Saturday, 25 August 2018

হয়ত আমি তোমায় ভীষণ বিরক্ত করেছি,
কিন্তু আমি তোমায় ততোটাই ভালোবেসেছি,
হয়ত অনেকে তোমায় অনেক বেশি ভালোবাসে,
আমি তোমায় আমার সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছি,
এ ভালোবাসা তুমি আর পাবে না কোথাও ..

তোমায় ভালোবাসার আগে আমি বুঝেছি হাজারও লাঞ্ছনা, অপমান,
কোটি কোটি অশ্লীলতা তোমায় সহ্য করতে হয়েছে,
তোমায় ভালোবেসে আমি অনুভব করেছি কতোটা
ভাষা প্রেমের ভালোবাসা থেকে তুমি বঞ্চিত হয়েছ,
আমি অনুভব করেছি ওরা যারা সেদিন তোমায় নির্বাসনে পাঠিয়েছিল -
ওই মুখ্যমন্ত্রী - ওই পুলিশ,
ওরা কেউ মানুষ ছিল না, ছিল শুধু রাজনৈতিক শাসক ও রাজনৈতিক দালাল,
ওরা ছিল দেশদ্রোহী,
আমি অনুভব করেছি যে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার শিলমোহর এঁকে দিয়েছিল তোমার নির্বাসনে,
তোমার বইতে, তোমার শিল্পে,
ওরও নেই কোনো মনুষ্যত্ব,
শিলমোহরের কালি শুধু তোমার নির্বাসনেই আঁকেনি,
শিলমোহর শুধু তোমার বইতেই ছাপে নি,
শিলমোহরের কলঙ্ক এঁকে দিয়েছিল আমার দেশের মানচিত্রে সেদিন,
সে মানুষ নয়, সে দেশদ্রোহী ..


মানুষ তো আমি তোমায় দেখেছিলাম,
তোমার ভাষা, তোমার ভালোবাসাকে আমার গায়ে মেখেছিলাম,
তুমি কেন আমায় নির্বাসন দণ্ড দিলে!
এ নির্বাসন কি আমার ভীষণ প্রাপ্য ছিল!

- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 13 July 2018


ভালো আছো লেখক!
তোমার ছাত্র - সৌম্যজিৎ।

কেমন আছ তুমি,
তোমার কথা রোজ ভাবি, কল্পনাতেই আঁকি নানান ছবি!
ইচ্ছেগুলো পাড়ি দিতে চায় আকাশমেঘে,
তোমার আদর্শকে রূপ দিতে চায় হাজারও, লাখো জনমানসে,
ততোক্ষণে আমি হয়ত হয়ে যাই তুমি, -
যেন তুমিটাই আমি!
আমার ভীষণ জানতে ইচ্ছা করে তুমি কেমন আছ,
কেমন করে বাঁচো!
একা থাকো তো!
দুশ্চিন্তা হয় কলকাতার বুকে এক কোণে পড়ে থাকা এই মানুষটির বুকে,
মাথায়,
রোজ দিন ভয় হয়,
"হয়ত সারাদিন এ-জায়গায়, সে-জায়গায় মিটিং করে, কনফারেন্স করে ঘরে ফিরলে,
দরজাটা বন্ধ করে দিলে,
বন্ধ ঘরে তোমার শরীরটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেলো!
হয়ত তুমি কাওকে ডাকতে পারলে না!
হয়ত কাওকে একটি ফোন কলও করতে পারলে না!
সিকিউরিটিগুলো তো তোমার দরজার বাইরে থাকে,
হয়ত ওরা জানতেই পারলো না ভিতরে তোমার শরীর খারাপ হয়েছে!"
এসব ভেবেই ভীষণ ভয় হয় আমার!
সেবার যেবার তুমি হাসপাতালে ভর্তি হলে,
আমি এদিক ওদিক হাতড়েও তোমার একটুকু খোঁজ পাচ্ছিলাম না কোথাও!
ভীষণ অসহায় হয়ে উঠেছিলাম।
চারিদিকে সবাইকে জিজ্ঞাসা করেও তোমার সঠিক কোনো খবর আমি পাই নি,
ইয়াসমিন দিদিমণিকে জিজ্ঞাসা করতেই সে তো আরও ভয় ধরিয়ে দেয়!
উত্তরে শুধু বলে, "তোমার মেয়েমা একটুও ভালো নেই দাদামণি, ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।"
আমি অস্থির হয়ে উঠি।
ছটপট করি মনের মধ্যে!
ইচ্ছা হয় একছুটে তোমার কাছে চলে যাই!
উপায় পাই না।
ইচ্ছা তো আমাদের অনেককিছুই হয়,
আমরা সবকিছু করতে পারি না।

মনে আছে সেবার যখন দেশে নোট বদলির পালা চলছে,
মানুষ এটিএমের সামনে, ব্যাঙ্কের সামনে সকাল, দুপুর কাঠফাটা রোদে
পশুর মতো দাঁড়িয়ে আছে!
তোমায় দেখলাম ক্লান্ত শরীর, ক্লান্ত মনে মুখে মাস্ক লাগিয়ে পার্কে বসে পড়েছ।
আমি অসহায় হয়ে উঠেছিলাম তোমায় ওভাবে বসে থাকতে দেখে!
কেন আমি নেই তোমার কাছে!
কেন নেই মেয়েমা!


মনে পড়ে আমার সেদিনের কথা,
যেদিন তুমি এয়ারপোর্টে ব্যাগ, ল্যাপটপ সব হারালে,
কতো অসহায় না হয়েছিলে তখন এদিক ওদিক ছুটতে ছুটতে!
অথচ কিছুক্ষণ আগেই আমায় মেসেজ করেছিলে,
কতো প্রশান্তি ছিল তোমার মেসেজে!
ল্যাপটপ হারিয়ে, - হারিয়ে ফেলেছিলে কতো কতো অপ্রকাশিত ম্যানুস্ক্রিপ্ট!
আমাদের কতো মহা মূল্যবান সম্পদ সেসব!
কতো কতো আদর্শলেখা লিপিবদ্ধ ছিল ওই ল্যাপটপে!
কতো কতো অসহায়তা, কতো কতো বিপ্লব,
কতো কতো উন্নতি, প্রগতির চিন্তা তুমি লিখে রেখেছিলে ওই ল্যাপটপটিতে!
আমরা বঞ্চিতই থেকে গেলাম সেসব থেকে!
বঞ্চিত থেকে গেলাম তোমার জীবনের চিন্তাভাবনার একটি দিক থেকে!
যদি পারতাম তোমার সাথে সবসময় ছায়ার মতো লেগে থাকতে!
যদি পারতাম!
তাহলে হয়ত বঞ্চিত হতাম না কেউ আমরা!

কল্পনাতে তোমায় কতো কতো অনুভব করেছি, উপলব্ধি করেছি,
সে'সবের বেহিসেবি হিসেব নাহয় অপ্রকাশিতই থাক মেয়েমা!
ওই যে তোমার পড়ার টেবিল, চেয়ার,
যেখানে বসে তুমি রাতের পর রাত জেগে,
পাতার পর পাতা ভর্তি করে তৈরি করো ন্যায়ের তহবিল!
আমি পর্দার আড়ালে থেকে তোমায় লক্ষ্য করি সবটা,
আমি দেখি তোমার লেখার প্রতি, চিন্তার প্রতি তীব্র একনিষ্ঠতা,
অটোপ্সি ছুরির মতন ধারালো চিন্তা দিয়ে তুমি ফালাফালা করো এই সমাজের -
অনৈতিক কোষপর্দা, ফালা ফালা করে তুমি লিখে দাও পোস্টমর্টেম বিশ্লেষণ,
অন্ধকারকে ছিন্ন করে এনে দাও আলোর খোঁজ,
আমি সবটা লক্ষ্য করি।
একমনে তুমি ভেবে চলো, লিখে চলো পাতার পর পাতা,
সোফার ওপর বা কখনো খাটের বিছানায় বালিশে হেলান দিয়ে কোলের ওপর ল্যাপটপ রেখে,
চোখে চশমা, আমি সবটা লক্ষ্য করি তোমায় ..
তোমার তখন খেয়াল থাকে না এদিক সেদিকে,
শুধু মিনুটা এসে কখনো খেলা করলে, জ্বালালে, ওকেও বুকের ওপর তুলে নিয়ে লিখে চলো।

আমি এভাবেই লক্ষ্য করি তোমায়, শুধু জিজ্ঞাসার চোখে চেয়ে থাকি -
"তুমি কেমন আছ!"




আমিও পাতার পর পাতা ভর্তি করে সেসব লিখে রাখি,
কেমন করে তোমায় দেখি,
কেমন করে তোমায় অনুভব করি!
এবার আবারও জমা করছি আমার লেখা,
"উৎসর্গ - নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনকে" পাণ্ডুলিপিটি।
যদি প্রকাশ পায়!
আমি নিজে হাতে বইটি ছুঁয়ে দেবো তোমার পায়ে,
তোমায় জড়িয়ে ধরে একটু হাসবো তখন,
একটুখানি কাঁদবো!

Monday, 2 July 2018

চল - স্বপ্নকে পূর্ণ করে আসি।
শরৎ (সৌম্যজিৎ)।

স্বপ্নগুলো এখনো বাকি রয়ে গেছে,
পূর্ণতা চায় ওরা, 
পূর্ণ হতে চায়।
স্বপ্ন পূরণের দায় কেবল তোরই আছে,
অভিমানকে জানা বিদায়।
চল ফের হাঁটি একসাথে ওই পথে -
যেথায় হারাতাম ছাতিম তলার মাঠে!
পুরোনো ক্যাথেড্রাল হাতছানি দেয়,
ফের মন ফিরে যেতে চায় ওই প্রাতে।
চল ঘুরে ফিরে বেড়াই নন্দন চত্বরে,
একসাথে হাতে হাত ধরে,
হিজড়ে মাসি'রা ফের আসুক পথে,
মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে।
চল ফিরে যাই ওই - ওই প্রিন্সেপ ঘাটে,
ফের চমকাই রেস্তোরাঁতে বসা মানুষগুলোকে,
চল আবার তুই চেয়ারে উঠে দাঁড়িয়ে বলবি,
"ভালোবাসি যে!"
চল ওই শ্যামবাজার মেট্রো ষ্টেশনে,
আমার হাতে রঙ ছুঁয়ে দিবি,
আঙুলের ছাপ নিয়ে রাখবি তোর গোছান শিল্পভাণ্ডারে।

চল যাই, পূর্ণ হয়ে আসি আইফেল টাওয়ারের নিচে,
সন্ধ্যা বেলায় ল্যাম্পপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে আলো আবছায়ায়,
তোকে বলবো "ভালোবাসি।"
স্বপ্ন দেখেছিলাম,
চল স্বপ্নকে পূর্ণ করে আসি।

Saturday, 30 June 2018

ওরা দুজনেই রক্তমাংসের চামড়া দেখত একে অপরের, প্রায় রাতেই,
ওরা দুজনই চোখের দৃষ্টিতে শুষে খেত একে অপরকে,
কাছে আসতে চাইত দুজনেই রোজ, মোবাইল ক্যামেরা ভেদ করে,
ভিডিও কলেই জগত গড়েছিল শরীরী প্রেমে,
মাংসের গন্ধ আটকাতে পারে নি মন,
বিচ্ছেদে মিশেছে দুটো শরীরই,
একজন দিয়ে গেলো দাগ 'অপ্রেমিক'এর, তারই ধ্রুবতারাকে,
অপরজন পান করলো সমস্ত রাগ মৌনতায়, এড়িয়ে গিয়ে।

- সৌম্যজিৎ।

Thursday, 28 June 2018

ফাগুন পূর্ণিমায় মাধবীলতা।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ  - অপ্রকাশিত শীতল ভালোবাসার আশ্বাসকে।

বারেবারে আমি হারিয়েছি পথ,
হারিয়েছি প্রেমের বসন্ত,
বারেবারে আমি হারিয়েও প্রেম,
প্রেমেই হতে চেয়েছি মত্ত।
মরীচিকার পিছনে ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত যখন হৃদয়,
ক্লান্ত মন, ক্লান্ত প্রেম,
তবু মন না হারায় ভালোবাসায়!
শেষে এসে যখন ডুবল সূর্য,
আঁধার এলো প্রান্তে,
তারারা এল ঝিকিমিকি আলোয়
পূর্ণিমা এলো চন্দ্রে!
চেয়ে দেখি
সমুখে দাঁড়িয়ে মাধবীলতা
মধুবনে সুহাস ছড়িয়ে,
চেয়ে আছে প্রেমে
আমারই দিকে,
বুঝি ফাগুন এলো মনে!


ফাগুন বাতাস আজ করেছে শান্ত,
পূর্ণিমা চাঁদ আর স্নিগ্ধ আলোয় ভরেছে মাঠ প্রান্ত,
ভালোবাসারা ওই ছড়িয়ে মাটিতে, বাতাসে,
ভালোবাসাতে মত্ত!

Sunday, 24 June 2018

এই পথ যদি না শেষ হয়!
জেনো মা -
আমি ফিরবো না আর তোমার আঙিনায়,
জেনো আমি হারিয়ে যাবো অন্ধকার কালোয়,
একটু আলোর খোঁজে ..

আমার একটি স্বপ্ন
আজও আছে সুপ্ত মনের কোণে,
একদিন পাই যদি খোলা আকাশ,
আমি উড়ে যাবো এই খাঁচাখানি ভেঙে।

বাইরে ওরা সবাই
রোজদিন বেঁচে থাকে নির্মম বাস্তবকে নিয়ে,
আমি প্রতীক্ষায়,
একদিন ঠিক যাবো চলে ওদের কাছে
পিছুটান হারিয়ে ..

আমার একটি স্বপ্ন
আজও আছে সুপ্ত মনের কোণে ..

নাইবা আসুক প্রেম,
ভালোবাসা,
নাইবা পেলাম ভালোবাসা আর আশা,
আমি হারিয়ে যাবো ঠিক
প্রেমের অরণ্যের কালোয়,
ওদের ভালোবাসায় খুঁজে নেবো নতুন সূর্য,
নতুন প্রেমের ভাষা ..

ওই দেখি ওরা বৃষ্টিতে ভেজে রোজ,
মাথায় নাই ছাদ - গায়ে পর্যাপ্ত কাপড়,
ওই ওরা শীতে কাঁপে ঠকঠক করে,
দাঁতে দাঁত চেপে অনাহারে,
আমি যাবো চলে ওদের কাছে একদিন, -
যেদিন উড়বো আকাশ সীমানায়
সোনার খাঁচা ভেঙে ..

তুমি অপেক্ষা কোরো,
একদিন কোনোদিন আমি ফিরবো তোমার সমুখে,
তেজস্বী আলোর ঝলকানি নিয়ে চোখে - মুখে,
জীবন তুলে আনবো তোমার জন্য,
তোমায় জীবন উপহার দিতে ..

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 22 June 2018

আশকারা দিচ্ছ!
প্রশ্রয় দিচ্ছ!
সিগারেটের ধোঁয়াকারে নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে নাম এঁকে বেড়াবে যদি নষ্ট হতে চাও,
যদি নষ্ট হতে চাও,
"কাব্য .."

- অগ্নি গহ্বরে  তলিয়ে যাওয়া লেখক।

Monday, 18 June 2018

লুতুপুতু আবেগ বর্জন না করলে
মৃত্যু অনিবার্য।
আর প্রেম নয়,
প্রেম প্রেম খেলাই এখন লক্ষ্য,
শিরোধার্য।

Friday, 15 June 2018

ভালোবাসার কাঙাল, তোমায় ভালোবাসার মানুষ নেই। পড়াশোনা করো। নিজেকে ভালোবাসো।

Wednesday, 13 June 2018

"কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা,
মনে মনে .."

দিদি, মনে আছে একদিন তোমায় বলেছিলাম, "আমি তোমার কাছে গেলে, আমায় কাছে টেনে নেবে একটু! একটুখানি ভালোবেসে দেবে!"

তোমার উদার মন। ভালোবাসাতে কখনো দ্বিধা করো নি। আমি যাওয়ার পর, দূর থেকে যখনই আমায় দেখেছ, হাত নেড়ে কাছে ডেকে, কাছে টেনে আদর করে দিয়েছিলে। মুহূর্তটি আমার কাছে ভীষণ আবেগের ছিল। আমি মানুষটা মানেই একরাশ আবেগ। চলতে চলতে যখন ক্লান্ত হয়ে উঠি, যখন সবদিক বিচ্ছিন্ন মনে হয় আমার থেকে, যখন মানুষের প্রেমকে ক্রমশ অপ্রেমে রূপান্তরিত হতে দেখি, একা হয়ে যাই! তখন আমার তোমাকে ভীষণ প্রয়োজন হয়।

পরীক্ষাগুলো আজকাল আমার ভীষণ পরীক্ষা নিচ্ছে। স্নায়ু'চাপ সামলানোর তীব্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, প্রাণ শুকিয়ে, গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে, ঠাণ্ডা ঘরেও মাথা ঘামছে, নিজের বুকে বেজে চলা স্পন্দন যেন কানের কাছে এসে অস্তিত্বের জানান দিয়ে যাচ্ছে, চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে। এমন মুহূর্তে আমার তোমায় ভীষণ প্রয়োজন। ঠিক যতটা প্রয়োজন কখনো আমার ও'কে মনে হতো, তেমনই প্রয়োজন আজ তোমায় মনে হল।

সব মানুষই কোথাও না কোথাও মনের আশ্রয় খোঁজে। ব্যাপারটি এমন যেন, সেটিই একমাত্র নিশ্চিন্তের আশ্রয়! যেখানে কোনো কষ্ট নেই, কোনো চাপ নেই, কোনো ভয় নেই, যেখানে গেলে ঠিক যেন বাচ্চাটি হয়ে যাওয়া যায়, যেখানে গিয়ে আবদার করে সমস্ত কষ্টকে ভাগ করে নিয়ে শান্তির শীতল ছোঁয়া খুঁজে পাওয়া যায়, সেই আশ্রয় তুমি - তুমিই দিদি। দিদি শব্দটি যখন আমি মনে মনে উচ্চারণ করি, মনে মনেই অনেক দূরে চলে যাই! হয়ে যাই সেই বছর পনের'র - সেই ছোট্ট শান্তটি, দুষ্টুমি করে বাড়ির সবার ভয়ে লুকিয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ধরা পড়লেই আর রক্ষা নেই। দরজার পিছনে, ছাদের চিলেকোঠায় চুপ করে থেকে, কিংবা খাটের তলায় চুপ করে বসে থেকেও ভয়ে হাত, পা কাঁপছে! একটি শীতল হাত মাথার ওপর দিয়ে বুলিয়ে দিলো। হারিয়ে গেলো সব ভয়, সব কুণ্ঠা! ওই হাতটিই যেন বুকের মধ্যে বেজে চলা সমস্ত অস্থিরতাগুলোকে শুষে নিয়েছে!

পরীক্ষাগুলি এখন মাঝে মাঝেই আমাকে অসহায় করে তুলছে! এমনকি পরীক্ষার হলে যখন যাচ্ছি, বেঞ্চে বসছি, মনে হচ্ছে গায়ের সমস্ত শক্তিটুকু অচেনা কোনো এক রাক্ষস এসে শুষে নিয়েছে! আরও ভয় পেয়ে যাচ্ছি! তোমার ওই শীতল হাতটি দিয়ে আরেকবার ছুঁয়ে দাও না দিদি। এখন বেশ কয়েকবার তোমার আওয়াজ, তোমার সুর শুনলাম। নিজেকে একটু নিশ্চিন্ত লাগছে।

ওই যে তুমি গেয়ে উঠলে, "কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা,
 - মনে মনে .."

আমিও হারিয়ে গেলাম, খুঁজে নিলাম তোমায়, তোমার ওই শীতল হাতটিকে ..

Saturday, 9 June 2018


পুরুষতন্ত্রকে ভাঙচুর করে আসা এক পুরুষ থেকে মানুষ হওয়ার গল্প। 

আমি ছোট থেকে এক ঘোর পুরুষতান্ত্রিক একটি পরিবেশ এবং পরিবারে বড় হয়েছি। ছোট থেকে বড় হওয়ার এই মূল্যবান একটি সময় যখন মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটে, আগামীতে সে কেমন হবে, তার প্রকৃতি'র গঠন হয়, তখন আমি দেখেছি ভয়ঙ্কর এক পুরুষতন্ত্র। ঘরে নারী নির্যাতিতা। পুরুষের গায়ের জোর। পুরুষের উশৃঙ্খল জীবন এবং সেটাই পুরুষত্ব, পুরুষ মানেই তার জোর সবথেকে বেশি হবে, সে যা করবে সেটাই ঠিক, নারী শুধু ঘর গোছানোর দাসী, নারী মানেই ঘরে থাকবে এমন একটি ভয়ঙ্কর পরিবেশ! এতো'কিছু আমি কখনোই চিন্তা করি নি। বরং প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে অবচেতন থেকে চেতন সমস্ত অংশেই আমিও এই ঘোর পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হয়ে উঠছিলাম। এমনকি আমার যে প্রথম প্রেমিকা ছিল, সে চেতনায় সমস্ত দিক থেকে স্বতন্ত্র এবং উচ্চমানসিকতার মানুষ হলেও, তার ওপর আমি প্রভুত্ব খাটাতে শুরু করেছিলাম এবং তাকেও দুর্বল করে ফেলেছিলাম আমার পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার সামনে। ওই দিনগুলি আমার জীবনের সবথেকে ভয়ঙ্কর দিন। এতোটাই উদ্ধত হয়ে উঠেছিলাম যে নিজের মধ্যে মানুষ শরীরে পুরুষ নামক এক জন্তুকে পালন করছিলাম। মেয়েটি অসহায় হয়ে উঠেছিল। অসহায় হয়েও সে মানিয়ে নিতে চেয়েছিল সবটা। শুধু আমাকে সঠিক পথে আনার চেষ্টা করছিলো আমার দেওয়া সমস্ত যন্ত্রণা, আঘাতগুলি সহ্য করে। আমি ওকে বুঝতে পারতাম, কিন্তু চেষ্টা করেও নিজেকে সামলাতে পারতাম না কখনো। এরপর একদিন সে আমাকে সামলাতে ব্যর্থ হয়ে দূরে চলে গেলো। অনেক বছরের একটি সম্পর্কের অবসান ঘটে গেলো এক ঝটকায়। এই বিচ্ছেদ আমি মানতে পারি নি। ইগো ছিল না মানুষটির সাথে, ইমোশনালি এতোটাই জুড়ে ছিলাম যে ও চলে যাওয়ার পর থেকে নিজের সব ভুলগুলি আমাকে তীরবিদ্ধ করতে থাকে। আমি নিজেকে চেপে ধরি আর এমন ভুল করবো না কখনো। নিজেকে বারবার প্রতিমুহূর্তে ধরে রাখার চেষ্টা করি। প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে বলি, এটা ঠিক নয়, এমন যেন আর না করি।


ঠিক এমন সময়ে আমার পরিচয় হয়ে যায় মানববাদী লেখক তসলিমা নাসরিনের আদর্শের সাথে। এই আদর্শের সাথে পরিচয় ঘটার পর থেকেই আমি আমার ভিতরে গড়ে ওঠা ঘোর পুরুষতান্ত্রিক দিকগুলি চিহ্নিত করতে পারি খুব সহজেই। নিজেকে পাল্টে ফেলার চেষ্টা তো ছিলই, তার সাথে জুড়ে গেলো নিজের ভিতরে গড়ে ওঠা ভুলগুলি চিহ্নিত করে নিজেকে একেবারে শুধরে ফেলা। আমি বুঝতে পারি, আমার ভিতরে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা গড়ে উঠেছিল আমারই পরিবার থেকেই। নারীকে আমিও অবচেতনে একজন দায়বদ্ধ যন্ত্র ভাবতে শুরু করেছিলাম। আমার ভিতরেও এমন চিন্তা এসে গেছিল, "আমি পুরুষ। আমি যা করি, যেটাই করি, তা ভুল হলেও ঠিক। আমি করতেই পারি। নারী আমাদের অধিকারের কোনো বস্তু বা সম্পত্তি। আমাদের ভালোলাগা, খারাপলাগা খেয়াল করার দায়িত্ব নারীর। আমাদের মনোরঞ্জন করার দায়িত্ব, সে শুধু নারীর।"

এই বোধ জন্মানোর পর বহু চেষ্টা করেও আমার সেই প্রেমিকাটির বিশ্বাস আর পুনরায় অর্জন করতে পারি নি। সে আমার এই পরিবর্তনকে মুখোশ বৈ আর কিছুই ভাবতে পারত না। অথচ সে এটা বুঝতে পারে নি, আমার ভিতরে এই পাল্টে যাওয়া মানুষটি একেবারে নতুন। এই মানুষটি আর তাকে কখনো অসম্মান করবে না। এই মানুষটি আর তার ওপর প্রভুত্ব ফলাবে না। এই মানুষটি আর তাকে প্রতারণা করবে না কখনো। তাকে ফেরানোর বহু চেষ্টা করতে থাকি। ব্যর্থ চেষ্টা। শেষ যেদিন আমার এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, সেদিন আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। আবেগতাড়িত যন্ত্রণা নিয়ে সেদিন লেখক তসলিমা নাসরিনকে মেসেজ করেছিলাম। আমার মেসেজে হয়ত সেই যন্ত্রণা তীব্রভাবে ফুটে উঠেছিল, লেখক তসলিমা নাসরিন আমাকে তাঁর আদর্শের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জুড়ে নেয় সেদিন। অবশেষে যখন সেই প্রেমিকাটি বুঝেছিল যে আমি সত্যিই পাল্টে যাওয়া একজন মানুষ, নিজে মুখে যেদিন আমায় সে'কথাটি জানিয়েছিল, তখন আর তার পক্ষে এই সম্পর্কে ফিরে আসা সম্ভব ছিল না। তখন সে পরিবারের পছন্দ করা ছেলেটির সাথে বিয়ে করতে চলেছে। বিয়ের ঠিক আগের মুহূর্তে আমাকে জানায়, "তুই সত্যিই পাল্টেছিস। নিজেকে ভালো মানুষ গড়তে পেরেছিস। এভাবেই ভালো হয়ে থাকিস সবসময়।"

এরপর আদর্শের সান্নিধ্যে এসে একের পর এক ভুলগুলি খুঁজে বের করে নিজেকে আরও শোধরাতে থাকি। পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হতে ক্রমশ নিজের মানুষ সত্তাকে জাগিয়ে তুলি। মানুষ হয়ে উঠি। এবার আমাকে বাস্তবকিছু সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আমি তো আদর্শের সান্নিধ্যে এসে নিজেকে পুরোপুরি ভিন্ন একটি মানুষ গড়ে তুললাম, কিন্তু আমার পুরুষতান্ত্রিক পরিবার তো আর পাল্টে যায় নি। সে যেমন ছিল, একইরকম আছে। সেই একই চিন্তা, "পুরুষ মানেই প্রভু। সে বাইরে যা ইচ্ছা তা'ই করবে, যেমন ইচ্ছা চলবে, যেমন ইচ্ছা ঘরে নারীকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে। নারীকে সেটা ভোগ করতে হবে, কারণ সে নারী।" আমি আর এই পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি না। এমনকি চোখের সামনে পরিবারের নারীদেরকেও শত অত্যাচার সহ্য করার পরও এই ঘোর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকেই "বিধাতার বিধান" বলে মানতে দেখি। ধর্মীয় কুসংস্কার তো আছেই, তার সাথে আছে পুরুষতন্ত্রে নিজেদের অভ্যস্ত করে ফেলা। পরিস্থিতি ভীষণই ভয়ঙ্কর। পরিবারে নারীরা অন্যরকম সমাজের স্বপ্ন দেখে না, চিন্তা করে না, ভাবে না। যেহেতু আমি ভাবি, আমার এই ভাবনাকে "অভিনয় বা ভান করা" ভাবে। মিথ্যে ভাবে। প্রতিমুহূর্তে আমার চিন্তা এবং মন্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষগুলি এবং পুরুষতন্ত্রে অভ্যস্ত নারী। দিনে দিনে একা হয়ে যাই। বেঁচে থাকি শুধু কিছু স্বপ্ন নিয়ে। বেঁচে থাকি লেখক তসলিমা নাসরিনের দিকে চেয়ে। ভাবি, একদিন আমি ঠিক সময় পাবো, সুযোগ পাবো নিজের চিন্তাভাবনাগুলিকে পরিবারে প্রতিষ্ঠা করার। সমাজে প্রতিষ্ঠা করা ব্যাপারটি অনেক বড় কিছু, আগে অন্তত নিজের পরিবারে যদি প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেটিই অনেক।

এই যে কিরণ নামের যে মানুষটিকে আমি পছন্দ করি, ভালোবাসি, এই ভালোবাসা আমার কাছে ভীষণ মূল্যবান। কিরণ হয়ত আমাকে পছন্দ করে না, কখনো পছন্দ করে নি, হয়ত ভেবেছে প্রেম মানেই প্রতারণা, হয়ত ভেবেছে আমার অতীত এতো খারাপ, পরে আমি ওর সাথে প্রতারণা করবো না এমন কি নিশ্চয়তা আছে! একদম ঠিক ভেবেছে সে। আমার অতীত তো সত্যিই খারাপ। একজন খারাপ মানুষ ছিলাম। একজন প্রতারক ছিলাম। তার নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন হওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে। সে আমাকে ভালোবাসবে নাকি খারাপ বাসবে সেই সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার তার আছে। আমি তার সিদ্ধান্তে কখনো জোর করবো না। করতে পারি না। শুধু এটুকু জানি, ও যদি আমাকে একটি সুযোগ দেয়, আমি একজন ভালো প্রেমিক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাবো। আমি ওকে উপলব্ধি করাবো যে সমাজে আর যে পুরুষই নারীকে যন্ত্র, বস্তু বা সম্পত্তি ভাবুক, আমি কখনো ওকে আমার সম্পত্তি ভাববো না, যন্ত্র মনে করবো না, বস্তু মনে করবো না। যেমন মানুষ ভেবে ওকে আমি পছন্দ করেছি, ভালোবেসেছি, তেমনই মানুষ ভেবে ওকে সবসময় ভালোবাসবো। মানুষ হয়ে, বন্ধু করে ভালবাসবো আজীবন।

আমি এখন জীবনের সবথেকে জটিল মুহূর্তটিতে এসে দাঁড়িয়েছি। একদিকে আমার কেরিয়ার, পড়াশোনা, যেখানে বহু সমস্যা ভেদ করে বেরনোর চেষ্টা করছি, আরেকটু এগিয়ে যেতে পারলেই হয়ত সফল হবো, একটু ভুল হলেই হয়ত সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাবো, অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছি, অন্যদিকে কিরণের অপ্রেম মুহূর্তেই ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয়, আবার পরিবারে ক্রমশ ভিন্নমত গড়ে ওঠার কারণে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সবমিলিয়ে হাঁসফাঁস করছি। বেঁচে থাকা বড্ড কঠিন মনে হয়। প্রতিটা মুহূর্তে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হচ্ছি। এরপরও স্বপ্ন দেখছি ভালো জীবনের। এরপরও উঠে দাঁড়ানোর অবিরাম প্রয়াস। এরপরও স্বপ্নকে ভাঙতে না দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা। হয়ত জিতবো একদিন। হয়ত হেরে গিয়ে হারিয়ে যাবো চিরতরে। তবু এতো সহজে আমি হেরে যাবো না। হেরে যাওয়ার আগে জীবনকে প্রতি'মুহূর্তে ভাঙবো, গড়বো, চেষ্টা করে যাবো জেতার।

যে আদর্শকে বুকে নিয়ে চলছি, সে আদর্শ তো হাজারও বিপত্তির মধ্যেও, প্রাণহানির সম্ভাবনার মধ্যেও, গোটা একটি রাজ্যের, গোটা একটি দেশের সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে, এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আমিও আমার লড়াইকে এতো সহজে ছেড়ে দেবো না। শেষ'মুহূর্ত পর্যন্ত আমি লড়বো। যদি হেরে যাই, হারলেও আক্ষেপ থাকবে না। শুধু ভাববো সময় শেষ হয়ে গেছে।

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 8 June 2018

একটি দিনই এসো শুধু ..
সৌম্যজিৎ। 

একদিন তুমি এসো এখানে
আমার সামনে।
একটু দূরেই দাঁড়িও, 
তোমায় কাছে পেতে চাইবো না একটিবারও,
শুধু এসো একটুখানি সময় নিয়ে,
চোখে কাজলখানি সেজে।

তুমি এসো একদিন আমার কাছে,
একটা দিনই এসো! ..
কতো রাত, কতো দিন কেটে যায় গোপনে,
তোমায় নিয়ে স্বপ্ন গড়ি,
আদর করি,
প্রেমে জড়িয়ে ধরি,
সন্ধ্যার অন্ধকারে যখন তুমি ব্যালকনিতে
দাঁড়িয়ে দেখো তারাগুলির ঝিকিমিকি!
আমি পিছন থেকে তোমায়
আলতো করে ধরি
কালো ঘন চুলে
ঠোঁটটি ছুঁয়ে।

তোমায় নিয়ে আমি স্বপ্ন সাজাই হাজার,
শুধু তুমি আর তুমিতেই মিশে থাকে আমার ঘর - দুয়ার।
সেদিন যখন দেখি তুমি আফিস ঘরে খাতায় আঁকছ তোমার নামখানি!
আমার হাতে অ্যালবাম,
একটির পর একটি পাতা উল্টিয়ে শুধু দেখছি তোমায়,
কিছু ছিল লেখা ওই ছবিটাতে!
কাছে এসে তুমি,
ছবিটি নিতে গিয়ে প্রথম ছুঁলে আমার আঙুলটিতে!
উষ্ণ স্রোত বয়ে গেল গোটা শরীর - মনে,
আমি স্থির দৃষ্টে -
তোমার'ও স্থির চোখে,
দুজন দুজনে তাকিয়ে - কোথাও হারিয়ে ..

তুমি এসো একদিন,
আমি প্রাণ ভরে তোমায় দেখবো সেদিন,
একটি দিনেই আমি বাঁচবো হাজার যুগ।
আর নয় ..
তীব্র প্রশান্তি নিয়ে
পর্বতপ্রান্তে পিছন হয়ে দাঁড়িয়ে,
দু-হাত মেলে শূন্য মেঘে ভেসে যাবো!

আমি একটি দিনেই বাঁচবো হাজার যুগ -
শুধু তোমায় নিয়ে ..

Wednesday, 30 May 2018

তুমি ভালো থেকো প্রিয়,
আমি দেখবো তোমায় যতন করে
দূর হতে ..


ভালোবাসা আমার সহেনা।


- সৌম্যজিৎ।

Monday, 28 May 2018

আমি তোমায় ভালোবাসি কিরণ।
কিরণ, আমি তোমাকেই ভালোবাসি।আমি জানি, তুমিই রিয়া। আমি জানি, রিয়াই তুমি, কিরণ। কিন্তু কিরণ তো আমার কাছেই আছে সবসময়। আমি ইচ্ছা করলেই তোমাকে দেখতে পাই, ছুঁতে পাই, আদর করতে পারি, ভালোবাসতে পারি, অভিমান করতে পারি তোমার সাথে, তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি কিরণ। কিন্তু আমি ইচ্ছা করলে - কই একটু কথা পর্যন্ত বলতে পারি না রিয়ার সাথে! আমি জানি তুমিই রিয়া, কিরণ। আমি যেভাবে তোমায় ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসতে পারি, আমি সেভাবেই রিয়াকে ভালোবাসতে চাই। রিয়া কি আমায় একটুও সুযোগ দেবে না!
অভিযোগের পাহাড় জমেছে আজ। আকাশ কালো গুমোটে মনের কথাগুলো অভিমানের চাপা কান্নায় ভাসিয়ে দিতে চায়। কত শত কথাগুলো আমি একা একাই বলে চলি প্রেমিক হয়ে তোমায়, তোমার নিরুত্তরে নিজেকে খুঁজে নিই তুমি হয়ে, তোমার সাথে আমার এ প্রেম - আমার নিজের সাথে নিজেরই প্রেম হয়ে ওঠে।

চারিদিকে বাতির শোভা, বইমেলার আসর। উৎসব লেগে আছে। "কিরণ"-এর প্রকাশ হবে।







চোখের সামনে একটি সাদা পাতা,
আমায় ডাকছে তোমার প্রেম লিখতে।
তোমার প্রেম!
সত্যিই কি এ তোমার প্রেম!
কখনো কি এ তোমার প্রেম হয়ে আকাশে
উড়েছে ডানা মেলে!
তবে কেন এ তোমার প্রেম হতে যাবে!
এ আমার প্রেম।
আমিই তোমাকে দেখেছি হাজারবার আমায় ভালোবাসতে,
আমিই দেখেছি মূর্তিমান তুমি
সামনে এসে দাঁড়িয়েছ ভালোবাসার দাবি জানিয়ে।
শুধু আমিই দেখেছি ..  

তুমি আসো নি,
তুমি আসতে চাওনি,
চেয়েছি শুধু আমি।
শরীরে তুমি দুরেই থেকে গেছো,
শুধু হাড়, মাংসের ভিতরে থাকা তোমার ওই মনটাকে
তোমার শরীরের কল্পনা করে আমিই তোমাকে দেখেছি বারেবারে।

************************************************


















 

Sunday, 27 May 2018

মাইয়া ও মাইয়া আমি অপরাধি না, 
সবার চোখে দুষী হইয়াও কতা কহি না।
তর ভাষাতে তর আদরে আজও খুঁজি প্রাণ, 
তর কাছে যে সুখের ছায়া ক্যামনে ভুলিতাম! 
মাইয়া ও মাইয়া তর মনে পড়ে কাল
ক্যামনে তরে জড়াইয়া কতা দিছিলাম!
মাইয়া ও মাইয়া 
তুই ক্যামনে বুজিস ভুল,
আম্রে তুই বাহির কইরা 
ঠেইলা দিলি দূর! 

 - সৌম্যজিৎ।
 

Friday, 25 May 2018

আমার তোমাকে কিছু বলার ছিল,
আমার তোমাকে সবসময়ই কিছু বলার থাকে,
বলা হয়ে ওঠে না।
নিজে নিজে বলি, মনে মনে তোমাকে সারাক্ষণ চোখের সামনে দেখি,
হাজারও কথা বলি,
শুধু আমিই বলি,
তুমি কিছুই বলো না।
আমার যা'কিছু শোনার তোমার থেকে,
তোমার যা'কিছু বলার আমাকে,
তা সবটাই তুমি স্বপ্নের মধ্যে এসে আমায় ছুঁয়ে বলে যাও।
 
তোমার স্পর্শ ভীষণ উষ্ণ লাগে,
মনে হয় বহুদিনের পরিচিত তুমি।
স্বপ্নেই কেবল বুঝি তুমি এতো কাছে আসো,
ভালোবাসাকে আমার চোখে মেলে দিয়ে যাও!

- তোমার প্রেমিক।

Sunday, 20 May 2018

রাতে যখন ঘুমাতে যাই,
এক বুক হতাশা থাকে গোটা মনজুড়ে,
সারাদিনে রোজ একটু একটু করে হতাশাগুলো জমা হয়,
ফাঁকে ফাঁকে মনে হয় তুমি নেই, - তবু তুমি আছো,
হয়ত দূরে আছো,
তবু আছো আমার সাথে!
ওই যে রাতে যে একরাশ হতাশা নিয়ে ঘুমাতে যাই,
সেই হতাশার সাথে একটা আশাও মনের এক কোণে রোজ জন্ম নেয়,
রোজ ভাবি, "এই তো কাল সে সকাল হবে,
কাল সূর্যের সাথে আমি তোমাকে আমার মতো করে একটুখানি দেখবো,
তোমার কথা শুনবো,
আর শুনবো - তোমার মুখে একটু ভালোলাগা ভালোবাসাখানি!"

না।
শুনি না।
শুনতে পাই না।
রোজ সারারাত ঘুমে - অঘুমে, চেতনে - অবচেতনে
যে অপেক্ষা করে থাকি,
সে অপেক্ষাকে আবারও আরও একটি দিন শেষে হতাশায় রূপ নিতে দেখি।
হয়ত একদিন,
কোনো এক দিন তুমি ডাকবে,
আসবে নিজের থেকে -

একটুখানি ভালবাসতে!

- সৌম্যজিৎ।

Sunday, 13 May 2018



তুমি যেমনই থাকো ও প্রিয়,
আমি দেখি তোমায় -
কল্পিত অপ্সরাদেরও অধিক লাবন্য তোমার চোখে,
তোমার হাসিতে আমি দেখি তোমায়
তিলোত্তমা,
এমনও রূপ আমি দেখি নি আগে।
তোমার মন খারাপে
আমার বুক কেঁপে ওঠে,
যেন পর্বতও ভেঙে টুকরো টুকরো হয়
- এ বুকে,
আকাশমেঘে ডামাডোল বেজে ওঠে,
অশনিসংকেত আসে বজ্রপাতে চেপে।
বজ্রের ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে প্রাণ,
আমি হয়ে উঠি অসহায় -
দিশেহারা,
আমার না হয়েও তুমি -
আমারই কখন হয়ে গেছো,
আমি অনুভব করি তোমার
প্রশ্বাস - নিঃশ্বাস।

আমারও প্রাণ
হারায় যেথায়,
আমি হারাই -
সেই গভীর অলকানন্দে,
আমি হারাই সে
- সূর্যকিরণে,
আমি ডুবে যাই তোমার
- তিলোত্তমা হাসিতে।

(সৌম্যজিৎ।)

Wednesday, 9 May 2018

পৃথিবী বড় অচেনা আজ,
অচেনা তুমি, অচেনা তোমার প্রকাশ,
অচেনা বাতাস, অচেনা আকাশ,
ব্যর্থ লাগে,

ব্যর্থ লাগে সকল প্রয়াস।
আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম কাল যেমন
আমার আদর্শের স্তম্ভে,
আজও আমি সোজা,
শিরদাঁড়া উঁচিয়ে রয়েছি,
রবো, -
যেমন ছিলাম,
তেমনই সকল প্রকাশে।
যেমনই ভাবো তুমি,
যত মিথ্যে, যত কূট,
যতই জটিল করো তোমার ও'ভাবনা,
সে কেবল তোমারই ভাবনা,
সে দায় কেবল তোমারই,
সে অচেতনতা তোমারই,
শুধু তোমারই ..

জেনো সখি,
মিথ্যেকে সামনে রেখে মাথা নোয়াবো না আমি,
যতই আসো রুপ - যৌবন সাথে নিয়ে,
অনাদর্শে মতি খোয়াবো না আমি।

- সৌম্যজিৎ।

Tuesday, 8 May 2018

দিদিপপি,

বলেছিলি সেদিন কাছে আয় ভাই। বলেছিলি তুই, "আমি ভালো নেই।" তোর আওয়াজে বৃষ্টি হত বুকে, তুই ডাকলে মনে হত আমার নাম প্রতিধ্বনিত হচ্ছে পাহাড়ের গায়ে গায়ে। মনে হত তোর ডাক শুনে আমি হয়ে যাই ছোট্ট বেড়াল ছানাটি। আজ তুই নেই আর, নেই তোর সেই বলা কথাটি, "কাছে আয় ভাই।" তবু শুনি আমি। তবু শুনতে পাই তোর সেই উচ্চারণ, আজও প্রতিধ্বনিত হয় আমার বুকে, আমার কানের পর্দায় এদিক সেদিক ধাক্কা খেয়ে আমাকে শুনিয়ে যায়, "শান্তু .."

                                                শান্ত।

Thursday, 3 May 2018

তোকে দেখে কখনো মনে হয়নি তোর সাথে প্রেম করি,
তোকে দেখে কখনো ছুঁতে ইচ্ছা হয়নি,
আমি কখনো তোর প্রেমিক হতে চাইনি।
আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে তোকে দেখেছি,
তোর বাচ্চামি, তোর ভালোবাসা, তোর আদরের ছোঁয়াগুলোকে উপলব্ধি করেছি,
তোর কণ্ঠ, তোর শব্দ, তোর স্নেহকে আমি উপলব্ধ করেছি সবটা সময়।
এ তবে প্রেম নয়,
এ হল ইশক ..
প্রেম তো আমার হাজারও হয় ..
ইশক!
ইশক ফতে হয় কেবল দীপিকার সাথেই ..

Wednesday, 11 April 2018

জীবন তুই করলি নিশানা,
তীর বিঁধল বুকে,
বাম পাঁজরে বিঁধল সে তীর,
শত'ছিন্ন রূপে।
রক্ত লাগা মনের দেওয়াল,
গন্ধ ভাসে বাতাসে,
তীরটা সে ছুঁড়ল বুকে -
রক্তে রাঙা বিশ্বাসে!

- সৌম্যজিৎ।

Friday, 6 April 2018

তোমার চোখে,
চোখের ভাষাতে,
ঠোঁটের নড়াচড়ায় প্রেমকে ঠিকরে বেরতে দেখি।
প্রেম!
সে কেবল তুমিই করো,
আমি করি না।
ভালো লাগে তোমার সাথ,
ভালো লাগে তোমার কথা,
ভালো লাগে তোমার শরীরি ছোঁয়াকে অনুভব করতে ..
পৃথিবী যদি নষ্ট বলে, - বলুক,
যদি কলঙ্কের কালি লাগে, - লাগুক,
যদি ধর্মভ্রষ্ট হতে হয়, - হবো,
তবু আটকাবো না নিজেকে তোমার ছোঁয়া থেকে।
ভালবেসে আমি শুধু একাকীত্বই পেয়েছি,
এবার না ভালবেসে যদি ছোঁয়া পাই,
অন্তত একা হারিয়ে যাওয়ার মতো হাহাকার থাকবে না তাতে।

Sunday, 1 April 2018

শুধু মুখে কথা কি আর এমনি এমনি দেওয়া বা
নেওয়া যায়!
যদি দিতেই হয় কথা,
তোমার স্বপ্ন থেকে একটুকরো স্মৃতি'কে বন্দক রেখো,
অথবা দিও ফুলের ওপর প্রজাপতির তৃষ্ণা মেটানোর কোনো স্মৃতি,
আমি আজীবন সে কথাকে যত্নে রেখে দেবো আমার স্পর্শে স্পর্শে,
দিতে হলে কথার সাথে দিও কোনো প্রেমের চিহ্ন!

- শান্ত। 

Wednesday, 28 March 2018

তোমার মনের নিয়মিত চর্চার অভ্যেস
আমাকে একদিন তোমার মনের আরও কাছে নিয়ে যাবে,
আমি তো শুধু পরিচিত হতে চেয়েছি তোমার "তুমি"কে ঘিরে,
কথার মধ্যে কথার ভাঁজ আমার আমিকে তোমার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে,
আরও ভালবেসে ফেলছি তোমায়। 
তোর চোখের তারায় গভীর অরণ্য -
আমার বুকে শিহরিত করে,
'দুপ দুপ' আওয়াজ তুলে একাকীত্বে হারিয়ে যাওয়ার
ভয়ার্ত উচ্ছ্বাস,
প্রবল জলপ্রপাতের মতোই
অশ্রুধারায় বাহিত হয়।
তোর ভাঁজহীন ললাটে ওই অংশুমালী প্রভা
গভীর অরণ্যে গোধূলি'বেলার বিষণ্ণতায় ঢেকে দেয়।
অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া, যেন
তলিয়ে যাওয়ার যে চিন্তাহীন ভয়কে জয় করার সুখ,
ওই গভীর অরণ্য ভয়ে হারিয়ে যেতে যেতেও আমি অনুভব করি।

- ফিলিং "অনুভব করালি তো!"

Tuesday, 27 March 2018

আজকাল কেমন যেন লাগে মনে!
চুপচাপ!
সেই হাসিখুশি চনমনে ব্যাপারটাকে আর খুঁজে পাই না ভিতরে।
ভালো ছিলাম না, তবে
ভালো আছি।
ভালো আছি কারণ আমি বুঝেছি তোমার স্নেহ আমাকে ছেড়ে যায়নি কখনোই,
ভালো আছি কারণ আমি বুঝেছি দিদিমণির ভালবাসা থেকে আমি বঞ্চিত হইনি,
ভালো আছি কারণ আমার মনে হয়েছে কিরণ হয়ত আমাকে পছন্দ করে একটু একটু,
আমি ভালো আছি কারণ এক নারীর ভিতরে আমি তোমার আদর্শের একটি ক্ষুদ্র অংশকে অঙ্কুরিত করতে পেরেছি,
নারী থেকে সেই নারীকে মানুষের মতো মানুষকে চেনাতে পেরেছি।
আমি ভালো আছি মেয়েমা।

আমি ততদিন ভালো থাকবো, যতদিন তুমি আমাকে স্নেহের আঁচলে জড়িয়ে রাখবে,
আমি ততদিন ভালো থাকবো যতদিন দিদিমণি আমায় "দাদামণি" ডাকবে,
আমি ততদিন ভালো থাকবো যতদিন আমার প্রাণে ভালবাসা খেলা করবে আপন মনে,
আমি বারেবারে ভালবাসবো সকলকে, আমার হৃদয়জুড়ে।
ভালবাসার মন্ত্র তো তুমিই শিখিয়েছিলে আমায়,
সেই মন্ত্রকে আমি জপ করবো আজীবন, শুধু ভালবাসতে, ভালবাসাকে ছড়িয়ে দিতে জনমানসে, -
জনমনে।
তুমি দেখো, একদিন গেয়ে উঠবে ঠিক এই পৃথিবী ভালবাসার গান,
একদিন সকলে হবে প্রেমমুখো খোলা আকাশতলে,
তোমারই আদর্শকে আলিঙ্গন করে।

- সৌম্যজিৎ।

Wednesday, 14 March 2018

হয়ত আবারও হবে দেখা -
কোনও অভিনয়মঞ্চের সামনে বা রাস্তার মোড়ে,
হয়ত আবারও পুরোনো কিছু স্মৃতি এসে ক্ষণিকের হাহাকার জানিয়ে যাবে,
পার্থক্য হবে শুধু আগের দিনগুলিতে আমার বিশ্বাস ছিল
তুমি সমস্ত ভুল বোঝাবুঝিতেও সত্যের প্রতিরূপ ছিলে,
এখন আমি ভাববো তোমার হাজারও প্রকাশের সবটাই শুধু মিথ্যে দিয়ে আবৃত ছিল।
ভালবাসা না থাক,
তুমি মিথ্যে, -
জানার পর ভালবাসাহীনতার চেয়েও অনেক বড় ধাক্কা আমায় ছিটকে দিয়েছিল,
বিশ্বাসের প্রতিটা অণুও খণ্ড খণ্ড হয়ে আবেগকে রক্তাক্ত করে ছেড়েছে।

আমি বেঁচে থাকবো,
তুমি ভালো থেকো।

- সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 11 March 2018

যদি হতিস মেঘ -

তোর বিছানো চাদরে নিজেকে আড়াল করে নিতাম,

যদি হতিস বৃষ্টি -

তোর শীতল স্পর্শে স্নিগ্ধ হয়ে যেতাম।

তুই বরং কোকিল হয়ে যা,

বসন্তের সকালে তোর 'কুহু' ডাকে আমার ঘুম ভাঙুক ভোর পাঁচটায়,

নরম ঘাসের ওপর খালি পায়ে

আমি ঘুরবো কিরণকে নিয়ে,

নতুন করে সাজাবো প্রেমের বেলা -

ওই কুহু ডাকের ভোরবেলায়। 😍

Friday, 9 March 2018

এ তুই কেমন ডানা মেলে উড়িস পাখি,
এ তুই কোন পঠনে শিখেছিস পাঠ!
এত ভালবাসাবাসি, -
এত ভালবাসায় ভাসাভাসি,
এ তুই কোন অম্বরে চলেছিস -
জীবনপথ!

-  অপ্রকাশিত কবির দেওয়া একটি পালক তোকে। 

Friday, 2 March 2018

এক তীব্র যন্ত্রণা, এক তীব্র হাহাকার করে ওঠা
বুকফাটা চিৎকার,
আবেগের প্রতি ধেয়ে আসা অজস্র আঘাত নিয়ে জর্জরিত হয়ে আছি।
ইচ্ছা করছে একমুহূর্তে যদি পারি, -
থামিয়ে দিই প্রশ্বাস,
এক মুহূর্তে যদি পারি,
চেতনাকে শূন্য করে দিয়ে নিবারণ করি সমস্ত বেদনা,
মুক্ত করে দিই এ প্রাণকে খাঁচা শূন্য করে,
উড়ে যাই পাখি হয়ে মুক্ত ওই আকাশে স্বাধীন হয়ে ..


উড়ে যেতে না পারি,
দূরে তো যেতে পারি! 
পাখি হতে না পারি,
যদি মানুষ হতে পারি মানুষের মত,
আমি ফিরবো সেদিন।
কাঁটার মত বিঁধে থাকা অপমান, 
লাঞ্ছনাকে তুচ্ছ করে যদি ফিরতে পারি,
পাখি হতে না পারি, যদি
মানুষ হয়ে আমি ফিরতে পারি!


আমি ফিরবো ..

- সৌম্যজিৎ। 
উৎসর্গ - নির্বাসিত স্রষ্টা তসলিমা নাসরিনকে।
সমর্পিত শিষ্য - সৌম্যজিৎ।

এ তুমি কেমন করে জুড়েছ আমার হৃদয়,
আমি অসহায় আর অসহায় হয়ে উঠি
তোমার থেকে দূরে থাকার ঠিকানায়,
এ তুমি কেমন মন্ত্র জপেছ আমার কানে,
আমি নিরুপায়
ছুটে যেতে চাই লক্ষ ক্রোশ দুর্গম পথ ঠেলে,
মৃত্যুও যেখানে থমকে যায় ..


এ তুমি কেমন বসন্ত
বিচিত্র তোমার রঙ,
কান্না - হাসি - আবেগেরা মুহূর্তে পাল্টে যায়
অবকাশ না দেওয়া ঘড়ির কাঁটায় ..


এ তুমি কেমন জীবন দিলে আমায়!


ছবির মত দেখি তোমার জীবন,
ছবির মত কল্পনাতে ভেসে যাই মুহূর্তেই
কোনো সময়যানের অভিজানে,
বারেবারে দেখি তুমি ছুঁয়ে আছো অদম্য এক আদর্শকে,
সীমানা ভেদ করে ছুটে যায় তোমার চেতনা,
চারিদিকে যত আকাল - কুকাল -
ভ্রমেদের হয় পরাজয়।


মানব চেতনাকে তুমি ধরে আছো,
সম্মোহনকে ভেঙে করেছো সহস্র টুকরো,
গীতা - বাইবেল - কুরআন আছে যত
নারীকে শৃঙ্খল করার পুরুশাস্ত্র,
তারাও আজ নত তোমার সম্মুখে ..

হে মানবী -
তুমি কেমন করে ধরেছ আমায়,
তোমার মায়ায় -
আমার বহিত্র আজ বানভাসি,
তোলপাড় করে ওঠে বুক
সমুদ্রজোয়ারে,
এ তুমি কেমন অন্য ধরণী দেখালে আমায়! 

Thursday, 1 March 2018

১) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, বাংলাদেশে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠা আত্মজীবনী লেখিকা জান্নাতুন নাঈম প্রীতির সাথে নাকি আমার গভীর প্রেমের সম্পর্ক। কোনটা প্রেম, আর কোনটা গভীর প্রেম, এর সংজ্ঞাটা কে নির্ধারণ করবে! আমার তো মনে হয় জান্নাতের সাথে আমার সম্পর্ক নিখাত বন্ধুত্বের। এমন একটি বন্ধুত্ব যেখানে কোনো কামের, ঘামের প্রত্যাশা নেই। শুধু নিঃস্বার্থভাবে একে অপরের পাশে থাকার বন্ধুত্ব। হয়ত অন্যদের অবাক লাগতেই পারে এমন সম্পর্কে, কিন্তু আমি এবং জান্নাত আমাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্কে কেউই অবাক নই। কারণ আমরা খুব ভালো করেই জানি, আমাদের এই সম্পর্কটা কতটা পবিত্র! জান্নাতকে আমি সবসময় একটি বাচ্চা মেয়ের মত করে ভাবি। ওর লেখা "উনিশ বসন্ত" বইটিতে আমি যে মাত্র ছয় বছরের বাচ্চাটিকে অনুভব করেছিলাম, আমার কাছে মানুষ জান্নাতও সবসময় সেই মাত্র ছয় বছরের বাচ্চা হয়েই থেকে গেছে।

২) আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, আমি একটি প্রেমের সম্পর্কে থাকার পরও কেন জান্নাতকে নিয়ে কবিতা লিখতাম! কবিতা আমি যখন যা'কে নিয়ে মন চেয়েছে, তা'কে নিয়েই লিখেছি। একজন কবির কবিতাকে কখনো আটকে রাখা যায় না। জোর করে যেমন কবিতা লেখা যায়না, তেমনই কবিতা পেলে কবি কখনোই সেটাকে আটকে রাখতে পারেনা। যদি একটি বাচ্চা মেয়েকে ভাললাগায় বা ভালবেসে কবিতা লিখিও, এর মানে কখনো এটা প্রমাণিত হতে পারেনা যে তার সাথে আমার নিশ্চয় কোনো অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক আছে। "আমি একজন পুরুষ, জান্নাত একজন নারী" এমন চিন্তাই কখনো আমার মাথাতে আসেনি। জান্নাতকে আমি সবসময় মানুষ ভেবে ভালবেসেছি। এটা লেখিকা জান্নাতও খুব ভালো করেই জানে।

৩) কাওকে নিয়ে কবিতা লিখলে যদি তার সাথে প্রেম করছি ধরে নেওয়া হয়, তবে আমি তো লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে সবথেকে বেশি কবিতা লিখেছি। আমার সিংহভাগ কবিতাই লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে লেখা। লেখিকা তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে আমার মনে কেমন অনুভূতি আছে, সেটা জানতে নিশ্চয়ই মানুষকে খুব বেশি ভাবতে হবে না। অতয়েব, লেখিকা তসলিমা নাসরিন যদি আমার আদর্শের মানুষ হয়, তাকে ভালবেসে আমি কবিতা লিখলে যদি সেটা অন্যায় না হয়, তবে কেন জান্নাতকে নিয়ে কবিতা লেখা আমার অপরাধ হতে যাবে!

৪) একটি প্রেমের সম্পর্কে যখন মানুষ নিজেকে খুব বেশি জড়িয়ে ফেলে, তখন সেই সম্পর্কে অনেক বেশি পাগলামিও চলে আসে। আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ। অতয়েব, এটা স্বাভাবিক ছিল যে আমি খুব বেশি ভাবনাচিন্তা না করে শুধু ওই প্রেমের সম্পর্কে বয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক বেশি পাগলামি করে ফেলছিলাম। আমার কথাগুলো হয়ত খুব বেশিই আবেগের ছিল, আমার আনন্দ, কষ্ট সবটাই ভাগ করে নিচ্ছিলাম। কেন ভাগ করে নিচ্ছিলাম! কারণ আমি জেনেছিলাম, এই জায়গাটা আমার একটি নিশ্চিন্ত আশ্রয়। আমি আমার সবটা এখানে ভাগ করে নিতে পারি। কিন্তু যেটা পরবর্তীকালে হল, আমার সেইসমস্ত কষ্টগুলো ভাগ করে নেওয়াই আমাকে শুনতে হয়েছে, আমি সবসময় নেতিবাচক চিন্তা করি। ছোট ছোট ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করি বেশি। তাই আমি "আনস্মার্ট।" আমার বলা কথাগুলি নিয়ে যথেষ্ট হেঁয়ালিও হয়েছে অবশ্য।

৫) নারী ও পুরুষের গোঁড়ামি আমার মধ্যে কখনোই ছিল না সেই তবে থেকে, যেদিন থেকে আমি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের আদর্শের সাথে মিশে গেছিলাম। অথচ বারেবারে আমাকে অপমানিত হতে হয়েছে পুরুষতান্ত্রিক পুরুষের উদাহরণ সামনে পেশ করে। আমি তো কখনো সেই অপমানের প্রতিবাদ করিনি। আমি শুধু বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি যে এটা ঠিক নয়, এটা ভুল। আর কেউ যদি অপমান করে, তাকে বোঝানো উচিৎ। কিন্তু সেখানে আমি বারেবারে সেই অপমানকারীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখেছি। শুধু তাই নয়, তার সাথে আমি এক অহংকারী মূর্তিকেও প্রকাশ পেতে দেখেছি আমার সামনে। অবহেলা অনুভব করেছি আমার প্রতি। আমি প্রতিবাদ না করেই সম্পর্ক থেকে দূরে সরে এসেছি।

৬) সম্পর্ক থেকে দূরে সরে আসার পর যখন আমি অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তে আমি কিরণকে দেখি। আমার মনে হয় কিরণ আমার কষ্টের ওষুধ হতে পারে। কিরণকে দেখে আমি সব ভুলে যেতাম। ভালবেসে ফেলি আমি কিরণকে। এরপরও যখন সেই সম্পর্কহীন হয়ে যাওয়া সম্পর্কের মানুষটা রাতের বেলায় একটু কথা বলতে চেয়েছিল, আমি কথা বলেছিলাম। প্রেমিক হয়ে নয়, একজন মানুষ হয়ে কথা বলেছিলাম। তারপর যখন আমি তাকে বলি ঘুমনোর জন্য, চোখের নিচে কালি জমছে, আমি তো একজন মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষকে কথাটা বলেছিলাম, কিন্তু বিনিময়ে তার বোন পরোক্ষভাবে উত্তর দিয়ে দেয়, "শুরু শুরুতে সবকিছুই ভীষণ ভালো লাগে। দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগে। সময় ফুরিয়ে গেলে সবকিছুই কুৎসিত মনে হয়। চোখের নিচের কালিও চোখে পড়ে।" আমি ভীষণ অপমানিত হই। আমার নিজের প্রতি ভীষণ ঘেন্না হয়। আমি ভাবি, আর নয়, আর কখনো কথা বলবো না।

৭) এরপরও বিতর্ক শেষ হয়নি। বারেবারে আমি মানুষের মুখে জান্নাতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছি। এমনসব বিতর্কে যখন ভীষণভাবে জর্জরিত হচ্ছি, আমার পাশে যখন আমি কাওকে পাচ্ছি না, পাচ্ছি না কারণ নারীর চোখে আমি একজন পুরুষ, যেহেতু নারী নিজেকে কেবল নারীই ভাবে, মানুষ ভাবতে পারে না, তাই একজন পুরুষ সে পুরুষতান্ত্রিক চিন্তার বিরুদ্ধে হলেও নারীর চোখে কখনো সে মানুষ হতে পারে না, পুরুষ হিসেবেই তাকে সন্দের সামনে দাঁড়াতে হয়। এরপরও আমি এই সব বিতর্কে কখনো ভেঙে পড়িনি। ভেঙে আমি তখন পড়লাম, যখন দেখলাম এতকিছুর পর আমার আদর্শের মানুষটার থেকে, লেখিকা তসলিমা নাসরিনের থেকে আমি দূর হয়ে গেছি। লেখিকার একটু স্নেহের জন্য ছটপট করছি, তবুও পাচ্ছি না, তখন আমার মনে হল, আর কিছু অবশিষ্ট নেই, আমি আমার সবটুকু হারিয়ে ফেলেছি। গোটা পৃথিবী আমাকে ভুল বুঝলেও আমার কোনোকিছু এসে যাবে না। কিন্তু লেখিকা তসলিমা নাসরিনের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলে আমার অস্তিত্ব শেষ হয়ে যাবে। হয়ত আমি লেখিকারও ভুল বোঝার শিকার হয়েছি। আমার আর কোনো ইচ্ছা নেই, কোনো স্বপ্ন নেই, কোনো প্রেম নেই, কোনো ভালবাসা নেই, এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাটুকুও অবশিষ্ট নেই। অন্ধকারে ডুবে গেছি যেন। এরপরও আমি চেষ্টা করবো স্বাভাবিক থাকতে। এরপরও আমি চেষ্টা করবো আমার ব্যর্থ হওয়া কাজগুলিকে সফল করতে। ব্যস, এটুকুই। আমি শুধু চেষ্টা করতে পারি। এর অধিক আমি আর কিছুই করতে পারবো না। সেই শক্তিও নেই আর। 

Wednesday, 28 February 2018

আগুন আমাকে কত পোড়াবে,
কত করবে ছাই,
মরবো তো একবারই আমি,
ওই আগুনেরও তৃষ্ণা মেটাই।
জ্বলবো, পুড়ে খাক হয়ে যাবো, তবু
করবো না চিৎকার,
রক্ত - মাংসপিণ্ড ঝলসে লাভা হয়ে যাবে, তবু
প্রকাশ পাবে না বুক ফাটা হাহাকার।
যতদিন বাঁচি, আমার নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে বেরোবে তোমার নাম,
আমার শেষ নিঃশ্বাসও উৎসর্গ করে দেবো,
অস্ফুট উচ্চারণেও সেদিন প্রকাশ পাবে, শুধু তোমারই নাম।

- সৌম্যজিৎ।


Monday, 26 February 2018

আমি জীবন দেখি,
আমি জীবন লিখি,
আমি ভালোবাসি তোমাকে, তোমাকে, তোমাকে  ..

- সৌম্যজিৎ। 

Friday, 23 February 2018

আমার বাংলার অর্থ - শুধু তুমি।

উৎসর্গ - নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে।


একদিন আমি তোমার নামে গড়বো জনস্রোত,
তুমি দেখো,
তুমি দেখো ঠিক আমি আদর্শকে বহিয়ে দেবো জনজোয়ারে,
যতটা বহিয়ে দিলে আমার মনে তৃপ্তি আসে,
আমি ভেসে যেতে পারি সেই এক তোমায় ছুঁয়ে থাকার  উপলব্ধিতে!
ততটাই ভাসিয়ে দেবো তোমার নাম, আমার আদর্শকে জনে জনে ..
হাজারও তরুণ, প্রবীণ বুকে তুমি বাহিত হবে আদর্শে আদর্শে,
মুক্তকণ্ঠে ..
একদিন আমার বাংলা সেজে উঠবে আবার
বঙ্গতনয়াকে ঘিরে,
উল্লাসে উল্লাসে
আকাশ বাতাস গর্জিত হবে সেদিন,
মানুষ চিনবে মানুষকে সেদিন মানুষ পরিচয়ে ..
আমার বুকভরা বাতাস -
যদি শেষও হয়ে যায়,
আমি বাঁচবো তোমার প্রশ্বাসে,
আমি বাঁচবো সকলবুকের আদর্শে,
তবু আমি বাঁচবো একদিন, -
তোমার স্বাধীনতাতে ..

আমার কাছে বাংলার অর্থ তুমি - বঙ্গতনয়া,
আমার বাংলা শুধু তুমিই ..

- সৌম্যজিৎ।

Wednesday, 21 February 2018

বাংলা, ওগো বাংলা মা আমার -
তোমায় ভালবাসি,
বাংলা তুমি আঁচল ধরো,
একটু খেলে আসি।
বাংলা তুমি আমার কথা,
আমার প্রাণের ভাষা,
তুমি আমার অন্তর মাগো,
আমার বাঁচার আশা।
ওই যে আমি বলছি মা,
মায়ের নাম বাংলা ভাষা,
ওই যে আমি ভালবাসি, -
তাহার নামও বাংলা ভাষা,
ওই যে আমি হাসি হাসি! -
বাংলাতেই তা প্রকাশ করি,
ওই যে বুকে চাপা রাখি কান্না,
তারও প্রকাশ বাংলা।
আমার বুকে আগুন ঝরে
আদর্শে আদর্শে - রক্ত প্রবাহে,
সেই আগুনও প্রকাশিত হয় -
বাংলায়, শুধু বাংলায়  ..

বাংলা তুমি ভালো থেকো মাগো,
হৃদয়ে হৃদয়ে বেঁচে থেকো,
প্রতিটা ভাষায়,
প্রতিটা আশায়
সত্যের সাথে মিশে থেকো।

- সৌম্যজিৎ।

এ প্রেমে আমার সবটুকু তোমায় দিলাম,
আমার প্রেম অপূর্ণতায় বেঁচে থাকুক চিরকাল।
কেবল তুমিই বুঝি একটুও ভালোবাসলে না,
আমার বুকফাটা হাহাকার আজ পৌঁছে দিলাম।
সন্ধ্যা ঘিরে ওই মৃদু বাতাস আমার জানালায় এসে উঁকি দিচ্ছে,
দেখছে আমি ঘরে কেমন একলা বিষন্নতায় মিশে,
বুকে কান্না এসে থমকে গেছে,
চোখের কোণে  ভালোবাসা আজ মিছে।
মিছে নয়, এ আমার প্রেম,
শুধু আমিই জানি ভালোবাসা কত দামী!
আমার সর্বস্ব লুটিয়ে দিলাম তোমায়,
শুধু জেনো এক প্রেমিক তোমায় ভালোবেসে
লুটে গেছে বিভীষিকায়।
কিরণ তবু প্রকাশ পাবে আমার মনে,
স্নিগ্ধ আলো এসে দেখাবে নতুন সকাল,
শুধু কিরণে যে ভালোবাসা আমি বেসেছি,
সে ভালোবাসা শুধু আমার হয়েই থাকবে চিরকাল ..

এ প্রেম শুধু আমারই থাকুক,
শুধু আমার হয়েই থাকুক,
এ প্রেমকে তো তুমি চাওনি কখনো,
এ প্রেমে শুধু আমারই অধিকার বাঁচুক।

 - সৌম্যজিৎ। 

Sunday, 18 February 2018







মায়ের বসন্ত

সৌম্যজিৎ

               

মা তুমি দেখেছ আজ

তোমার স্বপ্ন কেমন প্রকাশ পেল!

আবীর রঙে রাঙা হল মঞ্চ,

নাচের তালে কম্পিত হল আকাশ, বাতাস,

খোলা মাঠ,

গানেসুরে বসন্ত কেমন সেজে উঠল!

মা তুমি তো চেয়েছিলে

মানুষের মিলনে – জনগনমনে

বসন্তকে ছড়িয়ে দিতে,

মা তুমি বলতে না –

“এ বাংলা ভেসে উঠুক ভালবাসায়,

 এ বাংলা বেঁচে থাকুক গানের ভাষায়!”

রত্নগর্ভা তুমি মা।

তোমার গর্ভের রত্ন আজ

তোমারই কথামতো ভালবাসা উজাড় করে দিয়েছে প্রাণখুলে,

জনমানসে – হৃদয়ে

নতুন প্রাণ ঢেলেছে গানের ভাষাতে,

তুমি সত্যিই রত্নগর্ভা মা।





যুগ যুগ বাঁচি

যেন দেখি এ বাংলা এমনই ভালবাসার মিলনে মিলছে,

যুগে যুগে যেন এমনই বসন্ত আসে আকাশে – বাতাসে,

আনাচে কানাচে ...

যুগে যুগে মা তুমিও থেকো,

থেকো এ বাংলার বুকে,

যুগে যুগে প্রাণ খেলুক রঙে রঙে,

নাচে গানে –

এ মুলুকে ...

Thursday, 15 February 2018





কিরণ
রিয়াকে।
-সৌম্যজিৎ।













মরুভূমির বালিয়াড়ি বিষাক্ত বিছেকে তুমি ধরে আছো ওই দু-চোখে,
তিল তিল করে বিষ চক্ষুদুটি দিয়ে দংশন করছ আমার চেতনা, হৃদয়।
শরীরের সমস্ত রক্ত জমাট বেঁধে গেছে,
শুকিয়ে ফ্যাকাসে নীল বর্ণ ধারন করছে গোটা শরীর
আমি এখনও বেঁচে আছি, চেয়ে আছি একটিবার বলতে -
"ভালবাসি।"


- সৌম্যজিৎ।























কিরণ।
সৌম্যজিৎ।


তোমার চোখে মুক্তি দেখেছি,
হারিয়ে যেতে চেয়েছি অজানা কোনো দেশে,
সাতরঙা আকাশ যেখানে সকাল আনে,
মুক্ত বাতাসের ঘ্রাণ নিতে চেয়েছি তোমার সাথে -
সেখানে,
ফুলেরা যেখানে লাল, হলদে, সাদা তাজা রঙে জেগে ওঠে,
আমার রক্তকরবী তোমার সাথে মিশে যায় শিরা, ধমনী প্রবাহে,
মিশে যায় শ্বাস অবলীলায় তোমার নিঃশ্বাসে সেখানে।
ঘুম ভাঙা চোখে প্রথম কিরণ আমি চেয়ে চেয়ে দেখতে চেয়েছি
তোমারই ললাটে,                      
বেঁচে থাকা আজ না বাঁচা হয়ে গেছে,
তোমাকে বলতে চেয়েও মাঝে নিশ্ছিদ্র দেওয়াল উঠে দাঁড়িয়েছে বাধা দিয়ে,
গলা ফাটা চিৎকারেও আমার আওয়াজ পৌঁছয়নি তোমার কাছে।
যেখানেই থাকি-
জেনো আমার প্রেম চেয়ে থাকবে শুধু তোমারই দিকে,
দু-চোখ ভরা স্বপ্ন জেগে থাকবে কখনো তোমায় ছুঁয়ে পেতে।









কিরণ তুমি কি .. 

যদি বলি তোমাকে আমার ভীষণ প্রয়োজন,
যদি বলি আমার এই ভাঙাচোরা জীবন যখন টালমাটাল,
উন্মত্ত সমুদ্র জোয়ার আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দিকশূন্য কোনো প্রান্তরে,
আমি একটুখানি বাঁচার জন্য হাতড়ে বেড়াচ্ছি কোনো লাঠি বা অন্তত লতা, পাতা যা পাই
আঁকড়ে ধরবো বলে,
অথবা যদি বলি এক তোমাকেই আমার ভীষণ আর ভীষণতর প্রয়োজন,
আমি আবারও উঠে দাঁড়াতে চাই এক তোমাকেই আঁকড়ে ধরে 
সমস্ত প্রতিকূলতাকে চুর চুর করে ভেঙে দিতে,
যদি বলি আমি মরে যাচ্ছি প্রেমের আগুনে জ্বলে
পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছি, একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছি, কালের গহ্বরে ডুবে যাচ্ছি,
তুমি কি সাথ দেবে আমায় আবারও একটুখানি বাঁচিয়ে তুলতে! 
কেউ তো আমার ভালবাসার খোঁজ কখনো নেয়নি,
কেউ জানতে চায়নি কখনো আমার ভালবাসা কেমন আছে,
অদূর অতীতেও কেউ জানতে চায়নি যে আমি কেমন আছি ভালবাসাহীন হয়ে থেকে,
এক তোমাকেই শুধু মন খুলে আমার ভালবাসার খবরটুকু জানাতে ইচ্ছা করছে।
আমার মনের সমস্ত হাহাকার, চিৎকার করে বলে উঠতে চাওয়া ভালবাসার কথাটুকু শুধু -
তোমাকেই বলতে চায় সে,
তুমি শুনবে একটুখানি স্থির হয়ে আমার প্রাণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মনের কথাটুকু! 

- সৌম্যজিৎ। 








কিরণ ..


তোমাকে যত দেখি, তত ভালো লাগে,


ইচ্ছা করে হারিয়ে যেতে, হারিয়ে গিয়ে দেখি তোমাকে ..


তোমাকে যত শুনি, ভীষণ সাহস আর ভরসা জাগে মনে,


যেন আমি পার হয়ে যেতে পারি অসম্ভবের শেষ সীমাও,


পার হতে পারি গভীর অলকানন্দাও,


পার হয়ে যেতে পারি সর্বোচ্চ চোমোলুংমাও ..


- সৌম্যজিৎ।






কিরণ - তোমার প্রতি আমার প্রেম,
প্রেমের প্রেমিক - প্রেমিকাদের নিঃশ্বাসে, প্রশ্বাসে,
ঘ্রাণে, ভালবাসায় বাহিত হবে একদিন।
তোমার প্রতি আমার প্রেম জগতেই জগত সেরা হয়ে উঠবে একদিন।


- সৌম্যজিৎ।










আজ ১৫ই জানুয়ারি, ২০১৮
প্রথমবার তোমার সাথে এত পরিষ্কার কথা বলা,
প্রথমবার যেন আমি আমার মনকেই চোখের সামনে দেখলাম,
এই প্রথমবার আমার বুকে জন্মানো হাজারও কথা তোমায় নিয়ে, -
ফুটে বেরোল শব্দের আকারে - কিরণ।


- সৌম্যজিৎ।











ঘুম চোখের স্বপ্ন ক্ষণিকেই হারিয়ে যায়।
খোলা চোখে স্বপ্নকে একটু একটু করে সেজে উঠতে দেখলে
সব কষ্টগুলো হারিয়ে যায় নিমেষেই।
যখন তোমার দিকে চেয়ে থাকি পড়তে পড়তে
বা কিছু চিন্তা করার ফাঁকে, লেখার বিরতিতে,
আমি দেখি আমার স্বপ্নকে কিরণ হয়ে ফুটে উঠতে।

-          সৌম্যজিৎ।








অপার হয়ে বসে আছ হে তুমি
দয়াময়ী,
দয়া নয় যদি প্রেম দিতে -
আমি নতশির প্রেমিক হয়ে প্রেরণা করে
মাথায় তুলে রাখতাম
দয়ার সাগরে ডুব দিয়ে মলিনতা মোর হবে না দূর,
আমি শুদ্ধ হতাম প্রেমেরই ছোঁয়াতে। 
কিরণ তুমি প্রকাশিত হও
এ চির জগত সংসারে,
আমার বুক অন্ধকারেই থাকুক,
আমি মিশে যাবো গভীর অলকানন্দে .. 

- সৌম্যজিৎ।





আমি জানি কিরণ তুমি
অধরাই থেকে যাবে চিরকাল ..
যে ভালবাসা,
যে অমর প্রেম আমি তোমার সাথে পেতে চেয়েছি তা 
অপ্রকাশিত অন্যকারোর আমানত ..
আমি জানি .. 

তবু তুমি আমারই সৃষ্টি,
আমি আমার প্রেমে তোমায় অমর করে দেবো চিরতরে ..

 - সৌম্যজিৎ। 






স্বর্ণাক্ষরে তোমায় অমর করে দেবো,
বিনিময়ে দু-ফোঁটা ভালবাসা আমি কখনো চাইবো না তোমার থেকে ..
আমি জানি অসীম মায়া তুমি ধরে আছ ওই দু-চোখে,
তাকালেই আমার মৃত্যু নিশ্চিত -
প্রেমের অতল গভীরে,
তবু আমি মরবো -
চাইবো না কৈফিয়ত,
তবু আমি আর বলবো না কিরণ -
'কেন তুমি ভালবাসনি!'


স্বর্ণাক্ষরে তোমায় অমর করে দেবো,
বিনিময়ে দু-ফোঁটা ভালবাসা আমি কখনো চাইবো না তোমার থেকে .. 

- সৌম্যজিৎ।




তোমার সাথে যা আছে 
সব থাক,
সবাই থাক,
যে তোমার আধার হয়েছে, শূন্য ভরতে ব্যস্ত,
সে'ও তোমার হয়েই থাকুক ..
আমি প্রেমিক,
কবিতার জাল বুনবো আমার প্রেমে,
কবিতা নিয়েই কাটিয়ে দেবো আমার -
প্রেমের বেলা .. 

এ প্রেম শুধু আমার,
এ প্রেমে অধিকারও শুধু আমার .. 

- সৌম্যজিৎ।




তোমার কপালে চুম্বনের এক চিলতে স্পর্শ,
নিস্তব্ধ মনেও 
হাজারও শব্দ কানে কানে এসে বলে যায় তোমায় বলতে .. 
আমার চোখ ফুটে কথা বেরিয়ে আসে,
সাদা চোখ ক্রমশ লাল বর্ণ ধারণ করে
তোমার চোখে অনেক কথা বলে দেয় তবু, -
মুখ ফুটে দুটো কথা বেরিয়ে আসতে পারে না কিরণ .. 

- সৌম্যজিৎ।


প্রেম না থাকলে –
প্রেমিক হওয়া যায়না,
প্রেম আমার অহংকার!
-      সৌম্যজিৎ।



শরীরে যে যন্ত্রণা ওঠে -
পেইনকিলার সে যন্ত্রণাকে নিবারণ করে। কিন্তু
মনে যে যন্ত্রণা ওঠে,
যখন সে যন্ত্রণা মনকে ক্ষত - বিক্ষত করে,
চোখের ভাষাকে রক্তাভ করে তোলে!
মন শুধু সে উত্তর খোঁজে যা তার
নিশ্চিন্ত আশ্রয় হতে পারে।


- সৌম্যজিৎ।









কিরণ,
তোমার প্রতি আমার প্রেম
আমাকে অসহায় করে তুলেছে
তোমাকে তীব্র অনুভব করার মাঝে যে
তীব্র ভালবাসা আমার মধ্যে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে, তা -
আমাকে বারে বারে মনে করিয়ে দেয় তোমার মনে আমার প্রতি অবজ্ঞার কথা
প্রেমের আগুন আমি আকণ্ঠ পান করে চলেছি প্রতিমুহূর্তে,
দুর্বল হয়ে উঠেছি,
জ্বলে, পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছি, তবু
জিজ্ঞাসু মনকে সঠিক উত্তর দিয়ে
নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের ছায়াতলে পৌঁছে দিতে পারছি না কিছুতেই

-         সৌম্যজিৎ









আমার এক বুক ভালবাসা তোমার সামনে ফিকে হয়ে যায়,
আমি মনে রেখে দেবো -
এ ভালবাসা তোমার যোগ্য নয়। 

- সৌম্যজিৎ।


















বুকের ভিতর চিন চিন করে বেড়ে ওঠা যন্ত্রণাটা
আমায় জানান দিচ্ছে
তুমি আমার নও, আমি তোমার নই ..
অথচ আমি আপাদমস্তক,
মনে, প্রাণে তোমারই থাকতে চেয়েছি,
থাকতে চাই।
তোমার কথাগুলি আমার কাছে
বড্ড অবহেলিত অনুভূতির জন্ম দিচ্ছে,
আমাকে ভেঙে লক্ষ কোটি টুকরো করে দিচ্ছে অনায়াসে।
তোমার এই অবহেলা আমায় বলছে
যা। এবার তোর সময় এসে গেছে।
স্বেচ্ছা নির্বাসনের পথে মুক্তিকে খুঁজে নে।

-          সৌম্যজিৎ।










জীবন তো একবারই মারবে,
প্রেম আমায় মারছে বারেবারে ..
- সৌম্যজিৎ।



















রোজ খেয়াল করি মনটা একটু একটু করে দূরে সরে যায়,
যা ভীষণ কল্পনার, যা কখনো না পাওয়ার, মনটা সেদিকেই সরে যায় রোজ .. 
কিরণ তোমায় বই ভর্তি চিঠি দিতে চাই,
মুখে যা প্রকাশ পায় না, চিঠিতে সব লিখে রেখে দিতে চাই সাক্ষী করে ..
তুমি পড়বে! 

- সৌম্যজিৎ।
















তুমি কিরণ।
সৌম্যজিৎ।


আমার সকাল জাগে, আমার রাত নেভে
তোমার ছবিতে,
আমার শ্বাস চলে, আমার বুক কাঁপে
তোমার ছবিতে,
আমার জেগে দেখা স্বপ্নে তুমি,
আমার ঘুমিয়ে থাকা স্বপ্নে তুমি,
শুধু তুমি কিরণ .. 
তুমি জীবন,
তুমি মরণ আমার,
তুমি আমার কিরণ ..

ওই আকাশের জ্যোৎস্না তুমি,
ওই বাতাসে মাখা মেঠো ধুলোর গন্ধ তুমি,
আমার আঁধারে একফালি আলো তুমি,
তুমি কিরণ ..

আমার বুকে জমে থাকা কষ্ট তুমি,
আমার কান্নার হাহাকার তুমি,
আমার মনের ব্যাথা তুমি -
তুমি কিরণ .. 

আমার আনন্দমেলা তুমি,
আমার হাসির ফোয়ারা তুমি,
আমার প্রাণের বাঁশি তুমি -
তুমি কিরণ .. 






















তোমায় বলতে পারিনি -
"
তুমি যতটা আপনজনের মৃত্যু'যন্ত্রণায় কাতর,
আমিও ততটাই কাতর হয়ে আছি তোমার যন্ত্রণাকে অনুভব করে"।
- সৌম্যজিৎ।




















আমার কাছে প্রেম!
সে রোজ আসে আমার লেখার মাঝে,
আমার হৃদয়ের খাঁজে।
আমার কাছে প্রেম এখন পাণ্ডুলিপির পাতায় সেজে ওঠা -
"কিরণ" নামের উচ্ছ্বাস,
যন্ত্রণা,
বুক চিনচিন করে ওঠা আবেগ।
প্রেম এখন আমার কাছে
পাতায় পাতায় ভরে ওঠা অজস্র কল্পনা যা -
সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা, রাতজুড়ে বুকের ভিতর লালন করছি,
প্রতিপালন করছি,
বড্ড বেহিসেবি খরচ করছি
অনুভূতি নামক নরম আস্তরণটি।
এভাবেই হয়ত খরচ করতে করতে
জীবনটাকেই কখনো খরচের শেষ পাতায় ইতি টেনে দেবো একদিন! ..


- সৌম্যজিৎ।













আমি জানি এ আমার অসম প্রতীক্ষা,
আমি জানি এ প্রতীক্ষায় আমি
আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবো একদিন,
তবু এ আমার প্রেম।
আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েও আমি
প্রেমিক হয়ে বেঁচে থাকবো আজীবন -
অমর হয়ে ..
- সৌম্যজিৎ।

















লাল ঠোঁট,
কাজলে মাখা দুটো চোখ আর
কপালে ছোট্ট কালো টিপটাই -
তোমায় আমি দেখি এই ধরণীর বুকেই
এক অপ্সরা রূপে ..
না জানি আর কোনো অপ্সরা এমন হয় কি 
স্বর্গ - মর্ত - পাতালে! 
তোমার স্নিগ্ধ ললাট বারেবারে
আমার চুম্বন স্পর্শে লিপ্টে যায়,
আর ওই ঘন কালো চুলের নরম স্পর্শ 
আমায় অনুভূত করায় তীব্র নিশ্চিন্তের এক ঠিকানা,
তোমার হাতের স্পর্শে খুঁজে পাই 
চোখ বন্ধ করেও চলার আশ্বাস,
আমি যে প্রেমিক তোমার,
তোমারই প্রেমে আচ্ছন্ন হয়ে কাটাই প্রতি'মুহূর্ত, -
প্রতি'বেলা।
তুমি কাছে থাকো বা দূরে,
তুমি সবসময় আমার সাথেই থাকো কিরণ।
তোমার সাথে কাটানো সমস্ত সময় -
হোক না সে কল্পনার,
তবু আমার,
আমার প্রেমের বেলা। 

- সৌম্যজিৎ।








এ প্রেমে আমার সবটুকু তোমায় দিলাম,
আমার প্রেম অপূর্ণতায় বেঁচে থাকুক চিরকাল।
কেবল তুমিই বুঝি একটুও ভালোবাসলে না,
আমার বুকফাটা হাহাকার আজ পৌঁছে দিলাম। 
সন্ধ্যা ঘিরে ওই মৃদু বাতাস আমার জানালায় এসে উঁকি দিচ্ছে,
দেখছে আমি ঘরে কেমন একলা বিষন্নতায় মিশে,
বুকে কান্না এসে থমকে গেছে,
চোখের কোণে  ভালোবাসা আজ মিছে। 
মিছে নয়, এ আমার প্রেম,
শুধু আমিই জানি ভালোবাসা কত দামী!
আমার সর্বস্ব লুটিয়ে দিলাম তোমায়,
শুধু জেনো এক প্রেমিক তোমায় ভালোবেসে
লুটে গেছে বিভীষিকায়।
কিরণ তবু প্রকাশ পাবে আমার মনে,
স্নিগ্ধ আলো এসে দেখাবে নতুন সকাল,
শুধু কিরণে যে ভালোবাসা আমি বেসেছি,
সে ভালোবাসা শুধু আমার হয়েই থাকবে চিরকাল ..

এ প্রেম শুধু আমারই থাকুক,
শুধু আমার হয়েই থাকুক,
এ প্রেমকে তো তুমি চাওনি কখনো,
এ প্রেমে শুধু আমারই অধিকার বাঁচুক। 

 - সৌম্যজিৎ।