Tuesday, 29 March 2016

মানবিকতা কোথায়? খুঁজে দেখ, মানবিকতা আছে তোমারই মধ্যে।
সৌম্যজিত দত্ত।

গতকাল ২৮ শে মার্চ, ২০১৬ তে আমি ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (ডানলপ ব্রিজ ব্রাঞ্চ) থেকে দুটো পে-অর্ডার করি। একটা ১৯২০ টাকার  ও একটা ২৫০০ টাকার। আমার কাছে খুচরো টাকা  না থাকার জন্য, আমি আলাদা আলাদা করে টাকা জমা না দিয়ে একবারে ৪৫২০ টাকা জমা করি। এক্সচেঞ্জ রুপি ৪৪ টাকা করে মোট ৮৮ টাকা। সবমিলিয়ে জমা করতে হত ৪৫০৮ টাকা। অর্থাৎ আমার ১২ টাকা পাওনা। কাউন্টারে একজন ম্যাম ছিলেন, উনি কিছুতেই আমার থেকে টাকা নিতে চায়ছিলেননা। ওনার বক্তব্য খুচরো ৮ টাকাই দিতে হবে। ১২ টাকা ফেরৎ দিতে ব্যাঙ্ক পারবেনা। আমার কাছেও খুচরো নেই। আমি বললাম, "ম্যাম, ২ টাকা দিতে হবেনা, আপনি আমাকে ১০ টাকা ফেরৎ দিন। আমার কাছে সময় খুব কম।" উনি আমাকে উল্টো কথা শুনিয়ে দিলেন। বললেন, "কেন বাপু আমি তোমার কাছথেকে ২ টাকা নেবো? নিলে ২ লক্ষ টাকা নেবো। তুমি বাইরে গিয়ে চা-এর দোকান থেকে ভাঙিয়ে নিয়ে এসো।" আমি একটু বিপদের মধ্যেই পরলাম। পে-অর্ডার তখনই লাগবে, হাতে সময় নেই, ২০ মিনিট পর ক্লাস নেওয়া। আমি তাকে অনুরোধ করলাম। উনি শুনলেননা। আমি ভীষণ রেগে যাই। রাস্তাঘাটে আমি অবশ্য রেগেগেলেও সেটা প্রকাশ করিনা। আস্তে আস্তে কথা বলি, ভাবলাম ম্যানেজার-এর কাছে গিয়ে বলি। শেষ পর্যন্ত আমাকে ম্যানেজার-এর কাছে যেতে হয়নি। ওখানে অত দর্শকের ভিড়ের মধ্যে, দুজন বয়স্ক মহিলা, বয়স ৬০ এর ওপরেই হবে, এগিয়ে আসলেন, আমাকে খুচরো করে দিতে রাজি হলেন, আমি একজনের কাছথেকে খুচরো করে টাকা জমা করলাম।


আসলে মানবিকতা মানুষের মধ্যে আছে। আমি বিশ্বাস করি এটা। সব মানুষ অমানবিক নয়। একটা ব্যাঙ্ক ১২ টাকা খুচরো দিতে পারবেনা, এটা মেনে নেওয়া মুশকিল। আসল কথা ওরা খুচরো করে দেবেনা। আবার উল্টোদিকে অত গ্রাহক দর্শকের মধ্যে থেকে দুজন বয়স্কা নিজেদের মানবিকতার নিদর্শন রাখলেন। এগিয়ে আসলেন।

আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। কখনো চলাফেরা করার সময় বা কোনো কাজেই আমার নিজেকে প্রতিবন্ধী  হয়না। স্বাভাবিক থাকি। বাসে উঠেও কখনো প্রতিবন্ধী আসনের দিকে যাইনা। ভাবি আমি তো সুস্থ। যার খুব প্রয়োজন হবে, সেই বসবে। আমাদের কারোর জীবনেই মাত্রাতিরিক্ত কিছুর প্রয়োজন নেই। যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু ব্যবহার করে যদি অন্যদের সুযোগ করে দিই, তবে কাওকেই অসুবিধাতে পরতে হয়না। খুচরো টাকা জমিয়ে রাখার জিনিস নয়, যেটুকু প্রয়োজন সেটুকু রেখে বাকিটা বাজারে চালিয়ে দিলে, খুচরো টাকার অভাব হয়না বাজারে। বাসে যাদের খুব প্রয়োজন, তাদের জন্য আসন ছেড়ে দিলে, তাদের সুবিধা হয় আবার সুস্থ মানুষরা একটু দাঁড়িয়ে গেলে, তাদের শরীরও সুস্থ থাকে।

জীবনে প্রতিটা ছোট ছোট বিভাগে এমন অনেক অসুবিধাতে পরতে হয় মানুষকে। একদল নিজের সুবিধাটুকু বুঝে অন্ধ হয়ে যায়, আরেক দল অসুবিধার মধ্যে সেদ্দ হয়। প্রতিটা মানুষ যদি একটু সচেতন হয়, তবে কাওকেই এমনসব নিত্য অসুবিধাতে পরতে হয়না। মানবিকতা সমাজ থেকে মুছে যায়নি, শুধু মানুষ মানবিক চিন্তা করার মানুসিকতা থেকে নিজেকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

No comments:

Post a Comment