ভাষা আন্দোলন। আমার কাছে ভাষা তসলিমা নাসরিনের কান্না।
সৌম্যজিৎ।
আজ ভাষা আন্দোলনের হিড়িক লেগেছে শহরে,
আজ ভাষা আন্দোলনের নামে ন্যাকামি চলছে শহরে।
সারাবছর এরা কথায় কথায় ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে কথা বলে,
আবার প্রথমে ইংরেজিটা বলে পরে, বাংলা উচ্চারণ করে।
এরাই আজ ভাষা আন্দোলনের জন্য বড় বড় বক্তৃতা শোনাচ্ছে!
কিসের ভাষা আন্দোলন?
ভাষার স্বাধীনতা কোথায়?
স্বাধীনভাবে আমরা যে ভাষায় যোগাযোগ করতে পারি সেটাই, আমাদের স্বাধীন ভাষা।
স্বাধীন বলতে ভাষার সাবলীলতা।
এটা আমার ভাষা, ওটা ওদের ভাষা, যেখানে মানুষ জাতি বৈসম্যের বিরুদ্ধে,
বর্ণ বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, সেখানে এত ভাষা বৈষম্য?
ভাষা কি আমাদের এক হতে পারতনা?
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তো আমরা বেশ ইংরেজীটাকেই আপন করে নিই।
বাংলা আমার ভাষা।
বাংলাভাষাতে দুটো কথা বলার জন্য ছটপট করেছে আমার বাংলা নির্বাসিত লেখিকা।
যেখানে সমাজে উর্দু-ইংরেজি-বাংলা তে কথা বলে মানুষ নিজের অহমিকা প্রকাশে ব্যস্ত সেখানে,
আমার লেখিকা আর্তনাদ করে করে হাঁপিয়ে উঠত দিনের পর দিন।
যদি ভাষা আন্দোলন বলতে কিছু বুঝি, সেটা তসলিমা নাসরিনের কান্না।
সারাদিনের নির্বাসিত জীবনের একঘেয়েমি, একাকিত্ব, একাকী সমুদ্রপাড়ে ঘরবন্দী,
প্রিয় বিড়ালটাও সাথে নেই, কি করবে, কি ভাববে কিছুই যখন স্থির করতে পারছেনা,
বাংলাভাষা বলার জন্য সামনে কোনো বাংলা বোঝা মানুষ নেই,
একটা ই-মেইল করবে বাংলাতে, সেটারও স্বাধীনতা নেই, শুধু আছে সারাদিনের ছটপটানি,
আপন ঘরেই ভবঘুরে হয়ে যাওয়ার পরিনতি,
সারাদিনের নাওয়া, খাওয়া বন্ধ করে বিছানায়-বালিশে মুখ গুজে ক্লান্তিকর ঘুম,
সে ঘুমেও বড় ক্লান্তি।
তোমরা শুধু তাকে বাংলা স্থান থেকেই নির্বাসন দাওনি,
তোমরা তাকে সমগ্র বাংলা থেকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছ।
বাংলাভাষাতে লেখা তার বইগুলো পুড়িয়ে মজা লুটেছ,
ঠিক যেভাবে নারী ধর্ষণের পর ধর্ষকের মুখে তৃপ্ত হাসি থাকে, সেভাবে।
আজ সেই তোমরাই ভাষা আন্দোলনের নামে নিজেদের শিক্ষা-সংস্কৃতির জ্ঞান বিলচ্ছ।
আমি বাঙালি, আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি, বাংলাতেই আমার স্বতস্ফুর্ততা তবু,
বঙ্গস্থানকে আমি আপন করে নেবোনা। বাংলার গায়ে যে কলঙ্ক লেগে আছে -
তসলিমা নাসরিনের নির্বাসনে, সেই কলঙ্ক মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত, বঙ্গস্থান আমার নয়।
তাতে তোমরা যদি আমাকে রাজ্যদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী, সমাজদ্রোহী বল,
আমি হাসি মুখে মেনে নেবো।
No comments:
Post a Comment