Friday, 31 March 2017

স্বাধীন হবেই আমার জন্মভূমি,
তুমিও সেদিন ফিরবেই।

- সৌম্যজিৎ। 


মারকাটারি রাজনীতির গ্রাসে বিক্ষিপ্ত এদিক সেদিক,
বিধ্বস্ত বাংলার বুক তবু সম্মোহনেই লালসার চূড়ান্ত দিক।
ওই যে কারা ওরা বুদ্ধিজীবী রাজনীতিক
রক্তগঙ্গায় রাজত্ব করে,
ওই যে ওরা ভিন নামে বাংলার বুক কর্ষণ করে,
চিরে চিরে কৃষকের ঘর্ম বিন্দুকেও লাল রক্তে রাঙায়,
বছরের পর বছর শাসনের নামে ধর্ষণ করে মানুষ জাতিকে।
ওই যে কারা ওরা ধর্মের দোহাই দিয়ে নির্বাসন দেয় কলম হস্তকে,
লেখকের কলমকেই ওরা পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখতে চায়।

বাংলা আবারও স্বাধীন হবে শুভ চেতনার আঙিনায়,
পরাজিত হবে মিথ্যে সম্মোহনের জাল, পরাজিত হবেই হাতে পরানো শক্ত শেকল।
বাংলা আবার স্বাধীন হবে সেদিন যখন শিক্ষার আলো ছড়াবে দিকে দিকে,
মারকাটারি রাজনীতি নয়, ভালোবাসায় ভাসবে আমার জন্মভূমি,
ফিরবে আমার নির্বাসিত লেখিকা স্বাধীনতার কলম নিয়ে,
ফিরবে আমার নির্বাসিত লেখিকা অজস্র ভালবাসা নিয়ে,
আমি বাজপাখির দৃষ্টিতে শিক্ষাকে অস্ত্র করে তাকিয়ে আছি সেইদিনে,
পরাধীন বাংলা রাজ্য সেদিন হাসবে স্বাধীনতায়, শিক্ষার আলোকে,
ভালোবাসায় ..

আমার নির্বাসিত লেখিকা ফিরবেই,
আমি ফিরিয়ে আনবো তোমায়।

Thursday, 30 March 2017

তুমি আমার মধ্যে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছিলে মেয়েমা। আদর্শগত দিক থেকে সবটাই তোমার থেকে শেখা। এখন আমি আমার চরিত্রে আরও পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, এটা আমি তোমার থেকে শিখিনি, শুধু নিজের মধ্যে হতে দেখছি। যত দিন যাচ্ছে, আমি যেন আরও শান্ত হয়ে যাচ্ছি। কোনোকিছু নিয়ে চিন্তা শুরু করলে, বা ধরো একটা থিওরি পড়তে গেলে সেটার গভীরে ডুবে যাচ্ছি। কিন্তু আমি অনেক বেশি একা হয়ে যাচ্ছি। এই একা হয়ে যাওয়াটা সম্পর্কগুলোকে অনেক দূরে ঠেলে দিচ্ছে। আমি সম্পর্কগুলোকে হারিয়ে ফেলছি মেয়েমা। বাইরে থেকে বোঝা যায়না, কিন্তু অনুভূতিতে সেটা অনুভব করা যায় ঠিকই।

Tuesday, 28 March 2017

আমি ভীষণ লড়াই করছি আমার কেরিয়ারে, অনেক ছোট হয়ে অনেক বড় জায়গায় ওঠার লড়াই করছি। তোমাকে বলতে গিয়েও থেমে যাই, বলা হয়না। এখন এই লড়াইটা চালিয়ে যাওয়াই আমার স্বপ্ন। আমাকে একটু ভালবেসো মেয়েমা।

Sunday, 26 March 2017

দেশ কখনো স্বাধীন হয়না,
একটা রাজত্বের অবসান হলে দেশ মুক্ত হয় আবারও নতুন করে পরাধীন হতে,
যতদিন রাজত্ব চলবে, শাসন চলবে, দেশও পরাধীন থাকবে ততদিন,
যতদিন রাজনীতি থাকবে, দেশও ধর্ষিতা হবে ততদিন।

- সৌম্যজিৎ। 

Saturday, 25 March 2017

২০০৬ থেকে শুরু করে ২০১১ এর বিধানসভার আগে পর্যন্ত যেসমস্ত প্রেক্ষাপট তৈরী হয়ে ছিল তা তৎকালীন বিরোধীগোষ্ঠী তৃণমূলের জন্য একেবারে আদর্শ ছিল। মমতা ব্যানার্জি তখন যেন এক অগ্নিমূর্তি। সামনে যে আসবে ভস্ম হয়ে যাবে। ভোটের প্রচারগুলোতে যে ভাবে মাইক হাতে গলা ফাটিয়েছে, তাতে বাম সরকার শুধু বিদ্রুপ আর কটাক্ষ ছাড়া কিছুই করতে পারেনি। এর বাইরে একাধিকবার নিজে শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছে মমতা, ঘাড় ধাক্কা খেয়েছে পুলিশের কাছে, গুলি খেয়েছে, অনশন করেছে এই সবকিছু মিলে মানুষের মনে গেঁথে গেছিল পুরো। সে যা বলতো, যা করতো মানুষের সমর্থন  পেয়ে যেত।   আমাদের মতো কিছু সমর্থক আগেই ছিল, বাকিদের পুরো সম্মোহিত করে ফেলল।  চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি অন্যায় হচ্ছে, মানুষ খুন হচ্ছে, বেকার সংখ্যা বাড়ছে, গুন্ডামি বাড়ছে, কালোবাজারি রমরমিয়ে চলছে, প্রকাশ্যে ইভটিজিং ঘটলে সেগুলো দামাল ছেলেদের দুস্টুমি বলে গণ্য করা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো যোগ্য বিরোধী নেই। কংগ্রেস একটা কালসাপ, বাম সরকার তো রাম রাম, বিজেপির আদর্শ দেশদ্রোহিতা। এসব নিয়ে কে দাঁড়াবে তৃণমূলের সামনে! কে প্রতিবাদ করবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সাধারণ মানুষ এসব অন্যায়তে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন তবে নতুন কাউকে দরকার যে সততা, নিষ্ঠা আর শক্ত কাঁধ নিয়ে সব পাশা উল্টে দিতে পারে। আমাদের শক্তি আছে, রাজনীতিতে ইচ্ছা নেই।

Friday, 24 March 2017

যদিনা পাশে কেউ থাকে,
আমার হাত ধরো,
যদিনা কেউ ভালবাসে,
আমায় ভালবেসো,
থাকবো তোমার সাথে,
কষ্ট আড়াল করে,
ছুঁতে দেবো না তোমায়, ওই কষ্টের আঁচ।

- শরৎ।
নিজেকে এক ব্যর্থ প্রেমিক মনে হচ্ছে। ভালোবাসাকে বুঝতে পারছিনা ঠিকভাবে। আমি বড়, তাই বোঝার দায়িত্বটা আমারই, আবার ভুল বোঝাবুঝি হলে সেটা ঠিক আমাকেই করতে হবে। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিনা ভুলটা কোথায় হচ্ছে! না আমি কিছু ভুল করছি, না ভালোবাসা কোনো ভুল করছে বলে আমার মনে হয়। তারপরও একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে। অভিমান জমছে দুজনেরই মনে। এটা ঠিক হওয়া দরকার। আমি সবসময় ভালোবাসাকে একটা কথা বলি, যদি আমি কোনো ভুল করছি বলে তোমার মনে হয়, আমাকে সেটা বলো, আমি ভুল বুঝতে পারলে নিশ্চয় ঠিক করে নেবো সেটা। ঠিক তেমনই যদি তুমি কিছু ভুল বুঝছো বলে আমার মনে হয়, সেটা আমি তোমায় বলে দেবো। ভুলটা ধরিয়ে দেওয়া তো অন্যায় নয়, আর ভুলটা ধরিয়ে দিলে অহংকারে আঘাত লাগারও কোনো প্রশ্ন আসেনা। বরং এটাকে স্বাভাবিকভাবে নিলে একটা সম্পর্ক  অনেক বেশি সুস্থ হয়। আমাদের ভালবাসা যে শুধু আমাদের জন্য এমনটা তো নয়, এই ভালবাসার সাথে অনেক মানুষ জড়িয়ে আছে। পরবর্তীকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হতেই পারে, সেখানে আমরা যদি একটু একে অপরকে বুঝে পাশে থাকি, তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজেই হয়ে যাবে।
প্রত্যাবর্তন।
উৎসর্গ - মেয়েমাকে।
সৌম্যজিৎ। 


আজ আবার বহুদিন পর তোমায় দেখেছি,
কোনো এক অনুষ্ঠান সমাবর্তন চত্বরে একটা ঘরে -
একাকী তুমি বসেছিলে,
মুখ্য অতিথি হয়ে এসেছিলে।
বাংলায় তোমার প্রত্যাবর্তন হয়েছিল,
মাত্র একদিনের জন্য তুমি ফিরেছিলে বাংলায়,
আমিও গেছিলাম সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে,
হঠাৎ শুনি তুমি এসেছ,
আমি অস্থির হয়ে উঠি তোমায় দেখতে, একটিবার ছুঁতে,
তোমায় জড়িয়ে ধরতে।
মুখ থেকে হাসি আর চোখ ফুটে জল এসেগেছিল -
যখন তোমায় দেখি।
কাছে গিয়ে পিছনে দাঁড়াই,
তোমার গায়ের পারফিউমের গন্ধটা নাকে আসছিল,
অস্ফুট ভাঙা আওয়াজে তোমায় মেয়েমা ডাকি,
তুমি যখন ফিরে তাকালে আমার দিকে,
মনেহল প্রবল দুশ্চিন্তার মধ্যেও আমায় দেখতে পেয়ে -
নিশ্চিন্ত লাগছে তোমাকে।

আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইছি মেয়েমা বলে,
"আমার মেয়েমা" বলে তোমার মাথায়, গালে ছুঁতে চাইছি, কিন্তু -
আমার শরীর যেন স্থির হয়ে গেছে শক্ত কাঠের মতো,
আমি নড়তে পারছিনা, সরতে পারছিনা,
তোমায় ধরতে পারছিনা,
শুধু প্রাণ ঠিকরে ভালবাসা বেরিয়ে আসছে তা -
উপলব্ধি করতে পারছি।

তোমার গলা থেকে বেরিয়ে আসা মৃদু, শান্ত আওয়াজে
আমি শরীরে চেতনা ফিরে পেলাম,
তোমার হাতে হাত রেখে আবারও বললাম "মেয়েমা,"
তোমার চোখে চোখ রেখে প্রাণ ভরে দেখতে থাকলাম।
কত শান্তি তোমার ওই দুই চোখে মেয়েমা!
আমি যেন সমাজ থেকে বহুদূরে হিমালয়ে বসে থাকা
কোনো এক ধ্যানমগ্ন যোগীর সামনে বসে,
চির শান্তি উপলব্ধি করছি।

মুহূর্তে মনে হল - এ কেমন ফেরা!
মাত্র এক দিনের জন্য ফেরা, তাও একলা একটা ঘরে বসে,
যে ফেরা হওয়া উচিৎ ছিল রাজকীয় ঢঙে,
সে ফেরা আজ এতো স্তব্ধতায়!
না।  এ ফেরা তবে সম্মানের নয়,
এ ফেরা তীব্র অসম্মানের,
আমার শরীর মনে তীব্র কাঁটা দিতে থাকে,
আমি ছুটে যাই অনুষ্ঠান কর্মকর্তাদের সভাস্থলে,
বলি আজ বাংলা তনয়ার প্রত্যাবর্তন হয়েছে,
এই প্রত্যাবর্তন এত ধীরস্থির!
লোক জানবে না, জন জানবে না, এই প্রত্যাবর্তন এভাবেই মিশে যাবে!
এই প্রত্যাবর্তনকে সম্মানের সাথে স্মরণীয় করতে হবে।
ওরা অবাক ও ভীত চোখে একে অপরের দৃষ্টি বিনিময় করে,
আমি বলেই আবার তোমার কাছে চলে আসি।
তোমার হাতদুটো ধরে আবারও ডাকি "মেয়েমা।"
তুমি স্নেহের দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকালে,
তোমায় বললাম, "আজ তুমি জনসমক্ষে আসবে,
তোমার কথা, তোমার আবেগ তুলে ধরবে,
তোমার ভালবাসা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেবে।"


তোমাকে নিয়ে আসলাম মঞ্চে,
এ কোণ, সে কোণ ঠাসা আমজনতার সামনে
বঙ্গতনয়া এসে দাঁড়িয়েছে,
বঙ্গতনয়ার চোখ, মুখ থেকে
স্নেহ, ভালবাসা ঠিকরে বেরোচ্ছে।
এইতো সেই বাংলা,
এই তো সেই কলকাতা,
এই তো সেই সব প্রেম, সব ভালবাসা জুড়ে থাকা
আবেগের কলকাতা!
তোমার মুখ ফুটে কবিতার বাণী আছড়ে পড়ে,
এদিকে মাতোয়ারা মানুষের ভিড়ে
সম্মোহিত, গোঁড়া মাঝবয়সী কিছু লোকেরা আবারও
তাদের অশিক্ষার রূপ তুলে ধরে।
এবার আবার মুখ্যমন্ত্রীর পালা,
তোমায় পুলিশ দিয়ে আবারও অসম্মান করে
ঘাড় ধাক্কা দিয়ে রাজ্যের বাইরে বার করে দেবে,
চারিদিকে কার্ফু জারি করে দিল,
রাজ্যের হাজার হাজার পোষা পুলিশকে
চেন খুলে ছেড়েদিল এক তোমাকে খুঁজে বার করতে।


এবার তোমার সাথে আমি,
এই সৌম্য ছিল,
সৌম্য তোমার গায়ে আর অসম্মানের আঁচড় লাগতে দেবেনা।
আজ সৌম্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তোমাকে নিয়ে জঙ্গল পেরিয়ে ছুটতে লাগলাম,
সামনের রাস্তা পেরোলেই স্টেশন,
তোমায় দিল্লি পৌঁছতেই হবে।
সামনের রাস্তায় উঠতেই চারিদিক থেকে
পুলিশের বন্দুকগুলো গর্জন করে ওঠে,
আমি তোমাকে ঘিরে ধরে রাস্তার মাটিতে চেপে ধরি,
গুলিতে গুলিতে ঝাঁজরা হতে থাকে আমার পিঠ,
গর্জন থেমে গেলে তোমাকে নিয়ে দৌঁড়ে
রাস্তা পেরিয়ে চলন্ত ট্রেনের পিছনে এক কামরায় উঠতেই,
ট্রেন প্রবল বেগে স্টেশন ছেড়েদিল,
আর কোনো ভয় নেই,
আর ওই মুখ্যমন্ত্রীর পোষা পুলিশেরা
তোমায় ছুঁতে পারবে না,
আর তোমার কোনো অসম্মান হবেনা।

পিঠে গুলিবিদ্ধ আমি
ক্লান্ত হয়ে তোমার কোলে শুয়ে পড়ি,
আবারও অস্ফুট উচ্চারণে বলি "মেয়েমা।"
তোমার চোখ দিয়ে জলের ফোটা আমার মুখে এসে পড়ে,
কি শান্তি সেই ফোটায়!
আর কোনো যন্ত্রনা নেই,
শব্দগুলো আস্তে আস্তে স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে,
তোমার কোলে মাথা রেখে,
একদৃষ্টে তোমার মুখে তাকিয়ে আছি আমি,
আজ আমি মুক্ত ..

Thursday, 23 March 2017


নাট্যমঞ্চ। 


মুখ্যমন্ত্রী দিলেন পুলিশে হাঁক রিপোর্ট তলব করতে,
গৈরিকীকরণ চলবে না আর মানব প্রেমের রাজ্যে,
শ্রীজাতর জন্য নেত্রীর আশ্বাস, প্রশাসনও আজ পাশে,
হুমকি, ধমকি লেখককে কেন! আজ প্রশ্ন দিদির মুখে।
সুযোগ খোঁজে সম্প্রদায় উস্কানিকে মন্ত্র দিতে,
রাজনীতিও লড়াই বাঁধে নতুন করে সামনে আসতে,
মানুষের মনে চাঞ্চল্যতা রাজনীতির বড় দাও,
ডান বামের আজ মানবিকতা চতুর্বেদে লক্ষ্যভেদ।
সেদিনও তো সেই এক লেখিকা সত্য বলেছিল,
সেদিনও তো সেই এক লেখিকাকে সমাজ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল,
সেদিনও তো রাজনীতি রাস্তায় দাঙ্গা করেছিল লেখিকাকে বের করে দিতে,
সেদিন তো তোমরা সামনে আসনি মানবিকতা নিয়ে!
কই সেদিন যখন লেখিকার সিরিয়াল এপিসোডের শুটিং বন্ধ করে দিলে,
তখন কোথায় ছিল তোমার মানবিকতা মুখ্যমন্ত্রী দিদি!
আজ তোমরা যে যার মতো চেঁচাও লেখকের প্রতি অবিচার হতে দেব না বলে,
শ্রীজাতর এক সম্প্রদায়বিরোধী লেখাতে আরেক সম্প্রদায় প্রশ্রয় পেল বলে!
তোমরা সবাই সুবিধেভোগী,
যে যার মতো স্বার্থ চেনো,
সমাজ এক নাটকমঞ্চ, তোমরাই করো নাটক,
তোমরাই লেখো প্রেক্ষাপট,
মাতে ওরা সাধারনেরা, নিজেদের ছিঁড়ে কুটে খেতে।


- সৌম্যজিৎ।

Wednesday, 22 March 2017

আমি ভীষণই শান্ত স্বভাবের, ধীরে ধীরে ভাবি। আমি এক যোদ্ধার থেকে শিক্ষা পেয়েছি, তাঁর আদর্শে বেড়ে উঠেছি, আর এক সহযোদ্ধাকে পেয়েছি যে আমাকে লক্ষ্যপথে অটল করে রেখেছে। মানুষ চিনতে আমি ভুল করিনি।

Monday, 20 March 2017

আমি প্রেমেরই বরষায় মজেছি আজ
ভালোবাসায় সুখ চিনেছি,
আমি হঠাৎই হাওয়ায় নেচেছি মাঠে
প্রেমেরই মাঝে দুলেছি,
আকাশবুকে কালো মেঘে জমা ব্যাথা
আমি ভুলেছি,
শুধু তোমায় ভালোবেসেছি।


আমার আঙিনায় আজ সবুজে সবুজে
পাতারা করে খেলা,
ফুলেরাও হাসে লাল, হলুদ, সাদা রঙে,
দোলে হৃদয় খোলা,
মাটি ভেজা গন্ধ বাতাস জুড়ে
শীতল স্পর্শে প্রেম দিয়ে যায়,
আমি ছুঁই তোমাকে মনেরই আড়ালে
ভালোবেসে ভালোবাসায়।

- সৌম্যজিৎ।

Sunday, 19 March 2017

এক ভয়ঙ্কর সুন্দরী মেয়ে, মেঘা মুখার্জী ডাক্তারী  পড়ছে, মাঝে মাঝে আমাকে মেসেজ করে। "অশান্ত বয়" বলে ডাকে আমাকে। ডাকটা বেশ সুন্দর। মিষ্টি লাগে। সিনেমার নায়িকাদের মতো দেখতে মেয়েটি অনেকটা। ভীষণ সাহসী! নিজেকে নিয়ে একদমই গোঁড়ামির ভয় পায় না। একদিন আমি মেয়েটিকে বলেছিলাম, তুমি তো মডেলিং করতে পারো। মেয়েটি বলে, না ওটা ঠিক আমার পছন্দ নয়। আমি ডাক্তার হয়েই খুশি। আমার তখনই মেয়েটিকে বেশ ভালো লেগেছিল এই একটা কথার জন্য। কারণ এই একটা কথা তার ব্যক্তিত্বের পরিচয় দিয়েছিল আমাকে। আমি চাই  সমস্ত মেয়েই এমন ভয়ডরহীন হোক। কে কি ভাবল, কে কি বলল এসব দিকে পাত্তা না দিয়ে মেয়েটি নিজের ইচ্ছামত চলাফেরা করে, নিজের ইচ্ছামত ছবি পোস্ট করে। মেয়েটি আমার স্বপ্নের লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ভক্ত। তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে একদিন সে তার আবেগের কথা আমাকে জানিয়েছিল। কোনোভাবে হয়ত আমি সেটা মেয়েমাকে জানাতে পেরেছিলাম না।  তাই আজ এই পোস্টটা করলাম, মেয়েমাকে জানাতে এবং সমাজকে আরেক খোলামেলা চিন্তাভাবনার মানুষের দৃষ্টান্ত দেখাতে।

Saturday, 18 March 2017

এই  ভোট প্রথাটাই মানতে খুব অস্বস্তি হয়। যত যাইহোক, মানুষ ভোট দিয়ে সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচন করতে পারেনা রাজনীতিতে। মানুষকে নেতারা যা দেখায়, সেটার ওপর ভিত্তি করে মানুষ ভোট দেয়। মন্ত্রী নির্বাচন করে।  কিন্তু সেই দেখানোর পিছনের গল্প সম্পূর্ণ আলাদা, সেটা মানুষ বোঝেনা।  তাই ভুল ব্যক্তিকেই নির্বাচন করা হয় সবসময়। যদি দেশের জন্য রাজনীতির প্রয়োজন হয়ই, তবে রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্বাচন হওয়া উচিৎ। যেমন দেশের সর্বোচ্চ স্থানে আইএএস, আইপিএস এর জন্য কঠিন রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষা ব্যবস্থা আছে, মেডিক্যাল বা ইঞ্জিনিয়ারিং বা ইউনিভার্সিটি এর অধ্যাপক পদের জন্য, সায়েন্টিস্ট হওয়ার জন্য সবচেয়ে কঠিন সব পরীক্ষা ব্যবস্থা আছে, তেমনই মন্ত্রী নির্বাচনেও কঠিন রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষা প্রথা চালু করা উচিৎ ভারতীয় সংবিধানে। শুধু ভারত কেন, সব দেশেই এটাই করা উচিৎ।  তাতেই যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচন সম্ভব। ট্রেনিং হওয়া উচিৎ। তাতে করে সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন পদে মন্ত্রী নির্বাচন হবে। আমি যেমন ভারতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরীক্ষার স্বপ্ন দেখি, যে শিক্ষা মন্ত্রী নির্বাচিত হবে পরীক্ষা পদ্ধতিতে, কোনো ভোট পদ্ধিতিতে নয়, কারণ ওই পদে যে বসবে সে যেন শিক্ষা ব্যবস্থায় যোগ্য প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।  আর সেটা সম্ভব শুভ চেতনা যুক্ত, উচ্চ শিক্ষিত ও পড়াশোনা ব্যবস্থার ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারা কোনো যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা। ভোট নির্বাচনে যারা আসে, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এইসব পদগুলোকে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যেতে পারেনা। স্যেকুলার হওয়া তো অনেক দূরের কথা।
নিজের মধ্যে এক দ্বন্দ্ব করে চলেছি অবিরাম,
নিজের সাথেই।
ভালবাসার গভীরতাতে এতটাই নিমজ্জিত হয়েছি,
প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছি চেতনার,
অজান্তেই স্বাধীনতা হরণ করছি ভালোবাসার।
আমি যে পুরুষ,
আমি যে পুরুষতান্ত্রিক এক সমাজে অভ্যস্ত হয়েছি তা
টের পাচ্ছি বারেবারে,
অথচ আমি পুরুষতান্ত্রিক সীমারেখা ছিন্ন করে বেরোতে চেয়েছি,
এক মানুষতান্ত্রিক আদর্শকে গায়ে মাখতে চেয়েছি,
তারপরও কেন আমি ভালোবাসার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করে ফেলছি!
এ এক বিস্ময়। আমার নিজের মধ্যেই -
অবিরাম দ্বন্দ্ব করে চলেছে দুটো মানুষ, -
এক পুরুষতান্ত্রিক মানুষ,
উল্টোদিকে আদর্শকে আঁকড়ে ধরতে চাওয়া মানুষতান্ত্রিক মানুষটা।


- সৌম্যজিৎ।

Friday, 17 March 2017

আমি অনেকটা চুপ হয়ে গেছি বেশকিছু দিন ধরে।  অনেকটা শান্ত হয়ে গেছি। অনেককিছুই খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি সাপেক্ষে, প্রতিমুহূর্তে তীব্র সজাগ থাকার পরও যখন সেই খারাপগুলোকে আটকাতে পারছিনা, তখন নিজেকে, নিজের চিন্তাভাবনাগুলোকে স্থির করে ফেললাম আরও। ফেসবুকেও বেশি পোস্ট করিনা আগের মতো। পরিস্থিতি এলোমেলো করার চেষ্টা করছে, এই পরিস্থিতিই আমার এক ভয়ঙ্কর ভাবমূর্তির পরিচয় পাবে আগামী দিনগুলোতে। এই মুহূর্তে আরও স্থির হয়ে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করছিলাম।
এক মুখ, এক চোখ, চেনা গলার স্বর,
চেনা চেহারা,
শুধু চেনা মানুষটাকে খুঁজে পাইনা।
এই তোমাকে তো আমি ভালবাসিনি,
এই তোমাকে আমি কখনো চিনিনি,
আমি সেই তোমাকে ভালবেসেছি যে
শত গম্ভীর মুহূর্তেও বাচ্চাদের মতো করে হেসেছে,
পাগলির মতো করে কথা বলেছে,
আবদার করে ভালোবেছে।
এই তুমি বড্ড হিসেবি,
এই তোমার মধ্যে আমি আমার চেনা সেই বাচ্চা মুখটা খুঁজে পাইনা,
এই তুমি বড্ড গম্ভীর ..
আমি এই তোমাকে কখনো ভালবাসিনি।
শুধু শরীরকে ভালবাসলে সে তো যেকোনো মেয়ের শরীরকেই ভালবাসতে পারি,
সবার মাঝে সেই বাচ্চামি আমি খুঁজে পাবো না, যা
তোমায় দেখে ভালবেসেছিলাম।


 - সৌম্যজিৎ।

Thursday, 16 March 2017

বেঁচে আছি মেয়েমাকে প্রাণ ভরে দেখবো বলে। বেঁচে আছি পৃথিবী দেখবো বলে। বেঁচে আছি স্বাধীনতার অর্থ বুঝবো বলে। বেঁচে আছি প্রেম করবো বলে, বেঁচে আছি ভালবাসতে বেঁচে থাকবো বলে।
"একজাইল" পরিদর্শন।

১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।


একজাইল পড়লাম। বেশ কিছুটা পড়েছিলাম পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে, তারপর লেখিকার আদেশে একজাইল রেখে পরীক্ষার পড়া পড়তে শুরু করি। পরীক্ষা শেষে তাই আবার একজাইল নিয়ে বসে গেলাম। একদম শুরু থেকে। একজাইল সম্পর্কিত কিছু বলি। সবার প্রথমে বলি, একজাইল- লেখিকা তসলিমা নাসরিনের লেখা "নির্বাসন" এর ভাষান্তরিত ইংরাজি সংস্করণ। ভাষান্তরের কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা মহার্ঘ্য চক্রবর্তী মহাশয়ের প্রাপ্য। পেঙ্গুইন পাবলিকেশনকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের হাতে বইটা তুলে দেওয়ার জন্য।

সূচীপত্রে যে দশটি অধ্যায় আছে -

১) ফরবিডেন,
২) অ্যান্ড দেন ওয়ান ডে ...
৩) হাউজ অ্যারেস্ট,
৪) কনভারসেসনস,
৫) ডেথ ওয়েটস পাস্ট দ্যা উইন্ডো,
৬) একজাইল্ড,
৭) ফেয়ারওয়েল, ২২ নভেম্বর ২০০৭,
8) পোয়েমস ফ্রম অ্যা সেফ হাউজ,
৯) একসারপ্টস ফ্রম অ্যা ডায়েরি,
১০) নো, নট হিআর! এলসহয়্যার! ইন অ্যানাদার ল্যান্ড!

সূচনাতে আমরা দেখতে পেয়েছি - একজাইল এর বাংলা মূল বই "নির্বাসন"-এর প্রথম প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ২০১১ সালে কলকাতা বইমেলাতে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে যেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়ে ওঠেনি। লেখিকার উক্তি - "My name had been prohibited in West Bengal, much like how it had been prohibited in Bangladesh so long ago."

লেখিকাকে কিভাবে পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হল,  পশ্চিমবঙ্গ থেকে বহিষ্কার করা হল, তার পরবর্তীকালে কি কি ঘটনা ঘটেছে লেখিকার জীবনে, রাজনীতির খেলা লেখিকার জীবনে কিভাবে অন্ধকারের ছায়া নামিয়ে নিয়ে এসেছিল, "ক" (পশ্চিমবঙ্গে "দ্বিখণ্ডিত") নিয়ে যেসমস্ত সমালোচনা   ঝড় বইয়ে দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে, রাজনীতির মিথ্যাচার, পুরুষতন্ত্রের গোঁড়ামি, লেখক সমাজে লেখিকাকে একঘরে করে দিতে ও প্রচারের আলোতে নিজেদের নাম নিয়ে মাথা চাড়া দিতে লেখিকার বিরুদ্ধে কিভাবে এগিয়ে আসে দুদেশের এক ঝাঁক নামী, অনামী লেখক, লেখিকারা এবং দ্বিখণ্ডিতকে অশ্লীল করতে, লেখিকাকে অশ্লীল করতে ভাষা জ্ঞানের, চেতনার ও শিক্ষার প্রসারের যে শ্লীলতাহানী  করেছিলেন ওই এক ঝাঁক লেখক, লেখিকারা, সেই সমস্তকিছুই অকপটে, প্রকাশ্য চিত্রের মতো তুলে ধরেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

এই বইটা শুধুমাত্র যে জানার কৌতূহলে পড়ার জন্য, তা নয়। সত্য ও বাস্তব ঘটনাগুলো এতটাই অকপট এবং সমাজ চেতনার আদর্শের ক্ষেত্রে সত্যকে জানতে, বাস্তবকে বুঝতে বইটা বিশেষ শিক্ষণীয় ও যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। লেখিকার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে ভাগ করে নেওয়ার জন্য এবং সমাজ বিভীষিকা ও বিশৃঙ্খলতার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য, লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

                                                            
- সৌম্যজিৎ।

Tuesday, 14 March 2017

আদর।
সৌম্যজিৎ।


তুমি দিয়েছো আমায় আদর ঢেলে,
তুমি দিয়েছো আমায় উজাড় করে,
প্রাণে আছে যত জোর আর নেচে ওঠা সুর,
আমি পাই,
আমি পাই তোমার থেকে,
তুমি দিয়েছো আমায় দুহাত ভরে।
তোমার থেকে জীবন শেখা,
তোমার থেকে বাঁচতে শেখা বাঁচার মতো,
তোমার থেকেই লড়তে শিখি,
তোমায় সামনে রেখে,
আমি তোমারই আদর্শকে গায়ে মাখি বারেবারে।
এ জীবন তোমারই,
এ প্রাণ বাঁচে কাঁটা বিছানো পথে তোমাকেই অনুসরণ করে,
আমি শ্বাস নিই তোমার নামেই এক দীর্ঘশ্বাসে,
উচ্চারণে উচ্চারণে প্রাণ ঠেলে বেরোয়
গর্ব করে বলে ওঠা তোমার নাম,
আমি সকাল, দুপুর, বিকেল, রাতে জীবন লিখি,
এক রুদ্ধশ্বাস জীবন,
তোমায় মনে রেখে।

Monday, 13 March 2017

এভাবে এসে মুখে কালি মাখিয়ে যাওয়া যে কতটা অসম্মানের সেটা কট্টরবাদীরা বুঝবে না। ওদের গায়েই গোঁড়ামির বোটকা গন্ধ। যার মুখে মাখানো হয়, সারাজীবন যতদিন বেঁচে থাকবে, ততোদিন তিলেতিলে লোকটাকে এই স্মৃতি শেষ করবে, এবং তাঁর পরিবারকেও একই ভোগান্তি ভুগতে হবে। একটা মানুষ যতোই সে শক্ত মনের মানুষ হোক, এভাবে কালি লাগলে তাঁর শরীরেই শুধু নয়, সত্তাতেও কালি লাগার মতো অপমান বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়। মেনে নেওয়া যায় না।
হঠাৎ করে লেনেভো ল্যাপটপটা চলতে চলতে খারাপ হয়ে গেল। দোকানে দিলাম, বলছে এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। গবেষণার সব কাজ ওই ল্যাপটপে আছে।  অনেকটা পিছিয়ে যাবে কাজ।  ২৫ সে মার্চের মধ্যে গবেষণার কাজ দিল্লিতে পাঠাতে হবে, এখন সব ঘেটে ঘ হয়ে গেল।

Wednesday, 8 March 2017

নারী দিবস নিয়ে চারিদিকে নানারকম পোস্ট দেখছি, যেন নারীকে সম্মান দিতে আজ সব পুরুষ নারায়ণ হয়ে গেছে। এসব দিবস টিবস বলে স্মরণীয় করার কি প্রয়োজন! স্মরণীয় করা হচ্ছে কারণ দিনটা ফুরোলেই আবার সময় পুরুষের হাতে চলে আসবে আর পুরুষ ইচ্ছামতো নারীকে ফ্রেম করে মালা চড়াবে এইজন্য! পুরুষের মধ্যে সহজাত প্রবণতা হল দাদাগিরি। সে হয় এটা বাইরের মানুষদের সাথে করবে, নয়ত বাড়িতে এসে বৌ পিটিয়ে করবে, মেয়ে পিটিয়ে বা বোন পিটিয়ে করবে। দাদাগিরি একটা চিন্তা যেটা এক বিশেষ মুহূর্তে বা সমস্ত মুহূর্তে যখনই মাথায় চেপে বসে, তখন মানুষকে মানসিকভাবে কিছুটা বলশালী করে দেয়। এযাবৎকাল এই দাদাগিরিতে পুরুষই বেশি অধিকার করে রেখেছে। সমপরিমাণ দাদাগিরি যদি নারীও রপ্ত করতে পারে, তবে নারীদিবসের প্রয়োজন হয়না। সবদিনই সমান হয় নারী ও পুরুষের জন্য। বাড়িতে যখন পুরুষ মদ খেয়ে এসে বৌ পেটাতে যায়, তখন নারীর মার খাওয়া উচিৎ নাকি সটান তারও উচিৎ পুরুষকে পিটিয়ে দেওয়া? কারণ অবচেতন ও নেশাগ্রস্ত মস্তিষ্ককে তো ভালো কথা বোঝানো যায়না। রাস্তায় যখন পাঁচজন পুরুষ নারীকে ঘিরে ধরে তখন নারীর কি তাদের হাত, পা ধরে মুক্তি প্রার্থনা করা উচিৎ? নাকি সমান রোয়াপে সেই পুরুষগুলোকে আক্রমণ করা উচিৎ ইতিবাচক ভঙ্গিতে যাতে পুরুষগুলো হয় নিজেদের কৃতকর্মে লজ্জিত হবে অথবা ভয় পাবে? এক পুরুষ হয়ে পুরুষ মস্তিষ্কের একটা কথা আমি বলে দিই। যখন পুরুষ দেখে যে সামনের ঘটনা বিশেষ করে নারীকে নিয়ে তার চিন্তা তার প্রত্যাশার বাইরে বা প্রত্যাশার থেকে অনেকগুন বেশি, তখন সেই পুরুষের চিন্তার মধ্যে একপ্রকার বিশ্বাস - অবিশ্বাসের দ্বিধা চলে। সেই মুহূর্তে হয়ত সে বাইরে থেকে সমান আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখানোর চেষ্টা করলেও, ভিতরে সাহস কিছুটা কমে যায়। অর্থাৎ সে কিছুটা দুর্বল হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে যদি নারী ইতিবাচক থেকে দাদাগিরি করে, তবে সেখানে সেই পুরুষের হার নিশ্চিত। এসব নারীদিবস টিবস করে কি হবে! নারী ও পুরুষের জন্য সবদিনই সমান হয়ে উঠুক। সবাই মুক্ত থাকুক, ভালোবাসায় বাঁচুক। 

Sunday, 5 March 2017

অমর প্রেম করার মতো প্রেম পেয়েছি। পড়াশোনার মধ্যে ডুবে থাকার জন্য অনেক বই পেয়েছি, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য, অনেক বড় লক্ষ্যে পৌঁছনোর জন্য ভালো রেজাল্ট করেছি। সামনে পরীক্ষাগুলো দেওয়ার জন্য যে সব যোগ্যতা লাগে, সেগুলোতেও উত্তীর্ণ হয়েছি। বইতে আমার লেখা প্রকাশিত হতে দেখেছি। অনেক মানুষের কাছথেকে সম্মান, ভালোবাসা পেয়েছি। এতকিছু পাওয়ার পরও মনকে স্থির করতে পারিনি। তৃপ্ত হতে পারিনি। দিনরাত মাথার মধ্যে অশান্তি তৈরি হয় নানা কারণে, পড়তে পড়তে বিরক্ত লেগে যায় অশান্তিগুলোর জন্য, আবারও পড়ার চেষ্টা করি। মনটা বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগে। প্রেম আছে মন ভালো করার জন্য, কিন্তু শুধু প্রেম যথেষ্ট নয়। মুক্তিটা যেন অন্যকিছুতে। প্রেমটাকেও প্রয়োজন ভীষণ। কিন্তু শুধু প্রেমে হবেনা, আমাকে সামনে এগোতে হলে মুক্ত হতে হবে। 

Friday, 3 March 2017

মেয়েমাকে বার্তা।


আমি আশাহত হয়েছি বারেবারে,
আমি আশাহীন হতে পারিনি,
যতদিন আছে জীবন,
আমি লড়বো, আমি লড়বো,
আমি মাথা উঁচিয়ে গড়বো পরিচয়,
প্রতিকূলতাকে হারিয়ে দেবো।
আমি ভেঙে হই খানখান,
আমি মিশে যাই ধুলোমাটিতে,
তবু এ'বাতাসে আমি নেবো শ্বাস,
অস্তিত্বকে মেলে ধরবো,
আমি জিতবো,
আমি জিতবো।

-সৌম্যজিৎ। 
আমার ভালবাসার ভালোবাসা। 
সৌম্যজিৎ। 


এক মহাকাশ ভালবাসা দিতে চেয়েছি,
ভালবেসেছি তোকে সীমাহীন,
হিসেব করিনি তোকে ভালবাসতে,
ভালবেসেছি দ্বিধাহীন।
তোকে দেখেছিলাম সেদিন বর্ষার জল মুখে মাখতে,
জ্বর মাখা শরীরে ছুটে গেছিলিস জানালায়, 
ভালবাসার তীব্র আকর্ষণ আমি খুঁজে পেয়েছিলাম সেদিন,
তোকে আঁকড়ে ভালবাসতে। 
কত পাগলামি ছিল সেই শ্রাবণ প্রেমিকার মুখে!
আমি হেসেছিলাম শ্রাবণের দিকে চেয়ে,
বলেছিলাম আমি কেড়েছি তোমার প্রেম,
এই প্রেমিকাকে আমি কেড়েছি তোমার থেকে। 
তোকে সেদিন দেখেছি লজ্জার বাধ ভাঙতে,
রেস্টুরেন্টে চেয়ারে উঠে গোলাপ হাতে বলেছিলিস "ভালবাসি",
আমি হতবাক চোখে তাকিয়ে ছিলাম,
আশেপাশের মানুষেরাও দেখেছিল সেই প্রেম। 
তোকে নিয়ে কল্পনাতে ভাসি,
তোকে নিয়ে আমি হাতে হাত রেখে পথে হাঁটি,
তোকে নিয়ে রাস্তায়
শ্যামবাজারের মোড়েও সবাইকে চমকিয়ে ভালবাসি। 
সিনেমা হলের আলোতেও চুমু খাই অনর্গল,
জড়িয়ে ধরে রাখি,
হিজড়ে মাসিদের সাথে মজা করতে করতেও
আমি তোকে চেপে ধরে রাখি।
ভালবাসি শুধু ভালবাসতেই,
তোর প্রতি কোনো শর্ত নেই,
তুইও তো ভালবেসেছিস আমাকে শর্তহীন, দ্বিধাহীন,
আমায় মুক্ত করেছিস। 
তোর উপহার যত বই, পাণ্ডুলিপি,
আর ওই ড্রিমক্যাচার আমাকে ছুঁয়ে রাখে সারাদিন- রাত,
চেয়ে দেখি বারেবারে,
যেদিকে তাকাই ঘরে,
সেদিকেই খুঁজে পাই তোর ভালবাসা ছুঁয়ে আছে আমায়। 
একদিন যখন আমি ভালবাসার তীব্র ভালবাসাহীনতায় 
দিশাহীন হয়ে পড়েছিলাম,
একদিন যখন সময় হয়ে উঠেছিল দুঃসহ লম্বা লম্বা রাত,
একদিন যখন এদিক ওদিক হাতড়ে বেড়িয়েও তৃপ্ত হতে পারিনি,
অনেক মানুষের চোখে হয়ে উঠেছিলাম এক ভরসাহীন মানুষ,
সেদিন তুই ভরসা করেছিলিস এক তীব্র বিশ্বাস নিয়ে, 
ঠিক যেন লৌহদণ্ডের মতো শক্ত এক বিশ্বাস,
আমি ডুবতে ডুবতে পেয়েছিলাম তোর হাত 
নদীর কিনারায় উঠতে।
আমি যেন এমনই তোর প্রেমিক হয়ে বাঁচি, -
যতদিন বাঁচি,
আমি যেন তোকে ছুঁয়ে বাঁচি আজীবন -
তোর প্রেমিক হয়েই; থাকবো
এক শর্তহীন ভালবাসার অভিলাষে।