"মূক ও বধির"
সৌম্যজিত দত্ত।
যারা রোজ জীবনে চশমা পরে, তারাও তো আংশিক বা সম্পূর্ণ ভাবে অক্ষম।
তবু তারা যথেষ্ট অবহেলিত নয়, যতটা মূক ও বধিরতার লজ্জায় আসে।
বাকি সমস্ত রোগের মতো মূকতা ও বধিরতাও একটা রোগ যাকে,
পুরো অক্ষমতা বলা যায়না। প্রাণ থাকলেই সে কোনোনা কোনো ভাবে সক্ষম।
যদি এমনভাবে কিছু চিন্তা করা যায় যে, যাকে মূকতা ও বধিরতার জন্য
ডিসেবল্ড বলা হয়, সেটা আসলে ডিসেবল্ড নয়, বরং ডিফারেন্টলি এবল্ড,
ধারণা স্পষ্ট করে দেয় যে, তারা তাদের মতো করে এমন কিছু সৃষ্টি করতে পারে যা,
সাধারণ ভাবে এবল্ড মানুষের পক্ষেও সম্ভব হয়না। শুধু প্রয়োজন হয় সাইন ল্যানগুযেজ,
এমন একটা ভাষা, ঠিক আমাদের মাতৃভাষার মতোই।
ভরসা প্রতিটা মানুষের মধ্যে কার্যবাহী ওষুধ।
একজন কর্কট রোগীর সব থেকে বড় ওষুধ "ভরসা।"
একজন মূক ও বধির মানুষেরও একটা বড় ওষুধ ঐ "ভরসা।"
কিছু করার, করতে পারার, আত্মনির্ভর হয়ে ওঠার ভরসা,
তাদের মধ্যে বিশ্বাস সঞ্চার করে জয় খুঁজে নেওয়ার।
প্রকৃতপক্ষে যার পরিচয় ঘটে মেধাতে।
ওরাও আসলে যোদ্ধা।
আমরা যে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় নিয়ে এত চিন্তা করে চলেছি,
সেটা আমাদের মনন শক্তি, আমরা রপ্ত করার চেষ্টা করি।
ডিফারেন্টলি এবল্ড মানুষেরা স্বতস্ফুর্তভাবে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের আধিকারিক।
শক্তি-চিন্তাতে তারা তাদের মতো করে জোর নিয়ে আসতে পারে,
শুধু সেটাকে চিনিয়ে দিতে হয়।
পার্থক্য কিছুতো নয়, একটা সাধারণ ভাবে জন্মানো বাচ্চাকেও তো
শুরু থেকে সবকিছু শেখানো হয় আমাদের নিজেদের মতন করে,
তেমন মূক ও বধির বাচ্চাদেরও সাইন ল্যানগুয়েজের প্রশিক্ষণে উন্নত ও যোগ্য করে তোলা যায়।
No comments:
Post a Comment