Monday, 30 May 2016

যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন, তোমায় সেলাম।
সৌম্যজিৎ।

লড়াই, জীবন, কষ্ট বড় রাস্তা,
লড়তে কোনো বাধা নাই,
ভেঙে পড়ি, গড়ে উঠি, ছাড়বো না হাল,
লড়াইতেই জীবনের সুখ যেমন,
তা আর কিছুতেই নাই।

হাজারও মানুষ হাজারও কষ্টে,
আতঙ্কে আস্তানা তাদের,
তারা বাঁচে লড়াই করে, আমি বড়ই সুখি।
যখন দেখি তসলিমা নাসরিনের জীবন,
আগুন স্পর্শে কাটানো জীবন,
পদে পদে ভয়, মৃত্যু ভয়, ধাওয়া করে বেড়ায়,
লড়াইই তাকে দেবে নৈতিক জয়,
আমি বড়ই ক্ষুদ্র প্রাণী,
আমি বড়ই সুখি।

লক্ষ কোটি মৌলবাদের সামনে একাকি এক নারী,
একাকি এক যোদ্ধার মত লড়ে গেছ,
ঘর ছাড়া হয়েছ, ঘুম খিদে উড়ে গেছে,
আপোষহীন যোদ্ধার লড়াই ছেড়ে আসনি চলে,
বারবার লড়েছ, বারবার মৃত্যুকে সাথে নিয়ে চলেছ,
আমি শিখেছি সেই লড়াই তোমার থেকে।
তোমাকে আমার সেলাম।

তসলিমা শুধু সকল নারীর কান্না ধ্বনিই নয়,
তসলিমা মানে চেতনা, তসলিমা আমার আদর্শ,
সমস্ত তরুন প্রজন্মের রক্ত গরম করে দেওয়া নাম এই তসলিমা নাসরিন,
তসলিমা মানে বিপ্লব,
তসলিমা মানে কলমাস্ত্রের ধার,
তসলিমা মানে মানবতা,
তসলিমা আমাদের অনুভুতি, তসলিমা আমাদের ভালবাসাও।
যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন- তোমায় শত কোটি সেলাম।

Sunday, 29 May 2016


প্রকাশ।
সৌম্যজিৎ।
(মীনাক্ষী'কে)।


আকাশ ডরায় কালো মেঘে,
নীল মুক্ত শরীরে কালো ছায়া,
হঠাৎ এল বাদল ধারা,
সেকি হাসি আকাশ চোখে!
কচুপাতার মুক্তখানি,
স্নিগ্ধ রুপোর ঝলকানি,
যেমন ছিল অপেক্ষা তার,
প্রকৃতি সুন্দর রূপ দেখাতে।
ভুলে যায় তার বিষাক্ত রোম,
আপন মনে খেলা করে,
বৃষ্টি সাথে প্রেম করে।
তেমন আমি রয়ি আজ,
রয়েছি তোমার প্রেম ঘোরে,
অপেক্ষা শুধু তোমার পথে,
চোখের কালো মণি মোহরে।
দিলাম আমার ভালবাসা,
মুঠো ভরে দিলাম তোমাই,
প্রতিদানে কি আর দেবে!
দিও শুধু ভরসা আশ্রয়।

বড্ড প্রেমে প্রেমে প্রেমময় এ জগৎ,
যতই ভাবি দূরে থাকি, দূর হয়না ভালবাসা,
বারেবারে পড়ি, ব্যর্থ হয়ে সমুদ্রে হাবুডুবু খাই,
আবারও প্রেমের হাতছানি।
দূর হয়েও দূর হয়না, কাছে এসেও কাছে যেতে দেয়না,
আমি প্রেম পূজারী। 

Friday, 27 May 2016

তোমার দুটো চোখে আমি জীবন দেখি,
তোমার ছোঁয়াতে আমি স্নেহ খুঁজি,
আদর্শ যখন ঘুম ভাঙা সূর্যের দিকে,
এক ফালি লাল টিপে আমি তোমাকে দেখি।
করজোড়ে তোমাকে যখন প্রণাম করি,
তোমার উষ্ণ ছোঁয়া আমি গায়ে মাখি,
সাত সমুদ্র তের নদীর ওপার থেকেও তুমি আমাকে ছুঁয়ে যাও,
আমি তোমাতেই আমার শক্তি দেখি।
 (আমার মেয়েমা'কে)।


এইযে তুমি মা মা সাজে
ভালোবাসা আর স্নেহ জুরে জুড়েছ কত পথ চলা মুহূর্ত!
এই যে তোমার পাশে থাকা, ভরসা হয়ে ওঠা বন্ধুত্ব
হারিয়ে দিয়েছে অনেক অন্ধকার সব ছায়াকে,
অগ্নি উৎসকে তুমি আগলে রেখেছ দুহাত বন্ধনীতে,
তোমার মমতার আঁচল দিয়ে।
 (ইয়াসমিন দিদি'কে)।
আঁধারে আলো।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিনকে।
সৌম্যজিৎ।

মুহূর্তে নিঃশ্বাস পড়ে ঘন ঘন,
বইছে সময়, ঘুরছে কাঁটা বড় দ্রুত,
বুক দুরুদুরু কম্পনে সারা শরীরে শিহরন,
চিন্তাজুরে শুধু সময়কে অনুরোধের সুর আরেকটু পিছিয়ে চলো তোমরা -
আমি বাঁচতে চাই।
আমি বাঁচতে চাই প্রাণ খুলে ব্রম্মপুত্র তীরে,
আমি বাঁচতে চাই আমার মায়ের আঁচল বিছান কোলে,
আমি বাঁচতে চাই।
ক্লান্ত মনের ক্লান্তিতে আমি ঘুমাইনি কত রাত!!
শরীর জুরে অচলতা আমি চলছি শুধু চলতেই,
নাই খিদে, নাই ঘুম, নাই হাজারও সে স্বপ্ন,
সব আজ ওই একটু বাঁচতে চাওয়াতেই ফুরিয়ে গেছে ।
দ্রুত বয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা আমার নাই সাধ্য তাকে থামানোর।
কি দোষ ছিল আমার?
হাজারও নারীর প্রতি হওয়া, হয়ে যাওয়া, করে যাওয়া অত্যাচার-অন্যায়তে
আমি চেয়েছিলাম নারী জাগরন।
আমি চেয়েছিলাম নারী হোক নিজের স্পর্ধায় চলা সেই পথিক যে -
নিজেই নিজের অবলম্বন,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন দাস হয়ে না থাকে,
আমি চেয়েছিলাম নারী যেন সূর্যদিকে বা অন্ধকারে চলে দ্বিধাহীন,
নারী চেতনা!! - নারীর বিস্ময় না হয়ে বাস্তব হোক,
প্রার্থনা নয় চেয়েছিলাম অধিকার ছিনিয়ে নিতে।
প্রতিবাদ মুখর হয়েছিলাম লেখা দিয়ে,
লড়তে চেয়েছিলাম শরিয়তির নিয়ম পাল্টাতে,
আমি লড়েছিলাম একটা সমাজের মত সমাজ গড়তে,
ওরা উস্কে দিল সেই সমাজকেই আমার পিছনে।

ওরা আমাকে ঘর ছাড়া করে দিল,
আমিই যে আমি প্রাণ চঞ্চল ছোটাছুটি করে বেড়াতাম,
আমিই আজ ঘরছাড়া উস্কখুস্ক চুলে, দিনের পর দিন নাই স্নান,
খাওয়া জোটে - জোটেনা, শুধু পথ চেয়ে থাকি একটু মুক্তির আশায়।
একটু ভরসা, কেউ এসে বলবে, কেউ বলুক, "তসলিমা, -
তুমি মুক্ত। ছুটে যাও ওই বাজার খোলা রাস্তা দিয়ে, দৌঁড়ে ডিঙিয়ে পার করো -
এক এক ধাপ। জড়িয়ে ধরো মার গলা, বাবার বুকে আশ্রয় নাও,
দাদা'দের জড়িয়ে ধরো, চিৎকার করে কাঁদো বোনকে চেপে ধরে,
পরমা, ভালোবাসাকে বুকের মধ্যে নিয়ে প্রাণ ভরে শ্বাস নাও তসলিমা।
আজ যে তুমি মুক্ত!"
দিন যায়, রাত যায়, আমাকে শুধু নিরাপদ আশ্রয়ে আশ্রয় খুঁজে -
দান গ্রহন করে, পরনির্ভর হয়েই বাঁচতে হয়।
তসলিমা- যে আমিই নারীমুক্তি ঘটাতে চেয়েছি,
স্বনির্ভরতার বিশ্বাস জোগাতে চেয়েছি,
আমিই সেই তসলিমা আজ দিন কাটাচ্ছি পরনির্ভরে, প্রাণ বাঁচাতে।
ওরা কেন আমাকে নির্ভরতা দেবে?
ওরা তো আমার কখনো কেউ ছিলনা।
ওরা শুধু কেউ কেউ আমার কোথাও পরিচিত মাত্র।
আত্মীয়-বন্ধু যা ছিল সবাই তো সরে গেছে,
ওরা সরেনি। কখনো কেউ না হয়েও ওরাই আজ আমার সব,
আমার রক্ষা কর্তা।
আমার বিপদ যেন ওদেরই বিপদ,
ওরা যেন নিজেদের বাঁচাতেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রাণপণে।
লক্ষাধিক মৌলবাদের সশস্ত্র আন্দোলনকে পাত্তা না দিয়েই ওরা লড়ছে।
দিনের আলোতে, রাতের অন্ধকারে সন্তর্পণে আমাকে রক্ষার লড়াই লড়ছে।

একটু মুক্তির আশা,
জামিন মুক্ত হওয়ার আশা -
দরজাতে কড়া নাড়তেই আমি যেন অন্ধকার থেকে জেগে উঠি,
মুহূর্তেই আমাকে থামিয়ে দিতে চাই সেই মুক্তি আবার অন্ধকারে।
শর্তাধীন জামিন!
আমাকে আমারই দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে!
এই দেশ আমার,
এই দেশকে ঘিরেই আমি নারী চেতনা জাগাতে চেয়েছি,
এই দেশেই আমি বড় হয়েছি, পরিচয় পেয়েছি,
এই দেশেরই মাটির গন্ধ আমার শিরায় শিরায় বইছে,
এই দেশেরই নাম আমার রক্তস্রোতে বইছে,
এই দেশকেই কিনা ছেড়ে যেতে হবে!
কেন? কি অপরাধ করেছি আমি?
কেন এই শাস্তি!

আদালতে উপস্থিতিতেই আমাকে জামিন মুক্ত হতে হবে,
বুকের মধ্যে টিপটিপ, ঢিপঢিপ।
মৃত্যু শুধু ওৎ পেতে বসে আছে, আমার পানে চেয়ে হাসছে,
জিজ্ঞাসা করছে, "কোথায় মরবি?"
আমি জানি আমার মৃত্যু হবেই।
সাদা টুপিওয়ালারা রাস্তা ঘিরে আছে, হাজারও, লাখো।
ওরা আমাকে বাঁচতে দেবেনা।
তবু যদি একটা সুযোগ পাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে!

মাথা, চুল ঢাকা -
আমার কাছে যেন মাথা শরীর থেকে নেমে পড়ার সমান,
আমি পুরো ঢাকা।
আদালত চত্বর লাখে লাখে সাদা টুপিওয়ালারা ঘিরে রেখেছে,
চিল-শকুনের মতো তসলিমাকে ছিঁড়ে খাবে।
আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো,
একটুও নড়বো না।
ওরা আমার শরীর ক্ষত, বিক্ষত করে শেষ করে ফেলুক,
ওরা আমার বিশ্বাসকে মারতে পারবে না।
এই বিশ্বাসেই মানুষ জেগে উঠবে,
আমি আজ হেরে যাবো,
হেরে গিয়েও আমিই জিতবো।
জিতবে আমার আদর্শ।

Wednesday, 25 May 2016


স্বপ্ন খুঁজি রওডন স্ট্রিট বাড়িটাতে। কেয়ার অফ বাংলা।
সৌম্যজিৎ।

উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন'কে।


বাংলা তুমি মানুষ গড়ো, সন্ত্রাস পাক নির্বাসন,
বাংলা তুমি গর্ব হও, খর্ব কোরো না বাংলার আসন,
বাংলা তুমি বেঁচে থাকো যুগে যুগে সেই মাটিতেই,
বাংলা তুমি তৃন হও, তুমি হও স্নেহের কোল ।
বাংলা ছিল মমতা ভরা, মাতৃ স্নেহের বৃক্ষ ছায়া,
বাংলা আজ খুনের ভূমি, সন্ত্রাসেতে অগ্নিক্ষেত্র।

বাংলা আজ সর্বনাশা,
বাংলায় নাই মুক্ত বাতাস,
চারিদিকে পরাধীনতা,
আজ বাংলায় তুমি নাই।


বাংলা আমার প্রথম ভাষা,
স্বপ্ন দেখা, ভালোবাসা,
সেই বাংলা কোথায় গেল,
যেমন বাংলা তোমার ছিল?
এই বাংলা তোমার নয়,
এই বাংলা আমার নয়,
আজ শুধুই অভিমান আর ক্ষোভ,
চোখ জুরে আশ্রয় নেয়।


খুঁজি এখনও মানুষটাকে,
রওডন স্ট্রিটের বাড়িটাতে,
দেওয়াল জুরে তোমার ছোঁয়া,
গভীর বুকে ক্ষত করে।


বাংলা আজ বাংলায় নাই, বাংলা আমার আতঙ্ক,
এই বাংলা আমার ছিল যখন তোমার গন্ধ পেতাম,
বাতাস জুরে ঘ্রাণ নিতাম, তোমার কাছে ছুটে যেতাম,
এই বাংলা আমার হত, যদি তোমার ছোঁয়া পেতাম,
এসব এখন বড্ড অলীক, মুছে যাওয়া স্বপ্ন লাগে,
স্বপ্নেই আজ জীবন বাঁচি, বাস্তবকে বড় দূরের লাগে।
ও আমার ছোট বোন ঐন্দ্রিলা। ছোট বোন! আমাদের মধ্যে দাদা, বোনের সেই মাপা সম্পর্কটা কোনোদিনই গড়ে ওঠেনি। বরং বন্ধুর থেকে অনেকটা বেশিই কিছু। প্রথমত আমি সবার সাথে যেমন ভদ্রতাসম্মত আচরণে অভ্যস্ত, ওর ক্ষেত্রে আমি অনেকটা ভিন্ন মানুষ। ঔ তাই। ছোট ছিল, একটু বোকা ছিল, একটু বেশিই মিষ্টি ছিল। বড় হওয়ার সাথে সাথে এখনো সেই বোকাই আছে, তবে আধুনিক স্বভাবটা রপ্ত করে ফেলেছে বেশ। স্মার্ট। ভীষনই স্মার্ট। বাইরের জগতে চলে অভ্যস্ত। প্রতিবাদী। মুখের ওপর কথা বলে দিতে পারে ভাবনা চিন্তা না করেই। ঘরে দমে থাকার মেয়ে ও কখনই নয়। ঠিক আমার পপি দিদির উল্টোটা। ওর সাথে বন্ডিংটা এমনই, মাঝে মাঝেই মন কষাকষিতে আমাদের কথা বন্ধ হয়ে যায়। কখনো দুমাস, কখনো পাঁচ মাস বন্ধ থাকে। কে প্রথম কথা বলে সেটা আমি বলবোনা। তবে ও যেমন স্মার্ট তেমনই ভীষণ সরল ও দয়ালু প্রকৃতির। আমার যখন ব্রেক আপ হয় পায়েলের সাথে, সময়টাতে আমি ভীষনই ভেঙে পড়েছিলাম। ও মারাত্মকভাবে আমাকে ভরসা জুগিয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেছিল সম্পর্কটা ঠিক করে দিতে, কিন্তু সেটা হওয়ার ছিলনা। আমিই পিছিয়ে এসেছিলাম শেষ পর্যন্ত। ওকে নিয়ে একটা দিকে নিশ্চিন্ত, পৃথিবীতে এমন কোনো পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ মনেহয় নেই যে ওকে দমিয়ে দিতে পারবে, বরং আমার বোন একাই যথেষ্ট সেই পুরুষকে নাকে দড়ি বেঁধে ঘোরাতে। খুব ভালো গান করে। দারুন আওয়াজ ওর কন্ঠে ! তবে এতটাই ফাঁকিবাজ যে ভালো গানের কন্ঠ পেয়েও সেটাকে নষ্ট করে ফেলছে। আমার মনেহয়, পড়াশোনা বা ছবি আঁকা বা অন্যান্য জায়গাগুলোর থেকে যদি গান নিয়ে বেশি ভাবে, তবে পশ্চিমবঙ্গ একজন ভালো গায়িকা পেতে পারে সামনেই। 

Sunday, 22 May 2016

আজ বড় গুমোট হাওয়া,
আজ মনে উদাসী বাদল ঝর ঝর,
বইছে বুকে কাঁপছে থর থর,
কিসের এ ভয়!

অনুকম্পা তুমি কেন এত অস্থির?
খেয়ালী তুমি ঘুরে বেড়াও এ জগৎ সে জগৎ,
তোমার নেই কোনো ঠিকানা।
ওই দেখো সামনে ঝড়ের হাওয়া ধেয়ে আসছে,
তুমি একটু স্থির হয়েই বসো, ঝড় তোমাকে উড়িয়ে দিতে পারবেনা।
অস্থির ছোটাছুটি করলেই তুমি উড়ে যাবে, হারিয়ে যাবে, তলিয়ে যাবে,
তুমি তো হারতে চাওনা।
তুমি কখনই হারিয়ে যেতে চাওনি, তবে আজ সে লগ্ন উপস্থিত,
একটু স্থির না হলেই তুমি যে হারাতে বসেছ সব..


পাচ্ছি, পাচ্ছি....
না। কিছুই পাচ্ছিনা আমি কিছুই পারছিনা।
দুহাত শক্ত করে, শরীরে যতটুকু পারি আরষ্ট থেকে,
মন ও শরীরের সবটুকু জোরকে আমি জুড়তে চাইছি,
এই মনেহচ্ছে হবে হবে,
মুহুর্তেই হারিয়ে ফেলছি খেই...

"অনুকম্পা তুমি বড্ড অস্থির।"

........................................................সৌম্যজিৎ। 
শবে বরাত এর মাধ্যমে ওরা আল্লাহপাকের কাছে নিজেদের খুন, ধর্ষণের ক্ষমা প্রার্থনা করুক মনে মনে। শাপমুক্ত হোক। আমি তোমার কাছে আমার একটা ভুলের ক্ষমা প্রার্থনা করতে চাই সবার সামনে। কারণ তুমি আমার প্রাণ প্রতিমা।  "অন্ধকার সেইসব" পড়ার পর আমি "তসলিমা নাসরিনের জীবন থেকে, চেতনার পথে" লিখেছিলাম গতকাল রাতে ঘুমের ঝোঁকে। ওখানে আমি শরিয়া সংশোধনের পরিবর্তে ভুল করে শরিয়া সংস্করণ লিখে ফেলেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করো। যখন আজ ভুলটা চোখে পড়ল, আমি ঠিক করে দিয়েছি তখনই। আনন্দবাজার পত্রিকা ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তোমাকে নিয়ে লিখে পাঠানো চিঠিগুলোর কোনো উত্তর আমি পাইনি কখনো। এই লেখাটা আমি আবারও পাঠাবো চিঠি লিখে আনন্দবাজারে। ছাপাবে কিনা জানিনা, ওরা তো আবার রেপুটেড মানুষের লেখা ছাড়া ছাপাতে চাইনা। কিন্তু আমি চাই সমাজ দেখুক, অন্যায়ের প্রতিবাদ ইচ্ছা থাকলেই করা সম্ভব, একটু উদ্যোগ নিলেই। আমি চাই লেখাটা সবার চোখে পড়ুক। 

Saturday, 21 May 2016


তসলিমা নাসরিনের জীবন থেকে, চেতনার পথে।

সাম্প্রদায়িকতা কি? ভিন্ন সম্প্রদায় গোষ্ঠী দন্দ্ব। সম্প্রদায় যেমন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা জৈন প্রমুখ নিজ নিজ ধর্মের ভিত্তিতে যেসব গোষ্ঠী গঠন করে, তাদের মধ্যে নিজ গোষ্ঠী, নিজ ধর্মকে সামনে তুলে ধরতে অন্য গোষ্ঠিগুলোকে ছোট করা বা ধ্বংস করার নীতিই হল সাম্প্রদায়িকতা।

তসলিমা নাসরিন লিখিত লজ্জা গ্রন্থটি ছিল বাংলাদেশের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। ধর্ম নিয়ে মাথা ব্যথা উনার কখনই ছিলনা। যে মানুষটা কোনদিন ধর্মে বিশ্বাসই করেননি, সেই মানুষটা খামোকা ধর্ম নিয়ে কেনই বা মাথা ব্যথা করতে যাবেন? কিন্তু লজ্জা'কে বাংলাদেশের মানুষজন বিশেষ করে মৌলবাদ্গন অন্যরকম একটা চাদরে মুড়ে দিয়ে বিবৃতি দেয় যে লজ্জা মানুষের ইসলামীয় অনুভুতিতে আঘাত করছে। অবিলম্বে গ্রন্থটি নিষিদ্ধ করা হোক ও লেখিকার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। ধর্ম অপরাধী বলে ঘোষণা করা হয় লেখিকাকে। আরও প্রচার চলতে থাকে যে ভারতের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক নীতি পালনকারী ইসলাম বিরোধী বিজেপি নাকি "লজ্জা" লিখতে লেখিকাকে মোটা অঙ্কের মূল্য চোকায়। কথাটার সত্যতা সম্পর্কে কোনো সঠিক প্রমাণ না থাকার সত্বেও এটাই প্রচার হতে থাকে। যেহেতু লজ্জা সম্পর্কে মানুষের মনে একটা ভুল ধারণা তৈরী হয়, মানুষ তসলিমা বিরোধী যেকোনো মন্তব্যকেই বিশ্বাস করতে থাকে। ইতিমধ্যে ভারতের স্টেটসম্যান এর এক সাংবাদিকের সাথে লেখিকার একটা ইন্টারভিউতে শরিয়া আইন নিয়ে কথা হয়। লেখিকা মন্তব্য দেন শরিয়া আইনের সংশোধন চান, কিন্তু ওই সাংবাদিক শরিয়া আইনের সাথে কুরআনকে গুলিয়ে ফেলে এবং কাগজে ছাপিয়ে দেন লেখিকা নাকি মন্তব্য করেছেন কুরআনের সংশোধন চান বলে। আদৌ লেখিকা কুরআন সম্পর্কে এমন কোনো মন্তব্য করেনি সেটা তিনি বারবার প্রকাশ করেছেন। এই একটা ভুল মন্তব্য থেকে গোটা বাংলাদেশ জুরে লেখিকার নামে ফতোয়া জারি হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মৌলবাদ্গন দেশজুরে মিছিল করে তসলিমা নাসরিনের ফাঁসি চায় দাবি তুলে। নানারকম হুমকি আসতে থাকে লেখিকার কাছে, এবং পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হতে থাকে যে লেখিকাকে আত্মগোপন করতে হয় বিভিন্ন্ জায়গাতে। সেসব আত্মগোপনে থাকার ভয়াবহ দিনগুলো যে লেখিকার কিভাবে কেটেছে, সেসব জানলে সাধারণ জীবনে যেকোনো মানুষই শিউরে উঠবে।  "অন্ধকার সেইসব" গ্রন্থটিতে লেখিকা সেইসময় লেখা ডায়েরিটা তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের মত ইসলাম প্রধান দেশে, যেখানে ইসলামই আইন, ইসলামই কানুন সেখানে যদি মানুষের মনের ইসলামীয়  অনুভুতিতে আঘাত লাগে, সেটা মুছতে যে কি ভয়ঙ্কর দমননীতি তারা গ্রহণ করে, লেখিকা তাতে চরম ভুক্তভুগী।  আসলে এটা ওদের কাছে ইগোর লড়াই, নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে। ইসলামকে আঘাত হানাটা বড় কোনো ব্যাপার নয় বরং বড় ব্যাপারটা হল তাদের অস্তিত্ব বোঝানো। স্বাধীন চিন্তাবিদ, স্বাধীনতা ইসলামে হারাম। এসব করতে গেলে গোটা ইসলাম সাম্রাজ্যের মৌলবীগণ কেটে টুকরো টুকরো করতে বা মুন্ডপাত করতে দ্বিধাবোধ করবেনা তবু এই খুনোখুনির স্পর্শেই ইসলাম তাদের শ্রেষ্ট ও পবিত্র ধর্ম। এটা ভিন্ন আর সবই অপবিত্র। তসলিমা নাসরিন বলেছিলেন, কুরআন মানুষের সৃষ্টি। এই নিয়ে বিতর্ক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আমি বলছি, কুরআন কি আকাশ থেকে পড়েছিল বা মাটি ভেদ করে বেরিয়েছিল? কুরআন, গীতা, বাইবেল সহ সমস্ত ধর্মগ্রন্থই মানুষেরই সৃষ্টি। কোনো অদৃশ্য শক্তি এসে তৈরী করে দিয়ে যায়নি। তসলিমা নাসরিন বলেছিলেন শরিয়ার সংশোধন প্রয়োজন, কুরআন কে সংশোধন করা সম্ভব নয়। আমি বলছি, যদি প্রয়োজন পড়ে, মানুষের স্বার্থে যেকোনো ধর্মগ্রন্থকেই পরিবর্তন করা যায়। মৌলবীগণ দাবি তুলেছিল তসলিমা নাসরিন মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করছে, তরুণ সমাজে নাশকতা ছড়াচ্ছে। আমি বলছি মানুষের মনে আজ নাশকতা ছড়াচ্ছে ধর্মগ্রন্থগুলো। কারণ সাম্প্রদায়িকতার উৎস ধর্মগ্রন্থ। অনেকেই বলছেন তসলিমা নাসরিন নাকি মৌলবাদদের উস্কানি দিয়েছেন লজ্জা লিখে। লজ্জা লেখা নাকি উচিৎ হয়নি। লেখক কি লিখবে না লিখবে সেটা কি তোমাদের ধর্ম ঠিক করে দেবে?  ৭১ এর আগে কি তোমাদের মধ্যে মৌলবাদ ছিলনা? মৌলবাদ কে তোমরা অহংকার ভাব। দেশদ্রোহী রাজাকারগুলো মৌলবাদদের সাথে মিলে গেল, গোটা দেশ জুরে এক নিরীহ লেখকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করল, হিংসা তৈরী করল, খুনোখুনি করল, হতাহত হল, আবার তারাই পরবর্তীকালে রাজনীতির আড়ালে চলেগেল, এগুলো কি তসলিমা নাসরিন তৈরী করে দিয়েছিল? যেখানে রাজাকার খুনিগুলো বছরের পর বছর বেঁচে থেকেছে, এখনও অনেকে বেঁচে আছে, তারা যুদ্ধপরাধী। সেইসব বেইমান গুলোর দোষের থেকে একজন সত্যি লেখা, সত্যিকে তুলে ধরা লেখিকার দোষ কি এতটাই বেশি যে মৌলবাদী, রাজাকার মিশে মিছিল করল আর তোমরা গোটা দেশ মিলে সেটাকে সমর্থন করে গেলে! ইসলাম সত্যিই শান্তির ধর্ম। এখনও খুনোখুনি হচ্ছে। সজাগ হও। মানুষ মারতে প্রতিবাদ নয়, প্রতিবাদ কর মানুষ বাঁচাতে। ওটাই প্রকৃত ধর্ম। বাকি রইল মানুষ সৃষ্ট  ঐসব ধর্মগ্রন্থ! জানবে, ওসব মানুষেরই তৈরী। মানুষের স্বার্থে, প্রয়োজনে ওগুলোকে ধ্বংসও করা যায়। ধর্ম তোমাদের মনে, কোনো ধর্মগ্রন্থে নয়। মানুষ ধর্ম গ্রহন কর। ধর্ম মানে অলৌকিক কিছু নয়।  ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ।

সৌম্যজিৎ। 

Friday, 20 May 2016


চেতনার জনক তসলিমা নাসরিন। তোরা অর্থহীন।
সৌম্যজিৎ।


তসলিমা নাসরিন কখনো ভুল ছিলনা।
ভুল ছিলে তোমরা।
জাতির নামে উস্কানি, নাশকতা করেছ তোমরা,
প্রতিবাদী কন্ঠকেও থামাতে তোমরা নিরস্ত্রকে আঘাত হেনেছ,
সর্বস্য কেড়ে ভেঙে কুঁকড়ে দিয়েছিলে। 
জাতীয় চেতনার জনক তসলিমা নাসরিন। 
তোমরা হার্মাদ। তোমরা খুনি। 
লেখকের লেখাকে থামাতে তোমাদের অস্ত্র শুধুই প্রাণনাশ,
কলমাস্ত্র ব্যবহারের শিক্ষা তোমাদের কোনোকালেই ছিলনা,
ছিল শুধু হিংসা, ছিল ছল, খুনের পিপাসা।
অশিক্ষিত তোমরা। 


এই শোন তোরা ইসলামী জঙ্গি,
লজ্জা পড়ে বা লজ্জা না পড়েই তোরা সবসময় নির্লজ্জই থেকে গেছিস,
চেতনা নামক মগজাস্ত্র তোদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে-
তোরা শুধু রক্ত দেখতেই শিখেছিস। 
ইসলাম নিয়ে গর্ব করিস তোরা, 
তোরা বলিস ইসলাম তোদের শান্তির ধর্ম,
তোরাই যখন মারছিস, কাটছিস,
তখনকি তোরা ইসলামকে ঘরে ফেলে আসছিস?
তোরা শুধু খুন করতেই শিখেছিস।


ধর্ম তোদের শুধু গায়ের জোর দেখানোতে,
ধর্ম তোদের শুধু রক্ত বংশ বৃদ্ধিতে,
নিজের ঘরেই স্ত্রীকে তোরা বস্তুর মত ধর্ষণ করিস,
ধর্ম তোদের জঙ্গীবাদে।


মুন্ডপাতে তোরা মিছিল করেছিলিস,
দেশজুড়ে মৌলবাদী হানা দিয়ে মারতে চেয়েছিলিস,
কেউ কি তোরা সত্যিকে মানতে চেয়েছিস?
তসলিমা হটাও, 
তসলিমার ফাঁসি দাও রবে রবে মুখর হয়েছিস মুর্খের মত সম্মোহনে।
কেউ তোরা মানুষ বুঝতে শিখিসনি।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিষ তোরা রক্তে বহন করেছিস,
তোরা ভালোবাসতে শিখিসনি।
মানুষ হয়ে জন্মে তোরা মানুষ সৃষ্ট গ্রন্থকেই সর্বস্য মেনে,
মানুষকে মারার অমানুষিক রূপ তুলে ধরেছিস,
তোরা মনুষত্বকেই বিকিয়েছিস। 


Thursday, 19 May 2016

স্বপ্নে এবার নতুন তুমি মেয়েমা।
সৌম্যজিৎ।


স্বপ্নে আবার তুমি এলে,
এবার তুমি শিক্ষিকা হয়ে
স্নেহ দিয়ে, আদর দিয়ে আঁচলে জড়িয়ে নিচ্ছো
নিষ্পাপ কচিকাচাদের।
আমিও আছি একটু দূরে, তোমাকে দেখছি প্রাণ ভরে,
তবু কাছে যাচ্ছিনা।
স্বপ্নে আমি ফিরেছিলাম সেই স্কুলজীবনে,
কাঁধে একটা ব্যাগ নিয়ে, গলাতে দুধের ফ্লাস্ক ঝুলিয়ে,
দূরে বসেই তোমাকে দেখে যাচ্ছিলাম,
তুমি খেলছিলে আমার বন্ধুদের সাথে।
আমি দেখছিলাম প্রাণভরে।

হঠাৎ তুমি কাছে এলে,
বললে, "খেলবিনা? চল খেলা করি।"
আমি ঠিক যেমন ছিলাম বসে, তেমনই থাকলাম।
ওপাশ থেকে নিতু এসে তোমার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে গেল,
তুমি অবাক হয়ে হাসি মুখে পিছন ফিরে তাকালে।
বড্ড স্নেহ আর অবাক দৃষ্টি তোমার ওই চোখে!!

একদিন তুমি নিতুকে বললে, "নিতু ওই ছেলেটা কে রে?"
নিতু বলে, "ও শান্ত। নামেও শান্ত, কাজেও শান্ত। কারোর সাথে খেলেনা।
চুপটি করে শুধু বসে থাকে একাএকা।"
তুমি দেখি আবারও আমার দিকে দেখলে, আরও কি যেন একটা ভাবলে।
তোমার কপালে সরু শিরাগুলো যেন কোনো চিন্তার আভাস দিচ্ছে।
আমি ভাবি, মনে মনেই ভাবি, তোমার স্নেহ যদি আমি পাই!!!
যদি একাই পাই!!!
আমি ওই স্নেহ কাওকে পেতে দেবোনা।
একাই নেবো।
তোমার সাথে খেলবো, ঘুরবো, গল্প করবো,
আর তোমার গল্প মুগ্ধ হয়ে শুনবো।


সত্যিই তুমি এলে আমার কাছে
আঁচল ভরা স্নেহ নিয়ে,
সামনে এসে দাঁড়িয়ে আমার জামার কলারটা দিলে নামিয়ে।
আমি মিষ্টি চোখে তোমার দিকে চেয়ে বললাম,
"তুমি আমাকে আদর করবে?"
একটু হেসে বললে, "হ্যাঁ, আদর করবো তো।
আমার শান্ত বাবুকে খুব আদর করবো। খেলবে আমার সাথে?"
আমি আদর মাখা চোখে বললাম, "খেলবো,
কিন্তু তুমি ওদের একটুও আদর দেবেনা।
ওরা ভালনা। পচা।"

"ওরা পচা!!"

"পচাই তো। রোজ রোজ তোমার সাথে খেলে,
আমাকে একটুও দেয়না তোমায় খেলতে।"

"তুমি তো সবার সাথে খেলতে পারো, আমরা সবাই কেমন খেলি!!
খুব মজা করি।"

"না না না। আমি খেলবোনা ওদের সাথে, ওরা পচা।"

"আচ্ছা পচা। আমি তোমার সাথেই খেলবো। খুশি তো?"

"হি... হ্যাঁ খুশি। সন্ধ্যা হয়ে আসছিল,
আমি তোমার চোখে সেই স্নেহ দেখছিলাম যেভাবে মায়েরা দেখে।
আমাকে প্রথম এভাবে কেউ দেখল, মা মা গন্ধ পাচ্ছিলাম তোমার শরীরে।
দু-হাত খুলে তোমাকে জরিয়ে ধরলাম।"


কতগুলো জিনিস তুলে ধরি।

১. বাবার জমিজমা টাকা পয়সা একা আত্মসাৎ না করলে, তিনজনের মধ্যে সবকিছু ভাগ করলে, তোমার ‘তোর পয়সায় বা তোদের পয়সায় মদ খাই না’ এ কথাটা বলা সাজতো।

২. এটা তোমার একার বাড়ি নয়। আমি আর বুবুও এই বাড়ির ভাগ পাই। কিন্তু যেহেতু তুমি একাই গায়ের জোরে বলছো এই বাড়ি তোমার, এই বাড়ি তোমাকে লিখে দিয়ে গেছে বাবা, যেহেতু তুমি আমাদের ভাগ আমাদের দেবে না, অগত্যা কিনেছি।

৩. যমুনা না জানালে হয়তো কেউ জানতোই না খুনের ঘটনাটি।


৪. যেও না ওর একটা মেয়ে আছে। যা পাবে ওর মেয়ে পাবে। আর বুবু যদি উইল করে গিয়ে থাকে তাহলে আর কথাই নেই। এ দেশে উইল না চললেও ভারতে তো উইল চলে। বাবার সবকিছু নিয়েছো। বুবুর টাকা পয়সায় দয়া করে লোভ করো না। ওর মেয়েকে কিছু পেতে দাও। তোমার লোভের কারণে নিজের বাপের সম্পত্তি আমরা দুবোন পেলাম না। এখন তপুকেও বঞ্চিত করোনা। তোমরা পুরুষেরা অনেক কায়দা কানুন জানো, বুবুর যদি কিছু থাকে, জানি না আদৌ কিছু ছিল কি না, নাকি ধার করে চলতো, তুমি সব আত্মসাৎ করতে পারবে, তোমার সেই ক্ষমতা আছে। কিন্তু দয়া করে এবার নিস্তার দাও। লেট হার রেস্ট ইন পিস।

৫. নূপুরের পাসপোর্ট আমেরিকার। ভারতের ভিসা পেতে খুব দেরি হয়নি, ভিসার লম্বা লাইনে অবশ্য দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অনেকক্ষণ। একা একাই করেছে সব। কারও সাহায্য সে চায়নি। বেশ কয়েক বছর হল নূপুর কোনও কিছুতেই কারও সাহায্য আর চায় না।


এই লেখা গুলো তুলে ধরলাম। নিঃসন্দেহে যমুনা তো স্বাবলম্বী, সাহসী, প্রতিবাদী ছিলই, তার বোন নুপুরও প্রতিবাদী ছিল। লেখক কষ্ট, বিচক্ষণতা, আধুনিক চিন্তাভাবনা ও সমাজে নারীর অধিকার এই ব্যাপারগুলো নিপুণ ভাবে তুলে ধরেছে। গল্পটা অনেকটাই পরিচিত মনেহল, তবে পুরোটা মেলাতে পারিনি। তোমার লেখা, বিচক্ষনতা থাকবেই।

Tuesday, 17 May 2016

ঈশ্বর জেনেছি শিক্ষাগুরুকে,
ঈশ্বরকে জানাই শত কোটি প্রণাম।
একলব্য আমি হতে চাইনা,
গুরু দ্রোন'কেও আমি ঈশ্বর চাইনা,
আমার ঈশ্বর আপনিই ভগবান পরশুরাম।
আপনাকে জানাই প্রণাম।
সূর্যের পূজারী আমি সূর্যের আরাধনা করি
সূর্যকিরণ গায়ে মেখে আমি শক্তিকে নিই শুষে,
সূর্যদিকে তীর নিক্ষেপে সূর্য শক্তি আহ্বানের শিক্ষা
আমি পেয়েছি আপনার থেকে।
আপনাকে শত কোটি প্রণাম।


............................................................সৌম্যজিৎ।
২০১১ এর জানুয়ারীতে ঘর থেকে বেরিয়ে ক্লাসে যাওয়ার পথে বাসের মধ্যে হঠাৎ আমার শরীর খারাপ লাগতে থাকে। ভিড় বসে দাঁড়িয়ে যেতে যেতে চারিদিকটা খুব অন্ধকার মনেহয়। চারিদিকে বাস, ট্রামের আওয়াজ প্রথমে খুব জোরে কানে আসতে থাকে ও পরে একেবারে সেই আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে যায়। বাসের লোকজনদের কথাবার্তাও ক্ষীণ হয়ে যায়। মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। ওই অবস্থাতেই আমি কলেজে পৌঁছোই। ক্লাসরুমে ঢুকতে গিয়ে দরজার সামনে টাল খেয়ে যেতেই প্রফেসর সামনে থেকে ধরে ফেলে। উনি বুঝতে পারেন আমার শরীর ঠিক নেই। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আমি ঘরে ফিরে আসি। ফেরার সময় সরু গলির ভিতরে দেওয়াল গুলোতে ধাক্কা খাচ্ছিলাম বারবার। শরীরে কোনো শক্তি পাচ্ছিলামনা। টাল খেয়ে পড়ছিলাম। ওইভাবেই ঘরে ঢুকে শুয়ে পড়তেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ওইসময় দুটো কানের একটাতেও আমি শুনতে পাচ্ছিলামনা। ৫ ঘণ্টা মত ওভাবেই পড়েথাকি বিছানায়। জ্ঞান ফিরতেই লক্ষ্য করলাম, আমার ডান কান দিয়ে আমি আস্তে আস্তে শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু বাঁ কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিনা। একা থাকতাম। শরীরে শক্তি তখন একেবারেই ছিলনা যে উঠে ডাক্তারের কাছে যাবো। আস্তে আস্তে আমার ডানকান পুরো ঠিক হয়ে ওঠে, কিন্তু বাঁ কানে শোনা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। আমি ভাবি একটু সুস্থ হলে ডাক্তারের কাছে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু পনের দিন দেরি হয়ে যায়, আমি বাইরে বেরোতে পারিনি শক্তিহীনতার জন্য। পনের দিন পর চিকিৎসা শুরু হলে ডাক্তার অনেক রকম টেস্ট দেয়। এম আর আই টেস্ট করেও কিছু ধরা পরেনা। শেষে অডিওমেট্রি টেস্টে ধরা পরে হেয়ারিং লস (লেফ্ট ইয়ার) . কলকাতার অনেক জায়গাতে চিকিৎসা করিয়েও কিছু হয়নি। চেন্নাইতে যাই এপোলো হসপিটালে। ওখানকার ডায়াগনোসিস রিপোর্ট একই আসে। শেষে ডাক্তার বলেন এটা খুবই দুর্ভাগ্য জনক যে একুশ বছর বয়সে একটা কান নষ্ট হয়েগেল। পাশে মা ছিল, কেঁদে ফেলল। আমি শুধু হালকা একটা হাসি হাসলাম। ভাবলাম, ও কিছুনা, আমি বেঁচে আছি এখনও। প্রতিবন্ধকতা আমাকে আটকাতে পারবেনা।

প্রতিবন্ধকতা যেমনই হোক, শারীরিক বা মানসিক, নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে কোনো প্রতিবন্ধকতায় কাওকে দমিয়ে দিতে পারেনা। আমিও দমে যায়নি। সেবার ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্স কম্পিউটার এপ্লিকেশন এ আমি ২৬৮ র‍্যাঙ্ক করি। এগিয়ে যাওয়ার মত জোশ আমার মধ্যে সবসময় ছিল। আমি বরং একটু আলাদা ভাবে ভেবেছিলাম, আমি ফিজিক্যালি ডিজেবেল্ড নই বরং আমি একজন ডিফারেন্টলি এবল্ড পারসন। সাহস নিয়ে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। কিন্তু মাঝপথে আই এস আই আমাকে রিসার্চের সূযোগ করে দেওয়াই আমি সেটা আর হাতছাড়া করিনি। নিজে এক প্রতিবন্ধী হয়েও কোথাও শারীরিক প্রতিবন্ধী হিসেবে অ্যাপ্লাই করিনি। কারণ আমি জানি, আমার ভেতর সেই শক্তি আছে যে আমি কোনো রিজার্ভেশান ক্যাটেগরী তে না গিয়েও নিজের লক্ষ্যে পৌছতে পারি।

তোমরা যারা প্রতিবন্ধী, নিজেদের কখনো দুর্বল ভেবনা। হতেপারে রাস্তা অনেক কঠিন স্বাভাবিকের থেকে, কিন্তু তোমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই সেই রাস্তাতে চলার ক্ষমতা আছে। শুধু নিজের ওপরে ভরসা ও বিশ্বাস রাখবে। জানবে, লক্ষ্যের ভীত তৈরি হয় মনের মধ্যে। প্রতিবন্ধকতা তোমাদের শরীরে, মনের জোরে তোমরা তোমাদের লক্ষ্যকে ঠিক ছুঁতে পারবে।

প্রতিবন্ধকতার অনেক শ্রেণী। যারা জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী, বিশেষ করে দেখতে পাওনা, শুনতে পাওনা, তোমাদের জন্য আলাদা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ আছে। যেভাবে স্বাভাবিক শিশুরা বলতে শেখে, শুনতে শেখে, দেখতে শেখে, ঠিক তোমরাও তোমাদের সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের দ্বারা সবকিছুকে বুঝতে ও অনুভব করতে শিখবে। একটু নিজেদেরকে বিশ্বাস করলে, ভরসা করে এগিয়ে গেলে তোমরাও অনেক ভালো, বড় ও মহৎ কাজ করতে পারবে। আর তোমাদের সেইসব কাজ পরবর্তী প্রতিবন্ধী মানুষকে প্রেরনা দেবে। 

Monday, 16 May 2016


জীবনের প্রতিটি বাঁকে।


খুব ছোটবেলার কথা মনে নেই, আবার স্মৃতিশক্তি একটু ভালো তাই অনেক ছোটবেলার ঘটনাগুলো স্পষ্ট ভেসে ওঠে মস্তিষ্কে। যেমন যদি ধরি ১৯৯১ সালে আমার বাংলাদেশ ভ্রমণের কথা, আমি শুধু সেটা কানেই শুনেছি। কিছু মনে করতে পারিনা। দেড় বছর বয়সে নাকি বাংলাদেশ গেছিলাম আমাদের মিরপুরের বাড়িতে। ঢাকাতেও গেছিলাম শুনেছি। আবার ঠিক বাংলাদেশের পাশে নাশিরাপাড়া বর্ডার যেটা সম্ভবত বাংলাদেশের মহিসকুন্ডি সীমান্তের পাশে অবস্থিত, সেখানে হোগোলবাড়িয়া বাজারে আমাদের একটা বাড়ি আছে, সেখানে আমি কিছু সময় পর্যন্ত থেকেছি, আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত। তখনকার কথা আমার মনে আছে। আমি বেশ মনে করতে পারি একটা সাইকেল রিক্সা ছিল আমার যেটা আমি ছাতের উপরে চালাতাম, আবার একটা গলি বারান্দাতে ওটা রেখে দিতাম। একটা নীল রঙের প্লাস্টিক বালতি নিয়ে খেলা করতাম, আড়াই বছর বয়সে আমি দোতলার ছাত থেকে নিচে পাটের গাদার ওপরে পড়ে গেছিলাম ওই বালতি নিয়ে খেলতে খেলতে। এগুলো স্পষ্ট মনে পড়ে। তারপর স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সেখান থেকে করিমপুরে চলে আসি। দুবছর সাতমাস বয়সে স্কুলে ভর্তি হই। মনে আছে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের রাতে মামার বিয়ে হল, আমি কোলপাত্র গেছিলাম। খুব কেঁদেছিলাম গাড়িতে বসে। আমার এক মেসো আমাকে মজা করে শিখিয়েছিল স্কুলে তোর নাম জিজ্ঞাসা করলে বলবি তু তু তু তুতুতারা।  সুর করে বলবি। বাবার নাম জিজ্ঞাসা করলে ভু করে মোটর সাইকেল চালানোর মত করে এক পাক ঘুরবি। মজার ঘটনা হল আমি  ঠিক সেসবই করেছিলাম স্কুলে গিয়ে। স্কুলের মিস তো মাকে বলেছিল খুব পাকা ছেলে আপনার। প্রেয়ারের সময় এক বন্ধুর সাথে বাজি লড়ে তিনবছর বয়সেই লাইন ভেঙে দৌঁড়ে পালিয়ে দিদা বাড়ির ভিতর দিয়ে বেরিয়ে দু-কিলোমিটার মেন রোডের ওপর দিয়ে দৌঁড়েছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি বাড়িতে পাপা আছে।  ভয় পেয়ে পাশের বাড়ির এক মুরগির খাঁচার ভিতরে ঢুকে লুকিয়ে ছিলাম। আবার সেই বছরেই অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পেয়ে স্কুল থেকে পুরষ্কারও পেয়েছিলাম, বয়সে সবথেকে ছোট পরীক্ষার্থী হিসেবে। মেয়েদের প্রতি একটা টান তখন থেকেই ছিল, আমার সাথে মাম্পি নামের একটা মেয়ে রিক্সাতে করে স্কুলে যেত, তাকেও সময়ে অসময়ে চোখ মেরেছি কত!! স্কুল জীবনে শুরুতেই আমাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল চার বছর বয়সে। আমাদের আর্থিক অবস্থা তখন খুব একটা ভালো নয়, স্কুলের ফি জমা না করতে পারায় স্কুলটা ছাড়তে হল।

পাঁচ বছর বয়সে এসে আবার স্কুলে ভর্তি হলাম, একটা প্রাইমারি স্কুলে। স্কুলের প্রথমদিন থেকেই শিক্ষক, শিক্ষিকাদের নয়নের মণি আমি তখন। অন্যান্য সব ছাত্র ছাত্রীরা দোষ করলে শাস্তি পেত, তুলনায় আমি বেশি দুষ্টুমি করেও সবসময় শিক্ষক, শিক্ষিকাদের কাছে শুধু স্নেহই পেয়েছি। তার কারণও ছিল। পরীক্ষার সময় সব ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকেরা দরজার বাইরে থেকে উত্তর বলে দিত, সেখানে আমার মা দরজার বাইরে থেকে উত্তর বলতে আসলেই আমি শিক্ষক শিক্ষিকাদের বলে দিতাম যে মা আমাকে টোকা শেখাচ্ছে। ওরা হাসত। আসলে পরীক্ষার ব্যাপারে আমি খুবই সৎ ছিলাম।
কিন্তু পরীক্ষা জিনিসটা আমি খুব একটা বুঝতে পারতামনা। আমার কাছে পরীক্ষা মানেই তখন একটা আনন্দের দিন। মজা করে পরীক্ষা দিতাম। যদিও পজিশান খুব ভালো হতনা। ষষ্ঠ বা সপ্তম হতাম ক্লাসে। তবু ওটাই আমার কাছে অনেক আনন্দের। পাশ ফেল বুঝতামনা, কিন্তু রেজাল্টের কাগজ সই করে তোলাটা যেন খুব বাহাদুরির কাজ আমার কাছে। 

অনেক খারাপ কিছুর সম্মুখীন হয়েছি আমি। আমার মা পাপার বিয়েটা ঠিক হয়নি বলে সবসময় আমার মনে হয়েছে। পাপা খুব উগ্র একজন মানুষ, মাও ভীষণ উগ্র এখন। কিন্তু ওদের বিয়ের পর থেকে মা ভীষণ অত্যাচার সহ্য করেছে। আমি ভীষণ ভয় পাই এখনও ওদেরকে। তখন আরও ভয় পেতাম। কতবার যে ওরা বিবাহ বিচ্ছেদের পর্যায়ে বা আত্মহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে তার কোনো ঠিক নেই। আমি ভয়ে চুপ করে থাকতাম। কিন্তু খুব ভেঙে পড়তাম। আমাকে এগুলো খুব টর্চার করত। তবে ওরা আমাকে ভালোবাসতে কখনো পিছিয়ে থাকেনি। মা সবসময় আমাকে আগলে রেখেছে। পাপা মুখে ভালবাসা না দেখালেও, অতিরিক্ত শাসন করলেও আমি বুঝতে পারতাম যে এই মানুষটা আমার জন্য সব করতে পারে। মানুষ হিসেবে বাইরের জগতে পাপা খুব উদার একজন ব্যক্তি, কিন্তু পরিবারের মধ্যে পাপা ততটাই অত্যাচারী। বিজনেস জিনিসটা সে যত ভালো বোঝে, পরিবারের মন বুঝতে সে ততটাই ব্যর্থ। যত সময় পার হয়েছে, ব্যবসায় তত বেশি সে সফল হয়েছে। করিমপুর -কলকাতা  ট্রান্সপোর্ট থেকে শুরু করে ভেইকেল, ল্যান্ড বিজনেসে সফল মানুষদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছে সময়ের সাথে সাথে। বাড়ির পরিবেশে মায়ের ওপর অত্যাচারও ভীষণ বেড়েছে সময়ের সাথে। 
মারামারি, হাতাহাতিও কম হয়নি। মদের নেশাতে চুর হয়ে থেকে সমস্ত অশান্তি তৈরী হত। আমার মা মদ জিনিসটাকে একদম মেনে নেয়না, তাই অনেক আত্মীয়র সাথেও মায়ের তর্কতর্কি হয়েছে অনেক সময়। প্রতিবেশী, আত্মীয়রা সবসময় মাকেই বুঝিয়েছে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। মা আপোষ করেনি কখনো। সবসময় যে পরিস্থিতি প্রতিকূলে থেকেছে এমন নয়, ভালো কিছুও হয়েছে। ওদের মধ্যে যেমন ঝগড়া, অশান্তি হয়েছে, তেমনই পাপা সুস্থ মস্তিষ্কে থাকলে ওদের মধ্যে ভালোবাসাও চরমভাবে প্রকট হয়েছে। কিন্তু সেসব কখনই স্থায়ী হয়নি। পাপার জীবনের সমস্ত ইনকামের অর্ধেকের বেশি সম্পত্তিও মা'র নামে করে দিয়েছে। আসলে পাপা মানুষটা খুব ঝোঁকে চলে। যেটা মন চায়, সেটাই করে। তারকাছে একমাত্র তার চিন্তাভাবনা গুলোই ঠিক। বাকি সবার সবটাই ভুল। 

 প্রাইমারি স্কুল থেকে বেরিয়ে এডমিশান টেস্ট দিয়ে হাইস্কুলে যেতে হত আমাদের সময়ে। আমার জীবনে প্রথম বড় কোনো পরীক্ষা। সেবার আমি পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলাম। নতুন স্কুল, নতুন ব্যাগ, নতুন বই, খাতা!!! নতুন সব গন্ধ সেইসব বই খাতার!! আমাকে ভীষণ উৎসাহি করে তোলে। এখানে আমার ভর্তিতে একটু সমস্যা হয়েছিল। বয়স পূর্ণ হয়েছিলনা বলে আমার ভর্তি নিতে চায়নি স্কুলে। পরে বিশেষ অনুমতি পত্রে আমি ভর্তি হতে পেরেছিলাম। হাইস্কুলে ঢুকেও আমি ব্যতিক্রমী কিছু দেখলামনা। সব স্যার, ম্যাডামদের স্নেহের পাত্র হয়ে উঠলাম শুরু থেকেই। কিন্তু আমার মধ্যে বাচ্চামি জিনিসটা এতই ছিল যে আস্তে আস্তে আমার পড়াশোনার মান কমতে শুরু করে। কখনো ভালো রেজাল্ট করি, তো কখনো খুব বাজে রেজাল্ট করি। ক্লাস এইটে অঙ্কে ১০০ তে ১৬ পেয়েছিলাম সেই আমিই যে আমি অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পেয়ে পুরষ্কার পেয়েছিলাম একটা সময়। এবার ক্লাস নাইনে এসে আমি প্রেমে পড়লাম। পায়েলের প্রেমে। একদিকে আমি পায়েলকে ভালবাসি। একদিকে ঝুমা আমাকে ভালবাসে। আবার পায়েলও নাকি আমাকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু ঝুমা ভালবাসে আমাকে, তাই সে পিছনে সরতে থাকে। পায়েল যত পিছনে সরতে থাকে, আমি ততই ভেঙে পড়তে থাকি। পড়াশোনাও খুব খারাপ ভাবে চলে তখন। অঙ্কে আমি তখন একজন প্রমিসিং ছাত্র। অঙ্ক পরীক্ষাগুলোতে প্রথম স্থান দখল করছি একের পর এক।  তারপর যখন আমি একেবারেই ভেঙে পড়ি প্রেমের যন্ত্রনাতে, সেবার আমার চরম দূর্দশা। অঙ্কে শূন্য পেয়ে গেলাম। আমার স্যার সেদিন প্রথম আমাকে চড় মারতে হাত উঠিয়েছিল। শেষপর্যন্ত হাত নামিয়ে নেয়। এরপর মাধ্যমিকে আমার রেজাল্ট ভীষণ খারাপ হল। মনের জোরে সায়েন্স নিয়ে পড়তে শুরু করি। কারণ অঙ্ক ছাড়া আমি হাঁপিয়ে উঠতাম। অবশেষে ঝুমা প্রেমের যুদ্ধে হেরে গিয়ে পিছনে সরে যায়, তখনও আমার রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, পায়েল সহ্য করতে না পেরে আমাকে প্রপোজ করে। সেদিনটা আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে একটু শুয়েছি। আধঘন্টা পর ইংরাজি পড়তে যাওয়া। পাপা মদ খেয়ে এসে আমাকে শুয়ে থাকতে দেখে থাপ্পড় বসিয়ে দেয় গালে। আমি খুব রেগে যাই। পপি দিদি ছিল তখন আমাদের বাড়িতে। আমি বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে। ভেবেছিলাম বাসের তলাতে ঝাঁপ দেবো। হঠাৎ সেখানে পায়েল এসে আমাকে দেবালয় মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রপোজ করে। তখন আমি কি করবো কি বলবো কিছু বুঝতে না পেরে পড়তে চলে যাই। ফিরে এসে পপি দিদিকে খুলে বলি, কিন্তু যেখানে আমার দিদি আছে, সেখানে আর কোনো আনন্দই আমার কাছে কিছুনা, আমি পপি দিদির সাথেই মেতে থাকি, পায়েল কে এড়িয়ে গিয়ে। তারপর যেদিন পপি দিদি চলে আসলো করিমপুর থেকে, সেদিন আমার খুব মন খারাপ হয়েগেল, আমি ফিজিক্স এর টিউশন পড়তে গেছিলাম, জোরে বৃষ্টি পড়ছিল, আমার পড়া শেষ হতেই আমি সাইকেল নিয়ে ভিজতে ভিজতে পায়েল এর পড়ার জায়গায় চলে যাই, পায়েল আমাকে একবার দেখার জন্য প্রতিদিন ওখানে অপেক্ষা করত, অনেক্ষণ অক্লান্তিতে দাড়িয়ে থাকত। আমি ভিজতে ভিজতে সেখানে গিয়ে রাস্তার ওপর দাড়িয়ে ওকে হাতের ইশারায় ডাকি, ও আসলে বলি, আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, পায়েল আমার চোখ দেখে বুঝেগেছিল, আমি পপি দিদিকে মিস করছি, আমার কষ্ট হচ্ছে। আমাকে বলে আজ বিকেলে আমরা একসাথে দেখা করব, আমি ওকে জিজ্ঞাসা করি, "তুই, সেদিন আমাকে যেটা বলেছিলিস, সেটা কি সত্যি?"। ও একটু মিষ্টি করে হাসে, বলে বিকেলে আসিস। আমি বললাম, আচ্ছা, আসবো, তারপর আমি চলেযাই। সেদিন বিকেলে আমি ওর সাথে দ্যাখা করেছিলাম, একসাথে আমার শৈশব, কিশোর, ও যুব বয়সটা পায়েল এর সাথে কাটিয়ে দিই।

পপি দিদি পায়েল কে খুব পছন্দ করতো। ওরা বন্ধুর মত হয়েগেছিল, আমাকে যখন ঘর বন্দী করে রাখা হয়, তখন পায়েল আমাকে দেখার জন্য পাগলের মত হয়েগেছিল, আমিও পাগলের মত হয়েগেছিলাম। পপি দিদি পায়েল এর কাছে আমার মেসেজ নিয়ে যায়, "ওকে বলে ধৈর্য রাখতে, বলেছিল, আমার ভাইয়াকে দেখেরেখো, ওকে তোমার হাতে দিয়েগেলাম।" আমাকে এসে বলে পায়েল তোকে খুব মিস করছে, ও তোকে খুব ভালোবাসে।

তারপর আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলকাতাতে চলে আসলাম, ইংলিশ অনার্স নিয়ে ভর্তি হলাম, আমি খুব খুশি ছিলাম, সবসময় পপি দিদিকে কাছে পেতাম, কিন্তু আমার এই কাছে আসাটা ওকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে, আমি কখনো ভাবতে পারিনি। ও প্রেম করা শুরু করল, আর সেখানে আমার সক্রিয় ভুমিকা ছিল, আমি ক্রিকেট প্রেমী ছিলাম, ছেলেটা আমার মাথাতে ক্রিকেট এর ভূত ঢুকিয়ে নিজের দলে করে নিয়েছিল। তারপর ওদের প্রেম বাড়তে থাকে। একটা সময় পায়েল কোনো কারণে আমার ওপর রেগেছিল, আমি ওর রাগ ভাঙ্গাতে করিমপুর চলে যায় , পপি দিদির যাওয়ার কথা ছিল আমার সাথে। আমি ওকে না নিয়েই তারাতারি করে চলে যাই।  গিয়ে পায়েলর হাত দুটো ধরে ওর রাগ ভাঙিয়ে ছিলাম, কিন্তু তারপরের দিন বিশ্বকর্মা পুজোতে শুনতে পাই, আমার দিদির এক্সিডেন্ট হয়েছে, মরে গেছে ও।  সেদিন আমি খুব অন্ধকার দেখছিলাম। প্রেমিকার রাগ ভাঙ্গাতে গিয়ে দিদিকে মেরে ফেললাম?

এরপর আমি সাবজেক্ট চেঞ্জ করি। ইংলিশ অনার্সে অঙ্ক না থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। পরের বছর আমি কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হই, সেখানে অঙ্ক পেয়ে যায়। ভীষণ উশৃঙ্খল জীবন যাপন শুরু করি। পপিদিদির মৃত্যুটা মেনে নিতে পারিনি। মদের নেশাতে চুর হয়ে যাই। পায়েল আমাকে বছরের পর বছর ধরে সামলানোর চেষ্টা করেও কিছু করতে না পেরে অবশেষে সে বেরিয়ে যায় আমার জীবন থেকে। এর মাঝে অবশ্য অনেক ভালো কিছুও হয়েছে। আমার রেজাল্ট খুব ভালো হতে থাকে। কিন্তু প্রোজেক্টে পরপর তিনবার ব্যর্থ হয়ে যাই। গ্র্যাজুয়েশন ও মাস্টার ডিগ্রীতে ফার্স্ট ক্লাস সহ পাশ করি। প্রোজেক্টে যেবছর পাশ করি, সেই বছরেই ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউট এ ফাইনাইট অটোমাটা জিওমেট্রিতে রিসার্চের সুযোগ পেয়ে যাই।

অনেক মেয়ে এসেছে আমার জীবনে প্রেম হয়ে। পায়েল, চুমকি, ঝুমা, শৈত্রী,  মিনাক্ষী, সুরবি, মোনালিসা, ইন্দ্রানী, মনীষা, কুহেলি, সৃজা, বনি, পিয়ালী, রিঙ্কি। কিন্তু কেউ স্থায়ী হয়নি। সবার মধ্যে মনেহয় আমি পায়েলকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম। ব্যর্থ হই।

আমি নিজেকে পাল্টে অন্য মানুষ গড়তে চাইলাম। আদর্শ নিয়ে বাঁচতে চাইলাম। তসলিমা নাসরিনের লেখা আমাকে প্রভাবিত করতে থাকে। তার লেখার মধ্যে আমি সততা, আদর্শ, আপোষহীনতা, লড়াই করার মানসিকতা খুঁজে পেলাম। রিসার্চের ফাঁকে তার লেখাগুলো আমি গোগ্রাসে গিলতে থাকি। আমার ধ্যান, জ্ঞান সবকিছু ঘিরে ওই একটা নামই আমার জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তসলিমা নাসরিন। মনের মধ্যে তাকে একটা প্রতিমার রূপ দিয়ে ফেলি। তারকাছে আমি ভালোবেসে আবদার করে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি। ইতিমধ্যে ফেসবুকের সৌজন্যে তার সাথে আমার পরিচয় হয়ে যায়। স্বপ্নকে যেন আমি মুঠোর মধ্যে পেয়ে যাই। মেয়েমা বলে ডাকি তাকে আদর করে, স্নেহ করে। অনেক অনেক আবদার, বাচ্চামি করে ফেলি। কখনো আবেগে ভেসেগিয়ে একটু বেশিই অনিয়ন্ত্রিত কথা বলে ফেলি। সে কি কখনো রাগ করে?? মনে হয় করেনা। কিন্তু হয়ত কখনো তার একটু খারাপ লাগে কোথাও।  মেয়েমা আমার কথাতে কখনো খারাপ ভেবোনা। জানোই তো খুব ভালবাসি তোমাকে। তাই অতিরিক্ত বাচ্চামি করে ফেলি। কিছু ভুল হলে আমাকে বকবে, ক্ষমাও করে দেবে। কিন্তু ভালবাসা থেকে কখনো বঞ্চিত করোনা কখনো। সহ্য করতে পারবোনা। 


লেখক: সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 15 May 2016

তৃষ্ণা দেখি হাজারো এ বুকে ঘুরেফিরে বেড়ায়,
তৃষ্ণাতে নাই কোনো ক্লান্তি আমি তবু নিদ্রাহীন পথিক,
চলছি,  ঘুরছি, ফিরছি। শান্তির লেশ মাত্র পাইনা। 
হঠাৎই দেখি সব কেমন কেমন দুলে ওঠে প্রাণে,
মুহুর্তে দেখি আমার সমস্ত স্নায়ু কেঁপে ওঠে
অজানা কোনো ভয়ে। 
কোথাও শান্তি নাই। অতৃপ্তি গুলো নাড়িয়ে দেয় মন, প্রাণ।
ওরা বিশৃঙ্খল, ওরা বেপরোয়া আমার সমাজকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে,
সামনে দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে দেখতে আমি শেষ হয়ে যায়। 
লজ্জা আমার মাথাকে বারবার হেট করে তবু উঠে দাঁড়াই,
ভাবি আমিই মুক্ত করে দেবো সমাজকে। 
কোথাও কোনো শান্তি নাই। 
চিন্তাগুলো কপালে অসংখ্য ভাঁজ ফেলেছে,
আমার মুক্তি কোথায়?
মুক্ত আমি তসলিমা নাসরিনের নির্বাসন মুক্তিতে,
মুক্ত আমি নারী শৃঙ্খল উন্মুক্ততাতে,
মুক্ত আমি স্বপ্ন দিয়ে সাজানো সমাজ দেখে।
এ সমাজে আমার মুক্তি নাই। 
সেদিন আমি মুক্ত হবো যেদিন সমাজ চলবে স্বাধীন গতিতে,
আমি সেদিন মুক্ত হবো যেদিন সমাজ চলবে কলমের ডগাতে,
আমি সেদিনই মুক্তি পাবো যেদিন দেখবো নজরুলের কবিতা
"মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান" যথার্থ বাস্তবে খেলছে,
আমি সেদিনই মুক্ত।

........................................................................... সৌম্যজিৎ।

Saturday, 14 May 2016




মন ভিতর ও বাহিরে আজ বড়ই স্থির,
নীল আকাশ জুড়ে সূর্যের সোনালী রোদ্দুর খেলছে,
তন্দ্রাহীন চোখ ক্লান্তিতে,
আমার চেতনা ঘিরে শুধুই তসলিমা নাসরিন। 

তোমাকে অনুভব করেও অনুভুতির কোনো শেষ নাই, 
নাই তোমার প্রতি আবেগের কোনো কিনারা,
ছুটে বেরিয়েও এদিক সেদিক শুধুই তোমাকেই ভেবে যাই,
রাস্তাতে ক্লান্ত বেখেয়ালী মনেও শুধুই তুমি-
গাড়িগুলো হর্ন বাজিয়ে পাশ কাটিয়ে যায়। 

কি অদ্ভুত তোমার নাম!
কি অদ্ভুত তোমার ভালবাসা!
শুধু একটু স্নেহ পেতেই মন বাতাসে ভেসে যায়,
আমার অস্তিত্ত্ব টুকুও আমি ভুলে যাই।  

মা, মেয়ে, বন্ধু প্রেমে আচ্ছন্ন এই চেতনা 
তোমাতেই শুরু তোমাতে শেষ হয়েও হয়না কোনো শেষ,
আমার ভালবাসার মানুষ গুলোও আজ বড্ড দূরে,
কাছে শুধুই তুমি।
সাত সমুদ্র তের নদী দূরে বসে থেকেও তুমি
আছো আমারই চেতনার সমস্তটুকু জুরে। 
এ কোনো সম্মোহন নয়। 
আমি সম্মোহিত হবো এ শুধুই কল্পনার বিলাসিতা।
তুমি জুরে নিয়েছ আমার সমস্ত সত্বা ভালবাসা আর স্নেহের ছোঁয়া দিয়ে।
মেয়েমা- শুধু আমারই মেয়েমা।  

................................................................... সৌম্যজিৎ।