জীবনের প্রতিটি বাঁকে।
খুব ছোটবেলার কথা মনে নেই, আবার স্মৃতিশক্তি একটু ভালো তাই অনেক ছোটবেলার ঘটনাগুলো স্পষ্ট ভেসে ওঠে মস্তিষ্কে। যেমন যদি ধরি ১৯৯১ সালে আমার বাংলাদেশ ভ্রমণের কথা, আমি শুধু সেটা কানেই শুনেছি। কিছু মনে করতে পারিনা। দেড় বছর বয়সে নাকি বাংলাদেশ গেছিলাম আমাদের মিরপুরের বাড়িতে। ঢাকাতেও গেছিলাম শুনেছি। আবার ঠিক বাংলাদেশের পাশে নাশিরাপাড়া বর্ডার যেটা সম্ভবত বাংলাদেশের মহিসকুন্ডি সীমান্তের পাশে অবস্থিত, সেখানে হোগোলবাড়িয়া বাজারে আমাদের একটা বাড়ি আছে, সেখানে আমি কিছু সময় পর্যন্ত থেকেছি, আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত। তখনকার কথা আমার মনে আছে। আমি বেশ মনে করতে পারি একটা সাইকেল রিক্সা ছিল আমার যেটা আমি ছাতের উপরে চালাতাম, আবার একটা গলি বারান্দাতে ওটা রেখে দিতাম। একটা নীল রঙের প্লাস্টিক বালতি নিয়ে খেলা করতাম, আড়াই বছর বয়সে আমি দোতলার ছাত থেকে নিচে পাটের গাদার ওপরে পড়ে গেছিলাম ওই বালতি নিয়ে খেলতে খেলতে। এগুলো স্পষ্ট মনে পড়ে। তারপর স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য সেখান থেকে করিমপুরে চলে আসি। দুবছর সাতমাস বয়সে স্কুলে ভর্তি হই। মনে আছে স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের রাতে মামার বিয়ে হল, আমি কোলপাত্র গেছিলাম। খুব কেঁদেছিলাম গাড়িতে বসে। আমার এক মেসো আমাকে মজা করে শিখিয়েছিল স্কুলে তোর নাম জিজ্ঞাসা করলে বলবি তু তু তু তুতুতারা। সুর করে বলবি। বাবার নাম জিজ্ঞাসা করলে ভু করে মোটর সাইকেল চালানোর মত করে এক পাক ঘুরবি। মজার ঘটনা হল আমি ঠিক সেসবই করেছিলাম স্কুলে গিয়ে। স্কুলের মিস তো মাকে বলেছিল খুব পাকা ছেলে আপনার। প্রেয়ারের সময় এক বন্ধুর সাথে বাজি লড়ে তিনবছর বয়সেই লাইন ভেঙে দৌঁড়ে পালিয়ে দিদা বাড়ির ভিতর দিয়ে বেরিয়ে দু-কিলোমিটার মেন রোডের ওপর দিয়ে দৌঁড়েছিলাম। বাড়ি ফিরে দেখি বাড়িতে পাপা আছে। ভয় পেয়ে পাশের বাড়ির এক মুরগির খাঁচার ভিতরে ঢুকে লুকিয়ে ছিলাম। আবার সেই বছরেই অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পেয়ে স্কুল থেকে পুরষ্কারও পেয়েছিলাম, বয়সে সবথেকে ছোট পরীক্ষার্থী হিসেবে। মেয়েদের প্রতি একটা টান তখন থেকেই ছিল, আমার সাথে মাম্পি নামের একটা মেয়ে রিক্সাতে করে স্কুলে যেত, তাকেও সময়ে অসময়ে চোখ মেরেছি কত!! স্কুল জীবনে শুরুতেই আমাকে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল চার বছর বয়সে। আমাদের আর্থিক অবস্থা তখন খুব একটা ভালো নয়, স্কুলের ফি জমা না করতে পারায় স্কুলটা ছাড়তে হল।
পাঁচ বছর বয়সে এসে আবার স্কুলে ভর্তি হলাম, একটা প্রাইমারি স্কুলে। স্কুলের প্রথমদিন থেকেই শিক্ষক, শিক্ষিকাদের নয়নের মণি আমি তখন। অন্যান্য সব ছাত্র ছাত্রীরা দোষ করলে শাস্তি পেত, তুলনায় আমি বেশি দুষ্টুমি করেও সবসময় শিক্ষক, শিক্ষিকাদের কাছে শুধু স্নেহই পেয়েছি। তার কারণও ছিল। পরীক্ষার সময় সব ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকেরা দরজার বাইরে থেকে উত্তর বলে দিত, সেখানে আমার মা দরজার বাইরে থেকে উত্তর বলতে আসলেই আমি শিক্ষক শিক্ষিকাদের বলে দিতাম যে মা আমাকে টোকা শেখাচ্ছে। ওরা হাসত। আসলে পরীক্ষার ব্যাপারে আমি খুবই সৎ ছিলাম।
কিন্তু পরীক্ষা জিনিসটা আমি খুব একটা বুঝতে পারতামনা। আমার কাছে পরীক্ষা মানেই তখন একটা আনন্দের দিন। মজা করে পরীক্ষা দিতাম। যদিও পজিশান খুব ভালো হতনা। ষষ্ঠ বা সপ্তম হতাম ক্লাসে। তবু ওটাই আমার কাছে অনেক আনন্দের। পাশ ফেল বুঝতামনা, কিন্তু রেজাল্টের কাগজ সই করে তোলাটা যেন খুব বাহাদুরির কাজ আমার কাছে।
অনেক খারাপ কিছুর সম্মুখীন হয়েছি আমি। আমার মা পাপার বিয়েটা ঠিক হয়নি বলে সবসময় আমার মনে হয়েছে। পাপা খুব উগ্র একজন মানুষ, মাও ভীষণ উগ্র এখন। কিন্তু ওদের বিয়ের পর থেকে মা ভীষণ অত্যাচার সহ্য করেছে। আমি ভীষণ ভয় পাই এখনও ওদেরকে। তখন আরও ভয় পেতাম। কতবার যে ওরা বিবাহ বিচ্ছেদের পর্যায়ে বা আত্মহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে তার কোনো ঠিক নেই। আমি ভয়ে চুপ করে থাকতাম। কিন্তু খুব ভেঙে পড়তাম। আমাকে এগুলো খুব টর্চার করত। তবে ওরা আমাকে ভালোবাসতে কখনো পিছিয়ে থাকেনি। মা সবসময় আমাকে আগলে রেখেছে। পাপা মুখে ভালবাসা না দেখালেও, অতিরিক্ত শাসন করলেও আমি বুঝতে পারতাম যে এই মানুষটা আমার জন্য সব করতে পারে। মানুষ হিসেবে বাইরের জগতে পাপা খুব উদার একজন ব্যক্তি, কিন্তু পরিবারের মধ্যে পাপা ততটাই অত্যাচারী। বিজনেস জিনিসটা সে যত ভালো বোঝে, পরিবারের মন বুঝতে সে ততটাই ব্যর্থ। যত সময় পার হয়েছে, ব্যবসায় তত বেশি সে সফল হয়েছে। করিমপুর -কলকাতা ট্রান্সপোর্ট থেকে শুরু করে ভেইকেল, ল্যান্ড বিজনেসে সফল মানুষদের মধ্যে একজন হয়ে উঠেছে সময়ের সাথে সাথে। বাড়ির পরিবেশে মায়ের ওপর অত্যাচারও ভীষণ বেড়েছে সময়ের সাথে।
মারামারি, হাতাহাতিও কম হয়নি। মদের নেশাতে চুর হয়ে থেকে সমস্ত অশান্তি তৈরী হত। আমার মা মদ জিনিসটাকে একদম মেনে নেয়না, তাই অনেক আত্মীয়র সাথেও মায়ের তর্কতর্কি হয়েছে অনেক সময়। প্রতিবেশী, আত্মীয়রা সবসময় মাকেই বুঝিয়েছে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। মা আপোষ করেনি কখনো। সবসময় যে পরিস্থিতি প্রতিকূলে থেকেছে এমন নয়, ভালো কিছুও হয়েছে। ওদের মধ্যে যেমন ঝগড়া, অশান্তি হয়েছে, তেমনই পাপা সুস্থ মস্তিষ্কে থাকলে ওদের মধ্যে ভালোবাসাও চরমভাবে প্রকট হয়েছে। কিন্তু সেসব কখনই স্থায়ী হয়নি। পাপার জীবনের সমস্ত ইনকামের অর্ধেকের বেশি সম্পত্তিও মা'র নামে করে দিয়েছে। আসলে পাপা মানুষটা খুব ঝোঁকে চলে। যেটা মন চায়, সেটাই করে। তারকাছে একমাত্র তার চিন্তাভাবনা গুলোই ঠিক। বাকি সবার সবটাই ভুল।
প্রাইমারি স্কুল থেকে বেরিয়ে এডমিশান টেস্ট দিয়ে হাইস্কুলে যেতে হত আমাদের সময়ে। আমার জীবনে প্রথম বড় কোনো পরীক্ষা। সেবার আমি পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলাম। নতুন স্কুল, নতুন ব্যাগ, নতুন বই, খাতা!!! নতুন সব গন্ধ সেইসব বই খাতার!! আমাকে ভীষণ উৎসাহি করে তোলে। এখানে আমার ভর্তিতে একটু সমস্যা হয়েছিল। বয়স পূর্ণ হয়েছিলনা বলে আমার ভর্তি নিতে চায়নি স্কুলে। পরে বিশেষ অনুমতি পত্রে আমি ভর্তি হতে পেরেছিলাম। হাইস্কুলে ঢুকেও আমি ব্যতিক্রমী কিছু দেখলামনা। সব স্যার, ম্যাডামদের স্নেহের পাত্র হয়ে উঠলাম শুরু থেকেই। কিন্তু আমার মধ্যে বাচ্চামি জিনিসটা এতই ছিল যে আস্তে আস্তে আমার পড়াশোনার মান কমতে শুরু করে। কখনো ভালো রেজাল্ট করি, তো কখনো খুব বাজে রেজাল্ট করি। ক্লাস এইটে অঙ্কে ১০০ তে ১৬ পেয়েছিলাম সেই আমিই যে আমি অঙ্কে ১০০ তে ১০০ পেয়ে পুরষ্কার পেয়েছিলাম একটা সময়। এবার ক্লাস নাইনে এসে আমি প্রেমে পড়লাম। পায়েলের প্রেমে। একদিকে আমি পায়েলকে ভালবাসি। একদিকে ঝুমা আমাকে ভালবাসে। আবার পায়েলও নাকি আমাকে ভালোবেসে ফেলে। কিন্তু ঝুমা ভালবাসে আমাকে, তাই সে পিছনে সরতে থাকে। পায়েল যত পিছনে সরতে থাকে, আমি ততই ভেঙে পড়তে থাকি। পড়াশোনাও খুব খারাপ ভাবে চলে তখন। অঙ্কে আমি তখন একজন প্রমিসিং ছাত্র। অঙ্ক পরীক্ষাগুলোতে প্রথম স্থান দখল করছি একের পর এক। তারপর যখন আমি একেবারেই ভেঙে পড়ি প্রেমের যন্ত্রনাতে, সেবার আমার চরম দূর্দশা। অঙ্কে শূন্য পেয়ে গেলাম। আমার স্যার সেদিন প্রথম আমাকে চড় মারতে হাত উঠিয়েছিল। শেষপর্যন্ত হাত নামিয়ে নেয়। এরপর মাধ্যমিকে আমার রেজাল্ট ভীষণ খারাপ হল। মনের জোরে সায়েন্স নিয়ে পড়তে শুরু করি। কারণ অঙ্ক ছাড়া আমি হাঁপিয়ে উঠতাম। অবশেষে ঝুমা প্রেমের যুদ্ধে হেরে গিয়ে পিছনে সরে যায়, তখনও আমার রেজাল্ট খারাপ হচ্ছে, পায়েল সহ্য করতে না পেরে আমাকে প্রপোজ করে। সেদিনটা আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে একটু শুয়েছি। আধঘন্টা পর ইংরাজি পড়তে যাওয়া। পাপা মদ খেয়ে এসে আমাকে শুয়ে থাকতে দেখে থাপ্পড় বসিয়ে দেয় গালে। আমি খুব রেগে যাই। পপি দিদি ছিল তখন আমাদের বাড়িতে। আমি বেরিয়ে আসি বাড়ি থেকে। ভেবেছিলাম বাসের তলাতে ঝাঁপ দেবো। হঠাৎ সেখানে পায়েল এসে আমাকে দেবালয় মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রপোজ করে। তখন আমি কি করবো কি বলবো কিছু বুঝতে না পেরে পড়তে চলে যাই। ফিরে এসে পপি দিদিকে খুলে বলি, কিন্তু যেখানে আমার দিদি আছে, সেখানে আর কোনো আনন্দই আমার কাছে কিছুনা, আমি পপি দিদির সাথেই মেতে থাকি, পায়েল কে এড়িয়ে গিয়ে। তারপর যেদিন পপি দিদি চলে আসলো করিমপুর থেকে, সেদিন আমার খুব মন খারাপ হয়েগেল, আমি ফিজিক্স এর টিউশন পড়তে গেছিলাম, জোরে বৃষ্টি পড়ছিল, আমার পড়া শেষ হতেই আমি সাইকেল নিয়ে ভিজতে ভিজতে পায়েল এর পড়ার জায়গায় চলে যাই, পায়েল আমাকে একবার দেখার জন্য প্রতিদিন ওখানে অপেক্ষা করত, অনেক্ষণ অক্লান্তিতে দাড়িয়ে থাকত। আমি ভিজতে ভিজতে সেখানে গিয়ে রাস্তার ওপর দাড়িয়ে ওকে হাতের ইশারায় ডাকি, ও আসলে বলি, আজ আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, পায়েল আমার চোখ দেখে বুঝেগেছিল, আমি পপি দিদিকে মিস করছি, আমার কষ্ট হচ্ছে। আমাকে বলে আজ বিকেলে আমরা একসাথে দেখা করব, আমি ওকে জিজ্ঞাসা করি, "তুই, সেদিন আমাকে যেটা বলেছিলিস, সেটা কি সত্যি?"। ও একটু মিষ্টি করে হাসে, বলে বিকেলে আসিস। আমি বললাম, আচ্ছা, আসবো, তারপর আমি চলেযাই। সেদিন বিকেলে আমি ওর সাথে দ্যাখা করেছিলাম, একসাথে আমার শৈশব, কিশোর, ও যুব বয়সটা পায়েল এর সাথে কাটিয়ে দিই।
পপি দিদি পায়েল কে খুব পছন্দ করতো। ওরা বন্ধুর মত হয়েগেছিল, আমাকে যখন ঘর বন্দী করে রাখা হয়, তখন পায়েল আমাকে দেখার জন্য পাগলের মত হয়েগেছিল, আমিও পাগলের মত হয়েগেছিলাম। পপি দিদি পায়েল এর কাছে আমার মেসেজ নিয়ে যায়, "ওকে বলে ধৈর্য রাখতে, বলেছিল, আমার ভাইয়াকে দেখেরেখো, ওকে তোমার হাতে দিয়েগেলাম।" আমাকে এসে বলে পায়েল তোকে খুব মিস করছে, ও তোকে খুব ভালোবাসে।
তারপর আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলকাতাতে চলে আসলাম, ইংলিশ অনার্স নিয়ে ভর্তি হলাম, আমি খুব খুশি ছিলাম, সবসময় পপি দিদিকে কাছে পেতাম, কিন্তু আমার এই কাছে আসাটা ওকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে, আমি কখনো ভাবতে পারিনি। ও প্রেম করা শুরু করল, আর সেখানে আমার সক্রিয় ভুমিকা ছিল, আমি ক্রিকেট প্রেমী ছিলাম, ছেলেটা আমার মাথাতে ক্রিকেট এর ভূত ঢুকিয়ে নিজের দলে করে নিয়েছিল। তারপর ওদের প্রেম বাড়তে থাকে। একটা সময় পায়েল কোনো কারণে আমার ওপর রেগেছিল, আমি ওর রাগ ভাঙ্গাতে করিমপুর চলে যায় , পপি দিদির যাওয়ার কথা ছিল আমার সাথে। আমি ওকে না নিয়েই তারাতারি করে চলে যাই। গিয়ে পায়েলর হাত দুটো ধরে ওর রাগ ভাঙিয়ে ছিলাম, কিন্তু তারপরের দিন বিশ্বকর্মা পুজোতে শুনতে পাই, আমার দিদির এক্সিডেন্ট হয়েছে, মরে গেছে ও। সেদিন আমি খুব অন্ধকার দেখছিলাম। প্রেমিকার রাগ ভাঙ্গাতে গিয়ে দিদিকে মেরে ফেললাম?
এরপর আমি সাবজেক্ট চেঞ্জ করি। ইংলিশ অনার্সে অঙ্ক না থাকায় হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। পরের বছর আমি কম্পিউটার সায়েন্সে ভর্তি হই, সেখানে অঙ্ক পেয়ে যায়। ভীষণ উশৃঙ্খল জীবন যাপন শুরু করি। পপিদিদির মৃত্যুটা মেনে নিতে পারিনি। মদের নেশাতে চুর হয়ে যাই। পায়েল আমাকে বছরের পর বছর ধরে সামলানোর চেষ্টা করেও কিছু করতে না পেরে অবশেষে সে বেরিয়ে যায় আমার জীবন থেকে। এর মাঝে অবশ্য অনেক ভালো কিছুও হয়েছে। আমার রেজাল্ট খুব ভালো হতে থাকে। কিন্তু প্রোজেক্টে পরপর তিনবার ব্যর্থ হয়ে যাই। গ্র্যাজুয়েশন ও মাস্টার ডিগ্রীতে ফার্স্ট ক্লাস সহ পাশ করি। প্রোজেক্টে যেবছর পাশ করি, সেই বছরেই ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউট এ ফাইনাইট অটোমাটা জিওমেট্রিতে রিসার্চের সুযোগ পেয়ে যাই।
অনেক মেয়ে এসেছে আমার জীবনে প্রেম হয়ে। পায়েল, চুমকি, ঝুমা, শৈত্রী, মিনাক্ষী, সুরবি, মোনালিসা, ইন্দ্রানী, মনীষা, কুহেলি, সৃজা, বনি, পিয়ালী, রিঙ্কি। কিন্তু কেউ স্থায়ী হয়নি। সবার মধ্যে মনেহয় আমি পায়েলকে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম। ব্যর্থ হই।
আমি নিজেকে পাল্টে অন্য মানুষ গড়তে চাইলাম। আদর্শ নিয়ে বাঁচতে চাইলাম। তসলিমা নাসরিনের লেখা আমাকে প্রভাবিত করতে থাকে। তার লেখার মধ্যে আমি সততা, আদর্শ, আপোষহীনতা, লড়াই করার মানসিকতা খুঁজে পেলাম। রিসার্চের ফাঁকে তার লেখাগুলো আমি গোগ্রাসে গিলতে থাকি। আমার ধ্যান, জ্ঞান সবকিছু ঘিরে ওই একটা নামই আমার জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তসলিমা নাসরিন। মনের মধ্যে তাকে একটা প্রতিমার রূপ দিয়ে ফেলি। তারকাছে আমি ভালোবেসে আবদার করে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারি। ইতিমধ্যে ফেসবুকের সৌজন্যে তার সাথে আমার পরিচয় হয়ে যায়। স্বপ্নকে যেন আমি মুঠোর মধ্যে পেয়ে যাই। মেয়েমা বলে ডাকি তাকে আদর করে, স্নেহ করে। অনেক অনেক আবদার, বাচ্চামি করে ফেলি। কখনো আবেগে ভেসেগিয়ে একটু বেশিই অনিয়ন্ত্রিত কথা বলে ফেলি। সে কি কখনো রাগ করে?? মনে হয় করেনা। কিন্তু হয়ত কখনো তার একটু খারাপ লাগে কোথাও। মেয়েমা আমার কথাতে কখনো খারাপ ভেবোনা। জানোই তো খুব ভালবাসি তোমাকে। তাই অতিরিক্ত বাচ্চামি করে ফেলি। কিছু ভুল হলে আমাকে বকবে, ক্ষমাও করে দেবে। কিন্তু ভালবাসা থেকে কখনো বঞ্চিত করোনা কখনো। সহ্য করতে পারবোনা।
লেখক: সৌম্যজিৎ।