Friday, 18 March 2016

হেফাজত-ই-ইসলাম'এর দাবিগুলো ও আমার মত :
সৌম্যজিত দত্ত।


১) ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করে, ধর্মের শাশ্বত ও সৌন্দর্যের প্রতি প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে আল্লার উপর পূর্ণ আস্থা, বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করতে হবে। 

আমার মত :  ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করার অর্থ কি? ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ করা। অর্থাৎ, মানবিকতা ধারণ করা। সকল ধর্মের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা, আবার কেউ যদি নিজের মত করে বিশ্বাস নিয়ে থাকতে চায়, চিন্তা করতে চায়, তাকেও সমানভাবে সম্মান করা। 

হেফাজত-ই-ইসলাম চায়, ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ বর্জন করা, অন্যান্য ধর্মগুলোকে চরম অসম্মান করে ইসলাম ধর্ম ও এক আল্লাহ'তে বিশ্বাস করা। 



২)  এই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে যে, ভবিষ্যতে সরকার ইসলাম অবমাননার দুঃসাহস বন্ধ করার স্বার্থেই আগ্রাসী নাস্তিক্যবাদ, ধর্মদ্রোহ ও ইসলাম অবমাননার কোনো ঘটনাই বিনা বিচারে ও বিনা শাস্তিতে ছেড়ে দেওয়ার কোনো অবকাশ থাকতে পারেনা। সেজন্যই জঘন্য ইসলাম বিদ্বেষের গুরুতর অপরাধে সমস্ত নেতৃবৃন্দকে চিণ্হিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। 

আমার মত:  গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিটা মানুষের নিজস্ব মোত  দেওয়ার অধিকার আছে। সমালোচনা করার অধিকার আছে। হেফাজত-ই-ইসলাম সেই গণতান্ত্রিক অধিকারকে অসম্মান করে দেশের সংবিধানকে অপমান করেছে। 




৩) এই মহাসমাবেশ ঘোষণা করছে, ইসলামের অবমাননার মধ্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা ও অন্যায্য উস্কানির সৃষ্টির সবরকম উপায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ইসলাম সমালোচনার শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড দিতে, জাতীয় সংসদে আইন পাশ করতে হবে। 

আমার মত: সমালোচনা করা কোনো অবমাননা নয়। বরং বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হয়েছে তখনই, যখন কোনো চিন্তাবিদ ব্লগার ইসলামের সমালোচনা করেছে, তখন তাকে হত্যা করা হয়েছে।  অর্থাৎ, ইসলাম হত্যার অনুমতি দেয়। 

৪) রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আল্লা বিশ্বাসী ও রসুল প্রেমিক ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আল্লা রসুলের সম্মানহানির প্রয়াসের বিরুদ্ধে দাবি ও প্রতিবাদ নিয়ে বিক্ষোভে অংশগ্রহনকারী মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর দমননীতি বন্ধ করতে হবে। 

আমার মত: অর্থাৎ আল্লা বিশ্বাসী মানুষদেরকেই শুধু সম্মান করতে হবে, যারা আয়াতের ভুল ধরবে তাদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ছাত্ররা যদি দাঙ্গার বিক্ষোভ করে, তবে সেই দাঙ্গাকে সংবিধান যেন না আটকায়। এটা একতরফা দাদাগিরি। 


৫) ধর্মীয় অধিকার রক্ষার চেষ্টার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের রাষ্ট্রীয় আয়োজনের বিরুদ্ধে সবরকম নিন্দনীয় চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।  ইসলাম অবমাননার বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত মাদ্রাসার ছাত্রদের উপর থেকে সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। 

আমার মত: অর্থাৎ ধর্মীয় আয়োজনের কোনো সমালোচনা করা যাবেনা। সমালোচনা করা ইসলাম অবমাননা করা, এই অবমাননার প্রতিবাদের মাদ্রাসা ছাত্রদের সন্ত্রাস চলবে।তাদের সন্ত্রাসী কারণে গ্রেফতার হওয়া মাদ্রাসা ছাত্রদের উপর থেকে জোরকরে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।



৬)  পৃথিবীর কোনো দেশে মসজিদগুলোতে নামাজ পড়াতে কোনো বিধিনিষেধ থাকবেনা।

আমার মত: কিন্তু মহিলাদের মসজিদে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় কেন? বিশেষ করে পিরিয়ড চলা কালীন মেয়েদের মসজিদে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা কেন? পুরুষের বেলায় তো এমন কোনো বিধিনিসেধ নেই।


৭)  এই মহাসভা ঘোষণা করছে যে মুসলমানদের জন্যে নিজস্ব মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তার কোনো সুযোগ নেই। ব্যক্তির বাকস্বাধীনতার নামে অন্যধর্মে ধর্মগ্রহণ, চিন্তা, ও আচরণগত অনাচার, বেহায়াপনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বিজাতীয় ও বিধর্মীদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: এভাবে মুসলিমদের একঘর করে দিয়ে মানুষের সাথে বন্ধুত্বটুকু ছিনিয়ে নিতে দাবি করছে। মুসলিমদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা নিষিদ্ধ, বাকস্বাধীনতা নেই, তুলনা করার কোনো অধিকার নেই? তাহলে কিসের গণতন্ত্র?

৮) ইসলামের স্বার্থে রাষ্ট্রে অমুসলমানদের সংখ্যা লঘু ঘোষণা করতে হবে।

আমার মত: দেশটাকে মুসলিম রাষ্ট্র করে দিলে, অন্যান্য জাতিদের গনতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে।


৯) এই মুসলিম প্রধান দেশে পর্তুগীজ সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ উদ্বেগের। মসজিদ নগরী ঢাকাতে, স্কুল, কলেজ ক্যাম্পাসে  ভাস্কর্যের নাম মূর্তি স্থাপন  বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: হেফাজত-ই-ইসলাম বিজ্ঞান বিরোধী সবাই জানে। এবার ওরা শিল্পকেও বন্ধ করতে চায়ছে।

১০) এই সমাবেশ ধর্মহীন শিক্ষানীতি ও ইসলাম বিরোধী আইননীতি  বাতিলের দাবি জানাচ্ছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আমার মত: তাহলে অন্যান্য ধর্মের শিক্ষাকেই কেন বাদ দেওয়া হচ্ছে ? প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ইসলাম দিয়েই যদি ছাত্র ছাত্রীদের সম্মোহিত করা হয়, তবে বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিভাবে হবে?


১১) মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের কাজ করতে দেওয়া বাধ্যতা মূলক করতে হবে।

আমার মত: মাদ্রাসা শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের মগজ ধোলাই করা হয় ধর্মীয়নীতি'র জন্য।  অবাধে সেসব চলতে থাকলে, দেশটার যেটুকু বাকি আছে, সবটাই অচিরে যাবে।

১২) ইসলামী প্রতীক নিয়ে কোনরকম কোনো সমালোচনা করা যাবেনা।  টেলিভিশনে বিভিন্ন নাটক দ্বরা ইসলাম বিরুদ্ধ অভিনয় বন্ধ করতে হবে।


আমার মত: অভিনয় একটা কলা। সেটাতেও নিষেধ আজ্ঞা?? তাহলে টেলিভিশন উঠিয়ে নিলেই হয়। ১৪০০ বছর আগের চিন্তাভাবনা ধরে রাখা  একটা পার্টি মাত্র এটা।


১৩) ধর্মান্তকরণ, মিশনারী ব্যবস্থা ক্ষতিকারক, তাই খ্রিস্টান মিশনারীদের এই ধর্মান্তকরণ ব্যবস্থা তত্পরতার সাথে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

আমার মত: এদের মতে সম্মোহন কার্য সম্পাদন করা একমাত্র মাদ্রাসা বাদ দিয়ে সমস্ত বোর্ডের সাথে অপসংস্কৃতি জুড়ে আছে।



এবার তোমরা বিচার কর, অপসংস্কৃতি কাদের? এই হেফাজত-ই-ইসলামের? নাকি মানুষের অগ্রগতির চিন্তাধারাতে?

No comments:

Post a Comment