Friday, 11 December 2015

আদর্শের গোছে ঠ্যাঙানি।
সৌম্যজিত দত্ত।


আদর্শ, সততা, পরিশ্রম আমার হাতের রেখা,
সময় ধরে, ধৈর্য রেখে, অনেককিছু থেকে বঞ্চিত করে,
ইচ্ছা করেই বঞ্চিত করে তৈরি করা রেখা।
বন্ধুরা সার্কাস দেখতে যাচ্ছে, মন চায় আমিও যাই,
পরেক্ষণে মনে পড়ে, এই চ্যাপ্টারটা পড়ে নিই,
পরীক্ষা ভালো হবে। হয়েগেলাম বঞ্চিত।
বন্ধুরা পার্টি করছে, মেলাতে যাচ্ছে, পাবে যাচ্ছে,
আমার খেয়ালও হয়নি কখনো, যে আমিও যাবো।
ভেবেছি, পড়ি, বাজে টাকা কেন খরছ করবো?
ওই টাকায় আমি দুটো বই কিনতে পারবো।
এভাবে বইয়ের পাহাড় জমেগেছে।
মা, পাপা বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে, আমার জন্মদিন,
তখনও নিজেকে আটকেছি, আমাকে এই বইগুলো পড়তে হবে। 
সবসময় এভাবেই বঞ্চিত করেছি।
পঁচিশ বছর বয়সে তিনটে সরকারি চাকরিও ছেড়েছি,
ভেবেছি সময় লাগুক, রিসার্চ কমপ্লিট করে ভালোভাবে এগোবো।
কেরিয়ার তুঙ্গে পৌঁছেছে এভাবেই, এখনও অনেক পথ বাকি,
থেসিস কমপ্লিট করে রেজাল্ট জমা করতে হবে, 
তাই এখনও নিজেকে বঞ্চিত করে যাচ্ছি একইভাবে,
ভাবছি, আর তো কয়েকটা মাস, দেখতে দেখতে হয়েযাবে সব। 
এখন একটু ভুল হলেই রিসার্চে জল পড়ে যেতে পারে।
আরও সাবধান হয়েছি। 

আজ নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ, আমার একাডেমিক কেরিয়ার থেকে,
বা বই প্রকাশনী থেকে উপার্জন নয়, অন্য কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জন 
করতে পারলে, সেই উপায়ে গিয়ে জীবন যুদ্ধে লড়াই করে উপার্জন করতে পারলে,
নিজের ভালবাসা প্রমাণ করতে পারবো, অনুভুতি জাগাতে পারবো যে আমি দায়িত্ব নিতে পারি।
তাতে আমার কেরিয়ার হয়ত একটু সংকটে পড়বে, কিন্তু আমি এই লড়াইটাও জিততে চাই। 
হ্যা, এমন একটা জায়গায় পৌঁছেও শুধু অনুভুতি, ভরসা জোগাতে, আমি যেকোনো কাজে 
যুদ্ধ করে, সে যেমনই হোকনা কেন, উপার্জন করবো।
অসুবিধা শুধু একটা জায়গায়, মানতে বড় কষ্ট হলো,
শর্ত আমি মেনে নিলাম, যেকোনো লড়াই লড়তে আমি প্রস্তুত,
শুধু তুলনাটা বড্ড আঘাত করলো, আমি কারোর তুলনায় যেতে চাইনা,
যদি তুলনা করেই লড়াই করতাম, তবে আদর্শকে জলাঞ্জলি দিতাম অনেক আগেই,
লড়াই করি নিজের সাথে, নিজেকে সংশোধন করতে। অন্যের সাথে তুলনা টেনে নয়। 
তুমি তোমার জায়গায় ঠিক, যাচাই করতেই পারো। 
তবু ওই তুলনা টেনোনা, আদর্শে আঘাত লাগে।

No comments:

Post a Comment