Sunday, 13 December 2015



চিন্তার অভিযোজন হোক।
সৌম্যজিত দত্ত।


লেখকের চিন্তা মুক্ত। লেখক সমাজ দেখতে পায়।
এতো কোনো আঁতিল ছবির কপি রাইট নয়,
আমার লেখক সত্যি লেখে, বাস্তব লেখে।
আমার লেখককে তোমরা চুপ করাতে চাও,
কেন? কিছু সত্যি লিখে ফেলেছে বলে?
তোমরা অন্যায় করবে, অথছ সেটা আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে গেলেই দোষ?


আচ্ছা বেশ। দাও যত পারো গালাগালি, সব বই পুড়িয়ে ফেলো।
কিন্তু চিন্তা? সেতো মনের ভিতরে। তাকে কিভাবে পোড়াবে?
বরঙ তোমরা যা কিছু করবে তাকে থামাতে, সেসব নিয়ে আবার
চিন্তার তোলপার হবে। আবার লেখা হবে নতুন বই।
একটা - দুটো করে আরও দশটা বই লেখা হয়ে যাবে।
আমার লেখক বড্ড চিন্তাশীল।
সত্যিই, চিন্তা তো মনে,
তোমরা থামাতে পারবেনা।


তাহলে মেরে ফেলো, ল্যাটা চুকে যাক।
না থাকবে চিন্তা, না লেখা হবে বই।
তোমরাও শান্তিতে অন্যায় চালিয়ে যেতে পারবে।
মোটা মোটা ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিধিলিপি বলে
নারীর ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে।
নারীর ইচ্ছাগুলোকে প্রতি মুহুর্তে খুন করে, নিজেদের ইচ্ছাগুলোকে
তার ওপর চাপিয়ে, সেটাকেই তার ধর্ম বলে চালিয়ে দিতে পারবে।
হাহাহা .. সে চেষ্টা তো কতই করলে, এখনও করে যাচ্ছ। আমি জানি,
এর পরেও তোমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি থাকবেনা।
কিন্তু সে গুড়েও তো ভাঙ্গা কাঁচ!!!
আজ আমার লেখক তার লেখনি বংশ বিস্তার করে ফেলেছে,
চারিদিকে আজ তার দূত ছড়িয়ে গেছে। তোমরা আর আটকাতে পারবেনা।
তাই শুধু শুধু খুন জখম করে তোমাদের অতিপ্রিয় পরজন্ম কেন নষ্ট করবে?
তার থেকে ভালো, মানুষের আচরণ ধরো।

ধর্মগ্রন্থ কি?
একটা বই, যেটা কোনো এক সময় লেখা হয়েছিল,
কিছু সমস্যা দূর করতে। মানুষ লিখেছিল, মানুষের সার্থে লিখেছিল।
আজ সময় পরিবর্তন হয়েছে, মানুসিকতা পরিবর্তন হয়েছে,
সমস্যাগুলোও বিস্তারলাভ করেছে।
সময়ের সাথে তাল রেখে সেই ধর্মগ্রন্থের অনেক আয়াত-আইন আজ ভ্রান্ত।
যা শুধু পরিস্কার চিন্তাতেই আসতে পারে। তোমরাতো সম্মোহিত,
চিন্তা তোমাদের আসেনা। যারা চিন্তা করতে পারে, তাহলে তাদের যুক্তি শোনো কিছু।
মনুষত্ব দিয়ে বিচার করো।  দেখবে পরজন্মের শান্তির জন্য এখন কষ্ট করতে হবেনা,
এই জন্মেই, বেঁচে থেকে স্বর্গ পেয়ে যাবে। সমস্যার সমাধানই একমাত্র শান্তির পথ,
স্বর্গের শিড়ি। ধূর্ত বুদ্ধির দরকার নেই, শুধু মানবিক বুদ্ধি দিয়েই ভালো চিন্তা ও
ভালো কাজ সম্পন্ন হয়।  লেখকের লেখার অপেক্ষায় থাকতে হয়না,
তথাকথিত তোমাদের অসহিষ্ণুতা ও অসহিষ্ণুতার চিন্তাও গড়ে ওঠেনা।

No comments:

Post a Comment