Tuesday, 30 August 2016

কত আবদার করেছি, কত আবদার করি,
তুমি সাড়া দিয়েও সাড়া দাওনা,
আজ ভীষণ একা হয়ে গেছি, মনে মনে তোমাকে বলছি আবারও আবদার করি?
করতে গিয়েও করতে পারছিনা। 
আজ আমি বলে দেবো না তুমিটা কে?
নিজেকে খুঁজে নাও, বুঝবো সত্যিই তুমি আমার কেউ। 

Monday, 29 August 2016


আমাদের কথা।
সৌম্যজিৎ।

# আমার কথা।

আমি পড়েছি এক বিষকন্যার প্রেমে,
লোকে তারে বলে,
ভয় পেয়ে ওরা দূর করেছে সর্বনাশের মাথা,
ওরা চলে দলে।
আমি পড়েছি এক বিষকন্যার প্রেমে।

# অসহায় মেয়ের কথা।

আমি চলেছি আজ একলা পথে ঘরে,
আমি চলেছি আজ অন্ধকারে নির্ভয়ে,
চিল - শকুনি পথে পথে ঘুরুক,
শক্তি আছে প্রাণে।

# মমতা বেগমের কথা।

ওই নষ্টা দূরেই থাকুক ভালো,
রাজ্য আমার মুসলমানের খনি,
আমায় থাকতে হলে থাকি ওদের মাথায় কাঁঠাল ভাঙি,
ভোট বাড়বে আরও।
ওই নষ্টা দূরেই থাকুক ভালো।

# মোদীজির মন কি বাতে।

আজ না থাক, কাল হবে ক্ষণ,
যেমন আছো তেমনি থাকো - ভিক্ষার ঝুলি বাড়িয়ে রাখো,
লোকে দেখুক, সবাই দেখুক আমার দয়া লীলা।
এখনই তোমার পারমিট হচ্ছেনা,
হাহা .... এটাই আমার খেলা।

# বুদ্ধের স্বপ্নদোষ।

ও নারী, ও শক্তিহীন দুর্বল হয়ে থাকবে,
ওর এত ঠাট, বাট, ডাঁট থাকবে কেন?
ও নারী, আমরা যা বলবো, ও তাই শুনবে,
উঠতে বললে উঠবে, নাচতে বললে নাচবে,
ও প্রতিবাদী হবে কেন?

# কংগ্রেসি পরোয়ানা।

কে ও?
কি লেখে? ভারত আমার পারিবারিক সম্পত্তি,
ওকে আমার সম্পত্তিতে থাকতে হলে কলমকে বন্দক দিতে হবে।
কলমকে বাইরেই ফেলে এসো,
ওসব নাটক এখানে চলবে না।

#ইসলামের বানী।

ওই বেজাতের মেয়ে আমাদের ধর্মকে তাচ্ছিল্য করে,
ওকে রাস্তায় ফেলে, কাপড় জামা ফালাফালা করে -
ধর্ষণ কর।
টুকরো টুকরো করে কাট।
বেহেস্তের পথ পরিষ্কার।


#আমার কথা।

এ আমি কোন মানুষের প্রেমে পড়লাম শুনি,
কোথাও যে তার নাই ঘর,
কোথাও নাই কাছের কেউ,
তুমি বড় গুণী।


তুমি আছো আমার হৃদয়খানি জুরে,
পাবে এক ছোট্ট কুটির -
ভালোবাসার খুঁটির।
তুমি থেকো আমার হৃদয়খানি ছুঁয়ে। 
১.যুদ্ধ ছিল অনিবার্য, যুদ্ধের গতি ধেয়ে আসছিল,
ভালোবাসাতে কাটল মেঘ, শান্ত আজ অপরপক্ষ।
সত্য ছিল সাথে, তাই ভরসা ছিল কাঁধে,
মানবতা আর আদর্শ ছিল প্রধান অস্ত্র,
জয় হল ভালোবাসাতেই।

********** সৌম্যজিৎ **********





২. হঠাৎ আসা মেঘ আর উতলে ওঠা ঢেউয়ে
মন চঞ্চল হয়ে ওঠে কোনো এক গভীর ক্ষতকে অনুভব করে।
রক্তের সাথে দানা বেঁধে আছে যে স্পর্শ,
অস্পর্শেই তা ক্ষত করে হৃৎপিণ্ডকে বারে বারে।

********** সৌম্যজিৎ **********


যুদ্ধ ছিল অনিবার্য, যুদ্ধের গতি ধেয়ে আসছিল,
ভালোবাসাতে কাটল মেঘ, শান্ত আজ অপরপক্ষ।
সত্য ছিল সাথে, তাই ভরসা ছিল কাঁধে,
মানবতা আর আদর্শ ছিল প্রধান অস্ত্র,
জয় হল ভালোবাসাতেই।



 ********** সৌম্যজিৎ **********

Saturday, 27 August 2016


হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে।
সৌম্যজিৎ।

তোমার সাথে স্বপ্ন দেখতাম,
একটা বেলায় হারিয়ে যেতাম,
আকাশ জুরে খেলত পাখি,
বাতাস জুরে বইত সুরে,
ছিল শুধু ভালোবাসা অসময়ে চুমুর ঝড়ে,
মাঠ পেরিয়ে হারিয়ে যেতাম,
মনে পড়ে বুকে ভাসতাম - ...

ছিল যন্ত্রণা, ছিল ভালোবাসা,
ছিল প্রেম আর শরীরের টান, -
তোমার কাছে।

মনে পড়ে দিনগুলোতে,
স্নানের ঘরে তোমায় জড়িয়ে,
চুমুতে ভেজাতাম গোটা শরীর।
ভালোবাসতাম, শরীরে খেলতাম,
পথে ঘাটে, আলো - অন্ধকারে,
ক্লাসরুমে বন্ধ দরজার ওপারে -
উলঙ্গ শরীরে তৃপ্ত হতাম।

আজ নিঃসঙ্গ, ভালোবাসাহীন,
শরীরী খেলায় মত্ত হতে চায় -
একাকিত্বে ভোগা মন।
ফিরবেনা আর দিনগুলো সেই,
পুরোনো রোশনাই কাল গেছে ছুটে,
আজ আমি তুমিহীন।





আমার সম্ভাব্য শেষ লেখা। আর উৎসাহ নেই লেখার জন্য বা হয়ত ফুরিয়ে গেছি। আপনাকে উপহার দিলাম।

নদী তুমি কার -
হিন্দু, না মুসলমানের?
তোমার স্রোত বয়ে চলে
এপার ওপার দ্বিধাহীন,
তোমার গভীরে শ্যাওলা ভাসে,
কচুরিপানারাও সবুজ হাসে,
তুমিই ওদের ধরণী বক্ষ,
জাত দাওনি, ধর্ম দাওনি,
দাওনি কোনও সীমারেখা,
দিয়েছ শুধু স্বাধীনতা -
এপার ওপার করে চলে।
নদী তুমি কার?

ওই দ্যাখো আকাশপানে -
পাখিরা সব উড়ান দেয়,
ওদের নাই কোনো দেশ, নাই বিদ্বেষ,
ছোট্ট হৃদয়েও ওঠে আকাশ ছুঁয়ে, -
মাটি থেকেই জন্ম নিয়ে।
আকাশ তুমি কার?

মাটি তুমি কার?
তোমার বক্ষে রক্তে রাঙা,
কাঁটাতার আর পিলার বাঁধা,
সীমারেখাতে তোমার পরিচয় -
পাল্টে যায় দেশ, পাল্টে যায় নাম,
পাল্টে যায় জাত, পাল্টে যায় ধর্ম,
পাল্টে যায় সংস্কৃতি,
অবাধে মিশতে পারেনা।

আবেগ তুমি কার?
যেখানে দেখি স্নেহের ছোঁয়া,
হোক সে নদী বা আকাশ -
বা হোক মাটি,
আমি ভেসে যাই তোমার পানে,
আদর, স্নেহ, ভালোবাসা পেতে,
আমার নাই কোনো জাত, নাই ধর্ম,
নাই হিংসা, নাই বিদ্বেষ।
আবেগ তুমি আমার।

আপনার আশীর্বাদকে আমার আবেগের প্রণাম। শুভ জন্মদিন ম্যাম। উপহার ও প্রণাম গ্রহন করুন।
     
                                                                                             সৌম্যজিৎ। 

Friday, 26 August 2016


Dedicated to – Taslima Nasreen.
Author-  Soumyajit.

I see you in closed eyes   touching my heart,
I’ve got the air of soul from the window of confined chamber.
When at upset, I listen to your voice,
All the nights of upset escape towards gap.

Taslima Nasreen, you’re my smile of soul,
Taslima Nasreen, I exist because you’re alive.
I love this life in a deep affair, in an amour, -
And  I forget all the pains and sorrow of heart.

Taslima Nasreen, you taught me the truth of love, thus –
Venom, scrimmage and slaughter all seem futile.
All I’ve forgotten to grasp to be terrified of.

You walk honestly in unrestricted freedom of motion.
Taslima Nasreen, you stay alive in every century,
Taslima Nasreen, I wanna get you in over and again.
Taslima Nasreen, you’re the name rises from the heart,
Taslima Nasreen, you’re the life risen up from the heart of thousands of young and veteran.
Taslima Nasreen, you’re the voice of protest,
Taslima Nasreen, you’re the replica of humanity.
Without you, my society remains imperfect,
You’ve composed the giant of love across the heart.

Taslima Nasreen, you stay alive forever,
Stay alive healthy, pretty in all human beings.



Thursday, 25 August 2016

একটু একটু করে সময়গুলো বয়ে যায়,
দিয়ে যায় শুধু অস্থিরতা, চঞ্চলতা।
স্থিরতা চাই মনের আড়ালে, বাকি আছে এখনও অনেকটা চলা।
কোন নাগপাশ ঘিরছে অলক্ষ্যে, ছিনিয়ে নিচ্ছে একটু একটু করে অনেকটা,
যত চাইছি বেরোতে, ততই গলা আটকে ফাঁসে,
রাস্তা যদি না পাই এবার, অন্ধকারেই পালাতে হবে। 
তসলিমা নাসরিন। 

বন্ধ চোখেও দেখি তোমাকে ছুঁয়ে আছো এ হৃদয়,
বন্ধ ঘরের জানালা দিয়ে এসেছে প্রাণের বাতাস,
মন খারাপের বেলায় যখন শুনি তোমার ডাক,
ফাঁক ফোঁকরে পালায় সব মন খারাপের রাত। 
তসলিমা নাসরিন তুমি আমার প্রাণের হাসি,
তসলিমা নাসরিন তুমি আছো তাই, বেঁচে আছি।
প্রেমে প্রেমে, ভালোবাসাতে ভালোবাসি এ জীবন,
শত কষ্ট, শত দুঃখ এড়িয়ে যায় মন,
তসলিমা নাসরিন তুমি শিখিয়েছ ভালোবাসা,
হিংসা, মারামারি আর কাটাকাটি সবই লাগে যে বৃথা, 
ভুলে গেছি ভয়কে আজ কেমন সে অনুভূতি,
সোজা পথে চলি তাই সাহসের অবাধ গতি। 
তসলিমা নাসরিন তুমি বেঁচে থাকো যুগে যুগে,
তসলিমা নাসরিন তোমায় পেতে চাই বারেবারে, 
তসলিমা নাসরিন তুমি বুকে ওঠা এক নাম,
হাজারো তরুণ, প্রবীন বুকের জেগে ওঠা এক প্রাণ।
তসলিমা নাসরিন তুমি প্রতিবাদের এক সুর,
তসলিমা নাসরিন তুমি মনুষত্বের প্রতিরূপ।
তোমাকে ছাড়া আমার সমাজ অপূর্ণ থেকে যায়,
হৃদয় জুরে সব ভালোবাসা তুমি জুরেছ অতিকায়, 
তসলিমা নাসরিন তুমি যুগে যুগে থাকো বেঁচে,
সুস্থ - সুন্দর বেঁচে থাকো তুমি সকলের হৃদয় জুরে। 

********** সৌম্যজিৎ **********

Wednesday, 24 August 2016

ব্যস্ত বুঝি হৈ চৈ আর হুল্লোড়ে!
আমরাও তো চেয়ে আছি অন্তর্জাল সুরৎগ্রন্থে,
চেয়ে আছি আমাদের নায়িকাকে দেখবো ভেবে সেই কখন থেকে!
একটু নাহয় দাও না সময়, একটুখানি স্নেহ ছুঁইয়ে দাও,
রাতের গভীর নীরবতায় ছুঁয়ে যাক একটু আমেজ, -
আমরাও মেতে উঠি উৎসভে।
সেই কখন থেকে লেখা নিয়ে বসে আছি তোমায় দেবো ভেবে,
সেই কখন থেকে! 

তসলিমা নাসরিন-(জন্ম-২৫ শে আগস্ট।)

শুভ জন্মদিন মেয়েমা। সুস্থ সুন্দর বেঁচে থাকো সকল হৃদয়ে।

(কৃতজ্ঞতা – আহমদ শরীফ, কলিম শরাফী, খান সারওয়ার মুরশিদ, কবীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, কে এম সোবহান, ডঃ কামাল হোসেন, হামিদা হোসেন, রোকেয়া কবীর, সুলতানা জামান, রুবী রহমান, শামীম সিকদার, সারা হোসেন, শহিদুল আলম, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।)

বিন্দু বিন্দু যন্ত্রনা মিলে, কোটি কোটি আবেগ মিলে -
সততা, আদর্শ মিলে তৈরি হয় প্রতিবাদের ভাষা -
আর বুক ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে শত বর্ষে তৈরি হয়
এক ও অদ্বিতীয় তসলিমা নাসরিন।

যুগের হাওয়ার বিপরীতে কুরুক্ষেত্র ন্যায় বিশালাকার রণক্ষেত্রে -
কলমাস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে দেবব্রত ভীষ্ম সম তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা নাসরিন তুমি যতদিন দাঁড়িয়ে আছো এই ধরণী বুকে,
আদর্শ বেঁচে থাকবে আমাদের জ্বলন্ত হৃদয়ে অগ্নিউৎস হয়ে,
পথে পথে যত থাকুক বাধা, যত আসুক বিঘ্ন, সততার রাস্তায় আমরা থাকব অবিচল,
আদর্শের অগ্নিউৎসকে প্রেরণা করে।


উতল হাওয়া, ফুলশয্যা থেকে।

একটু ঘুম চাই,
আমি ভুলতে চাই,
আমি ভুলতে চাই সব পার করে আসা সময়।
ক্লান্ত সব সময়গুলো, ক্লান্তি আসে চেতনা ঘিরে,
রক্তচোখে মৃত্যুবিষ ঢেলে দিতে এগিয়ে আসে,
আমার ঘুম নাই।

দিনে রাতে ক্লান্ত ঘুমে,
চোখে শুধুই কালো ছায়া,
ভালোবাসার কোনো মানুষ নাই,
আমি ভুলতে চাই।

বুক কেঁপে ওঠে হন হন করে,
স্নায়ুস্পন্দন ঢিপ ঢিপ করে বেড়ে ওঠে,
স্তব্ধ ঘরে একাকী আমি শুনি আমারই ভিতর থেকে-
উঠে আসা সেই শব্দ।
ঘড়ির কাঁটা ধিকে ধিকে চলে,
খছ খছ আওয়াজটাও স্নায়ুস্পন্দনের সাথে জোয়ার তোলে,
সমুদ্র ঢেউ ওঠে প্রাণের অতল গভীরে,
একটু ঘুম চাই।

বিশ্বাসী মানুষটা আজ অবিশ্বাসী!
অবিশ্বাসী তুমি! একটা বারও যদি এসে বলো,
"তোমার বিশ্বাসের পরীক্ষা নিচ্ছিলাম সকাল। যা বলেছি সব মিথ্যে।"
আমি শুনতে চাই,
বারবার শুনতে চাই, আমি মিথ্যে হতে চাই।
একবার, শুধু একটাবারই বলো- "সব মিথ্যে।"
আমি দালানে রাতের অন্ধকারে দুহাত ভাসিয়ে,
বন্ধ চোখে আকাশের পানে মুক্তির ঘ্রান নেবো।
আমি চাই আমি যেন মিথ্যে হই।

শরীর জুরে আজ যন্ত্রণা।
যেভাবে আমাকে ছুঁয়েছ, যেভাবে ভালোবেসেছে আমাকে,
একইভাবে আরও অনেককেই ছুঁয়েছে!
নিখাদ ভালোবাসা শুধু আমিই বেসেছি।
এত বছরের প্রতীক্ষা, আমি আমার শরীর- মন যা চেয়েছিলে,
সবটাই দিয়েছি ভালোবেসে।
সেই ভালোবাসার উপহারে পেলাম অসচ্চরিত্রতা!
ছোট ছোট স্বপ্নজুরে -
আমি চেয়েছিলাম ভরাট একটা সংসার গাঁথবো,
আজ সেই সংসারের মালাতে শুধুই একটা রোগ -
আমার মনের ভিতর সব উথাল পাথাল করে দিয়ে যাচ্ছে,
লজ্জাই, ঘেন্নাই গা ঠেলে বমি আসছে,
আমার কোনো পথ নাই।

ঘুমের বড়িগুলো সামনে বিদ্রুপ চোখে হাসছে,
সবগুলো একসাথে খেলে বুঝি আমি শান্তিতে ঘুমাতে পারি,
আমার একটু ঘুম চাই।
একটু মুক্তি চাই।


প্রতিবাদের লড়াই –

সেইসব অন্ধকারের কালো ছায়া।

আহত এক বেলা, ক্লান্ত সকাল,
প্রাণে হুহু করা নিঃশ্বাস।
কি করি? কি করবো? কোথায় যাবো?
ওরা কি বাইরেই দাঁড়িয়ে?
ওরা কি সামনের অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে আছে বন্দুকের নল এগিয়ে?
হয়ত তাই।
পর্দার ওপার থেকে ওরা তাক করে আছে,
নিশানা লাগলেই একটা বুলেট,
মাথার খুলি উড়িয়ে ছিটকে গিয়ে পড়বে দেওয়ালের গায়ে,
লাল রক্তে ভেসে যাবে ঘরের মেঝে, আর সব শেষ।

বাইরেই ওৎ পেতে আছে চাপাতিধারীর দল,
ওদের একটাই লক্ষ্য এই শরীরটাকে ছিন্নভিন্ন করে লাল রক্তে স্নান করে-
আল্লাহর দরবারে বেহেস্তের পথ পরিষ্কার করবে।
ওরা গোটা দুনিয়া জুরে ওদের পুরুষত্ব কায়েম করবে,
নারীকে চিরকাল ভোগের বস্তু বানিয়ে রাখবে, আর
যে মাথা উঁচিয়ে উঠবে প্রতিবাদের সুর নিয়ে তাকে
টুকরো টুকরো করে কেটে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে।
ওরা কেউ সুস্থ সমাজ চাইনা, চাইনা ওরা শিক্ষিত মানব সমাজ,
চাইনা ওরা সভ্যতা আর চাইনা সমাজের অগ্রগতি,
ওরা চায় পুরোনো অসভ্যতাকে ধরে রাখতে,
ওরা চায় নারীকে আপাদ মস্তক ঢেকে ঘরে তালাবন্ধ করতে,
ওরা চায় শরিয়াতি নিয়ম কায়েম করতে,
ওরা চায় শুধু কল্লা, শুধু রক্ত যে রক্তে ওরা শহরের, গ্রামের সড়ক পিচ্ছিল করতে পারে।
ওরা মূর্খের সম্মোহন নিয়ে,
কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে,
ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে গোটা দেশকে কবচা করতে চায়।
ওরা মানুষ হতে পারেনি কখনো,
মানুষের শিক্ষা ওরা পাইনি,
ওরা হয়েছে মানুষরূপী দানব,
ওদের গায়ে আমি আলকাতরার মত অন্ধকার দেখি।

ওরা তসলিমা কে মারতে চায় যাতে -
ওদের ঘরের নারীরা কখনো মাথা তুলে কথা না বলতে পারে,
ওরা আজ আমাকে ধর্ষণ করে ব্রম্মপুত্রে ভাসাতে চায় যাতে -
সমাজে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
ওরা কখনই মানুষ হয়ে উঠবে না,
ওরা কখনই দেশকে গর্বের স্থান নিতে দেবেনা,
ওরা দেশকেই গোটা পৃথিবীর সামনে ভরা বাজারে কলঙ্কিত করতে চায়।
ধিক এই সমাজতন্ত্রকে,
ধিক এই পুরুষতন্ত্রকে,
এই সমাজ আমার লজ্জার,
এই সমাজ নিজের দামন খুলে ভরা বাজারে নিজেই নিলামে চড়তে চায়,
কেউ প্রতিবাদের সুর ওঠালেই তাকে নষ্ট আখ্যান দেয়।


সেইসব অন্ধকার থেকে –
আঁধারে আলো।

মুহূর্তে নিঃশ্বাস পড়ে ঘন ঘন,
বইছে সময়, ঘুরছে কাঁটা বড় দ্রুত,
বুক দুরুদুরু কম্পনে সারা শরীরে শিহরন,
চিন্তাজুরে শুধু সময়কে অনুরোধের সুর আরেকটু পিছিয়ে চলো তোমরা -
আমি বাঁচতে চাই।
আমি বাঁচতে চাই প্রাণ খুলে ব্রম্মপুত্র তীরে,
আমি বাঁচতে চাই আমার মায়ের আঁচল বিছান কোলে,
আমি বাঁচতে চাই।
ক্লান্ত মনের ক্লান্তিতে আমি ঘুমাইনি কত রাত!!
শরীর জুরে অচলতা আমি চলছি শুধু চলতেই,
নাই খিদে, নাই ঘুম, নাই হাজারও সে স্বপ্ন,
সব আজ ওই একটু বাঁচতে চাওয়াতেই ফুরিয়ে গেছে ।
দ্রুত বয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা আমার নাই সাধ্য তাকে থামানোর।
কি দোষ ছিল আমার?
হাজারও নারীর প্রতি হওয়া, হয়ে যাওয়া, করে যাওয়া অত্যাচার-অন্যায়তে
আমি চেয়েছিলাম নারী জাগরন।
আমি চেয়েছিলাম নারী হোক নিজের স্পর্ধায় চলা সেই পথিক যে -
নিজেই নিজের অবলম্বন,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন দাস হয়ে না থাকে,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন সূর্যদিকে বা অন্ধকারে চলে দ্বিধাহীন,
নারী চেতনা!! - নারীর বিস্ময় না হয়ে বাস্তব হোক,
প্রার্থনা নয় চেয়েছিলাম অধিকার ছিনিয়ে নিতে।
প্রতিবাদ মুখর হয়েছিলাম লেখা দিয়ে,
লড়তে চেয়েছিলাম শরিয়তির নিয়ম পাল্টাতে,
আমি লড়েছিলাম একটা সমাজের মত সমাজ গড়তে,
ওরা উস্কে দিল সেই সমাজকেই আমার পিছনে।

ওরা আমাকে ঘর ছাড়া করে দিল,
আমিই যে আমি প্রাণ চঞ্চল ছোটাছুটি করে বেড়াতাম,
আমিই আজ ঘরছাড়া উস্কখুস্ক চুলে, দিনের পর দিন নাই স্নান,
খাওয়া জোটে - জোটেনা, শুধু পথ চেয়ে থাকি একটু মুক্তির আশায়।
একটু ভরসা, কেউ এসে বলবে, কেউ বলুক, "তসলিমা, -
তুমি মুক্ত। ছুটে যাও ওই বাজার খোলা রাস্তা দিয়ে, দৌঁড়ে ডিঙিয়ে পার করো -
এক এক ধাপ। জড়িয়ে ধরো মার গলা, বাবার বুকে আশ্রয় নাও,
দাদা'দের জড়িয়ে ধরো, চিৎকার করে কাঁদো বোনকে চেপে ধরে,
পরমা, ভালোবাসাকে বুকের মধ্যে নিয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস নাও তসলিমা।
আজ যে তুমি মুক্ত!"
দিন যায়, রাত যায়, আমাকে শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় খুঁজে -
দান গ্রহন করে, পরনির্ভর হয়েই বাঁচতে হয়।
তসলিমা- যে আমিই নারীমুক্তি ঘটাতে চেয়েছি,
স্বনির্ভরতার বিশ্বাস জোগাতে চেয়েছি,
আমিই সেই তসলিমা আজ দিন কাটাচ্ছি পরনির্ভরে, প্রাণ বাঁচাতে।
ওরা কেন আমাকে নির্ভরতা দেবে?
ওরা তো আমার কখনো কেউ ছিলনা।
ওরা শুধু কেউ কেউ আমার কোথাও পরিচিত মাত্র।
আত্মীয়-বন্ধু যা ছিল সবাই তো সরে গেছে,
ওরা সরেনি। কখনো কেউ না হয়েও ওরাই আজ আমার সব,
আমার রক্ষা কর্তা।
আমার বিপদ যেন ওদেরই বিপদ,
ওরা যেন নিজেদের বাঁচাতেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণপণে।
লক্ষাধিক মৌলবাদের সশস্ত্র আন্দোলনকে পাত্তা না দিয়েই ওরা লড়ছে।
দিনের আলোতে, রাতের অন্ধকারে সন্তর্পণে আমাকে রক্ষার লড়াই লড়ছে।

একটু মুক্তির আশা,
জামিন মুক্ত হওয়ার আশা -
দরজাতে কড়া নাড়তেই আমি যেন অন্ধকার থেকে জেগে উঠি,
মুহূর্তেই আমাকে থামিয়ে দিতে চাই সেই মুক্তি আবার অন্ধকারে।
শর্তাধীন জামিন!
আমাকে আমারই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে!
এই দেশ আমার,
এই দেশকে ঘিরেই আমি নারী চেতনা জাগাতে চেয়েছি,
এই দেশেই আমি বড় হয়েছি, পরিচয় পেয়েছি,
এই দেশেরই মাটির গন্ধ আমার শিরায় শিরায় বইছে,
এই দেশেরই নাম আমার রক্তস্রোতে বইছে,
এই দেশকেই কিনা ছেড়ে যেতে হবে!
কেন? কি অপরাধ করেছি আমি?
কেন এই শাস্তি!

আদালতে উপস্থিতিতেই আমাকে জামিন মুক্ত হতে হবে,
বুকের মধ্যে টিপটিপ, ঢিপঢিপ।
মৃত্যু শুধু ওৎ পেতে বসে আছে, আমার পানে চেয়ে হাসছে,
জিজ্ঞাসা করছে, "কোথায় মরবি?"
আমি জানি আমার মৃত্যু হবেই।
সাদা টুপিওয়ালারা রাস্তা ঘিরে আছে, হাজারও, লাখো।
ওরা আমাকে বাঁচতে দেবেনা।
তবু যদি একটা সুযোগ পাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে!

মাথা, চুল ঢাকা -
আমার কাছে যেন মাথা শরীর থেকে নেমে পড়ার সমান,
আমি পুরো ঢাকা।
আদালত চত্বর লাখে লাখে সাদা টুপিওয়ালারা ঘিরে রেখেছে,
চিল-শকুনের মতো তসলিমাকে ছিঁড়ে খাবে।
আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো,
একটুও নড়বো না।
ওরা আমার শরীর ক্ষত, বিক্ষত করে শেষ করে ফেলুক,
ওরা আমার বিশ্বাসকে মারতে পারবে না।
এই বিশ্বাসেই মানুষ জেগে উঠবে,
আমি আজ হেরে যাবো,
হেরে গিয়েও আমিই জিতবো।
জিতবে আমার আদর্শ।


অগ্নি উৎস তুমি তসলিমা নাসরিন।

তোমার আপসহীন আগুন কত মানুষ দেখেছে !!
পদে পদে তোমার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকার, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত।
যখন লড়েছ, ভয় তোমারও হয়েছে।
তুমি ভেবেছো, "এই বুঝি কেউ এসে আমার মুন্ডপাত করে।"
ভয় সবাই পায়। সেই ভয়তেও তুমি আপসহীন।
যত দেখি, ততই মুগ্ধ হয়ে যাই।
শরীরের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে যায় যখন
তোমাকে বাংলা নির্বাসনের সময়গুলোতে অনুভব করি।
রক্তের মধ্যে গরম স্রোত বয়ে যায়।


অগ্নি কন্যাকে নতুন কি আর ভাষা দেবো?
যে নিজে জ্বলন্ত আগুন তাকে
ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যাবে।


যখন গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল, মৌলবী, রাষ্ট্রীয় মানুষ
মূর্খামি করে তোমার রক্তের স্বাদ পেতে চেয়েছে,
তুমি তখন সদ্য যৌবনের একজন মানবিক লেখক, ধর্ম বিদ্রুপাত্মক।
সাহস করে সত্যিটা তুলে ধরেছিলে,
কিন্তু এত মনের জোর তোমার ছিলনা।
ছিলনা, কারণ পরিবারের টান, প্রানের ভয়।
সংসার, ভবিষ্যত তুমিও চেয়েছিলে।


আস্তে আস্তে সমাজের ভয়ঙ্কর রূপটা সবে প্রকট হচ্ছে,
রাতের অন্ধকারে তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
কেউ আশ্রয় দিতেও ভয় পাচ্ছে।
অন্ধকূপের মধ্যেও জীবন কাটিয়েছো,
বাইরের জগতের আলো তোমার চোখে পরেনি।
সত্যি বলার শাস্তি। তুমি ভাবোনি কখনো, সত্যি বলার শাস্তি এত ভয়ঙ্কর!!
দেশের দু একজন বুদ্ধিজীবি তোমার সাথ হয়ত দিতে চেয়েছে,
কিন্তু পরে তারাও পিছিয়ে আসে পরিবারের চিন্তা করে।
তাদেরই বা দোষ দিই কি করে?
দেশের সংবিধানের অসাংবিধানিক নীতি তোমাকে দেশ ছাড়া করে দিল।
মা, তুমি ঘুমের মধ্যেও রক্ত চোখ দেখতে তাইনা?
হয়ত ঘুমোতে, ক্লান্ত হয়ে।
তোমার বুকের মধ্যে প্রতিটা মুহুর্তে কেঁপে উঠেছে,
"এই বুঝি ঘরে ঢুকে এল ওরা,
এই বুঝি ছিন্নভিন্ন করে দিল চাপাতির আঘাতে।
এই বুঝি সব থামিয়ে দিল, শেষ করে দিল আমাকে,
এই বুঝি সত্যের পরাজয় হয়েগেল। "


সেই দেশ কখনো দেশ হয়ে উঠতেই পারেনি মা,
সেই দেশ কখনো সত্যের মুখোমুখি হতে চাইনি।
সেই দেশ ধর্মান্ধের কারাগার।
সেই দেশে মুক্ত চিন্তা নয়, সম্মোহনের খেলা চলে।
সেই দেশ খুনিদের দেশ।
সেই দেশ শুধু একটা রাষ্ট্র মাত্র।


নিরাপত্তার খোঁজে চলে এলে ভারতে।
আশ্রয় পশ্চিমবাংলা।
উস্ক-খুস্ক মুখে তুমি ভেবেছিলে এখান থেকে লড়াই শুরু করবে,
দেশে ফেরার।
কিন্তু এখানেও তোমার ভাষা থামিয়ে দিতে উঠে আসল বজ্জাত সরকার,
সরকার নয়, ওরা মাওবাদী।
তোমার লেখা "দ্বিখন্ডিত"কে খন্ড খন্ড করে জলে ভাসাতে চেয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারকেও রাজনীতির দালাল বানিয়ে
তোমাকে হুমকি দিয়েছে।
রিজওয়ান ঘটনার সুযোগ নিয়ে মুসলিম জাতিকে
তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
আরও কত কি করেছে!!! মনে করতে পারো সেসব মেয়েমা?
বাংলা এখনও মানুষ হয়নি।
বাংলা আজও রাজনীতির একটা মঞ্চ মাত্র।


পুরুষতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, সরকারতন্ত্র
বারেবারে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অগ্নিউৎস বলেই তুমি আজও সত্য প্রতিষ্ঠানের লড়াই লড়ে যাচ্ছো।
আজ আর তোমার লড়াইকে ওরা থামাতে পারবেনা,
কারণ তুমি এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন "তসলিমা নাসরিন"।
এই বাংলাতেও তোমার প্রত্যাবর্তন হবে।
বঙ্গকন্যা ফিরবেই, আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে সেইদিন দেখতে পাচ্ছি।
তোমার আবিষ্কার আমি,
তোমার আদর্শে গড়া সেই অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পড়বো।
ফিরিয়ে আনবো তোমাকে এই বাংলায়, সম্মানের সাথে, নৈতিকতা দিয়ে।

                     
                      তোমার
                      সৌম্যজিৎ।

Tuesday, 23 August 2016

বিন্দু বিন্দু যন্ত্রনা মিলে, কোটি কোটি আবেগ মিলে -
সততা, আদর্শ মিলে তৈরি হয় প্রতিবাদের ভাষা -
আর বুক ভর্তি ভালোবাসা নিয়ে শত বর্ষে তৈরি হয়
এক ও অদ্বিতীয় তসলিমা নাসরিন।

যুগের হাওয়ার বিপরীতে কুরুক্ষেত্র ন্যায় বিশালাকার রণক্ষেত্রে -
কলমাস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে দেবব্রত ভীষ্ম সম তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা নাসরিন তুমি যতদিন দাঁড়িয়ে আছো এই ধরণী বুকে,
আদর্শ বেঁচে থাকবে আমাদের জ্বলন্ত হৃদয়ে অগ্নিউৎস হয়ে,
পথে পথে যত থাকুক বাধা, যত আসুক বিঘ্ন, সততার রাস্তায় আমরা থাকব অবিচল,
আদর্শের অগ্নিউৎসকে জ্বালিয়ে রেখে।

তসলিমা নাসরিন তুমি মানব প্রেমের যে প্রদীপ জ্বেলেছ মানুষ হৃদয়ে হৃদয়ে,
প্রতিমুহূর্তে তাড়িয়ে নিয়ে বেরাচ্ছে সেই প্রদীপ, 
বাতাসে ভাসছে ওরা ধূলিকণারূপে,
এলোমেলো ভাসছে ওরা আকারহীন ধূলিকণাকারে, আর -
কম্পনে ভেসে আসছে কানে মিষ্ট সুর তুলে একটাই নাম, -
তসলিমা নাসরিন।

স্বচ্ছ আয়নার মতো তোমার চোখের স্বচ্ছতায় মায়া ঝরে পড়তে দেখি,
যেভাবে পড়ে শিমুল তলার শিমুল ফুলেরা মায়ার টানে মাটির ওপর,
রোজ তোমাকে সেজে উঠতে দেখি ওই হলুদ পাড়ের স্নেহ ভরা আঁচল জুরে,
জরিয়ে রাখো আমার মুখের ওপর, তোমার গায়ের মমতা ভরা গন্ধটা আমাকে মাতিয়ে রাখে,
দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হই, শুধু তোমারই নামের রব মিষ্টি সুরে ঝঙ্কার তোলে আমার কানে।

আমার ভিতর ও বাহিরে -
তুমি জুরে আছো সমস্ত শরীর ও মনে,
স্নেহ ভরা ছোঁয়াতে।

********** সৌম্যজিৎ ********** 

Sunday, 21 August 2016

শরীরী মাতোয়ারা।
সৌম্যজিৎ।

জামা বদলানোর মতো করে বদলে যায় প্রেমের একেকটা নাম,
ঝড় ওঠেনা, তুফান আসেনা,
ম্যাড়মেড়ে প্রেমে বেশিদিন টিঁকতেও ইচ্ছা করে না।
ইচ্ছা করে ভেসে যায় শরীর, মনে অনন্ত জোয়ারে,
ইচ্ছা করে সকালবেলায় ঝড় তুলি বিছানাতে পড়ে থাকা তোমার শরীরের সাথে,
তুমুল ঝড়ে উড়ে যায় দুজনে, সর্বাঙ্গে চুমু খেতে খেতে আর শরীরের তীব্র ঝাঁকুনিতে,
ডুবে যাই তোমার বুকের মাঝে, ডুবিয়ে নিই তোমাকে আমার উত্তপ্ত শরীরের মাঝে,
ঘামে ভেজা শরীরে ব্যাক্টিরিয়াগুলো মিলে মিশে একাকার হয়ে যাক দুজনের।

ইচ্ছা করে দুজনে আফিস পথ থেকে হারিয়ে যায় অচেনা গভীর জঙ্গলে,
পথহীন, উদ্দেশ্যহীন জঙ্গলে জংলী মানুষের মতো উলঙ্গ দুজনে -
খেলা করি প্রেমের তীব্র মত্ততায়,
শরীরের উত্তপ্ত আকর্ষণের তীব্র ছ্যাকাতে মোমের মতো গলে পড়ি দুজনে,
পৃথিবী চলুক তার নিয়মে, আমরা দুজনে দুজনের মধ্যে গড়ি অন্য এক পৃথিবী,
নাই কোনো ভয়, নাই কোনো চিন্তা শুধু আছে দুটো শরীর আর মনের ক্ষুধার্ত চাহনি,
গাছের দেওয়াল প্রাচীরে গা ঘেঁষে তোমাকে শক্ত আলিঙ্গনে পান করি শরীরের নির্জাস।
নেশা ঘিরে ধরুক, তুফানে সব এলোমেলো হয়ে উড়ে যাক বাতাসের ধূলিকণা,
কোথাও আমাদের কোনো খেয়াল নেই, আমরা মিশে আছি একে অপরকে শুষে খেতে।

সারাদিন রাত, রাতের অন্ধকারেও শুধু তোমার শরীরে আমি দেখেছি আলোর দিশা,
স্নানহীন শুকিয়ে যাওয়া শরীরটাতেও আমরা দুজনে পায় অমৃত সাগরের অমৃত রস,
মিটে যাক নির্বেদ, মিটে যাক হাহাকার সব শরীর যুগলের মাতোয়ারা উত্তেজনায়,
আমরা মাতি শরীরের দুর্ভেদ্য গমনের বজ্রনির্ঘোষ সঙ্কেত পার করে। 

Saturday, 20 August 2016

উত্তপ্ত বালি-শরীরে ল্যাঙট পায়ে চলা চামড়া খোঁজে একটু শীতল মাটি,
আমার শীতলতার স্পর্শ মেলে তসলিমা নাসরিন নামক স্নেহের অনুভূতির ছোঁয়াই।
গ্লানি, ক্লান্তি, একঘেয়েমি জীবন যখন শরীরকে নিথর করে ফেলে দিতে চায় অ-জাগরনের –
চাদর বিছানো কোলে,
প্রতিদিনে চোখের আড়াল হয়ে যাওয়া, এড়িয়ে যাওয়া খবরগুলোতেও আগুন ধরিয়ে,
শরীরের মধ্যে তেজস্ক্রিয় হরমোনের সঞ্জীবনী তরলের ফোঁটা বিন্দু বিন্দু করে বইয়ে দেয় একটাই নাম –
মানব প্রেমী, সত্যান্বেষী তসলিমা নাসরিন।

তসলিমা নাসরিন তুমি স্থান নিয়েছ মানব প্রেমের গভীরে,
তসলিমা নাসরিন তুমি স্থান নিয়েছ মানুষ চেতনা জুরে,
তসলিমা নাসরিন তুমি মানুষ হয়ে শিক্ষাকে শিখেছ জীবন দিয়ে,
তসলিমা নাসরিন তুমি তেজস্বিনী মানবতার পরিচয়ে।
ভণ্ডবাদী, কুসংস্কারকে তুমি ভেঙেছ চুরমার করে,
তসলিমা নাসরিন তুমি শিখিয়েছ জীবন, জীবনের নৈতিক মূল্য।
তসলিমা নাসরিন তুমি প্রেম পূজারী, তোমার প্রেম সর্বত্র,
তসলিমা নাসরিন তুমি ইন্দ্রিয় জয়ী, জগৎ তোমার ইন্দ্রিয় স্পর্শে,
আছে প্রেম, আছে আদর্শ, আছে চেতনা, আছে আলো,
আঁধারকে তুমি ঘুচিয়েছ।

Sunday, 7 August 2016

বাংলা সেদিন লজ্জা নয়,
বাংলা হবে অহঙ্কার।

উৎসর্গ- বঙ্গকন্যা তসলিমা নাসরিনকে।

সৌম্যজিৎ।


সাদা পাতায় তোমাকে লিখে যেতে চাই,
সাদা পাতায় তোমাকে স্বাধীন করে যেতে চাই,
তোমাকে স্বাধীন দেখে আমি অমর হতে পারি,
সাদা পাতায় কোনো দাঙ্গা, বিবাদ নাই।

যতদিন, যতযুগ ওঠে তোমার নাম -
মানুষ হৃদয়ে হৃদয়ে,
যতবার তুমি গর্জে ওঠো মানুষ হৃদয়ে -
প্রতিবাদের সুর তুলে,
ততদিন, ততযুগ, ততবার যেন আমিও পাই স্থান
তোমার নামের পরে,
কোথাও একটু ভালোবাসা নিয়ে হৃদয় জুরে।
অমরত্বে বড় সাধ জাগে আজ -
খোলা আকাশ তলে।

প্রতিটা প্রকোষ্ঠে আজ শ্বাস নিই আমি তোমার নামের সাথে,
জেগে ওঠে চেতনা কাঠপুতুলের জীবন ছাপিয়ে,
প্রতিটা রোম, প্রতিটা স্নায়ু, হৃদয় পার হতে চাই
সাহসের শেষ সীমা।
এ জীবন ভাঙতে চায় গড়পড়তা হিসাব,
সাধারন হয়েও চিন্তাতে উপলব্ধি করি অসাধারনত্বের ছাপ,
দেখি বিজয়ের স্বপ্ন আজ তোমাকে ঘিরে।

বাংলা আমার অপূর্ণ লাগে তুমি ছাড়া,
বাংলা আমার নিষ্প্রাণ লাগে বঙ্গকন্যাকে ছাড়া।
তুমি ফিরবেই, এ দৃঢ় বিশ্বাস আমি ধারণ করি বুকে,
বাংলা কখনো পূর্ণ হবেই আমাদের চেতনা জুরে।

আমি স্বপ্নে দেখি আমার বঙ্গকন্যাকে -
মাথায় করে রাখছে মানুষ,
পিছনে দাঁড়িয়ে আমি আমার ভিতর ও বাহিরে জয়ের হাসি হাসছি,
আমি দেখি গোটা কলকাতা জুরে মাতোয়ারা মানুষের দল -
হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে জয়ের উল্লাসে -
গাইছে তসলিমা গান।

দিগ্বিদিক যায়না চেনা,
শ্যামবাজার - রবীন্দ্রসদন লাগছে এক,
ঘর ছেড়েছে ছেলে, বুড়ো,
ডাকাবুকো মেয়েদের দল।

স্বপ্নজুরে আমি দেখি আমার বঙ্গকন্যা -
ব্রিগেডের খোলা মাঠে, মাইক হাতে, -
ভাঙছে পুরুষতন্ত্র,
গোঁড়া পুরুষেরা লজ্জা পাচ্ছে তাদের কৃতকর্মে,
গ্রহন করছে মানবধর্ম।

আমি দেখি বুদ্ধ, বিমান, মমতা -
এক সারিতে বসে সেদিন
চেয়ে আছে তোমার দিকে,
প্রতিটা ভাষণে চেতনা জাগছে ওদের,
পড়ছে হাততালি।
কোথাও সেদিন মানুষের ভিড়ে আমি দাঁড়িয়ে -
মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছি, দেখছি তোমাকে,
বুকটা যেন গর্বে ভেসে যাচ্ছে
আমাদের জয়ের আনন্দে।
কোথাও আমি থাকতে চাই এই জয়ের পিছনে,
আমি দেখতে চাই আমাদের আদর্শ -
বইছে জনজোয়ারে।

সেদিন বাংলা লজ্জা নয়,
সেদিন বাংলা হবে অহঙ্কার,
সেদিন বাংলায় সেজে উঠবে ভালোবাসার মানুষেরা -
নিয়ে ভালোবাসার অধিকার।
সকল সমক্ষে রাস্তায় দাঁড়িয়ে,
লজ্জার বাধ পিছনে ফেলে চুমু খাবে পরস্পরে,
প্রেমকে তারা করবে জয়,
বুক ফুলিয়ে ভালোবাসা প্রকাশ করে।
সেদিন বাংলায় থাকবেনা হিন্দু, থাকবেনা মুসলমান,
সকল মানুষ এক হবে সেদিন বঙ্গবাসী হয়ে।
ছোট খোকারা শিখবে সেদিন মূল্যবোধের শিক্ষা,
তুমি ফিরলেই বাংলা হবে বাংলাতেই জগৎ সেরা।

সবাই সেদিন এক্সুরে বলে উঠবে -
"আমরা নই হিন্দু, আমরা নই মুসলমান,
জাতিভেদের কলঙ্ক চাইনা মাখতে আর, আমরা বাংলাবাসী।

আমরা উঠি সকালবেলাই এক সূর্য দেখে,
একই টাকা ছুঁই আমরা -
রুজি-রুটি-কারবারে।

আমরা চলি বাংলার পথে,
একই পথের পথিক,
শ্বাস নিই একই বাতাসে প্রাণ ভরে,
কোথাও নাই ভেদ।

আমরা বাংলাবাসী।"

Saturday, 6 August 2016

মন চাই তোমাকে আঁকড়ে ধরে থাকি সবসময়,
মন চাই আমি তোমারই দিকে চেয়ে থাকি ততক্ষণ,
যতক্ষণ না আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি তোমায় তাকিয়ে দেখতে দেখতে,
যতক্ষণ না তুমি ক্লান্ত হয়ে পড়ো আমায় আশকারা দিতে দিতে।
মন চাই আমি সকালবেলার প্রথম আলোতে
তোমার মুখে সকাল হতে দেখি,
মন চাই তোমাকে জড়িয়ে ধরে সুপ্রভাত বলি কানে কানে,
চা-এর সাথে তোমাকে দেখে, তোমার সাথে কথা বলে কাটিয়ে দিই আমার চা-বেলা।


মন চাই তোমার লেখাতে আমি কোথাও আমাকে দেখি যেন,
ওই লেখার সাগরে আমি আমাকে পেলে,
আমার নামে তোমার কলমের ছোঁয়া পেলে,
কালির গন্ধ পেলে,-
সেই ছোঁয়া, গন্ধ সারাজীবন আমার স্পর্শে লেগে থাকবে।
আমি কখনো তুমিহীন হয়ে যাবো না।


********** সৌম্যজিৎ ********** 

অন্য ধরণী।
সৌম্যজিৎ।

বর্ষণ হোক আদর্শ বীজের, স্নিগ্ধ হোক
মাঠ, ঘাট, পথ,
আমি দেখতে চাই কেমন সে ধরণী মোর,
যাকে দেখি অপার কল্পনায়।

আদর্শ হোক জীবনগুলো যেখানে-
লেখক লিখবে অবাধে,
পড়ুয়ারা পড়বে বিনা দ্বিধায়,
মানুষ বাঁচবে ভালোবেসে।
আদর্শ হবে মানুষ জীবন,
নারী পুরুষ করবে না ভয়-
একে অপরে মিশে যেতে।
আদর্শ পাক স্বাধীনতা যেখানে
মত প্রকাশে থাকবে না ভয়,
থাকবে না কোনো লজ্জা।

এ জীবন দেখি কল্পনায় যখন,
আমি ভেসে যাই অন্য কোনো ধরণী বুকে,
আমি মিশে যাই সেখানে-
আলো, বাতাসে,
জীবন মুক্তির খোঁজে।

আদর্শ দেখালেই যখন,
আমার শিরায়, মজ্জায় নেশা মেশানো
তরল স্রোত বইয়ে দিলে,
এ কোন আলো দেখি আমার মধ্যে,
বাইরে দেখি সব কালো।

দেখালে যখন আদর্শ পথ,
আমি মাতাল হতে চাই সেই নেশায়,
আমার গভীরে বইছে স্রোত-
বাইরে কেন ধোঁয়াশা ?

বর্ষিত হও আদর্শ বীজ,
স্নিগ্ধ হোক মাঠ, ঘাট, পথ,
মুক্ত বাতাসে ঘ্রাণ নিতে চাই,
মুক্ত ধরণীই হোক স্বর্গের মায়াজাল। 

Friday, 5 August 2016

সমস্ত হীরের মধ্যে তুমি কোহিনুর, আমি ভাবিনা,
হীরে খচিত টুকরো তুমি, আমি মানিনা। 
মানুষ তুমি, মানব শ্রেষ্ট, আমি বিশ্বাস করি,
ওসব প্রাণহীন দ্রব্যে তোমাকে মাপতে পারি না। 

বড্ড লোভ জাগে আজ,
লোভ জাগে কখনো বাস্তব না হতে পারা এক সত্যে, 
বড্ড কষ্ট সে লোভে, 
'মিলবেনা জানি, তবু পথ চেয়ে থাকা।'
স্বপ্ন তো আর সীমা মেপে দেখিনা। 

তুমি গোটা মানুষটাই
আমাকে ছুঁইয়ে আছ তীব্র কোনো অনুভুতিতে, 
কোনো মন্ত্রপুত পুতুলের মতো বা সম্মোহিত হৃদয় নিয়ে আমি শুধু তোমাকেই দেখে যাই,
আর যা'কিছুই করি বা না করি, তোমাকে মুহূর্তে মুহূর্তে আমি কিছু না কিছু বলিই, 
আমারই চেতনাতে, কল্পনাতে অচেতনেও।
শুধু বলিই,
তোমার সাড়া আসেনা মন থেকে। 
তুমি সাড়া দাও, কিছু একটা দিতে হয় ভেবে দাও।
আপন তো অন্য অনেক কেউ,
আর যেই হোক, আমি তা হতে পারি না। 

********** সৌম্যজিৎ ********** 

Thursday, 4 August 2016

প্রয়োজনীয়তা বোঝা, জিনিসটাকে সামলানোর মতো যথেষ্ট চেতনা জাগিয়ে তোলাই হলো মূল্যবোধ। এই প্রজন্মে আমি দেখেছি লক্ষ, লক্ষ টাকার শখের জিনিস শুধু শখেই কিনে ফেলছে, অভিভাবকদের জানানোর প্রয়োজন মনে করছে না।  তাহলে পর্যাপ্ত টাকা নিশ্চয় তাদের কাছে থাকছে, বা চাইলেই পেয়ে যাচ্ছে। কেন চাইছে সেটা জানানোর প্রয়োজন মনে করছে না। একটা ছোট বাচ্চার হাতে দামি ফোন তুলে দেওয়া হচ্ছে, মাঠে খেলতে যাওয়ার পরিবর্তে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে টিউশন নিয়ে, স্কুল নিয়ে, বাকি সময়ে ল্যাপটপ, ট্যাব খেলার সামগ্রী হয়ে উঠছে। ল্যাপটপ, ট্যাব নিয়ে চলতে শেখা খারাপ নয়, কিন্তু খারাপ হচ্ছে তার মানসিক চেতনা। সময়ের আগে, প্রয়োজনের অধিক তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। চেতনা পুষ্ট হতে পারেনা এভাবে। এভাবে শুধু তৈরী হয় লোভ, লালসা। চাহিদা এতটাই বাড়তে থাকে, যে কখনো সেটা পূর্ণ না হলে হিংস্রতার রূপ নেয়।


বাবা মায়েদের সময় ভীষণ কম। সন্তানদের খুশি করতে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে দামী দামী উপহার। কখনো এটা ভাবছে না যে সেটা তার সন্তানের বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত কিনা। সন্তানেরাও অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে এভাবেই।  বাবা মায়েরা, অনেক বাবা মায়েরাই সন্তানদের মন বুঝতে পারেনা। তারা নিজেদের মতো করে নিজেদের ইচ্চাগুলোকে সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে সেই সন্তানেরা মানসিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা তাদের জগৎটাকে অন্যদিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। একটু একটু করে বিশৃঙ্খল হয়ে ওঠে। পরে তারাই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সমাজে। বাবা মায়েদের উচিৎ সন্তানদের আদর্শ শেখানোর দিকে, মূল্যবোধ শেখানোর দিকে মন দেওয়া।  সন্তানদের কৌতূহল, প্রশ্নগুলোকে সরলভাবে উত্তর দিয়ে বোঝানো। শাসন করার মধ্যে অনেক তারতম্য থাকে। শাসন করা মানে শুধু মারা বা বকা নয়। শাসন কথার অর্থ সমস্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা আমি নিজে করবো, আমার আশ্রয়ে থাকা মানুষটা বা মানুষগুলোকে আদর্শ, মূল্যবোধ, সচেতনতা, সমৃদ্ধি এসবের প্রকৃত জ্ঞান দেবো। 
মায়া ওই দুই কালো চোখে, ভালোবাসার ছোঁয়া,
মুখের স্নিগ্ধ হাসি, ছোটদা'কে ছোঁয়া যেন দেশকে ছোঁয়া,
কালো কোটটাতে বাংলা মাটির গন্ধ,
আবিষ্ট করে মনকে হৈ চৈ, হুল্লোড়, গড়ে ওঠা বেলার স্মৃতিতে,
মনে করিয়ে দেয় ওই স্বপ্ন বাস্তব করতে যাওয়ার দিনগুলোকে। 
বিপ্লব যখন রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাড়ছে, 
মনের মধ্যে প্রতিবাদ ও সত্যের অন্বেষণ চারবেলা তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে,
প্রথম বিপ্লব ঘটানোর মুহূর্তেও ভরসা হয়ে থাকা এক মানুষ,
সে ছোটদা'ই হতে পারে। 


Monday, 1 August 2016

এক বছর নয়, দশ বছর নয়, শত বছর নয়,
আমি চাই যত বছর তুমি থাকো, তত বছর যেন আমি থাকি তোমার সাথে।

আগস্ট ২, ২০১৫। সকালে পায়েল আমাকে অপমান করেছিল, বলেছিল আমার কোনো যোগ্যতা নেই ওর সাথে কথা বলার। পিছিয়ে পড়া, সবার পিছনে থাকা মানুষদের মধ্যে আমি একজন। আমি কষ্ট পেয়েছিলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে এমন কথা শুনে সহ্য করতে পারিনি। কাওকে কিছু বলেছিলাম না। সারাদিন ভীষণ কষ্ট পেয়ে সেদিন তোমাকে মেসেজ করেছিলাম। আমার শরীর, মন থেকে শুধু কষ্ট ঠিকরে বেরোচ্ছিল সেদিন। তোমাকে দিদি বলে ডাকতাম তখন, আপনি ডাকতাম।  কষ্ট পেয়ে সেদিন আমি তোমাকে মেসেজ করে বলেছিলাম, "আমি ভালো নেই দিদি। আপনার কি? আপনি তো আর কথা বলবেন না। কেউ নেই আমার।" হঠাৎ দেখি রাত দশটার সময় তুমি আমাকে ফলো করছো। তারপর ১১:৩০ পি.এম এ আমাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালে। আমি চমকে উঠেছিলাম। আমি কি করবো কিছু বুঝতে পারছিলাম না তখন। সাথে সাথে আমি অ্যাকসেপ্ট করি। অনেকে তোমার ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের স্ক্রিনশট করে সেটা পোস্ট করে, অনেককিছু লেখে। আমি কিছুই করিনি সেসব। আমার মাথাতে আসেনি। আসত কিভাবে? আমি তো যেন স্বপ্ন দেখছিলাম সেদিন। সব কষ্টগুলো কোথায় হারিয়ে গেছিল, কিছু বুঝতে পারিনি আর।

আমি যখন খুব খারাপ একটা মানুষে পরিণত হচ্ছিলাম, খারাপ হয়েগেছিলাম, তখন নিজেকে সামলানোর অনেক চেষ্টা করছিলাম, পারছিলাম না নিজেকে সামলাতে। আই এস আই তে রিসার্চের সুযোগ পেয়ে আমি তখন থেকে নিজের মনকে যেন চেপে ধরেছিলাম, আর কোনো অন্যায় করবো না ভেবে। একের পর এক আমার মেয়েবেলা, ব্রম্মপুত্রের পাড়ে, নারীর কোনো দেশ নেই, আমি ভালো নেই - তুমি ভালো থেকো আমার প্রিয় দেশ আমার জীবন পাল্টাতে শুরু করে।  একটা আদর্শ, আদর্শের বেড়াজাল আমাকে ঘিরে ধরে। বেড়ার ওপারে খারাপ, এপারে ভালো। এই আদর্শ আমাকে বেড়ার ওপারে যেন খারাপকে স্পর্শ করতে দেবেনা। আমাকে সমাজের মূল্যবোধ শেখাতে শুরু করে। লজ্জা পড়েছিলাম ২০০৮ সালে। পড়েছিলাম কিছু জানার জন্য, কিন্তু বয়স কম থাকায় বিশেষ কিছু শিখতে পারিনি। কিন্তু আমি শিখেছি যখন মন থেকে শিখতে চেয়েছি, যখন আমার শেখার প্রয়োজন ছিল, আমি শিখেছি। এরপর যখন সেইসব অন্ধকার পড়লাম, আমি যেন পুরোপুরি মিশেগেলাম তোমার আদর্শের সাথে। প্রতিটা মুহূর্তে আমি অনুভব করতে শুরু করি তোমাকে, প্রতিটা মুহূর্তে আমি ভেবেছি যদি আমি তোমার সাথে থাকতে পারতাম সেইসময়। তুমি আমাকে সবসময় মনের জোর দিয়েছ, কথা বলে আমার উৎসাহ বাড়িয়েছ। আজ যত খারাপ, যত প্রলোভন আছে সব যদি আমার সামনে এসে দাঁড়ায়, আমি বেছে নেবো আমার আদর্শের পথকেই। সেই আদর্শ যা আমি তোমার থেকে প্রতি মুহূর্তে শিখেছি।

আজ সমাজ এত ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, বর্তমান প্রজন্ম মূল্যবোধ সম্পর্কে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল নয়, তোমাকে গালাগালি দেয়, তোমাকে খুন করার কথা ভাবে, তোমাকে ধর্ষণ করার কথা ভাবে, ওরা আসলে তোমার আদর্শকে কখনো বোঝার চেষ্টা করেনি। করেনি কারণ, এই আদর্শকে বোঝার আগেই ধর্মের গোঁড়ামি ওদের ঘিরে ধরেছে সমস্ত চেতনা জুরে। ওরা সেই গোঁড়ামিতে এতটাই বুঁদ হয়ে আছে, যে খুন, ধর্ষণ করার মতো অমানুষিক চিন্তাগুলো ওদের কাছে জলভাত হয়েগেছে। তোমার আদর্শ খুন করা শেখায় না, তোমার আদর্শ ধর্ষণ করতে শেখায় না। তোমার আদর্শ শেখায় মুক্ত চেতনা, ভালোবাসা। তোমার আদর্শ শেখায় যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করতে, মানুষ খুনের জন্য অস্ত্র ওঠাতে নয়।

যত সময় গেছে, আমি আমার মন থেকে তোমার আরও কাছে চলে গেছি, যেন চুম্বকের তীব্র আকর্ষনে আকৃষ্ট হয়ে ছুটে গেছি। আদর্শের নেশায় ছুটে গেছি। দিদি থেকে একদিন তোমাকে মেয়েমা বলে ডাকি, আপনি থেকে তুমি  ডাকতে শুরু করি। আমি যেন একাত্ম হতে শুরু করি তোমার সাথে। তুমি কখনোই আমাকে দূরে ঠেলে দাওনি, তোমার মনের কাছে পৌঁছতে আমাকে কোনো বাধা দাওনি। অবাধে আমি তোমার কাছে যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা পৌঁছেছি, বিনা দ্বিধায়। মেয়েমা ডাকার পিছনে আমার যে অনুভূতিটা ছিল তোমাকে নিয়ে, সেটা এই ছোট বাচ্চাটাকে উপলব্ধি করে এসেছিল। তাই তোমাকে মেয়েমা ডাকি।


ছোট্ট আদর মাখা মুখটা চাইত সব নিয়ম ভাঙতে,
ছিল স্বপ্ন চোখে, ঘর পেরিয়ে বাইরে যেতে,
নিয়ম শুধু নিয়মই ছিল বাবার ধমকানিতে। 

.....................................................................


বাড়ির দেওয়াল প্রাচীর ভয়ে কাঁপে,
শৃঙ্খলা পরায়নের শেকল বাঁধা পায়ে,
সমাজ ব্যবস্থার রীতিনীতি, আত্মসম্মান, বংশগৌরবের ইমারত বহন করে,
ধর্মের রক্ষাকবজ ঘিরে থাকে প্রতিটি ইঁটে। 
ছোট্ট মেয়েটি লজ্জা পায়। 

....................................................................



বয়স তখন চোদ্দ কি পনের,
মেট্রিক পরীক্ষার হাতছানি, সেকি ভীষণ রকম পড়াশোনা!!!
বাবার তৈরি নিয়ম, "শুধু খাও, পড়। ভোররাতে উঠে পড়, সারাদিন পড়,
গোটা বই বারবার করে পড়, প্রতিটা পাতা, প্রতিটা লাইন ঠোটস্থ করে ফেল।
বাড়িতে কেউ টু-শব্দটি করবেনা, করলেও ফিসফিস করে কথা বলবে।
সবার চোখের নজরবন্দি করে রাখ, ঘন্টায় ঘন্টায় খাবার খাওয়া চায় পড়তে পড়তে।"
এমনসব কড়া নিয়মে মেয়েটি হাসফাঁস করে ওঠে, তবু চুপ থেকে সব কথা শোনে। 



পরীক্ষার সময় উপস্থিত হলে বাবা এনে দেয় কোনো মন্ত্রপুত রক্ষা কবজ,
পরীক্ষার সময় পরে থাকলে নাকি, "সমস্ত পড়া মনে থাকবে, পরীক্ষা ভালো হবে।" 
মেয়েটি প্রতিবাদ জানিয়ে ওঠে, "পড়া মনে থাকলে এমনিই থাকবে, যা পড়েছি,
তাই লিখেদিয়ে আসবো।
বরং সেটি থাকলেই সব ভুল হয়ে যাবে।" 
বাবার জেদের সামনে হেরে গিয়ে তাকে কবজ পরতেই হয়। 
মাথার চুলের সাথে তাকে কবজ বেঁধে নিতে হয়। 
সে যে কি ভীষণ লজ্জার!!!
"চুলের সাথে কবজ পরে বাইরে বেরোবো, পরীক্ষা দেবো!!
বন্ধুরা তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে, সবাই দেখবে, হাসবে।" 
পরীক্ষা দিতে দিতেও মেয়েটির মন বারবার চলে যায় চুলে বাঁধা কবজটার দিকে,
বারবার কপালের সামনে এসে পড়ছে, খুব সাবধানে সে আড়াল করছে সেটা।  
সে ঠিক করে, "যত যাই হোক, কবজ আমি পরবো না।" 
বাড়িতে এসে বায়না ধরে, "কবজ বাঁধবো না, তাতে পরীক্ষা খারাপ হয়, হোক।" 
বাবার জোর জবরদস্তিতে তাকে আবারও সেটা বাঁধতে হয়। 

.......................................................................


মেয়েটির মনে অনেক প্রশ্ন। 
"আমার জন্ম কবে হয়েছে? কখন হয়েছে?
দাদা'দের জন্ম তারিখ, সময় সবকিছু বাবা লিখে রেখেছে,
আমারটা কোথাও লেখা নেই কেন?"
মেয়েটি জানতে চায় তার জন্মের তারিখ, সময়।
মা'কে জিজ্ঞাসা করে, পরিচিত মানুষদের জিজ্ঞাসা করে, নানিকে জিজ্ঞাসা করে,
বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন উত্তরে সে অস্থির হয়ে ওঠে। 
কেউ বলে "অমুকের জন্মের মাসে তোর জন্ম,
তো কেউ বলে মাথা উঁচিয়েছে তালগাছের মত, কুড়ি-বাইশ হবি।"
মেয়েটি ভাবতে থাকে, "ছেলেদের জন্ম তারিখ লেখা হয়, মেয়েদের কেন হয়না?"

.........................................................................


মেয়েটি অনেক অনেক নিয়ম ভাঙতে চায়, নিয়ম ভাঙতে তার ভালোলাগে। 
জিন্সপ্যান্ট পরতে চায়, গিটার বাজাতে চায়, প্রেম করতে চায়। 
নারীর প্রতি গড়া সমাজের সব নিয়ম ভেঙে গুড়িয়ে দিতে চায়। 
পরিবারের বাধা উপেক্ষা করেই সে প্রথম নিয়ম ভেঙে ফেলে,
বাড়িতে প্রথম গিটার এনে। 
ধ্যান, জ্ঞান সব গিটারটাই হয়ে ওঠে। 
গিটার কিনে বাজানো, নিজের শখ পালন করার অনুমতি পেয়ে সে বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়। 


.........................................................................


ধম্মটম্ম'কে কখনই সে তোয়াক্কা করেনা,
স্বপ্ন তখন আকাশ ছোঁয়া। 
খোলা আকাশে সে উড়তে চায়, বাতাসের ঘ্রাণ নিতে চায়,
গলি পেড়িয়ে বড়রাস্তার মাথায় সে একাই হাঁটতে চায়,
দৃষ্টান্ত হতে চায় সমাজ শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারীজাতির সামনে। 
উঁচিয়ে সে উঠবেই, ভরা যৌবনের রক্তের তেজ, মনে অদম্য সাহস'কে সে তুলে ধরবে,
বাঁচার মত করে বাঁচবে, পরাধীনতার দেওয়াল চুরমার  করে দেবে।



যত সময় গেছে, আমি তোমাকে আরও ভালোবেসে ফেলেছি। ভালোবাসার কোনো সীমা হয়না, ভালোবাসার কোনো হিসেবে থাকেনা।

তুমি কোন সাগরের জল বয়েছ আমার হৃদয় মনে,
বিবশ করেছ আমায়, আমি নাই আমার অন্তরে,
চেতনা জুরে শুধু দেখি তোমার ঢেউয়ের উতলে ওঠা, যা আছে সব
ঠেলে নিয়ে যাও, আবার ফিরে আসো সময় গুনে,
নাই কোনো বিরাম বয়ে চলো অবিরাম, উথালপাথাল করে।
চেয়ে থাকি সারাদিন, মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি,
মনে মনে তোমার গভীরতা মাপি,
ভুল হয়ে যায় সমস্ত হিসাব,
অক্লান্তিতে গুনে যাই।

পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব মাপাও সম্ভব,
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বও মাপা সম্ভব,
যা আছে এই মহাজাগতিক বিশ্বে-
সবই এখন হাতের নাগালে,
শুধু মাপা যায়না তোমার মন,
তোমার গভীরতা।

অনুভূতিতে শুধু উপলব্ধি করতে পারি
তুমি আছ হৃদয়ের প্রতিটা কোষে,
তুমি আছ আমার চেতনা ছুঁয়ে,
আদর্শে আদর্শে।
প্রতিটা শিরাতে, ধমনীতে বয়ে চলেছ আমার রক্তবহে,
প্রতিটা প্রশ্বাসে তোমায় গ্রহণ করি অক্সিজেনে,
ভিতরে আমার যত আছে ভয়, বেরিয়ে যায় নিঃশ্বাসে।
তুমি শোধন করো আমায়, বেড়াজালে বেঁধে রাখো,
বেড়ার ওপারে ভয়-
আমি ছুঁতে পারিনা।

কি এমন মায়া-
তোমার গভীরে মেয়েমা!


সারাজীবন, যতদিন বাঁচি, আমি তোমার অনুভূতিতে বাঁচতে চাই।  সারাজীবন আমি তোমার স্নেহের ছোঁয়াতে বাঁচতে চাই। 


সারাক্ষণ তোমাকে ছুঁয়ে থাকি, 
অনেক দূরে থেকেও তুমি কি বুঝতে পারো আমার অনুভুতি?
গোটা পৃথিবী জুরে তুমি দাপিয়ে বেড়াও, স্বমহিমায় তুমি মুগ্ধ করো অগণিত মানুষকে,
অনেক দূরে থেকে একটা মানুষ, তোমাকে যারা ভালবাসে তাদের পিছনের সারিতে পড়ে থাকা,
এক নিতান্ত সাধারন কেও তোমাকে নিয়ে রোজ নতুন নতুন স্বপ্ন বাঁধে,
তোমাকে অনুভব করে, গায়ে মেখে, মনে মেখে একটু একটু করে গড়ে ওঠে রোজ,
তুমি কি বুঝতে পারো এই মানুষটার ভালোবাসার অনুভুতি?


বড্ড অধিকারবোধ গড়ে উঠেছে আজকাল,
মনের ভিতরে সমস্ত কুঠুরিতে শুধু স্নেহের ছোঁয়া অনুভব করি নিরন্তর,
বড্ড পাগল পাগল লাগে নিজেকে,
আমি বেঁচে থাকি শুধু স্বপ্নগুলো নিয়ে।
বারবার তোমাকে কথা ছুঁইয়ে দিই, অপেক্ষা করি রোজ তোমার একটু কিছু বলার জন্য,
যখন তোমার সেই স্নেহ ভরা কথা দেখতে পাই,
আমি ভরে উঠি কোনো অমৃত সুখে। 

যেদিন তোমাকে সামনে পাবো,
আমি জানিনা, ঠাওর করতে পারিনা সেদিন কিভাবে নিজেকে প্রকাশ করবো,
বুকের দেওয়ালগুলো এখনই কেঁপে ওঠে সেদিনের কথা যখন কল্পনাতে ভাসে,
আমি কি লাফাবো! আমি কি তোমার চারিদিকে গোল গোল হয়ে ঘুরতে থাকবো!
আমি কি নেচে উঠবো নাকি তোমাকে ছুঁয়ে, জরিয়ে ধরে বা কোলে তুলে নিয়ে
খুব জোরে জোরে হাসবো! 
এখনও বিস্ময় লাগে ভাবলে, সেদিন আমি কি করবো! 
তোমাকে কাছথেকে দেখা, কাছে গিয়ে ছোঁয়াতেই যেন পৃথিবীর সব সুখ সব প্রাচুর্য,
তোমার স্নেহ পাওয়াতেই যেন সব পাওয়া,
চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেব থাকতে নেই আর কোথাও কখনো,
তোমার বাইরে আমার সব চাওয়া, পাওয়া শেষ হয়ে যায়। 
আমি তোমাকে শুধু একটু প্রাণ ভরে ছুঁতে চাই,
দূর থেকে অনুভব করি, একটু কাছে গিয়ে তোমাকে ধরে অনুভব করতে চাই,
তোমার নাড়ির স্পন্দনের সাথে আমার নাড়ির স্পন্দন মিশিয়ে দিতে চাই যেন
প্রবাহিত হোক আমাদের রক্ত একই গতিতে,
আর আমার চাওয়ার কিছু নাই।

ভালো থেকো মেয়েমা। সুস্থ থেকো সবসময়। আমার জন্য সবসময় স্নেহ ধরে রেখো। 
বিদায়।
সৌম্যজিৎ।

মুহূর্তে মুহূর্তে নিঃশ্বাস পড়ছে বড় বড়,
সময় বয়ে চলেছে, আর কতক্ষন!
বিদায় আমার প্রিয় ঘর।
আমি আর খেলবো না বল নিয়ে তোমার দেওয়ালে,
আমি আর ছোঁবো না তোমার প্রতিটা দেওয়াল, মেঝে,
আমার বইগুলো আর জায়গা করে নেবে না তোমার বুকে,
ওরা নতুন ঠিকানা পেয়েছে।
আমার খুব মনে পড়ছে প্রথম দিনথেকে তোমার সাথে
আলাপ হওয়ার মুহূর্তগুলো,
আমার মনে পড়ছে কি ভীষণ বৃষ্টিতে ভিজে তোমাকে নিজের করে নিতে
আমি সেদিন এসেছিলাম,
প্রথম তোমার বুকে আমি পা রেখেছিলাম।
কাল সেই পথে আমি বিদায় নেবো, তুমি অন্য কারোর হয়ে যাবে কাল থেকে,
মনে থাকবে আমাকে?
তুমি কখনো মনে করবে তোমার মধ্যে আমার কথা বলার শব্দ, নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ,
আমার কবিতা পড়ার শব্দ বা বিজ্ঞানের ফর্মুলা উচ্চারণের শব্দ?
আমি তোমাকে মনে করবো কিন্তু প্রতিটা সময় ধরে,
যখন যখন আমি কবিতা লিখবো, কবিতা পড়বো, ফর্মুলা উচ্চারণ করবো, নিঃশ্বাস ফেলবো,
আমার মনে পড়বে তোমাকে।
নতুন মানুষদের ভালো রেখো,
তুমি ভালো থেকো আমার প্রিয় ঘর।
বিদায়।