নারী-নিগ্রহ ভাতা চাই।
মার খাওয়ার মজুরি চাই।
বৈবাহিক ধর্ষিতা হওয়ার বেতন চাই।
.
.
.
.
.
গৃহবধুর বেতন চাই।
সমাজে সর্বস্তরে ভালো, খারাপ সবকিছুর জন্যই মানুষ কিছুনা কিছু উপার্জন করে। কেউ বড় চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ চুরি করে। চুরি করাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত। ১) ছোট জাতের চোর, যারা চোর সুনামে চুরি করে। ২) বড় জাতের চোর। যারা সাদা, কালো, খাকি পোশাকের আড়ালে ডাকাতি করে।
সমস্ত পেশায় উপার্জন কেন্দ্রিক। এসবের মধ্যে চোখে ধরার মত বিষয় হল, এই সমস্ত পেশাগুলো পুরুষকেন্দ্রিক। সামান্য পরিমাণে নারীও যুক্ত। তবে তা একেবারেই হাতে গোণা। ৮-১০%। বেশিরভাগ নারীর কপালে জোটে বিনা ভাতায় গৃহবধুর চাকরি। তাদের নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।
প্রথমেই আমি আমার মাকে নিয়ে কিছু বলি। আমার মা'র বিয়ে হয়েছে ২৬ বছর আগে। একজন গৃহবধু। পাপা ব্যবসায়িক। খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। তবে হ্যা, আমার পাপা খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হওয়ার সত্ত্বেও মানবিক বিচারে কিছুটা অন্যরকম। নারী কষ্ট বোঝে। আমার মা'র জন্য আড়ালে কিছু করার চেষ্টা করে, কিন্তু সামনে সেই কড়া মেজাজী, বদ মেজাজী। আমার মা পড়াশোনাতে মধ্যম মানের ছাত্রী ছিল। সমসাময়িক ভাবে হয়ত কিছুটা ভালো ছিল, কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষাতে ফেল করে যায়। গরীবের মেয়ে ছিল, দাদুর চিন্তা ছিল, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে পার করতে হবে। তিন মেয়ে। তাই মা'র বিয়েটা জোরপূর্বক ও তার অনিচ্ছাতেই দিয়েছিল দাদু। মা চেয়েছিল পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে। দাদু দেখল ছেলে পরিশ্রমী ও ব্যবসাতেও বেশ ভালোই উপার্জন আছে। তাই মা'কে বিয়ে দিয়ে দেয় পাপার সাথে। যদিও পাপা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পড়াশোনা করাবে। করাতে চেয়েও ছিল, কিন্তু পরিবারের চাপে সেটা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি বলতে, মা'কে পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য পাপা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শ্বশুর বাড়ির চাপে মা পিছিয়ে পরে। উত্সাহ হারিয়ে ফেলে। তাই পড়াশোনাটা আর এগোতে পারেনি। আমি বলছিনা আমার পরিবারের মানুষজন খারাপ, কিন্তু সেই সময়ের পরিস্থিতির সাপেক্ষে একটা গৃহবধুর ওপর অন্যায় তো হয়েই ছিল। ওরা প্রতিটা মানুষ ভীষণ মানবিক। তারপর অনেক টানাপোড়েন গেছে, পাপা পরিবার ছিন্ন হয়েছে, আমাকে ও মা'কে নিয়ে রাস্তাতে নেমে এসেছে, ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আবার কঠোর পরিশ্রম করে শুন্য থেকে উঠে দাড়িয়ে কোটির ঘরেও প্রবেশ করেছে। এসবের মধ্যে পাপা'র চরিত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। আস্তে আস্তে যত উঁচুর দিকে উঠেছে, আমার মা'কে তত বেশি নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে। মা চুপচাপ সেসব সহ্য করেছে, শুধু সন্তানকে তৈরি করতে। সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে সন্তানকে পড়াশোনা শিখিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করেছে, গবেষণা করিয়েছে। এসবের পিছনে আমার মা'কে অনেক বেশি মূল্য চোকাতে হয়েছে মানুষিক ভাবে অত্যাচার সহ্য করে। এমন দিনও দেখেছি, মা নিজের কসমেটিক না কিনে সব টাকা আমার জন্য, আমার দুধের জন্য, পড়াশোনার জন্য খরছ করেছে। কসমেটিক তো পরেও হবে, ছেলে দুধ ভালোবাসে, ওটা আগে কিনতে হবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার দুধ প্রয়োজন ছেলের জন্য। আবার যখন আস্তে আস্তে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, তখনও তাকে পাপার কাছে শুনতে হয়েছে, অন্য ছেলেরাও তো বড় হচ্ছে, আমরাও এত ভাই, বোন বড় হয়েছি, আমাদের এত খরছ হয়নি। একজন বেকার গৃহবধুর কাছে এই অত্যাচার গুলো ভীষণ অপমানের। বারেবারে তাকে চারিদিক থেকে খোঁটা শুনতে হয়েছে আমাকে বড় করে তোলার জন্য। যেহেতু কোনো উপার্জন নেই, তাই মুখ বন্ধ করে সব সহ্য করেছে, আবার পাপার কাছে হাত পেতেছে। যদিও গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে, পাপা নিজের ইচ্ছায় মাকে সাজের জিনিস কিনে দেয়, আমাকেও আমার প্রয়োজনের জিনিস কখনো মুখ ফুটে চাইতে হয়নি, পাপা অনেক বেশি বেশি করে কিনে দিয়েছে, সারাজীবনের উপার্জনের অর্ধেক অংশ আমার মাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। মা নিষেধ করলেও, পাপা মা'র জন্য অনেক অনেক উপহার নিয়ে আসে। গত চার বছর ধরে পরিস্থিতি এমন হয়েছে। কিন্তু মানুষ যতই পরিবর্তিত হোক, পুরো পরিবর্তন আসেনা। পাপা এখনো মাঝে মাঝে মা'র সাথে এমন আচরণ করে ফেলে যাতে, মা'র নিজেকে এই সংসারে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এ ভোগে। ভাবে, যদি সমর্থ থাকত, তবে উপার্জন করে নিজের প্রয়োজন নিজে মেটাতাম। এভাবে অপমান সহ্য করতে হতনা।
এমন গল্প আজ প্রতিটা ঘরে ঘরে। বা হয়ত এর থেকেও অনেক বেশি কিছু, অনেক ভয়ঙ্কর কিছু। স্ত্রী নিগৃহীত হচ্ছে স্বামীর কাছে, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হচ্ছে প্রতি রাতে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, বাচ্চা মানুষ করছে, স্বামী রাতে মদ খেয়ে বাড়িতে ফিরে সেই স্ত্রীকেই মারধর করছে, হাত-পা টেপাচ্ছে, আবার সেই ক্লান্ত স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করছে। এমন ভাবে করছে যাতে, স্ত্রী শারীরিক ও মানুসিক যন্ত্রনাতে ছটপট করছে, আর স্বামী সেটা উপভোগ করছে। খিদে মিটিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। স্ত্রী সেসব সহ্য করছে শুধু মাত্র হয়ত সন্তানের কথা ভেবে, নিজের আর্থিক অসহায়তার কথা ভেবে, মাথার ওপর থেকে ছাদ হারানোর ভয়ে, আবার সামাজিক লজ্জা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। আসলে সেইসব স্ত্রীরা ভালোবেসে নয়, বাধ্য হয়ে সংসার করছে আর সেই সংসারের চিতায় প্রতিটা মুহুর্তে জ্বলছে। অথছ, সেই স্ত্রী'ই যদি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হত তবে, এই মানুসিক নির্যাতন থেকে নিজেই নিজেকে অনেকটা বাঁচাতে পারত। এইসব স্বামীরা তাদের স্ত্রী'দের মানুষ হিসেবে নয়, সেবার যন্ত্র হিসেবে মনে করে। ভোগের যন্ত্র হিসেবে মনে করে।
পরিস্থিতি যদি এমনই হয়, নারী যদি প্রায় সব ক্ষেত্রে শুধু ভোগের জন্যই হয়ে থাকে, তবে "ভোগের বস্তু" নারীর পেশা হোক। কথাটা খারাপ শোনালেও, এটাই বাস্তব। অনেকে অনেক খারাপ পথে, অসৎ পথে উপার্জন করে, তবে নারী কেন গৃহবধু হিসেবে করে যাওয়া সমস্ত পরিশ্রমের জন্য পারিশ্রমিক পাবেনা? বস্তুর মত খেটে যাওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, সন্তান বড় করে দেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে মার খাওয়ার পারিশ্রমিক চাই, পরিবারের মানুসিক অত্যাচার সহ্য করতে পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হওয়ার পারিশ্রমিক চাই। হ্যা, বৈবাহিক ধর্ষণের জন্যও পারিশ্রমিক চাই, কারণ ঐসব পুরুষদের কাছে বেশ্যালয়ের বেশ্যার শরীর ও ঘরের বউএর শরীর একই। বেশ্যালয়ে যদি টাকা দিতে পারে, তবে স্ত্রী'কে ধর্ষণের জন্যও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে। এতে অন্তত ওই স্ত্রী নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস থেকে কিছুটা মুক্ত হবে। ওই পারিশ্রমিক দিয়ে অন্তত সেই স্ত্রী নিজের ইচ্ছামত কিছুটা প্রয়োজন মেটাতে পারবে। অন্তত কিছুটা হলেও সে নিজের সুখ খুঁজে পাবে তাতে।
লেখক: সৌম্যজিত দত্ত।
মার খাওয়ার মজুরি চাই।
বৈবাহিক ধর্ষিতা হওয়ার বেতন চাই।
.
.
.
.
.
গৃহবধুর বেতন চাই।
সমাজে সর্বস্তরে ভালো, খারাপ সবকিছুর জন্যই মানুষ কিছুনা কিছু উপার্জন করে। কেউ বড় চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ চুরি করে। চুরি করাও আবার দুই ভাগে বিভক্ত। ১) ছোট জাতের চোর, যারা চোর সুনামে চুরি করে। ২) বড় জাতের চোর। যারা সাদা, কালো, খাকি পোশাকের আড়ালে ডাকাতি করে।
সমস্ত পেশায় উপার্জন কেন্দ্রিক। এসবের মধ্যে চোখে ধরার মত বিষয় হল, এই সমস্ত পেশাগুলো পুরুষকেন্দ্রিক। সামান্য পরিমাণে নারীও যুক্ত। তবে তা একেবারেই হাতে গোণা। ৮-১০%। বেশিরভাগ নারীর কপালে জোটে বিনা ভাতায় গৃহবধুর চাকরি। তাদের নিয়ে কিছু আলোচনা করা যাক।
প্রথমেই আমি আমার মাকে নিয়ে কিছু বলি। আমার মা'র বিয়ে হয়েছে ২৬ বছর আগে। একজন গৃহবধু। পাপা ব্যবসায়িক। খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ। তবে হ্যা, আমার পাপা খাঁটি পুরুষতান্ত্রিক পুরুষ হওয়ার সত্ত্বেও মানবিক বিচারে কিছুটা অন্যরকম। নারী কষ্ট বোঝে। আমার মা'র জন্য আড়ালে কিছু করার চেষ্টা করে, কিন্তু সামনে সেই কড়া মেজাজী, বদ মেজাজী। আমার মা পড়াশোনাতে মধ্যম মানের ছাত্রী ছিল। সমসাময়িক ভাবে হয়ত কিছুটা ভালো ছিল, কিন্তু মাধ্যমিক পরীক্ষাতে ফেল করে যায়। গরীবের মেয়ে ছিল, দাদুর চিন্তা ছিল, মেয়েকে বিয়ে দিয়ে পার করতে হবে। তিন মেয়ে। তাই মা'র বিয়েটা জোরপূর্বক ও তার অনিচ্ছাতেই দিয়েছিল দাদু। মা চেয়েছিল পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে। দাদু দেখল ছেলে পরিশ্রমী ও ব্যবসাতেও বেশ ভালোই উপার্জন আছে। তাই মা'কে বিয়ে দিয়ে দেয় পাপার সাথে। যদিও পাপা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, পড়াশোনা করাবে। করাতে চেয়েও ছিল, কিন্তু পরিবারের চাপে সেটা সম্ভব হয়নি। সম্ভব হয়নি বলতে, মা'কে পরীক্ষা দেওয়ানোর জন্য পাপা চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শ্বশুর বাড়ির চাপে মা পিছিয়ে পরে। উত্সাহ হারিয়ে ফেলে। তাই পড়াশোনাটা আর এগোতে পারেনি। আমি বলছিনা আমার পরিবারের মানুষজন খারাপ, কিন্তু সেই সময়ের পরিস্থিতির সাপেক্ষে একটা গৃহবধুর ওপর অন্যায় তো হয়েই ছিল। ওরা প্রতিটা মানুষ ভীষণ মানবিক। তারপর অনেক টানাপোড়েন গেছে, পাপা পরিবার ছিন্ন হয়েছে, আমাকে ও মা'কে নিয়ে রাস্তাতে নেমে এসেছে, ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, আবার কঠোর পরিশ্রম করে শুন্য থেকে উঠে দাড়িয়ে কোটির ঘরেও প্রবেশ করেছে। এসবের মধ্যে পাপা'র চরিত্রেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। আস্তে আস্তে যত উঁচুর দিকে উঠেছে, আমার মা'কে তত বেশি নিগ্রহ সহ্য করতে হয়েছে। মা চুপচাপ সেসব সহ্য করেছে, শুধু সন্তানকে তৈরি করতে। সমস্ত অত্যাচার সহ্য করে সন্তানকে পড়াশোনা শিখিয়ে উচ্চ শিক্ষিত করেছে, গবেষণা করিয়েছে। এসবের পিছনে আমার মা'কে অনেক বেশি মূল্য চোকাতে হয়েছে মানুষিক ভাবে অত্যাচার সহ্য করে। এমন দিনও দেখেছি, মা নিজের কসমেটিক না কিনে সব টাকা আমার জন্য, আমার দুধের জন্য, পড়াশোনার জন্য খরছ করেছে। কসমেটিক তো পরেও হবে, ছেলে দুধ ভালোবাসে, ওটা আগে কিনতে হবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার দুধ প্রয়োজন ছেলের জন্য। আবার যখন আস্তে আস্তে আর্থিক স্বচ্ছলতা এসেছে, তখনও তাকে পাপার কাছে শুনতে হয়েছে, অন্য ছেলেরাও তো বড় হচ্ছে, আমরাও এত ভাই, বোন বড় হয়েছি, আমাদের এত খরছ হয়নি। একজন বেকার গৃহবধুর কাছে এই অত্যাচার গুলো ভীষণ অপমানের। বারেবারে তাকে চারিদিক থেকে খোঁটা শুনতে হয়েছে আমাকে বড় করে তোলার জন্য। যেহেতু কোনো উপার্জন নেই, তাই মুখ বন্ধ করে সব সহ্য করেছে, আবার পাপার কাছে হাত পেতেছে। যদিও গত কয়েক বছরে পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে, পাপা নিজের ইচ্ছায় মাকে সাজের জিনিস কিনে দেয়, আমাকেও আমার প্রয়োজনের জিনিস কখনো মুখ ফুটে চাইতে হয়নি, পাপা অনেক বেশি বেশি করে কিনে দিয়েছে, সারাজীবনের উপার্জনের অর্ধেক অংশ আমার মাকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। মা নিষেধ করলেও, পাপা মা'র জন্য অনেক অনেক উপহার নিয়ে আসে। গত চার বছর ধরে পরিস্থিতি এমন হয়েছে। কিন্তু মানুষ যতই পরিবর্তিত হোক, পুরো পরিবর্তন আসেনা। পাপা এখনো মাঝে মাঝে মা'র সাথে এমন আচরণ করে ফেলে যাতে, মা'র নিজেকে এই সংসারে অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। আইডেন্টিটি ক্রাইসিস-এ ভোগে। ভাবে, যদি সমর্থ থাকত, তবে উপার্জন করে নিজের প্রয়োজন নিজে মেটাতাম। এভাবে অপমান সহ্য করতে হতনা।
এমন গল্প আজ প্রতিটা ঘরে ঘরে। বা হয়ত এর থেকেও অনেক বেশি কিছু, অনেক ভয়ঙ্কর কিছু। স্ত্রী নিগৃহীত হচ্ছে স্বামীর কাছে, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হচ্ছে প্রতি রাতে। সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছে, বাচ্চা মানুষ করছে, স্বামী রাতে মদ খেয়ে বাড়িতে ফিরে সেই স্ত্রীকেই মারধর করছে, হাত-পা টেপাচ্ছে, আবার সেই ক্লান্ত স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন করছে। এমন ভাবে করছে যাতে, স্ত্রী শারীরিক ও মানুসিক যন্ত্রনাতে ছটপট করছে, আর স্বামী সেটা উপভোগ করছে। খিদে মিটিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। স্ত্রী সেসব সহ্য করছে শুধু মাত্র হয়ত সন্তানের কথা ভেবে, নিজের আর্থিক অসহায়তার কথা ভেবে, মাথার ওপর থেকে ছাদ হারানোর ভয়ে, আবার সামাজিক লজ্জা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে। আসলে সেইসব স্ত্রীরা ভালোবেসে নয়, বাধ্য হয়ে সংসার করছে আর সেই সংসারের চিতায় প্রতিটা মুহুর্তে জ্বলছে। অথছ, সেই স্ত্রী'ই যদি আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হত তবে, এই মানুসিক নির্যাতন থেকে নিজেই নিজেকে অনেকটা বাঁচাতে পারত। এইসব স্বামীরা তাদের স্ত্রী'দের মানুষ হিসেবে নয়, সেবার যন্ত্র হিসেবে মনে করে। ভোগের যন্ত্র হিসেবে মনে করে।
পরিস্থিতি যদি এমনই হয়, নারী যদি প্রায় সব ক্ষেত্রে শুধু ভোগের জন্যই হয়ে থাকে, তবে "ভোগের বস্তু" নারীর পেশা হোক। কথাটা খারাপ শোনালেও, এটাই বাস্তব। অনেকে অনেক খারাপ পথে, অসৎ পথে উপার্জন করে, তবে নারী কেন গৃহবধু হিসেবে করে যাওয়া সমস্ত পরিশ্রমের জন্য পারিশ্রমিক পাবেনা? বস্তুর মত খেটে যাওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, সন্তান বড় করে দেওয়ার জন্য পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে মার খাওয়ার পারিশ্রমিক চাই, পরিবারের মানুসিক অত্যাচার সহ্য করতে পারিশ্রমিক চাই, স্বামীর কাছে ধর্ষিতা হওয়ার পারিশ্রমিক চাই। হ্যা, বৈবাহিক ধর্ষণের জন্যও পারিশ্রমিক চাই, কারণ ঐসব পুরুষদের কাছে বেশ্যালয়ের বেশ্যার শরীর ও ঘরের বউএর শরীর একই। বেশ্যালয়ে যদি টাকা দিতে পারে, তবে স্ত্রী'কে ধর্ষণের জন্যও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দিতে হবে। এতে অন্তত ওই স্ত্রী নিজের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস থেকে কিছুটা মুক্ত হবে। ওই পারিশ্রমিক দিয়ে অন্তত সেই স্ত্রী নিজের ইচ্ছামত কিছুটা প্রয়োজন মেটাতে পারবে। অন্তত কিছুটা হলেও সে নিজের সুখ খুঁজে পাবে তাতে।
লেখক: সৌম্যজিত দত্ত।
No comments:
Post a Comment