Saturday, 29 October 2016

আজ আমার কষ্টে তুমি হাসো দীপাবলি।
সৌম্যজিৎ।



দীপাবলি তোমার উৎসবে আমার ঘর আজ আঁধার,
দীপাবলি তুমি আজ আমার মুখে হাসি ফোটাতে পারো নি,
আজ আমার ঘরে প্রদীপ জ্বলেনি, মোমবাতি জ্বলেনি, বাজি পোড়েনি,
যা পোড়ার, যাকিছু পুড়েছে সে আমার মন, আমার হৃদয়,
দীপাবলি আজ তুমি আমার ঘরে আনন্দের উৎস হতে পারো নি।

উৎসব দেখো আমি সেদিন করবো যেদিন আমি নৈতিক জয়ে ভাসবো,
উৎসব সেদিনই হবে যে দিনটা জীবনের উৎসবের জন্য পূর্ব নির্ধারিত,
সেদিন তুমি আমার ঘরে আঁধার আনতে পারবে না দীপাবলি,
সেদিনের আনন্দ আমি তোমার থেকে ছিনিয়ে নেবো ঠিক।

আজ তুমি আকাশে আলোক ঝলকানি হয়ে তারাদের ঢেকে ঝিকিমিকি হাসো,
আজ তুমি আমার চোখের জল দেখে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করো, যতটা করতে পারো,
সেদিন হাসবো আমি, সেদিন আমি তোমার দিকে ঘুরেও তাকাবো না,
সেদিন তোমার সব আলো আমার পিছনে দৌঁড়ে আসবে,
সেদিন আমি তোমাকে নির্বাচন করবো, তোমার কোন আলোকে আমি সাথ দেবো আর -
কোন আলোকে আমি এড়িয়ে যাবো।
আর তো কিছু সময় দীপাবলি,
তুমি হেসে নাও। 

Friday, 28 October 2016


আমি ডুবে যাই এক সকালের অমর ভালোবাসার অতল গভীরে।
সৌম্যজিৎ।


এক অনন্ত কালজয়ী প্রেম,
এক কখনো না ফুরিয়ে যাওয়া ভালোবাসা দৃষ্টান্ত হয়ে আছে আজও -
হৃদয়ে হৃদয়ে।
আজও আমি যখন প্রেমে পড়ি,
আজও যখন আমার মধ্যে ভালোবাসার ঢেউ জোয়ার তোলে,
আমি আমাকে ডুবতে দেখি সেই ভালোবাসার অতল গভীরে,
যে ভালোবাসা তুমি বেসেছিলে স্বার্থহীন,
এক আগুন হৃদয়ে সকাল হয়ে এসেছিলে ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে।

যখন তুমি ভালবেসেছিলে,
যখন তুমি সকাল হয়ে এক প্রখররুদ্রে আছড়ে পড়েছিলে -
ভালোবাসার নরম স্পর্শে তাকে ভেজাবে বলে,
যখন তুমি তার কবিতার টানে উতলা হয়ে থাকতে সবসময়,
যখন তার একটা সই চিহ্ন পেতে তুমি হাত বাড়িয়ে রাখতে অনেক অনেক ভিড়েও,
আমি আমাকে ডুবতে দেখি সেই ভালোবাসার অতল গভীরে।

হৃদয়ের আবেগে ঝড় তুলে,
যখন তুমি ভাসতে চেয়েছিলে সমুদ্রের ঢেউয়ে,
যখন তুমি ব্রহ্মপুত্রের কোলে খেলতে চেয়েছিলে ভালোবাসা আর প্রেম নিয়ে,
যখন তুমি সব লজ্জা, সব বাধা ছিন্ন করে হাঁটতে চেয়েছিলে স্বপ্ন রাজ্যে থাকা মানুষটার সাথে,
আমি বারেবারে নিজেকে ডুবতে দেখি সেই ভালোবাসার অতল গভীরে।

হৃদয়ের প্রতিটা কোণে পাথর চাপা রেখে,
চোখ থেকে অবাধে আসতে চাওয়া কান্নাকে প্রাণপণে আটকে রাখার চেষ্টা করে,
যখন তুমি চিঠি লিখেছিলে কোনো আকাশের ঠিকানার খোঁজে,
যখন তুমি ভালোবেসে মিশে যেতে চেয়েছিলে সেই আকাশের ঠিকানায়,
আমি ডুবে যাই,
ডুবে যাই সব হারিয়ে সেই ভালোবাসার অতল গভীরে। 

স্পর্শ।
সৌম্যজিৎ।


গগনভেদী মায়াজাল ছিন্ন করে এসে দাঁড়িয়েছ সম্মুখে,
উষ্ণ তোমার প্রতিটা স্পর্শ গলিয়ে তরল করেছে হৃদপিণ্ডে জমে থাকা ভালোবাসা।
প্রতিটা চুম্বন স্পর্শ আর শরীরে লেপটে থাকা প্রেম প্রেম গন্ধ -
বাতাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, আমার ঘ্রাণে ঘ্রাণে, গোটা শরীরে নিমজ্জিত হচ্ছে।
চোখের ভাষার সরল দৃষ্টি মুহূর্তে গ্রাস করছে হৃদয় - মন,
বিচলিত প্রাণ নেশার ছুট লাগিয়ে ঘিরে ফেলতে চাইছে তোমাকে এলোপাথাড়ি -
আমার বাহু যুগলে, তৃপ্ত করতে চাইছে অতৃপ্ত তৃষ্ণার্ত বুক।


এক সমুদ্র জল ধরে আছ বুকের মাঝে, খাঁজে খাঁজে,
নিশ্চিন্তে ঠোঁট ছুঁয়ে যাচ্ছে আকণ্ঠ সেই ভাঁজে,
তৃষ্ণা মেটাতে মেটাতেও প্রাণে যে গভীর তৃষ্ণার সঞ্চার হচ্ছে,
অকৃপণ ভালোবাসাতে চেপে ধরে আছ বুক সাগরে আমায় ডুবিয়ে নিতে।





Monday, 24 October 2016

শরীরের উত্তাপ প্রতিটা নিঃশ্বাসে উঠে আসছে,
নাকের কাছে উষ্ণ নিঃশ্বাস আর শরীর বেয়ে ওঠা শীত জ্বরে
ছন্নছাড়া দুর্বল দেহ, একটু হাঁটতেও পা টলমল।
মনে, প্রাণে যে অদম্য জোর অনুভূত হচ্ছে, চলার গতিকে দুর্নিবার ছুটিয়ে নিয়ে বেরাচ্ছে।
হাত, পা, পিঠে ক্লান্ত বোঝ পথরুদ্ধ করতে চাইছে, ততোই
আবেগ তাড়িত প্রাণ বলছে আরও ছোটো,
আরও দৌঁড়োও, দৌঁড়োও প্রাণ যতক্ষণ আছে, দৌঁড়ে চলো,
লক্ষ্য সামনেই, লক্ষ্যপথে কাঁটা থাকবেই,
তোমাকে চলতেই হবে শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা
মানুষটাকে ছুঁতে।
আমি ছুটছি।


********** সৌম্যজিৎ ********** 

Saturday, 22 October 2016

তোমার সাথে বন্ধুত্ব ভাগ করেছি,
ভাগ করেছি মনের সমস্ত আনন্দ, পীড়া,
তোমার সাথে শরীর ভাগেও ভালোবাসা, সম্মান দিলাম,
এই অধিকার শুধু আমার নয়, এ তোমারও।
আমি যেমন খুশি তোমার সাথে যদি করি,
তবে আহ্বান জানাই, তোমার অধিকারে তুমি কখনো সঙ্কুচিত হবে না,
মন, প্রাণ যা চায়, তা তোমার, তুমি নিজের অধিকারে আমায় নিও। 
তুমি যদি সমর্পিত হও,
তবে আমিও তোমাতেই সমর্পিত। 

********** সৌম্যজিৎ ********** 

Friday, 21 October 2016


হৃদয়ে বিপুল তৃষ্ণা।
সৌম্যজিৎ।

হৃদয়ে বিপুল তৃষ্ণা আর প্রাণ হাহাকার করে ওঠা প্রেম,
জর্জরিত একটুখানি অবহেলার আর ভালোবাসার অবকাশে।
স্নেহের ছোঁয়া যেমন তৃপ্ত করে হৃদয়, আবেগকে,
অস্নেহের পীড়া খানখান করে ভেঙে দেয় মুহূর্তেই,
আর প্রাণ হয়ে ওঠে বিভীষিকাময় বেঁচে থাকা,
আগুনের গোলার মতো তপ্ত, দগ্ধ।



Thursday, 20 October 2016


যখন তোমায় বলি, তুমি কি একটুও বিরক্ত হওনা?



যদি বলি ভালোবাসি,
তুমি বিশ্বাস করবে আমি তোমাকে ভালোবাসি।
তোমার কাছথেকে অনেকবার শুনেছি, ভালোবাসা নিও,
ভালো লেগেছে,
ভালোলাগাটা কখনো স্থায়ী হয়নি।
কিছু সময় পরেই আবার সেই ভালোবাসার অপূর্ণতাতে ভুগেছি, ও আবারও
ভালোবাসার কথা শুনতে চেয়েছি।

তোমাকে সবসময়, প্রায়শই বিরক্ত করি,
প্রায়ই তোমাকে আমার মনে যা হয়, খুলে বলি,
তুমি কখনো আমাকে বিরক্তি প্রকাশ করে কিছু বলো নি,
মাঝে মাঝে খুব আন্তরিক হয়েই উত্তর দিয়েছ।
আচ্ছা তুমি কি বিরক্ত হও?

তুমি যখন ট্র্যাভেল করো,
যখন তুমি পার্লারে শরীর চর্চা করাও,
যখন তুমি পার্লামেন্টে বক্তৃতা শোনো, তখনও
আমি তোমাকে মেসেজ করেছি।
তুমি কি কখনো বিরক্ত হওনি একটুও?

নাকি, বিরক্ত হয়েও আমার কাছে প্রকাশ করোনি আমায় স্নেহ করো বলে?

সেদিন যখন তোমার ব্যাগ হারিয়ে গেল,
সেদিন যখন তোমার কম্পিউটার হারিয়ে গেল,
সেদিনও তার কিছু আগে আমি তোমাকে মেসেজ করেছি।
তুমি আমাকে উত্তরও করেছিলে সস্নেহে,
সেদিন তোমার ব্যাগ হারানোর পর আমার খারাপ লেগেছিল,
তুমি কি সেদিন বিরক্ত হওনি একটুও?


আমার যখন পরীক্ষা হয়,
আমি যখন অশান্তিতে ভুগি, তোমায় বলি,
তুমি কোনও না কোনো কিছু একটা বলে আমার চিন্তাকে হালকা করে দাও।
আমি যখন আমার কথা তোমাকে বলি,
তুমি কি একটুও বিরক্ত হওনা?


কি ধাতুতে গড়া তুমি?
সারাজীবন শুধু স্নেহ, ভালোবাসা লুটিয়েই গেলে।
কখনো কখনো মনে হয়েছে এটা তোমার উদারতা,
আবার কখনো যখন তোমার একটুখানি স্নেহ না পেয়ে হাঁপিয়ে উঠেছি,
ভেবেছি এসব নিছকই তোমার ছলনা,
আবার পরে নিজেই নিজেকে বলেছি, তুমি কখনো ছল হতে পারো না।

-সৌম্যজিৎ। 
আজ আমি যা ..
আমাকে গড়েছে অতীতের খারাপ কৃতকর্ম থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা,
খারাপের ফল সবসময় খারাপ হয়না,
খারাপ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা মানুষকে মুক্ত করতে পারে।

- সৌম্যজিৎ। 
বারবার এমনটা কেন হয় তোমাকে খুঁজতে হয়,
একবার এমন কেন নয় যে তুমি খোঁজ করো? 
বাংলা কাঁপিয়ে, ভারত কাঁপিয়ে,
আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া কাঁপাচ্ছে কে রে এ এ .....
ওরে বাঙ্গালি।

দিনে দু পু রে,
ডাকাতি করে,
হৃদয় নাচিয়ে,
ঝড় তুলেছে এ এ এ,
ওরে বাঙ্গালি।




(এটা তোমাকে নিয়ে।)

Tuesday, 18 October 2016

প্রিয় ভালোবাসা,


বেশ কিছুদিন ধরে আমি এক অদ্ভুত নেশা, এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে আছি। প্রেম করছি, হাসছি, খাচ্ছি, ঘুমোচ্ছি, কথা বলছি, ভালবাসছি, খারাপবাসছি সবই একইরকমের চলছে, যেমন চলত আগেও। যেমন চলত আমার আগের সমস্ত প্রেমগুলোতেও। কিন্তু কখনো এমন নেশা আমাকে ঘিরে ধরেনি, এত মায়া আমাকে চেপে ধরেনি। মায়ার টান, লক্ষ্য, ভালোবাসা সমস্ত কিছুই আমি উপলব্ধি করতাম শুধু আমার মেয়েমার জন্য। খারাপ হয়েছি, ভালোও হয়েছি সময়ের সাথে, শুরু থেকেই আবেগ চিরসঙ্গী হয়ে ছিল, সময়ের সাথে সেই আবেগকে আশকারা দিয়েছি নিজের অজান্তেই। যাকিছু হয়েছি, যে মানুষটাকে তুমি পেয়েছ, ভালোবেসেছ, মেয়েমা গড়ে তুলেছে একটু একটু করে আদর্শ ঢেলে।


তোমার গভীরে মায়া আছে, প্রেম আছে। প্রেমের প্রতি তুমি একনিষ্ঠ, সেটা না বলেও আমাকে বারবার বুঝিয়েছ। তোমাকে ভরসা করতে শুরু করেছি, এমন ভরসা যেন আদর্শের পথে, লক্ষ্য পথে আমার যাকিছু প্রয়োজন, সেটা তুমি একাই পূর্ণ করতে পারো। ভরসা হয়, এই লক্ষ্য পথ এখন শুধু আমার নয়, এই লক্ষ্য পথ এখন আমাদের। সেদিন বোনের কাছ থেকে মেয়েমার জন্য যে আবেগ ভরা বার্তা পেয়েছিলাম, সেটা আমার ভরসাকে আরও শক্ত করেছিল। নিজেকে বড্ড পূর্ণ মনে হয় এখন, ভরসা হয় সামনে এগিয়ে যাওয়ার। মনের আনাচে কানাচে বিশ্বাস ভরে ওঠে তীব্র গর্জন তুলে। সহচরী হয়ে থেকো পাশে। ভালোবাসা নিও, ভালবেসো।

                                                                                              শরৎ



Monday, 17 October 2016


প্রিয় কলকাতার উত্তর।

উৎসর্গ - একনিষ্ঠ কলকাতা প্রেমিককে।

কলকাতা যেমন ছিল, তেমনই আছে,
তেমনই আছে হাওড়া ব্রিজ, নন্দন, ভিক্টোরিয়া,
যেমন বিকেল, সন্ধ্যায় প্রেম করত প্রেমিক প্রেমিকারা গড়ের মাঠে,
চুমু খেত একে অপরকে অবাধে,
আজও কলকাতা সেভাবেই ভালো আছে।
ভালো আছে কলকাতা তার একনিষ্ঠ প্রেমিককে ছাড়া,
সেই এক প্রেমিক যার কণ্ঠে কলকাতাকে নিয়ে সবসময় আবেগ ঝরে পড়ে,
সেই এক প্রেমিক যে তার ভালোবাসার কলকাতা থেকে -
লজ্জা, অপমান, গ্লানি নিয়ে বিতাড়িত হয়েও আজও কলকাতাতেই মিশে আছে -
বহুদূরে থেকেও, মিশে আছে কলকাতার ঐতিহ্যকে হৃদয়ে নিয়ে,
অজস্র যন্ত্রণা হৃদয় ফুটে বেরিয়ে আসে যার বুক থেকে,
শ্যামবাজারের ছোট্ট সেই রেস্টুরেন্টটাকেও যে আজও মনে রেখে দিয়েছে স্মৃতির কোণে,
কলকাতা ভালো আছে তার সেই একনিষ্ঠ প্রেমিককে ছাড়া।

ট্রামলাইনের ধার ঘেঁসে হাঁটতে চেয়েছিল সে সমস্ত জীবন,
নজরুলমঞ্চ, স্টার থিয়েটার, বইপাড়াতে ঘুরে সাধারন জীবনের স্বাদ পেতে চেয়েছিল সে,
স্বাদ পেতে চেয়েছিল কলকাতার বুকে ঘুরে বেড়িয়ে প্রেম করার, আজীবন,
তার সমস্ত হৃদয় জুরে শুধু প্রেম আর প্রেম, কখনো ইট পাথরের মতো কঠিন যুদ্ধ সে চাইনি,
ঠিক যতটা প্রেম সে কলকাতার বুকে খুঁজে পেতে চেয়েছিল,
ঠিক ততটা হিংসা, ততটাই ঘৃণা সে পেয়েছে তার ভালোবাসার শহর থেকে।
কলকাতা কখনোই শুধু একটা শহর হয়ে থাকেনি তার কাছে,
কলকাতা নামটাই তার বুকে আবেগ গর্জন করে বৃষ্টিপাত ঘটায়,
কলকাতা কখনোই তার পর নয় বরং পর হয়ে গেছে সে কলকাতার চোখে,
প্রতিটা ভাষাতে, প্রতিটা উচ্চারণে, প্রতিটা পাতাতে, প্রতিটা লেখাতে সে -
শুধুই সত্যিকে তুলে ধরেছিল,
মানুষের অনুভূতিকে আঘাত করতে নয়, সে চেয়েছিল মানুষকে সচেতন করতে,
একে অপরের অনুভূতিকে সম্মান করাতে,
কলকারখানার দূষিত বাতাসে ভরা কলকাতা তার এই মুক্ত আবেগকেই সম্মান জানাতে পারেনি,
অসম্মান করে, হৃদয়ে শেল বিঁধিয়ে রক্তাক্ত করে তাড়িয়ে দিয়েছিল,
আজীবন সে কলকাতার,
কলকাতা তার কখনোই হতে পারেনি।


প্রিয় কলকাতা তোমাকে ছাড়া ভালো আছে,
ভালো নেই তুমি ...


কলকাতাবাসী এই ছোট্ট হৃদয়ের মানুষটা তোমার অপেক্ষা করছে। সমস্ত আদর্শ, সমস্ত ভালোবাসাকে গায়ে মেখে, মনে মেখে দুহাত বাড়িয়ে আছে তোমায় ফিরে পেতে। তুমি ফিরবেই, ফিরবেই।


শ্রাবণ, বৃষ্টি, তুমি।
সৌম্যজিৎ।

উৎসর্গ - মেয়েমার স্নেহকে।


শ্রাবণ ঝরছে, বৃষ্টি পড়ছে,
উড়ছে আঁচল মেলা,
কপাল বেয়ে আসা ভেজা চুল, আর দুহাত মেলে ধরা।
নতুন বৃষ্টি, নতুন গন্ধ,
অচেনা মেঘের দল,
বয়ে দিয়ে যায় শান্ত হৃদয়ে,
শ্বাস প্রাণচঞ্চল।
শ্রাবণ প্রেমে মেতেছ তুমি, বৃষ্টিতে করেছ খেলা,
চারিদিকে পথ শূন্য বহুদূর,
শুধু তুমি আর শ্রাবণের খেলা।
বৃষ্টিরা আজ চিনেছে তোমায়, পেয়েছে তোমার স্নেহ,
যদি হতাম সেই বৃষ্টির কোনো এক ফোঁটা,
তবে ছুঁয়ে যেতাম তোমায়, ছুঁতাম ভেজা আঁচল,
তোমার মমতা ভরা স্নেহ।




























Thursday, 13 October 2016

লক্ষ্যপথ।
সৌম্যজিৎ।

উৎসর্গ - আদর্শের স্রষ্টা তসলিমা নাসরিনকে। 


তোমাকে দেখে আমি চলতে পারি সব ভয়, সব বাধা পেরিয়ে,
দিগন্তের পাড়ে তুমি দাঁড়িয়ে আছ দুহাতে আদর্শের বরণ থালা সাজিয়ে -
আমায় স্বাগত জানাতে,
দূর থেকে একটা লক্ষ্য আমি দেখতে পাচ্ছি - তোমাকে, আমার গন্তব্য,
মাঝখানে এবড়ো খেবড়ো পথ, কোথাও ফাটল ধরা মাটি, কাঁকর বিছানো জমি,
সবকিছু অলক্ষ্যে- আমার চিন্তার বাইরে, শুধু লক্ষ্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে তুমি। 
চড়ায় পথ আমাকে ভাবায় না, কাঠিন্যতা আমাকে চোখ রাঙাতে পারেনা,
আমি ভয় পাইনা কোনো দুর্গম অরন্যকেও,
খরা বা বন্যাও আমাকে থামাতে পারবে না,
মৃত্যুরও এত সাহস হয়নি আমার ইচ্ছাশক্তিকে হারিয়ে তোমার লক্ষ্যে আমাকে থামিয়ে দেয়,
লক্ষ্য পথে যখন তুমি, তোমার আদর্শের শক্তি আমাকে টেনে নিয়ে যাবে তোমারই দিকে,
ঝড়ের গতিতে, অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে।
ভেঙে চুরমার করে দেবো অরাজক রাজনৈতিক শৃঙ্খল,
ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবো ধর্মীয় অধর্মের নীতি,
মাঝপথে যা'কিছু আসবে, বাধা হবে, 
ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে আমার লক্ষ্য পথেই।


জীবনের মুক্তি আমার তোমার ছোঁয়াতে,
আমি আসবোই,
তুমি সামনে দাঁড়িয়ে থেকো। 

Wednesday, 12 October 2016


প্রথম তুমি।
সৌম্যজিৎ।


নন্দনে গাছতলাটাতে বসে অপেক্ষা করছিলাম সেদিন,
অপেক্ষা করছিলাম আর বারবার মোবাইলের ক্যামেরাতে চোখ চলে যাচ্ছিল,
দেখছিলাম যদি প্রথম দেখায় আমাকে খারাপ লাগে তোমার,
বারবার এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করছিলাম, বারবার মুখে নানারকম হাসি দিয়ে
একটু সহজ হওয়ার চেষ্টা করছিলাম,
এসবের ফাঁকে বারবার ঘড়ির দিকে চোখ চলে যাচ্ছিল, সময় এগিয়ে আসছে, -
এগিয়ে আসছ তুমিও একটু একটু করে আমার দিকে,
মনে মনে দিনের আলোতেই নানান কল্পনাতে ভাসছিলাম, হাসছিলাম।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠতেই অস্থির হয়ে যাই,
এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি গোটা শরীর, মন দিয়ে বয়ে গেল,
আমি এদিক ওদিক তাকিয়ে তোমাকে খুঁজতে থাকি, ভাবতে থাকি -
কেমন হবে তুমি, কেমন হবে আমাদের প্রথম দেখা, কেমন হবে আমাদের প্রথম কথা!
তুমি কি আমাকে পছন্দ করবে ওই প্রথম দেখাতেই!
তুমি কি ভালবাসবে আমাকে!
ফুলের গোছাটা নিয়ে বারবার এহাত ওহাত করে দেখছিলাম, ভাবছিলাম কিভাবে ধরবো,
কিভাবে ওটা তোমার হাতে দেবো, আরও কতকিছু ...


তুমি যখন এলে, দূর থেকেই গাছতলাটাতে বসে আমি চিনে নিয়েছিলাম,
তখন একটাবারের জন্যও মনে হয়নি তুমি নতুন একজন,
একটাবারের জন্যও আর মনে হয়নি আমাদের প্রথম দেখা হচ্ছে,
সবুজ শাড়িটাতে খুব সুন্দর লাগছিল দূর থেকে, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম,
হাসছিলাম, অজান্তেই হাত নেড়ে তোমাকে বলছিলাম - আমি এখানে।
হাসতে হাসতে তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়ালে, আমি তোমার পাশে হাঁটতে হাঁটতে -
বারবার তোমার হাতে হাত ছুঁয়ে দিচ্ছিলাম।
ক্যাথেড্রালে ঢুকতেই বাতাসময় ছাতিমের গন্ধে তোমার নেচে ওঠা মনটা
আমি দেখতে পাচ্ছিলাম সেদিন।
শরীর ভেদ করে যেন তোমার মনটা আমার চোখের সামনে,
যেন সাদা পর্দার ওপারে আমি এক ছায়াছবি দেখতে পাচ্ছি।
ক্যাথেড্রালে প্রথম তোমার পাশে, খুব কাছে গিয়ে বসি,
ফিসফিস করে বলে ওঠা কথাগুলোতে যেন দুজনের নিঃশ্বাস দুজনের চোখে -
মুখে একাকার হয়ে যাচ্ছে,
ক্যাথেড্রাল হলঘরটাতে আমার মুক্ত বাতাসের ঘ্রাণ আমি তোমার থেকেই পাচ্ছি,
তোমাকে দেখছি, হাসছি, তোমার শরীরের গন্ধটা উপভোগ করছিলাম।


আরও কাছথেকে তোমাকে পেতে ইচ্ছা করছিল,
আরও কাছে তোমাকে ধরতে ইচ্ছা করছিল,
আরও কাছে, আরও চেপে, খুব জোরে চেপে ধরতে মন চাইছিল।
হাত ধরে পাশাপাশি ভিক্টোরিয়া যাওয়ার পথে -
ছাতিম গাছগুলো যেন আমাদের অভিনন্দন জানাচ্ছিল সেদিন,
অভিনন্দন জানাচ্ছিল মেঘলা আকাশ কেটে গিয়ে হটাৎ করে আসা রৌদ্রের আলোক,
অভিনন্দন জানিয়েছিল রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা হিজড়ে মাসিরাও,
দুহাত ভরে স্বাগত জানিয়েছিল ইতিহাস বহনকারী ভিক্টোরিয়ার গেট।
ওই পাখিদের সাক্ষী রেখে, গাছগুলকে সাক্ষী রেখে,
সমস্ত প্রেমিক-প্রেমিকাদের সাক্ষী রেখে, আকাশ, সূর্য, মেঘকে সাক্ষী রেখে,
লজ্জার বাধ ছিন্ন করে তোমার ঠোঁটে আমার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়েছিলাম,
লজ্জায় তুমি গুটিয়ে গেছিলে লজ্জাবতি লতার মতো,
আমি তোমার পিঠে মাথা রেখে চুমু খেয়ে যাচ্ছিলাম অনবরত,
তোমাকে কোলের মধ্যে চেপে ধরে চুমু খেয়েছি যেমন ইচ্ছা তেমন খুশি,
তোমার কোলে মাথা রেখে শান্তির শয়নে কাটিয়েছি কিছু মুহূর্ত,
আমার চেতনাজুরে তোমার ছোঁয়া লেগেছিল সারাক্ষণ।


জুরে থাকবো ততদিন যতদিন নিঃশ্বাস পড়ে,
জুরে থাকবো এভাবেই ততদিন যতদিন আমি ভালোবাসার পূর্ণতা বুঝতে না পারি,
পাশে থেকো তুমি আমার সাহস হয়ে,
ছুঁয়ে রেখো সমস্ত চেতনা জুরে,
ভালোবেসে ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রেখো সযত্নে,
আমি তোমাকেই আঁকড়ে রাখবো আজীবন। 

Sunday, 9 October 2016




বুড়ো অশথ্বের মতো প্রাণ আজ নিষ্প্রাণ
হতে হতেও একটু একটু করে সময় গুনছে দূর পানে চেয়ে এক গন্তব্যের লক্ষ্যে,
ইচ্ছামৃত্যু তো পেয়েছিল দেবব্রত ভীষ্ম শিখণ্ডী'কে জন্মান্তরে মুক্ত করতে,
আরেক প্রাণে সাহস আছে লড়াই করার, আমরন,
ব্যর্থতাকেও সঙ্গী করে সাফল্যের লড়াই শেখার,
আরেক প্রাণেও যুদ্ধ আজও বেঁচে আছে নিরন্তর আঘাত সহ্য করার,
প্রাণে অদম্য যে সাহস -
একটু একটু করে অস্তগামী হতে হতে বাঁচিয়ে রেখেছে এক লক্ষ্য পথে,
আদর্শের নামে অগ্রসর হওয়া এক পথিক যোদ্ধা'কে।
শুরু চাই একটা,
শুরু চাই এক বাতাস প্রাণ নিয়ে, সম্মোহনের শৃঙ্খল চূর্ণ করে,
দুর্বার গতি নিয়ে,
এখনই এক শুরু চাই, এক রুদ্ধশ্বাস জয়ের ঘ্রাণ পেতে।


অগ্নি উৎসকে বুকে নিয়ে পথ চলেছি,
অগ্নি উৎসকে আদর্শ করে আদর্শ শিখেছি,
অগ্নি উৎসের রুদ্ধশ্বাস লড়াইকে আজ ধারণ করেছি হৃৎপিণ্ডের প্রতিটা কুঠুরিতে,
শেষ গন্তব্যে না পৌঁছে আমি মুক্ত হবো না।


********** সৌম্যজিৎ ********** 

Saturday, 8 October 2016

প্রেম মাথায় চেপে বসেছে। হাবুডুবু খাচ্ছি। আগে মনেহয় এমন অনুভূতি আসেনি। পড়াশোনা কিছু হচ্ছেনা, সারাক্ষণ উল্টোপাল্টা চিন্তা মাথাতে চলে আসছে। অদ্ভুত রকম নেশা ঘিরে ধরেছে। সকাল বেলাতে অস্থির হয়ে উঠেছিলাম আজ, একটুখানি কথা বলার জন্য, একটুখানি গলার আওয়াজ শোনার জন্য। প্রেম আমি সবার সাথেই করি, সবাইকে ভালোবাসি। কিন্তু এমনভাবে দুর্বলতা চারপাশ থেকে কখনো ঘিরে ধরেনি, এ যেন ঠিক রামের নেশার থেকেও মারাত্মক কোনো নেশা।  একটা সময় একদিন রাম পান না করেই কাটাতে হবে এটা মনে হলেই কেঁপে উঠতাম। এখন তো কতদিন কেটে গেছে রাম পান করিনি, কিন্তু প্রেম এমন ভাবে শরীর, মনকে অবশ করে ফেলছে, যেন মনে হচ্ছে একটুখানি কথা না বললে মরে যাবো। ভালোবাসা খুব বাচ্চা একটা মেয়ে, ওর কথাগুলো খুব সহজ, সরল। প্রতিটা কথাতে বাচ্চাদের মতো আবদার ঝরে পড়ে। এই সহজ, সরল, বাচ্চাদের মতো করে কথাগুলো যেন সবসময় শুনতে ইচ্ছা করে। এই কথাগুলোতে যে কি তৃপ্তি পাওয়া যায়!! অনেক চাপে পড়লে যখন আমি অস্থির হয়ে উঠি, তখন মেয়েমার সাথে একটু কথা না বলতে পারলে ভেঙে পড়ি, ঠিক তেমনই যখন ভীষণ ক্লান্ত হয়ে উঠছি তখন ভালোবাসার কথাগুলো যেন শরীর, মনে নতুন কোনো বাতাস লাগার মতো করে উজ্জীবিত করছে আমাকে। 

Friday, 7 October 2016


ভালোবাসার অর্থ।
সৌম্যজিৎ।

ভালোবাসা এক অদ্ভুত নেশা,
দুটো সত্যিতে সুখের ছোঁয়া, সত্যি সে হোক ভালো বা খারাপ,
শান্তি ঠাই নেয় বুকের মাঝে।
ভালোবাসা তখন অভিশাপ লাগে,
যখন মিথ্যের বীজ অঙ্কুরিত হয়,
যখন বাসা বাঁধে সন্দেহের বীজ মিথ্যের গড়া জালে,
ভালোবাসা তখন হাঁসফাঁস করে অনিশ্চয়তার ঘেরাটোপে।
ভালোবাসা মানে বন্ধুত্ব, একে অপরের সুখের দুঃখের,
ভালোবাসা মানে একে অপরের শক্তি হওয়া, কমজোরি জায়গাগুলোতে প্রলেপ দেওয়া,
ভালোবাসা মানে একে অপরের কাছে আসা, শরীরে মনে মিশে যাওয়া,
মিথ্যে সে হোক ছোট বা বড়, মিথ্যে তবে নিষ্প্রয়োজন।
ভালোবাসা বাঁচতে শেখায়,
প্রাণ খুলে হাসতে শেখায়,
ভালোবাসা ভরসা আমার, যেমন দেখি তোমার চোখে আমার প্রতিবিম্ব।
সত্যি'তে মিশে থেকো, ভালোবাসাকে সম্মান করে,
ভালোবাসি তোমায় আমি,
ভরসা রাখি, যেমন ভরসা আমি নিজেকে করি।

(এই ভরসা বেঁচে থাকুক তনুশ্রী।)
চোখের দৃষ্টিতে যে কোন অদ্ভুত নেশা আমার চেতনাকে গভীরতায় আচ্ছন্ন করছে,
ঠোঁটের কোণা থেকে ফুটে ওঠা হাসিটা কাছে টানছে বারেবারে,
আমি সম্মোহিতের মতো এক তীব্র মোহের মায়াজালে আটকে পড়ছি,
এ কখনো প্রেম নয় বা প্রেমই, আমাকে নিক্ষেপ করছে ভূতলে অতল গভীরে, অনায়াসে। 

Thursday, 6 October 2016


নির্বাসন।
সৌম্যজিৎ।

উৎসর্গ- নির্বাসিত লেখিকাকে।

সত্যিকে ওরা মানতে পারে না,
সত্যিকে ওরা জানতে চাইনা,
সম্মোহনের শক্তিতে মাতালের মতো অচৈতন্য হয়ে পড়ে থাকতে চায় যুগের পর যুগ,
গায়ে গোঁড়ামির বোটকা গন্ধটা তীব্র নাশকতা ছড়িয়ে বেড়ায়।


দেশ ছাড়া, আপন ভিটে মাটি ছাড়া হয়ে গেছি,
সত্যি বলতে যে জোর লাগে তাকে আদর্শ করে, কোনো লুকোচুরি না করে
লিখেছি, বলেছি, তুলে ধরেছি,
ভালো, মন্দ যা'কিছু ছিল সব বলেছি,
ওরা মানতে পারেনি।
দর্পণে নিজেদের প্রতিবিম্ব দেখে, কুৎসিত চেহারার যে ভাবমূর্তির পরিচয় -
ওরা পেয়েছিল আমার লেখাতে,
গায়ের জোরে ক্ষমতা দেখিয়ে নষ্ট করতে চেয়েছে প্রতিটা পাতা, প্রতিটা লেখা।


নির্বাসিত আমি,
নির্বাসন হয়েছে আমার জন্মভূমি থেকে,
নির্বাসন আরেক বাংলা থেকেও।
কখন রাত আসে বা কখন দিন তার হিসেব ভুলে যাই,
ঘুমহীন, ক্লান্ত চোখে তাকিয়ে সামনে টেবিল ল্যাম্পের নিচে রাখা ডায়েরিটাতে -
মুখ গুঁজে লিখতে থাকি, কখনো পুরোনো স্মৃতিগুলোকে রোমন্থন করি,
আবার ভাবতে থাকি কি এমন করেছিলাম, শুধু সত্যিকে সাধারণভাবে তুলে ধরেছিলাম -
এক আদর্শের নেশায়,
ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে থাকি,
মাথাতে কিছু আসতে চাইনা।
আমার মেয়েটা যদি এখন থাকত, ওর সাথে কথা বলতে পারতাম,
খেলতে পারতাম, হাসতে পারতাম।
বাংলা ভাষা বলার মতো একজনও পাইনা,
বাংলা ভাষা আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে সকাল -দুপুর -
বিকেল, রাতের বেলাতে ঘুমের মাঝেও,
মিনুটা যদি থাকত,
ওর সাথে আমি বাংলায় কথা বলতে পারতাম,
কাঁদতে পারতাম, গাইতে পারতাম, বুকের মাঝে জড়িয়ে ওকে ঘুম পাড়াতাম।


তুমি অপেক্ষা করো আমার বাংলা,
আমি ফিরে আসবো তোমার বুকে আবার,
তুমি অপেক্ষা করে থেক কলকাতা,
অপেক্ষা করো রওডন স্ট্রিটের বাড়িটা,
তোমরা অপেক্ষা কর দুহাত ভরে আমায় ফিরে পেতে,
আমি একদিন ফিরবো আবার তোমাদের বাংলায়,
বাংলা আমার জন্মগত অধিকার।





Wednesday, 5 October 2016

আবেগ।
সৌম্যজিৎ।


এক মহাকাশ স্নেহ পেলে,
প্রাণে আমার বাতাস লাগে,
এক সিন্ধু ঢেউ উঠলেই
হৃদয় তখন নেচে ওঠে,
এক আঁচলেই খুঁজি জীবন,
এক গভীরেই মুক্ত দিশা,
এক সাগরেই উথালপাতাল,
পর্বত সম ভালোবাসা।


হৃদয় জুরে গ্রহন আজ,
জোছনার চাঁদ লুকিয়ে গেছে,
অন্ধকারের কালো আলোতে
ভালোবাসাও গুটিয়ে গেছে।


কোথায় গেলে পাই গো আমি, কোথায় তোমার স্নেহখানি,
আঁচল কি আজ বেঁধে রেখেছ শাড়ির ভাঁজে গুটিয়ে  .....

এক মহাকাশ স্নেহ পেলে,
প্রাণে আমার বাতাস লাগে,
এক সিন্ধু ঢেউ উঠলেই বুঝি
হৃদয় তখন গেয়ে ওঠে ...

Sunday, 2 October 2016

খাদ মুক্ত হও, মোহ মুক্ত হও, প্রেম মুক্ত হও বাইরে,
অন্তরে করো প্রেম হৃদয় পুড়িয়ে,
নির্জাস বার করে তুলে ধরো।
খাঁটি সোনা ফলবে হৃদয়ে হৃদয়ে,
সাড়া পাবেই গভীর সম্মানে,
হাতে হাতে নাইবা ধরলে হাত,
সময় ভরিয়ে দেবে।
তুমি অপেক্ষা করো হৃদয় পুড়িয়ে,
তুমি অপেক্ষা করো হৃদয়ে হাত রেখে ...


********** সৌম্যজিৎ **********

দেশ মানে মানুষ। মানবিকতাকে সম্মান করাই দেশভক্তি।


উরি হামলা ও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে সীমান্তে যখন ভারত ও পাকিস্তানের আবহাওয়া গমগম করছে, দেশের শীর্ষ স্থানে থাকা শিল্পীরা, রাজনীতিবিদরা মুখ খুলেছেন তাদের ব্যক্তিগত অভিমত নিয়ে। অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে সীমান্ত থেকে বহুদূরে দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাবানদের মধ্যে এবং খবরের পাতাগুলোতে রোজ গরম গরম খবরে ছেয়ে যাচ্ছে।


পাকিস্তানের শিল্পী ফাওয়াদ খান, মাহিরা খান'দের যখন ভারত থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হচ্ছে, তখন জনপ্রিয় বলিউড তারকা সলমন খান পাকিস্তানের শিল্পীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান, দাবি করেন, তাঁরা শিল্পী, জঙ্গি নন। সরকারি ভিসা নিয়ে এ দেশে আসেন তাঁরা। মানবিক বিচারে সলমনের এমন মন্তব্যকে সমর্থন করছি। যুদ্ধ, রাজনীতি, ব্যবসা এসব দিয়ে শিল্প, বিজ্ঞানকে কখনো আটকানো উচিৎ নয়। সলমনের এমন বক্তব্যে বিতর্ক ধেয়ে আসে এই বলিউডি তারকার দিকে। প্রশ্ন ওঠে, এ দেশের ছবিতে কাজ করে অর্থ ও খ্যাতি উপার্জন করলেও কেন পাক শিল্পীরা ভারতে একের পর এক পাক জঙ্গি হানায় মৃতদের জন্য ন্যূনতম শোকপ্রকাশেও রাজি নন। গায়ক অভিজিৎ, রাজ ঠাকরের টুইট বোমা আছড়ে পড়ে সলমনের মন্তব্যের পরই। অভিজিৎ বলেন, "Fawad Khan shows true patriotism towards his country Pakistan whilst bollywood Salman Khan is ashamed to show loyalty to India."   রাজ ঠাকরে বলেন, " ভারতীয় সেনাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনও ব্যক্তিগত দুশমনি নেই। যে বুলেট রোজ তাঁদের গায়ে বেঁধে, তা ‘ফিল্মি’ নয়। সিনেমায় তো সলমনের গায়ে বুলেট লাগার পর তিনি উঠে দাঁড়ান। এতই যদি তাঁর পাকিস্তানের প্রতি দরদ, তাহলে সেখানে গিয়েই তিনি কাজকর্মের চেষ্টা করুন।"  এমনকি সলমন এমন মন্তব্য করে মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার রোষের মুখেও পড়েন। 


"দেশ মানে মানুষ" আশির দশকে এমন মানবিক উক্তি তুলে ধরেছিলেন তসলিমা নাসরিন। অত্যন্ত মানবিক উক্তি, সত্যি সোজা ভাষায় সবার সামনে তুলে ধরার জন্য সবসময় বিতর্ক ধাওয়া করেছে এই লেখিকার দিকে। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো শিল্পীর বা সাধারণ মানুষের নির্বাসন, রাজনৈতিক বা ধর্মীয় কারণে কর্মস্থল থেকে বিতাড়নকে সমর্থন করিনা। রাষ্ট্রদ্বন্দ্ব রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, সামরিক দ্বন্দ্বের সাথে শিল্পের কোনো সম্পর্ক নেই, শিল্পীরা চুক্তিবদ্ধভাবে এদেশে কাজ করছেন, তাই তাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে দেওয়া উচিৎ। রাষ্ট্রদ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু সেনারায় হননা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের সাধারন মানুষও। তাই যুদ্ধকে কখনোই সমর্থন করিনা। রাষ্ট্রদ্বন্দ্ব রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশৃঙ্খলতার ফসল। মানবতাবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের সাথে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রের সাথে কখনোই জড়িত নন।  তিনি সবসময় সত্যকে, বাকস্বাধীনতাকে, মানবিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। তার সমস্ত লেখাগুলোতে আমরা সেসবের পরিচয় পেয়েছি বারেবারে। সলমন খান যখন পাকিস্তানি শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়ে একা সমস্ত বিতর্ককে উপেক্ষা করে নিজের মন্তব্য তুলে ধরেছেন, আমি তার এই সাহসকে কুর্নিশ জানাই। কিন্তু মানবিক অধিকার ও সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যখন লেখিকা তসলিমা নাসরিন ভারতীয় সরকারের কাছে লাঞ্ছিত, প্রাক্তন ও বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার যখন তার লড়াইকে ম্লান করে দিতে সবরকম ভাবে অমানবিক চেষ্টা করে গেছে ও করছে, যখন সিপি আই এম সরকার লেখিকার গায়ে পর্যন্ত হাত দিয়ে ভারতীয় সংবিধানের সমস্ত নীতিকে লঙ্ঘন করে দেশের সংবিধান ও দেশবাসীকে লজ্জার মুখে ফেলেছিল, তখন কোনো একজন ইনফ্লুয়েনশিয়াল ব্যক্তিও মানবিকতার খাতিরে নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে লেখিকার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। তসলিমা নাসরিনও কোনো দেশীয় বা আন্তর্জাতিক টেররিস্ট নন তবু তার লেখা বইকে পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে তার লেখা দ্বিখণ্ডিত মুক্তি পেলে, রাজনৈতিক ইগোর জালে আটকা পড়েন এই লেখিকা ও নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে নির্বাসিত হন। 


আমার কাছে দেশ কোনো কাঁটা তারের সীমানা নয়, আমার কাছে দেশ মানে মানুষ, দেশ ভক্তি মানে মানবিকতাকে সম্মান করা। আজ যারা দেশ ভক্তি নিয়ে তর্ক করছে, বড় বড় লেকচার দিচ্ছে, সেদিন তারা কোথায় ছিল যখন লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাথে অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল, তার লেখাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তাকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল। হাওয়ার অনুকূলে সবাই কথা বলতে পারে, কথা বলে প্রচারের আলোতে উঠে আসতে পারে খুব সহজেই। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সবাই করতে পারেনা। এরা কেউ দেশভক্ত নয়, হতে পারেনা। 

২/১০/২০১৬। 
সৌম্যজিৎ।

Saturday, 1 October 2016

প্রেম যতক্ষণ প্রেম থাকে,
ততক্ষণ সুখ থাকে,
প্রেম ভালোবাসা ও ভালোবাসা থেকে দুর্বলতা হলে -
ক্ষত করে মনকে বারেবারে। 

********** সৌম্যজিৎ ********** 
অন্তরালে পাড়ি দিই স্বপ্ন ছুঁতে।
সৌম্যজিৎ।

একলা বসে আমি হারিয়েছি দিগন্তে,
তোমার সাথে ভেসে পক্ষীরাজের যান উড়িয়ে,
মেঘের দেশে শীতল বাতাসে বাতাসে -
ছোঁয়া লেগে যায় কোন এক মিলন স্পর্শের অভিলাষে।

আমি অপেক্ষায় আকুল চিত্তে,
এক মুহূর্তের আগমনের দিকে,
না জানি কেমন সে হবে
যখন প্রথম ছোঁয়া শরীর বয়ে যাবে,
না জানি কেমন সে অনুভূতি মনে উদিত হবে
যখন প্রথম দেখা হবে দূর থেকেই, কাছে আসার পথে।

তুমি দাঁড়িয়ে থেক খোলা চুলে,
নীল রঙের সাজে,
আমি দূর থেকে খুঁজে নেবো সেই রঙ
যে অনেক ভিড়ে এক টুকরো অপরাজিতা।
তুমি হেসো দেখে, নানা কল্পনায় ভেসে,
পাগলের মতো হেসো,
প্রাণ খুলে হেসো,
আমি তোমাকে চিনে নেবো আমারই মনের অন্তরালে।