Thursday, 31 March 2016


ভোট।
সৌম্যজিত দত্ত।


আসছে ভোট। তোমরা সাবধান!!!

ভোট ওদের রাজনীতির লড়াই,
ভোটে ওদের খিদে মেটে। 
ভোট পেতে রাজ্য জ্বালায়, 
ভোট ঘুরেফিরে বেড়ায় রাজনীতির অরাজকতায়। 
ভোট ওদের লালসার লালা,
লাল, সবুজ, কমলা, সাদা লালসার রঙে লালায়িত রাজনীতিক কর্মকান্ড,
সাধারণ শুধুই মোহরা। 

সাধারণের সহানুভুতি কেনা, ভোটের এক বড় দাউ,
সাধারণ মরছে মরুক, তাদের মধ্যে রাজনীতি রঙের বিষাক্ত ইনজেকশন প্রণোদিত কর,
মানলে ভালো। না মানলে রিগিং উৎসভ উজ্জাপন কর,
ভোট পকেটস্থ হবেই। 
সাধারণের স্মৃতি বড়ই কমজোরী,
সাধারণ মাতে উল্লাসে,
একটু মাথায় হাত বোলালেই, মাথাতে তুলে নাচে। 
তবে আর চিন্তা কিসের?
ভোট পকেটস্থ হবেই। 


কোথায় সেই সিঙ্গুর কান্ড, কোথায় গেল সাগরদিঘী,
গঙ্গাসাগর, নেতাই কান্ড, পাকসার্কাস মানুষ দন্দ্ব??
মনে আছে, কতবার কত নেতা নেত্রীরা ক্ষমতার লড়াইতে উঠে আসতে 
গড়েছে একের পর এক রাজনৈতিক তামাশার নাটক?
তামাশা চলার সময় তোমরা সাধারনেরা লাফিয়ে ওঠ,
তামাশা শেষ হতেই যখন বছর ঘোরে, তোমাদের সম্বিত ফেরে। 
নতুন কোনো তামাশা আসতেই আবার তোমরা মেতে ওঠ।
ফায়দা তোলে নেতা, নেত্রীরা।
তোমরা শুধু মূর্খামি নিয়েই কাটিয়ে দাও বছরের পর বছর। 


আজ আবার শহর মেতেছে উড়ালপুল ধ্বংসস্তুপে,
নেতা-মন্ত্রীদের মহাসমাবেশ, প্রতিশ্রুতি, টাটকা সব লোভনীয় বিজ্ঞপ্তি,
কাঁদা ছোড়াচুড়ি, সবই চলছে জোর কদমে!! 
কেউ চিৎকার করছে বিরোধী ষড়যন্ত্র বলে, ক্ষতিপূরণের লোভ দেখিয়ে মহৎ হতে। 
কেউ গলা ফাটাচ্ছে ক্ষমতাধারীর ভুল ধরতে যেমন ভুল,
তারা কখনো নিজের সময় করেছে। 
কখনো তারা ছিল ভোগী, আজ 
বলছে ক্ষমতাধারীকে। 
আবার কেউ গলা চড়াচ্ছে নতুন করে ভোগের স্বাদ নিতে।
ক্যামেরার সামনে এসে বন্ধু-মুখোশধারী মুখগুলো চিনিয়ে যাচ্ছে নিজেদের। 
যার ওপর যত আলো,
সাধারণের মিথ্যে আবেগে সে ততই ভালো। 


সামনেই ভোট। সহানুভুতির জোয়ার বয়ে যাক। 

Tuesday, 29 March 2016

মানবিকতা কোথায়? খুঁজে দেখ, মানবিকতা আছে তোমারই মধ্যে।
সৌম্যজিত দত্ত।

গতকাল ২৮ শে মার্চ, ২০১৬ তে আমি ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (ডানলপ ব্রিজ ব্রাঞ্চ) থেকে দুটো পে-অর্ডার করি। একটা ১৯২০ টাকার  ও একটা ২৫০০ টাকার। আমার কাছে খুচরো টাকা  না থাকার জন্য, আমি আলাদা আলাদা করে টাকা জমা না দিয়ে একবারে ৪৫২০ টাকা জমা করি। এক্সচেঞ্জ রুপি ৪৪ টাকা করে মোট ৮৮ টাকা। সবমিলিয়ে জমা করতে হত ৪৫০৮ টাকা। অর্থাৎ আমার ১২ টাকা পাওনা। কাউন্টারে একজন ম্যাম ছিলেন, উনি কিছুতেই আমার থেকে টাকা নিতে চায়ছিলেননা। ওনার বক্তব্য খুচরো ৮ টাকাই দিতে হবে। ১২ টাকা ফেরৎ দিতে ব্যাঙ্ক পারবেনা। আমার কাছেও খুচরো নেই। আমি বললাম, "ম্যাম, ২ টাকা দিতে হবেনা, আপনি আমাকে ১০ টাকা ফেরৎ দিন। আমার কাছে সময় খুব কম।" উনি আমাকে উল্টো কথা শুনিয়ে দিলেন। বললেন, "কেন বাপু আমি তোমার কাছথেকে ২ টাকা নেবো? নিলে ২ লক্ষ টাকা নেবো। তুমি বাইরে গিয়ে চা-এর দোকান থেকে ভাঙিয়ে নিয়ে এসো।" আমি একটু বিপদের মধ্যেই পরলাম। পে-অর্ডার তখনই লাগবে, হাতে সময় নেই, ২০ মিনিট পর ক্লাস নেওয়া। আমি তাকে অনুরোধ করলাম। উনি শুনলেননা। আমি ভীষণ রেগে যাই। রাস্তাঘাটে আমি অবশ্য রেগেগেলেও সেটা প্রকাশ করিনা। আস্তে আস্তে কথা বলি, ভাবলাম ম্যানেজার-এর কাছে গিয়ে বলি। শেষ পর্যন্ত আমাকে ম্যানেজার-এর কাছে যেতে হয়নি। ওখানে অত দর্শকের ভিড়ের মধ্যে, দুজন বয়স্ক মহিলা, বয়স ৬০ এর ওপরেই হবে, এগিয়ে আসলেন, আমাকে খুচরো করে দিতে রাজি হলেন, আমি একজনের কাছথেকে খুচরো করে টাকা জমা করলাম।


আসলে মানবিকতা মানুষের মধ্যে আছে। আমি বিশ্বাস করি এটা। সব মানুষ অমানবিক নয়। একটা ব্যাঙ্ক ১২ টাকা খুচরো দিতে পারবেনা, এটা মেনে নেওয়া মুশকিল। আসল কথা ওরা খুচরো করে দেবেনা। আবার উল্টোদিকে অত গ্রাহক দর্শকের মধ্যে থেকে দুজন বয়স্কা নিজেদের মানবিকতার নিদর্শন রাখলেন। এগিয়ে আসলেন।

আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। কখনো চলাফেরা করার সময় বা কোনো কাজেই আমার নিজেকে প্রতিবন্ধী  হয়না। স্বাভাবিক থাকি। বাসে উঠেও কখনো প্রতিবন্ধী আসনের দিকে যাইনা। ভাবি আমি তো সুস্থ। যার খুব প্রয়োজন হবে, সেই বসবে। আমাদের কারোর জীবনেই মাত্রাতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই। যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু ব্যবহার করে যদি অন্যদের সুযোগ করে দিই, তবে কাওকেই অসুবিধাতে পরতে হয়না। খুচরো টাকা জমিয়ে রাখার জিনিস নয়, যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু রেখে বাকিটা বাজারে চালিয়ে দিলে, খুচরো টাকার অভাব হয়না বাজারে। বাসে যাদের খুব প্রয়োজন, তাদের জন্য আসন ছেড়ে দিলে, তাদের সুবিধা হয় আবার সুস্থ মানুষরা একটু দাঁড়িয়ে গেলে, তাদের শরীরও সুস্থ থাকে।

জীবনে প্রতিটা ছোট ছোট বিভাগে এমন অনেক অসুবিধাতে পরতে হয় মানুষকে। একদল নিজের সুবিধাটুকু বুঝে অন্ধ হয়ে যায়, আরেক দল অসুবিধার মধ্যে সেদ্দ হয়। প্রতিটা মানুষ যদি একটু সচেতন হয়, তবে কাওকেই এমনসব নিত্য অসুবিধাতে পরতে হয়না। মানবিকতা সমাজ থেকে মুছে যায়নি, শুধু মানুষ মানবিক চিন্তা করার মানুসিকতা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

Monday, 28 March 2016

আমার মা এবার বাড়ি গিয়ে কোন এক ভালো বংশজাত, শিক্ষিত, সুন্দরী ও সুকন্যাকে পুত্রবধু করবে বলে পছন্দ করে এসেছে। আমার কাছে বলতে আসল। আমি রীতিমত বলেদিলাম, "আমার যা স্বভাব চরিত্র তাতে কোনো মেয়ে আমার সাথে থাকতে পারবেনা। আমি মেয়েদের ভালো বয়ফ্রেন্ড হতে পারি, ভালো স্বামী কখনই হতে পারিনা। ওই দায়িত্ববোধ আমার মধ্যে জন্মায়নি, মনেহয় কখনো জন্মাবেও না।" যাইহোক, মেয়ের বাড়ি থেকে আমার মত একটা ছেলে পেলে আল্লাদে আটখানা হয়েযাবে। ছেলে উচ্চশিক্ষিত, গবেষণারত ও ভারতের একটা বৃহত্তর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর দায়িত্বে বহাল। এর বাইরেও আমার অনেক পরিচয় আছে যেটা মেয়ের বাড়ি থেকে জানেনা। মেয়ের বাড়ি থেকে কখনো আমার সাথে কোনো কথা বলতে আসলে, আমি বলবো, "আপনারা বলুন, জেনেশুনে এমন একটা ছেলের সাথে কখনো আপনাদের মেয়ের বিয়ে দেবেন যে, কখনো বৈবাহিক দায়িত্ব নিতে চায়বেনা, প্রচুর গার্ল ফ্রেন্ড আছে, প্রেম না করলেও মনে মনে অন্য একটা মেয়েকে পাগলের মত ভালবাসে আর তাকে নিয়ে গোটা একটা কবিতার সিরিজ লিখে ফেলেছে? এমন একটা ছেলে যে বউকে সময় না দিয়ে ঘরসংসার ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে কবিতা লেখা, ডিবেট করা, মানুষের মধ্যে মানবিকতার বাণী ছড়াতে ব্যস্ত থাকবে, তারসাথে মেয়েকে বিয়ে দেবেন?"

মা যখন আমাকে বলতে আসল, মেয়ে করিমপুরের, বাড়ির কাছেই নাকি বাড়ি, আমি আর কোনো পরিচয় শুনতে না চেয়ে, কথা ঘুরিয়ে মাকে বিদায় জানালাম। আমার মধ্যে মেয়েটার সাথে পরিচিত হওয়ার কোনো ইচ্ছাও জাগলনা। শুধু দেখলাম, মেয়েদের নিয়ে ছেলেরা যেমন আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখে, আমার মা সেইরকম স্বপ্ন দেখছে। বুঝলাম, ভয়ঙ্কর ভাবে মনে ধরেছে মেয়েটা আমার মা'এর। কি যে বিপদ!!!

Sunday, 27 March 2016

যে বা যারা ধর্ষণের জন্য নারীর দোষ বা পুরুষের দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে, তাদের একটা কথা বলবো, তারা চেতন বা অবচেতনে প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ্যভাবে ধর্ষনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ধর্ষণ কোনো শারীরিক চাহিদা নয় বরং এটা শারীরিক বল প্রকাশের মত মানুসিক রোগ। গোটা দেশ জুড়ে ধর্ষণ হচ্ছে, বিচার ১টা কি ২টো হচ্ছে, ফাঁসি দন্ড বহাল করা হচ্ছে, এভাবে ধর্ষণ বন্ধ হবেনা। একমাত্র নৈতিক শিক্ষা, যৌন সচেতনমূলক শিক্ষাই ধর্ষণের মত মানুসিক রোগকে নির্মূল করতে পারে। বয়সন্ধিকালে যৌনতা নিয়ে নানা কৌতুহল জন্মায় কিশোর, কিশোরীদের মনে। তাদের সেই কৌতুহলগুলো যখন তারা বুঝতে পারে যে সমাজে নিষিদ্ধ, তখনই তাদের মধ্যে যৌন প্রবৃত্তি ও নানান খারাপ চিন্তা মাথাতে চলে আসে। অথচ, তাদের যদি তখনই বোঝানো যায়, যে এটা একটা স্বাভাবিক শারীরিক ও মানুসিক বিকাশ। লুকোচুরি না করে যদি অভিভাবকেরা যৌনতা নিয়ে বোঝান, সচেতন মূলক শিক্ষা দেন, তবে মনের মধ্যে ধর্ষণ স্পৃহা কখনই আসতে পারেনা। সরকারের উচিত যৌন সচেতনমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। তবেই ধর্ষণ নির্মূল হবে।
দেশ জুড়ে তোলপাড় হওয়া বা দু-চারটে ধর্ষককে ধরে এনে শাস্তি দিলেই ধর্ষণ কমেনা। ধর্ষণ যাতে নাহয়, ধর্ষণের উত্স খুঁজে বার করে গোড়া থেকে নির্মূল করতে হয়, যাতে মানুষের মনে ধর্ষণের মত বিকারগ্রস্ত রোগ না জন্মায়। প্রশাসনকে ব্যাপারটা বুঝতে হবে। প্রশাসন যদি না বোঝে, দায়িত্ব আমাদের হাতে ছেড়ে দিক। আমি ও আমরা দায়িত্বের সাথে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ঘটাব, আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হোক। ধর্ষণের বীজকে নির্মূল করে রেখে দেব। ----------------সৌম্যজিত দত্ত। 
যে বা যারা ধর্ষণের জন্য নারীর দোষ বা পুরুষের দোষ খুঁজে বেড়াচ্ছে, তাদের একটা কথা বলবো, তারা চেতন বা অবচেতনে প্রতক্ষ্য বা পরোক্ষ্যভাবে ধর্ষনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। ধর্ষণ কোনো শারীরিক চাহিদা নয় বরং এটা শারীরিক বল প্রকাশের মত মানুসিক রোগ। গোটা দেশ জুড়ে ধর্ষণ হচ্ছে, বিচার ১টা কি ২টো হচ্ছে, ফাঁসি দন্ড বহাল করা হচ্ছে, এভাবে ধর্ষণ বন্ধ হবেনা। একমাত্র নৈতিক শিক্ষা, যৌন সচেতনমূলক শিক্ষাই ধর্ষণের মত মানুসিক রোগকে নির্মূল করতে পারে। বয়সন্ধিকালে যৌনতা নিয়ে নানা কৌতুহল জন্মায় কিশোর, কিশোরীদের মনে। তাদের সেই কৌতুহলগুলো যখন তারা বুঝতে পারে যে সমাজে নিষিদ্ধ, তখনই তাদের মধ্যে যৌন প্রবৃত্তি ও নানান খারাপ চিন্তা মাথাতে চলে আসে। অথচ, তাদের যদি তখনই বোঝানো যায়, যে এটা একটা স্বাভাবিক শারীরিক ও মানুসিক বিকাশ। লুকোচুরি না করে যদি অভিভাবকেরা যৌনতা নিয়ে বোঝান, সচেতন মূলক শিক্ষা দেন, তবে মনের মধ্যে ধর্ষণ স্পৃহা কখনই আসতে পারেনা। সরকারের উচিত যৌন সচেতনমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা। তবেই ধর্ষণ নির্মূল হবে।
মেয়েমা, তুমি তো অনেক লেখা লেখো অসহায় মেয়েদের জীবন নিয়ে। ছোট করেই হোক, ওই মেয়েটাকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন লিখে দাও কোনো পত্রিকাতে। মেয়েটার অসুস্থ বাচ্চাটা বাঁচতে পারে, যদি কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। অথবা আমার লেখাটায় সবাইকে দেখার সুযোগ করে দাও। তোমাকে তো কত মানুষ ভালবাসে, তুমি যদি একবার এই মেয়েটার জীবন তুলে ধরো কোনো প্রতিবেদনে বা তোমার প্রোফাইল-এ, নিশ্চিতভাবে অনেক মানুষ সামনে এগিয়ে আসবে। আমি এতবার করে তোমাকে বলতামনা, সেদিন তোমাকে মেসেজ করেছি, তোমার পোস্টে কমেন্ট বক্সে বলেছি, আজ বলছি। ওই একটা বাচ্চা মেয়ে, যাকে আমি কখনই দেখিনি, চিনিনা। কিন্তু কষ্ট হচ্ছে যে, একটা অসুস্থ বাচ্চা মেয়ে সবকিছু থেকে বঞ্চিত হয়ে চিকিত্সাহীন ভাবে মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে। আমি অনুগ্রহ করছি তোমাকে। 


Saturday, 26 March 2016


দেশ হল মানুষ। মানবিকতা ও প্রেম হল দেশপ্রেম।



আমরা যেকোনো দেশের নাগরিকরা, যারা জাতীয় পতাকাকে সম্মান করি, তাদের কাছে পতাকা কেন সম্মানযোগ্য? পতাকার রংকে আমরা শ্রদ্ধা করি। পতাকাতে থাকা কোনো চিহ্নকে সম্মান করি। পতাকা তো একটা কাপড়, যেখানে কিছু রং ও প্রতীক থাকে। যা দেখে, জাতীয়তাবাদের প্রেমে আমাদের মধ্যে দেশভক্তি জেগে ওঠে। আমরা উঠে দাঁড়িয়ে যায়, স্যালুট করি। কিন্তু এই আমাদের মধ্যে ৯৮% মানুষ দেশ বলতে সেই কিছু সীমানার পরিধির মধ্যে আবদ্ধ একটা মানচিত্রকে বুঝি ও সেই মানচিত্রের একটা রংকে নির্দিষ্ট করে পতাকাতে তুলে ধরি। এটাই আমাদের কাছে দেশ, এটাই আমাদের জাতীয়তাবাদী প্রেম। আদতে দেশ কি সীমানা? দেশ মানে মানুষ। মানুষ ছাড়া, মানুষের আবেগ ছাড়া একটা দেশ কখনো দেশ নয় বরং একটা জমি হয়ে থাকে। এমন একটা জমি যেখানে আবাদের অভাবে বাঞ্জার হয়ে যায়।
তাই দেশপ্রেম করতে হলে, মানুষের সাথে প্রেম করতে হবে। জাতি, উপজাতি, ধর্ম মানুষের সৃষ্টি, মানুষের কিছু স্বার্থসিদ্ধির জন্য। স্বার্থসিদ্ধিতে ভালো ও খারাপ দুটো দিকই থাকে। যেটা যেভাবে ব্যবহার করা হয়, সেটা তেমন ফল দেয়। প্রেমের কোনো রং থাকেনা, জাত থাকেনা, ধর্ম থাকেনা, তাই মানুষের সাথে প্রেমের সদিচ্ছা অর্থাৎ দেশপ্রেমের সদিচ্ছা থাকলে, সেখানে ধর্ম, জাতি কখনই বাধা দিতে পারেনা। তবু একটা দেশের মধ্যে আজ জাতির লড়াই, ধর্মের লড়াই, ঐক্যতার অভাব দেখা দিচ্ছে। অথচ সেই মানুষগুলোই আবার পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে স্যালুট করছে। এটা কখনো দেশপ্রেম হতে পারেনা। বরং এটাকে বলে জাতীয় পতাকাকে পেছন থেকে লাথি মারা। এটাতে জাতীয় পতাকা ও দেশের অপমান হয়। যদি সত্যিকারের দেশ প্রেমিক হতে হয় তবে, জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ প্রেমিক হতে হবে।


আজ থেকে চার বছর আগে পর্যন্ত, আমার চিন্তাতে দেশ বলতে জাতীয় পতাকার রং, অশোকস্তম্ভ ও সীমানার অন্তর্ভুক্ত মাটি ছিল। জাতির কুসংস্কার আমার মধ্যে ভরপুর ছিল। ওই একটা মানুষ, তসলিমা নাসরিনকে আমি যখন থেকে জেনেছি, নিজের মধ্যে অনুভব করেছি, আমি বুঝেছি, দেশ হল মানুষ। মানবিকতা ও প্রেম হল দেশপ্রেম।  

Friday, 25 March 2016

মেয়েমা চট্টগ্রামের একটা মেয়ে ও তার বাচ্চা খুব কষ্টে আছে। বিপদে পরেছে। গত ৫ মাস ধরে সাহায্য চায়ছে। আমি বেশকিছু চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশ  মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্টের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, ওরা সাহায্য করবে বলেছিল, কিন্তু ওরা কাল মেয়েটাকে জানায় কোনো সাহায্য করতে পারবেনা। আমি কোনো উপায় দেখতে না পেয়ে, একটা লেখা লিখেছি ওদের জন্য। তোমাকে ইনবক্সে লিংক দিয়েছি, দেখো। তোমার তো পরিচিত মহল আছে বাংলাদেশে। একটু দেখবে কোনো সাহায্য করতে পার কিনা কোনোভাবে?
ফারজানার গল্প। না, গল্প নয়, একটা অসহায় মেয়ের কথা।
সৌম্যজিত দত্ত।


ফারজানার সাথে আমার পরিচয় পাঁচ মাস আগে। ফেসবুকে। একটা অসহায় মেয়ে। আমাকে দাদা বলে ডাকে। আমার সাথে পরিচয় করেছিল কারণ ও ভেবেছিল ওর জন্য আমি কিছু করতে পারি। মেয়েটার পরিচয় দিই। ফারজানা আক্তার। বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ওর একটা মেয়ে আছে। নাম সাইফা। বয়স মনে হয়, ১ বছরের কিছু বেশি হবে। প্রতিবন্ধী। ফারজানার বয়স ২৩ কি তার একটু বেশি হবে। কুড়ি বছর বয়সে ফারজানার বিয়ে হয়। বাড়ি থেকে দেখাশোনা করেই বিয়ে দিয়েছিল ওর বাবা। ছেলের বয়স তখন পয়ত্রিশ। ফারজানা তখন পড়াশোনা করছিল, হঠাত বিয়ের প্রস্তাবে সে প্রথমে রাজি হয়নি। পরে ছেলে ফারজানাকে পড়াশোনা করানোর প্রতিশ্রুতি দিলে, ফারজানা বিয়েতে মত দেয়। ওদের বিয়ের পর ছেলেটা জানায় যে সে পড়াতে পারবেনা ফারজানাকে।

বিয়ের পর থেকেই অশান্তি শুরু হয় পরিবারে, ছেলের বড়দাদা ও দাদার শ্যালিকা মিলে সংসারে অশান্তি ঢোকায় ও নানাভাবে ফারজানাকে শারীরিক ও মানুসিক অত্যাচার করতে থাকে। ফারজানা বলে, "বাড়িতে বিয়ের আগে খুব আদরের ছিলাম, বিয়ের পর শ্বশুর বাড়িতে ১০-২০ দিনের বেশি থাকতে পারিনি, তারা নির্যাতন করত। বেশিরভাগ সময়টাতে বাবার কাছে ছিলাম, তখন আমাকে ওরা নিতে আসেনি কেউ। এখন ওরা বলে, আমি নাকি বাবার বাড়ি থাকার জন্য পাগল ছিলাম। আটমাসের গর্ভবতী অবস্থায় ঈদ করতে তাদের বাড়ি যাই, ওরা আমাকে একটা আলমারীর জন্য অমানুষিক অত্যাচার করে। অত্যাচার বাড়তে থাকে। পেটে বাচ্চার নড়াচড়া একদিন বন্ধ ছিল, ওরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়নি। প্রতিবন্ধী বাচ্চার জন্ম হয়। জন্মানোর পর বাচ্চার কান্না বন্ধ ছিল। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে একমাস ভর্তি ছিল। ওরা কেউ দেখতে আসেনি। শিশুটি প্রতিবন্ধী জন্মানোর জন্য আমাকেই দায়ী করা হয়। শিশুটিকে চিকিত্সাহীন ভাবে মারতে চেয়েছিল। আমার জন্য মারতে পারেনি। তারা বলে, প্রতিবন্ধী শিশুটিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা নষ্ট করে কি হবে? এখন আমার বাবাও শিশুটির চিকিত্সার টাকা দিচ্ছেনা, বলছে মামলা করে বাড়ি থেকে বার করে দেবে। শ্বশুর বাড়ি থেকে এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছে, তারাও কোনো টাকা দেবেনা, এভাবে বিনা চিকিত্সায় শিশুটি মারা যাবে। চেয়ারম্যান কিছু করছেনা। এখন বলুন আমি কি করবো? তবে যাকিছুই করি, আমার বাবা আমাকে কোনো সাহায্য করবেনা।"

এতকিছু শোনার পর, আমি মেয়েটাকে ভরসা দেওয়ার চেষ্টা করি। ইতু বাংলাদেশের মেয়ে, যদিও সামাজিক বিশৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে তাকেই দেশ ছাড়া হতে হয়েছে। তবু ভেবেছিলাম, যদি ইতুর পরিচিত কেউ যদি চট্টগ্রামে থাকে, তবে মেয়েটাকে সাহায্য করতে পারবে পাশে থেকে। ইতু খোঁজ খবর নিয়ে বলে, সেখানে পরিচিত কেউ নেই যে সাহায্য করবে। আমি বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্টে ব্যাপারটা জানাই, মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্টের একজন কর্মী ফারজানার সাথে ফোন মারফত যোগাযোগ করেন ও ভরসা দেন। আইনি স্টেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আজ একমাস মত পরে, মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্ট জানায়, দূরত্বের কারণে তারা কোনো সাহায্য করতে পারবেনা ফারজানাকে। ফারজানা এখন ভীষণ সংকটে। তার অসুস্থ শিশুটির অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। আমি কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে, আজ ঘটনাটা মেয়েমা তসলিমা নাসরিনকে লিখে পাঠাই। এখন যদি কিছু কেউ করতে পারে, একমাত্র উনিই পারেন ওনার পরিচিত মহলের মাধ্যমে। জানিনা, ফারজানার কি হবে শেষ পর্যন্ত। শিশুটিকে  আদৌ চিকিত্সা করানো সম্ভব হবে কিনা। তবে আজ বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা দেখে আমার করুণা হচ্ছে। এখানে অনেকগুলো ব্যাপার সামনে চলে আসছে।  ১) বধু নির্যাতন, ২) পনপ্রথা ও যৌতুক, ৩) সন্তানের প্রতিবন্ধকতার জন্য শুধুমাত্র মা'কে দায়ী করে সমস্ত দায় এড়িয়ে যাওয়া, ৪) রাজনৈতিক মহলের সাধারণ মানুষের পাশে না থাকা, ৫) কন্যাদায় এড়াতে অনেক বয়সের ব্যবধানে মেয়েকে বয়স্ক ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়া, ৬) ছেলেদের শিরদাঁড়া এতটাই বাঁকা যে, স্ত্রী-সন্তানের বিপদে পাশে থাকতে নাপারা, ৭) সমাজের অবস্থা এতটাই খারাপ যে মেয়েটার পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য কেউ নেই।  এমন একটা নড়বড়ে সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো রাষ্ট্রের কখনই গৌরব করা উচিত নয়।


আমার বাংলাদেশের ভাই, বোনদের কাছে একটাই অনুরোধ, তোমরা যদি দেশকে ভালোবেসে থাক, দেশ হল মানুষ, তবে মানুষকে ভালবাস। মানবতাকে জাতির ও জাতের উর্ধে স্থান দাও। ভেদাভেদ কোরনা। ও হিন্দু, আমি মুসলিম, ওর এক পা ভারতে, এই কথাগুলো একটা দেশের জন্য ভীষনই খারাপ। তোমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাশে থাক, সাহায্য কর একে অপরকে।


আমি ফারজানার ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিচ্ছি, তোমরা কেউ ওর সাথে থাকতে চায়লে, সাহায্য করতে হলে যোগাযোগ কোরো।


ফারজানা আক্তার।
পিতা)-ফয়েজ অাম্মদ মাতা - সাহেনা জেলা -চট্রগ্রাম, থানা -মিরসরাই, জোরারগজ্ঞ ডাকঘর -১নং করের হাট ওদের ঠিকানা নাম -সাইফুল পিতা -হোছেনূর জামান মাতা -মরিয়ম নেছা বড় ভাই)-মোস্তফা থানা -একই ডাকঘর -এছাকডাইবার হাট, পূর্ব ইছাখালি। কাজ করে -বাংলাদেশ রেলওয়ে, পাহাড়তলি, ( S L M) পদে।

ফোন নম্বর - ০১৮৩৭৮৮৯৬৭৭।
মেয়েমা বাংলাদেশে একটা মেয়ে, চিটাগঞ্জে থাকে। নাম ফারজানা আক্তার। মেয়েটা বিবাহিত, কিন্তু একটা প্রতিবন্ধী বাচ্চার জন্ম দিয়েছে বলে স্বামী পরিত্যক্তা। বাবার বাড়িতে থাকে। স্বামী দেখাশোনা করেনা, বাচ্চার চিকিত্সার খরচ দেয়না। বাবার বাড়ি থেকেও দায়িত্ব নিতে পারছেনা। মেয়েটা ভীষণ বিপদে পরেছে। আমাকে দাদা বলে ডাকে, গত ৫ মাস ধরে আমার কাছে সাহায্য চায়ছে। আমি ইতুর সাথে কথা বলেছিলাম, কিন্তু ওখানে ইতুর কোনো লোক না থাকায়, ইতু সাহায্য করতে পারবেনা বলেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার কল্যাণ ট্রাস্টে অনুরোধ জানিয়েছিলাম, ওরা মেয়েটার খোঁজ নিয়ে, ফোনে কথা বলে সাহায্য করবে বলেছিল। আজ হঠাৎ মেয়েটাকে ওই ট্রাস্ট বলেছে, দূরে হওয়ার কারণে কোনো সাহায্য করতে পারবেনা। মেয়েটার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো নয়। বাচ্চাটার অবস্থাও খুব খারাপ। আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিনা, কিন্তু অনেকরকম চেষ্টা করেও কিছু করতে পারলামনা। তুমি কোনো ব্যবস্থা করতে পারবে? আসলে মেয়েটা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায়, আমি ওকে নিয়ে চিন্তা করছিনা, কিন্তু আমার চিন্তা বাচ্চাটাকে নিয়ে। খুব অসহায় লাগছে এখন নিজেকে, কোনো সাহায্য করতে পারছিনা বলে। তোমার তো অনেকে পরিচিত আছে, তুমি একটু সাহায্য কর। 

Thursday, 24 March 2016

"তসলিমা নাসরিনকে পূর্ণ সম্মানের সাথে, সুরক্ষার সাথে বাংলার মাটিতে ফেরৎ চায় আমরা।"


এখানে তোমরা দেখ, এই মানুষটার ওপর আক্রমন করছে কিছু অবুঝ মানুষ। এই মানুষটাকে ওরা খুন করতে চায়ছে। প্রতি পদে বিপদের আশঙ্কা থাকার সত্ত্বেও এই মানুষটা, তসলিমা নাসরিন তার লেখা থামিয়ে দেয়নি, প্রতিবাদ ছেড়ে দেননি। মানুষের স্বাধীনতার জন্য, নারীর স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন প্রতি মুহুর্ত। তোমরা কি এটা জান যে এই মানুষটা শান্তিতে ঘুমোতে পারেনা কখনো? ক্লান্ত হয়ে ঘুমান রাতে।  একদিন এই মানুষটা আমাকে নিজে বলেছেন, দিনে ৬ ঘন্টা অন্তত ঘুমোতে। কিন্তু উনি নিজে ঘুমাননা শান্তিতে। এই মানুষটা ভাবে জীবন এত ছোট, ঘুমিয়ে সময় কেন অপচয় করবে সে? সারাদিন-রাত মানুষটার মাথাতে মুক্তচিন্তামূলক নানান ভাবনা ঘোরা ফেরা করে। উনিও একজন মানুষ, ওনার মধ্যেও আতঙ্ক, ভয় আছে। উনিও মৃত্যুকে ভয় পান, কিন্তু কখনো ভয় পেয়ে লড়াই ছাড়ার কথা ভাবেননা। উনি যাকিছু ভাবেন, বলেন, সবটা আদর্শের কথা ভেবে বলেন। উনি নিজে একজন নাস্তিক, কিন্তু উনি কখনো কাউকে বলেননি যে তুমি ধর্ম মেনোনা। উনি বরং বলেন, যেটা মন চায়, মানুষ সেটাই মানুক। অথচ তারা এই মানুষটাকে ধর্ম না মানার জন্য খুন করতে চায়। মাথার দাম ধার্য করে। তসলিমা নাসরিন সেই মানুষ যিনি, নিজে বিপদে থেকেও প্রায় পৌনে চারশ কোটি মেয়ের হয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন। তোমরা আওয়াজ তোলো,  জোটবদ্ধ হও, আর বল, এই মানুষটাকে কি বাংলা থেকে বঞ্চিত করে রাখার সিদ্ধান্ত ঠিক? এই মানুষটার কি বাংলার প্রতি কোনো অধিকার নেই? আমাদের দেশ স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক। প্রতিটা মানুষের নিজের চিন্তাভাবনাকে তুলে ধরার অধিকার আছে, তবে কেন তসলিমা নাসরিন নির্বাসিত হয়ে থাকবে? আরও অন্যান্য লেখকরা আছেন, অনেকেই আছেন যারা মুক্তচিন্তক হওয়ার সত্ত্বেও ঘোরতর নারিবিদ্মেষী। তাদেরকে তো নির্বাসন দেওয়া হয়নি? অথচ তসলিমা নাসরিন কোন আইনে আজও নির্বাসিত? আমাদের পুরো অধিকার আছে এই প্রশ্নের উত্তর জানার। তসলিমা নাসরিনকে পূর্ণ সম্মানের সাথে, সুরক্ষার সাথে বাংলার মাটিতে ফেরৎ চায় আমরা। 
মনের মানুষ'কে।

আমার রঙের বেলা। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


রঙের বেলা আসল গেল,
সবাই দেখি হুরমুড়িয়ে রং সাজে মেতে উঠল। 
নানা রঙে নানা সাজে কত যে সব সেলফি, গ্রুপি,
আমার ছবি সেই সাদামাঠা, যেমন থাকি রোজ আমি। 
উত্সভে আমার নেই কোনো আকর্ষণ,
পুজোতেও থাকি বইবেলা নিয়ে,
একটা বড় ঘরে আমি, সামনে ছিটিয়ে বইগুলো,
ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, আর চা-এর কাপে দিব্যি কাটে পার্বন। 


রঙ মাখতে আমিও চাই, চাই সেদিন মাখবো যেদিন, 
সামনে পাবো তোমাই। তোমার হাতে রং মেখে বসন্তের ছোঁয়া নেবো। 
আমি সেদিনই রং মাখবো। 
লাল, সবুজ, হলুদ আবীরে রাঙিয়ে দেবো ওই মুখে,
যে মুখ বারবার আসে আমার স্বপ্ন পাড়িতে। 


তোমার দুটো গালে হালকা রঙের ছোঁয়াই, বসন্ত এসে হাসে। 
রং যেন শুধু তোমাকেই ভালবাসে। 
আমি তো শুধু আলিঙ্গন করবো সেই বসন্তকে যে, 
তোমার ছোঁয়াতে ভাসে। 


Wednesday, 23 March 2016

বাংলাদেশ ক্রিকেট মন ছুঁয়ে গেল। অদূর ভবিষ্যতে প্রথম ৫ টা দেশের মধ্যে স্থান করে নেবে। তবে এই খেলাগুলো থেকে মান বোঝা যায়না। যে কেউ জিততে বা হারতে পারে। আসল পরীক্ষা হল টেস্ট ম্যাচ জেতা। ৫ দিনের  লড়াই। টেস্ট ক্রিকেট জেতা দেশগুলো বেশি উন্নতি করে, দ্রুত উন্নতি করে। ওখানেই অভিজ্ঞতা তৈরী হয়, স্নায়ু ঠান্ডা রাখতে শেখা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে টেস্টে ভালো খেলতে হবে। ভারত অনেক বছর ধরে লড়াই করে আজকের এই জায়গায় পৌঁছেছে। একদিনে এমন একটা জায়গা লাভ সম্ভব নয়। ভারতের এই অভিজ্ঞতা ও জয়ের জন্য আমি ও আমরা গর্বিত।

Tuesday, 22 March 2016

বেঁচে থাকুক সেই ভালবাসা।

"আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে
 আছ তুমি হৃদয় জুড়ে।

ঢেকে রাখে যেমন কুসুম,
পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম,
তেমনি তোমার নিবিড় চলা,
মরমের মূল পথ ধরে।

পুষে রাখে যেমন ঝিনুক,
খোলসের আবরণে মুক্তর সুখ,
তেমনি তোমার গভীর চাওয়া,
ভিতরের নীল বন্দরে।

ভালো আছি, ভালো থেক,
আকাশের ঠিকানাই চিঠি লিখ,
দিও তোমার মালাখানি,
বাউলের এই মনটারে।

আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছ তুমি হৃদয় জুড়ে।"
যেখানে যত ঢাকা সেখানে কৌতুহল তত বেশি। ধর্ষকের মস্তিস্ক বিকৃত। সাইকোলজিক্যাল প্রবলেম এটা একটা। ধর্ষণ যতটা শারীরিক চাহিদা এদের কাছে, তার থেকে অনেক বেশি মানুসিক চাহিদা। এমনকি এই বিকৃত মস্তিস্কগুলো এমনও হয়, দিনে এরা একই মেয়েকে ৭-৮ বার বা তার বেশিবার অথবা একাধিক মেয়েকে ওই একই সংখ্যাই ধর্ষণ করতে পিছপা হয়না। মনের ভিতরে ধর্ষণের চিন্তা তীব্র থেকে তীব্রতর হয় যখন কৌতুহল বাড়তে থাকে। এটা ধর্ষণ বলেই না, আরো অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, আমাদের মনে যেটার অভাব বেশি সেটার চাহিদাও বেশি। হিজাবি মেয়ে দেখলে ওদের কৌতুহল আরও বাড়বে। হিজাব ছাড়াও আবার ধর্ষণ হয়। ধর্ষক যেই হোক, পুরুষ বা নারী, সাইকোলজিক্যাল প্রবলেমটাই সবথেকে বড় সমস্যা তাদের। প্রত্যকে জনকে রিমান্ডে নিয়ে চিকিত্সা ও শাস্তি দুটোই দেওয়া উচিত। দৃষ্টান্ত তুলে ধরা উচিত সমাজের সামনে। তত্পর কে বা কারা হবে? আমরা তো বলেই খালাস।

কিছু কথা, কিছু স্বপ্ন


রং খেলাটা আমার খুব একটা পছন্দের নয়। প্রায় ২১ বছর আমি রং খেলিনি। সামনে বেশ কয়েকটা দায়িত্ব আছে, থেসিস জমা করা, নেট পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, ভাইভা ও আই.এস.আই  প্যানেল-এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। সারাদিন বই পড়া, লেখালেখি করা, মেয়েমা'র পোস্টগুলো দেখা, দিন তিনটে করে ক্লাস নেওয়া, রিয়ার সাথে একটু গল্প করা, ববিতার সাথে একটু কথা বলা, আর মাঝে মাঝে কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়া এই হল আমার বর্তমান রুটিন। কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়না, আত্মীয়রা নিমন্ত্রণ করে প্রতিদিনই, যাওয়া হয়না কোথাও, বা হয়ত গিয়ে উপভোগ করতে পারিনা ওসব কিছু। এড়িয়ে যাই। যেদিন ক্রিকেট ম্যাচ থাকে, বরং একটু ক্রিকেট ম্যাচ দেখি আর সময় পেলে ক্রিকেট খেলি বা ২ কিলোমিটার করে দৌড়ই।

ভালোলাগা বলতে, মেয়েমা'র কথা শুনতে খুব ভালো লাগে, তার লেখাগুলো পড়তে খুব ভালোলাগে। রিয়ার সাথে গল্প করতে ভীষণ ভালোলাগে। আবার কখনো ববিতাকে রাগ দেখাতে ভীষণ ভালোলাগে। তাছাড়া, আমার প্রতিদিনের রুটিনটা খুব ভালোলাগে। সবথেকে খারাপলাগা ব্যাপারটা হল, আমি একদম চিত্কার সহ্য করতে পারিনা। মাথা গরম হয়েযায় চিত্কার কানে আসলে। হবেই বা না কেন? একটা কান খারাপ, আরেক কানে যদি চিত্কার ঢোকে, মস্তিস্ক স্নায়ুগুলো উত্তেজিত হতে বাধ্য।


চলতে চাই, মেয়েমা'র রাস্তাতে। ওটাই আমার আদর্শ ও একমাত্র আদর্শ। কারণ, অনেকে সততা, জাতীয়তাবাদের রাস্তাকে আদর্শ মনে করে কিন্তু ওই সততা ও জাতীয়তাবাদের শিক্ষাই আমি ছোটথেকে অভ্যস্ত। সারাজীবন ওটা আমার সাথেই থেকে যাবে। আর মেয়েমা'র জীবন দর্শন হল একটা সম্পূর্ণ অভিধান যেখানে সমস্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়, তাই আমি ওই জীবনটাকেই আদর্শ মেনে চলতে চাই।

একজন মনোযোগী গবেষক ও অধ্যাপক হতে চাই। সংবিধানকে নিখুঁতভাবে জানতে চাই ও  সংবিধানের ওপর ডিবেট করতে চাই। মানুষের জন্য সংবিধানকে আরও উপযোগী করে তুলতে চাই। অনেকরকম চিন্তাভাবনা মাথাতে চলে আসে, সমাজমূলক ছবি তৈরী করতে চাই। রাজনীতি'র প্রতি একটা টান আছে, রাজনীতিকে প্রজার জন্য রাজার নীতি হিসেবে পুনরায় রূপ দিতে চাই। ব্যাস এটুকু স্বপ্ন যেন সম্পূর্ণ করতে পারি।

সবাই হোলির শুভেচ্ছা জেন। 

Monday, 21 March 2016

অনেকসময় এমনকিছু হয়েযায়, যখন উত্তেজনা, চঞ্চলতা ছন্দপতন করিয়ে দেয়। মানুষের বেখেয়ালে এমনকিছু কাজও করিয়ে দেয় যেটা হয়ত আদৌ সে করতে অভ্যস্ত নয়। তখন একটাই উপায় সামনে থাকে। চলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেওয়া বা কিছুটা পিছিয়ে এসে পরিস্থিতিক অনুভব করে এগোনো। নইলে, সেই সময়ে করে যাওয়া ভুলগুলো আক্ষেপ সৃষ্টি করে মনের মধ্যে। 

সবকিছু বড় চঞ্চল।
সৌম্যজিত দত্ত।


মাথা ঘেটে ঘোল, কত কি আছে থিওরি,
টিউরিং মেশিন গুলে খেয়েছে পুশ-ডাউন স্ট্যাক মেমরি।
একুইভালেন্স অফ রেগুলার এক্সপ্রেশন এন্ড ফাইনাইট অটোমাটা,
সবকিছু ধরতে গেলে দরকার মোটা মাথা।

গা ঘেমে অস্থির নাকি, মাথা ভেজা ঘাম চুয়ে চুয়ে পরছে,
আন্ডিসাইডিবেল প্রবলেমগুলও চোখ রাঙানি  দিচ্ছে।
লজ্জাই মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে, থিওরি গুলোর সামনে,
দরকার অনেক প্রোটিন এখন, মাথা-মন ঘাস খাচ্ছে।
আবেগে আমি জর্জরিত, চাই মুক্ত বাতাস,
নিমেষে সব ধরতে পারি আমি বড়ই গুণধর।

পরীক্ষাগুলো নিয়ে খেলা করেছি, চিন্তা আসেনি মনে,
উপভোগ করেছি সিলেবাসগুলো, শিখেছি, জেনেছি, হলে গিয়ে উতরে দিয়ে এসেছি।
বাঁধা ধরা নিয়মে চলিনি কখনো, পড়ার কি কোনো সময় হয়??
শেখার জিনিস নেশায় শিখেছি, পেরিয়েছি অনেক অনেক শিড়ি।
এখন বাকি ফাইনাল থেসিস, মাথা বড়ই চঞ্চল,
মনের মধ্যে খিদে অন্যকিছুর, থেসিসটাই এখন হতে চায়ছেনা পার।

একটু অক্সিজেন চাই, চাই একটু প্রোটিন,
মাথার মধ্যে আবেগের তারগুলো নড়ে উঠুক খচখচ করে।
আমার চাই সেই অক্সিজেন।
চাই ভরপুর জোশ। 
ও দিদি, কোথায় তুমি, কোথায় গেলে বল?
দিন-দুপুরে থানায় গিয়ে মিসিং ডায়েরি দেবো।
সময় দেখি, প্রহর গুনি, ভাবি তুমি আসবে,
একটু কিছু লেখা দিয়ে, আছ জানান দেবে,
ওগো কোথায় তুমি গেলে বল কোথায় তুমি গেলে??


ভরাডুবি মন আমার মন খারাপের বেলা,
কোথাও তো কেউ নাই যে তাকে, বলবো দুটো কথা।
তুমি থাকলে একটু আধটু আবদার করে বলি,
দিদি আমার হারিয়েই গেল, এখন কাকে ধরি?
রাষ্ট্র চিন্তা।


রাষ্ট্র ও দেশের মধ্যে পার্থক্য:

রাষ্ট্র আর দেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। এখন রাষ্ট্র বলতে বোঝায় আন্তর্জাতিক, বানিজ্যিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমারহে গঠিত ইট, বালি, পাথরের কতগুলো শহরের সমষ্টি। যেখানে ধূর্তামি দ্বারা আখের গোছানো হয়। নামের গণতন্ত্রে গঠিত একটা সমাজ যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার নয়, ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব বহাল রাখা হয় ও সেটা সাধারণের দ্বারা স্বীকারও করা হয়। মানুষের সম্মোহিত মন এটাকেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে মেনে নেয়। এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার শুধু গুন্ডা রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হয়ে জেতান ও রাষ্ট্রের দায়ভার তাদের ওপর তুলে দেওয়া। দেশের সংজ্ঞা ভিন্ন। দেশ বলতে বোঝায় মানুষ, দেশ বলতে বোঝায় গণতান্ত্রিক অধিকার, দেশ হল বাকস্বাধীনতা ও সেই সমস্ত রকম স্বাধীনতা যেখানে মানুষ নিজের বুদ্ধি ও আবেগকে নির্দ্বিধায় সর্বসম্মুখে তুলে ধরতে পারে, নিজেই নিজেকে ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারে, অর্থাৎ দেশ হল মানুষ, দেশ হল জাগরণ মঞ্চ। 


ভারত, বাংলাদেশ সম্পর্ক:

সমগোত্রীয় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্ধুত্ব যে চিরকালের সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারিনা। কিন্তু রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রের মন্ত্রিমহলেই সীমাবদ্ধ নয়। আজ বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রেও রাজনীতি নিজের ছাপ ফেলে দিয়েছে। দুটো রাষ্ট্রের মানুষের  মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলে সভাপতি নিযুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, নামের সভাপতি ছিলেন ছিলেন মুস্তাফা কামাল ২০১৪-২০১৫ পর্যন্ত। ভারত আই.সি.সি তে ভীষণ প্রভাবশালী  রাষ্ট্র, আর্থিক, বানিজ্যিক ও সমস্ত রকম্ ক্ষমতার নিরিখে। ২০১৫ তে ভারত-বাংলাদেশ  কোয়ার্টার ফাইনালে একটা ভুল আম্পায়ারিং'এর প্রতিবাদে মুস্তাফা কামাল ফেটে পরেন আই.সি.সি'তে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেটা অশোভনীয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীনিবাসন ও কামাল এর ইগোর যুদ্ধে কামাল সাহেব পরাস্ত হন, এবং  পদত্যাগ করেন। পরে পাকিস্তান থেকে জাহির আব্বাসকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করা হয়। এখানে কামাল সাহেব বাংলাদেশী হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন, সেটা সমর্থন যোগ্য কিন্তু একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উনি যেখানে আই.সি.সি'এর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেখানে ওনার আচরণ লজ্জাজনক। ফলস্বরূপ ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক আজ নিম্নগামী। এখানে ক্রিকেটার দের বা কোনো দেশের কোনো দোষ নেই, যুদ্ধ হয়েছে রাজনৈতিক মহলের, কিন্তু প্রতিটা ম্যাচে এবং ম্যাচের বাইরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হচ্ছে দুই দেশের ক্রিকেটারদের, দুটো দেশকে। 

আমি একটা কথা বারবার বলি, সেই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক যে, নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবে, অন্যদেশকেও একইভাবে সম্মান করবে। 



ধর্মযুদ্ধ:

ধর্মযুদ্ধ আজ মানুষের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করছে। ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ। অথচ আজ ধর্মগুলোও রাজনীতির  খেলায় মেতে উঠেছে। ধর্মগুলো মানুষকে পাখি পড়ানো করে পড়াচ্ছে সম্মোহিত করতে। আসলে প্রতিটা ধর্মের মূল বিষয় আজ রাজনৈতিক সুবিধাভোগ, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। আয়াত, আইনের তর্কযুদ্ধে ধর্মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে নারী, পুরুষ সমান অধিকারের কথা, কিন্তু বাস্তবে নারী বঞ্চিত হচ্ছে সমস্ত ক্ষেত্রে। 

আজ যেকোনো সরকারী চাকরিতে নারীর জন্য সিট সংরক্ষিত। ২% সিট নারীর জন্য বরাদ্দ। মসজিদগুলোতে নারীর প্রবেশের অধিকার সমান নয়। সম্পত্তি ভাগে নারীর প্রাপ্য পুরুষের অর্ধেক। নারীর সমান অধিকার কোথায় তবে?

তার ওপর ধর্মান্ধ মানুষগুলো নিজের নিজের ধর্মগুলোকে শ্রেষ্ট করে দেখাতে, অন্য ধর্মকে পায়ের তলায় মাড়াতেও দ্বিধাবোধ করেনা। অনর্গল গালি বর্ষণ চলতে থাকে। তাহলে কোথায় তারা ধার্মিক হল? ধর্মের মূল কথা মনুষত্ব ধারণ, সেটাকেই তো আজ ভুলিয়ে দিচ্ছে গোড়া ধার্মিকগুলো। 


                                                                  সৌম্যজিৎ।  

Sunday, 20 March 2016

দহন 
সৌম্যজিত দত্ত। 


মরণ যন্ত্রণা কোথায় সে লুকাই,
বারেবারে আসছে, কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে,
আপন জ্ঞানেই আজ আমি অপরাধী। 
স্বস্তিটুকু মিলছেনা, ধুঁকে ধুঁকে চলছি শুধু,
চিন্তাগুলো বড্ড ক্লান্ত। 
কেমন শাস্তি!!
আপন দহনে জ্বলছি আমি
চোখের সামনে উঠে আসা ভুলগুলো বড্ড বিশ্রী দেখতে,
বড্ড বিশ্রী আমি। 


বুঝে, না বুঝে সব উল্টোই করি শুধু,
উল্টো যখন করি, ভাবি মন যা বলে, তাই করি,
সম্বিত ফিরতেই মনেহয় সব ভুল করে ফেললাম,
আজ সবকিছুতেই বড্ড ভুল মনেহচ্ছে নিজেকে 


আমাকে একটা মেয়ে প্রায় বলত, "সম্পর্কের মানে অনেক রকম হয়। সেগুলো বুঝতে গেলে সম্পর্ককে সম্মান করতে হয়। তাহলে উত্তর নিজের কাছথেকেই উঠে আসে।"

আজ সেই মেয়েটা আমার কাছে নেই, কিন্তু তার বলা কথাগুলো আছে আমার কাছে। একটা বন্ধুত্ত্বের সম্পর্ককে নোংরা নাম দিয়ে দিচ্ছ। আরেকটা কথা, ওই মানুষটা কিন্তু আমাদের কারোরই ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করেনি কখনো। ব্যক্তিগত জীবনটা একান্তই ব্যক্তির হয়। আমরা শুধু সেটা নিয়েই আলোচনা করতে পারি যেটা সমাজকেন্দ্রিক, প্রাসঙ্গিক। ওনার ব্যক্তিগত জীবন একান্তই ওনার, ঠিক যেমন আমার জীবন আমার, তোমার জীবন তোমার।


আমি তার সমর্থনে বলছি কারণ, তার চিন্তাভাবনা, নতুন নতুন চিন্তাগুলো, এমনকি আমাদের পুঁথিগত শিক্ষার মধ্যে থেকেও উনি ভুলটাকে তুলে ধরে ভুল বলেছেন ও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, দেখাচ্ছেন। এই চিন্তাগুলোর জন্য আমি তাকে সম্মানের সেই জায়গায় রেখেছি যেখানে আমার সমস্ত সত্ত্বা বাস করে। 
সেনা নামে "লজ্জা।" লেখাগুলো যেন পড়ছিলাম না। শেষের লাইনগুলো একটা মেয়ে চোখে আঙুল রেখে ধিক্কার দিতে দিতে বলছিল।


‘ছটকু, আমার ছোট মামা, সেরাতে  মড়ার মতো ঘুমিয়েছিল। মাথায় বালিশ পড়তেই ছটকুর ঘুম এসে যায়। ও না ঘুমোলে নির্ঘাত চেঁচাত, আর ওরা ঠিক গুলি করে মারত ওকে, কেবল ওকে কেন, যারা ঘুমিয়ে ছিলাম ও বিছানায়– আমাকে, আমার ছোট বোন ইয়াসমিনকে, সবাইকে মারত। আমি অবশ্য ঘুমোইনি, ঘুমের ভান করে পড়েছিলাম, যেন ঘুমের মধ্যে আমি তখন ঘুমরাজ্যের ঘুমপরীর সঙ্গে খেলা করছি, দোলনা দুলছি, যেন আমি আর মানুষের দেশে নেই, যেন আমি কিছুই টের পাচ্ছি না ঘরে অনেকগুলো বুট পরা লোক হাঁটছে, কাঁধে তাদের বন্দুক, তারা যে কোনও সময় হাসতে হাসতে কথা বলতে বলতে ইয়ার্কি করতে করতে গুলি করে মারতে পারে যে কাউকে, কেউ ঘুমিয়ে নেই জানলেই তার খুলি উড়ে যাবে গুলিতে, তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হবে ক্যাম্পে, ক্যাম্পে নিয়ে চাবকে চাবকে বেয়নেটের গুঁতোয় গুঁতোয় হাড়গোড় গুঁড়ো করা হবে। বুট পরা লোক যা খুশি করুক, তুমি ঘুমিয়ে থাকো মেয়ে, তোমার চোখের পাতা যেন না নড়ে, তোমার গা হাত পা কিছু যেন না নড়ে, হাতের কোনও আঙুল যেন না নড়ে, তোমার বুক যেন না কাঁপে, যদি কাঁপেই যেন বুকের কাঁপন ওরা, যখন মশারি তুলে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকবে, টর্চের আলো ফেলবে তোমার ওপর, তোমার মুখে, তোমার বুকে, তোমার উরুতে, চোখ থেকে লালা গড়াবে, জিভ বেয়ে আগুন ঝরবে আর কথা বলবে এমন ভাষায় যা তুমি বোঝ না, টের না পায়। টের না পায় তোমার এক ফোঁটা অস্তিত্ব, টের না পায় তুমি আছ, তুমি জেগে আছ, যদিও তুমি আছ, জেগে আছ। যদি পায়ই টের, তবে যেন ওরা বলতে বলতে চলে যায়, তুমি কিশোরী হওনি, যুবতী হওনি, এখনও তোমার স্তন বলতে কিছু নেই। 

Saturday, 19 March 2016

কে কাকে সাপোর্ট করবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। যার যে টিমের খেলা পছন্দ হবে, সে তাকেই সাপোর্ট করবে। এটা ব্যক্তি স্বাধীনতা। এতে হিন্দু-মুসলিম বলে কিছু হয়না। যেমন আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমার দেশ ভারতকেই সমর্থন করবো, ঝাঁপিয়ে পরবো। কিন্তু তাই বলে পাকিস্তান ভালো খেললে সেটা দেখবোনা কেন? আমি ক্রিকেট ফ্যান হিসেবে যেকোনো ভালো ক্রিকেট দেখতে পছন্দ করবো। যেমন আমি ২০০৩-২০০৮ পর্যন্ত সময়ে যাই, ভারত - পাকিস্তান ম্যাচে আমি ভারতের জন্য উত্সাহ আর উদ্দীপনা নিয়ে ম্যাচ দেখতাম, জিততে চাইতাম, আবার যখন পাকিস্তানের ইনজামাম ব্যাট করতে আসত, আমি ওর ব্যাটিং উপভোগ করতাম। দেশের প্রতি প্রেম থাকায়, দেশকে জিততে দেখতে চাইতাম, উল্টোদিকে ইনজামামের খেলা দেখেও মুগ্ধ হতাম। এর সাথে হিন্দু, মুসলিম বলে কোনো সম্পর্ক নেই।


 মেয়েমা'র কথা প্রসঙ্গে আসি, মেয়েমা'র টুইট'টা কিছু মানুষের পক্ষে বা অনেক মানুষের পক্ষে একদম ঠিক। আমি নদীয়া'র ছেলে, পাশেই মুর্শিদাবাদ। আমি দেখেছি, ভারত, পাকিস্তান ম্যাচে ভারতের উইকেট পরলে বা পাকিস্তান ভালো খেললে, শচীনের উইকেট পরলে, ওরা বাজি পোড়াত। মুর্শিদাবাদ কিন্তু ইসলামিক ডিস্ট্রিক্ট।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো, মানুষ তাকেই সাপোর্ট করুক, যাকে সাপোর্ট করতে তার মন চায়। এখানে কোনো জোর-জবরদস্তি থাকবেনা।

বোন, এভাবে গালাগালি দেওয়া উচিত না। যদি ধর্মের প্রসঙ্গে বলি, মেয়েমা মনে প্রাণে কোনো দেব, দেবী এসবে বিশ্বাস করেনা। উনি নাস্তিক, পুতুল খেলা করতে অনেকেই ভালবাসতে পারে। মেয়েমা তো বলেই, যদি আল্লা নিজের অস্তিত্ত্বের প্রমান দেয়, মেয়েমা আল্লা'কেও মানবে, যদি কোনো দেব, দেবীর মূর্তি নিজের অস্তিত্ত্বের প্রমান দেয়, মেয়েমা সেটাকেও মানবে। অস্তিত্ত্ব খোঁজ করাতে তো কোনো অন্যায় নেই। জীবনে জানার আগ্রহ সবারই আছে। মেয়েমা যখন "লজ্জা" লিখেছিল, ওটা পড়ে জানা যায়, উনি কোরান সম্পর্কে যথেষ্ট পড়াশোনা করেছেন। তারমানে জানতে চেয়েছিলেন।  আবার যদি দেব-দেবীর মুর্তিতে আগ্রহ দেখান, ওটা নিছকই কৌতুহল বশত। আমি কিন্তু একজন আস্তিক। কিন্তু নাস্তিকতা জানার পুরো কৌতুহল আমার আছে। বিরোধিতা করে বা খারাপ কথা বলে ছোট করে জানতে নয়, যুক্তি দিয়ে, বিচার করে জানার ইচ্ছা।

শুধু এটুকুই বলবো, এভাবে গালাগালি দিওনা। খারাপ লাগে।  ভালো থেক বোন।

Friday, 18 March 2016

হেফাজত-ই-ইসলাম'এর দাবিগুলো ও আমার মত :
সৌম্যজিত দত্ত।


১) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করে, ধর্মের শাশ্বত ও সৌন্দর্যের প্রতি প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা, বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। 

আমার মত :  ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করার অর্থ কি? ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ করা। অর্থাৎ, মানবিকতা ধারণ করা। সকল ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা, আবার কেউ যদি নিজের মত করে বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চায়, চিন্তা করতে চায়, তাকেও সমানভাবে সম্মান করা। 

হেফাজত-ই-ইসলাম চায়, ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করা, অন্যান্য ধর্মগুলোকে চরম অসম্মান করে ইসলাম ধর্ম ও এক আল্লাহ'তে বিশ্বাস করা। 



২)  এই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে যে, ভবিষ্যতে সরকার ইসলাম অবমাননার দুঃসাহস বন্ধ করার স্বার্থেই আগ্রাসী নাস্তিক্যবাদ, ধর্মদ্রোহ ও ইসলাম অবমাননার কোনো ঘটনাই বিনা বিচারে ও বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ থাকতে পারেনা। সেজন্যই জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষের গুরুতর অপরাধে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে চিণ্হিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। 

আমার মত:  গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটা মানুষের নিজস্ব মোত  দেওয়ার অধিকার আছে। সমালোচনা করার অধিকার আছে। হেফাজত-ই-ইসলাম সেই গণতান্ত্রিক অধিকারকে অসম্মান করে দেশের সংবিধানকে অপমান করেছে। 




৩) এই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে, ইসলামের অবমাননার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও অন্যায্য উস্কানির সৃষ্টির সবরকম উপায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ইসলাম সমালোচনার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিতে, জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে। 

আমার মত: সমালোচনা করা কোনো অবমাননা নয়। বরং বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হয়েছে তখনই, যখন কোনো চিন্তাবিদ ব্লগার ইসলামের সমালোচনা করেছে, তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে।  অর্থাৎ, ইসলাম হত্যার অনুমতি দেয়। 

৪) রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আল্লা বিশ্বাসী ও রসুল প্রেমিক ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আল্লা রসুলের সম্মানহানির প্রয়াসের বিরুদ্ধে দাবি ও প্রতিবাদ নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহনকারী মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর দমননীতি বন্ধ করতে হবে। 

আমার মত: অর্থাৎ আল্লা বিশ্বাসী মানুষদেরকেই শুধু সম্মান করতে হবে, যারা আয়াতের ভুল ধরবে তাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ছাত্ররা যদি দাঙ্গার বিক্ষোভ করে, তবে সেই দাঙ্গাকে সংবিধান যেন না আটকায়। এটা একতরফা দাদাগিরি। 


৫) ধর্মীয় অধিকার রক্ষার চেষ্টার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের বিরুদ্ধে সবরকম নিন্দনীয় চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।  ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর থেকে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। 

আমার মত: অর্থাৎ ধর্মীয় আয়োজনের কোনো সমালোচনা করা যাবেনা। সমালোচনা করা ইসলাম অবমাননা করা, এই অবমাননার প্রতিবাদের মাদ্রাসা ছাত্রদের সন্ত্রাস চলবে।তাদের সন্ত্রাসী কারণে গ্রেফতার হওয়া মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর থেকে জোরকরে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।



৬)  পৃথিবীর কোনো দেশে মসজিদগুলোতে নামাজ পড়াতে কোনো বিধিনিষেধ থাকবেনা।

আমার মত: কিন্তু মহিলাদের মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় কেন? বিশেষ করে পিরিয়ড চলা কালীন মেয়েদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা কেন? পুরুষের বেলায় তো এমন কোনো বিধিনিসেধ নেই।


৭)  এই মহাসভা ঘোষণা করছে যে মুসলমানদের জন্যে নিজস্ব মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তার কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তির বাকস্বাধীনতার নামে অন্যধর্মে ধর্মগ্রহণ, চিন্তা, ও আচরণগত অনাচার, বেহায়াপনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বিজাতীয় ও বিধর্মীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: এভাবে মুসলিমদের একঘর করে দিয়ে মানুষের সাথে বন্ধুত্বটুকু ছিনিয়ে নিতে দাবি করছে। মুসলিমদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা নিষিদ্ধ, বাকস্বাধীনতা নেই, তুলনা করার কোনো অধিকার নেই? তাহলে কিসের গণতন্ত্র?

৮) ইসলামের স্বার্থে রাষ্ট্রে অমুসলমানদের সংখ্যা লঘু ঘোষণা করতে হবে।

আমার মত: দেশটাকে মুসলিম রাষ্ট্র করে দিলে, অন্যান্য জাতিদের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।


৯) এই মুসলিম প্রধান দেশে পর্তুগীজ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ উদ্বেগের। মসজিদ নগরী ঢাকাতে, স্কুল, কলেজ ক্যাম্পাসে  ভাস্কর্যের নাম মূর্তি স্থাপন  বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: হেফাজত-ই-ইসলাম বিজ্ঞান বিরোধী সবাই জানে। এবার ওরা শিল্পকেও বন্ধ করতে চায়ছে।

১০) এই সমাবেশ ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও ইসলাম বিরোধী আইননীতি  বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আমার মত: তাহলে অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেই কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে ? প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম দিয়েই যদি ছাত্র ছাত্রীদের সম্মোহিত করা হয়, তবে বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিভাবে হবে?


১১) মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে দেওয়া বাধ্যতা মূলক করতে হবে।

আমার মত: মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের মগজ ধোলাই করা হয় ধর্মীয়নীতি'র জন্য।  অবাধে সেসব চলতে থাকলে, দেশটার যেটুকু বাকি আছে, সবটাই অচিরে যাবে।

১২) ইসলামী প্রতীক নিয়ে কোনরকম কোনো সমালোচনা করা যাবেনা।  টেলিভিশনে বিভিন্ন নাটক দ্বরা ইসলাম বিরুদ্ধ অভিনয় বন্ধ করতে হবে।


আমার মত: অভিনয় একটা কলা। সেটাতেও নিষেধ আজ্ঞা?? তাহলে টেলিভিশন উঠিয়ে নিলেই হয়। ১৪০০ বছর আগের চিন্তাভাবনা ধরে রাখা  একটা পার্টি মাত্র এটা।


১৩) ধর্মান্তকরণ, মিশনারী ব্যবস্থা ক্ষতিকারক, তাই খ্রিস্টান মিশনারীদের এই ধর্মান্তকরণ ব্যবস্থা তত্পরতার সাথে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: এদের মতে সম্মোহন কার্য সম্পাদন করা একমাত্র মাদ্রাসা বাদ দিয়ে সমস্ত বোর্ডের সাথে অপসংস্কৃতি জুড়ে আছে।



এবার তোমরা বিচার কর, অপসংস্কৃতি কাদের? এই হেফাজত-ই-ইসলামের? নাকি মানুষের অগ্রগতির চিন্তাধারাতে?

এটা বলা ভুল যে মুসলিমদের সাথেই সব ধর্মের বিরোধ হচ্ছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান এসব নিয়ে আমার কোনো মাথা ব্যথা নেই। এগুলো শুধু একেকটা নাম মাত্র। যেটা নিয়ে মাথা ব্যথা করার দরকার সেটা হলো চিন্তা। অন্যান্য ধর্মগুলো সময়ের সাথে নিজেকে পাল্টেছে অনেক। সব ধর্মেই গোড়ামি আছে, কিন্তু ইসলাম তাদের পূর্বোক্ত আয়াত, নিয়ম ধরে রাখতে চায়ছে। অর্থাৎ, গোড়ামি বজায় রাখছে। সমস্ত ধর্মেই গোড়া মৌলতন্ত্র থাকলেও, ইসলাম যেহেতু অগ্রসর হচ্ছেনা সময়ের সাথে, অভিযোজিত হতে চায়ছেনা, তাই গোড়া মৌলবাদ বলতে এখন ইসলামকেই বোঝানো হচ্ছে। চিন্তার পরিবর্তন চায়, সমাজ কিন্তু অগ্রসর হচ্ছে, কিন্তু ইসলাম সেই একই জায়গাতে থাকছে। তাই ইসলাম নিয়ে এত সমালোচনা হচ্ছে বেশি করে। বিজ্ঞান কিন্তু বলে, সময়ের সাথে অভিযোজন দরকার, যে বা যারা অভিযোজিত হতে পারেনা, তারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। 

Thursday, 17 March 2016

আমি বলছিনা যে পাকিস্তান মানে শুধুই খারাপ, জঙ্গি ও ধর্ষকদের বাস। পাকিস্তানের মাটিতে যেমন পারভেজ মুশারফ, ইমরান খানের মত খারাপ মানুষ আছে, বেনজির ভুট্টোর মত মানুষ আছে, তেমনি ইনজামাম-উল-হক, শাহিদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক, ইউনুস খানের মত সৎ মানুষও আছে। শুধু পাকিস্তান বলেই নয়, ভারত, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সমস্ত দেশেই এই ভালো ও খারাপ মিশিয়ে আছে।


 দেখার বিষয়, সাধারণের চোখে  কোনটা ভালো ও কোনটা খারাপ? সাধারণ মানুষ মানেই সুযোগ সন্ধানী, সাধারণ মানুষ মানে আবার আবেগও। এই সুযোগ সন্ধান ও আবেগের টানাপোড়েনে যখন যার দ্বারা আঘাত লাগে, তখন সে হয়ে যায় খারাপ। আবার এই ভালো ও খারাপ কিছু নির্ভর করে দেশের রাজনীতি ও বানিজ্যের ওপরেও। রাজনীতি যেটা করে, মানুষের আবেগকে উস্কানি দিতে আপেক্ষিক দৃষ্টিতে খারাপকে চির খারাপ ও ভালোকে মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয় দিয়ে খুব ভালো করে দেওয়া হয় ও মিডিয়া'র  দ্বারা বাজারে সেটা চালিয়ে দেওয়া হয়। মানুষও সেটাই বিশ্বাস করে নেয়। অথচ, দেশের রাজনৈতিক মহল যদি মানুষের মধ্যে ভুল ধারণাগুলো দূর করতে, মানুষকে বোঝাত, কোনটা চিরস্থায়ীভাবে ঠিক ও কোনটা সম্পূর্ণ ভুল বা মিথ্যা, তবে দেশগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কমে, বন্ধুত্ব তৈরী হত।



ধর্মীয় কারণে পাকিস্তান বলেই নয়, সমস্ত দেশে সন্ত্রাস তৈরী হচ্ছে। আসলে এই সন্ত্রাসের সৃষ্টি হচ্ছে অন্ধকার, গোড়ামি ও মৌলতন্ত্র থেকে। এখানেও দেশের রাজনৈতিক মহল পুরো অংশে দায়ী। এরা এতটাই সুবিধাভোগী ও লোভী, ভোট জিততে মানুষের সামনে ভালো রূপ তুলে ধরছে ও পকেটের আখের গোছাতে সন্ত্রাসকে লুকিয়ে সমস্ত রকম মদত যুগিয়ে যাচ্ছে। ভাববার বিষয়, এইসব কোরাপশন এর উত্পত্তি কোথায়? রাজনীতি, ধর্ম, সন্ত্রাস, বহির্দেশের সাথে বানিজ্য এই সমস্ত সিস্টেম কিভাবে কোরাপশন করতে একে অপরের সাথে আন্তর্সম্পর্ক যুক্ত? এই সমস্তটাই মানুষকে জানতে হবে, বুঝতে হবে।

Wednesday, 16 March 2016

Atom.
Soumyajit Dutta.



None to compare each,
Coordinate object contains nuclear quality
To which, they're all relative.
Nothing universal true.

পরমানু। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


কোনকিছুই কোনকিছুর সাথে তুলনা চলেনা,
তুল্য বস্তু ধারণ করে নিজ গুনমান। 
যা কিছু চলে, যাকিছু হয়, সবই আপেক্ষিক,
ধ্রুব সত্য কিছু নাই। 
সব পত্র-পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমেরই  নিরপেক্ষভাবে সমস্ত খুঁটিনাটি ও সত্যকে সামনে তুলে ধরা উচিত। কিন্তু আজ সংবাদমাধ্যমগুলো রাজনীতির সাত্তার লালসায় লেলীহান। বাংলাদেশ প্রতিদিন সেই নিরপেক্ষতা ও সত্যের সাথে মানুষের পরিচয় ঘটানোর কাজটা খুব সততার সাথে করেছে, করছে। আজ বর্ষপূর্তিতে সকল মানুষের পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশ প্রতিদিন'কে অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানাচ্ছি। 
হ্যা  দাদা, আমি কাল থেকে অনেককিছু দেখলাম, চিন্তা করলাম। অনেক অনেক মানুষ সম্পর্কে আমাদের মনের মধ্যে আমরা ভুল ধারণা তৈরী করে, সেসব জেনেই জীবন কাটিয়ে দিই। জন্মায়, ভুল ধারণাগুলো জানি, শিখি, সেটা জেনেই মরে যায়। একজন ভালো চিন্তাবিদ, একজন ভালো যুক্তিবিদ ও একজন ভালো বিদ্রুপাত্মক সমাজে প্রয়োজন যিনি আমাদের ভুল ধারণাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে ধরিয়ে দেবে। এই মেয়েমা না থাকলে, আমরা সমাজ সম্পর্কে এত পরিস্কারভাবে জানতেই পারতামনা, এতকিছু তো মাথার মধ্যে সবসময় কাজ করেনা, মেয়েমা জিনিসগুলো আমাদের সামনে তুলে ধরে, আমরা জানতে পারি, সেটা নিয়ে ভাবি, চিন্তা করি ও সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারি। কাওকে সামনে এসে প্রথম কাজটা করতেই হয়, সেই ঘন্টা বাঁধার কাজটা মেয়েমা করে দেয়। 

Tuesday, 15 March 2016

১) জিনিসগুলোর ধারণা নেওয়া। 
২) বিস্তারিত পড়া। 
৩) চিন্তাভাবনা করা। 
৪) আবার পড়া। 
৫) লেখা। 
৬) মডেল প্রশ্ন সমাধান করা। 
৭) কঠিন ও কঠিনতর প্রশ্ন সমাধান করা। 
৮) নির্দিষ্ট ব্যবধানে সেগুলো আবার দেখা। 

বিষয়।

*ডেটা স্ট্রাকচার। 
*ইন্ট্রোডাকশন টু সিস্টেম সফটওয়্যার। 
*নেটওয়ার্কিং। 
*থিওরি অফ কম্পিউটেশান। 
*এলগরিদম। 
*সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং।  
*অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড মডেলিং। 
*অপারেটিং সিস্টেম। 
* আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। 
*স্ট্যাটিসটিক্স। 
*কম্পিউটার গ্রাফিক্স এন্ড মাল্টিমিডিয়া। 
*ডেটা কমিউনিকেশন এন্ড কম্পিউটার। 
*অ্যাডভান্স ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। 
*প্রজেক্ট ওয়ার্ক। 
*সি.বি.এস.ই নেট। 
Jaws.
Soumyajit Dutta .

When I see the world,
I see friendly jaws..
Which makes me grasp like,
I exist...

But when I desire a friend,
I find no one but..
I find contempt , green eye and spite,
Which makes me grasp so broken..

Folk has now forgotten
To love and to comprehend..
It now only owns
How to behave perfectly rough..

I grasp so solitary,
Because, There's no one likes me..
I wish I was a little child,
With not having a sin..
With peace in my soul..

Mock of the Nature 
Soumyajit Dutta .


Mock of the nature-
"When we get all, we loose conscious and
When we get conscious, we loose entire."
Does sense really bring bliss? or
Does it make experience of failure?
When I was ambitious and I had all,
I used to feel that I am so poor,
And running towards the goal,
I've been proletariat.
Aplenty of love I got, ever didn't realize its value,
Loosing that love today,
Everything I've lost.
I've totally lost.
It remains a dry soul,
Roasted in pain,
No chance to survive though
Thirsts' inexhaustible.
Nonetheless fighting to survive,
Desiring to win.

Monday, 14 March 2016


মনের মানুষ। দশম পর্ব।

মনের ভাষা।
সৌম্যজিত দত্ত।



অনেক অনেক কিছু না'বলা থেকে যায়,
বলতে গিয়েও আটকে যাই,
তুই'কি সেই নেশা?
তুই'কি সেই স্বপ্নপরী?
তোকে ঘিরে কল্পনাতে, স্বপ্ন বিছাই লক্ষ কোটি,
বারেবারে আসিস, চটপটে কিছু বলে আবার বলিস, "দূর হয়ে যাও।"
কি মিষ্টি লাগে কথাটা তখন!!!


অভিমান থাকে তোর্ নাকের ডগায়,
নানাভাবে, নানা সময় নানারকম অভিমানের কথা বলিস,
চটপটিয়ে রাগ দেখাস, আবার আধো আধো কথাতে জানিয়েও দিস, "ভালবাসি।"
ভালবাসার কথাটা তোর মুখে এমন, "ভালবাসিনা তোমাকে।"


আজ তোকে ভীষণ আপন লাগছে, মনের মাঝে তুই, আমার মনের সৃষ্টি,
নানারকম কল্পনার রঙে তোকে রাঙিয়ে তুলি,
তোর আদুরে কথাগুলোকে আদর করে গায়ে মাখি,
মাখতে যে তোকে কি ভীষণ ভালো লাগে আমার!!!
মনেহয়, "চেপ্পে ধরি বুকের মাঝে, মাথাতে হাত বুলিয়ে, তোর ঠোঁট দুটোতে ঠোঁট ছুঁয়ে দিই,
জড়িয়ে ধরে এক হয়ে যাই, সম্পূর্ণ হতে যতটা চেপে ধরা যায়, ততটা চেপে ধরি।"

ভালবাসার অভিমানে জ্বলছিস তুই,
মনের কথা মনের মধ্যে আটকে রেখে, অধিকার দেখাতে চেয়েও দেখাতে পারছিস না।
আমি শুধু তোরই অধিকার, এটা জেনেও নিজেকে আড়াল করছিস কোনো এক দ্বিধা'র টানাপোড়েনে।
মনের কথা মুখে এনেই দ্যাখ, আমি তো শুধু তোরই আছি।

কল্পনায় তোকে কত্ত নামে ডাকি, "টুলটুলি, ফুলফুলি, ঘুলঘুলি।"  
কত যে সব আদরের ডাক!! ডাকতে ডাকতে চোখে জল এসে যায়, সেই জলে তোর গালদুটো ভিজিয়ে দিই,
আবার আমার ঠোঁট দিয়ে শুসেও নিই সব জল।
আমি কাঁদতে পারি, কাঁদতে পারি তোর হাসি মুখটা দেখে,
সে কান্না কোনো কষ্ট মাখা নয়,
সে কান্না বড়ই সুখের, বড়ই তৃপ্তির।



Sunday, 13 March 2016

অগ্নি উত্স তুমি তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিত দত্ত।
উত্সর্গ- আমার লেখিকা, তসলিমা নাসরিনকে।


তোমার আপসহীন আগুন কত মানুষ দেখেছে !!
পদে পদে তোমার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে সরকার, মৌলবী, ধর্মান্ধ ভক্ত।
যখন লড়েছ, ভয় তোমারও হয়েছে। তুমি ভেবেছো, "এই বুঝি কেউ এসে আমার মুন্ডপাত করে।"
ভয় সবাই পায়। সেই ভয়তেও তুমি আপসহীন।
যত দেখি, ততই মুগ্ধ হয়ে যাই।
শরীরের প্রতিটা লোম খাড়া হয়ে যায়, যখন তোমাকে বাংলা নির্বাসনের সময়গুলোতে অনুভব করি।
রক্তের মধ্যে গরম স্রোত বয়ে যায়।

অগ্নি কন্যাকে নতুন কি আর ভাষা দেবো?
যে নিজে জ্বলন্ত আগুন, তাকে ভাষার আগুনে উজ্বল করার ভাষা কম হয়ে যাবে।

যখন গোটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহল, মৌলবী, রাষ্ট্রীয় মানুষ মূর্খামি করে তোমার
রক্তের স্বাদ পেতে চেয়েছে,
তুমি তখন সদ্য যৌবনের একজন মানবিক লেখক, ধর্ম বিদ্রুপাত্মক।
সাহস করে সত্যিটা তুলে ধরেছিলে, কিন্তু এত মনের জোর তোমার ছিলনা।
ছিলনা, কারণ পরিবারের টান, প্রানের ভয়। সংসার, ভবিষ্যত তুমিও চেয়েছিলে।

আস্তে আস্তে সমাজের ভয়ঙ্কর রূপটা সবে প্রকট হচ্ছে,
রাতের অন্ধকারে তোমাকে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। কেউ আশ্রয় দিতেও ভয় পাচ্ছে।
অন্ধকূপের মধ্যেও জীবন কাটিয়েছো, বাইরের জগতের আলো তোমার চোখে পরেনি।
সত্যি বলার শাস্তি। তুমি ভাবোনি কখনো, সত্যি বলার শাস্তি এত ভয়ঙ্কর!!
দেশের দু একজন বুদ্ধিজীবি তোমার সাথ হয়ত দিতে চেয়েছে,
কিন্তু পরে তারাও পিছিয়ে আসে পরিবারের চিন্তা করে।
তাদেরই বা দোষ দিই কি করে?
দেশের সংবিধানের অসংবিধানিক নীতি তোমাকে দেশ ছাড়া করে দিল।
মা, তুমি ঘুমের মধ্যেও রক্ত চোখ দেখতে তাইনা!!?
হয়ত ঘুমোতে, ক্লান্ত হয়ে। তোমার বুকের মধ্যে প্রতিটা মুহুর্তে কেঁপে উঠেছে,
"এই বুঝি ঘরে ঢুকে এল ওরা, এই বুঝি ছিন্নভিন্ন করে দিল চাপাতির আঘাতে।
এই বুঝি সব থামিয়ে দিল, শেষ করে দিল আমাকে, এই বুঝি সত্যের পরাজয় হয়েগেল। "

সেই দেশ কখনো দেশ হয়ে উঠতেই পারেনি মা,
সেই দেশ কখনো সত্যের মুখোমুখি হতে চায়নি।
সেই দেশ ধর্মের কারাগার।
সেই দেশে মুক্ত চিন্তা নয়, সম্মোহনের খেলা চলে।
সেই দেশ খুনিদের দেশ।
সেই দেশ শুধু একটা রাষ্ট্র মাত্র।

নিরাপত্তার খোঁজে চলে এলে ভারতে।
আশ্রয় পশ্চিমবাংলা।
উস্ক-খুস্ক মুখে তুমি ভেবেছিলে এখান থেকে লড়াই শুরু করবে দেশে ফেরার।
কিন্তু এখানেও তোমার ভাষা থামিয়ে দিতে উঠে আসলো বজ্জাত সরকার,
সরকার নয়, ওরা মাওবাদী।
তোমার লেখা "দ্বিখন্ডিত"কে খন্ড খন্ড করে জলে ভাসাতে চেয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারকেও রাজনীতির দালাল বানিয়ে তোমাকে হুমকি দিয়েছে।
রিজওয়ান ঘটনার সুযোগ নিয়ে মুসলিম জাতিকে তোমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে।
আরও কত কি করেছে!!! মনে করতে পারো সেসব মেয়েমা?
বাংলা এখনো মানুষ হয়নি। বাংলা আজও রাজনীতির একটা মঞ্চ মাত্র।

পুরুষতন্ত্র, ধর্মতন্ত্র, সরকারতন্ত্র বারেবারে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
অগ্নিউত্স বলেই তুমি আজও সত্য প্রতিষ্ঠানের লড়াই লড়ে যাচ্ছো।
আজ আর তোমার লড়াইকে ওরা থামাতে পারবেনা, কারণ তুমি এখন
সম্পূর্ণ ভিন্ন "তসলিমা নাসরিন"।
এই বাংলাতেও তোমার প্রত্যাবর্তন হবে।
বঙ্গকন্যা ফিরবেই, আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে সেদিন দেখতে পাচ্ছি।
তোমার আবিস্কার আমি, তোমার আদর্শে গড়া সেই অগ্নিদূত হয়ে ফেটে পরবো।
ফিরিয়ে আনবো তোমাকে এই বাংলায়, সম্মানের সাথে, নৈতিকতা দিয়ে।