Monday, 20 November 2017

"তোমার সাথে দেখা হওয়ার প্রেম নেই, মাঠের বা ঘাটের প্রেমও কখনো হয়নি, তবু যে প্রেম আমার হয়েছে তোমার প্রতি তা তোমার তীব্র অপ্রেম আচরনেও আমাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করে বারেবারে।"

- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 17 November 2017

ছন্দটা আজকাল আসতে চায়ছে না।
কোথায় হারিয়ে গেল বলো তো! 
আকাশে মেঘ হচ্ছে, বৃষ্টি পড়ছে, 
শীতও নিজের সময় ঠিক করে এসে গেছে,
কিন্তু মনের ছন্দটা!
সে কোথায়!
আজকাল কি সে ঘুমিয়ে আছে নাকি
আমায় ছেড়ে চলে গেছে বা হারিয়ে গেছে চিরতরে! 
প্রেম প্রেম করে সারাজীবন তো মাথা খুঁটে মরেছি, 
একটু স্নেহ পেতে হাপিত্যেশ করেছি,
আজকাল হাঁপিয়ে উঠেছি।
প্রেম আমাকে ছায়া - মরীচিকা দেখিয়ে ভ্রমে ফেলেছে আর
স্নেহ আমাকে অপেক্ষা করিয়ে করিয়ে ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিয়ে গেছে,
ধরা কেউ দেয়নি। 
আজকাল বড্ড স্বার্থপরের মত মনে হয় আমাকে,
আজকাল মনে হয় প্রেম, ভালবাসা যা'কিছু আমি ধারণ করতাম,
সবকিছু থেকে কতদূরে চলে যাচ্ছি!
মনের মধ্যে রঙিন যে কল্পনাগুলো যখন তখন বাসা বাঁধত, 
স্থান, কাল, পাত্র না দেখে, না বুঝে হুটহাট চলে আসত,
হোক না সে কল্পনা,
তবু সে জানান দিত প্রেম আছে, ভালবাসা আছে, স্নেহ আছে।
আজকাল অনুভূতির দরজায় পর্দা পড়েছে,
আজকাল ওই যে সেই রঙিন কল্পনাগুলো আর মনে বাসা বাঁধে না,
আজকাল আর আমার মধ্যে আমি প্রেম খুঁজে পাইনা। 
ভয় হয় বড্ড।
আমি যেন প্রেমহীন হয়ে, ভালবাসাহীন, স্নেহহীন হয়ে -
ধ্বংসাত্মক হয়ে না পড়ি।
আজকাল তো নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারিনা,
যে ভালোর শক্তি আমাকে ধরে রেখেছিল, সেটাও 
আলগা হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে।
আজকাল কবিতা আসতে চায়না,
যা আসে, যেটুকু আসে তা শুধু রাগ, ঘৃণা ..
আর একদৃষ্টে অপেক্ষা করে যাওয়া এক সতেরই মার্চের।  

- সৌম্যজিৎ। 

Wednesday, 15 November 2017

চুপচাপ বেঁচে থাকার চেয়ে
ঝড়, তুফান তোলাই জীবন।
অবহেলিত মানুষই বোঝে
তুফানি ভালবাসা কতটা সেক্সি!

- সৌম্যজিৎ। 

Tuesday, 14 November 2017

অচেনা শহরে খুঁজে খুঁজে বেড়াই
সবুজ, হলুদ, কমলায় মেশা স্বপ্নকরবী তোমায়,
প্রাণে তোলো হাহাকার,
ঝংকার,
নজরুল ফোটে -
শব্দে বাতাসে,
মহুয়া তোমার ঠোঁটে। 


আকাশ ভাঙা গান তুমি গেয়ে চলো সমুদ্রতীরে,
বৃষ্টিরা ওরা ভালবেসে মাখামাখি হয় তোমার সুরে,
না, না, না আমি যাবো না দূরে,
রবো পথে ঘাটে এখানেই ..
যদি পাই দেখা,
ছুঁয়ে যাবো পলকের নিমেষে,
জানি হবে না মন ছোঁয়াছুঁয়ি .. 


না, না, না আমি দেবো না ধরা,
যদি হয় প্রেম,
আমি পান করে নেবো হৃদয়ের গোপনে,
যদি তবু ছুটে যাই তোমা দিকে চেয়ে, 
আমি পার হয়ে যাবো তোমায় পাশ কাটিয়ে,
পিছু ফিরে তাকাবো না তবু ..
যদি থমকে যাই,
যদি পালাতে না পারি তবে
নিশ্চিত মৃত্যু লেখা আমার
তোমার ওই সুরের কম্পনে ..


- সৌম্যজিৎ। 
ভিড়ের মাঝে একা হয়েছি,
একাকীত্বে ভুগেছি কত রাত,
কত দিন!
একাকীত্বেও থেকেছি সবার হয়ে,
সবার জন্য,
একটুখানি বাঁচতে চাওয়া এখন
শুধু নিজের জন্য।

- আমি সৌম্য।  

Sunday, 12 November 2017

মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ডেঙ্গুকে ডেঙ্গু বলতে শিখুন। রাজ্যের হাল বেহাল হয়ে পড়ছে ডেঙ্গুর আক্রমণে, মানুষ চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, ডেঙ্গুজ্বর হলে সেটাকে ডেঙ্গু বলতেই ভয় পাচ্ছে আপনার প্রতিক্রিয়ার রোষে পড়বে ভেবে। ডাক্তাররা পর্যন্ত মুখে কুলুপ আঁটছে তারা বরখাস্ত হতে চাননা ভেবে। রাজ্যের বিধানসভা ভোটে আপনাকে ভোট দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে কারণ মানুষের আপনার প্রতি বিশ্বাস ছিল ও আছে যে আপনি রাজ্যবাসীর মঙ্গলের জন্য সবসময় ভালো পদক্ষেপ নেবেন। আজ পরিস্থিতি এমন হয়েছে মানুষের কাছে যে মৃত্যু অনেক সহজ মনে হচ্ছে তবু মুখ খুলতে পারছেনা এই ভয়াবহ রোগটার নাম করে আপনার তোপে পড়তে হবে জন্য। আপনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, জনগণের সেবক, সেই হিসেবেই নিজের জায়গাটা ভাবুন। আপনার বলা কথাগুলো থেকে রাজ্যের মানুষের মানসিক পরিস্থিতি এমন হয়ে যায় যেন আপনি রাজ্যের একমাত্র মালিক আর জনগণ আপনার রাজত্বের দাস, আপনি যা বলবেন তাইই জনগণকে মানতে হবে, পালন করতে হবে। রাজাধিপত্যের যুগ পার করে এসেছে ভারত। এই মুহূর্তে দেশের সকল মন্ত্রীরই শুধু একটাই দায়িত্ব জনসাধারণের ভালোর কথা ভেবে প্রতিনিধিত্ব করা। রাজত্ব নয়, রাজ্যের মানুষের জন্য প্রতিনিধিত্ব করুন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। মানুষ মরছে, এর ভার আপনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে মেটাতে পারবেন না। মৃত্যুর ভার মেটানো যায়না কখনো। রাজ্য যদি লাশের স্তম্ভ হয়ে যায়, তখন আপনার মুখ্যমন্ত্রীত্বের কোনো মূল্যই থাকবে না। আমি আজ একজন তৃনমূল সমর্থক হয়ে নয়, একজন সাধারণ রাজ্যবাসী হয়ে আপনার কাছে দাবী তুলছি, চিকিৎসা ব্যবস্থার দিকে খেয়াল করুন, ডেঙ্গুরোধ কিভাবে করা যায় সেই নিয়ে ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করুন। অযথা এই মারণ রোগটা নিয়ে মানুষ ও ডাক্তারদের সামনে এমন প্রচার করবেন না যাতে বাঁচার দাবি তোলার থেকে মৃত্যু মানুষের সামনে অনেক সহজ মনে হয়।


ভালো থাকবেন।

Friday, 10 November 2017

আওয়াজ সত্যের পথে : কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।আজকাল আমি ভীষণ এক অপরা...

আওয়াজ সত্যের পথে : কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।

আজকাল আমি ভীষণ এক অপরা...
: কিরণ,  আমি ক্ষমা প্রার্থী। আজকাল আমি ভীষণ এক অপরাধবোধে ভুগছি। আজ পর্যন্ত আমি চোখের সামনে অনেক দেখেছি যে ছেলেরা মেয়েদেরকে বিরক্ত করছে, মেয়...

Thursday, 9 November 2017

কিরণ - আমি ক্ষমা প্রার্থী।

আজকাল আমি ভীষণ এক অপরাধবোধে ভুগছি। আজ পর্যন্ত আমি চোখের সামনে অনেক দেখেছি যে ছেলেরা মেয়েদেরকে বিরক্ত করছে, মেয়েদেরকে জোর করে প্রেম নিবেদন করছে সামনাসামনি রাস্তাঘাটে বা কখনো সোশ্যাল মিডিয়াতে মেয়েদের মেসেজ করে। একটা মেয়ে যতই বিরক্ত হোক না কেন, তবু ছেলেটি সেই মেয়েটিকে উত্যক্ত করছেই। বারংবার করে চলেছে। আর যদি মেয়েটি আগ্রহ প্রকাশ না করছে তখন ছেলেটি সেই মেয়েটিকে ভাষার অপব্যবহার করে অশ্লীলতার সীমা অতিক্রম করছে। মেয়েদের এমন অশ্লীল প্রায় রোজই করা হয় রাস্তাঘাটে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে। এতদিন এসব নিজের চোখে দেখে আমার গা ঘিনঘিন করত। কখনো কখনো তীব্র বিরোধিতা করেছি, প্রতিবাদ করে উঠেছি পুরুষের এমন আচরণের বিরুদ্ধে গিয়ে। মেয়েদের সাথে কথা বলে তাদের ভরসা দিয়েছি, জানিয়েছি যে সমাজে এমন মানুষও আছে যারা নারীকে ভীষণ সম্মান করে। সেই আমিই কোনো এক দুর্বলতার মধ্যে আবিষ্ট হয়ে একই ভুল করে ফেললাম। মেয়েটির কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থী। হ্যাঁ, আমি তীব্র প্রেমে পড়েছি কিরণ নামের মেয়েটির। অসম্ভব ভালবেসে ফেলেছি মেয়েটিকে। এরপরও আমি আমার আদর্শের লক্ষ্যে স্থির থাকতে ভীষণ চেষ্টা করে গেছি। নিজের মনের সাথে তীব্র লড়াই করেছি মেয়েটির কাছে এভাবে প্রেম নিবেদন করবো না ভেবে, মেয়েটিকে এত বিরক্ত করবো না ভেবে। আমি অনুভব করেছি যে কিরণ সেই এমন একজন মানুষ যার প্রেম, যার ভালবাসা আমাকে আমাকে এমন ঐশ্বর্যে ভরিয়ে দেবে যা এই পার্থিব জগতে অমূল্য কোনো রত্নের থেকেও ভীষণ মূল্যবান আমার কাছে। আমার বারবার মনে হয়েছে যে আমি ওর চোখের ভাষায়, ওর কথাতে ডুবে যাচ্ছি আর নিজের মানসিক শক্তি হারিয়ে বারবার মেয়েটির কাছে প্রেম নিবেদন করেছি। আমি জানিনা মেয়েটির মনে তার কি প্রভাব পড়েছে, তবে ওর মুখের ভাষা নিরুত্তর হতেই যেন আমার চেতনা আমাকে জানিয়েছে যে মেয়েটিকে আমি ভীষণ উত্যক্ত করেছি বারবার প্রেমের কথা বলে। এতে আমি শুধু ওই মেয়েটিকেই অসম্মান করিনি, অসম্মান করেছি আমার আদর্শকেও, অসম্মান করেছি নিজেকেও। এই অপরাধবোধের কারণেই আমি বেশ কিছু সময় ধরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে দূরে থাকছি। সোশ্যাল মিডিয়ার সামনে আসলেই বারবার মনে হচ্ছে আমি খুব বড় কোনো অপরাধ করে ফেলেছি যা আমার সম্মানবোধকে নিচু করছে। এটা যেমন ঠিক যে আমি কখনো অশ্লীল আচরণ করিনা কারোর সাথে, তেমন এটাও ঠিক যে অনেক সময় ভদ্র আচরণও ব্যক্তির বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে।

প্রেমে পড়া আমার কাছে নতুন কিছু নয়। ছোট বয়স থেকেই আমি বারবার প্রেমে পড়েছি একের পর এক মেয়ের। আমার প্রথম প্রেমটি অনেক বছর টিকে ছিল। একে অপরকে ভীষণ ভালবাসতাম, সম্মান করতাম। আমাদের সেই প্রেম যখন মানুষের মনে আলাদা একটা জায়গা করে নিচ্ছে, সম্মানের জায়গা, আমি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ি তখন। একটা ভীষণ সুন্দর প্রেমের মধ্যে আমি প্রতারণার বিষ ছড়িয়ে দিয়েছিলাম। জীবনে এমনকিছু ভুল হয়ে যায় যা মানুষ বুঝতে পেরেও নিজেকে শোধরাতে পারেনা সহজে। আমিও শোধরাতে পারছিলাম না অনেক চেষ্টা করেও। বয়স অল্প ছিল। সবে কৈশোর পার করেছিলাম, আমি এক অন্ধকার জগতে পা ফেলি। নেশায় বুঁদ হয়ে যাই। সেইসঙ্গে আমার সাথে জুড়ে যায় বহু নারীপ্রেম। আমি জানতাম যে ঠিক করছিনা ওই মেয়েটির সাথে যাকে আমি ছোট থেকে ভীষণ পছন্দ করি, ভীষণ ভালবাসি। আমি জানতাম যে ঠিক করছিনা সেই মেয়েটির সাথে যে মেয়েটি আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসে ছোট থেকে। এতকিছু জেনেও আমি আমার অন্ধকার জগতটা থেকে কিছুতেই বেরতে পারছিলাম না। যতই বেরনোর চেষ্টা করি, ততই আরও খারাপের সাথে জুড়ে যাই, ততই নেশায় বুঁদ হতে থাকি। মেয়েটি আমাকে শোধরানর অনেক চেষ্টা করে গেছে। পারেনি শোধরাতে। ব্যর্থ হয়ে, প্রতারণার শিকার হয়ে মেয়েটি অবশেষে হার মানে। মেয়েটি সরে যায় আমার জীবন থেকে। আমাকে ছেড়ে মেয়েটি যখন চলে গেল, এক ধাক্কায় যেন আমি সমস্ত অন্ধকার ছিন্ন করে বেরিয়ে আসলাম। আমি কখনোই চাইনি যে মেয়েটি আমাকে ছেড়ে চলে যাক। নিজের প্রতি অতি বিশ্বাস আমার অহঙ্কারের পতন ঘটাল। পতন ঘটাল আমার ভিতরে থাকা পুরুষতান্ত্রিক সেই অহঙ্কারের যে আমি পুরুষ। নিজেকে শোধরাতে শুরু করি। জড়িয়ে যাই মানববাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আদর্শের সাথে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের অহঙ্কার যে একটা মিথ্যা অহঙ্কার, তা আমার সামনে পরিস্কার হতে থাকে। চেতনার এক নতুন জগত আমার সামনে উন্মোচিত হয়। লেখিকা তসলিমা নাসরিন আমার কাছে সেই সূর্য যার আলোকে আমার জ্ঞানচক্ষু খোলে।

এরপর আমি আবার সেই এক প্রেমের সন্ধান করতে থাকি যা আমাকে সত্যিকারের এক প্রেমের স্বপ্ন দেখাবে। এরপর এক এক করে অনেক মেয়ে আসে আমার জীবনে। না, আর আমি কারোর সাথে প্রতারণা করিনি কখনো। পুরুষতান্ত্রিক দেওয়াল ভেঙেচুরে আমি বেরিয়ে এসেছিলাম। আমি একটা সত্যিকারের প্রেমের খোঁজ করছিলাম। কিন্তু কখনো তৃপ্ত হতে পারছিলাম না। হয়ত প্রেমের খোঁজ করতে করতে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু যখন সেই সম্পর্ক থেকে সেই মেয়েটির বা আমার কিছুই পাওয়ার নেই বুঝেছি, খোলাখুলি আলোচনা করেছি মেয়েটির সাথে, নিজেদের ইচ্ছাতেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছি। কেউ কাওকে জোর করে আটকে রাখিনি। প্রেমের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসলেও আমরা প্রত্যেকেই বন্ধুত্বের সম্পর্কটা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। পরিস্কার কথা খুলে বলার জন্য সততা ও দৃঢ়তার প্রয়োজন হয়। আমরা প্রত্যেকেই সেই সম্পর্কগুলোর প্রতি সততা বজায় রাখতে পেরেছি। তাই সম্পর্কগুলো থেকে কোনো আক্ষেপ জন্মায়নি।

সবসময় স্বপ্ন দেখেছি আমি এমন এক প্রেম করবো যা জমানার সেরা প্রেম হবে। যে প্রেমে হাহুতাশ করা তৃষ্ণা থাকবে দুটো মানুষের মধ্যেই, যে প্রেমে একে অপরের প্রতি তীব্র টান থাকবে, অনেকটা ঠিক স্রোতে ভাসতে ভাসতেও একে অপরের জন্য বাঁচা, একে অপরের জন্য লড়াই করা, তীব্র উত্তেজনার অনুভূতি উপলব্ধি করা থাকবে। তনুশ্রীর সাথে যখন আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে, আমরা একেবারেই আমাদের মতন ছিলাম। কে কি বলল, কে কি ভাবল সেসবকে গুরুত্ব না দিয়েই আমরা একে অপরের প্রতি মেতে উঠেছিলাম। সমাজের সমস্ত শৃঙ্খল ভেঙে আমরা প্রেম করতে শুরু করেছিলাম। দায়বদ্ধ না থেকেও আমরা একে অপরের জন্য বাঁচতাম। নিজেদের সম্পর্কের প্রতি প্রতিটা মুহূর্তে সততা বজায় রেখেছি দুজনেই। কেন জানিনা, আমি কখনো বুঝতে পারিনি, তনুশ্রীর কাছে যেন আমি সম্মান হারাতে থাকি একটু একটু করে। আমার প্রথম প্রেম আমাকে অনেক শোধরানর চেষ্টা করেও যখন পারেনি শোধরাতে, আমাকে ছেড়ে চলে গেছিল, ছেড়ে যাওয়ার অনেক বছর পর আমাকে সে এটা বলেছিল যে আমি শোধরাতে পেরেছি নিজেকে, আমি মানুষ হতে শিখেছি। তার বলা এই কথাটুকু আমাকে ভীষণ শান্তি দিয়েছিল। তনুশ্রী আমাকে স্পষ্ট করে কোনো কারণ বলেনি যে কেন আমি ওর কাছ থেকে সম্মান হারাচ্ছি। তবে আমি ওকে ভীষণ সম্মান করি একজন মানুষ হিসেবে, একজন শিল্পী হিসেবে। তনুশ্রীর হয়ত কোথাও মনে হয়েছে আমি ওকে সম্মান করিনা আর, যেটা সম্পূর্ণই একটা ভুল বোঝাবুঝি। আমি বারবার তনুশ্রীকে ফিরে আসতে বলার পরও যখন সে আর ফিরল না, আমি খুব ভেঙে পড়লাম। আমি আমার ভুল খুঁজে বার করার চেষ্টা করলাম। পারলাম না। পারলাম না কারণ এই সম্পর্ক থেকে আমাদের দুজনেরই তেমন কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও, আমরা ভীষণ সম্মান করেছি এই সম্পর্কটাকে।

আমি যখন ভাঙতে ভাঙতে ক্লান্ত হয়ে উঠছিলাম, তখন কিরণের বলা অল্প অল্প কথাগুলো যেন আমাকে তীব্র ভরসা দিতে শুরু করে। কিরণ! সেই এক মেয়ে যাকে দেখে আমি কখনো ক্লান্ত হইনা। এবার, এই প্রথমবার আমার মন যেন সেই এক মানুষের দেখা পেল যার খোঁজ সে এতদিন ধরে করে এসেছে। কিরণ সেই মেয়ে যার চোখ বড্ড গভীর। সমস্ত চেতনা সেই গভীরতাতে ডুবে যেতে পারে নিমেষেই। হ্যাঁ, আমি হাহুতাশ করা যে প্রেম সবসময় খুঁজেছি, কিরণের মধ্যে আমি দেখেছি সেই প্রেমকে। কিন্তু প্রেম কখনো একতরফা স্বীকৃত হয়না। যে অনুভূতি আমার হয়েছে, তা কিরণও যে উপলব্ধি করবে, তার কোনো মানে নেই। আমি জানতাম সেটা। জানার পরও, নিজেকে ধরে রাখার তীব্র চেষ্টা করার পরও আমি নিজেকে ধরে রাখতে ব্যর্থ হই। আমার আদর্শ, আমার চেতনার বাইরে গিয়ে বারবার কিরণকে ভালবাসার কথা প্রকাশ করে ফেলি। আমি চাইনি প্রকাশ করতে। এভাবে ভালবাসার কথা একটি মেয়েকে প্রকাশ করা যেখানে হয়ত মেয়েটি বিরক্ত হতে পারে বা হচ্ছেও, তা আমার নীতি বিরোধী, আদর্শ বিরোধী। এরপরও আমি এই ভুলটা বারবার করতে থাকি। অচিরেই আমার ভুল ভাঙে। মেয়েটি যখন নিরুত্তর হয়ে যায়, আমি বুঝতে পারি যে আমি শুধু তাকেই নয়, আমি আমাকে, আমার আদর্শকেও অসম্মান করে ফেলেছি।

হ্যাঁ, আমি নিঃসন্দেহে, মনে, প্রাণে বিশ্বাস করি যে প্রেম আমি এতবছর ধরে খুঁজেছি সেই প্রেম হল কিরণ। যে প্রেমের জন্য আমি এতবছর ধরে হাহুতাশ করেছি সেই প্রেম কিরণ। যে পাগল করা প্রেমে আমি ডুবতে চেয়েছি, জমানার সেরা প্রেম হিসেবে আমি যা পেতে চেয়েছি সেই প্রেম কিরণ। এরপরও আমি কখনো একটি মেয়েকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনোভাবেই জোর করতে পারিনা। এরপরও আমি সেই মেয়েটিকে বারবার বলতে পারিনা যে ভালবাসি। এরপরও আমার অধিকার থাকতে নেই যে মেয়েটিকে বিরক্ত করি বারেবারে। অনুভূতির উপলব্ধি হতেই পারে, কিন্তু সেটা ততক্ষণই সুস্থদায়ক যতক্ষণ সেই উপলব্ধি অপরপক্ষের বিরক্তির কারণ না হয়ে ওঠে।

আমি যা করেছি, তা আমার লজ্জা। আমি কিরণের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।

- সৌম্যজিৎ দত্ত। 

Tuesday, 7 November 2017



প্রাণ ভীষণ চঞ্চল হয়ে উঠেছে তোমায় এক পলক দেখতে,
একটু কথা বলতে তোমার সাথে,
ভালবাসার গভীরতা আমায় ডুবিয়ে নিয়ে গেছে সেই অতল গহ্বরে যেখানে
আমি শুধু তোমায় দেখছি কাজলা চোখে তুমি
তাকিয়ে আছো,
পথ চেয়ে আছো এক তীব্র চাহনিতে।
তোমার কপালে কালো টিপটা যেন সহস্র কোটি সুন্দর উজ্বল তারাদের মধ্যে থেকেও
ঝিকিমিকি করে কাছে ডাকছে আমাকে -
একটু ভালবাসার স্পর্শে আমার বুকে ঠাই নেবে বলে,
বা হয়ত আমিই কোনো এক তীব্র মহাকর্ষ বলে ছুটে যাচ্ছি তোমারই দিকে,
তোমায় বুকের মাঝে ভীষণ জোরে চেপে,
জড়িয়ে ধরে একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলবো বলে।
আজকাল বড্ড বিবশ হয়ে পড়েছি যেন,
আজকাল আমি পথ চেয়ে থাকি,
ছটপট করতে থাকি নিজের মধ্যেই,
আজকাল বড্ড অসহায় হয়ে উঠি চারপাশের আনন্দ, কষ্টগুলোর মধ্যেও।
একবার তোমার ফিরে চাওয়ার আশায় সময় কাটিয়ে দিই,
দিন যায়, বেলা যায়, সূর্যকেও অস্ত যেতে দেখি খুব তাড়াতাড়ি,
অপেক্ষার কোনো শেষ হতে দেখিনা।
শুধু বারবার,
বারংবার তোমার কাছে ছুটে গিয়ে, চোখে চোখ রেখে,
হাতের স্পর্শে তোমার চুলগুলোতে আলতো বুলিয়ে বলতে ইচ্ছা করে -
"ভালবাসি।"

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 5 November 2017

আজ ৫ই নভেম্বর সর্বভারতীয় নেট পরীক্ষা ছিল আমার। পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই দিয়ে আসলাম। প্রথম ও তৃতীয় পত্রের পরীক্ষা প্রস্তুতি অনুযায়ী যেমন ভালো হওয়ার আশা করেছিলাম, তেমনই হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করলাম দ্বিতীয় পত্রে আমার যে রোগ ছিল, সেটা থেকেই গেল। তুলনায় দ্বিতীয় পত্র খারাপ হয়ে গেল বেশ। আমি দ্বিতীয় পত্রের জন্য অনেক খেটেছিলাম আগেরবার খারাপ হয়েছিল দেখে। ঘরে বসে এবং প্রফেসরদের তত্ত্বাবধানে অনেক অভ্যাস করেছি। এরপরও দ্বিতীয় পত্রে তেমন উন্নতি দেখতে পেলাম না। হয়ত সমস্যাটা মনস্তাত্বিক। সেরে যাবে। আজ পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় অঘটন ঘটল চরম। সকালে সাড়ে ছটায় ঘর থেকে বেরলাম। বাস সিঁথির মোড়ে ঢোকার আগে এক বাইককে ধাক্কা দিল। বাস ড্রাইভারের দোষ ছিল না কোনো। সবুজ আলো দেখেই বাস নির্দিষ্ট গতিতে এগচ্ছিল। হঠাৎই একটা বাইক রাস্তা পার করে বাসকে টেক্কা দিতে গিয়ে বাসের পাশে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। ক্ষতি হয়নি তাতে ওই বাইকের দুজন যাত্রীর। তবে ওরা ঝামেলা শুরু করে। দুজনই বাস দাঁড় করিয়ে হেলমেট খুলে বাসের দরজায় মারতে থাকে ও পরে গাড়ির ভিতরে ঢুকে ড্রাইভারকে মারতে শুরু করে। কেউ ওদের আটকাচ্ছে না দেখে আমি পিছন সিট থেকে উঠে গিয়ে ওই দুজন বাইক আরোহীকে থামানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে থাকি। ওদের এটাও বলি যে আমার পরীক্ষা আছে, দেরি হয়ে যাচ্ছে। সেইসময় বাসে আরও অনেক পরীক্ষার্থী ছিল যাত্রীদের সাথে। তারা কেউ এগিয়ে আসেনি। উল্টে বাস থেকে নেমে যাচ্ছে। যাত্রীদের মধ্যে থেকে এক বৃদ্ধা ওই দুই আরোহীকে অনুরোধ করে ড্রাইভারকে ছেরে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ওরা কিছুতেই মানেনা। আমি একজনকে জোরে চেপে ধরি। চেপে ধরে ভালো করেই বলি যা হওয়ার হয়েছে, ড্রাইভারকে না মেরে পুলিশ ডেকে কেস দিয়ে দিতে ও ড্রাইভারকে ছেরে দিতে। সময় প্রায় পনের মিনিট পার হয়ে যায় এসবেই। ওরা আমার কথা মানেনা। বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে, তারাও এগিয়ে আসেনা। আমাকেই ওরা বলতে থাকে বাস থেকে নেমে গিয়ে অন্য বাস ধরে চলে যেতে। আমি একজনকে চেপে ধরে আটকেছিলাম, কিন্তু অন্যজন ততক্ষণে ড্রাইভারকে মেরে জামা ছিঁড়ে দেয়, ড্রাইভারের পিঠ থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। অবশেষে ওখানে একজন অফিসার ইনচার্জ পৌঁছে সবাইকে থামায়। ওই দুই আরোহীসহ ড্রাইভারকে নিয়ে থানাতে যায়। অদ্ভুত সমাজ এটা! প্রথমত বাস ড্রাইভারের কোনো দোষই ছিল না। দোষ ছিল বাইক চালকের। ওরাই সিগ্ন্যাল ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটায়। ঘটনা স্থলে পুলিশ থেকেও কোনো হস্তক্ষেপ করেনি কারণ ওই দুই বাইক আরোহী লোকাল ছেলে। ঝামেলা হবে। বাসের যাত্রীরা ইচ্ছা করলে ড্রাইভারকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে পারত, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারত। অথচ তারাও চুপ থেকে মজা দেখে। আমি চেষ্টা করলাম, ব্যর্থ চেষ্টা। একজনকে চেপে ধরলাম তো আরেকজন ড্রাইভারকে ভীষণ পেটাল। এর থেকে তো অনেক সাহসের পরিচয় দিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা মানুষটি। উনি নিজের জায়গা থেকে উঠে এসেছিলেন মারামারি থামাতে। কোনো ফল হল না। পুলিশ ওদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আমিও অন্য বাস ধরে চলে গেলাম। আক্ষেপ থেকে গেল। আমার উচিৎ হয়নি শান্ত থেকে ওই দুই আরোহীকে আটকানোর চেষ্টা করা। আমার উচিৎ ছিল তীব্র প্রতিবাদ করা। কোথাও কি তবে আমিও পিছিয়ে আসলাম না? হ্যাঁ, পিছিয়ে আসলাম। কারণ আমার মাথার মধ্যে তখন শুধু পরীক্ষার চিন্তা ঘুরছিল। আমিও স্বার্থপরের মত থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানাতে পারলাম না। অথচ এই আমিই করিমপুরে থাকতে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে রাতের অন্ধকারে পাশের বাড়িতে যখন ডাকাত পড়েছিল, থানায় ফোন করে পাখি মারা বন্দুক নিয়েই ওই হেঁসো, দাঁ অস্ত্রধারী ডাকাতদের দিকে তাক করে দাঁড়িয়েছিলাম, ডাকাত দলকে ভয় দেখিয়ে তাড়িয়েছিলাম, পাপাকে গর্বিত করেছিলাম। এতটাও স্বার্থপর হলে চলেনা। আমার উচিৎ ছিল তীব্র প্রতিবাদ করা। 

Friday, 3 November 2017

তোমার কণ্ঠ আমার অজানা কোনো সুখের আশ্রয়,
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখবো, ঠোঁটের পরশে তোমায় শিহরিত করবো,
চুলের বিনুনিতে খামচে ধরে তোমায় জড়িয়ে চুমুর স্পর্শে তৃষ্ণা মেটাবো আমি আকণ্ঠ।
তোমার ঠোঁটে আমার আঙুলের ছোঁয়ায় মৃদু কম্পনে তোমাকে বিবশ করে দেবো,
তোমার নিঃশ্বাসের গন্ধে, শরীরের গন্ধে একাকার হয়ে যাবে আমার শরীর,
দুটো শরীরের জমে থাকা ব্যক্টিরিয়াগুলোও মিলিত হবে পরস্পরে,
বুক থেকে নাভি শীতল বরফের স্পর্শ মাখিয়ে আমি এক চুমুকে পান করবো যত আছে তরল
তোমার ওই শরীরে ..
যোনিপথে আমার জিভের ছোঁয়া, আর
উভয়ের লিঙ্গেই মেতে ওঠা প্রাণ সেদিন তৃপ্ত হবে, তুমি অপেক্ষায় থেকো।

- সৌম্যজিৎ।