Tuesday, 29 December 2015

"দ্বিখন্ডিত নিষিদ্ধ করেছি বাধ্য হয়ে"-------বুদ্ধ।


তত্কালীন পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য গতকাল তসলিমা নাসরিনের ফেটে পরা বিক্ষোভের মুখে দাড়িয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে স্বীকার করেছেন, "দ্বিখন্ডিত নিষিদ্ধ করেছি বাধ্য হয়ে।"

যেটা হয়েছে, যা কিছু হয়েছে, সেটার জন্য পার্টি দায়ী, সমস্ত সদস্যরা একত্রে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত ভাবে উনি বই নিষিদ্ধ হওয়ার বিরুদ্ধে। তাহলে কি তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী এটাই বোঝাতে চাইলেন, যে তিনি শুধু মাত্র পার্টির হাতে গড়া একজন পুতুল ছিলেন, আসল কলকাঠি নাড়তেন অনিল, বিমানরা? বুদ্ধদেব বাবু, প্রায় ১০ বছর মুখ্যমন্ত্রীর  পদে শাসন করার পর, নিজেকে নপুংসক প্রমাণ  করে এভাবেই দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন, তার সাথে নিজের পার্টির অরাজকতার স্বাক্ষিও একইসাথে দিয়ে রাখলেন।

আমাদের দেশে বাকস্বাধীনতার পক্ষে, স্বাধীন ও মুক্ত চিন্তার পক্ষে, স্বাধীনভাবে লেখার পক্ষে সাংবিধানিক আইন প্রযোজ্য। প্রতিটা নাগরিকের স্বাধীনতা আছে, নিজের মতকে প্রকাশ্যে তুলে ধরার।আমাদের সাংবিধানিক আইনে এমন নিয়মও আছে, যাতে নারীকে সম্মান দেওয়া হয়। তবে কোন মানবিক আইনে তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তসলিমা নাসরিন লিখিত "দ্বিখন্ডিত"-এর ওপর নিষেধআজ্ঞা জারি হয়? কোন মানবিক আইনে তসলিমা নাসরিন কে মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো পুলিশী দালাল কমিশনারকে দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়? কোন মানবিক আইনে একজন মহিলাকে নির্বাসন দন্ড দেওয়া হয়? কোন মানবিক আইনে অশোক তোদি ও রিজওয়ান কান্ডের সুযোগে, কলকাতার ধর্মান্ধ মুসলিম ভাইদের একজন মহিলার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া হয়, রাজ্য ছাড়তে বাধ্য করার জন্য?

আজ এতকিছু হয়ে যাওয়ার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নিজের পিঠ বাঁচাতে নিজের নপুংসকতার প্রমাণ দিচ্ছে।

একই ধারা অক্ষুন্ন রেখেছেন বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বানার্জীও। একজন নারী হয়ে আরেকজন নারীকে চির নির্বাসনে পাঠিয়েও ওনার আত্মা শান্ত হয়নি। সিরিয়ালের এপিসোড গুলোকেও ব্রাত্য করে দিয়েছে।

আরেকটা কথা, মাননীয় আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক মহাশয়ের কাছে আমার বিনীত নিবেদন, দয়া করে আপনাদের ছবি এডিট করার সফটওয়্যার চেঞ্জ করুন। মানুষের আকৃতিকে বিকৃত করছে ওই সফটওয়্যার। আমার মেয়েমা "তসলিমা নাসরিন"-এর গলা মোটেও এমন গরুর মতো ফোলা নয়। পাইরেটেড সফটওয়্যার দিয়ে আর কতদিন কাজ চালাবেন?

No comments:

Post a Comment