Sunday, 31 January 2016

অভিমানী। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


কি করি গো করি মাগো,
কি করিগো করি??
কবিতা আমার অভিমানী, ওগো বড্ড অভিমানী। 
কোথায় কবে পালায় সে, লুকিয়ে দেখে মজা,
আমি মরি মাথা খুঁটে, পাইনা তবু দেখা। 
প্রেম গাড়িতে ভেসেছে মন, গা এলিয়ে ঘুরছি,
একটুখানি মাথা বুকে, গলায় জড়িয়ে নিশ্চিন্তে দুলছি। 
ওগো, তুমি বড্ড অভিমানী। 

তোমার শব্দ আমার কানে,
যেন বৃষ্টিদিনে আকাশ বুকে মেঘের কথা বলা। 
মেঘ চায় গোটা আকাশ বুকে একা ঘুরে বেড়াবে,
তবে চাঁদ, তারা, সূর্য কেন থাকবে?
আকাশ তো শুধুই তার। 
মেঘ ছাড়া আকাশ তার কষ্ট কোথায় লুকোবে?


তুমিই আমার কবিতা জানো??!!! আমি তো শুধুই লিখি,
নিজের মতন করে যা ইচ্ছা, তাই লিখি। 
প্রেম লিখি, অনুভুতি লিখি, কলমের খোঁচায় তোমায় আঁকি,
ফুটিয়ে তুলি। 
তোমার লম্বা চুলের মাঝে লুকিয়ে থেকে, অনুভব করে,
ভালবাসার নীল, কালো, লাল রং ঢেলে দিই। 
তুমি যে আমার সেই কল্পনা, সেই স্বপ্নে দেখা পরী। 
জানো? তুমি বড্ড অভিমানী। 

Friday, 29 January 2016


অসমাপ্ত লেখা।
সৌম্যজিত দত্ত।


মায়াপরীর শ্রেষ্ট সৃষ্টি, নাই কোনো তুলনা,
এক তুলিতে আঁকা গড়ন, আদলে আদরের ছোঁয়া। 
বারবার করে দেখে যাই, ক্লান্ত হয়েও ক্লান্তি আসেনা,
শুধু পড়ি ওই দুটো চোখের ভাষা, যেন তাকিয়ে আছে আমারি দিকে। 
তুমি বড্ড অভিমানী। ভয় হয় তোমাকে। 
এমন শক্ত, কাঠপোড়া মনটাকেও তুমি করেছো অসাড়। 
হারাতে পারবোনা আর। 

মন আজ বড্ড ভারী। লেখা আসছেনা, ভাষা আসছেনা,
শুধু দেখতেই ইচ্ছা করছে। 
নাইবা হোক কোনো কথা তবু, দেখতে তো পাচ্ছি,
শান্তি শুধু এইটুকু, তুমি আছো আমার মনেরই মধ্যে। 
এই প্রথম কোনো অসমাপ্ত লেখা যা, শেষ করতে চেয়েও-
শেষ হলনা। ভাষা ফুরিয়ে গেছে, জ্ঞানশূন্য আজ আমি,
দিগ্বিদিক অন্ধকার। অতৃপ্তির গ্রাস। 

Thursday, 28 January 2016

হাসি কান্না। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


মূল্যহীন চিন্তা, মূল্যহীন সব ভাবনা,
মূল্যহীন এই জীবন। 
অনুভুতিগুলো পুড়ে খাঁক হয়ে যাক,
চাই শুকনো খটখটে কাঠ। 

অগ্নিচিতাতে জ্বলুক সব,
পুড়ে যাক সব অনুভুতি,
চাইনা আমার ভালবাসা,
চাইনা কোনো উপলব্ধি। 

মিথ্যে সব কবিতাগুলো,
ব্যর্থ লাগে জীবন,
চিনচিন করে যন্ত্রণা বুকে,
আমি ধুঁক'ছি আজীবন। 

পড়াশোনা অনেক হয়েছে, চাইনা আর পড়তে,
কি লাভ পড়ে বইগুলো? হবেনা কিছু করতে। 


বনবাসে শান্তি অনেক, নাই হারানোর ভয়,
কিছু যদি পাওয়ার না থাকে, চাওয়াতে কি আসে যায়?

চাইনা সত্যিই সে ভালবাসা,
হবেনা বাসতে ভালো,
বারবার যদি করে দাও দূর,
কেন দেখবো স্বপ্ন আলো?
শুধু অন্ধকার। ঘুটঘুটে অন্ধকার!!
জীবনটাই পুরো কালো। 

মনের মানুষ।
সৌম্যজিৎ।


আমার একজন প্রেমিকা চাই,
আমার একজন মানুষ চাই, একজন ভালবাসার মানুষ।
আমার তাকে চাই যে স্নেহময়ী হবে, একটু দুষ্টু হবে, একটু মিষ্টি হবে,
একটু ঝিল্লি হবে, একটু পাগলি হবে, একটু অভিমানী হবে।
সবসময় জ্বালাবে আমাকে। কখনো মাথার চুলগুলো টেনে ধরবে, লুকোচুরি খেলবে,
আবার জড়িয়েও ধরবে গলাতে।
আমি যখন লিখবো, তখন গালে হাত দিয়ে আমার মুখে চেয়ে থাকবে,
আর ভাববে, "ওই লেখা আমার সতীন। দিই সব এলোমেলো করে।"
আমি যখন গবেষনার কাজে মত্ত থাকবো, তখন আমার ঘাড়ে-পিঠে উঠে তান্ডব করবে।
আমার সেই প্রেমিকা চাই।

আমার একজন প্রেমিকা চাই যে, কখনো গৃহবধুর চাকরি নয়,
শুধু সারাজীবন প্রেম করবে আমার সাথে।
আমার তো শুধু সেই প্রেমিকাটা চাই, যে শুধু -
আবদার, বায়না করবে আমার কাছে।

আমার একজন মানুষ চাই যে, গোটা সমাজকে আলোকিত করবে,
দৃষ্টান্ত হবে সমাজের সামনে। আদর্শ হবে।
গোটা সমাজকে সন্তানের মতো স্নেহ করবে।
আমার তো সেই প্রেমিক মানুষটা চাই।

আমি রান্না করে খাওয়াবো, নিজে হাতে করে খাওয়াবো,
আবার কখনো তার মুখ থেকে খাবার কেড়ে খেয়ে নেবো।
আমার তেমনি একজন প্রেমিকা চাই যে, শুধু প্রেমিকাই নয়,
এমন এক বন্ধু হবে যার বাচ্চামিতে কষ্ট ভুলে যাবো,
তাকে বুকে জড়িয়ে আমি কাঁদতেও পারবো, হাসতেও পারবো।

আমার একজন মনের মানুষ চাই,
তুমি হবে?



Wednesday, 27 January 2016

ভরসা দাও।
সৌম্যজিত দত্ত।


চিন্তার ভিতর চিন্তাগুলো খেলছে
লুকোচুরি,
কোথায় যাই, কি করি, সবেতেই
জারিজুরি।


নাগপাশে ঘিরছে বেলা, পিষতে চাইছে
প্রাণ,
এত বিতর্কের মধ্যে করছি
অগ্নিস্নান।


বিতর্ক আমার লেখা জুড়ে,
বিতর্ক আসছে আয়লা ঝড়ে ধেয়ে,
বিতর্ক আমার চরিত্রেও।
ঢেউগুলো ডুবিয়ে দিচ্ছে, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে,
নেই কোনো হাত বাঁচানোর।


লড়াকু আমি, লড়তে জানি, জিততেও পারি,
শুধু ভরসা চাই।
কেউ শুধু বলুক, "আমি আছি, থাকবো ভালোবেসে, তুমি লড়ো।"
আর একজন বলুক, "উঠে দাড়াও, লড়াই করো, হারিয়ে দাও ওদের।"
ব্যাস, এতটুকুই ভরসা চাই, মানুষ দুটোর থেকে।
পারবেনা কোনো শক্তি আমাই কখনো হারাতে। 


একবার তাকিয়ে দেখো, আমি কত একা!!
হাঁপিয়ে উঠছে প্রাণ।
ভাংছি আমি, কোনরকমে লড়ছি শুধু,
হচ্ছি খানখান। 

Tuesday, 26 January 2016

তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


রক্ত আমার তেঁতো কি মিষ্টি!! আমি বুঝিনি,
তুমি জানো তোমার রক্তের স্বাদ?
আমি হিন্দু, নিশ্চই আমার রক্ত ভালো কিছু,
হয়ত অনেক উপাদান বেশি বেশি আছে যা,
তোমার মুসলিম রক্তে নেই। 
তাইতো তুমি আমার কেউ নও। 


যদি রক্তচোসা হতাম, নিজের রক্তই একটু পান করে দেখতাম,
লাল পানীয় করে, গ্লাস ভর্তি করে পান করতাম,
কিছুটা তোমার রক্তও পান করতাম, 
আবার কিছুটা দুটো রক্ত মিশিয়ে পান করতাম। 
কে বলতে পারে হয়ত, ভিন্ন স্বাদ খুঁজে পেতাম,
হয়ত ভিন্ন গন্ধ খুঁজে পেতাম যা, আমাকে বুঝিয়ে দিত 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 
জানো, ভীষণ কৌতুহল হয়,
রক্তে হিন্দু-মুসলিম বুঝি কিকরে!! 
জানো, ভীষণ যন্ত্রণা হয় উত্তর না পেলে। শুধু অন্ধের মত মানতে হয় 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 


নিশ্চই প্রকৃতি তোমাকে আলাদা অক্সিজেন দেয়,
নিশ্চই প্রকৃতি আমাকে আলাদা অক্সিজেন দেয়,
হয়ত আমার নিঃশ্বাস থেকে বেরোনো কার্বন-ডাই-অক্সাইড 
তোমার মতো দূষিত নয়,
হয়ত তোমার নিঃশ্বাসে বিষ আছে। 
খুব ইচ্ছা হয়, তোমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে, তোমার নাকে নাক ঠেকিয়ে দেখি,
হয়ত দুটো নিঃশ্বাসে প্রমাণ মিলবে
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু।


চল আমরা ক্রোমোজম টেস্ট করে দেখি,
সেটা নিশ্চই প্রমাণ করে দেবে 
তুমি মুসলিম, আমি হিন্দু। 


Monday, 25 January 2016

আমি মানুষ জাত।
সৌম্যজিত দত্ত। 

হিন্দু না ওরা মুসলিম?
আছে কি ললাটে লিখন?
মোরা এক জাতি, এক রক্ত বর্ণ, নাই কোনো ব্যবধান। 
মোরা মানুষজন। 

গায়ে কেটে দেখ রক্ত লোহিত বর্ণ,
উপরে চামড়া ঢাকা,
বোঝনা তোমরা, শুধু মূর্খামি কর,
টেনে আনো ব্যবধান। 
মোরা মানুষজন।

আমাকে শাসাও, জাতির ঘেরাটোপে আটকাতে চাও,
করতে চাও ঘরবন্দি।
পারবে কি আমার চিন্তা মুছতে?
আমি চিন্তা স্বাধীন পাখি।

কেড়ে নিতে চাইছ আমার কলম, কেড়ে নিতে চাও পাতা,
পারবেনা তবু বন্ধ করতে আমার রুদ্ধশ্বাস লেখা।
দেওয়াল জুড়ে লিখে যাবো আমি, ফুটিয়ে তুলবো রক্ত,
তখন মিলিও ওই রক্তবর্ণ যা, মানুষ জাতের বর্ণ।
হারবোনা আমি, মেলে ধরবোই মানুষ জাতের কথা,
মানুষ ভিন্ন নাই কোনো জাতি, নাই কোনো ধর্মকথা।


...........................................................



Sunday, 24 January 2016


সাহসী যোদ্ধা। 
সৌম্যজিত দত্ত।
উত্সর্গ- আমার লেখিকা, তসলিমা নাসরিনকে।


যুদ্ধ করে চলো তুমি, যুদ্ধ করে বাঁচো,
একই লেখায় ভালো, খারাপ সবই ফুটিয়ে তোলো। 
অন্য লেখকরা লেখে শুধু সুন্দরকে সুন্দর করে,
তাদের লেখাই বিপ্লব কই যা,
তোমার লেখাই ভাসে?
তোমার লেখা আগুন ঝরায়,
কঠোর বাস্তব সে ভালো হোক বা খারাপ,
সবই উঠে আসে। 

বিতর্ক তো কঠোর সত্যের সমালোচনায়,
আঁতে ঘা লাগলে বিতর্ক হবেই,
বিতর্কিত বলে তো তা মিথ্যে হতে পারেনা। 
মানুষের মনস্তত্ব ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন রকম। 
একই মানুষের মধ্যে বিভিন্ন চরিত্র দেখা যায়। 
তুমি বলেছো, বাবা তোমার আদর্শ, 
আদর্শ কারণ মানুষের প্রতি তার বিচারে, ব্যবহারে, আলাপ পরিচয়তায়। 
আদর্শ কারণ তত্কালীন সমাজেও সমাজের উল্টো দিকে গিয়ে-
মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেননি, পড়াতে চেয়েছেন, স্বাবলম্বী করতে চেয়েছেন। 
আবার বাবা- মা'এর সম্পর্কের জেরে তুমি আদর্শে থেমে যাওনি। 
প্রতিবাদ করেছো মানুষ হিসেবে, প্রতিবাদ ফুটিয়েছো নিজের লেখাতে। 
বোকা তারা যারা, এই সত্যিটাকে বোঝেনা।
বোকা তারা। সত্যিকে স্বীকার করতে ওদের কষ্ট হয়। 
ভাষা বোঝার ক্ষমতা নেই ওদের, বাস্তব উপলব্ধি করার জ্ঞান নেই ওদের। 
ওরা সমালোচনা করতে চায়, সমালোচনা করে বড় হতে চায়। 
ওদের লড়াই দু-চারটে গালাগালিতে। 
ওরা তোমাকে বেশ্যা বলে, নষ্ট বলে। 


সত্যিতে যদি নষ্টামি থাকে, স্বাধীনতায় যদি বেশ্যামি থাকে,
তবে তা শিরোধার্য। 
আমি গর্বিত আমার লেখকের জন্য। 
নষ্ট তো আমরা সবাই। কার এতো বুকে জোর আছে নষ্টামি স্বীকার করতে পারে?

Saturday, 23 January 2016

একটা স্বপ্ন। 
সৌম্যজিত দত্ত। 



একটা স্বপ্ন, খুব ছোট থেকে আসে,
একটা স্বপ্ন, বারবার চোখে ভাসে।
একটা স্বপ্ন, সেই একটি মেয়ের,
যাকে আমি দেখিনি কখনো। 
একটা স্বপ্ন, আমাই হারিয়ে দিয়ে যায়। 

স্বপ্নটা আমাই পাগল করে দিচ্ছে, 
বারেবারে একই ছবি, সেই লম্বা টানা চুল,
সেই লম্বা তার গড়ন, মুখ অন্ধকারে ঢাকা। 
স্পর্শে আমি অনুভব করি, সে স্নেহময়ী,
মাথার চুলগুলো দিয়ে ঢেকে রেখেছে আমার মুখটা। 

স্বপ্নটা ভীষণ আপন লাগে, স্বপ্নে দেখা মেয়েটা যেন -
পাশে পাশে ঘোরে। 
জেগে থাকা সময়টা অবাস্তব, ঘুমের পরেই -
বাস্তব লাগে। আমি বাঁচি স্বপ্নটাতে। 
স্বপ্নটা বড্ড অস্থির করে মন,
দেখতে চাইনা তবু, বারবার দেখি,
স্বপ্নটা নিয়ে ভাবি সারাক্ষণ। 

একটা স্বপ্নে আমি নেশা খুঁজে পাই,
মেয়েটাকে দেখি, অনুভব করি,
মেয়েটা বেড়াতে ঠিক নয় আসলে,
ঘুরতে যেতে চায়। 
স্বপ্নে মেয়েটা ক্যামেরাবন্দী করে প্রকৃতি ও মানুষ,
আসলে সে পাহাড়, জঙ্গল, সমুদ্র, গ্রামে পাড়ি দিতে চায়। 
মানুষ নিয়ে সে বাঁচতে চায়, মানুষকে অনুভব করতে চায়। 
হাতে হাত রেখে ভরসা পেতে চায়। 

একটা স্বপ্ন, আমি অনুভব করি তোমাই। 
একটা স্বপ্ন, আমি বাস্তব দেখতে চাই। 

Wednesday, 20 January 2016

উফ: কি পাগলি রে তুই!!!
তোর এত বাচ্চামি, এত্তো অভিমান!!!
ভালোবাসি। 

কোনোকিছুতেই কিছু বুঝিসনা তুই,
খুব রাগ হয় আমার। তাও খুব ভালোবাসিরে। 
বারণ কর যতখুশি। 
ভালবাসি, ভালবাসি, ভালবাসি।

                                          ............... সৌম্যজিত দত্ত। 
অসহায় বিবর্ণ শরীরের হাড়গুলো,
মন ধুঁকছে যন্ত্রনায়। 
যন্ত্রণার কি তীব্রতা !! এতটাও টের পাইনি আগে। 
শুধু স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্নের পিছনে ছুটে গেছি।  কোথাও ধরা পাইনি। 
আজ যখন ধরেছি, হেলায় হারালাম সব।  
উফ: যন্ত্রণার কি তীব্রতা!! বুকের অস্থিগুলো বিচ্ছিন্ন করে দিল। 

সেই এক স্বপ্ন। কোন ছোটো থেকে ঘিরে রেখেছে। 
স্নেহময়ী রূপ, ভালবাসার অহংকার, মাথা ভর্তি চুল,
লম্বা গড়ন।  সব মিথ্যে।  
স্বপ্ন তো শুধু স্বপ্নই হয়। 
শুধু যন্ত্রণা গুলো বড্ড আসল!!



Monday, 18 January 2016


ছোটো বেলার স্মৃতিগুলো।
সৌম্যজিত দত্ত।

আমি খুব ছোটো বেলা থেকেই সব ব্যাপারে কৌতুহলী। ছোটো থেকেই নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছি বিজ্ঞানের ওপর। বিজ্ঞানের ওপর বলা ভুল হবে, নিজের শরীরের ওপর।  শুধু মাত্র মন ও মাথার প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। লোহা যে তরিতের সুপরিবাহী, এটা আমি পরীক্ষা করেছি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তে, তখন আমার বয়স সবে ৭। একটা লম্বা লোহার পেরেক প্লাগের মধ্যে ঢুকিয়ে, সুইচ অন করে চেপে ধরেছিলাম হাত দিয়ে। বুঝেছিলাম, প্রায় ৪-৫ সেকেন্ড আমার হাত চেপে ধরলো, আঙ্গুল গুলো কেঁপে উঠল, গুরর করে কেঁপে ওঠা মতো, তারপর পেরেকটা ছিটকে পরল, আমার মাথা ঝিমঝিম করতে থাকল কিছুক্ষন।

গ্যাস কি? গ্যাস কি আগুনের উত্স? এটা পরীক্ষা করেছিলাম, যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি, বয়স ১০ বছরের একটু বেশি। মা কোনো কাজে বাইরে গেছিলো, আমি একটা নতুন সিলিন্ডারের ক্যাপ খুলে, রেগুলেটার ফিট করে, রেগুলেটার অন করে, আগুন জ্বালিয়েছি পাইপ ছাড়া, ভুল করে আমার চোখদুটো রেগুলেটারের মুখের সামনে রেখেছিলাম, অমনি আগুন সৎ করে ছিটকে  এসে আমার ভ্রু গুলো সব উড়িয়ে দিল। কপালে ভ্রু পোড়া  গন্ধ, পুরো কপাল সাদা। মুখচোখ সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিলাম, যাতে গন্ধ না থাকে। মা বাড়িতে এসে কপাল দেখে অবাক, আমি বলি, রিমুভার কে ক্রিম ভেবে লাগাতেই সব উঠে গেছে।

চার বছর বয়স, আমি দেখতাম, পেচ্ছাপ আর জলের রং একই। পার্থক্য বুঝতামনা, জল আমরা খাই, অথছ পেচ্ছাপ বাইরে বার করে দিই। কিন্তু কেন? একদিন বাথরুমে ঢুকে, মগের মধ্যে পেচ্ছাপ করে সেটা পুরো জলের মতো করে গিলে খেয়ে নিলাম, জলের মতো লাগেনি, একটু উষ্ণ লেগেছিল। আর কোনো পার্থক্য বুঝতে পারিনি।

এমন আরো কতকিছু করেছি। সবই যে পরীক্ষামূলক, এমন নয়, ডানপিটে ব্যাপারটা ছিল আমার মধ্যে ছোটো থেকেই, কতবার একতলা ছাদ  থেকে লাফ দিয়ে খেলতে গেছি!! আমার মা আমাকে বাইরে বেশি মিশতে দিতোনা, ভাবতো  ছেলে খারাপ হয়ে যাবে। তালা বন্ধ করে রাখতো গেটে। মা ঘুমোলে, আমি ছাদে উঠে লাফ দিয়ে খেলতে যেতাম।

একবার আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে, মা বাইরে গেছিল সন্ধ্যায়, আমাকে বললো এখন কেউ আসলে আমার পড়ার ক্ষতি হবে, তাই বাইরে দিয়ে গেটে তালা দিয়ে, আমাকে নিচ থেকে ২ তলার জানালাতে চাবি ছুড়তে গিয়ে সেটা ১ তলার ওপরে আটকে গেল। মা তো চলে গেলো, আমার মাথাতে ভূত চাপলো, চাবি আমার চাই, তখনি চাই। আমি ২ তলার ছাদে উঠে, সন্ধ্যার অন্ধকারেই, পাইপ বেয়ে নিচে নেমে, ১ তলার ছাদে এসে চাবি তুলে নিচে লাফ দিলাম। তারপর তালা খুলে ঘরে গিয়ে শান্তি। তবে ঘরে গিয়ে যখন মনে করছিলাম, যে একটু আগে আমি কি করেছি, সেটা ভেবে আমার পা কাঁপতে শুরু করেছিল, যদি হাত স্লিপ করে পরেযেতাম  ২ তোলা থেকে নিচে? কতবার ডিজেলের ব্যারেলের ওপর দিয়ে হাই জাম্প দিয়েছি!!! এখন মনে পরলে ভালো লাগে সেসব স্মৃতি গুলো। 
অধরা।
সৌম্যজিত দত্ত।

শান্তি কোথায়?
আগুন শরীর, আগুনে বয়স?
আমি নিজেই দগ্ধ হচ্ছি, শান্তি কোথাও নেই।
শুধু জ্বলছি, পুড়ছি আর ছাই হচ্ছি।
কোথায় সেই মানুষ যেখানে মন তৃপ্ত হয়?
আজ যে কোনোভাবেই তৃপ্ত হতে পারছিনা আমি।
শুধু খুঁজে বেড়াচ্ছি সেই জায়গা যেখানে, একটু শান্ত হতে পারি।



আগুন।
সৌম্যজিত দত্ত।



চোখ ফুটন্ত আগুন তুই, উষ্ণ তোর গড়ন,
ছিমছিমে তোর রঙে ধাধিয়েছিস আমার নজর।
সেই তোকে স্বপ্নঘিরে ভালবাসি নিজের মনে,
চুলগুলো অগছলে টানি আমার বুকের মাঝে।
তোর মুখে মায়া খেলে, জড়িয়ে ধরি, চেপে ধরি,
মুহুর্তে মনেহয় ভুলে যাই সব, মিশে যাই তোর সাথে।
ছাড় না সব পিছুটান, কাছে আয়, তোকে নিয়ে আদর খেলা খেলি।
দেওয়াল প্রাচীরে ঠেসে ধরে, ছুঁয়ে দিই তোর ঠোঁট দুটো,
ভরিয়ে দিই বাঁধন ছাড়া চুমুতে। পাগল করে দিই তোকে আমার প্রেম দহনে।

আমি জানি তুই পুড়তে চাস, জ্বলতে চাস আমার আগুনে।
তোরও তো অনেক খিদে, বারবার না বলেও বোঝাস আমাই,
বুঝি সব। শুধু সুযোগ আর অপেক্ষা।
বল তুই খেলবি?
মিলিয়ে যাবো তোকে নিয়ে যেখানে, থাকবেনা কোনো বাধা,
মিশবো আমরা অবাধ প্রেমে, থাকবেনা কোনো দুরত্ব।

হোক সমালোচনা,
আসুক ঝড়, আসুক অনেক ঝাপটা,
হাত ধরে সামলাবো সব, বলুক সবাই "নষ্ট।"
তোকে ছাড়া জীবন কোনো জীবন নয়, নষ্টামি স্বীকার করতেও আমি রাজি,
একটাবার কাছে আয়, তোকে ধরে হারিয়ে দেবো সব প্রতিকুলতাকে।

আয় না, একটু আগুনকে ছুঁয়ে দ্যাখ, ভরসা করেই দ্যাখ।
চল, সমাজে তুলে ধরি ভালবাসার নতুন রূপ।


Friday, 15 January 2016

ভালবাসা। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


আজ তুমি এলে,
দূর থেকে, কানে ফোন নিয়ে অপেক্ষা করছিলে,
দূর থেকে তোমাকে  দেখলাম মুখে লজ্জা-হাসি মিশিয়ে দাড়িয়ে আছো। 
বড়ই সুন্দর তুমি!!

আজ দেখলাম তোমাকে, খুব সরল, সাদাসিদে একটা মেয়ে তুমি। 
কিন্তু তোমার চোখ দুটো ভীষণ দুষ্টু, টানাটানা চোখ, মুগ্ধ হয়ে গেলাম। 
তোমার কথাগুলও মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। 
খুব মিষ্টি তুমি!!

কোথাও তুমি গুটিয়ে ছিলে, ভয় পেয়েছিলে। 
বুঝি, একটা অজানা, অচেনা পরিবেশ, এত ভিড়। 
তোমার মনের কথাগুলো স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছিল আমাই। 
তবু তুমি সাহসী।  সাহসী, কারণ বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছো। 
আর বাকি সবাই যা করতে পারেনি, তুমি সেটা করেছো। 
তোমার শরীর জুড়ে পারফিউম-এর গন্ধটা আমার শরীরে মেখে গেছে,
তোমার কাঁধে মাথা রেখে বসেছিলাম, গোটা দুপুরটা সেই গন্ধ আমাকে ছুঁয়ে ছিল। 
এখনো আমার নাকে ভাসছে ওই গন্ধটা। 

আমার হাতটা নেড়েচেড়ে দেখছিলে বারবার,
আমিও সেই ছোঁয়াটা বেশ উপভোগ করছিলাম,
উপভোগ করছিলাম তোমার উষ্ণতা। 
খুব আকর্ষণ করছিলো আমার সমস্ত সত্বাকে। 
খুব ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছা করছিল তোমার ঠোঁটটা, ইচ্ছা করছিল তোমাকে জড়িয়ে ধরি। 
তোমার একটুখানি গুটিয়ে থাকাটা আমাকে আটকে দিল। 
তৃষ্ণার্ত হয়ে আছি আমি। মিশে যেতে চাই তোমার শরীরে, মনে, রক্তের সাথে। 
ভয় পেওনা। পুরুষতন্ত্রের মধ্যে থাকা পুরুষ গুলোর মতো আমি তোমাকে অবহেলা করবোনা। 
একজন পুরুষ হওয়ার আগে, একজন মানুষ হয়ে ভালোবাসবো তোমাকে। 
পাশে থেকো শুধু ভরসা হয়ে, শক্তি হয়ে। 


অনেক প্রেমই তো আসলো, গেল।  ভালো তো সবাইকেই বাসতে চেয়েছিলাম,
পরিস্থিতি কখনো স্থির হতে দিলনা। 
এবার আমি ভালবাসা হারাবোনা। আঁকড়ে ধরে রাখবো তোমাকে। 
এবার আমি সমস্ত দুর্বলতার মধ্যেও, নিজের বিশ্বাসকে কখনো হারতে দেবোনা। 
জানি, অনেক ভরসা করেছো আমাকে।  কোনো পুরুষকে তুমি এতো ভরসা করোনি আগে এভাবে। 
এই ভরসাকে আমি তুলে ধরবো। 

গোটা পুরুষতন্ত্র দেখবে, সমাজে এমন পুরুষও আছে, যে পুরুষ হওয়ার আগে, মানুষ হয়ে ভালবাসতে জানে। 

Thursday, 14 January 2016


স্বপ্ন।
সৌম্যজিৎ।


স্বপ্নে তোমাকে যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে ছুঁয়ে যাই,
কখনো কোনো দ্বিধা থাকেনা, থাকেনা কোনো বাধা।
কি মিষ্টি দেখাচ্ছিল তোমাকে!!!
মেতে ছিলে তো একরাশ কথা কাটাকাটিতে, থামতেই চাইছিলেনা।
আমি যে চিৎকার একদম নিতে পারিনা।
তোমার হাত দুটো ধরে তোমাকে বললাম, চিৎকার কোরোনা,
মেরেই ফেলো একেবারে। উফ: কি বে-আক্কেলি মেয়ে!! অমনি স্বপ্নের মধ্যেই দিলে কষিয়ে?
পরে তো নিজেই কষ্টটা পেলে। আমি নাহয় অভিমান ভর্তি চোখ নিয়ে,
ক্লান্ত হয়ে ঘর অন্ধকার করে ঘুমিয়ে পরলাম।
তুমি পড়ে থাকলে এক কোণে আমার পায়ের কাছে থাকা কম্পিউটার টেবিলটাতে মাথা রেখে।

অনেক রাতে ঘুম ভাঙতেই দেখি, তুমি আমার মুখের কাছে,
তোমার চোখের জল আমার ঠোঁটে এসে পরছে।
তুমি আমার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলছিলে, "এটা আমি কি করলাম? আমাকে শাস্তি দাও।"


ধুর পাগলি, "আমি তো তোকে ভালোবেসেছি, তোকে আমি শাস্তি দিই কিভাবে?"

তোমার চুলগুলো ধরে, মুখটাকে আমার বুকের মাঝখানে এনে রাখলাম,
মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম, এবার তুমি বেশ হাসি মুখে চোখদুটো বন্ধ করলে।
ভীষণ মিষ্টি দেখাচ্ছিল তোমাকে!! আমি ওভাবেই সারারাত তোমাকে দেখেগেলাম।
দেখলাম ভোরের আলো তোমার মুখের ওপর এসে খেলছে।
স্বপ্নের মধ্যেও যেন আমি আরেকটা স্বপ্ন দেখছিলাম। 

Wednesday, 13 January 2016

লজ্জা।
সৌম্যজিত দত্ত। 



খোলা মনে চেতনা আসে,
লজ্জা শুধু পাপে ভাসে। 
পাপ তবে কি? 
পাপ মানে অন্ধকার, অন্ধকারের গোড়ামি। 
পাপ মানে পরিস্কার বাস্তবকেও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে দেখা। 
বাস্তব শুধু বাস্তবই হয়। 

আমি যদি বলি, তোমার শরীর খুব আকর্ষনীয়,
আমি যদি একটু তোমাকে গায়ে হাত দিয়ে কথা বলি,
আমি যদি তোমাকে জড়িয়ে ধরি, সেখানে পাপের কি আছে?
তোমার শরীর আকর্ষনীয়, তাই তোমাকে মুখের ওপর বলি। 
শুধু তোমাকেই না, যাদের এমন মনেহয়, তাদের সবাইকেই বলি। 
পাপ তবে আমার মধ্যে না, পাপ আছে তোমার মনে। 
সাধারণ বাস্তবকে তুমিই নিচু করে দেখতে চাও। 
তোমার চিন্তায় আছে অন্ধকার, গোড়ামি। 
তুমি সহজ বাস্তবে দ্বিধাগ্রস্ত। চিন্তা উন্মুক্ত করা তোমার স্বভাবে নেই। 
আমি স্পষ্ট কথা বলি, যেটা মনেহয়, সেটাই বলি। 
আমিতো বলিনি, তুমি আকর্ষনীয়, তোমাকে আমি নিংড়ে নিতে চাই। 
আমিতো তোমাকে বলিনি তোমার স্তনগুলো মোটা মোটা, ওগুলো আমার চাই। 
আমি শুধু বলেছি, তুমি সুন্দর, তোমার শারীরিক গঠন সুন্দর,
এতো প্রশংসা। এতে পাপ কোথায়? না, নেই, পাপ প্রশংসাতে নয়,
তবে পাপ তোমার মনে।  পাপ তোমার পিছিয়ে থাকা চিন্তায়। 
যে পাপ মুহুর্তের মধ্যে তোমাকে নারী, পুরুষের ব্যবধান বুঝিয়ে দেয়। 
যে পাপ তোমাকে মানুষ হতে, মানুষের মতো চিন্তা করতে দেয়না। 
এই পাপ লজ্জার। 

Tuesday, 12 January 2016




প্রেম। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


চোখদুটো শুধু আয়না করে নিয়েছি,
নিজেকে দেখছি নিজের মতো করে,
যেমন ইচ্ছা খেলছি মাথার চুল গুলোই,
এ কি!!! আমি তো শুধু আমাকেই দেখতে পাচ্ছি। 
তুমি কি তবে তুমি নও? তুমিটাও কি এই আমি!!!
আমি যদি তুমি হতে পারি তবে, তুমিটাই বা কেন আমি নই??



জানো আমি পরেছি এক ভীষণ প্রেমে!!  সেকি আর কোনো চারটি খানি কুড়িয়ে পাওয়া প্রেম?
প্রেমে তো পরি আমি অনেকই।  এ প্রেম যে সে প্রেম নয়,
এ প্রেমের প্রেমিকা আমাকে বলেছে ওই স্বপ্ন পরিণতির কথা। 
আমিতো শুধু ভালোবেসে, আদর করে ছুঁয়ে  দেখবো তোমাই,
প্রতিটা গরম নিঃশ্বাস আমার মুখে, নাকে, ঠোঁটে এসে চুমু খাবে আমাই। 
আলতো হাত দিয়ে তোমাই জড়িয়ে ধরবো। 
তোমার উত্তপ্ত, ঘামে ভেজা শরীরটা আমাকে ভিজিয়ে দেবে,
তোমার শরীরের ঘামের গন্ধটাও আমার শরীরকে মাখিয়ে দেবে। 
সত্যিই, তুমিতো তুমি নও, তুমিটাও আমি হয়েযাবে। 

Monday, 11 January 2016

''আনন্দবাজার পত্রিকা" মহা আনন্দে নিজেদের ভন্ড কৌশল জারি রাখার চেষ্টা করছে। 


আসল জানতে ক্লিক করুন :     http://www.bd-pratidin.com/probash-potro/2016/01/10/120066





মহা আনন্দের ভন্ডামি জানতে ক্লিক করুন:          http://www.anandabazar.com/national/india-a-tolerant-country-with-few-intolerant-people-taslima-nasreen-1.282538#

Saturday, 9 January 2016

কিছু চিন্তা, কিছু প্রশ্ন। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


অন্ধকার এই জগৎ, বাড়ছে সংকীর্ণতা। 
এই সংকীর্ণতার পরিধি কোনো বর্গক্ষেত্র বা ক্ষেত্রফল দিয়ে মাপা যায়না,
এই সংকীর্ণতা এককহীন। মনুষত্বকে আস্টে-পৃষ্টে গিলে খাচ্ছে। 

সংকীর্ণতা সমাজতন্ত্রে, সংকীর্ণতা আজ শিক্ষার অশিক্ষাতেও।
আজ শিক্ষিতজনের শিক্ষা শুধু সুবিধাভোগের জন্য, যাতে প্রকৃত শিক্ষা নয়,
অশিক্ষার অন্ধকার বিস্তৃত। মনুষত্বের কোনো বালাই নেই। 

একটু একটু করে ক্যান্সারের বিষ গোটা সমাজে পচন ধরিয়েছে। 
এই পচন বিনাসে কোনো নির্লিপ্ত আলো নয়, চায় বারুদের আগুন। 
পুড়ে ছারখার হয়ে যাক পচন, যেটুকু বাঁচবে, তার থেকে নতুন কোষ সৃষ্টি হবে। 
আবার গড়ে উঠবে সুষ্ঠ সমাজ, যেখানে কোনো পচন নেই, সংকীর্ণতার পরিধি নেই।
থাকবে শুধু ভালবাসা, মনুষত্ব।  থাকবে চিন্তার ও বাঁচার স্বাধীনতা। 
সেটাই হবে আমার সমাজ।  



আমার মাথার মধ্যে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম চিন্তা ঘোরে, প্রশ্ন উঠে আসে। ওপরের লেখাটা লিখতে গিয়ে বারবার মনের মধ্যে চলে আসছিল, আমরা নিজেদের ধার্মিক বলি।  কিন্তু আসলে এই ধর্ম কি?



ধর্ম সাধারণের নেশা, সাধারনকে মন্ত্রপুত করে রেখেছে,
ধর্ম আসলে রাজনীতির অস্ত্র। 
অলৌকিক তো কোনো ব্যাপার হয়না, যা হয় শুধু বিশ্বাসে। 
কাজতো মানুষই করে। 
সেতো মানুষ নিজেকে বিশ্বাস করে, ভরসা করে কাজ করলে,
সেই কাজ ভালোই ভালোই সম্পূর্ণ হয়। 
কাজ আমাদের, নাম ধর্মের?

ধর্ম মানুষের দুর্বলতা, ফায়দা লোটে রাজনীতিবিদ, ভন্ড সাধু, মৌলবী। 
গোড়া ধার্মিকরা সেই রাজনীতিবিদ, ভন্ড সাধু, মৌলবী গনের প্রতিনিধি,
নিজ দায়িত্বে সমাজকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করছে। 
বলি সমাজ কি তাদের পিতার রাজত্ব?
মানুষ এই সমাজের চালক, মানুষ এই সমাজের বাহক,
যদি কোনো ধর্ম থাকে, তা শুধু মনুষত্ব।  ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ। 
মনুষত্ব ধারণে কোনো ভেদাভেদ থাকেনা, থাকে ভালবাসা, সংকল্প। 
থাকে এক জাতি। 
মানুষ জাতি।  

Friday, 8 January 2016

চিত্ত যেথা লুকায়েছে কথা,
সেতো আপনার  ...
বড় যাতনা ঘিরিছে প্রাণে, ডুবায়েছে অন্ধকারে। 
তবু চাহিয়াছি বাঁচিবারে। 

কোথা গেলে প্রভু,  দাওনা সাড়া , ডাকিতেছি ব্যাকুল প্রাণে,
তুমি তো আছো, হেথায় আমার প্রানের মধ্যিখানে। 
শতভূজা তুমি, নিজ হস্তে লিখিছো জাতির বর্ণ,
বর্ণ যে বড় ভয়ঙ্কর তা তোমার কলম খোচিত। 
জাতির জাতও আজ রাজনীতি নিষিক্ত। 


চূর্ণ হবে অহংকার সব, দাম্ভিক ধর্মবাহী,
সমাজের তারা করেনি কদর, ভরিয়াছে আপন থলে। 
তাদের চরাইবে তুমি শূলে।
আমি হবো বাহন, বহিবো তুমারে, বা হবো সারথি,
একের পর এক মুখোশপাত,  হবে সমাজও খাদ মুক্ত। 

চিত্ত হেতা খুলিছে জট, খুলিছে অন্ধ দার,
আলো প্রবেশিলে, উন্মুক্ত হাওয়াই, 
স্বাধীনতা পারাপার। 

"হিউমান সাইকোলজি "

  
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে যাওয়া সবকিছুর মধ্যে আমাদের চিন্তা, ভাবনা অনুযায়ী অনেক কাজ করে ফেলি, আবার এমন কিছুও করে ফেলি, যেখানে আমরা কোনো চিন্তা ভাবনা না করে শুধু এগিয়ে যায় কাজটা শেষ করার জন্য জন্য। 

আসলে দেখাযায়, প্রতিটা কাজের পিছনে যদি আমাদের চিন্তা ভাবনার উপস্থিতি তেমন প্রকট নাও হয়, তবু তার পিছনে আমাদের অবচেতন মস্তিস্কের চিন্তা ভাবনা কিন্তু চলতেই থাকে। 
যেমন:  ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতাতে ঘোড়া দৌড়য়, সেখানে জুয়ারীরা টাকা দেয়। সেখানে বুদ্ধির কোনো ব্যায়াম হয়না, অথছ জুয়ারীরা প্রথম থেকে শুধু চিন্তা করে, তার নির্বাচিত ঘোড়াটা যেন জিতে যায়। আসলে এটা তাদের অবচেতন মস্তিস্কের চিন্তা। 



রাজনীতির চিন্তা সবসময় চেতন মস্তিস্ক থেকে প্রকট হয়। নানারকম চিন্তা, বুদ্ধির লড়াই, সাত্তা প্রতিযোগিতা হয়, যেখানে একটা রাজনীতিবিদ সবসময় নানান ছক কষে তাদের মস্তিস্ক চর্চা করে থাকে জেতার জন্য। শুধু সেখানে সেই রাজনীতিবিদ মানুষটাই নয়, সমাজও সেই চিন্তার প্রভাবে প্রভাবিত হয়। 


আমাদের মনের মধ্যে সবসময় পাপ, পুন্যের একটা বিচার চলতে থাকে অবিরাম। হিউমান সাইকোলজি-এর সব থেকে বিশেষ অংশ হলো মানুষ জীবনের সাধারণ চিন্তা ভাবনা গুলো। 
এবার দেখতে হবে, কোনটাকে আমরা পাপ, আর কোনটাকে আমরা পুণ্য বলে অভিহিত করে থাকি, বা তার ফল কেমন হয় ?

আমরা যখন অনেক চিন্তা ভাবনা দিয়ে কোনো একটা কাজ করি, সেই কাজে যদি কারোর কোনো ক্ষতি না করে সফলতার দিকে এগিয়ে যায়, এবং পরিনতি সফল হয়, তবে আমাদের মনের মধ্যে একটা সন্তষবোধ কাজ করে। যেটাকে আমরা পুণ্য জ্ঞান করি। আসলে পুণ্য জ্ঞান হলো কাজের মাধ্যমে সঞ্চয় করা মানুসিক সন্তুষ্টি। এমন একটা সন্তুষ্টি যার থেকে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, চিন্তাভাবনা ধনাত্মক রূপ নেয়। 


আবার যখন আমরা কোনো কাজকে সফল করার জন্য অন্যের ক্ষতি করে এগিয়ে যায়, সেই কাজ সফল হোক বা ব্যর্থ, আমাদের অবচেতন মস্তিস্কে সবসময় একটা ভীতি কাজ করে। যেটা অনেক সময় প্রকট হয়, আবার অনেক সময় প্রচ্ছন্ন থেকে যায়।  এই ভীতিটাই পাপবোধ। এই ভীতির জন্য মানুষ ভুলবশত নিজেরই ক্ষতি করে ফেলে। যেটাকে "পাপের ফল" হিসেবে সবাই মেনে নেয়। এমন ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাবজেক্টের চিন্তা-ভাবনা ঋণাত্মক রূপের মধ্যে আবিষ্ট হয়। 


"পাপ বোধ" অনেকরকম ভাবে জন্মাতে পারে, মানুষ অনেক সময় অন্যের করা ভুলের জন্য নিজের মধ্যে ভীতি সঞ্চয় করতে শুরু করে। তখন তার মানুসিক অবস্থা ভেঙ্গে পরে, অর্থাৎ এই পাপ বোধ। 
এমন কিছু পাপবোধ দূর করতে গেলে স্পষ্ট স্বীকারুক্তি ও আলোচনার প্রয়োজন হয়। যতক্ষণে মনের মধ্যে সন্তুষ্টি ব্যাপারটা আসে, পাপবোধ দূর হয়। 

এমন একটা উদাহরণ আমি আমার জীবনে কিছু সময় আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে দিতে পারি। 
গতকাল অনেক রাতে আমার ফেসবুক একাউন্ট থেকে মেয়েমার একটা পোস্টের কমেন্ট বক্সে একটা অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট যায়, যেটা আমি আদৌ করিনি। ওখানে লেখা ছিল, "পুরুষতন্ত্র, আমিও কনভার্টেড।  দরিদ্রতার জন্য। সেসব পরে লিখবো।" আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে কেউ এটা করেছে। আজ দুপুরে যখন লেখাটা দেখলাম, হতচকিয়ে গেছিলাম প্রথমে। তারপর এমন একটা অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট দেখে লজ্জাই, ঘেন্নাই আমি ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরি। মেয়েমার মতো এমন ব্যক্তির কাছে এমন একটা অপ্রাসঙ্গিক লেখা পাঠানো, সত্যিই ভীষণ লজ্জার। আমার মধ্যে পাপবোধ কাজ করছে এভাবেই, যতক্ষণ না মেয়েমা সঠিক ব্যাপারটা জানতে  পারছে, আমার মধ্যে এই পাপবোধ কাজ করে চলবে। 


আরও এমন অনেক ঘটনা আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে যায়, যেসমস্ত জায়গায় হিউমান সাইকোলজি নিরন্তর কাজ করে চলে। আসলে আমাদের জীবনটাই এই "হিউমান সাইকোলজি"-এর অংশ। মস্তিস্কের চর্চা, সে প্রকট হোক বা প্রচ্ছন্ন, সবসময় হয়েই চলে।

.................................................সৌম্যজিত দত্ত। 



Thursday, 7 January 2016

সততা, আদর্শ, যুক্তি একটা নেশা। এমন এক নেশা যার জন্য মানুষ জীবনের পরোয়া না করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। উল্লেখ্য, কোনো নেশা জাতীয় বস্তু, প্রেম, সেক্সেও এমন নেশা নেই। আমি বারবার প্রেমে পরেছি, প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার পর, আমার সেই প্রেমের নেশা কেটে গেছে। কিন্তু সততা, আদর্শ, যুক্তির নেশা কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এমনটাও মনে হয়েছে, ব্রম্মচর্য ধারণ করে সমাজের জন্য বাঁচবো। সৎ হয়ে। কোনো মিথ্যার সাথে, কোনো অন্যায়ের সাথে কখনো আপোষ করবোনা। যুগান্তর ঘটাবো। ইতিহাস আমাকে অমর করবে। একটাই জন্ম, একটাই জীবন, আর এটাই জীবন। ২৫+ বছর বয়সের মধ্যে ২৩ বছর পড়াশোনা করছি, গবেষনার কাজে নিযুক্ত আছি, আই.এস.আই-এর মতো ইনস্টিটিউট-এ পড়াচ্ছি, এখনো পর্যন্ত নিয়ম কি জিনিস বুঝতে শিখিনি। আমার মাথাতেও ঢোকেনা এই নিয়ম শৃঙ্খলা ব্যাপারগুলো। গোটা স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি জীবনে কখনো বুঝতে পারিনি। যখন ইচ্ছা পড়েছি, পরীক্ষার ফল নিয়েও মাথা ঘামাইনি কখনো। শুধু পড়াশোনা উপভোগ করেছি। ফল যা হওয়ার হয়েছে, বাধা পেয়েছি, ব্যর্থও হয়েছি অনেক। পাত্তা দিইনি।  ভেবেছি নিজের জায়গায় ঠিক থাকলে সব সফল হবে। আমি আমার ছাত্র, ছাত্রীদের এসবই বারবার বোঝাই। আসলে সমস্তটাই একটা গেম, খেলা। উপভোগ করি। শুধু নিজের মনটাকে কখনো নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা। আবেগে ভেসে চলি। ওইযে সততা, আদর্শবোধ, যুক্তির নেশা। ইদানিং অনেক মানুষ এগুলোকে আমার দুর্বলতা ভেবে যাচ্ছেতাই বলছে। তারা নিজেরাই বোঝেনা, যদি সমাজে কোনো পরিবর্তন দরকার হয়, তবে আমার মতো মানুষগুলোর প্রয়োজন সব থেকে বেশি হবে।

প্রেম ভুলে গেছি আমি, কিন্তু ভালোবাসা? এই ভালবাসা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। 
মুক্তচিন্তা মানে শুধু বিপ্লব নয়, সংঘর্ষ নয়,
মুক্তচিন্তা আসে মনের উন্মুক্ততায়।
মন উন্মুক্ত হয় চিন্তাভাবনার প্রকাশে, আলোচনায়।



..................................সৌম্যজিত দত্ত।

Wednesday, 6 January 2016


আমি, আমি নই। আমিটাও তুমি।
সৌম্যজিত দত্ত।

আমি ভুলেগেছি সব প্রেম।
এখন যা আছে, শুধু ভালবাসা।


আমি ভুলেগেছি আমার বয়স।
যা আছে, যা কিছু আছে, সেটা শুধু তোমাকে ভালো দেখতে পারার অভিলাস।


আমি ভুলেগেছি আমি কে?
যাকিছু বেঁচে আছে, সমস্তটা জুড়েই শুধু তোমার লক্ষ্য।
আমি যেন পাখির চোখে দেখে ছুটে চলেছি।




তুমি আর তুমিই।
সৌম্যজিত দত্ত। 


মন 
এই ভালো, এই খারাপ। 
সব জ্বালা, সব যন্ত্রণা সহ্য হয়ে যায়। কিন্তু যাকিছু ঘিরে তুমি,
সেখানে একটু কিছু এদিক ওদিক হলেই খচ খচানি শুরু। 
হয়ত তুমি ইচ্ছা করে কিছু করোনি, হয়ত তুমি খারাপ ভেবে কিছু করোনি,
হয়ত যা হলো, সেটা তোমার অজান্তেই। হয়ত কি? আমি নিশ্চিত, তোমার অজান্তেই। 
তবু মনের মধ্যে কেমন যেন তোলপার শুরু হয়ে গেল। 
যেন ক্ষনিকের মধ্যেই আমি শুকিয়ে গেলাম। যেন অনেক কিছু হারিয়ে ফেললাম। 
হাজারো চিন্তা মিনিটের মধ্যে আমাকে পঁচিশ থেকে ষাটের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিল। 
তোমাকে হারানোর ভয়। 
আমি যে সব সহ্য করতে পারি,
শুধু দিনের মধ্যে তোমার আমাকে বলা একটা কথাতেও আমার দিনটা খুব ভালো কেটে যায়। 
আমি যেন পরিপূর্ণ হয়ে উঠি। 
কিন্তু একটু অন্যরকম কিছুতে আমি যে পুরো অস্থির হয়ে উঠি। 


একটাবার কথা বলো, একটুখানি কিছু বলো। 
ভালো কিছু বলো। খারাপ কিছু বলো। 
শুধু বলো। 
চুপ থেকোনা। কিছু অন্তত বলো। 
নাহলে আমার এই রাতটাই অসহনীয় হয়ে উঠবে। 

Monday, 4 January 2016

সেক্স।
সৌম্যজিত দত্ত।



"সেক্স শিল্প জীবন দেয়, সেক্স শরীরের প্রয়োজনীয়তা,
নারী-পুরুষের শরীরের মাখামাখি, সেক্স শরীরের চাহিদা।
বিকৃত আজ সেক্স চিন্তা, সেক্স আজ পুরুষ চালিত,
নারী শুধু ভোগ্য বস্তু, সেক্স-এ নারী ধর্ষিতা।

সেক্স আজ কোনো শারীরিক শিল্প নয়,
সেক্স-এর সংজ্ঞা ধর্ষণ।"



সেক্স শরীরের চাহিদা বা শিল্প। যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েরই অধিকার সমান ভাবে থাকে। প্রাচীনকাল থেকে এমনটাই হয়ে আসত। বহু ছবি, বহু লেখা এর অকাট্য প্রমাণ দেয়। সমাজের অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের সেক্স চিন্তা বিকৃত হয়েছে। এখন সেক্স একটা গোপন বিষয়। সর্বক্ষেত্রে এর গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। বিজ্ঞাপন গুলোর সতর্কিকরনেও সেক্স-এর গোপনীয়তা লক্ষ্য করা যায়।



বর্তমান সমাজে "সেক্স" কী? 

এখন সেক্স মানে পুরুষের নারীর প্রতি কর্তৃত্ব ফলানো। নারী ও পুরুষ উভয়েই যুক্ত থাকে। কিন্তু পুরুষের প্রাধান্যকেই জোর দেওয়া হয়। নারীকে ভোগের বস্তুর মতো ব্যবহার না করলে পুরুষের "যৌন তৃপ্তি" অসম্পূর্ণ।
নারীকে নিজতলে পিষ্ট না করতে পারলে পুরুষের পুরুষালি ক্ষুন্ন হয়। যেন নারী একটা যৌন খাবার, যেটাকে পুরুষ নিজের মতো করে নানান পদ দিয়ে আহার করে তৃপ্ত হয়। সমাজের কিছু স্তরে সেক্স শুধু বাচ্চা উত্পাদনের যজ্ঞ। 
বাচ্চা উত্পাদন হয়েগেলে সেক্স-এর কোনো গুরুত্ব থাকেনা। আজ সর্বস্তরেই সেক্স ড্রাইভার বলতে শুধু পুরুষ। নারী প্যাসিভ। 


"সেক্স" আগে কি ছিল?

সেক্স ভয়াবহতার পূর্বে , সেক্স-এর সংজ্ঞা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। সেক্স নারী ও পুরুষের সমান অধিকার ও শিল্প বলে মানা হতো। যেখানে নারী ও পুরুষ উভয়েই তাদের সেক্সক্রিয়াতে সমানভাবে সামিল হতো। তারা বিভিন্ন কৌশলে শরীরকে উন্মুক্ত করে একে অপরের সাথে যৌন মিলনে, সমান আসক্তিতে সামিল হতো।  যেখানে কেউ কারোর ওপর শারীরিক ক্ষমতা দিয়ে কর্তৃত্ব করতনা। এটাই তাদের সেক্স শিল্প ছিল। 



সেক্স বিকৃতির প্রভাব :

আজ সমাজে সেক্স বিকৃতির প্রভাব ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। একমাত্র সেক্স বিকৃতির প্রভাবেই সমাজ আজ নারীকে পায়ের নিচে পদদলিত করছে, পুরুষের প্রাধান্য আধিক্য পাচ্ছে। শারীরিক ক্ষমতার জোরে সেক্স আজ রেপ-এর পর্যায়ে এসেছে। আজ সেক্স কোনো শিল্প নয়, সেক্স-এর প্রকৃত অর্থ রেপ। মানুসিক বিকৃতি ঘটছে পুরুষের, যার ফল ভোগ করছে নারী। প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন নারী পুরুষের সেক্স বিকৃতির শিকার হচ্ছে। 


সমাধান :

সেক্স বিকৃতির সমাধান হিসেবে অনেক গুলো ব্যাপার বাঞ্চনীয় করা প্রয়োজন। 
১) সেক্স সচেতনতা বাড়ানো।
২) বিদ্যালয় পর্যায়ে সেক্স আলোচনা বাঞ্চনীয়। 
৩) কৈশোর থেকে যৌবনে প্রবেশ করার আগে প্রতিটা মানুষের মধ্যে সেক্স-এর সঠিক  অর্থ বোঝানো বাঞ্চনীয়। 
৪) নারী-পুরুষ উভয়কেই বন্ধুর মতো একে অপরের সাথে কৈশোর থেকে মিশতে দেওয়া। 
৫) সন্তানদের মধ্যে সেক্স চিন্তা যে কোনো পাপ নয়, সেটা অভিভাবকদের বুঝতে পারাটা আবশ্যক। 
৬) সেক্স আলোচনা থেকে সন্তানদের বিরত না রাখা। 
৭) সর্বপরি সেক্স-এর ব্যাপারে গোপনীয়তা না রেখে, সেক্স চিন্তাকে উন্মুক্ত করা। 


Sunday, 3 January 2016

এদের খেতে দিয়ে, এদের ভাষা রেকর্ড করে, সেই ভাষা দিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি করতে হবে। ওই ভাষাতে প্রতিবাদের আগুন জ্বলে যাবে। কোনো ইশ্বর, আল্লাহ হেপাজত্কারীদের চাপাতি বা অস্ত্র টিকতে পারবেনা ওই ভাষার সামনে। ফল হিসেবে: ১) সাহিত্যের গবেষণাও সফল হবে। ২) ওদের প্রতিবাদকেও তুলে ধরা যাবে। ৩) ওদের অধিকারের জন্য লড়াই করাও যাবে। ৪) মানুষ যুক্তি খুঁজে পাবে ধর্মের বাইরে।

Saturday, 2 January 2016

উপহার "চেতনা"। 
সৌম্যজিত দত্ত।

শুভ জন্মদিনে সবাই বলে সুখি হও, দীর্ঘজীবি হও। 
আমি বলবো প্রতিবাদী হও। 
প্রতিবাদ আছে তোমার মধ্যে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সংবিধান অনেক জেনেছো, শিখেছো,
প্রতিটা জানা নিয়মকে তুলে ধরো বাস্তব জীবনে।
নারী বলেই হয়ত তোমার নিজের প্রতি এত বিদ্মেষ, বা হয়ত মুসলিম বলে। 
মুসলিম হওয়া পাপ নয়, নিজেকে চিনে নাও। 
আগুনে জ্বালানি দাও,
জ্বলে ওঠো,
ঝলসে ওঠো। 


কাদের এত ভয় পাও?
সমস্ত নিয়ম তো আগেই ভেঙ্গে দিয়েছো,
জীবনের শুরুতেই মাতৃহারা হয়ে একা একা বড় হয়েছো,
নিজের ছাত্র জীবনটাতেও লড়াই করে গড়ে উঠেছো।
এত লড়াই করার সাহস নিয়েও আজ কেন জীবনের প্রতি এত অভিমান?
যে পুরুষতন্ত্র তোমাকে প্রতিমুহুর্তে পিষে মারতে চেয়েছে, লড়াই করো তাদের বিরুদ্ধে।
হোক সে নিজের বাবা। হোক সে নিজের ভাই। হোক সে পাড়া প্রতিবেশী।
ভেঙ্গে দাও,
গুড়িয়ে দাও,
বুঝিয়ে দাও, নারী অবহেলিত নয়। 


নারী বলে নিজেকে দুর্বল ভাবো?
ঝলসে উঠে দেখো,
নারী তোমাকে মাতঙ্গিনী হাজরার সম্মান দেবে।

জেগে ওঠো ববি। 
ধিক্কার ওই দুর্বলতাকে।
যে নিজে নিজেকে বাঁচাতে চাইনা,
সমাজ তাকে ছেড়ে কথা বলেনা।

নিজেকে চেনো।
বেরিয়ে এসো রাস্তায়,
বুঝিয়ে দাও, নারী নির্জীব নয়। 
নারী যেমন সহ্য করতে পারে, পাল্টা আঘাতে পিষেও মারতে জানে।

Friday, 1 January 2016


গেরণ।
সৌম্যজিত দত্ত।



**************************১***************************



পৃথা ছোটবেলা থেকেই একটু চঞ্চল। বাড়িতে মা, বাবা, দুই দাদা, বোন, বড় বৌদি আর কাজের মালতি মাসি। পৃথার বাবা মেডিক্যালের ডাক্তার, নরেন্দ্র চক্রবর্তী। বড়দা মহেন চক্রবর্তী আইন পাশ করে আদালতে অনুশীলন করছে। ছোটদা সুরেশ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। কলেজ পড়ুয়া বলে আধুনিক চিন্তা ভাবনা পোষণ করে চলে, সৌখিন। পৃথার দুই বছরের ছোট বোন স্নিগ্ধা একটু ভিতু, শান্ত স্বভাবের।


নরেন্দ্র চক্রবর্তী মানুষটা ঘসাপেটা ধরনের। মাথা উঁচু করে, শক্ত ভাবে বাঁচেন, দৃঢ়চেতা। তার প্রভাব ও প্রতাপ ঘরে বাইরে সমান।  বাইরের মানুষজন তাকে যেমন সমীহ, সম্মান, রেয়াজ করে চলে, বাড়িতেও সবাই তার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। ধর্মীয় রীতিনীতিতে তার কঠোর আদেশ, এক চুল যেন কোথাও এদিক ওদিক না হয়। মহেন বাবার কথাকে দেবতার আদেশ হিসেবে মেনে চলে। বাবা তাকে লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন, বাবা যাকিছু পোশাক পরতে বলবেন, সেটাই সে পরবে। বাবার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করেছে। সমস্ত সিদ্ধান্ত বাবা নেবেন, আর সে সেটাকে আদেশ হিসেবে পালন করবে। অবশ্য এই করে তার জীবন কখনো কোথাও আটকে যায়নি। বেশ সুখেই আছে সে।

সুরেশ বাবাকে ভয় পায়, কিন্তু সে নিজেও নিজের জীবনটা নিজের মতো করে অনুভব করতে চায়। কলেজ রাজনীতির সাথে ভীষণ ভাবে জড়িয়ে পরেছে। একটা মেয়ের সাথে প্রেম আলাপ হয়েছে। গান, বাজনার প্রতিও তার বেশ দুর্বলতা আছে। এদিকে তাদের বাবা এসব একদম পছন্দ করেননা। যাইহোক, সুরেশ অনেক সাহস সঞ্চয় করে বাড়িতে একটা গিটার নিয়ে আসে, বাবার কাছ থেকে প্রথমে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল, কিন্তু পৃথা সেটা দেখে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। ওই গিটারটা সুরেশ ও পৃথার কাছে ধ্যান, প্রাণ, স্বপ্ন হয়ে ওঠে। যেদিন তাদের বাবা জানতে পারেন, সেদিন তাদের প্রাণ শুকিয়ে যায়, যেন তাদের মাথার ওপরে বাজ পরেছে, মাথা ঘামছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, প্রানের মধ্যে যেন হু হু করে চিন্তার গরম হাওয়া বইছে, বুক কেঁপে উঠছে। বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, "ওটা কি?"
সুরেশ মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে উত্তর দিল, "আজ্ঞে, গিটার বাবা। সস্তায় পেলাম, ইচ্ছা হলো, তাই.."
বাবা বললেন, পড়াশোনাটা যেন মন দিয়ে করা হয়। এরপর এম.এস.সি পড়তেই হবে।
সুরেশ বাবার কথাতে ঘাড় নাড়িয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল, পৃথাও দাদার সাথে পা টিপে টিপে বেড়িয়ে গেল ঘর থেকে।
"মূক ও বধির"
সৌম্যজিত দত্ত।


মূক ও বধির'কে কোনো দুর্ভাগ্য বা হতভাগ্যজনিত ভাবা চরম হতভাগ্যের।
যারা রোজ জীবনে চশমা পরে, তারাও তো আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে অক্ষম।
তবু তারা যথেষ্ট অবহেলিত নয়, যতটা মূক ও বধিরতার লজ্জায় আসে। 
বাকি সমস্ত রোগের মতো মূকতা ও বধিরতাও একটা রোগ যাকে, 
পুরো অক্ষমতা বলা যায়না। প্রাণ থাকলেই সে কোনোনা কোনো ভাবে সক্ষম।
যদি এমনভাবে কিছু চিন্তা করা যায় যে, যাকে মূকতা ও বধিরতার জন্য 
ডিসেবল্ড বলা হয়, সেটা আসলে ডিসেবল্ড নয়, বরং ডিফারেন্টলি এবল্ড,
ধারণা স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা তাদের মতো করে এমন কিছু সৃষ্টি করতে পারে যা,
সাধারণ ভাবে এবল্ড মানুষের পক্ষেও সম্ভব হয়না। শুধু প্রয়োজন হয় সাইন ল্যানগুযেজ,
এমন একটা ভাষা, ঠিক আমাদের মাতৃভাষার মতোই।

ভরসা প্রতিটা মানুষের মধ্যে কার্যবাহী ওষুধ। 
একজন কর্কট রোগীর সব থেকে বড় ওষুধ "ভরসা।"
একজন মূক ও বধির মানুষেরও একটা বড় ওষুধ ঐ "ভরসা।"
কিছু করার, করতে পারার, আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার ভরসা,
তাদের মধ্যে বিশ্বাস সঞ্চার করে জয় খুঁজে নেওয়ার।
প্রকৃতপক্ষে যার পরিচয় ঘটে মেধাতে।

ওরাও আসলে যোদ্ধা। 
আমরা যে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নিয়ে এত চিন্তা করে চলেছি,
সেটা আমাদের মনন শক্তি, আমরা রপ্ত করার চেষ্টা করি। 
ডিফারেন্টলি এবল্ড মানুষেরা স্বতস্ফুর্তভাবে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের আধিকারিক।
শক্তি-চিন্তাতে তারা তাদের মতো করে জোর নিয়ে আসতে পারে,
শুধু সেটাকে চিনিয়ে দিতে হয়। 
পার্থক্য কিছুতো নয়, একটা সাধারণ ভাবে জন্মানো বাচ্চাকেও তো 
শুরু থেকে সবকিছু শেখানো হয় আমাদের নিজেদের মতন করে,
তেমন মূক ও বধির বাচ্চাদেরও সাইন ল্যানগুয়েজের প্রশিক্ষণে উন্নত ও যোগ্য করে তোলা যায়।