Saturday, 16 July 2016


শরীরকে নির্বাসন দিল ওরা, কলমকে দিতে পারবেনা।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিনকে।

ওরা আটকাতে গেল তোমার চলার গতি,
ওরা কি পারল তোমায় থামাতে?
ওরা ব্যর্থ তোমার কলম থামাতে, ওরা পারেনি তোমাকে চুপ করাতে।
মূর্খ ওরা, ওরা শুধু শরীরেই তোমাকে নির্বাসন দিল,
ওই দ্যাখো মূর্খ ওরা অশিক্ষিতের মতো রাস্তার গুণ্ডামি দেখাল,
ওরা তোমাকে পারেনি থামাতে, ওরা পারেনি তোমাকে হারাতে।
শরীরে সরালেই বুঝি মনকে থামান যায়?
ওটা কি রাজনীতি নাকি ধম্মের কুটনীতি?
তবে কি রাজনীতির ব্যবসা!

বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুর্খামি গোটা বিশ্ব দেখেছিল,
শিক্ষার, চেতনার, আদর্শের চিন্তাতে লেখা উপন্যাসে
ওদের অভিসন্ধি ভেঙে তছনছ হয়েগেছিল।
রাস্তায় নেমে ওরা লেখিকার প্রাণদণ্ড চেয়েছিল!
কতটা মূর্খ হলে, কত ভণ্ড হলে, কত তুচ্ছ হলে
কেউ সদলবলে রাস্তায় নামতে পারে অস্ত্র হাতে?
কতটা কলঙ্কিত হলে কেউ লেখকের মৃত্যুদণ্ড চাইতে পারে অন্ধের কুসংস্কারে?
জাতির নামে ওরা নিজেরাই নিজেদের লজ্জার রূপ তুলে ধরেছিল বিশ্ববাসীর সম্মুখে।
ওরা মানুষ ছিলনা,
অমানুষের রক্ত ওরা
প্রতিটা শিরাতে, ধমনীতে বহন করে পরিচয় দিয়েছে ওদের কৃতকর্মে।
মূর্খ ওরা, ভণ্ড জাতি,
জাতিভেদের নেশাতে মত্ত ওরা রক্তের স্বাদ খুঁজে বেড়ায়।
ওরা চলে রোবটের মতো,
কলকাঠি নাড়ে রাজনীতি - ধর্ম,
ওরা মানুষ মারতেই শিখেছে,
কলমকে ওরা থামাতে পারবে না।

ঠাণ্ডা রাজনীতির নোংরা রূপ পশ্চিমবঙ্গও দেখিয়েছিল,
ওই বুদ্ধ, বিমানরা সিপিআইএম জমানায় দেখিয়েছিল ওদের নোংরা রাজনীতির চেহারা,
লেখককে থামাতে ওরা নিসিদ্ধ করেছিল দ্বিখণ্ডিত।
লেখক ওদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিল সেদিন দ্বিখণ্ডিতকে মুক্ত করে।
নোংরা রাজনীতির দালালরা তোমাকে থামাতে নানা হুমকি, নানা ধমকি দিয়ে,
রাস্তাতে পয়সা ঢেলে ভাড়াটে গুণ্ডার হাতে প্ল্যাকার্ড ধরিয়েছিল।
কত নোংরামি দেখেছে কলকাতাবাসী!!
কতটা নোংরা প্রবৃত্তির মন থাকলে, কতটা হিংস্র হলে ঠাণ্ডা বুদ্ধির রাজনীতি খেলা যায়
সিপিআইএমের থেকে বেশি কে জানে?
ওরা সফল হয়েছিল তোমার শরীরকে নির্বাসন দিয়ে।
ওরা কি তোমার মনকে নির্বাসন দিতে পেরেছিল?
মুছে দিতে কি ওরা পেরেছিল তোমাকে বাংলাবাসীর মন থেকে?
ওরা পারেনি তোমাকে মুছে দিতে।
ওদের ধারা বজায় রাখল তৃনমূল নেতৃও,
মুখে সংস্কৃতির পুজারী, তৃনমূল বন্ধ করেদিল সংস্কৃতির মাধ্যম,
বন্ধ করেদিল সিরিয়াল এপিসোড।
দেবির মতো পূজো করেছি যে তৃণমূল নেতৃকে,
সেই পদে পদে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করলো এক মানবতাবাদী নারীকে, এক লেখককে।
সংস্কৃতির বিকাশের নামে ভন্ডামির রূপ তুলে ধরলো সংস্কৃতির প্রচারেই,
তৃনমূল কখনোই মানবতাবাদী পার্টি হতে পারেনি,
তৃণমূলের রক্তে শুধুই বিষ, মানবতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিষাক্ত ইঞ্জেকশান প্রণোদিত করছে।
ওরা বড় ধূর্ত, ওরা বড়ই মূর্খ,
ধূর্তামী ও মুর্খামির খেলা এক,
ধূর্তামীতে শুধু আখের গোছানো যায়,
উন্নতি সাধন হয়না।
উন্নতি করতে বুদ্ধির প্রয়োজন, সততার প্রয়োজন,
বুদ্ধি কখনো আদর্শের পথে বাধা হয়না।


ওরা শুধু শরীরেই তসলিমা নাসরিনকে নির্বাসন দিয়েছে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের চিন্তাকে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের আদর্শকে,
ওরা থামাতে পারেনি তসলিমা নাসরিনের কলমকে,
ওরা থামাতে পারবেওনা।
কলম চলছে,
কলম চলবেই।

No comments:

Post a Comment