সামনে জুন, জুলাই, আগস্ট মাসে প্রচুর এডভেঞ্চার। জুন মাসে ২ তারিখ থেকে শুরু করে ২৭ তারিখ পর্যন্ত ১৪ টা স্ক্রীনিং টেস্ট, জুলাই এর ৩ তারিখে থেসিসের প্রথম পর্বের ভাইভা, ১০ই জুলাই সর্বভারতীয় সি বি এস ই নেট পরীক্ষা, জুলাই এর শেষ সপ্তাহে থেসিসের দ্বিতীয় পর্বের ভাইভা ও দুটো প্র্যাকটিকাল টেস্ট, ৭ ই আগস্ট আবার সর্বভারতীয় সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। ঘাবড়ে যায়নি আমি কারণ এত বছর ধরে এত এত পরীক্ষা দিতে দিতে পরীক্ষা দেওয়াটা একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। এখন শুধু মনেহয় যা হওয়ার হবে, আমি বরং সিলেবাসে মন দিই।
আমি খুব সাধারণ একটা পরিবারের মধ্যে বড় হয়েছি। কলেজে চাকরি পাওয়া বা রিসার্চ করা বা সিভিল সার্ভিস এর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার স্বপ্ন আমার পরিবারে কেউ কখনই দেখেনি। আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমিও এত স্বপ্ন দেখিনি কোনদিন। আস্তে আস্তে যখন পরিবারের ব্যবসা বড় হতে থাকে, ২০১১ সালে পাপা আমাকে একবার বলেছিল সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে আই.পি.এস অফিসার হওয়ার কথা। নতুন চ্যালেঞ্জ, আমি বেশ সাহস ও উৎসাহের সাথেই পড়াশোনা শুরু করি, ২০১৩ তে প্রথম সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষায় বসি। সেবার প্রিলিমিনারিতে আমি পেয়েছিলাম ২০৪। যতদূর মনেপড়ে, মেইন এর জন্য লাস্ট ক্যান্ডিডেট হিসেবে যে নির্বাচিত হয়েছিল সে ২১০ পেয়েছিল। এবার আমার কেরিয়ার নতুন বাঁক নেয়, মাস্টার ডিগ্রীতে ফাইনাল প্রোজেক্ট ইউনিভার্সিটি তে ইউনিক প্রোজেক্ট হিসেবে নির্বাচিত হয় ও অপ্রত্যাশিত ভাবেই আই. এস. আই তে রিসার্চের জন্য সুযোগ মিলে যায়। বলে রাখি, ২০১৪ সালে আমি রিসার্চের সূযোগ পেয়েছিলাম মাত্র ৩৫০ টাকার ড্রাফটের বিনিময়ে। হঠাৎই এমন একটা সূযোগে আমার চোখে মুখে প্রত্যাশার চাহিদা বাড়তে বাড়তে মারাত্মক আকার নেয়, ২০১৫ তে সর্বভারতীয় স্তরে গেট কোয়ালিফাই করে যাই প্রথম সূযোগেই, তারপর ২০ ই নভেম্বর ২০১৫ তে লেকচারার হিসেবে জয়েন করা। এবার দুটো দায়িত্ব একসাথে, একদিকে নিজের রিসার্চের পড়াশোনা, অন্যদিকে লেকচারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা। হঠাৎই সমাজের ভঙ্গুর অবস্থা দেখে আমার মধ্যে সেই পুরোনো স্বপ্নটা মাথাচারা দিয়ে ওঠে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় পাশ করে আই.এ.এস বা আই.পি.এস অফিসার হওয়া। ছোট মাথাতে এত ভারী ভারী পরীক্ষার চাপ নেওয়ার তেমন কোনো প্রয়োজন ছিলনা, কিন্তু আমার সামনে কেউ রংবাজী দেখালে আমি সেটা একদম মেনে নিতে পারিনা। তাই নিজের থেকেই চ্যালেঞ্জ টুকু নিয়েছিলাম কাউকে না জানিয়েই। চেষ্টাটুকু করেই দেখিনা। শুধু তো এই একটা বছর খাটতে হবে।
No comments:
Post a Comment