আলো।
সৌম্যজিত দত্ত।
বিশ্ব জুড়ে আলো ভরা, অন্ধকারেও নাই রাত,
চারিদিকে আজ শহরবেলা, মুছে গেছে গ্রাম-মাঠ-ঘাট।
চারিদিকে শুধু আলোর ঝলকানি। কিন্তু সে তো চোখ ধাঁধানো!!!
চিন্তাতে স্ফুলিঙ্গ কই?
চিন্তা আজও সেই মধ্যযুগীয়। ধর্ম মানো, ধর্ম পোষো, শুধু ধর্মগান গেয়ে চলো,
ধর্মই সব আধার ঘুঁচাবে।
তুমি শুধু ধর্ম চিন্তা করো। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চিন্তা, ধর্ম তোমাকে উপহার দেবে,
দোয়া বা আশির্বাদ হিসেবে।
তাই চিন্তাতে নাই আলো।
এই পৃথিবী তার সৃষ্টি, তুমি তারই সৃষ্টির অংশ।
চলতে হলে চলো তার নিয়মে, সবাই যা করে, সবাইমিলে একসাথে করো।
না কোনো নতুন চিন্তা, না কোনো নতুন ভাবনা। শুধু ইশ্বর জয়গান করো।
স্কুলে দেখোনি কিভাবে সবাই এক পোশাক পরে, একসাথে লাইন ধরে চলে,
মাস্টার যা বলে, তাই শোনে?
সেটাই তাদের বিধাতা।
তোমাকেও সবার মতো একইভাবে চলতে হবে, সম্মোহিত হয়ে, তবেই তোমার রক্ষা।
নতুন কিছু চিন্তা করলেই, নতুন কিছু ভাবলেই তুমি অধার্মিক। তোমার জায়গা সমাজের বাইরে।
চিন্তাতে কোনো আলো নাই।
আমার চিন্তা আমি লিখবো, একটু অন্যরকম কিছু লিখবো,
না, বাকিদের মতো কোনো প্রেম নিয়ে নয়। একটু অন্যকিছু, যেখানে চিন্তা থাকবে, বুদ্ধি থাকবে,
নাইবা থাকুক ছন্দ।
পাড়া-পড়শী পিছু টানে, কানাকানি করে, "শুনেছিস, ওই হতচ্ছাড়া ছেলের কান্ড!!!
কিসব ছাইপাশ লেখে। তসলিমা নাসরিনের সাথে ধরম-মরম।
বেজাতের মেয়েটাই ওর মাথা খেল।"
আত্মীয়রা ভয় পায়। ভাবে ছেলে ধর্ম-রাজনীতিকে উপেক্ষা করছে, বিপদ। ঘোর বিপদ।
বাবা, মা আমার লেখা শোনেইনা, জানেইনা। শুধু বলে, আমি ভুল লিখি। ছেলে বেঘরে মরবে।
পড়াশোনা বিজ্ঞান নিয়ে। বিজ্ঞান চিন্তা তাই স্বতস্ফুর্ত। সেই চিন্তাতেও বাধা।
"পঁচিশ বছর বয়স হয়েছে, এখন এত কিসের পড়াশোনা? এত কিসের চিন্তা?
সকাল সকাল উঠে স্নান করে, ঠাকুর প্রণাম করতে হয়, তবেই ভালো থাকা যায়।"
কিছুদিন আগে পাইকপাড়া'তে "মুসলিম বিক্ষোভের" কথাই,
আমার উত্তর, "মুসলিমরা মারছে হিন্দুকে, হিন্দুরা মারছে মুসলিমকে।
কেউ ঠিক না, সবাই ভুল করছে।"
শুনতে হলো, "বেশ করছে মুসলিমদের মারছে। ওদের মেরে ফেলায় দরকার।"
আমার কথা, "তবে কি মুসলিমরাও ঠিক করছে হিন্দু মেরে?"
আর যাবে কোথায়? "হিন্দুর ছেলে মুসলিমদের সাথে হাত মিলিয়েছে!!
গুলি করে মারা উচিত, কেটে ফেলা উচিত।"
আমি চুপ করে গেলাম।
ভাবলাম আমার কথা বুঝবেনা। এরা সম্মোহিত।
এমনসব উদাহরণ সমাজের প্রতিটা ঘরে ঘরে।
ওসব রাস্তার আলোর ঝলকানিতে শুধু চোখের মনোরঞ্জন হয়।
চিন্তা ছাড়া বুদ্ধির বাসা অন্ধকারই থেকে যায়।
সৌম্যজিত দত্ত।
বিশ্ব জুড়ে আলো ভরা, অন্ধকারেও নাই রাত,
চারিদিকে আজ শহরবেলা, মুছে গেছে গ্রাম-মাঠ-ঘাট।
চারিদিকে শুধু আলোর ঝলকানি। কিন্তু সে তো চোখ ধাঁধানো!!!
চিন্তাতে স্ফুলিঙ্গ কই?
চিন্তা আজও সেই মধ্যযুগীয়। ধর্ম মানো, ধর্ম পোষো, শুধু ধর্মগান গেয়ে চলো,
ধর্মই সব আধার ঘুঁচাবে।
তুমি শুধু ধর্ম চিন্তা করো। বিজ্ঞান-প্রযুক্তির চিন্তা, ধর্ম তোমাকে উপহার দেবে,
দোয়া বা আশির্বাদ হিসেবে।
তাই চিন্তাতে নাই আলো।
এই পৃথিবী তার সৃষ্টি, তুমি তারই সৃষ্টির অংশ।
চলতে হলে চলো তার নিয়মে, সবাই যা করে, সবাইমিলে একসাথে করো।
না কোনো নতুন চিন্তা, না কোনো নতুন ভাবনা। শুধু ইশ্বর জয়গান করো।
স্কুলে দেখোনি কিভাবে সবাই এক পোশাক পরে, একসাথে লাইন ধরে চলে,
মাস্টার যা বলে, তাই শোনে?
সেটাই তাদের বিধাতা।
তোমাকেও সবার মতো একইভাবে চলতে হবে, সম্মোহিত হয়ে, তবেই তোমার রক্ষা।
নতুন কিছু চিন্তা করলেই, নতুন কিছু ভাবলেই তুমি অধার্মিক। তোমার জায়গা সমাজের বাইরে।
চিন্তাতে কোনো আলো নাই।
আমার চিন্তা আমি লিখবো, একটু অন্যরকম কিছু লিখবো,
না, বাকিদের মতো কোনো প্রেম নিয়ে নয়। একটু অন্যকিছু, যেখানে চিন্তা থাকবে, বুদ্ধি থাকবে,
নাইবা থাকুক ছন্দ।
পাড়া-পড়শী পিছু টানে, কানাকানি করে, "শুনেছিস, ওই হতচ্ছাড়া ছেলের কান্ড!!!
কিসব ছাইপাশ লেখে। তসলিমা নাসরিনের সাথে ধরম-মরম।
বেজাতের মেয়েটাই ওর মাথা খেল।"
আত্মীয়রা ভয় পায়। ভাবে ছেলে ধর্ম-রাজনীতিকে উপেক্ষা করছে, বিপদ। ঘোর বিপদ।
বাবা, মা আমার লেখা শোনেইনা, জানেইনা। শুধু বলে, আমি ভুল লিখি। ছেলে বেঘরে মরবে।
পড়াশোনা বিজ্ঞান নিয়ে। বিজ্ঞান চিন্তা তাই স্বতস্ফুর্ত। সেই চিন্তাতেও বাধা।
"পঁচিশ বছর বয়স হয়েছে, এখন এত কিসের পড়াশোনা? এত কিসের চিন্তা?
সকাল সকাল উঠে স্নান করে, ঠাকুর প্রণাম করতে হয়, তবেই ভালো থাকা যায়।"
কিছুদিন আগে পাইকপাড়া'তে "মুসলিম বিক্ষোভের" কথাই,
আমার উত্তর, "মুসলিমরা মারছে হিন্দুকে, হিন্দুরা মারছে মুসলিমকে।
কেউ ঠিক না, সবাই ভুল করছে।"
শুনতে হলো, "বেশ করছে মুসলিমদের মারছে। ওদের মেরে ফেলায় দরকার।"
আমার কথা, "তবে কি মুসলিমরাও ঠিক করছে হিন্দু মেরে?"
আর যাবে কোথায়? "হিন্দুর ছেলে মুসলিমদের সাথে হাত মিলিয়েছে!!
গুলি করে মারা উচিত, কেটে ফেলা উচিত।"
আমি চুপ করে গেলাম।
ভাবলাম আমার কথা বুঝবেনা। এরা সম্মোহিত।
এমনসব উদাহরণ সমাজের প্রতিটা ঘরে ঘরে।
ওসব রাস্তার আলোর ঝলকানিতে শুধু চোখের মনোরঞ্জন হয়।
চিন্তা ছাড়া বুদ্ধির বাসা অন্ধকারই থেকে যায়।
No comments:
Post a Comment