Friday, 8 January 2016

"হিউমান সাইকোলজি "

  
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে যাওয়া সবকিছুর মধ্যে আমাদের চিন্তা, ভাবনা অনুযায়ী অনেক কাজ করে ফেলি, আবার এমন কিছুও করে ফেলি, যেখানে আমরা কোনো চিন্তা ভাবনা না করে শুধু এগিয়ে যায় কাজটা শেষ করার জন্য জন্য। 

আসলে দেখাযায়, প্রতিটা কাজের পিছনে যদি আমাদের চিন্তা ভাবনার উপস্থিতি তেমন প্রকট নাও হয়, তবু তার পিছনে আমাদের অবচেতন মস্তিস্কের চিন্তা ভাবনা কিন্তু চলতেই থাকে। 
যেমন:  ঘোড়ার দৌড় প্রতিযোগিতাতে ঘোড়া দৌড়য়, সেখানে জুয়ারীরা টাকা দেয়। সেখানে বুদ্ধির কোনো ব্যায়াম হয়না, অথছ জুয়ারীরা প্রথম থেকে শুধু চিন্তা করে, তার নির্বাচিত ঘোড়াটা যেন জিতে যায়। আসলে এটা তাদের অবচেতন মস্তিস্কের চিন্তা। 



রাজনীতির চিন্তা সবসময় চেতন মস্তিস্ক থেকে প্রকট হয়। নানারকম চিন্তা, বুদ্ধির লড়াই, সাত্তা প্রতিযোগিতা হয়, যেখানে একটা রাজনীতিবিদ সবসময় নানান ছক কষে তাদের মস্তিস্ক চর্চা করে থাকে জেতার জন্য। শুধু সেখানে সেই রাজনীতিবিদ মানুষটাই নয়, সমাজও সেই চিন্তার প্রভাবে প্রভাবিত হয়। 


আমাদের মনের মধ্যে সবসময় পাপ, পুন্যের একটা বিচার চলতে থাকে অবিরাম। হিউমান সাইকোলজি-এর সব থেকে বিশেষ অংশ হলো মানুষ জীবনের সাধারণ চিন্তা ভাবনা গুলো। 
এবার দেখতে হবে, কোনটাকে আমরা পাপ, আর কোনটাকে আমরা পুণ্য বলে অভিহিত করে থাকি, বা তার ফল কেমন হয় ?

আমরা যখন অনেক চিন্তা ভাবনা দিয়ে কোনো একটা কাজ করি, সেই কাজে যদি কারোর কোনো ক্ষতি না করে সফলতার দিকে এগিয়ে যায়, এবং পরিনতি সফল হয়, তবে আমাদের মনের মধ্যে একটা সন্তষবোধ কাজ করে। যেটাকে আমরা পুণ্য জ্ঞান করি। আসলে পুণ্য জ্ঞান হলো কাজের মাধ্যমে সঞ্চয় করা মানুসিক সন্তুষ্টি। এমন একটা সন্তুষ্টি যার থেকে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, চিন্তাভাবনা ধনাত্মক রূপ নেয়। 


আবার যখন আমরা কোনো কাজকে সফল করার জন্য অন্যের ক্ষতি করে এগিয়ে যায়, সেই কাজ সফল হোক বা ব্যর্থ, আমাদের অবচেতন মস্তিস্কে সবসময় একটা ভীতি কাজ করে। যেটা অনেক সময় প্রকট হয়, আবার অনেক সময় প্রচ্ছন্ন থেকে যায়।  এই ভীতিটাই পাপবোধ। এই ভীতির জন্য মানুষ ভুলবশত নিজেরই ক্ষতি করে ফেলে। যেটাকে "পাপের ফল" হিসেবে সবাই মেনে নেয়। এমন ক্ষেত্রে দেখা যায়, সাবজেক্টের চিন্তা-ভাবনা ঋণাত্মক রূপের মধ্যে আবিষ্ট হয়। 


"পাপ বোধ" অনেকরকম ভাবে জন্মাতে পারে, মানুষ অনেক সময় অন্যের করা ভুলের জন্য নিজের মধ্যে ভীতি সঞ্চয় করতে শুরু করে। তখন তার মানুসিক অবস্থা ভেঙ্গে পরে, অর্থাৎ এই পাপ বোধ। 
এমন কিছু পাপবোধ দূর করতে গেলে স্পষ্ট স্বীকারুক্তি ও আলোচনার প্রয়োজন হয়। যতক্ষণে মনের মধ্যে সন্তুষ্টি ব্যাপারটা আসে, পাপবোধ দূর হয়। 

এমন একটা উদাহরণ আমি আমার জীবনে কিছু সময় আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে দিতে পারি। 
গতকাল অনেক রাতে আমার ফেসবুক একাউন্ট থেকে মেয়েমার একটা পোস্টের কমেন্ট বক্সে একটা অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট যায়, যেটা আমি আদৌ করিনি। ওখানে লেখা ছিল, "পুরুষতন্ত্র, আমিও কনভার্টেড।  দরিদ্রতার জন্য। সেসব পরে লিখবো।" আমার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে কেউ এটা করেছে। আজ দুপুরে যখন লেখাটা দেখলাম, হতচকিয়ে গেছিলাম প্রথমে। তারপর এমন একটা অপ্রাসঙ্গিক কমেন্ট দেখে লজ্জাই, ঘেন্নাই আমি ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পরি। মেয়েমার মতো এমন ব্যক্তির কাছে এমন একটা অপ্রাসঙ্গিক লেখা পাঠানো, সত্যিই ভীষণ লজ্জার। আমার মধ্যে পাপবোধ কাজ করছে এভাবেই, যতক্ষণ না মেয়েমা সঠিক ব্যাপারটা জানতে  পারছে, আমার মধ্যে এই পাপবোধ কাজ করে চলবে। 


আরও এমন অনেক ঘটনা আমাদের জীবনে প্রতিনিয়ত ঘটে যায়, যেসমস্ত জায়গায় হিউমান সাইকোলজি নিরন্তর কাজ করে চলে। আসলে আমাদের জীবনটাই এই "হিউমান সাইকোলজি"-এর অংশ। মস্তিস্কের চর্চা, সে প্রকট হোক বা প্রচ্ছন্ন, সবসময় হয়েই চলে।

.................................................সৌম্যজিত দত্ত। 



No comments:

Post a Comment