সাধারণের আবেগ দেশ না সরকার শাসনাধীন রাষ্ট্র?
সৌম্যজিত দত্ত।
দেশ বলতে যখন একটা দেশের নাম বলাহয়, ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশ বা পাকিস্তান বা শ্রীলংকা প্রভৃতি তখন, আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা বুঝি দেশের মাটি, দেশের প্রতি টান। নিজের মনের মধ্যেই দেশভক্ত হয়ে যায়, এমন ভাবে দেশপ্রেম জেগে ওঠে আমাদের চেতন ও অবচেতনে। আমরা নিজেদের মনের মত করে দেশের প্রতি একটা অধিকার বোধ জন্মিয়ে ফেলি। আমার দেশের নামে কেউ কিছু বললে তাকে, ধুঁয়ে কাপড় পরিয়ে দিই। মনের রাজ্যে এমন অধিকারবোধ জন্মানো কোনো অপরাধ নয়। সর্বসম্মত বিচারে এটাই হওয়া উচিত। প্রতিটা মানুষের মনে দেশপ্রেম থাকা উচিত, এমনভাবে থাকা উচিত যাতে আমি নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবো, অন্যদেশকেও একইরকম ভাবে সম্মান করবো। দেশ আমাদের অধিকার। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে দেশ মানে দেশের মানুষ, সংস্কৃতি।
এবার প্রশ্ন হল, আমরা দেশ বলতে যা বুঝি, যেভাবে দেশপ্রেম নিয়ে বাঁচি, দেশ কি আসলেই তাই? দেশ কি সত্যিকারেই আমাদের অধিকার? এসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনের মধ্যে একটাই চিন্তা চলে আসল, বর্তমানে দেশ হল সেখানে ক্ষমতায় থাকা সরকারের সম্পত্তি। সাধারন মানুষ হল প্রজা। মানতে কষ্ট হলেও, এটাই সত্যি। যে দেশে আমরা জন্মেছি, যে দেশে আমরা বড় হয়েছি সেই দেশে রাজত্ব করছে শুধু সরকার। সাধারন মানুষ শুধুই মোহরা। যেখানে সরকারী ক্ষমতায় কে থাকবে বা থাকবেনা তার নির্বাচনভার সাধারন মানুষের হওয়া উচিত সেখানে, দেশের ক্ষমতায় থাকা সরকার ও বিরোধী পক্ষরা নিজেরা নিজেদের মত করে রাজনৈতিক তামাশা মঞ্চ তৈরি করে ও সাধারন মানুষের অনুভুতি কেনার চেষ্টা করে। দেশের শাসক এভাবেই নির্বাচিত হয়।
আসলে যারা সরকারে থাকে, তাদের কাজ কি? তাদের পরিচয় কি হওয়া উচিত? আর বাস্তবে তাদের পরিচয় কি?
নির্বাচন লড়াইতে জেতার পর, দেশের দায়ভার চলে আসে লড়াইতে জেতা প্রার্থী গোষ্ঠির ওপরে। মানুষ প্রতক্ষ্ বা পরোক্ষ্ নির্বাচনে তাদের জিতিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসে যাতে দেশের সমৃদ্ধি বাড়ে, দেশের উন্নতি হয়, মানুষের সূযোগ সুবিধা বাড়ে। মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ গড়ে তোলাটাই সরকারের কাজ। আসলে সরকার মানে সাধারন মানুষ অর্থাৎ সরকারের ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী হল মানুষের সেবক।
কিন্তু বাস্তবে যেটা হয়, যারা নির্বাচনী লড়াইতে জিতে ক্ষমতায় আসে, তারা আসলে শাসক হয়ে আসে। শাসক গোষ্ঠী।
সেবক ও শাসক এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। সেবকের অর্থ সেবা করা, শাসকের অর্থ হল শাসন করা। আর, শাসনের নামে শোষণটাও নেহাতই কম হয়না। ওরা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাধীনতা সমস্ত কিছুর ওপরে নিজেদের রাজত্ব তৈরি করে, শাসন করতে শুরু করে। মানুষের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে, মানুষের জীবনের ওপর হস্তক্ষেপ করে। এমন সুকৌশলে করে, মানুষের মনের মধ্যে রাজনৈতিক সাত্ত্বার নেশাটা ধরিয়ে দেয়, যাতে মানুষ ভাবে সরকার যা করবে, সেটাই ঠিক, সেটার থেকে ভালোকিছু হতে পারেনা, আবার যারা সরকারের বিরুদ্ধে, তারা সরকারের বিভিন্ন রকম খুঁটিনাটি ভুলগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় আনতে। এটাই সরকারতন্ত্র, এভাবেই যুগের পর যুগ কেটে চলেছে।
দেশগুলো আজ দেশ নয়, রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে, রাজনৈতিক রাষ্ট্রে। রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের আবেগ মিথ্যে, কারণ আমরা দেশ ভালবাসি, রাষ্ট্র তো শাসকের অধীন, ওটাতে সাধারণের কোনো অধিকার থাকেনা। এমনকি আমাদের পছন্দের খেলা ক্রিকেট, সেই নিয়েও রাষ্ট্রে শাসকের শাসনগিরি বা দাদাগিরি চলছে। ক্রিকেট আমাদের আবেগ, আমরা সেই আবেগের আগুনে তেঁতে পুড়ে থাকি, আগুনে ফুটি, অথছ সেই ক্রিকেট আজ রাজনৈতিক খেলাতে পরিনত হয়েছে। আর সেটাতে উস্কানি দিচ্ছে মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় ক্রিকেট টিমগুলোতে কে ক্ষমতায় থাকবে, কত আয় হবে, কিভাবে মানুষের মন নিয়ে খেলা করা হবে সবকিছুই আজ রাজনৈতিক অংশ। গতবছরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে দায়ী করে, কিন্তু এর সূত্রপাত ঘটায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত। খেলার মাঝে এমন প্রচুর ভুল সিদ্ধান্ত থাকে, যার জন্য ক্রিকেট টিমগুলোকে ভুগতে হয়, কিন্তু পরে সেটা নিয়েও রাজনীতি চরম আকারে পৌঁছলো। এশিয়াকাপ ২০১৬ তে গ্যালারি ভর্তি মানুষ পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে গলা ফাটাল, যেখানে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলনা। সবুজ ঘাসে ভরা পিচ উপহার দেওয়া হল। আবার ভারতের কোনো ক্রিকেটার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেয়না, সেটা নিয়েও বিতর্ক। বাংলাদেশ ভাবে ভারত চায়না বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হোক, কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য। এখানেও ভারতের রাজনৈতিক মহল নিজের খেলা খেলছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে যত টাকা আয় হয়, বাংলাদেশ সেই টাকা ভারতকে দিতে পারবেনা। তাহলে শুধু শুধু ক্রিকেটারদের ভারত বাংলাদেশে কেন খেলতে পাঠাবে? তার জায়গায় অন্য টুর্নামেন্ট খেললে ভারত অনেক বেশি আয় করতে পারবে। শুধু বাংলাদেশ বলেই নয়,ভারত কোনো দেশেরই টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেনা। তার পরিবর্তে ভারতের ক্রিকেট শিডিউল সারাবছর এমন ভাবে সাজানো থাকে, যাতে ক্রিকেটাররা নিজেরাও অংশ নিতে পারেনা। অর্থনৈতিক কারনটাই এখানে সবথেকে বড় কারণ। এটাও একটা রাজনীতি। শুধু ভারত বলেই নয়, বাংলাদেশ যদি ভারতের জায়গায় থাকত, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলও এমনটাই করত। অর্থাৎ এখানেও মানুষের আবেগের ওপর কোনকিছু নির্ভর করছেনা। শাসকদল যেভাবে চায়ছে, সেটাই হচ্ছে।
আমরা দেশভক্তি নিয়ে বেঁচে থাকি, তাতে শাসকদলের কিছু যায় আসেনা কখনো। তারা ভাবে কিকরে তারা বাড়তি আয় করবে, কিভাবে তারা দেশকে শাসন করবে, কিভাবে তারা রাজত্ব করবে। অর্থাৎ দেশ আজ দেশ নয়, শাসকদলের অধীনে পরিনত রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রের ওপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের কোন অধিকার নেই। শাসকদল যেভাবে চায়বে, আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।
স্বাধীনতা???
স্বাধীনতা এমন একটা শব্দ যার অর্থ হল নিজের অধীনে চলা। অর্থাৎ মানুষ নিজের মত করে নিজের ইচ্ছামত চলবে, যেভাবে মন চায়, সেভাবে কথা বলবে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখবে। এটাই স্বাধীনতা। কিন্তু শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ নিজের ইচ্ছামত যা খুশি বলতে পারিনা, যা ইচ্ছা লিখতে পারিনা। কোনো মন্তব্য যদি রাষ্ট্রের বিপক্ষে যায়, তখন সংবিধান বিরুদ্ধ মন্তব্য বলে আইনের জটিলতায় ফেসে যেতে হবে আবার মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। খুন তো হামেশায় হচ্ছে। অতয়েব শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ স্বাধীন নই।
দেশ আজ দেশ নয়, দেশ হল রাষ্ট্র। আমাদের দেশপ্রেমের কোনো মূল্য নেই, আমাদের আবেগ থাকতে নেই। শুধু পরাধীনতা নিয়ে চলা, রাষ্ট্রের বলা হ্যা কে হ্যা, না কে না বলে চলতে হবে।
সৌম্যজিত দত্ত।
দেশ বলতে যখন একটা দেশের নাম বলাহয়, ইন্ডিয়া বা বাংলাদেশ বা পাকিস্তান বা শ্রীলংকা প্রভৃতি তখন, আমরা যারা সাধারন মানুষ তারা বুঝি দেশের মাটি, দেশের প্রতি টান। নিজের মনের মধ্যেই দেশভক্ত হয়ে যায়, এমন ভাবে দেশপ্রেম জেগে ওঠে আমাদের চেতন ও অবচেতনে। আমরা নিজেদের মনের মত করে দেশের প্রতি একটা অধিকার বোধ জন্মিয়ে ফেলি। আমার দেশের নামে কেউ কিছু বললে তাকে, ধুঁয়ে কাপড় পরিয়ে দিই। মনের রাজ্যে এমন অধিকারবোধ জন্মানো কোনো অপরাধ নয়। সর্বসম্মত বিচারে এটাই হওয়া উচিত। প্রতিটা মানুষের মনে দেশপ্রেম থাকা উচিত, এমনভাবে থাকা উচিত যাতে আমি নিজের দেশকে যেভাবে সম্মান করবো, অন্যদেশকেও একইরকম ভাবে সম্মান করবো। দেশ আমাদের অধিকার। যদিও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে দেশ মানে দেশের মানুষ, সংস্কৃতি।
এবার প্রশ্ন হল, আমরা দেশ বলতে যা বুঝি, যেভাবে দেশপ্রেম নিয়ে বাঁচি, দেশ কি আসলেই তাই? দেশ কি সত্যিকারেই আমাদের অধিকার? এসব নিয়ে ভাবতে গিয়ে আমার মনের মধ্যে একটাই চিন্তা চলে আসল, বর্তমানে দেশ হল সেখানে ক্ষমতায় থাকা সরকারের সম্পত্তি। সাধারন মানুষ হল প্রজা। মানতে কষ্ট হলেও, এটাই সত্যি। যে দেশে আমরা জন্মেছি, যে দেশে আমরা বড় হয়েছি সেই দেশে রাজত্ব করছে শুধু সরকার। সাধারন মানুষ শুধুই মোহরা। যেখানে সরকারী ক্ষমতায় কে থাকবে বা থাকবেনা তার নির্বাচনভার সাধারন মানুষের হওয়া উচিত সেখানে, দেশের ক্ষমতায় থাকা সরকার ও বিরোধী পক্ষরা নিজেরা নিজেদের মত করে রাজনৈতিক তামাশা মঞ্চ তৈরি করে ও সাধারন মানুষের অনুভুতি কেনার চেষ্টা করে। দেশের শাসক এভাবেই নির্বাচিত হয়।
আসলে যারা সরকারে থাকে, তাদের কাজ কি? তাদের পরিচয় কি হওয়া উচিত? আর বাস্তবে তাদের পরিচয় কি?
নির্বাচন লড়াইতে জেতার পর, দেশের দায়ভার চলে আসে লড়াইতে জেতা প্রার্থী গোষ্ঠির ওপরে। মানুষ প্রতক্ষ্ বা পরোক্ষ্ নির্বাচনে তাদের জিতিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসে যাতে দেশের সমৃদ্ধি বাড়ে, দেশের উন্নতি হয়, মানুষের সূযোগ সুবিধা বাড়ে। মানুষের বসবাস উপযোগী সমাজ গড়ে তোলাটাই সরকারের কাজ। আসলে সরকার মানে সাধারন মানুষ অর্থাৎ সরকারের ক্ষমতায় থাকা গোষ্ঠী হল মানুষের সেবক।
কিন্তু বাস্তবে যেটা হয়, যারা নির্বাচনী লড়াইতে জিতে ক্ষমতায় আসে, তারা আসলে শাসক হয়ে আসে। শাসক গোষ্ঠী।
সেবক ও শাসক এর মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। সেবকের অর্থ সেবা করা, শাসকের অর্থ হল শাসন করা। আর, শাসনের নামে শোষণটাও নেহাতই কম হয়না। ওরা দেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, রাজনীতি, শিক্ষা, স্বাধীনতা সমস্ত কিছুর ওপরে নিজেদের রাজত্ব তৈরি করে, শাসন করতে শুরু করে। মানুষের অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করে, মানুষের জীবনের ওপর হস্তক্ষেপ করে। এমন সুকৌশলে করে, মানুষের মনের মধ্যে রাজনৈতিক সাত্ত্বার নেশাটা ধরিয়ে দেয়, যাতে মানুষ ভাবে সরকার যা করবে, সেটাই ঠিক, সেটার থেকে ভালোকিছু হতে পারেনা, আবার যারা সরকারের বিরুদ্ধে, তারা সরকারের বিভিন্ন রকম খুঁটিনাটি ভুলগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ক্ষমতায় আনতে। এটাই সরকারতন্ত্র, এভাবেই যুগের পর যুগ কেটে চলেছে।
দেশগুলো আজ দেশ নয়, রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে, রাজনৈতিক রাষ্ট্রে। রাষ্ট্র নিয়ে আমাদের আবেগ মিথ্যে, কারণ আমরা দেশ ভালবাসি, রাষ্ট্র তো শাসকের অধীন, ওটাতে সাধারণের কোনো অধিকার থাকেনা। এমনকি আমাদের পছন্দের খেলা ক্রিকেট, সেই নিয়েও রাষ্ট্রে শাসকের শাসনগিরি বা দাদাগিরি চলছে। ক্রিকেট আমাদের আবেগ, আমরা সেই আবেগের আগুনে তেঁতে পুড়ে থাকি, আগুনে ফুটি, অথছ সেই ক্রিকেট আজ রাজনৈতিক খেলাতে পরিনত হয়েছে। আর সেটাতে উস্কানি দিচ্ছে মিডিয়া। রাষ্ট্রীয় ক্রিকেট টিমগুলোতে কে ক্ষমতায় থাকবে, কত আয় হবে, কিভাবে মানুষের মন নিয়ে খেলা করা হবে সবকিছুই আজ রাজনৈতিক অংশ। গতবছরে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে রোহিত শর্মার আউট নিয়ে বিতর্ক হয়েছিল, যার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে দায়ী করে, কিন্তু এর সূত্রপাত ঘটায় আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত। খেলার মাঝে এমন প্রচুর ভুল সিদ্ধান্ত থাকে, যার জন্য ক্রিকেট টিমগুলোকে ভুগতে হয়, কিন্তু পরে সেটা নিয়েও রাজনীতি চরম আকারে পৌঁছলো। এশিয়াকাপ ২০১৬ তে গ্যালারি ভর্তি মানুষ পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলে গলা ফাটাল, যেখানে বাংলাদেশের নিরপেক্ষ থাকা উচিত ছিল, কিন্তু সেটা হলনা। সবুজ ঘাসে ভরা পিচ উপহার দেওয়া হল। আবার ভারতের কোনো ক্রিকেটার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেয়না, সেটা নিয়েও বিতর্ক। বাংলাদেশ ভাবে ভারত চায়না বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি হোক, কিন্তু আসল ব্যাপারটা অন্য। এখানেও ভারতের রাজনৈতিক মহল নিজের খেলা খেলছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানে, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে যত টাকা আয় হয়, বাংলাদেশ সেই টাকা ভারতকে দিতে পারবেনা। তাহলে শুধু শুধু ক্রিকেটারদের ভারত বাংলাদেশে কেন খেলতে পাঠাবে? তার জায়গায় অন্য টুর্নামেন্ট খেললে ভারত অনেক বেশি আয় করতে পারবে। শুধু বাংলাদেশ বলেই নয়,ভারত কোনো দেশেরই টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করেনা। তার পরিবর্তে ভারতের ক্রিকেট শিডিউল সারাবছর এমন ভাবে সাজানো থাকে, যাতে ক্রিকেটাররা নিজেরাও অংশ নিতে পারেনা। অর্থনৈতিক কারনটাই এখানে সবথেকে বড় কারণ। এটাও একটা রাজনীতি। শুধু ভারত বলেই নয়, বাংলাদেশ যদি ভারতের জায়গায় থাকত, তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহলও এমনটাই করত। অর্থাৎ এখানেও মানুষের আবেগের ওপর কোনকিছু নির্ভর করছেনা। শাসকদল যেভাবে চায়ছে, সেটাই হচ্ছে।
আমরা দেশভক্তি নিয়ে বেঁচে থাকি, তাতে শাসকদলের কিছু যায় আসেনা কখনো। তারা ভাবে কিকরে তারা বাড়তি আয় করবে, কিভাবে তারা দেশকে শাসন করবে, কিভাবে তারা রাজত্ব করবে। অর্থাৎ দেশ আজ দেশ নয়, শাসকদলের অধীনে পরিনত রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রের ওপর আমাদের মত সাধারণ মানুষের কোন অধিকার নেই। শাসকদল যেভাবে চায়বে, আমাদের সেভাবেই চলতে হবে।
স্বাধীনতা???
স্বাধীনতা এমন একটা শব্দ যার অর্থ হল নিজের অধীনে চলা। অর্থাৎ মানুষ নিজের মত করে নিজের ইচ্ছামত চলবে, যেভাবে মন চায়, সেভাবে কথা বলবে, যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে লিখবে। এটাই স্বাধীনতা। কিন্তু শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ নিজের ইচ্ছামত যা খুশি বলতে পারিনা, যা ইচ্ছা লিখতে পারিনা। কোনো মন্তব্য যদি রাষ্ট্রের বিপক্ষে যায়, তখন সংবিধান বিরুদ্ধ মন্তব্য বলে আইনের জটিলতায় ফেসে যেতে হবে আবার মৃত্যুদন্ড পর্যন্ত হতে পারে। খুন তো হামেশায় হচ্ছে। অতয়েব শাসকাধীন রাষ্ট্রে আমরা কেউ স্বাধীন নই।
দেশ আজ দেশ নয়, দেশ হল রাষ্ট্র। আমাদের দেশপ্রেমের কোনো মূল্য নেই, আমাদের আবেগ থাকতে নেই। শুধু পরাধীনতা নিয়ে চলা, রাষ্ট্রের বলা হ্যা কে হ্যা, না কে না বলে চলতে হবে।
No comments:
Post a Comment