Sunday, 30 April 2017

সাত বৈশাখ আগে, একসময় সম্পর্কের টানাপড়েনে অসহায় হয়ে উঠেছিলাম। এমন নয় যে একে অপরের প্রতি খারাপ লাগা শুরু হয়েছিল। বরং হয়েছিল উল্টোটা। প্রতিদিন একটু একটু করে ভালবাসা বেড়েই চলেছিল, আর তেমনই বেড়ে চলেছিল দুর্বলতা, একে অপরের প্রতি ভীষণ টান, একে অপরের প্রতি নির্ভরতা। এই এতো পরিমাণ বেড়ে যাওয়া দুর্বলতা, ভালবাসা, টান ও নির্ভরতার জন্য যে পরিমাণ দায়বদ্ধতা, ভরসার প্রয়োজন সেটা হয়ত আমি দিতে পারছিলাম না। দিতে পারছিলাম না কারন সেটা দেওয়ার মত বুদ্ধি ও পরিণতি তখনও আমার মধ্যে আসেনি। আর এই অপরিণত বুদ্ধির জন্য মেয়েটিকে অনেক বেশি অনিশ্চয়তাতে ভুগতে হত। অনিশ্চয়তাতে ভোগার কারণ তার বান্ধবীরা যারা প্রেম করত, প্রত্যেকের প্রেমিকই যথেষ্ট বড়, পরিণত মস্তিস্কের ও প্রতিষ্ঠিত। ক্রমেই মেয়েটির সবার কাছে আমাকে নিয়ে ছোট হতে শুরু হল। কটাক্ষের শিকার হল। সেই জেরে আমাদের মধ্যেও মানসিক অশান্তি শুরু হয়েছিল। মেয়েটি সবসময় আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমি কি করছি, কি করবো, কি পরবো, কি পড়বো সবের খোঁজ নিত ও সবকিছুর মধ্যেই ভুল ধরে ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা করত। আমি এসবের মধ্যে হাঁসফাঁস করতাম, কিছু বলতে পারতাম না। আবার ভালও লাগত যে ভালবাসার মানুষটা এতো খেয়াল রাখছে। অসহায়তা যখন চরম পর্যায়ে, মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সাত বৈশাখ আগের কথা। আমি মেয়েটির রুমমেটের সাথে প্ল্যান করে, ছয় ঘণ্টা জার্নি করে মেয়েটির কাছে যাই। মেয়েটি ভাবতে পারেনি যে আমি যাবো। ওর রুমমেট ওকে মন্দিরে প্রণাম করতে আসার নাম করে নিয়ে এসেছিল। মেয়েটি যখন মন্দিরে প্রণাম করছে, আমি পিছন থেকে মেয়েটির মাথায় হাত দিই। মেয়েটি আমাকে না দেখেও বুঝতে পারে আমি, এবং চোখ বন্ধ করেই উচ্চারণ করে "শান্ত।" তারপর পিছন ঘুরে আমার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে একবার আমার দিকে ও একবার ওর বন্ধুর দিকে তাকায়। হেসে ফেলে। ওই হাসিটা খুব ভালো লেগেছিল সেদিন। ওই হাসিটা কোনো টাকা পইসা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায়না। মেয়েটি আমার হাত ধরে ভাগীরথী নদীর পাশ দিয়ে হাঁটছিল। সেদিন ও সব কষ্ট ভুলে গেছিল। হঠাৎ প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হয়। আমি দৌঁড়ে একটা দোকানের ছাদের তলায় দাঁড়াতে গেলেও, ওকে দেখি বৃষ্টিতে ভিজঁছে আনন্দের হাসিতে। আমিও ছাদের তলা থেকে বেরিয়ে এসে ওর হাতটা চেপে ধরে বৃষ্টিতে ভিজতে শুরু করলাম একসাথে। অনেক অনেক অভিমান সেদিন ওই বৃষ্টির জলে ধুয়ে গেছিল। শুরু হয়েছিল এক নতুন ভালবাসা।
সব ফুরিয়ে যাওয়া হৃদয়ে যদি লাগে ফাঁকা ফাঁকা,
হাওয়ারা এসে দোলা দিয়ে যায়,
তুলিরা এঁকে যায় বাঁকা রেখা,
আমার কলম থমকে যায়, প্রাণে ওঠে সমুদ্র আওয়াজ,
সন্ধ্যাবেলার জলোচ্ছ্বাসেও দুচোখ ভরা জল নেমে আসে স্তব্ধতায়,
শুধু শুনি আমি,
শুধু শোনে আমার হৃদয়,
হারিয়ে যাওয়ার দায় আমারই।
সমুদ্র যদি দেয় ফিরিয়ে,
তবে আবারও সে দেয় আমার নিস্তব্ধ কান্না।
তবে যদি আমি হাসতাম
ওই প্রবল জলোচ্ছ্বাসের সাথে তালে তাল মিলিয়ে,
হয়ত ফিরে পেতাম এক মুখ হাসি!
সমুদ্র তো বলেছিল "আমার কাছে সঞ্চয় করো, আমি সবটা ফিরিয়ে দেবো।"

- সৌম্যজিৎ। 
আমার হারানো বেলা ফিরে আর আসেনা,
ভালবাসেনা, আর হাসেনা।
দিন যায় দিন আসে,
আমিও অপেক্ষায়,
কথা ভোলা যায়না,
কিছু ভুলে যাই না।

- সৌম্যজিৎ।


Monday, 24 April 2017

দোলাচল। অভ্যাস আবেগকে ধরে রাখতে জোর করে। মস্তিস্ক দিনে শতবার সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চায়। অভ্যাসকে জিততে দেখলেও আনন্দ হয়, মস্তিস্ক জিতলেও স্বাধীন হওয়ার তৃপ্তি পাওয়া যায়। 

Saturday, 22 April 2017

সমাজটা স্বাধীন নয়। তাই দেশগুলিও স্বাধীন নয়। যেখানে মানুষ নিজচিন্তাকে প্রাধান্য না দিয়ে, অন্য কোনো প্রভাবশালী দল, গোষ্ঠীকে বেশি প্রাধান্য দেয় এবং সেটাকেই স্বাধীনতা বলে বিশ্বাস করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, সেটাকে স্বাধীনতা বলেনা, বলে সম্মোহিত। আর যেখানে চিন্তার ও ব্যক্তির স্বাধীনতা নেই, সেখানে একে অপরের জন্য লড়াই বা প্রতিবাদটা না হয়ে বরং সেটা হয় শুধুমাত্র নিজগোষ্ঠী বা নিজধর্মের কমতিগুলোকে চোখের আড়াল করে সেটার বিরুদ্ধতার প্রতিবাদ করা, শুধুমাত্র নিজগোষ্ঠীকে বেশি প্রাধান্য দিতে ও সাময়িক কিছু সুবিধা ভোগ করতে। সর্বোচ্চ স্তরের সুবিধাভোগীদের তৈরী নিয়ম সেই প্রকার একটা ভাইরাস যা মানুষে মানুষে বাহিত হচ্ছে। মানুষ সংক্রমিত হচ্ছে ও সেই সংক্রমণে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে যেন সেই ভাইরাসই একমাত্র ধর্ম ও ধ্রুবসত্য। তবে সমাজের মানুষ একে অপরের জন্য ভেবে, একে অপরের জন্য লড়াই কেন করবে!
যদি একা করে দাও,
দূরে চলে যাবো,
অভিযোগহীন একরাশ প্রশ্ন নিয়েও দূরে থাকবো,
ফিরে পাবেনা সেদিন।
যদি ভালো না বাসো,
বেঁচে থাকবো তবু ভালবেসে,
কাছে এসে বলবো না ভালবাসি,
মনে মনে হাজারবার বলবো,
প্রাণ অস্থির করে বলবো,
আকাশকে বলবো, বাতাসকে বলবো, পাহাড়কে বলবো,
তবু তোমায় বলবো না কোনোদিন।

Friday, 21 April 2017

আমি এই অবকাশে প্রাণ ভরে শ্বাস নিতে চাই,
গায়ে মাখতে চাই প্রতিটি ইট, প্রতিটি পাথরের ভাঁজে থাকা স্নেহ, ভালবাসা,
আমার পৃথিবীতে যে দেবীকে আরাধ্য জেনেছি, মেনেছি,
তাঁরই শৈশবালয়েই  যেন আমি শেষ মুহূর্তে শেষ প্রশ্বাসটুকু নিতে পারি,
হাসতে হাসতে এ জীবনটাই তুলে দেবো অজানা কোনো দূতের হাতে।


- সৌম্য।
ইডেন থেকে ম্যাচ দেখে ফিরলাম। কলকাতা বনাম গুজরাট আইপিএল ম্যাচ। টিকিট জোগাড় করে দিয়েছিলেন জয়ন্ত দা। ক্রিকেট এসোসিয়েশন বোর্ডের আম্পায়ার। ওনাকে অনেক ধন্যবাদ। কি না হল ম্যাচ দেখতে গিয়ে!! অগণিত ভিড়, ধাক্কা সামলে ভিতরে ঢুকলাম। সিঙ্গারা, প্যাটিজ, করনেটো আইসক্রিম খেতে খেতে ম্যাচ দেখলাম। ম্যাচ তো ভীষণ উপভোগ করছিলামই সাথে কিছুক্ষণ বৃষ্টির জন্য ত্রিপল ঢাকা ইডেন দেখলাম। বিনোদনের ম্যাচ। আমি এতদিন বুঝতাম না, খেলার মধ্যে চিয়ারলিডার্সদের নাচ কেন থাকে! আজ আমি সত্যিই মুগ্ধ হলাম নাচ দেখে। উত্তেজনার মধ্যে নাচটাও কিন্তু ভীষণ সুন্দর। ষোলোকলা পূর্ণ হয়ে যেত কলকাতাকে জিততে দেখলে। হল না। সব পাওয়া তো একসাথে হয়না।

Wednesday, 19 April 2017





নারীর নাড়ি।
লেখক - জান্নাতুন নাঈম প্রীতি।



পাঠকের পরিদর্শন:

জান্নাতুন নাঈম প্রীতির লেখা নির্বাচিত কলাম সমগ্র নিয়ে "নারীর নাড়ি" একপ্রকার গোগ্রাসেই গিলে ফেললাম। সাবলীল ও সহজেই বোধগম্য ভাষা ও ঘটনাসমূহে লেখা এই বইটাতে একটামাত্র অস্বস্তি বলতে সূচিপত্র নেই। লেখক নিজের জীবনের সমস্যা ও প্রতিবাদের ভাষা খুব সুন্দরভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন যাতে পাঠক সেইসব সত্যকে নিজেদের জীবনে উপলব্ধি করতে পারে ও নিজেদের অভিজ্ঞতাকে স্মৃতিতে টাটকা ও তাজা করতে পারে, চিন্তা করতে পারে, চিন্তাশক্তির দরজা খুলে সামনে এগিয়ে যেতে পারে। এবং সেইসাথে যেসমস্ত তরুণ প্রজন্ম তাদের জীবনে যেকোনো ক্ষেত্রেই অত্যাচার, অসম্মান ও অসুবিধার সম্মুখীন হবে, সেখানে যেন হীনমন্যতায় না ভুগে সরাসরি প্রতিবাদের ভাষাকে অস্ত্র বানাতে পারে, সেইজন্য এই বইটা বিশেষ উপযোগী ও যোগ্য উদাহরণ।


লেখক একপ্রকার সামাজিক ব্যাধি, একপ্রকার ভাইরাস পাতায় পাতায় তুলে ধরে পাঠককে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন যে ভাইরাসের নিজস্ব কোনো কর্মক্ষমতা, বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার নেই, কিন্তু পরমাধ্যমে তা অনায়াসে দ্রুত গতিতে সংক্রমিত করতে পারে গোটা সমাজকে। সহজ কথায় এই ভাইরাস হল একটি তন্ত্র যা বিশেষ বিশেষ কার্যসিদ্ধিতে কতগুলো নিয়ম নিয়ে গঠিত এবং সেই তন্ত্রদ্বারা বেষ্টিত নিয়মগুলিতে সমাজ আজ এমনই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, যে সেগুলিই চিরন্তন সত্য। সেগুলিই ধর্ম। এবং সেগুলিই কর্মের মাধ্যমে রূপ দিয়ে যুগের পর যুগ বহন করাটাই একমাত্র মনুষ্যত্ব। অথচ এই ভাইরাস যে সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, মানবাধিকারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, মানবজাতিকে, সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ফেলছে তা মানুষের অবচেতন মস্তিষ্কে ঘুরপাক খেলেও, সেটাকেই নিয়ম মেনে প্রশ্রয় দেওয়াটাই সম্মানের ও টিকে থাকার একমাত্র উপায় ভেবে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে চা, জলখাবারের মত সহজভাবে। লেখকের চরিত্র এই চিরাচরিত ভাইরাসের বিরুদ্ধে কিন্তু মুখ বন্ধ করে থাকেনি, সহ্য করে নেয়নি অন্যায়কে। শিরদাঁড়া সোজা করে লড়াইটাকে রূপ দিয়েছিলেন সাহসের সাথে। একাকী। ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে। এমন চরিত্র গোটা সমাজের সামনে অগ্রগতির বাহক। লেখক বারেবারে বুঝিয়েছেন "নারী কোনো বস্তু নয়। পুরুষের সামনে নারী উপভোগ্য বিষয় নয়। নারী শুধু শরীর নয়। নারী মানে মানুষ। যেভাবে পুরুষ চালকের আসনে বসে সমাজকে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেভাবে নারীও পারে সমাজকে চালনা করতে। নারীরও মস্তিস্ক আছে এবং মানুষ হিসেবে পুরুষ যতটা মস্তিষ্ক-বুদ্ধির অধিকারী, নারীও ততটাই মস্তিষ্কে-বুদ্ধির অধিকারী। তাহলে নারী কেন পুরুষের প্রভুত্ব স্বীকার করবে!"

সম্মান, পরিচয়, সৌন্দর্য্য মানুষের আত্মমর্যাদায়, জ্ঞানে, চিন্তাতে, ব্যক্তিত্বে। "তুমি নারী, আমি পুরুষ তাই আমার সম্মান, পরিচয়, জ্ঞান তোমার থেকে বেশি" এমন চিন্তাই সেই মারাত্মক সংক্রমিত ভাইরাস যা সমাজ নিয়ম করে বহন করছে। লেখক জান্নাতুন নাঈম প্রীতি কিন্তু একজন নারী বলে অন্যায়কে মাথা পেতে এটাই নিয়ম ভেবে মেনে নেয়নি। কলমের ভাষাকে তুলে ধরেছে, লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে গেছে নিজেকে সম্মান করে। যখন সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা জমায়েত হয়ে “এক দফা এক দাবি, প্রীতি তুই কবে যাবি!” স্লোগান তুলেছে, তখনও সে সামনে দিয়ে একাকী হেঁটে গেছে প্রাণে একরাশ ভয় নিয়ে, কিন্তু থেমে যায়নি, হেরে যায়নি। আরও  শক্ত হাতে কলমকে তুলে ধরেছে। নিজের মর্যাদাকে ক্ষুন্ন হতে দেয়নি।


বইটাতে একটি বিশেষ জায়গা বিশেষভাবে আমার মন কেড়েছে। "একটা ছেলে জন্মের পর থেকে যদি দেখে তার বাবা উড়ে উড়ে অফিসে যাচ্ছে, সে সেটাকেই স্বাভাবিক মনে করবে। পরে যদি সে তার বাবাকে দুপায়ে হাঁটতে দেখে, সেটাই তার কাছে অস্বাভাবিক লাগবে।" এই সমাজে জন্মের পর থেকেই ছেলেদের শেখানো হয় যে তুই ছেলে, তোর পোশাক শার্ট, প্যান্ট, তুই বন্দুক নিয়ে খেলবি, তুই ছেলে তাই তোকে কাঁদতে নেই, মেয়েদের কাছে হারতে নেই। আর একটা মেয়েকে শেখানো হয় তুই মেয়ে, তোর পোশাক স্কার্ট, ফ্রক, শাড়ি, বোরখা, হিজাব। তুই পুতুল নিয়ে খেলবি। ঘরে থাকবি। পুরুষের দাসত্ব করবি। তোর শরীরটাই ইজ্জত, তাই সেটাকে রক্ষা করবি। ঢাকা থাকবি। এমনভাবে শেখানো হয় যাতে নারী মানেই শরীর। এরপর ছেলে, মেয়েরা তাদের বড়দের থেকে আস্তে আস্তে এমন শিক্ষায় অভ্যস্ত হয়ে যায়। এটাকেই সমাজের নিয়ম ভেবে চলতে শুরু করে ও পরবর্তীকালে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সেটাই চালিত করে। এভাবেই সমাজের ভাইরাস এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে বাহিত হচ্ছে সুরক্ষিতভাবেই। লেখক একটা ছোট ঘটনা তুলে ধরেছেন, ছোটকালে যখন সবে একটা পুরুষের প্রতি প্রেম প্রেম উত্তেজনার উপলব্ধি তৈরি হচ্ছে, একসাথে পুরুষটার সাথে বাড়ি ফেরার পথে আজানের শব্দে পুরুষটি লেখককে মাথা ঢাকতে বলে। লেখক উল্টে তাকে মাথায় টুপি পরতে বলে। ছেলেটি ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে উত্তর দেয় কাপড় শুধু মেয়েদের মাথাতেই দিতে হয়, পুরুষের নয়। তখনই লেখকের মন থেকে পুরুষটির প্রতি ভালোলাগা দূর হয়ে যায়। শিশুকালেই লেখকের মধ্যে নারী, পুরুষ বৈষম্য নিয়ে যে তোলপাড় শুরু হয়েছিল, যে প্রশ্ন উঠেছিল তা তার মননের অগ্রগতির পরিচয় বহন করে।


শুরুতে লেখকের ছাত্রজীবনে যে ভয়ঙ্কর অন্ধকার নেমে এসেছিল, একটা বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরে, সকলের সামনে লজ্জার হাটে মাথা বিক্রি না করে, বরং নিজচেষ্টায় ঘুরে দাঁড়ানো ও ব্যর্থতার দেওয়াল ছিন্ন করে সাফল্যের দরজা নিজে হাতে খোলার যে সাহস দেখিয়েছিলেন তা সমস্ত পাঠককূলকে নিঃসন্দেহে উজ্জীবিত করবে এবং একইসাথে প্রথাগত চলের বাইরে গিয়ে, টাকার সামনে নিজের স্বপ্নকে আপোষ না করার যে মানসিকতা তুলে ধরেছিলেন তা প্রশংসাযোগ্য।


শুধু মাত্র বুক, পেট, স্তন নিয়েই যে একটা নারী হয়না, শুধুমাত্র শরীর নিয়েই যে একটা নারী হয়না, নারীর নাড়ি যে স্পন্দিত হয়, নারীর নাড়ি যে এক প্রাণ, এক মানুষ, তা গতানুগতিক প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে সেইসব পুরুষতান্ত্রিক পুরুষকে সপাটে থাপ্পড় মেরে বোঝানোর মত করেই পাতায় পাতায় বুঝিয়ে দিয়েছে লেখক জান্নাতুন নাঈম প্রীতি। নারী দুর্বল নয়, নারী অবহেলার যোগ্য নয় এই বিশ্বাস যদি প্রতিটি নারী নিজেদের চিন্তায় তুলে ধরতে পারে, আত্মসম্মান বলতে সমস্ত অসুবিধাগুলো, অত্যাচারগুলো সহ্য করে পাশকাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়া এমন চিন্তার বাইরে বেরিয়ে বাস্তবিকভাবেই নিজেদের মর্যাদা নিজেরা রক্ষা করতে পারবে সেটাকেই আত্মসম্মান বলে তা এই বইটা খুব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। এবং লেখকের এই আত্মসম্মানবোধকে আমি সম্মান জানাই। এমন এক যোদ্ধা লেখকের লেখা পড়তে পেরে, এমন এক মানববাদী মানুষের চিন্তাকে আমার মননে চিন্তা করতে পেরে, এবং সমাজে এমন একজন চিন্তাধারী মানুষকে পেয়ে আমি বাস্তবিক অগ্রগতির পথে তীব্র আশাবাদী।


                                                                                                ধন্যবাদ।

                                                                                   সৌম্যজিৎ দত্ত। কলকাতা, ভারত।
                                                                                         

Tuesday, 18 April 2017

অবশ্যই! আদর, প্রেম, ভালবাসা ছাড়া জীবন বড্ড ফিকে। আর বিয়ে মানেই শর্তের পাহাড়ে চাপা পড়া। একদিক মনকে মনের যত জট, শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে। আরেকদিক মনকে শর্তাধীনে পিষে মারে। এতো চাপে পড়াশোনা কখনো শিক্ষা আর উপভোগ্য হতে পারে না।
যে মানুষটা পড়াশোনার গভীরে, বিজ্ঞানের গভীরে ডুবে যেতে চায়, বিয়ে - সংসার তার জন্য নয়। এই সামান্য কথাটা পরিবারের মানুষেরা বুঝতে চায় না। এতে মানসিক ক্ষতি হয় ভীষণভাবে।

Monday, 17 April 2017

শুধুমাত্র একজন মানববাদী হিসেবে ফেসবুক পেজে নিজেকে তুলে ধরার জন্য খুন হতে হল পাকিস্তানের মশাল খানকে। খুনের কারণ হিসেবে মুসলিম পড়ুয়ারা বিবৃতি দেয় যে মশাল খান ইসলাম ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধ ছিল না, তাই তাঁর বেঁচে থাকারও অধিকার ছিল না।

এই মশাল খান কিন্তু কোথাও নিজেকে আস্তিক বা ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দেয়নি, শুধুমাত্র নিজেকে মানববাদী হিসেবে তুলে ধরেছিল।

বাঁচতে গেলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করুন, ইসলামই আপনাদের রক্ষাকর্তা।

Sunday, 16 April 2017

তসলিমা নাসরিন, এক জ্বলন্ত আগুন।


লেখিকা তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে যা'কিছুই লিখি, বাস্তবের মানুষটার থেকে সেই লেখা অনেক কম হয়ে যায়। আমি নিজেই আমার লেখা থেকে তৃপ্ত হতে পারিনা। যে নিজেই জ্বলন্ত আগুন তাকে ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যায়। এক প্রাণখোলা মেয়ে, কৌতূহলী কিশোরী, এক প্রেমিকা, প্রকৃতি প্রেমিক, পুরাতন শৃঙ্খল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসতে চাওয়া এক মানুষ, লড়াকু, আপোষহীন, অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা এক মানুষ, দয়ালু, স্নেহশীল এসবই তাঁর চরিত্রের একেকটা বৈশিষ্ট। লেখার প্রতি এতটাই দায়বদ্ধ যে অকপটে সমস্ত কিছুই নির্দ্বিধায় লেখার মধ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন বারেবারে। আজকের সমাজে এতটা সত্যি গ্রহণ করার মত স্নায়ু ও মানবিকতা এখনো মানুষের চিন্তায় পোক্ত হয়নি। বরং মুখোশধারী সমাজমুখেদের তোপের মুখে লেখিকাকে বারেবারে পড়তে হয়েছে তাঁর এত অকপট সত্যের জন্য। লেখিকাকে বারেবারে লাঞ্চিত হতে হয়েছে, স্বভূমি থেকে নির্বাসিত হতে হয়েছে, কখনো আপনজনদের থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে বা কখনো আপনজনদের থেকে দূরে চলে গিয়ে একদম একা হয়ে যেতে হয়েছে। পুরুষতন্ত্র, সরকারতন্ত্র, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত কেউই বাদ থাকেনি লেখিকাকে হেনস্থা করতে। একজন মহিলা হয়ে এত সাহস পায় কিকরে যে অন্যায়ের ওপর, পুরুষতন্ত্রের ওপর চোখ রাঙাবে! একজন মহিলা হয়ে এত সাহস পায় কিকরে যে স্বনির্ভর হয়ে বাঁচতে চায়! একজন মহিলা হয়ে এতো সাহস পায় কিভাবে যে পুরুষতন্ত্রের ধ্বজা উড়িয়ে দেয়! পুরুষতন্ত্রের আড়ালে যে নারীর ওপর প্রভুত্ব করার চল, একজন মহিলা হয়ে কিভাবে সেই পুরুষতন্ত্রের দিকে আঙ্গুল তোলে, আঘাত হানে! পুরুষতন্ত্রের কাছে সে নষ্টা, ভ্রষ্টা, বেশ্যা উপাধি পেয়েও কিন্তু কখনোই ভয় পেয়ে তাঁর কলমাস্ত্র থামিয়ে দেননি। বরং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে যেমন ভীষ্ম একাকী দাঁড়িয়ে ঘুমহীন, আহারহীন লড়াই চালিয়েছিলেন, ঠিক তেমনই লেখিকা তসলিমা নাসরিন এই বিশাল পুরুষতান্ত্রিক রণক্ষেত্রে একাকী কলমাস্ত্র হাতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ক্লান্তিহীনভাবে। তসলিমা নাসরিন জীবনের এক শিক্ষার নাম, তসলিমা নাসরিন আদর্শের নাম, তসলিমা নাসরিন সত্যের পরিচয়ের নাম, তসলিমা নাসরিন কলম হাতে এক যোদ্ধার নাম যাকে থামাতে পৃথিবী জুড়ে মৌলবাদীরা চেষ্টা করে যাচ্ছে প্রায় তিনদশক ধরে। তসলিমা নাসরিনের রাজত্ব মানুষের মনে, মানুষের বিবেকে, আদর্শের পথে, ভালবাসাতে, প্রেমে। এই রাজত্বের বিস্তৃতি এতটাই হয়েছে যে আজ আর কোনো মৌলবাদী, কোনো ধর্মান্ধ ভক্ত, কোনো পুরুষতন্ত্র, কোনো সরকারতন্ত্র তাকে থামিয়ে দিতে পারবেনা। মানুষে মানুষে আজ তসলিমা নাসরিন জন্ম নিয়েছে, কত মানুষকে ওরা থামাবে!


- সৌম্যজিৎ।

Saturday, 15 April 2017

খুব বেশি পরিমানে আদরমাখা কথাগুলো তোমার কাছে বিরক্তির ও কষ্টের হলেও, ওটাই আমার কাছে প্রেম। আমি প্রেমিক তাই কথা পাল্টাতে পারবো না।

Friday, 14 April 2017

আমি প্রায়ই বিক্ষিপ্ত হই। পড়াশোনা করতে করতে, যখন একটা টপিক কিছুতেই বুঝতে পারিনা, মাথাটা ভীষণরকম চঞ্চল হয়ে ওঠে। জোরে শব্দ সহ্য করতে পারিনা, তাতে একাগ্রতা ভঙ্গ হয়। এই নিয়ে বেশি কিছু বলতেও পারিনা। এক জায়গাতে থাকতে গেলে সবাই সবটা বোঝেনা, বরং মূল বিষয়টুকু বাদ দিয়ে ওই যে "জোরে কথা বোলোনা, অসুবিধা হয়" এই কথা নিয়েই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও একাগ্রতা ফিরে পেতে তখন মেয়েমার কাছেই অবান্তর সব আবদার করে ফেলি, বুঝিনা মানুষটা তাতে বিরক্ত হয় কিনা। যদিও কখনো সে বিরক্তি প্রকাশ করেননি। আরেকটা কাজ আমি করি, চোখ বন্ধ করে থাকি কিছুক্ষণ। চিন্তা, ভাবনাকে স্থির করে দেওয়ার চেষ্টা করি কিছুক্ষণ। ছোটথেকে যতবারই এমন চেষ্টা করেছি, বারবারই দেখেছি এক বিশাল অন্তরীক্ষ, একটা লম্বা ও সরু সুড়ঙ্গ। আমি সুড়ঙ্গের মধ্যে দিয়ে দৌঁড়ে যাচ্ছি, সামনে একটা আলোক উৎস দেখতে পাচ্ছি, মনে হচ্ছে আরেকটু গেলেই ছুঁতে পারবো। কিন্তু যতই সামনে এগোচ্ছি, ততই মনে হচ্ছে ঠিক আগে যতটা দূরে ছিল সেই আলোক উৎস, এখনো ততটাই দূরে আছে। আমি শুধু সেটাকে লক্ষ্য করে দৌঁড়েই যাচ্ছি। ছুঁতে পারিনা। কিন্তু কিছুক্ষণ পর চোখ খুললে মাথা ফাঁকা লাগে, মন শান্ত লাগে। কিছুক্ষণ আবার পড়তে পারি। পড়াশোনা করতে গেলে মনে অশান্তি নিয়ে সেটা কখনো সম্ভব হয়না। একজন পড়ুয়ার মনে সবসময়ই শান্তি ও জানার ইচ্ছা থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন।

উৎসর্গ - আমার লেখিকাকে।

আমি তোমারই পায়ে সপেছি প্রাণ,
তোমারই প্রেমে চলেছি,
মুক্তির আশা, মুক্তির ভাষা
মুক্ত বাতাসে ভেসেছি।
তোমারই স্নেহে চেয়ে থাকি রোজ,
আমি তোমারই দিকে চেয়ে থাকি,
যুদ্ধের মাঝে জর্জরিত ভাঁজে
আমি তোমারই দিকে চেয়ে থাকি।
নতুন দিনে ফুটে ওঠা রোদে
তোমাকে দেখি আলো দেখাতে,
তুমিই চন্দ্র রাতের আকাশে
আমারই চোখে আলো দিতে।
তুমিই শক্তি, তুমিই সত্যি
তুমিই আমার ধরণী,
আমি তোমারই আলো গায়ে মাখি রোজ
তোমাতেই আমি বাঁচি।

- সৌম্যজিৎ।

Wednesday, 12 April 2017

বৃষ্টি ভেজা নুইঁয়ে পড়া জামাটাতে যখন লোকেরা থমথমে,
গা ম্যাচ ম্যাচ করে ওঠা বিকেলে যখন শহরের ভিড়ও থমথমে,
এক তুমিই চোখে উজ্বল দৃষ্টি নিয়ে কবিতাতে ভাসতে চাও,
গুনগুন করে সুর দিয়ে ওঠো কথা দিয়ে সাজানো লাইনগুলোতে,
তখন তোমার চোখে, সুরে, হাসিতে, এমনকি তোমার আলখাল্লা পরা পোশাকেও
আমি প্রেম খুঁজে পাই।
এ প্রেম না বলা হয়ে থাকবে মুখে মুখে,
লোক জানবেনা, জন জানবেনা,
শুধু চোখে চোখেই এ প্রেম জায়গা করে নেবে।
দুজনেই হারিয়ে যাবে,
দুজনেরই মনে বারবার বসন্তের মতো প্রেম আসবে,
শুধু এই প্রেমটুকু বেঁচে থাকবে অবচেতনের এক কুঠুরিতে।
চাপগুলো কালো মেঘের মতো গর্জন তুলে বুকের দেওয়াল প্রাচীর কাঁপিয়ে তোলে,
মনের মধ্যে হুহু করে ওঠে, গুড়গুড় করে ওঠে,
প্রাণ শুকিয়ে অস্তগামী সূর্যের মতো নিস্তেজ হয়ে যেতে চায়।
এ চাপ শুধু আমারই,
যতদূর বাঁচি, এ চাপ নিয়েই বাঁচবো, অথবা
পড়ন্ত বিকেলের সূর্যের মতো আমিও নিস্তেজ হতে হতে ঢলে পড়বো।

Monday, 10 April 2017

এক ফোঁটা ভালবাসা দিও
আমি আকণ্ঠ পানে তৃষ্ণা  মেটাবো,
একটুখানি অনুভূতি দিও তুমি
আমি স্বপ্নেও তোমায় নিয়ে ভাসবো,
একটুখানি স্নেহ দিও
আমি টালমাটাল সমুদ্রমাঝেও জীবন জয় করে আনবো,
হ্যাঁ আমি জিতবো সকল চুঁড়া, সকল গভীরতা,
অভেদ্য পাথরবুক,
তোমার একটুখানি ছোঁয়া পেতে
আমি খালি পায়েও কাঁচের টুকরোর ওপর হাঁটবো।
বুক ঝাঁজরা হয়ে যাক শত সহস্র গুলি বর্ষণে,
কাটারি বিঁধে যাক হৃদয়ের ঠিক মাঝখানে,
আমি তবু উঠে দাঁড়াবো যদি দেখি সামনে তুমি আছো দাঁড়িয়ে
একমুখ হাসি নিয়ে,
তীব্র যন্ত্রনা নিয়েও আমি অবিচল থাকবো
তোমারই স্নেহের ছোঁয়াতে।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 9 April 2017

তাহলে ঘটনাটা এই দাঁড়ালো, সারাদিন ধরে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আশা করে থাকলেন যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিয়ে দেবেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বাস্তবে যেটা করলেন, রাষ্ট্রপতিভবনে হাসিনা দিদির ডাকে সাড়া দিয়ে, সাথে করে বাঁকুড়ার বালুচরি শাড়ি নিয়ে গেলেন এবং বললেন, "তিস্তার জল যদি দিয়ে দিই, তবে শুখা মরসুমে পশ্চিমবঙ্গে চাষের জন্য আর জল থাকবেনা। বাংলাদেশের জল দরকার, তার জন্য আমি তোর্সার জল দেবো, উত্তরবঙ্গ থেকে আরো দুটো নদী বাংলাদেশে ঢুকেছে, সেগুলোর জল ভাগ করে দেবো।" আরেকটা লোভনীয় প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী হাসিনা দিদিকে দিয়েছেন, "বাংলাদেশকে ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেবো।" হাসিনা দিদির প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়াও জানা যায়নি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সংবাদ মাধ্যমে ঘোষণা করে দিয়েছেন। এখন তামাম জাতির প্রতিক্রিয়া জানতে বাকি আছে।

Saturday, 8 April 2017

অপূর্ণতা এত বেড়েছে যে এখন শুধু একটা, দুটো কথাতে আর মন শান্ত হয়না। এ দোষ তোমার নয়, এ দোষ মনের। মনটা বড্ড তুমিনির্ভর হয়ে গেছে।
নতুন বইটা হাতে পেলাম।  পিয়ারসন পাবলিকেশন এর "ডেটা স্ট্রাকচার্স এন্ড এলগরিদম।" ভি. অহো'র লেখা বেশকিছু এগরিদমের বই আগেই পড়েছি। সহজ, সরল ভাবে এলগোরিদম তুলে ধরা থাকে ওনার বইতে, আবার সেগুলো সুন্দরভাবে আলোচনাও করা থাকে। বেল ল্যাবেরটরি - নিউ জার্সি, একসময় যেখানে "সি"প্রোগ্রামিং এর ওপর অনেক কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছিল, সেখানেই কর্মরত ভি. অহো নিজের অভিজ্ঞতা খুব স্পষ্টভাবেই বইগুলোতে তুলে ধরেন। এই বইগুলো থেকে যে আমরা শুধু জানি বা শিখি এমন নয়, নতুন নতুন দিক সম্পর্কে আমাদের মনে আলোকপাত ঘটে, আমরাও নতুন নতুন চিন্তাভাবনাগুলোতে আগ্রহী হয়ে উঠি।

Friday, 7 April 2017

জাতীয় পুরস্কারের শুভেচ্ছা তোমায়। এটা অনেক বড় একটা আনন্দ, অনেক ভালোলাগার অনুভূতি। তুমি এখন সেই অনুভূতির সেরা পাওয়াটা উপলব্ধি করবে। কিন্তু তুমি এর থেকেও অনেক বড় পুরস্কার পেয়েছিলে সেদিন যেদিন তুমি বাংলার মানুষের ভালবাসা পেয়েছ।  আমরা গর্বিত।
তিনটেই দেখলাম।  তুমি শুধুমাত্র একটা প্রশ্ন তুলে ধরতে চেয়েছ। উদ্দেশ্যটা হাসিনার সাথে দেখা করা নয়, উদ্দেশ্যটা মানুষের মনে প্রশ্ন তুলে দেওয়া সেটা ওরা ঠিকভাবে বোঝাতে পারেনি। একটা খবর বানিয়ে দিয়েছে। আমি পরশু একটা পোস্ট করেছিলাম এই নিয়ে, আমিও ঠিক মানুষ মারফত প্রশ্নগুলো আলোচনার বিষয় করতে চেয়েছিলাম, মানুষকে ভাবানোর জন্য। -

"বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি আসছে। লেখিকা তসলিমা নাসরিন দিল্লিতে আছে। লেখিকা কি হাসিনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে? হাসিনা কি লেখিকার মুখোমুখি হতে চাইবে!

যদি হাসিনা লেখিকার সাথে দেখা না করে, তবে কোন অধিকারে লেখিকাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছেনা?
দুজনেরই জন্ম বাংলাদেশে। দুজনেরই অধিকার আছে নিজ দেশে বাস করার। তবে কেন একজন নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?

কোন অধিকারে হাসিনা লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়না?

নিশ্চয়ই হাসিনা ভারতে আসছে কিছু চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটে ভোটের প্রচারে তসলিমা ইস্যু তুলে লম্বা চওড়া বক্তৃতা দিয়েছিলেন, লেখিকাকে স্থায়ী বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যথারীতি ভোটের শেষে নিজের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছেন। এখন কি মোদী হাসিনার প্রস্তাবের বিনিময়ে মানবতার খাতিরে লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অনুমতিপত্র বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছথেকে মঞ্জুর করাতে পারবে?
উভয়দেশের প্রধানমন্ত্রীরা কি লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মৈত্রী স্থাপন করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারবে?
আমি তামাম ভারত ও বাংলাদেশবাসী যারা সত্যের প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাদের অনুরোধ ও আহ্বান করছি, অন্তত ফেসবুকেই তোমরা এই প্রশ্নগুলো করে সরকারের কাছথেকে উত্তর চাও। উত্তর আমাদের জাতীয়, মৌলিক ও মানবিক অধিকার।"
হায় মা!! এ কি খেলা দেখলাম!! কতবার গম্ভীর গম্ভীর বলে চেঁচিয়েছি! শুধুমাত্র মুখে গালাগালি দেওয়া আর কখনো আম্পায়ার বা ক্রিকেটার বা টিমমেটদের সাথে হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যাওয়ার জন্য ফর্মে থাকা গম্ভীরকে টিমের বাইরে থাকতে হয় বছরের পর বছর।  অথচ গত দশ বছরে ভারত যে দুটো বিশ্বকাপ জিতেছে, দুবারই ফাইনালে গম্ভীর সর্বোচ্চ স্কোরার। এরপরও গম্ভীর ভারতীয় টিমে নিষিদ্ধ। আজ গম্ভীরের কলকাতা রাইনার গুজরাটকে ১০ উইকেটে পুরো ছেঁচে দিলো। গম্ভীর ৪৮ বলে ৭৬ নট আউট, লিন ৪১ বলে ৯৩ নট আউট। প্রথম ম্যাচ ৩১ বল বাকি থাকতে কলকাতা জিতে গেলো।

Thursday, 6 April 2017

তসলিমাই আমাদের প্রেরণা।
 সৌম্যজিৎ। 


এক তসলিমা আদর্শ গড়েছে
আগুন তেজে জ্বলে,
এক তসলিমা থেকেছে দ্বিধাহীন
আপোষের ঘেরাটোপে।
ভাঙতে ভাঙতেও আদর্শের পথে আপোষহীন,
ডাক্তারির সরকারি চাকরিতে দিয়েছিলো ইস্তফা,
লেখকজীবনই চেয়েছিলো সে
হৃদয়ে হৃদয়ে পরিবর্তনের করাঘাত করতে।
আজ ওরা নষ্টা বলে,
আজ ওরা ভ্রষ্টা বলে,
সম্মোহনের নেশায় ওরা আজ বুঁদ হয়ে গেছে,
অন্ধ সত্য, মিথ্যা চিনতে।
তসলিমা সেই অগ্নিগঙ্গা,
তসলিমা আমাদের চেতনা,
সত্যের পথে সত্যকে চিনে নিতে
তসলিমাই আমাদের প্রেরণা। 



একদিন তুমি ফিরবেই -
মাথা উঁচিয়ে ফিরবে,
একদিন ওরা দুহাত জোর করে হবে ক্ষমাপ্রার্থী,
নত শিরে তোমায় আহ্বান জানাবে।
তুমি অপেক্ষা করো সেদিনের,
সেদিন বড় দূরে নয়,
আমি প্রহর গুনি হাতে গুনে
তোমারই ফেরার অপেক্ষায়।


- সৌম্যজিৎ।


দেখেছি তোর চোখ মায়া বনে,
সবুজে মিশে আছিস হাসিজুড়ে,
প্রেমকে চেয়েছিস মুঠো ভরে,
চাহুনিতে।

তোর মনে প্রেম
ঝিকিমিকি খেলে যায়,
স্বপ্নেরা রোজ
মেলে সত্তায়।

ওই যে দূরে ওই বাবুই, চড়ুই
ভালবাসা দিয়ে বানায় বাসা,
তুইও বুনিস জাল প্রেম দিয়ে
অন্তরে ..

যা উড়ে যা
সীমাহীন আকাশে,
বেঁচে নে জীবন
মহাকাশে  ..

- সৌম্যজিৎ। 




Wednesday, 5 April 2017

চাপাতির আঘাতে লেখক, ব্লগারদের কল্লা গেলে যে প্রধানমন্ত্রী ঠান্ডা মাথায় সেগুলো দুর্বৃত্তদের ঘটানো ছোট খাটো বিক্ষিপ্ত ঘটনা বলতে পারে, সে অবশ্যই বিশ্ব নেত্রী।  মুশকিল হলো দেশ একজন জাতীয় নেতা চায়, বিশ্বনেতা মানে ওই "সব জানতা ঘামছাওয়ালা" যে ঘরেরও কাজে আসেনা, বাইরের কাজেও আসেনা। শুধুই মাতব্বরি করে। আপনি মাননীয় হাসিনা বিবিকে এমনই কিছু একটা বলতে চাইলেন মনে হয় বিশ্ব নেত্রী বলে।  যাইহোক, গোঁড়া পুরুষতান্ত্রিক পুরুষের ঈমানদন্ডে আঘাত লাগলে আর পুরুষতান্ত্রিক আইনের (নারী বস্তু, নারী মাল, নারী পৌষ্য, নারী দাসী) যেমন শরিয়তি এর আদলে গড়া নপুংসক পুরুষ সমাজ তসলিমা নাসরিনকে নিচুমানের পচা মাল বলবে, এটাই চরম প্রত্যাশিত। 
বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি আসছে। লেখিকা তসলিমা নাসরিন দিল্লিতে আছে।  লেখিকা কি হাসিনার সাথে যোগাযোগ করতে পারে? হাসিনা কি লেখিকার মুখোমুখি হতে চাইবে!

যদি হাসিনা লেখিকার সাথে দেখা না করে, তবে কোন অধিকারে লেখিকাকে বাংলাদেশে ঢুকতে দিচ্ছেনা?
দুজনেরই জন্ম বাংলাদেশে। দুজনেরই অধিকার আছে নিজ দেশে বাস করার। তবে কেন একজন নিজের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে?

কোন অধিকারে হাসিনা লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়না?

নিশ্চয়ই হাসিনা ভারতে আসছে কিছু চুক্তির প্রস্তাব নিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটে ভোটের প্রচারে তসলিমা ইস্যু তুলে লম্বা চওড়া বক্তৃতা দিয়েছিলেন, লেখিকাকে স্থায়ী বসতি স্থাপনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।  যথারীতি ভোটের শেষে  নিজের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছেন। এখন কি মোদী হাসিনার প্রস্তাবের বিনিময়ে মানবতার খাতিরে লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর অনুমতিপত্র বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর কাছথেকে মঞ্জুর করাতে পারবে?

উভয়দেশের প্রধানমন্ত্রীরা কি লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মৈত্রী স্থাপন করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারবে?
তুমিই সত্য, তুমিই বাস্তব।

উৎসর্গ - লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।


তুমিই আমার দেশ, তুমিই আমার মাটি,
তুমিই আমার চেতনা জুড়ে চেতনার এক পৃথিবী,
তুমিই আমার সূর্যের আলো,
তুমিই অন্ধকারে আলো দেখানো চাঁদ,
দিনরাতের পথপ্রদর্শক তুমি,
তুমিই আদর্শের সম্ভার।
তুমিই আমার ভালবাসা, তুমিই আমার মমতা,
প্রেমও শিখেছি তোমার থেকে,
অবাধে ভালবাসতে।
তুমি আমার শিক্ষা,
তুমিই আমার বুদ্ধি,
তুমিই আমার চেতনা জুড়ে স্নেহের এক মূর্তি।
এই জীবন তোমারই জন্য,
যদি মরি তোমাতেই যেন মরি,
মৃত্যুতেও আমি বাঁচবো জীবন
তোমারই স্নেহের আঁচলে।


বিশ্বভরা প্রাণ তুমি,
বিশ্বজোড়া আলো,
তুমি জ্বলবেই হৃদয়ে হৃদয়ে
আদর্শের লেখা দিয়ে।


- সৌম্যজিৎ।
শত উত্তেজনার মধ্যেও, শত আনন্দ, শত কষ্ট, শত আবেগের মধ্যেও
আমি তোমার মন থেকে হারিয়ে যেতে চাইনা,
তোমাকে নিয়েই আমি থাকি সারাক্ষণ,
কোথাও একটু কোনোকিছু থেকেও যেন হারিয়ে না যাই।

Tuesday, 4 April 2017

মা, পাপার কাছে কখনো আবদার করিনি। একসময় পাপার মুখ থেকে মানুষ এমনও শুনেছে যে আমি মুখ ফুটে কখনো কিছু চাইনা। আবার এমনও অনেক সময় হয়েছে মা, পাপা ঘুরতে যাচ্ছে, আমাকে যেতে বলছে তবু আমি যাচ্ছিনা, একা একা নিজের মতো বসে আছি, পড়ছি, অঙ্ক করছি। আবার এমনও হয়েছে মেলাতে মা, পাপার সাথে গেছি বা কোনো দোকানে গেছি, নিজের থেকে যাইনা, আমাকে জোর করে নিয়ে যায়, আমাকে কিছু কিনে দিতে চাইলে, কিছু পছন্দ করতে বললে আমি না করে দিই। গতবছর জন্মদিনে ফোনটা উপহার দিল, তাও জোর করে। তবে হ্যাঁ, আমি আবদার করতে পছন্দ করি, ভীষণই পছন্দ করি। জিনিসপত্রের জন্য নয়, আমার লেখা খুব পছন্দ। মনে আছে, আমি যখন একবার ভীষণ খুশি হয়েছিলাম, আমি মেয়েমার কাছে আবদার করেছিলাম, আমার একটা লেখা শেয়ার করার জন্য। মেয়েমা শুধু শেয়ারই করেনি, সাথে ভালবাসা, শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। আমার খুব ভালো লেগেছিল। খুশিতে আমি আবদার করিনা, সেই প্রথমবার ও শেষবার করেছিলাম। কিন্তু আমি যখন খুব কষ্ট পাই, তখন আমি আবদার করে ফেলি কিছু মানুষের কাছে।  মেয়েমা, ভালোবাসা, জান্নাত এদের কাছে। আবার যখন খুশি থাকি তখন পুচকে ইতুটাকে আদরও করে দিই। আমার মধ্যে একটা বাচ্চা বাস করে যে প্রচন্ড ভালবাসা পেতে চায়। বুকটা খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগছে, টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে, তাই আজ আবদারের কোনো সীমা নেই।

Monday, 3 April 2017

মনে পড়ে সেই প্রথম প্রকাশ, তোমায় বলেছিলাম -
আমরা বন্ধু হব, তারপর প্রেম!
মনে পড়ে শরীর, মনের তীব্র কষ্টের কথা প্রথমেই বলেছিলাম অকপটে!
বলেছিলাম আমার প্রেম চাই, একজন ভালবাসার মানুষ চাই,
আমার শরীরটাও যে চাই।
ক্লান্ত হয়ে উঠছিলাম একটু শরীর ছুঁতে পাওয়ার অভাবে,
লুকোইনি সেদিন, তোমায় সবটা বলেছিলাম,
মনে পড়ে!
প্রথম দেখা, প্রথম ছোঁয়াতেই তোমার ঠোঁটে, মুখে, গালে, চুলে, গলায়, পিঠে
চুমুর বৃষ্টি এনে দিয়েছিলাম,
তুমি অবাক, হতবাক দৃষ্টিতে আমায় বলেছিলে -
"কত সাহস! আমাকে চুমু খেয়ে নিলে!"
আমি সাহস, ভীতু হিসেবে কষে তো তোমায় চুমু খাইনি,
তোমাকে সেদিন একদম নতুন, অপরিচিত মানুষ, প্রথম দেখছি
এমন কখনো মনে হয়নি,
যেন প্রথম দেখা থেকেই আমরা আমাদেরই ছিলাম!
এভাবেই আমাদের একটা প্রেম শুরু হয়েছিল সেদিন।
প্রেম আমি আগেও অনেক করেছি,
আগেও মন দিয়েছি, কিন্তু সেই মন দেওয়াটা আমি কখনো উপভোগ করতে পারিনি,
উপভোগ করেছিলাম সেই ছোটবেলার এক প্রেমে,
সেই প্রেমে আমি অবাধে মিলেছিলাম মানুষটার সাথে,
মানুষটাও এতটুকু কৃপণতা করেনি আমার সাথে মিশে যেতে কখনো,
একসাথে থাকা সময়গুলো ভালবাসা, ঝগড়া, মিল, অমিল সবেতেই ভরে ছিল।
তোমাকে সেসব বলতে আমার কখনো দ্বিধা হয়নি,
নির্দ্বিধায় তোমাকে জানিয়েছি সবটা।
তুমি তো আমি মানুষটাকে ভালবেসেছ,
আমার সবটাকে নিয়েই ভালবেসেছ,
আমিও তোমার ভালবাসা, তোমার বন্ধুত্বে শতভাগ সামিল থেকেছি।
আরেক প্রেমের অনুভূতি পেয়েছি আমি তোমার থেকে,
তোমাকে ছোঁয়াতে তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেছি,
তোমাকে ভালবাসাতে ভেসে গিয়েছি অতল সমুদ্র গভীরে,
আবার কখনো বাচ্চাদের মতো তোমায় খেলতে, দৌঁড়োতে, হাসতে, লাফাতে, নাচতে দেখে
আমি হারিয়ে গেছি গভীর অলকানন্দে।
আমি সেই প্রেমে ডুবেছিলাম,
আমি আজ এই প্রেমে ডুবে গেছি।
সেই প্রেমকে সেদিন হারিয়েছিলাম,
যন্ত্রনা, কষ্ট, হাহাকার, অস্থিরতা, আকুলতা, কান্না, মাটিতে মিশে যাওয়ার মতো অনুভুতিকেও
নিরবে পান করেছিলাম,
এই প্রেমকে আমি আঁকড়ে ধরে রাখবো,
ধরে রাখবো তোমাকে -
ভালোবেসে ..


-সৌম্যজিৎ (শরৎ।)

Sunday, 2 April 2017

আমার মধ্যে একটা বিজ্ঞানসত্তা বাস করে।
অনেককিছু লিখতে ইচ্ছা করে। অনেক পড়তে ইচ্ছা করে। অনেক অঙ্ক কষতে ইচ্ছা করে। অনেক ভালবাসতে ইচ্ছা করে। জীবনের সব চাওয়া পাওয়া হয়ে ওঠেনা। ভালবাসার ইচ্ছাগুলো বেশিরভাগই অপূর্ণ থেকে যায়। অনেক অনেক শূন্যস্থানে জমা হয় কষ্ট, অভিমান। আবার সেগুলোর ওপরে সময় প্রলেপ লাগিয়ে ভুলিয়ে দেয়। যাকিছু হারিয়ে যায়, সেই হারানোর যন্ত্রণাগুলো কখনোই খুশিতে রূপান্তরিত হয়না, হতে পারে না। তবে নতুন খুশিগুলো দিয়ে জীবনকে আবার একটু সাজিয়ে তোলা যায়। জীবন ভাঙছে, হয়ত একটু এলোমেলো লাগবে। আবার ঠিকও হয়ে যাবে। ভাঙনের শুরুতেই তো জীবন গড়ার জন্য  এমালগাম ভাঙনের ওপর প্রলেপ দিতে এসেগেছে।
চারিদিকে আস্তিক, উগ্র আস্তিক, নাস্তিক, উগ্র নাস্তিক, নারীবাদী, উগ্র নারীবাদী বইলা এতো চিল্লামিল্লি ক্যান! আমি মানুষ।

Saturday, 1 April 2017

আমার মা আমাকে প্রায় সময় একটা কথা বলে যে আমার মাথার যদি এক কেজি ওজন নেওয়ার ক্ষমতা থাকে, আমি পাঁচ কেজি ওজন তুলে দৌঁড়োতে চাই। কথাটা কতটা ঠিক তা আমি জানিনা। কখনো এভাবে আমি ভাবিওনি। এটা ঠিক, আমি অল্পেতে সন্তুষ্ট হতে পারিনি কখনো। মাঝারি মানের ছাত্র থেকে ছুটে গেছিলাম প্রথম সারিতে নাম লেখাতে। আর যখন প্রথম সারিতে নাম লেখালাম, তখন থেকে এক প্রকার ব্যর্থ চেষ্টা করে চলেছি একদম প্রথম হতে। মেধাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগোতে চেয়েছি সবসময়। চেষ্টা এখনো সফল হয়নি। বারবার ব্যর্থ হচ্ছি।  আর এই সফল না হতে পারাটা আমাকে কখনো শান্তিতে থাকতে দেয়না। সাফল্য আমার শেষ গন্তব্য নয়, সাফল্য আমার কাছে একটা সিঁড়ি। আর সেই সিঁড়িতে আমাকে উঠতেই হবে। শেষ গন্তব্য যেটা আমার একমাত্র লক্ষ্য সে আমার আদর্শের মানুষটা। যার কাছেই শুধু আমার সমস্ত শান্তি তুলে রাখা আছে। আমি মানসিক তৃপ্তি পাবো তাঁর কাছেই। আমার সেই লক্ষ্যপথ তৈরি করতে পারে শুধুই আমার পড়াশোনা। মনের মধ্যে সাহস, ধৈর্য আর ইচ্ছাটাকে ধরে রেখেছি সবসময়। স্বভাবে শান্ত হলেও যে আমার মন একেবারে শান্ত নয়, সেটা আমাকে সারাদিনে বারবার তাড়া করে নিয়ে বেড়ায়, কখনো শান্তিতে থাকতে দেয়না। আমাকে যে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতেই হবে। 
সার্থক সে প্রেম যে প্রেমে আগুন জ্বলে,
বারুদ শরীরেও বারুদ ছোঁয়ায় আগুন জ্বলে,
স্মৃতিতেও সেই আগুন তাড়া করে বেড়ায় হাজার হাজার বছর,
চোখে না দেখেও যদি মনের গভীরে এতো আগুন, তবে
সশরীরে প্রেম কেমন দাউ দাউ করে জ্বলে!


- সৌম্যজিৎ।