Monday, 27 June 2016


অনেক সময় পর আবার প্রথাগত শিক্ষাতে ফেরৎ আসলে বোন আমার। অনেক শুভকামনা, ভালবাসা তোমার জন্য। খুশি থেক। এই লেখাটা তোমার জন্য।

                                                   ইতি
       
                                                   দাদা।
 

চাপাতির ধার বয়স বোঝেনা,
চায় শুধু রক্তের স্বাদ,
ওরা চাইনা মুক্তির জীবন,
ওরা খুশি হয় সম্মোহনের মূর্খামিতে।
সমাজের নিয়ম অভিযোজনে,
সমাজ পাল্টাতে চায় আপন গতিতে,
উঠে আসে একে একে তসলিমা নাসরিন, ইত্তিলা ইতুরা
সমাজের চোখ খুলে দিতে।

আজকের চরিত্র ইত্তিলা ইতু
ছোট্ট বোন আমার,
ছোট বয়সেই বুদ্ধির ধার আর সমাজ চেতক,
সহজে সরলে মুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া পথিক।
চেয়েছিল এক আদর্শ নীতি,
চেয়েছিল বাংলার স্বাধীনতা,
পদে পদে বাধা ওকেও দেয়নি নিষ্কৃতি,
করে দিল দেশছাড়া।

বাংলার টানে হুহু করে ওঠে প্রাণ,
মুখে ফোটেনা, ফোটে হৃদয়ের কোঠোরগুলোতে,
এদিক সেদিক ঘুরে বেড়িয়ে খোঁজে বাংলার মাঠ, বাংলার ঘাট,
বাংলা দিলনা ওকে যোগ্য সম্মান।
চিন্তাধারাতে তসলিমা আদর্শ,
তসলিমা ভালবাসা বুকে নিয়ে, অদম্য লড়াইয়ের সাহস নিয়ে
বেরিয়েছিল বাংলার সড়কে,
শাহবাগের মিছিলে সড়ক জুড়ে করেছিল প্রতিবাদ।
বাংলা এল চাপাতি নিয়ে তেড়ে,
লক্ষ্য শুধু মাথার ঘিলু, শেষ করে দেবে প্রাণ।
কলেজের পথে, টিউশানি ব্যাচের রাস্তাতে, দিনের আলোতে, রাতের অন্ধকারে
প্রাণে ঢুকে গেল ভয়। ওরা নজর রাখছে,
ওরা খোঁজ খবর চালাচ্ছে,
ওরা দিন গুনছে সুযোগের অপেক্ষায়,
সুযোগ পেলেই ভাসিয়ে দেবে লাল রক্তে সড়কপথ।


রাতের অন্ধকারে ঘর ছেড়ে আশ্রয়ের খোঁজে,
আশ্রয় বাবার বন্ধুর বাড়িতে,
নাস্তিকতার পরিচয়ে সমাজের কটু কথা,
অনেক অনেক যুক্তি ও পরামর্শের সামনে ছোট্ট মেয়েটা অস্থির হয়ে ওঠে,
অস্থির হয়ে ওঠে প্রাণ।
সমালোচনার ঝড় বয়ে আসে পরিবারের সামনে।


প্রাণের তাগিদে, আদর্শকে বাঁচাতে ছাড়তে হল প্রাণের বাংলাভূমি,
তবু ভয় পেয়ে নিজের আদর্শকে কাছছারা হতে দেয়নি সে,
বাঁচিয়ে রেখেছে সযত্নে তসলিমা প্রেম ও
নিজের চেতনাকে।
পড়াশোনা মাঝপথে ছাড়তে হয়েছিল,
ছাড়তে হয়েছিল কলেজের প্রাণচঞ্চল দিনগুলোকে,
ছাড়তে হয়েছিল হাসি আড্ডার সাথি বন্ধুদেরও।


মুহূর্তে মুহূর্তে আবেগ আছড়ে পড়ে,
গড়িয়ে পড়ে সকলের অলক্ষ্যে অশ্রুধারা,
মনে পড়ে পুরোনো সেই দিনের কথাগুলো,
এইত সেদিনই ছিল, এইত এত কাছের দিনগুলো,
আজ সব পুরোনো হয়ে গেল, আজ সব অতীত হয়ে গেল।
আজও বাংলায় আর ফেরা হলনা,
পাওয়া হলনা বাংলার মুক্ত বাতাস,
পাওয়া হলনা ভোরবেলার নিহরে ভেজা বাংলার সবুজ ঘাসের ছোঁয়া।
কতদিন হয়েগেল নিজের অ্যাপার্টমেন্টের বাড়িটা ছোঁয়া হয়নি,
সিলিঙের নিচে পাতা বিছানাটাতে শান্তির ঘুমে সে আছড়ে পড়েনি,
কতদিন হয়েগেল মায়ের হাতের রান্না খাওয়া হয়নি,
কতদিন বাবার স্নেহের বকা খাওয়া হয়নি,
কতদিন কেটেগেছে ছোটবোনের সাথে সে খুনসুটি করেনি,
কতদিন!


হায়রে আমার সোনার বাংলা!
তুই ধরে রাখতে পারলি না তোর সোনার সন্তানদের।


No comments:

Post a Comment