Sunday, 20 September 2015


এখন আমি আমার লেখা লিখছি, এই লেখা লেখার সময় আমার মনের মধ্যে কতগুলো চিন্তা ও ভাবনা এসে যাচ্ছে। প্রথম ভাবনা, আমি কি মানুষ? আমি কি পশু? যে এমন একটা খবর পাওয়ার পর ঠান্ডা মাথায় স্টোরি কভার করছে। চিন্তা এটাই, আমার পাপা বেঁচে আছে তো? আমার পাপা নিজের প্রাণ ধরে রাখতে পারবে তো?


একটু আগে আমার ফোনে পাপার নম্বর থেকে একটা ফোন আসে, পাপার খুব বড় এক্সিডেন্ট হয়েগেছে বাইকে।জ্ঞান নেই, মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। আমি অস্থির হয়ে উঠি, মা, দাদা, জ্যেঠুকে ফোন করে জানাই, আমার খুব বাজে অভ্যাস, ফোনে একদম ব্যালান্স রাখিনা। আমার ফোনের ব্যালান্স শেষ হয়েগেল সবাইকে খবর দিয়ে জানাতে গিয়ে। আমি আছি কলকাতাতে, পাপা, মা করিমপুর। আমি এখান থেকে বেরোতে পারছিনা, আমার সাথে ভুতো আছে।  ওকে ছেড়ে বেরোতে পারছিনা। আমাকে কেউ ফোন করে জানাচ্ছেও না। নিজেকে খুব অসহায় লাগছে, বুকের মধ্যে কেঁপে উঠছে, মাথা ঝিম ঝিম করছে, না চাইতেও চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে আসছে, আর আতঙ্কের ছাপ ফুটে উঠছে আমার।


আমার পাপা বেঁচে থাকুক, নিজের প্রাণ টুকু ধরে রাখুক। এখন নিশ্চই সবাই পাপাকে  হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে, ডাক্তার পাপা কে বাঁচিয়ে দিক।  আমি আর কখনো আমার থেকে দুরে যেতে দেবোনা। গত কয়েকদিন ধরে শুধু মৃত্যুর স্বপ্ন দেখছি, এখন যেন বুকের মধ্যে হিম হয়ে যাচ্ছে। আমার পাপা বেঁচে আছেতো?

Saturday, 19 September 2015

চোখ নদীতে জল
অকারণে করে টলমল ,
জানে অদৃষ্ট লিখন বিধাতায়।

আজ যদি আমি এমন কোনো গল্প লিখি, হিরো, হিরোইন এর না মেলার কাহিনী, তবে তোমরা কি ভাববে? তবে লিখি।

একটা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করা ছেলে, যে সবে কলেজে এডমিশান নিয়েছে, ইংলিশ অনার্স এ। কলেজের কাছেই একটা হোস্টেল পেয়েছে। স্বপ্ন হাজার রকমের। যাইহোক, পড়াশোনাতে সে খুবই ব্যস্ত। কলেজে আসতেই প্রথম দিন থেকে দেখলাম, সামনের বেঞ্চ থেকে একটা মেয়ে আমাকে ফলো করতে থাকে, বেশ কয়েকমাস ধরে ফলো করে। হঠাত করে আমি একদিন তাকে জিজ্ঞাসা করি, আমাকে ফলো করছো কেন? মেয়েটা হাসে। তারপর আমিও আস্তে আসতে তার প্রেমে পড়তে থাকি।

একদিন ক্লাসে আমি আর মেয়েটা সবার আগে চলে আসি, দুজনে কথা বলছি, হঠাত একটা ছেলে এসে মেয়েটাকে বাজে বাজে ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলতে থাকে, মেয়েটা অস্বস্তিতে পরে যায়।  আমি খুব রেগে যাই, ছেলেটার মাথায় একটা চাটি মারি, ছেলেটা ছিটকে গিয়ে বেঞ্চের ওপর পরে ততক্ষনাত মরে যায়। আমি ছেলেটার গায়ে মাথায় হাত দিয়ে সেটা বুঝতে পারি, আমার হাতে রক্ত লেগে যায়, মেয়েটা নিজের ওরনা  দিয়ে আমার হাতের সব রক্ত মুছিয়ে দেয়। তারপর ওই রক্ত নিজের হাতে নিয়ে সবদোষ নিজের ওপরে নেওয়ার চেষ্টা করে। কলেজের ছেলে মেয়েরা জমা হওয়ার আগে আমি ওকে বলি, "আমরা দুজন যদি ফেসে যাই, তাহলে আমাদের বাড়ির লোকজনদের দ্যাখাশোনা কে করবে? তাই, আমি দোষ নিয়ে যাবো, আমি ফিরে আসবো, তুমি সবাইকে দেখে রেখো।"


যথারীতি স্টুডেন্টসরা আসার পর পুলিশ কেস হয়, পুলিশ আমাকে ধরে নিয়ে কোর্ট এ চালান দেয়। কোর্ট আমাকে সেল্ফ ডিফেন্স এর আওতায় বেকসুর খালাস দেয়, আমি ফিরে আসি, মেয়েটার সাথে আনন্দে দিন কাটাতে শুরু  করি।

ইতিমধ্যে আমার একটা বেস্ট ফ্রেন্ড হয় কলেজে, আমরা ঘুরতে যায়।  ঘুরতে গিয়ে দেখি, আমরা সেই জায়গায় আসি, যেখানে ওই মৃত ছেলেটার বাড়ি। ওর বাড়ির লোক আমাকে মারার প্ল্যান করে।  আমাকে একটা গুদাম ঘরে নিয়ে গিয়ে ঘর অন্ধকার করে, ওরা সবাই চাপাতি নিয়ে আসে ১০-১২ জন মিলে। গল্পের গরু গাছে ওঠে, সেই কৌশলে আমি ওখান থেকে বাঁচার জন্য ওদের ভূতের ভয় দ্যাখাতে শুরু করি, সিলিং ধরে আমি একপাশ থেকে অন্যপাশে যাই, অন্ধকারে কাজটা এমন ভাবে করি, ওরা সত্যি ভূত ভেবে ভয় পায়, ও ছোটাছুটি করতে থাকে ঘরময়। সেই সুযোগে আমি ওখান থেকে বেরিয়ে যায়।  বিকেলে আমার ওই প্রেমিকাকে সময় বলে একটা নদীর ধরে আসতে বলেছিলাম, তাই আমি সেই নদীর ধরে যাই, গিয়ে মেয়েটাকে খুঁজে পায়না। চারিদিকে খুঁজে কোথাও পাইনা।

দুরে দেখি কতজন ছেলে ড্রাগ নিচ্ছে, আমি ওদের কাছে গিয়ে দেখি, ওরা বলাবলি করছে, ওরা একটা ছেলে আর মেয়েকে গলা টিপে মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দিয়েছে, ওরা বলছে, "মেয়েটাকে ওরা সম্ভোগের প্রস্তাব দিয়েছিলো, মেয়েটা ওদের থাপ্পর মারে, তারপর ওরা মেয়েটাকে জোর করতেই, একটা ছেলে ওদের বাধা দেয়। তখন ওরা ছেলে আর মেয়েটাকে গলা টিপে মেরে পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। "

আমি এসব শুনে আঁতকে উঠি, আমি পাশের ডোবার মধ্যে নেমে যাই, দেখি, দেখতে দেখতে দুটো লাশ খুঁজে পাই, হা: ভগবান, এ যে সে, আমার মণি, আর রাহুল। ওরা ওদের নৃসংশ ভাবে মেরেছে। আমি আঁতকে উঠতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।

আমি ওপরের যে গল্পটা বললাম, সেটা আমি গতকাল রাতে স্বপ্নে দেখেছি, খুব ভয়ঙ্কর ও বিরহের। প্রায় প্রতি রাতে এমন সব স্বপ্ন দেখে আমি ক্লান্ত হয়ে উঠছি।  কবিতার কোটেশনটা আলো ঘোষ ম্যামের লেখা, পুরো কবিতাটা পড়তে চাইলে, তোমরা ওনার প্রোফাইল দেখো।
man to
find what'er you belong, conscious, embrace.
forget to keep humanity, we prefer  satisfying another to convince.


নারী।
সৌম্যজিৎ।

 নারী,
 তোর শেকল বাঁধা পায়ের ধ্বনি কানে ভাসে,
 নারী তোর গর্ভে ওরা লাঙল দিয়ে বাচ্চা চষে,
 নারী তোর গায়ে ওরা বোরখা চাপায়,
 নারী তোর শরীর আছে তবু মন নাই।

 চল নারী তোকে নিয়ে আমি লড়াই গড়ি,
 আয় তোর খাঁচা খুলে তোকে মুক্ত করি।

 চল ভাঙি পুরুষ জাতের পুরুষ তন্ত্র,
 আমারও তো মা আছে, তোদের মতই মেয়ে যন্ত্র।

 চল নারী লড়াই করি তাদের সাথে,
 ভালবাসার ছলে যারা শরীর মন ছিন্ন করে।

নারী তুই আসবি তো,
থাকবি তো এই লড়াইয়ে?
আমি তোদের সাহস দেবো, স্বপ্ন দেবো,
জীবন দিয়ে। 

Tuesday, 15 September 2015

কাল যদি আমি বেসামাল হই,
ক্ষমা করে দিও,
দিনের পর দিন, কত দিন ধরে
অপেক্ষা করে আছি।
একটু ফাঁকা সময়,
একটু একা।  একাকী।

কাল যদি আমি মাতালের মত প্রশ্নও করি,
ক্ষমা করে দিও।

জানি অনেক চিন্তা তোমার, তোমাদের।
জানি তুমি ভয় পাও।
তবু যদি এতকিছুর মধ্যে,
একটু পুরনো বন্ধুর সাথে সময় কাটাই,
তুমি কি খুব রাগ করবে?

শুধু বই, বইয়ের সাথে মিশে থাকা,
দু-গ্লাসএন্টিকুইটির চুমুক, আর দুটো ক্লাসিক  সিগারেট।
এতটুকুই শুধু, অনেক অপেক্ষার পর একটু আনন্দ।
তুমি কি খুব রাগ করবে?
কাল যদি আমি বেসামাল হই,
ক্ষমা করে দিও,
দিনের পর দিন, কত দিন ধরে 
অপেক্ষা করে আছি। 
একটু ফাঁকা সময়,
একটু একা।  একাকী।

কাল যদি আমি মাতালের মত প্রশ্নও করি,
ক্ষমা করে দিও। 

জানি অনেক চিন্তা তোমার, তোমাদের।
জানি তুমি ভয় পাও। 
তবু যদি এতকিছুর মধ্যে,
একটু পুরনো বন্ধুর সাথে সময় কাটাই,
তুমি কি খুব রাগ করবে?


শুধু বই, বইয়ের সাথে মিশে থাকা,
দু-গ্লাসএন্টিকুইটির চুমুক, আর দুটো সিগারেট।
এতটুকুই শুধু, অনেক অপেক্ষার পর একটু আনন্দ।
তুমি কি খুব রাগ করবে?

Monday, 14 September 2015

উফ: চারিদিকে নিউক্লিয়াস কবিতা লেখার একটা হিরিক পরেগেছে, ওরে বাবা, ওই অমন মাত্র ৩ - ৪ পংতি তে মনের ভাব ফুটিয়ে তোলা মানে অঙ্ক কষে কবিতা লেখা। এভাবে আবার কবিতা লেখা যায় নাকি? মাত্রা কমাও, শিরোনাম থাকবেনা, বরং শিরোনামে নিউক্লিয়াস কবিতা লিখলে ভালো দ্যাখাবে, আরে বাবা, কেউ যদি ঠিক করেদেন, কোন কবিতা গুলোতে কি নাম রাখা উচিত, তাহলে কবিদের কবিত্ব কোথায় থাকবে? কবিতা হলো মনের রসিকতা, সেখানে এত অঙ্ক ঢুকিয়ে গম্ভীর করার কি আছে? কিন্তু না, কবিদের এখন আন্তর্জাতিক হতে হবে, তাই নিউক্লিয়াস কবিতা লেখা চাই, লেখো তাহলে। আমার কি? আমি ঠিক পড়ব। 
কোনো একদিন ছুঁয়েছিলি 
এ অরণ্য হৃদয় 
জীবনের কোনো এক বাঁকে
বৃষ্টিযাপন কালে…।

এখন বয়ছিস তুই 
নানা আঁকাবাঁকা পথ ধরে,
ছুঁয়ে যাচ্ছিস আরো কত হৃদয়,
পাচ্ছিস কি সেই উর্বরতা,
যেভাবে ছুঁয়েছিলি 
এ অরন্য হৃদয়?

বয়ে চল তুই আরো পথ ধরে,
আমি শুধু দেখব সেই পুরনো স্মৃতি নিয়ে বয়ে চলা 
শান্ত স্নিগ্ধ আমার অরণ্যপথ।
মনে রেখেদেবো।

Sunday, 13 September 2015

তাছাড়া পরিবর্তন প্রকৃতির নিয়ম। মানব কল্যানহেতু শুভ পরিবর্তন বাঞ্চনীয়। অভিযোজন পরিবর্তনের অংশ, সমাজ চেতনায় অভিযোজন ও অভিযোজনের সাথে মানসিক পরিবর্তন স্বমাজ ও প্রজন্মকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। বিজ্ঞান সেই পরিবর্তনের বাহক, বিজ্ঞানকে অস্বীকার করা মানে স্বমাজের রন্ধ্রে কর্কট প্রকার বিষ সূচিপ্রয়োগ করা। যার অর্থ ধ্বংস।
ধর্মকে মানুষের কল্যানে ব্যবহার করো, ধর্মের জন্য মানুষকে ব্যবহার করে অধর্ম কোরোনা।
কি চলছে স্বমাজে? মানুষ এটা কেন বুঝতে চাইছেনা, যে এই আল্লাহ, ইশ্বর এরা আমাদেরকাছে  দৃষ্টান্ত মাত্র, তারা কখনো মানবিকতার জন্য লড়াই করেছেন, সেজন্য, আমরা এদের মানি, ঠিক আমরাও যদি মানবিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরতে পারি, কখনো আমাদেরও  ভগবানতুল্য মানা হবে।  অলৌকিক কিছু হয়না, আসলে স্বমাজ তাদের অলৌকিক দেবতা ভেবে পুজো করে, কখনো এটা ভাবেনা, মানুষ ইচ্ছা করলে সমস্ত অপশক্তির  (খুন,জখম, দাঙ্গা, চুরি প্রভৃতি ) বিরুদ্ধে লড়তে পারে। এটা কোনো অলৌকিক শক্তি নয়। "মানুষ, তোমরা ধর্ম মানতে চাইলে, ধর্মের আচরণ ধরো, চরণ ধরে কি হবে? মানবিক দৃষ্টান্ত  গুলো রপ্ত করো।  ওটাই প্রকৃত ধর্ম।"

Thursday, 10 September 2015

তুমি আমাকে শেষ করে ফেলো,
নিঃশেষ করে ফেলো,
সঁপে দিলাম এই প্রানমিনু।

তোমার যেমন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা নাও আমায়,
অন্তরে হব বিলীন।

(আমি তোমাকে ফিরিয়ে আনবোই , ভরসা রেখো, অপেক্ষা কোরো।)

Monday, 7 September 2015

ঘুমের দেশে রাত্রি ও রক্ত।

                  সৌম্যজিত দত্ত




দিনগুলো খুব স্বাভাবিক চলতে থাকে, কোনো রহস্য নেই।  কোনো নুতন যোগ বিয়োগের হিসাব খুঁজে পাচ্ছিনা, একদম সাদামাঠা। রোজকার রুটিন, চিন্তা, নিজেকে জায়গায় পৌঁছে দিতে নানারকম পরিকল্পনা, ছক কষাকষি। ব্যাস, এতটুকুই এডভেঞ্চার। অনেক ও বহু ক্ষেত্রে আমার পরিকল্পনা, সাজানো পরিকল্পনা গুলো যথেষ্ট পরিমানে বাস্তবায়িত হয়। অনবরত ম্যান ওয়াচ করি, নিজেকেও ওয়াচ করে চলি প্রতিনিয়ত। প্ল্যান এ, প্ল্যান বি, প্ল্যান সি সবসময় রেডি রাখি, ও পরিস্থিতি গুলো নিজের মত করে সাজিয়ে নিই, এবং সবরকম ছোট বড় সম্ভাবনা গুলোকে মাইক্রোস্কপিক্যালি পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা করে চলি। এতে ভুলের পরিমান অনেক কমেগেছে, এবং পরিস্থিতি আয়ত্তের মধ্যে নিয়ে আসার সফলতাও কিছুটা অর্জন করেছি। অহংকার করে বলছিনা, আমার অনেক বন্ধুই হয়ত লেখাটা পড়বে, যারা আমার এই সাইকোলজিকাল পাওয়ার সম্পর্কে জ্ঞাত হয়েছে। আমার নিজেরও বেশ লাগে ব্যাপারটা। এবার আসল কথায় আসা যাক।

ইদানিংকাল আমি আমার মানসিক অবস্থার কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি। হয়ত কাজের চাপ বাড়ছে বলে, হয়ত অতিরিক্ত চিন্তা ভাবনা বাড়িয়ে তুলছি বলে, হয়ত পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটছে বলে।  যেকোনো কারণ থাকতে পারে আমার এই মানসিক পরিবর্তনের পিছনে। তবে এর ফলস্বরূপ যা ঘটছে, তা অতি ভয়ঙ্কর। যখন ঘুমোচ্ছি, তখন নানারকম দুঃস্বপ্ন দেখছি। দুঃস্বপ্ন, যেখানে মৃত্যু হচ্ছে, রক্ত ঝরছে। মাঝখানে এমন কিছু স্বপ্ন দেখেছি, যা আমার পুরো মনে নেই, তবে আবছা আবছা মনে আসছে, একদিন দেখলাম, একটা বিশাল রাজপ্রাসাদ, সম্ভবত আমি সেখানকার যুবরাজ, সেখানে অনেক অন্ধ কুটির আছে।  হঠাত করে দেখি, পৃথিবীর সমস্ত দেশ গুলো একে অপরের সাথে যুদ্ধ করছে। গুলি, তরবারী কোনকিছু বাদ নেই।  কেউ ধ্বংস করতে, কেউ ক্ষমতা অধিকার করতে, কেউ পীড়িত মানুষদের উদ্ধার করতে যুদ্ধ করছে। ইংল্যান্ড, চীন, জাপান, পাকিস্তান সব দেশ আছে সেই যুদ্ধে। হঠাত দেখি, আমি, আমার মা, পাপা, আমাদের প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি করে বেড়াচ্ছি। পালাচ্ছি, লুকোচ্ছি, কখনো তরবারির আঘাতে শত্রুদের ধরে মারছি। লড়াই চলছে সারারাত। সবসময় প্রানের মধ্যে ভয় কাজ করছে, এই মনেহয় মরে যাবো, এই মনেহয় কেউ মেরে দেবে। প্রানের মধ্যে ভয়, মনের মধ্যে বাঁচার চেষ্টায় হিংস্রতা, চোখ গুলো লাল। একসময় দেখি, মা পাপা কেউ নেই।  আরও  ভয় পেয়ে যাই। পাগলের মত আক্রমন করি, সামনে কে, না দেখেই পশুর মত মারতে থাকি। যেকোনো প্রকারে বেঁচে থাকতে হবে। শরীরে আঘাত লাগতে দেওয়া যাবেনা। সেই মুহূর্ত গুলোতে মনের মধ্যে লড়াই করার ধুর্ততাও তৈরী হচ্ছে। এভাবে বেঁচে থাকার লড়াই লড়তে লড়তে  দেখি ভোর হয়ে আসল, আমিও বাঁচার  আশা দেখতে পেলাম। যেন সেই প্রাসাদের মধ্যেই একটা তার কাঁটা-তার বর্ডার দেখতে পেলাম, ব্যাস ঐটুকু পার হতে পারলেই প্রাণে বেঁচে যাবো। লাফ দিয়ে পার হতে গিয়ে দেখলাম, আমার মাও ওই একইভাবে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। আমি, মা বেঁচে গেলাম, কিন্তু পাপাকে আর খুঁজে পেলামনা, সত্যি তখন সকাল হয়ে আমার ঘুমটা ভেঙে  গেল।

একদিন দেখলাম, একটা কালো রঙের বিষাক্ত সাপ আমাকে কামড়ানোর জন্য সবসময় তাড়া করে বেড়াচ্ছে, যেন সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, আমাকে কামড়াবে। আমি প্রানের ভয়ে এদিক ওদিক ছোটা ছুটি করে বেড়াচ্ছি। কপাল ঘেমে যাচ্ছে। ছোবল মারছে আমাকে, কিন্তু ব্যর্থ হচ্ছে বারবার আমাকে আঘাত করতে, আবার তাড়া করছে, আমাকে কামড়াবে। শেষ পর্যন্ত কামরাতে পারেনি, আমার ঘুম ভেঙে  যায়।

কাল রাতেও এমনি এক স্বপ্ন দেখেছি। আমাদের তিনজন, মানে আমি, মা, পাপা, এই তিনজনকে কিছু মানুষ খুন করবে বলে হুমকি দিয়েছে। এমন হুমকি, যেন এটাই বিধিলেখা। নানারকম ছল করে প্রথমে মা কে মেরে ফেলল আমার চোখের সামনে, আমি আঁতকে  উঠলাম। কিছু সময় পর, ছল করে পাপাকে মেরে ফেলল। আমি খুব ভেঙে  পরলাম।  তারপর ওরা একের পর এক আমাকে মারার জন্য হামলা করতে থাকল, আমি প্রানের ভয়ে  ও প্রাণ বাঁচাতে লড়াই শুরু করলাম।  নিজেকে বাঁচাতে একের পর এক সেই মানুষগুলোকে মারতে থাকলাম, যেন আমাকে বাঁচতেই হবে, তাই সেই মানুষগুলোকে মরতেই হবে, নাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। একজন একজন করে আমি তাদের মারলাম। সেটা এমন ভাবে যে, তারা আমাকে মারতে এসেছে, আমি তাদের সাথে হিংস্রতার  ছল করে, লুকিয়ে থেকে একের পর এক আঘাত করে মেরে ফেলছি। শেষ পর্যন্ত আমাকে আর কেউ মারতে পারলনা, আমি ওদের সবাইকে এক এক করে মেরে ফেললাম। আমার ঘুম ভেঙে গেল।

স্বপ্ন গুলোতে কিছু কমন জিনিস ছিল।  সেগুলো হলো, প্রতিটা স্বপ্নে প্রাণ সংশয় হয়েছে, বাঁচার জন্য লড়াই করেছি, কোনো স্বপ্নে আমাকে শেষ অবধি কেউ মারতে পারেনি। প্রথম স্বপ্নে পাপাকে খুঁজে পাইনি। শেষ স্বপ্নে মা, পাপাকে আমার চোখের সামনে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে।

আমি স্বপ্ন গুলো শেয়ার করলাম, কারণ আমি মনেহয় এই স্বপ্ন গুলোর মধ্যে জীবনে লড়াই করার কোনো ইঙ্গিত পাচ্ছি। তোমাদের কাছে এডভেঞ্চার হিসেবে স্বপ্নের গল্পগুলো ভাললাগতে পারে, কিন্তু আমার রাতের ঘুমকে দুঃসহ করে তুলেছে। বেঁচে থাকার লড়াই, ও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা। স্বপ্নের মধ্যে আমি দেখেছি, আমি ভিতু, ভয় পাচ্ছি, বাস্তব জীবনে আমি কখনো ভয় পাবোনা, আমাকে কেউ মারতে চাইলে, তাকে আস্তে আস্তে খুব মিষ্টি ভাষায় জিজ্ঞাসা করবো, আমাকে কেন মারতে চাইছ? আমার জন্য তোমাদের কি অসুবিধা হচ্ছে? আমাকে খুলে বল, কথা বলেও তো সমস্যার সমাধান হয়, তাহলে মারামারির কোনো প্রয়োজন হয়না।


Friday, 4 September 2015

প্রবল ঘুর্নিঝড়ে , সব যখন এলোমেলো, উড়ে যাচ্ছে
ঝড়ের সাথে,
তখন একাকী একপ্রান্তে দাড়িয়ে আমি, হাত দুটো
শক্ত করে দাড়িয়ে, উড়ে না যাওয়ার প্রবল ইচ্ছা মনের মধ্যে জাগিয়ে তুলে,
দাঁতে দাঁত চেপে।
জানি ঝড় থামবে, সব উড়ে যাবে,
মাঠ, ঘাট যেন ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত রূপ নেবে,
শুধু আমি থাকবো, থাকবে আমার এই সাহস।

আমার জীবনে আমি সবসময় এমন মনের জোর ধরে রেখে থেকেছি, ব্যর্থ হয়েছি, বারবার ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু ভেঙ্গে পরিনি কখনো। যতবার ব্যর্থ হয়েছি, ততবার উঠে দাড়ানোর কথা ভেবেছি। তারপর সেখানে কিছুটা সাফল্য পেয়েছি, সেই সাফল্য খুব বেশি না হলেও, সেটাই আমার আসল সফলতা, সেটা বলার অপেক্ষা থাকেনা। আমি বুঝেছি, "ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষা দেয়, সফলতা একটা সুখ স্মৃতি, যা আমাদের বিশ্বাস কে কিছুটা এগিয়ে দেয়।  সেই অর্থে ব্যর্থতা আমাদের সবথেকে বড় শিক্ষক।" আমি সবসময় মনে করেছি, পরীক্ষার সময় প্রশ্নপত্র যত বেশি কঠিন হবে, তাতে যদি আমাদের প্রাপ্ত নম্বর কমও হয়, তবু সেখানেই আমাদের শিক্ষার সঠিক মূল্যায়ন সম্ভব। ঠিক তেমনি, শিক্ষক যেমনি হোক না কেন, রাগী বা বন্ধুভাবাপন্ন, আমরা তাদের কাছে জীবনে চলার জন্য অনেক অনেক বার্তা পায় , প্রতিটা কথা আমাদের শিক্ষা দিয়ে যাই, যা পরবর্তী জীবনে আমাদের চলার পথে কোনো না কোনো কাজে ঠিক লেগে যায়।  অর্থাৎ, শিক্ষক দের এই বাণী আমাদের জীবনে সেই দৈব-অস্ত্রের মূলমন্ত্র, যা আমাদের রক্ষা করে চলে।  আমি আমার সমস্ত শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। অনেকে হয়ত আজ পৃথিবীতে নেই, তাদের কাছেও আমি আশির্বাদ প্রার্থনা করছি। আমাদের সবাইকে আপনারা আশির্বাদ করবেন স্যার ও ম্যাম। আমার প্রণাম নেবেন।

                                                                           আপনাদের স্নেহের
                                                                            সৌম্যজিত।