Monday, 30 January 2017


রাষ্ট্রকে নয়, আমার সব ভালোবাসা দিলাম মানুষকে।
সৌম্যজিৎ। 


ভারতবর্ষ আমার মুক্ত স্বদেশ,
ভারতবর্ষ ছিল মিলনের মহান দেশ,
হিন্দু, মুসলিম হাতে হাত মিলিয়ে,
কাঁধে ভর দিয়ে একে অপরের,
মুক্ত হতে চেয়েছিল স্বাধীনতার পথে,
জাতিভেদকে ছাপিয়ে শক্তি হয়েছিল
একজোট, এক পরিবারে  ..
আমার মুক্ত মাটি, মুক্ত বাতাসে খেলার স্বপ্ন
ভেঙে চুরমার হল রাজনীতির খেলাঘরে  ..
বুকে গভীর প্রেম আমার দেশের প্রতি,
আমি জানাতে পারিনি তোমায়,
আমার অখণ্ড ভারতবর্ষকে টুকরো হতে দেখে,
ভাই ভাইয়ের রক্তের পিপাসু হতে দেখে,
লজ্জায় আমি থমকে গেছি,
আমার প্রেম আমি তোমায় দিতে পারিনি,
টুকরো হয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যকে আমি ভালবাসতে চাইনি। 
আমি মানুষকে ভালবাসলাম,
ভাগ হয়ে যাওয়া সাম্রাজ্যের 
ভাগ হয়ে যাওয়া জাতিকে পরোয়া না করে,
ভালবাসলাম সেই নির্বাসিত মানুষটাকে, 
যে মানুষটা তোমার ভাগ হয়ে যাওয়া টুকরোকেও
মন, প্রাণ, আদর, স্নেহ সবটা দিয়ে ভালবেসেছে,
তোমার থেকে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া সেই সাম্রাজ্য
ছিন্ন করে দিল সব সম্পর্ক, বিতাড়িত করলো, 
নির্বাসিত করে দিল সেই মানুষটাকেও!! 
বিচ্ছেদ, সম্পর্কচ্যুত করে দেওয়া, 
পর করে দেওয়া তোমার ইতিহাসেই বহমান ভারতবর্ষ।
ভারত - বাংলাদেশ - পাকিস্তান,
রাজনীতির আদলে মানচিত্রে খণ্ড হয়ে যাওয়া তিন স্থান,
জাতিভেদ গড়ে তুমি খণ্ড করেছ কত ভালোবাসা, কত প্রেম, কত বন্ধুত্ব!!! 
আমি তোমায় ভালবাসতে পারবো না সীমানার কাঁটাতারে ঘেরা সাম্রাজ্য,
ভালোবাসাকে তুমি সম্মান দিতে জানোনি,
আমার ভালোবাসার সম্মান তুমি দিতে পারবে না। 



জানো ভারত রাষ্ট্র 
আমি ভালবেসেছি সেই বিপ্লবী লেখিকাকে,
কাঁটাতারের সীমানা ছিন্ন করে যে একাকী মানুষরূপী প্রতীক হয়েছে,
যার অন্তরে কোনো খণ্ড সাম্রাজ্য নয়,
এক অখণ্ড হৃদয় বাস করে,
যে তোমার মত রাজনীতির ইমারত গড়তে চায় না,
শুধু মানুষকে ভালোবেসে ভালোবাসার এক নতুন আদর্শ গড়তে চায়,
আমি ভালোবাসি সেই লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। 



জানো ভারত রাষ্ট্র
আমি ভালবেসেছি সেই মেয়েটাকে,
তোমার বুকে জন্মেও যে ভালবাসতে শিখেছে পাগলের মত,
তার হাসিতে তারাদের ঝিকিমিকি রূপ ফুটে ওঠে,
তোমার বুকে জন্মেও যে জাতিভেদে নয়,
মানুষ হয়ে বাঁচে,
মানুষকে আপন করে বুকে টেনে নেয়,
ভালোবাসার প্রচণ্ড আবেগে জড়িয়ে রাখে সব মুহূর্তগুলোকে,
তোমার বুকে জন্মেও সে পর করে দিতে শেখেনি,
আমি ভালোবাসি আমার সেই ভালোবাসাকে।


জানো ভারত রাষ্ট্র
আমি ভালবেসেছি সেই মানুষটাকেও,
যে জন্মেছে তোমারই থেকে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া পররাষ্ট্রে,
সেই পররাষ্ট্র যেখানে তোমারই মত জাতিভেদ বেড়ে উঠেছে তীব্র অহমিকায় তবু,
সেই মানুষটার বুকে জাতিভেদের হিংসা স্থান নিতে পারেনি,
নিষ্পাপ হাসিতে যে সহজেই আপন করে নিতে পারে অচেনা, অজানাকেও,
আমি ভালবেসেছি আমার সেই জান্নাতকে। 



ভারত রাষ্ট্র
আমি ভালবেসেছি সেই পররাষ্ট্রেই জন্ম নেওয়া আরেক সন্তানকে,
যার দুষ্টু, মিষ্টি ভালোবাসা আমার মধ্যে তীব্র স্নেহের সঞ্চার করে,
যে সন্তানকেও দূর করে দিয়েছে তোমারই ইতিহাস বহন করা 
সেই পররাষ্ট্র বাংলাদেশ,
ছোট্ট মেয়েটা এত ছোট হয়েও আজ 
স্বাধীনতা পায় না নিজের দেশে বাঁচার,
তার স্বাধীনতা নেই পরিচিত আপনদের সাথে হাসার, ঘোরার, খেলা করার,
তার স্বাধীনতা নেই নিজের ভিটেমাটিতে যেমন খুশি তেমন থাকার,
আমি ভালবেসেছি সেই ছোট্ট ইতুকে।



ভারত রাষ্ট্র
যে ভালোবাসা তুমি বাসতে পারো নি,
ভালোবাসার পরিবর্তে তুমি পর করে দিয়েছ আপনজনদের,
বিভেদ, বিচ্ছেদ গড়েছ নিজ সংসারেই,
তোমারই বুকে জন্মে আমি ভালোবাসা ছড়িয়ে দিলাম,
আমার রক্তের প্রতিটা ফোঁটায়, প্রতিটা শ্বাসে যে প্রেম আছে, যতটা আছে,
আমি বিলিয়ে দিলাম  ..

Friday, 27 January 2017

আমি যদি দেশের শিক্ষার ভার পেতাম, জোরপূর্বক হওয়া প্রথাগত শিক্ষাকে তুলে দিতাম। বাচ্চাদের জন্য বিদ্যালয়কে একটা খেলার প্রাঙ্গন করে দিতাম, যে যেমন ইচ্ছা চিন্তা ভাবনাগুলোকে তুলে ধরবে, সেগুলো নিয়ে কাজ করবে। সেই চিন্তাভাবনাগুলো কাল্পনিক ও অবাস্তব মনে হলেও সেগুলো নিয়ে ভাবার চেষ্টা করবে ও একদিন সেসব থেকে শিক্ষার এক নতুন দিক খুঁজে পাবে। যেন পড়াশোনাটা একটা ভীতি নয়, পড়াশোনা একটা খেলা। তারা তাদের সেই চিন্তাভাবনাগুলোকে অগ্রসর করতে আরও বেশি বেশি করে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করবে, সেগুলো সম্পর্কে আরও জানবে। এটাই তো প্রকৃত শিক্ষা হওয়া উচিৎ। জাতিভেদ প্রথা অনুযায়ী সুযোগ পাওয়া বা হাতছাড়া হওয়ার কোনো নীতি থাকবেনা সেখানে, থাকবে শুধু সকলের প্রতিভার বিকাশ হওয়ার সুযোগ। আমি আমার পৃথিবীতে শিক্ষা ব্যবস্থার এমনই একটা দিক দেখতে চাই। ছেলে মেয়েরা খেলুক, ভাবুক, গান করুক, নাচুক, ছবি আঁকুক, ভালবাসুক নিজেদের পছন্দগুলোকে, তবেই একটা সুস্থ ও সুন্দর শিক্ষিত সমাজ গড়ে উঠবে।
চিন্তা করিনা আর সুন্দরের,
চিন্তা করিনা আর অসুন্দরেরও,
চিন্তা করিনা আমাকে উঠতেই হবে মাথা উঁচিয়ে
বিশ্বতরে,
আমি যা আমি তাইই,
আমি যা হবো,
তাই নিয়েই জয় করবো মানুষ হৃদয়,
চিন্তা করিনা আমি সব পাওয়ার,
চিন্তা করিনা সবকিছু না পাওয়ারও,
আমি আমারই মত করে বাঁচবো,
আমারই মত গড়ে উঠবো,
এভাবেই আমি জয় করে নেবো একদিন সকল হৃদয়,
অন্তত একটা হৃদয়,
তবে তাই হোক ..
আমি জিতে নেবো একদিন..

- সৌম্যজিৎ। 

Thursday, 26 January 2017


বীর মানবী।
উৎসর্গ - তসলিমা নাসরিনকে।

 -সৌম্যজিৎ।


বীর তুমি মাথা উঁচিয়ে রেখো,
তোমার উঁচিয়ে থাকা মাথা শিক্ষার প্রতীক হয়ে উজ্বল হবে মানুষে মানুষে,
মূর্খেরা তোমায় কটাক্ষ করবে,
ধিক্কার জানাবে, 
তোমার নামে অশ্লীলতার সমস্ত বিষ উগরে দেবে,
মাথার দাম ঘোষণা দিয়ে তোমাকে সরাতে চাইবে চিরতরে অথবা
তোমায় নির্বাসন দেবে ভেঙে টুকরো টুকরো করতে,
ওরা তোমার মাথা হেঁট করতে চাইবে মুহূর্তে মুহূর্তে।


বীর,
তুমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থেক রণক্ষেত্রে,
হিংসা, প্রতিহিংসা শুধু ওই মানুষ নামে হিংস্র রক্ত পিপাসু দানবদের 
শিরা, উপশিরা, ধমনীতেই প্রবহমান, 
মানুষ নামে যে মানুষও হতে পারে তা -
তুমি সহস্র কোটি সহ্যের বাধ ভাঙার পরও প্রতীকী হয়ে থাকবে,
দৃষ্টান্ত গড়বে মানুষের সামনে,
বীর তুমি এমনই যোদ্ধা হয়ে বেঁচে থাকবে মানুষের মনে,
চিরকাল,
চিরতরে। 


ওগো বীর,
তুমি সেই আগুনে পোড়া মানবী যে,
আগুনের দহনে ঝলসে রক্তলাভা দিয়ে নতুন আদর্শ গড়েছে,
ওগো বীর তাকিয়ে দেখো আজ তোমারই সেই আদর্শে
কত কপট মানুষ হয়েছে,
শুধু নারী বা শুধু পুরুষ শৃঙ্খলের পরিধি ছিন্ন করে -
মানুষ হয়ে বাঁচার সাহস দেখিয়েছে,
তোমার লড়ায় বৃথা যায়নি।
বৃথা হয়ে গেছে গোঁড়ামির অহঙ্কার,
তুমিই এক যোদ্ধা কলমাস্ত্র হাতে আঘাত হেনেছ সেই গোঁড়ামিতে,
ধর্মের নামে গড়ে ওঠা অধর্মকে তুমি আঙুল দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছ সকল সম্মুখে,
একাকী, এক মানবী হয়েও,
মানবীকে যে দুর্বল করে রাখা প্রচলন যুগের ধারাতে বহমান,
সেই প্রচলিত ধারাতে তুমি ভেদ করেছ,
শক্তির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন টেনেছ সকল মানবীর সম্মুখে,
আদর্শে আদর্শে তুমি ছড়িয়ে গেছ আজ হৃদয়ে হৃদয়ে।


বীর তুমি কখনো মাথা ঝুঁকিয়ো না,
উঁচিয়ে রেখো তোমার উজ্বল প্রতীকী রূপ,
সূর্যের মতন সত্য তুমি, সূর্যের মতন তেজ তোমার ললাটে,
আমরা জেগে উঠি তোমায় দেখে,
এক নতুন সকালের আহ্বানে। 

Wednesday, 25 January 2017


স্বাধীনতার সাম্রাজ্য।
উৎসর্গ - লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।

- সৌম্যজিৎ।


আমরা তোমায় রেখেছি মনের গভীরে,
তুমি আমাদের জেগে ওঠা চেতনা,
তোমাকে নিয়ে সাজায় আদর্শ,
তোমারই আদর্শে মুক্ত আমাদের প্রেরণা।
ওরা দিক নির্বাসন,
ওরা করুক নিষিদ্ধ,
চাইনা সে মাটি যেখানে -
মুক্তি হাসেনা,
প্রাণ খেলেনা,
বাতাস বয়ে যায়না,
সত্যি জানালা খুলে বেরিয়ে আসেনা,
সে মাটি আমাদের নয়,
সে মাটিই নির্বাসিত।


যে মাটির মানুষেরা অহঙ্কার মুক্ত,
যে মাটির মানুষেরা গোঁড়ামি নয়, মনুষ্যত্বের চেতনা বহন করে,
যে মাটির মানুষেরা কাউকে নিষিদ্ধ, নির্বাসিত করেনা,
যে মাটির মানুষেরা জাতিভেদের কলঙ্ককে বীরদর্পে বহন করেনা,
যে মাটিতে ফুল ফোটে,
যে মাটির ওপরে আকাশে পাখিরা ওড়ে নিজ স্বাধীনতায়,
যে মাটির গায়ে রক্তের দাগ থাকেনা,
গোঁড়ামির বোটকা গন্ধ থাকেনা,
সেই মাটি আমাদের,
সেই মাটিই আমাদের আদর্শের জন্মদাত্রী।
কোথাও যদি না পাই সেই মাটির স্পর্শ,
তবে তোমায় আশ্রয় দিলাম আমাদের মনে,
তুমি বাস করে ধন্য করো আমাদের মানুষ জীবন,
গৌরবান্বিত করো আমাদের হৃদয়।



মনে রেখো,
যেখানে আমাদের স্বাধীনতা মেলেনা,
সেখানে শুধুই সুবিধাভোগীর রাজত্ব চলে,
স্বাধীনতার বিশাল সাম্রাজ্য ধারণ করেছি আমাদের চেতনায়,
বিস্তীর্ণ, গভীর বুকে,
সেখানে তোমার নির্বাসন নাই,
তুমি অবাধে যাতায়াত করো সেখানে। 

Tuesday, 17 January 2017

আহা!!
আমার উচ্চতার রানী,
তোর সাথে মাতবো প্রেমে,
খেলবো লুকোচুরি,
আয় -
একটু আদর করি।  

সত্যের ভেলা।
সৌম্যজিৎ।


চল যায় ছুটে বাধ ভেঙে,
নদীর ওপাড়ে সীমানায়,
চল গড়ি জীবন ইচ্ছে খুশি,
স্বপ্নেরা হাতছানি দেয়,
ক্ষণে ক্ষণে যত
বাধা আসে আসুক,
বীর আমি -
বুক চিতিয়ে লড়বো জীবন,
গড়বো এক সুখের কুটির,
ভালোবাসার মিনারে।
চল ছুটে চল,
সব বাধ ভেঙে,
খরস্রোতা প্রতিকূল পার করে,
রুদ্ধশ্বাসে বুক ভর্তি সাহস নিয়ে এগিয়ে চল,
চল ভাঙি নিয়ম,
চল ভাঙি লজ্জা,
চল ওদের সত্যের রূপ দেখায়,
মানব অবতারে
'শ্রীকৃষ্ণ কেমনে তুলল গোবর্ধন এক আঙুলে!'
এমন অসম্ভব গল্প'কথা শুধু কল্পনাই,
চল ওদের সত্যের রূপ দেখায়।
চল ভাঙি গোঁড়ামি,
চল ভাঙি চোখ রাঙ্গানি,
চল ওদের দম্ভ চূর্ণ করে দিই।


-সৌম্যজিৎ। 

Monday, 16 January 2017

নিজের জন্য প্রতিবাদ আমি খুব কম সময়েই করেছি। যখনই প্রতিবাদ মুখর হয়েছি, লেখিকা তসলিমা নাসরিনের প্রতি অন্যায় হলে আমি কথা বলেছি, লিখেছি। কিন্তু সেসবের মধ্যেও আমার ভাষাকে আমি সবসময় সংযত রেখেছি, কোথাও অশ্লীল ভাষার প্রয়োগ করিনি। আজ আমার নিজের জন্য বা আমার ও তনুশ্রীর সম্পর্কের জন্য আমি প্রতিবাদ করতে চাইছি। কয়েকদিন আগে আমি আমার ও তনুশ্রীর কিছু ভালো ও আনন্দের মুহূর্তের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলাম। দুজনের একসাথে তোলা ছবি ও চুমুর সুন্দর দৃশ্যের ছবি পোস্ট করেছিলাম। আমাদের দুজনের ইচ্ছাতেই পোস্ট করেছিলাম। এটা আমাদের স্বাধীনতা। আমরা এমন ছবি পোস্ট করতে কখনো দ্বিধা বোধ করিনা। কারণ আমাদের চিন্তা ও ভাবনাতে গোঁড়ামি নেই। কিন্তু সেই ছবিতে এক গোঁড়া ধার্মিক, ইস্কনিস্ট বিরূপ মন্তব্য লেখে। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। একজন মেয়ের সাথে ২০১৪-১৫ তে আমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, ছেলেটা তারই ভাই। সে আমার ও তনুশ্রীর সম্পর্ককে খারাপভাবে মন্তব্য করে, ও সেই মন্তব্য পড়ে আমার বেশকিছু বন্ধু প্রতিবাদ করে, ছেলেটাকে অপমান করে। তারপরও আমি তাকে ছোট ভাই বলে, ভালোবেসে বোঝানোর চেষ্টা করি, উত্তেজিত না হয়ে স্নেহ করেই বোঝানোর চেষ্টা করি। আমি ভেবেছিলাম ঘটনাটা সেখানেই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেটা হয়নি, আজ সকালে পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফিরে দেখি ছেলেটা আমার ও তনুশ্রীর ছবি অনুমতি ব্যতীত স্ক্রিনশট করে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে পোস্ট করেছে। আমি তাকে কমেন্ট করে আবারও বুঝিয়ে বলি, তার দিদিকেও বলি। কোনো কাজ হয়নি তাতে। তার দিদি আমাকে বলেছে  যে আমি নোংরামি করেছি, তাই যেন ভয় না দেখাই। বুঝতে পারলাম না যে কেন এমনটা ওরা করল। ছেলেটার দিদির সাথে আমার একবছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি তখন সদ্য আমার প্রথম প্রেম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলাম। অনেকগুলো বছর একসাথে ছিলাম, তাই স্বভাবতই আমি সেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারছিলাম না, কষ্ট পাচ্ছিলাম। সেই মুহূর্তে ছেলেটার দিদির সাথে আমার একটা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়, আমি তাকে কখনো জোর করিনি সম্পর্কে আসতে। আমি তাকে সবটা খুলে বলেছিলাম, তারপরেই সম্পর্কে এসেছিলাম। কিন্তু সম্পর্কে আসার পরেও, প্রথম প্রেমিকার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও, আমি তাকে ভুলতে পারছিলাম না মন থেকে। মন থেকে একেবারে ভুলে যাওয়াটা সহজ ছিলনা আমার পক্ষে। আমি আমার মনের মধ্যে প্রতিমুহূর্তে লড়াই করেছি, ভোলার জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু পুরোনো স্মৃতিগুলো বারেবারে মনে এসে যেত। আমি ভেবেছিলাম সময় লাগবে, ঠিক হয়ে যাবে সবটা। ইতিমধ্যে এই ছেলেটার দিদি আরেকটি ছেলের সাথে জড়িয়ে যায়, আমি বুঝতে পারিনি প্রথমে। আমাকে জানায়নি সে। আমি যখন জানতে পারি, উত্তেজিত না হয়ে, মেয়েটাকে ডেকে পাঠাই, তাকে বুঝিয়ে বলি ও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসি। এই পর্যন্ত ছিল সেই মেয়েটার সাথে আমার সম্পর্ক। এই একটা বছরের সম্পর্কে আমরা বেশ কয়েকবার কাছাকাছি এসেছিলাম, ঘুরেছিলাম, এখন সেসব অতীত। আমি তনুশ্রীর সাথে ভীষণ খুশি, সারাজীবন এভাবেই থাকতে চাই। এতে তো কারোর কিছু বলার থাকে না। হ্যাঁ আমাদের পরিবার কথা বলতেই পারে, কিন্তু এর পরে আর তো কেউ কিছু বলতে পারে না। সেখানে বাইরের থেকে কোন অধিকারে ওরা আমার প্রফাইল থেকে ছবি নিয়ে পোস্ট করে!!


আসন্ন নেট পরীক্ষার পরীক্ষার্থী আমি। ছাত্র হিসেবে দেশের মধ্যে সম্মানজনক স্থানে পড়াশোনা করেছি, সেখানে কাজ করছি। এইমুহূর্তে পরীক্ষার ঠিক আগে আমাকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে আমাকে বিব্রত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে কিছু মানুষ, ওরা তাদের মধ্যেই। তনুশ্রীর সাথে আমি আলোচনা করলাম, ও একটা সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি যে আগামীকাল আমি প্রশাসনের কাছথেকে সাহায্য চাইবো। আমার সম্মান ও দেশের সর্বচ্চ পর্যায়ের পরীক্ষার পরীক্ষার্থী হিসেবে আমার মানসিক ভীতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সেইদিক বিচার করে প্রশাসন আমার পাশে এসে দাঁড়াবে বলে আশা করি। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি আমি সবসময় স্নেহশীল, তাই ছেলেটার যাতে ক্ষতি নাহয়, সে কথা ভেবে আমি চুপ করেছিলাম, কিন্তু এখনও যদি আমি চুপ করে থাকি, সেটা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে। দেশের একজন সৎ নাগরিক হয়ে আমি অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে পারিনা। 

Friday, 13 January 2017

আশাগুলো ব্যস্ততার ভিড়েও 
বেঁচে আছে বুকের কিনারায়,
সমস্তদিনের অকর্মগুলোর থেকে উঁকি দেয়,
ফাঁকফোকর খুঁজে ছুটে যেতে চায়,
লাগেনা মন
বড্ড অস্বস্তিকর কাজগুলোতে,
বইয়ের ভাঁজে চোখ খুঁজে বেড়ায় মুক্তির পথ,
আমার আদর্শকে ছুঁয়ে যেতে -
মুক্তির রহস্য বইয়ের পাতাতেই লুকিয়ে আছে। 
 

Friday, 6 January 2017


মেয়েমাকে..
সৌম্যজিৎ।

কত সাহসেরা মনে উঁকি দিয়ে যায়,
কত দাগ ক্ষত করে যায়,
কত জোর ভেঙে যায় নিমেষেই ...
ভেঙে ভেঙে আমি গড়ি স্বপ্নদের,
হারতে হারতেও জিতবো ভাবি,
শ্বাসে শ্বাসে রুদ্ধশ্বাসে,
পড়ছে ছন্দ, উঠছে সকাল,
নতুন সূর্য, নতুন দিন,
মেঘলা আকাশ, ক্লান্ত বিকেল,
ওঠাপড়ার মেলায়,
আমি চেয়ে থাকি তোমার কিনারায়..

তুমিই সকাল, তুমিই সূর্য,
তুমিই সত্যি,
তুমিই শক্তি,
তুমিই আমার ঈশ্বর।


Monday, 2 January 2017

দুঃসহ সময়গুলো।

দুঃসহ লাগে সময়গুলো, দুঃসহ লাগে বেড়াজাল,
একাকীত্বেও মেলে সুখের ছোঁয়া, কলরব জঞ্জাল,
হিসেবনিকেশ রক্তস্রোতে,
চড়চড়িয়ে মাথায় ওঠে,
দিগ্বিদিক অন্ধকার লাগে
দুশ্চিন্তার গ্রাসে।
আবারও চেঁচিয়ে ওঠে মনের ডাক,
পারবি তুই, গড়বি পথ,
ধরে রাখ লড়াইটা শুধু,
ছাড়িস না হাত।
খেয়াল আসে তখন,
ছুটে যেতে চায় লক্ষ্যপথে,
লক্ষ্যে শুধু তুমি,
পরিণতি জয়জয়কার।
আবারও মন ডোবে কাল'গহ্বরে,
আবারও লক্ষ্যপথে কাঁকর পায়ে রক্তাক্ত হয় শরীর,
মনে তবু উদ্যম জোর
ওই লক্ষ্যপথ ছোঁয়ার,
শুধু চায় একটু স্নেহ, একটু বৃষ্টির শীতল স্পর্শ,
শুধু চায় তোমার আঁচল ভরা ভালোবাসা,
শুধু একবার বলো "জিতে এসো।"


- সৌম্যজিৎ। 
সময় ভীষণ কম। মাঝে মাঝেই থমকে যাচ্ছি দুশ্চিন্তা করে। আবার নিজের থেকেই শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সিলেবাস আমার মতো করে এমন ভাবে সাজাতে হবে যেন কোনো চ্যাপ্টার পড়ার পরে, সেই চ্যাপ্টার নিয়ে কোনো আক্ষেপ না থাকে। ভাঙছি আবারও গড়ছি মনের ভিতরে। এই মুহূর্তে আমার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও ভীষণ জটিল, মনোভাবও ভাঙা গড়ার ভিতর দিয়ে টালমাটাল অবস্থায় এগোনোর চেষ্টা করছে। এরপরও মাঝের এই সময়টুকুতেই সিলেবাসকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সাহস ও শক্তি দুইই আছে আমার ভিতরে। পাশে শুধু দুটো মানুষকে প্রয়োজন, মেয়েমা ও ভালোবাসা। ভালোবাসা সবরকমভাবে আমাকে সাহায্য করছে, মেয়েমা একবার যদি একটু সাহস জোগানো কিছু একটা বলে দেয়, আমার গতি সেখানে অপ্রতিরোধ্য হতে পারে। এটা তো নতুন নয়, আমার থেসিসের ভাইভার আগে যখন আমি দুশ্চিন্তায় ভুগছিলাম, ভয় পেয়ে গেছিলাম ভীষণ, তখন মেয়েমার একটু কথা বলা আমার কাছে সবথেকে বড় শক্তি হয়ে গেছিল। ভাইভার দিন অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও আমি সফল হয়েছিলাম, শুধু মেয়েমার দেওয়া জোর আমাকে পিছিয়ে পড়তে দেয়নি। আজ আবারও তেমন কিছু দরকার। 

Sunday, 1 January 2017


আঁধারে অগ্নিশিখা তসলিমা নাসরিন।


বিশ্বমাতা তুমি, অন্ধকারে জ্বলে ওঠা অগ্নিশিখা,
আদর্শের পথে সৌম্য মুখ তুমি,
তোমার আঁচলে ভালোবাসা আর স্নেহ মাখা।
তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাসে আছে হার না মানা এক লড়াকু দৃঢ়তা,
সততার পথে অবিচল এক মানব,
অন্ধকারের কালোছায়াতে তুমি আলোর দিশারী,
তুমি মানবজাতির মুক্তির দিশা।
জীবন এক দর্শন তোমার,
তোমায় দেখে জেগে ওঠে প্রাণ,
জেগে ওঠে ভালোবাসার মুক্তধ্বনি,
তুমি স্বাধীনতার সহব্যাপী নাম।
লজ্জাকে করেছি তুচ্ছ,
চেতনাকে করেছি পাথেয়,
শত বিপত্তিতেও থাকব অবিচল আমরা,
তুমিই মানবজীবনের দৃষ্টান্ত।


তসলিমা শুধু সকল নারীর কান্না ধ্বনিই নয়,
তসলিমা মানে চেতনা,
তসলিমা আমাদের আদর্শ,
সমস্ত তরুন প্রজন্মের রক্ত গরম করে দেওয়া নাম এই তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা মানে বিপ্লব,
তসলিমা মানে কলমাস্ত্রের ধার,
তসলিমা মানে মানবতা,
তসলিমা আমাদের অনুভূতি,
তসলিমা আমাদের ভালবাসা।

যোদ্ধা তসলিমা নাসরিন -
তোমায় শতকোটি সেলাম।


- সৌম্যজিৎ। 
চেনা পৃথিবী অচেনা হয়ে গেছে,
অচেনা অচেনা লাগে চেনা মুখগুলো,
আপন বলে জড়িয়েছি যাদের, তারা আজ পর করে দিল,
আদর্শের পথে মুক্তি দেখেছি,
পরিচিতের বাঁধন বড্ড গুমোট,
পরিচিতের কাছে থাকতে চেয়েছি তবু,
পায়ে পরিয়েছে পরাধীনতার শেকল।
চেনা পৃথিবী অচেনা লাগে আজ,
চেনা মানুষেরা হারিয়ে গেছে ..
ঠিকরে বেরোতে চায় আর্তনাদ,
যা আছে প্রাণে কালো মেঘে জমাট বেঁধে,
বড্ড কষ্ট স্মৃতি জুরে,
বড্ড একা লাগে নিজের কাছেই,
ছুটে বেরিয়েও এদিক সেদিক,
মুক্তির ছোঁয়া পাওয়া হয়না।
দুঃস্বপ্নগুলো পিছু পিছু
চেতন মনেও তাড়া করে বেড়ায়,
সাহস তবু ভাঙবে না মনে,
একাকীত্বের সাথেই লড়ে বেড়াই।
পৃথিবী আজ বড্ড অচেনা,
গোল্লা ছুটে মত্ত সবাই,
কেবল আমিই ঘরের কোণে,
অভিমান নিয়ে হারিয়ে গেছি।
পৃথিবী আজ বড্ড অচেনা ..


- সৌম্যজিৎ।