Monday, 21 March 2016

রাষ্ট্র চিন্তা।


রাষ্ট্র ও দেশের মধ্যে পার্থক্য:

রাষ্ট্র আর দেশের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। এখন রাষ্ট্র বলতে বোঝায় আন্তর্জাতিক, বানিজ্যিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় সমারহে গঠিত ইট, বালি, পাথরের কতগুলো শহরের সমষ্টি। যেখানে ধূর্তামি দ্বারা আখের গোছানো হয়। নামের গণতন্ত্রে গঠিত একটা সমাজ যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার নয়, ধর্মীয় রাজনীতির প্রভাব বহাল রাখা হয় ও সেটা সাধারণের দ্বারা স্বীকারও করা হয়। মানুষের সম্মোহিত মন এটাকেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে মেনে নেয়। এখানে গণতান্ত্রিক অধিকার শুধু গুন্ডা রাজনৈতিক দলগুলোকে একজোট হয়ে জেতান ও রাষ্ট্রের দায়ভার তাদের ওপর তুলে দেওয়া। দেশের সংজ্ঞা ভিন্ন। দেশ বলতে বোঝায় মানুষ, দেশ বলতে বোঝায় গণতান্ত্রিক অধিকার, দেশ হল বাকস্বাধীনতা ও সেই সমস্ত রকম স্বাধীনতা যেখানে মানুষ নিজের বুদ্ধি ও আবেগকে নির্দ্বিধায় সর্বসম্মুখে তুলে ধরতে পারে, নিজেই নিজেকে ইচ্ছামত প্রয়োগ করতে পারে, অর্থাৎ দেশ হল মানুষ, দেশ হল জাগরণ মঞ্চ। 


ভারত, বাংলাদেশ সম্পর্ক:

সমগোত্রীয় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক বন্ধুত্ব যে চিরকালের সেটা কেউ অস্বীকার করতে পারিনা। কিন্তু রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রের মন্ত্রিমহলেই সীমাবদ্ধ নয়। আজ বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রেও রাজনীতি নিজের ছাপ ফেলে দিয়েছে। দুটো রাষ্ট্রের মানুষের  মধ্যে ক্রিকেট নিয়ে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে। কিছুদিন আগে পর্যন্তও বাংলাদেশ থেকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলে সভাপতি নিযুক্ত ছিল। উল্লেখ্য, নামের সভাপতি ছিলেন ছিলেন মুস্তাফা কামাল ২০১৪-২০১৫ পর্যন্ত। ভারত আই.সি.সি তে ভীষণ প্রভাবশালী  রাষ্ট্র, আর্থিক, বানিজ্যিক ও সমস্ত রকম্ ক্ষমতার নিরিখে। ২০১৫ তে ভারত-বাংলাদেশ  কোয়ার্টার ফাইনালে একটা ভুল আম্পায়ারিং'এর প্রতিবাদে মুস্তাফা কামাল ফেটে পরেন আই.সি.সি'তে। একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে যেটা অশোভনীয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীনিবাসন ও কামাল এর ইগোর যুদ্ধে কামাল সাহেব পরাস্ত হন, এবং  পদত্যাগ করেন। পরে পাকিস্তান থেকে জাহির আব্বাসকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করা হয়। এখানে কামাল সাহেব বাংলাদেশী হয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন, সেটা সমর্থন যোগ্য কিন্তু একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উনি যেখানে আই.সি.সি'এর প্রতিনিধিত্ব করছেন, সেখানে ওনার আচরণ লজ্জাজনক। ফলস্বরূপ ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক আজ নিম্নগামী। এখানে ক্রিকেটার দের বা কোনো দেশের কোনো দোষ নেই, যুদ্ধ হয়েছে রাজনৈতিক মহলের, কিন্তু প্রতিটা ম্যাচে এবং ম্যাচের বাইরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেওয়া হচ্ছে দুই দেশের ক্রিকেটারদের, দুটো দেশকে। 

আমি একটা কথা বারবার বলি, সেই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক যে, নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবে, অন্যদেশকেও একইভাবে সম্মান করবে। 



ধর্মযুদ্ধ:

ধর্মযুদ্ধ আজ মানুষের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি করছে। ধর্মের অর্থ মনুষত্ব ধারণ। অথচ আজ ধর্মগুলোও রাজনীতির  খেলায় মেতে উঠেছে। ধর্মগুলো মানুষকে পাখি পড়ানো করে পড়াচ্ছে সম্মোহিত করতে। আসলে প্রতিটা ধর্মের মূল বিষয় আজ রাজনৈতিক সুবিধাভোগ, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। আয়াত, আইনের তর্কযুদ্ধে ধর্মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে নারী, পুরুষ সমান অধিকারের কথা, কিন্তু বাস্তবে নারী বঞ্চিত হচ্ছে সমস্ত ক্ষেত্রে। 

আজ যেকোনো সরকারী চাকরিতে নারীর জন্য সিট সংরক্ষিত। ২% সিট নারীর জন্য বরাদ্দ। মসজিদগুলোতে নারীর প্রবেশের অধিকার সমান নয়। সম্পত্তি ভাগে নারীর প্রাপ্য পুরুষের অর্ধেক। নারীর সমান অধিকার কোথায় তবে?

তার ওপর ধর্মান্ধ মানুষগুলো নিজের নিজের ধর্মগুলোকে শ্রেষ্ট করে দেখাতে, অন্য ধর্মকে পায়ের তলায় মাড়াতেও দ্বিধাবোধ করেনা। অনর্গল গালি বর্ষণ চলতে থাকে। তাহলে কোথায় তারা ধার্মিক হল? ধর্মের মূল কথা মনুষত্ব ধারণ, সেটাকেই তো আজ ভুলিয়ে দিচ্ছে গোড়া ধার্মিকগুলো। 


                                                                  সৌম্যজিৎ।  

No comments:

Post a Comment