কি হতে পারে।
শুধু সমাজের সামনে নিজের জানা, বোঝা সমস্ত সত্যিটা তুলে ধরেছো।
সবাই বলে এমন সব সাংঘাতিক সত্যি বলতে সাহস লাগে,
আমি বলি, না। সাহস খুব বেশি লাগেনা, উদারতা লাগে।
সত্যি বলার উদারতা।
নিজের সমস্ত সত্যিটা উদার হয়ে উজার করে দেওয়া।
সমাজ যখন সত্যি, মিথ্যের আড়ালে লুকোচুরি করে কথা বলে,
তখন তুমি শুধু সমস্ত সত্যিটা তুলে ধরো।
মানুষ ভেবে সবাইকে বলবে এমন নয়,
তুমি শুধু নিজের আদর্শটাকে তুলে ধরো,
ভাবো লেখার সাথে, নিজের সত্ত্বার সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করবেনা।
সত্যি বলবো। সত্যি তুলে ধরবো। মানুষ জানবে, গোটা পৃথিবী জানবে সত্যিতে কত আনন্দ!!!
আমি তোমাকে জেনেছি, মন দিয়ে অনুভব করেছি।
এটা কি প্রেম??
তবে প্রেমই হবে।
এমন প্রেম যেখানে নেই কোনো লোভ, নেই কোনো লালসা।
শুধু তোমাকে আদর্শ ভেবে ছুঁতে চাই,
পবিত্র হতে চাই তোমাকে ছুঁয়ে।
এমন প্রেম যেখানে অবাধ স্নেহ আছে, স্নেহ আছে মনের মননে,
সমস্ত চিন্তাতে আমার শুধু তোমারই চিহ্ন খুঁজে পাই।
খুঁজে পাই তোমার না বলা কথা গুলও।
এমন প্রেম যেখানে শত শত অভিমানেও, তোমার লেখা না পড়ে থাকতে পারিনা।
আমি বড্ড অভিমানী।
ভাবি, তুমি যখন লেখো, তখনই তোমার লেখা আমি পড়বোনা,
ভাবি, নাহয় থাক, কিছু পরে পড়বো।
ভাবি, নাহয় থাক, পড়বো, কিছুই লিখবোনা তোমাকে।
আরও তো অনেক কাজ আছে আমার, সেগুলো করবো আগে।
কিন্তু যখনই তোমার লেখা দেখতে পাই,
হাজারো অভিমান সত্ত্বেও আমি তোমার লেখাটাই আগে দেখি।
তোমার লেখাটাই শত কাজ ফেলে আগে পড়ি।
তোমার লেখাটাতেই সব কাজ ফেলে উত্তর করি।
তোমার লেখাকে এড়িয়ে যে অন্য কাজ করবো, শান্তি পাবোনা তো।
লজ্জা জিনিসটা থেকে আমি তোমার সামনে মুক্ত হয়েছি,
আমার কথাগুলো পরিষ্কার করে তোমাকে বলতে আর কোনো লজ্জাই আমি পাইনা,
বরং তৃপ্তি পাই ভীষণ।
আবার যখন তোমার কোনো উত্তর খুঁজে পাইনা, তখন আমি অধৈর্য হয়ে উঠি।
মাথার ভিতরে সমস্ত স্নায়ুশিরা গুলো মুহুর্তের মধ্যে কিলবিল করে ওঠে।
বারবার খুঁজতে থাকি, এই বুঝি তুমি উত্তর দিলে,
এই বুঝি তুমি কিছু একটা বললে,
এই বুঝি তুমি আমার লেখাটা তুলে ধরলে।
কিন্তু যখন দেখি আমার এই অপেক্ষা শুধু অপেক্ষাই হয়ে থাকছে,
ভীষণ ভেঙে পড়ি।
বড্ড অভিমান কিনা!!



Wednesday, 6 April 2016


পশ্চিমবঙ্গের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে আজ এই চিঠিটা  পাঠিয়েছি। মানবিক অধিকারের উদ্দেশ্যে, লেখিকা তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন দন্ড প্রত্যাহারের উদ্দেশ্যে এই আবেদন।



মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মহাশয়া,
পশ্চিমবঙ্গ।
২০১৬।


                                            বিষয়- মানবিক অধিকার।

মহাশয়া,
                  আমি সৌম্যজিত দত্ত, পশ্চিমবঙ্গ নাগরিক, ভোটার আইডি- SRA ১২৯৭৫৫৫। ২০১০ সালে আমি প্রথম ভোটাধিকার পাই। আমার পছন্দের নেত্রী হিসেবে আমি তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়'কে ২০১১ বিধানসভা ভোট থেকে  শুরু করে এখনও পর্যন্ত সমস্ত ভোট দিয়ে এসেছি। পশ্চিমবঙ্গে আমার পছন্দের নেতা বা নেত্রীদের মধ্যে একমাত্র আপনাকেই আমি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছি, এখনও চাই। এর পেছনে শুধুমাত্র আমার আবেগ জড়িয়ে আছে। আপনার কাছে এই চিঠি লেখার কারণ নিচে বর্ণনা করছি। আপনি সাধারণের নেত্রী, আমার পুরো বিশ্বাস আছে আপনি এই চিঠিখানি পড়বেন ও মানবতার খাতিরে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।


 মহাশয়া, আমার এই চিঠি লেখার মূল বিষয় মানবতাবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন'কে নিয়ে। বিগত ২২ বছর ধরে এই লেখিকা নিজের জন্মভূমি থেকে বঞ্চিত হয়ে আছেন। ১৯৯৪ সালে তার লেখা "লজ্জা" গ্রন্থে উনি ধর্ম নিরপেক্ষতার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার, ধর্মীয় গোড়ামিতে বিশ্বাসকারী মৌলবাদগন উনার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে, উনার মাথার মূল্য ধার্য করে। বাধ্য হয়ে উনাকে পশ্চিমবঙ্গে এসে আশ্রয় নিতে হয়। কিন্তু এখানেও তার লেখা "দ্বিখন্ডিত" নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় ও তত্কালীন বাম সরকারের রাজত্বে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে প্রায় দু-বছরের লড়াই চলে, ও "দ্বিখন্ডিত"-এর কিছু অংশ বাদ দিয়ে বইটাকে মুক্ত করা হয়। বইটা আইনিভাবে মুক্তি পেলেও তত্কালীন সরকার পক্ষ বিষয়টাকে ভালোভাবে নেয়নি। নানারকম রাজনৈতিক অরাজকতা, হুমকি, রাজনৈতিক তামাশা তৈরী করে ২০০৮ এ তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তারপর থেকে লেখিকা এই বাংলার মাটিতে আর প্রবেশ করতে পারেননি।


একজন লেখক বা লেখিকা, সমাজ চিন্তক, বুদ্ধিজীবি সমাজের অগ্রগতির বাহক। আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতার পক্ষে আইন আছে। নিজস্ব চিন্তাকে তুলে ধরার পক্ষে আইন আছে। আমাদের দেশ গণতান্ত্রিক। তবে কোন আইনে তসলিমা নাসরিন আজও বাংলা থেকে নির্বাসিতা দিদি? তসলিমা নাসরিন এর লেখা বই মানুষ ইচ্ছা হলে বা জানতে চায়লে পড়বে, নাহলে পড়বেনা। তাইবলে বইতে নিজস্ব মত দেওয়ার জন্য তাকে একেবারে নির্বাসন দন্ড দেওয়া হবে? এটা অমানবিক। এটা দেশের সংবিধান বিরুদ্ধ। দিদি অনুগ্রহ করে চিন্তা করুন। আমি বা আমরা সত্যকে জানতে চায়, উপলব্ধি করতে চায়, সমাজকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তসলিমা নাসরিনকে আমাদের প্রয়োজন। ওনার চিন্তাভাবনা সে ভালো হোক বা খারাপ, আমাদের জানা প্রয়োজন। আমরা বিচার করে ঠিক করব যে আমরা কোন আদর্শের পথে চলব। এভাবে আমাদের চিন্তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করে রাখবেননা দিদি। আজ বাংলাতে অনেক অগ্রগতি যেমন হয়েছে অনেকদিক থেকে, তেমন কিছুকিছু দিকে সমাজে এখনও অবক্ষয় হয়ে চলেছে। যেটা সাধারণ দৃষ্টিতে আমরা দেখেও না দেখার মত করে এড়িয়ে যায়। আমি আমার চিন্তাভাবনা গুলো কবিতার মধ্যে দিয়ে তুলে ধরি। কিছুদিন আগে সমাজের একপ্রকার অবক্ষয় দেখে আমার অভিব্যক্তি এমন হয়েছিল:

বাংলা তোমায় প্রণাম। 

আমার বাংলা তোমায় প্রণাম।
ছোটবেলাতে আমার বলা প্রথম ভাষা তুমি,
আমি যখন ব্যথা পেতাম, আমার কান্নাতে ঝরে পড়ত তোমার অক্ষর,
আমি যখন হাসতাম, হাসিতেও তোমার ছোঁয়া লেগে থাকত। 
আমি যখন প্রথম অঙ্ক শিখি, সেখানেও তোমার সংখ্যা গুনতাম,
আমি যখন প্রথম ডাকে মা'কে গর্বিত করেছিলাম, সেটাও তোমারই শব্দ। 
যে ভাষায় আদর্শ শিখেছি তা, শুধু তোমারই।
আমার বাংলা, তোমায় শত কোটি প্রণাম।


বাংলা, আজ আমি ভালো নেই। 
আমার আদর্শ আজ অপমানিত। 
অপমানিত আমার লেখিকা, অপমানিত তার প্রিয় ভাষার লেখা। 
আজ তোমার ভাষার অপব্যবহার হয়, তোমার ভাষায় কটুক্তি ভেসে আসে,
তোমার ভাষায় লেখা বই'তে আগুন জ্বলে, জ্বালায় তারাই যারা তোমার ভাষা'কে নিয়ে গর্ববোধ করে। 
আসলে তারা গর্ব করে নিজেদের অজ্ঞানতার পরিভাষা নিয়ে। 
তাদের গর্ব তুমি নও, তারা গর্ব করে ইসলামি হেফাজতে,
তারা গর্ব করে গোড়া হিন্দুত্ব নিয়ে। তুমি শুধুই তাদের কথা বলার বস্তু। 
আমার সোনার বাংলা, ওরা তোমাকে কলঙ্কিত করে ফেলেছে,
চাঁদের স্নিগ্ধ আলোতে যেমন কালো দাগগুলো স্পষ্ট দেখি,
তোমার গায়ে লাগা কালিটাও আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। 
চোখের সামনে দেখি তোমার ভাষা বহনকারী মানুষগুলো তোমাকে ভরা বাজারে নিলাম করছে,
চোখের সামনে দেখি তারা তোমার ভাষাতে মেয়েদের অশ্লীল করছে,
চোখের সামনে দেখি তোমার ভাষায় আমার লেখিকা নির্বাসিত,
চোখের সামনে দেখি ওরা তোমার ভাষা'কেই ধর্ষণ করছে দিনে রাতে। 
অনুভব করি আমার লেখিকা তোমার ভাষায় ফুঁপিয়ে উঠছে,
অনুভব করেছি সে তোমার ভাষাতে কথা বলতে আকুল চিত্তে ঘরে এপাশ ওপাশ করছে,
বুক ফেটে চৌঁচির হয়ে যাচ্ছে তবু, তোমার ভাষায় দুটো লাইন কাউকে বলতে পারছেনা। 
এত নিষ্ঠা, এত প্রেম বুকে নিয়ে যে আজও তোমার ভাষাকে অঞ্জলি দেয়,
সেই কিনা তোমার ভাষা'তে নির্বাসিত!!!??
আজ তুমি সত্যিই কলঙ্কিত। 

আমি ভালো নেই আমার প্রিয় বাংলা ভাষা,
তুমি ভালো থেকো। 


দিদি এই লেখার মধ্যে দিয়ে আমি সমাজের একপ্রকার অবক্ষয়ের রূপটা তুলে ধরেছি। আপনি আমাদের সবার সম্মানীয়, পূজনীয়। আপনিই বিচার করুন। আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে, দেশের সংবিধান অনুযায়ী, তসলিমা নাসরিনকে নির্বাসন দন্ডে দন্ডিত করা সমাজের পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত। শুধু তসলিমা নাসরিন বলেই নয়, যেকোনো মানুষকেই নির্বাসন দন্ড দেওয়া সমাজের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমান। বরং তাকে সমাজে রেখে পরিস্থিতিকে অনুকূলে রাখার চেষ্টা করা সমাজের ও শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ উপযোগী। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর ওপর  আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে যে, আপনি এই বিষয়টাকে নিয়ে চিন্তা করবেন ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। ফিরিয়ে আনবেন লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।


এই চিঠিটি পড়লে ও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে, আমি বাধিত থাকবো। ভালো থাকবেন মহাশয়া ও দিদি।

                                                                                      ধন্যবাদ।
                                                                                   সৌম্যজিত দত্ত।