Saturday, 26 March 2016


দেশ হল মানুষ। মানবিকতা ও প্রেম হল দেশপ্রেম।



আমরা যেকোনো দেশের নাগরিকরা, যারা জাতীয় পতাকাকে সম্মান করি, তাদের কাছে পতাকা কেন সম্মানযোগ্য? পতাকার রংকে আমরা শ্রদ্ধা করি। পতাকাতে থাকা কোনো চিহ্নকে সম্মান করি। পতাকা তো একটা কাপড়, যেখানে কিছু রং ও প্রতীক থাকে। যা দেখে, জাতীয়তাবাদের প্রেমে আমাদের মধ্যে দেশভক্তি জেগে ওঠে। আমরা উঠে দাঁড়িয়ে যায়, স্যালুট করি। কিন্তু এই আমাদের মধ্যে ৯৮% মানুষ দেশ বলতে সেই কিছু সীমানার পরিধির মধ্যে আবদ্ধ একটা মানচিত্রকে বুঝি ও সেই মানচিত্রের একটা রংকে নির্দিষ্ট করে পতাকাতে তুলে ধরি। এটাই আমাদের কাছে দেশ, এটাই আমাদের জাতীয়তাবাদী প্রেম। আদতে দেশ কি সীমানা? দেশ মানে মানুষ। মানুষ ছাড়া, মানুষের আবেগ ছাড়া একটা দেশ কখনো দেশ নয় বরং একটা জমি হয়ে থাকে। এমন একটা জমি যেখানে আবাদের অভাবে বাঞ্জার হয়ে যায়।
তাই দেশপ্রেম করতে হলে, মানুষের সাথে প্রেম করতে হবে। জাতি, উপজাতি, ধর্ম মানুষের সৃষ্টি, মানুষের কিছু স্বার্থসিদ্ধির জন্য। স্বার্থসিদ্ধিতে ভালো ও খারাপ দুটো দিকই থাকে। যেটা যেভাবে ব্যবহার করা হয়, সেটা তেমন ফল দেয়। প্রেমের কোনো রং থাকেনা, জাত থাকেনা, ধর্ম থাকেনা, তাই মানুষের সাথে প্রেমের সদিচ্ছা অর্থাৎ দেশপ্রেমের সদিচ্ছা থাকলে, সেখানে ধর্ম, জাতি কখনই বাধা দিতে পারেনা। তবু একটা দেশের মধ্যে আজ জাতির লড়াই, ধর্মের লড়াই, ঐক্যতার অভাব দেখা দিচ্ছে। অথচ সেই মানুষগুলোই আবার পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে স্যালুট করছে। এটা কখনো দেশপ্রেম হতে পারেনা। বরং এটাকে বলে জাতীয় পতাকাকে পেছন থেকে লাথি মারা। এটাতে জাতীয় পতাকা ও দেশের অপমান হয়। যদি সত্যিকারের দেশ প্রেমিক হতে হয় তবে, জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ প্রেমিক হতে হবে।


আজ থেকে চার বছর আগে পর্যন্ত, আমার চিন্তাতে দেশ বলতে জাতীয় পতাকার রং, অশোকস্তম্ভ ও সীমানার অন্তর্ভুক্ত মাটি ছিল। জাতির কুসংস্কার আমার মধ্যে ভরপুর ছিল। ওই একটা মানুষ, তসলিমা নাসরিনকে আমি যখন থেকে জেনেছি, নিজের মধ্যে অনুভব করেছি, আমি বুঝেছি, দেশ হল মানুষ। মানবিকতা ও প্রেম হল দেশপ্রেম।  

No comments:

Post a Comment