সেইসব অন্ধকারের কালো ছায়া।
সৌম্যজিৎ।
আহত এক বেলা, ক্লান্ত সকাল,
প্রাণে হুহু করা নিঃশ্বাস।
কি করি? কি করবো? কোথায় যাবো?
ওরা কি বাইরেই দাঁড়িয়ে?
ওরা কি সামনের অ্যাপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে লক্ষ্য করে আছে বন্দুকের নল এগিয়ে?
হয়ত তাই।
পর্দার ওপার থেকে ওরা তাক করে আছে,
নিশানা লাগলেই একটা বুলেট,
মাথার খুলি উড়িয়ে ছিটকে গিয়ে পড়বে দেওয়ালের গায়ে,
লাল রক্তে ভেসে যাবে ঘরের মেঝে, আর সব শেষ।
বাইরেই ওৎ পেতে আছে চাপাতিধারীর দল,
ওদের একটাই লক্ষ্য এই শরীরটাকে ছিন্নভিন্ন করে লাল রক্তে স্নান করে-
আল্লাহর দরবারে বেহেস্তের পথ পরিষ্কার করবে।
ওরা গোটা দুনিয়া জুরে ওদের পুরুষত্ব কায়েম করবে,
নারীকে চিরকাল ভোগের বস্তু বানিয়ে রাখবে, আর
যে মাথা উঁচিয়ে উঠবে প্রতিবাদের সুর নিয়ে তাকে
টুকরো টুকরো করে কেটে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া হবে।
ওরা কেউ সুস্থ সমাজ চাইনা, চাইনা ওরা শিক্ষিত মানব সমাজ,
চাইনা ওরা সভ্যতা আর চাইনা সমাজের অগ্রগতি,
ওরা চায় পুরোনো অসভ্যতাকে ধরে রাখতে,
ওরা চায় নারীকে আপাদ মস্তক ঢেকে ঘরে তালাবন্ধ করতে,
ওরা চায় শরিয়াতি নিয়ম কায়েম করতে,
ওরা চায় শুধু কল্লা, শুধু রক্ত যে রক্তে ওরা শহরের, গ্রামের সড়ক পিচ্ছিল করতে পারে।
ওরা মূর্খের সম্মোহন নিয়ে,
কালোবাজারি ব্যবসা নিয়ে,
ধর্মের নামে মানুষকে বোকা বানিয়ে গোটা দেশকে কবচা করতে চায়।
ওরা মানুষ হতে পারেনি কখনো,
মানুষের শিক্ষা ওরা পাইনি,
ওরা হয়েছে মানুষরূপী দানব,
ওদের গায়ে আমি আলকাতরার মত অন্ধকার দেখি।
ওরা তসলিমা কে মারতে চায় যাতে -
ওদের ঘরের নারীরা কখনো মাথা তুলে কথা না বলতে পারে,
ওরা আজ আমাকে ধর্ষণ করে ব্রম্মপুত্রে ভাসাতে চায় যাতে -
সমাজে আতঙ্ক ছড়াতে পারে।
ওরা কখনই মানুষ হয়ে উঠবে না,
ওরা কখনই দেশকে গর্বের স্থান নিতে দেবেনা,
ওরা দেশকেই গোটা পৃথিবীর সামনে ভরা বাজারে কলঙ্কিত করতে চায়।
ধিক এই সমাজতন্ত্রকে,
ধিক এই পুরুষতন্ত্রকে,
এই সমাজ আমার লজ্জার,
এই সমাজ নিজের দামন খুলে ভরা বাজারে নিজেই নিলামে চড়তে চায়,
কেউ প্রতিবাদের সুর ওঠালেই তাকে নষ্ট আখ্যান দেয়।
No comments:
Post a Comment