অভিজ্ঞতা শেখায়।
সৌম্যজিত দত্ত।
জীবনের অভিজ্ঞতা সকল মানুষই অধিকার করে। জীবনের প্রতিটা মুহুর্তে ঘটে যায় অজস্র ঘটনা। সেগুলোর সামনে সময়ের সাথে মুখোমুখি হতে হয়। হয়ত যেভাবে সেগুলোর মুখোমুখি আমরা হই, আবার পরেক্ষনেই মনেহয়, আরেকটু অন্যভাবে সেটা ফেস করতেই পারতাম। তাতে তার ফল কিছুটা অন্যরকম হতে পারত।
আমি খুব ছোট বয়সেই পড়াশোনা শুরু করাতে, একটা কথা বারবার মনেহত, এখন যদি আগের ক্লাসের অঙ্কগুলো সমাধান করতে বসি, তবে খুব কম সময়ে, খুব সহজ উপায়ে সেগুলো সমাধান করতে পারবো। যেমন, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তখন আমার সপ্তম শ্রেনীর অঙ্ক ও কঠিন অঙ্কগুলো ভীষণ সোজা মনে হত। ঠিক সেই অঙ্কগুলোই, যেগুলো শিক্ষক বারবার বোঝানোর সত্ত্বেও আমি ভুল করতাম। আবার ঠিক অষ্টম শ্রেণীতে বারবার ভুল করা অঙ্কগুলো আমি নবম শ্রেণীতে খুব সহজেই সমাধান করতে পারতাম। এর মানে এই নয় যে, আমি অঙ্কে খারাপ। আমি অঙ্কে ভালো কিন্তু, মস্তিস্ক পরিনত হওয়ার আগেই আমাকে অ্যাডভান্স হতে হত। আর ঠিক যে সময়ে আমি আগের বছরের কঠিন অঙ্কগুলো সহজেই সমাধান করতে পারছি, ঠিক সেই সময়ে সেই অঙ্কগুলোই আমার মস্তিস্ক সমাধান করার যোগ্য ছিল। আবার এমনও একটা সম্ভাবনা থেকে যায়, হয়ত আমি নবম শ্রেণীতে অপেক্ষাকৃত কঠিন অঙ্কগুলো সমাধান করার চেষ্টা করছি, তাই পুরোনো অঙ্কগুলো আমারকাছে সোজা মনে হচ্ছে। সম্ভাবনা সবসময় মস্তিস্ক চিন্তা ও অভিজ্ঞতা এই দুইয়ের ওপরে নির্ভর করে। আবার অনেকক্ষেত্রে সম্ভাবনা পরিবেশ অনুযায়ী নিজের চরিত্র পাল্টাতে থাকে।
আজ আমি একটা ব্যাপার নিয়ে যখন ভাবছি, ধরি সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে ভাবছি, এখন আমার পজিশন অনুযায়ী আমার ভাবনাগুলো এমন হবে: ১) দেশের কোথায় কি ভালো হচ্ছে, সেসব মাথাতে সহজে আসবেনা। বরং কি কি খারাপ হচ্ছে, সেসব নিয়ে চিন্তা করতে থাকবো, আলোচনা করবো।এমন ভাবে চিন্তা করবো যে, কোথাও কিছুই ভালো হচ্ছেনা। শুধু খারাপ আর খারাপ।
২) যেহেতু আমি একজন গবেষক ও লেকচারার, তাই আমার চিন্তা ভাবনার শুরু ও মূল গুরুত্ব পাবে শিক্ষা ব্যবস্থার অবনতি।
৩) আমি যদি শুধুমাত্র একজন ছাত্র হতাম, তবে আমার চিন্তা ভাবনা হত দেশের বেকারত্ব বাড়ছে, চাকরি নিয়োগ সময়মত হচ্ছেনা, বা প্রার্থীরা সময়মত চাকরির সুযোগ পাচ্ছেনা। যেমন আমি, প্রচুর চাকরির পরীক্ষায় বসেছি, কিছু কিছু জায়গায় পাশ করেছি, কিন্তু শেষমেষ কোনোভাবে আটকে গেছি। এই আটকে যাওয়ার জন্য কাউকে দোষ না দিয়ে, আমরা চেষ্টা করতে পারি প্রতিকুলতা কাটানোর। তাতে নিশ্চই কিছু ভালো ফল হবে। আবার কেউ যদি সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়ার মত মানুসিক কাঠামো অর্জন করতে পারে, তবে সে আরো ভালো কিছু করতে পারে।
৪) আবার যারা একটু নিচু ক্লাসে আছে, তাদের চিন্তা ভাবনা হবে, আমরা কিভাবে পরীক্ষায় পাশ করব বা ভালো ফল করব। আমাদের বড় অফিসার হতে হবে। আই.এ.এস বা আই.পি.এস হতে হবে। এমন স্টেজে দাড়িয়ে ছাত্র, ছাত্রীরা অলীক সব কল্পনা করে ফেলে। এখানে উল্লেখ্য, কখনো এই চিন্তা, কখনো ওই চিন্তা এমন অলীক কল্পনার চিন্তা ছাত্র ছাত্রীদের গোলক ধাঁধায় আবদ্ধ করে। এমন পরিস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীরা নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে যদি স্থির চিন্তা করতে পারে, তবে তারা খুব বড়রকম ভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারে।
৫) এবার আমি আমার পজিশনের ওপরে গিয়ে কথা বলি, ধরি আমি একজন বড় মন্ত্রী হলাম, মুখ্যমন্ত্রী। এখানে অনেকরকম সাইকোলজি কাজ করে। যেমন প্রতিটা মন্ত্রীই চায়, নিজের জায়গা ধরে রাখতে বা আরও বড় কোনো পদে উত্তীর্ণ হতে। সেখানে তার চিন্তা হবে, কিভাবে ভোট সংরক্ষণ করা যায়, কিভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা যায়। রাজ্যের শিল্প, শিক্ষা, চাষবাসের ওপর কিভাবে আধিপত্য করা যায়। আবার কিছু কিছু মন্ত্রীর যাদের মাথায় সত্যিকারের উন্নয়নের চিন্তা ঘোরে, তারা ভাববে কিভাবে অন্তত কিছু মানুষের উন্নতি করা যায়, সুযোগ সুবিধা দেওয়া যায় এসব নিয়ে। সমস্তটাই নির্ভর করবে সমসাময়িক ভাবে অর্জিত অভিজ্ঞতার ওপর। কিন্তু এখন আমার চিন্তাতে, যদি আমি মুখ্যমন্ত্রী হতাম, তবে: ১) জিনিসপত্রের বাজারদর কমানোর কথা ভাবতাম। ২) শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন ও উন্নত পদ্ধতি অবলম্বনে আরও উন্নত করার চেষ্টা করতাম। ৩) জলাভূমিকে যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প ও কৃষির উন্নতির কথা ভাবতাম। ৪) রাজ্যে গবেষনাগার খুলতাম ও ছাত্রছাত্রীদের গবেষনার জন্য তৈরি হওয়ার ব্যবস্থা করতাম। বৈদশিক বানিজ্যে আমদানি ও রপ্তানি বাড়ানোর ও রাজ্যের ব্যাবসাগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতাম। ৫) রাজ্যে অধিক সংখ্যক সরকারী কর্মচারী বিনিয়োগের চেষ্টা করতাম। ৬) মানুষের মধ্যে থেকে ধর্মান্ধতা কাটানোর চেষ্টা করতাম ও সকল মানুষকে নিজেদের চিন্তা, ভাবনা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করে দিতাম। ৭) কেউ ধর্ম পালনে ইচ্ছুক হলে ধর্ম পালন করুক ও যারা ইচ্ছুক নয় তারাও যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায়। সর্বোপরি কেউ যেন কারোর সামনে বাধা হয়ে না দাড়ায়। ৮) জাতির ঐক্য স্থাপন করতাম। ৯) ব্যক্তিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে মেয়েমা তসলিমা নাসরিনকে ফিরিয়ে আনতাম ও সাধারণ মানুষের মত বাঁচার ব্যবস্থা করে দিতাম। মানবতাবাদী লেখক হিসেবে মানুষের মনে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দিতাম।
এই এত সব চিন্তার কথা বললাম, কিন্তু এসব এখন আমার বর্তমান পজিশনে থেকে মন্ত্রিত্বের পদ পেলে, চিন্তাভাবনার কথা। কিন্তু পরিস্থিতির বাস্তব মুহুর্তে চিন্তা ভাবনা পাল্টে যেতেই পারে। সবকিছুই আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা ও চিন্তাভাবনা থেকে অনবরত শিখে চলি।
No comments:
Post a Comment