তসলিমা নাসরিন ও সমাজ।
সৌম্যজিৎ।
লজ্জা লিখেছিলে লজ্জা দিতে,
লজ্জা কি আর নির্লজ্জের সাজে!
মূর্খ ওরা ভণ্ড ধার্মিক,
লজ্জা নয় ওরা মিথ্যে গোঁড়ামি, কলঙ্কের অন্ধকারেও হাসে।
কলঙ্ক ওদের জন্ম থেকেই,
রক্তের প্রতিটি কণাতে মিশে মৌলবাদ,
ওরা চাই নারীর ইজ্জত বন্ধ ঘরে,
বাইরে নারীর আপাদ মস্তকে পর্দা।
নারীকে ওরা তালাবন্ধ করতে চায় যোনিতে, স্তনে,
নারীর এই বদ্ধ পরাধীনতাতে তাদের ঈমানদণ্ড সুরক্ষা খোঁজে,
নারী সত্যিই ভোগের বস্তু,
বন্ধ ঘরে লালসা মেটায় আবারও বন্দী হয়।
নারীভোগী মৌলবাদী নপুংসক নচ্ছার ওরা
যৌন সুখ পায় পাশবিক যৌন নির্যাতনে।
যৌন মিলন হয় দুটো প্রাণের মাঝে,
ওরা যৌনতা নয়, ধর্ষণে তৃপ্তি পায়।
সময়ের সাথে অভিযোজন, বিজ্ঞানের সাথে মিলনস্পর্শ ওদের ধর্মে নাই,
ওদের ধর্ম বড় বড় বুলি আওড়াই।
মুখে বলে ইসলাম পবিত্র,
রক্ত মেখে ওরা নিজেদের তৃপ্তি মেটায়।
ক্ষুধার্থ নেকড়ের মত চাপাতিতে শান দেয়,
সুবিধাভোগী রাস্তাতে কেউ সামনে রুখে দাঁড়ালেই,
চাপাতিতে কল্লা, মস্তিষ্ক ঘিলু উড়িয়ে দেয়।
ওদের চিন্তাতে একটাই লক্ষ্য, "নারীকে ততক্ষণ ভোগ কর,
যতক্ষণ নারী বাচ্চা দিতে সক্ষম,
বাচ্চা পয়দা কর, ইসলামি সেনা বাড়াও,
গোটা পৃথিবী জুড়ে ইসলাম কায়েম কর।"
এই গোমূর্খ, দণ্ড ছাঁটা সমাজকে তুমি লজ্জা দিতে চেয়েছিলে!
ওরা লজ্জার মুল্য বোঝে!
ওরা শুধুই সচেতন মানুষের চোখের লজ্জা হতে পারে,
ওরা শুধুই খুন করতে জানে।
তুমি কি শেখাতে চাও হিন্দু মৌলজনদের!
হিন্দু মৌলজন গুলোই বা কম কিসের?
ওরা নারীকে বাইরে থেকে পর্দা করেনা,
ওদের ঘরেই মহিলারা বেঁচে থেকে আগুনে পোড়ে।
ভালোবাসা দিয়ে আঁকরে ধরতে চায় ওরা স্বামীদের,
স্বামীগুলো ওদের পনের সামগ্রী ভাবে,
পন পেলে খুশি নয়ত বাইরে ততোধিক পরকীয়াতে সুখ, লালসা মেটায়।
তুমি যতক্ষণ ইসলামের সমালোচনা করবে,
হিন্দু মৌলগণ তোমাকে মাথায় তুলে নাচবে,
যেই তুমি হিন্দু নারীর ওপর অত্যাচারের কথা বলবে,
ওরা দল বেঁধে তোমাকে খেঁকিয়ে উঠবে।
লজ্জা কারোরই নাই।
এদের তুমি আর কি লজ্জা দেবে!
সমাজ এটাই, এই সমাজ শুধুই পুরুষতন্ত্রভোগে লাগে,
নারী চিৎকার করুক বাঁচার জন্য,
দু-চারজন এগিয়ে আসুক দৃষ্টান্ত হয়ে,
তবু সমাজ চলবে আপন গতিতেই।
এই সমাজ তোমার নয়,
তাইত তোমাকে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে হয়,
উপমহাদেশ লাঞ্ছিত।
ব্যর্থ ওরা নারী সুরক্ষা দিতে,
ব্যর্থ ওরা চিন্তার অগ্রগতিকে সম্মান দিতে,
ব্যর্থ ওরা নারীকে সম্মান দিতে,
ব্যর্থ ওরা এক তসলিমা সাগরের জ্ঞানকে রপ্ত করতে।
যে সমাজ তোমার নয়, সে সমাজ আমার হবে কিকরে!
তসলিমা নাসরিন এক জ্ঞান সাগর,
তসলিমা নাসরিন অভিযোজিত চিন্তার বাহক,
ওরা সব স্বার্থভোগী, তসলিমা নাসরিন ওদের পথের কাঁটা।
ওরা সমাজকে দমিয়ে রাখে গায়ের জোরে,
ওরা সমাজকে সম্মোহিত করে রাখে,
পরজন্মের মুক্তির লোভ দেখিয়ে ওরা ইহজন্মকে দাসত্ব করায়,
তসলিমা নাসরিন ওদের দাস নয়।
এই সমাজ তসলিমা নাসরিনের নয়,
এই সমাজ আমার নয়।
No comments:
Post a Comment