Sunday, 31 July 2016


আদর্শের লড়াই।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন কে। 
সৌম্যজিৎ। 

হায়! কত ঘেন্না, কত রক্ত দেখি আজ ওই ধর্মে,
মানুষগুলোকে অসহায় করে রেখেছে, খুন করাচ্ছে, হিংস্রতা ছড়িয়ে 
হিংস্র রাক্ষস বানিয়ে পথে ঘাটে, স্কুল, কলেজে জিহাদি কারবার করছে।
মানুষগুলো আর মানুষ নেই, নেই ওদের কোনো মানুষী পরিচয় গর্ব করার মতো,
ওরা আজ রাক্ষসকূলে নাম লিখিয়েছে ইসলামকে হেফাজত করতে। 
জিহাদি সম্মোহন ঘিরে ধরেছে ওদের,
চূর্ণ করছে মানবিকতা,
ওরা হারিয়েছে মানহুশ তাই-
বিকিয়েছে মস্তিষ্কের চিন্তা।

তুমি কাদের জন্য লড়ছ!
বছরের পর বছর ধরে, এত অপমান, অসম্মান সহ্য করে যাচ্ছ,
প্রকাশ্যে তোমাকে মারতে এসেছে,
প্রকাশ্যে তোমাকে ধর্ষণের কথা বলেছে,
প্রকাশ্যে তোমার বস্ত্র খুলে বিবস্ত্র করতে চেয়েছে ওরা।
তুমি কি মানুষ!
মানুষেরও সহ্যের একটা শেষ সীমা থাকে,
তুমি মানুষের সেই সীমা পার করে গেছ,
তবু এত শান্ত, হাসি মুখে নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছ,
রোজ রোজ নতুন লড়াই লড়ে যাচ্ছ মানবিকতার খাতিরে, আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে। 
সত্যিই তোমার মনের নাগাল পাওয়া বড় দুষ্কর!!

লৌহ কপাট চূর্ণ করো, ছিন্ন করো পায়ের শেকল,
মানবে না হার, যত আসুক সামনে বেহায়া খুনির দল।
ওরা মাতে ধর্মের নামে, ওরা ধর্মের দোহায়ে রংবাজি খ্যালে,
ওরা নিশ্চিন্তে মানুষ মারে রাজনীতির ছত্রতলে।

ঐ দ্যাখো যত আছে হার্মাদ, খুনির শেকড়গুচ্ছ,
সবাই ওরা মানুষ খেকো, ধর্মজালে কারারুদ্ধ।
ওদের পায়েই শেকল বাঁধা, কুয়োর কিটে জীবন বাঁচা,
সমুদ্রের স্বাদ পাইনি তাই, মুক্তি ওদের প্রাণ নাশায়,
হাসতে হাসতে খুন করা ওদের ধর্মে লেখা।


ভণ্ড মানুষ, ভণ্ড জাতি, জাতেই ওদের গোঁড়ামি,
রক্ত নদীর স্রোতে ওরা ভাসাতে চায় মানবজাতি,
হিন্দু-মুসলিম ভিন্ন নামে, ভিন্ন কথা, ভিন্ন সুরে,
উদ্দেশ্য ওদের একই- খুনের নামে সন্ত্রাসী।





ধর্ম, আড়ালে সন্ত্রাসী।

লৌহ কপাট চূর্ণ করো, ছিন্ন করো পায়ের শেকল,
মানবে না হার, যত আসুক সামনে বেহায়া খুনির দল।
ওরা মাতে ধর্মের নামে, ওরা ধর্মের দোহায়ে রংবাজি খ্যালে,
ওরা নিশ্চিন্তে মানুষ মারে রাজনীতির ছত্রতলে।

ঐ দ্যাখো যত আছে হার্মাদ, খুনির শেকড়গুচ্ছ,
সবাই ওরা মানুষ খেকো, ধর্মজালে কারারুদ্ধ।
ওদের পায়েই শেকল বাঁধা, কুয়োর কিটে জীবন বাঁচা,
সমুদ্রের স্বাদ পাইনি তাই, মুক্তি ওদের প্রাণ নাশায়,
হাসতে হাসতে খুন করা ওদের ধর্মে লেখা।


ভণ্ড মানুষ, ভণ্ড জাতি, জাতেই ওদের গোঁড়ামি,
রক্ত নদীর স্রোতে ওরা ভাসাতে চায় মানবজাতি,
হিন্দু-মুসলিম ভিন্ন নামে, ভিন্ন কথা, ভিন্ন সুরে,
উদ্দেশ্য ওদের একই- খুনের নামে সন্ত্রাসী।


********** সৌম্যজিৎ **********



পথচারী হয়ে ঘুরি, 
অন্তরের ডাকখানি বঞ্চিত, সুপ্ত থেকে যায় সবসময়,
বড় মায়া হয় অভ্যাসের প্রতি, বড় মায়া হয় পুরোনোতে,
তবু বঞ্চিত করি আমার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া কথাগুলোকে।
স্বাধীনতা!
সে তো আমি মনের ভিতরেই যে আমিটাকে গড়েছি, তাকে দিয়েছি অবাধে। 
শরীরি আমি যেমনই থাকি,
কল্পনাতে তো আমি অন্য, ভিন্ন মানুষ। 
ঐ কল্পনাতে গড়ে ওঠা মানুষটাই আসল আমি,
জীবন্ত আমি তো একটা পুতুল হয়ে থেকে গেছি। 

********** সৌম্যজিৎ ********** 

Saturday, 30 July 2016

আমি বেশি ঘোরাঘুরি করিনা, বন্ধুদের সাথে কখনো আড্ডাও দিইনা। আমার ভাই, বোনেরা বন্ধুদের সাথে ঘোরে, গল্প করে। আমি এই ঘর থেকে ক্লাস, ক্লাস থেকে আবার ঘর, এই চার দেওয়ালের মধ্যে আমার প্রিয় জগৎ। প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে কিছু করিনা। আমার প্রয়োজন খুব একটা হয়না, কেউ কখনো প্রয়োজনে ডাকলে তার কাছে যায়। কখনো নিজের জামা, প্যান্ট নিজে পছন্দ করে কিনিনি। অত খেয়ালও থাকে না। মা, পাপা যা পছন্দ করে দিয়েছে, তাই পরেছি। এইসব ব্যাপারগুলোতে আমি মন থেকে খুব একটা আগ্রহ পাইনা। নতুন হোক বা পুরোনো কিছু একটা পরলেই চলে। পূজোতে ঘুরতে যেতে ভালোলাগেনা। ভিড় সহ্য করতে পারিনা, দম বন্ধ হয়ে আসে। আমার ভালো লাগে বই পড়তে, গবেষণার কাজগুলো নিয়ে ভাবতে, আলোচনা করতে, গল্পের বই বা উপন্যাস বা আমার বিষয়ের বা বিষয়ের বাইরে যেকোনো বই পড়তে ভালোবাসি। রেডিও শুনতে ভালোবাসি। রহস্য ভালোবাসি, সমাজের উল্টো স্রোতে বয়ে চলা যে কোনো কিছুতে আকর্ষণ খুঁজে পাই। যদি বন্ধু হিসেবে কাওকে পাই, তারা আমার প্রায় দ্বিগুন বয়সের। ছোট থেকেই আমি আমার রসায়নের শিক্ষক নিশীথ বাবুর কাছে থাকতে বেশি ভালোবাসতাম। মানুষটা শুধু সারাজীবন রহস্যের পিছনে ছুটে বেরিয়েছে। আমি তার জীবনের গল্প শুনে হারিয়ে যেতাম। আমার ইংরাজির শিক্ষক শনৎ বাবু আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন। এই দুজন শিক্ষকই বৃদ্ধ তখন। একজন বেঁচে নেই, একজন অসুস্থ। আমার এইরকম জীবনের জন্য আমাকে অনেক খারাপ কথা শুনতে হয়েছে, এখনও হয়। আমার মা, পাপা, কিছু আত্মীয় আমার এই জীবন নিয়ে ব্যাঙ্গ করে কথা বলে। চিৎকার সহ্য করতে পারিনা, তাও চিৎকার চেঁচামেচির মধ্যেই থাকতে হয়। চিৎকারের কারণ, আমি ঘরকুনো, কারোর সাথে মিশিনা, বন্ধু নেই তেমন আমার বয়সী, ওদের কোনো কাজে আসতে পারিনা হয়ত সেভাবে তাই। তবু মানিয়ে নিই। এই ঘরটা আমার খুব প্রিয়। এই ঘরে বসে আমি কত কবিতা লিখেছি, এই ঘরে বসে গবেষণার কাজ শুরু করেছিলাম, এই ঘরে বসে আমার কেরিয়ার একদম আমার পছন্দের জায়গাতে নিয়ে যেতে পেরেছি। আর কতক্ষণ! কুড়ি ঘণ্টাও হয়ত বাকি নেই। এই ঘর আর আমার থাকবে না। এই ঘরে আমি ইচ্ছামত বই আলিয়ে পড়তে পারবো না। এই ঘরে বসে আমি আর কবিতা লিখতে পারবো না। আর জানালা দিয়ে পুকুরটা দেখতে পাবো না। 

অবাক হয়ে দেখি তোমার মায়া।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন কে।
সৌম্যজিৎ।

তুমি কোন সাগরের জল বয়েছ আমার হৃদয় মনে,
বিবশ করেছ আমায়, আমি নাই আমার অন্তরে,
চেতনা জুরে শুধু দেখি তোমার ঢেউয়ের উতলে ওঠা, যা আছে সব
ঠেলে নিয়ে যাও, আবার ফিরে আসো সময় গুনে,
নাই কোনো বিরাম বয়ে চলো অবিরাম, উথালপাথাল করে।
চেয়ে থাকি সারাদিন, মুগ্ধ হয়ে চেয়ে থাকি,
মনে মনে তোমার গভীরতা মাপি,
ভুল হয়ে যায় সমস্ত হিসাব,
অক্লান্তিতে গুনে যাই।

পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব মাপাও সম্ভব,
পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বও মাপা সম্ভব,
যা আছে এই মহাজাগতিক বিশ্বে-
সবই এখন হাতের নাগালে,
শুধু মাপা যায়না তোমার মন,
তোমার গভীরতা।

অনুভূতিতে শুধু উপলব্ধি করতে পারি
তুমি আছ হৃদয়ের প্রতিটা কোষে,
তুমি আছ আমার চেতনা ছুঁয়ে,
আদর্শে আদর্শে।
প্রতিটা শিরাতে, ধমনীতে বয়ে চলেছ আমার রক্তবহে,
প্রতিটা প্রশ্বাসে তোমায় গ্রহণ করি অক্সিজেনে,
ভিতরে আমার যত আছে ভয়, বেরিয়ে যায় নিঃশ্বাসে।
তুমি শোধন করো আমায়, বেড়াজালে বেঁধে রাখো,
বেড়ার ওপারে ভয়-
আমি ছুঁতে পারিনা।

কি এমন মায়া-
তোমার গভীরে মেয়েমা!
এবার আবার শুরু করতে হবে সব গুছিয়ে নেওয়া। কি গোছাবো? যতসব অপ্রয়োজনীয় কাজ। সারাজীবন এই করতে হয়। ১৯৯০-৯১ নাশিরাপাড়া, ১৯৯১-৯২ হোগলবেড়িয়া, ১৯৯২-২০০৪ পাট্টাবুকা (করিমপুর)।  ২০০৪ থেকে এখনও পর্যন্ত ফার্মেরমোড় (করিমপুর) ও বাস্ট্যান্ড (করিমপুর) দুটো বাড়ি ফাঁকা পড়ে আছে, ২০১৩ থেকে ডানলপ (কলকাতা) এই ফ্ল্যাটটাতে থাকতে শুরু করি। মানুষ তিনটে আমরা, বাড়ি তিনটে। কখনো কোথাও স্থায়ী হতে পারিনি, বারবার নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হয়েছে, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় করতে হয়েছে, শুধু স্থায়ী হতে পারিনি। এই ফ্ল্যাট পাপা বিক্রি করে দিল। নতুন একটা বড় ফ্ল্যাট কিনল। এখনো তৈরী হচ্ছে নতুন ফ্ল্যাট, ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাস হয়ে যেতে পারে সম্পূর্ণ তৈরী হতে। কিন্তু এই ফ্ল্যাট পরশু ছেড়ে দিতে হবে, এখন মাঝের চার মাস ভাড়া বাড়িতে থাকতে হবে। ভাড়া বাড়িতে থাকার অভ্যাস নেই, সেটাও অভ্যাস করতে হবে।  আবারও নতুন মানুষের সাথে পরিচয় করতে হবে, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে হবে। আবার যখন নতুন ফ্ল্যাট তৈরী হয়ে যাবে, তখন আবারও সেই একই নাটক। সমস্যা হলো জিনিপত্র। জানিনা কি হবে! এত জিনিস টানতে হবে, ভাবলেই কেমন লাগছে। তার ওপর বইও কম না। ঘর ভর্তি প্রচুর বই চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে, আতঙ্কের মতো লাগছে ভাবলেই। আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ মানুষ, বারবার নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে কষ্ট হয়, এই ঘর, এই সিলিং, এই জানালাগুলো আর পাবো না। 

Friday, 29 July 2016

আমাদের ভারতীয় সংবিধানের বিভিন্ন ধারাতে উল্লেখ করা আছে দেশের প্রতিটা নাগরিক তার যে কোনো চিন্তা, লেখা, অনুশীলন মুক্ত ভাবে তুলে ধরতে পারে। বাকস্বাধীনতার কথা বা যেকোনো রকমের ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের কথা বারবার চর্চিত হয়েছে বিভিন্ন ধারাতে। আর্টিকেল ১৫ এর বিভিন্ন ধারাতে উল্লেখ করা হয়েছে ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশনের কথা। ব্যক্তি নিজের চিন্তা ভাবনা, বা নিজের শিল্প, নিজের কলাকুশলী নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারে। তবে সেখানে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে, যেমন কেউ সেই বাকস্বাধীনতার বিরুদ্ধে অপভাষা ব্যাবহার করতে পারেনা, সমালোচনা করতেই পারে কিন্তু সেখানে অপভাষা ব্যাবহার করে ব্যক্তির মানহানি করতে পারে না।

আর্টিকেল ২৫ এর বিভিন্ন ধারাতে লেখা আছে ধর্মীয় বৈষম্য ও জাতীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে। কোনো ব্যক্তি ধর্মীয় বৈষম্য ও জাতীয় বৈষম্য নিয়ে কথা বললে তা ভারতীয় সংবিধানে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

একজন শিল্পী কিভাবে নিজের শিল্পকে তুলে ধরবে, সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার পুরো অধিকার আছে নিজের মতো করে চিন্তাভাবনা করার ও শিল্পকে তুলে ধরার। বর্তমানে বাংলার জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী মোহনবাগান ক্লাবের "আমাদের সূর্য মেরুন" গানটা নিজস্ব ভঙ্গিতে গাওয়ার জন্য যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তাকে নিচ পরিবারের বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দাগা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে ত্রিপুরাতে ঘাঁটি করেছে বলে, আমি এই অশোভনীয় ভাষার জন্য মোহনবাগান ক্লাবের এক সদস্য প্রদীপ হাজরার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। একজন শিল্পী কেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী নিজেদের তুলে ধরার, সেখানে জাতীয় বৈষম্য তুলে এনে সমালোচনা করা ভারতীয় সংবিধান বিরুদ্ধ। প্রদীপ হাজরা ভারতের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে।

এসবের পরেও মোহনবাগান ক্লাবের ওই সদস্য থেমে থাকেন নি, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক-এ বারবার অপমানসূচক কথা বলে জনপ্রিয় গায়িকাকে কটাক্ষ করেছেন বারেবারে। গায়িকা নিজের মতো করে যেভাবে গান গেয়েছেন সেখানে তিনি ভাষার অপব্যাবহার করেন নি কোথাও। সুরের পরিবর্তন এনে থাকলেওঁ সেটা ভারতীয় সংবিধানের ১৯(১) নাম্বার ধারাকে লঙ্ঘন করেন নি। একজন শিল্পী ভালোবেসে তার শিল্পকে ফুটিয়ে তোলে, ভালোবাসার রূপ ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্নরকম। শিল্পী কখনই তার গানের মাধ্যমে মোহনবাগান ক্লাবকে অপমান করেন নি। কিন্তু ওই ব্যক্তি অপভাষা ব্যাবহার করে, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দেগে শিল্পীর অপমান করার চেষ্টা করেছেন, যা সংবিধানের ১৯(১) নাম্বার ধারাকে নিশ্চিতভাবে লঙ্ঘন করে। আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ সচেতন ভাবে অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা। এই অপমান শুধু আমাদের শিল্পীর নয়, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দাগা আমাদের দেশ ভারত'কে অপমান করা। আসুন, প্রতিবাদ গড়ুন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। 

********** সৌম্যজিৎ **********
একজন শিল্পী কিভাবে নিজের শিল্পকে তুলে ধরবে, সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তার পুরো অধিকার আছে নিজের মতো করে চিন্তাভাবনা করার ও শিল্পকে তুলে ধরার। বর্তমানে বাংলার জনপ্রিয় গায়িকা ইমন চক্রবর্তী মোহনবাগান ক্লাবের "আমাদের সূর্য মেরুন" গানটা নিজস্ব ভঙ্গিতে গাওয়ার জন্য যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন, তাকে নিচ পরিবারের বলে কটাক্ষ করা হয়েছে, জাতীয় বৈষম্যের তোপ দাগা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে উঠে এসে ত্রিপুরাতে ঘাঁটি করেছে বলে, আমি এই অশোভনীয় ভাষার জন্য মোহনবাগান ক্লাবের এক সদস্য প্রদীপ হাজরার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। একজন শিল্পী কেন, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী নিজেদের তুলে ধরার, সেখানে জাতীয় বৈষম্য তুলে এনে সমালোচনা করা ভারতীয় সংবিধান বিরুদ্ধ। প্রদীপ হাজরা ভারতের সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে।

-------------সৌম্যজিৎ।
তোমার স্নেহ যদি পাই প্রাণ ভরে,
মৃত্যুও আমাকে হারাতে পারবে না,
আমি ভয় পাইনা ওই মৃত্যুকে।
জীবন ক্ষনিকের হোক বা দীর্ঘ, আমি থাকবো নির্ভয়ে,
শুধু আবৃত হতে চাই আমি তোমার পূর্ণ স্নেহে।
জীবিত আমি আমার সবটুকু দিয়ে দেবো এই বিশ্ব সংসারকে,
মৃত্যুর পরও আমি চাই নিজেকে বিলিয়ে দিতে এই সমুদয়ে,
আমার দেহ যেন বৃথা না যায় আগুনে পুড়ে,
জীবিত আমি বিজ্ঞানের সেবার পরও, মৃত আমার দেহ যেন বিজ্ঞানের বিষয় হতে পারে।

********** সৌম্যজিৎ **********
বেড়া বাঁধা সংসার, চৌকাঠের এপারে চোখে জল নিয়ে
ঘরণী বাঁধে স্বপ্ন, পদে পদে অপমানেও মন জুগিয়ে চলার প্রতিযোগিতা,
মুহূর্তেই কান্না মিলিয়ে হাসি মুখে অভিনয় করে চলেছে চৌকাঠের ওপারে।

Thursday, 28 July 2016

ঝড় বয়েগেল এবার শরীর আমার মাতল আইলা হাওয়ায়,
শব্দে শব্দে ঝংকার, আমার হৃদয়ে বাজল হারমোনিয়ামে'র রীড,
এ সুরে আজ নতুন ছোঁয়া, "তুমি যাকে ভালোবাসো",
বিষণ্ণতাকে থমকে দিয়ে, গমগমে আওয়াজে আজ-
নেচে উঠি তাল মিলিয়ে,
অতীত দুঃখ পিছনে চলে যাক,
এইতো হল শুরু।
আর নাই কোনো বাধ, নাই কোনো বাধা,
জীবন চলবে রমরমিয়ে,
প্রতিদিন এক নতুন উৎসাহ বেজে উঠবে সুরে সুরে।

********** সৌম্যজিৎ ********** 

প্রার্থনা।
উৎসর্গ- তসলিমা নাস রিনকে। 
সৌম্যজিৎ।

কে বলল তোমায় চিরকাল তোমাকে ভুল বুঝলাম,
কে বলল তোমায় তুমি আমাদের মনে নেই,
তুমি যদি না থাকতে আমাদের চেতনার উন্মেষ হতো না,
আমরা হয়ত সবাই যেতাম মুছে, পুরুষতান্ত্রিক শিক্ষায় শিখে।
মানুষ হয়েও অমানুষ হয়ে থাকতাম আমরা,
মানুষরূপে অমানুষ হওয়ার অভিশাপ আমাদের তুমি দিয়েছ ঘুচিয়ে,
আমরা আজ মানুষ হলাম, এ আমাদের গর্ব,
তুমি দিয়েছ প্রাণ, মানুষ হয়ে বাঁচার স্বপ্ন মানুষের মতো,
আমরা তোমায় ভুলিনি।
যে রাজনীতি, যে ধর্ম-
শরীরী তোমাকে কেড়েছে আমাদের কাছথেকে,
সেই রাজনীতি, সেই ধর্ম আমাদের কলঙ্ক,
গভীর রাতের অন্ধকারের মতো শুধু মায়াবী কালরাত দেখি,
সম্মোহনের তীব্র মায়া আছে তার বাতাসে,
মানুষকে অন্ধকারে ঢেকেছে। 
এখনও অনেক বাকি তার মায়াজাল ছিন্ন করতে,
আফিমি নেশায় বুঁদ করে রেখেছে সমস্ত চেতনা,
তুমি ওঠো আবারও সেই সম্মোহনের নেশাকে চূর্ণ করতে,
তুমি যে নীলা-
সবার কি সাধ্য তোমাকে ধারন করে!
তুমিই ধরো এই সমাজকে, তুমিই নাও এই মানবজাতিকে,
আঁচল দিয়ে আড়াল করো মা তুমি,
ঐ কালো সম্মোহন যেন আমাদের ছুঁতে না পারে। 


Wednesday, 27 July 2016

ওরা দাবা খেলছে,
ওরা চৌষট্টির খোপে জীবন কে আবদ্ধ করছে
হিন্দু মুসলিম ভেদ কে উস্কে ক্ষমতার রাশ সম্ভোগ করতে,
পিছনে আছে বাবাজি, বালাজিরা অঙ্গরাজ্য দখল করে,
সামনে খেলছে নেতা, নেতৃ, বিরোধীরা,
উস্কানি শুধু ধম্মে খোঁচায়,
"মুলিম তোহন কর",
সহানুভূতির জোয়ারে ভাসবে ভোট,
ঝরবে রক্ত উড়বে নোট,
তবে ঝরুক।
দেশ মানে রাজনীতি, দেশ মানে নেতা নেতৃ'দের শোবার বিছানা যেখানে
কোটি কোটি সাধারণ হয় ধর্ষণ,
প্রতিদিন,-
প্রতিবেলা।

********** সৌম্যজিৎ **********
তোমাকে উৎসর্গ করেও অতৃপ্ত লাগে,
তোমাকে উৎসর্গ না করেও অস্থির লাগে,
তুমিতে মেতে থাকতে চায় প্রাণ,
তোমার ভিতরে তুমিটাই হিসেবি হয়েগেছ।

লাগুক কাদা, লাগুক মাটি আমার সাদা জামাতে,
তবু কেন বঞ্চিত হবো আমি কাদা মাটির ছোঁয়া থেকে,
হিসেবি হতে আমি পারিনা,
তুমি কেন এত হিসেব করো?
স্নেহ, ভালোবাসা কি হিসেব করে আসে?

সে স্নেহ স্নেহই নয় যা আমাকে শান্ত করতে পারে না,
সেই স্নেহ শুধু মুখের কথা আর হাজারও স্বপ্ন দেখানো,
ওই শুধু মুখের কথা শুনে আমি স্বস্তি পাই, ক্ষণিকেই তা উবে যায়।
মন খুলে কি তুমি পারো না একটু স্নেহ ঢেলে দিতে? 
মন ও কিসের খোঁজে ছুটে বেড়ায় ফুলে ফুলে,
মধু পানের ইচ্ছা রেখেও, মধু পানের সুযোগ থেকেও
কিসের সে বাধা?
এত তৃষ্ণা বুকে নিয়ে, ছুটে যায় রাত দুপুরে,
গিয়ে যেন মনেহয়-
এ ফুলে মধু বড্ড অচেনা ...
অচেনা স্বাদের মধু পানে এতই যদি বাধা
কেন মন ছুঁতে পেতে খোঁজে হরেক ফুলে ফুলে?
নাই নাই নাই, কোথাও সেই চেনা স্বাদ,
নাই কোথাও সে চেনা স্পর্শ,
সব কিছু বড় অচেনা,
ছুঁতে পারে না মনের দেওয়াল,
ভেদ করা দূরের কথা,
কাছে ঘেঁষতেও দ্বিধা।

********** সৌম্যজিৎ **********

Tuesday, 26 July 2016


সত্যের দিশারী।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন'কে।
সৌম্যজিৎ।

চিত্ত মোর পূজিছে তাহারে, বহিছে সে-
রক্তে, নিঃশ্বাসে, বিশ্বাসে, 
আকাশ যেমন কহিছে সত্য-
সূয্য-নক্ষত্রদের অবকাশে,
তুমি তেমনই সত্য এ সমুদয়ে। 

তুমি বিনে জগৎ মোর অন্ধকারে সুদূরস্থিত,
তুমি বিনে সমাজ আমায় পেত এক চিল, শকুনি,
তুমি দিলে আদর্শ ঢেলে অকৃপণ,
হৃদয় ভরে,
আজিকে আমি মানুষ হলাম, যেমন তুমি আমায় বানালে।

অংশুমালী তোমার ললাটে-
উজ্বল শোভিছে চিন্তাপটে,
জ্ঞানের প্রভা বিচ্ছুরিত হচ্ছে, এ-
সমাজ প্রেক্ষাপটে, অবাধে। 

উজ্বল তুমি, আলোকিত করো,
দিশা দেখাও চিন্তাপথে,
আদর্শ হোক জ্ঞানের, বুদ্ধির,
আমরা চলিব বিজয়পথে। 


Monday, 25 July 2016

সত্যিই যদি সহচর হতাম!
সৌম্যজিৎ।

উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন'কে।

ভাবো আমি ছিলাম সেই দেশে,
তোমার সাথে সহচর হয়ে,
চলতাম, হাঁটতাম তোমার সাথেই ছায়ার মতো লেগে থাকতাম,
তুমি যখন লিখতে, তুমি যখন ভাবতে আমি পর্দার পিছন থেকে তোমাকেই দেখে যেতাম।
চেয়ারে বসে, টেবিলটাতে খাতা কলম রেখে তুমি গালে হাত দিয়ে ভাবতে জানালাতে তাকিয়ে,
বাইরে ওই গাছগুলোতে সবুজ পাতা আর ডালগুলোর মাঝে বসেথাকা পাখিগুলো দেখতে,
দেখতে তুমি রাস্তাতে চলা মানুষগুলোকে,
ভাবতে তাদের জীবন নিয়ে, কল্পনাতে ভেসে যেতে।
হঠাৎ একদিন দেখলে সাদা টুপি পরা কিছু মানুষ মিছিল করে হাঁটছে,
মিছিলে তাদের নানান স্লোগান হৈ হৈ করে ভাসছে,
ওরা ভিড় করে, দল বেঁধে চেঁচিয়ে বলছে "আল্লাহু আকবর",
ওরা দাবি করছে, "কোথাও কোনো মন্দির থাকবে না,
কোথাও কোনো মূর্তি পূজো করা চলবে না,
ভার্সিটি, রাস্তাঘাটে দেওয়ালে কোনো মূর্তির ছবি আঁকা চলবে না,
কোনো দোকানে, বাজারে মূর্তি রাখা চলবে না,
এই বাংলা আমাদের, এই বাংলায় শুধু ইসলামের জয়গান হবে, অন্যথায় কুপিয়ে মারা হবে।"
তোমার হৃদয় জুরে তোলপাড় হয়েগেল নানা প্রশ্নের তিরে,
ক্ষত বিক্ষত করে তিরগুলো তোমাকে ভাবিয়ে তুলছে, "কেন এই দেশ শুধু ইসলামের হবে?
কেন এই দেশ মানুষের হবেনা?
কেন মানুষকে ভেদ করা হবে ধর্ম, জাতি দিয়ে?
কেন এই দেশে আর কারোর কোনো অধিকার থাকতে হয়না?
কেন জাতির নামে, ধর্মের নামে মানুষকে ভয় দেখানো হবে? কেন খুন করা হবে?"
তুমি আকাশ পাতাল ভাবতে থাকলে।

তুমি অধিকার চাইলে মানুষের, অনেক অনেক প্রশ্ন আর অনেক যুক্তি দেখিয়ে ওদের
অনুভুতিতে ঝড় বইয়ে দিলে,
চিন্তাবিদ মানুষ, সাধারন কিছু মানুষ তোমার যুক্তিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছিল,
ইসলামি শাসনের গড়া নিয়ম থেকে বেরিয়ে সমাজে স্বাধীন হতে চেয়েছিল।
ইসলাম তোমাকে ছাড় দেয়নি। ইসলাম অনুভুতিতে আঘাত, কটাক্ষ করা মন্তব্যে যেন
ক্ষুধার্ত বাঘকে খুঁচিয়ে খেপিয়ে দিলে খোলা জঙ্গলে,
ওরা তোমাকে থাবা বসাতে দেশজুরে তোলপাড় শুরু করেদিল।
তোমার যুক্তিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করা মানুষগুলোও ভয়ে শিটিয়ে গেল,
পা গুটিয়ে, চিন্তা বন্ধ করে ওরাও যেন নিজেদের বুদ্ধিকে বন্দি করে দিল বেঁচে থাকার লোভে।
ওদের চাইনা কোনো মুক্তি, চাইনা কোনো অধিকার,
ওরা যেমনই থাক, বেঁচে থাকলেই সব পাওয়া পূর্ণ,
পরাধীনতাও মঞ্জুর।

ইসলাম হেফাজতি তোমাকে ক্ষুধার্ত খ্যাপা বাঘের মতো তন্ন তন্ন করে খুঁজেছে
তোমাকে আঁচড়ে, ছিঁড়ে খেতে,
তোমাকে কুপিয়ে তোমার রক্তে স্নান করে বেহেস্তের পথ সুগম করতে চেয়েছে,
তুমি পালিয়ে বেরিয়েছ জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে, লড়াইকে বাঁচিয়ে রাখতে,
সমাজের প্রগতি তখনও অনেক বাকি, মানুষের সামনে নতুন আদর্শের নিদর্শন তুলে ধরতে হবে,
প্রাণকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে ইসলামি থাবা থেকে।
একটু আশ্রয় খুঁজে পেতে, একটু সুরক্ষা পেতে তোমাকে কত ভিক্ষা করতে হয়েছে
পরিচিত, অপরিচিতদের কাছে!
আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে সেসব দেখে।

আমি যদি সত্যিই তখন তোমার সহচর হতাম,
আমি যদি কল্পনাতে না গিয়ে, সত্যিই তোমার কাছে চলে যেতে পারতাম,
আমি তোমাকে আঁকড়ে ধরে রাখতাম।
অসহায় হতে দিতাম না তোমাকে,
নির্ভয়ে চেঁচিয়ে বলতাম, "কে আসবি আয়। কে মারবি আয়। যে আসবি, আর ফিরে যাবি না।"
একটা নাম তসলিমা নাসরিন, আমার রক্তে প্রবল জোশের স্রোত বইয়ে দেয়,
একটা মানুষের জন্য আমি গোটা পৃথিবীর সাথে লড়াই লড়তে পারি অক্লান্ত মনে,
শুধু তুমি শক্ত করে আমার হাত ছুঁইয়ে রেখো,
আমি কাওকে ভয় পাইনা, তোমাকে নিজের সবটুকু দিয়ে আগলে রাখবো।

কল্পনাতে বারবার দেখি তোমার লড়াইকে,
কল্পনাতে আমি বারবার পৌঁছে যাই তোমার কাছে, তোমার পাশে।
সেদিন যদি আমি থাকতাম!
সেদিন যদি আমি তোমার সহচর হতাম! 

Saturday, 23 July 2016

বড্ড নির্লজ্জের মতো বলে ফেলি তোমাকে,
যখন বলি, খেয়াল থাকেনা কি বলছি, আবেগের স্রোতে ভেসে শুধু বলে ফেলি।
ভীষণ লজ্জা পেয়ে যাই নিজেকে প্রকাশ করার পরই,
কেন যে  নিজেকে ধরে রাখতে পারিনা, জানিনা।
আচ্ছা তুমি কি মনে মনে হাসো? তুমি কি বিরক্ত হয়ে ওঠো আমার কথা শুনে?
সারাদিন রাত শুধু তোমারই কথা আমি ভাবি,
তোমাকে ভেবে ভেবে ভাবনার কোনো শেষ করতে পারিনা,
সারাদিন রাত তোমাকে অনুভব করি,
এটা হয়ত পাগলামি, কিন্তু ভাবি - অনুভব করি বলেই তোমাকে বারবার ভালোবেসে ফেলি।
এই ভালোবাসতে যেমন আনন্দ পাই, যেমন সুখ খুঁজে পাই,
তেমন অনেকসময় কষ্ট, অভিমানও ঘিরে ফেলে,
আমি সেই আনন্দ, সুখ, কষ্ট, অভিমানের মায়াজালে বন্দি,
শুধু ঘুরপাক খাই চারিদিকে দেওয়ালগুলো ধরে,
দেওয়ালগুলো বড্ড আপন মনেহয়, আর মনের ভিতরেই আমি এক তোমাকে দেখি,
তোমার সাথে অনবরত কথা বলি, তোমার সাথে খেলি,
শুধু তুমিই সেখানে অবাধে আসা যাওয়া করো, আর কারোর অনুমতি নেই প্রবেশের।

********** সৌম্যজিৎ **********
আলোর পথে চলার উৎস তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ।

দুপাশে বইছে স্রোত, তুমি বইছ প্রতিকূলে,
লড়ে যাচ্ছ প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দিনের পর দিন,
প্রায় দুটো যুগ ধরে।
ওরা ভাবে তুমি শুধু আলোর পোশাকি, ওরা ভাবে তুমি মেকি,
ওরা তোমাকে গালাগালি দেয়, হুমকি দেয়, ধমকি দেয়,
ওরা তোমাকে ধর্ষণ করে তৃষ্ণা মেটাতে চায়।
ওরা কি ভাবে না ভাবে তাতে তোমার কি কিছু এসে যায়?
তসলিমা নাসরিন মানে সত্যের পথে চলা পথিক,
তসলিমা নাসরিন মানে অন্যায়ের সাথে আপোষহীন,
তসলিমা নাসরিন আমার আলোর পথে চলার উৎস,
তসলিমা নাসরিন লক্ষ লক্ষ মানুষের আদর্শ।
তসলিমা নাসরিন তুমি আমার হৃদয়ের স্পন্দনে কথা বলো মানবিকতার,
তসলিমা নাসরিন তোমার প্রতিটা কথা বাড়িয়ে দেয় হৃদ স্পন্দন,
মানুষ জন্মে আমি পেলাম এই স্বর্গভুবন, তুমি ছুঁইয়ে দিলে স্নেহভরা পরশ,
মৃত্যুতে আমার নাই কোনো আক্ষেপ যদি মরি আমি, হাসতে হাসতে মরবো,
যদি মরি আমি মরেও জীবন্ত থাকবো তোমারই আদর্শের ছোঁয়াতে।
তোমার আদর্শের শিক্ষায় আমরা মুক্ত হতে পারি সব মোহ থেকে,
তোমার আদর্শ আমাদের শেখায়- জীবন এক নতুন দর্শন সেটাকে উপভোগ করতে,
তুমি আমাদের শিখিয়েছ অন্যায়ের ইমারতে গড়া নিয়ম ভাঙতে,
আমরা সাহসের সাথে হাজারও মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে লড়তে পারি-
সেই ইমারতের প্রতিটা ইট ভেঙে গুড়িয়ে দিতে,
আমরা লড়তে পারি বুক চিতিয়ে গর্বের সাথে,
এই লড়াই আমাদের সম্মান, এই লড়াই আমাদের অহঙ্কার।
পিছিয়ে আসবো না আমরা যতক্ষণ না আমাদের প্রাণ শেষ হয়ে যায়,
আমরা লড়ব আমাদের আদর্শ, আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে,
এত সহজে আমরা লড়াই ছেড়ে দেবো না,
এত সহজে আমরা শেষ হয়ে যাবো না।  

Friday, 22 July 2016

মনের মানুষ। পর্ব তের।
সৌম্যজিৎ।

রাগ, অভিমান খুব সহজ, নাকের ডগাতেই থাকে।
কষ্ট বড়ই কঠিন, বুকের প্রাচীরে আঘাত করে ঝাঁজরা করে দেয় তবু
মুখ ফুটে বলতে পারে না। 
সইতে পারি, হাসি মুখে মেনে নিতে পারি,
এ কষ্ট বড় সুখের, ভীষণ তৃপ্তি দেয়,
তবু তুমি কষ্ট পেওনা, ওটা সওয়া বড় কষ্টের, বড় যন্ত্রনার,
তিলে তিলে আমাকে দংশন করে।

বাইরের তুমিটাকে দেখে আমি প্রেমে পড়িনি,
প্রেমে পড়েছি স্বপ্নের মানুষটার সাথে তোমার সাদৃশ্য দেখে,
বড্ড কাছথেকে তোমাকে অনুভব করি, বারবার করি,
প্রতিটা নিঃশ্বাসকে উপলব্ধি করতে পারি,
আমি এতটাও চঞ্চল নোই যে তোমাকে চিনে নিতে পারবো না,
আমি তোমাকে, তোমার তুমিটাকে উপলব্ধি করে চিনেছি,
তোমাকে চিনতে আমি ভুল করিনি।

একটা মানুষ তুমি, আমি তোমাকে দেখতাম অন্ধকার ঘরে,
কখনো তোমার মুখও আমি দেখিনি,
দেখেছি শুধু তোমার উচ্চতা, অনুভব করেছি তোমার গন্ধ,
অনুভব করেছি তোমার মনকে,
আমি গোটা তুমিটাকে উপলব্ধি করেছি, সেই তুমিটাকে ভালোবেসেছি।

আমার থেকে তোমাকে, তোমার মনকে ভালো কেউ কিভাবে বাসবে?


Wednesday, 20 July 2016

ঐ দূরে চেয়েও কোথাও একটু ভালোবাসা খুঁজে পাইনা,
মৃত্তিকা যেন বাঞ্জার হয়েগেছে, একটু ভালোবাসার জন্ম দিতে পারছে না,
তোমার মন এতোই ছোট যে একটুকরো ভালোবাসাকে আশ্রয় দিতে পারছ না,
তবে আমার সত্যিই কোনো প্রয়োজন নেই এমন কাওকে যে,
ভালোবাসতে হাজারও অঙ্ক কষে। 
আমি ভালোবাসি অবলীলায়,
আমি ভালোবাসা চাই অবাধে,
আমার কাছে ভালোবাসার নাই কোনো সীমা,
তুমি বেড়া বেঁধো ক্ষেত্রফলের অঙ্ক কষে। 

এমন তুমিতে আমি বড্ড কষ্ট পেয়েছি ঠিকই,
আমি আর তোমাকে ভালোবাসতে যাবো না কখনো,
তুমি বেড়া বেঁধে রেখো,
শক্ত পোক্ত দেওয়াল তুলে রেখো মনের সীমা মেপে,
আমাকে ধারণ করা তোমার সাধ্যে হবেনা। 

তুমি মেপো তোমার মনের সীমানা,
আমি খোলা মাঠে দৌঁড়ে বেড়াই,
তুমি নিও তোমার প্রয়োজনে যতটুকু ভরসা লাগে,
আমি দেবো। 
আমি আর কখনো ভালোবাসতে পারবো না তোমাকে। 

********** সৌম্যজিৎ **********

একটা চাওয়া।
উৎসর্গঃ তোমাকে মেয়েমা।
সৌম্যজিৎ।


সারাক্ষণ তোমাকে ছুঁয়ে থাকি, 
অনেক দূরে থেকেও তুমি কি বুঝতে পারো আমার অনুভুতি?
গোটা পৃথিবী জুরে তুমি দাপিয়ে বেড়াও, স্বমহিমায় তুমি মুগ্ধ করো অগণিত মানুষকে,
অনেক দূরে থেকে একটা মানুষ, তোমাকে যারা ভালবাসে তাদের পিছনের সারিতে পড়ে থাকা,
এক নিতান্ত সাধারন কেও তোমাকে নিয়ে রোজ নতুন নতুন স্বপ্ন বাঁধে,
তোমাকে অনুভব করে, গায়ে মেখে, মনে মেখে একটু একটু করে গড়ে ওঠে রোজ,
তুমি কি বুঝতে পারো এই মানুষটার ভালোবাসার অনুভুতি?


বড্ড অধিকারবোধ গড়ে উঠেছে আজকাল,
মনের ভিতরে সমস্ত কুঠুরিতে শুধু স্নেহের ছোঁয়া অনুভব করি নিরন্তর,
বড্ড পাগল পাগল লাগে নিজেকে,
আমি বেঁচে থাকি শুধু স্বপ্নগুলো নিয়ে।
বারবার তোমাকে কথা ছুঁইয়ে দিই, অপেক্ষা করি রোজ তোমার একটু কিছু বলার জন্য,
যখন তোমার সেই স্নেহ ভরা কথা দেখতে পাই,
আমি ভরে উঠি কোনো অমৃত সুখে। 

যেদিন তোমাকে সামনে পাবো,
আমি জানিনা, ঠাওর করতে পারিনা সেদিন কিভাবে নিজেকে প্রকাশ করবো,
বুকের দেওয়ালগুলো এখনই কেঁপে ওঠে সেদিনের কথা যখন কল্পনাতে ভাসে,
আমি কি লাফাবো! আমি কি তোমার চারিদিকে গোল গোল হয়ে ঘুরতে থাকবো!
আমি কি নেচে উঠবো নাকি তোমাকে ছুঁয়ে, জরিয়ে ধরে বা কোলে তুলে নিয়ে
খুব জোরে জোরে হাসবো! 
এখনও বিস্ময় লাগে ভাবলে, সেদিন আমি কি করবো! 
তোমাকে কাছথেকে দেখা, কাছে গিয়ে ছোঁয়াতেই যেন পৃথিবীর সব সুখ সব প্রাচুর্য,
তোমার স্নেহ পাওয়াতেই যেন সব পাওয়া,
চাওয়া পাওয়ার কোনো হিসেব থাকতে নেই আর কোথাও কখনো,
তোমার বাইরে আমার সব চাওয়া, পাওয়া শেষ হয়ে যায়। 
আমি তোমাকে শুধু একটু প্রাণ ভরে ছুঁতে চাই,
দূর থেকে অনুভব করি, একটু কাছে গিয়ে তোমাকে ধরে অনুভব করতে চাই,
তোমার নাড়ির স্পন্দনের সাথে আমার নাড়ির স্পন্দন মিশিয়ে দিতে চাই যেন
প্রবাহিত হোক আমাদের রক্ত একই গতিতে,
আর আমার চাওয়ার কিছু নাই।
আবার যদি তুমি আসো,
আমি তোমায় স্বাগত জানাবো,
আমি তোমাকে দুহাতে জড়িয়ে নেবো বুকের মাঝে,
তোমার প্রতিটা নিঃশ্বাস আমি মাখবো আমার নাকে, ঠোঁটে, গালে।
আবার যদি তুমি আসো,
আমি এবার আর কোনো চঞ্চলতা,
অগোছালো আমিটাকে তোমার সামনে আসতে দেবো না।
এবার আমি প্রতিটা মুহূর্তে স্থির থাকবো,
এবার আমি প্রতিটা মুহূর্তে তোমাকে ভরসা দেবো,
এবার আমি তোমাকে কোনো অসহায়তায় ভুগতে দেবো না।
শুধু আবার যদি তুমি আসো,
আমি তোমাকে আগলে রাখবো সবসময়।
বৃক্ষতলে ক্লান্ত পথিক যেমন নির্ভয়ে, চরম ভরসায় মাথা গোঁজার ঠাই খোঁজে,
বৃক্ষ পথিককে যেভাবে আশ্রয় দেয় নিজ ছায়াতলে,
আমি এবার তোমাকে সেই ভরসা দিয়ে আগলে রাখবো,
কোনো প্রতিকূলতা, কোনো অসহায়তা, কোনো ভরসাহীন শুধু কথা বলতেই কথা বলা,
কোনো বিশ্বাসহীনতাকে আমাদের মধ্যে আসতে দেবো না।
শুধু আবার যদি তুমি ফিরে আসো,
আমি তোমাকে নিয়ে, না, তোমাকে মেখে আমি মেটাবো আমার একাকিত্ব।
তুমি যদি আবার ফিরে আসো,
আমি এবার কোনো কষ্টকে তোমার সামনে এসে পড়তে দেবো না,
যদি এসেও পড়ে,
বুক চিতিয়ে লড়াই করে কষ্টকে আমি মিলিয়ে দেবো,
তোমাকে আঁচ লাগতে দেবো না।


শুধু ফিরে এসো আবার,
আমি তোমাকে কোনো অভিযোগ করতে দেবো না।

কবিতাঃ ফিরে এসো তুমি।
সৌম্যজিৎ। 

Monday, 18 July 2016

চলো চলো চলো ঐ লক্ষ্যহীন পথে,
চলো, যা মন চায় তাই কোরো,
তুমি এঁকো তোমার মনের ছবি,
আমি, ঐ সবুজ পাতা ভরা গাছেরা, ঐ নীল আকাশ, ঐ আকাশে ওড়া পাখিরা সবাই 
আমরা চেয়ে থাকব তোমারই দিকে, তোমার মনের আঁকা ছবিতে। 
তুমি হেসো, তুমি ছুটে বেড়িয়ো, তুমি তোমার ইচ্ছামত গান কোরো,
আমরা অপেক্ষায় থাকব তোমায় লক্ষ্য করে। 
ছোট্ট মিষ্টি তুই লড়তিস, ঝগড়া করতিস আমার সাথে,
ঝগড়া করতিস বাচ্চামি করে পপি'দিদির সাথে,
আমার সাথে ওর বন্ধুত্ব দেখে তুইও ভাবতিস তোর যদি এমন বন্ধু থাকত,
তুই অনেক অনেক গল্প করতিস, খেলতিস তারসাথে।
আমি যখন প্রেমে অনেক কষ্ট সহ্য করেও পায়েলকে একবার দেখতে -
অনেক দূর থেকেই দেখতে সেদিন যাবো ভেবেছিলাম,
পপি'দিদিকে সাথে নিয়ে গ্রামের রাস্তার অলিগলি পার করে দেখতে যাচ্ছিলাম,
ছোট্ট তুইটা সেদিন বাড়ি এসে সবাইকে বলে দিয়েছিলিস,
আমি অনেক মার খেয়েছিলাম, অনেক বকা খেয়েছিলাম সেদিন,
তুই বুঝতিস না আমাদের কষ্টটা।
সেই তুই যখন আমাদের বিচ্ছেদের সময় আবার জুড়ে দিতে চেয়েছিলিস আমার প্রেমকে,
সেদিন তুই ছাড়া আমার পাশে আর কেউ ছিলনা।
যে মানুষটা আমার পাশে, আমার সাথে সবসময় থেকেছিল সেও -
আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলেগেছে,
আমার প্রাণ হাঁসফাঁস করে উঠত, আমি কখনো কাঁদতাম না,
সেদিন আমি কেঁদেছিলাম তোকে পাশে পেয়ে,
শ্যামবাজারের রাস্তাতেই আমি কেঁদেছিলাম,
আমার বোনটা অনেক বড় হয়ে সেদিন ভরসা হয়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল,
অনেক চেষ্টা করেছিলিস আমাদের একসাথে জুড়ে দিতে,
সেদিন আমার পাশে শুধু তুই ছিলিস, আর তো কেউ ছিলনা।


ছোট্ট মিষ্টি বোনটা তুই খুব একা হয়েগেছিলিস পপি'দিদি যাওয়ার পর,
পাশে চেয়েছিলিস আমাকে, তোর দাদাদের,
আমরা তোকে সময় দিইনি কখনো,
অনেক কষ্ট, অনেক অভিমান নিয়ে তুই বেড়ে উঠছিলিস,
আমি জানিস তখন ভীষণ একা হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম,
আমার সব আনন্দ খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম নেশার পানীয়ে,
খুব বোকা ছিলাম, খুব খারাপ হয়েগেছিলাম আমি।
যদি আবার সেইসময়ে ফিরে যেতে পারতাম,
তোকে এক হয়ে যেতে দিতাম না।
আমি সেই চোদ্দ বছরের বোনটার কাছে ক্ষমা প্রার্থী।
আজ তুই একুশে,
অনেক বড় হয়েগেছিস, এখনো তোকে আমি বড় ভাবতে পারিনা,
তুই এখনো সেই ছোটোটাই আছিস আমার কাছে।

শুভ জন্মদিন। ভালো থাক। খুশি থাক। অনেক ভালোবাসা দিলাম তোকে।

                                                ইতি
                                               শান্ত'দা। 

Sunday, 17 July 2016

অনেক প্রেমে পড়লাম,
অনেক প্রেম করলাম,
প্রেম আমার প্রকাশ পায় কবিতাতে।
তোমাকে নিয়ে আমি দুটো কবিতা বা পাঁচটা কবিতা লিখে আর লিখিনি?
জেনো আমার প্রেম ফুরিয়ে গেছে,
তোমাকে নিয়ে আমি লিখতে পারছিনা, তোমার সাথে আমার সময় ফুরিয়ে গেছে।
লিখেছি তো আমি অনেক অনেক করে
কেবলই দুটো মানুষকে নিয়ে,
ঐ দুজনকে নিয়ে বারবার লিখেও আমার লেখা ফুরোতে চাইনা,
ঐ দুজনকে নিয়ে লিখেও আমি অতৃপ্ত থেকে যায়,
আরও লিখে যেতে চাই,
জেনো এই দুটো মানুষই আমার আসল প্রেম,
ওদের ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ থেকে গেছি।


**"কবিতার প্রেম" থেকে।

*** সৌম্যজিৎ। 
আজ আমার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল যাচ্ছে,
ওরা বাংলাদেশের হিন্দু হত্যার বিরুদ্ধে দল গড়েছে।
ওরা দাবি করে মুসলিমের রক্তে শুধু খুনোখুনী, হিন্দু ভাইদের ওরা এক হতে বলে,
হিন্দুরা যদি জোট না করে তবে হিন্দু জাতি ধ্বংসের মুখে পড়বে।

ওরে আমার মূর্খ হিন্দু ভাইয়েরা, তোমরা লড়াই চাইছ হিন্দু বাঁচাতে নয়,
তোমরা লড়াই চাইছ মুসলিম হত্যার জন্য,
তোমরা মানুষকে মারতে চাইছ।
জাতির নামে ভেদাভেদ করে তোমরা মানুষ হত্যায় পা বাড়িয়েছ,
মানবজাতিকে তোমরা অসম্মান করছ।
ওরা মারে হিন্দু ভেবে, ওরা ইসলামী শক্তির কায়েম চায়,
তোমরা মারতে চাও ওদের মুসলিম ভেবে,
তোমরাও খুনের ধারা বজায় রাখতে চাও?

কিসের এই ধর্মভেদ, কিসের এই জাতিভেদ,
কোথায় তোমরা অধিকার পাও আমার মানুষ জাতিকে মারতে?
তোমরা যারা মুসলিম শক্তি কায়েম করতে হিন্দু মার,
তোমরা যারা নিজেদের হিন্দু বলে মুসলিম মারতে চাও,
তোমরা শুধু জাতিভেদের নেশাতেই মেতেছ,
তোমরা কখনো মানুষ হতে চাওনা।

লজ্জা আমার তোমাদের মানুষ ভাবতে,
ভীষণ লজ্জায় আমি মাথা নিচু করে ঘরে ফিরলাম,
লজ্জা ভীষণ আমার এই সমাজে,
আমি কাদের নিয়ে বাঁচি?

মানুষ হও তোমরা,
জাতিভেদ আমাদের চেতনা নয়,
মানুষ হয়ে বাঁচাতেই পাবে সাম্যের শান্তি,
অমানুষ হয়ে থাকাতে নয়।


রক্তে নয় তোমরা মিশে যাও প্রেমে,
ভেসে যাও প্রেমের জোয়ারে,
হিন্দু-মুসলিম লড়াই বন্ধ কর তোমরা,
জাতিভেদ নয় তোমরা এক হও মানুষ হয়ে
মানুষধর্ম গড়তে।

কবিতাঃ মানুষ চাই, জাতিভেদ নয়।
সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 16 July 2016


শরীরকে নির্বাসন দিল ওরা, কলমকে দিতে পারবেনা।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিনকে।

ওরা আটকাতে গেল তোমার চলার গতি,
ওরা কি পারল তোমায় থামাতে?
ওরা ব্যর্থ তোমার কলম থামাতে, ওরা পারেনি তোমাকে চুপ করাতে।
মূর্খ ওরা, ওরা শুধু শরীরেই তোমাকে নির্বাসন দিল,
ওই দ্যাখো মূর্খ ওরা অশিক্ষিতের মতো রাস্তার গুণ্ডামি দেখাল,
ওরা তোমাকে পারেনি থামাতে, ওরা পারেনি তোমাকে হারাতে।
শরীরে সরালেই বুঝি মনকে থামান যায়?
ওটা কি রাজনীতি নাকি ধম্মের কুটনীতি?
তবে কি রাজনীতির ব্যবসা!

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুর্খামি গোটা বিশ্ব দেখেছিল,
শিক্ষার, চেতনার, আদর্শের চিন্তাতে লেখা উপন্যাসে
ওদের অভিসন্ধি ভেঙে তছনছ হয়েগেছিল।
রাস্তায় নেমে ওরা লেখিকার প্রাণদণ্ড চেয়েছিল!
কতটা মূর্খ হলে, কত ভণ্ড হলে, কত তুচ্ছ হলে
কেউ সদলবলে রাস্তায় নামতে পারে অস্ত্র হাতে?
কতটা কলঙ্কিত হলে কেউ লেখকের মৃত্যুদণ্ড চাইতে পারে অন্ধের কুসংস্কারে?
জাতির নামে ওরা নিজেরাই নিজেদের লজ্জার রূপ তুলে ধরেছিল বিশ্ববাসীর সম্মুখে।
ওরা মানুষ ছিলনা,
অমানুষের রক্ত ওরা
প্রতিটা শিরাতে, ধমনীতে বহন করে পরিচয় দিয়েছে ওদের কৃতকর্মে।
মূর্খ ওরা, ভণ্ড জাতি,
জাতিভেদের নেশাতে মত্ত ওরা রক্তের স্বাদ খুঁজে বেড়ায়।
ওরা চলে রোবটের মতো,
কলকাঠি নাড়ে রাজনীতি - ধর্ম,
ওরা মানুষ মারতেই শিখেছে,
কলমকে ওরা থামাতে পারবে না।

ঠাণ্ডা রাজনীতির নোংরা রূপ পশ্চিমবঙ্গও দেখিয়েছিল,
ওই বুদ্ধ, বিমানরা সিপিআইএম জমানায় দেখিয়েছিল ওদের নোংরা রাজনীতির চেহারা,
লেখককে থামাতে ওরা নিসিদ্ধ করেছিল দ্বিখণ্ডিত।
লেখক ওদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিল সেদিন দ্বিখণ্ডিতকে মুক্ত করে।
নোংরা রাজনীতির দালালরা তোমাকে থামাতে নানা হুমকি, নানা ধমকি দিয়ে,
রাস্তাতে পয়সা ঢেলে ভাড়াটে গুণ্ডার হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়েছিল।
কত নোংরামি দেখেছে কলকাতাবাসী!!
কতটা নোংরা প্রবৃত্তির মন থাকলে, কতটা হিংস্র হলে ঠাণ্ডা বুদ্ধির রাজনীতি খেলা যায়
সিপিআইএমের থেকে বেশি কে জানে?
ওরা সফল হয়েছিল তোমার শরীরকে নির্বাসন দিয়ে।
ওরা কি তোমার মনকে নির্বাসন দিতে পেরেছিল?
মুছে দিতে কি ওরা পেরেছিল তোমাকে বাংলাবাসীর মন থেকে?
ওরা পারেনি তোমাকে মুছে দিতে।
ওদের ধারা বজায় রাখল তৃনমূল নেতৃও,
মুখে সংস্কৃতির পুজারী, তৃনমূল বন্ধ করেদিল সংস্কৃতির মাধ্যম,
বন্ধ করেদিল সিরিয়াল এপিসোড।
দেবির মতো পূজো করেছি যে তৃণমূল নেতৃকে,
সেই পদে পদে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলো এক মানবতাবাদী নারীকে, এক লেখককে।
সংস্কৃতির বিকাশের নামে ভন্ডামির রূপ তুলে ধরলো সংস্কৃতির প্রচারেই,
তৃনমূল কখনোই মানবতাবাদী পার্টি হতে পারেনি,
তৃণমূলের রক্তে শুধুই বিষ, মানবতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষাক্ত ইঞ্জেকশান প্রণোদিত করছে।
ওরা বড় ধূর্ত, ওরা বড়ই মূর্খ,
ধূর্তামী ও মুর্খামির খেলা এক,
ধূর্তামীতে শুধু আখের গোছানো যায়,
উন্নতি সাধন হয়না।
উন্নতি করতে বুদ্ধির প্রয়োজন, সততার প্রয়োজন,
বুদ্ধি কখনো আদর্শের পথে বাধা হয়না।


ওরা শুধু শরীরেই তসলিমা নাসরিনকে নির্বাসন দিয়েছে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের চিন্তাকে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের আদর্শকে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের কলমকে,
ওরা থামাতে পারবেওনা।
কলম চলছে,
কলম চলবেই।

Friday, 15 July 2016

আর কত ডাক! আর কত প্রার্থনা আমি করবো তাকে!
অধিকারের অধিকারবোধ, সেকি শুধু আমারই মনে?
শুধু চিন্তাতেই আমার অধিকার দেখি,
যখন অধিকারের কথা বলি তখন সম্মতি পাই নিরবেই,
যখন অধিকার রাখতে যাই, তখনই মেলে অগ্রাহ্যতা।
অভিমান হয় তবু বারে বারে প্রার্থনা করি,
সে কি বুঝেও বোঝে না কত ভালবাসা, কত আপনতা থেকে বারবার-
নিরাশ হয়েও আবদার করে ডাকি?
একি শুধু আমার নিরাশতা?
অগ্রাহ্য করা কি তোমার ব্যর্থতা নয়?

********** সৌম্যজিৎ **********

লড়াই নয় এখন শুধু মৃত্যুর প্রস্তুতি। 
সৌম্যজিৎ। 

কত প্রাণ থেমে যাচ্ছে নিরবে, আচমকা!
কখন কোথায় কিভাবে মৃত্যু এসে হাতছানি দেয়, 
নাই কোনো ধারনা। 
বাঁচতে হলে লড়ে বাঁচতে হয়, এসব এখন রূপকথা,
লড়ার নাই কোনো সুযোগ, নাই কোনো সময়। 
আর কত সজাগ থাকলে অন্তত বাঁচার লড়াইটুকু করতে পারি?
হাঁটছি, চলছি নিজের মতো করে, 
যদি কেউ পিছন থেকে বন্দুক ফায়ার করে বা ধারালো অস্ত্রটা শিরদাঁড়া বরাবর ঢুকিয়ে দেয়!
যদি কেউ কিলোমিটার দূরত্বে গ্রেনেড ছোঁড়ে! 
কেউ যদি নিজে আসে আত্মঘাতি বোমা হয়ে টিপে দেয় একটা সুইচ!
আমি লড়বো কিভাবে?
সামনে এসে কেউ লড়াই করলে, অন্তত যত খারাপই হোক সে,
আমি বলবো সে জীবনে একটাবার অন্তত সৎ থেকেছে,
সামনে থেকে  এসে লড়েছে, লড়াই করার সুযোগ দিয়েছে,
অন্তত তাকে লড়াই করে লড়াইয়ের সম্মানটুকু দিতে পারবো।
যদি কেউ আমার অজান্তেই আমাকে মেরে দিয়ে যায়,
তাকে আমি অসম্মানটুকুও জানাতে পারবো না।  
বাকস্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হয়, স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে হয়,
বাঁচার জন্য লড়াই করতে হয়, লড়তে জানি।
এখন কি মৃত্যুর জন্যও লড়াই শিখতে হবে!!
আমি কোন সমাজে বেঁচে আছি আজ? 
অল্প করে তুমি ভালবেসো,
বেশি তো বাসতে বলিনি।
প্রভাতে জেগে তোমায় দেখতে চাই,
তোমাকে জাগতে বলিনি।

সারাদিন রাত আমি কাজের ফাঁকে,
তোমার মুখটা ভেসে ওঠে চোখে,
আলতো করে তোমায় চুমু খেতে চাই,
তোমাকে ভাবতে বলিনি।

তোমার মনের ওই সাধারন রূপ
অসাধারণ লাগে আমার চোখে,
প্রতিক্ষণে তোমায় ছুঁয়ে যেতে চাই
একটু জরিয়ে ধরে।

তোমার স্নিগ্ধতা বারে বারে ছুঁয়ে যেতে চায় আমার মনে,
একটুখানি শুধু ভালবাসা চায় প্রাণ,
অল্প করেই তুমি ভালবেসো,
বেশি তো বাসতে বলিনি।

********** সৌম্যজিৎ **********

Thursday, 14 July 2016

তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে,
আমি শুনবো তোমার সুর, ভাসবো বন্ধ চোখে।
আজ বড় কাঁদছে এ প্রাণ, নিঃশ্বাস পড়ছে ঘন ঘন,
আজ গুমোট হাওয়া বইছে প্রাণে, আমি রয়েছি অপেক্ষায় তোমায় শুনবো বলে,
একটু বসতে দিও কাছে।

চেনা সুর তুমি গেও মন যা চায়,
রবি ঠাকুরকে প্রণাম দিও তোমার আদরমাখা সুরে,
আমি একটু শান্ত হয়ে বসতে চাই,
তোমার সুর মনে মেখে কল্পনাতে ভাসতে চাই,
তুমি একটু কেবল বসতে দিও কাছে।

********** সৌম্যজিৎ **********
আমার কাছে প্রেমই আমার ধর্ম। আমি মানুষের সাথে প্রেম করি, পশুর সাথে প্রেম করি, উদ্ভিদের সাথে প্রেম করি। যাদের সাথে প্রেম করি তারা আমার ঈশ্বর। যাদের সাথে আমি প্রেম করি, তাদের প্রত্যেকের ওপরে আমার পূর্ণ অধিকার আছে। মানবতাবাদী লেখক তসলিমা নাসরিনকে আমি ভালোবাসি, পূজো করি, এটা আমার প্রেম আমার অধিকার। আমি মানুষটাকে মনের মতো করে কিছু বলতেই পারি, এটা আমার অধিকার। তারসাথে আমি বাচ্চামি করতে পারি, আমার আনন্দ ও কষ্টের কথা তাকে বলতে পারি, আমার অনুভূতির কথা বলতে পারি, বলি, এগুলো আমার অধিকার ভেবে বলি, তাকে ভালোবেসে বলি, আমার ঈশ্বর ভেবে বলি। সবাই তাদের কল্পিত ঈশ্বরকে পূজো করে, তাদের প্রার্থনা জানায়, অভিমানের কথা কল্পিত ঈশ্বরের কাছে জানায়, আমি আমার জীবন্ত ঈশ্বরকে জানাই আমার মনের কথাগুলো। এটা আমার প্রেম। আমি ছোটথেকে ঈশ্বরের পূজো করি, ঈশ্বরের পূজো এই ভেবে করিনা যে কোনো অদৃশ্য শক্তি এসে আমাকে রাজা বানিয়ে দেবে, আমি তাদের পূজো করি তাদেরকে সম্মান জানিয়ে। সত্যি হোক বা গল্প, আমরা জানি কৃষ্ণ ভীষণ ধূর্ত ছিল, খুব বড় রাজনীতিবিদ ছিল। আমি এই ধূর্তামীর জন্য, রাজনীতিক বুদ্ধির জন্য কৃষ্ণকে ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা থেকে তাকে পূজো করি। আমার মনের মধ্যে আমি কৃষ্ণের ওপরে অধিকারবোধ জন্মিয়েছি, তাই বলে এই নয় যে কৃষ্ণ তার অদৃশ্য কোনো শক্তি দিয়ে আমাকে রক্ষা করবে। কৃষ্ণ তার জীবদ্দশাতে যাকিছুই করুক, এখন মৃত কৃষ্ণ এসে আমাকে সাহায্য করতে পারবেনা। আমি মানুষ, আমাকে যদি কেউ সাহায্য করতে পারে, তবে তা শুধু জীবন্ত মানুষ বা জীবন্ত প্রাণীরাই করবে। আমি লোকনাথ বাবার পূজো করি, কারণ তার নিষ্ঠা আমাকে মুগ্ধ করে। সন্ন্যাস জীবনে তার পালন করা অতি কঠোর যোগ অভ্যাস আমাকে মুগ্ধ করে, যে মুগ্ধতা আমাকে আমার মানসিক কাঠিন্যতা আনতে সাহায্য করে। তাই আমি লোকনাথ বাবাকে ভালোবাসি, তার পূজো করি।  এটা আমার প্রেম তারসাথে। আমি সূর্যকে পূজো করি, কারণ সূর্যের তেজষ্ক্রিয়তা আমাকে মুগ্ধ করে। আমি প্রতিদিন সূর্যের দিকে তাকাই, মনেহয় আমি তার মতো শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারি ঐ আলোর তেজের দিকে একদৃষ্টে দেখে। এটা সূর্যের আলোর সাথে আমার প্রেম, তার তাপের সাথে আমার প্রেম। আমি সূর্যকে ভালোবাসি। আমি মানুষ ভালোবাসি, মানুষের সাথে আমি প্রেম করি, কারণ মানুষের সাথে আমি কথা বলি, মিশি, কিছুনা কিছু শিখি। আমার মন থেকে আমি মানুষের ওপর অধিকারবোধ গড়ে তুলি। এই অধিকারবোধ আমাকে মানুষের অনেক কাছে নিয়ে যায়। তাই প্রেমই আমার ধর্ম। আমার প্রেম কখনো মানুষভেদ, জাতিভেদ করেনা।  মানুষভেদ, জাতিভেদ বড্ড জটিল চিন্তা ভাবনা। কিছু মানুষ তাদের স্বার্থরক্ষার জন্য কিছু নিয়মাবলী তৈরি করে, নিজেদের স্বার্থমত ধর্মগ্রন্থ তৈরি করে মানুষকে সম্মোহিত করে ধর্মীয় রাজনীতি তৈরি করেছে। এই ধর্মীয় রাজনীতির মারণ নেশা মানুষের মধ্যে সঞ্চালিত করে জাতিভেদ, মানুষভেদ, মানুষে মানুষে দাঙ্গা, মারামারি করিয়েছে, এবং এখন এই নেশা মানুষের মধ্যে এমনভাবে সঞ্চালিত হয়েছে যে চারিদিকে মারাত্মক খুনোখুনির বিভীশিখা তৈরি হচ্ছে। এইসব ধর্মগ্রন্থ কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৈরি হয়েছে। এগুলো কোনো ধর্ম নয়। শুধু ধর্মের নাম দেওয়া হয়েছে, মানুষকে ভুল বোঝানো হয়েছে।  আজ এই সমাজ ধর্মীয় রাজনীতির রণক্ষেত্র। কল্পিত ঈশ্বর মানুষকে কখনো সাহায্য করতে পারেনা তবু মানুষ ভাবে কল্পিত ঈশ্বর মানুষকে কোনো মন্ত্রবলে বা অদৃশ্য কোনো শক্তির বলে সব বাধা বিনাশ করবে, চলার পথ সুগম করবে, অভিসন্ধির সিদ্ধিলাভ করাবে, আসলে এগুলো মোহ। এইসব মোহই তৈরি করে ধর্মগ্রন্থগুলো। ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষের মনে লোভ, লালসা, হিংসা তৈরি করিয়ে দেয়। ধর্মগ্রন্থগুলোয় মানুষকে আগুনে নিক্ষেপ করে। প্রেমের ধর্ম আর আজকের দিনে ধর্মগ্রন্থের ধর্ম এইদুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রেমের ধর্ম কোনো বিভেদ না করে মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়, ধর্মগ্রন্থের ধর্মীয় রাজনীতির ধর্ম শুধু মানুষকে হিংসার প্ররোচনা জোগায়।

সৌম্যজিৎ। 
বিলিয়ে দাও প্রেমের ভাষা, বিলিয়ে দাও প্রেম,
প্রেম নয় লুকোনোর বস্তু, প্রেম আমার মুক্ত আকাশ,
প্রেমে আমার মুক্তি ঘটে তোমার অভিমুখে। ..

********** সৌম্যজিৎ ********** 
ক্ষণিকের যে আনন্দ তাকে আমি ধরে রাখতে চাই আজীবন,
হৃদয় আজ অনেক আনন্দ ও কষ্টের সুখে বিচলিত,
ভালোবাসা তোমাকে দেখেছি আমার মুক্ত হৃদয়ের প্রতিটা কোষে,
হারাতে চাইনা।
ভালোবাসাকে দেখার আনন্দেও তবু হৃদয়ে এতো কষ্ট কেন ওঠে?
আমি তো চিনতে ভুল করিনি,
তবে কি আমি তোমাকে ছুঁতে পারিনি?
আমার তো ছুঁতে কোনো মানা নাই, যখন ইচ্ছা আমি মনের দেশে পাড়ি জমিয়ে ছুঁতেই পারি,
তবে কি অধিকারবোধ?
হ্যাঁ, তাই হবে। আমি মনের আড়ালেই অধিকারের সীমা পেরিয়ে গেছি,
অধিকারের সীমা পেরিয়েছি বলেই কষ্ট।
প্রেম যতক্ষণ প্রেম থাকে,
প্রেম যতক্ষণ শুধু মজা বা আনন্দ থাকে, ততক্ষণ কষ্ট ছুঁতে পারেনা,
কষ্ট তখনই আসে যখন আমি অধিকারে ভাসি।
ভালোবাসা আজ তোমার ওপরে বড্ড অধিকার করে ফেলেছি আমি মনের আড়ালেই।

********** সৌম্যজিৎ ********** 

Wednesday, 13 July 2016

খুনের প্ররোচনা, হার্মাদি প্ররোচণাতে মাতে ওরা,
মেতে ওঠে আক্রোশের খেলায়,
ওদের ধর্মে আজ সমস্ত বিরোধীরা কাফের,
ওরা মানে হিংস্র বুদ্ধিদাতাকে।
ধর্মের মানে ইসলাম কি বোঝে?
ধর্মের নামে ওরা মুসলিমকে মাথামোটা করতে চায়,
চলে ফেরে রক্ত খেঁকো জ্যোম্বিরাও,
ওদের শুধু খিদে থাকে, খাদ্যের লক্ষ্য থাকে, কোনো বুদ্ধি থাকেনা।
ইসলাম আজ মুসলিমকে বানাতে চায় সেই রক্ত খেঁকো জ্যোম্বি,
ইসলাম আজ মুসলিমদের শুধুই ইসলামি হতে শেখাতে চায়,
মানুষ ধর্মে বড় মনুষত্ব,
ইসলামে সেই আইনই নাই।

********** সৌম্যজিৎ ********** 
বিতর্কগুলো ধেয়ে আসে, জাপটে ধরে আটকাতে চায়,
আসুক ধেয়ে, আমি শোনার পাত্র নই।
ভালোবাসাকে ভালোবেসেছি আমি, ভালোবাসাতেই ভালবাসা খুঁজে যাবো,
প্রেম এবার প্রেমের মতোই করবো আমি আর হারবো না। 

আজ আকাশে দেখি ঐ মেঘ সরে গেছে,
আজ আকাশে আমার সূর্য হাসছে,
আমি আজ ভেসে বেড়াচ্ছি খুব তৃপ্তিতে,
গোটা শরীর মনে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে,
বড্ড অপরূপ তুমি আমাকে কথার স্রোতে ভাসিয়ে নিয়েগেলে,
বড্ড স্নেহ তোমার মনে আমাকে স্নেহের আঁচলে আড়াল করেছ,
এ কৃতজ্ঞতা আমার গোটা প্রাণে আজ, আমি তোমাকে জানালাম,
তুমি আমার ভাষাতে নতুন সৃষ্টির স্বাদ এনেদিলে।

জেগে জেগে বা ঘুমিয়ে আমি রোজ স্বপ্ন দেখি অনেক,
আজ আমার স্বপ্নজুরে ছিল শুধু তোমার ছোঁয়া,
না জানি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম মিষ্টি স্বপ্নে আমার মুখটা কেমন লাগছিল!
আমি তো তখন তোমাকেই দেখছিলাম।

দেখছিলাম তুমি ওড়না তুলে হওয়াতে ভাসাচ্ছ,
দেখছিলাম তোমার মুখে ঠোঁটের কোণাতে একটা হাসি খেলছিল আলতো করে,
আমি দুচোখ ভরে শুধু তোমাকেই দেখে যাচ্ছিলাম,
তুমিতো ডানা মেলে উড়তে চাইছিলে।

চলো উড়ে যায় যেখানে ইচ্ছা করে যেতে,
চলো পাড়ি জমায় কোনো ইচ্ছের দেশে,
যেখানে নাই কোনো পাপ, নাই ব্যবধান,
আমরা দুটিতে মিলে প্রেম জমায়।

প্রেম আমার চোখে স্বপ্ন এনে দেয়,
প্রেম আমাকে বাঁচার প্রেরণা দেয়,
আমি আমার প্রেমে তোমাকে তোমার মতো করে সাজাই,
প্রেম দিয়ে আমরা প্রেমে ভেসে যায়।


********** সৌম্যজিৎ **********
একদিন ব্রম্মপুত্রের ধারে প্রেম করবো তোমার সাথে,
একদিন তোমার হাতে হাত রেখে, তোমাকে ছুঁয়ে আমি ব্রম্মপুত্রের ধারে
মুক্ত বাতাসের ঘ্রান নেবো।
একটা দিন এমন আসবে, সেদিন আমরা শুধু নিজেতেই মেতে থাকবো সারাদিন,
পাশে ঐ দূরে ফুচকাওয়ালা, চানাচুরওয়ালারা ফেরি করবে,
আমি শুধু তোমাতেই চেয়ে থাকবো,
তোমার কাঁধে মাথা রেখে নদীর ঢেউ দেখবো কিন্তু চিন্তাতে, ভাবনাতে শুধুই তুমি থাকবে।
সেদিন পাশ কাটিয়ে যাওয়া দামাল ছেলেরা দু-চারটে কটুকথা বললে বলবে,
টোন কাটলে কাটবে, আমরা দুজন শুধু আমাদের মধ্যেই মেতে থাকবো সারাক্ষণ।
কখনো তোমাকে জড়িয়ে ধরে, তোমার মাথাটা আমার বুকে নিয়ে আমরা প্রেম করবো,
কখনো তোমার কোলে মাথা রেখে তোমার চুলগুলো দিয়ে মুখটা ঢেকে রেখে
গোটা শরীরে, মনে তোমার চুলের- শরীরের গন্ধ মাখবো।
একদিন আমার স্বপ্ন আমি এভাবেই প্রেম করবো তোমার সাথে।

********** সৌম্যজিৎ **********
যদি বলি তুমি অদ্ভুত, আমাকে ভুল বুঝোনা,
তুমি অদ্ভুত, তোমাকে আলাদা দেখায়, তাই আলাদাভাবে অদ্ভুত বলি।
সংসার আর সমাজের সব ক্ষেত্রথেকে অনেক দূরে গিয়ে গা ভাসাতে ইচ্ছা করে,
তাই তোমায় অদ্ভুত বলি।
তুমি সত্যিই অদ্ভুত,
ভীষণ অদ্ভুত!

Tuesday, 12 July 2016

তসলিমা গান।
সৌম্যজিৎ।

শরীরে আমার শিরায় শিরায় তুমি একটা নাম,
রক্তে বহে গরম স্রোত তসলিমা নাসরিন,
তসলিমা নাসরিন তুমি আমার পরিচয়,
তসলিমা নাসরিন তুমি মানবতার এক নাম,
তোমার নামেই মৌলবাদের কণ্ঠ কেঁপে ওঠে,
তোমার নামের ভাষণে ওদের স্নায়ু কেঁপে ওঠে,
তোমার নামেই হাজারো নারী লড়াই খুঁজে পায়,
তোমার নামের আদর্শে আমরা বেঁচে থাকি সততায়,
তুমি যখন আদর্শের নাম তসলিমা নাসরিন,
তুমি আমার মনের ভাষা তসলিমা নাসরিন।
আমরা আজ মানুষ জাতি শিখেছি চেতনা,
ধর্মের গোঁড়ামি পারেনি খেতে আমাদের বুদ্ধি,
আমরা নই সম্মোহিত, আমরা সচেতন,
আমাদের বুকে একটাই নাম তসলিমা নাসরিন।
তসলিমা নাসরিন আমরা তোমায় ভালোবাসি,
তসলিমা নাসরিন তুমি যুগে যুগে হও নারী,
নারী তুমি দেখিয়েছিলে নারী দুর্বল নয়,
অসহায়তা কাটিয়ে দেখিয়েছ সমাজ প্রতিবন্ধক,
ধর্মের নামে বিদ্রুপাত্মক তুমি চিরকাল,
দেখাতে পারেনি এত সাহস কোটি কোটি সচেতক,
মুখোশের আড়ালে যত ছিল ভণ্ড ধার্মিকগন,
পদে পদে তাদের করেছ হেনস্থা, ভেঙেছ মনোবল।
একদিন তুমি উঁচিয়ে উঠবেই বিশ্বতরে মাথা,
সেদিন আমরা গাঁথব আমাদের বিশ্ব জয়গান।

পাল্টে যাওয়া নাম।
সৌম্যজিৎ।

আমার মনের ভাষায় আমি দেখি তোমার ছায়া,
তুমি ছুঁয়ে গেলে গিটারের তার,
সম্পর্ক এ হৃদয়ের মনে বড় জটিল ছেদ,
সম্পর্কের নাম পাল্টে যায় মনের গভিরে।

আজ ভাসতে চাই আমি তোমার কথাতে,
তোমার কথা প্রতিধ্বনিত হয় দেওয়াল জুরে,
আমি হঠাৎ যে কিসের সুরের খোঁজ পাই,
আমার গিটারের তার আর পিয়ানোর সুর মিলেমিশে যায়।

আমার মনের ভাষাতে আমি পেলাম তোমার ছোঁয়া,
ছুঁলে কি তুমি আমার গিটারের তার ..
প্রেম।
সৌম্যজিৎ।

প্রেম আমার পুজো,
প্রেম কি লুকোনোর বস্তু!
প্রেম যখন করি, ভালোই যখন বাসি,
তবে চেঁচিয়ে বলতেও পারি ভালোবাসি।
প্রেমে আমার মনের মুক্তি,
প্রেম আমার অধিকার,
প্রেমে আমার নাই কোনো বাধা অধিকারের সীমা পেরোনোর।
প্রেমে আমি তোমাকে ছুঁতে পারি,
তোমাকে ছুঁতে আবার বাধা কিসের?
প্রেম যদি আমার ধর্মই হয়,
প্রেমের ছোঁয়া লুকোনো কিসের?
আমি তোমাকে গোটা সমাজের সামনেই ছুঁতে পারি,
তোমাকে জরিয়ে ধরতে পারি, চুমু খেতে পারি,
সে তো আমার লজ্জার নয়,
সে আমার পরম মুক্তির, পরম তৃপ্তির,
প্রেমে আমার তো কোনো বাধা নাই।
প্রেম আমাকে অনুমতি দেয় সমস্ত অধিকারের সীমা পেরোতে,
প্রেম আমাকে অনুমতি দেয় নিসিদ্ধ পথ অতিক্রম করতে,
প্রেম আমাকে অনুমতি দেয় তোমাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে,
যেভাবে ইচ্ছা তোমাকে নিয়ে ভাবতে,
নষ্ট ওই লুকোনো চিন্তা,
আমার প্রেম নষ্ট নয়। 
ঐ যে দেখো নীল আকাশের তলায়, নীল শাড়িতে কাজললতা হাসছে বড় সুন্দর,
জীবন ভীষণ রঙিন আজ, সোনালী মুহূর্তের স্মৃতি আর ভালোলাগাগুলো খেলছে প্রাণে,
উতল হাওয়ায় ভাসছে মন, ভাসছে হৃদয়, ভাসছে সুর,
প্রতিটা ক্ষণ আটকে থাকছে স্মৃতির জমানো ভাড়ে।
এটা এখন তোমার সময়,
হাসো, খেলো, নাচো, ছুটে বেড়াও গান নিয়ে,
জীবনের প্রাপ্তি তো শুধু হৃদয়ের ভালোবাসাতেই,
মেখে নাও যত পারো মাখতে সে ভালোবাসা,
এই মুহূর্ত দেবে জয়ের আশ্বাস। 

Monday, 11 July 2016


এক যোদ্ধার গড়ে ওঠা।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিনকে।

লড়াই, কত লড়াই তুমি দেখেছ,
এক নিষ্পাপ মেয়ে ছিলে,
ফুল, পাখি, প্রেমের স্বপ্নে গা ভাসাতে চেয়েছিলে,
সমুদ্র দেখার স্বাদ ছিল, তুমি ছোট থেকে সমুদ্র দেখেছিলেনা।
মনে পড়ে একদিন দাদাকে বলেছিলে তোমার সমুদ্র দেখার ইচ্ছা?
বলেছিলে, "দাদা গো সমুদ্র দেখতে কেমন!"
দাদা বলেছিল, "না গেলে বুঝবি না। সমুদ্র কেমন সে কথা কখনও বইলা বুঝানো যায়না,
সমুদ্রের সামনে দাঁড়াইয়া উপলব্ধি করতে হয় সমুদ্র।"
তুমি সেই মেয়ে যে এক পরিণত নারী হয়ে উঠেছিল দিনে দিনে,
অনেক স্নেহ, অনেক ভালোবাসা আর অনেক স্বপ্ন ঘিরে।
যুদ্ধ, লড়াই তোমার কি কখনো মনে এসেছিল!
ওরা তোমাকে এক নারী থেকে সরিয়ে, তোমাকে ভন্ড মুখোশধারী মানুষ ঘোষণা করেছিল।
পদে পদে তোমাকে বেশ্যার পরিচয় দিয়েছে তোমাকে না বুঝে - না জেনে,
পদে পদে তোমাকে ঘেন্নার চোখে দেখেছে ওরা,
পদে পদে তোমাকে শোষণ করতে চেয়েছে, সুজোগ খুঁজেছে তোমাকে ভোগ করার,
পদে পদে ওরা প্রতীক্ষা করেছে তোমাকে মেরে ফেলার।
কল্পিত ঈশ্বরের বাণীতে মুখরিত এই সমাজ তোমাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছে
ওদের চেনা পরিচিত সমাজ ক্ষেত্র থেকে।
চিন্তাতে, ভাবনাতে, চলাফেরাতে ওরা কখনো কোনো পরিবর্তন চাইনি,
চাইনি নতুন কিছুতে, বাস্তব কিছুতে অভ্যস্ত হতে,
ওরা চাইনি সত্যিকে বিচার করে  মেনে নিতে বা মিথ্যে কল্পনার জগৎ থেকে বেরোতে।
সত্যিকে মানার সাহস সবার থাকেনা।


আফশোষ শুধু সেখানেই হয়,
যারা বুদ্ধিজীবী, যারা সমাজের ভন্ড মুখোশের সাথে পরিচিত, তারা সাহস করে এগিয়ে আসেনি।
আফশোষ হয় কোথাও সেখানে একটা সাহসী মানুষ এগিয়ে আসেনি তোমার পাশে দাঁড়াবে বলে।
একটা মানুষ সামনে এসে চিৎকার করে,
জোর গলাতে বলেনি, "তসলিমা ভুল নয়, তসলিমা মিথ্যে নয়,
তসলিমা যা বলে ঠিক বলে। তসলিমা সত্যের আদর্শ চায়।"
আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে জানো তোমাকে সকাল বলে ডাকা মানুষটা থাকলে,
সে কি তোমার পাশে এসে দাঁড়াত না ?
হয়ত নিশ্চয় এসে দাঁড়াত, বা হয়ত সব মানুষের ভিড়ে
নিজেকে আড়াল করে রাখত অন্যদের মতোই।
আমি মাঝে মাঝে ভাবি জানো, আমি কি ঐ সময় তোমার পাশে থাকতে পারতাম না!
আমি তখন তিন না হয়ে যদি তেইশ হতাম বা তেত্রিশ হতাম!
হতে পারতাম না!
তোমার পাশে গিয়ে দাঁড়াতাম,
ভরা বাজারে, বড় রাস্তার মোড়ে তোমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে বলতাম,
চিৎকার করে বলতাম, "তসলিমা নাসরিন সত্যের পথে চলা এক পথিক,
তসলিমা নাসরিন কখনো ভুল হতে পারেনা।"
ওদের চোখে চোখ রেখে বলতাম, "ভুল তোমরা। ভুল তোমাদের চিন্তাতে,
ভুল তোমাদের ভাবনাতে। তোমরা গোঁড়ামিতে নিজেদের ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছ।
তোমাদের এই ভেসে যাওয়ার পরিণতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারে ডুবিয়ে মারবে।
সমস্ত প্রজন্ম শিখবে শুধু একে ওপরের রক্ত ঝরানোর শিক্ষা।
তোমাদের গোঁড়ামি কখনো সুস্থ শিক্ষা দিতে পারেনা।
তোমাদের গোঁড়ামি শুধু সমাজের বিনাশকই হতে পারে।"

আমি বারবার ঐ মেয়েটার প্রেমে পড়ি জানো,
খুব কাছথেকে, যতটা কাছে গেলে তার প্রতিটা নিঃশ্বাস আমার চোখে মুখে এসে পড়ে,
তত কাছথেকে মেয়েটাকে অনুভব করি।
আমি বারেবারে সেই মেয়েটাকে নিজের মধ্যে অনুভব করি,
অনুভব করি তার প্রতিটা লড়াই, প্রতিটা মৃত্যু ভয়ে ছুটে বেড়ানোর দীর্ঘশ্বাস চিন্তাগুলো,
তুমি সত্যের পথের পথিক হয়ে উঠছিল আগুনে পুড়ে পুড়ে,
মানব থেকে মহামানব হয়ে উঠছিলে বিভীশিখাময় মৃত্যুর পথে পথ চলে,
আমি কল্পনার জগৎে হেঁটে গিয়ে বারবার তোমার আদর্শকে নিজের গায়ে মাখি,
আমি বারবার শুধু ঐ মেয়েটাকে নিজের পথ চলার সঙ্গী ভেবে ছুটে যেতে চাই।

বাস্তবে যখন দেখি আজ মানুষটা আমাকে এত স্নেহ করে,
মাঝে মাঝে শাসন করে, মাঝে মাঝে বকা দেয়, আবার ভালোও বাসে,
আমি যেন নেচে উঠি।
আবার হাঁপিয়ে উঠি তোমার চোখের একটু আড়াল হতেই।
আমার প্রাণ প্রতিমা তুমি,
আমি তোমাকে আমার সমস্ত স্বত্ত্বা দিয়ে পূজো করি। 

Sunday, 10 July 2016


আদর্শ মানবিকতাতে, ধর্ম আনে হিংস্রতা।
সৌম্যজিৎ।

চল চলি আদর্শ নিয়ে,
সব বাধ, সব ব্যাবধান ছিন্ন করি,
চল চলি নতুন সমাজ গড়তে,
আদর্শ আর লক্ষ্য ছাড়া জীবন কোনও জীবন নয়,
জীবন আমাদের মুক্তির জন্য, পরাধীনতাকে ছিন্ন করি।
চল এবার আদর্শ গড়ি,
এক জাত, এক লক্ষ্য, এক মুক্তির পথে এগিয়ে চলি,
ভেঙে ফেলি ধর্মের কারাগার,
ধর্মে কোনও মুক্তি নাই।

আজ সমাজ বড্ড জটিল,
হিন্দু কয় মুসলিম অজাত, মুসলিমের রক্তে বেহায়াপনা,
মুসলিম গড়ে হার্মাদ খুনি, মুসলিমের নাই কোনও শুভচেতনা।
মুসলিম কহে হিন্দু বেজাত,
হিন্দুর রক্তে বেশ্যামি,
হিন্দুরা পাঠার দল, হিন্দুতে মিশে পরকীয়া।
ধর্মের নামে গালাগালি, ধর্মের নামে শত্রুতা,
ধর্মের নামে খুনোখুনি, আজ সমাজ লাসের চিতা।

ওরা ধর্মের নামে কাঁদা ছোঁড়ে, সেই কাঁদা নিজেরাই মাখে,
মাখায় একে অপরকে।
ওদের নাই কোনো লাজ ওই ধর্মের নামে মানবতাকে তুচ্ছ করতে,
ওরা নিজেদের ধার্মিক বলে।
ওরা কি ধর্মের মানে বোঝে?
ওরা কল্পিত কথাকে ঈশ্বরের বানী মানে,
মানুষ হয়ে মানুষকেই শত্রু মানে,
মানুষ হয়ে মানুষজাতকে ওরা লাঞ্ছিত করে,
কলঙ্কের কাপড়ে ঢেকে মানুষজাতের বদনাম করে,
মানুষ রূপে তুলে ধরে ভয়াবহতা, হিংস্রতা,
ওরা সমাজকে যুদ্ধের ক্ষেত্র ভাবে।

এই সমাজ মানুষজাতের,
এই সমাজ আমার,
এই সমাজ তোমার ও আমাদের,
ধর্ম কেন শত্রু গড়ে?
ধর্মের কি সাহস বড় ধর্ম মানুষের বিভেদ করে?
ধর্মের আড়ালে পাপেটিয়ারা পাপেট নিয়ে খেলা করে,
হিন্দু-মুসলিম পাপেটগুলো পাপেটিয়াদের ইশারায় নাচে।

ওরে তোরা ধর্মের নামের খেলার যন্ত্র,
যন্ত্র হয়েই থেকে যাবি,
হিংস্রতা আর বর্বরতা নিয়ে রক্ত গঙ্গা বইয়ে যাবি।
তোদের না আছে মান, না আছে হুশ,
কেমনে হবি মানুষ?
মানুষ হতে প্রেম চায়, আদর্শ চায়, মানবিকতা চায়,
প্রেম, আদর্শ, মানবিকতা তোদের রক্তে নাই,
তোরা মানুষ রূপে চিরকাল অমানুষ হয়েই থেকে গেলি।

Saturday, 9 July 2016

একটা দিন পার করেদিল বহু বৎসরের যাত্রা,
একটা দিনই অভিজ্ঞতাতে এনেদিল তুমুল ঝড়ে বয়ে চলার,
লড়াই করার, অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখার দায়বদ্ধতা।
শরীর নশ্বর, সাথ দেবে কি দেবে না সে বিশ্বাস বড়ই জটিল, মিলবে না।
মন কে অবশ্যই অবিনশ্বর হতে হবে ইচ্ছেসীমার পথ অতিক্রান্ত হতে।
********** সৌম্যজিৎ **********

Thursday, 7 July 2016

গোটা ২৩ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ভিডিও টা দেখলাম, শুনলাম। ভালো লাগল তোমাকে কথা বলতে দেখে। শুধু একটা ব্যপার আমি দেখছি জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠছে ক্রমশ যে, ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়, ইসলাম সন্ত্রাস তৈরি করছে। যে সমস্ত সন্ত্রাস কাণ্ড ঘটছে তার পিছনে অনেকাংশেই দায়ি ইসলাম ও ইসলামি মৌলবাদ। আজ তসলিমা নাসরিন প্রকাশ্যে কথাটা বলছে বলে তসলিমা নাসরিনের দিকে হুমকি ধেয়ে আসছে। ব্যপারটা যদি অন্যভাবে ভেবে দেখি, আসলে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কথা না বলে আমরা যদি শুধু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলি, যে সন্ত্রাস হচ্ছে, সন্ত্রাস দমনে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষ খুন বন্ধ করতে হবে, মানুষের ওপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, প্রত্যেকের নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিতে হবে, এইসব ক্ষেত্রে যদি দেশের মিনিস্ট্রি লেভেল বা অ্যাডমিনিস্ট্রেশন লেভেলের কাছে বিচার চাওয়া হয়, তবে তা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্তাধীন থেকে যায় ও কিছুকাল পর নতুন কোনো ঘটনাতে ফাইল নিচে চলে যায় বা ফাইল বন্ধ করে দেওয়া হয়। মানুষের মনে কি এমন প্রশ্ন আসেনা যে কেন তারা যারা ইসলামের ওপর প্রশ্ন তুলছে বা যারা ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলছে, ইসলামতন্ত্রের বিপরীত পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, নাস্তিকতা অবলম্বন করছে এদেরকেই কেন মারা হচ্ছে? ইসলামতন্ত্র মেনেচলা সাধারন মানুষ বিশ্বাস করে যারা খুন করছে, তারা কখনো ইসলামিক হতে পারে না। তবে কেন তারাই খুন হচ্ছে যারা ইসলামিক নয়? মুসলমান খুন হচ্ছে, কিন্তু মুসলমান মানেই সে ইসলামিক নয়। যদি শুধু সন্ত্রাস নিয়েই কথা বলি, তবে সেইসব সন্ত্রাসদের নীতি লক্ষ্য করলে দেখা যাচ্ছে ইসলাম এদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সমস্ত ধর্মেই মৌলবাদ আছে এবং তা সমস্ত ধর্মের মানুষের পক্ষেই ক্ষতিকারক। যে ধর্ম মানতে চাইবে, সে মানুক, যে বা যারা মানতে চাইনা তাদের ওপর বলপূর্বক বা ভয় দেখিয়ে চাপিয়ে দেওয়ার অর্থ কি? ইসলাম তো তবে সহি নয়, হতে পারে না। খুনোখুনি মানবধর্ম বিরুদ্ধ। মানবধর্মকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। মানুষের কাছে প্রশ্ন করছি, মানবধর্ম তোমাদের কাছে বড় নাকি ইসলাম বড়? মানবধর্ম তোমাকে চিন্তাভাবনা করার সমস্ত স্বাধীনতা দেয় যা ইসলাম দেয়না। ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই প্রাণসংশয় ঘটে। ধর্ম মানুষের হৃদয় থেকে তৈরি হয়, মানুষের বোধ থেকে ধর্মের পালন হয়, ইসলামও ঠিক তেমনই মানুষের হৃদয় ও বোধ থেকে বা ধর্মীয় রাজনীতি থেকে সৃষ্টি হওয়া একটা দর্শন। যা কেবল কিছু ক্ষেত্রে উপযোগী হতে পারে, কিন্তু সময়ের সাথে সভ্যতার অগ্রগতিতে যদি সেই ধর্মের অগ্রগতি না হয়, তবে তা কখনই মানবসমাজের জন্য শুভ হতে পারেনা। ইসলাম কোনো আকাশ থেকে টপকে পড়া ধর্মগ্রন্থ নয়, কোনো ধর্মই আকাশ থেকে টপকে পড়া নয়। সময় বিশেষে সমস্ত ধর্মকে মানুষই এনেছিল কার্যসিদ্ধির জন্য। তবে ইসলাম কেন পরিবর্তনশীল হতে পারেনা? মানুষের থেকে বুদ্ধিমান প্রাণী কেউ নেই, মানুষই সৃষ্টি করছে, মানুষই ধ্বংস করছে। এর পিছনে আছে বিভিন্ন সংগঠন বা গোষ্ঠীগুলোর স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র। আর মানুষ ধর্মের সম্মোহনে আবদ্ধ, তাই ধর্মের দোহাই দিয়ে তারা নিজেদের কার্যসিদ্ধি করছে। সাধারন যদি বোঝে ধর্ম মানুষের বোধ বা চেতনা, কোনো গ্রন্থের নিয়মাবলী নয়, তবে এত জটিলতা, এত হানাহানি, এত আতঙ্কের সৃষ্টি কখনই হয়না। মানুষকেই বুঝতে হবে সবটা।
প্রবল বেগে ঘুরে চলা পাখার তলাতেও মাথা ঘামছে,
বুকে উঠছে কম্পনধ্বনি,
আমি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি, শুধু চলার গতিতে কোনো নিয়ন্ত্রন নাই।
আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি,
একটু অসাবধানতাতে অপেক্ষা করছে ভীষণ ভরাডুবি।


ভাইভা'র হল আমার কাছে সবসময় ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর কারণ যে ভাইভা'র হল আমাকে অনেককিছু দিয়েছিল, অনেক সুযোগ করে দিয়েছিল, সেই ভাইভা'র হল আমাকে তেমনভাবে প্রচণ্ড ব্যর্থতাও দিয়েছিল। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর, টানা তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর শেষে এসে সফল হয়েছিলাম। শনিবার আবারও একটা ভাইভা। প্রস্তুতি খুব খারাপ না হলেও, খুব ভালো নেই। তবে বিশ্বাস এখন টালমাটাল। আরও ভয়ের কারণ রবিবার নেটের পরীক্ষা। একেবারে প্রস্তুতি নেই। যা হওয়ার হবে এই ভেবে এখন পড়া ছাড়া আর কোনো উপাই নেই আমার কাছে। যা হবে দেখা যাবে। 

Wednesday, 6 July 2016

চশমা ছাড়া ঐ কাজল নয়নের দৃষ্টি বহুদূর,
মানুষ রাজ্যের রাজকন্যা মানুষ হৃদয়ে বাজনা তুলে,
বাতাসে বাতাসে সুরের প্রতিধ্বনি,
আজ মুখে মুখে একটাই নাম ঈমান চক্রবর্তী।
সুরে সুরে তুমি ভাসিয়েছ মানুষের মন প্রাণ,
আজ এ রূপেও দেখি সেই ঝলক,
যা মুহূর্তে অচল করে দিতে পারে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন,
আই.সি.ইউ তে পড়েথাকা লাশের মধ্যেও সঞ্জীবনী প্রাণের গতি এনে দেবে,
বাঁচার একটাই নাম, একটাই আওয়াজ শুধু তোমার সুরে দিগন্ত ভাসবে।



কক্সবাজারের কন্যাকে রূপকথার প্রশ্ন।
সৌম্যজিৎ।


যদি ধরে নিতাম তোমাকে সেই রাজকন্যের রূপে,
যদি পথ চেয়ে থাকতাম তোমাকে আপন করে পাবো বলে,
যদি অপেক্ষার কোনো শেষ না থাকত,
তুমি কি আমার চোখে ভাসতে?
কাজলি তোমাকে চেয়ে আমি পথের ধারে কাঠ ফাটা রোদ্দুরে,
তেঁতে ওঠা এবড়ো খেবড়ো পাথুরে পথ ধরে খালি পায়ে হেঁটে চলেছি,
কাজলি তোমাকে কালো কোর্টের ভিতরে থাকা সাদা পোশাকে দেখবো ভেবে
বর্ডার ক্রস করে রাতের অন্ধকারেই পাড়ি জমিয়েছিলাম।
কাজলি ওরা আমাকে সীমানা পেরতে দিলনা জানো।
ওরা ধেয়ে আসল মাটির বুকে খটখটে জুতোর আওয়াজ তুলে,
রাইফেল উঁচিয়ে আমার কাছে হন্যে হয়ে তলাসি করল,
আমার কাছে বুকভরা একটু ভালোবাসা আর চোখভরা এক চিলতে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই ছিলনা,
ওরা সেটা দেখতে পেলনা।
আমাকে কোনদিকে চালান দেবে ঠিক না পেয়ে সোজা রাইফেলের গর্জন করে আসা গুলি
আমার ভালোবাসা বয়ে নিয়ে যাওয়া বুকটা ফুটো করে বেরিয়ে গেল।
কাজলি আমার চোখের স্বপ্নটা ফুরিয়ে যায়নি,
আমি সেটাকে আলতো করে স্নেহ দিয়ে আমার চোখে ধরে রাখলাম তোমার আমানত হিসেবে।
চোখ বন্ধ করে অপেক্ষায় থাকলাম।
কাজলি,
তুমি এসো।
আমি পারলাম না তোমার কাছে পৌঁছতে,
আমি জানি তুমি আসবে।
কিন্তু এসে কি বলবে সেটা জানার বড় কৌতূহল আমার।
আমাকে বোলো তোমার কথাটা। 
জেগে আছি আমি সুদূর সমুদ্র পার হবো বলে,
মনে শান্তি নাই ততক্ষণ যতক্ষণ না তোমাকে ছুঁয়ে দেখি,
কত রাত কত দিন তোমার অপেক্ষায় আমি,
মরুভূমির বালিরাও তাপে, আবারো শীতল হয়।

           ********** শান্ত **********

Tuesday, 5 July 2016


রক্তখেলা।
সৌম্যজিৎ।


মাটি আজ লালে রাঙা,
রক্তের স্রোতে ভাসছে মেঝে,
লেখিকার চোখে আমি দেখি এক মরণ ভয়ের অনুভূতি।
লেখিকা আমার চিন্তার মধ্যে গলায় হাত বুলিয়ে ভাবে,
মাথার পিছনে হাত দিয়ে দেখে কেমন সে স্পর্শ যখন
হার্মাদেরা খুনের সময় ধরে?
আমি সব মানতে পারি, সইতে পারি দুর্বিসহ,
লেখিকার ভয়ার্ত স্বপ্ন আমায় ভাঙে মুহুর্মুহ।
পারিনা তার কষ্ট দেখতে আর,
সারাজীবন সে চলছে কষ্টে, পদে পদে ভয় নিয়ে-
বেঁচে আছে, লড়াই লড়ছে তবু
পিছনে মৃত্যুর হাতছানি।

কেমন ভাবে না জানি ওরা লড়েছিল বাঁচতে,
ঢাকার ক্যাফের বাতাস তখন তাজা রক্তে ভাসছে,
কেউ কেউ হয়ত বাঁচার জন্য কাড়তে চেয়েছিল অস্ত্র,
চোখে মুখে আতঙ্কের তীব্র ছাপ,
চারিদিকে শুধু চিৎকার "বাঁচাও",
চারিদিকে চিৎকার-
ওদের শরীরে কেটে কেটে রক্ত মাংস বার করে নেওয়ার,
চারিদিকে তীক্ষ্ন চিৎকারের প্রতিধ্বনি,
গুলির আওয়াজ ক্যাফে ভেদ করে রাস্তার মানুষের কান ঝালাপালা করে দিয়েছিল,
ভিতরে তখন মৃত্যুখেলা,
ওরা পারেনি নিজেদের রক্ষা করতে।
একটার পর একটা গুলি শরীর ভেদ করে ছিটকে পড়ছে,
আঁছড়ে পড়ছে দেওয়াল মেঝেতে,
জ্যান্ত মানুষগুলো মুহূর্তের মধ্যে প্রাণহীন,
লুটিয়ে পড়ছে ক্যাফের টেবিল, মাটিতে।

কেউ কেউ প্রাণের ভয়ে ছুটছে, পালাতে চাইছে,
বৃথা চেষ্টা ওদের,
আইসিসের বন্দুকের গুলির গতি মুহূর্তে পরাজিত করছে ওদের
রুদ্ধশ্বাস পালানোর গতিকে।
কেউ তখন চেষ্টা করছে প্রাণপনে আপনজনদের প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে।
আইসিসের নির্মম হৃদয় তাতে গলবে কেন?
তারা জিহাদি শিক্ষায় শিক্ষিত,
ওদের ছাড়বে কেন?
শুনিয়ে দিচ্ছে মৃত্যুঘন্টা বন্দুকের আওয়াজে।
ফেটে পড়ছে আল্লাহ আকবরের জয়ধ্বনি,
ওরা গর্বিত ওদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে,
ইসলামের আদেশ পালন করছে,
যেন যুদ্ধে বড় কোনো জয় লাভ,
জীবনকে সার্থক করছে জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে।

মূর্খ ওরা, ভন্ড ওরা,
মানুষের তাজা রক্তে স্নান করে জান্নাতের পথ চায়,
মানুষকে মৃত্যুর আগুনে পুড়িয়ে ওরা যেতে চায় কল্পিত সুখের রাজ্যে,
মানুষ জন্ম বৃথা ওদের, শেখেনি মানুষের শিক্ষা,
যে জিহাদে, যে মিশনে ইসলাম শক্তি কায়েম করতে চায় ওরা,
তা এক মৃত্যুর বিভীশিখা।
ধর্ম আনেনি মানুষ,
মানুষ এনেছে ধর্ম,
ধর্মের নামে মানুষকে পরাধীন করতে, সম্মোহিত করতে,
কাল্পনিক ধর্মকে মহাবিশ্বজনীন সত্যের কথন দিয়েছিল
আজকের এই হত্যালীলা দ্বারা আতঙ্কিত করে ক্ষমতার শীর্ষে থাকতে।
ঐ খুনিরা বড্ড মূর্খ ওরা জানেনা ধর্মের জারিজুরি,
ওদের মাথায় শুধু জান্নাত ঘোরে, ওরা সম্মোহনের শক্তি কায়েম করে লুটিয়ে পড়ে,
সুবিধাভোগীরা উঁচু তলায় সুযোগের অপেক্ষা করে-
আবারও নতুন ছক কষতে।


এই হত্যার নাই কোনো শেষ,
যতদিন ধর্ম থাকবে শীর্ষে,
কালকের হত্যা আগামীতে হবে পুরোনো,
সময় নতুন রক্তের গন্ধ পাচ্ছে।
আরও ভয়ঙ্কর!! আরও আর্তনাদ!! আরও ধ্বংসাত্বক!!...
কাল তারিসিরা গেছে,
আগামীতে পালা আমার, তোমার, তোমাদের ...

তারিখ- ৫ই জুলাই, ২০১৬।

Monday, 4 July 2016

কারা ওরা জঙ্গি নামে
কাদের খুঁড়ে বেড়ায়?
খুনের শিক্ষায় শিক্ষিত ওরা
ধর্ম করল মগজ ধোলাই।
ধর্ম আনেনি মানুষ,
মানুষ এনেছে ধর্ম তবে,
ধর্ম কেন মানুষ হতে বড়?
এর বিচার চায়।


ধর্মের নামে সন্ত্রাস হয়,
ধর্মের নামে ভেদাভেদ,
ধর্মের নামে জিহাদ গড়ে,
ধর্ম মানুষের বিনাস করে।
ধর্ম কেবল মানুষ সৃষ্ট,
কিছু খানেকের উপযোগী,
পরাধীনতার শেকল বাঁধে,
চূর্ণ করে অস্তিত্ব।


ভেঙে ফেল ধর্মের শেকল,
মুক্ত কর মানবজাতি,
সকল হৃদয় এক হয়ে যাক,
সব ভেদাভেদ ধ্বংস করে।


ঈশ্বর, আল্লা, যীশু কেউ নয় কারোর সৃষ্টি কর্তা,
সুবিধাভোগী সুবিধা ভোগে,
মানুষের বিবেক সম্মোহনে,
একের পর এক রূপকথাদের ভাসিয়ে দিল ধরণী বুকে,
সৃষ্টি করল ভয় ভীতি,
আরও কত ব্যবসা!!


ভেঙে ফেল ধর্মনীতি,
মুছে যাক পরাধীনতা,
সবাই আমরা এক হই আয়,
এক প্রাণ, এক জাতি।

********** সৌম্যজিৎ **********

Sunday, 3 July 2016

ইসলাম আর নয় কোনো শান্তির ধর্ম,
ইসলাম সন্ত্রাসের আঁতুড় ঘর।
ইসলাম নারীকে পর্দা করেছিল, হরণ করেছিল নারী স্বাধীনতা,
ইসলাম লিখেছিল ইসলামের অবমাননা বা অমান্যে কাফেরদের হত্যা কর,
আল্লাহ আকবর কায়েম কর।
ইসলাম গড়েছে হিংসা প্রবৃত্তি, ইসলাম আমাদের লজ্জা,
ইসলামে আছে গায়ের জোর খাটানো হিংস্রতা,
ইসলামের নাই কোনো শুদ্ধি, নাই কোনো শুদ্ধতা।
ইসলাম কোনো ধর্ম নয়, ইসলাম মানে গোঁড়ামি,
ইসলামেই মানুষ হারাম হয়, ইসলামেই মানুষের বিনাস।
ধর্ম যেখানে মানবিক হয়, সেখানেই থাকে মনুষত্ব,
ইসলামে শুধুই খুনোখুনি হানাহানি,
ইসলাম মানবজাতির কলঙ্ক।

********** সৌম্যজিৎ **********
হানাদাররা হানা চালায়,
অতর্কিতে গুলি চালায়,
ইসলামী আয়াতের জ্ঞান নাই যার,
সেই পড়ে বন্দুকের রোষানলে। 


ওই বাংলা ওদের এখন, ওই বাংলা শুধু ইসলামের শাসন,
বেজাত ছিটে পড়তে মানা, 
দু-এক ফোটা থাকুক পায়ের তলে। 


হায় হায় বাংলা মা,
তোর গায়ে কলঙ্কের দাগ!
তোর গায়ে ওরা মারে কাটে,
চিরে চিরে রক্তে ভাষায়,
আঁচল ছিঁড়ে ধর্ষণ করে,
ওরা ইসলামের জয়গান গায়। 


রাজনীতি, ধর্ম দুই তোকে শাসন করে, শোষণ করে দিনে রাতে,
মাটিভেদ করা ফলের রস নিংড়ে  নেয়, তোর গায়েতেই দাপিয়ে বেড়ায়,
নষ্ট করে তোর জরায়ু,
তোরই সন্তানদের মেরে কেটে। 
ওদের গতি উদ্ধত, 
ওদের আজ ঠেকাবে কে?
মুখোশের আড়ালে মহানায়িকা,
বঙ্গভূমি সন্ত্রাস মুক্ত।


********** সৌম্যজিৎ **********

হৃদয়ের যে কোঠরে ভালবাসা লুকিয়েছিল,
অনেক অভিমানে ও ঈর্শান্বিত হয়ে তা চরম প্রকট। 
সমাজের লজ্জা মাথা পেতে নিয়েছি,
লজ্জায় হারিয়ে যায়নি,
পদে পদে কটু কথাগুলোও গা সওয়া হয়েগেছে। 
শুধু বেঁচে আছি তোমার স্নেহে ও স্নেহের প্রতীক্ষায়।


**********সৌম্যজিৎ**********

Saturday, 2 July 2016

তোরা তাকে মারতে চাস যে পার করে এসেছে হাজারো যুদ্ধে কাটানো দিন,
তোদের দুঃস্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে, অভিশপ্ত জাত নিয়ে মর।
**********সৌম্যজিৎ**********

Friday, 1 July 2016

হানাদাররা হানা চালায়,
অতর্কিতে গুলি চালায়,
ইসলামী আয়াতের জ্ঞান নাই যার,
সেই পড়ে বন্দুকের রোষানলে। 


ওই বাংলা ওদের এখন, ওই বাংলা শুধু ইসলামের শাসন,
বেজাত ছিটে পড়তে মানা, 
দু-এক ফোটা থাকুক পায়ের তলে। 


হায় হায় বাংলা মা,
তোর গায়ে কলঙ্কের দাগ!
তোর গায়ে ওরা মারে কাটে,
চিরে চিরে রক্তে ভাষায়,
আঁচল ছিঁড়ে ধর্ষণ করে,
ওরা ইসলামের জয়গান গায়। 


রাজনীতি, ধর্ম দুই তোকে শাসন করে, শোষণ করে দিনে রাতে,
মাটিভেদ করা ফলের রস নিংড়ে  নেয়, তোর গায়েতেই দাপিয়ে বেড়ায়,
নষ্ট করে তোর জরায়ু,
তোরই সন্তানদের মেরে কেটে। 
ওদের গতি উদ্ধত, 
ওদের আজ ঠেকাবে কে?
মুখোশের আড়ালে মহানায়িকা,
বঙ্গভূমি সন্ত্রাস মুক্ত।


********** সৌম্যজিৎ **********

আদর্শের উৎস তসলিমা নাসরিন।
সৌম্যজিৎ।

খুনোখুনি, হানাহানি ওদের রক্তে মিশে তসলিমা নাসরিন,
ওরা জিহাদের নামে চায় নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে।
প্রচারে আসতে ওদের নানান হুমকি, ওরা চাইবে তোমাকে ভীত দেখতে,
ভয় আসে মিথ্যের মায়াজাল থেকে,
তুমি ভয় পেওনা।
তোমার সাথে সত্যের শক্তি ছিল, তোমাকে পদে পদে ঢাল হয়ে বাঁচিয়েছে,
সত্যের শক্তি তুমি দিনে দিনে খেটে, আদর্শের পথে চলে রপ্ত করেছ।
এ তোমার সাধনা।
ভয় পাওয়া তোমাকে মানায় না।

শুনছ তুমি তসলিমা নাসরিন ওরা আজ কেন তোমাকে হুমকি দেয়?
ওদের প্রাণে ভয় ঢুকেছে, ওরা চাইনা মানুষ জেগে উঠুক,
ওরা তোমাকে ভয় পেয়েছে, তুমি আদর্শের চিন্তা মানুষের মধ্যে ঢেলে দিচ্ছ দেখে,
ওরা ভয় পেয়েছে তোমাকে, কারণ মানুষ সম্মোহনের বেড়াজাল ভেঙে বেরোতে চাইছে।
ওরা চাইনা ইসলামের  কোনো অভিযোজন হোক,
ইসলামের অভিযোজনের অর্থ ওদের শক্তি হ্রাস পাওয়া,
আজ স্থানে স্থানে ইসলামের অভিযোজন শুরু হয়েগেছে,
মানুষ তোমার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে স্বাধীনচেতা হয়ে উঠছে,
ওরা ক্রমেই শক্তিহীন হয়ে পড়ছে, তাই শক্তির জানান দিতে
তাজা রক্তের আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে।
তোমার রক্ত ভাসালে স্বাধীনচেতা মানুষগুলোর হৃদয় কেঁপে উঠবে,
মানুষ ভীত হয়ে উঠবে,
ঐ হার্মাদ গোষ্ঠীগুলোকে সমীহ করে চলবে তটস্থ হয়ে,
সেখানেই ওই হার্মাদদের জয়।

ওরা পারবে না তোমাকে মারতে,
সত্যের পথে অগ্রসর হওয়া অগ্নিউৎস'কে মারা ওদের মত খুনিদের কাজ নয়,
দিতে দাও ওদের হুমকি ধমকি যত পারে দিতে,
তুমি চলো তোমার পথে আদর্শের বাতি জ্বালিয়ে।
তসলিমা নাসরিন সেই আদর্শের শক্তি যাকে মারা কোনো অন্ধকারের কাজ নয়,
তসলিমা নাসরিন যুগে যুগে উজ্বল হয়ে থাকবে,
তাকে নেভানো ওদের সাধ্যে নাই। 
মৃত্যু তোমাকে ছুঁতে পারবে না হে যোদ্ধা,
তুমি চলো নিজের মত করে,
যা লেখার লেখো, যা বলার বলো,
এ মানবজাতির অস্তিত্বের লড়াই, তুমি পিছু হটবে না। 

মৃত্যুর ছোঁয়া তুমি পেয়েছ হাজারো,
বারবার কড়াঘাত করেছে তোমার দরজায়,
ওরা তখনও তোমার কিছু করতে পারেনি,
আজও পারবে না। 
মনে করে দেখো তখন লক্ষাধিক মৌলবাদ রাস্তাতে জড়ো হয়েছিল 
তোমার মাথার দাবিতে,
চাপাতি, বন্দুক, লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল তোমাকে মারতে,
ওরা তখনও কিছু করতে পারেনি। 
আজ তুমি সুরক্ষার ঘেরাটোপে,
কোটিকোটি মানুষের ভালোবাসার ঘেরাটোপে আবদ্ধ। 
কেউ তোমাকে ছুঁতে পারবে না,
শুধু প্রচারে আসতেই ওরা হুমকি দেবে,
ওরা আসলে নপুংসক কাপুরুষ। 
ওদের কোনো সাধ্য নাই যে ওরা তোমাকে মারতে পারে।