Sunday, 12 June 2016


তোমারই আদর্শে গড়া আমি।
সৌম্যজিৎ।
উৎসর্গ- তসলিমা নাসরিন'কে।

ভালোবাসি।
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
আদর্শের রাস্তাতে যখন পথ দুর্গম, এবড়ো খেবড়ো,
পুরুষতন্ত্রের নেশাতে আমি বুঁদ হয়েছিলাম,
তখন তুমি হাত ধরেছিলে আমাকে আদর্শ শেখাতে।
লজ্জা পড়িয়ে আমাকে তুমি শিখিয়েছিলে সাম্প্রদায়িক হিংসাই অধর্ম,
আমার চিন্তার শেকল ছিঁড়ে দিয়েছিলে,
আমি জেনেছিলাম ওরা ঠিক ছিলনা যারা আমাকে জাতিভেদ শিখিয়েছিল,
আমি বুঝেছিলাম আমি ঠিক ছিলামনা যে আমি মুসলিম রক্তকে ঘেন্না করে,
মানবধর্ম থেকে দূরে সরে ছিলাম।
মানব প্রেমের আদর্শ আমি পেয়েছিলাম তোমার থেকে।


আমি বলি তসলিমা নাসরিন আমায় গড়েছে,
একেরপর এক "আমার মেয়েবেলা", "আমি ভালো নেই,-
তুমি ভালো থেকো আমার প্রিয় দেশ",
"নেই কিছু নেই", "নির্বাসন" আমার চরিত্র গঠন করেছে,
আবেগ, অনুভুতি, অনুভবের প্রতিটা পাতায়, মস্তিষ্কের প্রতিটা স্নায়ু শিরাই
শুধুই উদারতা, দয়া, কান্না, হাহাকারকে অনুভব করিয়েছে,
"উতল হাওয়া" আমাকে শিখিয়েছে নারীর প্রতিটা ছোট ছোট স্বপ্ন কিভাবে বঞ্চিত হয়
প্রতারনার বিভীশিখায়, আমি আমার মা'য়ের কান্না বুঝতে পারি,
আমি শুনতে পাই তার প্রতারিত হৃদস্পন্দনের আর্তনাদ।
"ফুলশয্যা" পর্ব আমাকে বুঝিয়ে ছিল সমাজে নারীর ভালবাসার মৃত্যু কথা।
"সেইসব অন্ধকার" আমাকে বুঝিয়েছিল প্রতি পদে পদে মিথ্যে কলঙ্ক মাথায় নিয়ে,
এক যোদ্ধার হাল না ছাড়া যুদ্ধের নিরন্তর কাহিনী,
আমার রক্তস্রোতে আগুন বইয়ে দিয়েছিল যখন লাখ লাখ হার্মাদ খুনির
মৃত্যু স্পর্শ থেকে বাঁচতে এক নারী রাতের অন্ধকারে পালিয়ে বেড়াচ্ছে,
আদর্শ বজায় রাখতে সে দুর্বল হতে হতেও যুদ্ধের কথা ভাবছে,
ভাংতে ভাংতে সে ভাবছে যুদ্ধে আমার শরীর শেষ হয়ে যাবে,
তবু আমার মন হেরে যাবেনা।
এই মন, এই আদর্শ আবার জাগিয়ে তুলবে তরুণ প্রজন্মকে,
প্রতিষ্ঠা করবে রক্ত দিয়ে লেখা মানব চেতনার স্বাধীনতা।
ধ্বংস করে দেবে এই মূর্খ, মৌলবাদের গড়া ভন্ড সমাজকে।
আমি শিখেছি মেয়েমা,
এই লড়াইকে আমি প্রতিটা শিরাতে মজ্জাতে অনুভব করে শিখেছি।
এই জীবন আমার,
এই জীবনকে নতুন করে জন্ম দিয়েছে সেই যোদ্ধা যে,
জীবনে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন থেকেছে।
এই জীবন তসলিমা নাসরিনের আবিষ্কার।
আমার জীবনের সমস্ত অংশে শুধুই তোমারই অধিকার।  

No comments:

Post a Comment