Saturday, 27 February 2016



ভারতের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের মহাশত্রু। 
সৌম্যজিত দত্ত। 


ভালো কিছুর গুরুত্ব সবসময় আলাদা হয়। সবার থেকে আলাদা হয়। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচটা দেখলাম, ইন্ডিয়া-পাকিস্তান ম্যাচ মানে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। প্রচার মাধ্যমগুলোর দৌলতে এই ম্যাচের গুরুত্ব সবসময় অন্য ম্যাচগুলোর থেকে দশগুণ বেড়ে যায়। আবার ক্রিকেটাররাও তেঁতে থাকে সর্বক্ষণ। ওরা মাঠের মধ্যে লড়াই করে, সেই লড়াইয়ের আগুন মাঠের ভিতরের দর্শক ও বাইরের দর্শকদের শিরা-উপশিরাতেও ছড়িয়ে পরে। রক্তের মধ্যে দিয়ে গরম স্রোত বয়ে যায়। এই যেমন আমি, গত কয়েকদিন ধরে মনখারাপ, বিষন্নতা নিয়ে কাটাচ্ছিলাম, নিজের কাজেও অনীহা চলে আসছিল, এই ম্যাচের সুবাদে এখন আমার মধ্যেও অদ্ভুত রকমের জোশ এসে গেছে। 

এবার ম্যাচ নিয়ে কিছু বলা যাক। ম্যাচের আগাগোড়া দেখলাম, আমি একজন ক্রিকেট প্রেমী, তাই খুঁটিনাটি ব্যাপারগুলো আমার চোখে পরে। প্রথমে পিচ দেখে আমি অবাক হয়ে যাই, উপমহাদেশের পিচগুলো বড্ড স্পিন সহায়ক বা ব্যাটিং স্বর্গ ফ্ল্যাট হয়। যেখানে ম্যাচটা বাংলাদেশে হচ্ছে, বাংলাদেশ নিরপেক্ষ থাকলে আমার মনেহয় ভালো ছিল। যদিও কে কাকে সাপোর্ট করবে এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তবু, পাকিস্তানকে সবুজ ঘাসে ভরা একটা পিচ উপহার দিল বাংলাদেশ। আমি জানিনা কি ভেবে এটা করা হয়েছে? সামনেই বিশ্বকাপ। তাও উপমহাদেশে হবে। স্পিন সহায়ক উইকেটে। তারপরও বাংলাদেশ এটা করল।হয়ত বাংলাদেশ ভেবেছিল পাকিস্তানের হাতে ভালো ফাস্টবোলার আছে, পাকিস্তানকে জেতানো যাবে সহজেই। পিচের ব্যাপারটা ক্রিকেটারদের হাতে খুব একটা থাকেনা, সবরকম পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিয়েই খেলতে হয়। তবু বাংলাদেশের পাকিস্তানের প্রতি অতি সমর্থন দেখে মনেহয়েছে, বাংলাদেশ চেয়েছিল পাকিস্তানকে এক তরফা ভাবে জেতাতে। ম্যাচটা খুব ভালো হল। প্রতিকুল পরিবেশে ম্যাচ জেতার আনন্দ অন্যরকম হয়, ক্রিকেটারদের মনোবল এতে তুঙ্গে থাকবে। 

১৯৭১ এর যুদ্ধে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অত্যাচার থেকে মুক্ত করতে ভারত যদি পাশে না দাঁড়াত, বাংলাদেশ একার লড়াইয়ে কখনই জিততে পারতনা, নিজেদের মুক্ত করতে পারতনা। সেটা কি বাংলাদেশ ভুলে গেছে? আমি ব্যক্তিগত ভাবে ক্রিকেট প্রেমী হওয়াই, ক্রিকেটের জয় দেখতে চাইবো, আবার একজন ভারতীয় হওয়ার জন্য ভারতকেই সাপোর্ট করবো কিন্তু, আমি কখনই অন্যদেশগুলোকে অসম্মান করতে পারবোনা। আমার দেশে একটা মিথ প্রচলিত আছে, "নিজের দেশকে সম্মান কর বলে অন্যদেশকে কখনো তুমি অসম্মান করতে পারনা। তুমি যেভাবে নিজের দেশের পতাকাকে সম্মান কর, সেভাবেই সমস্ত দেশের পতাকাকে সম্মান করবে। যেভাবে তুমি তোমার দেশের মানুষদের আপন করে নেবে, বাকি দেশের মানুষদেরও আপন করে নেবে। কিন্তু কেউ যদি তোমার দেশকে শেষ করতে চায়, তাকে তার জায়গাতেই শেষ করে দেবে। আবার কেউ যদি বন্ধুত্ত্বের হাত বাড়ায়, তাকে সম্মান করে নিজের করে নেবে।"  বাংলাদেশ কি ভুলেগেছে ভারতের বন্ধুত্ত্বকে? কিজানি? আমরাতো ভুলিনি। আমরা ভুলিনি ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের প্রচুর সৈনিক শহীদ হয়েছিল। তারা একে অপরের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিল। এখন সবাই সেসব ভুলে গেছে। বাংলাদেশ এখন ভারতকে মহাশত্রু ভাবে। ওরা এটা বোঝেনা, এখন যদি বাংলাদেশ বিপদে পরে, ভারতই সবার আগে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। তবু, সমর্থন করা তোমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার, কর। 

No comments:

Post a Comment