Friday, 1 January 2016


গেরণ।
সৌম্যজিত দত্ত।



**************************১***************************



পৃথা ছোটবেলা থেকেই একটু চঞ্চল। বাড়িতে মা, বাবা, দুই দাদা, বোন, বড় বৌদি আর কাজের মালতি মাসি। পৃথার বাবা মেডিক্যালের ডাক্তার, নরেন্দ্র চক্রবর্তী। বড়দা মহেন চক্রবর্তী আইন পাশ করে আদালতে অনুশীলন করছে। ছোটদা সুরেশ কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র। কলেজ পড়ুয়া বলে আধুনিক চিন্তা ভাবনা পোষণ করে চলে, সৌখিন। পৃথার দুই বছরের ছোট বোন স্নিগ্ধা একটু ভিতু, শান্ত স্বভাবের।


নরেন্দ্র চক্রবর্তী মানুষটা ঘসাপেটা ধরনের। মাথা উঁচু করে, শক্ত ভাবে বাঁচেন, দৃঢ়চেতা। তার প্রভাব ও প্রতাপ ঘরে বাইরে সমান।  বাইরের মানুষজন তাকে যেমন সমীহ, সম্মান, রেয়াজ করে চলে, বাড়িতেও সবাই তার ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকে। ধর্মীয় রীতিনীতিতে তার কঠোর আদেশ, এক চুল যেন কোথাও এদিক ওদিক না হয়। মহেন বাবার কথাকে দেবতার আদেশ হিসেবে মেনে চলে। বাবা তাকে লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন, বাবা যাকিছু পোশাক পরতে বলবেন, সেটাই সে পরবে। বাবার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করেছে। সমস্ত সিদ্ধান্ত বাবা নেবেন, আর সে সেটাকে আদেশ হিসেবে পালন করবে। অবশ্য এই করে তার জীবন কখনো কোথাও আটকে যায়নি। বেশ সুখেই আছে সে।

সুরেশ বাবাকে ভয় পায়, কিন্তু সে নিজেও নিজের জীবনটা নিজের মতো করে অনুভব করতে চায়। কলেজ রাজনীতির সাথে ভীষণ ভাবে জড়িয়ে পরেছে। একটা মেয়ের সাথে প্রেম আলাপ হয়েছে। গান, বাজনার প্রতিও তার বেশ দুর্বলতা আছে। এদিকে তাদের বাবা এসব একদম পছন্দ করেননা। যাইহোক, সুরেশ অনেক সাহস সঞ্চয় করে বাড়িতে একটা গিটার নিয়ে আসে, বাবার কাছ থেকে প্রথমে লুকিয়ে রাখতে হয়েছিল, কিন্তু পৃথা সেটা দেখে আনন্দে লাফিয়ে ওঠে। ওই গিটারটা সুরেশ ও পৃথার কাছে ধ্যান, প্রাণ, স্বপ্ন হয়ে ওঠে। যেদিন তাদের বাবা জানতে পারেন, সেদিন তাদের প্রাণ শুকিয়ে যায়, যেন তাদের মাথার ওপরে বাজ পরেছে, মাথা ঘামছে, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম, প্রানের মধ্যে যেন হু হু করে চিন্তার গরম হাওয়া বইছে, বুক কেঁপে উঠছে। বাবা জিজ্ঞাসা করলেন, "ওটা কি?"
সুরেশ মাথা নিচু করে আস্তে আস্তে উত্তর দিল, "আজ্ঞে, গিটার বাবা। সস্তায় পেলাম, ইচ্ছা হলো, তাই.."
বাবা বললেন, পড়াশোনাটা যেন মন দিয়ে করা হয়। এরপর এম.এস.সি পড়তেই হবে।
সুরেশ বাবার কথাতে ঘাড় নাড়িয়ে আস্তে আস্তে চলে গেল, পৃথাও দাদার সাথে পা টিপে টিপে বেড়িয়ে গেল ঘর থেকে।

No comments:

Post a Comment