Friday, 29 December 2017


ধর্ষণ তোমার লজ্জা নয়, ধর্ষণ ধর্ষকের লজ্জা। 

যদি তুমি ভাবো, তুমি ধর্ষণের শিকার, তুমি দুর্বল, তবে দুর্বল হয়ে যাবে তোমারই মত সহস্র লীলা, গীতা, মহিমা। যদি তুমি মনে করো তুমি ধর্ষণের শিকার, কিন্তু তুমি ন্যায়ের পথে হাঁটবে, তুমি ন্যায় করবে সেই লীলা, গীতা, মহিমাদের। নজির তুলে ধরবে, "ধর্ষণের শিকার মানে তুমি মানসিকভাবে ধর্ষিতা নও, ধর্ষণের শিকার মানে তুমি পঙ্গু নও, ধর্ষণের শিকার মানে তুমি হেরে যাওয়া, শেষ হয়ে যাওয়া, একেবারে ফুরিয়ে যাওয়া কোনো বস্তু নও। ধর্ষণ শুধু একটা অপরাধ আর সেই অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তোমাকে চলতে হবে।" তবেই সাহসের উজ্বল আলোকে ন্যায় পাবে ওরা, যারা ধর্ষণের শিকার হয়েও নিজের সম্মানের জন্য লুকিয়ে থাকতে নয়, বরং প্রকাশ্যে এসে লড়াই লড়তে চায়।

জিনিয়ার জীবনটা অতি সহজ সরল ছিল। সে স্বপ্ন দেখত সুন্দরের, সুন্দর জীবনের, প্রেমের। বাচ্চামি, পাগলামি নিয়েই সে থাকত প্রতিটা মুহূর্তে। হঠাৎ বদলে গেল যেন জীবনটা। হাসি নয়, জিনিয়াকে ভয় গ্রাস করেছে। চোখে, মুখে যেন নিজেকে অপরাধী মনে করার ছাপ। জিনিয়া কারোর সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না, যেটুকু বলছে, গলা কেঁপে কেঁপে উঠছে। জিনিয়া যে কখনো ছেলে, মেয়ে আলাদা করে দেখেনি, সবার সাথে অবাধে মিশেছে, খেলেছে, গেয়েছে, হঠাৎ করেই যেন ছেলে দেখলে সে দূরে সরে সরে যাচ্ছে। বাড়ির সবার মধ্যে থেকেও যেন সবার থেকে আলাদা একটা জগতে, যেন মনের ভিতরে সবকিছু তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে। জিনিয়া ভয় পাচ্ছে।

কি এমন হয়েছে জিনিয়ার সাথে, যে সে ভয়ে কোকীয়ে উঠছে, কারোর সাথেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না, মিশতে পারছে না!

আমি, লেখক সৌম্যজিৎ দত্ত আজ সেই মেয়ের সবথেকে কাছের বন্ধু, এবং এতটাই বিশ্বস্ত হতে পেরেছি যে মেয়েটি আমাকে নিজের সেইসব অন্ধকারের কথা জানাতে পেরেছে নির্দ্বিধায়।

সাল ২০১৪ এর ডিসেম্বর মাস। জিনিয়া দিল্লীতে কাকুর বাড়িতে বেড়াতে গেছিল। তখন জিনিয়ার বয়স বাইশ বছর। উৎসবের সময় তখন গোটা পৃথিবীতেই। দিল্লীও নতুন সাজে সেজে উঠছে। জিনিয়া আধুনিক মেয়ে, পার্টিতে যেতে কোনও বাধা, দ্বিধা নেই। মাঝে মধ্যে নেশাও করে। বাড়িতে কড়া পরিবেশে ভয় থাকলেও জিনিয়া বাইরের পরিবেশে বেশ সাবলীল। হঠাৎই সেদিন জিনিয়ার কাকাতো দাদা জিনিয়াকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়। জিনিয়া এই প্রস্তাবে হকচকিয়ে ওঠে। কে'ই বা এমন একটা পরিস্থিতির মুখে স্থির থাকতে পারে! জিনিয়া ভীষণ রেগে যায়। সটান থাপ্পড় চাপিয়ে দেয় নিজেরই দাদাকে। পরিস্থিতি সামলাতে জিনিয়ার দাদা বলে, "সে মজা করছিল।" এরপর জিনিয়াও ভাবে যে সে ভুল করেই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল, তার দাদা মজাই করছিল। এভাবে কোনো দাদা কি কখনো নিজেরই কাকাতো বোনকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দিতে পারে! জিনিয়া ব্যাপারটা ভুলে যায়।

সেদিন ছিল ৩১শে ডিসেম্বরের রাত। জিনিয়া ও তার দাদা এক নাইট ক্লাবে ঘুরতে যায়। সেই রাতে জিনিয়ার জন্য যে ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে, তা জিনিয়া কখনোই বুঝতে পারেনি। নাইট ক্লাবে গিয়ে জিনিয়া দেখে সেখানে তার দাদার বন্ধুরাও এসেছে। সবাই মিলে গানের সাথে নেচেছে। মদও খেয়েছে। হঠাৎই জিনিয়া দেখে সবদিক কেমন অন্ধকার হয়ে আসছে! জিনিয়া অসুস্থ বোধ করতে থাকে সেই পার্টিতে এবং চেতনা হারায়। পরদিন যখন ঘুম ভাঙে, তখন জিনিয়া নিজেকে আবিষ্কার করে এক হোটেলরুমে একা, বিধ্বস্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছে। তার শরীরে অসম্ভব যন্ত্রণা। বিছানার চাদরে রক্ত লেগে। জিনিয়া বুঝতে পারে, তার সাথে কি হয়েছে। কিন্তু সে ভয় পেয়ে যায়। জিনিয়া ভয় পেয়ে যায় বাড়ির মানুষগুলোর জন্য। সে কাওকে কিছু জানাতে পারে না। সবার মাঝে থেকেও সবার থেকে সে আলাদা হয়ে যায়। ভেঙে পড়তে থাকে। মানুষের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাতে থাকে।

একজন বাইশ বছরের আধুনিক মেয়ে, যার পরিবেশ সম্পর্কিত সমস্ত চেতনা আছে, কিন্তু বাড়ির পরিবেশকে সে এতটাই ভয় পায় যে সে তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাড়িতে প্রকাশ করতে পারে না। সে বলতে পারে না যে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে তারই দাদার কাছে। সে বলতে পারে না যে তার ন্যায় চায়। পরিবর্তে সে নিজেই অপরাধবোধে ভুগতে থাকে।

আর কতদিন মেয়েরা নিজেদের সাথে হওয়া অন্যায়গুলো, অত্যাচারগুলো মুখ বন্ধ করে মেনে নেবে! আর কতদিন মেয়েরা ধর্ষণের শিকার হলে নিজেদেরই অপরাধী ভাববে! আর কতদিন জিনিয়ার মত মেয়েরা ধর্ষণকে মুখ বুজে সহ্য করবে! আর কতদিন সেইসব ধর্ষকেরা ধর্ষণ করে বেকুসুর খালাস পেয়ে যাবে?

আমি জিনিয়ার পাশে আছি। আমি জিনিয়ার পাশে থাকবো। আমি জিনিয়ার ভরসা হবো। ন্যায় দেবো জিনিয়াকে। আমি জিনিয়ার সমস্ত ভয়কে কাটিয়ে দেবো। ওকে বোঝাবো, অন্যায় ওর সাথে হয়েছে, ও কোনো অন্যায় করে নি।

তোমরা তোমাদের প্রতি হওয়া অন্যায়কে প্রকাশ কর। মুখ বন্ধ করে যতদিন সহ্য করবে, অন্যায়কারীরা, ধর্ষকরা সমাজে তত শক্তিশালী হয়ে উঠবে, তত মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। তোমরা যদি ধর্ষণের শিকার হও, প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করে নিজের এবং সমস্ত নারীর সম্মানকে অক্ষুণ্ণ রাখার উদাহরণ তুলে ধর। বুঝিয়ে দাও তুমি ধর্ষণের শিকার হলে, সেই লজ্জা তোমার নয়, সেই লজ্জা ধর্ষকের।

 - সৌম্যজিৎ দত্ত।
কে কখন কোথায় থাকে,
কে কখন কোথায় বাঁচে,
সব পরিহাস।
অশ্রু মিলিয়ে যায় হাসিমুখে,
নজর এড়িয়ে খেলা করে,
ভালবাসারা সামনে এক -
আর মনে পুড়ে যায় ভালোবাসায়,
সবই আজ হেঁয়ালি,
শুধু পরিহাস।
ভালবাসা অভ্যাস।

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 27 December 2017

চোদ্দ লাইনেই পূর্ণ।
সৌম্যজিৎ। 

প্রেম শুরু হয় মাঝরাতেও ..
প্রেম হয় পড়ার মাঝেও ..
জীবন তুই চললি কোথায়!
সাথে যা ছিল তা হল প্রাক্তন।
নতুন এল তুফান শেষে,
মাটি ভিজিয়ে তুলল মাদল,
সুরে কাঁপে বুক সে প্রাচীর,
ভেদ করেছে নিশানা যে তীর,
প্রেম আজ ঝমঝমিয়ে,
বৃষ্টি দিল খরা শেষে,
শুখা নদী পূর্ণ হল,
পূর্ণ হল দোলাচল।
আগমন নতুন তোমার,
স্মৃতি হল প্রাক্তন।

Thursday, 21 December 2017

এক প্রাণ কাড়া সুন্দর,
থামিয়ে দেয় আমার গভীর তপস্যাও,
মৃত্যুও যদি সামনে এসে দাঁড়িয়ে যায়,
মৃত্যুকেও আমি বলবো অপেক্ষা করো, নাহয় পরে এসো,
এ ভুবন দেখা আমার এখনও হয়নি শেষ।

- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 18 December 2017

স্বপ্নেরা রোজ পাখা মেলে আসে,
উড়িয়ে নিয়ে যায় ইচ্ছে নদীর তীরে,
যেমন ইচ্ছা আবদারেরা
ফুটে বেরোয় আদর করে।
"ভালবাসি ভালবাসি" বলে চিৎকার করে মন,
ভালবাসায় মোর অন্তহীন জীবন,
ক্ষণিকের প্রেমে কাটিয়ে সময়,
মেলে বিচ্ছেদ, বিরহ, বিতাড়ন।
তবু এ প্রাণ খুঁজে বেড়ায় প্রেম,
একাকীত্বে  মানা আজীবন,
"ভালবাসি ভালবাসি" বলে ওঠে হুঙ্কার,
হৃদয়জুড়ে হয় তোলপাড়,
আবারও সেজে ওঠে জীবন নতুন ছোঁয়ায়,
ভয় হয় "কখন আবার ভাঙে এ মন!"


Friday, 15 December 2017

ষোল'ই ডিসেম্বরের সূর্য। 

সূর্যটা যেমন রোজ উদিত হয়, তেমনই উদিত হয়েছিল,
কিন্তু একরাশ অপেক্ষা বুকে নিয়ে যেন লক্ষ লক্ষ বাঙালি 
উষ্কখুষ্ক মুখে সেদিনের -
শুধু সেদিনের সূর্যের দিকেই তাকিয়েছিল। 
দিনের আলো আর রাতের অন্ধকার মিলেমিশে একাকার হয়েছিল 
লক্ষ বাঙালির ভয়ার্ত চোখে,
চোখের সামনে ওরা দেখেছিল ঘরের ছেলেকে বুকে বন্দুকের গুলি খেয়ে শহিদ হয়ে যেতে,
ওরা দেখেছিল মা, বোন, বউকে কেমন টেনে হিঁচড়ে ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে 
ফৌজের দল কিভাবে ধর্ষণ করেছে, খুন করেছে!
তবু ওরা অপেক্ষা করেছে সেই সূর্যকে দেখতে যে সূর্য 
কুয়াশা'কে ভেদ করে আলো দেখিয়েছিল, আর
বাঙালির সমস্ত কষ্ট কোথায় যেন মুহূর্তেই হারিয়ে গেছিল স্বাধীনতা জিতে নেওয়ার উল্লাসে। 

হায়রে স্বাধীনতা ..
তুমি কেমন আমার জানা নেই।
তুমি কি সুখের আলো,
তুমি কি শুধুই উল্লাসে ফেটে পড়া জয়ধ্বনি,
তুমি কি শুধুই মানসিক তৃপ্তি, নাকি
তুমি সেই বুক চিরে যাওয়া হাহাকার যা
আমি অনুভব করি আপন মানুষকে হারিয়ে। 

স্বাধীনতা তুমি শুধু রক্তই নিয়েছ,
মূল্যবোধ শেখাতে পারনি কখনোই। 

- সৌম্যজিৎ। 

Thursday, 14 December 2017

আমি তোকে ছাড়াও চলতে পারি আমার পথ,
আমি তোকে ছাড়াও বাঁচতে পারি জীবন।
আমার জীবন আমার লক্ষ্যপথে অটল,
যদি সাথে না থাকিস, আমি একাই একশত কোটি হয়ে
ধ্বংস করে দেবো মৌলবাদ ও পুরুষতন্ত্র।
একশত কোটি হয়ে আমি একাই ফিরিয়ে আনবো -
বঙ্গতনয়াকে।
শত, হাজারও যদি থাকে পিছুটান,
আমি সব পিছুটানকে ফেলে দেবো পিছনে,
দুর্বলতা যদি থাকে হাজারও,
আমি দুর্বল হয়েও পৌঁছে যাবো আমার লক্ষ্যপথে একদিন,
ঠিকই।

- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 11 December 2017

সূর্যমণ্ডলী তসলিমা।

তুমি কেমন করে লেখো আদর্শ লেখা!
শিরায় - মজ্জায় বাহিত হয়,
রক্তকণিকায় মিশে থাকা বদ - দূষিত রক্ত ধ্বংস হয়ে যায় সেই আদর্শে,
আমি প্রাণ ফিরে পাই।
ফিরে পাই সজীবতা, যেন
চারিদিকে শুধু মুক্তি আর মুক্তবাতাসের ঘ্রাণ,
জীবনীশক্তি হঠাৎই যেন বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়।
কোথা থেকে তুমি শুরু করো এই আদর্শ লেখা!

তোমার মগজ কি এতটুকু মানেনা বাধা যত আছে -
এ সংসারে!
পুরুষতন্ত্রকে তুমি পায়ের জুতোর নিচে মাড়িয়ে দাও নিমেষেই,
সমাজের গড়া নিয়মে তুমি খুঁজে পাও বেনিয়মের বেড়া,
কোথা থেকে আসে তোমার এত চিন্তা!
যা'কিছু বলো,
যা'কিছু তুমি করো, সবেতেই আমি খুঁজে পাই মহাকাশজুড়ে থাকা
অক্সিজেনের রাশিমালা,
যেন কোথাও নেই দূষণ,
কোথাও নেই প্রাণ জর্জরিত করা বায়ুমণ্ডল,
কোথাও নেই মৃত্যু,
শুধু খুঁজে পাই জীবন,
খুঁজে পাই এক নতুন সূর্য আলোকিত করছে
শিক্ষায়, চিন্তায়,
প্রেমে,
ভালবাসায়।


তোমারই মধ্যে আমি দেখি সেই সূর্যকে উদিত হতে,
জ্ঞানের আলোক বিচ্ছুরিত হচ্ছে তোমারই চেতনা থেকে।
কেমন করে তুমি এত তেজস্বী হলে
আমার লেখিকা!

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 9 December 2017

আকাশ থেকে খসে পড়তে দেখছি এক তারাকে।
আমি দুহাতের তালুতে ভরে,
নীল অন্ধকারে -
মুগ্ধ - বিস্ময় মাখানো দৃষ্টিতে দেখছি তারে।
অন্ধকারেও চোখে ঝিলিক খেলে যাওয়া মণিদুটো যদি
হারিয়ে যেতে চায় প্রেমের অতল গহ্বরে,
গায়িকা তুমিই দায়ী হবে সে প্রেমিকের মৃত্যুতে।

- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 8 December 2017

আজকাল তোমায় ভীষণ অহংকারী মনে হয়,
যে ভালবাসা তোমায় দিতে চেয়েছি ঝড় - তুফানের মত
নাভিশ্বাস থেকে তুলে,
সেই ভালবাসা আমি বেসেছি এক নিষ্পাপ পাগল প্রেমিকাকে,
সেই ভালবাসা আমি বেসেছি তাকে
যার চোখের চাহনিতে প্রেমকে ঠিকরে বেরতে দেখেছি,
আজকের এই অহঙ্কারীকে আমি কখনোই ভালবাসিনি।

কে তুমি!
আজ এত অচেনা কেন লাগে তোমাকে!

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 2 December 2017



প্রেম! 
সে তো ছিল সেই সেকালে! 
মনের মধ্যে যখন প্রেমের ঘোড়া টগবগিয়ে ছুটত,
দু-কানের পাশ দিয়ে হাওয়ারা শো শো আওয়াজ তুলে পার হত,
প্রাণের মধ্যে আবেগ হু হু করে বয়ে যেত বিলিয়ে যেতে।
তখন আমি প্রেমে পড়তাম রোজ, প্রতিবেলা - প্রতিজনে,
তখন আমার প্রেম ছিল নিষ্পাপ,
যেন জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডেও প্রবেশ করতে পারত নির্দ্বিধায়। 
এখন আমি আর প্রেমে পড়িনা,
এখন আমি মানুষের দিকে একবারের অধিক কেন যেন ঘুরেও দেখিনা,
এখন আর আবেগ আমাকে ধাক্কা দেয়না এটা বলে যে
যা, ছুটে যা, ভালবাস, প্রেমে প্রেমে লুটে যা, 
তখন আবেগ আমাকে বলত যেমন করে! 
আমিও দিন নেই, রাত নেই, ঘুম নেই,
প্রেমেরই অন্তরে ডুবে যেতাম।
আজকাল আমি ডুবে আছি যতসব
গস এলিমিনেশন, ইটারেশন, 
নিউটন র‍্যাপ্সনে,
আজকাল আমি হয়ত অঙ্ক কষতে কষতে
অঙ্কেরই মত বড্ড হিসেবি হয়ে উঠেছি।
হিসেব কষে আর যা'কিছুই হোক,
প্রেম কিছুতেই হয়না।
প্রেমটা -
আমার আর আসেনা। 

- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 20 November 2017

"তোমার সাথে দেখা হওয়ার প্রেম নেই, মাঠের বা ঘাটের প্রেমও কখনো হয়নি, তবু যে প্রেম আমার হয়েছে তোমার প্রতি তা তোমার তীব্র অপ্রেম আচরনেও আমাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করে বারেবারে।"

- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 17 November 2017

ছন্দটা আজকাল আসতে চায়ছে না।
কোথায় হারিয়ে গেল বলো তো! 
আকাশে মেঘ হচ্ছে, বৃষ্টি পড়ছে, 
শীতও নিজের সময় ঠিক করে এসে গেছে,
কিন্তু মনের ছন্দটা!
সে কোথায়!
আজকাল কি সে ঘুমিয়ে আছে নাকি
আমায় ছেড়ে চলে গেছে বা হারিয়ে গেছে চিরতরে! 
প্রেম প্রেম করে সারাজীবন তো মাথা খুঁটে মরেছি, 
একটু স্নেহ পেতে হাপিত্যেশ করেছি,
আজকাল হাঁপিয়ে উঠেছি।
প্রেম আমাকে ছায়া - মরীচিকা দেখিয়ে ভ্রমে ফেলেছে আর
স্নেহ আমাকে অপেক্ষা করিয়ে করিয়ে ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিয়ে গেছে,
ধরা কেউ দেয়নি। 
আজকাল বড্ড স্বার্থপরের মত মনে হয় আমাকে,
আজকাল মনে হয় প্রেম, ভালবাসা যা'কিছু আমি ধারণ করতাম,
সবকিছু থেকে কতদূরে চলে যাচ্ছি!
মনের মধ্যে রঙিন যে কল্পনাগুলো যখন তখন বাসা বাঁধত, 
স্থান, কাল, পাত্র না দেখে, না বুঝে হুটহাট চলে আসত,
হোক না সে কল্পনা,
তবু সে জানান দিত প্রেম আছে, ভালবাসা আছে, স্নেহ আছে।
আজকাল অনুভূতির দরজায় পর্দা পড়েছে,
আজকাল ওই যে সেই রঙিন কল্পনাগুলো আর মনে বাসা বাঁধে না,
আজকাল আর আমার মধ্যে আমি প্রেম খুঁজে পাইনা। 
ভয় হয় বড্ড।
আমি যেন প্রেমহীন হয়ে, ভালবাসাহীন, স্নেহহীন হয়ে -
ধ্বংসাত্মক হয়ে না পড়ি।
আজকাল তো নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনা,
যে ভালোর শক্তি আমাকে ধরে রেখেছিল, সেটাও 
আলগা হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে।
আজকাল কবিতা আসতে চায়না,
যা আসে, যেটুকু আসে তা শুধু রাগ, ঘৃণা ..
আর একদৃষ্টে অপেক্ষা করে যাওয়া এক সতেরই মার্চের।  

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 15 November 2017

চুপচাপ বেঁচে থাকার চেয়ে
ঝড়, তুফান তোলাই জীবন।
অবহেলিত মানুষই বোঝে
তুফানি ভালবাসা কতটা সেক্সি!

- সৌম্যজিৎ। 

Tuesday, 14 November 2017

অচেনা শহরে খুঁজে খুঁজে বেড়াই
সবুজ, হলুদ, কমলায় মেশা স্বপ্নকরবী তোমায়,
প্রাণে তোলো হাহাকার,
ঝংকার,
নজরুল ফোটে -
শব্দে বাতাসে,
মহুয়া তোমার ঠোঁটে। 


আকাশ ভাঙা গান তুমি গেয়ে চলো সমুদ্রতীরে,
বৃষ্টিরা ওরা ভালবেসে মাখামাখি হয় তোমার সুরে,
না, না, না আমি যাবো না দূরে,
রবো পথে ঘাটে এখানেই ..
যদি পাই দেখা,
ছুঁয়ে যাবো পলকের নিমেষে,
জানি হবে না মন ছোঁয়াছুঁয়ি .. 


না, না, না আমি দেবো না ধরা,
যদি হয় প্রেম,
আমি পান করে নেবো হৃদয়ের গোপনে,
যদি তবু ছুটে যাই তোমা দিকে চেয়ে, 
আমি পার হয়ে যাবো তোমায় পাশ কাটিয়ে,
পিছু ফিরে তাকাবো না তবু ..
যদি থমকে যাই,
যদি পালাতে না পারি তবে
নিশ্চিত মৃত্যু লেখা আমার
তোমার ওই সুরের কম্পনে ..


- সৌম্যজিৎ। 
ভিড়ের মাঝে একা হয়েছি,
একাকীত্বে ভুগেছি কত রাত,
কত দিন!
একাকীত্বেও থেকেছি সবার হয়ে,
সবার জন্য,
একটুখানি বাঁচতে চাওয়া এখন
শুধু নিজের জন্য।

- আমি সৌম্য।  

Sunday, 12 November 2017

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ডেঙ্গুকে ডেঙ্গু বলতে শিখুন। রাজ্যের হাল বেহাল হয়ে পড়ছে ডেঙ্গুর আক্রমণে, মানুষ চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, ডেঙ্গুজ্বর হলে সেটাকে ডেঙ্গু বলতেই ভয় পাচ্ছে আপনার প্রতিক্রিয়ার রোষে পড়বে ভেবে। ডাক্তাররা পর্যন্ত মুখে কুলুপ আঁটছে তারা বরখাস্ত হতে চাননা ভেবে। রাজ্যের বিধানসভা ভোটে আপনাকে ভোট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে কারণ মানুষের আপনার প্রতি বিশ্বাস ছিল ও আছে যে আপনি রাজ্যবাসীর মঙ্গলের জন্য সবসময় ভালো পদক্ষেপ নেবেন। আজ পরিস্থিতি এমন হয়েছে মানুষের কাছে যে মৃত্যু অনেক সহজ মনে হচ্ছে তবু মুখ খুলতে পারছেনা এই ভয়াবহ রোগটার নাম করে আপনার তোপে পড়তে হবে জন্য। আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, জনগণের সেবক, সেই হিসেবেই নিজের জায়গাটা ভাবুন। আপনার বলা কথাগুলো থেকে রাজ্যের মানুষের মানসিক পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যেন আপনি রাজ্যের একমাত্র মালিক আর জনগণ আপনার রাজত্বের দাস, আপনি যা বলবেন তাইই জনগণকে মানতে হবে, পালন করতে হবে। রাজাধিপত্যের যুগ পার করে এসেছে ভারত। এই মুহূর্তে দেশের সকল মন্ত্রীরই শুধু একটাই দায়িত্ব জনসাধারণের ভালোর কথা ভেবে প্রতিনিধিত্ব করা। রাজত্ব নয়, রাজ্যের মানুষের জন্য প্রতিনিধিত্ব করুন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। মানুষ মরছে, এর ভার আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে মেটাতে পারবেন না। মৃত্যুর ভার মেটানো যায়না কখনো। রাজ্য যদি লাশের স্তম্ভ হয়ে যায়, তখন আপনার মুখ্যমন্ত্রীত্বের কোনো মূল্যই থাকবে না। আমি আজ একজন তৃনমূল সমর্থক হয়ে নয়, একজন সাধারণ রাজ্যবাসী হয়ে আপনার কাছে দাবী তুলছি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে খেয়াল করুন, ডেঙ্গুরোধ কিভাবে করা যায় সেই নিয়ে ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করুন। অযথা এই মারণ রোগটা নিয়ে মানুষ ও ডাক্তারদের সামনে এমন প্রচার করবেন না যাতে বাঁচার দাবি তোলার থেকে মৃত্যু মানুষের সামনে অনেক সহজ মনে হয়।


ভালো থাকবেন।

Friday, 10 November 2017

আওয়াজ সত্যের পথে : কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।আজকাল আমি ভীষণ এক অপরা...

আওয়াজ সত্যের পথে : কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।

আজকাল আমি ভীষণ এক অপরা...
: কিরণ,  আমি ক্ষমা প্রার্থী। আজকাল আমি ভীষণ এক অপরাধবোধে ভুগছি। আজ পর্যন্ত আমি চোখের সামনে অনেক দেখেছি যে ছেলেরা মেয়েদেরকে বিরক্ত করছে, মেয়...

Thursday, 9 November 2017

কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।

আজকাল আমি ভীষণ এক অপরাধবোধে ভুগছি। আজ পর্যন্ত আমি চোখের সামনে অনেক দেখেছি যে ছেলেরা মেয়েদেরকে বিরক্ত করছে, মেয়েদেরকে জোর করে প্রেম নিবেদন করছে সামনাসামনি রাস্তাঘাটে বা কখনো সোশ্যাল মিডিয়াতে মেয়েদের মেসেজ করে। একটা মেয়ে যতই বিরক্ত হোক না কেন, তবু ছেলেটি সেই মেয়েটিকে উত্যক্ত করছেই। বারংবার করে চলেছে। আর যদি মেয়েটি আগ্রহ প্রকাশ না করছে তখন ছেলেটি সেই মেয়েটিকে ভাষার অপব্যবহার করে অশ্লীলতার সীমা অতিক্রম করছে। মেয়েদের এমন অশ্লীল প্রায় রোজই করা হয় রাস্তাঘাটে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে। এতদিন এসব নিজের চোখে দেখে আমার গা ঘিনঘিন করত। কখনো কখনো তীব্র বিরোধিতা করেছি, প্রতিবাদ করে উঠেছি পুরুষের এমন আচরণের বিরুদ্ধে গিয়ে। মেয়েদের সাথে কথা বলে তাদের ভরসা দিয়েছি, জানিয়েছি যে সমাজে এমন মানুষও আছে যারা নারীকে ভীষণ সম্মান করে। সেই আমিই কোনো এক দুর্বলতার মধ্যে আবিষ্ট হয়ে একই ভুল করে ফেললাম। মেয়েটির কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী। হ্যাঁ, আমি তীব্র প্রেমে পড়েছি কিরণ নামের মেয়েটির। অসম্ভব ভালবেসে ফেলেছি মেয়েটিকে। এরপরও আমি আমার আদর্শের লক্ষ্যে স্থির থাকতে ভীষণ চেষ্টা করে গেছি। নিজের মনের সাথে তীব্র লড়াই করেছি মেয়েটির কাছে এভাবে প্রেম নিবেদন করবো না ভেবে, মেয়েটিকে এত বিরক্ত করবো না ভেবে। আমি অনুভব করেছি যে কিরণ সেই এমন একজন মানুষ যার প্রেম, যার ভালবাসা আমাকে আমাকে এমন ঐশ্বর্যে ভরিয়ে দেবে যা এই পার্থিব জগতে অমূল্য কোনো রত্নের থেকেও ভীষণ মূল্যবান আমার কাছে। আমার বারবার মনে হয়েছে যে আমি ওর চোখের ভাষায়, ওর কথাতে ডুবে যাচ্ছি আর নিজের মানসিক শক্তি হারিয়ে বারবার মেয়েটির কাছে প্রেম নিবেদন করেছি। আমি জানিনা মেয়েটির মনে তার কি প্রভাব পড়েছে, তবে ওর মুখের ভাষা নিরুত্তর হতেই যেন আমার চেতনা আমাকে জানিয়েছে যে মেয়েটিকে আমি ভীষণ উত্যক্ত করেছি বারবার প্রেমের কথা বলে। এতে আমি শুধু ওই মেয়েটিকেই অসম্মান করিনি, অসম্মান করেছি আমার আদর্শকেও, অসম্মান করেছি নিজেকেও। এই অপরাধবোধের কারণেই আমি বেশ কিছু সময় ধরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে দূরে থাকছি। সোশ্যাল মিডিয়ার সামনে আসলেই বারবার মনে হচ্ছে আমি খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছি যা আমার সম্মানবোধকে নিচু করছে। এটা যেমন ঠিক যে আমি কখনো অশ্লীল আচরণ করিনা কারোর সাথে, তেমন এটাও ঠিক যে অনেক সময় ভদ্র আচরণও ব্যক্তির বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।

প্রেমে পড়া আমার কাছে নতুন কিছু নয়। ছোট বয়স থেকেই আমি বারবার প্রেমে পড়েছি একের পর এক মেয়ের। আমার প্রথম প্রেমটি অনেক বছর টিকে ছিল। একে অপরকে ভীষণ ভালবাসতাম, সম্মান করতাম। আমাদের সেই প্রেম যখন মানুষের মনে আলাদা একটা জায়গা করে নিচ্ছে, সম্মানের জায়গা, আমি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ি তখন। একটা ভীষণ সুন্দর প্রেমের মধ্যে আমি প্রতারণার বিষ ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। জীবনে এমনকিছু ভুল হয়ে যায় যা মানুষ বুঝতে পেরেও নিজেকে শোধরাতে পারেনা সহজে। আমিও শোধরাতে পারছিলাম না অনেক চেষ্টা করেও। বয়স অল্প ছিল। সবে কৈশোর পার করেছিলাম, আমি এক অন্ধকার জগতে পা ফেলি। নেশায় বুঁদ হয়ে যাই। সেইসঙ্গে আমার সাথে জুড়ে যায় বহু নারীপ্রেম। আমি জানতাম যে ঠিক করছিনা ওই মেয়েটির সাথে যাকে আমি ছোট থেকে ভীষণ পছন্দ করি, ভীষণ ভালবাসি। আমি জানতাম যে ঠিক করছিনা সেই মেয়েটির সাথে যে মেয়েটি আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে ছোট থেকে। এতকিছু জেনেও আমি আমার অন্ধকার জগতটা থেকে কিছুতেই বেরতে পারছিলাম না। যতই বেরনোর চেষ্টা করি, ততই আরও খারাপের সাথে জুড়ে যাই, ততই নেশায় বুঁদ হতে থাকি। মেয়েটি আমাকে শোধরানর অনেক চেষ্টা করে গেছে। পারেনি শোধরাতে। ব্যর্থ হয়ে, প্রতারণার শিকার হয়ে মেয়েটি অবশেষে হার মানে। মেয়েটি সরে যায় আমার জীবন থেকে। আমাকে ছেড়ে মেয়েটি যখন চলে গেল, এক ধাক্কায় যেন আমি সমস্ত অন্ধকার ছিন্ন করে বেরিয়ে আসলাম। আমি কখনোই চাইনি যে মেয়েটি আমাকে ছেড়ে চলে যাক। নিজের প্রতি অতি বিশ্বাস আমার অহঙ্কারের পতন ঘটাল। পতন ঘটাল আমার ভিতরে থাকা পুরুষতান্ত্রিক সেই অহঙ্কারের যে আমি পুরুষ। নিজেকে শোধরাতে শুরু করি। জড়িয়ে যাই মানববাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আদর্শের সাথে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অহঙ্কার যে একটা মিথ্যা অহঙ্কার, তা আমার সামনে পরিস্কার হতে থাকে। চেতনার এক নতুন জগত আমার সামনে উন্মোচিত হয়। লেখিকা তসলিমা নাসরিন আমার কাছে সেই সূর্য যার আলোকে আমার জ্ঞানচক্ষু খোলে।

এরপর আমি আবার সেই এক প্রেমের সন্ধান করতে থাকি যা আমাকে সত্যিকারের এক প্রেমের স্বপ্ন দেখাবে। এরপর এক এক করে অনেক মেয়ে আসে আমার জীবনে। না, আর আমি কারোর সাথে প্রতারণা করিনি কখনো। পুরুষতান্ত্রিক দেওয়াল ভেঙেচুরে আমি বেরিয়ে এসেছিলাম। আমি একটা সত্যিকারের প্রেমের খোঁজ করছিলাম। কিন্তু কখনো তৃপ্ত হতে পারছিলাম না। হয়ত প্রেমের খোঁজ করতে করতে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক থেকে সেই মেয়েটির বা আমার কিছুই পাওয়ার নেই বুঝেছি, খোলাখুলি আলোচনা করেছি মেয়েটির সাথে, নিজেদের ইচ্ছাতেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছি। কেউ কাওকে জোর করে আটকে রাখিনি। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসলেও আমরা প্রত্যেকেই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। পরিস্কার কথা খুলে বলার জন্য সততা ও দৃঢ়তার প্রয়োজন হয়। আমরা প্রত্যেকেই সেই সম্পর্কগুলোর প্রতি সততা বজায় রাখতে পেরেছি। তাই সম্পর্কগুলো থেকে কোনো আক্ষেপ জন্মায়নি।

সবসময় স্বপ্ন দেখেছি আমি এমন এক প্রেম করবো যা জমানার সেরা প্রেম হবে। যে প্রেমে হাহুতাশ করা তৃষ্ণা থাকবে দুটো মানুষের মধ্যেই, যে প্রেমে একে অপরের প্রতি তীব্র টান থাকবে, অনেকটা ঠিক স্রোতে ভাসতে ভাসতেও একে অপরের জন্য বাঁচা, একে অপরের জন্য লড়াই করা, তীব্র উত্তেজনার অনুভূতি উপলব্ধি করা থাকবে। তনুশ্রীর সাথে যখন আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমরা একেবারেই আমাদের মতন ছিলাম। কে কি বলল, কে কি ভাবল সেসবকে গুরুত্ব না দিয়েই আমরা একে অপরের প্রতি মেতে উঠেছিলাম। সমাজের সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে আমরা প্রেম করতে শুরু করেছিলাম। দায়বদ্ধ না থেকেও আমরা একে অপরের জন্য বাঁচতাম। নিজেদের সম্পর্কের প্রতি প্রতিটা মুহূর্তে সততা বজায় রেখেছি দুজনেই। কেন জানিনা, আমি কখনো বুঝতে পারিনি, তনুশ্রীর কাছে যেন আমি সম্মান হারাতে থাকি একটু একটু করে। আমার প্রথম প্রেম আমাকে অনেক শোধরানর চেষ্টা করেও যখন পারেনি শোধরাতে, আমাকে ছেড়ে চলে গেছিল, ছেড়ে যাওয়ার অনেক বছর পর আমাকে সে এটা বলেছিল যে আমি শোধরাতে পেরেছি নিজেকে, আমি মানুষ হতে শিখেছি। তার বলা এই কথাটুকু আমাকে ভীষণ শান্তি দিয়েছিল। তনুশ্রী আমাকে স্পষ্ট করে কোনো কারণ বলেনি যে কেন আমি ওর কাছ থেকে সম্মান হারাচ্ছি। তবে আমি ওকে ভীষণ সম্মান করি একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে। তনুশ্রীর হয়ত কোথাও মনে হয়েছে আমি ওকে সম্মান করিনা আর, যেটা সম্পূর্ণই একটা ভুল বোঝাবুঝি। আমি বারবার তনুশ্রীকে ফিরে আসতে বলার পরও যখন সে আর ফিরল না, আমি খুব ভেঙে পড়লাম। আমি আমার ভুল খুঁজে বার করার চেষ্টা করলাম। পারলাম না। পারলাম না কারণ এই সম্পর্ক থেকে আমাদের দুজনেরই তেমন কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও, আমরা ভীষণ সম্মান করেছি এই সম্পর্কটাকে।

আমি যখন ভাঙতে ভাঙতে ক্লান্ত হয়ে উঠছিলাম, তখন কিরণের বলা অল্প অল্প কথাগুলো যেন আমাকে তীব্র ভরসা দিতে শুরু করে। কিরণ! সেই এক মেয়ে যাকে দেখে আমি কখনো ক্লান্ত হইনা। এবার, এই প্রথমবার আমার মন যেন সেই এক মানুষের দেখা পেল যার খোঁজ সে এতদিন ধরে করে এসেছে। কিরণ সেই মেয়ে যার চোখ বড্ড গভীর। সমস্ত চেতনা সেই গভীরতাতে ডুবে যেতে পারে নিমেষেই। হ্যাঁ, আমি হাহুতাশ করা যে প্রেম সবসময় খুঁজেছি, কিরণের মধ্যে আমি দেখেছি সেই প্রেমকে। কিন্তু প্রেম কখনো একতরফা স্বীকৃত হয়না। যে অনুভূতি আমার হয়েছে, তা কিরণও যে উপলব্ধি করবে, তার কোনো মানে নেই। আমি জানতাম সেটা। জানার পরও, নিজেকে ধরে রাখার তীব্র চেষ্টা করার পরও আমি নিজেকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হই। আমার আদর্শ, আমার চেতনার বাইরে গিয়ে বারবার কিরণকে ভালবাসার কথা প্রকাশ করে ফেলি। আমি চাইনি প্রকাশ করতে। এভাবে ভালবাসার কথা একটি মেয়েকে প্রকাশ করা যেখানে হয়ত মেয়েটি বিরক্ত হতে পারে বা হচ্ছেও, তা আমার নীতি বিরোধী, আদর্শ বিরোধী। এরপরও আমি এই ভুলটা বারবার করতে থাকি। অচিরেই আমার ভুল ভাঙে। মেয়েটি যখন নিরুত্তর হয়ে যায়, আমি বুঝতে পারি যে আমি শুধু তাকেই নয়, আমি আমাকে, আমার আদর্শকেও অসম্মান করে ফেলেছি।

হ্যাঁ, আমি নিঃসন্দেহে, মনে, প্রাণে বিশ্বাস করি যে প্রেম আমি এতবছর ধরে খুঁজেছি সেই প্রেম হল কিরণ। যে প্রেমের জন্য আমি এতবছর ধরে হাহুতাশ করেছি সেই প্রেম কিরণ। যে পাগল করা প্রেমে আমি ডুবতে চেয়েছি, জমানার সেরা প্রেম হিসেবে আমি যা পেতে চেয়েছি সেই প্রেম কিরণ। এরপরও আমি কখনো একটি মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনোভাবেই জোর করতে পারিনা। এরপরও আমি সেই মেয়েটিকে বারবার বলতে পারিনা যে ভালবাসি। এরপরও আমার অধিকার থাকতে নেই যে মেয়েটিকে বিরক্ত করি বারেবারে। অনুভূতির উপলব্ধি হতেই পারে, কিন্তু সেটা ততক্ষণই সুস্থদায়ক যতক্ষণ সেই উপলব্ধি অপরপক্ষের বিরক্তির কারণ না হয়ে ওঠে।

আমি যা করেছি, তা আমার লজ্জা। আমি কিরণের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

- সৌম্যজিৎ দত্ত। 

Tuesday, 7 November 2017



প্রাণ ভীষণ চঞ্চল হয়ে উঠেছে তোমায় এক পলক দেখতে,
একটু কথা বলতে তোমার সাথে,
ভালবাসার গভীরতা আমায় ডুবিয়ে নিয়ে গেছে সেই অতল গহ্বরে যেখানে
আমি শুধু তোমায় দেখছি কাজলা চোখে তুমি
তাকিয়ে আছো,
পথ চেয়ে আছো এক তীব্র চাহনিতে।
তোমার কপালে কালো টিপটা যেন সহস্র কোটি সুন্দর উজ্বল তারাদের মধ্যে থেকেও
ঝিকিমিকি করে কাছে ডাকছে আমাকে -
একটু ভালবাসার স্পর্শে আমার বুকে ঠাই নেবে বলে,
বা হয়ত আমিই কোনো এক তীব্র মহাকর্ষ বলে ছুটে যাচ্ছি তোমারই দিকে,
তোমায় বুকের মাঝে ভীষণ জোরে চেপে,
জড়িয়ে ধরে একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলবো বলে।
আজকাল বড্ড বিবশ হয়ে পড়েছি যেন,
আজকাল আমি পথ চেয়ে থাকি,
ছটপট করতে থাকি নিজের মধ্যেই,
আজকাল বড্ড অসহায় হয়ে উঠি চারপাশের আনন্দ, কষ্টগুলোর মধ্যেও।
একবার তোমার ফিরে চাওয়ার আশায় সময় কাটিয়ে দিই,
দিন যায়, বেলা যায়, সূর্যকেও অস্ত যেতে দেখি খুব তাড়াতাড়ি,
অপেক্ষার কোনো শেষ হতে দেখিনা।
শুধু বারবার,
বারংবার তোমার কাছে ছুটে গিয়ে, চোখে চোখ রেখে,
হাতের স্পর্শে তোমার চুলগুলোতে আলতো বুলিয়ে বলতে ইচ্ছা করে -
"ভালবাসি।"

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 5 November 2017

আজ ৫ই নভেম্বর সর্বভারতীয় নেট পরীক্ষা ছিল আমার। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই দিয়ে আসলাম। প্রথম ও তৃতীয় পত্রের পরীক্ষা প্রস্তুতি অনুযায়ী যেমন ভালো হওয়ার আশা করেছিলাম, তেমনই হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম দ্বিতীয় পত্রে আমার যে রোগ ছিল, সেটা থেকেই গেল। তুলনায় দ্বিতীয় পত্র খারাপ হয়ে গেল বেশ। আমি দ্বিতীয় পত্রের জন্য অনেক খেটেছিলাম আগেরবার খারাপ হয়েছিল দেখে। ঘরে বসে এবং প্রফেসরদের তত্ত্বাবধানে অনেক অভ্যাস করেছি। এরপরও দ্বিতীয় পত্রে তেমন উন্নতি দেখতে পেলাম না। হয়ত সমস্যাটা মনস্তাত্বিক। সেরে যাবে। আজ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অঘটন ঘটল চরম। সকালে সাড়ে ছটায় ঘর থেকে বেরলাম। বাস সিঁথির মোড়ে ঢোকার আগে এক বাইককে ধাক্কা দিল। বাস ড্রাইভারের দোষ ছিল না কোনো। সবুজ আলো দেখেই বাস নির্দিষ্ট গতিতে এগচ্ছিল। হঠাৎই একটা বাইক রাস্তা পার করে বাসকে টেক্কা দিতে গিয়ে বাসের পাশে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। ক্ষতি হয়নি তাতে ওই বাইকের দুজন যাত্রীর। তবে ওরা ঝামেলা শুরু করে। দুজনই বাস দাঁড় করিয়ে হেলমেট খুলে বাসের দরজায় মারতে থাকে ও পরে গাড়ির ভিতরে ঢুকে ড্রাইভারকে মারতে শুরু করে। কেউ ওদের আটকাচ্ছে না দেখে আমি পিছন সিট থেকে উঠে গিয়ে ওই দুজন বাইক আরোহীকে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকি। ওদের এটাও বলি যে আমার পরীক্ষা আছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে। সেইসময় বাসে আরও অনেক পরীক্ষার্থী ছিল যাত্রীদের সাথে। তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। উল্টে বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে থেকে এক বৃদ্ধা ওই দুই আরোহীকে অনুরোধ করে ড্রাইভারকে ছেরে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওরা কিছুতেই মানেনা। আমি একজনকে জোরে চেপে ধরি। চেপে ধরে ভালো করেই বলি যা হওয়ার হয়েছে, ড্রাইভারকে না মেরে পুলিশ ডেকে কেস দিয়ে দিতে ও ড্রাইভারকে ছেরে দিতে। সময় প্রায় পনের মিনিট পার হয়ে যায় এসবেই। ওরা আমার কথা মানেনা। বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে, তারাও এগিয়ে আসেনা। আমাকেই ওরা বলতে থাকে বাস থেকে নেমে গিয়ে অন্য বাস ধরে চলে যেতে। আমি একজনকে চেপে ধরে আটকেছিলাম, কিন্তু অন্যজন ততক্ষণে ড্রাইভারকে মেরে জামা ছিঁড়ে দেয়, ড্রাইভারের পিঠ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। অবশেষে ওখানে একজন অফিসার ইনচার্জ পৌঁছে সবাইকে থামায়। ওই দুই আরোহীসহ ড্রাইভারকে নিয়ে থানাতে যায়। অদ্ভুত সমাজ এটা! প্রথমত বাস ড্রাইভারের কোনো দোষই ছিল না। দোষ ছিল বাইক চালকের। ওরাই সিগ্ন্যাল ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটায়। ঘটনা স্থলে পুলিশ থেকেও কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কারণ ওই দুই বাইক আরোহী লোকাল ছেলে। ঝামেলা হবে। বাসের যাত্রীরা ইচ্ছা করলে ড্রাইভারকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে পারত, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারত। অথচ তারাও চুপ থেকে মজা দেখে। আমি চেষ্টা করলাম, ব্যর্থ চেষ্টা। একজনকে চেপে ধরলাম তো আরেকজন ড্রাইভারকে ভীষণ পেটাল। এর থেকে তো অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা মানুষটি। উনি নিজের জায়গা থেকে উঠে এসেছিলেন মারামারি থামাতে। কোনো ফল হল না। পুলিশ ওদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আমিও অন্য বাস ধরে চলে গেলাম। আক্ষেপ থেকে গেল। আমার উচিৎ হয়নি শান্ত থেকে ওই দুই আরোহীকে আটকানোর চেষ্টা করা। আমার উচিৎ ছিল তীব্র প্রতিবাদ করা। কোথাও কি তবে আমিও পিছিয়ে আসলাম না? হ্যাঁ, পিছিয়ে আসলাম। কারণ আমার মাথার মধ্যে তখন শুধু পরীক্ষার চিন্তা ঘুরছিল। আমিও স্বার্থপরের মত থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে পারলাম না। অথচ এই আমিই করিমপুরে থাকতে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে রাতের অন্ধকারে পাশের বাড়িতে যখন ডাকাত পড়েছিল, থানায় ফোন করে পাখি মারা বন্দুক নিয়েই ওই হেঁসো, দাঁ অস্ত্রধারী ডাকাতদের দিকে তাক করে দাঁড়িয়েছিলাম, ডাকাত দলকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়েছিলাম, পাপাকে গর্বিত করেছিলাম। এতটাও স্বার্থপর হলে চলেনা। আমার উচিৎ ছিল তীব্র প্রতিবাদ করা। 

Friday, 3 November 2017

তোমার কণ্ঠ আমার অজানা কোনো সুখের আশ্রয়,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখবো, ঠোঁটের পরশে তোমায় শিহরিত করবো,
চুলের বিনুনিতে খামচে ধরে তোমায় জড়িয়ে চুমুর স্পর্শে তৃষ্ণা মেটাবো আমি আকণ্ঠ।
তোমার ঠোঁটে আমার আঙুলের ছোঁয়ায় মৃদু কম্পনে তোমাকে বিবশ করে দেবো,
তোমার নিঃশ্বাসের গন্ধে, শরীরের গন্ধে একাকার হয়ে যাবে আমার শরীর,
দুটো শরীরের জমে থাকা ব্যক্টিরিয়াগুলোও মিলিত হবে পরস্পরে,
বুক থেকে নাভি শীতল বরফের স্পর্শ মাখিয়ে আমি এক চুমুকে পান করবো যত আছে তরল
তোমার ওই শরীরে ..
যোনিপথে আমার জিভের ছোঁয়া, আর
উভয়ের লিঙ্গেই মেতে ওঠা প্রাণ সেদিন তৃপ্ত হবে, তুমি অপেক্ষায় থেকো।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 29 October 2017

পিছন ফিরে তাকাতে বড্ড ভয় লাগে,
যে অতীত আমি হারিয়ে এসেছি তা - 
যতই মধুর হোক না কেন,
হারানোর যন্ত্রণা আমায় অন্ধকার দেখায়। 
সামনে শুধু স্বপ্ন আর জীবন,
পিছনেই বরং মরীচিকা ছায়া আমি পার হয়ে এসেছি ..

বড্ড ভয়, বড্ড অন্ধকার,
বড্ড যন্ত্রণা চিন চিন করে সাড়া দিয়ে ওঠে পিছন থেকে .. 

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 28 October 2017

আজ তোমার দুয়ারে আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিলে বাংলা,
তুমি কি সত্যিই আমার নিজের! 
নাকি রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে টিকে থাকতেই আমাকে স্থান দিলে না।
তুমি আমাকে যতবারই প্রত্যাখ্যান করো না কেন, ততবারই আমি
হাজির হবো তোমার দুয়ারে,
হৃদয়ে বিপুল ভালবাসা যে মানুষটার জন্য ধরেছি তাকে
আমি তুলে ধরবোই। 

মৃত্যুকে ভয় নাই মোর,
জন্মেছি, মৃত্যুও হবে কখনো ..
ভয় হয় বড্ড নিজেকে যেন মাথা নত করে থমকে না যাই,
থমকাতে আমি আসিনি বাংলা ..  

- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 23 October 2017


কিরণ তুমি কি ..

যদি বলি তোমাকে আমার ভীষণ প্রয়োজন,
যদি বলি আমার এই ভাঙাচোরা জীবন যখন টালমাটাল,
উন্মত্ত সমুদ্র জোয়ার আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দিকশূন্য কোনো প্রান্তরে,
আমি একটুখানি বাঁচার জন্য হাতড়ে বেড়াচ্ছি কোনো লাঠি বা অন্তত লতা, পাতা যা পাই
আঁকড়ে ধরবো বলে,
অথবা যদি বলি এক তোমাকেই আমার ভীষণ আর ভীষণতর প্রয়োজন,
আমি আবারও উঠে দাঁড়াতে চাই এক তোমাকেই আঁকড়ে ধরে
সমস্ত প্রতিকূলতাকে চুর চুর করে ভেঙে দিতে,
যদি বলি আমি মরে যাচ্ছি প্রেমের আগুনে জ্বলে,
পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি, একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছি, কালের গহ্বরে ডুবে যাচ্ছি,
তুমি কি সাথ দেবে আমায় আবারও একটুখানি বাঁচিয়ে তুলতে!
কেউ তো আমার ভালবাসার খোঁজ কখনো নেয়নি,
কেউ জানতে চায়নি কখনো আমার ভালবাসা কেমন আছে,
অদূর অতীতেও কেউ জানতে চায়নি যে আমি কেমন আছি ভালবাসাহীন হয়ে থেকে,
এক তোমাকেই শুধু মন খুলে আমার ভালবাসার খবরটুকু জানাতে ইচ্ছা করছে।
আমার মনের সমস্ত হাহাকার, চিৎকার করে বলে উঠতে চাওয়া ভালবাসার কথাটুকু শুধু -
তোমাকেই বলতে চায় সে,
তুমি শুনবে একটুখানি স্থির হয়ে আমার প্রাণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মনের কথাটুকু!

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 22 October 2017

আইপিসি ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা। নারী সুরক্ষিত নয়।

শারীরিক বল প্রয়োগে বা ভয় দেখিয়ে স্ত্রীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসহবাসকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলা হয়। বল প্রয়োগে স্ত্রীকে যৌন ইচ্ছা পূরণের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাই বৈবাহিক ধর্ষণ।


পরিসংখ্যান বলছে স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর শারীরিক ভাবে অত্যাচারিত হয়ে মৃতের সংখ্যা, প্রতি ছয় ঘন্টায় একটা করে ঘটনা উঠে আসে। ইউ.এন ফান্ডের দাবি ভারতে ১৫-৪৯ বছরের মধ্যে বিবাহিত মহিলাদের দুইয়ের তিন অংশ মহিলা এই জোর পূর্বক বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।


ইংল্যান্ডের চিফ জাস্টিস ম্যাথিউ হেল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে  বলেছিলেন, "স্বামীরা তাদের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে জোরপূর্বক যৌনসহবাস করলে কখনই সেটাকে অপরাধ বলা যায়না। কারণ তারা পরস্পর বৈবাহিক চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ।"
এই উক্তির ভিত্তিতে নারীদের তাদের বিবাহিত জীবনে জোরপূর্বক ও অনিচ্ছাকৃত ভাবে যৌন সঙ্গমে বাধ্য করা হলে সেটা কখনোই ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। ১৯৭০ সালে আমেরিকাতে প্রথম নারীরা তাদের বিবাহিত জীবনে সমান অধিকারের পক্ষে ও বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ তোলে।



ভারতীয় আইনবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ও যদি না সেই স্ত্রীর বয়স ১৬ এর কম হয়, তবে সেটা ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। সেকশন ৩৭৬ ধর্ষণের শাস্তি প্রদান করে। এই ধারা অনুযায়ী, ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিৎ অন্তত সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড যদি না ধর্ষিতা তার স্ত্রী হয়। সেকশন ৩৭৬ অনুযায়ী যদি স্ত্রীর বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি হয়, তবে সেখানে বৈবাহিক ধর্ষণের কোনো ধারা প্রযোজ্য হবেনা।



এখন প্রশ্ন ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী মেয়েদের বয়স ১৬ হলেই ভারতীয় সংবিধান তাকে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়। তবে এই একই ধারা অনুযায়ী বিয়ের জন্য আঠারো বছর বয়সকে ধার্য কেন করা হয়েছে?



কিন্তু সংবিধানের দিকগুলো তুলে ধরলে দেখা যাবে বিবাহিত জীবনে নারীদের বিশেষ করে যাদের বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী অর্থাৎ ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের নারীদের বৈবাহিক ধর্ষণ থেকে সুরক্ষার নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।



সংবিধানের ধারা সংশোধনের মাধ্যমে শুধু মাত্র বর্তমান পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কিছু অংশে পূরণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচন করতে পারেনা। পরিবেশ ও সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সংবিধানের ধারাগুলিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মের বাইরে নিয়ে গিয়ে মানবিকভাবে বিচার করলেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। এখন যদি একজন ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সের কোনো বিবাহিত মহিলা বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সুরক্ষা দাবি করে, তবে ৩৭৫ ও ৩৭৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতের সংবিধান সেই নারীর অভিযোগ গ্রহণ করে তাকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবেনা, তখন পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানের রাস্তা বার করে আনতে হয়। কিন্তু সংবিধান যদি পরিস্থিতি বিচার করে দুপক্ষের সমান তদন্ত করে সমাধানের রাস্তা বার করে তবে তা বেশি কার্যকরী হবে। মানবাধিকার কমিশনের এমন এক নারী সুরক্ষা আইন চালু করাটা অতি আবশ্যক। আমার সামনে আমি আজ অনেক মেয়েকেই দেখছি যারা তাদের বিবাহিত সম্পর্কে মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে অগ্রসর হচ্ছে। নারী সুরক্ষা আইন যদি সচেতন ভাবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় তবে নারীরা সমাজে ভরসা পাবে ও বাঁচার প্রেরণা পাবে।

- সৌম্যজিৎ দত্ত।
গভীর তৃষ্ণা এ বুকে,
ছুটে যেতে চায় অধরা কোনো প্রান্তরে, 
যা কেউ কখনো ছোঁইনি তাইই ছুঁতে চায় এ প্রাণ,
চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে ছুটতে ছুটতে, তবু
এ ছোটার হয়না কোনো শেষ। 
বড় একা একা এ পথ চলা,
নিঃসঙ্গ বুক, একদম ফাঁকা,
কেউ নেই যে দিতে পারে সাথ।
লক্ষ্য এখনও অলক্ষ্যের ঘেরাটোপ হয়নি পার,
তবু এ প্রাণ দুর্নিবার,
শুধু ছুটে যেতে চায়। 
তুমি কি দেখছ হে আমার প্রাণপ্রতিম ঈশ্বর, 
তুমি কি আমার অলক্ষ্যে আমায় লক্ষ্য করছ! 
তুমি তো জানো অন্যায়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমি বেরোতে চেয়েছি,
আমি চেয়েছি এক আদর্শের পথে ন্যায়কে রক্ষা করতে,
আমি চেয়েছি এক সত্যকে সবার বুকে অঙ্কুরিত করতে,
আমি চেয়েছি সকাল জেগে দেখা প্রথম সূর্যকে সবার মাঝে আহ্বান করতে। 
বড্ড একা হয়ে গেছি সবার মাঝে থেকেও,
হাঁপিয়ে উঠেছি, 
শরীর, মন, প্রাণ -
কাট ফাটা রোদ্দুরে শুকিয়ে প্রবল তৃষ্ণায় মরি মরি করছে,
এরপরও নিস্তার নেই।
প্রবল আশা আর অধরা সেই স্বপ্নকে ছুঁতে -
আমি ছুটেই চলেছি আজও।

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 21 October 2017

এক রাত জাগা আকাশ,
এক হঠাৎ ভেসে আসা বৃষ্টির আভাষ,
মুছে যাওয়া তারারা মেঘের আড়ালে -
চাদর বিছানো কোলে,
কোটি কোটি মেঘ জমে যখন বৃষ্টি নেমেছে অঝোরে,
একটি তারার-
মেঘের চাদর ভেদ করে উজ্বল হতে হতে
ইন্দ্রপতন হতে দেখছি আমার সমুখে।
আমার উদাস মন আবার জেগে ওঠে চঞ্চল বাতাসে থরথর কম্পনে,
থমকে যাওয়া আমি যখন চারিদিক ক্লান্ত মেঘ গুমোটে
ধিক ধিক করে চলছি আর নিঃশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন,
তখনই তুমি উজ্বলতা ধরেছ আমার চোখে,
সাথে ডেকে এনেছ মুঠোভরা শীতল বৃষ্টি'কে
আমার চেতনা ফিরিয়ে দিতে।

***** তোমার এই নতুন জন্মকে শুভেচ্ছা অধ্যাপিকা *****

- সৌম্যজিৎ। 

Thursday, 19 October 2017

my world, everyone of you can see it just a draw-well,
but my perspective defines it as the universe which crosses the limit of everyone's thought..
it is my world.
if there is life behind the darkness,
it is here,
it is here .. 


সবার ঘরে যখন দীপাবলির আলো জ্বলছে,
শাঁখ, ঘণ্টা, কাসর বাজছে,
বাজি পুড়ছে, ফানুশ উড়ছে,
আমার ঘরে তখন এলিডির সাদা আলো, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই,
খাতা, কলম, এলগরিদম,
অবিন্যস্ত মন আর ফাঁকে ফাঁকে দু-চার লাইন কবিতা ..
এই তো আমি,
এই তো আমার জীবন প্রেমিকা ..

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 18 October 2017

চোখের সামনে দেখি দাবানলে জ্বলে সংসার,
ঠকছে হৃদয়, ঠকছে মন,
ভাঙছে আশা, ভালবাসা,
নারী তুমি অস্তিত্বহীন। 
স্বামী নামক হায়না তোমায় ছিঁড়ে খায় 
প্রতিদিন,
প্রতিবেলা। 

Monday, 16 October 2017

কাগজের পাতায় তুমি কলমের কালিকে উজ্বল করেছিলে একদিন,
মাতিয়ে রেখেছিলে অসংখ্য তরুণীর বুক,
মৃত্যু তোমার কাছে হেলাফেলা কোনো বস্তু,
প্রাণ নয়, তুমি মৃত্যুকে চেয়েছিলে জীবনের সাথে আপস না করেই।
যে অসংখ্য তরুণীর বুকে তুমি প্রেমের আগুন জ্বেলেছিলে একদিন,
তুমি কি পেরেছিলে সত্যিকারের সেই এক প্রেমিক হয়ে উঠতে কোনোদিন!
প্রেমের মুখোশের আড়ালে তুমি ধ্বংস করেছ প্রেমকে,
ভেঙে টুকরো টুকরো করেছিলে সকালের আলো, যে সকাল
তোমায় সঁপে ছিল নিজের সমস্ত ভালবাসা উজাড় করে।
তুমি ব্যর্থ রুদ্র,
তুমি ব্যর্থ প্রেমিক।
যে প্রেম তোমাকে মাথার মুকুট করে রাখতে চেয়েছিল,
সেই প্রেমকেই তুমি খানখান করেছিলে।
আজ তোমার জন্মদিনে তোমার প্রেমিকারা ঢল করে তোমায় শুভেচ্ছা জানাক,
আমি থাকবো সেই প্রেমিকার সাথে যা'কে
তুমি কখনো সকাল ডেকেছিলে ভালবাসার নামে।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 15 October 2017

হৃদয় কাঁপছে দুরুদুরু যেমন 
থরথর কাঁপে ঠোঁট,
এ কেমন আস্ফালন আজ প্রাণে,
ছুঁয়ে দেখতে চায় হৃদ মাঝারে ...


আকাশ মেঘে ঢেকে রেখেছে,
দূরত্ব শুধু এক মেঘ পর্দা,
তোমার আমার মাঝে দূরত্ব আজ শুধু অপেক্ষা .. 
কাছে এসে দেখো,
উষ্ণতাকে মেপে দেখো,
মেখে দেখো প্রতিটা স্পর্শ .. 

Thursday, 12 October 2017

কিরণ।
সৌম্যজিৎ।


তোমার চোখে মুক্তি দেখেছি,
হারিয়ে যেতে চেয়েছি অজানা কোনো দেশে,
সাতরঙা আকাশ যেখানে সকাল আনে,
মুক্ত বাতাসের ঘ্রাণ নিতে চেয়েছি তোমার সাথে -
সেখানে,
ফুলেরা যেখানে লাল, হলদে, সাদা তাজা রঙে জেগে ওঠে,
আমার রক্তকরবী তোমার সাথে মিশে বেড়ায় শিরা, ধমনী প্রবাহে,
মিশে যায় শ্বাস অবলীলায় তোমার নিঃশ্বাসে সেখানে।
ঘুম ভাঙা চোখে প্রথম কিরণ আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে চেয়েছি
তোমারই ললাটে,
বেঁচে থাকা আজ না বাঁচা হয়ে গেছে,
তোমাকে বলতে চেয়েও মাঝে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল উঠে দাঁড়িয়েছে বাধা দিয়ে,
গলা ফাটা চিৎকারেও আমার আওয়াজ পৌঁছয়নি তোমার কাছে।
যেখানেই থাকি-
জেনো আমার প্রেম চেয়ে থাকবে শুধু তোমারই দিকে,
দুচোখ ভরা স্বপ্ন জেগে থাকবে কখনো তোমায় ছুঁয়ে পেতে।


Sunday, 8 October 2017

মরুভূমির বালিয়াড়ি বিষাক্ত বিছেকে তুমি ধরে আছো ওই দুই চোখে,
তিল তিল করে বিষ চক্ষুদুটি দিয়ে দংশন করছ আমার চেতনা, হৃদয়।
শরীরের সমস্ত রক্ত জমাট বেঁধে গেছে,
শুকিয়ে ফ্যাকাসে নীল বর্ণ ধারন করছে গোটা শরীর,
আমি এখনও বেঁচে আছি, চেয়ে আছি একটিবার বলতে -
"ভালবাসি।"

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 7 October 2017

আজকাল প্রেমে প্রেমে বুকটা বড় হাহুতাশ করছে,
ধকধক কম্পনের শব্দ পাখার শো শো শব্দকেও ছাপিয়ে কানে ভাসছে,
চোখ, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে।
শুধু একটিবার অন্তত মুখ ফুটে বলতে ইচ্ছা করছে ভালবাসি,
কিন্তু ভালবাসি শব্দটা এতটাই কঠিন হয়ে গেছে যে
মুখ ফুটে বলার মত শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।
প্রেম ছাড়া, ভালবাসা ছাড়া বাঁচা বড়ই দুষ্কর,
জানি, যত বেশি ভালবাসবো, কষ্টটাও তত বেশি করে পাবো, তবু
ভালবাসাহীন বেঁচে থাকার যন্ত্রণার থেকে ভালবেসে কষ্ট পাওয়াটা অনেক বেশি শান্তির,
তৃপ্তির।
ভালবাসাহীন বেঁচে থাকা বড্ড আতঙ্কের!
দীর্ঘশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন। 
"প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। "

কিছু মানুষ আমাকে বলে আমি নারীবাদী। আমি নারীবাদী কিনা জানিনা, সেভাবে কখনো ভাবিনি। মানুষকে মানুষের মত দেখেছি, ভালবেসেছি। কখনো নারী - পুরুষ বিভাজনে যাইনি। কখনো ভাবিনি যে আমি একজন পুরুষ হয়ে চরম দুঃসাহসিক একটা কাজ করলাম আর একজন নারী সেটা কখনোই করতে পারবেনা, কারণ সে একজন নারী। নারী বলে তার দৈহিক ও মানসিক শক্তি কম এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি যেমন দুঃসাহসিক একটা কাজ করার ক্ষমতা ও সাহস রাখি, একজন নারী বা সে নারী বা পুরুষ যেমানুষই হোক না কেন, ইচ্ছা করলেই একইরকম বা হয়ত আমার থেকেও অনেক বেশি সাহসের কাজ অনেক ভালভাবে করতে পারে। তাহলে নারী - পুরুষের মধ্যে বিভাজন করে কোনো লাভ নেই। উভয়েই সমান ক্ষমতার অধিকারী। এখন এটা পড়ে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করতে পারে যে একজন পুরুষ যা করতে পারে, একজন নারী সেটা করতে পারবে কি? একজন পুরুষ ছাড়া একজন নারী কি কখনো সন্তানের মা হতে পারবে? তাদের একটা কথা বলি, সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কিন্তু এখন একজন নারীর একজন পুরুষের প্রয়োজন হয়না। বিজ্ঞান এতটা এগিয়ে গেছে যে বৈজ্ঞানিকভাবে শুক্রাণু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নারী ইচ্ছা করলেই সন্তান জন্ম দিতে পারে। তাছাড়া সন্তান জন্ম দেবে তার শরীর, তার জরায়ু। তাই সে ঠিক করবে কি উপায়ে সে সন্তান জন্ম দেবে। এখানে পুরুষের প্রয়োজনীয়তাটাও ঠিক করবে একজন নারী। একজন নারী যদি শারীরিক সম্পর্ক করতে না চায়, একজন পুরুষ সেখানে কখনো জোর করতে পারেনা শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে। তাই নারী যদি পুরুষকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য অনুমতি না দেয়, একজন পুরুষ কখনোই কোনো নীতিতে সেই সম্পর্কে উপনীত হতে পারেনা। কারণ শরীরটা নারীর, সেই শরীরে অধিকার আছে শুধু আর শুধুমাত্র তারই।

ঠিক উলটোদিকে একজন পুরুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও একজন নারী জোর করে কোনো নীতিতেই শারীরিক সম্পর্ক গড়তে পারেনা। সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক যে পুরুষই এখানে প্রধান, কারণ পুরুষের পুরুষ লিঙ্গ আছে যা বংশকে আবাদ করবে নারী শরীরকে কর্ষণ করে, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক নারী শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার একটা মেশিন, এছাড়া তার মানুষ পরিচয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা বারেবারে ভুলে যায় যে সন্তান জন্ম দেবে কি দেবেনা সেটা ঠিক করার মালিক শুধুমাত্র একজন নারী। কারণ জরায়ুটার ওপর অধিকার শুধুমাত্র তারই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা ভুলে যায় যে বিজ্ঞান নারীর সামনে সেই রাস্তা খুলে দিয়েছে যে রাস্তায় নারী কোনো পুরুষ ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে পারে। অতয়েব সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। এগিয়ে গেছে বিজ্ঞান, এগিয়ে গেছে পুরুষতন্ত্র ব্যতীত বাকি সমাজের চিন্তা। এগিয়ে গেছে নারী।

অতয়েব যদি প্রেম, ভালবাসা, শারীরিক সম্পর্ক, মানসিক সম্পর্ক গড়তেই হয়, তবে নারীকে খেলনা বা বস্তু ভাবা বন্ধ করো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীও সমান মানুষ। তাকে মানুষ মানো বা না মানো তাতে নারীর কিছু যায় আসুক বা না আসুক, তোমাদের যায় আসবে। ভবিষ্যতে তোমাদের এই সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীকে মানুষ ভেবেই, সমান অধিকারী ভেবেই টিকে থাকতে হবে।

এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যেমন পুরুষের পুংলিঙ্গটার জন্য সমাজে নিজেদের মুখ্য করে তুলেছে, তেমন নারীরও উচিৎ নিজেদের জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ও সচেতন হওয়া। প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 6 October 2017

আজকাল তোমায় বড্ড লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি। আমি বুঝিনা এটা কি শুধুই মায়া নাকি আমি সত্যিই ভীষণ প্রেমে পড়েছি। প্রেম যদি সত্যিই ভীষণ হয়, আমি মুখ ফুটে একটাবারও কিছু বলবো না। প্রেম যদি সত্যিই ভীষণ হয়ে থাকে, সেই প্রেমে শুধু আমারই অধিকার, ভাগ বসাতে আমি দেবো না তোমাকে। আজকাল আমি বড্ড লুকিয়ে লুকিয়ে তোমায় দেখছি, খুব ভালো লাগে তোমাকে দেখতে। 

Wednesday, 4 October 2017



এই ছবিটাতে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে লেখক হুমায়ুন আহমেদ তাঁর ভক্তদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। পাশে একটু দূরে দাঁড়িয়ে লেখিকা তসলিমা নাসরিন, কালো রঙের একটা ব্যাগ হাতে অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন এবং লেখক রোকসানা ইয়াসমিন একটা সাদা রঙের ব্যাগ হাতে লেখক হুমায়ুন আহমেদকে তাঁর ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতে দেখছেন। এই ছবিটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলাতে তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিচ্ছেন না। আজ হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে নেই। কিন্তু আজও বারেবারে এই অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে যে সেদিন লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিচ্ছিলেন মেলাতে।

কিছুদিন আগে এক চরম বাগবিতণ্ডা চলেছে এই ছবির মুহূর্তটা নিয়ে লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি ও ইত্তিলা রায় ইতুর মধ্যে। আমি বারেবারে জড়িয়ে পড়ি এসবের মধ্যে কারণ একেতে আমি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে আদর্শ মানি, সত্যিটা জানি এবং লেখিকা প্রীতি ও ইতু উভয়েরই বন্ধু। এই বাগবিতণ্ডার জেরে কখনো লেখিকা প্রীতির সাথে ইতুর সম্পর্ক ছিন্ন হয় আবার কখনো লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাথে প্রীতির সম্পর্ক ছিন্ন হয় ও প্রীতির মনে হয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন অসহনশীল হয়ে উঠেছেন। জান্নাতুন নাঈম প্রীতি বারেবারে এই ছবির মুহূর্ত নিয়ে একটা ভুল মন্তব্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে যে সেদিন তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিতেই গেছিলেন এবং তসলিমা নাসরিন এই ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন। সত্যিটা আমরা এই ছবিতে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আদতে সেদিন কি হয়েছিল। লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি আমার খুব ভালো বন্ধু, আমি ওকে ভীষণ স্নেহ করি। আমি ওকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে গেছি যে সেদিন তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, কোথাও একটা যাবে বলে। ওনাদের মধ্যে অটোগ্রাফ আদান প্রদানের কোনো মুহূর্তই আসেনি। কিন্তু প্রীতি নিজের জায়গায় স্থির থাকে। আমি ওকে বলেছিলাম যে আমি একটা ছবি দেখেছিলাম, যে ছবিটা স্পষ্ট করে দেয় সেদিন আদতে কি ঘটেছিল। তারপর থেকে আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে গেছি সমস্ত জায়গায় এই ছবিটা। আমার দায় আছে সত্যিটা তুলে ধরার। কারণ আমার বিশ্বাস লেখিকা তসলিমা নাসরিন কখনো কোনো মিথ্যের সাথে আপোষ করেন নি। আমি যদি এই ছবিটা প্রমাণ হিসেবে তুলে না ধরতে পারতাম, আমি নিজেই ছোট হয়ে যেতাম।

প্রীতির মনে হয়েছে যে লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইদানীং অতি অসহনশীল হয়ে উঠেছেন। আমি প্রশ্ন করছি, একটা মানুষ তাঁর নিজের দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, আপনজনহারা হয়েছেন, বাংলার প্রতি প্রবল টানে যখন এই বাংলার রাজ্যে এসে থেকেছেন, তখন সেখান থেকেও নির্বাসিত হয়েছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন বারেবারে, কখনো রাজস্থান, কখনো হায়দ্রাবাদ,  কখনো অউরঙ্গবাদে শুধু অপমানিতই হয়েছেন ইসলামি নেতাদের সৌজন্যে ও শাসক গোষ্ঠীর ইসলাম তোষণের প্রভাবে, এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরও সেই মানুষটা মানুষের মধ্যে শুধু ভালবাসাই বিলিয়ে দিয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, অসহায়দের হয়ে কলম তুলেছে বারেবারে। এরপরও কি বলা যায় যে লেখিকা তসলিমা নাসরিন অতি অসহনশীল হয়ে উঠেছেন? একজন মানুষ কতটা অমানবিক হলে তাকে অতি অসহনশীল বলা হয়? একজন মানুষ কতটা সহ্য করতে পারলে ও তারপরও কতটা নির্বিকার থাকতে পারলে তাকে সহনশীল বলা হয়? যখন লক্ষ লক্ষ সাদা টুপিওয়ালা মানুষ হাতে চাপাতি, লাঠি নিয়ে কোর্ট চত্বরে অপেক্ষা করছিল লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে পেলেই তাঁর শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন করবে বলে, মাথায় মেরে মাথাটা মাটিতে ফেলে ফুটবল খেলবে বলে, সেসবের মাঝখান থেকেও তসলিমা নাসরিন কোর্ট চত্বরে হাজিরা দেয়, বেরিয়ে আসে। একজন মানুষের স্নায়ুতে কতটা জোর থাকলে সে এমন পরিস্থিতিকে চোখের সামনে দেখেও, তাঁর নামে অগুন্তি মানুষের গলা ফাটা চিৎকারের তিরস্কার শুনেও জ্ঞান না হারিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে! প্রবল ধ্বস্তাধস্তিতে যখন গায়ের শাড়ি, পায়ের চটি খুলে বেরিয়ে গেছে, তারপরও সেই লেখিকা শুধুমাত্র সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। যখন এয়ারপোর্ট চত্বরে খুনি পুলিশগুলো তাকে প্রায় হুমকির সুরে বলছে এতদিন লেখিকাকে কে বা কারা আশ্রয় দিয়েছে সেসব না বললে খুনি মৌলবাদদের হাতে ছেড়ে দেবে, তারপরও লেখিকা সেইসব আশ্রয় দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের নাম বলে দেয়নি, দেশ থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তেও নিজের কর্তব্যে স্থির থেকেছেন, সেই মানুষটা অতি অসহনশীল? তসলিমা নাসরিন নামক বিতর্কিত বিষয়টাকে তিরস্কার করলেই মৌলবাদের সমাজে মাথা উঁচিয়ে বেঁচে থাকা ভীষণ সহজ।

তসলিমা নাসরিন কখনো অসহনশীল নয়। তসলিমা নাসরিন মিথ্যেবাদী নয়। বরং মিথ্যে কথা বলেছেন তাঁরা যাদের মুখোশ তসলিমা নাসরিন খুলে দিয়েছেন তাঁর লেখা বইগুলোতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন পুরুষ লেখক হাজার জন মেয়ের সাথে প্রেম করলেও, বিছানায় শুলেও বা পরকীয়া করলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনা, কারণ সে একজন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষ লেখক। কিন্তু একজন নারী লেখক যদি সেইসব সত্যগুলোকে একেরপর এক তাঁর লেখা বইগুলোতে তুলে ধরতে থাকে, তখন সেই লেখিকা হয় নষ্টা, দুশ্চরিত্রা, পতিতা। কারণ সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক। এখানে পুরুষের কোটি গুনাও মাফ, নারী খোঁচা দিলেই সেই নারী হয় বলির পশু। আর যদি সেই নারী হন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন, তাহলে কপালে জোটে নির্বাসন, নিষিদ্ধ অথবা মাথার দাম ঘোষণা। 

Tuesday, 3 October 2017

এত লেখক, লেখিকা থাকতে আমি কেন তসলিমা নাসরিনকে পড়ি?

১) তসলিমা নাসরিনের লেখা বাস্তব জীবন নিয়ে, বাস্তব চরিত্র নিয়ে। বাস্তব উদাহরণগুলো নিয়ে। 

২) স্পষ্টবাদী। আগে, পরে কি হয়েছে, কি হবে এসব চিন্তা না করেই যা সত্য, যা স্পষ্ট লেখিকা তাই বলেন, তাই লেখেন। 

৩) অকপট স্বীকারোক্তি। নিজের জীবনের ঠিক, ভুল সবকিছু অকপটে তুলে ধরার ক্ষমতা। অনেক লেখক, লেখিকাদের মতন লজ্জাকে লুকিয়ে রেখে উনি কখনো নিজের ভালো কিছুগুলোর ঢাক পিটিয়ে বেড়াননি। 

৪) নিজের রুদ্ধশ্বাস জীবনে পদে পদে মৃত্যুর তাড়া খেয়ে বেরিয়েও উনি নিজের সততা, আদর্শের সাথে কখনো সমঝোতা করেননি।

৫) দুমাসের অন্তর্ধান মুহূর্তেও উনি যে হিজাব, বোরখার বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছেন, সেইসব হিজাব - বোরখার সাহায্য নিয়ে লুকিয়ে পালাতে চাননি। আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ না হলে কেউ এতটাও মরিয়া হতে পারেনা শুধুমাত্র সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে।

৬) কোর্ট চত্বরে যাওয়ার মুহূর্তেও যখন তিনি ভাবছেন যে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে এগোচ্ছেন, তখনও ভেবে চলেছেন "আজ হয়ত আমি প্রাণে মরবো। কিন্তু আমার মৃত্যু হাজারও তরুণের বুকে আদর্শ সঞ্চারিত করবে। একসময় সবাই প্রতিবাদমুখর হবে। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।" কার পক্ষে এমন ভাবা সম্ভব? নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কি একটা পুরুষও এতটা মরিয়া হতে পারত! 

৭) তসলিমা নাসরিনের শিরাতে, মজ্জাতে, রক্তে, মাংসে শুধুই প্রেম, ভালবাসা, উদারতা। এই প্রেম আমার মনে অমরত্ব পেয়েছে। 

৮) চরম ধৈর্য। মানসিক, শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এত বই নিসিদ্ধ হয়েছে, একটা গোটা দেশ ও একটা গোটা রাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, আরও অনেক রাজ্য থেকে অলিখিতভাবে নির্বাসিত হওয়ার পরও নিজের জায়গা থেকে, আদর্শ থেকে এক ইঞ্চি সরে দাঁড়াননি। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। বরং আরও শক্ত হাতে কলম ধরেছেন।


৯) ডাক্তারির সুখের চাকরি আর কলম এই দুটো বিকল্প যখন তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হয়, উনি চাকরি ছেড়ে কলমকে তুলে নেন। কলমকে কখনো বিক্রি করে দেননি।


এমন এক জীবন্ত যোদ্ধা যিনি গত দুই যুগ ধরে রুদ্ধশ্বাস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সমস্ত ইসলামিক দেশগুলির নিশানায় থেকেও কখনো আদর্শের পথ ছাড়তে রাজি নন, তাঁর লেখা না পড়ে আমি আর কার লেখা পড়বো? আমি মানুষ হতে চাই। আমি আদর্শের সাথে বাঁচতে চাই। তসলিমা নাসরিনই সেই রাস্তা যা আমাকে আদর্শের আলো দেখাবে। 

Monday, 2 October 2017


কুয়াশা।

সৌম্যজিৎ।

ভালবাসার শহরটাতে আজ বড্ড একা লাগে,
চেনা মানুষটাকে অচেনা হয়ে যেতে দেখেছি সামনেখানেই,
চেনা ভালবাসা, যার ওপর ভেবেছি আমার সবথেকে বড় অধিকার,
আমার পাশে আর কেউ না থাকুক, অন্তত সে আছে সবসময়,
যাকে কি চরম ভরসা করে আমি হেসেছি, খেলেছি, দাপিয়ে বেড়িয়েছি,
হঠাৎই আবিষ্কার করলাম সেই মানুষটার ওপর আমার কোনো অধিকারই নেই!
হঠাৎই নিজেকে সেই মানুষটার নজরে এক ঝটকায় প্রেমের বদলে শত্রুর চেহারা নিতে দেখলাম।
কোনো কারণ খুঁজে পাইনি,
বার কয়েক জিজ্ঞাসা করেছি। ব্যর্থ চেষ্টা।
নিজেকে বুঝিয়েছি, কখনো তো জোর করিনি,
নিজেরটুকু চাপিয়ে দিইনি,
আজই বা কেন তবে এত জিজ্ঞাসা!
প্রশ্ন যদি আসেই মনে,
সে তো আমারই মন, আমি ঠিক তাকে থামিয়ে দেবো।
নিজেকে বোঝাতে বোঝাতে বুঝলাম সময়ের সাথে শহরটাও যেন একইভাবে বয়ে চলেছে,
সময়ের সাথে আমার জীবনটাও একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে,
শুধু থমকে আছে আমার মনটুকু।
আজও সে মন খুঁজে বেড়াচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো,
এখনও স্মৃতি হাতড়ে ভাবছে সেই কবে মানুষটাকে শেষবার সে ছুঁয়েছে,
কবে তার মাথায় শেষবার হাত রেখেছে, কবে চুমু খেয়েছে শেষ, আর
শেষ কবে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে শান্তির কয়েক সেকেন্ডকে সে -
কয়েক যুগের মত করে বেঁচেছে প্রাণভরে!

এই শহরটা আমার ভালবাসার আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে,
শেষ কবে যে আমি তোর নিঃশ্বাসের গন্ধ পেয়েছি, মনে করতে পারিনা।
তোর চুলে এক অদ্ভুত গন্ধ পেতাম, তোর হাতে এক অদ্ভুত গন্ধ আমাকে মোহিত করে রাখতো,
আজ সেসব বড্ড দূরের লাগে।

আমি হেঁটে চলেছি শহরের রাস্তাটা ধরে একা একা,
আশেপাশে দেখি আজ তেমনই ভালবাসার মানুষদের ধরে হিজড়ে মাসিরা আশীর্বাদ করছে।
ওই ভালবাসার মানুষগুলো কি পারবে সবসময় নিজেদের কাছাকাছি ধরে রাখতে!
নাকি আমিই ওদের ভবিষ্যৎ হয়ে পিছন ফিরে আমার অতীতটাকে দেখতে পাচ্ছি,
একইরকম পরিণামের জন্য! 

Saturday, 30 September 2017


পুরুষতন্ত্রের প্রভাব ও একটি গল্প। 

চারিদিকে যে দিকেই তাকাই, পুরুষতন্ত্রের বিছানো জাল চোখের সামনে একটা করে উদাহরণ তুলে ধরে। সমাজ ও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। কেউ মুখ্য, কেউ গৌণ। কেউ পুরুষতন্ত্রকে বীরদর্পে বহন করছে তো কেউ পুরুষতন্ত্রে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যেন এটাই জীবন, এটাই নিয়ম, এটাই ধর্ম আর এটাই সমাজ। আবার কেউ বাধ্য হয়ে পুরুষতন্ত্রকে গলার মালা বানিয়ে ফেলেছে আর কিছু মানুষ আছে যারা চোখের সামনে সবটা দেখছে, বুঝতে পারছে, কিন্তু চেষ্টা করেও কিছুই করতে পারছেনা। হ্যাঁ, আমরা প্রত্যেকেই এমনই এক পুরুষতন্ত্রের অংশ হয়ে উঠেছি। ন্যায়, অন্যায়ের জ্ঞান থাকার পরও আমরা প্রতিমুহূর্তে পরাজিত হচ্ছি, মাথা নত করছি এই পুরুষতন্ত্রের সামনে। আর এটাকেই জীবন ভেবে হাসছি, খেলছি, যাপন করে চলেছি নিয়মিত। পুরুষতন্ত্র কোনো ধর্ম নয়, পুরুষতন্ত্র কোনো মানবিকতা নয়, পুরুষতন্ত্র কখনোই মানুষের পরিচয় বহন করেনা। পুরুষতন্ত্র সমাজের সবথেকে উচ্চস্তরে থাকা একটা রোগ যা মানুষের শিরাতে, ধমনীতে রক্তের সাথে বাহিত হয়ে চলেছে। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে জর্জরিত বিশাখা (বাস্তব চরিত্রের নাম পাল্টে) নামের একটা মেয়ের গল্প বলি। 

বিশাখা ছোট থেকে অনেক অনেক স্বপ্ন দেখত, সে অনেক পড়াশোনা করবে, অনেক বড় হবে, কিছু করবে সমাজের মানুষের জন্য। পড়াশোনা করার অনেক চেষ্টা করে, কিন্তু দুর্বল মেধাশক্তি বিশাখাকে পরাজিত করে। মেট্রিক পরীক্ষাতে সে ফেল করে। ফেল করে ভেঙে পড়ে ও আবারও উঠে দাঁড়ানোর কথা ভাবে। মনের মধ্যে সমস্ত জোরকে একত্রিত  করার চেষ্টা করে। কিন্তু এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হয়ে সে পরাজিত হয় দারিদ্রতার কাছে। মনের মধ্যে পড়াশোনা করার তীব্র ইচ্ছা থাকার সত্তেও তাকে তার বাবা এক ব্যবসায়ী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিশাখা প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিয়ে করবেনা বলে। কিন্তু সেই প্রতিবাদ তার দরিদ্র বাবার সামনে মাথা উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ছেলের সম্পর্কে ভালো খোঁজ, খবর না নিয়েই, শুধু ভালো রোজগার করে, ছেলে কর্মঠ এটুকু দেখেই বিশাখার বাবা বিশাখাকে বিয়ে দিয়ে দেয়। বিশাখা বাধ্য হয় বিয়ে করতে। এক শহুরে পরিবেশে পড়াশোনা নিয়ে ভাবা একটা ছোট মেয়ে বিয়ে করে আসে অনেক পিছিয়ে থাকা একটা গ্রামের অনেক বড় একটা পরিবারে বাড়ির প্রথম বউ হয়ে। শ্বশুর বাড়িতে সর্বমোট সদস্য সংখ্যা তখন একুশজন। বাড়ির রান্নার দায়িত্ব পড়ে রান্না করতে না জানা ছোট মেয়েটির ওপর। অতয়েব বিশাখার পড়াশোনার স্বপ্ন ওই রান্নার চুলায় জ্বালানি হয়ে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে বিশাখাকে অনেক দায়িত্ব সামলাতে হলেও শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি, ননদ, স্বামী ও ভাশুরদের বন্ধুর মতই সে পেয়েছিল। বিরূপ ছিল শুধু তার একমাত্র দেওর। দেওরের বলা কটূক্তিগুলো বিশাখাকে প্রতিদিন তীরবিদ্ধ করে। বাড়ির ছোট ছেলে হওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য লোকেরা দেওরকে বোঝায় কিন্তু সেই বোঝানোটা কখনোই প্রতিবাদের আকার নেয়না। তাই দেওরের কটূক্তিও কমার পরিবর্তে বাড়তে থাকে। এরপরও বিশাখা মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একদিন বিশাখার স্বামী তীব্র প্রতিবাদটুকু জানিয়ে ওঠে তার ছোট ভাইয়ের করা অপমানগুলোর বিরুদ্ধে। বিশাখাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসে। বিশাখা রাজি ছিলনা ওভাবে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে, কিন্তু স্বামীর আদেশে সে বাধ্য হয়। 

তাদের একটা ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। বিশাখা আবারও স্বপ্ন দেখে যে সে যাকিছু করবে ভেবেও কখনো করতে পারেনি, পড়াশোনা করতে পারেনি, সমাজের জন্য কিছু করবে ভেবেও করতে পারেনি, সেইসব অপূর্ণ থেকে যাওয়া স্বপ্নগুলো পূরণ করবে তার ছেলে। পরিবার ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর থেকে বিশাখার স্বামী পাল্টাতে শুরু করে। টাকার নেশায় ব্যবসায় মত্ত হয়ে যায়, বাইরে নানা মানুষের সাথে মিশে মদ খেতে শুরু করে, আরও অনেক অনেক নেশাতে ডুবে যায়। আস্তে আস্তে বিশাখার কর্মঠ স্বামী ব্যবসায় উন্নতি করতে শুরু করে। ব্যবসায় যত উন্নতি হতে থাকে, সে আরও বেশি উদ্ধত হতে থাকে। বিশাখার সাথে রোজ অশান্তি করে রাতে মদ্যপ অবস্থায় ঘরে ফিরে, বিশাখার গায়ে হাত তোলে। বিশাখা এরপরও ধৈর্য ধরে তার ছেলের কথা ভেবে। সে তার ছেলেকে অনেক পড়াশোনা করাবে, মানুষের মত মানুষ করে তুলবে। পুরুষতন্ত্রের সমস্ত রূপ ফুটে উঠতে শুরু করে বিশাখার স্বামীর মধ্যে থেকে। চিন্তাভাবনাগুলো এমন যেন "আমি পুরুষ, আমি করতেই পারি। আমি পুরুষ তাই বাইরে যাকিছুই করিনা কেন, আমার বদনাম হবেনা। কিন্তু ও একটা মেয়ে হয়ে বাইরে মিশতে পারবেনা। একটা মেয়ে বাইরে পা রাখলেই সে বদনামি।" বিশাখার প্রাণ অস্থির হয়ে ওঠে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে। বিশাখা নিজের সমস্ত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়। সে সবসময় চেষ্টা করে স্বামীকে বুঝিয়ে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য, শান্ত করার জন্য। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিশাখা ঘরের মধ্যে কষ্টে জর্জরিত হয়ে পচতে থাকে, আর তার স্বামী বাইরে মদ খেয়ে আনন্দ করে। 

বিশাখার স্বামী বাইরে মানুষকে অনেক সাহায্য করে। দরিদ্রকে অর্থদান করে, বাইরে সবার সাথে বন্ধুত্ব করে, মানুষসুলভ আচরণ করে। তার যত অত্যাচার শুধু ঘরে ফিরে আর বাড়ির মানুষগুলোকে বঞ্চিত করে। যদিও সেও তাদের ছেলেকে ভীষণ ভালবাসে, নিজের ছেলেকে কখনো সে কোনোকিছু থেকে বঞ্চিত করেনি। তাদের ছেলে কখনো মুখফুটে কিছু চাইনা। তাদের ছেলেকে বিলাসিতা কখনো প্রভাবিত করতে পারেনি। সে অনেক পড়াশোনা করে, মানুষের কষ্ট বুঝতে পারে, অত্যাচারিত নারীদের কষ্টকে সে উপলব্ধি করতে পারে। বিশাখার অপূর্ণ পড়াশোনা করার ইচ্ছা সে তার ছেলের মধ্যেও জাগিয়ে তুলতে পেরেছিল। জীবনে হারতে হারতেও সে এই একটা দিকে জিততে পেরেছে। বিশাখার ছেলে আজ অনেক বড় হয়েছে, অনেক পড়াশোনা করছে, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছে, আরও অনেক সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে চলেছে। আজ বিশাখার ছেলে স্বপ্ন দেখে এক অন্যরকম আদর্শের। সে পুরুষতন্ত্রকে ভেঙে চুরমার করে দিতে চায়। মনের মধ্যে ভীষণ প্রেম, ভালবাসা নিয়ে সে বড় হয়েছে। কিন্তু এই এতকিছুর পরও বিশাখার ছেলে আজও একপ্রকার হীনমন্যতায় ভোগে, অশান্তি, চিৎকার, গালাগালি সহ্য করতে পারেনা। আজও বিশাখার স্বামী বাইরের জগতে ভীষণ ভালো একজন মানুষ ও বাড়ির পরিবেশে একজন প্রচণ্ড পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। বাড়ির এই পরিবেশে আজ বিশাখা অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে, কিন্তু অভ্যস্ত হতে পারেনি তার ছেলে। সে এই পুরুষতন্ত্রকে মেনে নিতে পারেনা, কষ্ট পায়, সেও অশান্তিতে জর্জরিত হয়ে ওঠে। একসময় বিশাখার যেমন এমন অশান্তিতে দম বন্ধ হয়ে আসত, আজ তাদের ছেলের এই পরিবেশের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে আসে। এমনই তীব্র অশান্তির মধ্যে থেকেও তাদের ছেলে মনের মধ্যে সমস্ত জোরকে একত্রিত করার চেষ্টা করে চলেছে অবিরাম। সে চেষ্টা করে চলেছে এই পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। 


- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 23 September 2017

মেয়েমা,

এই চিঠিটা যখন তোমায় লিখতে শুরু করেছি, ততক্ষণে আমি ভীষণই ভেঙে পড়েছি। গোটা পৃথিবী যেন দ্রুত বেগে পাল্টে যাচ্ছে, আমি থমকে গেছি। চারপাশের অবস্থা আমার জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ক্রমশ। এত একা আমি কখনো ছিলাম না। পুরুষতান্ত্রিক এক পুরুষ হয়ে বেড়ে উঠছিলাম। আবেগের জায়গা আমার কাছে ছিল না। আবেগকে পাত্তা দিতাম না। কারোর ভালো লাগা, খারাপ লাগাকে পাত্তা দিতাম না। ঠিক সেই সময় আমি তোমার আদর্শের ছোঁয়া পাই। পুরুষতান্ত্রিক এক পুরুষ থেকে মানুষ হওয়ার ইচ্ছা জন্মায় মনের মধ্যে। আবেগ তৈরি হতে থাকে। প্রেম, ভালবাসা জায়গা করে নেয় মনের মধ্যে। নিজেকে একজন সৎ ও তোমার আদর্শে গড়া একজন মানুষ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। এই এতকিছু হঠাৎ করে একটা মানুষের জীবনে হয়ে যায়না। সময় লেগেছে আমারও। গত পাঁচ বছর ধরে আমি নিজেকে একটু একটু করে পাল্টেছি। পুরুষতন্ত্রের সীমানা পেড়িয়ে মানুষ হতে চেয়েছি। কিন্তু এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ আর এই সমাজে অভ্যস্ত মানুষের চোখে, মেয়েদের চোখে একজন পুরুষ মানেই সে পুরুষতন্ত্রের অংশ। তাই পুরুষতন্ত্র থেকে বেরিয়ে মানুষ হওয়ার পরও আমি মানুষের সন্দেহের চোখে পড়েছি। আজ প্রতিটা মানুষ কেমন আমাকে, আমার ভিতরের বদলে যাওয়া মানুষটাকে সন্দেহের চোখে দেখে, ভাবে "এটা বুঝি একটা নকল চেহারা, এই ভালো মানুষী নকল চেহারার পিছনে আদতে আছে একজন পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। একজন পুরুষ আবার মানুষ হয় কিভাবে!" আমার দিকে সবার এই সন্দেহের চোখ আমাকে কষ্ট দেয় ঠিকই, কিন্তু আমাকে ভাঙতে পারেনা। আমি ভেঙে পড়ি তখনই যখন তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দাও। আমি সবসময় তোমাকে বলেছি এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ যদি তোমার পাশ থেকে সরে যায়, তোমার বিপক্ষে যায়, এই সৌম্য একাই তোমার সাথে, তোমার পাশে থাকবে সবসময়। ঠিক তেমনই, গোটা পৃথিবীতে যদি প্রতিটা মানুষ আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দেয়, আমার কষ্ট হলেও সেটা আমাকে ভাঙতে পারেনা কখনোই। আমাকে ভেঙে দেয় সেটাই যখন তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দাও।

তোমার কাছে আমি কখনো কিছু বাছবিচার না করেই কথা বলেছি, মনের কথা খুলে বলেছি, আবদার করেছি। একসময় তুমি আমাকে প্রায় বলতে, আমাকে তুমি স্নেহ করো, আমাকে ভালোবাসো। হয়ত শুধু বলার জন্য বলতে, হয়ত মন থেকেই বলতে। কিন্তু তোমার বলা শুধু এই কথাগুলোই আমাকে ভীষণ প্রেরণা দিত। আমাকে তুমি বেশ কয়েকবার বলেছিলে, "দিল্লি এলে দেখা কোরো।" আমি তোমাকে উত্তরে বলতাম "করবো মেয়েমা। নিশ্চয় দেখা হবে আমাদের। কিন্তু এভাবে নয়, তোমার মত মানুষের সাথে দেখা আমি যোগ্যতা অর্জন করেই করবো। আমি নেট কোয়ালিফাই করেই দেখা করবো।" তুমি আমার ঈশ্বর। ঈশ্বরের কাছে কি আমি এমনি এমনি পৌঁছতে পারি! তাই আমি একজন কিছু বা কেউ হয়েই তোমার কাছে যেতে চেয়েছিলাম। গতবছরে আমি প্রস্তুতির খুব কাছে এসেও সামান্য ব্যবধানে ব্যর্থ হয়ে যাই। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে একটুও। আবারও নিজেকে প্রস্তুত করতে চেয়েছি প্রথম থেকে। আবারও স্বপ্ন দেখেছি আমি সফল হবো। সফল হবো কারণ আমায় আমার আদর্শের মানুষটাকে ছুঁতে হবে। তোমাকে একটুখানি ছোঁয়ার জন্য তো আমি রাতের অন্ধকারে খালি পায়ে কাঁটা বিছানো পথ দিয়েও হেঁটে যেতে পারি, রক্তাক্ত হতে পারি, মরতেও পারি। তবু তোমাকে না ছুঁয়ে আমার শেষ নিঃশ্বাস বেরোবে না। আমি যেটা ভেবেছি, সেটাই তোমার কাছে প্রকাশ করেছিলাম। এমনি এমনি আমি তোমার কাছে একজন এলেবেলে কেউ হয়ে তো পৌঁছতে চাইনি। ঈশ্বরকে এমনি এমনি এত সহজে ছোঁয়া যায়না। তুমি আমার জীবন্ত ঈশ্বর।

এই মুহূর্তে আমাকে ভীষণ লড়াই করতে হচ্ছে টিকে থাকার জন্য। কষ্ট পেতে পেতেও আমি কখনো লক্ষ্যচ্যুত হচ্ছি না। হচ্ছিনা কারণ আমার একটা কথা বারবার মনে হচ্ছে যে আজ সবাই আমাকে ভুল বুঝছে, কিন্তু খুব সামনেই সবার ভুল ধারণা ভেঙে যাবে। সবাই আমাকে খুব ভালবাসবে, আপন করে নেবে। কিন্তু আমি তীব্রভাবে ভেঙে পড়ছি একটাই কারণে, আমি মেনে নিতে পারছিনা যে তুমি আমাকে কেমন যেন দূরে করে দিয়েছ। আমি তো তোমার কাছে তোমার প্রিয় হাতিটা চেয়ে বসিনি, আমি তো তোমার কাছথেকে দামি কিছু চেয়ে বসিনি, আমি যেটা চেয়েছি তোমার কাছে সেটা আমার কাছে অমূল্য, যা টাকা, পয়সা দিয়ে কখনো কেনা সম্ভব হয়না, তোমার একটুখানি ভালবাসা, তোমার একটুখানি স্নেহ। আমি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ নই মেয়েমা, গোঁড়া ধার্মিকও নই, কুসংস্কারেও আচ্ছন্ন নই। আমি শুধু চেয়েছিলাম সবকিছুকে জানতে, বুঝতে। তাই সবকিছুকে পরীক্ষা করতে চেয়েছি। ভুল বুঝো না মেয়েমা। তুমি ভুল বুঝলে যে আমি ভীষণই শক্তিহীন হয়ে যাই। একবার আমাকে একটু স্নেহ করো, একটুখানি ভালোবাসো, দেখো আমি হাসতে হাসতে সবকিছু জয় করে নেবো। আমার লক্ষ্য হয়ত অসম্ভব দেখায়, কিন্তু সেটা ভুল নয় কখনো। তোমার আশীর্বাদটুকু ছাড়া আমি যে একেবারে শক্তিহীন হয়ে যায় আমার ঈশ্বর। সৌম্য তোমাকে ভীষণ ভালবাসে, ভীষণ শ্রদ্ধা করে, তোমার দেখানো আদর্শের পথে সে সারাজীবন চলতে চায়। সৌম্যকে দূরে ঠেলে দিওনা তোমার থেকে কখনো। 

Tuesday, 19 September 2017

তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে।

সরকারের রঙ বদলেছে, নাম বদলেছে, মুখ বদলেছে। কিন্তু সরকারের চরিত্র কতটা বদলেছে সেটা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকেনা। আগের বাম সরকার যদি হার্মাদ, খুনি নিয়ে রাজত্ব করত, তবে এখনকার তৃনমুল সরকারও নানান বিশৃঙ্খলতা নিয়ে, খুনোখুনি নিয়ে, রক্তারক্তি নিয়ে, অস্ত্র নিয়ে একইরকম আগুন জ্বালানো পরিবেশ বজায় রেখেছে। যোগ্য উত্তরসূরি যাকে বলে। আমি আবেগে ভেসে তৃনমুল সরকারকে ভোট দিই, জানি কিচ্ছু পাল্টাবেনা, একইরকমভাবে বাংলার পরিবেশ জ্বলবে। তবু অন্তত একটু আশায় ভোট দিই, ভাবি যে একেবারে সব খারাপ হওয়ার থেকে অন্তত যদি কিছুটা কম খারাপ হয়, তাতেও কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। সে আশা আশাই থেকে যায়। পরিস্থিতি ভালো হওয়ার থেকে সময়ের সাথে জিলিপির মত প্যাঁচালো হয়ে ওঠে। প্রগতি কিস্যু হয়না।

প্রসঙ্গ টানি সেই বিতর্কিত লেখিকার, যার লেখা বইগুলির মূল্যায়ন হয় শুধুমাত্র লেখিকার বিতর্কিত নামে। তাঁর বিতর্কিত লেখাগুলি কে কতটা আত্মস্থ করেছে এতদিনে, সেই নিয়ে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। এই তো সেদিনের কথা, বাম আমলেই লেখিকার "দ্বিখণ্ডিত"কে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিল। কারণ কিছু প্রগতিশীল লেখক সরকারের কাছে নিজেদের স্বাক্ষর ঘোষণা দিয়ে বলেদিল "দ্বিখণ্ডিত"তে তাদের আপত্তি আছে। দ্বিখণ্ডিততে নাকি অশ্লীলতা আছে, মিথ্যে আছে, সাম্প্রদায়িক হিংসা আছে। সরকারও তালে তাল মিলিয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসার বাহানা দিয়ে বইটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দিল পশ্চিমবঙ্গে। কোর্টে কেস হল, লড়াই চলল, অবশেষে দুবছরের মাথায় কোর্ট কর্তৃক "দ্বিখণ্ডিত" মুক্ত ঘোষণা হল। আদর্শ জিতল, সত্য জিতল, জিতল লেখিকা তসলিমা নাসরিন। পরাজিত হল সেইসব প্রগতিশীল লেখক, লেখিকারা, পরাজিত হল সরকার, পরাজিত হল সংখ্যালঘু কিছু মানুষের গুণ্ডামি। এই দু'বছরের যুদ্ধকালীন সময়ে লেখিকার চরিত্রকে ফালাফালা করা হয়েছে প্রগতিশীল সেইসব লেখক - লেখিকাদের কথাতে, লেখাতে। লেখিকাকে যৌনপল্লীর এক নারীর সাথেও তুলনা টানা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত নৈতিক জয়টা কিন্তু এই বিতর্কিত লেখিকাই পেয়েছেন।

এক বিতর্কিত লেখক, তার ওপর আবার সে একজন মহিলা যে ডানেরও খায় না, বামেরও খায় না, নিজের খায়, নিজের পরে। একজন শরণার্থী হয়ে এত দেমাগ! সরকারের বিষ নজরে সে পড়বে না তো কি খুনি, চোর, ডাকাত, গুণ্ডারা পড়বে? সিঙ্গুর কাণ্ডে ধামাচাপা দিতে হলে, ন্যানো কাণ্ড থেকে মানুষের মন ঘোরাতে হলে একজনকে জবাই করতেই হত। রিজয়ান খুন নিয়ে তখন পার্কসার্কাস এলাকায় আগুন জ্বলছে। সরকারের নির্দেশে কিছু গুণ্ডাও নেমে পড়ল রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে, সংখ্যালঘু মানুষকে উস্কানি দিতে, খবর ঘোরাতে, তসলিমা নাসরিনের নিপাত চেয়ে। নতুন খবর হয়ে গেল সংখ্যালঘু মানুষরা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে লেখিকার বিরুদ্ধে, শহর জ্বলছে। প্রথম অভিসন্ধিতে জিতল সরকার। লেখিকাকে ঘার ধাক্কা দিয়ে বার করে গোটা দেশের গায়েই সেদিন কলঙ্কের কালি লেপে দিয়েছিল। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই তো নয়, এরপর গোটা ভারতেই লেখিকা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। সত্য থমকে যেতে পারে, সাময়িক হেরে যেতে পারে। সত্য কখনো চাপা থাকতে পারেনা। লেখিকা কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। লড়াই করেছে, আবার ফিরে এসেছে তাঁর প্রিয় ভারত দেশে।

সরকার পাল্টে গেল পশ্চিমবঙ্গে। নেতৃত্ব বদল হল। একজন অসীম সাহসী নারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসল। লেখিকা তসলিমা নাসরিনও ভেবেছিলেন সময় পাল্টাচ্ছে, একজন মহিলা পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে আসছেন মানে নিশ্চয়ই অনেক ভালো কিছু হতে চলেছে। আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। কিন্তু যে কি সেই, হাত বদল হলেও চিন্তাভাবনা, আদর্শের কোনও বদল হলনা। বরং বাম সরকারের নীতিকেই বহন করে চলল মা, মাটি, মানুষের সরকার। সেই নীতিকে আরও একটা ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল তসলিমা নাসরিনের "নির্বাসন" কে নির্বাসিত করে দিয়ে। সেদিন যখন আত্মজীবনীর সপ্তম খণ্ড নির্বাসনের প্রকাশ হতে চলেছে বইমেলার এসি হলে, দুপুর তিনটের সময়, হঠাৎ করেই পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এসে ঘোষণা করেন একটা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংগঠনের তরফ থেকে তার কাছে ফোন যায় যে তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ হলে বইমেলাতে তীব্র ঝামেলা সৃষ্টি করবে তারা, তাই লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বই প্রকাশ সম্ভব নয়। ওই সংগঠন সেদিন প্রথমে লালবাজার পুলিশকে হুমকি দেয় ঝামেলা করবে বলে, তারপর গিল্ডের সাথে ফোনে কথা বলে। লালবাজার কর্তৃকও গিল্ডের কাছে ফোন করে "নির্বাসন" প্রকাশ বন্ধ করতে বলা হয়। এরপর "নির্বাসন"কে আর এসি হলে প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। যদিও "পিপলস বুক সোসাইটি"র উদ্যোগে সাহিত্যিক নবারুণ ভট্টাচার্য বইটার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন বইমেলায় খোলা আকাশের নিচে। আবারও নৈতিক জয় পায় সত্য, নৈতিক জয় হয় বইমেলার, নৈতিক জয় হয় বইপ্রেমীদের। নৈতিক জয় পায় লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কিন্তু কিছু সংখ্যালঘু গুণ্ডার ভয়ে সেদিন কলকাতা পুলিশের মত এত বড় বাহিনী চুপ হয়ে গেছিল, এটা মেনে নেওয়া যায় না। আসলে সংখ্যালঘুদের ভয়ে শুধু পুলিশ কেন, সরকারও তটস্থ থাকে। যত যায় হোক, তসলিমা নাসরিন তো আর সরকারকে ভোট এনে দিতে পারতেন না। আর সংখ্যালঘুদের ভোট হারানোর মত ভুল মুখ্যমন্ত্রী কখনো করতেন না। আদর্শ, সত্য চুলোয় যাক, মানুষ রাজনীতিকদের কাছে একটা ভোট গননার সংখ্যা, যেটা ওদের জিততে হবে।

তসলিমা নাসরিন বরাবর মানুষের মনে নৈতিক জয় পেয়েছেন। মানুষের ভালবাসায় রাজত্ব করেছেন। আমি বিশ্বাস করি তসলিমা নাসরিন ফিরবেনই এই বাংলায়। নৈতিকতাতেই উনি জিতে ফিরবেন এই দৃঢ় বিশ্বাস মনের মধ্যে পোষণ করি।

বাংলা সেদিন রাজনীতির মঞ্চ নয়, বাংলা সেদিন মানুষ হবেই।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 17 September 2017

বৃষ্টি মানে শীতল স্পর্শ,
মনের ক্লান্তি ধুয়ে যায়,
বৃষ্টি মানে সবুজ পাতারা
আরও যেন রঙিন হয়।
বৃষ্টি মানে মাটির গন্ধে মনে পড়ে ছেলেবেলার মাঠের খেলা,
বৃষ্টি আমার চোখের জলকে আড়াল করে,
আমি কাঁদতে পারি মন খুলে,
বৃষ্টি আমায় মনে করায় প্রেমবেলার প্রেমের মেলা। 

Thursday, 14 September 2017

মেয়েমাকে চিঠি।


এর আগে তোমাকে বেশ কিছু চিঠি লিখেছি, আবার অনেকদিন হয়ে গেছে কোনো চিঠি লিখিনি তোমাকে। তোমায় লেখা প্রথম চিঠিটা আমি আমার পাণ্ডুলিপি "উৎসর্গ"তে লিখে দিয়েছি। আনন্দ প্রকাশনী পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে কি করবে জানিনা। অনেক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল আমার পাণ্ডুলিপি নিয়ে। ভেবেছিলাম তোমাকে উৎসর্গ করে লেখা আমার বই প্রকাশিত হবে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। সেই পশ্চিমবঙ্গ যে তোমাকে মনের মধ্যে রেখেও দূরে সরিয়ে রেখেছে, সেখানে আমি এমন এক লেখকের স্বীকৃতি পেতে চলেছি যে তার বই তার আদর্শ, তার ভালবাসাকে উৎসর্গ করেছে। কোনো ভয় পাইনি কখনো এটা করতে গিয়ে। কেন পাবো ভয়! আমি জানতাম আমি কিছু ভুল করিনি। আমি শুধু আমার মনের কথাগুলো বাইরে প্রকাশ করতে চেয়েছি। এখন আমার প্রত্যাশা নেই কোনো মেয়েমা। ওরা ছাপালে ছাপাবে, না ছাপাতে চাইলে ছাপাবেনা। ছাপালে আমার ভালো লাগবে, একটু বা অনেকটাই আনন্দ পাবো। এই প্রত্যাশা কমে যাওয়ার পিছনে আমার একাকীত্ব অনেকটা দায়ী। বেশ কিছু সময় ধরে আমার মনে হচ্ছে আমি একা হয়ে গেছি, পড়ছি, নিজের মত করে থাকার চেষ্টা করছি, কিন্তু ওই যে মনের মধ্যে একটা ব্যাপার ঢুকে গেছে আমি তোমার থেকে আলাদা হয়ে গেছি, আমাকে তুমি আলাদা করে দিয়েছ, এটাই আমাকে মেরে ফেলছে মনে হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।


যখন তুমি আমাকে ভালবাসতে বলতে, যখন বলতে আমি তো তোমাকে স্নেহ করিই, বা কখনো বলতে পাগল ছেলে, তুমি খুব ভালো সৌম্য, আমি যেন পৃথিবীর সর্ব সুখি হয়ে উঠতাম। যখন আমি ভুল করলে তুমি আমায় বকতে, ওই বকার মধ্যেও ভালবাসার ছোঁয়া পেতাম। আমি ভালো থাকতাম। যখন তুমি মন দিতে পড়াশোনা করতে বলতে, তখন কঠিন কঠিন এলগরিদমগুলোও আমার কাছে জলভাত হয়ে যেত। মুহূর্তের মধ্যে আমি অনেক অনেক এলগরিদম সমাধান করে ফেলতাম। তুমি সবসময় আমাকে স্নেহ করেছ, আমার খারাপ সময়গুলোতে তোমার বলা একেকটা কথা আমাকে অক্সিজেন দিয়েছে আর আমি একের পর এক কঠিন পরিস্থিতিগুলোকে জিতে নিয়েছি। আজ নিজেকে বড্ড হেরে যাওয়া মানুষ মনে হয় সবসময়, মনে হয় আমি ফুরিয়ে গেছি, হারিয়ে গেছি। আজ খুব সোজা সোজা অঙ্কও আমি ভুল করি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। সবসময় মনে হয় আমি তোমার সন্দেহের চোখে দাঁড়িয়ে আছি। সবসময় মনে হয় তোমার চোখে আমি একজন গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক বা গোঁড়া ধার্মিক। না মেয়েমা, আমি পুরুষতন্ত্রকে কখনো বিশ্বাস করিনি, মানিনি। গোঁড়া ধার্মিক কখনোই ছিলাম না। আমার কাছে ধর্ম বলতে সূর্যের সত্যি, সূর্যের শক্তি, আর আমার সকাল জেগে দেখা সূর্য সে তো একমাত্র তুমি। গোঁড়া ধার্মিক আমি কখন হলাম তাহলে মেয়েমা!


দিনগুলো বড্ড অসহায়। ভালবাসা হারিয়েছি, স্নেহ হারিয়েছি, পরিবর্তে মনে জায়গা করে নিয়েছে একরাশ অভিমান। ভালোবাসা হয়ত আমাকে বুঝতে ভুল করেছে, আমাকে ভুল বুঝে দূরে ঠেলে দিয়েছে। জানিনা কেন, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওকে আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, ওর হয়ত মনে হয়েছে আমি ওর হাসি, আনন্দ সব কেড়ে নিয়েছি, ওর হয়ত আমার ভালবাসার ওপর থেকে ভরসা হারিয়ে গেছে বা আমি মুছে গেছি ওর মন থেকে, কিছু তো ওর মনে হয়েইছে। তাই আমাকে শাস্তি দিল। আমিও ওকে জোর করিনি কখনো। শুধু মনের মধ্যে চরম অভিমান জন্ম নিয়েছে, সময়গুলোকে দীর্ঘ মনে হয়েছে, বারবার দীর্ঘশ্বাস পড়েছে আমার। হাঁপিয়ে উঠেছি। ভেবেছিলাম তোমাকে জানাবো না কিছুই। কিন্তু এত অসহায় হয়ে ওঠার পরও কি আমি তোমাকে না বলে থাকতে পারতাম! প্রেমের আমার অভাব নেই। কত কত মানুষ প্রেম করতে চায়, অন্যসময় হলে আমিও বলে দিতে পারতাম খুব সহজেই যে আমিও ভালবাসি তোমাদের। আজ আর পারিনা। আজ আর কাওকে ইচ্ছা করেনা ভালবাসতে। আজ শুধু নিজের কাজগুলো করার মাঝে নিজেকেই বিরক্ত লাগে, ব্যর্থ লাগে। শেষবার নেট পরীক্ষায় সাফল্যের এত কাছে পৌঁছেও ব্যর্থ হয়েছিলাম। আমি ভেঙে পড়িনি তাতে। ভেবেছিলাম আবার পরীক্ষা দেবো, সফল আমি হবোই। কিন্তু আজ আমি ভেঙে পড়েছি ভীষণ। তুমি কি আমাকে একটুও বুঝতে পারতে না মেয়েমা!

তুমি কেন আমাকে ভুল বুঝলে!

সামনে ৫ই নভেম্বর আমার আবার নেট পরীক্ষা। হয়ত সফল হবো। হয়ত আবারও ব্যর্থ হবো। আজ আর কোনো প্রত্যাশা নেই সাফল্যের। তবে যাই করি, একটা চরম লড়াই করতে চলেছি সামনেই তোমাকে নিয়ে এই বাংলায়, এটা তো নিশ্চিত। ২০১৮ এর মার্চ ও এপ্রিল মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইতে। নিজের জীবনের ওপর আমার কোনো মায়া নেই, আমি বাঁচলেও কিছু না, না বাঁচলেও কিছু না। কিন্তু আমার জন্য যদি এই একটা মানুষের ভালো হয়, আমার জীবন বাঁচা হয়ে যাবে, আমি পূর্ণ হয়ে যাবো।

তুমি ভালো থেকো মেয়েমা, অনেক অনেক বাঁচো। তোমার প্রতি এত অন্যায় হয়েছে, যে অন্যায় আমাদের গায়ে কাঁটা দেয়। তোমার প্রতি হওয়া অন্যায় আমার দেশের গায়ে লাগা কলঙ্কের দাগ। আমি আমার সবটা দিয়ে চেষ্টা করবো সেই দাগটা মুছে দেওয়ার।

আমি কিছু ভুল করলে ক্ষমা কোরো।


                                                                             তোমার
                                                                           
                                                                              সৌম্য। 

Tuesday, 12 September 2017

উৎসর্গ - তসলিমা নাসরিনকে।

শোনো জাগরনের মেয়ে
তোমারে করি আহ্বান,
মোর বিশ্বাস আর বিশ্বাসে লিখেছি তোমারই জয়গান,
তুমিই হবে সূর্যতারা বাংলার আকাশে,
তুমিই হবে মিলনমেলা স্বাধীনতার বাতাসে,
তুমিই হবে আদর্শ মঞ্চ,
তুমিই হবে কবি,
তোমারই আওয়াজে ফুটবে সকলের মনে
ভালবাসা, সমতার বাণী।
শোনো শোনো ও কবি,
এ জগত নয় সমতার বাদী,
এখানে চলে পুরুষতন্ত্র পুরুষই কারবারে,
এখানে চলে নারীতন্ত্রও স্টাইল, ফ্যাশনইতে,
এখানে আমরা শুধু মানুষ হয়ে বড্ড বেমানান,
হতে হবে পুরুষ বা নারীবাদী, নয়ত গর্দান।
তুমি জেনেছ তো কবি নিজেরই জীবন গাঁথায়,
তুমি জেনেছ শুধু মানুষ হয়ে বাঁচাটাই "লজ্জার,"
পদে পদে পুরুষবাদীরা তোমায় করেছে ধিক্কার,
পদে পদে সাজানো নারীবাদীরা যারা স্তম্ভমূলে পুরুষতান্ত্রিক,
তারাও কই ছেড়েছে তোমায়, দেখিয়েছে হাহাকার।
মিথ্যে আজ, মিথ্যে সব, ভালবাসারাও বেইমানি করে,
ভালবাসারাও আজ মহান, মহীয়সী পুরুষবাদী বা নারীবাদী,
শুধু আমাদেরই হয়না ঠাই কোনো স্থানে, নিয়ে বাঁচার অধিকার।

শোনো তুমি কবি,
তুমি এসো আবার ফিরে এই বাংলার ভূমিতে,
তোমায় ছাড়া এই শুধু মানুষেরা আজ বড়ই অসহায়।

- সৌম্যজিৎ। 
সহসা দিনগুলো বদলে যায়,
সহসা রাতগুলো অসহায়,
সহসা তুমি আমি একসাথে
তখনও ছিলাম আজকে নেই ..

তুমি আজ শুধু কবিতা,
তুমি আজ গানের ভাষা,
তুমি আজ আর সামনে নেই,
তুমি নেই ভালোবাসা।


 - সৌম্যজিৎ।

Monday, 11 September 2017

একলা আজ
তবু মনে পড়ে,
মনে পড়ে তুই বলেছিলিস
নিয়ে যাবি রওডন স্ট্রীটের বাড়িটাতে,
বলেছিলিস শেখাবি পেইন্টিঙটাকে ..
একলা আজ আমি
শহরটাতে,
বলেছিলিস ঘোরাবি অলিগলিতে।
একলা আমি কি করি ঠিকানা নেই,
তুই বলেছিলিস ঘোরাবি শহরটাতে ..
একলা আজ মনে পড়ে তোকে,
তুই বলেছিলিস পেন্সিলে আঁকাবি আমাকে ..
একলা আজ মনে পড়ে তোকে,
তুই বলেছিলিস ভালবাসবি আমাকে।


- সৌম্যজিৎ (শরত)। 

Sunday, 10 September 2017

মনের মধ্যে ভয়ানক আগুন জ্বলছে। দাবানলের মত আগুন ঠিকরে বের হচ্ছে চোখ, মুখ থেকে। শরীরের অসুস্থতাকে ছাপিয়ে মনের মধ্যেকার যন্ত্রণা অস্থির করে তুলছে। সাথে একটা মানুষকেও আমি খুঁজে পাচ্ছি না। প্রেম, ভালবাসা অর্থহীন লাগছে চোখের সামনে। সামনে অনেক বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। নিজের মধ্যেকার যোদ্ধা পরিচয়টা লুপ্ত হতে বসেছিল, আমি বারবার ভালোবাসানির্ভর হয়ে পড়ছিলাম। দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম। এখন আর দুর্বল হওয়ার অবকাশ নেই। জীবনকে গড়পড়তার হিসেব থেকে বার করতে গেলে যুদ্ধ করে বাঁচতে হবে, আর আমি সেটাই করবো। সামনের সমস্ত উঁচু ধাপগুলো পার করে ফেলবো যত যাকিছুই হয়ে যাক। মানববাদী তসলিমা নাসরিনের জন্য যে চিন্তাটা মনের ভিতরে পোষণ করে আছি, সেটাকেই বাস্তব রূপ দেবো আমি। হয় তাতে বাঁচবো নাহলে শেষ হবো। নিজের মনের মধ্যেকার জ্বালাটুকু নেভাতে গেলে এটা আমাকে করতেই হবে। 


পুড়ে যাচ্ছে মনের আকাশ,
দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ছে শুকিয়ে যাওয়া মৃত ঘাসের ওপর দিয়ে, 
চারিদিকে যেদিকে চোখ যায় দেখি বাঁজার জমি খাঁ খাঁ করছে,
পোড়া ভ্যাঁপসা গন্ধটা নাকে এসে ঠেকছে,
ঠিক যেন বিষে বিষে ভেসে গেছে বাতাস।
আর কিছুক্ষণেই আমার প্রশ্বাসে অক্সিজেন শেষ হয়ে যাবে,
ঘনঘন হাঁপানি উঠছে নাভিশ্বাস ঠেলে,
এই বাঁজার জমিতে শুধু আমি একা, পায়ের তলার মাটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে,
গরম বাতাস, গরম নিঃশ্বাস, যেখানে হাত দিই শুধুই আগুনে ঝলসানো স্পর্শ,
আমি প্রাণ চাই, আমি প্রাণ চাই।
আমার উদার প্রকৃতি মা 
ভাসিয়ে দাও মেঘ গর্জন করে শীতল বৃষ্টিতে,
এখুনি এই বাঁজার জমিকে ভিজিয়ে আবাদ করে দাও, 
এখুনি এই তীব্র লালবর্ণে ছড়িয়ে পড়া আগুন নিভিয়ে জন্ম দাও সবুজ তৃণ,
এখুনি নতুন করে অক্সিজেনে ভরিয়ে দাও বাতাস।
তোমার বিরূপ প্রকোপ দেখাতে কেন জন্ম দিলে এই দহনও ধরণীতে! 
মনুষ্যত্বে ভরা প্রাণ নিয়ে আমার আবির্ভাব হল,
কেন আমায় মৃত্যুপুরীতে দাহ্য বস্তু বানালে!
শুধুই কি তোমার আগুন ছড়িয়ে দিতে ওই কার্বনডাইঅক্সাইডের মতই 
আমিও কার্বনে কোনো বস্তু!
বস্তুই যদি হই তবে কেন প্রাণ দিলে,
কেন প্রেম দিলে, কেন মনুষ্যত্ব দিলে,
কেন ইচ্ছা দিলে এই চামড়ার আবরণে ঠেসে? 


- সৌম্যজিৎ। 
আমি চলে যাবো বহুদূর,
নত আমার জীর্ণ মাথা,
সারাজীবনে যা'কিছু করেছি আয়,
আজ সবই বৃথা। 
কখনো যদি খুঁজে বেড়াও, খুঁজো আমায় অন্ধকারে,
খুঁজো আমায় কৈলাসে বা অলকানন্দে,
আমি থাকবো ধ্যানরত পড়ে একা একা। 
এ সংসার আমার নয়,
দম বন্ধ হয়ে আসে, বায়ুনিরুদ্ধ ঢাকনা আমায় 
ঘিরেছে চার দেওয়ালে।
জাঁতাকলে পিষ্ট আজ, আমি আকাশ চাই,
আমি মুক্তি চাই,
আমি প্রাণ চাই,
প্রাণভরে প্রশ্বাস নিতে চাই প্রকৃতির সৌন্দর্যের মাঝে। 
আজ বড্ড অসহায় হয়ে গেছি আমি মুক্তির পিপাসায় শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছি,
সমস্ত শরীর, মন এলোপাথাড়ি চিন্তায় এলোমেলো লাগে,  
না না না, আমি এই পৃথিবী চাইনা আর,
আমি একটু মুক্তবাতাসে ঘ্রাণ নিয়ে স্থির হতে চাই। 


- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 9 September 2017

তোর হাঁটাটা প্রায় লক্ষ্য করতাম,
রাস্তার পিচে খটখট আওয়াজ তুলে আসতিস,
মাথাটা দেখে মনে হত যেন হাওয়ায় ভেসে আসছিস -
কখনো চুল বাঁধা, কখনো খোলা চুলে শ্যাম্পুর গন্ধ ছড়িয়ে।
মনে আছে তোর মাথায়  সবসময় হাত রাখতাম আমি!
ভীষণ ভালো লাগত হাত রেখে, মনে শান্তি পেতাম,
মাথাতে অদ্ভুতরকম উষ্ণতা খুঁজে পেতাম,
আমার কাছে ওটাও একটা আদর, ওটাও একটা প্রেম।
তোর চোখে, মনে সবসময় নতুনত্বের একটা রশ্মি বয়ে যায়,
নতুন নতুন চিন্তাতে, বুদ্ধিতে ভেসে চলিস,
যেমন সেদিন আমার জন্মদিনে আমাকে একটা পায়রা দিলি মুক্ত করে দিতে,
সেদিন আমিও মুক্তির আনন্দ পেয়েছিলাম,
এক অদ্ভুত সুখ পেয়েছিলাম যখন দুহাত ছড়িয়ে পায়রাটাকে হাওয়ায় ভাসিয়েছি,
প্রকাশ করতে পারিনি আমি সেই সুখ।
আকাশে ওই দূরে -
একটা নীলচে লাল আভা একটার পর একটা লম্বা সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছিল
নদীর ওপারে,
আর এপারে আমার দুহাত খোলা, মুখে মুক্তির হাসি নিয়ে আমি এক দৃষ্টে দেখছিলাম
উড়ন্ত পায়রাটাকে,
বাতাসে ডানা মেলার কম্পনের শব্দ আমার কানের পর্দায় এসে ধাক্কা দিচ্ছিল,
আর তুই দেখছিলিস আমাদের মুক্তির আনন্দ।
তবু আমি বারেবারে বলবো তুই বুঝিসনি আমাকে এতটুকুও,
বুঝিসনি শরত তার সব ভালবাসা ভালোবাসাকে বেসে ফেলেছে,
বুঝিসনি সেদিন আকাশ, বাতাস, ছাতিম গাছেরা আমাদের
প্রাণপণে অভিনন্দন জানিয়েছিল এক নতুন জীবনের আহ্বানে,
বুঝিসনি তুই, কক্ষনো বুঝিসনি আমার প্রেমকে।
তোকে আমি সবসময় ভালবেসে যাবো, তবু
তোকে এতটুকুও কাছে টানবোনা আর,
চাইনা আমি তোর প্রেম, চাইনা তোর ভালবাসা,
চাইনা তোর করুণা, চাইনা আর তোর করা অপমানগুলো,
পদে পদে আমার বুকে তীব্র অপমানের শেল বিঁধেছিস,
অসহ্য যন্ত্রণা দিয়ে রক্তাক্ত করে ক্ষত বিক্ষত করেছিস,
চাইনা আমি ওই অসহ্য যন্ত্রণা, তোকে আর চাইনা,
তোর শরীর, মন কিছু চাইনা।
শুধু আমি, আমার মত করে ভালবাসবো তোকে,
আমার ভালবাসাতে শুধু আমারই অধিকার।

Monday, 4 September 2017



তুমি কবিতা চেয়েছিলে না!
আমার কবিতা পুড়ে গেছে।
তোমায় কি দেবো নতুন করে!
আমার ঘরময় ধোঁয়াকার আজ, কবিতার মন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে,
মনের প্রেম প্রেম আবহাওয়াতেও কালো মেঘ জমেছে।
বৃষ্টি আসার কথা ছিল, আকাশের দিকে চেয়েছিলাম ভীষণ উত্তেজনায়,
কতকিছু কল্পনার আসরে সাজিয়েছিলাম,
আজ ভিজবো অনেকদিন পর,
মনের সমস্ত আবর্জনা ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে ভেবেছিলাম।
আকাশ গিরগিটির মত রঙ বদলায়,
ঠিক আমার সমস্ত স্বপ্ন ভেঙে দিয়ে গেল।
একরাশ উত্তেজনা কখন যে কালো পোড়া মন খারাপে বদলে গেল!
টের পাইনি।
প্রেম আমার হয়না, হয়না,
যতই ভাবি ভালবাসবো,
যতই ভাবি নিজের মত করে আদর করবো, যত্ন করবো, চুমু খাবো,
তার সব আনন্দ, কষ্ট, রাগ, অভিমান আমি নিয়ে নেবো,
যতই ভাবি সব বাধা ভুলে নতুন করে ভালোবাসাকে সাজাবো,
কিছুতেই হয়না জানো!
অভিশপ্ত লাগে নিজেকে বড্ড।
অভিশাপ আমাকে গ্রাস করে রেখেছে,
সেই কবে কে একজন আমায় বলেছিল, "তোর অনেক প্রেম আসবে,
কিন্তু তুই ভালবাসা পাবিনা, আমি অভিশাপ দিলাম তোকে।"
বারবার সেই অভিশাপে আমি তপ্ত হই,
বিলুপ্ত হতে হতেও আবার গড়ে উঠি নতুন করে ভালবাসবো ভেবে,
কিন্তু ভালবাসাটা আর হয়ে ওঠে না।
কোনোকিছুই তো আজ আর হয়ে ওঠে না,
শুধু নিজেকে বড্ড একা একা লাগে, ফাঁকা ফাঁকা লাগে,
অসহায় হয়ে উঠি মুহূর্তে মুহূর্তে,
জেগে ওঠার অবিরাম প্রয়াস চালিয়ে যাই,
নিজের সমস্ত জোরকে ঐক্যবদ্ধ করে এগোনোর চেষ্টা করে যাই,
সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।
ব্যর্থ হয়ে যাই আমি আবারও!
ভেবেছিলাম তোমায় কথার প্রেম দেবো,
কথার খেলা খেলবো তোমার সাথে,
কিন্তু আজ আর সেই জোর নেই আমার যে
তোমাকে কথার খেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবো সমুদ্র গভীরে।
আমার সব ভালবাসাটুকু আমি দিয়ে ফেলেছি ভালোবাসাকে,
ভালোবাসা যতক্ষণ ছিল,
আমিও অবাধে সবাইকে ভালবাসতে পারতাম,
অবাধে প্রেম বিলোতে পারতাম,
এখন আমার আর কিছু অবশিষ্ট নেই যে তোমায় দিই ..
এরপরও যদি কবিতা চাও, ডুবতে চাও,
তোমায় স্নেহ ব্যতীত আর কিছুই দেওয়ার সামর্থ্য নেই আমার,
আমার নিরুপমা। 

Sunday, 3 September 2017

আর এই যে আমার উনিশ বসন্তের জান্নাত। জান্নাত নামটা মনে হয় প্রথম আমিই ডেকেছি তোমাকে। আমার তো তাইই মনে হয়েছে। নাহলে প্রথমবার ওভাবে বাচ্চাদের মত জিজ্ঞাসা করতে না "তুমি আমাকে জান্নাত বলো কেন? আমি প্রীতি। আমাকে প্রীতি ডাকবা।" আমি বলেছিলাম ওটা হচ্ছেনা। আমি জান্নাতই ডাকবো। আমাকে "নারীর নাড়ি" বইটা পড়ালে। বইটার মধ্যে একটা নারীর অদম্য জেদ খুঁজে পেলাম। মুগ্ধ হয়ে গেলাম সেই নারীর প্রতি। আরে এমন নারী কি শুধুই আর বইয়ের পাতায় সাজিয়ে রাখার বিষয়! এই নারী তো সমাজের সামনে দৃস্টান্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে! আমাকে রিভিউ লিখতে বললে তড়িঘড়ি। সময়ও দিলেনা তেমন। কোনোরকমে একদিনেই বইটা পড়ে রিভিউ লিখে দিলাম। সেই রিভিউয়ের যে কি হাল হল, কিছুই বুঝলাম না। ভেবেছিলাম পরে জিজ্ঞাসা করবো তোমাকে, কিন্তু সঙ্কোচ হল। তোমার সাথে মাঝেমাঝেই মারামারি বেধে যায়, কথার মারামারি। ভীষণ বুদ্ধি তোমার মস্তিষ্কে, তেমনই একটা অসহ্য অহং বোধ কাজ করে তোমার মধ্যে। কমেন্ট ডিলিট করে দাও পছন্দ না হলেই। আর কমেন্টেটরকে নিজের স্বপক্ষে যুক্তিটুকুও তুলে ধরতে দিতে চাও না। এইজন্য আমি চরম বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। বিরক্ত হলেও ভালোও তো বাসি। তাই ওই ভালবাসাটাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। ভীষণ মিস্টি তুমি। চাপড় চোপড় করে বাচ্চাদের মত কথা বলতে পারো। ওই কথাতেই তো সব রাগ ভুল হয়ে যায়। আসন্ন প্রেমিকগুলোর কপালে অনেক কষ্ট আছে এমন প্রেমিকার সাথে প্রেম করার জন্য। সর্বোপরি পৃথিবী তোমার সাথে আমার সম্পর্ক নিয়ে হয়ত ভুল বুঝে আছে, কিন্তু আমি আর তুমি যে ভুল বুঝিনি এটাই অনেক। প্রেমের প্রেম আর বন্ধুত্বের প্রেমে পার্থক্য আছে এটুকুই মানুষ বুঝতে চায়না। সেদিনের কবিতাটা যখন লিখে আমাকে দেখালে, আমি বলেছিলাম "আন্তর্জাতিক মানের।" যতই উপন্যাস লেখো না কেন, কবিতাটা লিখবে। অন্তত ৫৫-৬০ খানা কবিতা লিখে আমাকে দেবে, ওগুলো নিয়ে আমার কাজ আছে। তোমাকে আরেকটা কথা বলে দিচ্ছি যেটা আমি আর কাওকে বলবো না, "আনন্দ পুরস্কারটা তোমার কাছে ঠিক পৌঁছবে।" আবারও কি বলতে হবে শুভ জন্মদিন! না বললেই কি নয়! অনেক লিখে ফেলেছি তো মনে হচ্ছে! আচ্ছা আচ্ছা আচ্ছা, কিছু অন্তত এখানে লিখি। অনেক আনন্দ করো সমস্ত দিনগুলোতে। মানুষের মনে জায়গা করে নিও। মানুষকে নিজের মত করে যেমন ইচ্ছা সেভাবে ভালবেসো।  টাটা। 
নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা বন্ধ হোক।


কিছুদিন ধরে আমার প্রেমের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। কোনো কারণবশত হয়ত মানুষটা আমার কাছে শান্তি পাচ্ছে না। হতে পারে আমার ওপর চরম অভিমান হয়ে আছে তার, হতে পারে আমাকে হয়ত তার বিরক্ত লাগছে, হতে পারে আমি একঘেয়ে হয়ে গেছি তার কাছে। আবার এটাও হতে পারে যে শুধুমাত্র অভিমানবশতই আমার মনের কাছ থেকে অনেকটা দূরে সরে গেছে সে। অভিমান কার না হয়! আমি পুরুষ, আমার অভিমান হতে পারে, আমার একঘেয়েমি চলে আসতে পারে, আমার বিরক্ত লাগতে পারে, আর সে নারী বলে তার অভিমান করা, একঘেয়েমি চলে আসা, বিরক্তি প্রকাশ করা ঠিক নয় এমন মানতে আমি নারাজ। আমার যদি না বলার অধিকার থাকে, আমার যদি অভিমান করার বা বিরক্তি প্রকাশ করার অধিকার থাকে, তবে তারও সেই অধিকার আছে। কারোর ওপর জোর করা আমার খুব একটা পছন্দ নয়। কেউ যদি মন থেকে আমার কাছে আসে, ভালবাসতে চায়, আমি তাকে নিজের মত করে ভালবাসবো, কেউ যদি ভালবাসতে না চায়, আমি তাকে কোনোভাবে জোর করতে পারিনা। এটা ঠিক, আমি মানুষটাকে ভালবাসি, সে দশদিন ভালবাসছে না বলে গোটা এক বছরের তার ভালবাসা আমার কাছে মিথ্যে হয়ে যাবে না। তেমনই আমি তার কাছথেকে জোর করে ভালবাসা আদায় করারও চেষ্টা করবো না কখনো। সে একজন স্বাধীন মানুষ, আমি একজন স্বাধীন মানুষ, আমার নিজের ইচ্ছা প্রকাশের যেমন পূর্ণ অধিকার আছে, তেমনই তারও ইচ্ছা প্রকাশের পূর্ণ অধিকার আছে। আমি তার এই স্বাধীনতাকে সমর্থন করি। সে ছবি আঁকে, সে ছবি তোলে, রাতের অন্ধকারে তিনটে বা চারটের সময় তার একা একাই বাইরে বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি করা উচিৎ নয়, আমিও তো আমার কাজে অনেকসময় বাইরে বেরোই, তাহলে সে নিজের কাজে বাইরে গেলে সেখানে আমার হস্তক্ষেপ করা সাজেনা। আর আমি যদি রাতের অন্ধকারে যেকোনো সময় বাইরে নাও বের হই, তবু তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করা আমার কখনো সাজেনা। এরপরও হয়ত আমি নিষেধ করে ফেলেছি অনেক সময়েই, নিষেধ করার কারণও আছে। যেখানে আমি দেখছি একটা মানুষ দিনের পর দিন না ঘুমিয়ে, চোখের নিচে কালি জমিয়ে, ক্লান্ত হয়ে পড়ছে ও আবারও বাইরে বেরোতে চাইছে, তখন না চাইলেও আমাকে তার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাকে বাধা দিতে হয়েছে। ভালবাসার সম্পর্কে এটুকু জোর আমি খাটিয়েছি আমার আদর্শের বাইরে গিয়ে। এমনই তো হওয়া উচিৎ। নারী, পুরুষ প্রত্যেকেই নিজের নিজের স্বাধীনতাতে বাঁচবে, যা ভালো মনে হবে সেটাই করবে, যা ইচ্ছা সেটা পরবে, যা ইচ্ছা সেটা পড়বে এভাবেই তো মানুষ মানুষ হয়ে বাঁচতে পারবে। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষত্ব আমি কখনো চাইনি, পুরুষতন্ত্র ব্যাপারটাও ঠিক নয়। পুরুষতন্ত্র সমাজে পুরুষকে প্রভু বা মালিকের আসনে বসায়, লাটাইয়ের সুতো পুরুষের হাতে থাকে আর নারীকে দাস বানিয়ে রাখে, পুরুষ যেমন ইচ্ছা নারীর সুতো ছাড়ে আবার প্রয়োজনে সুতো টেনে ধরে নারীকে খাঁচায় ভরে। সবটাই শুধু পুরুষের ইচ্ছাতেই সম্পন্ন হয়, নারী সেখানে একটা পরাধীন বস্তু বা দাস ছাড়া আর কিছু নয়। গত পরশু আমার এক প্রাক্তন প্রেমিকা আমাকে ফোন করে অনেককিছু বোঝানোর চেষ্টা করে যে, আমার বর্তমান প্রেমিকার ওপর অধিকার বজায় রাখা উচিৎ, তার ওপর আমার জোর করা উচিৎ, এতটাও উদাসীন হওয়া আমার ঠিক হচ্ছে না। আমি উদাসীন নই আমার প্রেমের সম্পর্কের প্রতি। শুধু আমি মানুষটার ওপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চাইনা। মানুষটা আমাকে হাজার রকমভাবে ভুল বুঝেই হয়ত আমার থেকে দূরে সরে আছে, কিন্তু আমি কখনো তার ওপর জোর করে আরেকটা ভুল করতে পারিনা। এটাই তো মনুষ্যত্বের ধর্ম হওয়া উচিৎ। সে আমার মতই একজন মানুষ, সে নারী আর আমি পুরুষ বলে সে কখনোই আমার দাস নয়। সে আমার ব্যবহারের বস্তু নয়। আমি যেমন নিজে ভাবি যে আমি নারীর স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবো না, তেমনই চাই যে নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হওয়া বন্ধ হোক। সবাই নিজের মত করে, নিজের অধিকারে মানুষ হয়েই বাঁচুক, চলুক, ফিরুক। সেখানেই মানুষের ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা পাবে। সেখানেই সমাজ হয়ে উঠবে সুস্থ, সুন্দর।


- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 1 September 2017

কথা ছিল, আর নেই। 


কথাগুলো হারিয়ে গেছে,
স্মৃতিগুলোও আর নেই,
আজ তুমি অনেক দূরে, 
আমার ভাষা নেই, যেন আমি নেই। 
ওই যে ছাতিমতলার নিচে হয়েছিল প্রেমখানি,
ওই যে আকাশ জেনেছিল, বাতাস জেনেছিল,
ওই যে ক্যাথেড্রালের নিঃশব্দ ঘরটা সাক্ষী থেকেছিল,
ভিক্টোরিয়া জানিয়েছিল অভিনন্দন, 
ওই যে প্রিন্সেপ ঘাটের রেস্তোরাঁ দেখেছিল এক নতুন প্রেমের শুরু, 
চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে একটা গোলাপ দিয়েছিলে পাগলির মত,
আজ আর তুমি সেই পাগলি নেই,
আজ আর তুমি গোলাপ দাওনা,
আজ তুমি কাঁটা বিঁধিয়ে রক্তাক্ত করেছ আমার মন, 
প্রাণহীন করে দিয়েছ আমার আশা, স্বপ্নগুলো। 
জ্বর গায়ে আমি যখন ছুটে যেতাম তোমার কাছে,
ভাবতাম তুমি হাতে হাত রেখে আমাকে ধরে হাঁটবে,
হেঁটেছিলে তুমি পার্কস্ট্রিটের রাস্তা ধরে আমার সাথে,
শুধু চেপে ধরো নি আমাকে। 
কত স্বপ্ন নিয়ে সেদিন গেছিলাম তোমার সাথে রঙে রঙে সাজবো ভেবে,
মোটরসাইকেলের সাইলেন্সারে পা পুড়িয়েও ব্যথা বুঝতে পারিনি স্বপ্নের ঘোরে,
ভেবেছিলাম তোমাকে বাইকের পিছনে বসিয়ে পাড়ি দেবো রবি ঠাকুরের বাড়ির রাস্তায়।
স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন হয়েই থেকে গেছিল,
তুমি এসেছিলে অগ্নিমূর্তি হয়ে একরাশ রাগ নিয়ে,
আমি তোমার সাথে আর রঙে রঙে খেলতে পারিনি,
পারিনি সেদিন তোমার মন ছুঁয়ে যেতে। 
কথা ছিল একে অপরের পাশে থাকবো সবসময়,
কথা ছিল দুজন দুজনকে ভালবাসবো সমস্ত বাধাতেও,
কথা ছিল মনের গুমোটকে মেলে ধরবো দুজনে,
কথাগুলো মিথ্যে ছিল না, শুধু কথা হয়েই থেকে গেল,
হারিয়ে গেল অলকানন্দের গভীর অরণ্যে। 

 - সৌম্যজিৎ (ভালোবাসার শরত।)

Monday, 28 August 2017

আমি জানি ধোঁয়ার শেষে একটা নীল নদী আছে,
আমি জানি আকাশ পাড়ে একটা দূরের পৃথিবী আছে,
আমি জানি দিগন্তে মেলে ওরা পরস্পরে,
আমি জানি আমাকেও পার হতে হবে মহাশূন্য পথে ..

- সৌম্যজিৎ।