Friday, 3 June 2016


মা'কে।
সৌম্যজিৎ।

হাসিতে তোমার কান্না শুনতে পাই মা,
হাসি দিয়ে তুমি ধরে রেখেছো এই সংসার।
কি পেয়েছো? কিছুই তো পাওনি, আজ মাঝ বয়সেও তুমি বড় অসহায়।
ওসব টাকা কড়িতে, জমি ভূমিতে তোমার কোনো আগ্রহও নাই তবু 
সেটাও আগলে রেখেছো।
সন্তানকে উপহার দেবে ভেবেছো!
পাগলি মা আমার, তোমার ছেলেরও ওসবে কোনো আকর্ষণ যে নাই।
আমি তো ভালোবেসেছি অন্য একটা জগৎ কে,
আমি ভালোবেসেছি শিল্পকে, সাহিত্যকে, পড়াশোনা ও আদর্শকে,
ওসব অর্থ সম্পত্তি নিয়ে আমি কিইবা করবো?
যে যেভাবে পারে নিক, ছেড়ে দাও,
রোজ রোজ মানুষটার কাছে অপমান, অসম্মান আমিও যে নিতে পারিনা,
রোজ রোজে বড্ড ভেঙে পড়ো তুমি, ভেঙে পড়ি আমি। 
কেউ সেটা দেখেনা।

বিশাল বড় নাম, যশ, খ্যাতিতে কিছু আনাগোনাতেই উনি পরিচিত হতে পেরেছেন,
ওই আনাগোনাটুকুতেই তার সব নাম।
পরিবার জীবনে উনি পুরোটাই ব্যর্থ,
ব্যর্থ উনি একজন স্বামী হিসেবে,
ব্যর্থ উনি সন্তানের চোখে আদর্শ মানুষ হওয়াতে,
শুধু কাগজের কিছু টুকরো দিয়ে উনি কখনোই আমাকে ভোলাতে পারেন নি,
আজকাল ওই কাগজের টুকরো গুলোকে তার চোখের মত বড্ড হলদেটে দেখায়।
কেন এই সংসারে মুখ বুজে পড়ে আছো মা? 
এখানে তোমার কেউ নাই। 
এক আমিতেই তুমি বড্ড ভরসা করো, 
তোমার হুঙ্কারে মাঝে মাঝে আমিও যে বিরক্ত হয়ে তোমাকে অপমান করে দিই,
কেন এত সহ্য করো তুমি? 




No comments:

Post a Comment