Sunday, 29 October 2017

পিছন ফিরে তাকাতে বড্ড ভয় লাগে,
যে অতীত আমি হারিয়ে এসেছি তা - 
যতই মধুর হোক না কেন,
হারানোর যন্ত্রণা আমায় অন্ধকার দেখায়। 
সামনে শুধু স্বপ্ন আর জীবন,
পিছনেই বরং মরীচিকা ছায়া আমি পার হয়ে এসেছি ..

বড্ড ভয়, বড্ড অন্ধকার,
বড্ড যন্ত্রণা চিন চিন করে সাড়া দিয়ে ওঠে পিছন থেকে .. 

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 28 October 2017

আজ তোমার দুয়ারে আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিলে বাংলা,
তুমি কি সত্যিই আমার নিজের! 
নাকি রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে টিকে থাকতেই আমাকে স্থান দিলে না।
তুমি আমাকে যতবারই প্রত্যাখ্যান করো না কেন, ততবারই আমি
হাজির হবো তোমার দুয়ারে,
হৃদয়ে বিপুল ভালবাসা যে মানুষটার জন্য ধরেছি তাকে
আমি তুলে ধরবোই। 

মৃত্যুকে ভয় নাই মোর,
জন্মেছি, মৃত্যুও হবে কখনো ..
ভয় হয় বড্ড নিজেকে যেন মাথা নত করে থমকে না যাই,
থমকাতে আমি আসিনি বাংলা ..  

- সৌম্যজিৎ। 

Monday, 23 October 2017


কিরণ তুমি কি ..

যদি বলি তোমাকে আমার ভীষণ প্রয়োজন,
যদি বলি আমার এই ভাঙাচোরা জীবন যখন টালমাটাল,
উন্মত্ত সমুদ্র জোয়ার আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দিকশূন্য কোনো প্রান্তরে,
আমি একটুখানি বাঁচার জন্য হাতড়ে বেড়াচ্ছি কোনো লাঠি বা অন্তত লতা, পাতা যা পাই
আঁকড়ে ধরবো বলে,
অথবা যদি বলি এক তোমাকেই আমার ভীষণ আর ভীষণতর প্রয়োজন,
আমি আবারও উঠে দাঁড়াতে চাই এক তোমাকেই আঁকড়ে ধরে
সমস্ত প্রতিকূলতাকে চুর চুর করে ভেঙে দিতে,
যদি বলি আমি মরে যাচ্ছি প্রেমের আগুনে জ্বলে,
পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি, একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছি, কালের গহ্বরে ডুবে যাচ্ছি,
তুমি কি সাথ দেবে আমায় আবারও একটুখানি বাঁচিয়ে তুলতে!
কেউ তো আমার ভালবাসার খোঁজ কখনো নেয়নি,
কেউ জানতে চায়নি কখনো আমার ভালবাসা কেমন আছে,
অদূর অতীতেও কেউ জানতে চায়নি যে আমি কেমন আছি ভালবাসাহীন হয়ে থেকে,
এক তোমাকেই শুধু মন খুলে আমার ভালবাসার খবরটুকু জানাতে ইচ্ছা করছে।
আমার মনের সমস্ত হাহাকার, চিৎকার করে বলে উঠতে চাওয়া ভালবাসার কথাটুকু শুধু -
তোমাকেই বলতে চায় সে,
তুমি শুনবে একটুখানি স্থির হয়ে আমার প্রাণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মনের কথাটুকু!

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 22 October 2017

আইপিসি ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা। নারী সুরক্ষিত নয়।

শারীরিক বল প্রয়োগে বা ভয় দেখিয়ে স্ত্রীর সম্মতি ব্যতীত যৌনসহবাসকে বৈবাহিক ধর্ষণ বলা হয়। বল প্রয়োগে স্ত্রীকে যৌন ইচ্ছা পূরণের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাই বৈবাহিক ধর্ষণ।


পরিসংখ্যান বলছে স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর শারীরিক ভাবে অত্যাচারিত হয়ে মৃতের সংখ্যা, প্রতি ছয় ঘন্টায় একটা করে ঘটনা উঠে আসে। ইউ.এন ফান্ডের দাবি ভারতে ১৫-৪৯ বছরের মধ্যে বিবাহিত মহিলাদের দুইয়ের তিন অংশ মহিলা এই জোর পূর্বক বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।


ইংল্যান্ডের চিফ জাস্টিস ম্যাথিউ হেল ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে  বলেছিলেন, "স্বামীরা তাদের বিবাহিত স্ত্রীর সাথে জোরপূর্বক যৌনসহবাস করলে কখনই সেটাকে অপরাধ বলা যায়না। কারণ তারা পরস্পর বৈবাহিক চুক্তির মধ্যে আবদ্ধ।"
এই উক্তির ভিত্তিতে নারীদের তাদের বিবাহিত জীবনে জোরপূর্বক ও অনিচ্ছাকৃত ভাবে যৌন সঙ্গমে বাধ্য করা হলে সেটা কখনোই ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। ১৯৭০ সালে আমেরিকাতে প্রথম নারীরা তাদের বিবাহিত জীবনে সমান অধিকারের পক্ষে ও বৈবাহিক ধর্ষণের বিরুদ্ধে তাদের আওয়াজ তোলে।



ভারতীয় আইনবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, স্বামীর তার স্ত্রীর সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা ও যদি না সেই স্ত্রীর বয়স ১৬ এর কম হয়, তবে সেটা ধর্ষণের আওতায় পড়েনা। সেকশন ৩৭৬ ধর্ষণের শাস্তি প্রদান করে। এই ধারা অনুযায়ী, ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিৎ অন্তত সাত বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড যদি না ধর্ষিতা তার স্ত্রী হয়। সেকশন ৩৭৬ অনুযায়ী যদি স্ত্রীর বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি হয়, তবে সেখানে বৈবাহিক ধর্ষণের কোনো ধারা প্রযোজ্য হবেনা।



এখন প্রশ্ন ৩৭৫ ও ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী মেয়েদের বয়স ১৬ হলেই ভারতীয় সংবিধান তাকে যৌন সম্পর্কের অনুমতি দেয়। তবে এই একই ধারা অনুযায়ী বিয়ের জন্য আঠারো বছর বয়সকে ধার্য কেন করা হয়েছে?



কিন্তু সংবিধানের দিকগুলো তুলে ধরলে দেখা যাবে বিবাহিত জীবনে নারীদের বিশেষ করে যাদের বয়স ১৬ বছর বা তার বেশি ও প্রাপ্তবয়স্ক নারী অর্থাৎ ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সের নারীদের বৈবাহিক ধর্ষণ থেকে সুরক্ষার নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই।



সংবিধানের ধারা সংশোধনের মাধ্যমে শুধু মাত্র বর্তমান পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা কিছু অংশে পূরণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা গেলেও তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচন করতে পারেনা। পরিবেশ ও সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সংবিধানের ধারাগুলিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়মের বাইরে নিয়ে গিয়ে মানবিকভাবে বিচার করলেই সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে। এখন যদি একজন ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সের কোনো বিবাহিত মহিলা বৈবাহিক ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সুরক্ষা দাবি করে, তবে ৩৭৫ ও ৩৭৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী ভারতের সংবিধান সেই নারীর অভিযোগ গ্রহণ করে তাকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারবেনা, তখন পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানের রাস্তা বার করে আনতে হয়। কিন্তু সংবিধান যদি পরিস্থিতি বিচার করে দুপক্ষের সমান তদন্ত করে সমাধানের রাস্তা বার করে তবে তা বেশি কার্যকরী হবে। মানবাধিকার কমিশনের এমন এক নারী সুরক্ষা আইন চালু করাটা অতি আবশ্যক। আমার সামনে আমি আজ অনেক মেয়েকেই দেখছি যারা তাদের বিবাহিত সম্পর্কে মানসিক ও শারীরিক ভাবে বিধ্বস্ত হয়ে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে অগ্রসর হচ্ছে। নারী সুরক্ষা আইন যদি সচেতন ভাবে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয় তবে নারীরা সমাজে ভরসা পাবে ও বাঁচার প্রেরণা পাবে।

- সৌম্যজিৎ দত্ত।
গভীর তৃষ্ণা এ বুকে,
ছুটে যেতে চায় অধরা কোনো প্রান্তরে, 
যা কেউ কখনো ছোঁইনি তাইই ছুঁতে চায় এ প্রাণ,
চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসে ছুটতে ছুটতে, তবু
এ ছোটার হয়না কোনো শেষ। 
বড় একা একা এ পথ চলা,
নিঃসঙ্গ বুক, একদম ফাঁকা,
কেউ নেই যে দিতে পারে সাথ।
লক্ষ্য এখনও অলক্ষ্যের ঘেরাটোপ হয়নি পার,
তবু এ প্রাণ দুর্নিবার,
শুধু ছুটে যেতে চায়। 
তুমি কি দেখছ হে আমার প্রাণপ্রতিম ঈশ্বর, 
তুমি কি আমার অলক্ষ্যে আমায় লক্ষ্য করছ! 
তুমি তো জানো অন্যায়ের বেড়াজাল ছিন্ন করে আমি বেরোতে চেয়েছি,
আমি চেয়েছি এক আদর্শের পথে ন্যায়কে রক্ষা করতে,
আমি চেয়েছি এক সত্যকে সবার বুকে অঙ্কুরিত করতে,
আমি চেয়েছি সকাল জেগে দেখা প্রথম সূর্যকে সবার মাঝে আহ্বান করতে। 
বড্ড একা হয়ে গেছি সবার মাঝে থেকেও,
হাঁপিয়ে উঠেছি, 
শরীর, মন, প্রাণ -
কাট ফাটা রোদ্দুরে শুকিয়ে প্রবল তৃষ্ণায় মরি মরি করছে,
এরপরও নিস্তার নেই।
প্রবল আশা আর অধরা সেই স্বপ্নকে ছুঁতে -
আমি ছুটেই চলেছি আজও।

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 21 October 2017

এক রাত জাগা আকাশ,
এক হঠাৎ ভেসে আসা বৃষ্টির আভাষ,
মুছে যাওয়া তারারা মেঘের আড়ালে -
চাদর বিছানো কোলে,
কোটি কোটি মেঘ জমে যখন বৃষ্টি নেমেছে অঝোরে,
একটি তারার-
মেঘের চাদর ভেদ করে উজ্বল হতে হতে
ইন্দ্রপতন হতে দেখছি আমার সমুখে।
আমার উদাস মন আবার জেগে ওঠে চঞ্চল বাতাসে থরথর কম্পনে,
থমকে যাওয়া আমি যখন চারিদিক ক্লান্ত মেঘ গুমোটে
ধিক ধিক করে চলছি আর নিঃশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন,
তখনই তুমি উজ্বলতা ধরেছ আমার চোখে,
সাথে ডেকে এনেছ মুঠোভরা শীতল বৃষ্টি'কে
আমার চেতনা ফিরিয়ে দিতে।

***** তোমার এই নতুন জন্মকে শুভেচ্ছা অধ্যাপিকা *****

- সৌম্যজিৎ। 

Thursday, 19 October 2017

my world, everyone of you can see it just a draw-well,
but my perspective defines it as the universe which crosses the limit of everyone's thought..
it is my world.
if there is life behind the darkness,
it is here,
it is here .. 


সবার ঘরে যখন দীপাবলির আলো জ্বলছে,
শাঁখ, ঘণ্টা, কাসর বাজছে,
বাজি পুড়ছে, ফানুশ উড়ছে,
আমার ঘরে তখন এলিডির সাদা আলো, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বই,
খাতা, কলম, এলগরিদম,
অবিন্যস্ত মন আর ফাঁকে ফাঁকে দু-চার লাইন কবিতা ..
এই তো আমি,
এই তো আমার জীবন প্রেমিকা ..

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 18 October 2017

চোখের সামনে দেখি দাবানলে জ্বলে সংসার,
ঠকছে হৃদয়, ঠকছে মন,
ভাঙছে আশা, ভালবাসা,
নারী তুমি অস্তিত্বহীন। 
স্বামী নামক হায়না তোমায় ছিঁড়ে খায় 
প্রতিদিন,
প্রতিবেলা। 

Monday, 16 October 2017

কাগজের পাতায় তুমি কলমের কালিকে উজ্বল করেছিলে একদিন,
মাতিয়ে রেখেছিলে অসংখ্য তরুণীর বুক,
মৃত্যু তোমার কাছে হেলাফেলা কোনো বস্তু,
প্রাণ নয়, তুমি মৃত্যুকে চেয়েছিলে জীবনের সাথে আপস না করেই।
যে অসংখ্য তরুণীর বুকে তুমি প্রেমের আগুন জ্বেলেছিলে একদিন,
তুমি কি পেরেছিলে সত্যিকারের সেই এক প্রেমিক হয়ে উঠতে কোনোদিন!
প্রেমের মুখোশের আড়ালে তুমি ধ্বংস করেছ প্রেমকে,
ভেঙে টুকরো টুকরো করেছিলে সকালের আলো, যে সকাল
তোমায় সঁপে ছিল নিজের সমস্ত ভালবাসা উজাড় করে।
তুমি ব্যর্থ রুদ্র,
তুমি ব্যর্থ প্রেমিক।
যে প্রেম তোমাকে মাথার মুকুট করে রাখতে চেয়েছিল,
সেই প্রেমকেই তুমি খানখান করেছিলে।
আজ তোমার জন্মদিনে তোমার প্রেমিকারা ঢল করে তোমায় শুভেচ্ছা জানাক,
আমি থাকবো সেই প্রেমিকার সাথে যা'কে
তুমি কখনো সকাল ডেকেছিলে ভালবাসার নামে।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 15 October 2017

হৃদয় কাঁপছে দুরুদুরু যেমন 
থরথর কাঁপে ঠোঁট,
এ কেমন আস্ফালন আজ প্রাণে,
ছুঁয়ে দেখতে চায় হৃদ মাঝারে ...


আকাশ মেঘে ঢেকে রেখেছে,
দূরত্ব শুধু এক মেঘ পর্দা,
তোমার আমার মাঝে দূরত্ব আজ শুধু অপেক্ষা .. 
কাছে এসে দেখো,
উষ্ণতাকে মেপে দেখো,
মেখে দেখো প্রতিটা স্পর্শ .. 

Thursday, 12 October 2017

কিরণ।
সৌম্যজিৎ।


তোমার চোখে মুক্তি দেখেছি,
হারিয়ে যেতে চেয়েছি অজানা কোনো দেশে,
সাতরঙা আকাশ যেখানে সকাল আনে,
মুক্ত বাতাসের ঘ্রাণ নিতে চেয়েছি তোমার সাথে -
সেখানে,
ফুলেরা যেখানে লাল, হলদে, সাদা তাজা রঙে জেগে ওঠে,
আমার রক্তকরবী তোমার সাথে মিশে বেড়ায় শিরা, ধমনী প্রবাহে,
মিশে যায় শ্বাস অবলীলায় তোমার নিঃশ্বাসে সেখানে।
ঘুম ভাঙা চোখে প্রথম কিরণ আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে চেয়েছি
তোমারই ললাটে,
বেঁচে থাকা আজ না বাঁচা হয়ে গেছে,
তোমাকে বলতে চেয়েও মাঝে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল উঠে দাঁড়িয়েছে বাধা দিয়ে,
গলা ফাটা চিৎকারেও আমার আওয়াজ পৌঁছয়নি তোমার কাছে।
যেখানেই থাকি-
জেনো আমার প্রেম চেয়ে থাকবে শুধু তোমারই দিকে,
দুচোখ ভরা স্বপ্ন জেগে থাকবে কখনো তোমায় ছুঁয়ে পেতে।


Sunday, 8 October 2017

মরুভূমির বালিয়াড়ি বিষাক্ত বিছেকে তুমি ধরে আছো ওই দুই চোখে,
তিল তিল করে বিষ চক্ষুদুটি দিয়ে দংশন করছ আমার চেতনা, হৃদয়।
শরীরের সমস্ত রক্ত জমাট বেঁধে গেছে,
শুকিয়ে ফ্যাকাসে নীল বর্ণ ধারন করছে গোটা শরীর,
আমি এখনও বেঁচে আছি, চেয়ে আছি একটিবার বলতে -
"ভালবাসি।"

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 7 October 2017

আজকাল প্রেমে প্রেমে বুকটা বড় হাহুতাশ করছে,
ধকধক কম্পনের শব্দ পাখার শো শো শব্দকেও ছাপিয়ে কানে ভাসছে,
চোখ, মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে।
শুধু একটিবার অন্তত মুখ ফুটে বলতে ইচ্ছা করছে ভালবাসি,
কিন্তু ভালবাসি শব্দটা এতটাই কঠিন হয়ে গেছে যে
মুখ ফুটে বলার মত শক্তি হারিয়ে ফেলেছি।
প্রেম ছাড়া, ভালবাসা ছাড়া বাঁচা বড়ই দুষ্কর,
জানি, যত বেশি ভালবাসবো, কষ্টটাও তত বেশি করে পাবো, তবু
ভালবাসাহীন বেঁচে থাকার যন্ত্রণার থেকে ভালবেসে কষ্ট পাওয়াটা অনেক বেশি শান্তির,
তৃপ্তির।
ভালবাসাহীন বেঁচে থাকা বড্ড আতঙ্কের!
দীর্ঘশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন। 
"প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। "

কিছু মানুষ আমাকে বলে আমি নারীবাদী। আমি নারীবাদী কিনা জানিনা, সেভাবে কখনো ভাবিনি। মানুষকে মানুষের মত দেখেছি, ভালবেসেছি। কখনো নারী - পুরুষ বিভাজনে যাইনি। কখনো ভাবিনি যে আমি একজন পুরুষ হয়ে চরম দুঃসাহসিক একটা কাজ করলাম আর একজন নারী সেটা কখনোই করতে পারবেনা, কারণ সে একজন নারী। নারী বলে তার দৈহিক ও মানসিক শক্তি কম এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমি যেমন দুঃসাহসিক একটা কাজ করার ক্ষমতা ও সাহস রাখি, একজন নারী বা সে নারী বা পুরুষ যেমানুষই হোক না কেন, ইচ্ছা করলেই একইরকম বা হয়ত আমার থেকেও অনেক বেশি সাহসের কাজ অনেক ভালভাবে করতে পারে। তাহলে নারী - পুরুষের মধ্যে বিভাজন করে কোনো লাভ নেই। উভয়েই সমান ক্ষমতার অধিকারী। এখন এটা পড়ে অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করতে পারে যে একজন পুরুষ যা করতে পারে, একজন নারী সেটা করতে পারবে কি? একজন পুরুষ ছাড়া একজন নারী কি কখনো সন্তানের মা হতে পারবে? তাদের একটা কথা বলি, সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য কিন্তু এখন একজন নারীর একজন পুরুষের প্রয়োজন হয়না। বিজ্ঞান এতটা এগিয়ে গেছে যে বৈজ্ঞানিকভাবে শুক্রাণু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নারী ইচ্ছা করলেই সন্তান জন্ম দিতে পারে। তাছাড়া সন্তান জন্ম দেবে তার শরীর, তার জরায়ু। তাই সে ঠিক করবে কি উপায়ে সে সন্তান জন্ম দেবে। এখানে পুরুষের প্রয়োজনীয়তাটাও ঠিক করবে একজন নারী। একজন নারী যদি শারীরিক সম্পর্ক করতে না চায়, একজন পুরুষ সেখানে কখনো জোর করতে পারেনা শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে। তাই নারী যদি পুরুষকে শারীরিক সম্পর্কের জন্য অনুমতি না দেয়, একজন পুরুষ কখনোই কোনো নীতিতে সেই সম্পর্কে উপনীত হতে পারেনা। কারণ শরীরটা নারীর, সেই শরীরে অধিকার আছে শুধু আর শুধুমাত্র তারই।

ঠিক উলটোদিকে একজন পুরুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও একজন নারী জোর করে কোনো নীতিতেই শারীরিক সম্পর্ক গড়তে পারেনা। সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক যে পুরুষই এখানে প্রধান, কারণ পুরুষের পুরুষ লিঙ্গ আছে যা বংশকে আবাদ করবে নারী শরীরকে কর্ষণ করে, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যতই ভাবুক নারী শুধুমাত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার একটা মেশিন, এছাড়া তার মানুষ পরিচয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই, এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা বারেবারে ভুলে যায় যে সন্তান জন্ম দেবে কি দেবেনা সেটা ঠিক করার মালিক শুধুমাত্র একজন নারী। কারণ জরায়ুটার ওপর অধিকার শুধুমাত্র তারই। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এটা ভুলে যায় যে বিজ্ঞান নারীর সামনে সেই রাস্তা খুলে দিয়েছে যে রাস্তায় নারী কোনো পুরুষ ছাড়াই সন্তান জন্ম দিতে পারে। অতয়েব সেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। এগিয়ে গেছে বিজ্ঞান, এগিয়ে গেছে পুরুষতন্ত্র ব্যতীত বাকি সমাজের চিন্তা। এগিয়ে গেছে নারী।

অতয়েব যদি প্রেম, ভালবাসা, শারীরিক সম্পর্ক, মানসিক সম্পর্ক গড়তেই হয়, তবে নারীকে খেলনা বা বস্তু ভাবা বন্ধ করো পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। নারীও সমান মানুষ। তাকে মানুষ মানো বা না মানো তাতে নারীর কিছু যায় আসুক বা না আসুক, তোমাদের যায় আসবে। ভবিষ্যতে তোমাদের এই সমাজে টিকে থাকতে হলে নারীকে মানুষ ভেবেই, সমান অধিকারী ভেবেই টিকে থাকতে হবে।

এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ যেমন পুরুষের পুংলিঙ্গটার জন্য সমাজে নিজেদের মুখ্য করে তুলেছে, তেমন নারীরও উচিৎ নিজেদের জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ও সচেতন হওয়া। প্রতিটা নারী যদি জরায়ুর প্রতি অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, পুরুষতন্ত্র ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 6 October 2017

আজকাল তোমায় বড্ড লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি। আমি বুঝিনা এটা কি শুধুই মায়া নাকি আমি সত্যিই ভীষণ প্রেমে পড়েছি। প্রেম যদি সত্যিই ভীষণ হয়, আমি মুখ ফুটে একটাবারও কিছু বলবো না। প্রেম যদি সত্যিই ভীষণ হয়ে থাকে, সেই প্রেমে শুধু আমারই অধিকার, ভাগ বসাতে আমি দেবো না তোমাকে। আজকাল আমি বড্ড লুকিয়ে লুকিয়ে তোমায় দেখছি, খুব ভালো লাগে তোমাকে দেখতে। 

Wednesday, 4 October 2017



এই ছবিটাতে আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে লেখক হুমায়ুন আহমেদ তাঁর ভক্তদের অটোগ্রাফ দিচ্ছেন। পাশে একটু দূরে দাঁড়িয়ে লেখিকা তসলিমা নাসরিন, কালো রঙের একটা ব্যাগ হাতে অন্যদিকে তাকিয়ে আছেন এবং লেখক রোকসানা ইয়াসমিন একটা সাদা রঙের ব্যাগ হাতে লেখক হুমায়ুন আহমেদকে তাঁর ভক্তদের অটোগ্রাফ দিতে দেখছেন। এই ছবিটা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দেয় সেদিন একুশে ফেব্রুয়ারি বইমেলাতে তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিচ্ছেন না। আজ হুমায়ুন আহমেদ বেঁচে নেই। কিন্তু আজও বারেবারে এই অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে যে সেদিন লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিচ্ছিলেন মেলাতে।

কিছুদিন আগে এক চরম বাগবিতণ্ডা চলেছে এই ছবির মুহূর্তটা নিয়ে লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি ও ইত্তিলা রায় ইতুর মধ্যে। আমি বারেবারে জড়িয়ে পড়ি এসবের মধ্যে কারণ একেতে আমি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে আদর্শ মানি, সত্যিটা জানি এবং লেখিকা প্রীতি ও ইতু উভয়েরই বন্ধু। এই বাগবিতণ্ডার জেরে কখনো লেখিকা প্রীতির সাথে ইতুর সম্পর্ক ছিন্ন হয় আবার কখনো লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাথে প্রীতির সম্পর্ক ছিন্ন হয় ও প্রীতির মনে হয় লেখিকা তসলিমা নাসরিন অসহনশীল হয়ে উঠেছেন। জান্নাতুন নাঈম প্রীতি বারেবারে এই ছবির মুহূর্ত নিয়ে একটা ভুল মন্তব্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে যে সেদিন তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের অটোগ্রাফ নিতেই গেছিলেন এবং তসলিমা নাসরিন এই ব্যাপারটা অস্বীকার করছেন। সত্যিটা আমরা এই ছবিতে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি আদতে সেদিন কি হয়েছিল। লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতি আমার খুব ভালো বন্ধু, আমি ওকে ভীষণ স্নেহ করি। আমি ওকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করে গেছি যে সেদিন তসলিমা নাসরিন ও রোকসানা ইয়াসমিন হুমায়ুন আহমেদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন একটু দূরে দাঁড়িয়ে, কোথাও একটা যাবে বলে। ওনাদের মধ্যে অটোগ্রাফ আদান প্রদানের কোনো মুহূর্তই আসেনি। কিন্তু প্রীতি নিজের জায়গায় স্থির থাকে। আমি ওকে বলেছিলাম যে আমি একটা ছবি দেখেছিলাম, যে ছবিটা স্পষ্ট করে দেয় সেদিন আদতে কি ঘটেছিল। তারপর থেকে আমি তন্নতন্ন করে খুঁজে গেছি সমস্ত জায়গায় এই ছবিটা। আমার দায় আছে সত্যিটা তুলে ধরার। কারণ আমার বিশ্বাস লেখিকা তসলিমা নাসরিন কখনো কোনো মিথ্যের সাথে আপোষ করেন নি। আমি যদি এই ছবিটা প্রমাণ হিসেবে তুলে না ধরতে পারতাম, আমি নিজেই ছোট হয়ে যেতাম।

প্রীতির মনে হয়েছে যে লেখিকা তসলিমা নাসরিন ইদানীং অতি অসহনশীল হয়ে উঠেছেন। আমি প্রশ্ন করছি, একটা মানুষ তাঁর নিজের দেশ থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, আপনজনহারা হয়েছেন, বাংলার প্রতি প্রবল টানে যখন এই বাংলার রাজ্যে এসে থেকেছেন, তখন সেখান থেকেও নির্বাসিত হয়েছেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন বারেবারে, কখনো রাজস্থান, কখনো হায়দ্রাবাদ,  কখনো অউরঙ্গবাদে শুধু অপমানিতই হয়েছেন ইসলামি নেতাদের সৌজন্যে ও শাসক গোষ্ঠীর ইসলাম তোষণের প্রভাবে, এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরও সেই মানুষটা মানুষের মধ্যে শুধু ভালবাসাই বিলিয়ে দিয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, অসহায়দের হয়ে কলম তুলেছে বারেবারে। এরপরও কি বলা যায় যে লেখিকা তসলিমা নাসরিন অতি অসহনশীল হয়ে উঠেছেন? একজন মানুষ কতটা অমানবিক হলে তাকে অতি অসহনশীল বলা হয়? একজন মানুষ কতটা সহ্য করতে পারলে ও তারপরও কতটা নির্বিকার থাকতে পারলে তাকে সহনশীল বলা হয়? যখন লক্ষ লক্ষ সাদা টুপিওয়ালা মানুষ হাতে চাপাতি, লাঠি নিয়ে কোর্ট চত্বরে অপেক্ষা করছিল লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে পেলেই তাঁর শরীর কেটে ছিন্নভিন্ন করবে বলে, মাথায় মেরে মাথাটা মাটিতে ফেলে ফুটবল খেলবে বলে, সেসবের মাঝখান থেকেও তসলিমা নাসরিন কোর্ট চত্বরে হাজিরা দেয়, বেরিয়ে আসে। একজন মানুষের স্নায়ুতে কতটা জোর থাকলে সে এমন পরিস্থিতিকে চোখের সামনে দেখেও, তাঁর নামে অগুন্তি মানুষের গলা ফাটা চিৎকারের তিরস্কার শুনেও জ্ঞান না হারিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে! প্রবল ধ্বস্তাধস্তিতে যখন গায়ের শাড়ি, পায়ের চটি খুলে বেরিয়ে গেছে, তারপরও সেই লেখিকা শুধুমাত্র সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। যখন এয়ারপোর্ট চত্বরে খুনি পুলিশগুলো তাকে প্রায় হুমকির সুরে বলছে এতদিন লেখিকাকে কে বা কারা আশ্রয় দিয়েছে সেসব না বললে খুনি মৌলবাদদের হাতে ছেড়ে দেবে, তারপরও লেখিকা সেইসব আশ্রয় দাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের নাম বলে দেয়নি, দেশ থেকে বেরিয়ে আসার মুহূর্তেও নিজের কর্তব্যে স্থির থেকেছেন, সেই মানুষটা অতি অসহনশীল? তসলিমা নাসরিন নামক বিতর্কিত বিষয়টাকে তিরস্কার করলেই মৌলবাদের সমাজে মাথা উঁচিয়ে বেঁচে থাকা ভীষণ সহজ।

তসলিমা নাসরিন কখনো অসহনশীল নয়। তসলিমা নাসরিন মিথ্যেবাদী নয়। বরং মিথ্যে কথা বলেছেন তাঁরা যাদের মুখোশ তসলিমা নাসরিন খুলে দিয়েছেন তাঁর লেখা বইগুলোতে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন পুরুষ লেখক হাজার জন মেয়ের সাথে প্রেম করলেও, বিছানায় শুলেও বা পরকীয়া করলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনা, কারণ সে একজন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষ লেখক। কিন্তু একজন নারী লেখক যদি সেইসব সত্যগুলোকে একেরপর এক তাঁর লেখা বইগুলোতে তুলে ধরতে থাকে, তখন সেই লেখিকা হয় নষ্টা, দুশ্চরিত্রা, পতিতা। কারণ সমাজটা পুরুষতান্ত্রিক। এখানে পুরুষের কোটি গুনাও মাফ, নারী খোঁচা দিলেই সেই নারী হয় বলির পশু। আর যদি সেই নারী হন বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন, তাহলে কপালে জোটে নির্বাসন, নিষিদ্ধ অথবা মাথার দাম ঘোষণা। 

Tuesday, 3 October 2017

এত লেখক, লেখিকা থাকতে আমি কেন তসলিমা নাসরিনকে পড়ি?

১) তসলিমা নাসরিনের লেখা বাস্তব জীবন নিয়ে, বাস্তব চরিত্র নিয়ে। বাস্তব উদাহরণগুলো নিয়ে। 

২) স্পষ্টবাদী। আগে, পরে কি হয়েছে, কি হবে এসব চিন্তা না করেই যা সত্য, যা স্পষ্ট লেখিকা তাই বলেন, তাই লেখেন। 

৩) অকপট স্বীকারোক্তি। নিজের জীবনের ঠিক, ভুল সবকিছু অকপটে তুলে ধরার ক্ষমতা। অনেক লেখক, লেখিকাদের মতন লজ্জাকে লুকিয়ে রেখে উনি কখনো নিজের ভালো কিছুগুলোর ঢাক পিটিয়ে বেড়াননি। 

৪) নিজের রুদ্ধশ্বাস জীবনে পদে পদে মৃত্যুর তাড়া খেয়ে বেরিয়েও উনি নিজের সততা, আদর্শের সাথে কখনো সমঝোতা করেননি।

৫) দুমাসের অন্তর্ধান মুহূর্তেও উনি যে হিজাব, বোরখার বিরুদ্ধে বারবার কথা বলেছেন, সেইসব হিজাব - বোরখার সাহায্য নিয়ে লুকিয়ে পালাতে চাননি। আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ না হলে কেউ এতটাও মরিয়া হতে পারেনা শুধুমাত্র সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে।

৬) কোর্ট চত্বরে যাওয়ার মুহূর্তেও যখন তিনি ভাবছেন যে নিশ্চিত মৃত্যু মুখে এগোচ্ছেন, তখনও ভেবে চলেছেন "আজ হয়ত আমি প্রাণে মরবো। কিন্তু আমার মৃত্যু হাজারও তরুণের বুকে আদর্শ সঞ্চারিত করবে। একসময় সবাই প্রতিবাদমুখর হবে। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই।" কার পক্ষে এমন ভাবা সম্ভব? নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে কি একটা পুরুষও এতটা মরিয়া হতে পারত! 

৭) তসলিমা নাসরিনের শিরাতে, মজ্জাতে, রক্তে, মাংসে শুধুই প্রেম, ভালবাসা, উদারতা। এই প্রেম আমার মনে অমরত্ব পেয়েছে। 

৮) চরম ধৈর্য। মানসিক, শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হয়েছেন, এত বই নিসিদ্ধ হয়েছে, একটা গোটা দেশ ও একটা গোটা রাজ্য থেকে নির্বাসিত হয়েছেন, আরও অনেক রাজ্য থেকে অলিখিতভাবে নির্বাসিত হওয়ার পরও নিজের জায়গা থেকে, আদর্শ থেকে এক ইঞ্চি সরে দাঁড়াননি। অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। বরং আরও শক্ত হাতে কলম ধরেছেন।


৯) ডাক্তারির সুখের চাকরি আর কলম এই দুটো বিকল্প যখন তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হয়, উনি চাকরি ছেড়ে কলমকে তুলে নেন। কলমকে কখনো বিক্রি করে দেননি।


এমন এক জীবন্ত যোদ্ধা যিনি গত দুই যুগ ধরে রুদ্ধশ্বাস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, সমস্ত ইসলামিক দেশগুলির নিশানায় থেকেও কখনো আদর্শের পথ ছাড়তে রাজি নন, তাঁর লেখা না পড়ে আমি আর কার লেখা পড়বো? আমি মানুষ হতে চাই। আমি আদর্শের সাথে বাঁচতে চাই। তসলিমা নাসরিনই সেই রাস্তা যা আমাকে আদর্শের আলো দেখাবে। 

Monday, 2 October 2017


কুয়াশা।

সৌম্যজিৎ।

ভালবাসার শহরটাতে আজ বড্ড একা লাগে,
চেনা মানুষটাকে অচেনা হয়ে যেতে দেখেছি সামনেখানেই,
চেনা ভালবাসা, যার ওপর ভেবেছি আমার সবথেকে বড় অধিকার,
আমার পাশে আর কেউ না থাকুক, অন্তত সে আছে সবসময়,
যাকে কি চরম ভরসা করে আমি হেসেছি, খেলেছি, দাপিয়ে বেড়িয়েছি,
হঠাৎই আবিষ্কার করলাম সেই মানুষটার ওপর আমার কোনো অধিকারই নেই!
হঠাৎই নিজেকে সেই মানুষটার নজরে এক ঝটকায় প্রেমের বদলে শত্রুর চেহারা নিতে দেখলাম।
কোনো কারণ খুঁজে পাইনি,
বার কয়েক জিজ্ঞাসা করেছি। ব্যর্থ চেষ্টা।
নিজেকে বুঝিয়েছি, কখনো তো জোর করিনি,
নিজেরটুকু চাপিয়ে দিইনি,
আজই বা কেন তবে এত জিজ্ঞাসা!
প্রশ্ন যদি আসেই মনে,
সে তো আমারই মন, আমি ঠিক তাকে থামিয়ে দেবো।
নিজেকে বোঝাতে বোঝাতে বুঝলাম সময়ের সাথে শহরটাও যেন একইভাবে বয়ে চলেছে,
সময়ের সাথে আমার জীবনটাও একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে,
শুধু থমকে আছে আমার মনটুকু।
আজও সে মন খুঁজে বেড়াচ্ছে শহরের অলিতে গলিতে হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো,
এখনও স্মৃতি হাতড়ে ভাবছে সেই কবে মানুষটাকে শেষবার সে ছুঁয়েছে,
কবে তার মাথায় শেষবার হাত রেখেছে, কবে চুমু খেয়েছে শেষ, আর
শেষ কবে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরে শান্তির কয়েক সেকেন্ডকে সে -
কয়েক যুগের মত করে বেঁচেছে প্রাণভরে!

এই শহরটা আমার ভালবাসার আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে,
শেষ কবে যে আমি তোর নিঃশ্বাসের গন্ধ পেয়েছি, মনে করতে পারিনা।
তোর চুলে এক অদ্ভুত গন্ধ পেতাম, তোর হাতে এক অদ্ভুত গন্ধ আমাকে মোহিত করে রাখতো,
আজ সেসব বড্ড দূরের লাগে।

আমি হেঁটে চলেছি শহরের রাস্তাটা ধরে একা একা,
আশেপাশে দেখি আজ তেমনই ভালবাসার মানুষদের ধরে হিজড়ে মাসিরা আশীর্বাদ করছে।
ওই ভালবাসার মানুষগুলো কি পারবে সবসময় নিজেদের কাছাকাছি ধরে রাখতে!
নাকি আমিই ওদের ভবিষ্যৎ হয়ে পিছন ফিরে আমার অতীতটাকে দেখতে পাচ্ছি,
একইরকম পরিণামের জন্য!